Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বক্তৃতা শিখবেন কীভাবে – ডেল কার্নেগি

    ডেল কার্নেগি এক পাতা গল্প236 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. আপনার বক্তব্য কীভাবে পরিষ্কার বোঝাবেন

    ১০. আপনার বক্তব্য কীভাবে পরিষ্কার বোঝাবেন

    একজন খ্যাতনামা ইংরেজ ধর্মযাজক প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কালে আপটন শিবিরে একদল অশিক্ষিত সৈন্য সমাবেশে বক্তৃতা করেছিলেন। তারা তখন যুদ্ধে যাচ্ছিল কিন্তু তাদের মধ্যে অতি সামান্য কয়জনই, জানতেন তাঁদের কোথায় পাঠান হচ্ছে, এইসব সৈন্যদের সমাবেশে ধর্মযাজক ”আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব” এবং সার্ভিয়ার অধিকারের কথা বলেন। সৈন্যদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি জানত না সার্ভিয়া কোনো শহর অথবা রোগের নাম কিনা। এতৎসত্ত্বেও তিনি তাদের সামনে একটি অর্ধোন্মাদময় বক্তৃতা করেন। তিনি যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন হলের সব দরজায় রিভলবার হাতে সামরিক পুলিশ প্রহরারত ছিল, যাতে কোনো শ্রোতা হল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।

    আমি ধর্মযাজককে ছোট করতে চাই না। তবুও সত্যি কথা এই যে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের কাছে বললে তার যে বক্তব্য ফলপ্রসূ হত, এসব সৈনিকদের কাছে তা ব্যর্থ হয়। সৈনিকরা বুঝতে পারেন না, তাদের কেন এসব কথা বলা হচ্ছে, আর বক্তাও বুঝতে পারেন না, কেন তিনি এসব বলছেন।

    আমাদের মতে একটি বক্তৃতার অর্থ কী? যে কোনো বক্তৃতায় বক্তার মুলত চারটি লক্ষ্য থাকে। সে গুলো কী?

    ১। কোনো একটি বিষয় পরিষ্কার করা।

    ২। শ্রোতাদের স্বমতে আনা।

    ৩। উদ্দীপ্ত করা।

    ৪। আনন্দ দান।

    কতিপয় বাস্তব উদাহরণ দিয়ে তা ব্যাখ্যা করা যাক।

    কারিগরি কাজের প্রতি লিংকন সব সময় আগ্রহী ছিলেন। একবার বালিতে আটকা পড়া নৌকা উদ্ধারের জন্যে তিনি একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তাঁর আইন দপ্তরের সন্নিকটে অবস্থিত একটি কারিগরি কারখানায় বসে তিনি অনেক খেটে, পরিশ্রম করে তার উদ্ভাবিত যন্ত্রের একটি মডেল তৈরি করেন। তাঁর এই পরিকল্পনা পরিশেষে ব্যর্থ হলেও তিনি ছিলেন এ সম্পর্কে অত্যন্ত আশাবাদী। যখন বন্ধুরা তার কাছে আসতেন মডেল দেখতে, তিনি মডেল সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে কখনো ক্লান্তি বোধ করতেন না। তার মূল লক্ষ্য ছিল সকলের কাছে তার ধারণা পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরা।

    যখন তিনি তার গেটিসবার্গের অমর ভাষণ দান করেন, যখন তিনি তার প্রথম দ্বিতীয় উদ্বোধনী ভাষণ দান করেন এবং যখন তিনি হেনরী ক্লের মৃত্যুর পর তার জীবনী আলোচনা করে বক্তৃতা করেন, লিংকনের মূল লক্ষ্য ছিল নিজের বক্তব্য পরিষ্কার ভাবে বলে, শ্রোতাদের স্বমতে আনা। অবশ্য এসব বক্তৃতার বক্তব্য পরিষ্কার করে তুলে ধরার চাইতে শ্রোতাদের স্বমতে আনার উপরই জোর পড়েছিল বেশি।

    জুরিদের সাথে আলোচনা কালে লিংকন তাদের স্বমতে আনতে চাইতেন। রাজনৈতিক আলোচনায় তিনি নিজের পক্ষে ভোট প্রাপ্তির চেষ্টা চালাতেন। সুতরাং তার লক্ষ্য ছিল শ্রোতাদের উদ্দীপ্ত করা, কর্মমুখী করে তোলা।

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার দু’বছর আগে লিংকন উদ্ভাবন (আবিষ্কার) সম্পর্কে একটি বক্তৃতা প্রস্তুত করেন। এই বক্তৃতা প্রস্তুতিতে তার লক্ষ্য ছিল শ্রোতাদের আনন্দ দান করা। অন্তত এই লক্ষ্যস্থল নির্ধারণ করেই তিনি বক্তৃতা প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু লক্ষ্য অর্জনে তিনি সফল হতে পারেন নি। জনপ্রিয় হিসাবে তার জীবন এই ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছিল। একটি শহরে একজন শ্রোতাও তার বক্তৃতা শুনতে আসে নি।

    কিন্তু অন্যান্য বক্তৃতায় তিনি অব্যাহতভাবে সাফল্য লাভ করেছিলেন, যার কথা আমি উল্লেখ করেছি। কিন্তু কেন? কারণ এসব ক্ষেত্রে তিনি তার লক্ষ্যের কথা জানতেন এবং জানতেন কী ভাবে লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে। তিনি জানতেন কোথায় তিনি যাবেন এবং কীভাবে যাবেন। এবং বহু বক্তা এটা ঠিক ভাবে জানেন না বলে মাঝ পথে হাবুডুবু খান।

    উদাহরণ স্বরূপ–আমি একদা যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের একজন সদস্যকে বক্তৃতা কালে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে নিউইয়র্কে হিপাড্রোম (ঘোড়া দৌড়ের মাঠ) ত্যাগ করে চলে যেতে দেখেছি। কারণ, তিনি যে বক্তৃতা শুরু করেছিলেন, তাতে তার লক্ষ্য ছিল শ্রোতাদের কাছে তা পরিষ্কার করে তোলা। লক্ষ্য নির্ধারণ ছিল তাঁর অবিবেচনা প্রসূত, তাই তিনি হন ব্যর্থ। এটা ছিল যুদ্ধের সময়। তার বক্তব্যের বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শ্রোতারা যুদ্ধ সম্পর্কে কোনো নির্দেশ শুনতে আগ্রহী ছিলেন না। তাদের লক্ষ্য ছিল আনন্দ লাভ। শ্রোতারা দশ মিনিট থেকে পনেরো মিনিট পর্যন্ত অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে তাঁর বক্তব্য শোনেন এবং আশা করেন যে এরপর আনন্দ দিয়ে তার বক্তব্য শেষ হবে। কিন্তু তা হয় না, বক্তা বার-বার যুদ্ধের প্রস্তুতি ব্যাখ্যা করতে থাকেন, শ্রোতারা আস্তে-আস্তে অধৈর্য হয়ে পড়েন, একে একে তারা চলে যেতে শুরু করেন? কেহ-কেহ স্বতস্ফূর্ত ভাবে ধ্বনিও প্রদান করতে শুরু করে একসাথে। বক্তা শ্রোতাদের মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হয়ে বক্তৃতা অব্যাহত রাখেন। এর ফলে শ্রোতারা আরো বিরক্ত হয়। হাসাহাসি শুরু হয়ে যায়। তারা বক্তাকে থামিয়ে দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়। তাদের ধ্বনি উচ্চ থেকে উচ্চগ্রামে পৌঁছে। পরিশেষে এমন অবস্থা হয় যে বক্তার কথা নয়, শ্রোতার কথাই শুধু শোনা যেতে থাকে। সুতরাং বক্তা ব্যর্থ হয়ে, পরাজিত হয়ে অপমানিত হয়ে বক্তৃতা শেষ করেন।

    এই উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিন। আপনার লক্ষ্যের কথা জানুন, বক্তৃতা প্রস্তুতের আগেই লক্ষ্যস্থল সঠিক ভাবে নির্ধারণ করে নিন। কীভাবে লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে তা ঠিক করে নিন। অতঃপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণে লক্ষ্যে উপনীত হবার প্রস্তুতি নিন।

    তুলনার মাধ্যমে বক্তব্য পরিষ্কার করুন :

    কোনো বিষয় পরিষ্কার করার, বোধগম্য করার গুরুত্ব অথবা বাধাবিঘ্ন ছোট করে দেখা উচিৎ নয়। একদা আমি একজন আইরিশ কবিকে এক দিন বিকেলে তার নিজের লেখা থেকে পাঠ করে শোনাতে দেখেছি। শ্রোতাদের মধ্যে শতকরা দশজন তিনি কী বলতে চান তা বুঝতে পারেন নি।

    বক্তাদের মধ্যে অধিকাংশই প্রকাশ্য সভায় অথবা ঘরোয়া পরিবেশে বক্তৃতায় এরূপ ব্যর্থতার পরিচয় দেন।

    একবার আমি স্যার অন্সিভারলজ-এর সাথে জনসভায় বক্তৃতার সাফল্য সম্পর্কে আলোচনা করি। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস এবং জনসভায় বক্তৃতা দানে ৪০ বছরের অভিজ্ঞ বক্তা। আমার জিজ্ঞাসার উত্তরে তিনি জানান যে বক্তৃতায় সাফল্য অর্জন করতে হলে প্রথম প্রয়োজন জ্ঞান এবং প্রস্তুতি এবং দ্বিতীয় প্রয়োজন হচ্ছে, বক্তব্য পরিষ্কার করার জন্যে কষ্ট স্বীকার করা।

    ফ্রাঙ্কো প্রসীয় যুদ্ধের প্রারম্ভে জেনারেল ভন মল্টকী তাঁর অফিসারদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “ভদ্রমহোদয়গণ, স্মরণ রাখবেন, যে কোনো নির্দেশকে ভুল বলে গ্রহণ করা হলে তা ভুলই থাকবে।”

    নেপোলিয়ন একই বিপদে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সচিবদের প্রতি তাঁর বহুল আলোচিত নির্দেশ ছিল, পরিষ্কার ভাবে বুঝে নিন, পরিষ্কারভাবে বুঝে নিন।

    এবং যখন আপনি এমন একটি বিষয়ে কথা বলবেন যা আপনার শ্রোতাদের কাছে পরিচিত নয় আপনি কীভাবে আশা করবেন যে তারা বুঝবে?

    সুতরাং এই ধরনের ব্যাপারে আমরা কী করতে পারি? এই ধরনের অবস্থায় পড়লে আপনি কী করবেন? স্বাভাবিক পদ্ধতিতে এই সমস্ত সমাধানের সহজ পথ হচ্ছে, মানুষ চেনে না এই বিষয়টি চেনাতে হলে যে জিনিসটি চেনে তার সাথে তুলনা করে আপনার বক্তব্য পেশ করুন। স্বর্গরাজ্য। এটা কিরূপ? কীভাবে এই বিষয়টি মানুষের সামনে পরিষ্কার করে তুলে ধরা যায়? যিশুখ্রিস্ট মানুষের সামনে বস্তুর উদাহরণ দিয়ে স্বর্গরাজ্য সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন :

    স্বর্গরাজ্য হচ্ছে তাই যেখানকার খাবার আমাদের চাইতে অনেক উপাদেয়, খমির মিশালে যা হয়ে ওঠে আরো উপাদেয়।

    এবং স্বর্গরাজ্য হচ্ছে তাই যেখানে মূল্যবান মণিমুক্তার প্রাচুর্যের সীমা নেই।

    এবং স্বর্গরাজ্যে হচ্ছে তাই যা সমুদ্রের জলের চাইতে বহুমূল্যবান জল দিয়ে ঘেরা।

    প্রতিটি গৃহকর্ত্রী রুটি প্রস্তুতে রুটি ফোলানোর জন্যে খমির ব্যবহার করে। জেলেরা প্রতিদিন সমুদ্রে জাল ফেলে মাছ ধরে এবং ব্যবসায়ীরা মূল্যবান মণিমুক্তার সন্ধান রাখে। সুতরাং এরূপ বর্ণনা হৃদয়গ্রাহী ও বোধগম্য বর্ণনা।

    এবং ডেভিড জেহোভাব দয়া সম্পর্কে কিরূপ বর্ণনা দিয়েছিলেন?

    প্রভু আমাকে মেঘপালক বানালেন। তিনি আমাকে সবুজ ঘাসে ঘুরে বেড়াতে দিলেন। যেখানে পানির অভাব ছিল।

    প্রায় একটি গাছপালাহীন দেশে সবুজ মাঠ সৃষ্টি করলেন।পানির অভাব থাকলেও আমার মেষেদের পানীয় জলের অভাব ছিল না সেখানে।

    এটা একটা আনন্দদায়ক উদাহরণ। কেহ-কেহ আফ্রিকায় বসবাসকারীদের জীবনের সাথে তুলনা করে বাইবেলের ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন, “আপনার পাপ অত্যুজ্জ্বল লাল হলে তা বরফের মতো শুভ্র হয়ে যেতে পারে।” এটা কী ধরনের অনুবাদ। সাহিত্য অর্থে অর্থহীন। অবান্তর। আফ্রিকাবাসীরা বরফের সাথে তেমনভাবে পরিচিত নয়। তারা তুষার এবং কোলতারের তুলনা বোঝে না। কিন্তু তারা দীর্ঘ নারিকেল গাছে মধ্যাহ্ন ভোজের জন্যে নারিকেল সংগ্রহ করতে অভ্যস্ত। সুতরাং মিশনারিরা বাইবেল সেখানে এভাবে ব্যাখ্যা করেন, “তোমাদের পাপ অত্যন্ত লাল হলেও তা নারিকেলের মাংসের মতো সাদা হয়ে যেতে পারে।”

    এই পরিস্থিতিতে অবস্থার উন্নতি বিধান কষ্টসাধ্য, তা নয় কি?

    মিশোরীর ওয়ারেনবুর্গের টিচার্স কলেজে আমি একবার আলাস্কা সম্পর্কে একটা বক্তৃতা শুনেছি। বক্তা এই ক্ষেত্রে তার বক্তব্য পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হন। তাঁর অবস্থাও হয় আফ্রিকান মিশনারিদের মতো। তিনি বলেন, আলাস্কা ৫,১০,৮০৪ বর্গ মাইল এলাকা নিয়ে গঠিত এবং জনসংখ্যা হচ্ছে ৬৪,৩৫৬ জন।

    অর্ধমিলিয়ন বর্গ মাইল বললে মানুষের মনে কী কোনো দাগ কাটে। মোটেই না। এর দ্বারা বাস্তব কোনো ছবি ফুটে ওঠে নি। মেইন অথবা টেক্সাসের আকারও যে অর্ধমিলিয়ন বর্গমাইল বক্তা তা জানতেন না। যদি বক্তা বলতেন যে, আলাঙ্কার উপকূল দ্বীপসমুহের বিশ্বে সব চাইতে দীর্ঘ এবং এক এলাকা ভারমন্ট, নিউহ্যাম্পশায়ার মেইন মাসাসুসেটস, রোডে দ্বীপ; কনেটিকাট, নিউইয়র্ক নিউজার্সি, প্যানসিলভানিয়া, দেলাওয়ার, মেরীলা পশ্চিম ভার্জিনিয়া, উত্তর ক্যারোলিনা, দক্ষিণ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, মিসিসিপি, এবং টেনেসীর সম্মিলিত এলাকার চাইতে বেশি, তা হলে তা হত আকর্ষণীয়। এরূপ বললে কি শ্রোতারা আলাস্কা সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা পেতেন না।–

    তিনি বলেছিলেন যে জনসংখ্যা ৬৪,৩৫৩। কিন্তু দশজন শ্রোতাও পাঁচ মিনিট কি এক মিনিট কালও এই সংখ্যা স্মরণ রাখতে পারেন নি। কেন? কারণ চৌষট্টি হাজার তিনশত ছাপান্ন বাক্যটি শ্রোতামনে তেমন দাগ কাটতে পারে নি। সমুদ্রকূলের বালুতে পরিব্রাজকদের লেখা যেমন অন্যের মনে তেমন দাগ কাটে না। এই বাক্যও ঠিক তেমনি। এর প্রতি কারো অন্তদৃষ্টি পড়ে না। তুলনামূলক ভাবে সংখ্যার কথাটা প্রকাশ করলে কী তা আকর্ষণীয় হত না? উদাহরণ স্বরূপ, সেন্ট জোসেফ মিশোরীর এই ছোট শহরটি থেকে খুব দূরে নয়। আজকের শ্রোতাদের অনেকে সেন্ট জোসেফ পরিভ্রমণ করেছেন। আজকের আলাস্কার জনসংখ্যা হচ্ছে সেন্ট জোসেফ থেকে দশ হাজার কম। আরো সুস্পষ্ট ভাবে বলতে গেলে, আপনি যে শহরে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন সে শহরের সাথে আলাস্কার তুলনা করছেন না কেন? ”আলাস্কা নিশৌরীর চেয়ে আটগুণ বড়, কিন্তু এর জনসংখ্যা হচ্ছে উয়ারেনবুর্গ এর চাইতে তেরোগুণ বেশি। একথা বললে কি বক্তার বক্তব্য আরো সুস্পষ্ট এবং পরিষ্কার হতো না।–

    নিম্নবর্ণিত উদাহরণ এটা আরো পরিষ্কার করে –

    (ক) আমাদের সবচাইতে নিকটবর্তী তারকার দূরত্ব হচ্ছে ৩৫ ট্রিলিয়ন মাইল।

    (খ) একটি রেলগাড়ি প্রতি মিনিটে এক মাইল করে চললে আমাদের নিকটবর্তী তারকার পৌঁছতে লাগবে ৪ কোটি ৮০ লাখ বছর। সেখান থেকে গান গাওয়া হলে তার ধ্বনি আমাদের কর্ণগোচর হতে লাগবে ত্রিশলাখ আটশত হাজার বছর? একটা মাকড়সার জাল সেখানে পৌঁছতে হলে তার ওজন হবে ৫০০ টন।

    (গ) সেন্ট পিটারস হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম গির্জা, যার দৈর্ঘ্য ৩৬৪ গজ ও প্রস্থ ২৩২ ফুট।

    (ঘ) ওয়াশিংটনের দুটি ভবনের একটির ওপর অপরটি দাঁড় করালে যে সাইজ হবে এটির সাইজ তাই।

    অণু সম্পর্কে বক্তৃতাকালে স্যার অলিভার লজ এই পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। ইউরোপীয় শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে আমি তাকে বলতে শুনেছি, একবিন্দু পানিতে যত অণু আছে ভূমধ্য সাগরেও তত বিন্দু পানি আছে, তার শ্রোতাদের মধ্যে এরূপ অনেকে ছিলেন যারা জিব্রাল্টার থেকে সুয়েজখাল পর্যন্ত ভ্রমণ করেছেন, এতৎসত্ত্বেও বিষয়টি আরো পরিষ্কার করার জন্যে তিনি আরো বলেছিলেন, একবিন্দু পানিতে যত অণু আছে সমগ্র বিশ্বের বুকে ঘাসের পরিমাণ হবে তাই।

    রিচার্ড হার্ডিং ডোভিস নিউইয়র্কের শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে বলেছিলেন, সেন্ট সোকিয়ার মসজিদের আকার হচ্ছে ৫ম অ্যাভিনিউ থিয়েটারের সমান, তিনি বলেন, নিকট থেকে দেখলে তাকে আপনার কাছে একটি দ্বীপ নগরী বলে ভ্রম হবে।

    অতপর আপনার বক্তৃতায় এই নীতি অনুসরণ করুন। পিরামিড সম্পর্কে বলতে হলে প্রথমে বলুন, এটি ৪৫১ ফুট, অতঃপর তার উচ্চতা শ্রোতারা যে সব গৃহ প্রতিদিন দেখেছে তার সাথে তুলনা করে বোঝন। বলুন এটি নগরীর কতটুকু অংশ জুড়ে আছে। এত হাজার গ্যালন এটা অথবা অতশত হাজার ব্যারল সেটা বলে কিছু বর্ণনা করবেন না, বলবেন, এই তরল পদার্থ দিয়ে কতটা ঘর ভর্তি করা সম্ভব। ২৫ ফুট উচ্চ বলার চাইতে এই সিলিং হতে দেড়গুণ উঁচু বলা কি শ্রেয় নয়। মাইলে দূরত্ব বর্ণনা করার চাইতে নির্দিষ্ট স্থান হতে কতদূরে অথবা ঐ সড়ক হতে এত দূরে একথা বলা কি ভালো নয়? লিংকনের বক্তব্যের স্পষ্টতার রহস্য : লিংকনের শ্রোতাদের কাছে তাঁর বক্তব্য পরিষ্কার করে তোলার জন্যে সাধারণত জনপ্রিয় ফ্রেইজ ব্যবহার করতেন। কংগ্রেসে প্রদত্ত তাঁর প্রথম ভাষণে তিনি ”চিনি আচ্ছাদিত” ফ্রেজ ব্যবহার করেন। খ্যাতনামা মুদ্রাকর ও লিংকনের ব্যক্তিগত বন্ধু মি. ডেফ্রিজ বলেছিলেন যে, এই ফ্রেজটি ইলিনয়েস এ জনসভার জন্যে এটি যথোপযুক্ত হলেও রাষ্ট্রীয় ঐতিহাসিক রেকর্ডের জন্যে এটি উপযুক্ত নয়। প্রত্যুত্তরে মি. লিংকন বলেন, “তুমি যদি মনে কর এমন সময় আসবে যখন জনগণ ”চিনি আচ্ছাদিত” শব্দের অর্থ বুঝবে না, আমি তা ব্যবহার পরিত্যাগ করব, অন্যথা আমি এটি প্রয়োগ অব্যাহত রাখব।”

    তিনি কীভাবে সহজ ভাষা শেখেন তা একবার কনক্স কলেজের প্রেসিডেন্ট ড. গ্যালিভারের কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন :

    আমার ছোট বেলায় কেহ আমরা সাথে কোনো বিষয়ে আলোচনা করলে আমি বিষয়বস্তু বুঝতে না পারলে উত্তেজনা অনুভব করতাম। তবে আমি মোটে ক্রুদ্ধ হতাম না। তবে সময়-সময় তা আমার ধৈর্যচ্যুতি ঘটাত। আমি যখন রাতে শুতে যেতাম তখন আমি সেদিন বিকেলে প্রতিবেশী যে বিষয়টি নিয়ে আমার পিতার সাথে আলোচনা করছেন তা ভাবতে-ভাবতে যেতাম। শুয়ে-শুয়ে ভাবতাম। অনেক সময় বিষয়টি ভাবতে-ভাবতে আমার ক্ষুদ্র কক্ষে পায়চারী করতাম। বিষয়টি বোঝার জন্যে, উপলব্ধি করার জন্যে অনেক সময় বিদ্রি রজনী যাপন করতাম। বিষয়টি বুঝতে পারলেও আমার মনে হত আমি যেন তা সঠিকভাবে বুঝি নি। তাই আবার চিন্তা করতাম।

    আমি বিষয়টিকে প্রাঞ্জলও সরল ভাষায় রূপ দিতে না পারা পর্যন্ত শান্তি পেতাম না, এটাই ছিল আমার সেদিনের আবেগ প্রবণতা। এবং এই আবেগ প্রবণতা দিয়েই আমি একটি বিষয় বুঝতে পারতাম এবং এভাবেই আমি সহজ ভাষা আয়ত্ত্ব করি।

    আসক্তি? হ্যাঁ এটা সেভাবেই বিবেচিত হওয়া উচিত। নিউসালেম এর স্কুল শিক্ষক মেন্টার গ্রাহাম বলেছেন, “আমি লিংকনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে লেখাপড়া করতে দেখেছি। তবে তার পাঠাভ্যাসের মূল লক্ষ্য ছিল কীভাবে সহজে তা প্রকাশ করা যায়।”

    এই ক্ষেত্রে সাধারণ বক্তার ব্যর্থতার মূল কারণ হচ্ছে এই যে, তারা যে বিষয়টি পরিষ্কার করে তুলে ধরতে চান সে বিষয়টি নিজেরাও বোঝে না। অস্পষ্ট ধারণা ভাসা-ভাসা জ্ঞান দিয়ে কোনো কিছু অন্যকে বোঝানো অসম্ভব। এর ফল কী হয়? কুয়াশায় ক্যামেরায় ছবি আসে না। এই রূপ ক্ষেত্রে বক্তার বক্তব্যও হয় কুয়াশাচ্ছন্ন। লিংকনের পদ্ধতি অনুসরণে বিষয় পরিষ্কার করা নিশ্চিতভাবে সহজ।

    দৃশ্য বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত :

    চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমরা বলেছি, যে সব মাংসপেশী কান থেকে মাথায় গিয়েছে তার চাইতে চোখ থেকে মাথা পর্যন্ত বিস্তৃত মাংসপেশী অনেক বেশি বড় এবং বিজ্ঞানের মতে আমরা কানে যা শুনি তার চাইতে চোখে যা দেখি তার প্রতি ২৫ গুণ বেশি দৃষ্টি দিই।

    একটা প্রাচীন প্রবাদ আছে, “একবার দেখা শতবার বলার চাইতে উত্তম।” সুতরাং আপনার বক্তব্য পরিষ্কার করতে চাইলে ছবিকে কেন্দ্র করে বক্তব্য প্রকাশ করুন। খ্যাতনামা ন্যাশনাল ক্যাশ রেজিস্টার কোম্পানির প্রেসিডেন্ট জন এইচ, প্যাটারসন এই পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। কর্মচারীদের প্রতি তার বক্তব্য সম্পর্কে একবার তিনি সিস্টেম ম্যাগাজিনে একটি প্রবন্ধ লেখেন :

    আমি বিশ্বাস করি কোনো ব্যক্তি শুধুমাত্র বক্তৃতা শুনে সবকিছু বুঝতে পারে না অথবা বক্তৃতা সকল শ্রোতারে দৃষ্টি একইভাবে আকর্ষণ করতে পারে না। এই ক্ষেত্রে বক্তৃতার সাথে একটি নাটকীয় বিকল্প প্রয়োজন। যে ক্ষেত্রে সম্ভব সে ক্ষেত্রে বক্তৃতার সাথে ছবি প্রদর্শন করা বাঞ্ছনীয়। শব্দের চাইতে নক্সার প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় বেশি এবং নক্সার চাইতে ছবি অধিকতর আকর্ষণীয়। একটি বিষয়ের আদর্শ উপস্থাপন হচ্ছে বিষয়টি সম্পর্কে সামগ্রিক ছবি প্রদর্শন করে ছবিসমূহের সংযোগ বিধানের জন্যে শব্দ বা বাক্য ব্যবহার। এটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি যে, আমার বক্তব্যের চাইতে প্রদর্শিত ছবি দেখে শ্রোতারা অনেক সহজে বিষয়টি বুঝতে পারেন।

    অদ্ভুত নকশা অনেক বেশি আকর্ষণীয়। –আমি সব বিষয়ে কাটুন বা চার্ট করে বোঝাবার চেষ্টা করি। ডলার চিহ্নিত একটি সার্কেলের অর্থ একটি টাকা আর ডলার অংকিত একটি থলের অর্থ কিছু টাকা। চন্দ্রমুখ অনেক সুফল প্রদানে সক্ষম। একটি সার্কেলে চোখ, নাক, মুখ, কান আঁকুন। নবীন এবং প্রবীণেরা নিজ-নিজ চিন্তাধারানুযায়ী তার অর্থ করবে। খ্যাতনামা কাটুনিস্ট এর হাতে আঁকানো হলে তার অর্থও হবে সেরূপটি। ব্যাগ একটি বড় ও একটি ছোট পাশাপাশি আঁকা হলে এটা কারো বুঝতে কষ্ট হবে

    যে, একটিতে বেশি এবং অপরটিতে কম টাকা আছে। কথার সাথে-সাথে এসব ছবি প্রদর্শিত হলে শ্রোতা আপনার কথা সহজে বুঝবে আপনার পরবর্তী বক্তব্যের প্রতি তার দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে? তবে অদ্ভুত ছবি মানুষকে আনন্দও দান করবে।

    আমি আমার দোকানে পোশাদার শিল্পী দিয়ে ছবি এবং নক্সা অঙ্কন করাই। লোক এসব ছবি দেখে। কাগজ থেকে পর্দায় ছবি আঁকাই, পরে তা মুভি পিকচারে রূপান্তরিত হয়।

    সব বিষয়ে ছবি করা, নক্সা করা সম্ভব নয়, তবে যেগুলো সম্ভব সেগুলো করা উচিৎ। এসব ছবিতে অন্যের দৃষ্টি পড়ে, আগ্রহ বাড়ায় অর্থ সহজে পরিষ্কার হয়?

    মি. রকফেলার কলোরোডো জ্বালানী ও লৌহ কোম্পানির অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে সিস্টেম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে তিনি কীভাবে মুদ্রা প্রদর্শন করে অবস্থা বিশ্লেষণ করতেন তা ব্যাখ্যা করছেন :

    আমি এটা উপলব্ধি করলাম যে, কলোরোডা জ্বালানী ও লৌহ কোম্পানির কর্মচারীরা মনে করেছেন যে, রকফেলার গোষ্ঠী তাদের (কর্মচারীদের) স্বার্থের বিনিময় প্রচুর অর্থ আয় করেছেন। সাধারণ লোকের ধারণাও তাই! আমি তাদের কাছে এটা প্রদান করছি যে, এই কোম্পানির দায়িত্ব গ্রহণের চৌদ্দ বছরের মধ্যে কোম্পানি তার ডিভিডেন্ড খাতে একটি সেন্টও জমা দেয় নি।

    আমার একটি সভায় আমি কোম্পানির অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করি। আমি টেবিলে কতিপয় মুদ্রা রাখি। অতঃপর বক্তৃতা কালে আমি কিছু মুদ্রা নিয়ে তা তাদের বেতন বলে দেখাই। অতঃপর আরো কিছু বেশি মুদ্রা নিয়ে তা অফিসারদের বেতন হিসাবে দেখাই। অবশিষ্ট অর্থ পরিচালকদের বেতন হিসাবে প্রদর্শন করি। এতে আমার সমস্ত মুদ্রা খরচ হয়ে যায়, স্টক হোল্ডারদের জন্যে আর কোনো মুদ্রাই পড়ে থাকে না। অতঃপর আমি প্রশ্ন করি আমারা কোম্পানির অংশীদার কর্মকর্তা এবং পরিচালক, সমস্ত আয়–আমরাই ভাগ করে নিই, চতুর্থের জন্যে কিছু থাকে কি?

    যে কোনো বিষয়ের ওপর সুস্পষ্ট দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। ডুবন্ত সূর্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি যেভাবে নিবন্ধ হয় বিষয়টির প্রতি ঠিক সেরূপ নজর দিন। উদাহরণ স্বরূপ ”কুকুর” বললে মানুষের চোখের সামনে একটা বিশেষ জন্তুর ছবি ভেসে ওঠে। বুলডগ বললে আর একটি ছবি ভেসে ওঠে এবং দুটোর সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য সকলেই বোঝে। টাটু ঘোড়া আর ঘোড়ার তুলনাও অনুরূপ নয়। এমনিভাবে অপর দুটি পশুর তুলনা করলে কি অবস্থাটা আরো পরিষ্কার হয় না?

    আপনার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করুন :

    নেপোলিয়ন বলেছিলেন যে, কোনো কিছু সুস্পষ্টভাবে বোঝাতে হলে পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন। তিনি জানতেন যে, তিনি যা কিছু বোঝেন তা অন্যেরাও একই ভাবে বুঝবে, এটা সঠিক নয়? তিনি এটা উপলব্ধি করেছিলেন যে, কোনো নূতন বিষয় বোঝাতে হলে মনের সামনে তা তুলে ধরা প্রয়োজন। সংক্ষেপে বলতে গেলে একটা বিষয়ে বার-বার পুনরাবৃত্তি অবশ্যই প্রয়োজন। সব বারে একই ভাষায় পুনরাবৃত্তি নয়। একই ভাষায় পুনরাবৃত্তি করলে শ্রোতারা বিদ্রোহ করবে। কিন্তু ভাষার ভিন্নতা থাকলে, নতুন-নতুন শব্দ ও ফ্রেইজ প্রয়োগ করলে শ্রোতারা তা সহৃদয়তার সাথে গ্রহণ করবে।

    এ সম্পর্কে একটা বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি। মি. ব্রয়ান বলেছেন : আপনি কোনো একটা বিষয় নিজে না বুঝলে তা অন্যকে বোঝাতে পারবেন না। যে বিষয়টি আপনি ভালোভাবে বুঝেছেন সে বিষয়টি আপনি অন্যকেও ভালোভাবে বোঝাতে সক্ষম হবেন।

    শেষ বাক্যটি হচ্ছে প্রথম বাক্যের পুনরাবৃত্তি। কিন্তু এটা বলার পর কেহ এটাকে পুনরাবৃত্তি বলে মনে করে না। এই বাক্য দ্বারা বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়।

    আমি আমার ক্লাসে এই পুনরাবৃত্তি পদ্ধতি বার-বার অনুসরণ করেছি। এতে বিষয় সহজে পরিষ্কার হয়েছে। পুনরাবৃত্তি পদ্ধতি অনুসরণে সত্যিই বক্তব্য সহজতর ও স্বচ্ছ হয়ে পড়ে।

    সাধারণ ব্যাখ্যা ও বিশেষ উদাহরণ :

    কোনো একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার নিশ্চিত ও সহজতর পথ হচ্ছে সাধারণ ব্যাখ্যা ও বিশেষ উদাহরণ প্রদান। এ দুটির মধ্যে পার্থক্য কী? একটি হচ্ছে সাধারণ ও অপরটি হচ্ছে বিশেষ।

    এক্ষেত্রে আমরা বিশেষ উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করছি। ”কর্মক্ষেত্রে এরূপ পুরুষ ও মহিলা আছেন যাদের আয় আশ্চর্যজনকভাবে অনেক বেশি।” এই বিবৃতিটিকে আমরা উদাহরণ রূপে গ্রহণ করি। না। এই বিবৃতিটি কি সবার কাছে পরিষ্কার? বক্তা এতে কী বলতে চেয়েছেন তা কি আপনি পরিষ্কার ভাবে বুঝেছেন। না। এবং বক্তাও এটা বুঝতে পারছেন না যে, এই বিবৃতি থেকে শ্রোতারা কি বুঝেছেন? এই বিবৃতির শ্রোতা দেশীয় ডাক্তার হলে ও জরাক পাহাড়ে কর্মরত চিকিৎসক হলে তিনি মনে করবেন বার্ষিক আয় পাঁচ হাজার ডলার, খনি ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি নিজের পেশার লোকের সাথে তুলনা করে বার্ষিক আয় বার্ষিক সাত হাজার ডলার মনে করবেন। সুতরাং এই বিবৃতিটি অত্যন্ত অস্পষ্ট। এটাকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বক্তা ”আশ্চর্যজনকভাবে বেশি” বলে কি বোঝাতে চেয়েছেন এবং কি পেশায় নিয়োজিতদের সম্পর্কে বলেছেন যে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

    দেশে এমন আইনজীবী, গান লেখক, উপন্যাসিক, নাট্যকার,শিল্পী, নায়ক, গায়ক আছেন যাদের আয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চাইতে বেশি।

    এখানে বক্তার বক্তব্য বিষয়টি কি আরো স্পষ্ট হল না? তিনি কিন্তু এক্ষেত্রেও বিশেষ উদাহরণ দেন নি। তিনি সাধারণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বিশেষ উদাহরণ দেন নি। তিনি ”গায়কের” কথা বলেছন কিন্তু গায়ক হিসাবে রোমা পানসেলা, কিরিস্টেন ফ্লাগস্টাড অথবা লিলি পনস এর নামোল্লেখ করেন নি।

    সুতরাং এখনও বিবৃতিটি অনেকটা অস্পষ্ট রয়েছে, এটাকে আমরা বিশেষ বিষয় বা সৃষ্ট বিষয় রূপে উল্লেখ করতে পারি না। নিম্নলিখিত অনুচ্ছেদে যেভাবে বিশেষ উদাহরণ দেয়া হয়েছে সেরূপ বিশেষ উদাহরণ দিলে কি অবস্থাটা আরো স্পষ্ট হত না?

    খ্যাতনামা আইনজীবী স্যামুয়েল উটার মেয়ার ও শ্ৰাক্স স্টেওয়ার-এর বার্ষিক আয় দশ লাখ ডলারেরও বেশি। জেক ডেমসের বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ডলারের বেশি। অশিক্ষিত নিগ্রো গায়ক জো লুইসের বয়স মাত্র ২২ বছর হলেও তার বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ডলারের বেশি। বার্লিনের নায়ক ইভিং এর বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ডলার। সিডনী কিংমলী তাঁর নাটকের জন্যে সপ্তাহে ১০ হাজার ডলার রয়েলটি পান। এইচ. জি, ওয়েলস তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন যে, তিনি তার লেখনী থেকে অর্থাৎ প্রকাশিত বই থেকে ত্রিশ লাখ ডলার পেয়েছেন। দিয়োগো বাইভেরা তাঁর ছবি থেকে বার্ষিক পাঁচ লাখ ডলার আয় করতেন। কেথারিন কর্নেল কখনো সপ্তাহে পাঁচ হাজার ডলারে মঞ্চে অভিনয় করতে সম্মত হতেন না।

    সুতরাং বক্তব্য হওয়া উচিত বিশেষ উদাহরণ মূলক। নির্দিষ্ট বিশেষ বিষয়ক। এরূপ হলে শ্রোতাদের কাছে তা শুধু স্পষ্ট হয় না, শ্রোতা তা পরিষ্কার বুঝতে পারেন, আগ্রহী হয়।

    একেবারে অধিক পয়েন্ট বলবেন না :

    শিক্ষকদের এক সমাবেশে বক্তৃতা প্রসঙ্গে অধ্যাপক উইলিয়াম জেমস একদা বলেছিলেন যে, একজন বক্তা একবার বক্তৃতায় শুধুমাত্র এক পয়েন্ট আলোচনা করতে পারেন এবং একটি পয়েন্ট ভিত্তিতে একঘণ্টা ধরে বক্তৃতা করা সম্ভব। সম্প্রতি আমি একজন বক্তাকে দেখেছি যিনি স্টক ওয়াচ সম্পর্কে তিন মিনিট বলার পর বলেন যে তিনি আরো এগারোটি পয়েন্ট আলোচনা করবেন। এটা কোনো বুদ্ধিমান বক্তার জন্যে সঠিক বা যথোপযুক্ত নয়। এই ধরনের বক্তব্য হয় ভাসা-ভাসা। পাঁচক যে ভাবে মানুষকে প্যারিস দেখায় এটিও সেরূপ বক্তব্য। এটা আমেরিকার মানবিক ইতিহাসের জাদুঘর ত্রিশ মিনিট ধরে পরিভ্রমণের মতো। এতে সব কিছু পরিষ্কার হয় না, তেমন আনন্দও পাওয়া যায় না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বক্তা অনেক কিছু বলতে চান বলে বক্তব্য পরিষ্কার হয় না। তিনি এক পয়েন্ট থেকে অন্য পয়েন্টে সরে যান, কোনো পয়েন্টই ক্লিয়ার করতে পারেন না।

    কাপড় অনুযায়ী কোট তৈরির মতো বক্তব্য সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। উদাহরণ স্বরূপ আপনি যদি শ্রমিক ইউনিয়ন সম্পর্কে বলতে চান তাহলে কীভাবে শ্রমিক ইউনিয়নের জন্ম হল, কীভাবে ইউনিয়ন কাজ করে, তারা কী ভালো করেছেন, কীভাবে খারাপ কাজ প্রতিরোধ করেছেন, কীভাবে শিল্পবিরোধ মীমাংসা করা যায় তার সব কিছু বলবেন না। আপনি যদি সেভাবে সব কিছু বলতে চান কেহই আপনার বক্তব্য পরিষ্কার বুঝবেন না। এরূপ বললে বিষয় পরিষ্কার না হয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।

    শ্রমিক ইউনিয়ন সম্পর্কে একটি পয়েন্ট বলে তা পরিষ্কার করার, শ্রোতাদের বোধগম্য করার চেষ্টা করা কি শ্রেয় নয়? হ্যাঁ, এটাই উত্তম পন্থা। এই ধরনের বক্তব্য শ্রোতাদের মনে প্রভাব বিস্তার করে। এধরণের বক্তব্য হয় আকর্ষণীয়, অর্থবহ এবং তা সহজে স্মরণ রাখা যায়।

    যা হোক, আপনি যদি আপনার বক্তব্যে বহু পয়েন্ট ব্যাখ্যা করতে যান তবে তা পরিশেষে সংক্ষেপে বলুন, সংক্ষিপ্ত ভাবে বললে অবশ্য শ্রোতাদের বুঝতে এবং মনে রাখতে কিছুটা সহজতর হতে পারে।

    সংক্ষিপ্ত সার :

    (১) কোনো বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ও যিশুখ্রিস্ট বলেছিলেন যে, তাহাকে উদাহরণ দিয়ে বক্তব্য পেশ করতে হয়। কারণ, তাঁর শ্রোতারা দেখেও দেখে না, শুনেও শোনে না এবং বুঝেও বোঝে না।

    (২) যিশুখ্রিস্ট দৃশ্য বিষয় উল্লেখ করে অদৃশ্য জিনিস সম্পর্কে বোঝাতেন। স্বর্গের কথা বোঝাতে তিনি বলতেন যে স্বর্গ রাজ্য হচ্ছে এমন স্থান যেখানে মূল্যবান সম্পদের কোনো অভাব নেই। আলাস্কার কথা বোঝাতে হলে তার আকার এবং জনসংখ্যার কথা না বলে যেখানে দাঁড়িয়ে আপনি কথা বলছেন তার সাথে তুলনা করুন।

    (৩) সাধারণ জনসমাবেশে বক্তৃতা কালে কারিগরি বিষয় পরিহার করুন। লিংকনের মতো সহজ সরল ভাষায় কথা বলুন যাতে যে কোনো ছেলে অথবা মেয়ে সহজে তা বুঝতে পারে।

    (৪) যে বিষয়টি সম্পর্কে আপনি বলবেন সে বিষয়টি আপনার মনে দিবালোকের মতো পরিষ্কার কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হোন?

    (৫) সম্ভব ক্ষেত্রে ছবি, কার্টুন প্রভৃতি প্রদর্শন করুন। যা বলবেন তা নিশ্চিত ভাবে বলুন। শেয়ালের কথা বোঝাতে কুকুর এর কথা উল্লেখ করবেন না।

    (৬) কোনো বিষয় পুনরুল্লেখ করবেন না, একটা ফ্রেজ দু’বার ব্যবহার করবেন না। তবে যা বলবেন তা গুরুত্ব দিয়ে বলুন।

    (৭) উদাহরণ দিয়ে আপনার বক্তব্য পরিষ্কার করুন। এই ক্ষেত্রে বাস্তব ও দৃষ্টিগোচর উদাহরণ দিন।

    (৮) বহু পয়েন্ট আলোচনা করবেন না। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় এক বা দুটি পয়েন্টের বেশি আলোচনা করা যায় না।

    (৯) পরিশেষে আপনার আলোচনার সংক্ষিপ্ত সার উপস্থাপন করুন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্ত্রী যখন বান্ধবী – ডেল কার্নেগি
    Next Article প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ – ডেল কার্নেগি

    Related Articles

    ডেল কার্নেগি

    সুখীজীবন ও কাজের সন্ধানে – ডেল কার্নেগি

    August 19, 2025
    ডেল কার্নেগি

    ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও সাফল্যের সহজ পথ – ডেল কার্নেগি

    August 19, 2025
    ডেল কার্নেগি

    বিক্রয় ও জনসংযোগ প্রতিনিধি হবেন কীভাবে – ডেল কার্নেগি

    August 19, 2025
    ডেল কার্নেগি

    প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ – ডেল কার্নেগি

    August 19, 2025
    ডেল কার্নেগি

    স্ত্রী যখন বান্ধবী – ডেল কার্নেগি

    August 19, 2025
    ডেল কার্নেগি

    বরণীয় যারা স্মরণীয় যারা – ডেল কার্নেগি

    August 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }