Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বনলতা – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প56 Mins Read0
    ⤶

    অশান্ত

    জগদ্দল।…

    অসংখ্য গলি, আর ঘন ঠাসা বস্তি, আর প্রকাণ্ড বড় বড় চটকলগুলোকে দু পাশে রেখে বারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড চলে গেছে। তারই এক অংশের নাম জগদ্দল।

    জগদ্দলের ছেলে লাল্লু। অনেক সময় লোকে ওকে ডাকে বদমাশ, কিছু ফেরেববাজ, সেটা ওর খুব খারাপ লাগে না। কারণ ওগুলো ঠিক গালাগাল নয় ওর কাছে। আর এ নিয়ে ঝগড়াঝাটি করতে গেলে ওর তো এখানে বাস করাই চলে না। লোকে যা বলে ওর মা বাবাও তাই বলত ওকে। এখন মা বাপ নেই, অপরের মা বাপ বলে।

    সম্ভবত লাল্লুর বয়েস পনেরো হবে। কিন্তু বয়সকে ছাড়িয়ে সে অনেক দূরে এগিয়ে গেছে। বয়স্ক মানুষের মতোই গাল ঝরে যাওয়া পাকা পাকা মুখ। জোয়ান আর শৌখিন তাঁতি স্পিনারের মতো বড় বড় ঘাড় কামানো চুল। বাড়তে না পাওয়া শরীরটা শক্ত আর রোগা। মনে হয় সার না পাওয়া ছাইগাদার জংলা গাছগুলো যেমন মরকূটে হয়ে যায় ওর যেন খানিকটা তেমনি। গায় পরে নীল রং-এর হাতকাটা স্যান্ডো গেঞ্জি আর চেষ্টা করে যে কোনও জোয়ান তাঁতির মতোই বুক ফুলিয়ে একটা বাহাদুরি চালে চলতে। এরাই ওর আদর্শ। একজন ভাল তাঁতি হওয়ার আশা করে সে, এমনকী একটা লাইন সর্দারির কথাও মাঝে মাঝে ভাবতে আরম্ভ করে। দাপট আর দৌলতের নেশায় এরকম মাঝে মাঝে পেয়ে বসে তাকে। তবে নিজে সে একতিল বিশ্বাস করে না যে কোনওদিন সর্দার হতে পারবে। কারণ সর্দার হতে গেলে বাবু আর সাহেবদের যে মুঠো মুঠো টাকা দিতে হয় তা তো সে কোনওদিনই রোজগার করতে পারবে না!

    পান খায় সে অনবরত যেমন খায় একজন বয়স্ক লোক, আর ঠোঁটের কোণে সারাক্ষণই প্রায় বিড়ি চেপে ধরা থাকে যেমন থাকে যুবকদের ঠোঁটে।

    কাজ করে সে চটকলের নলিঘরে মেয়েদের সঙ্গে। অত্যন্ত অপছন্দ করে সে মেয়েদের সঙ্গে কাজ করতে। তার পোরুষ এতে আঘাত পায়। তার সমবয়সিদের সঙ্গে ঝগড়াঝাটিতে তাকে হার মানাবার একমাত্র বুলি হল তুই তো জেনানার কাজ করিস! ব্যস জোঁকের মুখের নুন পড়ার মতো লাল্লু একেবারে চুপ হয়ে যায়।

    চাকরির পর বাদবাকি সময়টা সে সিনেমা হলে চা বিক্রি করে কাটিয়ে দেয়। এটা ঠিক পয়সা রোজগারের জন্য নয়। দোকানের মালিকের কৃপায় মাঝে মাঝে সিনেমা দেখতে পায় আর চা খেতে পায়। তা ছাড়া আর দোস্ত ইয়াররা সব সিনেমার আশেপাশেই আড্ডা জমায়। সন্ধ্যাবেলা মাথায় গাদাখানেক তেলজল মেখে আর রুমালটা গলায় বেঁধে এখানেই ঘোরাফেরা করতে ভাল লাগে। মাঝে মাঝে সিনেমা শুরু হওয়ার আগে কয়েকটা মারপিটের ছবির কোনও কোনও অংশ নিজেদের মধ্যে অভিনয় করে দর্শকদের দেখায় দর্শকরাও তাদের উৎসাহ দেয়। কোনও কোনওদিন অভিনয় দাঙ্গায় পরিণত হয়। তখন দারোয়ানের লাঠির ঘায়ে ঠাণ্ডা হয় সব। দর্শকদের কাছে নিজেকে তুলে ধরার নানান কায়দাকানুনের একটা বিশেষ বাতিক আছে তার। বিশেষ করে যেদিন সিনেমার ম্যানেজার বাবুর ছেলেমেয়েরা আসে, সেদিন চাওয়ালা ছোকরাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার হিড়িক লেগে যায় কে কতটা তাদের চোখে লাগতে পারে। নিজেদের মধ্যে পরে তারা এ নিয়ে অনেক তর্কাতর্কি ও হিসেব নিকেশ করে। যে যতটা বাড়িয়ে বলতে পারে, সে ততটাই প্রাধান্য লাভ করে। এ বিষয়ে লাল্লুর কৃতিত্বই বেশি। কিন্তু সে জানে ম্যানেজার বাবুর ছেলেমেয়েদের সুন্দর আর স্বপ্নভরা চোখগুলো একবারের জন্যও পড়েনি তার ওপর। কেন না ম্যানেজারের সামনে বাহাদুরের কায়দাকানুন করার মতো দুঃসাহস তাদের কারুরই নেই। কখনও কখনও হয়তো তাদের লাল্লুদের চোখে পড়ে। কচি কচি লাল ঠোঁটে লজেন্স আর চকোলেট চুষতে চুষতে অচেনা আর অবজ্ঞার চোখে তারা দেখে। কিন্তু লাল্লুর ভাল লাগে। কী সুন্দর নরম আর ঝকঝকে ওরা। মাঝে মাঝে ওদের কাছ দিয়ে একটু ঘুরেফিরে আসে সে। কেমন একটা সুগন্ধ যেন ঘিরে থাকে তাদের চারপাশে যে গন্ধটা প্রাণ ভরে নিতে ইচ্ছে করে।

    রাত্রে হোটেলে ফিরে খেয়ে হোটেলওয়ালির কাছ থেকে যখন তার ছোট বোন লীলাকে নিয়ে ঘরে ফিরে যায় তখন গল্প করে সে সব কথা তার বোনের কাছে। জানিস একদম ছবির মতো আর গন্ধ শুকলে তোর দিমাক খারাপ হয়ে যাবে। হ্যাঁ, বহুৎ ভারী ঘরের লেড়কা লেড়কি কিনা। আমাকে খুব পেয়ার করে!…হ্যাঁ? দাদার পাশে চলতে চলতে হোটেলওয়ালির হাতে বেড়াবিনুনি বাঁধা ছোট্ট লীলার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে ওঠে। তারও ইচ্ছে করে একদিন দেখতে। কিন্তু দাদা তাকে কোনওদিনই নিয়ে যায় না। তা হলে হয়তো দাদার মতো তাকেও ওরা পেয়ার করত।

    কিন্তু পরমুহূর্তেই লাল্লুর মনটা নিজের উপর বিরক্তিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে বোনকে এরকম মিথ্যে বলার জন্য। দুনিয়ায় কাকে কে কবে পেয়ার করেছে? এ দুনিয়ার পেয়ার কোথায় আছে?

    ঘরে শুয়ে বোনকে পাশে টেনে নিজেই সে পেয়ার করে। চুপি চুপি বলে; তোকে আমি লেখাপড়া শেখাব, ওদেরই মতো তোকেও বানিয়ে দেব। হাঁ!

    ওদের মতো? লীলার চোখে ভেসে ওঠে মাঝে মাঝে দেখা মিল সাহেবের ফুটফুটে বেণি দোলানো পুতুলের মতো ছেলেমেয়েদের চেহারা। পরীর মতো সুন্দর আর মধুর! সেইরকম সে হবে! দাদার বুকে মুখ ঢেকে কান্না রোধ করে সে। না, ওরকম সে হতে চায় না। বড় ডর লাগে। ভারী মিঠা লাগে ওদের, কিন্তু তার থেকে বেশি ডর লাগে তার। চায় কালী ভুজাওয়ালির নাতনির মতো হতে। ইয়াবড় বুকের পাটা আটা দেওদার গাছের মতো লম্বা আর ভীষণ খাণ্ডার। যে একদিন বে-ইজ্জত করতে চেয়েছিল বলে এক ডিপার্টমেন্ট ওভারসিয়ারকে মেরে আধমরা করে ফেলেছিল। হাঁ, ঠিক সেইরকম।

    লাল্লুও বুঝতে পারল আবার সে বোনকে মিথ্যে স্তোক দিচ্ছে। পান খেয়ে ক্ষয়ে যাওয়া দাঁতে দাঁত ঘষে ভাবল সে তার তো পয়সাই নেই। কেমন করে সে তার বোনকে সুন্দর শিক্ষিত করবে। তার হপ্তার টাকা আট আনা বাদে সবই হোটেলওয়ালিকে দিয়ে দিতে হয় খাওয়া খরচের জন্য। ওই টাকা থেকেই হোটেলওয়ালিই মাসে দুটাকা ঘরভাড়া মিটিয়ে দেয় তাদের।

    এ ঘরটা ওদের খুব পেয়ারের ঘর। এ ঘরেই ওরা দুভাই বোন জন্মেছে আর ওর বাপ মা মরেছে। এ ঘরের কাঁচা মেঝেয় শুয়ে বসে মানুষ হয়েছে ওরা। এ ঘরেই রয়েছে ওদের অনেক বছরের ইতিহাস আর চিহ্ন। ঘরের ডান দিকের কোণটাতে নিয়ে গিয়ে লাল্লুর বাবা লাল্লুকে মারত। কারণ ওখান থেকে পালানো যেত না। হপ্তার চারদিন ছিল মার খাওয়ার পালা। সোমবার থেকে বৃহস্পতি বার। শুক্রবার হপ্তার টাকা পাওয়ার পর থেকে রোববার পর্যন্ত বাপের কোনও সাড়াশব্দ বড় একটা পাওয়া যেত না। সেইজন্য ওই চারদিন লাল্লু একটু সাবধানে আড়ালে থাকত। কোনওদিন ওর মাকে ধরেও মারত ওর বাবা। তখন লাল্লু অযথা লীলার সঙ্গে একটা খুনসুটি বাঁধিয়ে ঝটাপটি চেঁচামেচি শুরু করে দিত। অমনি ওর বাবা মাকে ছেড়ে ওদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। কিন্তু লাল্লু তো একছুটে পালিয়ে যেত। ধরা পড়ত লীলা। কিন্তু লীলাকে বড় ভালবাসত তার বাবা। কখনও মারত না তাকে। বরং লীলাকে বুকের কাছে নিয়ে খুব আদর করত গালাগাল দিত লাল্লুকে।

    এ রকম না করলে তার বাবা মার ঝগড়া থামতে চাইত না। বাবা মার ঝগড়া আর অত্যন্ত জঘন্য গালাগালি কটুক্তি। বস্তিবাসীদের সঙ্গে নানান কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করে ঝগড়া ঠাট্টা তামাশা এ সব লাল্লু কখনও পছন্দ করত না। হাঁ, একদিক থেকে তার মা খুব শান্ত আর হিসেবি ছিল। কিন্তু বাপের বেপরোয়া দুর্ব্যবহারে মাকেও জড়িয়ে পড়তে হত। লাল্লু তাই মনে মনে বলত; হে রামজি, বাবাকে মার ডালো!…এখন কিন্তু সে কথা মনে হলে বড় কষ্ট হয় তার। মনে করে তার অভিশাপেই বুঝি বাপের অকাল মরণ হল।

    নিজে সে কখনও লীলার সঙ্গে ঝগড়া করে না। যতটা সম্ভব মিলে মিশে শান্ত হয়ে থাকা যায় তাই সে চেষ্টা করে। বাবার মতো নিশ্চয়ই সে হবে না–ওইরকম মাতাল আর ঝগড়াটে। সে চায় শান্ত সুখী ঘর।…ভাইয়া, ও ভাইয়া। ভোরবেলা লাল্লুর গায়ে ঠেলা দেয় লীলা।–ওঠ, ওঠ, পয়লা বাঁশি হয়ে গেল।

    রোজকার মতো কয়েক ধাক্কায় লাল্লু উঠে চোখ ঘষতে থাকে এক কোণে বসে। লীলা ঝাঁটা দিয়ে ঘর ঝাড়ু দিতে আরম্ভ করে। তারপর দুজনে ঘরের শিকল তুলে দিয়ে বেরিয়ে পড়ে। গলি থেকে বড় রাস্তায় এসে জলকলে হাতমুখ ধুয়ে হোটেলে গিয়ে ওঠে। হোটেলে তখন চায়ের খদ্দের গিজ গিজ করে।

    ওরা দুজনেও চায়ের গ্লাস নিয়ে বসে পড়ে। আরও অন্ধকার রাস্তার দিকে চেয়ে চেয়ে পাশাপাশি দুজনে চা খাওয়া শেষ করে লাল্লু ঠোঁটের কোণে চেপে ধরে বিড়ি জ্বালায়। দু-চার টান দিয়ে খুব খানিকটা কেশে অস্বাভাবিক মোটা আর বুড়োটে গলায় সাবধান করে লীলাকে! ঝুটমুট কারুর সঙ্গে ঝগড়া করিসনি, আর না বলে কোথা যাসনি বুঝলি?

    বলে পকেট থেকে চিরুনি বের করে মাথাটা ভাল করে আঁচড়ে পাশে বুড়ো তাঁতি আনোয়ারকে একটা খোঁচা দেয় কনুই দিয়ে।–চলো হে।

    আর একটু হলে আনোয়ারের চা ছলকে পড়ে যেত। সে রেগে ধমকে ওঠে; আরে শালা লওণ্ডা, মারব দো ঝাপ্পড়।

    এক ঝলক হেসে উঠে পড়ে লাল্লু।

    লীলা করুণ চোখে তার পাশে এসে দাঁড়ায়। তারপর একটু কুণ্ঠার সঙ্গে মিনতি করে ঠিক যেন লায়েক ছেলের মায়ের মতো; ভাইয়া, কারুর সঙ্গে ঝগড়া কোরো না।…

    -হাঁ হাঁ। খুব গম্ভীর হয়ে বেরিয়ে যায় লাল্লু।

    রোজই তারা দুজনে দুজনকে এমনি সাবধান করে। বিদায় নেয়।

    সেকসনে ঢুকে দমে গেল লাল্লু। রোজকার মতো কেউ তাকে ডেকে কথা বলল না। কাজ কর্মও কেউ বিশেষ করছে না। কেবল এধার ওধার জটলা করছে। এমনকী পদ্মিনীরও পাশ দিয়ে ঘুরে আসা সত্ত্বেও রোজকার নেই সোহাগের ডাক শুনতে পেল না।

    পদ্মিনীকে লাল্লু ভালবাসে। জোয়ান ঘোড়ার মতো শক্ত সবল মেয়েমানুষ। লাল্লুর চেয়ে অবশ্য সে অনেক বড়, প্রায় পঁচিশ-ত্রিশ বছর বয়স হবে, লাল্লুর মার সঙ্গে কাজ করত সে। নিজে সে সন্তানহীনা বলেই বোধহয় লাল্লুকে আদর সোহাগ করতে ভালবাসে। কিন্তু লাল্লু অন্যরকম ভাবে। সে পদ্মিনীকে মনে মনে বিয়ে করার কথা ভাবে। লজ্জায় ভয়ে সে কথাটা বলতে পারে না। শুধু নির্বিবাদে আদরটুকু খেয়েই নীরব থাকে। জানলে পরে পদ্মিনী যদি আর পেয়ার না করে এই ভয়েই কিছু বলে না সে। মাঝে মাঝে পদ্মিনীর প্রাণখোলা ঠাট্টা আর প্রগলভতায় লাল্লুর মনে বাঁধ ভেঙে যেতে চায়। কিন্তু যা পেয়েছে তাই হারাবার ভয়ে কিছু বলতে পারে না।

    পদ্মিনী তাকে দেখলেই রোজ বলে ওঠে, এ হামারা বাবুসাহাব আয়া হ্যায়!…কিন্তু আজ সে কিছুই বলল না। এমনকী একবার তাকিয়েও দেখল না!…

    বুকের মধ্যে নিশ্বাস চেপে সেকসনের এধার ওধার ঘুরে নিল সে। আস্তে আস্তে আন্দাজ করল, নলিঘরের কিছু একটা বিপদ ঘনিয়ে এসেছে, তাই সকলে কাজ ফেলে জটলা করছে, গালাগালি দিচ্ছে, শাপমন্যি করতে শুরু করেছে জেনানার দল।…

    পদ্মিনীর আঁচল ধরে টান দিল সে। কী হয়েছে?

    –আড়াইশ অওরত ছাঁটাই হবে। পদ্মিনী চেঁচিয়ে জবাব দিল। তার চেঁচানিতে অনেকেই তার দিকে ফিরে তাকাল। বুড়ি রিজিয়া দাঁতহীন মাড়ির পাশ দিয়ে জিভটাকে বের করে ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে এল। যেন জিভ দিয়েই শুনছে সে।

    হয়তো তুইও আছিস বাবুসাহেব। লাল্লুকে বলল পদ্মিনী। এখুনি ওরা কাগজ দিয়ে যাবে।

    তুইও আছিস? কথাটা বিশ্বাস করতে সাহস করল না লাল্লু। তার এ পনেরো বছরের ক্ষয়ে যাওয়া বুকটা কেঁপে উঠল। মনে হল সিনেমার পরদায় যেন কোনও দম আটকানো সাংঘাতিক আতঙ্কজনক দৃশ্য দেখছে সে!…আস্তে আস্তে দম ফেলবার চেষ্টা করে সে।…না এ হতে পারে না। সে তো বুড্ডা আদমি নয় যে কাজ কাম ঠিক চালাতে পারে না। আর মানিজার সাহাব তো জানে অলগু স্পিনারের লেড়কার দুনিয়ায় কেউ নেই।…হাঁ, তার বাপকে নাকি মানিজার সাব খুব পেয়ার করত। বাবা মরে গেছে শুনে তার মাকে কুড়িটা টাকা দিয়ে বলেছিল সাহেব, তোমার মরদ খুব ওস্তাদ আর খাঁটিয়ে লোক ছিল, বহুৎ বাচ্চা বয়স থেকে কাজ চালিয়েছে এখানে। তোমার মরদের নামে বিশটা টাকা ইনাম দিলাম।

    সেই সময়েই লাল্লুর মা লাল্লুর জন্য সাহেবের কাছ থেকে এ নোকরিটা ভিখ মেগে নিয়েছিল।…সেই নোকরি!….

    তখনও সে পদ্মিনীর আঁচলটা ধরে ছিল। বুড়ি রিজিয়া তাকে ঠেলে দিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল পদ্মিনীর গায়ের উপর।আমার নামও আছে?

    পদ্মিনী জবাব দেওয়ার আগেই লাল্লু রিজিয়াকে এক হ্যাঁচকা টানে সরিয়ে দিয়ে ভেংচে উঠল; আমার নামও আছে? বুড়ি, ধাক্কা মারলি কেন? তোর নাম পয়লা আছে!

    আর যায় কোথায়! রিজিয়া রাগে দুঃখে নেচেকুদে কেঁদে চেঁচিয়ে গালাগাল দিয়ে সেকসনটাকেই মাথা করে তুলল। রাজ্যের গালাগাল আর খিস্তিতে ফেটে পড়ল সে।

    ওদিকে লাল্লুও ফেটে পড়ল হাসিতে। আরও অনেকেই রিজিয়ার কাণ্ড দেখে হেসে ফেলল সামনে বিপদ জেনেও… পদ্মিনী ধমকে উঠল লাল্লুকে। এ ক্যায়া বাবুসাহাব। একটা বুড়িকে তুই…।

    তার কথা শেষ হওয়ার আগেই রিজিয়া তাকেও গালাগাল দিতে আরম্ভ করল অশ্রাব্য ভাষায়, তারপরে সেকসনের সবাইকে, তারপরে বোধহয় হঠাৎ ছাঁটাইয়ের কথা মনে পড়ে যাওয়ায় চৌদ্দ গুষ্টিকে উদ্ধার করতে লাগল ম্যানেজার আর লেবার বাবুর।

    কিন্তু কাগজ এল না, ঘুরে ঘুরে গুলতান আর জটলা করে টিফিন পর্যন্ত কেটে গেল।

    টিফিনের পর ফিরে এসে সবাই দেখল মেশিনের উপর প্রত্যেকের জায়গায় একটা করে কাগজ রয়েছে। আসবার সময় তারা সকলেই দেখে এসেছে মিলের ফটকে মেলাই পুলিশ জড়ো হয়েছে। সেকসনের কেরানি বাবুটিও ভেগে গেছে।

    লাল্লুর বুকের মধ্যে ধক করে উঠল। দেখল তার জায়গাতেও একটা কাগজ রয়েছে। কী লেখা আছে তা সে পড়তে পারল না। কাগজটা হাতে নিয়ে হাঁ করে তাকিয়ে রইল। সে বুঝতে পারল না কী করবে। তার চোখের সামনে খালি বোন লীলার মুখটা ভেসে উঠল। আর হোটেলওয়ালির মুখটা যে তাদের দুবেলা খেতে দেয়। অল্পক্ষণের মধ্যেই অওরতের দল ভীষণ চেঁচামেচি শুরু করল। বিশেষ করে বুড়ি মেয়েমানুষের দল। অন্যান্য মরদেরাও কাজ ছেড়ে ওদের সঙ্গে গোলমালে ভিড়ে গেল।

    লাল্লু কাগজটা হাতে নিয়ে পদ্মিনীর পাশে গিয়ে দাঁড়াল। যেন মৃত্যুর পরোয়ানা তার হাতে। তার চোখে আতঙ্ক আর হতাশা। নিতান্ত বাচ্চা আর নিঃসহায়, কিন্তু কেউ একটু দরদ দেখাচ্ছে না তাকে। একমাত্র পদ্মিনীই তাকে কাছে টেনে নিল।

    কালীভুজাওয়ালির নাতনি সবাইকে হাঁকডাক শুরু করল। মা কালীর মতো খ্যাপা মূর্তি হয়ে উঠেছে তার। সে সবাইকে বলল: ফিরিয়ে দাও এ কাগজি নোটিশ। ম্যানেজারের নাকের উপর ছুঁড়ে দাও।

    কালীভুজাওয়ালির নাতনির পেছন পেছন গেল সবাই ম্যানেজারের দরজায়।

    লাল্লুর কী রকম ভয় করল প্রথমটা। একটা কাগজকে ততখানি বিপজ্জনক মনে করতে তার ব্যস্ত কিশোর মন পারছে না। হয়তো..হয়তো তাকে শেষ পর্যন্ত রেখে দেবে মানিজার সাহেব। অলগু স্পিনারের ব্যাটা তো সে!

    এখুনি এগিয়ে যেতে দ্বিধা করল সে। এমনকী পদ্মিনীকে পর্যন্ত আঁচল ধরে টেনে রাখল।

    –মৎ যাও। পদ্মিনীকে সে নাম ধরে ডাকে। মৎ যাও পদ্মিনী!…

    –এই সেরেছে। পদ্মিনী হেসে উঠে ওকেই বরং টেনে নিয়ে চলল।তবে কি তুই ছাঁটাই চাস?

    পদ্মিনীর দীপ্ত মুখটার দিকে চেয়ে রইল একটু বিহ্বল ভাবে লাল্লু। প্রগলভ আর সোহাগি পদ্মিনীর চেয়ে এখন আরও রহস্যজনক মনে হয় পদ্মিনীকে। লিখাপড়া জানা সিনেমা ম্যানেজারের বহুর মতো বড় ঘরের গম্ভীর আর ভারী (বিদুষী) অওরত। রাগে, খ্যাপে কিন্তু কালীভুজাওয়ালির নাতনির মতো খাণ্ডার আর ঘোড়ার মতো মেয়েমানুষ নয়।

    তবু বলল সে, কিন্তু এমন ডাঁটের মাথায় গরম দেখালে পরে দুসরা কোনও ফিকির থাকবে না। আমাদের সবাইকে হয়তো নাও ভাগিয়ে দিতে পারে।

    পদ্মিনী এত দুঃখেও হাসল।–বুডবক কাঁহিকে। মানিজার কি তোর মওসা লাগে? বাঘ খুন না খেয়ে ছেড়ে দেয়? ভাগিয়ে তোকে দেবেই যদি জোর করে তুই না থাকতে পারিস। ওরা কোনও বাত চায় না।

    লাল্লু বুঝল পদ্মিনী দৃঢ়। দরজার আড়াল থেকে সে দেখল ভুজাওয়ালির নাতনি লম্বা চেহারাটা নিয়ে ম্যানেজারের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা কোনও দুর্ঘটনার জন্য সে যেন পল গুনতে লাগল।

    –কেয়া মাংতা? সাহেব জিজ্ঞেস করল।

    যেমনি বলা, ভুজাওয়ালির নাতনির মুখ থেকে অমনি যা তা গালাগালি বেরুতে লাগল। ম্যানেজারকে মারে আর কী! কাগজটা ছুঁড়ে ফেলল সে সাহেবের মুখের উপর। তারপর বোধহয় আসতে আসতে বলল–মুণ্ডপাত করব তোর সাদা শয়তান।

    আড়াইশো মেয়েমানুষ ঠিক অমনি করে কাগজটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এল। টেবিলের উপর ভরে উঠল ছাঁটাই নোটিশের কাগজে।

    ….এবার ধীরে ধীরে ঢুকল লাল্লু। ঢুকে একটা মস্তবড় সেলাম ঠুকল সাহেবকে। সালাম হুজুর। সাহেব সন্দেহে আর বিস্ময়ে তাকাল তার দিকে। কেয়া মাংতা?

    ওর বাবার মতো কপালে হাতটা ঠেকিয়েই বলল লাল্লু; আমি অলগু স্পিনারের ব্যাটা। কিন্তু এখন কেউ নেই। একটা ছোট বহিন আছে। ছাঁটাই হোগা তো মর যায়গা সাব।…

    –কোনও এক্তিয়ার নাই আমার। সাহেব মাথা নাড়ল।–আলু গুদামকা হুকুম, ছাঁটাই জরুর করতে হবে। কিন্তু লাল্লু নড়তে পারল না।

    সাহেব একটু চুপ করে থেকে একটা পাঁচ টাকার নোট বের করে বাড়িয়ে ধরল তার দিকে অলপ্ত বহুত ভাল আদমি ছিল। এ পাঁচটা রুপেয়া ইমাম নিয়ে নাও তুমি…

    কোনও দয়ামায়ার চিহ্নই দেখতে পেল না লাল্লু সাহেবের মুখে! অলগুর লেড়কা বলে পাঁচটা টাকা দিতে চায় কিন্তু ছাঁটাই করবেই। বোনটাকে আর ওকে মেরে ফেলবেই। মরে যাবে তবু একটু দরদ দেখাবে না! আর সে কিনা…! তার ঝরে যাওয়া গালে চোয়ালের হাড় দুটো শক্ত হয়ে ফুটে উঠল। ঠিকই বলেছে পদ্মিনী।…

    কাগজটা রেখে দিল সে ম্যানেজারের টেবিলের উপর। তারপর বহুত ভাল অলগুর কৃপাপ্রার্থী ছেলেটা কপালের উপর থেকে ঝাঁকড়া চুলগুলো এক ঝাঁকিতে পেছনে সরিয়ে দিয়ে বলল, ভিখ চাই সাব।

    তারপর একজন জোয়ান লায়েক তাঁতির মতো হাড় বের করা বুকটাকে সামনের দিকে ঠেলে দিয়ে হন হন করে পদ্মিনীর কাছে এসে দাঁড়াল।

    তার বুকের মধ্যে ভয় আর ক্ষোভ একসঙ্গে আলোড়ন তুলল। তার কান্না পেতে লাগল, তার ইচ্ছে করতে লাগল কামড়ে খামচে ছিঁড়ে ফেলতে কাউকে। বাবাকে আর মাকে মনে পড়তে লাগল তার। যে কোনও কারণে দুখ তখলিখ হলেই বাবা মাকে মনে পড়ে তার। কিন্তু কোনও সান্ত্বনা পেল না সে।

    মেয়েরা সব গোলমাল করেই চলেছে। জাতীয় আঞ্জুমানের (ইউনিয়ন) লিডর বাবুরা এসে কী বোঝাবার চেষ্টা করছে ওদের। কেবলি শান্ত হতে বলছে সবাইকে। ভুজাওয়ালির নাতনি মারমুখী হয়ে কথা বলছে তাদের সঙ্গে! সবচেয়ে বেশি ফালতু গোলমাল করছে বুড়িগুলো। আর ঘন ঘন সন্দেহে আর ভয়ে গেটের পুলিশগুলোর দিকে তাকাচ্ছে।

    –পদ্মিনী। লাল্লু বলল আকুলভাবে।–হোটেলওয়ালি আমাদের জরুর ভাগিয়ে দেবে, লীলাটা মরে যাবে।….

    হাঁ, পদ্মিনীর বুকটার মধ্যেও হাহাকার করে উঠল। কোনও সান্ত্বনা স্তোকবাক্য খুঁজে পেল না সে, ছেলেটাকে বলবার মতো। লাল্লুর শুকনো পাকা মুখটা চেপে ধরল সে তার বন্ধ্যা রিক্ত বুকটাতে তার বুকটা মুচড়ে চোখ ফেটে জল আসতে চাইল। ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্না চেপে বলল সে, কোনও উপায় নেই বাবুসাহেব। মরে বেঁচে থোক লড়ে আমাদের এ ছাঁটাই রুখতেই হবে।..

    অত্যন্ত সহজ আর সরল মনে হল লাল্লুর পদ্মিনীর কথা। বাঁচতে হলে লড়া ছাড়া কোনও গতি নেই। পদ্মিনীর উত্তপ্ত নিশ্বাস তার ক্ষয়ে যাওয়া বুকটায় যেন আগুন ছড়িয়ে ছিল। তার কিশোর সুলভ পুরুষত্ব তাকে কেবলি ধিক্কার দিতে লাগল–সবাইকে ছেড়ে কেমন করে সে দয়া চাইতে গিয়েছিল।

    পদ্মিনীকে ছেড়ে সে ভিড়ের মধ্যে ঢুকল। সকলেই খুব মারমুখী হয়ে উঠেছে। তারা জলদি ফয়সালা আর নোটিশ উঠিয়ে নেওয়ার কথাই বারবার চেঁচিয়ে বলতে লাগল। দু-একজনের হাতে ঝাঁটা লাঠিও উঠেছে।

    লাল্লু দেখল লেবার অফিসে তালা পড়েছে। বাবুটা ভেগে গেছে। মানিজারটাও চলে যাচ্ছে।

    -তোমরা শান্ত হও। আঞ্জুমানের লিডর লোক ধমকাতে লাগল।

    বড় তাজ্জব লাগে লাল্লুর। কেমন করে শান্ত হব আমরা? কেমন করে? কাঁদব না, চেঁচাব না তো কারা কাঁদবে চেঁচাবে? মিসিপালটির চারমান আঞ্জুমানের লিডর তো আর অলগুর ব্যাটা লাল্লুর হাল জানে না! ওর লেড়কিটা আমার বোন লীলার গায়ে থুথু দেয় কাছে গেলে, আর দোতলার উপর থেকে ওরা শান্ত হতে বললে কেন শুনব আমরা।….কিন্তু ওরা হুকুমতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, আলুগুদামের খবর রাখে, ওরা লিখে পড়ে একটা বুঝ সময় ফয়সালা করতে পারে না কি।

    কিন্তু আর সকলের মতো তারও সংশয় ও সন্দেহ। প্রাণ-খুলে বিশ্বাস করতে পারে না। আচমকা তাদের পথের মাঝে দেখা দেওয়া এ সব বাবুসাহেব লিডরদের তারা বোঝে না, চিরকাল এড়িয়ে চলা তাদের অভ্যাস। তাদের নির্মম নিষ্ঠুর দরিদ্র দুখীজীবনে এরা বিপদই এনে দেয়। তাই যে কোনও ভাল বাবুলোককেও দূরে সরিয়ে রাখে ওরা।

    কোনও রকমেই যখন মাথা গরম অওরতগুলো ঠাণ্ডা হল না, তখন লিডররা একটা সভা ডাকল মিলের লাইন ময়দানে।…কিন্তু সেখানে মাগিগুলো আরও গোলমাল করতে লাগল।

    লাল্লু ওর দু-চার জন দোস্তের সঙ্গে বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে গালাগালি আর হাসাহাসি করতে লাগল। অর্থাৎ তাদের কাছে অত্যন্ত অর্থহীন আর ফালতু লাগছিল এ সভাটা। লাল্লুর সময়বয়সি দোস্ত কাটা মোটামত রামু নিজের শুকনো কপালটা ঘাম ঝাড়ার মতো হাত দিয়ে ঝাড়তে লাগল, খক খক করে কাশতে লাগল, গাল দুটো ফুলিয়ে চোখ দুটো বড় করে হাঁফাতে হাঁফাতে পেটটা আলগা করে কাপড়টা টেনে টেনে বুকে তুলতে লাগল আর কুঁজো হয়ে হায় রাম হায় করে উঠল।

    অর্থাৎ মিসিপালটির চারমান আঞ্জুমানের লিডরটাকে অনুকরণ করে ভ্যাংচাচ্ছে সে। ব্যাপার দেখে দোস্তরা হাসিতে ফেটে পড়ল সবাই। রামুর খুব রাগ লোকটার উপর। লোকটা যেহেতু জানত কোন ছোকরাটা তাকে ভ্যাংচায় সে হেতু একদিন তাকে অনেক লোকের সামনে একটু ঝুটা বদনাম দিয়ে বড় রাস্তায় নাকে খত দিইয়েছিল।

    এদিকে সভাতে গোলমাল বাড়তেই লাগল। ভুজাওয়ালির নাতনি খাড়া হয়ে উঠে বলল, তবে কি হুকুমত কালা? তারা কি ছাঁটাইয়ের কথা জানে না। কার কাছে তোমরা আর্জি পেশ করবে?…

    সভা ভেঙে গেল। সকলেই চেঁচামেচি করতে লাগল। আমরা শুনতে চাই না। জোর করে কাজ চালাব আমরা।

    সরকারি ঝাণ্ডা উঁচু করে ওরা চেঁচাতে লাগল তোমরা শান্ত হও।

    কেউ শান্ত হল না।

    সে হোটেলের দিকে এগিয়ে চলল।

    লীলা দরজার কাছ থেকে ছুটে এসে লাল্লুর হাত ধরল। কিন্তু লাল্লুর গুম খাওয়া ক্রুদ্ধ আর শুকনো মুখটা দেখে চট করে কিছু বলতে পারল না।

    লাল্লু চেঁচিয়ে বলল: একটা চা দাও গো মাসি। হোটেলওয়ালিকে সে মাসি বলে। কিন্তু অন্যান্য দিনের মতো সিনেমায় চা বিক্রি করতে যাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি করল না সে। লীলার সঙ্গে একটা কথাও বলল না।

    লীলা নিজেই ছুটে গিয়ে হোটেলওয়ালির কাছ থেকে চা নিয়ে এসে দাদাকে দিল। অনেকদিন বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ করে লাল্লু এরকম গুম খেয়ে এসে বসেছে তাই লীলা ব্যাপারটাকে তেমন কিছু মনে করল না। পাশে বসে তার সারাদিনের কথা বকে যেতে লাগল সে। শেষে লাল্লুর ঘাড়ে হাত দিয়ে বলল: একটা কিতাব কিনে দেবে আমাকে আমি পড়তে শিখব।

    আর একটু হলেই ঠাস করে একটা চড় মেরে বসত লাল্লু লীলাকে। কিন্তু খুব জোর চেপে গেল নিজেকে। একবার শুধু চেয়ে দেখল লীলাকে।

    লীলার মনে পড়ল তার বাবার কথা। কোনও গোলমাল বিপদের সময় তার বাবা ঠিক এমনি চিন্তিত আর ক্রুদ্ধ হয়ে বসে থাকত। মনে হল দাদা যেন ঠিক বাবা হয়ে গেছে।

    –নোকরিটা চলে গেলে কী করবি? হঠাৎ লাল্লু লীলাকে জিজ্ঞেস করে।

    শিশু হলেও এর মধ্যেই লীলা অনেক কিছু বুঝতে শিখেছে। দাদার কথায় ঘাবড়ে গেল সে। নোকরি কেন যাবে?

    শালারা ছাঁটাই করবে। বলেই স্তব্ধ পাথর হয়ে গেল আবার লাল্লু।

    লীলা আতঙ্কে চোখ দুটো বড় বড় করে দাদার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল অনেকক্ষণ, পরে দাদার শুকনো গালে হাত দিয়ে বলল সে; তবে কী হবে? মাসি আমাদের তাড়িয়ে দেবে?

    কিশোর লাল্লু মনে মনে যেন সত্যি লীলার বাপ হয়ে উঠল। চোখে জল আসতে চাইল তার বোনটার কথা শুনে। শুধু ঘাড় নেড়ে জানাল হাঁ।

    তারপরে লীলা যেন দাদার মনের কথা বুঝতে পেরেছে এমনিভাবে বলল, তা হলে…আমাদের ভিখ মেগে খেতে হবে না?..পরমুহূর্তেই এটাকেই স্থির সিদ্ধান্ত করে নিয়ে লাল্লুর হাঁটুতে হাত রেখে বলল সে, কিন্তু রঘুনাথের দোকানে কোনওদিন ভিখ আনতে যাবে না। রোজ দেখি, ভিখ মাগতে গেলে ও বড় মারে।…।

    না–! চেঁচিয়ে উঠল লাল্লু বোনের মুখের উপর। বিষ খাওয়ার মত বিকৃত দেখাল তার মুখটা আর চোখের কোণে দু ফোঁটা জল। মুঠি পাকিয়ে ফিস ফিস করে আপন মনে বলল সে; আমরা লড়াই। করব, হাঁ লড়াই!…।

    তারপর শুকনো ঠোঁটের কোণে একটা বিড়ি চেপে ধরে জ্বালিয়ে খক খক করে কাশতে লাগল সে।

    লড়াই কথাটা শুনে ঘাবড়ে গেল লীলা। লড়াই আবার কীসের আর কার সঙ্গে? ক্রমাগত দাদার ভাবভঙ্গি দেখে ওর ছোট্ট বুকটা দুশ্চিন্তায় ভারী হয়ে উঠল।

    বাইরে একটা মোটা গম্ভীর গলা ভেসে বেড়াচ্ছে। লাল্লু বুঝল ওটা একটা হাওয়াগাড়ির ভিতর থেকে যন্ত্র দিয়ে একটা লোক বলছে। প্রত্যেকবার ছাঁটাই গোলমাল হলে ওরা সবাইকে শান্ত হতে বলে, ঘরে ফিরে যেতে বলে। বলে, তোমাদের কিছু করতে হবে না, আমরা সব দেখছি। লাল্লু হোটেলের আলো আঁধারির কোণে বসে বিড়বিড় করে গালাগাল দিতে থাকে। যত সেই মোটা গলায় বলতে থাকে শান্ত হও, শান্ত হও, তত তার বুকের মধ্যে যেন একটা ক্ষিপ্ত অজগর পাকিয়ে পাকিয়ে গর্জাতে থাকে। যতবার সে আশা করে এবার বন্ধ হবে, ততবার সেই যন্ত্র যেন তাকে দাবিয়ে দিয়ে তাকে শান্ত হতে বলছে।

    একবার লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল সে। কিন্তু আবার বসে পড়ল।

    কিন্তু যন্ত্র একই ভাবে উপদেশ দিয়ে চলেছে, মাথা গরম কোরো না, কারখানায় গোলমাল করলে দেশের ক্ষতি হবে।…শান্ত হও!….

    এবার স্থির হয়ে উঠে এসে লাল্লু হোটেলের বাইরে দাঁড়াল। খানিকটা দূরেই সেই মোটরটাকে দেখে গালাগাল দিতে লাগল সে।…লীলা তার পাশে দাঁড়িয়ে গাড়িটাকে দেখতে লাগল।

    কিন্তু যন্ত্রের গলা থামল না…শান্ত হও।

    আবার একবার চুপচাপ হোটেলে ঢুকে যাবে ভেবে হঠাৎ সে রাস্তার পাশ থেকে ভাঙা থান ইট তুলে গাড়িটার মাথার যন্ত্রটায় ঝটপট মারতে শুরু করল।

    ভাইয়া ভাইয়া হো একী করছ?

    কিন্তু বুকের মধ্যে একটা অবোধ রাগে আর দুঃখে তখন খ্যাপা পাগল হয়ে উঠেছে লাল্লু। সে অস্থিরভাবে হাতের কাছে যা পেল তাই ছুঁড়ে মারতেই লাগল, আর মুখে শব্দ হতে লাগল চুপ কর, বলছি। বক্তৃতা অনেকক্ষণ বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সে দেখতে শুনতে চাইল না কিছু। দেখল না কারা আসছে তার দিকে। তারপর মাথায় একটা প্রচণ্ড আঘাত খেয়ে হোটেলের নর্দমার ধারে উপুড় হয়ে পড়ে গেল সে।

    লীলা চেঁচিয়ে উঠে দাদাকে জড়িয়ে ধরল। লাল্লুর শরীরটা তখন থর থর কাঁপছে। মুঠি পাকানো হাতটাকে মাটিতে ঘসে ঘসে তখনও রক্তাক্ত শুকনো ঠোঁটদুটোর ফাঁকে ফিস ফিস করে বলছে সে, চুপ কর, চুপ কর। আর শুনতে পেল তার বোনটা ঠিক তেমনি মিনতি করে বলছে; কত বলেছি, কারুর সঙ্গে তুমি ঝগড়া কোরো না দুষ্টোমি কোরো না।

    তারপর সমবেত উত্তেজিত লোক আর পাগড়িবাঁধা পুলিশগুলোর দিকে তাকিয়ে ঠিক তার মায়ের মতো পাকা গিন্নির মতো বলল, এখন আমি কী করি।…

    ⤶
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমনোমুকুর – সমরেশ বসু
    Next Article ফুলবর্ষিয়া – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Our Picks

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }