Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাঙালীর ইতিহাস (আদিপর্ব) – নীহাররঞ্জন রায়

    নীহাররঞ্জন রায় এক পাতা গল্প1452 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. শিল্পজাত দ্রব্যাদি : বস্ত্ৰশিল্প

    শিল্পজাত দ্রব্যাদি : বস্ত্ৰশিল্প

    বাঙলার শিল্পজাত দ্রব্যাদির কথা বলিতে গিয়া প্রথমেই বলিতে হয় বস্ত্রশিল্পের কথা। বাঙলাদেশের বস্ত্রশিল্পের খ্যাতি শ্ৰীস্টের জন্মের বহু পূর্বেই দেশে-বিদেশে ছড়াইয়া পড়িয়াছিল, এবং ইহাই যে এ দেশের প্রধান শিল্প ছিল, তাহার প্রমাণ পাওয়া যায় কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্ৰে, Periplus of Erythrean Sea নামক গ্রন্থে, আরব, চীন, ও ইতালীয় পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের বৃত্তান্তের মধ্যে। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের সাক্ষ্যই প্রথম উদ্ধৃত করা যাক। কৌটিল্য বলিতেছেন, বঙ্গদেশের (বাঙ্গক।) দুকুল খুব নরম ও সাদা; পুণ্ড্রদেশের (পৌণ্ডক) দুকূল শ্যামবর্ণ এবং দেখিতে মণির মতো পেলাব; সুবর্ণকুড্যদেশের (কামরূপ) দুকুলের রং নবেদিত সূর্যের মতন। টীকাকার যোজনা করিতেছেন, দুকুল বস্ত্র খুব সূক্ষ্ম, ক্ষৌম বস্ত্র একটু মোটা। পত্রোর্ণ (জাত) বস্ত্ৰ মগধ (মাগধিকা), সুবর্ণকুড্যক (সীেবর্ণকুড্যকা) অর্থাৎ কামরূপ এবং পুণ্ড্রদেশে (পৌণ্ডিকা) উৎপন্ন হইত। পত্রোর্ণজাত বস্ত্ৰ বোধহয় এণ্ডি ও মুগাজাতীয় বস্ত্ৰ (পত্ৰ হইতে যাহার উর্ণা = পত্রোর্ণ?)। আমরকোষের মতে পত্রোর্ণ সাদা অথবা ধোয়া কৌষেয় বস্ত্ৰ; টীকাকার পরিষ্কার বলিতেছেন, কীটবিশেষের জিহ্বারস কোনও কোনও বৃক্ষপত্রকে এই ধরনের উর্ণায় রূপান্তরিত করে। লক্ষণীয় এই যে, কৌটিল্যোক্ত দেশগুলিতে এখন খুব ভাল এণ্ডি-মুগাজাতীয় বস্ত্ৰ উৎপন্ন হয়, বিশেষভাবে কামরূপে। পুণ্ড্রদেশে যে শুধু দুকুল ও পত্রোর্ণ বস্ত্ৰ উৎপন্ন হইত। তাঁহাই নয়, মোটা ক্ষৌম বস্ত্ৰও উৎপন্ন হইত, কৌটিল্য সেকথাও বলিতেছেন। শ্রেষ্ঠ কার্পাসবস্ত্র উৎপন্ন হইত মধুরা (মাদুরা), অপরান্ত, কলিঙ্গ, কাশী, বঙ্গ, বৎস এবং মহিষ জনপদে। বঙ্গে শ্বেতম্বিন্ধ দুকুল যেমন উৎপন্ন হইত, তেমনই শ্রেষ্ঠ কাপাসাবস্ত্রেরও অন্যতম উৎপত্তিস্থল ছিল এই দেশ ৷ বঙ্গে ও পুণ্ডে প্রাচীনকালে তাহা হইলে চারিপ্রকার বস্ত্ৰশিল্প ছিল—দুকুল, পত্রোর্ণ, ক্ষৌম ও কাপসিক। প্রাচীন বাঙলার এই সম্পদের কথা গ্ৰীক ঐতিহাসিকেরা বারবার উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন। ইহার রপ্তানির উল্লেখ পাওয়া যায়। Periplus গ্রন্থে। Schoff-এর ইংরেজী অনুবাদটুকু সমস্তই উদ্ধৃত করিতেছি। এইজন্য যে, এই উপলক্ষে আমাদের দেশের অন্যান্য রপ্তানি দ্রব্যেরও কিছু কিছু খবর পাওয়া যাইবে। হিমালয়ের সানুদেশে পার্বত্য অসভ্য কিরাত জাতিদের উল্লেখের পরেই বলা হইতেছে;

    After these- the course turns towards the east again and sailing with the ocean to the right and the shore remaining beyond to the left, the Ganges comes into view, and near it the very last land towards the east, Chryse. There is a river near it called the Ganges…. on its bank is a market-town which has the same name as the river Ganges. Through this place are brought malabathrum and Gangetic spikenard and pearls and muslins of the finest sorts which are called Gangitic. It is said that there are gold-mines near these places and there is a gold coin which is called castis…..

     

    কৃষিদ্রব্য : তেজপাতা, পিপ্পলি ।  মুক্তা ও স্বর্ণের প্রাসঙ্গিক উল্লেখ

    এই সমুদ্রতীরবর্তী গঙ্গাবিধৌত দেশ যে বাঙলাদেশ, তাহা সুস্পষ্ট। এই দেশকেই গ্ৰীক ঐতিহাসিকেরা বলিয়াছেন। গঙ্গারাষ্ট্র বা Gangaridae, এই গঙ্গা-বন্দরের (তাম্রলিপ্ত হইতে পৃথক) রপ্তানি দ্রব্যগুলির প্রথমেই পাইতেছি। malabathrum বা তেজপাতা। Ptolemy বলেন, Kirrhadae বা কিরাত দেশেই সবচেয়ে ভাল তেজপাতা উৎপন্ন হইত। উত্তর-বঙ্গের কোনও কোনও স্থানে, শ্ৰীহট্টে এবং আসামের কোনও কোনও জায়গায়, সাধারণভাবে পূর্ব-বিহারের পার্বত্য জনপদগুলিতে এখনও প্রচুর তেজপাতা উৎপন্ন হয়, এবং তাহার ব্যবসাও খুব বিস্তৃত। ইহার পরেই দেখিতেছি, গাঙ্গেয় পিপ্পলির উল্লেখ; ইহারও উৎপত্তিস্থল বোধহয় ছিল বাঙলার উত্তরে পার্বত্য সানুদেশ। রোমদেশীয় বণিকেরা Nelcynda হইতে যে প্রচুর পিপ্পলি পাশ্চাত্ত্য দেশগুলিতে লইয়া যাইতেন, তাহার অধিকাংশই যে এই গঙ্গা বন্দর হইতে যাইত, তাহাতে সন্দেহ নাই। কিছু কিছু মালাবার অঞ্চল হইতেও যাইত, কিন্তু দক্ষিণ-ভারতের পিপ্পলি (গ্ৰীক, পেপেরি = অধুনা pepper) গঙ্গা-বন্দরের পিপ্পলির মতন এত বড় বা ভালো, হইত না। এই পিপ্পলির ব্যবসায়ে দেশে প্রচুর অর্থগম হইত, সে কথা ব্যাবসা-বাণিজ্য আলোচনা প্রসঙ্গে জানা যাইবে। পিপ্পলির পরেই পাইতেছি, মুক্তার উল্লেখ। এই মুক্তা যে গাঙ্গেয় মুক্তা, সে সম্বন্ধে সন্দেহ নাই, এবং খুব ভালো মুক্তা না হইলেও ইহার কিছু কিছু পশ্চিম এশিয়ায়, ইজিপ্ট, গ্ৰীসে, রোমে রপ্তানি হইত। কিন্তু সর্বাপেক্ষা মূল্যবান রপ্তানি দ্রব্য হইতেছে। Gangetic musin অর্থাৎ গাঙ্গেয় সূক্ষ্ম বস্ত্ৰ-সম্ভার। সর্বশেষ উল্লেখ পাইতেছি স্বর্ণখনির। Schoff সাহেব অনুমান করেন, এই স্বর্ণ আসিত. Erannaboas (সংস্কৃত হিরণ্যবাহ) বা বর্তমান সোন নদ বাহিয়া। কিন্তু Herodotus হইতে আরম্ভ করিয়া প্লিনি পর্যন্ত তিব্বতের যে aint-gold-এর কথা বলিতেছেন, Periplus-এ যে তাহার উল্লেখ নাই সে কথা কে বলিবে? কিন্তু এ দুয়ের কোনওটিই বাঙলাদেশের নয়। বহু দিন পরে টেভারনিয়ারের ভ্রমণবৃত্তান্তে কিন্তু পাইতেছি, আসাম ও উত্তরব্রহ্মের নদী বাহিয়া কিছু কিছু সোনা ত্রিপুরাদেশের ভিতর দিয়া বাঙলায় আসিত। এই সোনার পরিমাণ ছিল যথেষ্ট, যদিও স্বরূপ খুব উৎকৃষ্ট ছিল না। ত্রিপুরার যে-সব বণিক ঢাকায় বাণিজ্য করতে আসিতেন, তাঁহারা টুকরা টুকরা সোনার পরিবর্তে লইয়া যাইতেন প্রবাল, অয়স্কান্ত মণি, কুর্মাবরণের এবং সামুদ্রিক শঙ্খের বালা। রাঢ়ের দক্ষিণ-সমুদ্রে যে প্রচুর মুক্তা পাওয়া যাইত তাহার একটু ইঙ্গিত আছে রাজেন্দ্ৰ চোলের তিরুমালয় লিপিতে। তাহা ছাড়া, নিম্ন-বঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে সুবর্ণরেখা নদী, ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার সোনারং, সোনারগা বা সুবৰ্ণগ্রাম, সুবর্ণবীথি, সোনাপুর প্রভৃতি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় স্থান-নামগুলিও আমার কাছে একেবারে নিরর্থক মনে হয় না। এইসব জনপদের নদীগুলিতে একসময় dust gold পাওয়া যাইত, তাহারই স্মৃতি হয়তো নামগুলির মধ্য থাকিয়া গিয়াছে।

    যাহা হউক, কার্পাসবস্ত্র ও অন্যান্য বস্ত্রশিল্পের উল্লেখ অর্থশাস্ত্র বা Periplus ছাড়াও অন্যত্র অনেক জায়গায় আছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ ইবন খুর্দদবা নামক আরব ভৌগোলিকের (দশম শতক) নাম করা যাইতে পারে। ইনি রহমি বা রহমা নামে একটি দেশের নাম করিতেছেন : এই রহনি বা রহুম দেশকে Eliot সাহেব মোটামুটি বঙ্গদেশের সঙ্গে অভিন্ন বলিয়া মনে করেন। আমার মনে হয়, Eliot সাহেবের এই অনুমান যথার্থ নয়; রহ্মি বা রহমা প্রাচীন আরাকান (রহম=রহন-রখন=আরাকান)। ইবন খুর্দদবা বলিতেছেন, “জলপথে জাহাজের সাহায্যে রহমি দেশের রাজা অন্যান্য দেশের রাজাদের সঙ্গে সম্বন্ধ রক্ষা করেন। তাহার। পাচ হাজার হাতি আছে, এবং তাহার দেশে কার্পােসবন্ত্র এবং অগুরু কাঠ উৎপন্ন হয়৷ ” এই রহমি দেশ সম্বন্ধেই আরবদেশীয় সওদাগর সুলেমান (নবম দশক) বলিতেছেন, এ দেশে একপ্রকার সূক্ষ্ম ও সুকোমল বস্ত্ৰ উৎপন্ন হইত, অন্য কোনও দেশে এমন সূক্ষ্ম বস্ত্ৰ উৎপন্ন হইত না; এ বস্ত্র এত সূক্ষ্ম ও কোমল ছিল যে একটা আংটির ভিতর দিয়া তাহাকে চালাইয়া দেওয়া যাইত। সুলেমান আরও বলেন যে, এ বস্ত্র ছিল কাপাসের তৈরি, এবং তেমন বস্ত্ৰ তিনি নিজের চোখে দেখিয়াছেন। ত্রয়োদশ শতকের প্রথম ভাগে চীন-পরিব্রাজক চাও-জু-কুয়া পিং কলো বা বাংলাদেশ সম্বন্ধে বলিতেছেন, এ দেশে খুব ভালো দুমুখো তলোয়ার তৈরি হয়, এবং কার্পাস এবং অন্যান্য বস্ত্ৰ উৎপন্ন হয়। ত্রয়োদশ শতকেরই শেষের দিকে (১২৯০) মার্কো পোলো, গুজরাট, কাম্বে, তেলিঙ্গানা, মালাবার ও বঙ্গদেশে কার্পাস উৎপাদন ও কার্পাস বস্ত্রশিল্পের কথা বলিয়াছেন। বঙ্গদেশ সম্বন্ধে তিনি বলিতেছেন,

    ‘বাঙলাদেশের লোকেরা প্রচুর কার্পাস উৎপাদন করে, এবং তাহাদের কার্পাসের ব্যবসা ছিল খুব সমৃদ্ধ। পঞ্চদশ শতকে আর একজন চীন-পরিব্রাজক মা-হুয়ান (১৪০৫) বাঙলাদেশে আসিয়াছিলেন; সৈফুদ্দিন হামজা সাহ তখন গৌড়ের রাজা। কার্পাসবাস্ত্রের উল্লেখ ছাড়াও তাহার বিবরণটি অন্যান্য ধনসম্বলের পরিচয়ের দিক হইতে উল্লেখযোগ্য। চেহাটি-গান (চট্টগ্রাম) ও সোনা-উরু-কোঙ (সোনারগাঁ—সুবর্ণগ্রাম) উল্লেখের পর তিনি গৌড় রাজধানীর কথা বলিতেছেন, এই রাজ্যের নগরগুলি প্রাচীরবেষ্টিত; অধিবাসীরা কৃষ্ণবর্ণ এবং মুসলমান। ভাষার নাম বাঙলা, তবে পারস্য ভাষার ব্যবহারও আছে। মুদ্রার নাম টঙ্কা; অল্প মূল্যের জন্য কড়িও ব্যবহার করা হয়। সমস্ত বৎসর ধরিয়া চীনদেশের গ্ৰীষ্মকালের মতন গরম। নানা প্রকার ধান, যব, গম ও সর্ষপ এ দেশের প্রধান শস্য। এই দেশে নারিকেল, ধান, তাল ও কাজঙ্গ হইতে মদ তৈরি করা হয়, এবং সেই মদ প্রকাশ্যভাবে বিক্রয় করা হয়। উৎপন্ন ফলের মধ্যে কলা, কঁাটাল, আম, ডালিম ও ইক্ষু প্রধান। এ দেশে ছয় প্রকারের সূক্ষ কাপািসবন্ত্র প্রস্তুত হয়; এই বস্ত্ৰ সাধারণত প্রস্থে দুই এবং দৈর্ঘ্যে উনিশ হাত। এই দেশে রেশমের কীট পালিত হয় ও রেশমনির্মিত বস্ত্ৰ বয়ন করা হয়।…’

    কার্পাস সম্বন্ধে একটু পরোক্ষ প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে চর্যাগীতি-গ্ৰন্থ হইতেও। এই গ্ৰন্থ সহজিয়া গুহাসাধনার আনন্দ-সংগীত, ইহার অনেক পদের অর্থ সুস্পষ্ট নয়। তথাপি নানা রাগরাগিণীর এই গানগুলি যে সাধনার আনন্দ প্রকাশ করিতেছে, এ কথা সহজেই বুঝা যায়। এই গ্রন্থে শবরপাদের একটি পদে আছে:–

    হেরি সে মেরি তাইলা বাড়ী খসমে সমতুলা।
    সুকড় এসে রে কপাসু ফুটিলা ৷
    তইলা বাড়ীর পাসেঁর জোহ্না বাড়ী উএলা।
    ফিটেলি অন্ধ্যারি রে আকাশ ফুলিআ ৷।

    ইহার প্রথম দুই লাইনের তিব্বতী অনুবাদ হইতে প্ৰবোধচন্দ্র বাগচী মহাশয় সংস্কৃত অনুবাদ করিয়াছেন এইরূপ:—“মম উদ্যানবাটিকাং দৃষ্টবা খসম-সমতুল্যাম। কার্পাসপুষ্পম প্রস্ফুটিতম অত্যৰ্থং আনন্দিতঃ ভবতি।” বাড়ির বাগানে কার্পাসফুল ফুটিয়াছে, দেখিয়াই আনন্দ, যেন ঘরের চারপাশ উজ্জ্বল হইল, আকাশের অন্ধকার টুটিল। ইহা হইতেই বুঝা যায়, কার্পাসকে কতখানি মূল্য দেওয়া হইত তদানীন্তন বাঙলাদেশে। শান্তিপাদের একটি পদে আছে:–

    তুলা ধুনি আঁসুরে আঁসু।
    আঁসু ধুনি ধুনি নিরবীর সোসু ॥
    তুলা ধুনি ধুনি সুনে আহারিউ।
    পুন লইয়া অপনা চটারিউ ৷

    ভাবাৰ্থ এই : তুলা ধূনিয়া ধুনিয়া আঁশ তৈরি করা হইতেছে, আঁশ ধূনিয়া ধুনিয়া আর কিছু বাকি নাই। তুলা ধুনিয়া ধুনিয়া শূন্যে উড়াইতেছি; আবার তাহাই লইয়া ছড়াইয়া দিতেছি। হয়তো ইহার গৃঢ় অর্থ আছে; কিন্তু তুলা ধুনিবার যে ইহা একটি বাস্তব চিত্র, তাহাতে আর সন্দেহ কি? কাহ্নপাদের একটি পদে তাঁতবিক্রয়ের কথাও আছে; সাধারণত ডোমনীরাই বোধ হয় তাত (বাঁশের) তৈরি করিত [তান্তি বিকণঅ ডোম্বী অবর না চাংগেড়া (বাঁশের চাঙাড়ি)]। আর একটি পদের রচয়িতার নাম পাইতেছি। তন্ত্রীপাদ। তন্ত্রীপাদের বুৎপত্তিগত অর্থ হইতেছে, তাত-শিক্ষক অথবা তীতি-গুরু। ইহাই বোধহয় এই পদ-রচয়িতার পূর্বতন বৃত্তি ছিল। পরে তিনি ‘সিদ্ধা হইয়াছিলেন। এই অনুমানের কারণ পদটির ভিতরেই আছে। ইহার মূল বাঙলা পাওয়া যায় নাই; তবে তিব্বতী অনুবাদ হইতে প্ৰবোধচন্দ্র বাগচী মহাশয় যে সংস্কৃত অনুবাদ করিয়াছেন, তাহার কিয়দংশ হইতে বুঝা যাইবে, গীত ও সাধন-সংবদ্ধ সমস্ত রূপকটি গড়িয়া উঠিয়াছে বস্ত্রবয়নকে অবলম্বন করিয়া।

    কালপঞ্চকতন্ত্রং নির্মলং বঁস্ক্রিং বয়নং করোতি।
    অহং তন্ত্রী আত্মনঃ সূত্রম।
    আত্মনঃ সূত্রস্য লক্ষণং ন জ্ঞাতম ৷।
    সাৰ্দ্ধত্ৰিহস্তং বয়নগতিঃ প্ৰসরতি ত্ৰিধা।
    গগনং পূরণং ভবতি অনেন বস্ত্ৰবয়নেন ৷।

    নির্ধন ব্ৰাহ্মণের গৃহে নারীরা যে তুলা ধূনিয়া সূতা কাটিতেন তাহা কবি শুভাঙ্কের (আনুমানিক, একাদশ-দ্বাদশ শতক) একটি প্রশস্তি শ্লোকে জানা যায়।

    “কাপাসাস্থিপ্রচয়নিচিন্তা নিধান শ্রোত্ৰিয়াণাং
    যেষাং বাত্যাপ্রবিতত কুটীপ্রাঙ্গণান্তা বভুবুঃ ।” (সদুক্তিকর্ণামৃত)।

    সমসাময়িক কালেরই আর একজন অজ্ঞাতনামা কবি বঙ্গ-বারাঙ্গনাদের সূক্ষ্ম বসনের (বাসঃ সূক্ষ্মং বপুষি)। উল্লেখ করিয়াছেন (সদুক্তিকর্ণামৃত)। চতুর্দশ শতকে তীরভূক্তিবাসী জ্যোতিরীশ্বর তাহার বর্ণরত্নাকর গ্রন্থে বাঙলাদেশের ‘মেঘ-উদুম্বর’, ‘গঙ্গা-সাগর’, ‘লক্ষ্মীবিলাস’, ‘সিলহটী’ (শ্ৰীহট্ট-জাত), ‘গাঙ্গেরী’ ইত্যাদি পট্ট ও নেতবস্ত্রের উল্লেখ করিয়াছেন।

    উপরের এই আলোচনা হইতেই বুঝা যাইবে, কার্পাসের চাষ, গুটিপোকার চাষ, কার্পাস ও অন্যান্য বস্ত্ৰশিল্পই ছিল প্রাচীন বাঙলার সর্বাপেক্ষা প্রশস্ত শিল্প এবং ধনোৎপাদনের অন্যতম উপায়। পট্টবস্ত্ৰ বা পাটের কাপড়ের শিল্পও ছিল, এবং নানা উপলক্ষে, বিশেষভাবে পূজা, ব্ৰত, বিবাহানুষ্ঠান ইত্যাদি ব্যাপারে। পট্টবস্ত্রের ব্যবহারেরও খুব প্রচলন ছিল। মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যে পট্টবস্ত্রের উল্লেখ সুপ্রচুর। পাটের চাষ এখনকার মতো বিস্তৃত না হইলেও ছিল যে সন্দেহ নাই, এবং পাটের কচিপাতা বা নালিত শাক এখনকার মতো তখনও বাঙালীর প্রিয় খাদ্য ছিল। প্রাকৃত-পৈঙ্গল-গ্রন্থে সে কথার প্রমাণ আছে, অন্যত্র তাহা উল্লেখ করিয়াছি।

     

    চিনি, লবণ ও মৎস্য শিল্প

    বস্ত্ৰশিল্পের পরেই উল্লেখ করিতে হয় চিনি, লবণ ও মৎস্যের কথা। একটু পরেই এ সম্বন্ধে বিস্তৃত উল্লেখ করা হইয়াছে। চিনি মারফত দেশে প্রচুর অর্থগম হইত বলিয়া মনে হয়। পৌণ্ডক ইক্ষু হইতে যে প্রচুর চিনি উৎপন্ন হয় এ কথা সুশ্রুত বহুদিন আগেই বলিয়াছেন। ত্ৰয়োদশ শতকে বাঙলাদেশ হইতে প্রধান রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে চিনির উল্লেখ করিয়াছেন মার্কে পোলো। ষোড়শ শতকের গোড়ায়ও ভারতের বিভিন্ন দেশে, সিংহলে, আরব ও পারস্য প্রভৃতি দেশে চিনি রপ্তানি লইয়া দক্ষিণ-ভারতের সঙ্গে বাঙলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতেছে, এ সাক্ষ্য দিতেছেন পর্তুগীজ পর্যটক বারবোসা। লবণের ব্যাবসা লইয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কড়াকড়ির কথা সুবিদিত; ইহা হইতেই অনুমান হয়, অষ্টাদশ শতকেও লবণের ব্যাবসা খুব লাভজনকই ছিল। মৎস্যের একটা বিস্তৃত আন্তদেশীক ব্যাবসা নিশ্চয়ই ছিল, কঁচা এবং শুকনা মৎস্য দুয়েরই। বাঙলাদেশ তো চিরকালই মৎসাহারী, এবং বাঙালী স্মৃতিকার ব্ৰাহ্মণ ভবদেব ভট্ট যেমন করিয়া বাঙালীর মৎস্যাহারের সপক্ষে যুক্তি দিয়াছেন তাহাতে মনে হয়, আজিকার মতন তখনও বাঙলার বাহিরে বাঙালীর এই মৎস্যগ্ৰীতি সম্বন্ধে একটা ঘূণার ভাব ছিল। ভবদেব ভট্ট নানাপ্রকার মৎস্যের উল্লেখ করিয়াছেন; শুকনা মাছের কথাও বলিয়াছেন। দুইই ছিল ভক্ষ্য এবং সেই হেতু ব্যাবসা-বাণিজ্যের অন্যতম দ্রব্য। যে-ভাবে দান-বিক্রয়ের পট্টোলীগুলিতে মৎস্যের উল্লেখ করা হইয়াছে তাহাতেই মনে হয়, এই দ্রব্যটির মূল্য ও চাহিদা যথেষ্টই ছিল; পাহাড়পুরের ২/১ টি পোড়ামাটির ফলকে তাহার ইঙ্গিতও আছে।

     

    কারুশিল্প : তক্ষণ ও স্থাপত্যশিল্প;
    অলংকার শিল্প; লৌহশিল্প; মৃৎশিল্প; কাষ্ঠশিল্পী; দন্তশিল্প; কাংস্যশিল্প

    কারুশিল্পও কম ছিল না। তাহার লিপি-প্রমাণ বিশেষ নাই, কিন্তু অনুমান সহজেই করা চলে। তক্ষণ ও স্থাপত্যশিল্প, স্বর্ণ ও রৌপ্যশিল্পের কথা আগেই প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করিয়াছি; এখানে আর বিস্তৃত করিয়া উল্লেখ করিবার বিশেষ কিছু নাই। সোনা, রূপা, মণি, হীরা ও বিচিত্র দ্যুতিময় প্রস্তরসজ্জিত নানা অলংকার বিত্তশালী সমাজে ব্যবহৃত হইত, এ কথা তো সহজেই অনুমেয়। অন্যত্র উল্লিখিত বিচিত্র দেবদেবীর অলংকরণ। ঐশ্বর্য দেখিলে তাহা বুঝিতে বিলম্ব হয় না। তবকত্ব-ই-নাসিৱী গ্রন্থে উল্লেখ আছে, লক্ষ্মণসেন সোনা ও রূপার বাসনে আহার করিতেন। ইহা কিছু অত্যুক্তি নয়। রাজারাজড়া তো করিতেনই, বণিক সাধু-সওদাগরেরাও করিতেন; তাহার কিছু আভাস মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যেও আছে। রামচরিত কাব্যে মণিময় ঘুঙুর, মুক্তা, হীরা ও নানা বিচিত্ৰবৰ্ণ প্রস্তরখচিত অলংকারের উল্লেখ আছে; বিজয়সেনের দেওপাড়া লিপি, লক্ষ্মণসেনের নৈহাটীলিপি এবং অন্যান্য লিপিতে দেবদাসী, রাজান্তঃপুরের নারী ও পরিচারিকদের নানা মূল্যবান অলংকার-সজ্জার উল্লেখ আছে। এই বিলাস ঐশ্বর্যের প্রদর্শনী সেন আমলেই বেশি আত্মপ্রকাশ করিয়াছিল বলিয়া মনে হয়। লৌহশিল্পও ছিল; দুই-একটি শাসনে কর্মকার তো রাজপাদোপজীবী বলিয়াই উল্লিখিত হইয়াছেন। চাও-জু-কুয়া যে বলিয়াছেন, বাঙলাদেশে দুমুখো খুব ধারালো তলোয়ার তৈরি হয়, তাহার মধ্যে লৌহ ইত্যাদি ধাতুশিল্পে এ দেশের শিল্প-কৃতিত্ব প্রকাশ পাইতেছে। লৌহশিল্পের প্রচলন যে খুবই ছিল তাহা অনুমান করা কঠিন নয়। কর্মকারের সুপ্রাচুর্য না থাকিলে তো কৃষিকর্ম এবং কৃষিসমাজ চলিতেই পারে না। দা, কুড়াল, কোদালি, খন্তা, খুরপি, লাঙ্গল ইত্যাদি ছাড়া লোহার জল-পাত্ৰ (ইদিলপুর লিপি), তীর, বর্শা, তরোয়াল ইত্যাদি যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্ৰও প্রচুর তৈরি হইত। অগ্নিপুরাণের মতে অঙ্গ ও বঙ্গদেশ তরোয়ালের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল; বঙ্গদেশীয় তরোয়াল নাকি ছিল খুব শক্ত ও ধারালো। কুম্ভকারের মৃৎশিল্পের প্রচলন ছিল খুব। কুম্ভকারের উল্লেখ ২/১ টি লিপিতে আছে (যথা, বৈদ্যদেবের কমীেলি লিপি), এবং একাধিক লিপিতে কুম্ভকার-গর্তের উল্লেখও আছে (যথা, নিধনপুর লিপি)। এই উল্লেখ-প্রসঙ্গ হইতে মনে হয়, কুম্ভকার-বৃত্তির কেন্দ্র ছিল গ্রাম। পোড়ামাটির নানা প্রকারের থালা, বাটি, জলপাত্র, রন্ধনপাত্র, দোয়াত, প্ৰদীপ ইত্যাদি। পাহাড়পুরের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে, বজযোগিনীর সন্নিকটস্থ রামপালে, ত্রিপুরায় ময়নামতীর ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পাওয়া গিয়াছে। পাহাড়পুর, মহাস্থান, সাভার ইত্যাদি স্থানে প্রাপ্ত অসংখ্য পোড়ামাটির ফলকও বিস্তৃত মৃৎশিল্পের সাক্ষ্য বহন করিতেছে।

    শ্ৰীহট্ট জেলার ভাটেরা গ্রামে প্রাপ্ত গোবিন্দ-কেশবের শাসনে আমরা রাজবিগ নামে জনৈক দন্তকারের উল্লেখ পাইতেছি; মনে হইতেছে, হস্তিদন্ত-শিল্পের প্রচলনও ছিল, কেশবসেনের ইদিলপুর লিপিতে দ্বিপদন্ত-দণ্ড শিবিকার উল্লেখ পাইতেছি। সূত্রধরের উল্লেখও কয়েকটি লিপিতে পাইতেছি। আশ্চর্যের বিষয় এই, ইহাদের উল্লেখ তাম্রপট্টগুলির খোদাইকররূপে; লিখিত শাসন ইহারাই তাম্রপট্টে উৎকীর্ণ করিতেন। এই অর্থে আমরা এখন আর এই শব্দটি ব্যবহার করি না, কিন্তু যে-যুগের কথা আমরা বলিতেছি সেযুগে যে ব্যবহৃত হইত, তাহাতে সন্দেহ নাই। না হইবারও কারণও নাই। সূত্ৰধর যে শুধু কাঠ-মিস্ত্রী, তাহাই নয়; আমাদের প্রাচীন বাস্তু-শাস্ত্ৰে (যেমন, মানসারে) সূত্রধর বলিতে স্থপতি, তক্ষণকার, খোদাইকর, কাঠ-মিস্ত্রী সকলকেই বুঝাইত। কাঠের শিল্পের প্রচলনও কম ছিল না। কাঠের তৈরি ঘরবাড়ি কালের ভ্ৰক্ষেপ উপেক্ষা করিয়া আজ আর বাঁচিয়া নাই, কিন্তু স্তম্ভ, খিলান, খুঁটি ইত্যাদির ২/৪ টি টুকরা আজও যাহা পাওয়া যায় তাহাদের কারু ও শিল্পনৈপুণ্য বিস্ময়কর। ঢাকার চিত্রশালায় তেমন নিদর্শন কয়েকটি আছে। সংসারের আসবাবপত্র, ঘরবাড়ি, মন্দির, পালকি, গোরুর গাড়ি, রথ, বিশেষভাবে নদীগামী নানাপ্রকার নৌকা ও সমুদ্রগামী বৃহদাকৃতি নৌকা বা জাহাজ ইত্যাদি সমস্তই তো ছিল কাঠের। সেই দিক দিয়া দেখিলে কাষ্ঠশিল্পের সমৃদ্ধি সহজেই অনুমেয়, এবং সমাজের মধ্যে এই শিল্পীদের একটা স্থানও ছিল। সাধারণ ভাবে শিল্পী ও শিল্পীগোষ্ঠীর কথার আভাস তো বিজয়সেনের দেওপাড়া লিপির খোদাইকর রাণিক শূলপাণির “বারেন্দ্রক শিল্পীগোষ্ঠীচুড়ামণি” এই বিশেষণটির মধ্যেও আছে। তাহা ছাড়া, পঞ্চম হইতে অষ্টম শতকের তাম্রপট্টোলীগুলিতে ভূমি দান-বিক্রয় ব্যাপারে বিষয়পতি বা অন্য রাজপ্রতিনিধি রাষ্ট্রের পক্ষ হইতে যে-কয়জন প্রধানের মতামত গ্ৰহণ করিতেন, অর্থাৎ যে-কয়জনে মিলিয়া অধিকরণ গঠিত হইত, তাহাদের মধ্যে প্রথম-কুলিক সর্বদাই অন্যতম। কুলিক অর্থ শিল্পী (artisan); এই প্রথম-কুলিক খুব সম্ভবত ছিলেন শিল্পীগোষ্ঠী বা নিগমের প্রধান প্রতিনিধি। নগরের অথবা বিষয়ের শ্রেষ্ঠ গণ্যমান্য শিল্পী যিনি ছিলেন, তিনিই এই জাতীয় অধিকরণে আসন লইবার জন্য আহুত হইতেন। রাজপাদােপজীবীদের মধ্যেও কোথাও কোথাও কুলিক বা শ্রেষ্ঠ শিল্পীর নাম পাওয়া যাইতেছে। পূর্বোল্লিখিত ভাটেরা গ্রামের গোবিন্দ-কেশবদেবের লিপিতে গোবিন্দ নামে এক কাংস্য অর্থাৎ কাংস্যকার বা কাসারীর উল্লেখ পাইতেছি। কঁাসা বা bell-metal এর শিল্পের আভাসও তাহা হইলে কিছু পাওয়া গেল। নানাপ্রকার মিশ্র ধাতুশিল্পের প্রমাণ ও পরিচয় আরও পাওয়া যায় অসংখ্য ব্রোঞ্জ ও অষ্টধাতুর রচিত মূর্তিগুলির মধ্যে।

     

    নৌশিল্প

    সকল শিল্পের মধ্যে নৌশিল্প বা নদীগামী নৌকা ও সমুদ্রগামী পোত-নির্মাণ শিল্পের একটা বিশেষ স্থান নিশ্চয়ই ছিল; তাহার প্রমাণ শুধু বর্তমান চট্টগ্রামে কিংবা মধ্যযুগীয় বাঙলা সাহিত্যে নয়, প্রাচীন বাঙলার লিপিগুলিতে এবং সংস্কৃত সাহিত্যেও ইতস্তত ছড়াইয়া আছে। মৌখরী-রাজা ঈশানবর্মের হড়াহা লিপিতে (ষষ্ঠ শতকের দ্বিতীয় পাদ) গৌড়দেশবাসীদের (গৌড়ান) “সমুদ্রাশ্রয়ান” বলা হইয়াছে; ইহার অর্থ সমুদ্র-তীরবর্তী গৌড়দেশ হইতে পারে, অথবা সামুদ্রিক বাণিজ্যই যাহার আশ্রয়, সেই গৌড়দেশও বুঝাইতে পারে। কালিদাস রঘুবংশে রঘুর দিগ্বিজয় প্রসঙ্গে বাঙালীকে “নৌসাধনোদ্যতান” বলিয়া পরিচয় দিয়াছেন। পাল ও সেন বংশের লিপিমালায় নৌবাটি, নৌবিতান (fleet of boats) প্রভৃতি শব্দ তো প্রায়শ উল্লিখিত হইয়াছে। এই উভয় রাজবংশের, এবং সমসাময়িক বাঙলাদেশের অন্যান্য রাজবংশেরও, সামরিক শক্তি নৌবলের উপর অনেকটা নির্ভর করিত; ইহার উল্লেখ তো অনেক শিলালিপিতেই আছে। বৈদ্যদেবের কমীেলি লিপিতে নৌযুদ্ধের বর্ণনাও আছে। সাধারণ লোকদের যাতায়াত এবং ব্যাবসা-বাণিজ্যের জন্য নৌযানের প্রয়োজন ছিল যথেষ্ট এই নদীমাতৃক, খাড়িপ্রধান, বারিবহুল, এবং বহুলাংশে নিম্নভূমির দেশে ইহা তো স্বাভাবিক এবং সহজেই অনুমেয়। বৈন্যগুপ্তের গুণাইঘর লিপিতে (৫০৭-৮ খ্ৰী) নৌযোগ অর্থাৎ নৌকাঘাট বা বন্দর বা পোতাশ্রয়ের উল্লেখ আছে; এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, যে ভূমি-সীমানা সম্পর্কে এই নৌযোগের উল্লেখ, সেই ভূমি ত্রিপুরা জেলার গুণাইঘর গ্রামের নিকটবতী জলপ্লাবিত দেশে। ফরিদপুর জেলায় প্রাপ্ত মহারাজ ধর্মদিত্যের ১ নং তাম্রপট্টোলীতে ভূমির সীমা সম্পর্কে “নাবাত-ক্ষেণী” কথা উল্লেখ আছে। “নাবাত” পাঠ খুব শুদ্ধ বলিয়া মনে হয় না, প্রকাশিত প্ৰতিলিপিতে “ভাবতা” পোঠই সমীচীন মনে হয়; কিন্তু “দ্ভাবতা-ক্ষেণী” কথার কোনও সংগত অর্থ এস্থলে করা যায় না। সেইজন্য পার্জিটার সাহেবের আনুমানিক পাঠ “নাবাত-ক্ষেণী” আপাতত স্বীকার করা যাইতে পারে তিনি ইহার অনুবাদ করিয়াছেন, Ship-building harbour)। ধর্মাদিত্যের ২ নং শাসনে অন্য একটি ভূমির সীমা সম্পর্কে “নৌদণ্ডক” কথার উল্লেখ আছে, বোধ হয় “নৌদণ্ডক” কথার অর্থও নৌকার আশ্রয়, নৌকা যেখানে বাধা হইত সেই স্থা , অর্থাৎ বন্দর, ঘাট। এইসব উল্লেখ হইতে স্পষ্টই বুঝা যায়, নদনদীগামী ছােটবড় নৌকা, সমুদ্রগামী পোত ইত্যাদি নির্মাণ-সংক্রান্ত একটা সমৃদ্ধ শিল্প ও ব্যবসায় প্রাচীন বাঙলায় নিশ্চয়ই ছিল। রক্তমৃত্তিকাবাসী মহানাবিক বুদ্ধগুপ্তের কাহিনী সুপরিচিত। ভাটেরার গোবিন্দকেশবের লিপিতেও জনৈক নাবিক দ্যোজ্যের উল্লেখ পাইতেছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়
    Next Article পুরাণী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নীহাররঞ্জন রায়

    বাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }