Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বনলতা – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প56 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজা-মেমসাহেব সংবাদ

    রাজার থেকে মেমসাহেবের বয়স বেশি। তা প্রায় ছমাস বয়সের ফারাক দুজনের মধ্যে।

    মেমসাহেব যখন প্রথম অধীনের বাড়িতে এসেছিল, তখন তার বয়স নিরুপণ করা যায়নি। কারণ সে ছিল একেবারেই অজ্ঞাতকুলশীলা। আগমন, কোনও এক নর্দমার মুখ দিয়ে, অথবা কোন ফাঁকে বাড়ির বাইরে যাবার দরজা খোলা পেয়ে। তার আগমনের পথ বা কৌশল অদ্যপি অজ্ঞাত। অপিচ, তার আগমন সে গোপন রাখতে পারেনি। বাড়িতে বাজার আসার পরে, ঝি যখন বাইরের কলতলায় মাছ। কুটতে যায়, তখনই তার আগমন টের পাওয়া যায়। সে কিছুটা ভয়ে ও সংকোচে নিচু স্বরে ডাকতে ডাকতে, দূর থেকে মাছ কোটা দেখতে থাকে। ঝি চোখ তুলে দেখতে পায়, পাঁচিলের এক পাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে, দু আঙুলে জীবটি, তার আগমন ও ক্ষুধা, যুগপৎ জানাচ্ছে। তৎক্ষণাৎ ঝিয়ের মুখ বিকৃত ও ঝংকার, ইদেখো, এ বিল্লি কাহাঁসে আবেতি।

    মাছ কোটা ও অবাঙালি দাসী, অনেকের কাছে ব্যাপারটা বৈসাদৃশ্য মনে হতে পারে। যাঁদের তা মনে হয়, তাঁরা অতীব প্রাচীন যুগের বাঙালি। কেন না, মছলিখোর বাঙালি হয়ে, অধীন তার গৃহেই লক্ষ করেছে, অবাঙালি স্ত্রীলোকটি ইস্তক কইমাছ পর্যন্ত ছাই মাখিয়ে কী রকম কট কট ঘসর ঘসর শব্দে কেটে থাকে, এবং তারপরে চাকুম-চুকুম করে খেয়েও থাকে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি, বাঙালির মাছ অনেক অবাঙালির পাতে ছড়িয়ে গিয়েছে। যাই হোক, তার ঝংকার শোনা মাত্রই, বাড়ির গৃহিণী উৎকণ্ঠিত বিতৃষ্ণায় নির্দেশ দিলেন, ঝাঁটা মেরে বিদায় কর।

    ঝিয়ের ঝাঁটা হাতে ওঠবার প্রয়োজন হয়নি। দু আঙুলে জীবটির বয়স তখন মাস দুয়েক হলেও, গৃহিণীদের বচন ও ভঙ্গি তার সম্ভবত জানা হয়ে গিয়েছিল। ঝিয়েদের মুখভঙ্গি কথাবার্তার ধরনধারণও ইতিমধ্যেই তার বিলক্ষণ প্রত্যক্ষগত ছিল। অতএব ঝি বঁটি ছেড়ে ওঠা মাত্রই, সে যে কোথায় পালিয়ে গেল, খোঁজ পাওয়া গেল না। তখন খোঁজ পাওয়া গেল না বটে, কিন্তু একটু পরেই বাড়ির নানান কোনা খুঁজি থেকে তার কাতর ডাক শোনা যেতে লাগল। আর তাতেই কাল হল। কারণ গৃহিণীর মা ষষ্ঠীর দানসকল, সেই ডাকে আকৃষ্ট হয়ে, সারা বাড়ি খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিল। করতে করতে, বাড়ির পিছনে, স্যানিটারি ট্যাঙ্ক-এর উপরে, যেখানে অনেক বাজে মালপত্র গাদাগাদি করে রাখা ছিল, তারই কোনও এক ফাঁক থেকে ছেলেমেয়েরা তাকে বের করে নিয়ে এল। গৃহিণী তাঁর সন্তানদের নির্দেশ দিলেন, এখুনি ওটাকে বাড়ির বাইরে বিদেয় করে দাও।

    কিন্তু তাঁর সন্তানেরা, দর্শনমাত্রেই সেই দু-আঙুলে জীবটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ল। তার মিউ মিউ ধ্বনিতে তাদের হৃদয় কাতর হয়ে উঠল। তার সাদা গায়ে, দু-একটি কালো ছাপ, ছেলেমেয়েদের মুগ্ধ করল। বলতে কী, অধীনের মনটাও একটু বিচলিত হল। কিন্তু গৃহিণীর নির্দেশ অমান্য করার সাহস কারুরই নেই। অতএব বাড়ির বাইরে যাবার দরজা দিয়ে তাকে বের করে দেওয়া হল। তবে কিছু কিছু কথা পূর্বপুরুষেরাই তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়ে গিয়েছেন। যেমন, ছাঁচো কোটো মারো লাতি, লজ্জা নাইকো বেড়াল জাতির। সেই দু-আঙুলে জীবটি কিছুতেই বাড়ির চৌহদ্দি ছাড়িয়ে গেল না। অনেক শাসন-পীড়ন সত্ত্বেও, দেখা গেল, ক্রমেই তার চেহারায় একটু চেকনাইয়ের ঝলক। এবং একেবারে বিছানায় তার অধিষ্ঠান। বাড়ির ছোটমেয়ে তার কপালে সিঁদুরের টিপ পরাতেও ভুলল না। অর্থাৎ কিছুদিনের মধ্যেই তার বরণ হয়ে গেল, গৃহিণীর প্রতিবাদ সত্ত্বেও তার চেহারা চালচলন ইত্যাদি দেখে, অধীন তার নামকরণ করলে, মেমসাহেব।

    মেমসাহেব মোটামুটি তার নিজের রাজ্যে বেশ বহাল তবিয়তেই কাটাচ্ছিল। মাখা ভাত, সকলের ভাগের দুধ, মাছ এবং কাঁটাটাটা মিলিয়ে আহার-বিহার মন্দ বলা যায় না। গায়ে-গতরে বৃদ্ধি এবং রূপে ক্রমাগতই যৌবন সমাগমের লক্ষণ দেখা দিতে লাগল। যে কারণে, আশপাশের মাস্তানেরা ক্রমেই হানা দিতে শুরু করল। প্রায়ই মেমসাহেবের চিৎকার-চেঁচামেচিতে, বাড়ির সকলেই ছুটোছুটি আরম্ভ করলে।

    এ সময়েই রাজার আবির্ভাব। রাজা তখন মাত্র একুশ দিনের। অধীন নিজেই তাকে সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছে। রাজা অজ্ঞাতকুলশীল নয়। তার বাবা-মা, উভয়েই জর্মন দেশের। রাজা তার চেহারাতে সেই ঐতিহ্য বহন করছে। কিন্তু মেমসাহেবের কাছে সে আপদ সদৃশ। বিষনজরে সে রাজাকে দেখতে লাগল। দেখলেই, মুখব্যাদান করে ফ্যাঁস ফাঁস শব্দ করতে লাগল। রাজার অবিশ্যি সে সব খেয়ালই নেই। সে মেমসাহেবকে নিজের খেলুড়ি ভেবে কাছে যায়। মেমসাহেব তৎক্ষণাৎ নখ বিস্তার করে মারমুখী হয়ে ওঠে।

    ব্যাপারটা বিপজ্জনক। রাজা তখনও শিশু। সে মেমসাহেবের ব্যাপারটা বোঝে না। অথচ মেমসাহেব তাকে যে-কোনও মুহূর্তেই, থাবার এক ঘায়ে কানা করে দিতে পারে। নাকের ডগা ছিঁড়ে ফেলতে পারে। তখন বাড়ির সকলেরই কাজ হল, রাজাকে মেমসাহেবের হাত থেকে রক্ষা করা। রাজাকে রক্ষা করার ব্যাপারটা মেমসাহেবের মোটেই মনঃপূত নয়। সে একটা স্বাধীন ফয়সালার পক্ষপাতী। অথচ সবাই রাজাকে কোলে তুলে নেয়, আদর করে। মেমসাহেবের দুচোখ ক্ষোভে ও দুঃখে, রাগে ও বিতৃষ্ণায় জ্বলে যায়।

    তবু দুজনকে কাছাকাছি হওয়া রোধ করা যায় না। তবে, মেমসাহেব একটা জিনিস লক্ষ করে একটু চিন্তিত ও ভাবিত হয়ে পড়ল। সে দেখল, রাজা কয়েক মাসের মধ্যেই, তার থেকে চারগুণ বড় ও বলশালী হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, রাজার মধ্যে ক্রমেই নিজের জাতের কিছু কিছু লক্ষণ দেখতে পেল। সে দেখল, রাজা ইট চিবিয়ে, কাঠ চিবিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলছে। পাথরের মতো শক্ত বল ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাড়িতে একটা কাকপক্ষী তো দূরের কথা, একটা মানুষ ঢুকতে এলে পর্যন্ত যখন গম্ভীর গলায় প্রতিবাদ জানায়, মনে হয়, গোটা বাড়িটা কাঁপছে। আরও সে লক্ষ করল, এদেশে রাজাজাতীয় যাদের সে দেখেছে, রাজার চালচলন মোটেই তাদের মতো নয়। একটা বিশেষ রাজকীয়তা তার মধ্যে আছে। যে বনের স্বাধীন বোনপোদের কথা মনে করিয়ে দেয়। অর্থাৎ সে যাদের মাসি, তাদের কথা মনে করিয়ে দেয়। বক্তার ধারণা, মেমসাহেব তার বোনপোদের কথা সম্যক জানে।

    মেমসাহেব আরও লক্ষ করল, তাকে যে সব মাস্তানেরা বাড়িয়ে পাঁচিল টপকে বিরক্ত করতে আসে, বা সরাসরি প্রেম নিবেদন করতে আসে, রাজা তাদের যমতুল্য। কেউ আর বাড়ির ত্রিসীমানায় আসে না। এলেই রাজা তাকে এমন তেড়ে যায়, মেমসাহেব নির্ভয় আনন্দে বিশেষ প্রতিবোধ করে।

    তবু মেমসাহেবের পক্ষে রাজাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে ওঠা সম্ভব হয় না। কারণ রাজা তার সঙ্গে যেভাবে খেলা করতে চায়, তা মেমসাহেবের পক্ষে সামলে ওঠা সম্ভব হয় না। তার ক্ষীণ দেহের তুলনায়, রাজা পর্বত প্রমাণ। সে যখন ঝাঁপিয়ে পড়ে খেলতে যায়, মেমসাহেব বলের মতো ছিটকে গিয়ে দূরে পড়ে। ভাবে রাজা তাকে মারতে আসছে। তৎক্ষণাৎ সে আক্রমণের জন্যে নখদন্ত বিস্তার করে। তাতে রাজা মর্মাহত বিস্মিত ও ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে। ভাবে, গেলুম খেলতে, আর ও কিনা মারতে আসে! সে ঘেউ করে ওঠে এবং একটা গোটা মেমসাহেবকে গিলে ফেলা যায়, তত বড় হাঁ করে। মেমসাহেব ভয় পেয়ে একটা কোণ নেয়। আর নেওয়াটা একদিক থেকে মারাত্মক। আত্মরক্ষার শেষ আশ্রয় বেছে নেওয়া বলা চলে।

    রাজার মধ্যে ক্ষোভ থাকে, কিন্তু সে হিংস্র হয়ে ওঠে না। যদিও সে কথা মেমসাহেব মোটেই বোঝে না। সে মরিয়া হয়ে ওঠে। তার কারণ আর কিছুই নয়। মেমসাহেব ক্ষীণাঙ্গী আর দুর্বল বলেই তার ভয় বেশি। ভয় থেকেই ঘৃণা এবং হিংস্রতা দেখা দেয়। রাজা আবার ততখানি বোঝে না। জীবন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা মেমসাহেবের থেকে কম। আর সেটা সবদিক থেকেই। ফলে, মেমসাহেবের আক্রমণের পদ্ধতি বা হিংস্রতার মাত্রা মেপে উঠতে পারে না। অনেকটা বন্ধুত্বের দাবি নিয়েই সে আরও ধমকে উঠে এগিয়ে যায়। মেমসাহেবের লক্ষ্য একমাত্র রাজার চোখ এবং নরম নাকের ডগা। কায়দা করতে পারলেই যে কোনও একটাকে সে জখম করতে পারে।

    তখন বাড়ির ছেলেমেয়েরাই ছুটে আসে দু জনকে দু দিকে সরিয়ে দেয়। মেমসাহেব আর কোনও কথা নয়। পেয়ারা গাছ বেয়ে একেবারে পাঁচিলে, এবং সেখান থেকে রাজার দিকে বিরক্ত বিস্মিত চোখে দেখতে থাকে।

    রাজার শরীর যদিও তখনই পাঁচ ফুট, তবু এই একটা ব্যাপারে মেমসাহেবের কাছে তার চরম পরাজয়। থাবা দিয়ে সে গাছের গায়ে বিদ্ধ করতে পারে না, অতএব উঠতে পারে না। অগত্যা সে দশ ফুট পাঁচিলের গায়ে পা বাড়িয়ে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে, সম্ভবত যার অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, এই বাঁদরি, নেমে আয় বলছি।

    মেমসাহেব ভ্রূক্ষেপও করে না। সে কেবল দেখে নেয়, উচ্চতার মাপ কতখানি। এ বিষয়েও সে নিঃসন্দেহ, প্রকাণ্ড দস্যুটা কিছুতেই পাঁচিলে উঠতে পারবে না। তাই নিশ্চিন্তে জিভ দিয়ে চেটে গা চুলকোতে থাকে। যে ব্যাপারটা রাজাকে আরও খেপিয়ে তোলে।

    অবিশ্যি এই ধরনের ঘটনা দুজনের ভুল-বোঝাবুঝি থেকেই ঘটে। প্রথমে দুর্বল মেমসাহেবের ধারণা, গুণ্ডাটা তাকে মারতে আসছে। রাজা ভাবে, খেলার মধ্যেও পুঁটকে রাক্ষুসীটা খামচাতে চায়।

    সুবিধা একটাই, এই ভুল-বোঝাবুঝি দীর্ঘসময় স্থায়ী হয় না। কারণ, পরে যখন দুজনের দেখা হয়, তখন বোধহয় আর সে কথা তাদের মনে থাকে না। দেখা যায়, মেমসাহেব রাজার গায়ে গা ঘষতে ঘষতে একেবারে তার পেটের তলায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আর রাজা সরে সরে গিয়ে, মেমসাহেবের গা চাটছে। সরে না গিয়ে রাজার উপায় নেই, পেটের তলায় তার জিভ যায় না। শুধু তাই নয়, দুজনে এমন ভাবে মুখে মুখ ঠেকিয়ে পরস্পরকে শোঁকে, বোঝা যায় না, ওটাই ওদের চুম্বনের পদ্ধতি কিনা। তবে একটা কথা স্মরণ রাখতেই হবে, এ প্রেম সম্পূর্ণই কামগন্ধহীন। তাদের জাত গোত্র আলাদা। বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের কোনও সম্ভাবনাই নেই। পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভাষা, রাজার পক্ষে মেমসাহেবকে নিয়ে সেরকম চিন্তা করাই দুরূহ। তথাচ, যখন তাদের পরস্পরকে চুম্বন লেহন ইত্যাদি দ্বারা আদর সোহাগ করতে দেখা যায়, তখন মানতেই হবে, দুজনে গভীর প্রেমে আবদ্ধ। কিন্তু কামগন্ধহীন।

    রাজার অবিশ্যি একটু শোঁকবার বাতিক আছে। বাতিক না বলে, বৈশিষ্ট্য বলাই ভাল। মেমসাহেব যখন বাইরের থেকে এসে রাজার গায়ে গা অবিশ্যি নাগাল পায় না, পায়ে গা ঘষে, এবং আদরে গরগর শব্দ করে পেটের তলায় চলে যায়, তখন রাজা তাকে অনেকবারই এঁকে নেয়। শুঁকেই বারে বারে নাকঝাড়া দিয়ে নেয়। মনে হয়, মেমসাহেব কোথায় কোথায় গিয়েছিল, কাদের সঙ্গে মিশেছিল, গন্ধের দ্বারা রাজা সবই খবর পায়। এবং এই খবর থেকেই সম্ভবত বাড়ির কোনও অংশে কোনও হুলো মাস্তান এলেই, রাজা মুহূর্তে গন্ধের দ্বারা তা জানতে পারে। তার গায়ের লোম খাড়া হয়ে ওঠে, ক্রুদ্ধস্বরে ডাকতে থাকে।

    দীর্ঘসময় অদর্শনের পরে, যখন দুজনের দেখা হয়, তখন যে আদরের ঘটা লাগে, তা দেখবার মতো। দুপুরের খাওয়ার পরে, প্রায়ই দেখা যায়, রাজা ঠ্যাং ছড়িয়ে পাশ ফিরে শুয়ে আছে। আর তার বুক ঘেঁষে, মেমসাহেবও অঘোরে ঘুমোচ্ছে। গোলমালের সম্ভাবনাও তখনই। ঘুম ভেঙে রাজা যখন দেখল, মেমসাহেব তার কোলের কাছে, তখন তার হয়তো একটু খেলবার ইচ্ছা হল। সে পা দিয়ে মেমসাহেবকে খোঁচা দিতে লাগল। তারপরেই একটু সরে গিয়ে, ঝাঁপ দেবার জন্যে ওত পাতল। দর্শন মাত্রেই মেমসাহেব সন্দেহে এবং ভয়ে, তৎক্ষণাৎ ভয়ংকরী হয়ে উঠল। খুদে ধারালো দাঁত বের করে, রয়েল বেঙ্গল টাইগ্রেসের মতো ফাঁস করে উঠল। আবার সেই ভুল-বোঝাবুঝির ঝগড়া, এবং মেমসাহেবের পলায়ন।

    তবে গৃহস্থদের সঙ্গে অধীনও নিশ্চিন্ত ছিল, তাদের গৃহে দুই বিরুদ্ধ জীবের মধ্যে একটা মোটামুটি প্রীতির সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। কিন্তু সেটা কতখানি, তার মাত্রা বিষয়ে কারুরই কোনও ধারণা ছিল না।

    অনেক সময়েই লক্ষ করা গিয়েছে, মেমসাহেব হয়তো কাছের কোনও বাড়ির টালির চালে বা কোনও সানসেট-এ শুয়ে আছে বা বসে আছে। রাজার চোখে পড়লে, তৎক্ষণাৎ সে ঘেউ ঘেউ আরম্ভ করে। সে ঘেউ ঘেউ-এর সুর কিন্তু মোটেই অপরিচিতকে দেখে ডেকে ওঠার মতো নয়। একটু অন্যরকম, যেন বলা হয়, এই হতভাগী, ওখানে কী করছিস। শিগগির বাড়ি আয়।

    জানা নেই, রাজার ভাষা মেমসাহেবের বোধগম্য কিনা। সে মিউ মিউ করে ঠিক বাড়ি চলে আসে, এবং রাজা তখন তাকে একবার শুঁকে নেয়। সব বিষয়েই রাজার একটা খবরদারি ভাব আছে।

    যাই হোক, অধীনের গৃহে প্রায়ই একটা বিষয় বড়রা আলোচনা করতেন, মেমসাহেব সত্যি মেয়ে কি না। কারণ তার মা হবার বয়স হয়ে গিয়েছিল। এর থেকে অনুমিত হয়, স্বাভাবিক বিষয়কে সকলে চায়। কিন্তু মেমসাহেব বাড়ির ছোটমেয়ের হাতে টিপ ছাপ ইত্যাদি নানান সাজে সেজে বেশ গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেড়াচ্ছিল। মাঝে মধ্যে কানে মুখে দু-একটি রক্তাক্ত চিহ্ন দেখে বোঝা যেত, বাইরে খুব ঝড় গিয়েছে। মাস্তানদের আদর কিংবা মারামারির চিহ্ন সে সব, বোঝা যেত না। মেমসাহেবদের সোয়ামিদের ভালবাসার আচার-আচরণ অনেক সময়েই একটু মারাত্মক ধরনের হয়। তাদের প্রেমের উচ্চগ্রামের সম্বোধনাদি শুনেই, অনেকে তা ধারণা করতে পারেন।

    অবশেষে, মেমসাহেবের প্রায় দেড় বছর বা দু বছর বয়সকালে, তার মধ্যে কয়েকটি লক্ষণ দেখা গেল। তার পেট বড় হল, শরীর কিছু স্ফীতকায়, তৎসহ ঈষৎ ক্লান্তি। কেতাবি কথায়, এবার ঘোষণা করা গেল, মেমসাহেব এক্সপেকটিং। সে গর্ভবতী।

    এই সময় থেকেই, রাজার আচরণের পরিবর্তনও লক্ষ করা গেল। সে কী বুঝল, জানা নেই। তবে মেমসাহেবের সঙ্গে ঝাঁপাইজোড়া খেলা বন্ধ করে দিল। বরং অধিকাংশ সময়েই গা চেটে দিত। মেমসাহেব ঘুমিয়ে থাকলে, জাগিয়ে দিত না। নাক দিয়ে ঢুসো মারা বা থাবা দিয়ে খোঁচানো, একেবারেই না। গোটা গা-টা শুঁকে নিত কেবল।

    মেমসাহেব এমনিতেই একটু ক্ষীণাঙ্গী। গর্ভধারণে আরও কাহিল হয়ে পড়ায়, সে বেরোনো বন্ধই করে দিল। তারপরে একদিন সকালে দেখা গেল, সিঁড়ির তলায় সে একটি বাচ্চা প্রসব করেছে। এবং রাজা সিঁড়ির তলা আগলে বসে আছে।

    বাড়ির ছেলেমেয়েরা সকলেই খুব খুশি, মেমসাহেবের ছেলে হয়েছে। গৃহিণী আশা করলেন, একাধিক বাচ্চা হবে, কারণ সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেখা গেল, মেমসাহেব একটি প্রসব করেই ক্ষান্ত দিলে। এতে গৃহস্থেরা সকলেই মেমসাহেবের বিবেচনায় তুষ্ট হল। বাড়ির ছোটমেয়ে মানু জানালে, সে এতেই খুশি।

    বাচ্চাটির তখনও চোখ ফোটেনি। মানু যখন তার মায়ের নির্দেশে কিছু ছেঁড়া কাপড়চোপড় সিঁড়ির তলায় দিতে গেল, তখনই হঠাৎ দেখা গেল, রাজার গলায় গরগর গর্জন। তার চাপা গর্জন শুনে মানু একটু অবাক হল, ভয়ও পেল। অথচ রাজা তাকে অত্যন্ত ভালবাসে। তার এরকম পরিবর্তনে সে ছেঁড়া কাপড় মেমসাহেবকে ছুঁড়ে দিয়ে সরে এল। এবং যে-ই সিঁড়ির তলায় কাছে যায়, রাজা তাকেই চাপা গর্জন শুনিয়ে দেয়।

    ব্যাপারটা বুঝতে অবিশ্যি বিলম্ব হল না। রাজার বান্ধবী সদ্যপ্রসূতা, বাচ্চাটি নিয়ে সে কষ্টে আছে। সে চায় না, কেউ সেখানে যাক, বিরক্ত করুক বা বাচ্চাটি নিয়ে চলে যাক। রাজার চোখে বেশ একটু সন্দেহের ভাব, যে কারণে গর্জন এবং অনড় নিশ্চল। সে প্রায় প্রহরীর মতোই কখনও বসে রইল, কখনও কাছে পায়চারি করতে লাগল। কখনও নাক বাড়িয়ে শুকল। আর মেমসাহেব বেরিয়ে এলেই, তাকে চেটে দিতে লাগল। মেমসাহেবও সেই আদর অনেকক্ষণ ভোগ করল।

    কয়েকদিন এ ভাবেই চলল। কিন্তু হঠাৎ কী হল বলা যায় না, বাচ্চাটির চোখ ফোঁটার আগেই, সে হঠাৎ মারা গেল। মেমসাহেব বারে বারে ডেকে তার মৃত বাচ্চাটিকেই চাটতে লাগল, কিন্তু তাতে জীবন ফেরানো গেল না। তার উপস্থিতিতে মৃত বাচ্চাটিকে সরাবার উপায় ছিল না। তাই যখন সে একবার একটু অন্যদিকে গেল, তখন সেটি সরিয়ে নিয়ে আসা হল। কিন্তু এ ঘটনা রাজার চোখে পড়তেই সে ছুটে এল। বারে বারে মৃত বাচ্চাটিকে খুঁকে দেখে, তার কী মনে হল। সে চুপ করে সেটির দিকে তাকিয়ে রইল। বাড়ির বাইরে নিয়ে যেতে কোনও বাধা দিল না।

    মেমসাহেব ফিরে বাচ্চা না দেখতে পেয়ে খানিকটা খুঁজল। কিন্তু তার ক্ষীণ ক্লান্ত শরীরে ক্ষমতা একেবারেই ছিল না। সে তার আঁতুড়েই শুয়ে রইল। রাজা তার মুখোমুখি শুয়ে বসে কাটাতে লাগল। বেশ বোঝা গেল, রাজা অত্যন্ত বিপন্ন। মেমসাহেবের জন্যে তার সুখ আনন্দ, কিছু নেই। কেবল মেমসাহেব বেরিয়ে এলেই তাকে চেটে চেটে আদর-যত্ন করে।

    কয়েকদিন এভাবে কাটবার পর, দেখা গেল, মেমসাহেব অনড় নিশ্চল। দেখা গেল, সে-ও মারা গিয়েছে। সন্তানের শোকে কিংবা স্বাস্থ্যহানিতে, তা ঠিক বোঝা গেল না।

    রাজার এমন করুণ অবস্থা আর দেখা যায়নি। সে তার পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি শরীরটাকে লম্বা করে ছড়িয়ে, সামনের পায়ের উপর মুখ রেখে, মেমসাহেবের শরীরটার দিকে তাকিয়েছিল। হয়তো তার চোখে জল পড়ে না, কিন্তু সে চোখের অবস্থা কান্নার থেকেও মর্মন্তুদ। তার গলায় একটা করে শব্দ হয়, আর তার সঙ্গে দীর্ঘশ্বাস। সে কী বুঝেছিল, কে জানে।

    মেমসাহেবকে যখন তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন একবার সে এঁকেছিল। মৃত মেমসাহেবের ঠোঁটের সঙ্গে মুখ ঘষে, আবার সে সিঁড়ির তলার কাছে, তেমনি লম্বা হয়ে শুয়ে রইল। কারুর ডাকে সে সাড়া দিল না। কেবল মেমসাহেব যেখানে শুয়েছিল, সেখানে একদৃষ্টে চেয়ে রইল।

    .

    এ কথা ঠিক, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। কিন্তু অনেক নখদন্তই গোপন থাকে, তবু যখন তারা বলে, মানুষ হয়ে কেন কুকুর-বেড়ালের মতো ঝগড়া কর তখন তাদের সঙ্গে এই অধীন সর্বদা একমত হতে পারে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমনোমুকুর – সমরেশ বসু
    Next Article ফুলবর্ষিয়া – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }