Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প360 Mins Read0
    ⤶

    কালীদহের পিশাচ

    গরমের ছুটিতে অভীকের ছোটোমামা এসে ওকে মামাবাড়ি নিয়ে গেল। ওর মামাবাড়ি টাকি শহরের কাছে, ইছামতী নদী থেকে কিছুটা দূরে। অভীকের দাদু বেঁচে আছেন, দিদিমা নেই। দাদুর বয়স আশির ওপর, কিন্তু এখনও বুক টান টান করে হাঁটেন। কবজিতে যা জোর তা অনেক তরুণকেই লজ্জা দেয়।

    দাদুর বাবা ছিলেন পুববাংলার ছোটোখাটো এক জমিদার, এখন যার নাম বাংলাদেশ। তখন তো আর দেশ ভাগ হবার কথা কেউ কল্পনাও করেনি, কোপটাও পড়েনি বাঙালি আর পাঞ্জাবিদের ওপর।

    দেশ ভাগ হবার পরেও দাদু পুববাংলার সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেননি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই যোগাযোগ রাখা আর সম্ভব হয়নি।

    দাদুর বয়স তখন পঁচিশ-ছাব্বিশ। কয়েকদিনের জন্য দেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। একদিন রাত্রে তাঁদের বাড়ি আক্রমণ করেছিল দুর্বৃত্তরা। সবাইকে কুপিয়ে মেরেছিল। শুধু দাদুই পালিয়ে বেঁচেছিলেন। এক প্রতিবেশী মুসলমান পরিবার তাঁকে আশ্রয় দিয়ে লুকিয়ে রেখেছিল। বিপদের আশঙ্কা করে দাদুর বাবা কিছু ধনরত্ন মাটির তলায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। সেগুলি উদ্ধার করে সেই মুসলমান পরিবারের সাহায্যে এপার বাংলায় চলে এসেছিলেন দাদু। ইছামতী নদীর অদূরে এই জায়গায় নতুন করে বাসা বেঁধেছিলেন। তখন ওখানে লোকজনের বসতি ছিল কম। জমির দরও ছিল জলের মতো। আরও পরে ওখানে মানুষজন আসতে শুরু করেছিল।

    দাদু কঠিন পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছিলেন। দেশ ভাগ হবার আগেই তিনি এম এ পাশ করেছিলেন, ওখানে এক ইস্কুলে মাস্টারির চাকরিও পেয়েছিলেন। ইংরেজি পড়াতেন, পরে হেডমাস্টার হয়েছিলেন। সংসারী হবার পর তিনি পাকাবাড়ি করেন। যে সোনাদানা তিনি নিয়ে এসেছিলেন তা সেসময় খুব কাজে লেগেছিল।

    এই হল দাদুর ইতিহাস। অভীকের তিন মামা। বড়োমামা উকিল, মেজোমামা ডাক্তার আর ছোটোমামা কলকাতার এক বড়ো ক্লাবে ফুটবল খেলে, এখনও চাকরি পায়নি। বড়োমামা আর মেজোমামা বিয়ে করেছেন। বড়োজনের দুই ছেলেমেয়ে আর মেজোমামার এক মেয়ে। ওর মা হল তিন মামার একমাত্র বোন, তাই মামাবাড়িতে অভীকের খুব আদর। ওর বয়স তেরো, ক্লাস এইট-এ পড়ে।

    দাদু জমিতে আম, কাঁঠাল আর লিচু গাছ লাগিয়েছিলেন। এখন গরমকালে সব পাকতে শুরু করেছে। ঘন দুধের মধ্যে পাকা আম গুলে চিনি আর মুড়ি মিশিয়ে যে কী অমৃত ফলাহার হয় তা অভীক জানে আর সেই লোভেই প্রত্যেক বছর গরমের ছুটিতে কয়েকদিনের জন্য ওর মামাবাড়িতে আসা চাই-ই। তা ছাড়া দাদু পুকুর কাটিয়েছেন, তাতে রুই, কাতলা, মৃগেল ছাড়াও অন্য মাছও আছে। মাছ ভাজা, মাছের ঝোল, ঝাল, টক, দুই মামি যে কতরকম রান্না করে তার ঠিক নেই।

    সেদিন সন্ধেবেলা দাদুকে ঘিরে বসেছিল নাতি-নাতনিরা। সামনে একটা বড়ো রেকাবিতে গরম গরম মাছের চপ, আরেকটা রেকাবিতে আম, ফালা ফালা করে কাটা। খেতে খেতে দাদুর সঙ্গে গল্প করছিল ওরা। অভীকই প্রথম বলল, ‘দাদু, একটা ভূতের গপ্প বলো।’

    ‘ভূতের গপ্প।’ দাদু টান টান হয়ে বসে বললেন, ‘শুনবি? ভয় পাবি না তো!’

    ‘না, না,’ সবাই একসঙ্গে বলে উঠল।

    ‘এটা কিন্তু গপ্প নয়, সত্যি ঘটনা,’ দাদু বললেন, ‘আমার জীবনেই ঘটেছিল।’

    সবাই দাদুর গা ঘেঁষে উদগ্রীব হয়ে বসল।

    দাদু শুরু করলেন, ‘তখন আমার বয়স সতেরো-আঠারো, বি এ পড়ি। কলকাতার হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করি। সেবার এক ছুটিতে দেশের বাড়ি যাব বলে রওনা দিয়েছি।

    ‘গোয়ালন্দ থেকে আমাকে স্টিমার ধরতে হবে। গোয়ালন্দ হল বড়ো স্টিমার ঘাট। ওখানের তরমুজ বিখ্যাত, এত বড়ো বড়ো যে একজনকে মাথায় করে নিয়ে যেতে হয়। অত বড়ো তরমুজ আর কোথাও দেখিনি। সেদিন স্টিমারে কী-একটা যন্ত্র বিকল হয়েছিল তাই ছাড়তে অনেক দেরি হয়ে গেল। আমি নামব তারপাশায়, সেখান থেকে নৌকো করে যেতে হবে আমাদের গ্রামে। আমার বাবা ছিলেন জমিদার, তবে বড়ো জমিদার নয়, আশপাশের কয়েকটা গ্রাম নিয়ে ছিল তাঁর জমিদারি।

    ‘দুপুরে আট আনা দিয়ে এক প্লেট ভাত আর মুরগির মাংস খেলাম। সে মুরগির মাংসের রান্নার স্বাদ আজও যেন আমার জিভে লেগে আছে।

    ‘তারপাশা স্টিমার ঘাটে পৌঁছোতে পৌঁছোতে বিকেল হয়ে গেল। বাড়িতে আগে খবর দিইনি, দিলে বাবা নৌকো পাঠাতেন, আমাদের নিজেদের নৌকো ছিল।

    ‘ওখানে যাত্রীদের নেবার জন্য সার সার নৌকো অপেক্ষা করছিল। তাদের মধ্যে যাত্রীদের নিয়ে প্রায় টানাটানি পড়ে গেল। যাহোক আমি এক বুড়ো মুসলমানের নৌকো ভাড়া করলাম, তার সঙ্গে ছিল তার জোয়ান নাতি।

    ‘বুড়ে মাঝিকে আমার গন্তব্যস্থল বলতেই সে বলল, ‘ছোটো চৌধুরী কত্তার বাড়ি! আপনাগো বাড়ি আমি অনেকবার গেছি, আপনি বুঝি তেনার পোলা?’

    ‘আমার বাবাকে ছোটো চৌধুরী নামেই সবাই জানত। ওখানে আরও জমিদার ছিলেন, কেউ বড়ো চৌধুরী, কেউ মেজো চৌধুরী, এভাবেই ছিল তাঁদের পরিচয়।

    ‘আমি ঘাড় নেড়ে সায় দিতেই বুড়ো মাঝি বলল, ‘আপনে বুঝি বাড়িতে খবর দেন নাই, আপনাগো মাঝি আজিজ মিঞা আমার সম্বন্ধী হয়।’ তারপর একটু চিন্তা করে বলল, ‘আইজ স্টিমার এত দেরি কইরা আইল, রাত হইয়া যাইব।’

    ‘তা হোক না,’ আমি বললাম, ‘তুমি চিন্তা কোরো না, তোমাকে ভাড়ার ওপর বখশিশ দেব।’

    ‘সেকথা না দা ঠাউর,’ বুড়ো মাঝি বলল, ‘ঠিক আছে, আপনি বসেন।’ তাকে যেন কেমন চিন্তিত মনে হল।

    ‘আমাকে ওই স্টিমার ঘাট থেকে অনেকটা পথ যেতে হবে। পথ মানে কচুরিপানা ভরতি খাল-বিল। বুড়ো মাঝি সামনে বসে দাঁড় দিয়ে কচুরিপানা সরাচ্ছিল আর তার নাতি একটা বড়ো লগি জলের তলায় মাটিতে চাপ দিয়ে তরতর করে নৌকো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। অসংখ্য খাল-বিল দিয়ে কেমন করে যে ওরা ঠিক পথ চিনে নৌকো নিয়ে যেত তা আমার কাছে একটা বিস্ময় ছিল। শহরের অলিগলি দিয়ে একজন ড্রাইভার যেমন পথ চিনে গাড়ি নিয়ে যায় ঠিক তেমন।

    ‘ক্রমে অন্ধকার নেমে এল। আলো বলতে নৌকোর মধ্যে একটা মাত্র হ্যারিকেন লণ্ঠন। সে যে কী অন্ধকার তা বলে বোঝাতে পারব না। তার মধ্যেই বুড়ো মাঝি আর তার নাতি দিব্যি নৌকো চালাচ্ছিল। তবে একটা আশার কথা, আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ ঝলমল করছিল।

    ‘প্রায় এক ঘণ্টা যাবার পর বুড়ো মাঝি হঠাৎ এক জায়গায় খালের পাড় ঘেঁষে নৌকো ভিড়াল। আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘এ কী, এখানে নৌকো লাগালে কেন?’

    ‘দা ঠাউর,’ বুড়ো মাঝি বলল, ‘আর দুইটা বাঁকের পরেই ডাকাইতে বিল। রহিম শেখের দলের ভয়ে রাইতে কেউ ওই জায়গা পার হয় না। আমারে কিছু করব না, আমি এই পথে নাও চালাইয়া বুড়ো হইয়া গেলাম, আমারে হক্কলে চেনে, কিন্তু ডর আপনার লাইগ্যা। যদি আপনার কিছু হয় তবে আমি ছোটো চৌধুরী কত্তার কাছে মুখ দেখাইতে পারুম না।’

    ‘রহিম শেখের নাম আমিও শুনেছিলাম। দিনের বেলায় অনেক নৌকো চলাচল করে তাই রাত্তিরেই ও দলবল নিয়ে শিকারের খোঁজে বেরোয়। শুনেছি দয়ামায়াহীন নিষ্ঠুর এক মানুষ।

    ‘বুড়ো মাঝি আর তার নাতি রান্নাবান্নার আয়োজনে ব্যস্ত হল। সব নৌকোয় তার ব্যবস্থা থাকে, বাড়ি গিয়ে কখন ওরা খাওয়া-দাওয়া করবে তার কোনো ঠিক নেই। যেমন আজ রাতটা এই খালের পাড়েই কাটাতে হবে।

    ‘হাঁড়িতে চাল ছেড়ে বুড়োর নাতি মাছ কুটতে বসে গেল। বড়ো বড়ো পারশে মাছ, আমিও ওদের সঙ্গে খাব।

    ‘আমি ছইয়ের বাইরে বসে চাঁদের আলোয় প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখছিলাম। অন্ধকার আর জ্যোছনা মিলে এক মায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। হঠাৎ একটা দমকা ঠান্ডা হাওয়া আমাদের কাঁপিয়ে দিল। বুড়ো মাঝি কাজ থামিয়ে সামনের দিকে তাকিয়েছিল, সে এক অস্ফূট শব্দ করে উঠল। আমি তার দৃষ্টি লক্ষ করে তাকালাম আর চমকে উঠলাম। আমাদের নৌকো থেকে কয়েক হাত দূরে একটা ছায়ামূর্তি, চাঁদের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ঢ্যাঙা রোগা সেই মূর্তি বড়ো বড়ো পা ফেলে খালের এপার থেকে ওপারে চলে গেল। ঠিক বড়ো বড়ো পা ফেলে নয়, দু-বার পা বাড়িয়েই খাল পার হল, যদিও খালটা চওড়ায় নেহাত কম নয় আর গভীরতায় এক মানুষ তো হবেই।

    ‘ওপারে পৌঁছে মূর্তিটা এদিকে মুখ ফিরিয়ে লম্বা একটা হাত জলে ডুবিয়ে দিল। তারপর একটা মাছ তুলে সেটা কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলল।

    ‘বুড়ো মাঝি কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, ”দা ঠাউর রামনাম জপেন,” সে নিজেও আল্লা আল্লা বলে প্রার্থনা শুরু করে দিল। আমি রামনাম জপতে লাগলাম। ব্যাপারটা কী তা বুঝতে আমার দেরি হয়নি। একটা প্রেত রাতের অন্ধকার মাছ খেতে বেরিয়েছে।

    ‘আমি বোধ হয় একটু জোরেই রামনাম করেছিলাম, মূর্তিটা মুখ তুলে আমাদের দিকে তাকাল। চাঁদের আলোয় স্পষ্ট দেখলাম একটা বীভৎস মুখ। তারপরই সে মিলিয়ে গেল।

    ‘বুড়ো মাঝি বলল, ”আঁদারে ঠাওর হয় নাই দা ঠাউর, এটা হইল গিয়া কালীদহ। এহানে একবার একটা জেলে নাও ডুইব্যা গেছিল, একজন মরছিল। তারেই মাঝে মাঝে দেখা যায়, মাছ খাইতে আসে। এমন এক চাঁদনি রাতেই নাকি নাওটা ডুবছিল।’

    ‘ওরা আবার রান্নায় মন দিল। ভাত হয়ে গেছিল, কড়াইতে তখন পারশে মাছ তেলে ফুটছে, গন্ধ ছেড়েছে।

    ‘হঠাৎ একটা কালো লম্বা হাত শূন্য থেকে এসে ফুটন্ত কড়াই থেকে একটা মাছ তুলে নিল। তাকিয়ে দেখলাম সেই ছায়ামূর্তি নৌকোর একেবারে পাশে খালপাড়ে দাঁড়িয়ে সেই মাছটা কচমচ করে খাচ্ছে। বুড়ো মাঝির নাতি অজ্ঞান হয়ে পাটাতনের ওপর লুটিয়ে পড়ল, বুড়ো আল্লার নাম জপ করতে লাগল। আমার তখন তরুণ বয়স, মনে আর শরীরে শক্তির অভাব ছিল না। একটা চ্যালাকাঠ তুলে গনগনে আগুন ওই ছায়ামূর্তির দিকে বাড়িয়ে ধরে আমি বলে উঠলাম, ‘জয় জয় রামচন্দ্র, জয় জয় রাম।’

    ‘সেই মূর্তিটা রামনাম শুনে যেন থমকে গেল, আমার দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকাল। যেন ছোটো ছোটো দুটো জ্বলন্ত অঙ্গার আমাকে ভস্ম করে ফেলবে। তারপরই অদৃশ্য হল মূর্তি।

    ‘বুড়ো মাঝি বলল, ”আর এক দণ্ডও এহানে থাকন চলব না দা ঠাউর, যা নসিবে আছে হইব।” সে নৌকো ছেড়ে দিল। ইতিমধ্যে তার নাতির জ্ঞান হয়েছে।

    ‘কিন্তু নৌকো চলে না, কী ব্যাপার! তাকিয়ে দেখি পেছন দিকে একটা লম্বা কালো হাত নৌকোটাকে ধরে আছে, নৌকো এতটুকু নড়ছে না। বুড়ো মাঝি চেঁচিয়ে ওর নাতিকে বলল, ”কড়ার মাছগুলো অরে দিয়া দে, নইলে নৌকা ছাড়ব না।” নাতি উনুন থেকে কড়াই নামিয়ে হাতা দিয়ে একটা একটা করে মাছ তুলে ছুঁড়ে দিতে লাগল আর পিশাচটা সেগুলি লুফে গপগপ করে মুখে পুরতে লাগল। মাছ শেষ হবার পর সে নৌকোটা ছেড়ে দিল।

    ‘আধঘণ্টা যাবার পর চাঁদের আলোয় চোখে পড়ল একটা ছিপ তিরগতিতে আমাদের দিকে ছুটে আসছে। বুড়ো মাঝি কপাল চাপড়ে বলল, ‘হায় আল্লা, এবার ডাকাইতের পাল্লায় পইড়া গেলাম। আজ কী দেইখ্যা যাত্রা করেছিলাম কে জানে!’

    ‘আমার বুকের ভেতরটাও ধড়াস করে উঠল। পিশাচের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে-না-পেতেই ডাকাতের হাতে, সত্যি বড়ো অশুভ দিনে যাত্রা করেছিলাম।

    ‘ছিপটা আমাদের কাছে আসতেই কে একজন গুরুগম্ভীর গলায় হাঁক দিয়ে বলল, ‘কেডা যায়?’

    ‘বুড়ো মাঝি গলা তুলে বলল, ”আমি ইমানুল হক সিরাজের বাপ।”

    ‘সিরাজ এক সময় নামি ফুটবল খেলোয়াড় ছিল, ঢাকা একাদশে খেলত, পরে কলকাতার বড়ো ক্লাবেও খেলেছে। মাত্র তিনদিনের জ্বরে মারা যায়। তখন তার বয়স তিরিশও পেরোয়নি। বুড়ো মাঝিই যে তার বাবা সেটা আমিও প্রথম জানলাম। পুববাংলার মানুষের কাছে খুব প্রিয় ছিল সিরাজ।

    ‘ছিপ থেকে এক মুহূর্ত কোনো সাড়াশব্দ এল না তারপরই গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন হল, ‘নাওয়ে কারা যায়?’

    ‘সোনাদিঘির ছোটো চৌধুরীর বড়োপোলা,’ বুড়ো মাঝি জবাব দিল, ‘অর কোনো ক্ষতি করিস না রহিম, আল্লার নামে তর কাছে দোয়া মাংগতাছি। ছোটোকত্তার কাছে তাইলে আর কোনোদিন আমি মুখ দেখাইতে পারুম না।’

    ‘আমার হঠাৎ মনে পড়ে গেল ফটিকের কথা। ফটিক ছিল আমাদের একজন লাঠিয়াল। কুচকুচে কালো গায়ের রং, বাবরি চুল আর তার শরীরের মাংসপেশি যেন কিলবিল করত। লাঠি খেলায় এ তল্লাটে কেউ তার সামনে দাঁড়াতে পারত না। আমার বয়স তখন এগারো কি বারো। আমি ওর খুব ভক্ত হয়ে পড়েছিলাম, ফটিক দাদা বলে ডাকতাম। ফটিকও আমাকে খুব ভালোবাসত, হাতে ধরে লাঠি খেলা শেখাত। তারপর একটা ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়ে ও নিরুদ্দেশ হয়েছিল। লোকমুখে শোনা গিয়েছিল ও রহিমের দলে যোগ দিয়েছিল। আমি গলা তুলে বললাম, ”তোমাদের মধ্যে ফটিক সর্দার বলে কেউ আছে?”

    ‘আবার মুহূর্তের নিস্তব্ধতা, তারপর অন্য এক গলায় কেউ বলে উঠল, ”কেডা গিজায়?”

    ‘আমি ছোটো চৌধুরীর বড়োছেলে রমেন্দ্র নারায়ণ,’ আমি বললাম, ‘ছোটোবেলায় ফটিক দাদা আমাকে লাঠি খেলা শেখাত।’

    ‘ছিপটা আমাদের নৌকোর পাশে এসে ভিড়ল। একজন লাফ দিয়ে চলে এল নৌকোয়। এতদিন পরেও আমার চিনতে ভুল হল না, আমি বলে উঠলাম, ‘ফটিক দাদা।’

    ‘ফটিক আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ”দা ঠাউর, কত বড়ো হইয়া গেছ তুমি। তুমি না কইলে চিনতেই পারতাম না।” তারপর বুড়ো মাঝির দিকে ফিরে বলল, ”তোমার কি আক্কেল নাই মিঞা, এতকাল নৌকা চালাইতেছ, জান না রাইতে এই পথে যাওনের কী বিপদ!’

    ‘বুড়ো মাঝি তাকে বলল, স্টিমার আজ অনেক দেরি করে আসায় যত বিপত্তি। তারপর সেই মেছো ভূতের কথা বলল, যে কারণে বাধ্য হয়ে আমাদের নৌকো ছাড়তে হয়েছে।

    ‘সব শুনে ফটিক বলল, ”খুব বাঁইচ্যা গেছ আজ। তা তোমাগো প্যাটে তো কিছু পড়ে নাই। আহা, দা ঠাউরের মুখ শুকাইয়া গ্যাছে, খুব কষ্ট হইতাছে।”

    ‘আমি বাধা দিয়া বললাম, ”না ফটিক দাদা, আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না।”

    ‘চুপ করো তুমি,’ ফটিক আমাকে এক ধমকে থামিয়ে দিল, তারপর বলল, ‘আমাগো খাওনের পাট চুইক্যা গ্যাছে অনেকক্ষণ। কিছুই তো নাই, থাকনের মধ্যে আছে চিড়া আর গুড়।’

    ‘তাই দাও,’ আমি বলে উঠলাম, আসলে আমার পেটের ভেতর চোঁ চোঁ করছিল। ফটিক ওই ছিপে গিয়ে চিড়ে আর গুড় নিয়ে এল। খিদের মুখে তাই অমৃত মনে হল। শুধু তাই নয়, ফটিকরা আমাদের অনেকটা পথ এগিয়ে দিল যাতে আর কোনো বিপদ না হয়।

    ‘ওরা বিদায় নেবার সময় আমি ওর হাতে পঞ্চাশটা টাকা দিতে গেলাম। আমার কাছে ওই টাকাই ছিল। তবে সে আজ অনেক বছর আগের কথা, তখন পঞ্চাশ টাকার দাম এখনকার প্রায় এক হাজার টাকা হবে। ফটিক কিন্তু কিছুতেই টাকা নিল না, উলটে আমাকে এমন ধমক দিল যে আমি আর কথা বলতে পারলাম না।

    ‘সেরাতের কথা আমি সারা জীবনেও ভুলব না।’

    দাদু তাঁর কাহিনি শেষ করলেন। নাতি-নাতনিদের কারো মুখে কথা নেই, তারা সবাই দাদুর গায়ে গা সিটিয়ে বসে আছে।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন
    Next Article উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }