Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প360 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভিটে

    শিশু-সাহিত্যিক হিসাবে অল্পবয়সেই পীযূষের বেশ নাম হয়েছে, বিশেষ করে রোমঞ্চকর আর ভূতের গল্পে ও এখন খুব জনপ্রিয়। সম্পাদকদের কাছ থেকে ওই ধরনের গল্পের জন্য প্রায়ই তাড়া আসে। গত বছর শিশু সাহিত্যের সেরা পুরস্কারও জুটেছে ওর ভাগ্যে।

    বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এবার দুই বাংলার শিশু-সাহিত্যিক সম্মেলন হচ্ছে। পীযূষও আমন্ত্রিত হয়েছে, ওকে যাবার জন্য বার বার করে বলেছে সংগঠকরা। পীযূষ ঠিক করেছে যাবে। যাবার আরও একটা কারণ আছে। ওদের আদি বাড়ি ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের এক গ্রামে। ছোটোবেলা ও গ্রামেই ছিল, দেশ বিভাগের পরেও। যখন ওর দশ বছর বয়স, তখন ওর বাবা-মা এ দেশে চলে আসেন। ওর জ্যাঠামশাই আর জ্যাঠাইমা কিন্তু আসেননি। তাঁদের ছেলে-মেয়ে ছিল না, বাবাকে বলেছিলেন, ভিটে ছেড়ে কোথাও যাবেন না।

    ওরা প্রথমে রাণাঘাটে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল, তারপর ওর বাবা একটু একটু করে যখন দাঁড়িয়েছেন ঠিক তখুনি মারা গেলেন। পীযূষের বয়স তখন পনেরো। ওর এক মামা ছিলেন বারাসতে সচ্ছল অবস্থা। ওর হাত ধরে মা সেখানে গিয়ে উঠেছিলেন। মামা-মামিমা আদর করেই ওদের ঠাঁই দিয়েছিলেন। বাবা বেঁচে থাকতে জ্যাঠামশায়ের সঙ্গে চিঠির আদান-প্রদান ছিল। বাবার মৃত্যু সংবাদও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি খুব দুঃখ করে চিঠি লিখেছিলেন। তারপর আস্তে আস্তে চিঠি লেখা বন্ধ হয়ে যায়।

    শৈশব আর বাল্যের স্মৃতি আজও অটুট হয়ে আছে পীযূষের মনে। ওখানে খেলার মাঠ, পুকুর, গাছগাছালি কি না ছিল! ওর বন্ধু শওকত, জহর, আব্বাস, রহমান সবাই চোখের জল ফেলেছিল ওরা যখন চলে আসে। যাকে বলে ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়,’ তাই ছিল ওদের গ্রাম। সাম্প্রদায়িকতার বিষ ওখানে ছড়ায়নি। বরং গাঁয়ের মুসলমানরাই হিন্দুদের বুক দিয়ে আগলে রাখত। কিন্তু আশেপাশের গাঁয়ের মানুষরা গোলমাল পাকাবার চেষ্টা করেছিল তাই ওর বাবা আর ভরসা করতে পারেননি, দেশ ছেড়ে ছিলেন।

    বাবা মারা যাবার পর কুড়িটা বছর কেটে গেছে। পীযূষ মামাবাড়ি থেকেই কলেজের পড়া শেষ করেছিল, ভালো ছাত্র ছিল। তারপর বি সি এস পাশ করে হাকিম হয়েছে, সেইসঙ্গে চলেছে সাহিত্য চর্চা। সাহিত্যে ছোটোবেলা থেকেই ওর ছিল অনুরাগ। এতদিন পরে বাংলাদেশ যাবার সুযোগ পেয়ে ওর আনন্দই হয়েছিল। নিজেদের ভিটে একবার ঘুরে আসবে। জ্যাঠামশাই জ্যাঠাইমার সঙ্গে দেখা করবে। কতদিন তাঁদের কোনো খবর নেই। কেমন আছেন কে জানে? জ্যাঠাইমাকে ও বলত বড়োমা, তিনি ওকে কোলে পিঠে করে বড়ো করেছিলেন, আর জ্যাঠামশাই তো ওর ব্যাপারে স্নেহে অন্ধ ছিলেন। জ্যাঠামশাইয়ের বয়স বোধ হয় এখন পঁচাত্তর হবে, আর জ্যাঠাইমার পঁয়ষট্টির কাছাকাছি। ওর মারই তো বয়স প্রায় ষাট হয়েছে।

    ওর বাংলাদেশ যাবার কথা শুনে মা খুব খুশি হলেন, তিনিও সঙ্গে যেতে চাইলেন। কিন্তু পীযূষ যাবে একটা দলের সঙ্গে। ঢাকায় সম্মেলনের মধ্যে সময় করে ঘুরে আসবে গ্রাম। তা ছাড়া ও এখন দায়িত্বপূর্ণ পদে আছে, ছুটিও বেশি নিতে পারেনি, মাত্র কয়েক দিনের। মা কিন্তু জ্যাঠামশায় জ্যাঠাইমার জন্য সুটকেশ ভরে জিনিসপত্র গুছিয়ে দিলেন।

    পশ্চিমবাংলা থেকে শিশু-সাহিত্যিকের যে দলটা যাচ্ছিল তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই প্রত্যেকের পরিচিত, তাই বেশ আড্ডার পরিবেশে পথটা কেটে গেল। ঢাকায় ওদের অভ্যর্থনার ত্রুটি ছিল না। দুই দেশের শিশু-সাহিত্যিকরা যেন ঘরোয়া পরিবেশে মিশে গেলেন। খুব ভালো লাগল পীযূষদের। মাতৃভাষা যাদের এক, তাদের মধ্যে একটা আন্তরিকতা আপনা থেকেই গড়ে ওঠে, ভাষা যত সহজে পরস্পরকে কাছে টানে আর কিছু বোধ হয় তা পারে না।

    সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ছিল গল্প পড়ার আসর। উদ্যোক্তাদের অনুরোধে পীযূষ একটা ভূতের গল্প পড়ল। তবে গা ছমছম করা ভূতের গল্প নয়, বেশ মজার এক ভূতের গল্প। শ্রোতারা সবাই খুব হাততালি দিল।

    তৃতীয় দিন ওদের লঞ্চে বুড়ি গঙ্গা নদী বেড়াবার ব্যবস্থা হয়েছিল। সারাদিনের প্রোগ্রাম, লঞ্চেই মোগলাই খানার ব্যবস্থা। পীযূষ ঠিক করল এই ফাঁকে ও নিজের গ্রাম ঘুরে আসবে। রাতটা জ্যাঠামশায় জ্যাঠাইমার সঙ্গে কাটিয়ে, সকালে পুরোনো বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা করবে, তারপর বেলা দশটা নাগাদ ওখান থেকে আবার রওনা দেবে। সম্মেলনের চতুর্থ দিন বত্তৃ«তা, কবিতা পাঠ আর সমাপ্তি উৎসব। তাতে ও উপস্থিত না থাকলে ক্ষতি নেই। পরের দিন পশ্চিমবাংলার অতিথিদের ফেরার পালা, তাঁদের সঙ্গেই ফিরতে পারবে ও।

    সকাল দশটার মধ্যে লুচি আর আলুরদম খেয়ে ও বেরিয়ে পড়ল। নৌকো করে গ্রামে পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় সন্ধে হয়ে যাবে। ছোটোবেলায় এই খাল বিল দিয়ে নৌকো করে যেতে ওর কী মজাই না লাগত। কত জায়গায় কচুরিপানা ভরতি খালের ভেতর দিয়ে যেতে হত। মাঝিরা বইঠা দিয়ে কচুরিপানা সরিয়ে সরিয়ে নিয়ে যেত নৌকো। কী করে যে ওরা পথ চিনে যেত সেটা ওর কাছে ছিল একটা বিস্ময়।

    নৌকোয় আরও যাত্রী ছিল। কয়েক জনের সঙ্গে আলাপ হল। কথায় কথায় ও বলল, পশ্চিমবাংলা থেকে শিশু সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছে, ফিরে যাবার আগে নিজের গ্রাম ঘুরে যাবার ইচ্ছেটা ছাড়তে পারেনি।

    যাত্রীদের মধ্যে একজন ছিলেন স্কুল মাস্টার। বাংলা পড়ান। তিনি যাবেন ওদের গ্রাম ছাড়িয়ে আরও দুটো পরের গ্রামে। তিনি ওর পরিচয় শুনে বললেন,’হ, আপনার বই পড়ছি। ‘আন্দামানের বিভীষিকা’ বইডা আমার বাড়িতে আছে। কী সাসপেন্স সৃষ্টি করেছেন! চমৎকার বই।’ তারপর দীর্ঘ-নিশ্বাস ফেলে বললেন, ‘আপনার পিতৃপুরুষের ভিটায় আপনি এখন পরদেশি। দ্যাশটা বাগ কইরা কার যে উপকার হইল খোদাই জানেন! স্বাধীনতার কী মূল্যই না আমাগো এখনও দিতে হইতাছে।’

    ভদ্রলোকের নাম ইমানুল হক। দুপুরে তিনি পীযূষকে না খাইয়ে ছাড়লেন না। অনেকটা পথ যেতে হবে। বড়ো বড়ো পারশে মাঝের ঝোল দিয়ে ভাত। যেমন টাটকা মাছের স্বাদ তেমন রান্না।

    সন্ধের মুখে ওকে ওদের গ্রামের নদীর ঘাটে নামিয়ে দিল মাঝি। ও একাই নামল ওখানে। কাল এই নৌকাটাই আবার ফিরে যাবে, মাঝিকে ও বলে রাখল, ঘাটে ও থাকবে, ওকে যেন তুলে নেয়। ইমানুল হকের কাছে বিদায় নিয়ে ও বলল, ‘আপনার সঙ্গে আলাপ হয়ে খুব ভালো লাগল। ঠিক যেন আপনজন।’

    ইমানুল হক মৃদু হেসে বললেন, ‘আল্লা আপনারে দোয়া করবেন।’

    নৌকো ছেড়ে দিল। সুটকেশটা হাতে নিয়ে পীযূষ হাঁটা দিল। এত বছর পরেও এদিকটায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। পথ চিনে যেতে ওর একটুও কষ্ট হল না। এই নদীর ঘাটে ওরা বন্ধুরা কত বেড়াতে এসেছে। ছবির মতো সব কিছু ভেসে উঠছে মনের আয়নায়। সন্ধে হয়ে গেছে তাই ও একটু তাড়াতাড়ি পা চালাল।

    গ্রামের বাড়িগুলি একটু ছাড়া ছাড়া। তবুও ঠিক চিনে বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। সদর দরজা বন্ধ, চারপাশে অন্ধকারে, জোনাকি পোকা মিটমিট করে জ্বলছে।

    ‘জ্যাঠামশাই, জ্যাঠামশাই। বড়ো মা, বড়ো মা।’ কয়েক বার ডাকাডাকির পর সদর দরজা খুলে গেল। অন্ধকারে আবছা এক পুরুষ মূর্তি বলল, ‘কে?’

    ‘আমি পীযূষ…খোকা, জ্যাঠামশাই।’

    ‘খোকা।’ পুরুষ কণ্ঠে যেন অপার বিস্ময়।

    ‘হ্যাঁ, জ্যাঠামশাই, ঢাকায় এসেছিলাম, ভাবলাম একবার তোমাদের দেখে যাই।’

    ‘খোকা আইছে, অগো শুনছ, আমাগো খোকা আইছে।’ উত্তেজনা আর আনন্দে গলা কাঁপছে।

    একটা কুপি হাতে দোর গোড়ায় এসে দাঁড়ালেন লাল পেড়ে শাড়ি, পাকা চুল এক মহিলা, পীযূষের জ্যাঠাইমা।

    ‘বড়োমা!’

    পীযূষ এগিয়ে ওঁদের প্রণাম করতে যেতেই ওঁরা দু-পা পিছিয়ে গেলেন, জ্যাঠাইমা বললেন, ‘থাক থাক, এই ভর সন্ধ্যায় প্রণাম কইরা কাম নাই, অমঙ্গল হইব। তুই যে আমাগো দেখতে আইছস এই ঢের, আইজকাল কেইবা কারে মনে রাখে।’

    জ্যাঠাইমার গলায় অভিমানের সুর।

    ‘বাবা মারা যাবার পর আমাদের অনেক কষ্ট গেছে বড়োমা।’ পীযূষ বলল, ‘তোমরা তো সব জান না।’

    ‘না জানলেও বুঝি কি আর নাই,’ এবার জ্যাঠামশাই বললেন, ‘কিন্তু আমাগো করনের কিচ্ছু আছিল না। আমরা বুড়া-বুড়ি এখানে বইশ্যা শুধু কপাল চাপড়াইছি।’

    ‘অরে ভিতরে আইতে কও’, জ্যাঠাইমা এবার বললেন, ‘বাইরে খাড়া রাইখ্যা কথা কইবা নাকি। আয়রে খোকা, ভিতরে আয়।’

    ওঁরা দু-জন দরজা থেকে সরে দাঁড়ালেন। পীযূষ ঘরে ঢুকল। টিম টিম কুপির আলোয় ঘরের কিছুই দেখা যায় না, তবু ওর মনে হল ঘরটা বড়ো অপরিষ্কার। ওর বড়ো দুঃখ হল। এই বয়সে একা একা জ্যাঠামশায় জ্যাঠাইমা মাটি কামড়ে এখানে পড়ে আছেন, দেখাশোনা করবার কেউ নেই। কেমন করে দিন চলে কে জানে। জ্যাঠামশায়ের পরনের ধুতিটা আর জ্যাঠাইমার শাড়িটায় মলিনতার ছাপ।

    ‘তোমাদের জন্য মা অনেক জিনিস পাঠিয়েছেন,’ ও সুটকেশটা মাটিতে রেখে খুলতে খুলতে বলল, ‘জ্যাঠামশাই তামাক খেতে ভালোবাসেন তাই অম্বুরি তামাকও দিয়ে দিয়েছেন।’

    কথাটা বলে ও মুখ তুলে তাকাল, আর কেমন যেন একটা হোঁচট খেল। জ্যাঠামশাই আর জ্যাঠাইমা ওর দিকে অমন করে তাকিয়ে আছেন কেন! দু-জোড়া চোখ যেন জ্বলজ্বল করছে।

    বোধ হয় ওর মনের কথা বুঝতে পেরে জ্যাঠাইমা বলে উঠলেন, ‘তরে দ্যাখতাছিরে খোকা, চক্ষু ভইরা দ্যাখতাছি। সেই দশ বছরের পোলাডা আজ কত বড়ো হইছে। আইলিই যদি আরও আগে আইলি না ক্যান? তরে লইয়া কত আনন্দ করতাম, এখন যে আমাগো কিছুই নাই।’

    ‘তার জন্য ব্যস্ত হতে হবে না বড়োমা,’ পীযূষ বলল, ‘আমার রাত্রে না খেলেও চলবে, পেট ভরাই আছে। আগে আসার সুযোগ হয়নি, এখন তো এটা বিদেশ, ইচ্ছে করলেই আসা যায় না।’

    ‘হ, বিদেশ!’ জ্যাঠামশাই এবার বললেন, ‘এই দ্যাশের লাইগাইতো সূর্য স্যানরা প্রাণ দিছিলেন।’

    ‘থাক থাক ওইসব কথা’, জ্যাঠাইমা বাধা দিয়ে বললেন, ‘শোন খোকা তুই পুকুরঘাটে গিয়া হাত-মুখ ধুইয়া আয়। এই কুপিটা লইয়া যা। আর আসনের সময় শওকতের লগে দেখা কইরা আসিস। তর কথা কতবার কয়, এতদিনেও ভোলে নাই তরে। আমি রান্না বসাইয়া দিতাছি। তুই কইমাছ খাইতে ভালোবাসিস, তাই রান্ধুম।’

    ‘তুমি ব্যস্ত হয়ো না বড়োমা,’ পীযূষ বাধা দিয়ে বলে।

    ‘তর বড়ো মায়েরে কি ভিখারিণী ভাবতাছস খোকা!’ জ্যাঠাইমা অভিমানের কণ্ঠে বললেন, ‘এতকাল পরে তুই আইছিস, তরে এক মুঠা ভাত আর মাছ খাওয়াইতে পারুম না!’

    ‘না, না, আমি সেকথা মনে করে বলিনি বড়োমা,’ পীযূষ তাড়াতাড়ি বলে উঠল, ‘ঠিক আছে, আমি পুকুরঘাট হয়ে আসছি। আমার কাছে টর্চ আছে কুপি লাগবে না। আসার সময় শওকতের সঙ্গে দেখাও করে আসব। ওকে এমন চমকে দেব না,’ জোরে জোরে হেসে উঠল পীযূষ। ‘তোমাদের জিনিসপত্তরগুলো গুছিয়ে রাখ, আমি বেশি দেরি করব না। কাল দশটার আগেই কিন্তু নৌকার ঘাটে যেতে হবে।’

    ও চলে গেল। ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে ও চলল শওকতের বাড়ি। ওদের বাড়িটাই সবচেয়ে কাছে আর শওকতই ছিল ওর প্রাণের বন্ধু।’

    বাড়ির সামনের ঘরে একটা পেট্রোম্যাক্স জ্বলছিল। ঘরে উজ্জ্বল আলো।

    পীযূষ বাইরে থেকে ডাকল, ‘শওকত।’

    ঘরের ভেতর থেকে এক জন বেরিয়ে এল। পরনে লুঙ্গি, গায়ে একটা ফতুয়া। একটু কালো, মোটাসোটা চেহারা, কোঁকড়া চুল।

    ‘শওকত আছে?’

    ‘আপনারে তো চিনতে পারলাম না।’

    পীযূষ কিন্তু চিনেছিল, ওই কোঁকড়ানো চুল দেখেই চিনেছিল, হাসিমুখে বলল, ‘আমি পীযূষ।’

    ‘পীযূষ!’

    ‘হ্যাঁ রে, হ্যাঁ, তোর ছেলেবেলার বন্ধু পীযূষ। চিনতে পারছিস না?’

    এবার শওকত এক লাফে মাটিতে নেমে ওকে প্রায় বগলদাবা করে ঘরের ভেতর নিয়ে এল তারপর চেঁচিয়ে বলল, ‘আব্বা, আম্মা, দেইখ্যা যাও ক্যাডা আইছে।’

    ওর চিৎকারে একজন বৃদ্ধ আর একজন বৃদ্ধা বেরিয়ে এলেন। শওকত ওর পরিচয় দিতেই তাদের মুখে ফুটে উঠল হাসি। পীযূষও এগিয়ে তাঁদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করল। তারপর শুরু হল প্রশ্নবাণ। কোথায় আছে, কী করছে, মা কেমন আছেন, এখানে কী করতে এসেছে এইসব।

    একটা করে প্রশ্নের উত্তর দিল পীযূষ সব শেষে বলল, ‘ঢাকায় যখন এসেইছি, ভাবলাম এখানে একবার ঘুরে যাব, সবার সঙ্গে দেখা হবে।’

    ‘তা তর মালপত্তর কই?’ শওকত বলল, ‘হাত তো খালি দ্যাখতাছি।’

    ‘কেন, বাড়িতে রেখে এসেছি। জ্যাঠাইমাই তো বললেন, পুকুরে হাত-মুখ ধুয়ে আয়, আর আসার আগে শওকতের সঙ্গে দেখা করে আসবি।’

    শওকতের মুখে কেমন একটা ছায়া পড়ল, তাকাল ওর মা-বাবার মুখের দিকে, তারপর বলল, ‘চাচির লগে দেখা হইছে?’

    ‘হ্যাঁ, কেন হবে না!’ পীযূষ অবাক হয়ে বলল, ‘জ্যাঠামশাই জ্যাঠাইমা দু-জনের সঙ্গেই দেখা হয়েছে। ওঁদের চেহারা কিন্তু তেমন বদলায়নি।’

    শওকতের মা ওকে হাত ধরে বসালেন, গায়ে হাত বোলাতে লাগলেন।

    ‘কী ব্যাপার!’ পীযূষ বলল।

    ‘ব্যপারটা হইল কী’, গলা খ্যাঁকারি দিয়ে শওকত বলল, ‘তর জ্যাঠামশাই জ্যাঠামায়েরে পনেরো বৎসর আগে আমরাই শ্মশানে দাহ করেছি, আপনজন কইতে আর তো কেউ আছিল না।’

    ‘কি বলছিস তুই!’ পীযূষ যেন আকাশ থেকে পড়ল।

    ‘হ’ এবার বললেন, শওকতের মা, ‘তর আব্বার খবরটা পাইবার পরেই অগো শরীর ভাইঙ্গা পড়েছিল, কয়েকটা বৎসর বাঁইচ্যা ছিলেন। তর কথা খুব কইতেন, মরণের আগে একবার তরে চক্ষে দ্যাখবার বড়ো সাধ হইছিলরে।’

    ‘কিন্তু আমি যে একটু আগে তাদের সঙ্গে কথা বলে এলাম,’ পীযূষ যেন বিশ্বাস করতে চায় না।

    ‘ঠিক আছে, আমার লগে চল’, একটা লন্ঠন হাতে নিয়ে শওকত চলল, পীযূষও তার পেছন পেছন।

    বাড়ির সদর দরজা বন্ধ। শওকত ঠেলা মারতেই খুলে গেল, আর লন্ঠনের আলোয় একরাশ ধুলো মাটি থেকে শূন্যে ভাসতে লাগল, ভেতরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। শওকতের হাতের আলো পড়ল মাটিতে পড়ে থাকা সুটকেশটার ওপর। ওটা খোলা অবস্থায় সেইভাবেই পড়ে আছে। শওকত ওকে নিয়ে সব ঘরে গেল। কোথায় জ্যাঠামশাই জ্যাঠাইমা, তাঁদের চিহ্নমাত্র নেই।

    ‘চল’, সুটকেশটা বন্ধ করে হাতে তুলে নিয়ে শওকত বলল, ‘আমাগো ঘরে চল।’

    বিমূঢ়ের মতো ওর অনুসরণ করল পীযূষ, কিছুই যেন ওর মাথায় ঢুকছে না। ওর আসার খবর পেয়ে পুরোনো বন্ধুরা দেখা করতে এল। কিন্তু পীযূষ কারো সঙ্গে ভালো করে কথা বলতে পারল না, একটা অপরিসীম দুঃখে ওর বুকের ভেতরটা যেন ভারী হয়ে উঠেছে।

    পরদিন সকালে শওকতের মা-বাবার কাছে বিদায় নিয়ে ও নৌকোর ঘাটের দিকে হাঁটা দিল। যাবার আগে একবার নিজেদের বাড়ি ঘুরে গেল। রাত্রে বুঝতে পারেনি, দিনের বেলা বাড়িটা দেখে ও আঁতকে উঠল, একটা পোড়োবাড়ি ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। এখানে-ওখানে ভেঙে পড়েছে, বাসের উপযোগী নয়। তারই দোরগোড়ায় ও কপাল ঠেকিয়ে প্রণাম করল। এটাই যে ওর পূর্বপুরুষের ভিটে। শওকত ওর সঙ্গে ছিল।

    নৌকোয় ওঠার আগে ওর হাত দুটো ধরে শওকত বলল, ‘আমাগো উপর রাগ লইয়া যাইস না পীযূষ। এতকাল পরে এখন বুঝতাছি এইডা ভালো হয় নাই, ভাগাভাগি, রক্তারক্তি ইয়ার লাইগ্যাই কি আমাগো আল্লা আর তগো ভগবান আমাগরে সৃষ্টি করেছিলেন!’

    সারাটা পথ ওই কথাটাই কানে বাজতে লাগল পীযূষের, আর ভেসে উঠতে লাগল জ্যাঠামশাই জ্যাঠাইমার মুখ। একটা কান্না ওর বুক ঠেলে আসতে চাইছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন
    Next Article উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }