Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুরাণী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প516 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাপ-লুডোর উৎস সন্ধানে

    সাপ-লুডোর উৎস সন্ধানে

    তিব্বতের হিমশীতল পরিবেশে একটি ছোট্ট বাড়ি। এখানে একটি যুবক তার বৃদ্ধা মাকে নিয়ে থাকেন। যুবকটি এই বয়সেই বুদ্ধের অভয় মন্ত্র নিয়ে বৌদ্ধ হয়েছেন। যুবকটির নাম স-স্ক্য পণ্ডিত। স-স্ক্য পণ্ডিতের মায়ের বড় অসুখ। ঘর থেকে তিনি বেরোতে পারেন না। ফলে অসুস্থ মাকে রেখে স-স্ক্য পণ্ডিতের পক্ষে সমস্ত সময়টা ধর্মের অনুশীলনে কাটানো সম্ভব হয়নি। পার্থিব বস্তুগুলি তাঁর কাছে অনিত্য হলেও মায়ের ওপর তাঁর অসীম মমতা। মায়ের কষ্টের কথা মনে হলেই বুদ্ধের করুণাঘন চোখদুটির কথা তাঁর মনে পড়ে। তিনি তাঁকে ছেড়ে যেতে পারেন না।

    আমরা যে সময়কার কথা বলছি, তা দ্বাদশ শতাব্দীর শেষ অথবা ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরু। বঙ্গদেশে তখন হিন্দু রাজত্ব শেষ হয়ে গেছে। মুসলিম রাজারা পাকাপাকি শাসন জারি করেছেন এখানে। লক্ষ্মণসেনের গৌড় অধিকার করার জন্য বকতিয়ার খিলজি যখন বিহারের মধ্যে দিয়ে আসেন, তখন অনেক বৌদ্ধ বিহার তিনি পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি নাকি বোকামি করে বৌদ্ধ স্তূপগুলিকে হিন্দুদের দুর্গ বলে মনে করেছিলেন। যাই হোক, দলে দলে বৌদ্ধরা তখন নেপালে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই নেপাল থেকেই বৌদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসার আগেও এখানে হয়েছিল, কারণ স্বয়ং বুদ্ধের জন্মভূমি কপিলাবস্তুই তো নেপালে। সে আর তিব্বত থেকে কত দূর!

    স-স্ক্য পণ্ডিতের হয়তো এই কথাটাই মনে হত। মায়ের অসুখ দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং আরও চলবেও। তাঁর বড় ইচ্ছে—বুদ্ধের নামাঙ্কিত স্থানগুলি অন্তত একটু ঘুরে আসা। ব্যবস্থাও একটা হল। দেখাশোনা করার জন্য একটি ভালো লোক জোগাড় করে তিনি তিব্বত থেকে বেরিয়ে পড়লেন বুদ্ধের নামে। বেশি দূর কিন্তু যাওয়া হল না। কাঠমাণ্ডু থেকে ৫০ মাইল গিয়ে কেরুঙ-এ এসেই তাঁর যাত্রা থেমে গেল। এখানে এসে তিনি একটা অদ্ভুত জিনিস পেলেন। ঘরে বসে খেলা যায়—এমন একটা খেলার ছক। নাম ‘নাগপাশ’। স-স্ক্য পণ্ডিত বাড়ি ফিরে এলেন। নাগপাশের ছকে ৭২টা ঘর বা খোপ আছে। তার মাঝে-মধ্যে লাল সাপ আর কালো সাপ। আর বিভিন্ন ঘরে আছে মানুষের মূর্তি, দেব-মূর্তি। আর আছেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর—তিন মূর্তি। নাগপাশ তো ঘরে নিয়ে এলেন স-স্ক্য পণ্ডিত। কিন্তু একজন বৌদ্ধ হয়ে কী করে তিনি এই হিন্দু দেবতা ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের ছবি নিরন্তর দেখবেন? বাড়িতে এসে তিনি নতুন একটি ছক তৈরি করলেন। তাতে থাকল বৌদ্ধদের ভাবনাচিন্তা। সাপের স্থান হল না স-স্ক্য পণ্ডিতের ছকে। শিব-পদ বা বিষ্ণু-পাদপদ্মের বদলে পরম স্থানটির নাম হল নির্বাণ অথবা পরম আনন্দ-ভূমি সুখাবতী।

    স-স্ক্য পণ্ডিত নেপাল থেকে নাগপাশ তিব্বতে নিয়ে এলেন। কিন্তু এই খেলাটা মূলত নেপালের না ভারতবর্ষের—সেটা একটু খুঁটিয়ে বুঝতে হবে। অবশ্য সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে যে, সেকালের ভারতবর্ষে নেপাল বলে কোনও আলাদা জায়গা ছিল না, ভারতবর্ষের কৃষ্টিই সেখানে চলত। এবারে বলি স-স্ক্য পণ্ডিত যে ছক পেয়েছিলেন, সেই খেলার ছক আসলে কোথাকার।

    ১৯৭৭ সালের এক দুপুরে দীপক সিংখাদা নামের এক যুবক শিকাগো শহরের ন্যাচারাল হিস্ট্রি বিভাগের ফিলড মিউজিয়ামে বসে নেপাল এবং তিব্বতের নানা ছবির সংগ্রহ তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। হঠাৎই মিউজিয়ামের আবছা অন্ধকার কোণে রাখা,একটি অদ্ভুত ছবির ওপর তাঁর নজর পড়ে যায়। মিউজিয়ামের রেজিস্টারে ছবিটির বিষয়ে শুধু লেখা হয়েছে, ধর্মীয় বিষয়—’রিলিজিয়াস ওয়র্ক’। ছবিটা উত্তর ভারতের একজন আর্ট-ডিলারের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল এবং ছবির মধ্যে যেহেতু ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর সশরীরে বর্তমান, অতএব মিউজিয়ামের কর্মকর্তারা এটাকে একটা ধর্মীয় চিত্রপট হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। নানা পুথিপত্র পড়ে দীপকের মনে হল ব্যাপারটা নিছক ধর্মীয় নয়, সঙ্গে আরও কিছু আছে, যেটা ধর্মের চেয়েও বেশি। তিনি আরও বুঝলেন, উত্তর ভারত থেকে ছবিটা কেনা হলেও ছবিটার মূল লুকিয়ে আছে নেপালে। গবেষণার এই সূত্রটুকু দীপক জোগাড় করেছিলেন ‘ওহায়ো স্টেট ইউনির্ভাসিটির শিক্ষক প্রোফেসর হান্টিংটন-এর কাছ থেকে। তিনি দীপককে প্রথম বলেন, ”তুমি কাঠমান্ডু যাও। মনে হচ্ছে, সেখানকার ন্যাশনাল মিউজিয়ামে’ এরকমই একটা ছবি আমি দেখেছি।’ ব্যস! পরের বছর দীপক চলে এলেন নেপাল। নেপালের ন্যাশনাল মিউজিয়ামে দীপক লক্ষ করলেন, একই রকম একখানি চিত্রপট, ঠিক যেমনটি তিনি শিকাগোতে দেখেছেন—ঠিক সেইরকমই আরও একটি চিত্রপট সেখানে আছে এবং তার নাম নাগপাশ। এটা সেই অর্থে নৈষ্ঠিকভাবে ধর্মীয় কিছু নয়, এটা একটা খেলার ছক। নেপালিরা শুদ্ধ করে এটাকে নাগপাশ বলেন, কিন্তু মৌখিকভাবে এটাকে ওঁরা বলেন ‘বৈকুণ্ঠ-খেল’। আসলে এটাই মূলত আমাদের সাপ-লুডো।

    ছেলেবেলায় যারা রামায়ণ পড়েছে, তারা নাগপাশ শব্দটা শুনেছে। সেই যে ইন্দ্রজিৎ রাম-লক্ষ্মণকে বিষে-বিষে জর্জরিত বিষবাণ ছুড়েছিলেন, সেই বাণের শক্তিতে অসংখ্য সাপ রাম-লক্ষ্মণের শরীর জড়িয়ে ধরল এবং বিষ-দংশন করতে থাকল তাঁদের শরীরের নানা জায়গায়। রাম-লক্ষ্মণ আর সাপের কবল থেকে বেরোতে পারলেন না, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। শেষে পক্ষিরাজ গরুড়ের সাহায্যে রাম-লক্ষ্মণ সাপের কবল থেকে মুক্তি পান।

    নেপালে পাওয়া নাগপাশের ছকেও রয়েছে এই সাপ। লাল সাপ আর কালো সাপ। লাল সাপ শুভ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক। আর কালো সাপ অশুভ এবং দুর্ভাগ্যের প্রতীক। মৃত্যুর প্রতীক হিসেবে কৃষ্ণ সর্প, কালো-সাপ, কালো সাপ অথবা গোখরো সাপের কথাটা প্রায়ই ব্যবহার করি। নেপালি নাগপাশে এই কালো সাপগুলোই যত গণ্ডগোলের মূল। এর মাথায় গুলি পড়লে একেবারে লেজের শেষে নামতে হবে। অন্যদিকে লাল-সাপের লেজে পৌছতে পারলে সে খেলোয়াড়কে অনেক উঁচু জায়গায় পৌঁছে দেয়।

    আমরা যে সাপ-লুডো খেলি, তাতে সাপগুলো সব ঠিকই আছে, খেলোয়াড়কে এগিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করে দিয়ে সাপগুলি মূর্তিমান অজগরের মতো নিথর হয়ে পড়ে থাকে। কিন্তু খেলোয়াড়কে সন্তোষজনক অবস্থায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য এখানে মই, তির অথবা একেবারে আধুনিককালে রকেটও ব্যবহার করা হচ্ছে। লাল সাপগুলি এখানে অনুপস্থিত।

    এই খেলার কালো সাপের মাথা আর লাল সাপের লেজের চেয়েও আরও গুরুত্বপূর্ণ এই খেলার উদ্দেশ্য। আমরা যেমন শুধু খেলার মজাটুকু পাওয়ার জন্যই সাপ-লুডো খেলি, নাগপাশ খেলার উদ্দেশ্য কিন্তু তা ছিল না। বরং এই খেলার উদ্দেশ্য ছিল অনেক গভীর এবং সেটা খানিকটা ধর্মীয়ও বটে। এই খেলার উদ্দেশ্য ছিল কর্মফল মাপা। ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলি। দৈনন্দিন ক্রিয়া-কর্মে আমরা ভালো কাজও করি, মন্দ কাজও করি। ভালো কাজের ফল পুণ্য, মন্দ কাজের ফল পাপ। সেকালের মানুষ বিশ্বাস করত, মানুষের এই পাপ-পুণ্য বা শুভাশুভ ফল ভবিষ্যৎ জীবন এবং পরজন্মের জন্য জমা হয়ে থাকে। অথবা এই পাপ-পুণ্যের ফলেই মানুষ মৃত্যুর পর নরকে বা স্বর্গে যায়। ভালো কাজ করলে মানুষ স্বর্গে যায় এবং দেবতাদের সঙ্গে সে বসবাস করে। আর খারাপ কাজ করলে মানুষ নরকে যায় এবং অনন্ত দুঃখ-কষ্ট পায়। কিন্তু এই জন্মে আমরা যে কাজ করেছি—সেগুলো ভালো করেছি না মন্দ করেছি, সে-সম্বন্ধে একটা ধারণা থাকলেও মানুষের তবু সন্দেহ থাকে। অর্থাৎ, আমি সত্যিই ভালো কাজ করেছি তো? না কি মন্দ করেছি? অথবা ভালো-মন্দ যাই করে থাকি না কেন, তার ফল কী হতে পারে? এই যে কর্মফলে মানুষের বিশ্বাস, এই বিশ্বাস থেকেই নাগপাশ খেলার জন্ম। অর্থাৎ নাগপাশ হল মানুষের কর্মফল মাপার একটা মজাদার উপায়।

    নেপালি নাগপাশের যে দুটি চিত্রপট পাওয়া গেছে, সেই দুটিই শক্তপোক্ত কাপড়ের তৈরি ছক। নীচ থেকে ওপর পর্যন্ত খোপ আছে ৭২টা। তাতে লাল-কালো মিলিয়ে সাপ আছে ১৫টা। খোপগুলির নীচ থেকে ওপর পর্যন্ত যে আটটা সারি আছে, তার বেশিরভাগ সারিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কিছু মানুষের ছবি, যারা সৃষ্টি থেকে শুরু করে মানুষের আত্মজ্ঞান লাভের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছে। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ—যেগুলো মানুষকে তার নিজস্ব সত্তা, চেতনা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়, তার অভিব্যক্তি চিত্রিত হয়েছে নীচের দিকের সারিগুলোতে। আর একেবারে ওপরের দিকের সারিগুলোতে জ্ঞান, চেতনা, আত্মোপলব্ধি এবং পরিশেষে একেবারে ওপরের সারিতে পরম ঈশ্বরের সান্নিধ্য-লাভ। কারণ, সেখানেই বিচিত্র বর্ণের সমাবেশে চিত্রিত হয়েছেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর—এই তিন মূর্তি।

    খেলোয়াড়ের কাজ হল এক-দুই তিন ইত্যাদি সংখ্যাবিশিষ্ট একটি ঘুটি চালা অথবা কড়ি চিতিয়ে খেলা। যা দান উঠবে সে তত ঘর যাবে। এই যাওয়ার পথেই সে সাপের ফাঁদে পড়বে। অর্থাৎ, নাগপাশে বাঁধা পড়বে এবং তাকে নীচে নামতে হবে। অথবা লাল-সাপ তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে উন্নত ভূমিতে। খেলার সময় কালো সাপের মুখে পড়লে বুঝতে হবে, ইহজন্মে অথবা গতজন্মে তুমি বহু খারাপ কাজ করেছ। সেই সঞ্চিত কর্মফলে সাপ তোমাকে গিলে খেল এবং শরীরের ভেতর দিয়ে চালান করে দিল একেবারে নীচে কর্মভূমিতে। স্মরণ করিয়ে দেওয়া হল—এখন থেকে সু-চিন্তা করো, ভালো কাজ করো। লাল সাপের কাজ কিন্তু একেবারে উলটো, আগেই তা বলেছি। এই যে মানুষের ছবি, কর্মভূমি, আত্মজ্ঞান—এতসবের অভিব্যক্তি শিকাগোর চিত্রপটে নেই। সেটা অনেক সহজ-সরল। কিন্তু নেপাল মিউজিয়ামের চিত্রপটটি অনেক জটিল, ছবিও সেখানে অনেক বেশি। গবেষণার সুবাদে এটা প্রমাণ হয়ে গেছে যে, নেপালে এই নাগপাশের খেলা চালু হয়ে গিয়েছিল মোটামুটি দশম খ্রিস্টাব্দেরও অনেক, অনেক আগে। এই নেপাল থেকেই খেলাটি আবার তিব্বতে ঢোকে। সে-কথা আমি বলেছি স-স্ক্য পণ্ডিতের কাহিনিতে। ভারতবর্ষের মূল ভূখণ্ডে কীভাবে চলত, তা এবার জানাই।

    হরিশ জোহারি নামে এক পণ্ডিত ‘লীলা’ বলে একখানি বই লিখেছিলেন ১৯৭৫ সালে। তিনি দেখিয়েছিলেন, ভারতবর্ষে বহুকাল ধরেই সাপ-লুডো খেলার চল ছিল এবং তারও উদ্দেশ্য ছিল আত্মজ্ঞান। সেই খেলার ছকেও ছিল ৭২টা খোপ। মানুষের মুক্তির পথে চলার বাধা হিসেবে এখানেও ছিল ছোট-বড় সাপ। কিন্তু তাকে বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এক লাফে উঁচুতে ঠেলে দেওয়ার জন্য এখানে লাল সাপের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে তির বা বাণ। এই তির বা বাণই কালে কালে পরিবর্তিত হয়ে ভারতীয় সাপ-লুডোর ছকগুলোতে মই বা সিঁড়ির চেহারা নিয়েছে। আধুনিকতা সাপ-লুডোর ব্যবসায়ীদের আরও নতুনত্ব শিখিয়েছে। তারা এখন মইয়ের বদলে রকেট ব্যবহার করছে, সাপের বদলে প্যারাশুট ব্যবহার করছে। ফলে সাপ-লুডোর মধ্যে যে কর্মফল, আত্মজ্ঞান অথবা দেবদর্শনের প্রতীকী ব্যাপারগুলো ছিল, তা হারিয়ে গিয়ে খেলার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হরিশ জোহারি জানিয়েছেন, ভারতীয় সাপ-লুডোর ছকে তিরচিহ্নের প্রচলন আর নেই অনেকদিন। সাপ আর তিরযুক্ত ছকগুলো এখন বাজারে পাওয়াই যায় না, যদিও ভারতের মূল ভূখণ্ডে এই ছকটাই আগে প্রচলিত ছিল, যার নাম ছিল ‘জ্ঞান-চৌপার’। এই জ্ঞান-চৌপারের আরও একটা নাম ছিল ‘মোক্ষ-পতমু’। দীপক সিংখাদা গবেষণা করে দেখিয়েছেন, আধুনিক সাপ-লুডোতে যে সাপ এবং মইয়ের ব্যবহার হয় তা এই জ্ঞান-চৌপার থেকে এসেছে, অথবা এসেছে নেপালি নাগপাশের মডেল থেকে। লক্ষণীয় ব্যাপার নেপালি নাগপাশ তিব্বতি স-স্ক্য পণ্ডিতের ছক এবং ভারতীয় জ্ঞান-চৌপার—এই দুটিরই মূলে ৭২টি খোপ ছিল। তিব্বতি ছকে খেলাটা শুরু হত ২৪-সংখ্যক ঘর থেকে, কারণ, বৌদ্ধ-মতে ২৪-এর ঘরটাই হল অসীম আনন্দভূমি সুখাবতীর দ্বার। হিন্দুদের নাগপাশে যে কর্মফলের ব্যাপারটা আছে, সেই কর্মফল বা কর্মপথের সঙ্গে বৌদ্ধদের কোনো বিরোধ নেই। কারণ, তাঁরাও কর্মে বিশ্বাস করেন। জ্ঞান-চৌপারের ছকে খেলা শুরু হত ৬৮ নম্বর ঘর থেকে, কারণ সেখানেই ভগবান বিষ্ণুর আসন। খেলোয়াড় বেশিক্ষণ সেখানে থাকতে পারে না, যেহেতু দান চালার পর এগোতে-এগোতে তাকে সাপের মুখে পড়তে হয়। কুকর্মের ফল আর কী! কিন্তু খেলতে খেলতে খেলোয়াড়কে আবার ফিরে আসতে হবে সেই ৬৮ নম্বর ঘরেই। ভাবটা এই, সেই পরম আনন্দ থেকে তুমি জন্মেছ, ফিরেও যেতে হবে সেই আনন্দে। মাঝখানে কর্মভোগ আছে, অতএব সাপের মুখোমুখি তো হতেই হবে কোনও-না-কোনও সময়। একমাত্র নেপালি নাগপাশ কিন্তু শুরু হয় একেবারে এক নম্বর ঘর থেকে, যা সৃষ্টি বা জন্মের সঙ্গে একার্থক। যেহেতু সৃষ্টি দিয়েই ঈশ্বর তাঁর কাজ শুরু করেন, অতএব খেলাও শুরু হয় ওই এক-সংখ্যক ঘর থেকেই। জীবনের গতিতে শৈশব, যৌবন, জরার পথ ধরে খেলোয়াড় এগোতে থাকে। এই যাওয়ার পথ নিয়ন্ত্রিত করে লাল আর কালো সাপ। ফলে কখনও সে লাফ দিয়ে ওপরে ওঠে, আবার কখনও এক ঠেলায় নীচে নামে। শেষে অন্তিম পুণ্যফলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু অথবা মহেশ্বর শিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় মানুষের।

    গোলোকধাম বলে একটা খেলা এখানে চালু ছিল। গরানহাটার কৃষ্ণচন্দ্র ধর প্রকাশিত ‘সচিত্র গোলোকধাম’ কিনতেন অনেকে। এই গোলোকধাম সেকালের বটতলার ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত হত এবং পরে আরও উন্নত হয়ে নব-গোলোকধামে পরিণত হয়েছিল। এই খেলার ছকে ঘর ছিল ৬৪টি এবং খেলা শুরু হত এক নম্বর ঘর থেকে। এই এক নম্বর ঘরের নাম মাতৃভূমি বা জন্মভূমি।

    এদিক দিয়ে দেখতে গেলে নেপালি নাগপাশের প্রভাব এখানে সুস্পষ্ট। কারণ নাগপাশেও খেলা শুরু হত ১ সংখ্যা থেকে এবং সে-ঘরটা সৃষ্টির। গোলোকধামে মানুষের পতনের জায়গাগুলি ছিল—নরককুণ্ড এবং যমপুরী। আর পুণ্য থাকলে মানুষের নানা তীর্থে বাস ঘটত, যেমন—বদরিকাশ্রম, দ্বারকা, নবদ্বীপ ইত্যাদি। পরবর্তী সময়ে গোলোকধামের ঘরের সংখ্যা বেড়ে ১০০ হয়। পতনের কারণ হিসেবে এখানে যেমন চৌর্যবৃত্তি, মিথ্যাভাষণ, ক্রোধ, লোভ, লালসা ইত্যাদি সাপের মুখে পড়তে হত, তেমনই বিশ্বস্ততা, সাত্ত্বিকতা, জ্ঞান—ইত্যাদি ছিল মই বেয়ে ওঠার ঘর। সচিত্র গোলোকধামে ‘শ্বশুরবাড়ি’ বলেও একটা সংখ্যা ছিল, তবে পাপের ফলে সেখানে যাওয়া ঘটত, না কি পুণ্যের ফলে সেখানে যাওয়া ঘটত, সেটা তত স্পষ্ট নয়। গোলোকধাম ‘খেলায় ৮৪ সংখ্যা থেকে ৯৯ সংখ্যা পর্যন্ত চারটি ঘর ছিল, সেগুলোর নাম—ক্রোধ (৮৪), লোভ, গর্ব, লালসা (৯৯)। ৯৯-র সাপটাই সবচেয়ে লম্বা। খেলার দিক দিয়ে এতে হয়তো একেবারে শেষে গিয়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হত। কিন্তু নেপালি নাগপাশে এইসব ঘর অনেক আগেই পেরিয়ে আসতে হয়। কারণ, ধর্মের জগতে লালসার পরেই হঠাৎ করে নির্বাণে পৌঁছনো যায় না। তার জন্য ক্রমিক উত্তরণ এবং সাধনা শুরু হয় নীচের ছ’-সাত সারির পর থেকেই। গোলোকধামে নির্বাণ শব্দটা অবশ্য তিব্বতি স-স্ক্য পণ্ডিতের প্রভাব। অন্যদিকে, এটাও লক্ষ করতে হবে, বাঙালির গোলোকধাম নামটির সঙ্গে নেপালি নাগপাশের কথ্য পরিভাষা ‘বৈকুণ্ঠ খেল’-এর কোনও তফাত নেই। কারণ, গোলোক আর বৈকুণ্ঠ একই কথা। যাই হোক, ছকটা উত্তর ভারতীয় জ্ঞান-চৌপার বা মোক্ষ-পতমুই হোক, নেপালের নাগপাশই হোক অথবা স-স্ক্য পণ্ডিতের তিব্বতি ছকটাই হোক, সব ছকেই কিন্তু মূলে ৭২টি খোপ ছিল। পরে তিব্বতের ছকে ১০৪টা খোপ এসেছে, জ্ঞান-চৌপার বা মোক্ষ-পতমুতেও ১০০টা ঘর এসেছে এবং বৈকুণ্ঠ-খেলেও খোপের সংখ্যা এখন ১০০। কিন্তু দীপক সিংখাদা গবেষণা করে দেখিয়েছেন, মূলে সবক-টি খেলাতেই ৭২টা ঘর ছিল। দীপকের বক্তব্য—এই ‘৭২’ সংখ্যাটা বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থগুলিতে খুব বড় একটা প্রতীক। বৌদ্ধ মতে সংসার-চক্রের যে বিভিন্ন স্তর আছে, তার সংখ্যা ৭২। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করা যেতে পারে—জাভা দ্বীপে যে বিশাল বরবুদুর বৌদ্ধস্তূপ আছে, তার স্থাপত্য তৈরি হয়েছিল জাগতিক বিশ্ব-প্রপঞ্চের অনুকরণে এবং সেখানে ৭২টা ছোট্ট স্তূপ নির্মিত হয়েছে ঘণ্টার আকারে। বৌদ্ধধর্ম এবং স্থাপত্যে এই ৭২ সংখ্যাটাই দীপককে বুঝিয়েছে, সাপ-লুডো খেলার মূল লুকিয়ে আছে বৌদ্ধধর্মের মধ্যেই। অর্থাৎ, ভারতীয় জ্ঞান-চৌপার, নেপালি নাগপাশ বা তিব্বতি স-স্ক্য পণ্ডিতের ছক—এই সবকিছুরই উৎসভূমি হল বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ। দীপক একটি সুপ্রাচীন পালি গ্রন্থের উল্লেখ করে বলেছেন, ভগবান বুদ্ধ ঠিক স্পষ্ট করে না বললেও কর্মফল এবং মানুষের জীবনের যাবতীয় উত্থান-পতন এবং ধর্মপথের সাফল্যগুলোকেও একটা ছকেই বেঁধে ফেলেছেন। সে-ছক হিন্দুরাও মেনেছেন, বৌদ্ধরা তো মেনেছেনই। তারই সুফল এই নিতান্ত ধর্মনিরপেক্ষ খেলা সাপ-লুডো, যার মূল উৎসের খোঁজে আমাদের হয়তো খ্রিস্টের জন্মের আগের শতাব্দীগুলোতেও ফিরে যেতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালীর ইতিহাস (আদিপর্ব) – নীহাররঞ্জন রায়
    Next Article মহাভারতের ছয় প্রবীণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }