Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প457 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কবরের কান্না

    ডক্টরস’ ক্লাবে আমরা সবাই জড়ো হয়েছিলাম। মাঘ মাসের শেষ। হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় জমাটি ঠান্ডা পড়েছে, সঙ্গে কনকনে হাওয়া যেন হাড় ভেদ করে সূচ বিঁধছে। ক্লাবরুমের দরজা জানালা বন্ধ করে, গরম পোশাকে নিজেদের ঢেকে আমরা গল্পগুজবে মেতে উঠেছিলাম। আমরা অর্থাৎ ডাক্তাররা। আজ আমাদের বার্ষিক সম্মিলনী। পরস্পরের সঙ্গে দেখাসাক্ষাতের এই চমৎকার সুযোগ হাতছাড়া করতে আমরা রাজি নই বলেই হাড়-কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে সবাই জড়ো হয়েছি। চিকিৎসা জগতে যাঁরা প্রথম সারির তাঁদের সান্নিধ্যের লোভটাও কম নয়।

    অধিবেশন শেষ হয়ে গেছে। গরম গরম মুখরোচক খাদ্য আর পানীয় আমাদের চাঙ্গা করে তুলেছে। একটা টেবিলে আমরা কয়েকজন গোল হয়ে বসে ছিলাম। আমাদের মধ্যে ছিলেন সাইকিয়াট্রিস্ট ডা দেব। চিকিৎসাজগতের সঙ্গে যাদের সামান্য পরিচয় আছে, তাদের কাছে ডা দেবের নাম অপরিচিত নয়। শুধু একজন সফল চিকিৎসক বলেই নয়, মানসিক রোগের চিকিৎসার ব্যাপারে তাঁর গভীর গবেষণা নতুন আলোকপাত করেছে, বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর নাম। এককথায় তিনি একজন বিশেষজ্ঞ এবং ওপরের সারির অন্যতম। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে মেতে উঠেছিলাম। কে কার চমকপ্রদ কাহিনি আগে বলবে তা নিয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। ডা দেব আমাদের হাবভাব দেখে মৃদু মৃদু হাসছিলেন। ছোটোদের চপলতায় বড়োরা সহনশীলভাবে যেমন হাসেন অনেকটা যেন তাই। হঠাৎ আমাদের মধ্যে একজন তাঁকে লক্ষ করে বলে উঠল, ‘স্যার, আপনার জীবনের একটা আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা আমরা শুনতে চাই।’

    আমরা সমস্বরে সেই প্রস্তাবে সায় দিলাম।

    ডা দেব সুদৃশ্য কাচের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে আমাদের কথা শুনছিলেন। আচমকা এই প্রস্তাবে তিনি যেন একটু থমকে গেলেন। আমাদের সকলের প্রত্যাশিত মুখের ওপর দিয়ে তাঁর দৃষ্টিটা ছুঁয়ে গেল। এক চুমুকে অবশিষ্ট সোনালি পানীয়টুকু শেষ করে গ্লাসটা টেবিলের ওপর রাখতে রাখতে তিনি বললেন, ‘অল রাইট, আজ তোমাদের এক অদ্ভুত কাহিনি শোনাব।’

    আমরা উৎসুকভাবে আরও ঘন হয়ে বসলাম। ডা দেব তাঁর কাহিনি শুরু করলেন।

    ‘আমি তখন বিলেতের পল্লি অঞ্চলের এক বেসরকারি মানসিক রোগের হাসপাতালে কাজ করি। বয়সও তখন কম, উদ্যমও প্রচুর। সেখানেই এক বিচিত্র রোগীর সংস্পর্শে আমি আসি। বেশ অনেক বছর ধরেই নাকি ওখানে আছে। খুব শান্তশিষ্ট, কাউকে কখনো অসুবিধেয় ফেলেছে বা বিরক্ত করেছে এমন ঘটনা ঘটেনি। পরে আমি জেনেছিলাম তার ইচ্ছে অনুসারেই তাকে ওই হাসপাতালে রাখা হয়েছিল এবং এজন্য সে রীতিমতো খরচা দিত। তার কোনো নিকট আত্মীয়স্বজন ছিল কি না জানা যায়নি, তবে কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে আসত না। আত্মীয়স্বজন তার সম্বন্ধে আগ্রহ প্রকাশ না করলেও ডাক্তার, মনস্তত্ত্ববিদ, এমনকী প্যাথোলজিস্টদের কাছেও সে আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যখন সে হাসপাতালে ভরতি হয়েছিল তখন সে ছিল প্রায় অজ্ঞাত একজন মানুষ, কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার বিচিত্র ইতিহাস ডাক্তারদের কাছে বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। চিকিৎসাজগতে তার কেস হিস্ট্রি নিয়ে এত শোরগোল পড়েছিল যে, সে রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে পড়েছিল। ব্যাপারটা হল সে ঘুমোত না, দিন বা রাত কখনোই নয়। গোড়ার দিকে সে নাকি রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে বেশ কিছুক্ষণ বই পড়ত, তারপর যথারীতি আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়ত। পাঁচ মিনিট বাদেই জেগে উঠে পড়ত, যেন অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছে, শরীরে কোনো ক্লান্তি নেই। ক্রমে ওই পাঁচ মিনিট ঘুমও তার চোখ থেকে উবে যায়, ফলে রাত্তিরে বিছানায় শোয়া পর্যন্ত সে ত্যাগ করেছিল। রাত আর দিন এক হয়ে গিয়েছিল তার কাছে।

    ‘তার এই অদ্ভুত মানসিক অবস্থার কোনো কারণ খুঁজে না পেয়ে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ তার জন্য একটা আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করেছিলেন। তার অনুরোধে ওই ঘরে কোনো বিছানা রাখা হয়নি। সাধারণত রাতটা সে বই পড়ে আর লিখেই কাটিয়ে দিত। কী যে সে লিখত তা কিন্তু কাউকে দেখাত না।

    ‘মাঝে মাঝে গভীর রাত্রে সে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেত। এই চলে যাওয়ার ক-দিন আগে থেকেই তার মধ্যে একটা অস্থিরতা দেখা দিত আর এই ঘটনাটি ঘটত প্রত্যেক বছরে একই সময়, অর্থাৎ অক্টোবরের মাঝামাঝি। মজার কথা, প্রত্যেকবারই তাকে খুঁজে পাওয়া যেত ওই অঞ্চলের গির্জার লাগোয়া কবরখানায়।

    ‘কেন জানি না লোকটির প্রতি প্রথম থেকেই আমি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলাম, একটা গভীর অনুকম্পা বোধ না করে পারিনি। বোধ হয় এই কারণেই আমি তাকে যতটুকু সম্ভব স্বাচ্ছন্দ্য দিতে চেষ্টা করতাম। লোকটি কথা বলত কম, প্রায় না বললেই চলে, কিন্তু আমার মনোভাব সে বোধ হয় বুঝতে পারত, অন্তত তার দৃষ্টি থেকে তাই মনে হত আমার।

    ‘আমি ওখানে থাকতে থাকতেই সে মারা গিয়েছিল। একেবারে না ঘুমোনো ব্যাপারটা চিকিৎসকদের কাছে আগ্রহের ব্যাপার হলেও ওটাই তার শরীরের কোষগুলিকে দুর্বল ও অকেজো করে দিয়েছিল। সবরকম চিকিৎসাই ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে তার অকালমৃত্যু ঘটে। মজার ব্যাপার, যতদিন সে বেঁচে ছিল, তার স্বাস্থ্য শুধু অটুটই ছিল না, রীতিমতো বলিষ্ঠ ছিল সে। অমন জোয়ান পুরুষ যদি খেপামি শুরু করত তবে সেটা হাসপাতালের কর্ত,পক্ষের কাছে উদবেগের কারণ হয়ে দাঁড়াত, কিন্তু একদিনের জন্যেও কাউকে সে বিব্রত করেনি।

    ‘তার মৃত্যুর পর তার জিনিসপত্রের মধ্যে মুখ বন্ধ বড়ো একটা খাম পাওয়া যায়। খামের ওপর আমার নাম লেখা ছিল, আর লেখা ছিল, ”আমার মৃত্যুর পর যেন খামটি খোলা হয়।” খামের ভেতর হিজিবিজি লেখা অনেক কাগজ ছিল।’

    ডা দেব একটু থামলেন। শূন্য গ্লাসটার দিকে একবার সতৃষ্ণ নয়নে তাকালেন, তারপর আবার শুরু করলেন, ‘সেই লেখার মধ্যে অনেক অসংলগ্নতা ছিল, অসুস্থ মানুষের সীমাবদ্ধ কল্পনার অসংলগ্নতা বললে অন্যায় হবে না। তবু তার মধ্য থেকে আমি এক আশ্চর্য ঘটনার সন্ধান পেলাম। আমি তার জবানিতেই সেই আশ্চর্য কাহিনি তোমাদের বলছি, অবশ্য একটু গুছিয়ে।’

    ক্লাবের বেয়ারা এসে ডা দেবের গ্লাসে কিছুটা সোনালি পানীয় ঢেলে দিল। ডা দেব একটা চুমুক দিয়ে গলাটা ভিজিয়ে নিলেন, তারপর বলতে লাগলেন।

    ‘উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের এক পল্লি-যাজক হলেও সুখী ছিলাম। সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ, সরল ও ধর্মবিশ্বাসী মানুষজন। সত্যিই আমার সুখের অন্ত ছিল না। একমাত্র একজন আমার সুখের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গির্জার তত্ত্বাবধায়ক স্যার অ্যালেক রিউপার্টের সঙ্গে আমার অদ্ভুত একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, সম্পর্কটা পারস্পরিক বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছুই নয়। একটা সহজাত বিদ্বেষ। আমরা পরস্পরকে ঘৃণা করতাম। অথচ আমাদের এই মনোভাবের যুক্তিসংগত কোনো কারণ ছিল না। স্যার রিউপার্টের চেহারা ছিল রোগাটে, মুখে সাদা গোঁফ আর সাদা দাড়ি; দাড়িটা আবার পাতলা ছুঁচোলো, অনেকটা ছাগলের দাড়ির মতো। আমি আড়ালে তাকে ‘সাদা ছাগল’ বলে উল্লেখ করতাম। তার গলার স্বরটাও আমার কাছে ছাগলের ডাকের মতো বিরক্তিকর মনে হত। গির্জা সংক্রান্ত সব কিছু ব্যাপারেই আমরা খুঁটিনাটি নিয়ে ঝগড়া করতাম, পরস্পরের প্রস্তাবের বিরোধিতা আমাদের অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। আমি জানতাম রিউপার্ট আমার নামে নানা কুৎসা প্রচার করে পল্লির অধিবাসীদের মন আমার বিরুদ্ধে বিষিয়ে তুলছিল। বিশেষ করে পল্লিতে নতুন অধিবাসী কেউ এলেই রিউপার্ট প্রথম সুযোগেই আমার বিরুদ্ধে তার কাছে বিষোদ্গার করতে ভুলত না।

    ‘শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা এমন দাঁড়াল যে, সাদা ছাগলের প্রতি বিদ্বেষ আমার সমস্ত সত্তাকে যেন আচ্ছন্ন করে ফেলল। গির্জার উপাসনার সময় আমি জোর করে আমার দৃষ্টি তার দিক থেকে সরিয়ে নিতাম। তাকে আমি যেমন ঘৃণা করতাম তেমন ভয়ও করতাম। তার ফ্যাকাশে দু-চোখের দৃষ্টি আমাকে সবসময় যেন ব্যঙ্গ আর উপহাস করত। আমি বুঝতে পারতাম আমার ক্ষতি করার কোনো সুযোগ পেলে কখনোই সে ছেড়ে দেবে না।

    ‘একজন ধর্মযাজক হয়েও পাপের হাত থেকে আমি রেহাই পাইনি, কারণ মনে মনে আমি শুধু তার মৃত্যুকামনাই করতাম না, কল্পনায় অনেকবার তাকে হত্যাও করেছিলাম আমি। ফলে পাপী মন নিয়ে গির্জার সমাবেশে বাইবেলের নির্দিষ্ট কোনো পরিচ্ছেদ পাঠ করার সময় আমার সংকোচ বোধ হত। সেও যেন আমার মনোভাব বুঝতে পারত আর তাই তার ঠোঁটের ফাঁকে ফুটে উঠত বাঁকা হাসি।

    ‘এক অক্টোবরে আমার কাছে খবর এল ”সাদা ছাগল” গুরুতর পীড়িত। মিথ্যে বলব না, আমার মনে দারুণ একটা আশা জেগে উঠল। যাই হোক, কর্তব্যের খাতিরে আমি তার বাড়ি রওনা হলাম, কিন্তু ঈশ্বরের কৃপায় তার শয্যার পাশে পৌঁছোবার আগেই তার মৃত্যু হল। আমি নিজেকে মুক্ত বোধ করলাম, একটা অপার আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লাম। একজন ধর্মযাজকের পক্ষে এ ধরনের মনোভাব শুধু অসংগতই নয়, গর্হিত, কিন্তু আজ আমার স্বীকার করতে বাধা নেই, তখন আমি একটা মুক্তির স্বাদ অনুভব করেছিলাম।

    ‘অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার দিন আমিও শোক শোভাযাত্রায় যোগ দিলাম। শোভাযাত্রা চলেছিল গির্জার দিকেই। ওখানে কবরখানায় রিউপার্টকে সমাধিস্থ করা হবে। আমি শবাধারের ঠিক আগে আগে হাঁটছিলাম। হঠাৎ একটা খুট খুট শব্দে আমার সমস্ত ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে উঠল। পরমুহূর্তে আমি বুঝতে পারলাম শব্দটা আসছে কফিনের ভেতর থেকে।

    ‘আমার শরীরের রক্ত যেন হিম হয়ে গেল। প্রাণপণ চেষ্টায় ব্যাপারটাকে আমি মন থেকে ঝেড়ে ফেললাম, ভাবলাম নিশ্চয়ই আমি ভুল শুনেছি। হয়তো সবটাই আমার মনের কল্পনা। রিউপার্টের বিরুদ্ধে আমার ঘৃণাই হয়তো প্রতিধ্বনিত হয়ে আমার অবচেতন মনকে নাড়া দিয়েছে।

    ‘আমি থেমে গিয়েছিলাম, আবার হাঁটতে শুরু করলাম। ঠুক ঠুক ঠুক ঠুক। শব্দটা আবার আমার কানে এল। এবার আর আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। আমি শবাধার-বহনকারীদের মুখের দিকে তাকালাম, তারাও নিশ্চয়ই শব্দটা শুনেছে। কিন্তু আশ্চর্য, তাদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়াই আমার চোখে পড়ল না। তবে কি ওরা কিছু শুনতে পায়নি? ঠুক ঠুক ঠুক ঠুক। আবারও একবার আমি সেই শব্দ শুনলাম, এবার যেন একটু অস্পষ্ট। একটা ভয়ানক সত্য আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল। রিউপার্ট মারা যায়নি। পৃথিবীর আলোতে ফিরে আসার জন্য তার কাতর আবেদন একমাত্র আমার কানেই পৌঁছেছে, আমিই তাকে বাঁচাতে পারি।

    ‘আমার মনে তখন যে ঝড় উঠেছিল তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। আমার চিরশত্রুকে বাঁচাবার ক্ষমতা শুধু আমারই আছে। যাকে আমি মনে মনে অসংখ্যবার খুন করেছি, এখন অজ্ঞতার ভান করে সত্যিই আমি খুনির কাজ করছি। আমার এই ঘৃণিত অপরাধের কোনো প্রমাণ নেই, কোনো সাক্ষীও নেই। আমার যত ক্ষতি সে করেছে, আমার বিরুদ্ধে দিনের পর দিন যে ঘৃণার বীজ সে ছড়িয়েছে, তা ছবির মতো আমার চোখের সামনে ফুটে উঠল। আমি অনুভব করলাম কফিনের ভেতর থেকে পাণ্ডুর দু-চোখ দিয়ে সে যেন তার সমস্ত কৃতকার্যের জন্য আমার কাছে ক্ষমা চাইছে, বাঁচার জন্য আমার দয়া ভিক্ষে করছে আর আমি ঘৃণাভরে তার বোবা আবেদন প্রত্যাখ্যান করছি। একটা নিষ্ঠুর উল্লাসে আমার মন ভরে উঠেছে। তারপরই আমি বাস্তব জগতে ফিরে এলাম। আর কেউ যখন শব্দটা শুনতে পায়নি, তখন ওটা নিছক আমার কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।

    ‘আমার মন শান্ত হল। ধর্মীয় শেষকৃত্যাদির পর কবরের মধ্যে কফিনটা নামানো হল। আমাদের চারদিকে ঠান্ডা, স্যাঁৎসেঁতে আবহাওয়া, অস্তগামী সূর্যের বিষণ্ণ পরিবেশ। নরম আলগা মাটি ঝুর ঝুর করে কফিনটাকে ঢেকে ফেলতে লাগল। কফিনের ভেতর থেকে রিউপার্টও কি সেই মাটি পড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছে? একটা নিদারুণ হতাশায় সে কি ভেঙে পড়ছে? ঠিক তক্ষুনি আমি আবার সেই শব্দটা শুনলাম। ঠুক ঠুক ঠুক ঠুক। ক্ষীণ অথচ যেন একটা অদম্য প্রয়াস। তারপরই মাটি চাপা পড়ার শব্দে সেই শব্দটাও চাপা পড়ে গেল।

    ‘আমি আমার বাসভবনে ফিরে এলাম। পল্লিযাজকদের বাসভবন, গির্জা এবং কবরখানা যে একই জমির ওপর তা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না।

    ‘চারদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে। আমি আমার বসবার ঘরে আগুন-চুল্লির পাশে আরাম করে বসে ছিলাম। জানালা দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া আসছিল। আমি উঠে পর্দাটা টেনে দিলাম আর তখুনি আমার দৃষ্টি পড়ল কবরখানার ওপর। আমি যেন চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলছি, আমার সারা অঙ্গ অসাড় হয়ে যাচ্ছে।

    ‘রাত দশটার সময় যখন আমার সব কাজকর্ম চুকল তখন চারদিক নিস্তব্ধ। যে স্ত্রীলোকটি আমার বাড়ির কাজকর্ম করে সে ওই রাত্রে ছুটি নিয়েছিল। আমি সদর দরজা বন্ধ করে দোতলায় আমার শোবার ঘরে ঢুকলাম। সাড়ে দশটা পর্যন্ত বই পড়ে আমি শুয়ে পড়লাম। হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল, যেন বেশ কয়েক ঘণ্টা আমি ঘুমিয়েছি। উঠে আলো জ্বালালাম। ঘড়িতে এগারোটা বাজতে কুড়ি মিনিট। আমি যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। মাত্র দশ মিনিট আমি ঘুমিয়েছি। আমার কিন্তু নিজেকে খুব ঝরঝরে মনে হচ্ছে। অনেকক্ষণ ঘুমোবার পর যেমন হয়। আমি বুঝলাম আর আমার ঘুম হবে না, ঘুমের প্রয়োজনও বোধ করছি না। আলো নিভিয়ে আমি আবার শুয়ে পড়লাম। অন্ধকারে চোখ মেলে আমি শুয়ে ছিলাম, অজস্র চিন্তা আমার মনে এসে ভিড় করছিল। আমার মন বলছিল কিছু একটা ঘটতে চলেছে। চার্চের ঘড়িতে বারোটার ঘণ্টা বাজল। আমি উঠে পড়লাম, পোশাক বদলে নীচে নেমে এলাম। আমার যা করবার তা আমাকে একাই করতে হবে। সত্য ঘটনাও আমাকে জানতে হবে। এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করার কেউ নেই।

    ‘আমি নীচে নেমে পেছনের দরজা খুলে বাইরের ঠান্ডা হিমেল হাওয়ায় এসে দাঁড়ালাম। নির্জন, নিস্তব্ধ রাত। চারদিকে গাঢ় অন্ধকার। আমি একটা লন্ঠন আর কোদাল নিয়ে কবরখানায় ঢুকে পড়লাম। একটা গাছের তলায় নতুন একটা কবরের সামনে আমি এসে দাঁড়ালাম, যে কবরটা মাত্র সন্ধেবেলায় ভরাট করা হয়েছে। আমার তখন জোয়ান বয়স, শরীরে প্রচণ্ড শক্তি। সারাটা রাত আমার সামনে পড়ে আছে।

    ‘লন্ঠনটা মাটিতে রেখে আমি জামার আস্তিন গুটিয়ে নিলাম তারপর কবরটা খুঁড়তে লাগলাম। নরম মাটি। কোনো অসুবিধেই আমার হচ্ছিল না। আমার সারাজীবনের শান্তির জন্য জানা দরকার কফিনের ভেতর থেকে যে শব্দটা এসেছিল তা কি আমার মনের ভুল, না সত্যি। যদি শব্দটা সত্যিই হয়ে থাকে এবং কফিনের ভেতর রিউপার্টের দেহে তখন জীবনের ক্ষীণ স্পন্দন থাকে, তবে তার প্রাণরক্ষার চেষ্টা করে আমি আমার অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করব।

    কনকনে হাওয়া বইছিল। প্রচণ্ড ঠান্ডা তবু পরিশ্রমে আমার শরীর ঘামে ভিজে উঠেছিল। গির্জার ঘড়ির প্রতিটি ঘণ্টাধ্বনির শব্দে আমি চমকে উঠছিলাম। মনে হচ্ছিল আমার কৃতকর্মের ওরা যেন নীরব দর্শক। অন্ধকারে আমাকে লক্ষ করছে। কবরের দু-পাশে মাটি স্তূপাকার হয়ে উঠেছিল আর মাটি খোঁড়ার ফলে যে গহ্বরের সৃষ্টি হচ্ছিল আমি তার মধ্যে ক্রমশই ডুবে যাচ্ছিলাম।

    ‘শেষ পর্যন্ত আমার কোদাল কফিনের ঢাকনায় আঘাত করল। আমি যতটা সম্ভব মাটি সরিয়ে ঢাকনার মুখটা পরিষ্কার করলাম। রাতের গাঢ় অন্ধকার চারদিক থেকে আমাকে যেন গ্রাস করতে চাইছে। একা একা কফিনের ভারী ঢাকনা খোলা যে কত কষ্টসাধ্য তা আগে আমি বুঝিনি। আমার চিরশত্রু, যাকে আমি মনপ্রাণ দিয়ে ঘৃণা করে এসেছি, সে ওই ঢাকনার তলায় শুয়ে আছে। একটা ভয়ানক অনুভূতিতে আমার মন ভরে উঠেছে। সেই মুহূর্তে মৃত্যু যে কী ভয়াবহ তা আমি উপলব্ধি করলাম, তার হিম শীতলতা আমাকে স্পর্শ করল।

    কোনোমতে স্ক্রুগুলো আলগা করে, কোদালটা ভেতরে ঢুকিয়ে আমি সজোরে চাপ দিলাম। ঢাকনার মুখটা আলগা হয়ে গেল। আমি ভারী ডালাটা খুলে লন্ঠন হাতে নিয়ে কফিনের ভেতর দৃষ্টি ফেললাম। লন্ঠনের মৃদু আলো ছড়িয়ে পড়তেই আমি ভয়ানক চমকে উঠলাম। ‘সাদা ছাগল’-এর দেহে প্রাণ নেই। আমার আশঙ্কা ছিল কফিনের ঢাকনা খুললেই গর্তে ঢোকা ফ্যাকাশে দু-চোখ দিয়ে সে আমাকে বিদ্রূপ করে উঠবে, কিন্তু আমার সে-আশঙ্কা অমূলক। সে যে মৃত সে-বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু যা আমাকে স্তম্ভিত করল, তা হচ্ছে, কফিনের ভেতর সে পাশ ফিরে শুয়ে ছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন
    Next Article অরিগামির গোলকধাঁধায় – মাহরীন ফেরদৌস

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    মঞ্জিল সেন

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }