Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুর্ব্ববঙ্গ গীতিকা (চতুর্থ খণ্ড, দ্বিতীয় সংখ্যা) – দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত

    দীনেশচন্দ্র সেন এক পাতা গল্প385 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শীলা দেবী – অজ্ঞাত লেখক

    শীলাদেবী

    ১৯২৭ সালে সেপ্টেম্বর মাসে চন্দ্রকুমার দে মৈমনসিংহের আদমগুজি নিবাসী কালু সেখ এবং কদমশ্রী গ্রামের নন্দলাল দাস নামক এক মাঝির নিকট হইতে এই পালাটি সংগ্রহ করেন।

    পালাটির ঘটনা সম্ভবতঃ ঐতিহাসিক। মৈমনসিংহের বহুস্থানে শীলাদেবী সম্বন্ধে বহু প্রবাদ প্রচলিত আছে। উক্ত জেলায় নববৃন্দাবনের আরণ্য প্রদেশে শীলাদেবী-সংশ্লিষ্ট অনেক কাহিনী এখনও শোনা যায়।

    এই পালাটির আর একটি সংস্করণ সম্বন্ধে আমরা জানিতে পারিয়াছি। মৈমনসিংহের গোপাল আশ্রম নিবাসী গোপালচন্দ্র বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি বহুপূর্ব্বে স্থানীয় ‘আরতি’ নামক পত্রিকায় শীলাদেবী সম্বন্ধে একটি পালার সারাংশ সঙ্কলন করিয়া দিয়াছিলেন। গোপালবাবু এখনও জীবিত আছেন এবং তাঁহার বয়স ৭৪৷৭৫ বৎসর হইবে। বর্ত্তমান পালার সঙ্গে আরতি পত্রিকায় প্রকাশিত পালাটির তুলনা করিলে দেখা যাইবে উভয় পালাই অনেকটা একরূপ হইলেও তাঁহাদের মধ্যে কিছু গুরুতর পার্থক্য বিদ্যমান। মুণ্ডাদস্যুর ব্রাহ্মণ-রাজগৃহে চাকরি গ্রহণ হইতে তাহার রাজকুমারীর পাণিপ্রার্থনা এবং অবশেষে বন্দীশালা হইতে পলায়ন ও কয়েক বৎসর পরে বন্য মুণ্ডার দল সংগ্রহ করিয়া ব্রাহ্মণ-রাজার প্রাসাদ লুণ্ঠন—এই কাহিনী উভয় পালাতেই একরূপ। ব্রাহ্মণ-রাজা তাঁহার কন্যা-সহ পলাইয়া আর একটি হিন্দু রাজার আশ্রয় গ্রহণ করেন—এই পালায় আমরা ইহাই পাইতেছি। কিন্তু আরতির সারাংশতে দেখা যায় যে ব্রাহ্মণ-রাজা পলাইয়া গাজীদের শরণাপন্ন হন। বঙ্গের ইতিহাসজ্ঞ ব্যক্তিমাত্রেই অবগত আছেন যে খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ ও চতুর্দ্দশ শতাব্দীতে পূর্ববঙ্গে গাজীদের অতুল প্রতাপ হইয়াছিল! তাহারা ভাওয়াল ও ধামরাই, সাভার এবং মৈমনসিংহের অনেক স্থানের হিন্দুগৌরব নষ্ট করিয়াছিল। যে গাজীর নিকট ব্রাহ্মণ-রাজা শীলদেবীকে লইয়া উপস্থিত হন, তিনি যথেষ্ট আতিথ্য দেখাইয়াছিলেন; কিন্তু গাজীর এক তরুণবয়স্ক পুত্র শীলাদেবীর রূপমুগ্ধ হইয়া তাঁহাকে বিবাহ করিবার জন্য চেষ্টিত হন। ব্রাহ্মণ-রাজা পলাইয়া নিজেকে মুসলমানের আত্মীয়তা হইতে রক্ষা করেন। ত্রিপুরার রাজা ব্রাহ্মণ-রাজাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা দেখাইয়া নিজ প্রাসাদের এক অংশে স্থান প্রদান করেন। এখানেও ত্রিপুরার যুবরাজ শীলাদেবীর অনুরাগী হইয়া পাণিপ্রার্থী হন। ব্রাহ্মণ-রাজা নানারূপ বিপদের অভিঘাতে বিচলিত হইয়া এই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করিতে পারেন নাই, এবং শীলাদেবীও ত্রিপুরার রাজকুমারের অনুরাগিণী হইয়াছিলেন। ত্রিপুরার যুবরাজ অসংখ্য সৈন্য লইয়া মুণ্ডা-দলনের অভিপ্রায়ে ব্রাহ্মণ-রাজার প্রদেশে অগ্রসর হন। মুণ্ডারা এবার প্রমাদ গণিল, কিন্তু সাহস হারাইল না। তাহারা রাজকুমারের অগ্রগামী সৈন্যের পথের নদীর বাঁধ ভাঙ্গিয়া দিল। বর্ষাকালের উন্মত্ত বন্যা নদীবক্ষ স্ফীত করিয়া একটা বৃহৎ ভূভাগ ভাসাইয়া ফেলিল। শীলাদেবী ত্রিপুরার রাজকুমারের পার্শ্বে পুরুষ যোদ্ধার বেশে সৈন্য পরিচালনা করিতেছিলেন। এই আকস্মিক বন্যার প্রকোপে রাজকুমারের সমস্ত সৈন্য ধ্বংস হইয়া যায় এবং শীলদেবী ও যুবরাজ অতল জলে নিমজ্জিত হইয়া প্রাণত্যাগ করেন। ইহার পরে অশিক্ষিত ও বর্ব্বর মুণ্ডার দলকে দমন করিতে ত্রিপুরা-রাজের বিশেষ কষ্ট পাইতে হয় নাই। তিনি সমস্ত মুণ্ডার দল জালের দড়ি দিয়া ঘিরিয়া ফেলিয়া তাহাদিগকে বন্দী করেন এবং তোপের মুখে তাহাদিগকে উড়াইয়া দেন। যে স্থানে মুণ্ডারা এইভাবে মৃত্যুমুখে পতিত হয় তাহার নাম ‘কাঁকড়ার চর’। এখনও সেই স্থানটিতে তাহাদের সম্বন্ধে অনেক গল্পগুজব প্রচলিত আছে।

    মূল ঘটনা ঐতিহাসিক। যে সময়ে কোন স্থানীয় কোন প্রসিদ্ধ ঘটনা ঘটিয়া থাকে তাহার অব্যবহিত পরেই তথাকার সাধারণ লোকেরা তৎসম্বন্ধে পালা প্রস্তুত করে। এই হিসাবে অনুমান করা যাইতে পারে যে মূল পালাটি চতুর্দ্দশ শতাব্দীতে বিরচিত হইয়াছিল, কারণ ঐ সময়েই গাজীরা অতি পরাক্রান্ত ছিল।

    ‘আরতি’তে যে পালাটির সারাংশ সঙ্কলিত হয় সে পালাটি হারাইয়া গিয়াছে, এখন আর তাহা পাইবার উপায় নাই। কিন্তু উহার সারাংশ দ্বারা আমরা যতটা বুঝিতে পারি তাহাতে অনুমিত হয় যে সেই পালাটিই খাঁটি ছিল এবং বর্ত্তমান পালাটিতে রচয়িতা ইচ্ছাপূর্বক কতকগুলি পরিবর্তন সাধন করিয়াছেন। শীলা দেবীর পিতা পলাইয়া যে রাজার নিকট গিয়াছিলেন, এই পালাটিতে তাহার নাম বা কোন পরিচয় নাই। কিন্তু আমার বিশ্বাস ব্রাহ্মণ-রাজা গাজীদের নিকটই সাহায্য প্রার্থনার জন্য প্রথম গিয়াছিলেন। ব্রাহ্মণ্য-প্রভাবের আতিশয্যে দ্বিতীয় পালা-লেখক মুসলমান-সংশ্লিষ্ট ঘটনাটা গোপন করিয়াছেন এবং তৎস্থলে একটি অজ্ঞাতকুলশীল অনামা হিন্দুরাজাকে আনিয়া সে স্থান পূরণ করিয়াছেন। এই পরিবর্তন স্বেচ্ছাকৃত। পূর্ব্বকালে ত্রিপুরার রাজারা গাঙ্গেয় উপত্যকার উচ্চশ্রেণীর হিন্দুদের সঙ্গে বৈবাহিক আদান-প্রদানের জন্য লালায়িত ছিলেন, ইহা অনেকেই জানেন। সুতরাং ত্রিপুরার যুবরাজের ব্রাহ্মণকুমারীর পাণিপ্রার্থী হওয়া বিচিত্র নয়।

    যদিও বর্ত্তমান পালাটি সম্ভবতঃ এইভাবে পরিবর্ত্তিত হইয়াছে, তথাপি মূল পালার সহিত ইহার ভাব ও ভাষাগত যে খুব বেশী পার্থক্য আছে ইহা আমার মনে হয় না। যে আকারে এই পালাটি পাইতেছি, তাহা পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে কিংবা ষোড়শ শতাব্দীর পূর্ব্বভাগে বিরচিত হইয়াছিল, ইহাই আমাদের ধারণা।

    মুণ্ডার চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়া উঠিয়াছে। অল্প কথায় একটা লৌহবক্ষ বৃষস্কন্ধ মহাতেজস্বী অসভ্য বীরের আকৃতিটি আমাদের চক্ষের সম্মুখে উপস্থিত করা হইয়াছে। তাহার স্পৰ্দ্ধা, তেজ এবং চক্রান্ত করার শক্তি একটা ভীষণ বন্য শার্দ্দুলেরই অনুরূপ। শীলদেবী এবং যুবরাজের প্রেম-কাহিনী একটি দুর্ঘটনাময় আঁধার রাজ্যের মধ্যে বিদ্যুৎ-স্ফুরণের ন্যায়। মামুলী বারমাসীটি আছে এবং স্থানে স্থানে গ্রাম্য পাণ্ডিত্যের চিহ্ন দেখিয়া মনে হয় পালার লেখক নব ব্রাহ্মণ্য-প্রভাবের হাত একেবারে এড়াইতে পারেন নাই। বারমাসী এবং প্রেমকাহিনী একটু অতিরিক্ত মাত্রায় দীর্ঘ হইয়াছে; তথাপি তন্মধ্যে যথেষ্ট পল্লী-সৌন্দর্য্যের প্রভা বাড়িয়াছে। মোটামুটি বলিতে গেলে পালাটি প্রাচীন ভাল পালাগুলির সঙ্গে এক পঙ্‌ক্তিতে স্থান লইবার দাবী করিতে পারে এবং ভাষাও অনেকটা প্রাচীন আদর্শেরই অনুরূপ। প্রাচীন পল্লীগুলির তৎসাময়িক যে চিত্র দেওয়া হইয়াছে তাহার একটা ঐতিহাসিক মূল্য আছে। অসভ্য এবং বন্য জাতিরা সহসা যূথবদ্ধ ব্যাঘ্রের মত পাহাড় হইতে কিভাবে নিম্ন সমতল ভূমির উপরে আসিয়া পড়িত এবং নিরীহ ব্যক্তিদের সর্ব্বনাশ-সাধন করিত, তাহা এই পালাটিতে জীবন্ত হইয়া উঠিয়াছে। সাঁওতাল, গারো এবং কুকীদের আক্রমণ সম্বন্ধে বহু পালাগান আমরা পাইয়াছি। তৎসঙ্গে এই পালাতে মুণ্ডারা আসিয়া জুটিয়াছে। যখন হিন্দু রাজত্ব নষ্ট হইয়া যায়, এবং মুসলমানেরা নিজেদের শাসন তখনও ততদূর সুপ্রতিষ্ঠিত করিতে পারেন নাই সেই সময় মৎস্যন্যায়ের যুগ। পাল-রাজাদের অভ্যুদয়ের পূর্ব্বে একবার সেইরূপ একটা যুগ আসিয়াছিল। এই বর্ব্বর যুগের অত্যাচার এবং স্পৰ্দ্ধা এক সময়ে এত বেশী হইয়াছিল যে রাজা-রাজড়াও ইহাদের সঙ্গে আঁটিয়া উঠিতে পারেন নাই।

    পালাটিতে ৫২০ ছাত্র আছে এবং আমি ইহা ১৪ অধ্যায়ে ভাগ করিয়াছি।

    শ্রী দীনেশচন্দ্র সেন

    .

    শীলাদেবী

    (১)

    মুণ্ডা

    বাড়ী নাই ঘর নাই জঙ্গল্যা মুণ্ডারে ফিরে দেশে দেশে
    দৈবেত আনিল তারর ভালা বামুন রাজার দেশেরে
    দুষ্মনা জঙ্গল্যা মুণ্ডারে—
    মাও নাই বাপ নাই জঙ্গল্যা মুণ্ডারে ফিরে বাড়ী বাড়ী
    দৈবেত আনিল তারে ভালা বামুন রাজার বাড়ীরে
    দারুণা জঙ্গল্যা মুণ্ডারে—
    জঙ্গলেতে জনম মুণ্ডারে জাতিত জঙ্গলিয়া
    দরবারে খাড়াইল মুণ্ডা ছেলাম ত জানাইয়ারে
    “শুন শুন বামুন রাজারে
    শুন শুন বামুন রাজারে কহি যে তোমারে
    আমার দুঃখের কথা ভালা
    জানাই তোমার দরবাররে
    হারে শুন বামুন রাজারে
    দীন দুনিয়ার মালিক তুমিরে
    আমি পন্থের না ভিখারী
    বাড়ী ঘর নাই রাজা গাছতলায় বসতি
    শুন শুন বামুন রাজারে
    জন্মিয়া না দেখি বাপমায়েরে গর্ভসোদর ভাই
    সুতের সেহলা যেমুন ভাস্যা ভাস্যা ফিরিরে
    শুন মোর দুষ্কের কথারে

    কোন জনে দিয়াছে জনম ভালা কে ধইরাছে পেটে
    কড়ার কাহনী[১] দিয়া মোরে কে বিকাইল হাটেরে
    শুন শুন বামুন রাজারে
    বড় দুষ্কে পইরা আমিরে ভালা
    ছাড়লাম তার বাড়ী
    সেইদিন হইতে রাজা আমি দেশে দেশে ফিরিরে
    শুন শুন বামুন রাজারে
    মেঘেতে ভিজিয়া মরি রইদে নাই সে পুড়ি
    বিরকতলায়[২] নাই সে ঠাঁই কপাল হইল বৈরীরে
    শুন শুন বামুন রাজারে”

    বামুন রাজা

    “বড় দয়া লাগে তোরে রে জঙ্গলার বাসী
    আমার রাজ্যেত থাইক্যা কর ঠাকুরালীরে
    শুন শুন জঙ্গল্যা মুণ্ডারে
    বাড়ী দিবাম জমিন দিবাম আর দিবাম মাহিনা
    রাজ্যের কোটাল হইয়া থাকিবা মোর পুরীরে
    শুন শুন জঙ্গলিয়া মুণ্ডারে”

    মুণ্ডা

    “বাড়ী নাই সে চাই আমি রাজাগো
    জমিন নাই সে চাই
    তোমার ছিচরণে আমি একটু পাই ঠাঁইরে
    তবে মোর জন্নম ভালারে

    আমার না চক্ষের জলেরে রাজা নদী নালা ভাসে
    দশ বছর ঘুইরা মল্লাম কত কত না দেশেরে
    তবে মোর জন্নম ভালারে
    পায়ের নফর হইয়া আমি রাজা থাকিমু দুয়ারে
    চোর চোট্টায় রাজ্যের কি করিতে পারেরে
    শুন শুন বামুন রাজারে
    জঙ্গলাতে জনম আমার রে জাতিত জঙ্গলী
    বাঘ ভালুকে রাজা ভয় নাই সে করিয়ে
    শুন শুন বামুন রাজারে
    দুই হাতে ধইরা রাখিরে রাজা জঙ্গলার হাতী
    জঙ্গলাতে জন্নম আমার জঙ্গলীর জাতিরে
    শুন শুন বামুন রাজারে
    লোহার শাবল মোররে হাত দুই খান
    এ মোর বুকের পাটা পাত্থর সমানরে
    শুন শুন বামুন রাজারে”

    গাবুরালী অঙ্গ দেইখ্যারে রাজার ভয় বাসিল মনে
    ধীরে ধীরে কয় কথা জঙ্গল্যার স্থানেরে
    “শুন শুন জঙ্গল্যা মুণ্ডারে
    কালাদিঘির পাড়েরে কোটালিয়ার খানা
    সেইখানে পাতিয়া লহরে আপন বিছানারে
    শুন শুন নতুন কটুয়ালরে
    ডাইল দিবাম চাইলি দিবাম ভালা রসুই কইরা খাইও
    বালাখানা ঘর দিবাম শুইয়া নিদ্রা যাইওরে
    শুন শুন নতুন কটুয়ালরে
    বারশত কটুয়াল আমাররে করেরে খবরদারী
    তা সবায় উপরে তুমি করবা ঠাকুরালীরে
    শুন শুন নতুন কটুয়ালরে”

    এই কথা শুনিয়া মুণ্ডারে কোন কাম্ না করে
    হাজার ছেলাম জানায় (ভালা)
    রাজার দরবারেরে
    নতুন কটুয়াল হইলামরে (১-৭১)

    (২)


    কাঞ্চানা সোণার অঙ্গরে যেমুন ঝলমল
    একক কন্যা আছে রাজার দশনা বচ্ছরেররে
    কাঞ্চা বরণ কন্যারে
    পঞ্চ সখী সনে শীলারে রঙ্গে করে খেলি
    দেখিতে সুন্দর কন্যা কনক চম্পার কলিরে
    কাঞ্চা সোণার বরণরে
    হাটু বাইয়া পড়ে কেশরে যে দেখে নয়ানে
    আসমানের মেঘ যেমুন লুডায় জামিনেরে
    মেঘের বরণ কেশরে
    ডালুমের দানা যেনরে দন্ত সারি সারি
    চাঁপালিয়া হাসি কন্যা ঠোটে রাখে ধরিরে[৩]
    মেঘের বরণ কেশরে
    দুই আঁখি দেখি কন্যার পরভাতের তারা
    গোলাপী ছুরত কন্যার না যায় পশুয়ারে[৪]
    মেঘের বরণ কন্যারে
    দুষ্মনে পাগল করেরে পর করে আপনা
    দিনে দিনে হইল রাজার দুরন্ত ভাবনারে
    মেঘের বরণ কন্যারে

    যেদিন ফুটিবে এইরে কদম্বের কলি
    ভাবে রাজা যোগ্‌গি[৫] বর কোন দেশে মিলিরে
    চিন্তিত হইল বামুন রাজারে
    দেশে দেশে ভাট রাজারে পাঠাইয়া দিল
    পান ফুল হাতে লইয়া ভাট না চলিলরে
    চিন্তিত হইল বামুন রাজারে


    হাসিয়া খেলিয়া কন্যারে খেলার সময় যায়
    পঞ্চ সখী সঙ্গে কন্যা রঙ্গেত খেলায়রে
    বাহারে সোণার যৈবনরে
    আইল যৈবন কালরে মানা নাই সে মানে
    কাল নদীতে ডাকে জোয়ার কেউত নাহি জানেরে
    আইল সোণার যৈবনরে
    খেল খেল কন্যা তুমি লো শিশুতির[৬] খেলা
    কালুকে বিয়ানে তুমি পড়িবে একেলারে
    কাল যৈবন কন্যাররে
    কেউনা দিল খবর তোরে লো কন্যা খেলার সময় যায়
    দিনে দিনে দিন কত ঘটবে বিষম দায়রে
    কাল যৈবন কন্যাররে
    খেলার ঘর ভাইঙ্গা পড়বে লো কন্যা
    আইজ বাদে কালি
    যখন ফুটিয়া উইঠে মালঞ্চ মুকলীরে
    কাল যৈবন কন্যাররে
    প্রাণের পরাণ পঞ্চ সখীরে দুষ্মন হইবে
    বনের পাখীর মতন যখন শূন্যেতে উড়িবেরে
    কাল যৈবন কন্যাররে


    “শুন শুন পঞ্চ সখীরে একি হইল দায়
    আজ কেন কোকিলার ডাক কঠিন শুনায়রে
    শুন শুন পঞ্চ সখীরে
    পিঞ্জরার শুক শারীরে কৈছনে গায় গান
    বুকের ভিতর থাক্যা কাপ্যা উঠে পরাণরে
    শুন শুন পঞ্চ সখীরে
    কি হইল কি হইল আমার রে সখী বুঝিতে না পারি
    ফাপ্‌লা[৭] বেদনে আমার বুক হইল ভারীরে
    শুন শুন পঞ্চ সখীরে
    নিলাজ অঙ্গ সে সখী বসন না চায়
    কি জানি অজানা গান মন-কোকিলা গায়রে
    শুন শুন পঞ্চ সখীরে
    কইও কইও পঞ্চ সখীরে কইয়া দিও তোরা
    যে অঙ্গ বসনে মোর না পইরাছে ঘিরারে
    শুন শুন পঞ্চ সখীরে
    বানছি না বান্ধিয়াছি কেশ কইয়া দিও মোরে
    পরভাতে জাগাইয়া দিও যদি ঘুমের ঘোরে
    লাজে মরি শুন সখীরে
    ফুল কেন মৈলান দেখিরে চান কেন মৈলান
    আবেতে ঘিরিয়া লইছে জমিন আসমানরে
    দেখ দেখ পঞ্চ সখীরে
    বাপে মায় জানে যদিরে পড়িবে বিপাকে
    আহার নিদের কথা মোর মনে নাহি থাকেরে
    শুন শুন পঞ্চ সখীরে

    ভাঙ্গিয়া চুরিয়া দুইনাই[৮] নতুনে গড়িল
    কোন বিধি হইল বাদী পরাণ কাইড়া নিলরে
    শুন শুন পঞ্চ সখীরে
    মুখের আহার নিলরে নিদ্রা নয়নের
    সর্ব্বস্ব কাইড়া নিল যা ছিল জীবনেরে
    শুন শুন পঞ্চ সখীরে
    মুখ বান্ধা ফুলের কলিরে না ফুইট্ট তোমরা
    পরাণ ভাঙ্গাইতে আইবে দারুণ ভোমরারে
    শুন শুন ফুলের কলিরে
    আইজ যে দিন হইল গতরে না আসিব কাইল
    লোকে কহে সোণার যৈবন আমার কাছে গাইলরে
    দুঃখের যৈবন কালরে
    দুনিয়া দুষ্মন মোররে বিধি প্রতিবাদী
    মনে লয় নিরালে বসি আনছলেতে কান্দিরে
    শুন শুন পঞ্চ সখীরে”


    ন কাইন্দ ন কাইন্দ কন্যা লো চিত্ত কর দর
    আসিবে মালঞ্চে তোমার মন মধুকররে
    শুন শুন রাজবালারে
    এই বসন খুলিয়া কন্যা লো নয়ালী পইরারে
    আভের গায় চাঁন্দের কিরণ তেমুন শোভা পাবেরে
    শুন শুন রাজবালারে
    এহিত কেশের বাঁধন কন্যা লো যতনে খুলিয়া
    নতুন নবেলা বন্ধু দিবেক বান্ধিয়ারে
    শুন শুন রাজবালারে

    এহিত আঁখির কাজল কন্যা লো যতনে মুছিয়া
    নতুন নবেলা বন্ধু দিবেক আঁকিয়ারে
    শুন শুন রাজার বালারে
    এহিত কানের ফুলরে যতনে খুলিয়া
    নতুন মালঞ্চ ফুল দিব সে গাঁথিয়ারে
    শুন শুন রাজবালারে
    এহিত নাকের বেশর কন্যা লো যতনে খুলিয়া
    ফুলের বেশর কন্যা দিবে সে গাঁথিয়ারে
    শুন শুন রাজার বালারে
    পুরুষ পরশমণি লো পরশে যে জনা
    সঙ্গ গুণে রঙ্গ ফলে মাট্টি হয় সোণারে
    শুন শুন রাজার বালারে” (১-১০৫)

    (৩)


    এক দুই তিন করিতে পাঁচ গুজারী যায়।
    দরবারে আসিয়া মুণ্ডা ছেলাম জানায়॥
    “শুন শুন বামুন রাজা হায় কহি যে তোমারে।
    পাউনী[৯] মাহিনা আমার দেও ত চুকাইয়ারে॥
    পাঁচ বচ্ছর খাটিলাম আমি তোমার পুরীতে।
    এই স্থান ছাড়িয়া যাইবাম আমি তিরপুরার সহরে॥”

    “শুন শুন মুণ্ডা আরে কহি যে তোমারে।
    তোমারে লইয়া চল যাইবাম রাজত্বির ভাণ্ডারে॥

    আপন হাতে লহ ধন বাছিয়া গুছিয়া।
    ভাণ্ডারের দুয়ার আমি দিলাম ত খুলিয়া॥”

    মুণ্ডা

    “ধনের কাঙ্গাল নহিরে রাজা বুদ্ধি কর স্থির।
    সাবধানে শুন কথা ভালা না হইও অস্থির॥
    ধনের ত নহিরে কাঙ্গাল শুন মন দিয়া।
    বিদায় কালে এক ধন যাইব চাহিয়া॥
    দিবা কিনা দিবারে রাজা সে ধন আমারে।
    শুন শুন ধনের কথা কহি যে তোমারে॥
    ও রাজা তোমার ভাণ্ডারে ওগো রাজা যত ধন আছে।
    সকল ত ধূলা বালি রাজা সে ধনের কাছে॥
    যুব্বামান[১০] কন্যা তোমার রাজা নাইসে দিয়াছ বিয়া।
    আমার পরাণ রাখত রাজা সেই ধন দিয়া॥
    মুরুই(?) মাইনা কিছু রাজা নাই সে চাহি আমি।
    এই ধন দেহত দান লইয়া যাই আমি॥
    পাঁচ বছর খাটুলাম খাটুনিরে যে ধনের আশায়।
    সেহি ধন কর দান কহি যে তোমায়॥”

    এই কথা শুনিয়া রাজা জ্বলন্ত আগুনি যে হইল।
    যতেক কোটালে মুণ্ডারে ভালা বান্ধিতে বলিল॥
    কেউ-বা মারে কিলরে চাপ্পড় দুহাতিয়া বাড়ি।
    কেউ-বা কহে দুষ্মনেরে আগুন দিয়া পুড়ি॥

    হায় ভালা দেউড়ি থানা ঘরে সবে লহেত টানিয়া।
    কেউ বলে ‘রাজার কন্যায় আয় দিবাম বিয়া’॥
    জহ্লাদ ধাইয়া আইল শির লইবারে।
    ভয় নাই সে পাইল মুণ্ডা ডর নাই সে করে॥
    রাত্রি নিশা কালে মুণ্ডা ছিকল ভাঙ্গিয়া।
    গেল ত জঙ্গল্যা মুণ্ডা জঙ্গলে পলাইয়া॥ (১-৩৬)

    (8)

    হায় ভালা এক বচ্ছর দুই বচ্ছর ও ভালা
    তিন বচ্ছর যায়।
    বনে ত থাকিয়া মুণ্ডা কোন্ কাম করে—

    বনে ত থাকিয়া মুণ্ডা কোন্ কাম করিল।
    জঙ্গলীর দল লইয়া রসুই পাকাইল॥
    “শুন শুন জঙ্গলীর জাতি কহি যে তোমরারে।
    আইজ রাত্রে যাইবাম মোরা বামুন রাজার ঘরে॥
    ধন দৌলতের রাজার নাই সীমা পরিসীমা।
    একদিন মারিলে পাইব বচ্ছরের দানা॥”
    একে ত’ জঙ্গল্যার জাতি হায় ভালা ক্ষুধায় কাতর।
    ধনের কথা শুইন্যা সবে হইল পাগল॥
    রাত্র নিশা কালে মুণ্ডা কোন্ কাম করিল।
    জঙ্গলিয়া দল লইয়া মেলা যে করিল॥

    ধরিল কামুলীর বেশ হাতে দাও কাঁচি।
    বোচকা বাঁধিয়া লইল যতেক সামগ্রী॥
    বাছিয়া লইল সঙ্গে ত ভালা তীর ধনুকখানি।
    লুকাইয়া লইল ভালা কেহ ত না জানি॥

    সবে বলে কামুলারা কাম করিতে যায়।
    যার যার কাম আছে ডাকিয়া জিগায়॥
    মুণ্ডা বলে এই দেশে কাম করা হইল দায়।
    এই দেশের মানুষ যত বেগার খাটায়॥
    কাম করাইয়া দেখ পয়সা নাই সে মিলে।
    এই দেশ ছাড়িয়া যাইবাম বামুন রাজার দেশে॥

    হায় ভালা এক দুই তিন করি তার তিনমাস পর।
    অস্তে ব্যস্তে যায়গো মুণ্ডা বামুন রাজার ঘর॥
    দুষ্টবুদ্ধি মুণ্ডা তবে রইল পলাইয়া।
    কামুলা গণেরে দিল রাজ্যে পাঠাইয়া॥
    ভাব বুঝিয়া দুষ্মন মুণ্ডা হায় ভালা কোন কাম সে করে।
    নিশি রাইতে পড়লো গিয়া বামুন রাজার পুরে॥
    ভেরংগের[১১] চাকে যেমন পুমুকি[১২] পড়িল।
    যত যত পাইক পহরী তুরন্তে জাগিল॥
    বাছা বাছা তীর মারে জঙ্গলা দুর্জ্জনে।
    বামুন রাজার লোক লস্কর পড়িল নিদানে॥
    তীর লইতে তীরন্দাজ রে ভালা যায় জুন্নত ঘরে।
    জঙ্গলীর তীর খাইয়া পন্থে পইড়া মরে॥
    আগুন লাগাইল মুণ্ডা বামুন রাজার বাড়ি।
    আগুন ত নিবাইতে গেল যতেক পহরী॥
    সুযোগ পাইয়া মুণ্ডা ভাণ্ডার লুটিল।
    অন্দর মোহলেতে তবে কুঁদিয়া[১৩] চলিল॥

    দেখে শুন্য পইরা আছে মহলে কেউ নাই।


    দেশ ছাইড়া বামুন রাজা হায় বৈদেশী হইল।
    পরগনার রাজার কাছে আশ্রা যে চাহিল॥ (১-৮২)

    (৫)

    বামুন রাজা

    “শুন শুন পরগনার রাজা ওগো কহি যে তোমারে।
    ভিক্ষা করিতে আইলাম আমি তোমার নগরে॥
    দৈবে ত রাজত্ত্বি নিল ঝুলি দিলক হাতে।
    বিনা মেঘে ঠাণ্ডা বজ্জর আমার মারিলেক মাথে॥
    সঙ্গে আছে এক কন্যা নাহি দিলাম বিয়া।
    বিপদ কালে ত তারে আমি কোথায় যাই থইয়া॥”

    এই কথা শুইন্যা রাজা কোন কাম করিল।
    নতুন একখান রাজ্যপুরী বানাইয়া সে দিল॥

    বিদেশী রাজা

    “শুন শুন বামুন রাজা কহি যে তোমারে।
    কিছুকাল থাক তুমি আমার নগরে॥
    কিছুকাল থাক তুমি ভালা চিত্তে ক্ষমা দিয়া।
    যাহাব্য[১৪] জঙ্গলার মুণ্ডায় ভালা না আনি ধরিয়া॥”

    রাজার পুরীতে দেখ ছয় মাস যায়।
    এদিকে হইল কিবা শুন সমুদায়॥
    সুন্দর যুবা রাজার বেটা ভালা দেখিতে সুন্দর।
    এইমত নাগর নাহি দেখি সে ভালা পৃথিমী ভিতর॥

    সোণার হরিণ যেমুন ভালা আসম্‌কা[১৫] তার আঁখি।
    এমন সুন্দর রূপ জগতে না দেখি॥
    যৈবনেতে যুব্বামান গায়ে গাবুরালী।
    রাজ্যের উপরে দেখ করে ঠাকুরালী॥
    এমন যৈবন কালে গো না কইরাছে বিয়া।
    দেখিয়া শুনিয়া বাপে করাইব বিয়া॥ (১-২২)

    (৬)

    অস্তেব্যস্তে ফুলের সাজি কন্যা তুলিয়া লইল।
    নয়াবাগে ফুল তুলিতে গমন করিল॥
    বায়ে উড়ে অঞ্চলখানি গায়ে ফুটে কাঁটা।
    আজিকে তুলিতে ফুল ঘটলো বিষম লেঠা॥
    শুন শুন কোকিলারে কহি যে তোমারে।
    কি দাগা দিহ লো জানি দুষ্মন কোকিল তোরে॥
    “শুন শুন কন্যা হায় কন্যা কহি যে তোমারে।
    কি লাগিয়া তুল ফুল কহ লো আমারে॥
    নিত্য নিত্য তুল ফুল গো কন্যা কারে পূজা কর।
    অবিয়াত কন্যা তুমি কিবা মাগ বর॥
    দেখিয়া তোমার রূপ কন্যা হইয়াছি পাগেলা।
    এই ফুল গাঁথিয়া কারে পইরাইবা মালা॥
    রাজার কুমারী কন্যা শুন দিয়া মন।
    কোন্ জনে বিলাইবা কন্যা এমন যৈবন॥
    হেলা নাইসে কর কথা শুন মন দিয়া।
    বাপেরে কহিয়া কন্যা তোমায় করবাম বিয়া॥”

    শীলাদেবী

    “শুন শুন সুন্দর নাগর কহি যে তোমারে।
    বসন ছাড়িয়া দেও লজ্জায় যাই যে মরে॥
    আছিলাম রাজার ঝি গো হইলাম ভিখারী।
    দারুণ পেটের দায়ে আইলাম তোমার বাড়ী॥
    দারুণ পেটের দায়ে দেশে দেশে ঘুরি।


    চোখে নাইসে নিদ রে কুমার ছয়মাস যায়।
    কান্দিয়া আমার বাপে রজনী পোহায়॥
    সোণার রাজত্ত্বি তোমার রাখিছ বান্ধিয়া[১৬]
    ভিক্ষু বাউনের কন্যা কেন করিবা বিয়া॥”

    রাজকুমার

    “শুন শুন কন্যা আলো কন্যা কহি যে তোমারে।
    আর নাইসে দিও লো দাগা আমার অন্তরে॥
    লোকে বলে পুরুষ জাতি কঠিন অন্তরা।
    আমি বলি নারীর মন পাষাণ দিয়ে গড়া॥
    কেতকী কৈরবী চাম্পা আছে যত ফুল।
    দেখিতে শুনিতে তোমার নাইসে সমতুল॥
    ধরিতে ছুইতেরে নারি পথে যদি বিন্ধে।
    এহিত পশিল মনে ভার নানা সন্দে॥
    এহিত কোমলা অঙ্গে লো কন্যা তোমার লাগে যদি হানা।
    কতদিন ফিইরা যাই মনে করি মানা॥

    মনেরে বুঝাইয়া রাখিলো কন্যা শিকলে বান্ধিয়া
    আজি না পারিলাম কন্যা কইয়া বুঝাইয়া॥
    চিত্তে ক্ষমা দেওগো কন্যা রাগ নাই সে মনে।
    না কইয়া না বইলা আইলাম তোমার বাগানে॥
    যেদিন হইতে কন্যা লো আইলা আমার পুরী।


    যেদিন হেইরাছি কন্যা তোমার সুন্দর মুখখানি।
    সেদিন হইতে হিয়া আমার হইল উন্‌মাদিনী॥
    আজি রাত্রে যাইওগো কন্যা আমার মন্দিরে।
    মনের যতেক লো কথা কহিব তোমারে॥
    না ধরিব না ছুঁইব কন্যা এহি যাইসে কইয়া।
    কেবল দেখিব রূপ দূরে ত খাড়াইয়া॥”

    শীলাদেবী

    “চিত্তে ক্ষেমা দেহরে কুমার শুন মন দিয়া।
    মাও বাপে সুন্দর নারী করাইব বিয়া॥”

    রাজকুমার

    কুমার বলে, “শুনগো কন্যা যার মনে যা চায়।
    পাইলে হাজার দান ভিক্ষা না তার যায়॥
    ধন দৌলত রাজত্ত্বি তোমার দুই পায়ের না ধূলি।
    তোমার দুয়ারে খাড়া হস্তে ভিক্ষার ঝুলি॥
    ভিক্ষা যদি দেও লো কন্যা হস্ত পাত্যা লইব।
    রাজত্ত্বি ছাইড়া না আমি বনবাসে যাইব॥
    তোমায় যদি পাইগো কন্যা আর কারে না চাই।
    এই ভিক্ষা ছাড়া কন্যা অন্য আশা নাই॥


    শীলাদেবী

    “শুন শুন কুমার ওহে গো কুমার কহি যে তোমারে।
    বাপের আছে দারুণ পণ কহি যে তোমারে॥
    আমার আছে ব্রত না পূজা মনে মনে পূজি।
    পুষ্প তুলিতে আইলাম হাতে লইয়া সাজি॥
    আজিকার ব্রত পূজা কুমার বিফল ত গেল।


    বাপে ত কইরাছে পণ কুমার রাজ্য হারাইয়া।
    যে জন আনিতে পারে মুণ্ডারে বান্ধিয়া॥
    তাহার কাছেতে বাপে কন্যা দিব বিয়া।
    হাড়ী চণ্ডাল নাইসে বিচার দুষ্মনের লাগিয়া॥”

    রাজকুমার

    “শুন শুন সুন্দর কন্যা আলো কহি যে তোমারে।
    কালুকা যাইবাম রণে কহিয়া বাপেরে।
    মরি কিবান বাঁচি রণে না আইসি ফিরিয়া।
    দুষ্মন মুণ্ডারে আনবাম গলে দড়ি দিয়া॥
    আজির লাগি যাও গো কন্যা আপন মন্দিরে।
    কালুকা বিয়ানে আমি যাইবাম রণে॥”

    শীলাদেবী (নেপথ্যে)

    “কঠিন পরাগ মোররে কুমার কি করিলাম কাম।
    কেন বা লইলাম আমি দুষ্মমনের নাম॥
    রাজত্ত্বে দৌলতে মোর কোন কার্য্য নাই।
    আমার লাগিয়া রণে তোমারে পাঠাই॥
    নিজের কাণা কড়ি মোর ঘোর সায়রের তলে।
    তাহারে তুলিতে কেন পাঠাই রে তোরে॥

    বড়ই দারুণ মুণ্ডা কি জানি কি কি হয়।
    রণে ত পাঠাইয়া তোমায় না হইব নির্ভয়॥”

    রাজকুমার

    “না কাইন্দ না কাইন্দ লো কন্যা না করিও ভয়।
    জঙ্গল্যা মুণ্ডারে আমি করিবাম জয়॥
    রণ জিনি ঘরে তোমার ফিরিয়া আসিব
    হাতে গলে মুণ্ডারে যে বাঁধিয়া আনিব॥”

    এই কথা শুন্যা কন্যা আরে হরষিত মন।


    নারীর কোমল অঙ্গ শানে বান্ধা হিয়া।
    অন্তরে হইল খুশী কন্যা যায় ত চলিয়া॥
    দারুণ জঙ্গল্যার রণে পাঠাইয়া কুমারে।
    কি মতে থাকিব কন্যা আপন মন্দিরে॥ (১-৮৮)


    (৭)

    পরভাতে উঠিয়া কুমার কোন্ কাম করিল।
    বাপের না আগে কুমার মেলানি মাগিল।
    বামুন রাজার আগে ত কুমার মেলানি মাগিল॥

    যাইতে না পারে আর কুমার কন্যার মন্দিরে।
    দূর হইতে বিদায় মাগে দুটি আঁখি ঝরে॥
    “থাক থাক কন্যা গো আমার বাপের বাড়ী।
    যাবৎ মুণ্ডারে লইয়া আমি নাই সে ফিরি॥
    থাক থাক কন্যা লো আশার পন্থে চাইয়া।
    রণ জিত্যা যাবৎ আমি না আইসি ফিরিয়া॥

    ভাল কইরা বান্ধিবাম কন্যা জলটুঙ্গির[১৭] ঘর।
    ভাল কইরা বানবাম কন্যা কামটুঙ্গির[১৮] ঘর॥
    শীতল পুষ্পেত কন্যা শয্যা বানাইব।
    মন সুখে দুই জনাতে শুইয়া নিদ্র। যাইব॥”

    রণে ত চলিল কুমার হায় ভালা সঙ্গে ত লস্কর।
    মার মার কইরা চলে বামুন রাজার সর[১৯]॥
    তীরন্দাজ ঘোর সুয়ারী চলে পালে পাল।
    ঘোড়ার দাপটে কাপে আসমান আর পাতাল॥
    মঞ্চের না ধূলা বালু হায় ভালা আসমানেতে উড়ে।
    নদী নালা এড়াইয়া যায় বামুন রাজার সরে॥ (১-১৯)


    (৮)

    দিশা— বন্ধু আজ তোমারে স্বপন দেখি রাইতে।
    লোকলাজে সময় পাই না কইতে।
    আমি যে অবুলা নারী মনের কথা কইতে নারি
    চক্ষের জলে বুক ভেসে যায় বালিস ভাসে শুতে।
    সময় পাই না কইতে॥
    মনের মানুষ পূজবাম বইলা গাঁথলাম বনমালা।
    কাল বিধাতা বাদী হইল আমার ছুটলো বিষম জ্বালা॥
    (গো সখি) সময় পাই না……

    (আমার) চন্দন বনে ফুল ফুটিল সখি গন্ধের সীমা নাই।
    কোন দৈবেরে দিল আগুন আমার সকল পুইড়া ছাই॥
    (গো সখি) সময় পাই না…….
    একদিন পথের দেখা গো আমি পাশুরিতে না পারি।
    মনেছিল প্রাণবন্ধুরে আমি কাজল কইরা পরি॥
    সময় পাই না…….
    ফুল বাগানে হইল দেখা পুষ্পের ভ্রমরা।
    সুন্দর নাগর পুরুষ নবীন কিশরা॥
    (গো সখি) সময় পাই না…….
    দেখিতে অদেখা হইল দিন দুই চারি।
    মনেছিল মন পাখীরে রাখি হৃদ্ পিঞ্জিরিয়ায় ভরি॥
    (গো সখি) সময় পাই না………
    বন্ধু যদি হইত আমার কনক চাম্পার ফুল।
    সোণায় বান্ধাইয়া তারে কাণে পরতাম ফুল॥
    (রে সখি) সময় পাই না…….
    বন্ধু যদি হইত আমার পইরন নীলাম্বরী।
    সর্ব্বাঙ্গ ঘুরিয়া পরতাম নাইসে দিতাম ছাড়ি॥
    (গো সখি) সময় পাই না…….
    বন্ধু যদি হইতরে ভালা আমার মাথার চুল।
    ভাল কইরা বানতাম খোপা দিয়া চাম্পা ফুল॥
    (গো সখি) সময় পাই না……
    আমার বন্ধু হইত যদি দুই নয়নের তারা।
    তিলদণ্ড অভাগীরে না হইত ছাড়া॥
    (রে সখি) সময় পাই না…….
    দেহের পরাণী ভালা বন্ধু হইত আমার।
    অভাগীরে ছাইরা বন্ধু না যাইত স্থান দূর॥
    (লো সখি) সময় পাই না…….

    এক অঙ্গ কইরা যদি বিধি গড়িত তাহারে।
    সঙ্গে কইরা লইয়া যাইত এহি অভাগীরে॥
    (গো সখি) সময় পাই না ……..
    কি জানি কি হয় রণে কে কহিতে পারে।
    রাজ্য ধনে কোন্‌বা কার্য্য আমার বন্ধু যদি না ফিরে॥
    (গো সখি) সময় পাই না………

    (১-৪১)
    (৯)

    তিন মাসের পন্থ ভালা সবে তিন দিনে গেল।
    বামুন রাজার দেশে দাখিল হইল॥
    মার মার কইরা যত ঘোড়ার সোয়ার।
    বাড়ি ঘর ভাইঙ্গা সব কইল একাকার॥
    তীর বিন্ধিয়া বুকে পড়ে যত মুণ্ডার দল।


    তবে দুষ্মন মুণ্ডা হইল আগুয়ান।
    জঙ্গলী হাতীর মতন সেই পালোয়ান॥
    মুণ্ডারে দেখিয়া সবে করে মার মার।
    বাছাবাছা তীর মারে ভালা মুণ্ডার উপর
    তীর খাইয়া মুণ্ডা হইল পরাণে কাতর॥
    তীর খাইয়া জঙ্গল্যা মুণ্ডা গেল ত পলাইয়া।
    রণজয় কইরা কুমার গেল দেশে ত ফিরিয়া॥
    ঘন ঘন জয়ডঙ্কা পুরীত উঠে ধ্বনি।
    অঞ্চল শয্যা ছাইড়া উঠে কন্যা যেমুন পাগলিনী॥ (১-১৪)

    পরগনার রাজার সঙ্গে বামুন রাজার কথা হয়। বামুন রাজা কন্যাসহ নিজরাজ্যে গমন করেন। রাজপুত্রের সঙ্গে কন্যার বিবাহ প্রস্তাব হয়। বিবাহের দিন বিবাহ-বাসরে মুণ্ডা আবার দলবল-সহ বামুন রাজার পুরী আক্রমণ করে।


    (১০)

    চাম্পা মালতীর মালা গাথে যত সখী।
    বিয়ার গান গায় দেখ ডালে বইসা পাখী॥
    উজান নদী ভাট্যাল বায় খাড়া সুতে চলে।
    জয়াদি জোকার পড়ে বামুন রাজার পুরে॥
    আমলকী গাইষ্ট খিলা হায় ভালা বাটুনি বাটিল।
    বারতীর্থের জল দিয়া ভালা ছান না করাইল॥
    নিছিয়া মুছিয়া তুলে মায় চান্দ মুখখানি।
    কপালে সিন্দুরের ফোঁটা রূপের বাখানি॥
    সোণার তার বাজুয়ারে যতনে পইরাইল।
    মেঘডুম্বুর শাড়ী খানা যতনে পইরাইল॥
    কাণে দিল কন্ন ফুল নয়ানে কাজল।
    মেন্দিতে আঁকিয়া দিল সে কন্যার রাঙ্গা পদতল॥
    সোণার ঘুঙ্ঘুর দেখ কোমরে পইরাইল।
    বিবিধ সাজুয়া কড়ি সাজাইয়া লইল॥
    কলাগাছ সারি না সারি ঘিয়ের বাতি জ্বলে।
    নানাজাতি বাজুনিয়া ঢোলের বাদ্যি বাজে॥
    উত্তর হইতে আসে একত বাজুনিয়া।
    জয়ডঙ্কা ফুঁকের বাঁশী বিন্না মুরী লিয়া[২০]॥

    পুরব হইতে আসে পূবের বাজ্জনী।
    খড়কর তাগী সঙ্গি জয়ঢাকের ধ্বনি॥
    পশ্চিম হইতে আইল চিনি বা না চিনি।
    বহুত লস্করা সঙ্গে একত বাজুনি॥

    শুন শুন বামুন রাজা কহি যে তোমারে।
    বাদ্য বাজাইতে আইলাম তোমার না পুরে॥
    হায় ভালা রাত্রি নিশাকালে গো বিয়া ঢোলে মাইল তালি।
    বামুন রাজার দেশে ভালা উঠ্‌লো উত্তরুলি॥

    হেন কালেতে দুষ্মন মুণ্ডা কোন্ কাম করে।
    ছাড়িয়া বাজুনিয়ার সাজ ধনু লইল হাতে॥
    বাচ্ছ্যা[২১] মারে বিষের তীর বামুন রাজার লস্করে।
    কাত্যালীর কলাগাছ যেমন উপড়াইয়া পড়ে॥
    বিয়ার সাজ থুইয়া ভালা কুমার কোন্ কাম করিল।
    রণের না সাজ কুমার জল্‌তি[২২] পড়িল॥
    আনিল রণের ঘোড়া কুমার হইল সোয়ার।
    মুণ্ডার উপরে পড়ে করি মার মার॥ (১-৩৪)


    (১১)

    “হায় বিকালির গাঁথা মালা হায় না হইল বাসি।
    মাথার না ফুলের মডুক[২৩] না হইল বাসি॥
    আর না বাজাইও ঢোল বিয়ার বাজুনিয়া।
    কপাল পুড়িল মোর খেড়ের আগুন দিয়া।
    আর না বাজাইও তোরা আমার বিয়ার বাঁশী।
    না ফুটিতে বিয়ার ফুল কলির মুখ বাসি॥

    না উঠিতে চান্দ মোর আন্ধারে ডুবিল।
    আষাঢ়ে আশার নদী শুকাইয়া গেল॥
    মিছা আশায় বান্ধিলাম রে সোণার বাড়ি ঘর।



    কোন দৈবে আগুন দিয়া পুইড়া করলো ছাই॥
    মনের কথা যত ইতি রহিল রে মনে।
    কি কার্য্য করিল হায় দারুণ দুষ্মনে॥
    পুষ্পের সমান বুকে তীর না মারিল।
    দারুণ বিষের তীর পৃষ্ঠে বাহিরিল॥
    কিবা ধন লইয়া আমি থাকিবাম ঘরে।
    দুরন্ত দুষ্মন মুণ্ডা মারিল আমারে॥
    বনের না গাছ গাছালী পশু পক্ষী যত।
    মনের বেদনা আমি কহিব বা কত॥
    আর না সে হইবে দেখা প্রভুর সঙ্গেতে।
    জন্মের মত অভাগীরে রাইখ্যা গেলা পথে॥
    শুনরে গরল বিষ আমার মাথা খাও।
    যে পথে গিয়াছে বন্ধু সে পথ মোরে না দেখাও॥
    সে পথ আন্ধাইর যদি মোরে লইয়া চল।
    দাগা দিয়া পরাণবন্ধু কৈবা ছাইরা গেল॥
    সোণার পালঙ্ক আর ফুলের বিছানা।
    এই হইতে শেষ আজ দিন দুনিয়ার দানা॥
    বিদায় দেও মাও বাপগো বিদায় দেও মোরে।
    আর না যাইবাম আমি পরগনা সহরে॥
    আর না দেখিবাম আমি তোমাদের মুখ।
    আর না দেখিবাম চাইয়া পরগনার লোক॥
    নিবিল ঘরের বাতি আচমকা বাতাসে।
    নগর কাণা কালা মেঘরে উড়িল আকাশে॥

    চান্দ খাইল তারা না খাইল আসমান জমিন।
    না থাকিব পাপ সংসারে দারুণ মুণ্ডার চিন॥
    শুনরে দারুণ বিষ মোর মাথা খাও।
    যে পন্থে গিয়াছে বন্ধু সে পথ দেখাও॥” (১-৩৬)


    (১২)

    তবে ত বামুন রাজা হায় রাজা কোন কাম করিল।
    তিরপুরার রাজার কাছে ভালা শরণ লইল॥
    তিরপুরার লোক লস্কর চলিল ধাইয়া।
    তিরন্দাজ গোলন্দাজ সঙ্গেত লইয়া॥
    হাতিয়ার বান্ধিলেক তারা পিষ্ঠের উপর।
    লম্প দিয়া উঠে ভালা ঘোড়ার উপর॥
    পরন বাহনে ছুটে ঘোড়া ভালা বামুন রাজার দেশে।
    তিন মাসের পথ দেখ যায় একদিনে॥
    দেখিয়া দুর্জ্জন মুণ্ডা পরমাদ গণিল।
    জঙ্গলীর দল লইয়া আগ বাড়ন্ত[২৪] দিল॥

    একেত জঙ্গলীর দল লড়াই নাই সে জানে।
    ডাকাইতি দাগাবাজি এই সে ভালা জানে॥
    শাউনিয়া ধারা যেমন নালাঙ্গা ছুটিল।
    মুণ্ডার লস্কর যত বিছাইয়া পড়িল॥
    দড়িবেড় দিয়া সবে মুণ্ডারে ধরিয়া।
    তিরপুরার সরে দেখ দাখিল করলো নিয়া॥
    রাজার হুকুমে মুণ্ডারে সবে ময়দানে খাড়াইল।
    তিন তোপ মারিয়া তারে শুইনে উড়াইল (১-১৮)

    .

    টীকা

    1.  কাহনী=মূল্য।
    2.  বিরকতল=বৃক্ষতলা।
    3.  চাপালিয়া……ধরিরে=তাহার অধরে চাঁপাফুলের হাসি বন্দী হইয়া আছে
    4.  পশুয়ারে=পাশরা, তোলা।
    5.  যোগ্‌গি=যোগ্য।
    6.  শিশুতি=শৈশব।
    7.  ফাপ্‌লা=মিছামিছি।
    8.  দুইনাই=দুনিয়া, জগৎ।
    9.  পাউনী=প্রাপ্য
    10.  যুব্বামান=যুবতী
    11.  ভেরংগের=মধুমক্ষিকার।
    12.  পুমুকি=ঢিল (?)।
    13.  কুঁদিয়া=লাফাইয়া; কুর্দ্দন=লাফানো, ক্রীড়া-কৌতুক-প্রদর্শন: নর্ত্তন-কুর্দ্দন নাচা-কুঁদা। পূর্ব্ববঙ্গে সর্ব্বদাই বিক্রম-প্রকাশার্থে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়, যখা, “সে তাহাকে কুঁদিয়া মারিতে গেল।”
    14.  যাহাব্য=যে পর্য্যন্ত, যাহাতক।
    15.  আসম্‌কা=আচম্‌কা, বিস্ময়সূচক চম্‌কে চাওয়ার ভাববিশিষ্ট।
    16.  সোণার…… বান্ধিয়া=তোমার গৃহে লক্ষ্মী বান্ধা আছেন। তোমার রাজশ্রীকে তুমি বাঁধিয়া রাখিয়াছ।
    17.  জলটুঙ্গিয় ঘর=বড় লোকেরা কোন দীঘি বা বৃহৎ পুষ্করিণীর মধ্যে ভিত্তি গাড়িয়া গ্রীষ্মবাসের জন্য জল-গৃহ রচনা করিতেন।
    18.  কামটুঙ্গির ঘর=আরাম করিবার গৃহ।
    19.  সর=সহর।
    20.  বিন্না মুরী লিয়া=বিন্নি (একরূপ খই) এবং মুড়ি লইয়া দীর্ঘ পথ অতিক্রম করিতে হইবে বলিয়া তাহারা খাদ্য সংগ্রহ করিয়া আনিয়াছিল।
    21.  বাচ্ছ্যা=বাছিয়া।
    22.  জল্‌তি=জল্‌দি, শীঘ্র।
    23.  মুডুক=মুকুট।
    24.  আগ বাড়ন্ত=অগ্রসর হইয়া যুদ্ধ করিল।
    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৈমনসিংহ-গীতিকা – দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত
    Next Article পূর্ব্ববঙ্গ-গীতিকা (দ্বিতীয় খণ্ড, দ্বিতীয় সংখ্যা) – দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত

    Related Articles

    দীনেশচন্দ্র সেন

    পদাবলী মাধুর্য্য – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    দীনেশচন্দ্র সেন

    মৈমনসিংহ গীতিকা – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    দীনেশচন্দ্র সেন

    বৈদিক ভারত – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    দীনেশচন্দ্র সেন

    বঙ্গভাষা ও সাহিত্য -১ম খণ্ড – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    দীনেশচন্দ্র সেন

    বৃহৎ বঙ্গ – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    দীনেশচন্দ্র সেন

    সতী – দীনেশচন্দ্র সেন

    August 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }