Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাঙালীর ইতিহাস (আদিপর্ব) – নীহাররঞ্জন রায়

    নীহাররঞ্জন রায় এক পাতা গল্প1452 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৯. বৌদ্ধধর্মের অবশেষ

    ৯. বৌদ্ধধর্মের অবশেষ

    সেন রাজবংশের অবশেষ যখন পূর্ববঙ্গে অধিষ্ঠিত তখনও বৌদ্ধধর্ম একেবারে নিশ্চিহ্ন হইয়া বিলুপ্ত হইয়া যায় নাই। ১২২০ খ্রীষ্ট শতকের পট্টিকের-রাজ্যাধিপ মহারাজ রণবঙ্কল্ল-হরিকালদেবের রাজত্বকালে তাঁহার সহজধর্মী প্রধানমন্ত্রী দুর্গোত্তারার এক মন্দির প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। মাধবকরের নিদানের মধুকোষ নামীয় টীকার রচয়িতা বিজয়রক্ষিতের উপাধি ছিল আরোগ্যশালীয়। আরোগ্যশালী ছিল বুদ্ধদেব এবং অবলোকিতেশ্বরের অন্যতম উপাধি; সেই হিসাবে বিজয়-রক্ষিতের বৌদ্ধ হওয়া বিচিত্র নয়। বিজয়-রক্ষিতের কাল ত্রয়োদশ শতকের দ্বিতীয় পাদ। ইহার কিছুকাল পরই বিশ্রুতকীর্তি গৌড়ীয় কবিভারতী রামচন্দ্রের আবির্ভাব। শ্রুতি, স্মৃতি, আগম, জ্যোতিষ, তর্ক, ব্যাকরণ প্রভৃতিতে সুপণ্ডিত রামচন্দ্র ক্রমে বৌদ্ধধর্মের প্রতি অনুরক্ত হন এবং তাহার ফলে নিগৃহীত ও অপমানিত হইয়া দেশত্যাগ করিতে বাধ্য হন। ১২৪৫ খ্রীষ্ট শতকের কিছু আগে তিনি সিংহলে চলিয়া যান এবং সেইখানেই বাকী জীবনযাপন করেন। এই সিংহলে তাঁহার পাণ্ডিত্য ও সাধুতার খ্যাতি চারিদিকে ছড়াইয়া পড়ে এবং সমসাময়িক সিংহলরাজ পরাক্রমবাহু তাঁহাকে গুরুরূপে বরণ করিয়া বৌদ্ধাগমচক্রবর্তী উপাধিতে সম্মানিত করেন। ১২৪৫ খ্রীষ্টাব্দে তিনি বৃত্তরত্নাকরের একটি টীকা (বৃত্তরত্নাকর-পঞ্জিকা) রচনা করেন। ১২৮৯ খ্রীষ্ট শতকের অনুলিখিত পঞ্চরক্ষার একটি পাণ্ডুলিপিতে গৌড়েশ্বর পরমরাজাধিরাজ মধুসেন নামে এক নরপতির উল্লেখ আছে। এই মধুসেন কোন বংশোদ্ভব বা তাঁহার রাজত্ব কোথায় ছিল বলা কঠিন, কিন্তু এ তথ্য নিঃসংশয় যে, তিনি ছিলেন পরমসৌগত বা বৌদ্ধ। সন্নগর বা বড়নগরীর অধিবাসী মহাপণ্ডিত সিদ্ধেশ্বর বনরত্নও (১৩৮৪-১৪৬৮) বাঙালী ছিলেন কিনা বলা কঠিন। বনরত্ন নেপালের ললিতপত্তনের গোবিন্দচন্দ্র মহাবিহারে জীবনের অধিকাংশ সময় কাটাইয়াছিলেন এবং সেখানে বসিয়া অনেক বৌদ্ধ-তন্ত্রগ্রন্থ, স্তোত্র এবং টীকা প্রভৃতি রচনা করিয়াছিলেন, অনেক গ্রন্থের তিব্বতী অনুবাদও করিয়াছিলেন। বনরত্ন কিছুকাল শ্রীজগুল মহাবিহারেও ছিলেন। কিন্তু সন্নগর বা শ্রীজগুল যে কোথায় নিঃসংশয়ে তাহা বলা কঠিন। ১৪৩৬ খ্রীষ্ট শতকে জনৈক সদ্বৌদ্ধ করণ-কায়স্থ ঠকুর শ্রীঅমিতাভ বেণুগ্রামে বসিয়া সমসাময়িক বাঙলা অক্ষরে (শান্তিদেব রচিত) বোধিচর্যাবতার-পুঁথিটি নকল করিয়াছিলেন। পঞ্চদশ শতকেও তাহা হইলে বাঙলাদেশে ইতস্তত দুই চারিজন বৌদ্ধ ছিলেন এবং শান্তিদেবের পুঁথির চাহিদাও ছিল। তারনাথ বলিতেছেন, এই শতকেরই দ্বিতীয়পাদে ছগল বা চঙ্গলরাজ নামে জনৈক বাঙালী নরপতি রানীর প্রভাবে পড়িয়া বৌদ্ধ হইয়া বুদ্ধগয়ার মঠগুলি সংস্কার সাধন করিয়াছিলেন। এ-তথ্য কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য বলা কঠিন। এই শতকে যে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কিছু লোক নবদ্বীপ অঞ্চলে বাস করিতেন, তাহার কিছু প্রমাণ পাওয়া যায় জনৈক চূড়ামণি দাস লিখিত একখানা চৈতন্য-চরিতে এবং বৃন্দাবন দাসের চৈতনা-ভাগবতে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় বলিতেছেন, চূড়ামণিদাসের চৈতন্য-চরিতে নাকি চৈতন্যের জন্ম হওয়ায় বৌদ্ধদেরও উৎফুল্ল হইবার কথা লেখা আছে! কিন্তু বৌদ্ধরা উৎফুল্ল কেন হইয়াছিলেন, জানি না; বৃন্দাবন দাসের চৈতন্য ভাগবতের উক্তি সত্য হইলে স্বীকার করিতে হয়, বৌদ্ধদের প্রতি গৌড়ীয় বৈষ্ণবরা অত্যন্ত বিদ্বিষ্টই ছিলেন। অবধৃত নিত্যানন্দের তীর্থভ্রমণ উপলক্ষে প্রভু যে সকল বৌদ্ধ দেখিয়াছিলেন, তাঁহাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হই প্রভু লাথি মারিলেন শিরে’। যে চূড়ান্ত অবমাননাটুকু বাকি ছিল এইবার তাহা হইল! লাথি মারা সত্য সত্যই হউক বা না হউক, মনোভাবটা এইরূপই ছিল। মহাপ্রভুর দাক্ষিণাত্য ভ্রমণকালে ত্রিপতি (তিরুপতি) ও বেঙ্কটগিরিতে যে-সব বৌদ্ধদের সঙ্গে তাঁহার সাক্ষাৎলাভ ঘটিয়াছিল তাঁহাদের কথা বলিতে গিয়া বৃদ্ধ কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাঁহার চৈতন্য-চরিতামৃতে সেই সব বৌদ্ধদের সঙ্গে এক পর্যায়ে উল্লেখ করিয়াছেন। এইরূপ উল্লেখ গৌড়ীয় বৈষ্ণব-সাহিত্যের অন্যত্রও আছে। বস্তুত, যুগমনোভাবটাই ছিল এইরূপ। কবি কর্ণপুরও চৈতন্য-চন্দ্রোদয় নাটকে দাক্ষিণাত্যের বৌদ্ধদিগকে পাষণ্ডী বলিয়াই উল্লেখ করিয়াছেন। কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে বুদ্ধাবতার বর্ণনা প্রসঙ্গে বলিয়াছেন, ‘ধরিয়া পাষণ্ড মত, নিন্দা করি বেদপথ, বৌদ্ধরূপী লেখে নারায়ণ’। বেশ বুঝা যাইতেছে, পঞ্চদশ শতক নাগাদ বাঙলাদেশে বৌদ্ধ ধর্ম ও সম্প্রদায় প্রায় নিশ্চিহ্নই হইয়া গিয়াছিল; দুই-চারিজন যাঁহারা তখনও এই ধর্ম আঁকড়াইয়া ছিলেন, ব্রাহ্মণ্যধর্মাবলম্বীরা তাঁহাদের খুব নিচুস্তরের জীব বলিয়াই মনে করিতেন।

    বস্তুত, বৌদ্ধধর্ম তাহার স্ব-স্বতন্ত্র রূপে আর বাঙলাদেশে বাঁচিয়া নাই। কিন্তু আগেই বলিয়াছি, বজ্রযান-মন্ত্রযান কালচক্রযান-সহজযান বৌদ্ধধর্ম যথার্থত বহুদিন বাঁচিয়া ছিল সহজিয়া বৈষ্ণব ধর্মে, নাথপন্থী ধর্মে, অবধৃতমার্গীদের ধ্যান ধারণায় ও অভ্যাসে, কৌলমাগীদের ধর্মে ও ধ্যান-ধারণায় এবং আজও বহুলাংশে বাঁচিয়া আছে আউল-বাউল সম্প্রদায়ের মধ্যে। নাথপন্থীরা নিজেদের ক্রমে ব্রাহ্মণ্য তান্ত্রিক শৈবধর্মে আত্মবিলীন করিয়া দিয়াছেন; সহজিয়া তান্ত্রিক বৈষ্ণবধর্ম আজও কিছু কিছু বাঁচিয়া আছে এখানে সেখানে আনাচে কানাচে এবং বঙ্গীয় কবিকুলের ধ্যান-কল্পনায়; অবধূতমার্গীদের কিছু কিছু আচরণ বাঙলার লোকায়ত সমাজের সন্ন্যাসচরণের মধ্যে এখনও লক্ষ্য করা যায় ( যেমন, চড়কের গাজন-সন্ন্যাসের মধ্যে); কৌলমার্গীরা আত্মবিলীন হইয়াছেন ব্রাহ্মণ্য শাক্তধর্মে।

    আর, বৌদ্ধধর্মের কথঞ্চিৎ অবশেষ যে লুকাইয়া আছে বাঙলার ও বাঙালীর কিছু কিছু স্থান-নাম ও লোক-নামের মধ্যে, তাহা আচার্য সুনীতিকুমার সপ্রমাণ করিতে চেষ্টা করিয়াছেন। ‘বুদ্ধ’ চলিত বাঙলার ‘বুদ্ধ’তে রূপান্তরিত এবং ‘বুদ্ধ’ বলিতে আমরা বোকা বা মূর্খই বুঝি বাঙলা রূপকথার বুন্ধুভূতুম’ আমাদের মনেরই পরিচয়! ‘সংঘ’ বর্তমান বাঙলার ‘সাঙ্গাত’ বা হিন্দী সংঘত (অর্থ, ঘনিষ্ঠ বন্ধু) বা সংঘাতী বা সংঘতিতে রূপান্তরিত। ‘ধর্ম’ কথাটির অর্থরূপান্তর ঘটিয়াছে প্রচুর; কিন্তু বর্তমান বাঙলার ধামরাই (ঢাকা জেলা), পাঁচথুপী, বাজাসন, নবাসন, উয়ারী প্রভৃতি স্থান-নাম যথাক্রমে প্রাচীন ধর্মরথ, পঞ্চস্তূপী, বজ্রাসন, নবাসন, উপকারিকা (= সুসজ্জিত অস্থায়ী মণ্ডপ) প্রভৃতি বৌদ্ধ স্মৃতিবহ (বার শব্দটি ফার্সী, অর্থ দেশ, দেয়াল, মণ্ডপ, প্রাচীনতর উয়ারী বা উপকারিকা শব্দের সঙ্গে যুক্ত হইয়া বারোয়ারী)। নেড়ানেড়ী কথাটিও ইসলামোত্তর বাঙলায় প্রথমত বৌদ্ধ ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদেরই বুঝাইত; আর বৈষ্ণবে ‘ভেক্’ কথাটি এখন আমরা বিদ্রুপার্থে ব্যবহার করিলেও মূলত বৌদ্ধ ‘ভিক্ষু’ শব্দেরই ভ্রষ্ট রূপ। বাঙালীর পালিত, ধর, রক্ষিত, কর, ভূতি, গুঁই, দাম বা দাঁ, পান বা পাইন প্রভৃতি অন্ত্যনামও বোধ হয় বৌদ্ধস্মৃতিবহ, যেমন চন্দ, চন্দ্র, আদিত্য প্রভৃতি ব্রাহ্মণ্যস্মৃতিবহ।

    আজিকার বাঙালীর হিন্দুধর্মে তান্ত্রিকধর্মের টানাপোড়েন কী করিয়া বিস্তৃত হইয়াছে তাহার কিছু আভাস আগে দিতে চেষ্টা করিয়াছি। বৌদ্ধ বজ্রযান-মন্ত্রযান কালচক্রযান-সহজযান এবং নাথযোগধর্ম, অবধূতমার্গ, কাপালিকমার্গ ও বাউল ধর্মের সঙ্গে তাহার সম্বন্ধ কোথায়, তাহারও ইঙ্গিত রাখিতে চেষ্টা করিয়াছি। এ সম্বন্ধে আচার্য সুনীতিকুমারের নিম্নোদ্ধৃত মন্তব্য গভীর অর্থবহ ও ইঙ্গিতময়।

    The present day Tantric leaven in Bengal Hinduism.largely came to it via the Buddhistic Kalacakrayana, the Vajrayana and the Sahajayana school of Tantrayana. One matter in which there has been a very subtle influence from Tantric Buddhism upon Bengal Brahmanism would seem to be this: the rather exaggerated importance of the guru from whom Tantric initiation is received. The Brahmana has his proper Vedic initiation when he is invested with the sacred thread by the upanayana rite; theoretically he does not require any other initiation. But, in practice, all good Hindus in Bengal should have a guru who will give him the mantra… and the guru becomes almost as a god to him after his initiation. This mentality has become so throughly ingrained in the Bengali mind… Now, the guru has always had an honoured place in Brahamana society; but he was never an object of divine honours in Vedism. Whereas, as we see in Nepal where the Tantric Buddhism as in Bengal of the 10th-13th. centuries still survives among the Newars, although the strong Saiva or Sakta cult of the Gurkhas has been profoundly modfiying it, a Buddhist is known as a Gubhaju or a ‘Guru-worshiper’, and a Brahmanical Hindu as a Debhaju or a ‘Deva worshipper’.

    শেষ কথা

    আদিপর্বের শেষ অধ্যায়ে সর্বত্র স্মার্ত ও পৌরাণিক ব্রাহ্মণ্য ধর্মেরই জয়জয়কার। লোকস্তরে লোকায়ত ধর্মের প্রবাহ সদাবহমান, সন্দেহ নাই; কিন্তু উচ্চ ও মধ্যকোটি স্তরে, ব্রাহ্মণ্য বর্ণসমাজবদ্ধ স্তরে সুবিস্তৃত পৌরাণিক দেবায়তনের অসংখ্য দেবদেবীদেরই অপ্রতিহত প্রভাব। স্মৃতিশাসিত বর্ণসমাজ সেই প্রভাবকে আরও সংহত ও সমৃদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। বৈদিক যাগযজ্ঞের এবং ধ্যান-কল্পনার কিছুটা প্রভাব যে নাই, এমন নয়, কিন্তু তাহা একান্তই কতকগুলি এবং ব্রাহ্মণ বংশে সীমাবদ্ধ। বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব বিলীয়মান; যেটুকু আছে তাহা গোষ্ঠীগত বিহারে সংঘারামে অথবা ছোট ছোট কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ। তাহার সমস্ত সাধনপন্থাটাই গুহ্য এবং দেহযোগাশ্রয়ী। ব্রাহ্মণ্য শৈব এবং শক্তিধর্মও তান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা ও অভ্যাসাচরণ দ্বারা সৃষ্ট। বস্তুত, জ্যোতিষ-আগম নিগম-তন্ত্রবিধৃত ধ্যান-ধারণা-কল্পনাই এই যুগের প্রধান মানসাশ্রয়। তিথি-গ্রহ-নক্ষত্র বিচার করিয়া স্নানাহার, বিভিন্ন তিথি-নক্ষত্রোপলক্ষে তীর্থস্থান, দান, পূজা, হোম, যজ্ঞ, ব্রতাচরণ, এই সব তো ছিলই; তাহারই সঙ্গে সঙ্গে পাশে পাশে ছিল নানা ভয়-বিশ্বাসের লৌকিক দেবদেবীর পূজা, প্রতীকের পূজা, ব্রতোৎসব, পার্বণ নানা প্রকারের যাত্রা, উৎসব, ইত্যাদি। দেবদেবী, ভয়-বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠানের যেমন বিচিত্র স্তর, ধ্যান-ধারণারও তেমনই বিচিত্র স্তরে। এক প্রান্তে এক এবং অদ্বিতীয় পরম ব্রহ্মের ধ্যান, আর এক প্রান্তে গাছ-পাথর-সাপ-কুমিরের ধ্যানে বিশ্বাস; এক প্রান্তে দেহকে অস্বীকার করিয়া তাহাকে নিপীড়িত করিয়া একমাত্র আত্মার শক্তি ও মহিমা প্রচার আর এক প্রান্তে একান্ত দেহগত সাধনারই জয়জয়কার, দেহযোগের শক্তি ও মহিমা প্রচার, দেহের বাহিরে আত্মার কোনো অস্তিত্ব একেবারে অস্বীকার : এক প্রান্তে বেদের অপৌরুষেয়ত্বে এবং অমোঘত্বে বিশ্বাস, আর এক প্রান্তে বেদ-বেদাঙ্গ একেবারে অগ্রাহ্য; এক প্রান্তে সমস্ত পূজাচার, সমস্ত অনুষ্ঠান, সমস্ত তপশ্চর্যা ও কৃচ্ছসাধনে অকুণ্ঠ বিশ্বাস, আর এক প্রান্তে একান্ত অস্বীকৃতি ও বিদ্রূপ এবং বস্তুপ্রকৃতির জয় ঘোষণা; এক প্রান্তে বেদ-স্মৃতি পুরাণ, আর এক প্রান্তে প্রাগৈতিহাসিক আদিম মানবমনের ধ্যান কল্পনা। মাঝখানে বিচিত্র জীবনোপায় লইয়া বিচিত্রতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্তর। প্রত্যেকটি স্তরের অসংখ্য লোকের চিত্তে ও আচরণে সদ্যোক্ত ধ্যান ও ধারণাসমূহের বিচিত্র স্তরের অদ্ভুত জটিল বুনট।

    সংযোজন

    গত পঁচিশ বছরের ভেতর প্রাচীন বাঙলার নানা জায়গা থেকে মৎশিল্পের প্রচুর ফলক (তাম্রলিপ্ত, চন্দ্রকেতুগড়, ময়নামতী), প্রচুর প্রস্তর ও ধাতব মূর্তি ও প্রতিমা এবং বেশ কিছু শিলালিপি ও তাম্রপট্ট আবিষ্কৃত (প্রধানত ও ময়নামতী থেকে) হয়েছে; এখনও মাঝে মাঝেই হচ্ছে (যেমন, মেদিনীপুর জেলায় এগরা গ্রামে গৌড়েশ্বর শশাঙ্কের রাজত্বকালীন একটি তাম্রশাসন)। কিন্তু তার ফলে সংশোধনের বা নূতন সংযোজনের প্রয়োজন হতে পারে এমন তথ্যের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তাম্রশাসন ও শিলালেখগুলি থেকে যে-সব নূতন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা যথাস্থানে সংযোজন করা হয়েছে; এই অধ্যায়েও তেমন দু-একটি তথ্য আছে। অধিকাংশ মূর্তি ও প্রতিমায় ধর্মকর্মের, ধ্যান-ধারণার ও প্রতিমালক্ষণের যে-পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে তা প্রায় সবই পূর্বজ্ঞাত তথ্যেরই পুনরুক্তি। তবু, নবাবিষ্কৃত প্রত্নবস্তুগুলির ভেতর, বিশেষভাবে মৃৎশিল্পনিদর্শনগুলির ভেতর, কিছু কিছু প্রতিমাশিল্প ও স্থাপতানিদর্শনগুলির ভেতর, ধর্মকর্ম ও ধ্যানধারণাগত নূতন তথ্য কিছু কিছু পাওয়া যাচ্ছে। সংযোজন প্রসঙ্গে মাত্র সে-সব তথ্যগুলিরই উল্লেখ করা যেতে পারে।

    প্রাক আর্যব্রাহ্মণ্য লোকায়ত ধর্মকর্ম

    চন্দ্রকেতুগড়ে প্রতোৎখনন ও অনুসন্ধানের ফলে প্রচুর মৃৎশিল্পনিদর্শন আবিষ্কারের ভেতর পোড়ামাটির তৈরী বেশ কিছু ফলক (১ থেকে ২ ইঞ্চি) পাওয়া গেছে যার বিষয়বস্তু হচ্ছে নানা ভঙ্গিতে নরনারীর সুস্পষ্ট মৈথুন (মিথুনমাত্র নয়) ক্রিয়া। এত বেশি সংখ্যায় না হলেও তাম্রলিপ্ত থেকেও এ-ধরনের ছোট ছোট মৈথুন ফলক কিছু কিছু পাওয়া গেছে। শিল্পরূপ দেখে মনে হয়, খৃষ্টীয় দ্বিতীয় তৃতীয় থেকে চতুর্থ-পঞ্চম শতক পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গের সামুদ্রিক বন্দরগুলিতে এই ধরনের ফলকের বেশ একটা চাহিদা ছিল। কেন ছিল কী ছিল এগুলির উদ্দেশ্য ও ব্যবহার, সমাজের কোন্ স্তরে ছিল এগুলির প্রচলন, এ-সব প্রশ্নের কোনও সঠিক উত্তরই দেবার উপায় আজও নেই। তবে, আমার ধারণা, ঠিক পূজার জন্য বা ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত না হলেও প্রজনন-ক্রিয়ার প্রত্যক্ষ রূপ হিসেবে এ ধরনের ফলকের একটা মাঙ্গলিক প্রতীকত্ব ছিল এবং লোকেরা অন্যান্য মাঙ্গলিক-চিহ্নের মতো মৈথুন-ফলকও ঘরে রাখতেন। এই চন্দ্রকেতুগড় থেকেই বেশ কয়েকটি ফলক (৩ থেকে ৫ ইঞ্চি প্রমাণ) পাওয়া গেছে যাতে চিত্রিত হয়েছে কিঞ্চিৎ লীলায়িত ভঙ্গিতে দণ্ডায়মানা একটি নারীমূর্তি; তার ডান হাত থেকে ঝুলছে একটি মাছ। এই জাতীয় ফলক যে দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো তা ফলকগুলির মাথায় বা পেছনে উপরের দিকে এক বা একাধিক ছিদ্র থেকেই অনুমান করা যায়। শিল্পরূপ সাক্ষ্যে মনে হয়, এই ফলকগুলিরও তারিখ তৃতীয় থেকে পঞ্চম শতকের ভেতর। মাছ যে প্রজনন-শক্তির প্রতীক এ-তথ্য তো সুপরিজ্ঞাত; সেই হিসেবেই লোকেরা এই ধরনের ফলক ঘরে রাখতো। তাতে প্রতীক মাঙ্গলিক চিহ্নে গৃহ অর্থযুক্ত হতো, ঘর সাজানোও হতো।

    চন্দ্রকেতুগড় থেকে অনেক ছোট ছোট (৩ থেকে ৫/৬ ইঞ্চি) পোড়ামাটির তৈরী ছেলেমেয়েদের খেলনার রথ পাওয়া গেছে। প্রত্যেকটি রথেই কোনও না কোনও দেবতা (হয অগ্নি, না হয় ইন্দ্র, না হয় কুবের) একটি আসনে আসীন। একটি আসন বিধৃত হয়ে আছে মুখোমুখি দণ্ডায়মান দুটি ভেড়ার মাথার উপর, আর একটি ডানা যুক্ত এক হাতির মাথার উপর। এই চক্রযুক্ত খেলনা-রথগুলির আকৃতি ছোট, কিন্তু এগুলির শিল্পরূপ বৃহদাকৃতির, শিল্পায়তনের ওজন ও বিস্তার বড় বড় রথের। আমার দৃঢ় ধারণা, এই খেলনা-রথগুলি তৈরী হয়েছিল ছেলেমেয়েদের জনাই, কিন্তু বৃহদায়তন সুবৃহৎ চক্রবাহিত, রথগুলির অনুকরণে, যেমন আজও করা হয় শহরে, গ্রামে, পুরীর জগন্নাথের রথযাত্রার দিনে, ছেলেমেয়েদের আনন্দ-বিধানের জন্য। আর, রথযাত্রা যে প্রাক-আর্যব্রাহ্মণ্য ধর্মকর্ম-ধ্যান-ধারণার অন্যতম একটি অনুষ্ঠান, একথা আজ আর অস্বীকার করা যায় না।

    জৈনধর্ম

    মূলগ্রন্থেই বলা হয়েছে, জৈনধর্মই বাঙলার আদিতম আর্য-ধর্ম। কিন্তু পাহাড়পুর পট্রোলী-উল্লিখিত (৪৭৮ খ্রীষ্টাব্দ) বটগোহালী বা গোয়ালভিটার জৈন-বিহারের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আবিষ্কৃত ছোট একটি জিন-প্রতিমা ছাড়া আর কোথাও এমন কোনও প্রত্নচিহ্ন পাওয়া যায়নি যাকে খ্রীষ্টীয় পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকের আগে কাল-চিহ্নিত করা যেতে পারে। অন্তত তেমন কোনও প্রমাণ আমার জানা নেই। পাহাড়পুরের জিন-প্রতিমাটি বহুকাল অন্তর্হিত; আমি তার ছবিও কোথাও দেখিনি। তবে, সাত-আট বৎসর আগে চন্দ্রকেতুগড়ের ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে আহৃত, পাথরে তৈরী, মুগুহীন, ভগ্নপদ, শ্রীবৎসলাঞ্ছন-চিহ্নিত, কারোৎসর্গ ভঙ্গিতে দণ্ডায়মান, একান্ত নগ্ন ছোট একটি জিনমূর্তি পাওয়া গেছে। ছবিতে যতটা ধরা যায় দেখে মনে হয়, প্রতিমাটি পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকে কোনও সময়ে তৈরী হয়েছিল, অর্থাৎ গুপ্তপর্বে। যদি এই অনুমান সত্য হয়, তাহলে এই প্রতিমাটিই প্রাচীন বাঙলার আদিতম জৈন-প্রতিমা যা আজও লোকচক্ষুগোচর।

    বেশ কয়েক শতাব্দী পর, মোটামুটি নবম থেকে একাদশ শতকের মধ্যে বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া অঞ্চলে জৈনধর্ম সুপ্রচলিত ছিল এবং এই ধর্ম বহুলোকের মানসাশ্রয় ছিল, এমন অনুমানের সমর্থনে প্রচুর প্রতিমা ও কিছু কিছু মন্দিরসাক্ষ্য বিদ্যমান। তেমন কয়েকটি প্রতিমা ও মন্দিরের ফটো-প্রতিলিপি এ-গ্রন্থের চিত্র-সংগ্রহে দেখতে পাওয়া যাবে। আসানসোলের কাছে দোমহানী – কেলেজোরায় প্রাপ্ত ব্রোঞ্জ ধাতু নির্মিত নবম শতকীয় একটি অতি মনোরম ঋষভনাথের কায়োৎসর্গ ভঙ্গিতে দণ্ডায়মান প্রতিমা পুরুলিয়া জেলার পাকবিড়রা গ্রাম থেকে পাওয়া, ক্লোরাইট পাথরে তৈরী, তীর্থঙ্করদেরদ্বারা পরিবৃত অবস্থায় কায়োৎসর্গ ভঙ্গিতে দণ্ডায়মান, নবম শতকীয় একটি ঋষভনাথের প্রতিমা, একই গ্রাম থেকে পাওয়া, একই পাথরে তৈরী নবম শতকীয় একটি পার্শ্বনাথের প্রতিমা, এই পাকবিড়রা গ্রাম থেকেই পাওয়া, ক্লোরাইটে তৈরী, কায়োৎসর্গ ভঙ্গিতে দণ্ডায়মান, আনুমানিক একই তারিখের তীর্থঙ্কর পদ্মপ্রভুর এক অতিকায় প্রতিমা এবং বাঁকুড়া জেলায় তালডাংড়া থানার অন্তর্গত দেউলভিড়া গ্রামের, ক্লোরাইটে তৈরী, দশম শতকীয় একটি তীর্থঙ্কর মুণ্ড এমন অনেক জৈন-প্রতিমা নিদর্শনের কয়েকটি মাত্র।

    পুরুলিয়া জেলার পাকবিড়রা গ্রামে প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ ইতস্তত বিক্ষিপ্ত; সদ্যবর্ণিত প্রতিমা-প্রমাণগুলিই তার সুস্পষ্ট সাক্ষ্য। এই ধ্বংসাবশেষের মধ্যেই পাওয়া গেছে চারিদিকে চারজন তীর্থঙ্কর-শোভিত ছোট একটি চৌমুখ নিবেদন-মন্দির, একটি সুবৃহৎ ক্লোরাইট প্রস্তরখণ্ড কুঁদে তৈরী। ভাস্কর-সাক্ষ্যে মনে হয় মন্দিরটি নবম শতকীয়। বাকুড়া ও এই পুরুলিয়া জেলারই নানা জায়গায় পাথরে ও ইটে তৈরী, রেখবর্গীয় অনেকগুলি মন্দির ধ্বংসাবশেষের নানা অবস্থায় আজও দাঁড়িয়ে আছে। এ সব কটি দেবায়তনই দশম থেকে দ্বাদশ শতকের ভেতর নির্মিত হয়েছিল বলে অনুমানে বিশেষ বাধা নেই। স্থাপত্যরীতি ও রূপই এ-অনুমানের হেতু। এই মন্দিরগুলির মধ্যে বাঁকুড়া জেলার সোনাতপল গ্রামের মন্দির, পুরুলিয়া জেলার দেউলঘাটি গ্রামের দু’টি মন্দির এবং এই জেলারই রেখবর্গীয় অথচ একটু ভিন্ন চরিত্রের, পাথরের তৈরী আর একটি দেবায়তনের উল্লেখ করতেই হয়, যেহেতু কি ধর্মের দিক থেকে কি স্থাপত্যরূপ ও রীতির দিক থেকে এই দেবায়তনগুলি এ যাবৎ আমাদের ঐতিহাসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি।

    এই দেবায়তনগুলির উল্লেখ আমি করছি জৈন ধর্মকর্ম আলোচনা প্রসঙ্গে, যেহেতু আমার অনুমান, মন্দিরগুলি সবই জৈন-ধর্মকর্ম সম্পৃক্ত। নবম থেকে দ্বাদশ শতক, এই প্রায় চারশত বছর, অন্তত বাঁকুড়া-পুরুলিয়া অঞ্চলে, ব্রাহ্মণ্য ও বৌদ্ধধর্মের প্রচলন খুব দেখতে পাচ্ছিনে প্রতিমা ও মন্দির-সাক্ষ্য তেমন কিছু নেই, একমাত্র তেলকুপী ছাড়া। অথচ, অন্যপক্ষে এই দুই জেলা থেকে জৈন প্রতিমা প্রমাণ ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে প্রচুর, ক্রমশ আরও পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রতিমাগুলির অধিষ্ঠান কোথায় ছিল কোথায় পূজিত হতেন এই তীর্থঙ্করেরা? এ-প্রশ্নের উত্তর পেতে হ’লে স্বভাবতই এই দেবায়তনগুলির কথাই মনে হয়।

    বৌদ্ধধর্মকর্ম ও অনুষ্ঠান-প্ৰতিষ্ঠান

    চন্দ্রকেতুগড়ে খনা-মিহিরের ঢিবির ধ্বংসাবশেষের ভেতর থেকে যে-সব প্রত্নবস্তু উদ্ধার করা হয়েছে তার ভেতর ছোট একটি বুদ্ধ প্রতিমাও আছে। গড়ন শৈলী দেখে মনে হয়, প্রতিমাটি পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকের আগে কিছুতেই হ’তে পারে না। তবে, প্রতিমাটির বর্তমান অবস্থা এত দীন ও সংশয়াকীর্ণ যে কিছুই স্থির করে বলবার উপায় নেই। তাম্রলিপ্তেও বেশ কয়েকটি বুদ্ধ-প্রতিমা ও বৌদ্ধধর্মাশ্রিত ফলক পাওয়া গেছে। চিত্র-সংগ্রহ ও চিত্র-পরিচিতিতে তার পরিচয় পাওয়া যাবে।

    মূলগ্রন্থের নানা জায়গায় নানা প্রসঙ্গে পাল-সম্রাট ধর্মপাল প্রতিষ্ঠিত সোমপুর (পাহাড়পুর। মহাবিহারের কথা বলা হয়েছে। আয়তনে ও প্রতিষ্ঠায়, মহিমা ও সৌষ্ঠবে এই মহাবিহারটির মতো না হলেও তুলনীয় আর একটি মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ ইতিমধ্যে ইতিহাসের গোচরে এসেছে! এই বিহারটি আবিষ্কৃত হয়েছে বর্তমান বাঙলাদেশের কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতী পাহাড়ে বিস্তৃত প্রতোৎখননের ফলে। ভূমি নকশায় সম-চতুষ্কোণ, কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত একটি মন্দির-সম্বলিত এই বিহারটি স্থাপত্যের দিক থেকে পাহাড়পুর মহাবিহারেরই অনুরূপ। বিহারটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দেববংশীয় রাজা আনন্দদেরের পুত্র, পতিকের (পট্টিকেরা) রাজ্যের অধিপতি পরমসৌগত পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ ভবদেব, এবং তাঁরই নামানুসারে বিহারটির নামকরণ করা হয়েছিল ভবদেব মহাবিহার। এ তথ্য দুটি জানা যাচ্ছে এই বিহারেরই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে প্রাপ্ত যথাক্রমে একটি তাম্রলিপি ও রক্তাভ পাথরের একটি শীলমোহর থেকে।

    এই বিহারের সন্নিকটেই আবিষ্কৃত হয়েছে ক্ষুদ্রতর আর একটি সমচতুষ্কোণ বৌদ্ধ মন্দির। এরই তিন মাইল উত্তরে, ময়নামতীরই কোটিলমুড়া পাহাড়ে পাওয়া গেছে তিনটি স্তূপের ভগ্নাবশেষ। কোটিলমুড়ার প্রায় দু-মাইল উত্তর-পশ্চিমে চারপত্রমুড়ায় (এখানে চারটি তাম্রলিপি পাওয়া গেছে বলে এই ধরনের নাম) পাওয়া গেছে আরও একটি বৌদ্ধমন্দির এবং ব্রোঞ্জ ধাতুনির্মিত একটি স্মৃতি-সম্পুট বা relic casket। বস্তুত লালমাই ময়নামতীর ভবদেব মহাবিহার, কোটিলমুড়া ও চারপত্রমুড়ার ধ্বংসাবশেষ থেকে নিঃসংশয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সুবিস্তীর্ণ নাতিউচ্চ পাহাড় অঞ্চল জুড়ে খ্রীষ্টীয় অষ্টম-নবম শতক থেকে একাদশ-দ্বাদশ শতক পর্যন্ত তদানীন্তন বৌদ্ধধর্ম ও সংঘকে আশ্রয় করে একটি বিরাট নাগর সভ্যতা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যার রাষ্ট্রকেন্দ্র ছিল পট্টিকের নগর। সে যাই হোক, এই ধ্বংসাবশেষ থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রচুর লেখযুক্ত, স্তূপ-মুদ্রিত, ধর্মচক্রলাঞ্ছিত পোড়ামাটির শীলনোহর; ছোট ছোট ব্রোঞ্জ ধাতুনির্মিত বুদ্ধ বোধিসত্ত্ব ও বৌদ্ধ দেবী প্রতিমা অপেক্ষাকৃত বৃহৎ এবং লেখযুক্ত, পাথরের বৌদ্ধ প্রতিমাদি এবং প্রচুর মৃৎশিল্পের স্থাপত্যালংকরণ। এই সব শিল্পসাক্ষ্য ও তার ঐতিহাসিক অর্থ ও ব্যঞ্জনা বাঙালীর ইতিহাসের আদিপর্বের একটি অর্থগর্ভ সংযোজন। সীমান্তের ওপারে, বর্মাদেশের আরাকানের সঙ্গে সমসাময়িককালে, বোধ হয় তার বেশ কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই, কুমিল্লা-ত্রিপুরা অঞ্চলের মাধ্যমেই, পূর্ব বাঙলার সঙ্গে আরাকানের ম্রাহাউঙ অঞ্চলের এবং কাছাড় অঞ্চলের মাধ্যমে মধ্য-বর্মার পগান অঞ্চলের সঙ্গে একটা ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ গড়ে উঠেছিল। একাদশ-দ্বাদশ শতকে তো সে সম্বন্ধ রাজকীয় বৈবাহিক সম্পর্কেই পরিণতি লাভ করেছিল। যাই হউক, তৃতীয়-চতুর্থ-পঞ্চম শতক থেকেই বঙ্গীয় শিল্পের সঙ্গে আরাকানী শিল্পের একটা আত্মীয়তা লক্ষ্য করা যায় এবং অষ্টম নবম দশকে এই আত্মীয়তা আরও দৃঢ় ঘনিষ্ট হয়। ময়নামতীর ও আরাকানী শিল্পের যে-সর নিদর্শনের ফটোচিত্র আমার অধিকারে আছে তা থেকে এ তথ্য প্রমাণ করা খুব কঠিন নয়। এই দই স্থানীয় শিল্পের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা অতি প্রত্যক্ষ।

    পাহাড়পুর বা ময়নামতীর সঙ্গে তুলনীয় কিছুতেই নয়, তবু বর্ধমান জেলায় পানাগড়ের কাছে ভরতপুর গ্রামে কিছুদিন আগে ইষ্টক নির্মিত যে-স্তূপটি আবিষ্কৃত হয়েছে তা বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে, যেহেতু আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে এই স্তূপটিই বৌদ্ধ স্তূপ স্থাপত্যের আদিতম ও একতম নিদর্শন। শিল্পকলা অধ্যায়ের সংযোজনে এর স্থাপত্যের কথা যথাস্থানে বলা হবে, কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মকর্ম প্রসঙ্গে এখানেই বলা উচিত যে, স্তূপটির উঁচু ভিতের চারদিকে অনেকগুলি কুলুঙ্গি আছে এবং প্রত্যেক কুলুঙ্গিতেই বজ্রাসনোপবিষ্ট, ভূমিস্পর্শমুদ্রা-চিহ্নিত, বেলে পাথরে তৈরী এক একটি বুদ্ধপ্রতিমা। প্রতিমাগুলির এবং স্তূপটির শিল্পরূপসাক্ষ্য থেকে অনুমান হয়, স্তূপটি ও প্রতিমাগুলি অষ্টম-নবম শতকে নির্মিত হয়েছিল। স্তূপটির দক্ষিণে ও পশ্চিমে একটি ইটের তৈরী বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ আজও বিদ্যমান। বোধ হয়, এই বিহারটিও একই সময়ে নির্মিত হয়েছিল।

    শৈবধর্ম

    দেবপালপুত্র প্রথম শূরপালের নবাবিষ্কৃত একটি তাম্রশাসনে শৈব ধর্মকর্ম প্রসঙ্গে নূতন একটু খবর পাওয়া যাচ্ছে। শূরপাল নিজে ছিলেন বৌদ্ধ, কিন্তু তাঁর মাতা মাহটা ভট্টারিকা শিবভক্ত ছিলেন বলে মনে হয়। মাতার নির্দেশে শূরপাল শ্রীনগরভুক্তিতে, অর্থাৎ পাটনা অঞ্চলে, চারটি গ্রাম দান করেন; চারটির ভেতর দুটি দান করা হয়েছিল বারাণসীতে রাজমাতা প্রতিষ্ঠিত, রাজমাতার নামাঙ্কিত মাহটেশ্বর নামক শিবলিঙ্গের উদ্দেশে; আর দুটি গ্রাম দান করা হয়েছিল কয়েকজন শৈবাচার্যকে। এই শৈবাচার্য-গোষ্ঠী মাহটেশ্বর মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, এমন অনুমান বোধ হয় অসঙ্গত নয়।

    পালবংশীয় রাজা নয়পালকে (আ. ১০২৭ – ১০৪২ খ্রীষ্টাব্দ) এ-যাবৎ বৌদ্ধ বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইতিমধ্যে বীরভূম জেলার বোলপুর মহকুমার সিয়ান গ্রামে যে শিলালেখ পাওয়া গেছে তাতে মনে হয় তাঁর আরাধ্য দেবতা ছিলেন শিব, এবং তারপরেই আরাধ্যা জগন্মাতা, অর্থাৎ শক্তিরূপিনী দেবী। এই শিলালেখতে নয়পালের কীর্তিকলাপের যে বিবরণ পাওয়া যায় (এই কীর্তিকলাপ রাজবৃত্ত অধ্যায়ের সংযোজনে তালিকাগত করা হয়েছে), তাতে এই তথ্য পরিষ্কার। তিনি যে-সব মূর্তি ও মন্দির প্রতিষ্ঠা বা সংস্কার করিয়েছিলেন তার মধ্যে শিবমূর্তি শিবলিঙ্গ ও শিব-মন্দিরই সব চেয়ে বেশি; শৈব সাধুরাও তাঁর প্রসাদ লাভ করেছিলেন। একাদশ রুদ্রমূর্তির প্রতিষ্ঠাও তাঁর শৈবধর্মের প্রতি অনুরাগের প্রমাণ। শিবের পরই দেখা যাচ্ছে জগন্মাতা, চৌষট্টী মাতৃকা ও চণ্ডিকার স্থান। তবে, যে-কোনও স্মার্ত-পৌরাণিক ব্রাহ্মণ্যধর্মানুসারী লোকের মতো তিনিও গণেশ বিষ্ণু, সূর্য, লক্ষ্মী প্রভৃতি দেবদেবীকে এবং নবগ্রহকেও ভক্তি করতেন। এই শিলালেখতেই শিবের কয়েকটি রূপের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে: পুরারি শিব, হেতুকেশ শিব, ক্ষেমেশ্বর শিব, ররাক্ষেশ্বর শিব, ঘন্টীশ শিব, বটেশ্বর শিব, মতঙ্গেশ্বর শিব ও সদাশিব। এর ভেতর হেতুকেশ, বরাক্ষেশ্বর ক্ষেমেশ্বর, বটেশ্বর ও মতঙ্গেশ্বর ঠিক শিবের কোনও বিশেষ প্রতিমারূপ বলে মনে হয় না; স্থান নাম থেকেই এই বিশেষণগুলির উদ্ভব হয়ে থাকবে। জগন্মাতার একটি নাম বিশেষণ যে ছিল পিঙ্গলার্যা, তাও এই শিলালেখ থেকেই জানা যাচ্ছে।

    পাঠপঞ্জি

    Khan, F. A. Excavations at Salban Raja Palace Mound Mainamati-Lalmai Range, Further excavations in East Pakistan- Mainamati (1956) Third phase of archaeological excavations in East Pakistan (1957):

    Mainamati-a preliminary report on the recent archaeological exavations in East Pakisthan, Karachi, 1963;

    Dani, A. H., Pakistan Archaeology, Karachi, No. 3, 1966;

    Ramachandran, T.N., “Recent archaeological discoveries along the Mainamati. and Lalmai Ranges”, in B.C. Law Festschrift. Part 2,p. 213 ff.;

    Sircar, D.C., Epigraphic discoveries in East Pakistan, Calcutta, 1973;

    De, Gaurisankar, “A Jaina image from Chandraketugarh”, in Proceedings of the 35th. session of the Indian History Congresss, Aligarh, 1974;

    Samanta, S.N., “Excavations at Bharatpur”, in Burdwan University Souvenir, 1980; দীনেশচন্দ্র সরকার, প্রথম শূরপালের তাম্রশাসন, সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা, ১৩৮৩, সংখ্যা ১–২;

    সিয়ান গ্রামের শিলালেখ, সা-প-প, ১৩৮৩, সংখ্যা ৩ –৪।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়
    Next Article পুরাণী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নীহাররঞ্জন রায়

    বাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }