Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প360 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিলাপী আত্মা

    ফাঁসির আগে আসামি ম্যাথুসের স্বাস্থ্য ডা পিল্লাই বার দুই পরীক্ষা করেছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছিল কেরালায়, ডা পিল্লাই হলেন জেলের ডাক্তার। ওরা দু-জনই ক্রিশ্চান।

    জীবনের আশা আর নেই জেনে ম্যাথুস ভাগ্যের হাতে নিজেকে সঁপে দিয়েছিল। প্রতিটি রাতের পর প্রসন্ন সকাল যে তার জীবনের মেয়াদ ক্রমেই কমিয়ে আনছে তা জেনেও সে তেমন আতঙ্কিত হচ্ছিল না, মৃত্যুভয় যেন সে জয় করে ফেলেছে। তার জীবনের আবেদন সরকার নাকচ করে দিয়েছেন জানবার পর থেকে তার এই পরিবর্তনের শুরু। তার আগে পর্যন্ত, অর্থাৎ বাঁচার ক্ষীণতম আশাও তার মনে যতক্ষণ ছিল, ততক্ষণ লোকটি দিবারাত্রের প্রতিটি ঘণ্টা মৃত্যুর অজানা বিভীষিকায় উন্মাদের মতো আচরণ করেছে। ডা পিল্লাই একজন মানুষের মধ্যে বাঁচার এমন তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর শেষ আশাটুকু নির্মূল হয়ে যাবার পর সেই লোকটিরই জীবন সম্বন্ধে নিরাসক্তি আর পরস্পর বিরোধী মনোভাবে বিস্মিত না হয়ে পারেননি। পরিবর্তনটা এত আকস্মিক যে ডাক্তারের মনে হয়েছিল আসামির আবেদন না-মঞ্জুর খবরটাই তার অনুভূতির সমস্ত ইন্দ্রিয়কে বিকল করে দিয়েছে। খবরটা শোনার পরই সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।

    সেই প্রথমবার ডা পিল্লাই তার চিকিৎসা করেন। জ্ঞান হবার পর থেকে তার এই অদ্ভুত পরিবর্তন।

    যে অপরাধ সে করেছিল তার কোনো ক্ষমা নেই। জনসাধারণের মনেও ম্যাথুসের প্রতি বিন্দুমাত্র করুণার সৃষ্টি হয়নি। ত্রিবেন্দ্রামে তার একটা ছোটো মনোহারি দোকান ছিল। নিজের মা আর বউ নিয়ে ছিল তার সংসার। সেই মা-ই হয়েছিলেন তার জঘন্যতম অপরাধের শিকার। বিধবা মায়ের হাজার পাঁচেক টাকা ছিল। সেই শেষ সম্বলটুকুর উপর ম্যাথুসের লোভই এই অপরাধের মূল কারণ।

    বিচারের সময় প্রকাশ হয়ে পড়ে ওই ঘটনার সময় বাজারে তার হাজার খানেক টাকা দেনা ছিল। তার বউ দিন কয়েকের জন্যে ত্রিচুরে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল আর সেই সুযোগে এক রাত্রে মাকে গলা টিপে হত্যা করে বাড়ির পেছনে ছোটো বাগানের জমিতে মৃতদেহ কবর দিয়েছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই মায়ের সঙ্গে টাকাপয়সার ব্যাপার নিয়ে তার খিটিমিটি লেগেই ছিল। মা প্রায়ই বলতেন বাড়ি ছেড়ে তিনি চলে যাবেন। ঘটনার দিনেও মা আর ছেলের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয় যার ফলে ভদ্রমহিলা ব্যাঙ্ক থেকে সব টাকা তুলে আনেন। পরের দিন ভোরে তিনি তাঁর বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে যেদিকে দু-চোখ যায় চলে যাবেন বলেছিলেন। পাড়াপড়শি এ ঘটনার সাক্ষী ছিল। সেই রাতেই ম্যাথুস কাজ হাসিল করে।

    খুব ঠান্ডা মাথায়, ভেবে-চিন্তে, সে তার পরবর্তী কাজগুলো করেছিল। মায়ের জিনিসপত্র একটা তোরঙ্গে পুরে রাত থাকতেই সে বেরিয়ে পড়ে। স্টেশনে গিয়ে মাদ্রাজগামী একটা গাড়িতে তোরঙ্গটা বসবার আসনের তলায় রেখে সে ফিরে এসেছিল। একটু বেলা হতেই পাড়াপড়শির কাছে সে রটিয়ে দিয়েছিল মা তার সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে চলে গেছে, কোথায় গেছে তা সে জানে না। মার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা কারো অজানা ছিল না তাই মিথ্যে দুঃখিত হবার ভান না করে খোলাখুলিই সে বলেছিল, মা-ই ছিল যত অশান্তির মূলে, এবার বাড়িতে শান্তি ফিরে আসবে।

    বউ ফিরে আসার পর তাকেও সে একই কথা বলেছিল। মা যে কোনো ঠিকানা দিয়ে যায়নি তা জানাতেও সে ভোলেনি, কারণ বউ তার ভালোমানুষ, যদি মাকে ফিরে আসার জন্য চিঠি লেখে তাই বাজে ঠিকনা দিয়ে হাঙ্গামায় পড়তে চায়নি। বউ তার কথা সরল বিশ্বাসেই মেনে নিয়েছিল, অবিশ্বাস কিংবা সন্দেহ করার কারণ অবশ্য ছিল না।

    ঘটনার পর কিছুদিন সে খুবই সতর্ক ছিল। প্রতিটি অপরাধীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে একটা নির্দিষ্ট সময় বা সীমা পর্যন্ত তারা হুঁশিয়ার থাকে, কিন্তু তারপরেই তারা ঢিলে দেয়, আর তখনই এমন মারাত্মক ভুল করে বসে যা তাদের জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাথুসও প্রথম প্রথম খুব ভেবে-চিন্তে কাজ করতে লাগল। তার দেনা সে তখুনি শোধ করল না বরং মা যে ঘরে থাকত সেই ঘরে সে একজন ভাড়াটে বসাল আর দোকানে যে ছোকরা তার সহকারী ছিল তাকে সে বিদেয় করল। অর্থাৎ দোকানের খরচা কমিয়ে আর বাড়িতে ভাড়াটে বসিয়ে সে তার অবস্থা ফেরাবার চেষ্টা করছে ওই ধারণাটাই সে পাঁচ জনের মনে ঢোকাতে চাইছিল।

    এক মাস পরে ওই পাঁচ হাজার টাকা থেকে এক-শো টাকা দিয়ে সে ব্যাঙ্কে নিজের নামে টাকা জমা দিল। তার কিছুদিন পরই হাজার টাকা দেনা শোধ করল।

    এরপরই সে অসাবধান হতে লাগল। অন্য একটা ব্যাঙ্কে দু-হাজার টাকার আরও একটা অ্যাকাউন্ট খুলে বসল। মাকে বাগানের যে জায়গায় কবর দিয়েছিল তার গর্তটা গভীর করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি তাই শুধু ও জায়গাটায় বেশ কিছু মাটি আর সার ফেলে কয়েকটা গোলাপের চারা লাগিয়ে সে নিশ্চিন্ত বোধ করছিল। এটা কিন্তু তার চালে একটা মস্ত ভুল বলতে হবে, কারণ বাগানের নেশা তার কোনোকালেই ছিল না বরং তার মা-ই ওই বাগানের জমিতে কিছু শাকসবজির বাগান করেছিলেন। তার হঠাৎ এই রুচি পরিবর্তনে শুধু পাড়াপড়শিরাই নয়, তার বউ পর্যন্ত অবাক না হয়ে পারেনি।

    তোরঙ্গটা সে মাদ্রাজগামী গাড়িতে তুলে দিয়েছিল দুটো উদ্দেশ্য নিয়ে—এক, ওটার মালিক না থাকায় কেউ হয়তো ওটা বেমালুম সরিয়ে ফেলবে, আর দুই, যদি তা নাও হয় তবে হারানো মালপত্রের গুদোমে ওটা জমা হবে এবং কোনো দাবিদার না জুটলে রেল কর্তৃপক্ষ হয়তো ওটা নিলেম করে দেবে। ওটার সঙ্গে তাকে জড়াবার কোনো কারণই ছিল না। তোরঙ্গে জামা কাপড়ের ভাঁজে তার মা-র কাছে একজনের লেখা চিঠি তার দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল আর সেটাই কাল হয়ে দাঁড়াল। চিঠিতে তার ঠিকানা ছিল।

    তোরঙ্গটা আরও অনেক হারানো মালপত্রের সঙ্গে গুদোমে সত্যিই জমা পড়েছিল এবং সাধারণত এসব ক্ষেত্রে যা ঘটে থাকে তাই হয়েছিল অর্থাৎ ‘আছে থাকুক’ এই মনোভাব নিয়ে কর্তৃপক্ষ ওটার পেছনে অযথা সময় নষ্ট করেননি। গোলমাল বাধল গুদোমে হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়ায়। বেশি কিছু ক্ষতি হবার আগেই আগুন অবশ্য নিভিয়ে ফেলা হল কিন্তু কয়েকটা জিনিসের সঙ্গে তোরঙ্গটাও বেশ পুড়ে গেল আর আশ্চর্যভাবে কিন্তু মালপত্রের সঙ্গে রক্ষা পেল চিঠিটা। একেই বলে কপাল! যাহোক যে সব জিনিসের ক্ষতি হয়েছে তাদের মালিককে রেল থেকে ক্ষতিপূরণের কথা জানিয়ে চিঠি লেখা হল। সামান্য ক-টা জিনিসেরই মালিকের হদিশ পাওয়া গেল। তোরঙ্গটা হ’ল তাদের মধ্যে একটা।

    যথাসময়ে ম্যাথুসের মার নামে চিঠিটা এল আর পড়ল ম্যাথুসের বউয়ের হাতে। আপাতদৃষ্টিতে ওটা একটা সাধারণ গতানুগতিক চিঠি ছাড়া আর কিছু নয়, কিন্তু ওটা ম্যাথুসের মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে হাজির হল। তোরঙ্গটা কেন যে এগমোর স্টেশনে এতদিন পড়েছিল তার কোনো কৈফিয়তই সে দিতে পারল না। (কলকাতায় যেমন হাওড়া ও শেয়ালদা, মাদ্রাজেও তেমন দুটো স্টেশন, সেন্ট্রাল আর এগমোর)। অগত্যা তাকে বলতে হল তার মার নিশ্চয়ই কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং বাধ্য হয়েই মার সন্ধানের জন্য তাকে পুলিশের শরণাপন্ন হতে হল। এ ব্যাপারে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের সন্দেহ পড়ল তার ওপর। হঠাৎ কিছু অচেনা মুখকে তার বাড়ির আনাচেকানাচে উঁকিঝুঁকি মারতে দেখা গেল। ব্যাঙ্কে খোঁজ করতে গিয়ে তার টাকা জমা দেবার ব্যাপারটা গোয়েন্দা বিভাগের দৃষ্টি এড়াল না। তার বাগানের গোলাপ গাছ হঠাৎ বাইরের লোকের প্রশংসার বস্তু হয়ে দাঁড়াল। তারপরই একদিন পুলিশ ওয়ারেন্ট এসে হাজির হল, বাগানের মাটি খুঁড়ে গলিত যে শব বেরুল তার পরিচয়ও গোপন রইল না। বিচারে তার ফাঁসির হুকুম হল।

    এই হল সংক্ষেপ ঘটনা। বিচারের সময় সে এমন ভান করেছিল যেন সে কিছুই জানে না, সম্পূর্ণ নির্দোষ। কিন্তু পুলিশ এমন সব অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণ দাখিল করেছিল যে, তার ভনিতা ধোপে টেঁকেনি। এমনকী জেলের পাদ্রীর কাছেও সে তার অপরাধ কবুল করেনি। খ্রিস্টান ধর্মে মৃত্যুপথযাত্রীদের কনফেশানের অর্থাৎ স্বীকারোক্তির যে রীতি আছে সেই সূত্রেই পাদ্রী সাহেব তাকে কনফেশানের জন্য অনেক পীড়াপীড়ি করেছিলেন, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। কনফেশন ছাড়া মৃত্যু হলে তাকে নরকে পচতে হবে পাদ্রীর এই সতর্কবাণীতেও কোনো কাজ হয়নি।

    চৈত্র মাসের এক ভোর রাতে ম্যাথুসের ফাঁসি হয়ে গেল। ডা পিল্লাইকে কর্তব্যের খাতিরে বধ্যভূমিতে হাজির থাকতে হয়েছিল। মৃতদেহ মাটিতে নামানোর পর তিনি পরীক্ষা করে নিঃসন্দেহ হল যে মেরুদণ্ড ও ঘাড় যেখানে মিশেছে সেই হাড় ভেঙে গেছে এবং মৃত্যু ঘটেছে প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই।

    শবব্যবচ্ছেদের কোনো প্রয়োজনই ছিল না, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী পিল্লাইকে তাও করতে হল, আর ঠিক সেই মুহূর্তে একটা বিচিত্র অনুভূতিতে তাঁর সব ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে উঠল। তাঁর মনে হল কেউ যেন তাঁর ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। চমকে পাশ ফিরে কাউকে কিন্তু তিনি দেখতে পেলেন না। একটা অস্বস্তিতে তাঁর মন ভরে গেল। তাঁর মনে হল যার শবব্যবচ্ছেদ করছেন সে যেন মারা যায়নি, কিন্তু সেটা যে তাঁর মনের ভুল সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো কারণই ছিল না। ফাঁসির ঘণ্টাখানেক পর তিনি মর্গে দেহটা কাটা-ছেঁড়া করছেন সুতরাং এমন মনের ভুল কেন যে তাঁর হল তা ঠিক তিনি বুঝে উঠতে পারলেন না।

    আরও একটা ঘটনা ঘটল। জেলের ওয়ার্ডারদের একজন এসে ডা পিল্লাইকে জিজ্ঞেস করলেন, যে দড়ি দিয়ে ম্যাথুসকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল সেটা ভুল করে মৃতদেহের সঙ্গে মর্গে চলে এসেছে কিনা। ওটা নাকি কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না, একেবারে উধাও হয়ে গেছে। ব্যাপারটা সত্যিই অদ্ভুত। যে দড়ি জল্লাদের হাতে মরণ খেলায় মেতে ওঠে, সেটা কারো যে দরকার হতে পারে তা ভাবাই যায় না। পারতপক্ষে ও দড়ি সবাই সযত্নে পরিহার করে চলে, স্পর্শ করার লোভ নিশ্চয়ই কারো হয় না। যাহোক, ওটা কিন্তু সত্যিই পাওয়া গেল না।

    ডা পিল্লাই বিয়ে-থা করেননি। জেলখানার কাছেই তাঁর কোয়ার্টার। বাড়ির কাজকর্ম, রান্নাবান্না সব কিছুর ভার তিনি ছেড়ে দিয়েছেন তাঁর কমবাইন্ড হ্যান্ড যোশেফের উপর। লোকটি শুধু কাজেরই নয়, রান্নার হাতও তার চমৎকার। ডা পিল্লাই যা মাইনে পান তাতে একা মানুষের স্বচ্ছন্দে চলে যায়। জেলের ডাক্তারের চাকরিটা তিনি নিয়েছিলেন একটা বিশেষ কারণে। সেটা হল ডাক্তারি পড়ার সময়েই তাঁর মনের মধ্যে একটা শখ বা খেয়াল দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। সেটা হল অপরাধীদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করা। জেলের ডাক্তারের চাকরিতে এ বিষয়ে গবেষণা করার ঢালাও সুযোগের কথা ভেবেই তিনি এ পথে এসেছিলেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় যে বিশ্বাস তাঁর মনে শেকড় গেঁথে বসেছিল তা হল অধিকাংশ অপরাধ বা পাপকর্ম বিশ্লেষণ করে দেখলে এটাই প্রমাণিত হবে যে, মস্তিষ্কের একটা অস্বাভাবিকতা অথবা বুভূক্ষা থেকেই এদের জন্ম। যেমন চৌর্যবৃত্তি— তাঁর মতে শুধু অভাব থেকেই এ প্রবৃত্তি মানুষের আসে না, এর সঙ্গে মস্তিষ্কের এক ধরনের জটিল অসুখেরও যোগাযোগ আছে, নতুবা অভাবী সবাই চোর হত। আবার এমন অনেক ধরনের অপরাধ আছে যা দৈহিক প্রয়োজনের তালিকায় পড়ে না, খেয়ালের বশে মানুষ এ ধরনের অপরাধের দাস হয়ে পড়ে, অনেকটা নেশাগ্রস্তের মতো। এ বিষয়ে তিনি একটি বই লিখেছেন এবং তার বিষয়বস্তু গুণীজনের কাছে যথেষ্ট সমাদরও লাভ করেছে।

    তবে অপরাধের যে দিকটা তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল তা হল মানুষের হিংস্র হয়ে ওঠা এবং হত্যা করার দুর্দম স্পৃহা। বাড়ি ফেরার পথে, সকালে যে খুনি আসামির শেষ সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন তার কথাই মনে মনে চিন্তা করছিলেন। জঘন্য অপরাধ সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ম্যাথুসের টাকার প্রয়োজন এমন স্তরে পৌঁছোয়নি, যার জন্য খুন করা ছাড়া তার আর উপায় ছিল না। খুনের অস্বাভাবিকতার জন্যে খুনিকে তিনি অপরাধী না ভেবে উন্মাদের পর্যায়ে ফেলাই সঙ্গত মনে করেছিলেন। যতদূর জানা যায় লোকটি শান্ত এবং অমায়িক প্রকৃতির ছিল, স্বামী হিসেবেও তার সুনাম ছিল আর পরিচয় ছিল একজন মিশুকে প্রতিবেশী হিসাবে। কিন্তু সেই লোকটিই এমন এক নৃশংস অপরাধ করে বসল, যা সে ঠান্ডা মাথাতেই করে থাকুক কিংবা উন্মাদনা বশতই করে থাকুক, তার জন্য সমাজ তাকে কখনো ক্ষমা করবে না। এমন ঘৃণ্য কাজ যে করে তার এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।

    কিন্তু একটা কথা ডা পিল্লাই কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না। লোকটা অপরাধ স্বীকার করল না কেন? সে যে অপরাধী এ বিষয়ে সন্দেহ করার কিছুমাত্র কারণ নেই। তবু শেষপর্যন্ত এমনকী বধ্যভূমিতে যাবার মুহূর্তেও, সে কেন অপরাধ স্বীকার করে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল না তা ডা পিল্লাইয়ের কাছে হেঁয়ালি বলেই মনে হল।

    রাত্রে খাওয়া-দাওয়ার পর তিনি তাঁর পড়বার ঘরে এসে বসলেন। ঘরটিতে আলমারি ঠাসা বই। আজ কেন যেন পড়তে তাঁর মন বসছিল না। ঘুরে-ফিরেই ম্যাথুসের কথা তাঁর মনে পড়ছিল, আর মনে হচ্ছিল মর্গে সেই বিচিত্র অনুভূতির কথা। যেন তাঁর পাশে কেউ এসে দাঁড়িয়েছিল! ম্যাথুস মারা যায়নি এ অনুভূতিই বা কেন হয়েছিল তাঁর? তবে কি ম্যাথুসের অতৃপ্ত আত্মার উপস্থিতিই তিনি অনুভব করেছিলেন? ঘরের ভেতর এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়া তাঁর সর্বাঙ্গ কাঁপিয়ে দিয়ে গেল। উদ্ভট কল্পনা ভেবে চিন্তাটাকে তিনি জোর করে মন থেকে দূর করতে চাইলেন।

    এ অনুভূতি কিন্তু তাঁর আগেও হয়েছিল। আকস্মিক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এমন সব মানুষের শবব্যবচ্ছেদের সময় তিনি বিদেহী কারো উপস্থিতি অনুভব করে অসহায় বোধ করেছিলেন। আত্মার বিনাশ নেই এ মতাবাদে তিনি বিশ্বাসী, জন্মান্তরবাদেও তিনি বিশ্বাস করেন। হয়তো দেহের বিনাশের সঙ্গে সঙ্গেই আত্মা পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে বিদায় নেয় না, হয়তো আরও কিছুকাল সে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ায়। ডা পিল্লাই অবসর সময় দেহ ও আত্মার পরস্পর বিচ্ছেদের সংকীর্ণ সীমারেখা নিয়ে অনেক পড়াশুনো করেছেন। বিদেহী আত্মা যে জীবিত মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে সক্ষম, সেকথা ডা পিল্লাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।

    তাঁর গভীর চিন্তায় বাধা পড়ল। পাশেই ছোটো একটা গোল টেবিলের উপর টেলিফোনটা ছিল। ওটা হঠাৎ বেজে উঠল। কিন্তু সাধারণ যেভাবে ক্রিং ক্রিং করে বাজে তেমন ভাবে নয়, অনেকটা অস্পষ্ট, মৃদুভাবে। যেন টেলিফোনে কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ হয়েছে। তবে ওটা যে বাজছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। ডা পিল্লাই হাত বাড়িয়ে রিসিভারটা কানে তুললেন। মাউথ-পিসে মুখ লাগিয়ে তিনি বললেন, ‘ডা পিল্লাই বলছি, আপনি কে?’

    উত্তরে একটা ফিসফিসে শব্দ তাঁর কানে এল, কথা কিছুই বোঝা গেল না।

    ‘আপনার কথা আমি শুনতে পাচ্ছি না।’ তিনি বললেন।

    আবার সেই ফিসফিস ধ্বনি। তারপর সব চুপচাপ।

    ডা পিল্লাই মিনিট খানেক রিসিভারটা কানে লাগিয়েই দাঁড়িয়ে রইলেন, যেন তিনি সংবিৎ হারিয়ে ফেলেছেন। যখন বুঝলেন, ওপাশ থেকে আর কোনো সাড়া-শব্দই আসছে না তখন তিনি এক্সচেঞ্জকে ফোন করলেন। নিজের নাম্বারটা জানিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখুনি কেউ আমাকে ফোন করেছিল; কোন নাম্বার থেকে বলতে পারেন?’

    সামান্য স্তব্ধতার পর তিনি তাঁর প্রশ্নের জবাব পেলেন। ওটা করা হয়েছিল জেলখানা থেকে। তিনি ওই নাম্বারে ডায়াল করলেন।

    ‘আমাকে এইমাত্র ফোন করেছিল? আমি ডা পিল্লাই বলছি। একটা কথাও আমি শুনতে পাইনি।’

    পরিষ্কার কণ্ঠে জবাব এল।

    ‘আপনার বোধ হয় ভুল হয়েছে ডাগদার সাব, আমরা কেউ আপনাকে ফোন করিনি।’

    ‘কিন্তু এক্সচেঞ্জ যে বলল জেলখানা থেকেই ফোন করা হয়েছে?’

    ‘এক্সচেঞ্জ নিশ্চয়ই ভুল করেছে।’ জবাব ভেসে এল।

    ‘আশ্চর্য! কে কথা বলছ, ওয়ার্ডার রামানুজম, তাই না?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, সাব।’

    ‘আচ্ছা, রেখে দিলাম।’

    ডা পিল্লাই আরামকেদারায় গা এলিয়ে দিলেন।

    ঘুরে-ফিরে টেলিফোনের অদ্ভুত ব্যাপারটা তাঁর মনে একটা খটকার সৃষ্টি করতে লাগল। ভুল করে অনেকবারই তাঁর টেলিফোন বেজে উঠেছে, কিন্তু অত মৃদুভাবে কখনো বাজেনি, অমন চাপা দুর্বোধ্য গলায় কেউ তাঁকে কথাও বলেনি। ব্যাপারটা তাঁকে ভাবিয়ে তুলল। নিজের অজান্তেই তিনি সারা ঘরে পায়চারি শুরু করলেন। একটা ক্ষীণ সন্দেহ, একটা অদ্ভুত চিন্তা, তাঁর মনে উঁকিঝুঁকি মারতে লাগল।

    ‘কিন্তু তা অসম্ভব।’ আপন মনেই বলে উঠলেন তিনি।

    পরদিন সকাল বেলা যথারীতি তিনি জেলখানায় গেলেন। আশ্চর্য, অদৃশ্য কারো উপস্থিতি আবার তাঁর মনে চাড়া দিয়ে উঠল। কেন জানি তাঁর মনে হতে লাগল, গতকাল যার ফাঁসি হয়েছে সে-ই যেন তাঁর আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জেলখানার অঙ্গনে সেই অনুভূতিটা প্রবল হয়ে উঠল, আরও প্রবল হল যখন তিনি ফাঁসির আসামিকে যে কুঠুরিতে রাখা হয় তার দরজার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

    অনুভূতিটা ক্রমে এতই প্রবল হয়ে উঠল যে ওই কুঠুরির মধ্যে যার উপস্থিতি তিনি অনুভব করছিলেন তার দেখা পেলেও হয়তো তিনি বিস্মিত হতেন না। দরজাটা পেরিয়ে, সরু বারান্দার মতো পথের শেষ প্রান্তে পৌঁছে সত্যিই তিনি ঘাড় ফেরালেন, যেন ওকে দেখবেন আশা করেছিলেন।

    সমস্তক্ষণ একটা দারুণ আতঙ্ক তাঁর বুকে পাষাণ ভাবের মতো চেপে বসেছিল— এই অদৃশ্য উপস্থিতি তাঁকে বিচলিত করে তুলল। হতভাগ্য সেই আত্মা যেন কিছু বলতে চায়, এটা তিনি মনপ্রাণ দিয়ে অনুভব করলেন। সমস্ত ব্যাপারটা যে কাল্পনিক, তাঁর উর্বর মস্তিষ্কের উদ্ভট চিন্তার পরিণাম, এ কথা কিন্তু একবারও তাঁর মনে হল না। হ্যাঁ, ম্যাথুসের আত্মা জেলখানার মধ্যেই আটকা পড়েছে।

    হাসপাতালে ঘণ্টা দুয়েক কাজের মধ্যে তিনি নিজেকে ব্যস্ত রাখলেন। সর্বক্ষণ কিন্তু একটা অদৃশ্য কিছুর উপস্থিতি তিনি অনুভব করছিলেন; তবে হাসপাতালে সে প্রভাবটা অত নয়, যতটা জেলখানার মধ্যে। জেলখানার কাজ সেরে ফেরার আগে তাঁর ধারণাটা যাচাই করার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বধ্যভূমির ছাউনিতে উঁকি মারলেন। পরমুহূর্তে বধ্যভূমিতে প্রবেশের দরজাটা এক হ্যাঁচকা টানে বন্ধ করে তিনি সরে এলেন। তাঁর মুখ ভয়ে বিবর্ণ হয়ে গেল।

    ফাঁসির মঞ্চে কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা আর দু-হাত বাঁধা ঝুলন্ত এক মূর্তির স্পষ্ট আকার তাঁর চোখে পড়ল। অস্পষ্ট হলেও চোখের ভুল তাঁর হয়নি।

    ডা পিল্লাইকে অনায়াসে একজন সাহসী পুরুষই বলা চলে। তিনি প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই নিজেকে সামলে নিলেন। ক্ষণিকের এই আতঙ্কের জন্য তিনি মনে মনে লজ্জাই বোধ করলেন। যুক্তি দিয়ে তিনি বিশ্লেষণ করলেন, আকস্মিক স্নায়বিক চাপই তাঁর মনের এই অবস্থার কারণ। আত্মা এবং আধিভৌতিক ব্যাপারে তাঁর যথেষ্ট কৌতূহল থাকা সত্ত্বেও বধ্যভূমিতে দ্বিতীয়বার উঁকি মারার সাহস কিন্তু তাঁর হল না। মনের জোর যেন তিনি হারিয়ে ফেললেন। হতভাগ্য ম্যাথুসের আত্মা যদি তাঁকে কিছু বলতে চায় কিংবা তাঁর সঙ্গে কোনো ব্যাপারে যোগাযোগ করতে চায়, তবে দূর থেকেই সেটা ঘটুক— তাই তিনি মনেপ্রাণে চাইলেন। তাঁর মনে হল ওটার গতিবিধি যেন অনেকটা সীমিত। জেলখানার অঙ্গন, যে কুঠুরিতে ফাঁসির আসামিকে রাখা হয় এবং বধ্যভূমি ঘিরেই ওটা ঘোরাফেরা করছে। অবশ্য এটা তাঁর অনুমান।

    হঠাৎ একটা কথা মনে হওয়ায় তিনি তাঁর অফিস ঘরে ফিরে এসে গত রাত্রে যে ওয়ার্ডার টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিল তাকে ডেকে পাঠালেন।

    ‘কাল রাতে আমি তোমার সঙ্গে কথা বলার আগে কেউ আমাকে ফোন করেনি বলেছিলেন। তোমার ভুল হয়নি তো?’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন।

    ডা পিল্লাই লক্ষ্য করলেন লোকটি সামান্য ইতস্তত করল।

    ‘নাঃ…,’ লোকটি জবাব দিল, ‘আপনি ফোন করার আধঘণ্টা আগে থেকেই আমি টেলিফোনের পাশে বসেছিলাম। কেউ ফোন করলে আমি দেখতে পেতাম।’

    ‘তুমি তবে কাউকে দেখনি?’ ডা পিল্লাই এবার একটু জোর দিয়েই কথাটা বললেন।

    লোকটির হাবভাবে একটা অস্বস্তির চিহ্ন স্পষ্ট ফুটে উঠল।

    ‘না ডাগদার সাব, আমি কাউকে দেখিনি।’ সে যেন ইচ্ছে করেই একটু জোর দিয়ে জবাব দিল।

    ডা পিল্লাই তার দিক থেকে মুখটা ফিরিয়ে নিলেন।

    ‘কিন্তু তোমার হয়তো মনে হয়েছিল ঘরে কেউ আছে?’ অনেকটা নিরাসক্ত ভাবেই তিনি এবার প্রশ্ন করলেন।

    ওয়ার্ডার রামানুজম এবার যেন একটু থতমত খেল। তার মনের মধ্যে যে একটা দ্বন্দ্ব চলছে তা বুঝতে অভিজ্ঞ ডা পিল্লাইয়ের দেরি হল না।

    ‘আপনি হয়তো ভাববেন আমার তন্দ্রা এসেছিল কিংবা আমি এমন কিছু খেয়েছিলাম যা আমার সহ্য হয়নি…’

    ডা পিল্লাইয়ের নিরাসক্ত ভাবটা মুহূর্তে কেটে গেল। রামানুজমের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে তিনি বলে উঠলেন, ‘ওসব কিছুই আমি ভাবব না; বরং তুমিই বলতে পার রাত্রের খাওয়া-দাওয়ার পর আমি যখন বসেছিলাম তখন আমার ঝিমুনি এসেছিল; তাই টেলিফোন বাজার শব্দটা হয়তো আমি স্বপ্নের ঘোরেই শুনেছিলাম।’ ওয়ার্ডারকে আশ্বস্ত করার জন্যই তিনি কথাগুলো বললেন। ‘আরও একটা কথা, টেলিফোনটা কিন্তু যেমন বাজা উচিত তেমন বাজেনি। আমি ওটার পাশেই বসেছিলাম, তবু কোনোমতে ক্রিং ক্রিং শব্দটা আমার কানে এসেছিল। রিসিভার কানে লাগিয়ে আমি শুধু কার যেন ফিসফিসানি শুনেছিলাম। কিন্তু তুমি যখন কথা বলেছিলে তা স্পষ্ট এবং জোরেই শুনেছিলাম। আমার বিশ্বাস একটা কিছু— মানে কেউ টেলিফোনের এধারে ছিল। তুমিও সেসময় ঘরে ছিলে, কিন্তু কাউকে না দেখলেও কারো উপস্থিতি তুমি অনুভব করেছিলে, তাই না?’

    লোকটি এবার সায় দিয়ে ঘাড় দোলাল।

    ‘ডাগদার সাব, আমি ভীতু নই।’ সে বলল, ‘তা ছাড়া আজগুবি কল্পনা আমার মাথায় আসে না। কিন্তু তবু বলব, ঘরে অদৃশ্য কিছু একটা ছিল। ওটা যেন টেলিফোনের চারপাশেই ঘোরাফেরা করছিল। এমন নয় যে, বাতাসের শব্দে আমার মনের ভুল হয়েছিল, কারণ কাল রাতে বাতাস ছিল না বললেই চলে। ওটা নিশ্চয়ই টেলিফোন ডাইরেকটরির পাতা উলটোচ্ছিল। বাতাস ছাড়াই যেভাবে একটার পর একটা পাতা খস খস আওয়াজ করে উলটে যাচ্ছিল, তাতেই আমার ও কথা মনে হয়েছিল। যেন কারও টেলিফোন নাম্বার খুঁজছে। আমার খুব কাছে ওটার উপস্থিতি আমি অনুভব করেছিলাম। বিশ্বাস করুন ডাগদার সাব, আমার গায়েই শুধু কাঁটা দেয়নি, মাথার চুলও খাড়া হয়ে গিয়েছিল। আর…আর…ওটা যখন আমার পাশে এসেছিল। তখন কেমন একটা স্যাঁৎসেঁতে ঠান্ডায় আমি কেঁপে উঠেছিলাম।’

    ডা পিল্লাই রামানুজমের মুখের দিকে সরাসরি তাকালেন।

    ‘তোমার কি কারো কথা মনে হয়েছিল?’ আচমকা তিনি জিজ্ঞেস করলেন।

    লোকটি আবার ইতস্তত করল, তারপর জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, সাব, কাল যার ফাঁসি হয়েছিল তার কথা…’

    ডা পিল্লাই সমর্থনসূচকভাবে ঘাড় দোলালেন।

    ‘ব্যাপারটা তাই।’ তিনি অনেকটা যেন আপন মনে বলে উঠলেন। ওয়ার্ডারের দিকে ফিরে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘আজ রাতেও কি অফিস ঘরে তোমার ডিউটি আছে?’

    ‘আজ্ঞে, হ্যাঁ সাব।’ লোকটার সর্বাঙ্গ একটা অজানা আতঙ্কে কেঁপে উঠল।

    ‘তোমার মনের অবস্থা আমি বুঝতে পারছি।’ ডা পিল্লাই তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘কাল আমারও তোমার মতোই অবস্থা হয়েছিল। ওটা যাই হোক না কেন, মনে হচ্ছে যেন আমাকে কিছু বলতে চায়। ভালো কথা, কাল রাতে জেলখানায় কোনো গোলমাল হয়নি তো?’

    ‘হ্যাঁ, হয়েছিল। কম করেও দশ বরোজন কয়েদি ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে চেঁচামেচি করে উঠেছিল। তবে কারো ফাঁসি হবার পর প্রথম দু-একটা রাত এমন হয়। আমি আগেও হতে দেখেছি, তবে কাল রাতে একটু বাড়াবাড়িই হয়েছিল।’

    ‘হুঁ! আচ্ছা, ওটা— মানে অদৃশ্য ওই বস্তুটা যদি আজও টেলিফোনের কাছে আসতে চায়, তবে ওটাকে সে সুযোগ দিও। আমার যতদূর মনে হচ্ছে, ওটা কাল যে সময় এসেছিল আজও সে সময়ে আসবে। তুমি বরং এক কাজ করো—ও সময়টা, ধর রাত সাড়ে ন-টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত, ঘরের বাইরেই থেকো। আমি আমার বাড়িতে টেলিফোনের পাশেই থাকব। যদি ওই সময়ের মধ্যে এখান থেকে আমি কোনো ফোন পাই তবে তা সেরে আমি তোমাকে ফোন করে জেনে নেব সত্যিই কেউ আমাকে ফোন করেছিল কি না? বুঝতে পেরেছ?’

    ‘আজ্ঞে কোনো বিপদ ঘটবে না তো?’

    ‘আমার বিশ্বাস সে ভয় করার কোনো কারণ নেই।’ ডা পিল্লাই তাকে অভয় দিয়ে বললেন। পরক্ষণেই বধ্যভূমিতে তাঁর আতঙ্কের হেতু মনে পড়তেই তিনি কেঁপে উঠলেন। ওয়ার্ডার অন্য দিকে তাকিয়েছিল তাই এসব কিছু লক্ষ্য করল না।

    রাত সাড়ে ন-টার সময় তিনি পড়বার ঘরে একা বসেছিলেন— বসেছিলেন বললে ভুল হবে, যেন কিছু একটা ঘটবে তারই প্রতীক্ষা করছিলেন। খানিক আগেই তিনি রাতের খাওয়া সেরেছেন। পারলৌকিক ব্যাপার সম্বন্ধে অনেক পড়াশোনা করে তাঁর মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, মুক্তি পায়নি এমন আত্মা একটা নির্দিষ্ট সময়েই নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হয়— তার হেরফের বড়ো একটা হয় না, বিশেষ করে সেই আত্মা যদি মানুষের সাহায্যপ্রার্থী হয়, যেমন হয়েছে এ ব্যাপারে। ম্যাথুসের আত্মা যে একটা যন্ত্রণায় ভুগছে এবং সেই বিষয়ে তাঁকে কিছু বলতে চায় তা তিনি অনুভব করছিলেন। মৃত্যুর পর কিছুদিন, পৃথিবীতে বিচরণশীল এ-সব অতৃপ্ত কিংবা মুক্তি না পাওয়া আত্মার নিজের রূপ প্রকাশের অর্থাৎ দেখা দেবার এবং মানুষকে তার ইচ্ছে জানাবার ক্ষমতা প্রবল থেকে প্রবলতর হয়। তারপর যতই ওটা পৃথিবী ছেড়ে ওপরে উঠতে থাকে, ওই ক্ষমতাও ততই কমে আসে। তবে দেহ থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম দু-একদিন ওটা দুর্বল থাকে। কারণ নতুন অবস্থা ও নতুন পরিবেশ মানিয়ে নিতে ওটার দিন কয়েক সময় লাগে। তাই ডক্টর পিল্লাইয়ের ধারণা হয়েছিল আজ হয়তো টেলিফোনে স্পষ্ট কিছু শুনতে পাবেন না, যদিও গতকালের মতো অত অস্পষ্ট হবে না। ঠিক তখুনি টেলিফোনটা বেজে উঠল। গত রাতের মতো ক্ষীণ নয় কিন্তু তবু সাধারণ যেভাবে বাজে অত জোরেও নয়।

    ডা পিল্লাই প্রায় লাফিয়ে উঠে রিসিভারটা কানে তুলে ধরলেন আর তখুনি একটা চাপা কান্নার ফোঁপানি তাঁর কানে ভেসে এল। কান্নার অদম্য দমকে যে কাঁদছে তার বুক যেন ফেটে যাচ্ছে!

    ডা পিল্লাই যেন বোবা হয়ে গেছেন! একটা হিমশীতল পরশ তিনি বুকের ভেতর অনুভব করছেন, কিন্তু তবু সেই কান্নার মধ্যে যে একটা করুণ আবেদন ছিল তা তাকে বিচলিত করে তুলল। যে কাঁদছে, সে যেই হোক না কেন, তাকে সাহায্য করার জন্য তাঁর সেবার্ত মন উন্মুখ হয়ে উঠল।

    ‘কে, কে তুমি?’ নিজের গলার স্বরই তাঁর কাছে বিকৃত শোনাল। ‘আমি ডা পিল্লাই কথা বলছি। বল, তোমার জন্য আমি কী করতে পারি?’

    আস্তে আস্তে কান্নার শব্দটা মিলিয়ে গেল, যেন যে কাঁদছিল সে অতিকষ্টে নিজেকে সামলে নিল। তারপরই ফিসফিস করে বলা কথাগুলো ডা পিল্লাইয়ের কানে ভেসে এল।

    ‘ডাক্তার সাহেব, আমি বলতে চাই…আমি বলতে চাই…আমাকে বলতেই হবে…’

    ‘কী বলতে চাও, বল আমাকে।’ ডা পিল্লাই একটু একটু করে সাহস ফিরে পাচ্ছেন।

    ‘না, না আপনাকে নয়…যিনি আমার কাছে আসতেন তাঁকে বলতে চাই। আপনাকে যা বলছি তা যদি তাঁকে একবারটি বলেন। আমি কিছুতেই আমার কথা তাঁকে শোনাতে পাচ্ছি না।’

    ‘কে তুমি?’ ডা পিল্লাই হঠাৎ প্রশ্ন করলেন।

    সঙ্গেসঙ্গে জবাব এল না। তারপরেই ফিসফিস করে যে কথা বলছিল, সে বলল, ‘আপনি তো জানেন, আমি কে। আমার ভয়ানক কষ্ট হচ্ছে। জেলখানা ছেড়ে আমি বেরোতে পারছি না…বড়ো কষ্ট হচ্ছে।… আপনি ওই ভদ্রলোককে আপনার বাড়িতে ডেকে পাঠাবেন? আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই।’

    ‘তুমি কী পাদ্রী সাহেবের কথা বলছ?’ ডাক্তার শুধোলেন।

    ‘হ্যাঁ আপনি ঠিকই ধরেছেন। কাল যখন আমাকে জেলখানার উঠোন দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তিনি আমার সদগতির জন্য প্রার্থনা করছিলেন। তাঁর কাছে বলতে পারলে আমার আর এত কষ্ট হবে না। —বলবেন তাঁকে আপনি?’

    ডা পিল্লাই মুহূর্তকালের জন্য ইতস্তত করলেন। কারাগারের পাদ্রী, ফাদার ডি’সুজার কাছে কি তিনি বলবেন? গতকাল যে খুনি আসামির ফাঁসি হয়েছে সে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চায়, এই! ফাদার ডি’সুজা কি ভাববেন না ডাক্তারেরই মাথার চিকিচ্ছের দরকার। কিন্তু টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে ম্যাথুসের আত্মাই যে তাঁর সঙ্গে কথা বলছে সে বিষয়ে তাঁর কোনো সন্দেহই নেই। ওর যে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে সেটা তিনি মনপ্রাণ দিয়ে অনুভব করলেন। ও যে ফাদার ডি’সুজার কাছে কী বলতে চায় ডা পিল্লাইয়ের মতো বুদ্ধিমান লোকের তা বুঝতে দেরি হল না।

    ‘বেশ আমি তাঁকে আসতে বলব।’ শেষপর্যন্ত কথাটা যেন তাঁর মুখ ফসকেই বেরিয়ে গেল।

    ‘ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ! আপনি তাঁকে নিশ্চয়ই আনবেন।’

    কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হয়ে আসছিল।

    ‘আগামীকাল রাত্রেই আনা চাই।’ কণ্ঠস্বর বলল।

    ‘আমি আর বেশিক্ষণ কথা বলতে পারছি না। আমাকে আবার সেটা দেখতে যেতে হবে–হায় ভগবান!’

    নতুন করে ফোঁপানির শব্দ আবার ভেসে এল, কিন্তু ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে আসছে।

    একটা প্রচণ্ড ভয় অথচ ঔৎসুক্য ডা পিল্লাইকে যেন ঘিরে ধরল।

    ‘কী দেখতে যেতে হবে?’ তিনি প্রায় চেঁচিয়ে উঠলেন। তোমার কি ঘটেছে একটু বল আমায়।’

    ‘না…না, তা আমি বলতে পারব না…’ কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে গেল।

    ডা পিল্লাই রিসিভারটা কানে লাগিয়ে তবু দাঁড়িয়েই রইলেন, কিন্তু আর কোনো কথা ভেসে এল না। তিনি রিসিভারটা নামিয়ে রাখলেন আর তখুনি অনুভব করলেন তাঁর সমস্ত শরীর ঘামে যেন ভিজে গিয়েছে, কপালে যে ঘাম জমেছে তা কেমন যেন শীতের সকালের শিশির বিন্দুর মতো ঠান্ডা! তাঁর বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা যেন লাফাচ্ছে! নিজেকে সামলাবার জন্য তিনি তাড়াতাড়ি চেয়ারে বসে পড়লেন। একবার মনে হল কেউ বোধ হয় তাঁর সঙ্গে সাংঘাতিক রসিকতা করেছে, কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারলেন, তা নয়। কৃতকর্মের জন্য একটা অনুতপ্ত আত্মা যে অসহ্য মানসিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে বিষয়ে তাঁর মনে কোনো সন্দেহই ছিল না। বিংশ শতাব্দীতে, এই শহরের বুকে, তাঁর কোয়ার্টারের আরামদায়ক কক্ষে এইমাত্র তিনি ম্যাথুসের আত্মার সঙ্গে কথা বললেন। আশ্চর্য ও অবিশ্বাস্য ব্যাপার।

    কিন্তু এ নিয়ে বেশি ভাববার সময় ছিল না। তিনি রিসিভারটা আবার তুলে ধরে জেলখানায় ফোন করলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর ওপাশ থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর তিনি শুনতে পেলেন।

    ‘ওয়ার্ডার রামানুজম?’ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।

    কাঁপা কাঁপা গলায় উত্তর এল, ‘হ্যাঁ, ডাগদার সাব।’

    ‘কিছু দেখেছ তুমি?’

    ‘আজ্ঞে, হ্যাঁ সাব। ও এসেছিল। আমি ওকে টেলিফোনের ঘরে যেতে দেখেছি… মানে… একটা ছায়ামতো কী যেন ঘরে ঢুকেছিল!’

    ‘তুমি কি ওর সঙ্গে কথা বলেছ?’

    ‘আজ্ঞে না, আমি ভয়ে আধমরা হয়ে গিয়েছিলাম সাব, শুধু ভগবানকে ডেকেছি। কয়েদিদের মধ্যে একটা চেঁচামেচি উঠেছিল, এখন আবার সব ঠান্ডা হয়ে গেছে। আমার মনে হয় ও ফাঁসির ছাউনির দিকে গেছে।’

    ‘তোমার অনুমান মিথ্যে নয়, আজ আর কিছু ঘটবে বলে আমার মনে হয় না।’

    সেই রাতেই ফাদার ডি’সুজাকে পরের দিন নৈশ ভোজনের নিমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি একটা চিঠি লিখলেন। ফাদার যেন অবশ্যই আসেন, খুব জরুরি একটা ব্যাপারে তিনি তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে চান। এ কথা লিখতেও ভুললেন না।

    পরের দিন রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ফাদার ডি’সুজা নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এলেন। খাবার ঘরটা ডাক্তারের পড়ার ঘরের ঠিক পাশেই। ডাক্তার পিল্লাইয়ের নির্দেশে যোশেফ ভালো ভালো রান্না করেছিল। খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে পর যোশেফ টেবিল পরিষ্কার করে দু-পেয়ালা কফি দিয়ে গেল। একটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে ডা পিল্লাই বললেন, ‘আপনাকে যে কথা বলার জন্য আজ কষ্ট দিয়েছি, তা শোনার পর দয়া করে আমাকে পাগল ভাববেন না, এই আমার অনুরোধ।’

    ফাদার ডি’সুজা হাসলেন।

    ‘হ্যাঁ, সে অঙ্গীকার আমি অনায়াসে করতে পারি।’

    ‘ভালো। গতকাল এবং পরশু রাতে দু-দিন আগে যার ফাঁসি হয়েছিল তার সঙ্গে আমি টেলিফোনে কথা বলেছি।’

    ডি’সুজা হাসলেন না। তিনি চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ালেন, তাঁর মুখে বিরক্তির চিহ্ন সুস্পষ্ট।

    ‘ডা পিল্লাই!’ তিনি বেশ অভিযোগের কণ্ঠেই বললেন, ‘আমি আপনার আতিথেয়তার অমর্যাদা করতে চাইনে, কিন্তু সত্যিই কি এই উদ্ভট কথা শোনাবার জন্যে আপনি আমাকে ডেকে এনেছেন?’

    ‘রাগ করবেন না, ফাদার ডি’সুজা।’ ডা পিল্লাই অনেকটা অনুনয়ের কণ্ঠে বললেন, ‘আপনি আমাকে শেষ করতে দিন। কাল রাতে ও আমাকে অনুরোধ করেছিল আপনাকে এখানে আনার জন্য। ও আপনাকে কিছু বলতে চায়।’

    ‘আমি আপনার কথা শুনতে চাই না।’ ফাদার ডি’সুজার কণ্ঠস্বর থেকে যেন ভর্ৎসনা ঝরে পড়ল। ‘মৃতেরা কখনোই ফিরে আসে না। মৃত্যুর পর কী অবস্থায় তারা থাকে তা আমাদের জানা নেই, কিন্তু পার্থিব সমস্ত সম্পর্ক যে তাদের চুকে যায় সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।’

    ‘কিন্তু আমার কথা এখনও শেষ হয়নি, ফাদার।’

    ডাক্তার বললেন। ‘দু-রাত আগে আমার টেলিফোনটা খুব আস্তে আস্তে বেজে উঠেছিল, ফিসফিস করে কেউ যেন আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। আমি এক্সচেঞ্জকে তারপরেই ফোন করে জানতে পারি ”কলটা” এসেছিল জেলখানা থেকে। আমি ওখানে ফোন করি। ওয়ার্ডার রামানুজম আমাকে জানায় জেলখানা থেকে কেউ আমাকে ফোন করেনি। তবে কেউ যে টেলিফোনের ঘরে এসেছিল এ অনুভূতি ওর হয়েছিল।’

    ‘লোকটা বোধ হয় খুব নেশা করে।’ ফাদার ডি’সুজা তীব্র কণ্ঠে বললেন।

    ‘আপনি ওর উপর অবিচার করছেন ফাদার ডি’সুজা।’ ডা পিল্লাই আহত কণ্ঠে বললেন। ‘ওয়ার্ডারদের মধ্যে ও লোকটাই সবচেয়ে বিশ্বাসী, কোনোরকম নেশা করে না। আর তাই যদি হয়, তবে আমিও ওই অপবাদ থেকে বাদ পড়ি না, তাই না?’

    ফাদার ডি’সুজা আবার বসলেন।

    ‘আমাকে ক্ষমা করবেন,’ তিনি এবার গলা নরম করে বললেন, ‘কিন্তু এ নিয়ে আমি কোনো আলোচনা করতে প্রস্তুত নই। তা ছাড়া সমস্ত ব্যাপারটাই যে একটা রসিকতা নয় তা কী করে বুঝলেন?’

    ‘রসিকতাটা করবে কে?’ ডাক্তার প্রতিবাদ করে উঠলেন, তারপরই বললেন, ‘ওই শুনুন।’

    পাশের ঘরে টেলিফোনটা বেজে উঠল, ডা পিল্লাই স্পষ্ট শুনতে পেলেন।

    ‘শুনতে পাচ্ছেন?’ তিনি ব্যগ্র কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন।

    ‘কী শুনতে পাচ্ছি?’

    ‘টেলিফোনটা বাজছে!’

    ‘না।’ ফাদার ডি’সুজা একটু রাগত কণ্ঠেই জবাব দিলেন, ‘টেলিফোন বাজার কোনো শব্দই আমি শুনতে পাচ্ছি না।’

    ডা পিল্লাই কথা না বাড়িয়ে পাশের ঘরে গিয়ে রিসিভারটা কানে তুলে ধরলেন। মাউথ-পিসে মুখ লাগিয়ে তিনি বললেন, ‘হ্যালো!’ তাঁর অজান্তেই গতকালের মতো গলাটা তাঁর আজও কেঁপে গেল। ‘কে কথা বলছ? হ্যাঁ, হ্যাঁ, ফাদার ডি’সুজা এসেছেন। আচ্ছা, আমি তাঁকে কথা বলতে অনুরোধ করছি।’

    তিনি খাবার ঘরে ফিরে গেলেন।

    ‘ফাদার ডি’সুজা!’ তিনি আবেদন-করুণ কণ্ঠে বললেন, ‘একজনের আত্মা যন্ত্রণা পাচ্ছে, আপনি দয়া করে ও কী বলতে চায় একবার শুনুন, আমি ভগবানের নামে আপনার কাছে অনুরোধ করছি।’

    ফাদার ডি’সুজা মুহূর্তকাল ইতস্তত করলেন, তারপর বললেন, ‘আপনার যা অভিরুচি।’

    ডা পিল্লাই তাঁকে পাশের ঘরে নিয়ে গিয়ে হুক থেকে নামিয়ে রাখা রিসিভারটা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। ফাদার ডি’সুজা রিসিভার কানে লাগিয়ে বললেন, ‘আমি ফাদার ডি’সুজা কথা বলছি।’

    তিনি অপেক্ষা করলেন।

    ‘আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।… হ্যাঁ, এবার যেন কিছু শোনা যাচ্ছে, কেউ ফিসফিস করে কথা বলছে।’

    ‘একটু চেষ্টা করুন, শুনতে পাবেন?’ ডা পিল্লাই উৎসাহ দিয়ে বললেন।

    ফাদার ডি’সুজা আবার শোনবার চেষ্টা করলেন।

    হঠাৎ রিসিভারটা কান থেকে নামিয়ে তিনি বলে উঠলেন, ‘কে যেন বলল, ”আমি খুন করেছি, আমি স্বীকার করছি, ক্ষমা ভিক্তা করছি আমি।”—এ নিশ্চয়ই রসিকতা ডা পিল্লাই! আপনি যে আধ্যাত্মিক ব্যাপারে একটু বেশি মাত্রায় উৎসুক তা জেনেই হয়তো কেউ আপনার সঙ্গে রসিকতা করছে। আমি এ বিশ্বাস করিনে।’

    ডা পিল্লাই রিসিভারটা নিজের হাতে নিলেন।

    ‘হ্যালো আমি ডা পিল্লাই বলছি।’ তিনি এক নিশ্বাসে বলে গেলেন, ‘ফাদার ডি’সুজাকে এমন কোনো প্রমাণ দিতে পার যে তুমিই কথা বলছ?

    ওপাশ থেকে উত্তরটা শুনে তিনি রিসিভার নামিয়ে রেখে বললেন, ‘ও বলছে আপনাকে প্রমাণ দেবে। তবে আমাদের একটু অপেক্ষা করতে হবে।’

    আজকের রাতটাও বেশ গুমোট, একটা ভ্যাপসা গরম। ঘরের জানলাগুলো খোলাই ছিল কিন্তু একটুও বাতাস আসছিল না। ডা পিল্লাই আর ফাদার ডি’সুজা প্রায় পাঁচ মিনিট নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইলেন, যেন কিছু একটার জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু কিছুই ঘটল না। ফাদার ডি’সুজা অধৈর্য হয়ে বলে উঠলেন, ‘আমার মনে হয় আর অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।’

    তাঁর কথা শেষ হতে না হতেই একটা হিমেল হাওয়া পাশের জানলা দিয়ে ঘরে ঢুকে এক মুহূর্তে ভেতরকার আবহাওয়া সম্পূর্ণ বদলে দিল। ভ্যাপসা গরম আর অনুভূত হচ্ছে না বরং যেন শীত শীত করছে। ডা পিল্লাই কেঁপে উঠলেন, খুব ঠান্ডা পড়লে যেমন মানুষ কাঁপে।

    ‘কেমন ঠান্ডা হাওয়া, আপনি টের পাননি?’ ফাদার ডি’সুজাকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন।

    ‘হ্যাঁ কেমন যেন শীতের মতো হাওয়া।’ ফাদার ডি’সুজা সম্মতি জানিয়ে বললেন।

    ঘরের মধ্যে হাওয়াটা আবার যেন জেগে উঠল, একটা ঘূর্ণির সৃষ্টি হল, আর টেবিলের ওপর রাখা কয়েকটা কাগজ মাটিতে ছড়িয়ে পড়ল।

    ‘কিছু বুঝতে পারছেন?’ ডা পিল্লাই আবার বললেন। একটা আতঙ্ক তাঁকে গ্রাস করতে চাইছে।

    ফাদার ডি’সুজা নীরবে ঘাড় দোলালেন, তাঁর বুকের ভেতর যেন হাপর পড়তে শুরু করেছে।

    ‘করুণাময় ঈশ্বর, শয়তানের হাত থেকে আমাদের রক্ষা কর।’ বিড় বিড় করে বললেন তিনি।

    ‘ঘরে কে যেন এসেছে!’ ডা পিল্লাই আতঙ্কে বলে উঠলেন।

    তাঁর মুখের কথা শেষ হবার আগেই, তাঁরা যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন সেখান থেকে মাত্র পাঁচ হাত দূরে একটা অস্পষ্ট মানুষের মূর্তি আকার নিতে লাগল। শূন্যে সেটা ঝুলছে, কাঁধের একদিকে মাথা হেলে থাকায় মুখ দেখা যাচ্ছে না। তারপরই ওটা দু-হাত দিয়ে নিজের মুখটা তুলে ধরল, সোজাসুজি তাকাল ঘরে যে দু-জন পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের দিকে। ওটার দু-চোখ আর জিভ যেন ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে, গলার চারপাশে একটা গোল লাল দাগ। তারপরই মেঝের ওপর ধপ করে ভারী কিছু পড়ার শব্দ হল আর সঙ্গেসঙ্গে সব কিছু মিলিয়ে গেল, শুধু মেঝের ওপর পড়ে রইল একগাছা নতুন দড়ি।

    বেশ কিছুক্ষণ দু-জনের মুখে কোনো কথা ফুটল না। ডা পিল্লাইয়ের কপাল বেয়ে দর দর করে ঘামের স্রোত নামছিল আর ফাদার ডি’সুজার অস্ফুট কণ্ঠে প্রার্থনা করছিলেন। অসীম প্রচেষ্টায় ডা পিল্লাই মনের সাহস ফিরিয়ে আনলেন। দড়িটার দিকে আঙুল দেখিয়ে তিনি বললেন, ‘ফাঁসির পর থেকে ওটা পাওয়া যাচ্ছিল না।’

    টেলিফোনটা আবার মৃদু বেজে উঠল। এবার আর ফাদার ডি’সুজাকে কিছু বলতে হল না, তিনি তাড়াতাড়ি রিসিভারটা কানে তুলে কিছুক্ষণ কী যেন শুনলেন।

    ‘ম্যাথুস’। অনেকটা সংযত কণ্ঠে তিনি বললেন, ‘ভগবানের কাছে তোমার অপরাধের জন্য সত্যিই কি তুমি অনুতপ্ত?’

    ডা পিল্লাই শুনতে না পেলেও বুঝতে পারলেন ওপাশ থেকে কিছু একটা জবাব এল।

    ফাদার ডি’সুজা রিসিভারটা কানে লাগিয়েই দু-হাঁটু মুড়ে, দু-চোখ মুদে প্রার্থনার ভঙ্গিতে স্তব করতে লাগলেন, তারপর বলে উঠলেন, ‘ঈশ্বর তোমার আত্মার মঙ্গল করুন।’

    তিনি উঠে দাঁড়ালেন। ‘আর কিছু শুনতে পাচ্ছি না।’ বলে রিসিভারটা নামিয়ে রাখলেন।

    ডা পিল্লাই ঘণ্টা বাজিয়ে যোশেফকে ডাকলেন। সে ঘরে ঢুকতেই তিনি বললেন, ‘ওই দড়িটা নিয়ে যাও…ওটা পুড়িয়ে ফেল যোশেফ।’

    মুহূর্তের নিস্তব্ধতা!

    ‘এ ঘরে তো কোনো দড়ি নেই সাহেব।’ যোশেফ জবাব দিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন
    Next Article উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }