Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প360 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পুতুল

    শেখর চৌধুরীর সঙ্গে প্রথম আলাপেই আমি তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম। গায়ের রং রোদে পোড়া তামাটে, লম্বায় প্রায় ছ-ফুট, পেশল, বলিষ্ঠ চেহারা। চোখে-মুখে একটা আত্মপ্রত্যয়ের ছাপ। এমন একজন মানুষ হঠাৎ চোখে পড়ে না।

    আমারই এক বন্ধু ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার আলাপ করিয়ে দিয়েছিল। আমি একজন লেখক একথা শুনে তিনি কৌতূহলের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়েছিলেন, তারপর মৃদু কৌতুকের সুরে বলেছিলেন, ‘আপনারা যে সব রোমাঞ্চকর ঘটনা কল্পনা করেন, অনেক ক্ষেত্রেই আসল ঘটনা তার চাইতে আরও বেশি রোমাঞ্চকর, আপনাদের কল্পনার জগতের বাইরে।’

    আমরা একটা অভিজাত রেস্তোরাঁয় বসে গল্প করছিলাম। আমাদের সামনে বড়ো বড়ো কাচের প্লেটে সাজানো রয়েছে ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন আর স্যুইট অ্যান্ড সাওয়ার প্রন। আমার বন্ধুই আমাদের দু-জনকে এখানে নেমন্তন্ন করেছিল। আমাদের দু-জনের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য। অবিশ্যি আরও একটা উদ্দেশ্য ছিল, সেটা হল শেখর চৌধুরীকে তার ব্যবসায়ের অংশীদার হতে রাজি করানো। আমার ওপর ভার পড়েছিল ভদ্রলোককে যাচাই করা। কিন্তু আগেই বলেছি, প্রথম দর্শনেই ভদ্রলোকের প্রতি আমি আকৃষ্ট হয়েছিলাম।

    ‘সেকথা এক-শো-বার’, আমি এক চামচ ফ্রায়েড রাইস মুখে পুরে চিবোতে চিবোতে বললাম, ‘ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন, বিজ্ঞজন একথা তো বলেই গেছেন।’

    শেখর চোধুরী আমার জবাবে বোধ হয় খুশি হলেন, কাঁটা দিয়ে একখণ্ড চিলি চিকেন মুখে পুরে আয়েস করে চিবুতে চিবুতে বললেন, ‘শুনবেন তবে একটা কাহিনি, আমার জীবনেই ঘটেছিল।’

    ‘নিশ্চয়ই’, একটা নতুন কিছু শোনবার আশায় আমি উদগ্রীব হলাম।

    ‘আমার বয়স কত মনে হয়?’ আচমকা প্রশ্ন করলেন শেখর চোধুরী।

    তাঁর মেদহীন চেহারার দিকে আরেকবার চোখ বুলিয়ে আমি বললাম, ‘চল্লিশ বিয়াল্লিশের বেশি হবে বলে মনে হয় না।’

    ‘পঞ্চাশ চলছে’, একসঙ্গে কয়েক টুকরো প্রন মুখে পুরলেন শেখর চৌধুরী, ‘শরীরটা মজবুত বলে বোঝা যায় না। তবে আমি যা কাজ করতাম তাতে শক্তি আর সাহস দুটোরই দরকার ছিল।’ আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম।

    ‘তখন আমার বয়স বত্রিশ’, তিনি শুরু করলেন, ‘নিজের শক্তি সম্বন্ধে বড়াই করছি না, তবে একবার একটা ষাঁড়ের দুই শিং চেপে ধরে এমনভাবে ঘুরিয়ে দিয়েছিলাম যে ষাঁড়টা মাটিতে কাত হয়ে পড়েছিল। তার আগে ওটা বেশ কিছু মানুষকে গুঁতিয়ে জখম করেছিল। আরেকবার, তিনি একটু হাসলেন, ‘একটা চিতাবাঘের গলা এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছিলাম যে, শেষ পর্যন্ত সেটা দম বন্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল। হতভাগা আমাকে আক্রমণ করেছিল।’

    ”যাক সেকথা, আসামের এক জঙ্গলে সরকার থেকে ইজারা নিয়ে গাছ কাটার জন্য আমি এক তাঁবু ফেলেছিলাম। সেই কাজের জন্য আমাকে ওই জঙ্গলের আশেপাশে বাস করে এমন আদিবাসী মানুষদের সাহায্য নিতে হয়েছিল। জঙ্গলেই ওদের জীবন, ওখানকার সব কিছু নখদর্পণে তাই আমারও সুবিধে হয়েছিল। মানুষগুলি ছিল সরল, বিশ্বাসী কিন্তু কুসংস্কারে ভরপুর। আমি কাজের জন্য একজন আদিবাসী ছোকরাকে নিজের কাছে রেখেছিলাম। সে আমার রান্নাবান্না, ব্যক্তিগত সব কাজ করত। আমার এমন ন্যাওটা হয়ে গিয়েছিল ছেলেটা যে আমার জন্য প্রাণ দিতেও প্রস্তুত ছিল। আসলে আমার শক্তির একটা প্রমাণ পেয়েই ও অমন অনুগত হয়ে উঠেছিল।

    ”ওইসব মানুষের কাছে শক্তিমানের মর্যাদা আছে, তাকে বোধ হয় তারা সবচেয়ে বেশি সম্মান করে।

    ”ওই উপজাতিদের একজন সর্দার ছিল। গাছ কাটার লোকের জন্য তার ওপরেই আমকে নির্ভর করতে হয়েছিল কারণ উপজাতিরা তাদের সর্দারের হুকুম ছাড়া আমার কাজে হাতই লাগাবে না। সর্দারে প্রতি তাদের আনুগত্যের মধ্যে একটা শৃঙ্খলাবোধের পরিচয় আমি পেয়েছিলাম যা সভ্য জগতে সবসময় দেখা যায় না।

    ”ওই সর্দারের নির্দেশ মতোই গাছ কাটার কাজ চলছিল। লোকটা নিজেও সে জন্য দিন মজুরি নিচ্ছিল কিন্তু শুধু মাত্র নির্দেশ দেওয়া ছাড়া কোনো কাজই সে করত না। লোকটা ছিল অত্যন্ত বদমেজাজি আর রূঢ়ভাষী। কার্যসিদ্ধির জন্য তার অনেক বেয়াদপি আমাকে সইতে হচ্ছিল ফলে তার উদ্ধত ভাবটা বেড়েই চলেছিল। প্রচণ্ড নেশাও করত লোকটা।

    ”তারপর একদিন সামান্য কারণে আমার কাজের ছোকরাটিকে সে এমন মারল যে ছেলেটা প্রায় আধমরা হয়ে গেল। তার অপরাধ সর্দারের হুকুম মতো সে আমার ভাঁড়ার থেকে তাকে একটা বিলিতি সুরার বোতল দেয়নি। আগেই বলেছি, ও ছিল আমার খুব অনুগত আর বিশ্বস্ত। এই ঘটনায় আমি আর ধৈর্য রাখতে পারলাম না, সর্দারকে তার লোকজনের সামনেই পিটুনি দিলাম। এখানে বলে রাখা ভালো, সেও ছিল শক্তিমান, পাথর কুঁদে গড়া মূর্তির মতো চেহারা।

    ”লোকটা রাগে অন্ধ হয়ে তার অনুচরদের কাজ বন্ধ করার হুকুম দিল, এ কথাও বলল যে, সে এমন প্রতিশোধ নেবে যা আমি সারাজীবন ভুলতে পারব না। আমি সেই হুমকিতে তোয়াক্কা না করে বললাম যদি সে কাজ বন্ধ করে দেয় তবে সবার সামনেই আমি তাকে ফাঁসি দেব। সত্যি সত্যিই আমি একটা গাছের উঁচু ডালে দড়ির ফাঁস লাগিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলাম। তাকে ভয় দেখানোই ছিল আমার উদ্দেশ্য আর তাতে কাজও হল। লোকটা সত্যিই ভয় পেল, তারপর সবাইকে কাজে হাত লাগাতে বলল।

    ”এই ঘটনার পর কয়েক দিন কেটে গেছে। আমার ছোকরাটি একদিন চুপি চুপি আমাকে জানাল সর্দার আমার ওপর প্রতিশোধ নেবার জন্য মতলব আঁটছে, সেই উদ্দেশে ওদের যে পুরোহিত তার সঙ্গে সে পরামর্শ করেছে। ছেলেটির আত্মীয়স্বজন ওই পল্লিতেই থাকত, তাই সময় পেলেই সে চলে যেত তাদের সঙ্গে দেখা করবার জন্য। সেখানেই সে কথাটা শুনেছে। তার মা তাকে চুপি চুপি কথাটা বলেছে, এও বলেছে কথাটা যেন ফাঁস না হয়, তবে সর্দার তাদের রক্ষে রাখবে না।

    ”ওদের পুরোহিতকে আমি দেখেছি। এক চিমষে বুড়ো, নাকটা বাঁকানো, চোখ দুটো যেন সবসময় লাল। তবে তার নাকি অলৌকিক ক্ষমতা আছে। একটা ঢিবির ওপর ওই আদিবাসীদের একটা পুরোনো মন্দির আছে, সেই মন্দিরে ওদের বিগ্রহ আমি দেখেছি। ভয়াবহ একটা মূর্তি—কালো পাথরের, তা কত বছর আগের কেউ সঠিক বলতে পারে না। ওই পুরোহিত হচ্ছে মন্দিরের পূজারি, সর্দার পর্যন্ত তাকে সমীহ করে চলে এমন তার দাপট। ভালোর চাইতে মন্দ কাজেই নাকি তার কেরামতি বেশি, যেমন কারও বিরুদ্ধে মৃত্যুবাণ ছুঁড়ে তার জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনা, মন্ত্রবলে কাউকে পঙ্গু করে দেওয়া এই ধরনের কাজে নাকি সে সিদ্ধহস্ত, সাক্ষাৎ শয়তান। আমি অবিশ্যি এসব বিশ্বাস করিনি, তাই ছেলেটার কথা হেসে উড়িয়ে দিলাম।

    ‘বেশ কিছুদিন কেটে গেল। আমার গাছ কাটার কাজ নির্বিঘ্নেই চলছিল। সরকারি লোক এসে যে সব গাছ চিহ্ন দিয়ে যায় শুধু সেগুলিই কাটতে হবে, তবে এদিক-ওদিক যে হয় না এমন নয়। তা ছাড়া আজকাল সাধু পুরুষ কে আছে বলুন? সর্বস্তরে দুর্নীতির পাহাড় জমে গেছে, টাকা দিয়ে সব কিছুই কেনা যায়, মায় মানুষের বিবেক। ব্যতিক্রম যে নেই তা আমি বলছি না, তবে তা অসংখ্যের তুলনায় এতই নগণ্য যে তুলনা না করাই ভালো।’

    শেখর চোধুরী কাচের গেলাসটা তুলে ঠান্ডা বিয়ারে লম্বা এক চুমুক দিলেন, তারপর কিছুক্ষণ নিঃশব্দে আহারে মন দিলেন। আমার কিন্তু মনে হল তাঁর ভেতরে যেন একটা তোলপাড় চলছে, অতীত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি অতীতে ফিরে গেছেন।

    খাওয়া শেষ করে ন্যাপকিন দিয়ে তিনি মুখ মুছলেন, তারপর এক চুমুকে ঠান্ডা পানীয় নিঃশেষ করে বললেন, ‘সেদিন ছিল অমাবস্যা। সে-রাতের কথা আমি ভুলব না। বনের প্রান্তে আমার তাঁবু। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বিকেল থেকেই মেঘ জমেছিল, সন্ধের পর নামল তুমুল বৃষ্টি। ঘণ্টাখানেক পর থেমে গেল। বেশ শীত শীত করছিল। রাত্রে খাওয়ার পাট চুকলে আমি ক্যাম্প খাটে কম্বল মুড়ি দিয়ে আরাম করে শুয়ে পড়লাম। ছোকরাটা আমার পাশেই একটা ক্যানভাসের ওপর ঘুমত। ওর ছিল কুকুরের মতো সজাগ ইন্দ্রিয়, রাত্রে তাঁবুর আশেপাশে একটু শব্দ হলেই ও জেগে উঠত। এক দিক দিয়ে আমার সুবিধেই হয়েছিল কারণ, আমার ঘুম আবার খুব গভীর। রাত্রে যদি কেউ ক্যাম্প খাটসুদ্ধ আমাকে তুলে নিয়ে যায় তবু বোধ হয় আমার ঘুম ভাঙবে না।

    ”বালিশে মাথা ঠেকাবার প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ তীব্র যন্ত্রণায় আমি চিৎকার করে বিছানা থেকে লাফিয়ে নেমে পড়লাম। বুকের বাঁ-দিকটা জ্বলে যাচ্ছে। যেন কেউ জ্বলন্ত অঙ্গার চেপে ধরেছে বুকে। সেই জ্বালা আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। আমার চিৎকারে ছোকরাটাও জেগে উঠেছিল। আলো জ্বালিয়ে দেখালাম বুকের বাঁ-দিকে আগুনে পোড়ার মতো একটা ক্ষত। অথচ তাঁবুর মুখ যেমন বন্ধ ছিল তেমনই আছে। কেউ তাঁবুর ভেতর ঢুকেছিল তার কোনো প্রমাণ নেই। তা ছাড়া আমার কাজের ছেলেটির সজাগ ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি এড়িয়ে কেউ তাঁবুর ভেতর ঢুকবে এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

    ‘ছেলেটির নাম টিককা। আমার বুকের ক্ষত দেখে ওর চোখে-মুখে কেমন যেন একটা ভয়ের চিহ্ন ফুটে উঠল, পরমুহূর্তে ও ছুটে তাঁবুর বাইরে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরেই ও ফিরে এল, হাতে কিছু বুনো লতাপাতা। সেগুলো থেঁতো করে ও আমার ক্ষতের ওপর প্রলেপ লাগিয়ে দিল। একটা ঠান্ডা অনুভূতিতে জ্বলুনি অনেকটা কমে গেল, আরাম পেলাম।

    ”কোনো বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড় তাও নয়। আমি মশারির ভেতরে শুই, শোবার আগে টর্চ জ্বালিয়ে ভেতরটা দেখে নিই। তা ছাড়া কীটের দংশনের কোনো চিহ্ন নেই। একটা রুপোর টাকার মতো গোল হয়ে ক্ষতটা সৃষ্টি হয়েছে, টকটকে লাল।

    ”পরদিন সকালে একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম। সর্দার আড়চোখে আমাকে লক্ষ্য করছে। আমার চোখে চোখ পড়তেই ও চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল। তবে কি ওই লোকটাই প্রতিহিংসার বশে কিছু করেছে! কিন্তু তাঁবুতে কারো ঢোকবার সামান্য প্রমাণও ছিল না। যাতায়াতের পর্দার মুখটা ভেতর থেকে যেমন আঁটো করা ছিল ওই ঘটনার পর তার এতটুকু হেরফের আমার চোখে পড়েনি।

    ”সেদিন রাত্রে টিককা আমাকে একটা খবর দিল। দুপুরবেলা ও বাড়ি গিয়েছিল সেখানেই ওর মার কাছে শুনেছে, কথাটা যেন পাঁচকান না হয় তাও বলে দিয়েছে মা। জানজানি হলেই ওদের উপর নেমে আসবে চরম আঘাত।

    ”খবরটা হল, সর্দার নাকি অমাবস্যার আগের দিন পুরোহিতকে দুটো মুরগি উপহার দিয়েছিল, সেই সঙ্গে চালডাল আর তরিতরকারি। পুরোহিতের বাড়িতে তাদের কথাবার্তা দৈবাতই একজন শুনে ফেলেছে। সে টিককার বাবার জ্ঞাতি ভাই, আবার গাছ কাটার কাজে আমার কাছে দিন মজুরি খাটে। আমাকে সাবধান করে দেবার জন্যই সে টিককার মাকে চুপি চুপি কথাটা বলেছে যাতে টিককা আমাকে জানায়।

    ”পুরোহিত নাকি সর্দারকে কথা দিয়েছিল আমাকে দগ্ধে দগ্ধে মারবে। তার জন্য চাই একটা পুতুল। পুতুলটাকে মন্দিরে বিগ্রহের সামনে রেখে সে মন্ত্রের জোরে তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করবে। ওটা হবে আমার দ্বিতীয় সত্ত্বা, ওটাকে যা করা হবে তার রেশ আমাকেও স্পর্শ করবে। অমাবস্যার রাতে বিগ্রহের সামনে আগুন জ্বালিয়ে মন্ত্র পড়বে পুরোহিত, তারপর একটা লোহা সেই আগুনে গরম করে সর্দারকে আদেশ করবে পুতুলের গায়ে ছ্যাঁকা দিতে। তাতে আমার শরীরের সেই জায়গাও দগ্ধ হবে। এভাবে প্রতি অমাবস্যায় আমার শরীরের নানা অংশ পুড়িয়ে শেষে গরম লোহা আমার চোখে চেপে ধরে আমাকে অন্ধ করে ফেলা হবে।’

    আমার অজান্তেই আমি শিউরে উঠেছিলাম। তা লক্ষ্য করে শেখর চৌধুরী মৃদু হেসে বললেন, ‘কেমন বুঝছেন?’ তারপর নতুন একটা বিয়ারের বোতল খুলে গেলাস কানায় কানায় ভরলেন। গোটা দুই ‘আইস কিউব’ গেলাসে ফেলে ফেনিল সোনালি সেই পানীয় তৃপ্তির সঙ্গে পান করলেন।

    আমাদের খাওয়াও শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি ঘোর আপত্তি করা সত্ত্বেও বন্ধু আরেক প্রস্থ খাবার অর্ডার দিল।

    ‘পুরোহিতের অলৌকিক ক্ষমতার কথা আমি আগেই শুনেছিলাম কিন্তু জংলি মানুষের অন্ধ বিশ্বাস আর কুসংস্কার মনে করে তাতে কান দিইনি। এবারও তা উড়িয়ে দিলাম। আমি শহুরে, শিক্ষিত মানুষ, এসব বুজরুকিতে বিশ্বাস করা আমার সাজে না।

    ”টিককা কিন্তু ক্ষুণ্ণ হল। ওর মনোভাবেই তা বুঝতে পারলাম। আমি যে ওর কথায় গুরুত্ব দিলাম না সেটা ওর পছন্দ হল না। ও আমাকে অনেক করে বোঝাবার চেষ্টা করল, ওই পুরোহিতের অলৌকিক ক্ষমতা সম্বন্ধে কয়েকটা রোমহর্ষক ঘটনাও বলল, কিন্তু আমি বিচলিত হলাম না।

    ”আমি অবিশ্যি শহরে গিয়ে ডাক্তারের কাছে আমার ক্ষতটা দেখিয়েছিলাম। ডাক্তারবাবু ওটাকে কোনো বিষাক্ত কীটের দংশন বলেই সন্দেহ করেছিলেন। তিনি আমাকে ইঞ্জেকশন দিয়েছিলেন, ঘায়ে লাগাবার জন্য মলমও দিয়েছিলেন একটা। কিন্তু টিককার সেই বুনো পাতার প্রলেপ যে আমাকে তাৎক্ষণিক আরাম দিয়েছিল সেটা আমি অস্বীকার করব না। এই আদিবাসীরা বুনো লতাপাতার এমন সব ওষুধ জানে যা আমাদের চিকিৎসাশাস্ত্রে এখনও অজ্ঞাত।

    ”দিন কাটতে লাগল, আমিও ঘটনা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। দিন পাঁচেক পরে টিককার মধ্যে আমি একটা অস্থিরতা লক্ষ্য করলাম। কী ব্যাপার জিজ্ঞেস করায় ও প্রথমে মুখ খুলতে চাইল না, কিন্তু আমি ধমক দেওয়ায় শেষপর্যন্ত বলল যে সর্দার পুরোহিতকে দুটো মুরগি আর একটা ছাগলছানা উপহার দিয়েছে। তখনই আমার মনে পড়ল কয়েক দিন পরেই অমাবস্যা। টিককা আমার কথা ভেবেই অস্থির হয়ে পড়েছে এটা বুঝতে আমার কষ্ট হল না। আমি ওকে আশ্বাস দিয়ে বললাম, পুরোহিত আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আগেরবার যেটা ঘটেছিল সেটা একটা কাকতালীয় ঘটনা, তার সঙ্গে পুরোহিতের অলৌকিক ক্ষমতার কোনো যোগাযোগ নেই। টিককার মুখ দেখে মনে হল না যে, সে আশ্বস্ত হয়েছে।

    ”যাহোক আরও কয়েকটা দিন কেটে গেল। সেদিন যে অমাবস্যা আমার খেয়ালই ছিল না। যথারীতি সারাদিন খাটুনির পর রাত্রে খাওয়া-দাওয়া সেরে আমি শুয়ে পড়লাম। টিককা তখন একটা আলোর সামনে বসে কিছু বুনো গাছ-গাছড়ার পাতা নিয়ে থেঁতো করছিল। আমি ভাবলাম বোধ হয় ওর শরীরে কোনো ঘা হয়েছে।

    ঘুমিয়েই পড়েছিলাম, গাঢ় ঘুম। কিন্তু সেই ঘুমের মধ্যেই প্রচণ্ড জ্বলুনিতে আমি চিৎকার করে উঠলাম, মশারি তুলে লাফিয়ে পড়লাম মাটিতে। বুকের ডান দিকটা জ্বলে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে কেউ জ্বলন্ত কিছু আমার বুকে চেপে ধরেছে। অসহ্য যন্ত্রণায় আমি এক টানে গায়ের জামাটা ছিঁড়ে ফেললাম। বুকের ডান দিকে রুপোর টাকার মতো একটা লাল দগদগে পোড়ার চিহ্ন। টিককা যেন প্রস্তুতই ছিল, এক খাবলা থিতানো পাতা আমার ক্ষতের উপর চেপে ধরল, টসটস করে গড়িয়ে পড়তে লাগল পাতার রস, একটা ঠান্ডা অনুভূতিতে অনেকটা আরাম পেলাম। পরে শুনেছিলাম টিককা নাকি ঘুমোয়নি, এমন একটা কিছু ঘটবে এই আশঙ্কায় আগে থেকেই বুনো পাতার প্রলেপ বানিয়ে তৈরি হয়ে বসে ছিল।

    ”গতবার ডাক্তার সংক্রামক না হবার জন্য যে বড়ি আমাকে খেতে দিয়েছিলেন, তার কয়েকটা তখনও পড়েছিল। আমি সেই বড়িও খেলাম।

    ”সাহেব যদি আমার কথা বিশ্বাস করতেন, সর্দারকে শাস্তি দিতেন তবে আজ সাহেবকে এ কষ্ট পেতে হত না,” টিককা অনেকটা অনুযোগের কণ্ঠেই বলল।

    ”এবার কিন্তু আমার মানসিক দৃঢ়তায় চিড় ধরল— তবে কি পুরোহিতের সত্যিই অলৌকিক ক্ষমতা আছে! একটা পুতুলের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করে তার জ্বালাযন্ত্রণা আমার মধ্যে চালান করার ক্ষমতা সে রাখে! যদি সত্যিই সে অমন ক্ষমতার অধিকারী হয় তবে আমার নিস্তার নেই। আমাকে দগ্ধে দগ্ধে পুড়িয়ে মারবে। কীভাবে এই মহা সংকট থেকে উদ্ধার পেতে পারি! ওই পুতুলটা আমি যদি কেড়ে নিই তবে নতুন একটা পুতুল ওরা জোগাড় করবে। আমি যদি এখান থেকে পালিয়ে যাই তবু কি নিস্তার পাব! যেখানেই আমি থাকি না কেন, পুরোহিতের অলৌকিক ক্ষমতা ওই পুতুলের মধ্য দিয়ে আমাকে ধাওয়া করবে। সর্দারকে কবজা করলেও পুরোহিতকে আমি বাধ্য করতে পারব না। আমার একমাত্র উপায় হচ্ছে পুতুলটা হস্তগত করা এবং সেইসঙ্গে পুরোহিত যাতে তার অলৌকিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু তা কী করে সম্ভব! একমাত্র পথ হচ্ছে পুরোহিতকে এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া। আমি সভ্য, শিক্ষিত মানুষ, কিন্তু নিজের প্রাণের তাগিদে ওই মুহূর্তে ওই চিন্তাটাই আমার কাছে বড়ো হয়ে দেখা দিল। প্রত্যেক অমাবস্যার রাত্রে যদি অমন ঘটনা ঘটতে থাকে তবে আমি তো মরবই, আর যতদিন না মরি তিলে তিলে যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে আমাকে। দু-চোখে আগুন ছ্যাঁকার কথা মনে করে আমি শিউরে উঠলাম।

    ”টিককাকে আমি কিছু খুলে বললাম না, শুধু বললাম একদিন আমাকে ওদের মন্দিরে নিয়ে যেতে হবে। ও সানন্দে সায় দিল। সারারাত আর ঘুম হল না।

    ”পরদিন সকালে অসুস্থ শরীর নিয়েও আমি কাজে বেরোলাম। আমার চোখে মুখে নিশ্চয়ই কালো ছাপ পড়েছিল। সর্দার আমাকে লক্ষ্য করছিল। আমার চেহারা দেখে তার চোখে মুখে যে একটা পৈশাচিক উল্লাসের চিহ্ন ফুটে উঠল তা আমার দৃষ্টি এড়াল না। রাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছিল কিন্তু ঠোঁট কামড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না আমার।

    ”এবার আমি সাবধান হলাম। প্রতিটি দিনের হিসেব রাখতে লাগলাম। এর মধ্যে যে টিলার ওপর আদিবাসীদের মন্দির সে জায়গাটাও ঘুরে এলাম। এমন একটা জায়গা আমি খুঁজছিলাম যেখান থেকে পুরোহিতের অলৌকিক কাণ্ডকারখানা সবই আমি দেখতে পাব অথচ ওদের নজরে পড়ব না। প্রয়োজনে আমি ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ব, তাই জায়গাটা দূর হলেও চলবে না। টিককাও আমার সঙ্গে থাকবে কারণ ওর মতো বিশ্বস্ত অনুচর আর পাব না, তা ছাড়া কে জানে হয়তো চরম মুহূর্তে ওই ছেলেটাই আমার প্রধান সহায় হয়ে দাঁড়াবে।

    ”ক্রমে আর এক অমাবস্যা এসে গেল। এই একমাসে, আমার শরীর স্বাস্থ্য আগের মতো সতেজ হয়ে উঠেছে, আমি নিজেও যত্ন নিয়েছি শরীরের, মনে মনে প্রস্তুত করেছি নিজেকে।

    ”অমাবস্যার রাত এল। সকাল থেকেই টিককা সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাচ্ছিল। ও বোধ হয় বুঝতে পারছিল আমি কিছু করতে যাচ্ছি কিন্তু ভরসা করে জিজ্ঞেস করতে পারছিল না কি আমার উদ্দেশ্য।

    ”সন্ধেবেলা আমরা তাড়াতাড়ি খাওয়া সারলাম। টিককাকে নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়লাম, সঙ্গে আমার রিভলবারটা নিতে ভুললাম না।

    ”যে জায়গাটা আমি বেছেছিলাম সেটা একটা ঝোপ, মন্দিরের চাতালের পাশেই। ওটার আড়াল থেকে মন্দিরের ভেতর সব কিছু দেখা যায়।

    ক্রমে রাত গভীর হল। একসময় দূরে আলো দেখতে পেলাম— মশালের আলো। কিছুক্ষণ পরেই সর্দারের সঙ্গে পুরোহিত এসে হাজির হল ওখানে। মন্দিরের সামনে মশালটা রাখল সর্দার। মশালের আগুনে জায়গাটা আলোকিত হয়ে উঠল। পুরোহিতকে ভয়ংকর দেখাচ্ছিল। শীর্ণ চেহারা, বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়েছে, দুই চোখ কোটর থেকে যেন জ্বলজ্বল করছে, মুখে রং-বেরঙের উল্কি, কৌপিনের মতো কিছু একটা পরেছে, সারা গায়েও উল্কি।

    ”পুরোহিতের নির্দেশে সর্দার মন্দিরের ভেতর গিয়ে আগুন জ্বালাল। ঝোপের আড়াল থেকে বিগ্রহকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। বীভৎস এক মূর্তি। কালো পাথরের। অনেকটা ছাগলের মতো মুখ, দুটো শিংও আছে, ভাঁটার মতো দু-চোখ, শরীর কিন্তু মানুষের মতো, সরু সরু দুটো পা।

    ‘পুরোহিত মন্দিরের ভেতর গিয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করল তারপর পূজা শুরু করল। একসময় পূজা শেষ করে সে বাইরের চত্বরে এসে দাঁড়াল। সর্দার প্রস্তুত হয়েই ছিল। একটা কালো মুরগি পুরোহিতের হাতে ধরিয়ে দিল। পুরোহিত এক মোচড়ে ওটার ঘাড় মটকে দাঁতের কামড়ে গলাটা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। আমার মতো সাহসী মানুষও শিউরে উঠলাম। মুরগির গলা থেকে নেমে আসা কাঁচা টাটকা রক্ত পান করল পুরোহিত, তার কষ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল লাল রক্তের ধারা, তখন তাকে রাক্ষসের মতোই দেখাচ্ছিল। মুরগির দেহটা সে মন্দিরের ভেতর বিগ্রহের সামনে ছুঁড়ে দিল, আর মুণ্ডুটা একটা বড়ো চৌকো পাথরের ওপর বসিয়ে দুলে দুলে দুর্বোধ্য ভাষায় সুর করে কী সব বলতে লাগল। আমার মনে হল সে মন্ত্র উচ্চারণ করছে। মাঝে মাঝে একটা পাত্র থেকে কিছু পান করছিল, আমি বুঝতে পারলাম কারণবারি।

    ”রাত ক্রমেই গভীর হচ্ছে। টিককার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ভয়ে ওর মুখ শুকিয়ে আমসি। আরও কিছুক্ষণ এভাবে কেটে গেল। তারপর পুরোহিত তার ঝোলা থেকে বের করল একটা মাটির পুতুল। আমার সমস্ত শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। টিককার মুখ দিয়ে অস্ফুট শব্দ বেরোতেই আমি ওর মুখ চেপে ধরলাম।

    ”পুরোহিত পুতুলটা ওই পাথরের ওপর মুরগির মুণ্ডুটার পাশে রাখল। আবার শুরু হল মন্ত্র পড়া, সেইসঙ্গে উদ্দাম নৃত্য। ওই বুড়ো হাড়ে ভেলকি দেখাতে পারে তা নিজের চোখে না দেখলে আমি বিশ্বাস করতাম না। তারপর একসময় মন্ত্রপাঠ শেষ হল। ঝোলা থেকে এবার সে বার করল একটা লৌহ শলাকা। সেটা মশালের আগুনে গরম করতে করতে আবার সে বলতে লাগল মন্ত্র। আমি ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছি, রিভলবারটাও বাগিয়ে ধরেছি। বলে রাখা ভালো, আমার হাতের নিশানা ছিল অব্যর্থ, এখনও বলে বলে লক্ষ্যভেদ করতে পারি।

    ”আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম লোহাটা লাল গনগনে হয়ে উঠেছে। সর্দার পুরোহিতের পাশেই দাঁড়িয়েছিল। এবার লোহাটা সর্দারের হাতে দিল পুরোহিত। এক-পা এক-পা করে পুতুলটার দিকে এগোচ্ছিল সর্দার, ডান হাতটা বাড়িয়ে ধরেছে। পুতুলটার কাছাকাছি হওয়ামাত্র আমি ওর হাত লক্ষ্য করে গুলি করলাম আর তীব্র এক চিৎকার করে সর্দার হাত চেপে বসে পড়ল মাটিতে। তপ্ত লোহাটা মাটিতে লুটোচ্ছে।

    ”আমি ছুটে গেলাম। সর্দারকে দু-হাতে শূন্যে তুলে এক আছাড় মারলাম আর লোহাটা ছুঁড়ে দিলাম অনেক দূরে। তারপর ফিরে দাঁড়ালাম পুরোহিতের দিকে। আমার চোখ মুখ তখন বোধ হয় খুব হিংস্র হয়ে উঠেছিল। পুরোহিতের চোখে দেখলাম আতঙ্কের ছায়া। আমি তার দিকে এক -পা এগোচ্ছি আর সে এক-পা পেছোচ্ছে। হয়তো গলা টিপেই তাকে আমি মেরে ফেলতাম কিন্তু তার আগেই অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে গেল। পুরোহিত হঠাৎ ডান হাত দিয়ে বুকের বাঁ-দিকটা চেপে একটা আর্ত চিৎকার করে উঠল। তার মুখ যন্ত্রণায় বেঁকে গেছে, দু-চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে; তারপরই সে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। আর নড়ল না।

    ”আমি কয়েক মুহূর্ত তার নিষ্পন্দ দেহের দিকে তাকিয়ে রইলাম তারপর এগিয়ে তার বুকে হাত দিলাম। না, বুক ওঠা নামা করছে না। আমি নাকের কাছে কান পাতলাম, নিশ্বাস পড়ছে না। লোকটা আতঙ্কেই হার্ট ফেল করে মারা গেছে।

    ”আমি সর্দারের দিকে এগিয়ে গেলাম। সে উঠে বসে সমস্ত দৃশ্যটা দেখেছিল। ভয়ে ওর মুখ বিবর্ণ, দু-চোখ বিস্ফরিত। হয়তো লোকটা ভাবছিল যে পুরোহিতের অত অলৌকিক ক্ষমতা তাকে আমি শুধু দৃষ্টি দিয়ে মেরে ফেললাম, আমার ক্ষমতা না জানি কত! টিককাও অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়েছিল। তারপরই সর্দার আমার পায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। কাতর কণ্ঠে আমার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইতে লাগল। বিগ্রহের সামনে শপথ করে বলল চিরকাল আমার দাস হয়ে থাকবে আর আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করবে না।

    ”আমি তাকে আদেশ করলাম পুরোহিতকে দাহ করার ব্যবস্থা করতে। সর্দার বলল তখুনি সে লোকজন নিয়ে এসে কাজটা সেরে ফেলবে। আমি তাকে সাবধান করে দিলাম সেই রাতের ঘটনা সে যেন কাউকে না বলে, তবে তার অপরাধের জন্য পুলিশ ধরলে আমি বাঁচাতে পারব না। ওই কথায় কাজ হল, সর্দার দিব্যি করে বলল ওই রাতের ঘটনা আর কেউ জানবে না।’

    আমরা একটা কেবিনে বসেছিলাম। শেখর চৌধুরী হঠাৎ একটা কাণ্ড করে বসলেন। উঠে দাঁড়িয়ে জামাটা খুলে ফেললেন, তারপর গেঞ্জিটা গুটিয়ে ওপরে তুললেন। আমি আঁতকে উঠলাম। বুকের দু-পাশে দুটো বিচ্ছিরি ক্ষতের চিহ্ন, যেন আগুনে ঝলসে গেছে। রুপোর টাকার মতো দুটো গোল পোড়া দাগ।

    ভদ্রলোক গেঞ্জিটা টেনে দিয়ে জামাটা আবার গায়ে দিলেন।

    ‘আর সেই পুতুলটা?’ আমি না বলে পারলাম না।

    ‘সেটা আমি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলাম’, বিয়ারের গেলাসে একটা লম্বা চুমুক দিয়ে তিনি মুচকি হেসে বললেন, ‘সেই ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে ওটা আমি কাচের আলমারিতে যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছি। আসুন না একদিন গরিবের কুটিরে, নিজের চোখেই দেখে যাবেন।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন
    Next Article উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }