Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুরাণী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প516 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাঙালির চোখে, উত্তর ভারতীয়ের চোখ

    মোগল সম্রাট হুমায়ুনের নবনিযুক্ত বাংলার গভর্নর জাহিদ বেগ বাংলায় পা দিয়েই বলে ফেললেন—আমাকে মারবার জন্য খোদাবন্দ কি বাংলার থেকে ভালো জায়গা খুঁজে পেলেন না? মনের এই ভাবকে যদি অভিমান বলি, তাহলে শাজাহানের আদরের দুলাল সুজা যখন বাংলায় এসে সপরিবারে শরীর খারাপ করে নিলেন তখন কি বলব? ভাবে বুঝি একটা রহস্য আছে। সত্যসন্ধানী এক সাহেব এসব রহস্য উদ্ধার করার চেষ্টা করে বলেছেন—মোগল সাম্রাজ্যের মহামান্য আমীর পুরুষেরা বাংলায় এসে চটজলদি প্রচুর টাকাপয়সা কামিয়ে নিতেন, আর সেগুলো খরচ করতেন গিয়ে দিল্লি কিংবা আগ্রার রাজমহলে, মেহফিলখানায়। সাহেব তাঁর জাতভাইদের কথা চেপে গেছেন, কেননা তাঁদের কাজকারবার ছিল একেবারে লোকচক্ষুর অন্তরালে, সাগর পেরিয়ে। যদি বলি প্রামাণ্য কথা বলেন সেই মানুষ, যার কোনো দেশের ওপরই মায়া নেই, তাহলে সাক্ষী মানতে হয় ইবন বতুতাকে। সাত ঘাটের জল খাওয়া শতপথের পথিক ইবন বতুতাও কিন্তু ভারী চালাক মানুষ; যাযাবর হলে কি হবে, আসল সমস্যাটি সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে গিয়ে তিনি বললেন—বাংলা! খোরাসানের লোকেরা বলে, সে নাকি দুজখ—নরক; তবে হ্যাঁ সে নরক নাকি ভালো জিনিসে ভরা—’দুজখ অস্ত পুরই নিয়ামত।’

    হায় বাঙালি! সবাই বাংলায় এসেছে, সেই প্রাচীন আর্য পুরুষ থেকে ইংরেজ—’কেহ বা দেখে মুখ কেহ বা দেহ’, সবাই পরখ করে, অন্তরের ভালোবাসা—সে কেউ বাসে না। বিদেশিদের দোষ দিই না, এমনকি মাঝে মাঝে আকবর বাদশাহের মতো ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তিনি নাকি বাংলার সুবেদারকে বলেছিলেন, দিল্লির রাজমহলে যত ঢাকাই মসলিন আর মালদহের রেশমি কাপড় লাগবে তার জোগান দিতে হবে বাংলাদেশ থেকে কিন্তু তার বদলে বাংলার সুবেদার রাজস্ব ছাড় পেয়েছিলেন এবং তাঁর দেয় ছিল বাৎসরিক মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা। কিন্তু উত্তরভারতীয় হিন্দু রাজাদের দিকে তাকালে মুসলমান-ইংরেজদের ওপর রাগ কেটে যাবে। বাংলার সম্পদ তাঁরা যা আত্মসাৎ করেছেন তেমনটি কেউ করেননি; যখন যা দরকার তাই তুলে নিয়ে গেছেন বাংলা থেকে। বিশ্বাস না হয় রামায়ণ খুলে দেখুন, রামচন্দ্রের বনবাস কামনায় ভুঁয়ে পড়ে আছেন কৈকেয়ী আর পক্বকেশ বৃদ্ধ দশরথ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, হ্যাঁগো কি তোমার পছন্দ, একবার মুখ ফুটে বল। যতদূর সূর্যের আলো তত দূর আমার সাম্রাজ্য। এদিকে যেমন আছে দ্রাবিড়, সিন্ধু, সৌরাষ্ট্র তেমনি ওদিকে আছে বঙ্গ, অঙ্গ মগধ। তুমি যা চাও তাই পাবে কেননা বঙ্গ ইত্যাদি দেশে পাওয়া যায় হাজারো রকমের জিনিস—তত্র জাতং বহুদ্রব্যম। একে বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা, তাতে মানিনী, তাঁর মান ভাঙানোর জন্যে যেসব দেশে গেলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়, সেসব দেশেও যেতে হবে বইকি! এ ছাড়া এক—একটা করে দিগবিজয় হত আর প্রত্যন্ত রাজ্যগুলির নাভিশ্বাস উঠত। সে কি শুধুই জয়লিপ্সা, না লোভনীয় যা কিছু আমাদের ছিল তাই চালান করার নিয়ম ছিল উত্তরভারতের গর্ভে। স্মরণ করা যেতে পারে রাজসূয় যজ্ঞের আগে পাণ্ডব দিগবিজয়ের কথা। পুণ্ড্রবর্ধনের রাজা বাসুদেবকে পরাস্ত করে মধ্যম পাণ্ডব ভীম নাকি বঙ্গরাজের দিকে ধাবিত হলেন। উত্তরবঙ্গ, পূর্ববঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ, রাঢ়ভূমি এবং তাম্রলিপ্ত থেকে তিনি নিয়ে গেলেন বিবিধ ধনরত্ন—চন্দনাগুরুবস্ত্রাণি মণি মৌক্তিক কম্বলম। কাঞ্চনং রজতঞ্চৈব বিদ্রুমঞ্চ মহাধনম।। মজার কথা, এই তালিকাতেও কিন্তু বাংলার বস্ত্রশিল্পের প্রসঙ্গ অনিবার্য—নিশ্চয় মালদহ-মুর্শিদাবাদের সিল্ক নয়তো ঢাকাই মসলিন যেগুলো ভীম নিয়ে গেছিলেন স্ত্রী আর ভাইদের জন্যে।

    বাংলার সম্পদ উত্তরভারতীয়রা কী নিয়ে গেছেন কিংবা না নিয়ে গেছেন—তাই নিয়ে আর তর্ক করার মানে নেই, কেননা সে ঘটনা প্রায় স্বতঃসিদ্ধা; এমনকি একটুও বাড়িয়ে বলা হবে না, যদি বলি—স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকার অর্ধেক সাজসজ্জাই পূর্বভারতের দৌলতে, এমনকি তাঁর ষোলো হাজার মহিষীর সবগুলিই প্রায় আমাদের পাড়ার। সেকালে অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ, পুণ্ড্রবর্ধন, সুহ্ম, মগধ এবং কামরূপ—এই সবগুলি রাজ্য নিয়ে এক বিরাট পূর্বভারতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। এদের একটির সঙ্গে আরেকটির যেমন ঐতিহ্যগত মিল ছিল তেমনি মিল ছিল সামাজিক এবং রাষ্ট্রনৈতিক ভাবনায়। পুণ্ড্রবর্ধনের রাজা পৌণ্ড্রক বাসুদেবের রাজ্যসীমা ছিল উত্তরবঙ্গের প্রান্তে করতোয়া পর্যন্ত। ঠিক তার পাশেই কামরূপে রাজত্ব করতেন তাঁরই অভিন্নহৃদয় বন্ধু নরকাসুর (নরক রাজার অসুর উপাধিটি উত্তরভারতীয়দের কল্যাণে) আসামে আসবার পর কৃষ্ণের প্রথম কাজ যদি হয়ে থাকে নরকাসুরকে বধ করা, তাহলে তাঁর দ্বিতীয় কাজই ছিল নরকাসুরের সংগৃহীত সমস্ত বহুমূল্য সামগ্রী দ্বারকায় নিয়ে যাওয়া। পরাজিত রাজার সমস্ত ধন-সম্পদ বিজেতা রাজ্য লুণ্ঠন করেন, এই নিয়ম। কিন্তু লুণ্ঠনের এত সামগ্রী, এত বৈচিত্র্যের কথা বোধ হয় আর কোথাও নেই, যতখানি পাওয়া যায় আমাদের এই প্রতিবেশীর রাজ্য লুণ্ঠনে। হরিবংশের জবানীতে দেখি, নরকাসুরের কোষরক্ষকেরা সব কিছু, এমনকি অন্তঃপুরের রমণীদের পর্যন্ত হতশ্রী করে সমস্ত রত্ন কৃষ্ণের সামনে বিছিয়ে দিয়ে বলেছিল—যা আপনার অভিরুচি, তাবতীঃ প্রাপয়িষ্যামো বৃষ্ণ্যন্ধক নিবেশনে—সব পাঠিয়ে দেব দ্বারকায়। প্রথমদিকে শ্রীকৃষ্ণ, অনেক জিনিসই যেন ‘ডুপ্লিকেট’ হয়ে যাচ্ছে, এমন একটি ভাব দেখিয়ে রত্নগুলি পরীক্ষা করতে লাগলেন—পরিগৃহ্য পরীক্ষা চ। পরিশেষে সর্বম আহরয়ামাস দানবৈ দ্বারকাং পুরীম। দ্বারকাপুরী তখন কেবল তৈরি হয়েছে, কাজেই নরকাসুরের ধনরত্নে আপন রাজধানীর অন্তঃসজ্জার পরিকল্পনাটি মনে মনে ছকে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ ঢুকলেন মণিপর্বতে। এই পর্বতেই নাকি নরকাসুর লুকিয়ে রেখেছিলেন ষোলো হাজার রমণী-মণি, যাদের তিনি ধরে এনেছিলেন দেবতা আর গন্ধর্বদের কাছ থেকে (উত্তরভারত থেকে নয়তো?) কৃষ্ণ তাঁদের বিয়ে করার জন্য সম্পূর্ণ পর্বতটি ধরে উঠিয়ে নিলেন গরুড়বাহনে। কৃষ্ণের সঙ্গে পরে বিয়ে হবে বলে হরিবংশকার এই রমণীদের—দেবগন্ধর্ব কন্যা, ব্রত-উপবাসে তন্বঙ্গী তথা কুমারী করে রেখেছেন এবং প্রতিবেশী রাজার চরিত্র রক্ষার্থে আমরাও তাই বিশ্বাস করতে ভালোবাসি। কিন্তু আসল কথা হল, আমাদের মেয়ে থেকে আরম্ভ করে ধনসম্পদ—সবই দিয়েছি উত্তরভারতের গ্রাসে। এমনকি কৃষ্ণের মতো অসুর-হন্তা (শ্বশুরহন্তা?) জামাইকে কত আদরে রেখেছি—তা বুঝবেন—এই সেদিনও ওপার বাংলার পাবনা-নিবাসী রাজর্ষি বনমালী রায় নিজের মেয়ের সঙ্গে কৃষ্ণের বিয়ে দিয়ে তার ঘর করে দিয়েছেন বৃন্দাবনে। মন্দিরের নাম দিয়েছেন জামাই-বিনোদ।

    এত সব দিয়েও কিন্তু জামাই-বিনোদদের প্রশংসা-মূক মুখ থেকে এতটুকু ভালো কথা বেরোয়নি পূর্বভারতীয় মানুষগুলির জন্য। এর কারণ কী? সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্য রাজনৈতিক, যে রাজনৈতিক কারণে কৃষ্ণ নিজে পশ্চিমভারতের অধিবাসী হলেও তাঁকে উত্তরভারতীয়দের মধ্যে গণনা করতে আমার ক্ষুদ্র ভৌগোলিক বুদ্ধিতে বাধে না। ব্যাপারটা একটু খুলেই বলি। মহাভারতের কবি ব্যাসদেবের জন্ম যদিও যমুনার মধ্যে কোনো দ্বীপে এবং তাঁর গায়ের রঙ যদিও বেজায় কালো, তবুও উত্তর-ভারতীয় আর্য রাজনীতির সঙ্গে তিনি বেশ ভালোই জড়িয়ে গিয়েছিলেন। তার প্রধান কারণ হয়তো তখনকার রাজনীতিতে হস্তিনাপুরের প্রাধান্য আস্তে আস্তে প্রকট হয়ে উঠেছিল এবং তাও তাঁর আপন ঔরসজাত পুত্র ধৃতরাষ্ট্র এবং পাণ্ডুর মাধ্যমে। রাজসূয় যজ্ঞের আগে প্রধানত তাঁর নির্দেশে পঞ্চপাণ্ডবের চারজন চারদিকে দিগবিজয়ে যাত্রা করেন। কিন্তু পূর্বে যাবেন কে, কিংবা উত্তরে যাবেন কে এই সিলেকশনের মধ্যেই ব্যাসদেবের রাজনৈতিক বুদ্ধির পরিচয় তবে মহাভারতকার যত সহজে পুণ্ড্র-বঙ্গ তাম্রলিপ্তে ভীমের দিগবিজয় করিয়ে দিয়েছেন, ব্যাপারটা তত সহজে হয়নি। আমাদের কোনো জিনিসই আমরা খুব সহজে ছেড়ে দিইনি এবং রাজনীতি জিনিসটা যেহেতু বাংলার মানুষ চিরকালই ভালো বোঝে, তাই আমরা সমস্ত সমস্যার মোকাবিলা করেছি রাজনৈতিক ভাবেই—যদিও সে রাজনীতি চিরকালই উত্তর ভারতের বিরোধী রাজনীতি, তাতে আখেরে লাভ হয় না কিছু, সমস্যা বরং বাড়ে। তবুও সেইখানেই আমাদের অহংকার, সেইখানেই আমাদের নিজস্বতা।

    মহাভারতের আমলে বাংলাদেশ তো অখণ্ড ছিল না—বঙ্গ, সুহ্ম, তাম্রলিপ্ত, অঙ্গ (যার খানিকটা আজও রাঢ়ভূমিতে সংলগ্ন), হরিকেল, পুণ্ড্রবর্ধন—এই সব দেশ নিয়েই বাংলা। এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিধর রাজা ছিলেন পুণ্ড্রবর্ধনের পৌণ্ড্রক বাসুদেব, যিনি কৃষ্ণের সমান ক্ষমতাশালী বলে নিজেকে মনে করতেন। তাঁর উপাধিও ছিল বাসুদেব। রাজসূয় যজ্ঞের আগে কৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরকে লম্বা-চওড়া একটি বক্তৃতা দেন। এই বক্তৃতায় পূর্বভারতীয় কতগুলি রাজার নাম করে, তাঁদের অসামান্য ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যুধিষ্ঠিরের মনে এক অদ্ভুত ভয়ের সৃষ্টি করেন স্বয়ং কৃষ্ণ। এই রাজাদের মধ্যে অন্যতম হলেন পৌণ্ড্রক বাসুদেব, যিনি ‘বঙ্গ-পুণ্ড্র-কিরাতেষু রাজা বলসমন্বিতঃ’ (কিরাতেরা এখন দার্জিলিং আর কাঠমাণ্ডুর মাঝামাঝি পাহাড়ী এলাকায় বাস করে নেপালীরা ওদের বলে ‘কিরান্তী’)। জরাসন্ধের জামাই কংস যখন কৃষ্ণের হাতে মারা যান তখন জরাসন্ধের বাহিনী মথুরা আক্রমণ করলে বঙ্গ-পুণ্ড্রবর্ধনের রাজারা বন্ধুত্বের খাতিরে জরাসন্ধের অ্যালায়েড আর্মিতে যোগদান করেছিলেন। অনেক বিশেষণহীন রাজার মধ্যে হরিবংশ পৌণ্ড্র বাসুদেবকে বড় সম্মান দিয়ে উল্লেখ করেছেন—পৌণ্ড্রকো বলিনাং বরঃ—বলবানদের মধ্যে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ। মনে রাখা দরকার তখনকার দিনের হস্তিনাপুর এখনকার দিল্লির মতো; কিন্তু তখনকার মগধ এখনকার মগধের মতো হস্তিনাপুরের ধামাধরা ছিল না। বরঞ্চ আর্য সমাজের প্রধান প্রতিভূ কুরুবীর দুর্যোধনও জরাসন্ধের সম্মিলিত বাহিনীতে যোগ দিয়ে সম্মানিত বোধ করেছিলেন। হরিবংশের লিস্টিতে হাজারো রাজনামের গড্ডালিকাপ্রবাহে ধৃতরাষ্ট্র-পুত্রদের ক্ষীণধারাটি যেমন করে মিশেছে, তাতে স্পষ্ট বুঝি, দুর্যোধনের আহামরি কোনো মর্যাদা ছিল না এবং পাণ্ডবদের কোনো নামই তখন শোনা যায় না। জরাসন্ধের পৌনঃপুনিক আক্রমণে মথুরাপুরী যখন বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং কৃষ্ণ যখন দ্বারকার আশ্রয় খুঁজে বেড়াচ্ছেন ঠিক তখুনি জরাসন্ধ নিজেদের সংহতিটুকু ঝালিয়ে নেবার জন্য একটি বিবাহপর্বের উদ্যোগ করেন। পূর্বভারতীয় সংহতিরক্ষার এই চেষ্টাকে হরিবংশ বলেছে—নৃপান উদযোজয়ামাস। শিশুপালের সঙ্গে বিদর্ভরাজ, ভীষ্মকের মেয়ে রুক্মিণীর বিয়ে ঠিক করে তিনি নিজেই বরকর্তার মতো সবাইকে সংবাদ পাঠালেন। জরাসন্ধ যখন বর নিয়ে বিদর্ভের বিবাহ-বাসরে পৌঁছেছেন তখনও বোধহয় তাঁর সংশয় ছিল—কাজটা ঠিক হল তো? ঠিক এই সময়ে জরাসন্ধের দোলাচল মনের স্থিরতা নিয়ে আসলেন সেই বাঙালি রাজা পৌণ্ড্র বাসুদেব। হরিবংশ চলছে—অনুজ্ঞাতশ্চ পৌণ্ড্রেণ বাসুদেবেনধীমতা—পুণ্ড্রবর্ধনের রাজা বুদ্ধিমান বাসুদেব জরাসন্ধের এই কাজ সম্পূর্ণ সমর্থন করলেন। সমর্থনের ব্যাপারে অন্য কোনো রাজার নাম যেহেতু এখানে আসেনি তাতে বুঝি বাংলার এই রাজা কত শক্তিশালী ছিলেন এবং একমাত্র তাঁরই অনুমোদন কত জরুরি ছিল জরাসন্ধের পক্ষে। হরিবংশ অবশ্য মহাভারতের মত না মেনে, বলেছেন তখনকার বঙ্গ ছিল জরাসন্ধেরই অধিকারে—অঙ্গবঙ্গকলিঙ্গানাম ঈশ্বরঃ স মহাবলঃ। তখনকার বঙ্গ মানে কিন্তু অখণ্ড বাংলার নদ-নদীসংকুল নীচের দিকটা উত্তর-পূর্বে যার সীমা প্রায় ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত। অবশ্য বঙ্গের রাজা জরাসন্ধই হোন আর পৌণ্ড্রক বাসুদেবই হোন, সমগ্র উত্তর তথা পশ্চিম ভারত এঁদের দুজনকেই যমের মতো ভয় পেত। যাই হোক রুক্মিণীর সঙ্গে শিশুপালের বিয়ে হল না। কৃষ্ণ হয়তো ভেবেছিলেন রুক্মিণীকে বিয়ে করে তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিবাদ খানিকটা মিটিয়ে নেবেন, কারণ রুক্মিণীর বাবা ভীষ্মক এবং ভাই রুক্মী—এঁরা দুজনেই ছিলেন জরাসন্ধের গোষ্ঠীভুক্ত। কিন্তু অতর্কিত রুক্মিণী-হরণে বিরোধ আরও বেড়েই গেল। জরাসন্ধ এবং পৌণ্ড্রক বাসুদেব আবার যুদ্ধে জড়িয়ে গেলেন কৃষ্ণের বিরুদ্ধে।

    পুরাণকারদের মতে এই যুদ্ধে কৃষ্ণ জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু পুরাণকর্তারা এই যুদ্ধজয়ের যত কৃতিত্ব কৃষ্ণ-বলরামের ওপর চাপালেও স্বয়ং কৃষ্ণ নিজেও বোধ হয় সন্দিহান ছিলেন তাঁর আপন কৃতিত্বে। তিনি বুঝেছিলেন তাঁর ‘স্ট্র্যাটিজি’ ফলবতী হয়নি। রুক্মিণীবিবাহের পর থেকেই কৃষ্ণ তাই কুরু-পাণ্ডবদের ঘরোয়া ব্যাপারে অংশ নিতে থাকেন এবং পাণ্ডবদের প্রকাশ্য মদত দিতে থাকেন। ঠিক এই কারণেই পশ্চিমভারতের মানুষ হলেও কৃষ্ণকে উত্তরভারতীয় রাজনীতির সূত্রধার হিসেবে কল্পনা করে নিতে আমাদের বাধে না। মহাভারত কিংবা পুরাণগুলি যতই বলুন না কেন যে, ধর্ম যেখানে কৃষ্ণও সেখানে এবং ধর্মের কারণেই কৃষ্ণের উত্তরভারতীয় রাজনীতিতে আগমন, কিন্তু আমরা অন্তরে জানি, কৃষ্ণ যদি আদৌ ঐতিহাসিক ব্যক্তি হন, তবে তিনি পাণ্ডবদের মদত দিয়েছেন একমাত্র রাজনৈতিক কারণে এবং তা বাংলার পৌণ্ড্রক বাসুদেবের মতো ব্যক্তিত্ব এবং বিহারে জরাসন্ধের মতো সাংঘাতিক মানুষকে ঠেকিয়ে রাখবার জন্যে। রাজসূয়ের আগে কৃষ্ণ যে বক্তৃতা দেন, সেখানে তাই কর্ম, যোগ, জ্ঞান—এসব কিছুই নেই; যা আছে তা শুধু শতেক রাজার এক লিস্টি, তারা প্রত্যেকেই জরাসন্ধের ‘অ্যালাই’ এবং তারা নাকি দড়ি-বাঁধা ষাঁড়ের মতো জরাসন্ধের আজ্ঞা বহন করেন। এমনকী গীতা, যাতে দার্শনিক তত্ত্বের শেষ নেই কোথাও, সেখানেও একেবারে অন্তিম শ্লোকে—যেখানে ধর্ম, সেখানে কৃষ্ণ—এমন কথা আসেনি, বরঞ্চ বেশ ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে জানিয়েছে—জয় সেখানে হবেই, যত্র যোগেশ্বরঃ কৃষ্ণঃ যত্র পার্থো ধনুর্ধরঃ। কাজেই বুদ্ধিযোগের ঈশ্বরের সঙ্গে পার্থের মতো ধনুর্ধরের যোগাযোগ শুধুই ধর্মের জন্যে এ কথা বিশ্বাস করতে মন চায় না।

    মূল কথায় ফিরে আসি আবার। আঠারো বার যাকে জরাসন্ধের গদাঘাত সহ্য করতে হয়েছিল এবং অন্তত তিন-চারবার যাকে বাংলা-বিহার-আসাম-উড়িষ্যার সম্মিলিত বাহিনীর চাপের কাছে মাথা নোয়াতে হয়েছে, সেই কৃষ্ণের পক্ষে বোঝা অসম্ভব ছিল না যে, সৈন্য-সামন্ত দিয়ে এঁদের সঙ্গে এঁটে ওঠা যাবে না; বরঞ্চ আলাদাভাবে, একে একে এঁদের মেরে ফেলা দরকার। মহাভারতের কবি এখানে ‘পলিটিক্স’টা ছুঁয়ে গেছেন মাত্র, কিন্তু সেই জায়গাটা চেপে ধরেছেন টীকাকার নীলকণ্ঠ। তাঁর মতে কৃষ্ণের ভাবটা হল এই—রাজসূয় যজ্ঞের সমস্ত সফলতা নির্ভর করছে বিপক্ষ নৃপতিদের পরাজয়ের ওপর। বিশেষত এক জরাসন্ধের সঙ্গে যুদ্ধ লাগলেই বাংলা-আসাম এবং উড়িষ্যা সবাই আসবে যুদ্ধ করতে এবং সেই জরাসন্ধ ন শক্যো’য়ং রণে হন্তং সর্বৈরপি সুরাসুরৈ—দেবাসুর কেউ তাকে মারতে পারবে না। তার থেকে ‘প্রধানমল্ল নিবর্হণ-ন্যায়েন’, মানে পালের গোদাটাকে আগে মেরে ফেলা দরকার এবং সেই জরাসন্ধকে মারতে হবে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে সামনাসামনি যাকে মহাভারত বলেছে ‘প্রাণ যুদ্ধেন জেতব্যঃ। এ ব্যাপারে কৃষ্ণ নিজের বনমালা—বিভূষিত কিংবা চক্রধারী চেহারাকেও মোটেই বিশ্বাস করেননি বরং বেছে নিয়েছেন হৃষ্ট-পুষ্ট ভীমকে, দ্বন্দ্বযুদ্ধে যিনি অনন্য। তারপর একটি রণভেরীও বাজল না, বাজল না যুদ্ধ আরম্ভের শঙ্খ, রাতের অন্ধকারে স্নাতক ব্রাহ্মণের বেশ ধরে যোগেশ্বর কৃষ্ণ এবং ভীম-অর্জুন প্রবেশ করলেন মগধের রাজধানীতে জরাসন্ধের সৌধ-প্রাঙ্গণে। সৈন্য-সামন্ত নিয়ে জরাসন্ধকে সতর্ক হবার একটুও ‘চান্স’ না দিয়েই ভীমের দ্বারা হত্যা করানো হল জরাসন্ধকে এবং সেখানেও যোগেশ্বর কৃষ্ণের বুদ্ধিযোগ ছিল।

    জরাসন্ধের মৃত্যু সাময়িকভাবে সমস্ত পূর্বভারতীয় রাজাদের মনোবল ভেঙে দিয়েছিল। রাজনৈতিক দিক থেকে পাণ্ডবদের রাজসূয় যজ্ঞের সংঘটনাও তাই জরাসন্ধের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই। পূর্বভারতীয় রাজাদের রাজনৈতিক আভিজাত্যের কথা মনে রেখেই সেদিকটা জয় করতে পাঠানো হয়েছিল ভীমকে। রাজনীতির মনস্তত্ত্ব যাঁরা জানেন, তাঁরা বুঝবেন, জরাসন্ধ হন্তা ভীমের যে একটা ‘ইমেজ’ তৈরি হয়েছিল পূর্বভারত জয় করার ব্যাপারে সেই ইমেজটা যথেষ্ট কাজে লেগেছে নইলে পুণ্ড্রবর্ধনের বাসুদেব, কিংবা অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, কামরূপের রাজারা ভীমকে সহজে ছেড়ে দিতেন না। জরাসন্ধের মৃত্যুর জন্যই যেহেতু পূর্বভারতীয় সমস্ত রাজাদের ‘অ্যাক্সিস’ ভেঙে গিয়েছিল, তাঁরা তাই সাময়িকভাবে উত্তর ভারতের সঙ্গে আপোস করে নিয়েছিলেন। রাজসূয় যজ্ঞের সুবাদে ভীম যে অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছিলেন সেটি আবার কাজে লাগল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পূর্বে। মনে রাখা দরকার ঝানু রাজনীতিবিদ কৃষ্ণ পূর্বভারতীয় সমস্ত পরাক্রমশালী নৃপতিকেই শেষ করে দিয়েছিলেন এই মহাযুদ্ধের আগে। জরাসন্ধ তো আগেই গেছেন। ঠিক তাঁর পরে কিংবা আগেই গেছেন আসামের নরকাসুর, কেননা বনবাসের সময় অর্জুন কৃষ্ণকে ধন্যবাদ দিয়েছেন আসামের পথ পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য। তা ছাড়া পাণ্ডব দিগবিজয়ের সময়েও নরকাসুরের ছেলে ভগদত্ত ছিলেন আসামের রাজা। কাজেই দুই শক্তিশালী প্রতিবেশী—মগধের জরাসন্ধ এবং প্রাগজ্যোতিষপুরের নরকাসুর মারা যাওয়ায় সাময়িকভাবে বাংলার রাজা পৌণ্ড্রক বাসুদেবের পক্ষে যুদ্ধ করার কোনও মানসিক প্রস্তুতি ছিল না। কিন্তু বন্ধুহানির প্রতিশোধ নিতে তিনি নিজেই এক সময় লাখো সৈন্য নিয়ে ছুটলেন দ্বারকায়। কৃষ্ণ জানতেন পৌণ্ড্রকের পক্ষে স্থির থাকা সম্ভব নয় এবং তিনি এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিলেন। বৃষ্ণি-যাদবদের আপন দুর্গে গিয়ে দূর-প্রবাসী এই বাঙালি রাজার পক্ষে যুদ্ধ জয় করা হয়তো সম্ভব হয়নি কিন্তু জরাসন্ধ নরকাসুরের মতো দুর্দম প্রতিবেশীকে পাশে না পেয়েও যে ক্ষমতা তিনি দেখিয়েছেন, তার প্রশংসা আমার থেকেও স্বয়ং কৃষ্ণই করেছেন বেশি। কৃষ্ণ বলেছেন, এই বাঙালি রাজার ধৈর্য এবং বীরত্ব দুটোই হজম করা শক্ত। মনে রাখা দরকার পৌণ্ড্রক বাসুদেবকে হত্যা করতে হয়েছিল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগেই এবং তা অবশ্যই পাণ্ডবদের জয়ের পথ সুগম করতে।

    কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা এবং আসাম—এরা সবাই কিন্তু দুর্যোধনের পক্ষে যুদ্ধ করেছে এবং তা করেছে কৃষ্ণপক্ষে পাণ্ডব চন্দ্রের উদয় সহ্য করতে না পেরে। দুর্যোধন যেহেতু পূর্বভারতীয় সম্মিলিত বাহিনীর এককালের অংশীদার, তাই পূর্বভারতীয় রাজারা তাদের পুরানো এক আর্যবন্ধুকে সমর্থন করেছে ক্রম প্রতিষ্ঠীয়মান অন্যতর আর্যনৃপতির ধ্বংসের জন্য। অবশ্য কৃষ্ণের সঙ্গে বদ্ধ-শত্রুতাও দুর্যোধনের পক্ষে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ। তবে, যা আগেই বলেছিলাম, রাজনীতিতে বাংলাদেশ চিরকালই উত্তর ভারতের বিরোধী কক্ষে এবং তাতে সমস্যা চিরকালই বেড়েছে বই কমেনি।

    মহাভারত, হরিবংশ এবং পুরাণগুলো থেকে যতটুকু তথ্য পাওয়া যায় তাতে নিঃসন্দেহে বলা চলে প্রাচীন বাংলার এক ধরনের স্বাতন্ত্র্য ছিল এবং সে স্বাতন্ত্র্য সামাজিক ক্ষেত্রে যেমন সপ্রকাশ, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাই। সামাজিক ক্ষেত্রে আমাদের স্বাতন্ত্র্য থাকার ফলে জৈন, বৌদ্ধের মতো বেদ-বিরোধী ধর্ম বাংলাদেশ সহজে গ্রহণ করতে পেয়েছিল। আবার রাজনীতির ক্ষেত্রে পৌণ্ড্র বাসুদেবের ঐতিহ্য আমরা বহুকাল পোষণ করেছি, যদিও শশাঙ্ক আর পাল রাজাদের আমলে সেন আর বর্মণদের আমলে বাংলার স্বাতন্ত্র্যের সঙ্গে মিশে গেছিল উত্তরভারতের অনুপান। তবে এও সত্যি, ‘দিবে আর নিবে’—এই নীতিতেই তো সভ্যতা গড়ে ওঠে। আমরা যেমন ওদের কাছ থেকে বেদ-ব্রাহ্মণ্য এবং আরও কিছু শিখেছি, ওরাও তেমনি আমাদের কাছে উদারতা, সহৃদয়তা ছাড়াও আরও অনেক কিছু শিখেছে। ভাবতে পারেন হাতির মতো প্রকাণ্ড জন্তু উত্তরভারতীয়রা পোষ মানাতে পারেনি এবং তা শিখিয়েছি আমরাই। স্বর্গত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মশাই বাঙালির এই হাতি পোষা এবং নৌ-যুদ্ধের গৌরব নিয়ে ভারী গর্ব বোধ করতেন। দশরথের বন্ধু লোমপাদ, আমাদের পাশের ঘরের মানুষ, তাঁর রাজ্যের খানিকটা এখনও আমাদের রাঢ়ভূমিতে মিশে আছে। প্রধানত তাঁরই শখে বাঙালির হাতি-পোষার ক্ষমতা উত্তরভারতে স্থানান্তরিত হয়। শাস্ত্রী মশায়ের দৃঢ় ধারণা ‘হস্ত্যায়ুর্বেদ’ নামে যে মহান গ্রন্থটি তা রচিত হয়েছে বহুকাল আগের বাংলাদেশে এবং এর রচয়িতা পালকাপ্য স্বয়ং বাঙালি। হাতির কথায় আবার মহাভারতের কথা মনে পড়ে গেল। সবাই জানে বাঙালির বন্ধুত্ববোধ অতুলনীয় এবং কখনও সেই বন্ধুত্ববোধ জন্ম দিয়েছে প্রতিশোধ-স্পৃহার। স্বয়ং হস্তিনাপুরের লোক হওয়া সত্ত্বেও ব্যাসদেবকে তাই মাঝে মাঝেই বাঙালির প্রশংসায় নামতে হয়েছে। বাংলার রাজা যখন দেখলেন ঘটোৎকচের জ্বলন্ত শক্তিশেল উদ্যত হয়েছে দুর্যোধনের দিকে তখন তিনি পাহাড়ের মতো বিরাট হাতিটিকে নিয়ে সরথ দুর্যোধনকে আড়াল করে দাঁড়ালেন। রাগের চোটে ঘটোৎকচ তাঁর শূল দিয়ে মেরে বসলেন শত্রুর পথরোধকারী সেই হাতিটিকেই অথচ ওই শূলটি দিয়ে দুর্যোধনকেই হয়তো মারা যেত। বাঙালি হস্তী-বিদ্যায় কুশল, তাই বাঙালি রাজা যতক্ষণে হাতির হাওদা থেকে নেমে পড়েছেন, ততক্ষণে দুর্যোধনও সময় পেয়ে তৈরি হয়ে নিলেন ঘটোৎকচের বিরুদ্ধে। এই সব বন্ধুত্বের কথা, এই সব বীরত্বের কথা—স্বাতন্ত্র্যের কথা মহাভারতের যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গেই কি শেষ হয়ে গেছে।

    হাতির কথা বাদ দিলে নৌযুদ্ধেও আমাদের স্বাতন্ত্র্য ছিল। কুশীনগরে ভগবান বুদ্ধের যেদিন ‘পরিনির্বাণ’ হচ্ছিল, ঠিক সেইদিন বাঙালির ছেলে বিজয়সিংহ সাতশো লোককে, এক জাহাজপানা নৌকোয় চাপিয়ে সিংহলে নেমে পড়েন। বুদ্ধের আগ্রহ ছিল, বিজয় লঙ্কাদ্বীপে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করবেন বলে, কিন্তু অজন্তা পাহাড়ে বাঙালি বিজয়ের যে নৌকোখানা আঁকা আছে তার চেহারা দেখে অবধি খালি মনে হয় নৌযুদ্ধে বাঙালির ক্ষমতা ছিল অপরিসীম। দণ্ডীর দশকুমারচরিতের এক কুমার যখন তাম্রলিপ্ত থেকে এক জাহাজ সমুদ্রে নিয়ে যাচ্ছিল তখন রামেষু নামে এক যবনের জাহাজ তাম্রলিপ্তের জাহাজটিকে ডুবিয়ে দেয়।

    শাস্ত্রীমশায়ের মতে এই ‘রামেষু’ হলেন মিশরদেশের ‘রামেসিস’; দশকুমারচরিত রচনার সময় এই রামেসিসের স্মৃতি জাগরূক থাকায়, যবন রামেষুকে দিয়ে বাংলার জাহাজডুবি করে দণ্ডী বিমলানন্দ লাভ করেছেন। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি নৌযুদ্ধে আমাদের সঙ্গে এঁটে ওঠা খুব কঠিন ছিল। তার প্রমাণ আছে হাজারো। তাছাড়া কুমার-পালের রাজত্বে তাঁর সেনাপতি বৈদ্যদেব যে কৃতিত্ব দেখিয়ে ছিলেন, তা খোদাই করা আছে কমৌলি লিপিতে। তাঁর ‘নৌবাট-হীহীরবে’ শত্রুপক্ষের হাতিরাও পালাবার জায়গা পায়নি। স্বয়ং কালিদাসের রঘু দিগবিজয় করতে এসে দেখেছিলেন, বাঙালিরা তৈরি আছে তাদের নৌবহর নিয়ে—’বঙ্গান নৌসাধনোদাতান।’

    কালিদাসের রঘু বাংলাদেশে আসলে আমরা হারব, মহাভারতের ভীম দিগবিজয় করতে আসলে আমরা হারব—এই নিয়ম। তাঁদের গরিমার কথা, যুদ্ধজয়ের কথা লিখে রাখবার জন্য কবিপণ্ডিত ছিলেন অনেক, কিন্তু ম্লেচ্ছ, পাপ, অসুর দস্যু এই সব উত্তর ভারতীয় উপাধিতে বিভূষিত বাঙালির গরিমার কথা লিখে রাখবার জন্য বাঙালিও পাওয়া যায়নি, সেইখানেই দুঃখ। একমাত্র রাজতরঙ্গিনীকার কলহন, যিনি আপন দেশের মহান রাজা ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়ের দোষ সম্পূর্ণ স্বীকার করে নিয়েও মুক্ত-কণ্ঠে বাঙালির জয়গান করেছেন। ললিতাদিত্যের দোষ, তিনি গৌড়ের রাজাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিলেন, কিন্তু কতিপয় গৌড়বাসী প্রভুহত্যার প্রতিশোধ-স্পৃহায় কাশ্মীরের জনপ্রিয় বিষ্ণুবিগ্রহ পরিহাসকেশবকে যে গুঁড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল, কলহন তাতে গৌড়বাসীদের একটুও দোষ দেখতে পাননি। বরঞ্চ ভুলবশত পরিহাসের বদলে রামস্বামীর ধ্বংসগুলি গৌড়বাসীরা যখন ছড়িয়ে দিচ্ছিল, রাস্তায় রাস্তায় তখনই তাদের মেরে ফেলা হলে, কলহন যেন দুঃখই পেয়েছেন মনে মনে। স্বয়ং বিধাতাও নাকি গৌড়বাসীদের অননুকরণীয় রাজভক্তি ভাষায় বর্ণনা করতে পারবেন না।

    গৌড়বাসীদের গৌরবের অনুপস্থিতিতেই যেন রামস্বামীর মন্দিরটি আজও বিগ্রহশূন্য আর পৃথিবী ভরে আছে গৌড়বাসীদের যশে। অন্তত কলহনের মত তাই এবং রাজতরঙ্গিনীর বর্ণনার ভাবে তাকে প্রকাশ করার একমাত্র উপায়—’বঙ্গালবাণী’—

    সেদিন শুভ্র পাষাণফলকে পড়িল রক্তলিখা।
    সেদিন শারদ স্বচ্ছ নিশীথে
    প্রাসাদ কাননে নীরবে নিভৃতে
    স্তূপপদমূলে নিবিল চকিতে শেষ আরতির শিখা।।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালীর ইতিহাস (আদিপর্ব) – নীহাররঞ্জন রায়
    Next Article মহাভারতের ছয় প্রবীণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }