Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প457 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আত্মারা জেগে ওঠে

    হাজারিবাগের আগেই ট্রেন থেকে নেমে পড়ল আনন্দ। হাজারিবাগই ছিল ওর গন্তব্যস্থল, ওখানে একটা হোটেলে আগাম কিছু টাকা পাঠিয়ে একটা ঘরও ঠিক করে রেখেছে, তবু এই ছোট্ট স্টেশনটা দেখে ওর এত ভালো লেগে গেল যে, সুটকেসটা হাতে নিয়ে চট করে নেমে পড়ল। ওর এক সহযাত্রী বলে উঠলেন, ‘এ কী করছেন মশাই, আপনি তো হাজারিবাগে যাবেন বলেছিলেন, এখানে নামছেন কেন?’

    ‘এখানে দু-দিন থেকে হাজারিবাগ যাব,’ নামতে নামতে আনন্দ জবাব দিল। আসলে ও খুব খেয়ালি মানুষ। হঠাৎ মাথায় কিছু চাপল তো আর কথা নেই, হুট করে সেটা করে বসবে। এ নিয়ে কম হাঙ্গামা পোহাতে হয়নি ওকে, কিন্তু তবু স্বভাব যায় না। বন্ধুরা বলে, মাথায় ছিট আছে।

    দেশভ্রমণ আনন্দর একটা নেশা। সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে। একটা সওদাগরি আপিসে ও চাকরি করে, ভালোই মাইনে পায়। তা ছাড়া ওর বাবা ওর জন্য যা বিষয়সম্পত্তি রেখে গেছেন তাও কম নয়। একা মানুষ, বয়স তিরিশের কোঠায়, বোহেমিয়ান জীবনযাপনেই ওর আনন্দ।

    শাল মহুয়ায় ঘেরা লাল রঙের এই ছোট্ট স্টেশনটা ওকে যেন হাতছানি দিল অথচ এখানে নামার কোনো প্ল্যানই ছিল না, জায়গাটার নামই শোনেনি কখনো। টিকিট কালেক্টর ওর টিকিট দেখে অবাক হয়ে ওর মুখের দিকে তাকালেন, বললেন, ‘এ তো হাজারিবাগের টিকিট।’

    ‘হ্যাঁ,’ আনন্দ ঘাড় দোলাল, ‘হঠাৎ এখানে নামার ইচ্ছে হল, নেমে পড়লাম। এখান থেকে নিশ্চয়ই হাজারিবাগ যাবার বাস আছে?’

    ‘তা আছে,’ টিকিট কালেক্টর স্বীকার করলেন।

    ‘এখানে দু-দিন কাটিয়ে চলে যাব,’ আনন্দ হাসল, ‘হোটেল-টোটেল আছে তো?’

    ‘রিকশাওলাকে বলুন, নিয়ে যাবে,’ টিকিট কালেক্টর আর কথা বাড়ালেন না।

    বাইরে কয়েকটা সাইকেল রিকশা চোখে পড়ল আনন্দর। একটাতে উঠে রিকশাওলাকে ও বলল একটা হোটেলে নিয়ে যাবার জন্য। বাঙালি হোটেল হলেই ভালো হয়, একথাও বলল। তাই নিয়ে গেল রিকশাওলা।

    আরও দেখুন
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা কমিকস
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা ই-বই
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা কবিতা
    বই

    হোটেলটা শহরের মাঝখানে। মোটামুটি পছন্দ হল আনন্দর। কিন্তু ও আশ্চর্য হল অন্য দুটি কারণে। প্রথমত হোটেলে সে ছাড়া আর কোনো বাসিন্দা নেই, দ্বিতীয়ত ওকে দেখে হোটেলের মালিক খুশি হয়েছেন বলে মোটেই মনে হল না বরং একটু যেন অপ্রসন্ন মুখে জানতে চাইলেন কতদিন ও থাকবে।

    আরও একটা কথা, হোটেলটা দোতলা, তবে খুব বড়ো নয়, কিন্তু একজন ছোকরা ছাড়া কাজকর্মের আর কোনো লোক চোখে পড়ল না। হয়ত এখন অফ-সিজন তাই লোকজন ছুটি নিয়েছে, আনন্দ ভাবল।

    ছোকরাটির নাম সূরয অর্থাৎ সূর্য। তার চোখে-মুখে কেমন যেন একটা ভীত সচকিত ভাব। ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারে না আনন্দ। ওই ছেলেটিই দোতলার একটা ঘরে আনন্দর সুটকেসটা বয়ে নিয়ে গেল। ঘরের সব জানালা খুলে একটা ঝাড়ন দিয়ে ঘরের আসবাব ঝাড়-পুছ করতে লাগল।

    ‘হোটেলে আমি কি একাই?’ আনন্দ জিজ্ঞেস করল, অবিশ্যি হিন্দিতেই।

    ছেলেটি ঘাড় দুলিয়ে জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, এই সময় এখানে কেউ আসে না।’

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ই-বই
    বুক শেল্ফ
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ

    ‘কেন?’ আনন্দ জিজ্ঞেস না করে পারল না।

    ছেলেটা ওর মুখের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাল, ওর চোখে-মুখে ভয়ের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠল, তারপর দু-পাশে ঘাড় নেড়ে বলল, ‘বলতে পারব না।’ একটু যেন তাড়াতাড়িই ছেলেটা ঘর থেকে চলে গেল।

    আনন্দ ওখানে এসেছিল সকাল বেলা। চা পাওয়া যাবে কি না জিজ্ঞেস করার জন্য ও ঘর থেকে বেরিয়ে নীচে নামছিল, চোখে পড়ল রিসেপশন কাউন্টারের সামনে হোটেলর মালিক সূরযের সঙ্গে নীচু গলায় কী যেন কথা বলছেন আর ছেলেটা ঘাড় নাড়ছে। ওকে দেখে ভদ্রলোক চুপ করে গেলেন। ব্যাপার কী! আনন্দর মনে হল এই হোটেলে কিছু একটা রহস্য আছে। কোনো হোটেলেই অতিথি অবাঞ্ছিত নয় বরং তাদের নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। আর এটা ছোট্ট জায়গা, গমগমে শহর নয় যে দলে দলে বাইরের লোক এসে ভিড় করছে, হোটেল মালিকদের নিশ্বাস ফেলার সময় নেই।

    ওর প্রশ্নের জবাবে হোটেল মালিক বললেন তিনি সূরযকে দিয়ে ওপরে চা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। একটু পরেই ছেলেটা চা নিয়ে এল, সঙ্গে টোস্ট, ওমলেট আর একটা পাকা কলা। ওগুলো টেবিলে সাজিয়ে রাখতে রাখতে সূরয একবার আড়চোখে তাকাল আনন্দর মুখের দিকে। আনন্দর সন্দেহটা আরও ঘনীভূত হল। কী ব্যাপার! হোটেল মালিক কি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত! যারা এখানে এসে ওঠে তাদের সর্বস্ব লুণ্ঠন করা তার আসল উদ্দেশ্য নয় তো! এমন দু-একটা হোটেলের কথা ও শুনেছিল, যেগুলো আসলে শিকার ধরার ফাঁদ— শাঁসালো খদ্দের ধরে এনে তাদের সর্বস্বান্ত এমনকী গুম খুন পর্যন্ত করা হয়, হোটেলটা একটা আড়াল মাত্র, পুলিশের চোখে ধুলো দেবার একটা ফন্দি।

    আরও দেখুন
    বাংলা কবিতা
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা গল্প
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    পিডিএফ

    ‘অ্যাই, এদিকে আয়,’ ও একটু ধমক দিয়েই সূরযকে ডাকল।

    ছেলেটা ভয়ে ভয়ে সামনে এসে দাঁড়াল।

    ‘কী? ব্যাপার কী? আমাকে দেখে তখন হঠাৎ চুপ করে গেলি কেন তোরা? কী হয় এখানে?’

    ছেলেটা যেন একেবারে আকাশ থেকে পড়ল, বলল, ‘কুছ নেহি,’ তারপর হিন্দিতেই বলল, ‘বাবুজি ভুল করছেন, এটা খুব ভালো হোটেল, বাবুজি ইচ্ছে করলে বাইরে খোঁজ নিতে পারেন।’

    ‘তাই নেব,’ আনন্দ বেশ ঝাঁঝের সঙ্গে বলল।

    চা-পর্ব শেষ করে ও স্নান সেরে নিল, তারপর ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে বেরিয়ে পড়ল। রাস্তায় লোকজন কম, দোকানপাটও যা আছে প্রায় অর্ধেক বন্ধ। এখানে কি কোনো পরব চলছে নাকি! আনন্দ ভেবে পায় না। যাহোক একটা মনোহারি দোকানে ঢুকে ও একটা টুথপেস্ট আর এক প্যাকেট বেÏড কিনল, তারপর কথায় কথায় দোকানদারকে ওই হোটেলের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করল। ও যে ওখানেই উঠেছে তা বলল না।

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    Library
    বাংলা ইসলামিক বই
    সাহিত্য পত্রিকা
    বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা কবিতা
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    নতুন উপন্যাস

    দোকানদার বেহারি, বলল, খুব ভালো হোটেল, মালিক খুব সৎ, যাঁরা ওখানে ওঠেন তাঁদের খুব দেখভাল করেন।

    রাস্তায় এত লোকজন কম কেন, এ প্রশ্নের জবাব দেবার সময় দোকানদারের মুখে যেন একটা ছায়া পড়ল। গলা নীচু করে সে বলল, ‘বাবুজি, আপনি বাইরের থেকে এসেছেন, নতুন মানুষ তাই বলছি, সাবধানে চলাফেরা করবেন, রাত্তিরে বাইরে বেরোবেন না, অন্তত কাল রাত্তিরে ভুলেও রাস্তায় পা দেবেন না।’

    ‘কী আছে কাল রাত্তিরে?’ আনন্দ কৌতূহলী হয়ে উঠল।

    ‘সে বাবুজি অনেক কথা। আপনি বেড়াতে এসেছেন, বেড়ান, খাওয়া-দাওয়া করুন, রাত্তিরে বেরুবেন না, ব্যস! কেউ আপনার ক্ষতি করবে না, এখানকার মানুষ ভালো।’

    দোকান থেকে বেরোবার আগে আরও দুটি বিষয় জানতে পারল আনন্দ। ওর হোটেলের মালিকের নাম হ্যারিস মণ্ডল— একজন ক্রিশ্চান। বোধ হয় হরিশ থেকে নাম বদলে হয়েছে হ্যারিস। আর দ্বিতীয় ব্যাপারটি হল, এখানকার বাসিন্দাদের অনেকেই ক্রিশ্চান। হাজারিবাগের খুব কাছে এ অঞ্চলে একসময় নিম্নবর্ণের ও আদিবাসী মানুষের বসতিই ছিল বেশি। তাদের ওপর বর্ণ-হিন্দুদের নানারকম অবিচারের সুযোগ নিয়ে মিশনারিরা এগিয়ে এসেছিলেন, খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারে তৎপর হয়েছিলেন। মিশনারিরা দরাজ হাতে সাহায্যও দিচ্ছিলেন ফলে দলে দলে মানুষ ক্রিশ্চান হয়েছিল। একটা গির্জা আছে, প্রতি রবিবার সেখানে উপাসনা হয়, গির্জার পাদরি একজন দক্ষিণ ভারতীয় ক্রিশ্চান।

    আরও দেখুন
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য
    বিনামূল্যে বই
    Books
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    অনলাইন বুক
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই

    দুপুরে খাওয়াটা মন্দ হল না। তবে একটু মোটা চালের ভাত, মুসুরির ডাল, আলু ভাজা আর রুই মাছের ঝোল। মাছের খণ্ড বেশ বড়ো।

    হোটেল মালিক ওকে বললেন, এখন সিজন নয়, হোটেলে লোকজন নেই, তাই শুধু একজনের জন্য ব্যবস্থায় ত্রুটি থেকে যাচ্ছে, ও যেন সেটা মাপ করে দেয়।

    আনন্দর মনে হল ওর সন্দেহ বোধ হয় অমূলক, হোটেল মালিক সম্বন্ধে যা ভেবেছিল তা ঠিক নয়। তবে এখানে কিছু একটা গোলমাল আছে, কেউ তা মুখ ফুটে বলতে চাইছে না। একটা চাপা আতঙ্কে যেন ভুগছে এখানকার মানুষ।

    দুপুরে একটু গড়িয়ে বিকেলে ও আবার বেরিয়ে পড়ল। জায়গাটা কিন্তু বেশ সুন্দর। চারদিকে সবুজ বনানী, অদূরে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পাহাড়ের রেখা। একটা নদীও চলে গেছে শহরের গা ঘেঁষে। আদিবাসী মানুষও বেশ কিছু চোখে পড়ল, অধিকাংশর গলায় ঝুলছে ক্রিশ্চান ধর্মের প্রতীক ‘ক্রুশ’।

    গির্জা শহরের ঠিক মধ্যিখানে নয়, উত্তর-পশ্চিম কোণে। হাঁটতে হাঁটতে ও সেদিকে গেল। অনেকদিনের পুরোনো গির্জা, নুড়ি বিছানো অঙ্গন। গেট থেকে সার সার মন্দির-ঝাউ শোভা বাড়িয়েছে। ওটার লাগোয়া বেশ অনেকটা জমি নিয়ে কবরখানা। পাঁচিলে ঘেরা, যদিও পাঁচিলের অনেক জায়গাই এখন ভেঙে পড়েছে, এখানে ওখানে ফোকর চোখে পড়ে। আনন্দ ভেতরে ঢুকল। বেদির ওপর সারি সারি সব প্রস্তর ফলক। ফলকে মৃত ব্যক্তির নাম, সংক্ষিপ্ত পরিচয়, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ খোদাই করা। মনোহারি দোকানের সেই লোকটির কথাই ঠিক, যতগুলি নাম ও পড়ল সবার শেষেই ভারতীয় পদবি, স্যামুয়েল হোড়, নীল হেমব্রম ইত্যাদি।

    আরও দেখুন
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বইয়ের
    বাংলা ভাষা
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    সাহিত্য পত্রিকা
    বই পড়ুন
    Books
    বইয়ের
    গ্রন্থাগার

    ওখানে দাঁড়িয়ে ও যখন চারদিকে চোখ বুলোচ্ছিল তখন সূর্যের শেষ রশ্মি ম্লান আভা ছড়িয়ে বিদায় নিচ্ছে। একটা হিমেল হাওয়ায় ওর শরীর কেঁপে উঠল। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে, চারদিকে মৃত্যুর নিস্তব্ধতা। ওইসব বেদির তলায় কফিনের মধ্যে সমাহিত রয়েছে পাশাপাশি সব মৃতদেহ। একটা কেমন যেন অশরীরী পরিবেশ। আনন্দ রীতিমতো সাহসী, তবু ওর বুক কেঁপে উঠল, তাড়াতাড়ি ওখান থেকে বেরিয়ে পড়ল, জীবিত মানুষের সান্নিধ্যই ওর কাছে অনেক বেশি কাম্য।

    ও হোটেলে ফেরার প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই সূরয চা নিয়ে এল, আর একটা রেকাবিতে হালুয়া। হোটেল মালিক সূরযের পেছনে পেছনে ঘরে ঢুকলেন, বললেন, ‘সকাল থেকে আপনার সঙ্গে ভালো করে কথাই হয়নি, তাই আলাপ করতে এলাম।’

    কথায় কথায় আনন্দ জানতে পারল ভদ্রলোকের বাবা অল্প পুঁজি নিয়ে এখানে এসে ব্যাবসা শুরু করেছিলেন, তাঁদের আদিনিবাস হুগলি জেলার সিঙ্গুরে। জ্ঞাতি-গোষ্ঠীরা এখনও সেখানে আছেন, বাড়িঘর, জমিজমার অংশও আছে, তবে সেসব এখন প্রায় বে-দখল। দু-তিন বছর অন্তর ভদ্রলোক একবার সেখানে ঘুরে আসেন। স্ত্রী বাপের বাড়ি বর্ধমান, একমাত্র মেয়েরও বিয়ে দিয়েছেন বর্ধমানে। জামাইয়ের কাপড়ের ব্যাবসা। বাড়িঘর ছাড়াও ধানিজমি আছে, অবস্থা ভালো। গত দু-বছর ধরে ভদ্রলোকের স্ত্রী কঠিন অসুখে ভুগছেন।

    আরও দেখুন
    অনলাইন বুক
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা ই-বই
    বুক শেল্ফ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বইয়ের
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী

    আনন্দ এ সময় হঠাৎ এখানে বেড়াতে এল কেন এ প্রশ্নের জবাবে ও একটু হেসে কীভাবে হঠাৎ এখানে নেমে পড়েছিল তা বলল।

    ‘সবই ঈশ্বরের ইচ্ছে,’ একটু দার্শনিক ভাবে বললেন হোটেল মালিক, ‘নইলে কেন ঠিক এই সময়ে আপনি এখানে এলেন!’

    ‘কী ব্যাপার বলুন তো?’ আনন্দ এবার আর নিজেকে সংযত রাখতে পারল না, ‘এখানে আসার পর থেকে লক্ষ করছি কী-একটা ব্যাপার যেন আমার কাছে চেপে যাওয়া হচ্ছে। শুধু হোটেলেই নয়, বাইরেও দু-একজনের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি এ ব্যাপারে সবাই যেন মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে।’

    হোটেল মালিক একটু চুপ করে থেকে বললেন, ‘আপনি আরও দু-তিন দিন থাকুন সব জানতে পারবেন। তবে কাল রাতটা পার হতে দিন, তার আগে দয়া করে কিছু জানতে চাইবেন না। আপনি বাঙালি, এখানে এসে আপনি বিপদে না পড়েন সেটা দেখা আমার নৈতিক কর্তব্য।’

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    Library
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    সাহিত্য পত্রিকা
    PDF
    বইয়ের
    বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    অনলাইন বুক

    রাত্রে শুধু ভাত আর মাংস, বড়ো এক বাটি ভরতি পাঁঠার মাংস। এক ঘুমে রাত কাবার হয়ে গেল। আনন্দ আলস্যভরে আরও কিছুক্ষণ শুয়ে রইল। তারপর উঠে মুখ ধুয়ে চায়ের প্রত্যাশায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সূরযকে ডাকতে যাবে এমন সময় হোটেল-মালিক নিজেই একটা ট্রে করে চা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন।

    ‘কী ব্যাপার, আপনি?’ আনন্দ একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করল।

    ‘সূরয কাল রাত্রেই ওর মা-বাবার কাছে গেছে, আজ আর আসবে না।’

    ‘তবে তো আপনার খুব মুশকিল হল,’ আনন্দ একটু অপ্রস্তুত বোধ করল।

    ‘না মুশকিল আর কীসের! আপনি তো একজন মাত্র বোর্ডার, তা আমার অভ্যেস আছে।’

    চা-পান শেষ করে আনন্দ স্নান সেরে নিল, তারপর জলখাবার সেরে বেরুবে এমন সময় হোটেল মালিক পেছন থেকে ডেকে বললেন, ‘একটা কথা মজুমদার বাবু, আজ তাড়াতাড়ি ফিরবেন, আর এদিক-ওদিক বেশি যাবেন না।’

    আরও দেখুন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    সাহিত্য পত্রিকা
    Library
    ই-বই ডাউনলোড
    গ্রন্থাগার
    বই পড়ুন
    পিডিএফ
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন

    ‘কেন বলুন তো?’

    ‘আপনাকে তো বলেইছি এখন কিছু জানতে চাইবেন না, আপনার ভালোর জন্যই বলছি।’

    ‘ঠিক আছে,’ আনন্দ বেরিয়ে পড়ল।

    আশ্চর্য, আজ সকাল থেকেই পথঘাট যেন শুনশান, যে দু-চারজন পথে বেরিয়িছে তাদের যেন ভীষণ তাড়া, কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে তারা যেন ব্যস্ত। হাঁটতে হাঁটতে আবার সেই গির্জার কাছে এসে পড়ল আনন্দ।

    গির্জার যিনি যাজক তিনি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আনন্দ আগেই শুনেছিল ফাদার জোসেফ দক্ষিণ ভারতের মানুষ, এখানে অনেক বছর আছেন। গায়ের রং বেশ কালো, চুল-দাড়ি সব সাদা।

    আনন্দ ভদ্রতার খাতিরে বলল, ‘গুড মর্নিং ফাদার।’

    ‘গুড মর্নিং মাই সন,’ তারপর ভুরু কুঁচকে বললেন, ‘চিনতে পারলাম না তো।’

    আরও দেখুন
    বাংলা কমিকস
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    সেবা প্রকাশনীর বই
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    অনলাইন বুক
    বাংলা কবিতা

    ‘আমি এখানে থাকি না, বেড়াতে এসেছি।’

    ‘আচ্ছা! কবে এসেছ?’

    ‘গতকাল।’

    ‘কোথায় উঠেছ?’

    আনন্দ হোটেলের নাম বলল।

    ‘আই সি,’ ফাদার বললেন, ‘হ্যারিসের হোটেলে…তা সে তোমাকে কিছু বলেনি?’

    ‘হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি ফিরতে বলেছিলেন।’

    ‘ইয়েস, রাইট। তুমি হোটেলে ফিরে যাও, মাই সন। আজ দিনটা ভালো নয়, সন্ধের পর বাইরে বেরিয়ো না, নেভার।’

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    PDF
    অনলাইন বই
    বইয়ের
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা ভাষা

    ‘কিন্তু ব্যাপারটা কী ফাদার?’ আনন্দ অনেকটা অধৈর্য কণ্ঠে বলল, ‘কেউ আমাকে খুলে বলছে না, যেন আজ ভয়ানক কিছু একটা ঘটতে চলেছে, কিন্তু সেটা কী কেউ বলছে না।’

    ‘ঠিক তাই,’ ফাদার গম্ভীর মুখে বললেন, ‘প্রতি বছর এই তারিখে রাত বারোটার পর ভীষণ এক কাণ্ড ঘটে। কেউ এদিন সন্ধের পর বাইরে থাকে না, দরজা-জানালা এঁটে প্রার্থনা করে। তুমি ফিরে যাও মাই সন, মে গড বেস্ট ইউ।’

    তিনি আর কথা না বলে ঘুরে দাঁড়ালেন, তারপর ধীরপদে ভেতরে চলে গেলেন।

    আনন্দ কয়েক মুহূর্ত হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে রইল তারপর ফিরে চলল। কবরখানার পাশ দিয়েই ওকে হাঁটতে হচ্ছিল। কবরখানার ভেতর আরেকবার ঢুঁ মারবার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল ওর, কিন্তু ইচ্ছেটাকে ও দমন করল। আসলে কবরখানা সম্বন্ধে ওর কৌতূহল বরাবরই একটু বেশি। কলকাতার সব কবরখানা ওর ঘোরা হয়ে গেছে। সমাধিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে বেদিতে বা ফলকে খোদাই করা মৃতের নাম, পরিচয় পড়তে পড়তে ওর বিচিত্র এক অনুভূতি হয়। কবে, কখন, কোথাকার এক মানুষ এখানে এসে মাটির তলায় চিরশান্তির নিদ্রায় শুয়ে আছে, একথা ভাবতে রোমাঞ্চিত হয় ওর শরীর।

    ও হোটেলে ফিরতেই মালিক যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন। সূরয নেই, রান্নার ঠাকুরও অসুস্থ হয়ে বিছানা নিয়েছে, তিনি বেশ ফাঁপরেই পড়েছেন মনে হল। তবে হোটেলে ও ছাড়া দ্বিতীয় কেউ নেই তাই একাই সামাল দিচ্ছেন। নিজেই রান্না করেছেন। ডাল, ভাত, বেগুন ভাজা আর পাবদা মাছের ঝোল। আনন্দ খেয়ে দেখল পাকা হাতের রান্না।

    দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর একটা ঘুম দিল আনন্দ। ঘুম যখন ভাঙল তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল। চোখে-মুখে জল দিয়ে ও নীচে নেমে এল। হোটেল-মালিক যেন ওর জন্যই অপেক্ষা করছিলেন, বললেন, ‘উঠেছেন, আপনার জন্যেই বসে আছি, এবার চা বানাব।’

    চা-পান শেষ করে আনন্দ ভাবল বেলা থাকতে থাকতেই একটু ঘুরে আসবে। অন্ধকার হবার আগেই ফিরবে। ওকে বেরুতে দেখে হোটেল-মালিক বলে উঠলেন, ‘এ কী, আপনি বেরুচ্ছেন!’

    ‘একটু ঘুরে আসি,’ আনন্দ জবাব দিল, ‘বেড়াতে এসে ঘরে বন্দি থাকার কোনো মানে হয় না। তা ছাড়া এখন তো বেলা রয়েছে, সন্ধের আগেই ফিরে আসব।’ তারপরই মুচকি হেসে বলল, ‘আপনাদের সেই ভয়ংকর ঘটনা রাত বারোটার আগে তো শুরু হয় না।’

    ‘আপনাকে একথা কে বলেছে?’ হোটেল মালিক জিজ্ঞেস করলেন।

    ‘কেন, আপনাদের পাদরি সাহেব,’ আনন্দ জবাব দিল।

    ‘ও, ফাদার জোসেফের সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছে?’

    ‘হ্যাঁ, তিনিও আমাকে সন্ধের পর বাইরে থাকতে মানা করে দিয়েছেন। কী যে আপনাদের ব্যাপার-স্যাপার কিছুই মাথায় ঢুকছে না। যা হোক, বেলা থাকতে থাকতে একটা চক্কর দিয়ে আসি।’

    হোটেল-মালিক মুখে কিছু বললেন না, কিন্তু তাঁর চোখ-মুখই বলে দিল যে তিনি আনন্দর এই ‘চক্কর’ দেওয়াটা মোটেই পছন্দ করছেন না।

    নির্জন রাস্তা, দোকানপাট সব বন্ধ। যেন এক অলিখিত বনধের ডাকে সব কিছুর গতি স্তব্ধ হয়ে গেছে। কিছু কিছু বাড়ির সদর দরজায় ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তি চোখে পড়ল আনন্দর। কপাটে লটকানো রয়েছে, যেন দরজা দিয়ে অশুভ কিছু ভেতরে ঢুকতে না পারে।

    ও হাঁটতে হাঁটতে নদীর ধারে চলে গেল। ফেরার সময় একটু ঘুরে গির্জার পাশ দিয়ে হাঁটছিল, হঠাৎ কী মনে হল কবরখানার মধ্যে ঢুকে পড়ল। একটা দুর্নিবার আকর্ষণই যেন ওকে নিয়ে গেল ওখানে। ঢুকেই অবাক। সমাধিস্তম্ভের প্রত্যেকটা বেদির ওপর ফুল ছড়ানো। তবে কি আজ এখানে ক্রিশ্চানদের কোনো পরব ছিল! নইলে সব বেদিতে ফুল দেওয়া হবে কেন! কিন্তু ক্রিশ্চানদের এমন কী পরব আছে যে একই দিনে সবার বেদিতে ফুল দিতে হয়! অন্তত ওর জানা নেই। নিশ্চয় সকাল বা ভোরের দিকে এখানকার মানুষ এসে এই ফুল দিয়ে গেছে। কারো মৃত্যুবার্ষিকীতে তার বেদিতে ফুলের স্তবক দিয়ে তাকে স্মরণ করা নয়, এ যেন সর্বজনীন স্মরণ তিথি।

    কবরের মাঝখানে একটা মহুয়া গাছ। চারপাশটা গোল করে বাঁধানো। ঝরে পড়া মহুয়া ফুলে ভরে আছে ওই শানবাঁধানো গোল বেদিটা। আনন্দ সেই বেদির ওপর বসে পড়ল, তারপর দু-আঁজলা ভরে মহুয়া ফুল তুলে নাকের কাছে ধরল। একটা মদির আবেশ যেন আচ্ছন্ন করে ফেলল ওকে। ওর আর উঠতে ইচ্ছে করছে না, আলস্য নেমে এসেছে শরীরে, সেইসঙ্গে একটা অপ্রতিরোধ্য শক্তি যেন ওকে ওখানে আটকে রাখতে চাইছে। মহুয়া ফুলের মাদকতায় ওর দু-চোখ বুজে আসছে। দুপুরে ও খুব ঘুমিয়েছে তবু এখন দু-চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে। নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ল আনন্দ, শুয়ে পড়ল শানবাঁধানো বেদির ওপর।

    যখন ওর ঘুম ভাঙল, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। গির্জার ঘড়িতে ঢং ঢং করে ঘোষণা করল রাত দশটা। তখুনি ওর খেয়াল হল কোথায় ও আছে। একটা হিম শিহরন বয়ে গেল ওর শরীরে। তারপরই ও শুনতে পেল চারদিকে ফিসফিসানি। ওকে ঘিরে কারা যেন ফিসফিস করছে, কিন্তু কাউকে দেখতে পাচ্ছে না ও।

    ‘কে? কে?’ ও প্রায় চেঁচিয়ে উঠল।

    একটা চাপা হাসির শব্দ ভেসে এল। একসঙ্গে অনেকের চাপা হাসি। শব্দটা কিন্তু আসছে নীচ থেকে যেখানে সমাধিস্তম্ভের তলায় সমাহিত আছে সারি সারি মৃতদেহ।

    ভীষণ আতঙ্কে কেঁপে উঠল ওর সর্বাঙ্গ। কোনোমতে উঠে দাঁড়িয়ে ওখান থেকে বেরুবার জন্য ও ছুটল গেট লক্ষ করে। কিন্তু অন্ধকারে একটা বেদিতে হোঁচট খেয়ে ও পড়ে গেল। উঠল, আবার ছুটল, আবার পড়ে গেল। যতবারই ও উঠে ছুটতে যায়, ততবারই শানবাঁধানো চৌকো বেদি ওকে যেন আটকে দিচ্ছিল। হাঁটু, কনুই ছড়ে গিয়ে জ্বালা করছে, ঠোঁট কেটে লোনা হয়ে উঠেছে মুখের স্বাদ। কিন্তু কোথায় গেট! সেটা যেন হারিয়ে গেছে। ও এখানে বন্দি, এখান থেকে আর কোনোদিন ও বেরুতে পারবে না, বাকি জীবনটা কাটাতে হবে এই মৃতদের সঙ্গে। পেছন থেকে ভেসে আসছে হি হি শব্দ— শরীরের রক্ত হিম করা হাসি।

    একটা কাঁপুনি ওকে যেন দাঁড়াতে দিচ্ছে না। তারপরই প্রাণপণে ও চিৎকার করে উঠল, ‘ফাদার…ফাদার জোসেফ…আপনি কোথায়…আমাকে বাঁচান…আমাকে বাঁচান…’

    হি হি শব্দটা যেন আরও বেড়ে গেল।

    ‘ফাদার…ফাদার!’

    হঠাৎ গির্জার ভেতর দোতলার একটা ঘরের জানালার কাচে আলো দেখা গেল। ওর চিৎকার বোধ হয় শুনতে পেয়েছেন কেউ। ও আবার চেঁচিয়ে উঠল, ‘ফাদার…ফাদার…ফাদার জোসেফ…,’ একটা কান্না ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে ওর গলা থেকে।

    একটু পরেই একটা আলোর রেখা দেখা গেল, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, পেছনে সাদা আলখাল্লা পরা এক মূর্তি।

    ‘ফাদার আমি এখানে…আমাকে বাঁচান…আমি চলতে পারছি না।’

    আলোটা আরও এগিয়ে এল। ফাদার জোসেফ ওর সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর বাঁ-হাতে একটা লন্ঠন আর ডান হাতে ধরা রয়েছে ক্রুশ বিদ্ধ যিশুর এক মূর্তি। সেটা তিনি এমনভাবে বাড়িয়ে ধরেছেন যেন প্রতিরোধ করতে চাইছেন এক অদৃশ্য অশুভ শক্তিকে।

    ‘ফাদার…ফাদার আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলুন,’ কান্নার আবেগে থর থর করে কেঁপে উঠল ওর শরীর।

    ‘আমার কাঁধে হাত দিয়ে হাঁটো…কোনো ভয় নেই, গড ইজ ইউথ আস।’

    তিনি বাইবেলের বাণী উচ্চারণ করতে লাগলেন আর যিশুর মূর্তিকে তুলে ধরলেন মাথার ওপর। হঠাৎ যেন মন্ত্রবলে কবরখানার সব কিছু শান্ত হয়ে গেল।

    আনন্দকে ফাদার জোসেফ দোতলায় তাঁর নিজের ঘরে নিয়ে গেলেন। ওকে একটা চেয়ারে বসিয়ে তিনি এক পেয়ালা দুধে খানিকটা ব্র্যান্ডি ঢেলে ওর সামনে ধরলেন, বললেন, ‘এটা খেয়ে নাও।’

    আনন্দ এক চুমুকে পেয়ালাটা নিঃশেষ করল, অনেকটা চাঙ্গা মনে হল নিজেকে।

    ফাদার জোসেফ ওকে কিছুক্ষণ সময় দিলেন, তারপর বললেন, ‘কেন এসেছিলে এখানে? তোমাকে আমি সকাল বেলা সাবধান করে দিয়েছিলাম।’

    আনন্দ বলল বিকেলে একটু বেড়িয়ে সন্ধের আগেই হোটেলে ফিরবে মনে করেই বেরিয়েছিল, কিন্তু কীসের যেন একটা আকর্ষণে এই কবরখানায় ঢুকেছিল, তারপর কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল জানে না।

    ‘বুঝেছি,’ ফাদার জোসেফ বললেন, ‘অশুভ শক্তিই তোমাকে এখানে টেনে এনেছিল, খুব বেঁচে গেছ তুমি, রাত বারোটার পর হলে তোমাকে আর বাঁচাতে পারতাম না, রাত বারোটার পরেই ওরা জাগতে শুরু করে।’

    ‘কারা?’ আনন্দ জিজ্ঞেস করল।

    ফাদার জোসেফ কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন, তারপর বললেন, ‘প্রতি বছর এই তারিখে রাত বারোটার পর এই কবরখানায় মৃত ব্যক্তিদের আত্মারা কবর থেকে উঠে আসে, সারা শহর জুড়ে তাণ্ডব চালায় তাই সন্ধের পর থেকে দরজা জানালা এঁটে বসে থাকে সবাই, প্রার্থনা করে।’

    ‘তাই কি কবরখানায় অত ফুল?’

    ‘হ্যাঁ,’ ফাদার জোসেফ ক্লান্ত কণ্ঠে জবাব দিলেন, ‘এখানকার মানুষরা আজকের তারিখে কবরখানার সমাধিস্তম্ভে ভোরবেলা এসে ফুল দিয়ে যায়।’

    ‘কিন্তু কেন এমন হয়?’

    ফাদার জোসেফ সঙ্গেসঙ্গে জবাব দিলেন না, একটু সময় নিলেন, তারপর মৃদুকণ্ঠে বলতে থাকেন, ‘আজ থেকে অনেক বছর আগে, আমি তখন প্রথম এখানে এসেছি, বয়সে নবীন, কাজ করবার অদম্য উৎসাহ। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে গিয়ে আমি যিশুর বাণী প্রচার করি, অবহেলিত মানুষকে দীক্ষিত করি খ্রিস্ট ধর্মে। এই অঞ্চলের কিছু মানুষকে এভাবে আমি দীক্ষিত করেছিলাম। তখন জানতাম না তারা ছিল অসৎ, লোভী, নিষ্ঠুর, তাদের মধ্যে কয়েকজন খুনিও ছিল। আইনের হাত থেকে বাঁচবার জন্য তারা সাধু সেজেছিল, খ্রিস্টান হয়েছিল, আমি তাদের রক্ষা করেছিলাম। কিন্তু তাদের স্বভাবের পরিবর্তন হয়নি, তাদের সবারই মৃত্যুর কারণ ছিল অস্বাভাবিক— ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ভায়োলেন্ট ডেথ। তারা যে অমন হিংস্র আর পাপী ছিল তা আমি বুঝতে পারিনি,’ ফাদার জোসেফের গলায় বেজে উঠল অনুশোচনার সুর, ‘আমি তাদের ভালো করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। তাদের মৃত্যুর পর ক্রিশ্চান ধর্মমতে এই কবরখানায় তাদের সমাহিত করা হয়েছিল। কয়েক বছর শান্তিতেই কেটেছিল তারপর একদিন,’ একটু থেমে ফাদার জোসেফ বললেন, ‘একদিন অমাবস্যার গভীর রাতে তাদের আত্মা কবর থেকে জেগে উঠল। আজকের রাতটাই তারা বেছে নিয়েছিল কারণ আজ খুব অশুভ দিন, রাত বারোটার পর ওরা পূর্ণ শক্তিতে জেগে ওঠে। প্রথম প্রথম ওই দুষ্টু আত্মারাই জাগছিল, পরে যারা ভালো তাদের আত্মাকেও তারা জাগিয়ে তাদের দুষ্কর্মের সঙ্গী করে নেয়। সারারাত তারা রাস্তায় রাস্তায় তাণ্ডব করে, সে এক নারকীয় কাণ্ড। আগে তারা আমাকে ভয় পেত, আমি তাদের সামনে দাঁড়ালে পালিয়ে যেত, কিন্তু এখন আর আমাকে গ্রাহ্য করে না। আমাকে শেষ করবার চেষ্টাও করেছিল। তাদের অশুভ শক্তির মোকাবিলার জন্য তাই আমাকে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হয়। যত ভয়ংকরই তারা হোক না কেন, যিশুর মূর্তির সামনে তারা কুঁকড়ে যায়, অশুভ শক্তির সেখানেই পরাজয়। আজকের রাতে আমি ঘুমুই না, প্রার্থনা করি, তাই তোমার চিৎকার শুনতে পেয়েছিলাম— যিশুই তোমাকে রক্ষা করেছেন।’

    ফাদার জোসেফ চুপ করলেন। ঘরের মধ্যে নেমে এল এক অখণ্ড নিস্তব্ধতা। কতক্ষণ এভাবে ছিল আনন্দর হুঁশ নেই, হঠাৎ ও ভীষণ চমকে উঠল। বাইরে থেকে ভেসে আসছে হুল্লোড়, রক্ত হিম করা একটা শব্দ—

    —হিংস্র উল্লাস।

    ‘ওরা জেগেছে,’ ফাদার জোসেফ মৃদুকণ্ঠে বললেন, ‘এসো, আমরা প্রার্থনা করি।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন
    Next Article অরিগামির গোলকধাঁধায় – মাহরীন ফেরদৌস

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    মঞ্জিল সেন

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }