Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাঙালীর ইতিহাস (আদিপর্ব) – নীহাররঞ্জন রায়

    নীহাররঞ্জন রায় এক পাতা গল্প1452 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. সৃজ্যমান বাংলাভাষা।। শৌরসেনী অপভ্ৰংশ

    সৃজ্যমান বাংলাভাষা।। শৌরসেনী অপভ্ৰংশ

    পাল-চন্দ্র পর্বে প্রধানত সংস্কৃত এবং হয়তো স্বল্পাংশে মাগধী প্রাকৃতের মাধ্যমে ব্ৰাহ্মণ্য ও বৌদ্ধ ধৰ্মসম্প্রদায়কে আশ্রয় করিয়া যে সুবিপুল সাহিত্য গড়িয়া উঠিয়াছিল তাহার কিছুটা পরিচয় লাইতে চেষ্টা করিয়াছি। এ-কথাও আগে বলিয়াছি, লোকায়ত স্তরে মাগধী অপভ্রংশের স্থানীয় রূপ এবং উত্তর-ভারতের সর্বজনবোধ্য শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রচলনও ছিল যথেষ্ট। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা কেহ কেহ এই শেষোক্ত ভাষায় কিছু কিছু গান এবং পদ রচনাও করিয়াছেন। মাগধী অপভ্রংশের স্থানীয় গৌড়-বঙ্গীয় রূপের সঙ্গে শৌরসেনী অপভ্রংশের খুব বড় কিছু পার্থক্যও ছিল না। নবসৃজ্যমান বাঙলা ভাষায় রচিত চর্যাগীতিগুলিতে যে-ভাষা আমরা প্রত্যক্ষ করি তাহা সদ্যোও মাগধী অপভ্রংশের গৌড়-বঙ্গীয় রূপেরই সহজ ও স্বাভাবিক বিবর্তন, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তাহার উপর শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাবও কিছু কিছু পড়িয়াছে। আর, প্রাচ্যদেশে স্থানীয় লেখকদের জনসাধারণের লেখনীতে ও মুখে মুখে শৌরসেনী অপভ্রংশও অত্যন্ত সহজ ও স্বাভাবিক উপায়েই কিছু কিছু প্ৰাচ্য উচ্চারণ ও বানান, বাক ও পদবিন্যাসভূঙ্গি স্বীকার করিয়া লইতে বাধ্য হইয়াছে। এই স্বীকৃত বাঙালী সিদ্ধাচার্যদের রচিত দোহা এবং পদগুলির মধ্যে সুস্পষ্ট।

    শিক্ষিত বর্ণসমাজের উচ্চস্তরে প্রচলিত সংস্কৃত ভাষাকে বাদ দিলে মাগধী অপভ্রংশের স্থানীয় বিবর্তিত রূপই ছিল এই পর্বে রাঢ়-বরেন্দ্র-ব্যঙ্গ-সমতট-চট্টলের লোকায়ত ভাষা। মূলত এই আর্যভাষায় আর্যেতার অষ্টিক, দ্রাবিড় ও ভোটদ্ৰব্ৰহ্ম ভাষাগোষ্ঠীর নানা স্থানীয় বুলিরও যথেষ্ট প্রভাব ছিল, শুধু শব্দ ও উচ্চারণ-ভঙ্গিতেই নয়, কিছুটা বাকভঙ্গি ও পদবিন্যাসরীতিতেও, তাহাও অস্বীকার করা যায় না। সংস্কৃত হইতে মাগধী প্রাকৃত এবং প্রাকৃত হইতে মাগধী অপভ্রংশের বিবর্তন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরিয়া কী করিয়া হইতেছিল, এ-তথ্যও আজি আচার্য সুনীতিকুমারের গবেষণার ফলে সুবিদিত।

    যাহাই হউক, সুবিস্তৃত আলোচনা-গবেষণার ফলে আজ এই তথ্য সুপ্রতিষ্ঠিত যে, আনুমানিক নবম-দশম-শতকে বাঙলাদেশে সংস্কৃত ছাড়া আরও দু’টি ভাষা প্রচলিত ছিল, একটি শৌরসেনী অপভ্রংশ, আর একটি মাগধী অপভ্রংশের স্থানীয় বিবর্তিত রূপ যাহাকে বলা যায় প্রাচীনতম বাঙলা। একই লেখক এই দুই ভাষায়ই পদ, দোহা ও গীত প্রভৃতি রচনা করিতেন; শ্রোতা ও পাঠকেরাও দুই ভাষাই বুঝিতে পারিতেন। নবম-দশম শতকের আগে এই লোকায়ত ভাষার রূপ। কী ছিল আজ আর তাহা জানিবার উপায় নাই; সে-ভাষার নমুনা কোনও সাহিত্যে কেহ ধরিয়া রাখে নাই। পরেও নবসৃজ্যমান যে প্রাচীনতম বাঙলা ভাষার কথা বলিতেছি, সে-ভাষায় লিখিত রচনার সংখ্যা অত্যন্ত স্বল্প। সংস্কৃতের মর্যাদা ও প্রভাব শিক্ষিত সমাজে ও উচ্চ বৰ্ণস্তরে ছিল। সর্বব্যাপী; তাহারা সকলে সংস্কৃতের চর্চাই করিতেন, এবং মধ্যযুগে চৈতন্যদেবের কালেও অধিকাংশ পণ্ডিত ও লেখক যখন যাহা কিছু রচনা করিয়াছেন— জ্ঞান-বিজ্ঞানে, সাহিত্য-দর্শনে- সাধারণত সংস্কৃতের মাধ্যমেই করিয়াছেন। লোকায়ত ভাষার কৌলীন্য-মৰ্যাদা তখনও যথেষ্ট সুপ্রতিষ্ঠিত হয় নাই। এমন কি, পাল-চন্দ্র পর্বে তান্ত্রিক ও বজ্রযানী আচাৰ্যরা যে এক ধরনের প্রাকৃতধর্মী বৌদ্ধ-সংস্কৃতের প্রচলন করিয়াছিলেন দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতকে তাহাও পরিত্যক্ত হইয়াছিল, এবং তাঁহারও বিশুদ্ধ ব্যাকরণসম্মত সংস্কৃত লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন। তবে, এক শ্রেণীর লোকেরা- তাহারা সাধারণত ইসলাম-প্রভাবে প্রভাবান্বিত— বাঙলাদেশের কোথাও কোথাও বোধ হয়। সেই প্রাকৃতধর্মী৷ ‘বৌদ্ধ-সংস্কৃতের ধারা বহমান রাখিয়াছিলেন; শোক-শুভোদয়া-গ্রন্থে সেই ভাষার কিছুটা আভাস ধরিতে পারা কঠিন নয়।

    বলিয়াছি, সৃজ্যমান প্রাচীনতম বাঙলায় রচিত গ্রন্থের সংখ্যা অত্যন্ত স্বল্প। সাহিত্য বা জ্ঞান-বিজ্ঞান সাধনার দিক হইতে তাহার উল্লেখযোগ্য মূল্য না থাকিলেও বাঙলাভাষা ও বাঙালীর সংস্কৃতির দিক হইতে লোকায়ত ভাষার এই প্রাচীনতম নমুনাগুলির মূল্য অপরিসীম। ইহার পশ্চাতে বহুদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রের বা সমাজের শিক্ষিত উচ্চতর বর্ণস্তরের কোনও সক্রিয় সমর্থন বা সহযোগিতা ছিল না, এবং সংস্কৃত ভাষার মাধ্যম ও উচ্চস্তরের সংস্কৃতির আড়ালে লোকায়ত সংস্কৃতির এই প্রকাশ বহুদিন পর্যন্ত যথেষ্ট মনোযোগ আকর্ষণ করিতে পারে নাই।

    চর্যাগীতি

    প্রায় পঁয়ত্রিশ বৎসর আগে আচার্য হরপ্রাসাদ শাস্ত্রী মহাশয় নেপাল হইতে চারিখানা প্রাচীন পুঁথি। সংগ্ৰহ করিয়া আনেন। প্রথমটিতে ছিল বিভিন্ন পদকর্তার রচিত ৪৬টি ছোট ছোট গান; বইটির নাম চর্যচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতি। গানগুলির সুবিস্তৃত সংস্কৃত টীকাও গ্রন্থটিতে আছে। বহুদিন পর প্রবোধচন্দ্র বাগচী মহাশয় মূল-গ্রন্থের একটি তিব্বতী অনুবাদও নেপালেই আবিষ্কার করেন। তিব্বতী অনুবাদে গীত কিন্তু ৫১টি; মূল সংখ্যা বোধ হয় ছিল তোহাই। এই গানগুলি প্রত্যেকটিই প্রাচীনতম বাঙলায় রচিত। দ্বিতীয় তৃতীয় পুঁথি যথাক্রমে সিদ্ধাচার্য সরহ এবং কাহ্ন-রিচিত দুটি দোহাসংগ্ৰহ। তৃতীয়টি ডাকার্ণব বা ডাক-রচিত দেহা-সংগ্ৰহ। এই শেষোক্ত তিনটি গ্ৰন্থই শৌরসেনী অপভ্রংশে রচিত এবং সংস্কৃত-টীকাযুক্ত।

    আচার্য সুনীতিকুমার চর্যাগীতিগুলির ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করিয়া নিঃসন্দেহে প্রমাণ করিয়াছেন, ইহাদের ভাষা প্রাচীনতম বাঙলা-ভাষার লক্ষণাক্রান্ত। শুধু তাহাই নয়, ইহাদের ব্যাকরণরীতি ও বাকভঙ্গি একান্তই বাঙলা, এবং এখনও বাঙলা-ভাষায় স্বীকৃত ও প্রচলিত। গীতগুলিতে এমন অনেক প্রবাদ আছে যাহা আজও বাঙলাদেশে সুপ্রচলিত; তাহা ছাড়া, ইহাদের মধ্যে নৌকা, নদনদী প্রভৃতি লইয়া ছবিতে উপমায় যে পারিপার্শ্বিকের চিত্র সুপরিস্ফুট তাহা একান্তই নদীমাতৃক বাঙলা দেশের।

    ৪৬টি চর্যাগীতির ২২ জন কবি সকলেই সিদ্ধাচার্য, এবং চুরাশি সিদ্ধার নামের তালিকায় ইহাদের প্রত্যেকেরই সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। তবে, ইহাদের প্রত্যেকের দেশ ও কালনির্ণয় কঠিন। আচার্য সুনীতিকুমার, প্ৰবোধচন্দ্ৰ বাগচী, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রভৃতিরা নানাদিক হইতে বিচার করিয়া কাল-নির্ণয়ের চেষ্টা করিয়াছেন; সাক্ষ্য-প্রমাণ যাহা আছে তাহা কিছুটা পরস্পর বিরোধী, পরিমাণে স্বল্প এবং সর্বত্র সুস্পষ্ট এবং নিঃসংশয়ও নয়। তবে, এক মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছাড়া, আর সকলেই মনে করেন, এই সিদ্ধাচার্য কবিরা মোটামুটি নবম শতক হইতে দ্বাদশ শতকের মধ্যে বিদ্যমান ছিলেন। ইহাদের মধ্যে লুই-পা, কাহ্ন-পা, জলন্ধৱী-পা বা হাড়ি-পা, শবরী-পা, ভুসুকু, তন্ত্রীপাদ প্রভৃতিরাই সমধিক প্রসিদ্ধ এবং ইহাদের দেশ ও কাল সম্বন্ধে আগেই বলিয়াছি। মনে হয়, এই গীত-রচয়িতারা সকলেই প্ৰাচীন বাঙলা দেশের অধিবাসী ছিলেন; যাঁহারা তাহা ছিলেন না তাহদেরও বাঙলা দেশ ও বাঙালীর জীবন সম্বন্ধে অন্তত প্রত্যক্ষ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছিল। তবু, এ-তথ্যও একেবারে নিঃসংশয়, এমন বলা চলে না।

    বাঙলা সাহিত্যের ইতিহাসের দিক হইতে এই গীতগুলির মূল্য অপরিমেয়। প্রায় প্রত্যেকটি গীতই মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত, এবং অন্তঃমিলে বাধা, প্রত্যেকটি গীত এক একটি বিশেষ বিশেষ রাগে গাওয়া হইত। বাঙলা পয়ার বা লাচাড়ী ছন্দ এই গীতিগুলির ছন্দ হইতেই বিবর্তিত। যত গুহ্য অধ্যািত্মসাধনার গুহ্যতার তত্ত্বই ইহাদের মধ্যে নিহিত থাকুক না কেন, স্থানে স্থানে এমন পদ দু’চারটি আছে যাহার ধ্বনি, ব্যঞ্জনা ও চিত্ৰগৌরব এক মুহূর্তে মন ও কল্পনাকে অধিকার করে। অথচ, এ-কথাও সত্য যে, সাহিত্যসৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই গীতগুলি রচিত হয় নাই, হইয়াছিল। বৌদ্ধ সহজসাধনার গুঢ় ইঙ্গিত ও তদনুযায়ী জীবনাচরণের (চর্যর) আনন্দকে ব্যক্ত করিবার জন্য। সহজ-সাধনার এই গীতিগুলি কর্তৃক প্রবর্তিত খাতেই পরবর্তীকালের বৈষ্ণব সহজিয়া গান, বৈষ্ণব ও শাক্ত-পদাবলী, আউল-বাউল-মারফতী-মুর্শিদা গানের প্রবাহ বহিয়া চলিয়াছে। এই গ্রন্থের নানা স্থানে নানা সূত্রে চর্যাগীতির নানা বিচ্ছিন্ন পদ উদ্ধার করিয়াছি; এখানেও দুই চারিটি উদ্ধার করিতেছি ইহাদের সাহিত্য-মূল্যের কিছুটা আস্বাদন দানের উদ্দেশ্যে।

    উঁচা উঁচা পাবত তহি বসই সবরী বালী।
    মোরঙ্গী পীচ্ছ পরহিণ সবরী গুঞ্জরী মালী৷।
    উমত সবারো পাগল সবারো মা কর গুলি গুহাড়া তোহৌরি।
    নিঅ ঘরিণী নামে সহজ সুন্দরী।।
    নানা তরুবর মোউলিল রে গঅণত লাগেলী ডালী।
    একেলী সবরী এ বন হিণ্ডই কর্ণকুণ্ডল বজ্রধারী৷
    তিএ ধাউ খাট পাড়িলা সবরো মহাসুখে সেজি ছাইলী।
    সবর ভূজঙ্গ নৈরামণি দারী পেহ্ম রাতি পোহাইলি৷।

    উঁচু উঁচু পর্বত, সেখানে বসতি করে শবরী বালিকা, শবরীর পরিধানে ময়ূরের পাখা, গলায় গুঞ্জার মালা। ওগো উন্মত্ত শবর, পাগল শবর, গোলে ভুল করিও না, দোহাই তোমার— আমি তোমারই গৃহিণী, নামে সহজ সুন্দরী। নানা তরু মুকুলিত হইল, গগন স্পর্শ করিল। ডাল, কর্ণকুণ্ডল বজধারী একেলা শবর এ-বনে ঘুরিয়া বেড়ায়। তিন ধাতুর খাট পাতিল শবর, মহাসুখে বিছাইল শয্যা, শবর ভূজঙ্গ এবং নৈরাত্মা স্ত্রী- উভয়ে একত্র প্ৰেমারাত্রি পোহাইল।

    তিন না চুপই হরিণা পিবই ন পাণী।
    হরিণা হরিণীর ণিলয় ণ জাণী৷
    হরিণী বোলঅ সুণ হরিণা তো।
    এ বন চছাড়ি হোহু ভান্তো৷

    ভয়ে তৃণ ছোঁয় না হরিণ, না খায় জল; হরিণ জানে না হরিণীর নিলয়। হরিণী আসিয়া বলে, হরিণ, তুমি শোনো, এ—বন ছাড়িয়া ভ্রান্ত হইয়া চলিয়া যাও।

    কুলেঁ কুলেঁ মা হোইরে মূঢ়া উজুবাট সংসারা।
    বাল ভিণ একুবাকু ণ ভূলহ রাজপথ কন্ধারা৷।
    মায়া মোহ সমুদারে অস্ত ন বুঝসি থাহা।
    আগে নাব ন ভেলা দীসই ভপ্তি ন পুচ্ছসি নাহা।।
    সুনাপাস্তুর উহ ন দীসই ভান্তি ন বাসসি জান্তে।
    এষা অটমহাসিদ্ধি সিঝই উজ বাট জায়ন্তে৷।

    হে মূঢ়, কুলে কুলে ঘুরিয়া ফিরিও না, সংসারে সহজ পথ পড়িয়া আছে। সম্মুখে যে মায়া-মোহের সমুদ্র তাহার যদি না বোঝা যায় অন্ত, না পাওয়া যায় থই, সম্মুখে যদি না দেখা যায় ভেলা বা নৌকা, তবে এ-পথের যাহারা অভিজ্ঞ পথিক, তাহদের নিকট সন্ধান জানিয়া লও। শূন্য প্রান্তরে যদি না পাও পথের দিশা, ভ্রান্ত হইয়া আগাইয়া যাইও — না; সহজ পথে চল, তাহা হইলেই মিলিবে অষ্টমহাসিদ্ধি।

    কাহ্ন ও সরহপাদের দোহাকোষ

    আগেই বলিয়াছি, পশ্চিম ও উত্তর-ভারতীয় শৌরসেনী অপভ্রংশে রচিত হইয়াছিল সরহ ও কাহেক্তর দোহাগুলি। এই দোহাগুলিও সহজেসিদ্ধির গুহ্যতত্ত্ব ও আচরণ সম্বন্ধীয়, এবং ইহাদেরও অর্থ নিরূপণ অত্যন্ত কঠিন, তবে চর্যাগীতি অপেক্ষা সরলতর। ছন্দে ও ধ্বনিগৌরবে: দোহাগুলিওঁ খুব সমৃদ্ধ, তবে অদীক্ষিতের পক্ষে ইহাদের সৌন্দর্যের অনেকখানি গুহ্যনিহিত। ঠিক বাঙলা ভাষা ও বাঙলা সাহিতা না হইলেও প্রাচীনতম বাঙলা সাহিত্যের ধারার সঙ্গে ইহাদের সম্বন্ধ নিবিড়; দুইই একই ভাব-মণ্ডলের সৃষ্টি। পরবতী কালের বাঙলা বৈষ্ণব-পদাবলীর সঙ্গে ব্রজবুলিতে রচিত বৈষ্ণব-পদাবলীর যে-সম্বন্ধ, ভাষা ও ভাব-পরিমণ্ডলের দিক হইতে চর্যাগীতির সঙ্গে দোহাকোষের সম্বন্ধ ঠিক তাহাই প্রাচীন বাঙলায় শৌরসেনীর এই প্রভাব উত্তর-ভারতের দান; এ-দান কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করিতেই হয়।

    চর্যাগীতিগুলির পাঠ সর্বত্র সুস্পষ্ট নয়, গুহা অর্থ তাহাকে আরও যেন অস্পষ্ট করিয়া দেয়। সংস্কৃত টীকাটির ভাষা এবং অর্থও দুর্বোধ্য। দোহাকোষ সম্বন্ধেও বক্তব্য একই। চর্যার ভাষায় কোথাও শৌরসেনী অপভ্রংশের এবং কোথাও কোথাও মৈথিলীর প্রভাব সুস্পষ্ট। ঠিক তেমনই দোহাগুলির অপভ্রংশ কিছু কিছু স্থানীয় বাঙলা ও মৈথিলী প্রভাবও ঢুকিয়া পড়িয়াছে। কাহ্ন ও সরহপাদের ২/৪টি অপভ্রংশে দেহাংশ অন্য প্রসঙ্গে অন্যত্র উদ্ধার করিয়াছি; এখানেও একটি উদ্ধার করিলাম, কতকটা ইহাদের সাহিত্য মূলের সঙ্গে পরিচিত হইবার জন্য।

    পণ্ডিত লোঅ খমহু মহু এখুনি কিঅই বিআপ্পু
    জো গুরুবঅণে মই সুঅই তহি কিং কহুমি সুগোপ্পু
    কমল কুলিস বেবি মজ কঠিউ জো সো সুরত্ম বিলাস
    কো তহি রামই ন তিহু আণ কস্‌স ন পূরই আস৷।

    পণ্ডিত লোক, আমাকে ক্ষমা কর; এখানে কিছু বিকল্প করা হইতেছে না; যাহা আমি শুনিয়াছি সুগোপন গুরুবাক্যে তাহা আমি কী করিয়া বলি! কমল এবং কুলিশ এই দুইয়ের মধ্যস্থিত যে সুরতবিলাস তাহাতে ত্ৰিভুবনে কোেনা সুখী হয় এবং কাহার না। আশা পূৰ্ণ হয়!

    কৃষ্ণ-রাধা কাহিনী

    প্রাচীনতম বাঙলা ভাষা যেমন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের ভাবের ও তত্ত্বের বাহন হইয়াছিল, ব্ৰাহ্মণ্য সাহিত্যেও যে সে-ভাষা একেবারে ব্যবহৃত হয় নাই, এমন নয়। প্রাচীন বাঙলা সাহিত্যে রাধা-কৃষ্ণ কাহিনীর কয়েকটি নাম যে বিবর্তিত রূপে আমাদের গোচর তাঁহাদের ভাষাতত্ত্বগত ইঙ্গিত খুব সুস্পষ্ট বলিয়াই মনে হয়। কৃষ্ণ-কাহ্ন-কানু বা কানাই, রাধিকা-রাহী-রাই, কংস-কাংস, নন্দ-নান্দ, অভিমন্যু-অহিবণ্ণু বা অহিমণ্ণু-আইহণ, আইমন-আয়ান প্রভৃতি নামের বিবর্তনের মধ্যে অর্থাৎ সংস্কৃত হইতে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত হইতে অপভ্রংশের মারফৎ প্রাচীন বাঙলায় রূপান্তরের মধ্যে বোধ হয় এ-তথ্য লুক্কায়িত যে কৃষ্ণ-রাধিকার কাহিনী কোনও না কোনও সাহিত্যরূপ আশ্রয় করিয়া কামরূপে ও বাঙলা দেশে প্রসার লাভ করিয়াছিল তুর্কী-বিজয়ের বহু আগেই। এই সাহিত্যরূপের প্রত্যক্ষ প্রমাণও কিছু কিছু আছে, যদিও তাহা সুপ্রচুর নয়। কামরূপরাজ বনমালদেবের একটি লিপিতে, ভোজ্যবর্মার বেলাব-লিপিতে, কবীন্দ্রবচনসমুচ্চয়-গ্রন্থের কয়েকটি প্রকীর্ণ শ্লোকে কৃষ্ণের ব্রজলীলার বর্ণনার কথা তো আগেই বলিয়াছি।

    তাহা ছাড়া, চালুক্যরাজ তৃতীয় সোমেশ্বরের পৃষ্ঠপোষকতায় ১০৫১ শকে (১১২৯ খ্ৰীষ্ট বৎসরে) মানসোল্লোস বা অভিলষিতাৰ্থচিন্তামণি নামে একটি সংস্কৃত কোষগ্রন্থ রচিত হইয়াছিল; এই গ্রন্থের গীতবিনোদ অংশে ভারতবর্ষের সমসাময়িক সমস্ত স্থানীয় ভাষায় রচিত কিছু কিছু গানের দৃষ্টান্ত সংকলিত হইয়াছে; ইহাদের মধ্যে কয়েকটি প্রাচীনতম বাঙলায় রচিত গানও আছে। এই বাঙলা গানগুলির বিষয়বস্তু গোপীদের লইয়া শ্ৰীকৃষ্ণের বৃন্দাবনলীলা এবং বিষ্ণুর বিভিন্ন অবতার-বর্ণনা। এই গানগুলি বাঙলা দেশেই রচিত হইয়াছিল, সন্দেহ নাই, এবং এই প্রান্ত হইতেই মহারাষ্ট্র-প্রান্তে প্রচারিত হইয়াছিল।

    গীতগোবিন্দের ভাষা

    আচাৰ্য সুনীতিকুমার দেখাইয়া দিয়াছেন, জয়দেব গীতগোবিন্দ-গ্রন্থে এমন কতকগুলি পদ বা গান আছে যে-গুলি আগেও সুরে গাওয়া হইত, এখনও হয়। গীতগোবিন্দের ভাষা শব্দ ও ব্যাকরণের দিক হইতে সংস্কৃত সন্দেহ নাই, কিন্তু ইহার ছন্দ, রীতি ও ভঙ্গি, ইহার অনুভব, ইহার প্রাণবায়ু সমস্তই যেন লোকায়ত স্থানীয় ভাষার, সে-ভাষা প্রাচীনতম বাঙলাই হোক বা বাঙলা দেশে প্রচলিত শৌরসেনী অপভ্রংশই হোক। আর, আগেই বলিয়াছি, এই দুই ভাষায় বিশেষ পার্থক্যও কিছু ছিলনা। এমন কথাও কেহ কেহ বলেন, মূল গীতগোবিন্দ রচিত হইয়াছিল শৌরসেনী অপভ্রংশে বা প্রাচীনতম বাঙলায় পরে তাহার উপর একটা সংস্কৃত পোশাক পরাইয়া দেওয়া হইয়াছে মাত্র! এ-অনুমান সত্য হউক বা না হউক (সত্য বলিয়া মনে করিবার কারণ খুব নাই), একদিকে চর্যাগীতি ও অন্যদিকে গীতগোবিন্দের ধারায়ই পরবর্তী কালের বৈষ্ণব-পদাবলীর সৃষ্টি। চতুর্দশ শতকের শেষাশেষি প্রাকৃত-পৈঙ্গল নামে অবহঠাঁট (অপভ্রষ্ট) বা অপভ্রংশ-ভাষায় রচিত গীতিকবিতার একটি সংকলন গ্ৰন্থ রচিত হয়; প্রাকৃত ছন্দের বিভিন্ন রূপ ও প্রকৃতির দৃষ্টান্ত সংকলন-করাই ছিল অজ্ঞাতনামা গ্রন্থকারের উদ্দেশ্যে। এই গ্রন্থে একাদশ-চতুর্দশ শতকীয় শৌরসেনী অপভ্রংশে রচিত এমন কয়েকটি পদ আছে যে-গুলির মধ্যে কিছু কিছু বাঙলা শব্দ, বাঙলা ধরন-ধারণ প্ৰত্যক্ষ গোচর। ভাষার দিক হইতে গীতগোবিন্দের পদগুলির সঙ্গেও কয়েকটি পদের আত্মীয়তা কিছুতেই দৃষ্টি এড়াইবার কথা নয়। এক কথায় ইহাদের আবহ যেন একান্তই বাঙলার, এবং খুব সম্ভব এই অপভ্ৰংশ পদগুলি বাঙলাদেশেই রচিত হইয়াছিল। কয়েকটি দৃষ্টান্ত উদ্ধার করিতেছি। ক্ষুদ্র পরিসরে ঘনীভূত ভাব ও রসের, ধ্বনি ও ছন্দের এমন সুন্দর প্রকাশ প্রাচীন কাব্যে খুব কমই দেখা যায়। আমার ধারণা, প্রাকৃত-পৈঙ্গলের অনেকগুলি শ্লোক ও কবিতায় বাঙলাদেশের যেটুকু পরিচয় পাইতেছি। তাহা প্ৰাক-তুর্কী বাঙলার।

    কাঅ হউ দুবল, তেজি গারাস, খাণে খণে জানিঅ অচ্ছ ণিসাস।
    কুহূরব তার দুরন্ত বসন্ত, নিদ্দঅ কাম নিদ্দঅ কস্ত৷।

    দুর্বল হইল কায়, গ্রাস (অর্থাৎ আহার) হইল পরিত্যক্ত, ক্ষণে ক্ষণে (দীর্ঘ) নিঃশ্বাস জানা যাইতেছে; কুহুরব তীব্র, বসন্ত, দুরন্ত– কাম-নির্দয় কি কান্ত নির্দয়, জানি না।

    সো মহকস্তাদূর দিগন্তা।
    পাউস আএ চেউ চলাএ৷।

    সেই আমার কান্ত (গিয়াছে) দূর দিগন্তে; প্রাবৃষ (বৰ্ষ) আসিতেছে, চঞ্চলিত হইতেছে চিত্ত।

    গজ্জই মেহ কি অম্বর সামর
    ফুল্লাই ণীব লি বুল্লই ভামর।
    এক্কল জীঅ পরাহিণ অম্মহ
    কীলউ পাউস কীলউ বাম্পহ।৷

    মেঘ গর্জন করিতেছে, অম্বর শ্যামল, নীপ ফুটিয়াছে, ভ্রমর বুলিতেছে; আমার একলা জীবন পরাধীন; প্রাবৃষ (মেঘ) খেলা করিতেছে, মন্মথও খেলা করিতেছে।

    তরুণ-তরুণি, তবই ধরণি, পাবণ বহখরা
    লগ ণহি জল, বড় মরু থল, জনজীবন হরা।
    দিসই বলই, হিঅ আ দুলাই, হামি একলি বহু
    ঘর ণহি পিআ, সুণহি পহি আ, মণ ঈচ্ছই কহু৷

    তরুণ সূর্যে ধরণী, তপ্ত, বাতাস বহিতেছে খর বেগে, নিকটে নাই জল, জল জীবননাশা বিস্তৃত মরুস্থল (সম্মুখে); ঘরে নাই আমার প্রিয়, আমি একেলা বধু— শোনো গো পথিক, আমার মন কী চায়।

    শুধু প্রমের কবিতা, ভক্তিরসের কবিতাই নয়, বীররসের কবিতাও প্রাকৃত-পৈঙ্গলে মিলিতেছে, এবং সেই প্রসঙ্গে বাঙালীর বীরত্বের গৌণ প্রশংসাও আছে। সুকুমার সেন মহাশয় তাহার কিছু কিছু উদ্ধার করিয়াছেন। এই গ্রন্থে শ্ৰীকৃষ্ণরাধাকাহিনী, শ্ৰী রামচন্দ্র প্রভৃতি লইয়াও দুই চারিটি ছোট ছোট কবিতা আছে! একটি শ্লোকে দেখিতেছি, কয়েকটি বিশিষ্ট মাত্ৰা-সংস্থানের নামকরণই হইয়াছে বাঙলাদেশে পজিত চারিজন বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য দেবীর নামানুসারে— লক্ষ্মী, গৌরী, চুন্দা ও মহামায়া। আর একটি শ্লোকে শিবজায়া পাৰ্ব্বতীর দারিদ্র্যময় সংসারের গাৰ্হস্থ্য দুঃখ বৰ্ণনা অত্যন্ত করুণ!

    বাল কুমারো ছঅ মুণ্ডধারী, উবা অহীণা মুই এক্ক ণারী।
    অহংণিসং খাই বিসং ভিখারী গঈ ভবিত্তী কিল কা হামারী।

    ছয় মুণ্ডধারী বালকপুত্র আমার ছয়মুখে খায়, আর আমি এক উপায়হীনা নারী! আমার ভিখারী স্বামী অহৰ্নিশ কেবল বিষ খায়; কী গতি হইবে আমার!

    এই বর্ণনা মধ্যযুগীয় বাঙলা সাহিত্যে শিবগৃহিণী পার্বতীর গাৰ্হস্থ্য-বৰ্ণনার সঙ্গে হুবহু মিলিয়া যায়; সদুক্তিকর্ণামৃত-গ্রন্থেরও একাধিক প্রকীর্ণ শ্লোকে একই চিত্র সুস্পষ্ট দৃষ্টিগোচর। সন্দেহ নাই, এ-চিত্র একান্তই বাঙালীর এবং বাঙলার আবহে-পরিবেশে আস্নাত।

    শুদ্ধ ও সংযত, স্বচ্ছন্দ ও সমৃদ্ধ সংসারের সংক্ষিপ্ত বাস্তব বর্ণনাও আছে।

    পুত্ত পবিত্ত বহুত্ত ধণা ভত্তি কুটুম্বিণি সুদ্ধমনা।
    হাঙ্ক তারাসই ভিচ্চগণা কো কর বব্বর সগ্‌গমণা।৷

    পুত্র পবিত্র; অনেক ধন; ভর্ত্রী অর্থাৎ স্ত্রী এবং কুটুম্বিনীরা শুদ্ধ স্বভাবা; হাঁকে ত্ৰস্ত হয় ভূত্যগণ; (এমন সব রাখিয়া) কোন বর্বর স্বর্গে যাইতে চায়!

     

    গীতগোবিন্দ-রচয়িতা জয়দেব অপভ্রংশ ভাষায়ও গীতিকবিতা রচনা করিতেন। গুর্জরী ও মারূ রাগে গেয় জয়দেবের দুটি গান শিখদের শ্ৰীগুরুগ্রন্থে বা আদিগ্রন্থে স্থান পাইয়াছে, কিছুটা বিকৃত রূপে। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মহাশয় তাহা উদ্ধার করিয়াছেন।

    ধর্মাশ্রয়ী বৌদ্ধ বা ব্রাহ্মণ্য গীতিকবিতা ছাড়া অপভ্রংশে কিছু কিছু প্রেমের কবিতাও যে বাঙলাদেশে রচিত হইয়াছিল তুর্কী-বিজয়ের আগেই, তাহার পরিচয় তো প্রাকৃত-পৈঙ্গলের কতকগুলি শ্লোকে পাওয়া যাইতেছে। ইহাদের মধ্যে কিছু বাঙলা শব্দ, বাঙলা বাকভঙ্গি, বাঙলা ধরন-ধারণ, সর্বোপরি বাঙলার আবহ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। খুব সম্ভব এই ধরনের কবিতাগুলি বাঙলাদেশেই রচিত হইয়াছিল, এমন অপভ্রংশে যাহার উপর প্রাচীনতম বাঙলা ভাষার প্রভাব অত্যন্ত বেশি।

    সৰ্ব্বানন্দের টীকাসর্বস্ব গ্রন্থে বৌদ্ধ ধর্মদাসের বিদগ্ধমুখমণ্ডল-গ্ৰন্থ হইতে কিছু কিছু শ্লোকের উদ্ধৃতি আছে। সুকুমার সেন মহাশয় দেখাইয়াছেন, এই গ্রন্থের কোনও কোনও শ্লোক ও শ্লোকাংশ প্রাকৃত ও অপভ্রংশে, রচিত; প্রাচীনতম বাঙলাভাষারও দু’একটি ছত্র বিদ্যমান। সুনীতিবাবু দেখাইয়াছেন, শেক-শুভোদয়ার উনবিংশ অধ্যায়ে মধ্যযুগীয় বাঙলাভাষায় রচিত একটি প্রেমের কবিতা আছে; কবিতাটি প্রাক-তুর্কী আমলের রচনা বলিয়াই মনে হয়; পরে শোক-শুভোদয়া রচনাকালে সমসাময়িক ভাষায় রূপান্তরিত করা হইয়াছিল।

    ডাক ও খনার নামে যে বচনগুলি বাঙলাদেশে আজও প্রচলিত তাহাও বোধ হয় প্রাক-তুর্কী আমলের চলতি প্রবাদ সংগ্রহ; কালে কালে তাঁহাদের ভাষা বদলাইয়া গিয়াছে মাত্র। শুভংকরের  নামে প্রচলিত গণিত-আর্যার শ্লোকগুলিতেও যে অপভ্রংশের প্রত্যক্ষ প্রভাব বিদ্যমান তাহা অঙ্গুলি সংকেতে দেখাইবার প্রয়োজন আজ আর নাই।

    লক্ষণীয় এই যে, এই পর্বে প্রাচীনতম বাঙলায় এবং অপভ্রংশে রচিত সাহিত্যের অল্পস্বল্প যে-সব দৃষ্টান্ত আমাদের গোচর তাহা সমস্তই গীতিকবিতা, এবং তাহার অধিকাংশ সুরে-তালে গোয়। বাঙলা দেশের এই সুপ্রাচীন গীতিকাব্যের ধারার সঙ্গেই মধ্যযুগীয় বাঙলা গীতিকাব্যের প্রবাহ যুক্ত, তাহা বৈষ্ণব-পদাবলীর ধারাই হোক, আর মঙ্গলকাব্যের ধারাই হোক।

    মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল-মনসামঙ্গল-কাব্যে চাঁদ সদাগর-লখীন্দর-বেহুলা- ধনপতি-লহনা-খুল্লনা-শ্ৰীমন্ত-কালকেতুর যে-কাহিনীর সঙ্গে আমাদের পরিচয়, গোপীচাঁদের গানে রাজা গোপীচন্দ্র-লাউসেন-ময়নামতী বা মদনাবতী-আদুনা-পদুনার যে গল্প আমরা পাইতেছি, এই সব গল্প খুব সম্ভব প্রাক-তুর্কী বাঙলার লোকায়ত স্তরে জনসাধারণের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল, এবং অসম্ভব নয়, কিছু কিছু নূতন রচনাও হয়তো হইয়া থাকিবে। তবে, এ-সম্বন্ধে জোর করিয়া কিছু বলিবার উপায় নাই। মনসামঙ্গলের গল্পে অন্তর্বাণিজ্য ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের যে ছবি তাহা মধ্যযুগীয় বাঙলার ছবি নয়; সে-যুগে বাঙলার এই সামুদ্রিক বাণিজ্যসমৃদ্ধি আর ছিল না। মনে হয়, এই চিত্র প্রাচীনতর কালের দূরাগত স্মৃতিমাত্র; তাহারই উপর সমসাময়িক কালের প্রলেপ পড়িয়াছে। তাহা ছাড়া, ব্রাহ্মণ্যধর্মে মনসার প্রতিষ্ঠা নবম-দশম- একাদশ-দ্বাদশ শতকেই; কাহিনীটিতে মনসার যে প্রতাপ দৃষ্টিগোচর তাহা প্রথম প্রতিষ্ঠাকালে হওয়াই স্বাভাবিক। আর, গোপীৰ্চাদের গল্পে তো একাদশ-দ্বাদশ শতকীয় সহজিয়া তান্ত্রিকধর্মের স্রোত সবেগে বহমান।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়
    Next Article পুরাণী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নীহাররঞ্জন রায়

    বাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }