Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাঙালীর ইতিহাস (আদিপর্ব) – নীহাররঞ্জন রায়

    নীহাররঞ্জন রায় এক পাতা গল্প1452 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. ভূমির মাপ ও মূল্য

    ভূমির মাপ ও মূল্য

    পঞ্চম হইতে সপ্তম শতক পর্যন্ত প্রাচীন বাঙলায় লিপিগুলিতে ভূমির মাপের ক্রম খুব সহজেই ধরিতে পারা যায়। সর্বোচ্চ ভূমিমান হইতেছে কুল্য অথবা কুল্যবাপ, তারপর দ্রোণ বা দ্রোণবাপ এবং সর্বনিম্ন মাপ আঢ়বাপ। কুল্য, দ্রোণ এবং আঢ় (পরবর্তী লিপিগুলির আঢ়ক, বর্তমান পূর্ববাঙলার আঢ়া) সমস্তই শস্যমান; এই শস্যমান দ্বারাই ভূমিমান নিরূপিত হইয়াছিল, ইহা কিছু অস্বাভাবিক নয়।

    কুল্য বা কুল্যবাপ।। যে ভূমিতে বপন করা হয়, তাহা বাপক্ষেত্র; “উপ্যতেহস্মিন ইতি বাপঃক্ষেত্রম”। যে পরিমাণ বাপক্ষেত্রে এক কুল্য বীজ শস্য বপন করা যায়, সেই পরিমাণ ভূমি এক কুল্যবাপ ভূমি। দ্রোণবাপ এবং আঢ়বোপও যথাক্রমে এক দ্রোণ ও এক আঢ় বা আঢক শস্যবাপনযোগ্য ভূমি। কাহারও কাহারও মতে কুল্য পূর্ববাঙলার কুলা; এক কুল্য শস্য অর্থাৎ একটি কুলায় যত ধান বা শস্য ধরে তাহার বীজ যতটা পরিমাণ ভূমিতে বপন করা হয় তাহাই কুল্যবাপ। মৈমনসিংহ-শ্ৰীহট্ট-কাছাড় অঞ্চলে এখনও কুলুবায় কথা প্রচলিত, তাহাও কুল্যবাপ কথারই ভগ্ন রূপ।

    দ্রোণবাপ ও আড়বাপ ৷। দ্রোণ (== কলস) বর্তমানে বাঙলার বহু জেলার পল্লীগ্রামে দোনে বা ডোনে রূপান্তরিত হইয়াছে। আঢ় এখনও আঢ়া নামে প্রচলিত। প্রাচীন আর্য ও কোষকারদের মতে এক কুল্যবাপ ভূমি আট দ্রোণবাপের সমান, এক দ্রোণবাপ চার আঢ়বাপের সমান, এক আঢ়বাপ চার প্রস্থের সমান। এক কুল্যবাপ যে আট দ্রোণের সমান, তাহা লিপিপ্রমাণ দ্বারাও সমর্থিত হয়। পাহাড়পুর-লিপিতে ১২ দ্ৰোণবাপ যে ১ ১/২ (দেড়) কুল্যবাপের সমান, তাহা পরিষ্কার ধরা যায়। বৈগ্রাম-লিপির ইঙ্গিতও তাহাই।

    এই ইঙ্গিত প্রাচীন সাহিত্য-ঐতিহ্য দ্বারাও সমর্থিত হয়। কুল্যই হোক আর দ্রোণই হোক, এ-সমস্তই ধান্যের আধার, যেহেতু ধান্যই বাঙলার প্রধানতম শস্য। মনুসংহিতায় দ্রোণ বলিতেই ধান্যদ্রোণের উল্লেখ, এবং এই ধান্যদ্রোণেরই ব্যাখ্যা করিয়াছেন বাঙালী কুলুকভট্ট। এই কুলুকভট্ট, রঘুনন্দন এবং শব্দকল্পদ্রুম কোষ-সংকলয়িতার মতে :

    ৮ মুষ্টি = ১ কুঞ্চি
    ৮ কুঞ্চি = ১ পুস্কল
    ৪ পুস্কলে = ১ আঢ়ক (আঢ়)
    ৪ আঢ়কে = ১ দ্রোণ

    এবং মেদিনীকোষের মতে ৭ দ্রোণ = ১ কুল্য। শব্দকল্পদ্রুমে বলা হইয়াছে, এক আঢ়কে সাধারণত ১৬ হইতে ২০ সের ধান ধরে, অর্থাৎ এক দ্রোণে ৬৪ হইতে ৮০ সের, এক কুল্যে ৫১২ হইতে ৬৪০ সে অর্থাৎ ১২ মন ৩২ সের হইতে ১৮ মন। এই পরিমাণ ধানের বীজ যে পরিমাণ ভূমিতে বপন করা হইত। সেই পরিমাণ ভূমি হয়তো এক কুল্যবাপ। কিন্তু এ সম্বন্ধে স্থির নিশ্চয় করিয়া কিছু বলিবার উপায় নাই।

    কুল্যবাপাই হোক, আর দ্রোণবাপ বা আঢ়বাপ যাহাই হোক, মাপা হইত। নলের সাহায্যে; এই নলই হইতেছে প্রাচীন উত্তর ও পূর্ববাঙলার প্রচলিত মানদণ্ড। বৈগ্রাম, পাহাড়পুর এবং ফরিদপুরের তিনটি পট্টোলীতেই বলা হইতেছে ৮, ৯ নলে (অষ্টক নব-নল্যাভ্যাম) এক মান। কিন্তু এই মান কি প্রস্থ × দৈর্ঘ্যের মান, ৮ এবং ৯ দুই প্রকার নলের মান, কুল্যবাপের মান, দ্রোণবাপ না আঢ়বাপের মান, তাহা সঠিক বলিবার উপায় নাই। এই নলেরও দৈর্ঘ্য নির্ভর করিত ব্যক্তিবিশেষের হস্তের দৈর্ঘ্যের উপর। বৈগ্রাম-লিপি অনুসারে দরকবীকৰ্ম নামক জনৈক ব্যক্তির হাতের মাপে, ফরিদপুর-লিপিত্ৰয় অনুসারে শিবচন্দ্ৰ নামক কোনও ব্যক্তির হাতের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী। অবশ্য ইহাদের হাতের মাপ গড়পড়তা সাধারণ হাতের দৈর্ঘ্যের মাপ কিংবা তার চেয়ে একটু বেশি বলিয়া মনে করিলে কিছু অন্যায় করা হইবে না। এই ধরনের ব্যক্তিবিশেষের হাতের মাপের মান অষ্টাদশ শতকের মধ্যপাদেও বাঙলাদেশে প্রচলিত ছিল। রাজশাহীর নাটোর অঞ্চলে রামজীবনী হাতের মান তো সেদিনকার স্মৃতি।

    ষষ্ঠ শতক ও অষ্টম শতকের দুইটি লিপিতে ভূমি-মাপের একটি নূতন মানের সংবাদ জানা যাইতেছে। বৈন্যগুপ্তের গুণাইঘরপট্টোলী এবং দেবখড়গের ১নং আস্রফপুৱা-পট্টোলীতে পাটক নামে একটি মানের উল্লেখ আছে, এবং তাহার পরের ক্রমেই যে মানের নাম উল্লেখ আছে তাহা দ্রোণবাপ। দ্রোণের সঙ্গে পাটকের সম্বন্ধের ইঙ্গিত এই দুইটি পট্টোলীর দত্ত ভূমির পরিমাণ বিশ্লেষণ করিলে হয়তো পাওয়া যাইতে পারে। আস্রফপুর-পট্টোলীটি বিশ্লেষণ করিলে দেখা যায়, ৫০ দ্রোণে এক পাটক হয়। কিন্তু আস্রফপুর-পট্টোলীর পাঠের নির্ধারণ সন্দেহাতীত নয়। তাহা ছাড়া, সন্দেহ করিবার আরও কারণ গুণাইঘর লিপির সাক্ষ্য। এই পট্টোলী দ্বারা মহারাজ রুদ্রদত্ত পাচটি পৃথক ভূখণ্ডে সর্বশুদ্ধ ১১ পাটক ভূমি দান করিয়াছিলেন; এই পাঁচটি ভূখণ্ডের পরিমাপ তালিকাগত করিলে এইরূপ দাঁড়ায় :

    ১ম ভূখণ্ড – ৭ পাটক ৯ দ্রোণবাপ
    ২য় ভূখণ্ড – ০ পাটক ২৮ দ্রোণবাপ
    ৩য় ভূখণ্ড – ০ পাটক ২৩ দ্রোণবাপ
    ৪র্থ ভূখণ্ড – ০ পাটক ৩০ দ্রোণবাপ
    ৫ম ভূখণ্ড – ১ ৩/৪ পাটক ০ দ্রোণবাপ
    ———————————————
    মোট – ৮ ৩/৪ পাটক ৯০ দ্রোণবাপ

    আগেই বলিয়াছি, দত্ত ভূমির মোট পরিমাণ ১১ পাটক। তাহা হইলে ৯০ দ্রোণে হইতেছে ২৪ পাটক, অর্থাৎ ৪০ দ্ৰোণে এক পাটক, এ কথা সহজেই বলা চলে। আগে দেখিয়াছি, ৮ দ্ৰোণে এক কুল্যবাপ, তাহা হইলে ৫ কুল্যবাপ = ১ পাটক।

    পাটক এখানে নিঃসন্দেহে ভূমি মাপের মান। কিন্তু আম্রফপুর-লিপি দুটিতেই প্রমাণ পাওয়া যাইবে, পাটক কথাটি গ্রাম বা গ্ৰামাংশ অর্থেও ব্যবহৃত হইত। তালপোটক, মৰ্কটাসী পাটক, বৎসনাগ পাটক, দীর পাটক এবং এইজাতীয় পাটকান্ত যত নাম, সমস্তই গ্রাম বা গ্রামাংশের নাম। বস্তুত বাঙলা পাড়া কথাটি পাটক হইতে উদ্ভূত বলিয়াই মনে হয়, অথবা দেশজ পাড়া হইতে পাটক। তলপাটক = তলপাড়া, ভট্টপাটক = ভাটপাড়া, মধ্যপাটক = মধ্যপাড়া, ইত্যাদি পাটকান্ত নাম তো এখনও বাঙলাদেশের সর্বত্র সুপরিচিত। এ জাতীয় নাম প্রাচীন বাঙলার লিপিগুলি হইতেও জানা যায়। বাঙলার বাহিরেও এই জাতীয় নামের অভাব নাই, যেমনমূলবর্মপাটক গ্রাম, বিশালপোটক গ্রাম ইত্যাদি। গ্রাম বা গ্রামাংশ (= পাড়া) অর্থে পাট, পাটক কথা উত্তর ও পশ্চিম-ভারতে পড় বা পড্রকরূপে ব্যবহৃত হইয়াছে, যথা- বড়পড্রকাভিধান গ্রাম, শমীপড্রক গ্রাম, শিরীষপড্র গ্রাম ইত্যাদি। পাট=পড্র=গ্রাম; ক্ষুদ্র গ্রামার্থেক প্রত্যয় যোগে নিম্পন্ন হয়। পাটক= পড্রক = পাড়া বা গ্রামাংশ বা ছোট গ্রাম।

    পাল-সম্রাটদের আমলে ভূমি পরিমাপের মান কী ছিল তাহা জানিবার উপায় নাই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দানের বস্তু হইতেছে একটি বা একাধিক সম্পূর্ণ গ্রাম; বোধ হয় ইহা অন্যতম কারণ। একাদশ শতকে শ্ৰীচন্দ্রের রামপাল তাম্রপট্টে দেখিতেছি, সর্বোচ্চ ভূমি-মান হইতেছে পাটক। অষ্টম শতকে এই মান ফরিদপুরে প্রচলিত ছিল; একাদশ শতকে বিক্রমপুরেও দেখিলাম। মোটামুটি এই শতকেই শ্ৰীহট্টে দেখি, উচ্চতম মান হইতেছে হল। কেহ কেহ মনে করেন। কুলুবায়েরই অপর নাম হল বা হাল। যাহাই হউক, গোবিন্দকেশবের ভাটেরা তাম্রপট্টে ২৮ টি গ্রামে ২৯৬ টি বাস্তুভিটা এবং ৩৭৫ হল জমি ছিল; নিম্নতম মান ছিল ক্ৰান্তি। শ্ৰীহট্টে ভূমি-পরিমাপের বর্তমান ক্রম এইরূপ :

    ৩ ক্রান্তি = ১ কড়া
    ৪ কড়া =  ১ গণ্ডা
    ২০ গণ্ডা = ১ পণি
    ৪ পণ =  ১ রেখা
    ৪ রেখা = ১ ষষ্ঠী
    ৭ ষষ্ঠী = ১ পোয়া
    ৪ পোয়া = ১ কেদার বা কেয়ার
    ১২ কেয়ার = ১ হল ( = ১০ ১/২ (সাড়ে দশ) বিঘা = ৩ ১/৪ (শোয়া তিন) একর)

    শ্ৰীচন্দ্রের রামপাল শাসনে উচ্চতম ভূমিমান দেখিয়াছি পাটক, কিন্তু এই রাজারই ধুল্লা-শাসনে উচ্চতম মান দেখিতেছি হল, এবং দত্ত ভূমিগুলি তো বিক্রমপুরে বলিয়াই অনুমান হয়। একাদশ শতকে বিক্রমপুরে কি পাটক ও হল, এই দুই মানই প্রচলিত ছিল? যদি তাঁহাই হয়, তাহা হইলে পাটকের সঙ্গে হলের সম্বন্ধ কি? যাহাই হউক, ধুল্লা-শাসন হইতে এই খবরটুকু পাওয়া যাইতেছে যে, হলের নিম্নতর ক্রম হইতেছে দ্ৰোণ; কিন্তু দ্রোণের সঙ্গে হলের সম্বন্ধ নির্ণয় করা যাইতেছে না। দ্বাদশ শতকে ভোজ্যবর্মার বেলব লিপিতে উচ্চতম ভূমিমান পাটক এবং নিম্নতর মান দ্ৰোণ; এ দুয়ের সম্বন্ধ যে কী, তাহা আগেই দেখিয়াছি। সেন-রাজাদের লিপিগুলিতেও উচ্চতম মান পাটক অথবা ভূপাটক। এই লিপিগুলি বিশ্লেষণ করিয়া ভূমিমানের যে ক্রম পাওয়া যায় তাহা এইরূপ : ১. পাটক বা ভূপাটক, ২০ দ্রোণ বা ভূদ্রোণ, ৩. আঢ্যক বা আঢ়াবাপ, ৪- উন্মান বা উদান বা উয়ান, ৫- কাক বা কাকিণী বা কাকিণিকা। পাটকের সঙ্গে দ্রোণের এবং দ্রোণের সঙ্গে আঢ়ক বা আঢ়াবাপের সম্বন্ধ ইতিপূর্বেই আমরা জানিয়াছি, কিন্তু আঢকের সঙ্গে উন্মানের বা উন্মানের সঙ্গে কাকের সম্বন্ধের কোনও ইঙ্গিত লিপিগুলিতে পাওয়া যাইতেছে না ৷ লক্ষ্মণসেনের সুন্দরবন পট্টোলীতে উপরোক্ত ক্রমের একটু ব্যতিক্রম পাওয়া যায়; দ্রোণের নিম্নতর ক্রম দেওয়া হইয়াছে খড়িক (?), এবং তাহার পর যথারীতি উন্মান ও কাকিণী। খড়িকা মান যে ছিল তাহার প্রমাণ এই রাজারই মাধ্যাইনগর পট্টোলীতেও আছে; সেখানে উচ্চতর মান ভুখাড়ী এবং তাহার পরেই খাড়ীকা। কিন্তু খাড়ীকার সঙ্গে দ্রোণের অথবা ভুখাড়ীর সঙ্গে খাড়ীকার সম্বন্ধ নির্ণয়ের কোন ইঙ্গিত লিপিগুলিতে নাই। তবে লক্ষ্মণসেনের সুন্দরবন লিপিতে একটু ইঙ্গিত যাহা আছে তাহা উল্লেখ করা যাইতে পারে।

    ১২ অঙ্গুলি = ১ হাত
    ৩২ হাত = ১ উন্মান (উয়ান)।

    এই সম্বন্ধ নির্ণয় এবং এ পর্যন্ত যে-সমস্ত ভূমিমানের উল্লেখ করিয়াছি, তাহার যথাযথ মর্ম গ্ৰহণ করিতে হইলে প্রাচীন আর্যাশ্লোক এবং প্রচলিত ভূমি-পরিমাপ রীতির একটু পরিচয় লওয়া প্রয়োজন।

    এ ইঙ্গিত আমি আগেই করিয়াছি যে, শস্যভাণ্ডমানের সাহায্যেই প্রাচীন কালে ভূমিমান নির্ধারিত হইয়াছিল। কুল্যবাপ, দ্ৰোণবাপ, আঢ়বাপ ইত্যাদি নামই তাহার প্রমাণ। পাটক বোধহয় গোড়াতেই ছিল ভূমিমান। হলও তাহাই। খাড়ী (শুদ্ধ, খারী) কিন্তু শস্যভাণ্ডমান বলিয়াই মনে হয়, খাড়ী উচ্চতর মান, খাড়ীকা (ক-প্রত্যয় যোগে নিষ্পন্ন, ক্ষুদ্রার্থে) বোধহয় নিম্নতর মান। খারী যে শস্যমান, তাহার প্রমাণ আমরকোষে আছে :

    দ্ৰোণাঢ়কদিব্যাপাদৌ দ্ৰৌণিকাঢ়কিকাদয়ঃ।
    খারাবাপন্তু খারাকঃ।

    কাক বা কাকিণী গোড়ায় বোধ হয় ছিল মুদ্রামান। শ্ৰীধরের ত্ৰিশতিকায় একটি আর্যা আছে :

    ষোড়শপণঃ পুরাণঃ পণ্যো ভবেৎ কাকিণীচতুষ্কেণ।
    পঞ্চাহতৈশ্চতুর্ভ্যির্বরাটকৈঃ কাকিণী হ্যেক ৷।

    উন্মান অর্থই বোধ হয় তুলামান। কিন্তু গোড়ায় এইসব মান মুদ্রামান, ভাণ্ডমান, তুলামান বা ভূমিমান যাহাই থাকুক, উত্তর কালে ইহারা ভূমিমান নির্দেশে ব্যবহৃত হইত। উন্মান এবং কাকিণী। ছাড়া আর সমস্ত মানই হয় ভূমিমান, না হয় শস্যভাণ্ডমান। সেন আমলের লিপিগুলিতেই প্রথম দেখিতেছি, এই ভূমিমান ও শস্যমানের সঙ্গে তুল্যমান ও মুদ্রামান সম্পর্কিত করা হইয়াছে। ইহা হইতে একটা অনুমান বোধ হয় সহজেই করা যায়। প্রাচীনতর কালে ভূমি যখন সুলভ ছিল, চাহিদা যখন খুব বেশি ছিল না, তখন ভূমির মাপের এত চুলচেরা বিচারও ছিল না। পাটকের অর্থাৎ গ্রামাংশের মোটামুটি আয়তন একটা সকলেরই জানা ছিল, দুই-চার বিঘা। এদিক-ওদিক হইলে বিশেষ কিছু আসিয়া যাইত না। পরবর্তী কালে ভূমির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য পাটকের মাপজোখও নিশ্চয়ই সুনির্দিষ্ট হইয়াছিল। কুল্যবাপ, দ্রোণবাপ, আঢ়বাপ, হল ইত্যাদি সম্বন্ধেও একই কথা বলা চলে। সুলভ ভূমির যুগে কতখানি ভূমিতে মোটামুটি কত বীজ ধান লাগে, কত লাঙ্গল লাগে, এই দিয়াই মোটামুটি জমির পরিমাণ নির্ণীত হইত। ক্ৰমে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাপজোখ নির্দিষ্টতর হইতে থাকে, এবং ক্রমশ আরও নিম্নতর মান নির্দেশের প্রয়োজন হয়। এই নিম্নতর মান যে তুলামান বা মুদ্রামান দ্বারা নির্ণীত হইয়াছিল, তাহাও জমির ক্রমবর্ধমান চাহিদার দিকে ইঙ্গিত করে।

    পাটকের সঙ্গে কুল্যবাপের ও দ্রোণের, কুল্যবাপের সঙ্গে দ্রোণের, দ্রোণের সঙ্গে আঢ়ক বা আঢ়বাপের সম্বন্ধ আমরা আগেই জানিয়াছি। এইবার আঢ্যক বা আঢ়বাপের সঙ্গে উন্মানের এবং উন্মানের সঙ্গে কাকিণীর সম্বন্ধ কী, তাহা জানিবার চেষ্টা করা যাইতে পারে। কোনও আর্যশ্লোকের মধ্যে এই সম্বন্ধের পরিচয় পাওয়া যাইতেছে না। শ্ৰীযুক্ত যোগেশচন্দ্র রায় বাকুড়ার প্রচলিত রীতি সম্বন্ধের প্রয়োজনীয় খবর দিতেছেন। মল্লভূমের রাজা চৈতন্যসিংহদেবের তিনখানি দানপত্র তাহার হস্তগত হইয়াছিল; একটি পত্রে তিনি জানকীরাম হাজরাকে দুই দ্রোণ দুই আড়ি তিরিশ উয়ান এক কান ভূমি দেবোত্তর দান করিয়াছিলেন। সমসাময়িক অন্যান্য দানপত্র হইতে জানা যায়,

    ৪ কাক বা কাকিণী (পূর্ববাঙলায়, চট্টগ্রামে কানি, রাঢ়ে কান)= ১ উয়ান
    ৫০ উয়ান = ১ – আড়ি ৪
    আড়ি = ১ দ্রোণ
    ৪ আড়ি = ১ দ্রোণ

    বাঙলা ১২৩০ সালে লিখিত “সেবক শ্ৰীসনাতন মণ্ডল দাসস্য” একটি শুভঙ্করী বইয়ে যে আর্য পাওয়া যায়, তাহাও উপরোক্ত সংবাদ সমর্থন করে।

    “খেতে মাঠে রশি না পাই।
    সাল ছেষে কাহিন বলাই ৷।
    চারি কানে লয়ান হয়
    পঞ্চাশ উয়ানে আডি।।
    চারি আড়িতে ডোন হয়
    আঠাস হাত দডি।।”

    আড়ি, আডি নিঃসন্দেহে আঢ়বাপ, আঢ্যক বা আঢ়কবাপ; ডোন দ্রোণ বা দ্রোণবাপ। তা হইলে এইবার আমরা আঢ়বাপের সঙ্গে উন্মানের সঙ্গে কাকিণী সম্বন্ধ জানিলাম।

    আর-একটি ভূমি-মাপের উল্লেখ শুভঙ্কর করিয়াছেন, এবং মাপটি কিছুদিন পূর্ব পর্যন্ত বাঙলাদেশেও প্রচলিত ছিল, এই মাপটির নাম কুড়িব। কেহ কেহ মনে করেন, এই কুড়িব ও কুল্যবাপ সমানার্থক। আমার মনে হয়, এই অনুমান সন্দেহজনক, কারণ, লীলাবতীর আর্যায় আছে–

    8 কুড়ব = ১ প্রস্থ
    ৪ প্রস্থ = ১ আঢ়া (আঢ়ক, আঢ়বাপ)
    8 আঢ়া = ১ দ্রোণ

    অর্থাৎ ৬৪ কুড়বে ১ দ্ৰোণ, এবং যেহেতু ৮ দ্রোণে এক কুল্যবাপ, সেইহেতু এক কুল্যবাপ ৫১২ কুড়িব বা কুড়বার সমান। অন্তত লীলাবতীর মতে তাহাই হওয়া উচিত। কুড়িব এবং বর্তমান কালে প্রচলিত বিঘা সমপরিমাণ ভূমি নির্দেশ করে কি না বলা কঠিন। যাহাই হউক, এই কুড়বার উল্লেখ বাঙলার প্রাচীন লিপিগুলিতে দেখা যায় না।

    এই কুল্যবাপ ভূমির পরিমাণ কতটুকু ছিল তাহা জানিবার কৌতুহল স্বাভাবিক। সে-দিকে চেষ্টাও কিছু কিছু হইয়াছে, কতকটা অনুমানের এবং অনুমানোপম সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করিয়া। কুল্যবাপের পরিমাণ যে বর্তমান কালের বিঘা হইতে অনেক বেশি ছিল, এ কথা নলিনীকান্ত ভট্টশালী মহাশয় বহুদিন আগেই বলিয়াছিলেন। কাছাড়ের ইতিবৃত্ত-লেখক উপেন্দ্ৰচন্দ্র গুহ মহাশয় বলেন যে, ঐ জেলায় এক কুল্যবাপ ১৪ বিঘার সমান। দীনেশচন্দ্র সরকার মহাশয় অনেক অনুমানসিদ্ধ প্রমাণের সাহায্যে দেখাইতে চেষ্টা করিয়াছেন যে, এক কুল্যবাপ ভূমি পরিমাণ “অন্তত পক্ষে ৪০-৪২ একর অর্থাৎ প্রায় ১২৫ বিঘার কম ছিল না।” এ সম্বন্ধে নিশ্চয় করিয়া কিছুই বলিবার উপায় নাই; তবে লীলাবতীর আর্যার সাক্ষ্য যদি প্রামাণিক হয় এবং কুড়বা যদি বিঘার সমার্থক হয় তাহা হইলে এক কুল্যবাপে ৫১২ বিঘা হওয়া উচিত। কিন্তু কুড়বা ও বিঘা সমার্থক কি না, এ বিষুয়ে সন্দেহ আছে।

    অষ্টমশতকপূর্ব লিপিগুলিতে দেখিয়াছি, ভূমি পরিমাপের মানদণ্ড ছিল নল; পরবর্তী যুগের মানদণ্ডও ইহাই। লক্ষ্মণসেনের আনুলিয়া-শাসনে প্রদত্ত ভূমি যে নল-মানদণ্ডে মাপা হইয়াছিল, তাহার নাম বৃষভশংকর নল। বৃষভশংকর ছিল রাজা বিজয়সেনের বিরুদ বা অন্যতম উপাধি। মনে হয়, বিজয়সেনের হাতের মাপে যে নলের দৈর্ঘ্য নিরূপিত তাহারই নাম হইয়াছিল। বৃষভশংকর নল। আনুলিয়া-শাসন হইতে প্রমাণ হয়, অন্তত লক্ষ্মণসেনের কাল পর্যন্ত এই বৃষভশংকর নলের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। অথচ, বিজয়সেন নিজে কিন্তু ভূমি দান করিয়াছিলেন “সমতটনলেন।” অর্থাৎ সমতটমণ্ডলে প্রচলিত মানদণ্ডের পরিমাপে। সমতটীয় নল পুণ্ড্রবর্ধন-ভুক্তির খাড়ি-বিষয়েও প্রচলিত ছিল (বারাকপুর শাসন)। এই সমতট নলই পরে বৃষভশংকর নল নামে পরিচিত হইয়াছিল কি না, বলা কঠিন। বর্ধমান-ভুক্তির উত্তর-রাঢ় অঞ্চলে এবং পুণ্ড্রবর্ধন-ভুক্তির ব্যাঘ্রতটী অঞ্চলে এই বৃষভশংকর নল প্রচলিত ছিল। লক্ষ্মণসেনের তপণদীঘি-শাসনের সাক্ষ্য হইতে মনে হয়, বাঙলাদেশের বিভিন্ন স্থানের নল-মানদণ্ড বিভিন্ন প্রকারের ছিল। বরেন্দ্রীমণ্ডলে প্রদত্ত ভূমি মাপা হইয়াছিল “তত্ৰত্যদেশব্যবহারনলেন।” অর্থাৎ সেই সেই দেশে প্রচলিত নলের সাহায্যে! সেনা-আমলের লিপিগুলি বিশ্লেষণ করিলে দেখা যায়, ব্যাখ্রতটীমণ্ডলে অর্থাৎ পশ্চিম-নিম্নবঙ্গে বৃষভশংকর নল প্রচলিত ছিল, কিন্তু বরেন্দ্রীমণ্ডলে অর্থাৎ উত্তরবঙ্গে প্রচলিত ছিল অন্য প্রকারের নলমানদণ্ড। গোবিন্দরপুর-তাম্রশাসনের সাক্ষ্য যদি প্রামাণিক হয়, তাহা হইলে বর্ধমান-ভুক্তির পশ্চিম-খাটিকা অঞ্চল বেতড চতুরকে (বেতড়, হাওড়া) প্রচলিত নলের মাপ ছিল ৫৬ হাত। লক্ষ্মণসেনের ভাওয়াল লিপিতে দেখি ২২ হাতের আর-এক নলের উল্লেখ। ঢাকা জেলার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এই নলের প্রচলন ছিল বলিয়া মনে হয়। বাঙলার বাহিরেও নলমানদণ্ডের প্রচলন যে ছিল তাহার প্রমাণ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় তৈলের নীলগুণ্ড লিপিতে ভূমি-পরিমাপের নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে “রাজমানেন দণ্ডেন” উড়িষ্যার নৃসিংহদেবের একটি পট্টোলীতে দেখিতেছি, রাজকর্মচারীদের হাতের মাপেও নলমান নির্ধারিত হইত। এই লিপিতে ভূমি-পরিমাপের নির্দেশ দেওয়া হইতেছে “চন্দ্ৰদাসকরণস্য নলপ্রমাণেন” এবং “শ্ৰীকরণশিবদাসনামকনলপ্রমাণেন”। কিন্তু এই নলমানদণ্ড কিসের মানপাটকের না কুল্যবাপের, দ্রোণের না। আঢকের, উন্মান না কাকিণীর? এই প্রশ্নের উত্তরের কোনও ইঙ্গিত লিপিগুলিতে নাই।

    ভূমির মূল্য কিরূপ ছিল, তাহা এইবার আলোচনা করা যাইতে পারে। কিন্তু এ সম্বন্ধে যাহা-কিছু সংবাদ, তাহা অষ্টমশতকপূর্ব লিপিগুলিতেই শুধু পাওয়া যায়। পরবর্তী লিপিগুলিতে ভূমির মূল্য কোথাও দেওয়া হয় নাই; কারণ, এই যুগের পট্টোলীগুলি দানের পট্টোলী, ক্ৰয়-বিক্রয়ের নয়। সেন-আমলের লিপিগুলিতে ভূমির উৎপত্তির যথাযথ পরিমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেওয়া হইয়াছে, কিন্তু তাহাতে মূল্য নিরূপণের সাহায্য যাহা পাওয়া যায় তাহা পরোক্ষ। দামোদরপুরের ১, ২, ৪ এবং ৫নং শতাধিক বৎসর জুড়িয়া বিস্তৃত। এই চারিটি পট্টোলী বিশ্লেষণ করিলে দেখা যায় পট্টোলী শতাধিক বৎসর ধরিয়া পুণ্ড্রবর্ধন-ভুক্তির কোটিবৰ্ষ-বিষয়ে এক কুল্যবাপ ভূমির মূল্য ছিল তিন দীনার। ফরিদপুরের পট্টোলীগুলি তিনটি রাজার রাজত্বকাল অর্থাৎ মোটামুটি পঞ্চাশ বৎসর ধরিয়া বিস্তৃত। পূর্ববাঙলার এই অঞ্চলে প্রায় পঞ্চাশ বৎসর ধরিয়া ভূমির মূল্য ছিল প্রতি কুল্যবাপে চারি দীনার। বৈগ্রাম-পট্টোলীর দত্তভূমির অবস্থিতি ছিল পঞ্চনগরী-বিষয়ে এবং সেখানে প্রতি কুল্যবাপের মূল্য ছিল দুই দীনার। বৈগ্রাম উত্তরবঙ্গে দিনাজপুর ও বগুড়া জেলার সীমান্তে; দামোদরপুরও দিনাজপুর জেলায়; কিন্তু প্রথমটি কোটিবৰ্ষ-বিষয়ে, দ্বিতীয়টি পঞ্চনগরী-বিষয়ে, এবং দুই স্থানে প্রতি কুল্যবাপের মূল্যের পার্থক্য এক দীনার। ৩নং দামোদরপুর পট্টোলীর চণ্ড গ্রাম কোন বিষয়ে অবস্থিত ছিল, তাহার উল্লেখ নাই; কিন্তু প্রতি কুল্যবাপের মূল্য দুই দীনারা দেখিয়া অনুমান হয় চণ্ড গ্রাম ছিল পঞ্চনগরী-বিষয়ে। এই অনুমানের অন্যতম কারণ, চণ্ডগ্ৰাম বৈগ্রাম বা বায়ীগ্রামের একেবারে পাশাপাশি গ্রাম। পাহাড়পুর পট্টোলীর দত্তভূমিও কোন বিষয়ে অবস্থিত তাহার উল্লেখ নাই; কিন্তু এ ক্ষেত্রেও ভূমির মূল্য দুই দীনার; এবং পাহাড়পুর বৈগ্রাম হইতে মাত্র উনিশ-কুড়ি মাইল। অনুমান করা চলে, পাহাড়পুরও পঞ্চনগরী-বিষয়েই অবস্থিত ছিল। যাহা হউক, একথা সহজেই বুঝা যাইতেছে, এক-এক বিষয়ে ভূমির মূল্য ছিল এক-এক প্রকার- যেমন, পঞ্চনগরী-বিষয়ে দুই দীনার, কোটিবৰ্ষ-বিষয়ে তিন দীনার, ফরিদপুর অঞ্চলে চারি দীনার। ইহার অন্য একটি প্রমাণ দেখিতেছি, প্রায় প্রত্যেকটি পট্টোলীতেই “ইহা বিষয়ে – দীনারিক্যবিগ্রয়োনুবৃত্তাঃ” বা এইজাতীয় কোনও পদের উল্লেখের মধ্যে। ভূমির মূল্যবৃদ্ধির হার কিরূপ ছিল তাহা বলিবার কোনও উপায় নাই, তবে ভূমির চাহিদা যে ভাবে বৃদ্ধি পাইতেছিল, তাহাতে মূল্যও যে ক্রমশ বাড়িতেছিল, এরূপ অনুমান করিলে খুব অন্যায় হয় না। কিন্তু এই শতাধিক বর্ষ ধরিয়া জমির দাম একই ছিল; সে প্রমাণও ধর্মাদিত্য এবং গোপচন্দ্রের পট্টোলী তিনটিতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলে দামের পার্থক্যও আগেই দেখিয়াছি। এই পার্থক্য খানিকটা যে ভূমির উর্বরতা, চাহিদা এবং স্থানীয় জীবিকামান-সমৃদ্ধির উপর নির্ভর করিত এ অনুমান সহজেই করা চলে। পঞ্চনগরী-বিষয়ের তুলনায় কোটিবৰ্ষ-বিষয়ের সমৃদ্ধি নিশ্চয়ই বেশি ছিল, এবং কোটিবর্ষের তুলনায় প্ৰাকসমুদ্রশায়ী দেশগুলি সমৃদ্ধতির ছিল। ধর্মাদিত্য এবং গোপচন্দ্রের পট্টোলী তিনটিতে ভূমির দাম প্রতি কুল্যবাপে চারি দীনার। ১নং পট্টোলীতে স্পষ্ট বলা হইয়াছে, প্রাক সমুদ্রশায়ী দেশগুলির ইহাই ছিল প্রচলিত মূল্য; ২ং এবং ৩নং (Sg পূর্বদেশে ভূমি ক্রয়-বিক্রয়ের (প্রাক-ক্রিয়মাণক এবং ‘প্রাক-প্রবৃত্তি) এই নিয়মের প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে। “প্রাক” বলিতে এই তিন ক্ষেত্রেই পূর্বাঞ্চলের সাগরশায়ী দেশগুলিকে বুঝাইতেছে, নিঃসংশয়ে এই অনুমান করা চলে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হইতেছে, সর্বত্র খিল, ক্ষেত্র এবং বাস্তুভূমির একই মূল্য। বাস্তুভূমি অপেক্ষা ক্ষেত্রভূমি, ক্ষেত্রভূমি অপেক্ষা খিলভূমির মূল্য অপেক্ষাকৃত কম হওয়াই তো স্বাভাবিক, অথচ একটি লিপিতেও তেমন ইঙ্গিত নাই, বরং * সর্বত্র সকল প্রকার ভূমির দাম একই, এই কথারই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে।*

    অর্থনীতির মূল তত্ত্ব সম্বন্ধে যাঁহাদের কিছুমাত্র পরিচয় আছে তাহারাই জানেন মুদ্রার মূলগত মূল্য নির্ভর করে ক্রয়াশক্তির তারতম্যের উপর। আজিকার দিনে এক টাকায় বা কোনও বস্তু যে পরিমাণ ক্রয় করা যায়, ১০০ বৎসর আগে তাহার অনেক বেশি পাওয়া যাইত, এবং ঐতিহাসিক মোরল্যাণ্ড দেখাইয়াছেন, আকবরের আমলে ১৯১২ খ্ৰীষ্টশতকের চেয়ে অন্তত ছয়গুণ বেশি পাওয়া যাইত। সেই হেতু অনুমান করা চলে, প্রাচীন বাঙলায় একটি রৌপ্যমুদ্রার ক্রয়াশক্তি আকবরের আমল অপেক্ষাও অন্তত কয়েকগুণ বেশি ছিল। প্রাচীন বাঙলায় ১৬টি রৌপ্যকে ছিল ১ দীনার, অর্থাৎ তখনকার ১ দীনার বর্তমান ভারতবর্ষের অন্তত ৯৬ টাকার কম কিছুতেই ছিল না, এ কথা জোর করিয়াই বলা যায়। বর্তমানের মুদ্রায় পঞ্চনগরী-বিষয়ের এক কুল্যবাপ ভূমির মূল্য সেই হেতু অন্তত ১৯২ টাকা, কোটিবৰ্ষ-বিষয়ে অন্তত ২৮৮ টাকা, এবং ফরিদপুর অঞ্চলে অন্তত ৩৮৪ টাকার কম কিছুতেই ছিল না। তখনকার দিনে এই মুদ্রা-পরিমাণ কম নয়। পরবর্তী যুগে অর্থাৎ পাল ও সেন-আমলে ভূমির মূল্য কিরূপ ছিল, তাহা বলিবার উপায়। বিশেষ নাই; তবে বিশ্বরূপসেনের একটি লিপিতে এবং কেশবসেনের ইদিলপুর-লিপিতে এই মূল্যের খানিকটা ইঙ্গিত আছে বলিয়া যেন মনে হয়। রাজা কেশবসেন ইদিলপুর-শাসনদ্বারা জনৈক ব্ৰাহ্মণকে পুণ্ড্রবর্ধন-ভুক্তির অন্তর্গত বঙ্গের বিক্রমপুর ভাগে তালপাড়া-পাটক নামে একটি গ্রাম দান করিয়াছিলেন। এই গ্রামের ভূমির পরিমাণ কত ছিল, তাহার উল্লেখ নাই, তবে চতুঃসীমাবচ্ছিন্ন এই গ্রামটির বার্ষিক আয় (না, মোট মূল্য?) যে দুই শত মুদ্রা ছিল, তাহার উল্লেখ আছে। এই মুদ্রা খুব সম্ভব কপর্দকপুরাণ। বিশ্বরূপসেনের সাহিত্য-পরিষৎ লিপিতে ৩৩৬.৫ উন্মান ভূমি দানের উল্লেখ আছে; ছয়টি গ্রামে এগারোটি ভূখণ্ডে এই পরিমাণ ভূমির মোট বার্ষিক আয় (না, মোট মূল্য?) ছিল পাঁচ শত পুরাণ। সমসাময়িক অন্যান্য লিপির সাক্ষ্য দেখিয়া মনে হয়, সর্বত্রই আমরা যাহা পাইতেছি, তাহা দত্ত ভূমির বার্ষিক আয়, ভূমির মোট মূল্য নয়, এবং এই আয়ের পরিমাণ দেওয়া হইতেছে। পুরাণ অথবা কপর্দকপুরাণ মুদ্রায়। লক্ষ্মণসেনের গোবিন্দপুর তাম্রশাসনে এবং আরও দুই-একটি শাসনে পরিষ্কার বলা হইয়াছে, প্রতি দ্রোণের বার্ষিক আয় মোটামুটি ১৫ পুরাণ হিসাবে ৬০ দ্রোণ ১৭ উন্মান ভূমির বিড্ডারশাসন গ্রামের মোট বার্ষিক আয় ৯০০ পুরাণ (ইত্থং চতুঃসীমাবচ্ছিন্নো তদেশীয়সংব্যবহারষট্ৰপঞ্চাশৎহস্তপরিমিতনলেন সপ্তদশোন্মানধিকষষ্ঠি-ভূ-দ্ৰোণাত্মক প্রতি দ্রোণে পঞ্চদশপুরাণোৎপত্তি-নিয়মে বৎসরেণ নবশতোৎপত্তিকঃ বিড়ারশাসনঃ…)। এই বার্ষিক আয় হইতে ভূমির মোট মূল্য কী হইতে পারে, তাহা অনুমান করা খুব কঠিন হয়তো নয়।

     

    ——————–

    * নারদ ও বৃহস্পতির মতে ১ দীনার = ১২। ধানক, ১ ধানক = ৪ আণ্ডিকা, ১ আণ্ডিকা = ১ কার্যাপণ (তাম্রমুদ্রা)। অমরকোষের মতে—১ দীনার = ১ নিষ্ক। বৃহস্পতির মতে—১ নিষ্ক = ৪। সুবর্ণ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়
    Next Article পুরাণী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নীহাররঞ্জন রায়

    বাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }