Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প457 Mins Read0
    ⤷

    আলমারি

    প্রথম থেকেই কেন জানি না, কাঠের আলমারিটাকে আমি সুনজরে দেখিনি। কুচকুচে কালো রঙের প্রকাণ্ড আলমারিটাকে আমার মনে কেমন যেন একটা অস্বস্তি সৃষ্টি করেছিল। প্রমীলাকে অবশ্য এ নিয়ে কিছু বলা বৃথা। পুরোনো আসবাবপত্রের ওপর দারুণ ওর ঝোঁক, বিশেষ করে যদি কোনো বনেদি ঘরের হয়, তবে তো কথাই নেই। খবরের কাগজে নিলামের পাতাটা ও আগাগোড়া পড়বে, তারপরই মনের মতো জিনিসের উল্লেখ থাকলে, সেখানে ছুটে গিয়ে সেটা না কেনা পর্যন্ত ওর যেন স্বস্তি নেই।

    মেহগনি কাঠের দু-পাল্লার আলমারি, প্রায় সাত ফুট উঁচু, কাঠের গায়ে সূক্ষ্ম কারুকার্য। আমার দৃষ্টি হঠাৎ ডান দিকের পাল্লার ওপর স্থির হয়ে গেল, একটা অদ্ভুত অনুভূতিতে আমার সর্বাঙ্গে যেন শিহরন বয়ে গেল।

    পাঁচজন কুলি অনেক কায়দা কসরত করে আলমারিটাকে দোতলায় তুলছিল। আমার মনে হচ্ছিল, ফাঁদে পড়া একটা জন্তু যেন সর্বশক্তি দিয়ে ওদের সঙ্গে যুঝছে। সিঁড়ির মাঝপথে ডান পাল্লার সামনে যে কুলিটা ছিল, সে যেন চমকে গিয়ে পা হড়কাল। আলমারিটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল, কোনোমতে কুলিরা সামলে নিল। ওঠাকে দোতলার বাম প্রান্তের শেষ ঘরটায় রাখার পর সেই কুলিটা আলমারির ডান পাল্লাটা একটু ফাঁক করে ভেতরে উঁকি মেরে কী যেন দেখবার চেষ্টা করল। আমি তাকে লক্ষ করছি দেখে সে একটু থতোমতো খেল। আমার জিজ্ঞাসু দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে সে আমতা আমতা করে বলল, ‘ভেতর থেকে যেন একটা শব্দ শুনতে পেলাম।’

    সে তাড়াতাড়ি পাল্লাটা বন্ধ করে দিল। আমার কেমন যেন খটকা লাগল। ওকে চেপে ধরলাম। লোকটি সামান্য ইতস্তত করে বলল, ‘বাবু, অর্ধেক সিঁড়ি ভেঙে ওঠার পর, আমার মনে হল, যেন একটা শব্দ— বাচ্চার গলার শব্দ বলেই মনে হল— আলমারির ভেতরে থেকে আসছে। আমারই ভুল, শব্দটা হয়তো অন্য কোথাও থেকে এসেছে।’

    ওরা যেন তাড়াতাড়ি পালাতে পারলে বাঁচে। টাকাপয়সা মিটিয়ে দেবার পর দুড়দাড় করে সিঁড়ি ভেঙে চলে গেল।

    প্রমীলা যথারীতি বেরিয়েছিল। নানান মহিলা সমিতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় দিনের অধিকাংশ সময় ওকে বাইরে কাটাতে হয়। আমি নীচে বসবার ঘরে বসে একটা সিগারেট ধরিয়েছি, এমন সময় আমাদের দশ বছরের মেয়ে খুকু স্কুল থেকে বাড়ি ফিরল। ঘরে ঢুকেই ও নাক কুঁচকে বলে উঠল, ‘কীসের গন্ধ, বাবা?’

    আমি দেখলাম, ওর দৃষ্টিটা সিঁড়ি দিয়ে ওপরদিকে উঠে যাচ্ছে। আমি কিন্তু কোনো গন্ধই পাচ্ছিলাম না, তবু ওর মনের ভাবটা বুঝতে আমার কষ্ট হল না। যে অস্বস্তিটা আমার মন থেকে দূর হয়ে গিয়েছিল, তা আবার ফিরে এল। আমার মনে হল, খুকুকে ওই কোনার ঘরে যেতে দেওয়া উচিত হবে না। কিন্তু কী যুক্তিতে আমি ওকে সেকথা বলব! ব্যাপারটাকে লঘু করার জন্য আমি বললাম, ‘হয়তো যে কাঠের আলমারিটা এসেছে, সেটা থেকেই গন্ধ আসছে।’

    আরও দেখুন
    বিছানা
    দরজাটা
    দরজার
    বিছানায়
    বালিশ
    টেবিল
    জানলা
    কাঠের
    দরজা
    সিঁড়ির

    আজ না হোক, কাল তো আলমারিটা ও দেখবেই, সুতরাং লুকোচুরি করে লাভ নেই। খুকু কিন্তু আলমারির কথা শুনেই কৌতূহলী হয়ে উঠল, লাফিয়ে দু-তিনটে সিঁড়ি টপকে ওপরে উঠতে লাগল। আমিও তাড়াতাড়ি ওর পেছনে ছুটলাম। আমার মন বলছিল, ওকে একা আলমারির কাছে ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।

    সিঁড়ি দিয়ে উঠে দোতলার ভেতরের বারান্দার বাঁ-দিকে মোড় নিতেই আমার চোখে পড়ল, খুকু ওই ঘরের দোরগোড়ায় থমকে দাঁড়িয়েছে। আলমারিটার দিকে ও যেন সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে আছে। আমি পা টিপে টিপে ওর পেছনে দাঁড়ালাম। আলমারিটার দিকে তাকিয়ে আমার মনে হতে লাগল, যেন ওটা হিংসুটে দৃষ্টি নিয়ে খুকুর দিকে নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে। আর এই প্রথম, একটা ক্ষীণ গন্ধ আমার নাকে এসে লাগল। গন্ধটা কটু নয়, ঠিক ভাষায় প্রকাশ করাও সম্ভব নয়, তবু আমার মনে হতে লাগল গন্ধটা যেন পার্থিব নয়।

    খুকুও ওই গন্ধটা টের পেয়েছিল, দু-পা পিছিয়ে ও বলল, ‘কী বিচ্ছিরি গন্ধ, না?’

    আমি সহজ হবার চেষ্টা করলাম। বললাম, ‘পুরোনো আলমারি, বোধ হয় অনেকদিন গুদোমে পড়ে ছিল, তাই একটা গন্ধ হয়েছে।’

    আরও দেখুন
    তাক
    দরজা
    আসবাবপত্রের
    জানলা
    বিছানা
    বালিশ
    জানালা
    সিঁড়ির
    বিছানায়
    দরজাটা

    গন্ধটা ক্রমেই যেন তীব্র হয়ে উঠছে। পরমুহূর্তে একটা ব্যাপার আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল, গন্ধটা কাঠের আলমারি থেকে আসছে ঠিকই, তবে যেন ডান দিকের পাল্লার ভেতর থেকে। বন্ধ পাল্লার ভেতর থেকে যেন দমকে দমকে গন্ধটা আসছে। আমি আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলাম না, একটা নিষ্ঠুর আক্রোশে এক হ্যাঁচকা টানে ডান দিকের পাল্লাটা খুলে ফেললাম। পরমুহূর্তে আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে পাল্লাটাকে ঠেলে বন্ধ করার চেষ্টা করলাম খুকুকে কিছুতেই ভেতরটা দেখতে দেওয়া হবে না। কিন্তু পাল্লাটা কোথায় যেন আটকে গেছে, কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, খুকু আমার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। আমি ওর পায়ের শব্দে পেছন ফিরে তাকিয়েছিলাম, তারপরেই আবার মুখ ফেরালাম। পাল্লার ফাঁক দিয়ে ডান দিকের একটা ফাঁকা গহ্বরের মতো দেখা যাচ্ছে। আগেই বলেছি, আলমারিটা প্রকাণ্ড, চওড়া অনেকটাই। ভেতরে দুটো ভাগ, বাঁ-দিকে কাপড়চোপড় রাখার জন্য তাক (সেলফ), আর ডান দিকে তাক কম, দুটো তাকের মধ্যে অনেকটা ব্যবধান, জামাকাপড় টাঙিয়ে রাখার জন্যই এই ব্যবস্থা। তাকগুলিও বেশ চওড়া। আমি হলফ করে বলতে পারি, পাল্লাটা খুলেই বন্ধ করার জন্য আমি যে সজোরে চাপ দিয়েছিলাম, সেই সামান্য সময়টুকুর মধ্যেই ডান দিকে একটি বাচ্চা মেয়ের জড়োসড়ো অস্পষ্ট মূর্তি আমার চোখে পড়েছিল। দ্বিতীয়বার কিন্তু আমি আর কিছু দেখিনি— ফাঁকা আলমারি। আমি কি তবে ভুল দেখলাম! সবটাই কি আমার চোখের ভুল!

    আরও দেখুন
    আসবাবপত্রের
    বালিশ
    কাঠের
    বিছানায়
    টেবিলের
    দরজার
    সিঁড়ির
    তাক
    দরজাটা
    আসবাবপত্র

    পাল্লাটা বন্ধ করে আমি খুকুর দিকে ফিরে দাঁড়ালাম। আমার চোখে চোখ পড়তেই ও মুখ ফিরিয়ে নিল। খুকুও কি তবে ওঠা দেখেছে! ওর ব্যবহারে আমি চিন্তিত হয়ে উঠলাম। ও যদি ভয় পেয়ে ঘর থেকে দৌড়ে পালাত, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেটাই হত স্বাভাবিক আচরণ। কিন্তু ও আমার কাছ থেকে যেন কিছু লুকোতে চাইছে, অথচ আমার ওপরই ওর টানটা বেশি। মাকে যা না বলে, আমার কাছে ওর তা বলা চাই-ই, এই নিয়ে আমরা বাপ-বেটিতে নিজেদের মধ্যে কত সময় কৌতুক করেছি।

    আমি প্রমীলার কাছে কিছু খুলে বললাম না, কীই-বা বলব। ও আলমারিটা ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করতে লেগে গেল। কোনোরকম অস্বাভাবিক কিছু ওর চোখে পড়ল না, খুকুও যেন একটু বেশি উৎসাহ নিয়েই মা-র কাজে সাহায্য করতে লাগল। আলমারিটার ওপর ওর একটা তীব্র আকর্ষণ অনুভব করে আমি খুব অস্বস্তি বোধ করতে লাগলাম।

    প্রথম দিন যে বিচিত্র গন্ধটা আমি আর খুকু অনুভব করেছিলাম, পরে কিন্তু তা আর পাইনি। প্রমীলাও আলমারিটা পরিষ্কার করার পর আর ওটাতে হাত দেয়নি। ওই ওর স্বভাব, একটা জিনিস নিয়ে দু-দিন মেতে উঠবে, তারপর আবার অন্য কিছু একটা নিয়ে মাতবে। কয়েকটা দিন কেটে যাবার পর, আমার মনে হতে লাগল, সমস্ত ব্যাপারাটাই আমার কল্পনা। কিন্তু তবু খুকু একা একা ওই ঘরে থাকুক, এটা আমার মনঃপূত হল না।

    আরও দেখুন
    দরজার
    সিঁড়ি
    দরজাটা
    টেবিল
    জানলা
    দরজা
    জানালা
    টেবিলের
    সেলফ
    বিছানায়

    সপ্তাহখানেক পর আমি একদিন অফিস থেকে ফিরে টেবিলের ওপর একটা চিরকুট পেলাম। প্রমীলা লিখেছে, নারী কল্যাণ সমিতির একটা জরুরি মিটিং-এ ওকে যেতে হয়েছে, ফিরতে রাত হবে। খুকু পাশের বাড়ি তার বন্ধু মণির সঙ্গে খেলা করতে গেছে, ওর কাছে বাইরের দরজার একটা চাবি আছে।

    খুকু পাশের বাড়ি আছে মনে করে, আমি জামাকাপড় ছেড়ে ড্রয়িং রুমে একটা বিলিতি জার্নাল নিয়ে বসলাম। ও যে একা একা বাড়ি নেই, একথাটা ভেবে আমি বেশ নিশ্চিন্ত বোধ করছিলাম। হঠাৎ ওপর থেকে টুকরো টুকরো কথা ভেসে আসতেই, আমি কান খাড়া করলাম। দু-জন ছোটো মেয়ের কণ্ঠস্বর, এতটুকু ভুল নেই। খুকু তার বন্ধুকে নিয়ে ওপরে খেলা করছে। কিন্তু ওর খেলার ঘর তো নীচে, আগে কখনো ওকে আমি বন্ধুদের নিয়ে ওপরে যেতে বা খেলা করতে দেখিনি। ওরা কী করছে দেখবার জন্য আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগলাম। সিঁড়ির শেষ ধাপে পৌঁছোতেই ওদের তীক্ষ্ন কণ্ঠস্বর আমি শুনতে পেলাম, দু-জনে যেন ঝগড়া করছে। পরমুহূর্তে খুকু ককিয়ে কেঁদে উঠল। আমি আর একমুহূর্ত সময় নষ্ট না করে দৌড়োলাম। কান্নার শব্দটা আসছে সেই কোনার ঘর থেকে। এক ধাক্কায় ভেজানো দরজা খুলে ফেলতেই, আমার চোখে পড়ল, খুকু আলমারিটার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছে। ওর দু-চোখে জল, ব্যথায় মুখ নীল হয়ে গেছে।

    আরও দেখুন
    জানলা
    বিছানা
    টেবিল
    তাক
    আসবাবপত্র
    সেলফ
    দরজার
    বিছানায়
    সিঁড়ি
    কাঠ

    আমি ওকে তুলে ধরে বললাম, ‘কী হয়েছে, খুকু?’

    আলমারিটা আসার পর থেকে আমাদের দু-জনের মধ্যে যে একটা সংকোচ ও বাধার প্রাচীর সৃষ্টি হয়েছিল, ক্ষণিকের জন্য তা যেন দূর হয়ে গেল। ও আমার দুই হাতের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘ও পাল্লা দিয়ে আমার আঙুল চেপে দিয়েছে।’

    খুকুর ডান হাতের আঙুলগুলির ওপর একটা লাল দাগ আমার চোখে পড়ল। আমি আস্তে আস্তে ব্যথা পাওয়া জায়গায় আঙুল বুলোতে বুলোতে বললাম, ‘কে চেপে দিয়েছে?’

    ‘রাণু।’

    কথাটা বলেই ও থেমে গেল, যেন মুখ ফসকে কথাটা বেরিয়ে গেছে। অনিশ্চিতভাবে ও আমার মুখের দিকে তাকাল, তারপর অনেকটা ভয়ে ভয়ে আলমারির ডান পাল্লার দিকে— যেন গোপন কথা ফাঁস করে মহা অপরাধ করে ফেলেছে।

    আরও দেখুন
    টেবিলের
    সিঁড়ি
    দরজার
    সিঁড়ির
    কাঠ
    তাক
    দরজাটা
    জানালা
    বালিশ
    সেলফ

    আমি এক ঝটকায় পাল্লাটা খুলে ফেললাম। ভেতরে ফাঁকা।

    ‘রাণু কে?’ আমি হালকাভাবে প্রশ্ন করলাম, কিন্তু স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, প্রাচীরটা আবার খাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    খুকু উত্তর দিল, ‘না, না, কেউ নয়।’

    প্রমীলাকে আমি কথায় কথায় বললাম, ও যখন বেরোয় খুকুকেও যেন সঙ্গে নিয়ে যায়— একা একা ওর বাড়িতে থাকা উচিত নয়।

    প্রমীলা আমার কথা উড়িয়েই দিল। ও বলল, ওইসব সভা-সমিতি খুকুর মোটেই ভালো লাগবে না, বরং বাড়িতে ও বেশি নিরিবিলি খেলবে।

    আমি একবার ভাবলাম, প্রমীলাকে সব খুলে বলি। কিন্তু ভেবে দেখলাম, ফল হবে উলটো। ও মনে করবে, আমার মস্তিষ্কে বিকৃতি ঘটেছে, তাই নিরস্ত হলাম।

    আরও দেখুন
    আসবাবপত্র
    জানলা
    টেবিলের
    দরজা
    দরজাটা
    আসবাবপত্রের
    বিছানায়
    সেলফ
    জানালা
    তাক

    আলমারিটা বিক্রি করে দেবার কথা তুলতেই প্রমীলা এমন খেপে গেল যে, আমাকে চুপ করে যেতে হল। আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ, বাদানুবাদ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলবার চেষ্টা করি। বিশেষ করে প্রমীলার তিরিক্ষি মেজাজকে— সত্যি কথা বলতে কী, আমি একটু ভয়ই করি।

    খুকুর বড়ো শখ ছিল একটা বেড়াল পুষবে। সেদিন অফিসে কথায় কথায় আমার এক সহকর্মী জানালেন, তাঁর পার্শিয়ান বেড়ালটার বাচ্চা হয়েছে, তিনি বিলিয়ে দেবেন। আমি রাত্রে খাবার টেবিলে কথাটা পাড়লাম।

    প্রমীলা কিন্তু বেড়াল কিংবা কুকুর দু-চোখে দেখতে পারত না। ও বলল, বিছানা নোংরা করবে, কী দরকার বেড়ালের বাচ্চা এনে?

    আমি বললাম, প্রথম থেকে ওটাকে ভালো শিক্ষা দিলে ঘরদোর নোংরা করবে না।

    পার্শিয়ান বেড়াল বলেই প্রমীলা বোধ হয় আর বেশি উচ্চবাচ্য করল না।

    আরও দেখুন
    টেবিল
    কাঠের
    কাঠ
    দরজা
    বিছানায়
    সিঁড়ি
    বিছানা
    বালিশ
    তাক
    টেবিলের

    খুকু এতক্ষণ আমাদের কথা মন দিয়ে শুনছিল। ও হঠাৎ বলে উঠল, ‘না, না, বেড়ালের বাচ্চা আনতে হবে না।’

    আমি একটু অবাক হয়ে বললাম, ‘কিন্তু তুমিই তো বেড়ালের বাচ্চার জন্য বায়না ধরেছিলে।’

    ওর চোখে যেন জল এসে গেল। কোনোমতে নিজেকে সামলে বলল, ‘তা সত্যি, কিন্তু রাণু যে বেড়াল ভালোবাসে না।’ কথাটা বলেই ও যেন চুপসে গেল। ওর গাল দুটো লাল হয়ে উঠল।

    প্রমীলা একটু মুচকি হাসল। ছোটো ছেলেমেয়েদের যে কাল্পনিক বন্ধু থাকে, সেটাই ও যেন ওর দৃষ্টি দিয়ে আমাকে বোঝাতে চাইল।

    খুকু কোনোরকমে খাওয়া শেষ করে দোতলায় ওর শোবার ঘরের দিকে ছুটে গেল।

    আমি মনস্থির করে ফেললাম। আলমারিটা যে ভদ্রলোক বিক্রি করেছিলেন, তাঁর নাম সঞ্জীব চৌধুরী। আমি একদিন ছুটির দিন বিকেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। আলমারির রহস্য আমাকে জানতেই হবে। ভদ্রলোক বাড়িতেই ছিলেন। আমি আমার পরিচয় দিয়ে তাঁকে বললাম আমার স্ত্রী সম্প্রতি নিলামে তাঁর কিছু আসবাবপত্রের মধ্যে একটা আলমারি কিনেছেন।

    আরও দেখুন
    দরজা
    টেবিলের
    সেলফ
    তাকের
    দরজার
    তাক
    বালিশ
    সিঁড়ি
    জানলা
    দরজাটা

    ভদ্রলোক আমাকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে বসালেন। তারপর পরিহাসতরল কণ্ঠে বললেন, ‘আশা করি, আলমারিতে ঘুণ ধরেনি।’

    আমি তাঁকে আশ্বস্ত করে বললাম যে, ওটা খুব ভালো অবস্থাতেই আছে।

    ভদ্রলোকের ভুরু দুটো যেন একটু ওপরদিকে উঠল; তরপর তিনি গম্ভীর মুখে বললেন, ‘সচরাচর আমরা যা চোখে দেখি, তার চাইতেও কি বেশি কিছু?’ তারপর নিজে থেকেই তিনি বলতে লাগলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, আমিও ওটা পছন্দ করতাম না। আমার স্ত্রী তো ওটাকে আমাদের শোবার ঘরে রাখতেই দেননি। পরিবারের স্মৃতি হিসেবে ওটা এতদিন বাড়িতে রেখেছিলাম, স্ত্রীর মৃত্যুর পর আর ওটা রাখার ইচ্ছে ছিল না বলেই অকশনে দিয়েছিলাম।’

    ‘আলমারিটা কি আপনাদের পরিবারে অনেকদিন ধরে আছে?’ প্রশ্ন করলাম।

    ‘আমি ঠিক বলতে পারব না, ওটা আমার এক খুড়তুতো ভাইয়ের সম্পত্তি ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর কিছু আসবাবের সঙ্গে ওটা আমার দখলে আসে।’

    আরও দেখুন
    বিছানায়
    কাঠের
    তাকের
    দরজার
    টেবিল
    আসবাবপত্রের
    জানালা
    দরজাটা
    টেবিলের
    সিঁড়ির

    আমি সুযোগ পেয়ে গেলাম, জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা, আলমারিটার সঙ্গে কি কোনো কাহিনি জড়িত আছে?’

    ভদ্রলোক সঙ্গেসঙ্গে উত্তর দিলেন না, চুপ করে কয়েক মুহূর্ত কী যেন ভাবলেন। তারপর বললেন, ‘দেখুন লুকোচুরি করে লাভ নেই, আই শ্যাল রাদার বি অনেস্ট উইথ ইউ। শুনেছি, বছর পঞ্চাশ কী, কি ওর কাছাকাছি কোনো সময়, ওই আলমারির মধ্যে দশ-বারো বছরের একটি মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল।’

    ‘দশ-বারো বছরের মেয়ে!’ আমি একটু উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলাম, ‘আপনি কি মেয়েটির নাম জানেন?’

    ভদ্রলোক আমার প্রশ্ন শুনে যেন একটু থতোমতো খেলেন। তারপর বললেন, ‘শুনেছি, মেয়েটির নাম ছিল রাণু।’

    আমি ধরেই নিয়েছিলাম যে, ওই নামটাই শুনব। তবু ভদ্রলোকের কথা শুনে, আমার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা হিম শিহরন বয়ে গেল।

    ভদ্রলোক বলতে থাকেন, ‘আমাদের পরিবারের ইতিহাস যতটুকু জানি— শুনেছি, মেয়েটি নাকি তার বাবার বড়ো আদরের ছিল। একে বেশি বয়সের সন্তান, তার ওপর মেয়েটি যখন খুব ছোটো, তখনই ওর মা মারা যান। তাই বাবা তাঁর স্নেহ-ভালোবাসা উজাড় করে ঢেলে দিয়েছিলেন।’

    আরও দেখুন
    জানলা
    সিঁড়ির
    আসবাবপত্র
    টেবিল
    দরজাটা
    তাকের
    কাঠের
    কাঠ
    সিঁড়ি
    দরজা

    ‘আপনি বলছেন, ওই মেয়েটির মৃতদেহই আলমারিতে পাওয়া গিয়েছিল?’

    ‘কাহিনিটা তাই।’ ভদ্রলোক চুপ করে কী যেন ভাবলেন। তারপর বলে উঠলেন, ‘আশা করি, আপনাদের কোনো…ইয়ে…অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা হয়নি!’

    আমি লক্ষ করছিলাম, ভদ্রলোক কথা বলার সময় যেন হোঁচট খাচ্ছিলেন, কথা খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

    একটি বাচ্চা মেয়ের উদ্ভট কল্পনায় আমি প্রভাবান্বিত হয়েছি, এটা তাঁকে বলতে আমার কেমন যেন বাধো বাধো ঠেকল। তাই আমি বললাম, ‘আমার স্ত্রী বলছিলেন, আলমারির ভেতর থেকে তিনি একটি বাচ্চা মেয়ের গলা শুনতে পান।’

    ‘সর্বনাশ!’ ভদ্রলোক যেন আঁতকে উঠলেন, ‘আলমারিটা পুড়িয়ে ফেলা উচিত। আমার স্ত্রীও ওই কথা বলতেন।’

    ‘কিন্তু আসল ঘটনা কী ঘটেছিল?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

    ভদ্রলোক শুরু করলেন, ‘সুধাকান্ত, অর্থাৎ সেই বাবা ও মেয়ে রাণুর মধুর সম্পর্কের মধ্যে প্রথম চিড় ধরল, যখন সুধাকান্ত মেয়ের দেখাশোনা করার জন্য যে মহিলাকে রেখেছিলেন— তার মোহে পড়ে গেলেন। ভদ্রমহিলার নাম ছিল সৌদামিনী।

    ‘সুধাকান্ত মারা যাবার অনেক বছর পর, সৌদামিনীর মৃত্যুকালীন জবানবন্দি থেকে ঘটনাটি জানা গিয়েছিল। সুধাকান্তর এক দূরসম্পর্কের ভাই ওই বাড়িতেই থাকত, তার নাম ছিল প্রাণতোষ। সে মদ্যপ ও উচ্ছৃঙ্খল। সুধাকান্ত তাকে দু-চোখে দেখতে পারতেন না, আবার ফেলতেও পারতেন না। সৌদামিনীর সঙ্গে প্রাণতোষের প্রথম থেকেই একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। প্রাণতোষই সৌদামিনীকে প্ররোচিত করে সুধাকান্তকে বিয়ে করার জন্য। তার উদ্দেশ্য ছিল, বর্ষীয়ান সুধাকান্তর মৃত্যুর পর, সে সৌদামিনীকে বিয়ে করে সুধাকান্তর সম্পত্তি ভোগ করবে। যতদিন তা সম্ভব না হয়, তারা গোপন প্রণয়লীলা চালিয়ে যাবে।

    ‘রাণু কিন্তু প্রথম থেকেই তার বাবা যে সৌদামিনীর দিকে ঝুঁকছেন, এটা সুনজরে দেখেনি; সৌদামিনীকে সে হিংসে করতে শুরু করেছিল।

    ‘এক রাত্রে সুধাকান্ত যখন ব্যাবসার সূত্রে বাইরে গিয়েছিলেন— রাণু ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে সৌদামিনীর ঘরে চলে আসে। প্রাণতোষ আর সৌদামিনীকে সে অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখে ফেলে। কী ভয়ানক অস্বস্তিকর পরিবেশ বুঝে দেখুন। রাণুর মুখ থেকে এটা জানার অর্থ হল, ওদের পরিকল্পনা, ওদের ভবিষ্যৎ চুরমার হয়ে যাওয়া। প্রাণতোষ মুহূর্ত দ্বিধা করেনি। রাণুকে জোর করে বিছানায় শুইয়ে একটা বালিশ দিয়ে ওর মুখ চেপে ধরেছিল।

    ‘সৌদামিনীর জবানিতে জানা যায়, সে নাকি প্রাণতোষকে অনেক অনুনয় করেছিল, কিন্তু প্রাণতোষ তার কথায় কান দেয়নি। অবশ্য সৌদামিনীর একথাটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা যাচাই করার সুযোগ ছিল না। রাণুর দেহটা ওরা সুধাকান্তর স্ত্রীর ঘরে যে বড়ো কাঠের আলমারিটা ছিল, তার মধ্যে ঢুকিয়ে পাল্লা বন্ধ করে দেয়। ওই ঘরটা প্রকাণ্ড বাড়ির একপ্রান্তে ছিল, রাণুর মা-র মৃত্যুর পর থেকে কেউ আর ওটা ব্যবহার করত না।

    ‘সুধাকান্ত ফেরার পর তাঁকে দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়। রাণু নিশ্চয়ই তার মা-র ঘরে গিয়ে কোনো কারণে আলমারিটার মধ্যে ঢুকেছিল; তারপর পাল্লাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। পাল্লাটা জোরে আটকে যাওয়ায় ও আর বেরোতে পারেনি। ওদের এই কথা বিশ্বাস না করার কোনো কারণ ছিল না।

    ‘এই ঘটনায় সুধাকান্ত ভয়ানক ভেঙে পড়েন, তারপর আর এক বছর মাত্র বেঁচেছিলেন। এরই মধ্যে সৌদামিনীর সঙ্গে সুধাকান্তর কোনোমতে বিয়েটা হয়ে যায় এবং সৌদামিনী বিধবাও হয়।

    ‘প্রচুর সম্পত্তির অধিকারিণী সৌদামিনী অল্প দিনের মধ্যেই যখন আবার প্রাণতোষকে বিয়ে করে, তা নিয়ে সমাজে খুব হইচই পড়েছিল।’

    আমি হঠাৎ জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা রাণুর মৃতদেহ আলমারির কোন দিকে ছিল?’

    ‘কেন, ডান দিকে।’ সঞ্জীব চৌধুরী যেন একটু বিস্মিত হয়েই বললেন, ‘আপনি খেয়াল করে দেখবেন, ডান দিকের পাল্লাটা বেশ জোর দিয়ে খুলতে হয়।’

    আমার কাছে অবশ্য এ ব্যাপারটা অজানা ছিল না।

    ভদ্রলোক আবার শুরু করলেন, ‘পাপের ধন ভূতে খায়। সৌদামিনীর জীবনেও সুখ ছিল না। প্রাণতোষ জুয়া খেলে দু-হাতে টাকা ওড়াতে লাগল। তা ছাড়া তার আরও বদ স্বভাব ছিল। এসব কথা সৌদামিনী আগে জানত না। বিয়ের পর প্রাণতোষের আসল মূর্তি দেখে সে স্তম্ভিত হয়ে যায়। প্রাণতোষ তার ওপর অত্যাচারও শুরু করে। ক্রমে তাকে কালরোগে ধরে। তখনকার দিনে যক্ষ্মার ভালো চিকিৎসা ছিল। মরবার আগে সৌদামিনী সমস্ত কাহিনি বলে যায়।’

    আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘রাণুর কোনো ছবি আছে?’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘ফ্যামিলির বহু পুরোনো ছবির মধ্যে তারও একটা ছবি আছে, তবে তা দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই, বিকৃত হয়ে গেছে।’

    আমার অনুরোধে তিনি পুরোনো কাগজপত্র ঘেঁটে একটা ছবি নিয়ে এলেন। ছবিটা অস্পষ্ট। তবু আমার মনে হল, ফ্রক পরা দশ-বারো বছরের একটি মেয়ে, আর অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ছবির চোখ দুটো যেন অস্বাভাবিক উজ্জ্বল।

    ভদ্রলোক আবার বলতে লাগলেন, ‘রাণু দেখতে খুব ফুটফুটে ছিল, কিন্তু তার স্বভাব নাকি মোটেই ভালো ছিল না। সৌদামিনীর টুকরো টুকরো কথা থেকে জানা যায় যে, বাপের উপস্থিতিতে সে খুব ভালোমানুষ সেজে থাকত, অন্য সময় তার মূর্তি ছিল একেবারে অন্যরকম। সৌদামিনীকে আঁচড়ে কামড়ে নাজেহাল করে ছাড়ত। তার প্রকৃতিও ছিল খুব নিষ্ঠুর। একবার নাকি একটা বেড়ালের বাচ্চাকে দোতলা থেকে ছুড়ে ফেলেছিল। বেড়াল ও একেবারেই দেখতে পারত না। বাবার কাছে মিথ্যে নালিশ করে লোকজনকে শাস্তি পাওয়ানো ওর একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়েছিল। সৌদামিনী ওর ভয়ে সবসময় জুজু হয়ে থাকত। বাবা ওকে ছাড়া আর কাউকে সুনজরে দেখবেন, এটা যেন ও সহ্য করতে পারত না।’

    ভদ্রলোকের কথায় রাণুর চরিত্রের নিষ্ঠুর ও হিংসুটে দিকটা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে উঠে পড়লাম।

    বাড়ি ফেরার পথে আমি দৃঢ় সংকল্প করলাম প্রমীলা যাই বলুক, আলমারিটাকে বাড়ি থেকে দূর করতেই হবে। ওটার প্রতি খুকুর তীব্র আকর্ষণ আর মাঝে মাঝে রাণুর নাম উচ্চারণ করার মধ্যে আমি অশুভ ইঙ্গিত অনুভব না করে পারলাম না।

    আমি যখন বাড়ি ফিরলাম, তখন বেশ রাত হয়ে গেছে। প্রমীলা আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। দরজা খোলার সঙ্গেসঙ্গেই আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘খুকু কোথায়?’

    প্রমীলা অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকাল। তারপর বলল, ‘ঘুমোচ্ছে। রাত ক-টা হল, খেয়াল আছে?’

    আমি হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলাম, রাত সাড়ে এগারোটা।

    প্রমীলাকে যেন একটু চিন্তাগ্রস্ত মনে হল। ও বলল, ‘খুকুর কী হয়েছে বলো তো? আজ সন্ধে থেকে ওর হাবভাব কেন জানি, আমার ভালো লাগেনি। আবার রাণুর কথা বলছিল।’

    আমি স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। একটা অজানা আশঙ্কা আমাকে যেন গ্রাস করে ফেলতে চাইছে।

    প্রমীলা একটু থেমে আবার বলল, ‘মনে হল, ও যেন খুব ভয় পেয়েছে। কী হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই ও আমাকে দু-হাতে আঁকড়ে ধরল— সেই ছোট্টবেলায় যেমনটি করত। বলল, রাণু নাকি ফিরে আসতে চায়।’

    আমি আর অপেক্ষা করলাম না। আমার বুকের মধ্যে যেন হাপর পড়ছে। টপাটপ সিঁড়ি টপকে আমি ছুটলাম খুকুর শোবার ঘরের দিকে। প্রমীলাও যেন ভয় পেয়ে আমার পেছন পেছন ছুটল।

    খুকুর শোবার ঘরের দরজা খোলা। বিছানা খালি। অন্যপ্রান্তে সেই ঘরটার দরজা কিন্তু ভেজানো। আমি ছুটে গিয়ে এক লাথি মেরে দরজাটা খুলে ফেললাম। তারপরই আলমারির ডান পাল্লা ধরে টান মারলাম। পাল্লাটা শক্তভাবে এঁটে গেছে। সমস্ত শক্তি দিয়ে দ্বিতীয়বার টান মারতেই ওটা খুলে গেল।

    এবার আর আমার চোখের ভুল হয়নি। ডান দিকের দুই তাকের মাঝখানের ফাঁকে, আলমারির গায়ে একটা দেহ হাঁটু মোড়া অবস্থায় যেন ঠেস দেওয়া রয়েছে।

    আমি ওকে কোলে তুলে নিলাম।

    প্রমীলা তাড়াতাড়ি ঘরের সব জানলা খুলে দিল। ঠান্ডা, নির্মল হাওয়া ঘরে ঢুকতেই, ছোটো মেয়েটি চোখ খুলল।

    প্রমীলা ওকে জড়িয়ে ধরে গালে গাল ঘষতে ঘষতে কান্না ভেজা গলায় বলতে লাগল, ‘সোনা আমার, মানিক আমার— ভগবান তোমাকে রক্ষা করেছেন।’

    সেই ছোটো মেয়েটির উজ্জ্বল দুই চোখ আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে, যেন আমাকে যাচাই করার চেষ্টা করছে।

    আমি ভীষণ চমকে দু-পা পিছিয়ে এলাম। আমার বুঝতে এতটুকু দেরি হল না যে, খুকুর চোখের দৃষ্টিটা খুকুর নয়। সঞ্জীব চৌধুরীর বাড়িতে রাণুর যে ছবি আমি দেখেছিলাম, সেই উজ্জ্বল চোখ দুটি খুকুর চোখে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

    খুকুকে ভুলিয়ে আলমারিতে ঢুকিয়ে রাণুর অনেক দিনের বন্দি আত্মা ওর শরীরে ঢুকে পড়েছে, আর আমাদের প্রিয় খুকুর আত্মা এখন বোধ হয় রাণুর বিদেহীর মধ্যে গুমরে মরছে। কী ভয়ানক! খুকুর দেহটাই আছে, কিন্তু আত্মা, মন, সব রাণুর। ও আর আমাদের মেয়ে নয়।

    খুকু তাড়াতাড়ি সেরে উঠতে লাগল। প্রমীলার আনন্দ আর ধরে না। কিন্তু আসল ঘটনা শুধু আমিই জানি। অনেক সময় লক্ষ করেছি, ধূর্ত চোখ দুটো আমাকেই দেখছে— যেন বিদ্রূপ করছে। আমিই যে ওর একমাত্র শত্রু, তা যেন ও বুঝে নিয়েছে।

    প্রমীলাই এবার আলমারিটা বিদেয় করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল, আর বাদ সাধলাম আমি। আলমারিটার মধ্য দিয়েই রাণু খুকুকে ঠকিয়ে ওর শরীরে ভর করেছে, হয়তো এটার মধ্য দিয়েই আবার খুকুকে আমি ফিরে পাব, এই ক্ষীণ আশা আমার ছিল।

    প্রমীলা বেরিয়ে গেলেই, আমি চুপি চুপি ওপরে ওই ঘরে ঢুকতাম। তারপর আলমারির ডান দিকে পাল্লাটা খুলে খুকুর নাম ধরে বার বার ডাকতাম। একদিন আমার স্পষ্ট মনে হল, যেন আমি খুকুর গলা শুনলাম, ‘বাবা, বাবা, আমি এখানে।’

    আর ঠিক সেই মুহূর্তে পেছনে কারো উপস্থিতি অনুভব করে আমি ফিরে তাকালাম।

    খুকুর দেহটা আমার ঠিক পেছনেই এসে দাঁড়িয়েছে। ওর চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। মুখ থেকে সব ছদ্ম আবরণ খসে পড়েছে— সেখানে ফুটে উঠেছে একটা হিংস্র উল্লাস।

    ‘ও আর ফিরে আসবে না।’ যে মুখ একসময় আমাদের বড়ো আদরের খুকুর ছিল, সেই মুখে এক টুকরো উদ্ধত, বেপরোয়া হাসি ফুটে উঠল।

    ‘সেটা তোমার ভুল, ও এসে গেছে।’ আমি যথাসম্ভব নিজেকে শান্ত করে বললাম।

    ওর মুখে একটা অনিশ্চয়তার ভাব ফুটে উঠল। তারপর ও এগিয়ে এসে পাল্লার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখবার চেষ্টা করল।

    ওকে যে আমি ফাঁদে ফেলেছি, তা ও বোঝবার আগেই আমি দু-হাতে ওর গলা টিপে ধরলাম।

    ও আমার হাত তেকে নিজেকে ছাড়াবার চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু আমি আর ওকে সুযোগ দিলাম না— জোর করে আলমারির মধ্যে ঢুকিয়ে পাল্লাটা চেপে ধরলাম।

    আমার মন আনন্দে নেচে উঠল। যখন পাল্লাটা খুলব, তখন খুকুকে আমি ফিরে পাব।

    কিন্তু আমার হিসেবে সামান্য ভুল হয়ে গিয়েছিল। তাড়াতাড়িতে আমি ওর গলাটা এত জোরে চেপে ধরেছিলাম যে, ঘাড় মটকে দেহটা শেষ হয়ে গিয়েছিল, খুকু আর ওর মধ্যে ফিরে আসার সুযোগ পায়নি।

    মানসিক রোগীদের এই হাসপাতালে প্রমীলা কোনোদিন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেনি। ওকে আমি দোষ দিই না, ওর বিশ্বাস, আমি খুকুকে মেরে ফেলেছি। কিন্তু সঞ্জীব চৌধুরী প্রায়ই আসেন। আমি বুঝতে পারি, ভদ্রলোক সমস্ত ঘটনার জন্য মনে মনে নিজেকে দায়ী করেন, তাই আমার প্রতি একটা দায়িত্ববোধও যেন অনুভব না করে পারেন না।

    তাঁর মুখেই আমি শুনেছিলাম যে, প্রমীলা আলমারিটাকে বিক্রি করে দিয়েছে। ওটাকে পুড়িয়ে ফেলাই উচিত ছিল। খুকু আর কোনোদিন ফিরে আসবে না, কিন্তু রাণুর আত্মা যে ওটার মধ্যে আবার আশ্রয় নিয়েছে, সে-বিষয়ে আমি সুনিশ্চিত। সুযোগ পেলেই ও আবার ওর বয়সি কোনো মেয়েকে ছলনায় ভুলিয়ে বেরিয়ে আসবে।

    পুরোনো আলমারি কেনার আগে, আপনারা ভালো করে দেখে নেবেন। মনে রাখবেন, সাত ফুট উঁচু, মেহগিনি কাঠের, কালো বার্নিশ, সারা গায়ে সূক্ষ্ম কারুকার্য— আর ডান দিকের পাল্লাটা আটকে যায়। আপনাদের যদি দশ-বারো বছরের মেয়ে থাকে, তবে এই পুরোনো আলমারির ধার-পাশ দিয়েও হাঁটবেন না, এই আমার একান্ত অনুরোধ।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন
    Next Article অরিগামির গোলকধাঁধায় – মাহরীন ফেরদৌস

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    মঞ্জিল সেন

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }