Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প360 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রতিহিংসা

    কলকাতার দক্ষিণ উপকণ্ঠে, বেশ ক-বছর আগেও যেখানে হোগলা বন ছিল, এখন সেখানে মাটি ভরাট করে এক বসতি গড়ে উঠেছে। সুন্দর ছিমছাম বাড়িঘর, পিচের রাস্তা। বিশেষ করে উঁচু মহলের সরকারি কর্মচারীরাই অবসর নেবার মুখে কিংবা অবসর নেবার পর এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছেন। সরকার থেকেই সমস্ত জায়গাটা কিনে আধুনিক ছকে উন্নয়ন ও বিলিব্যবস্থা করা হয়েছে। জায়গাটার নামকরণ হয়েছে ‘নন্দন কানন’। প্রত্যেক বাড়ির সামনে বাগান, রংবেরঙের ফুল ফুটে আছে, বাড়িগুলিও হাল ফ্যাশনের; একটা ছোটো পার্কও আছে। এ ছাড়া আছে একটা ক্লাব, সন্ধ্যাবেলা প্রৌঢ় ও বৃদ্ধদের উপস্থিতিতে সেটা সরগরম হয়ে ওঠে। তাস-পাশার আসর তো বসেই, তা ছাড়া বসে জমাটি আড্ডা। সাহিত্য, বিজ্ঞান, রাজনীতি নিয়ে যেমন আলোচনা হয়, তেমনি এককালের জবরদস্ত সব অফিসাররা মাঝে মাঝে তাঁদের বৈচিত্র্যময় জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কাহিনিও বর্ণনা করেন।

    পৌষের শেষ, ঠান্ডা বেশ চেপে বসেছে, কনকনে হাওয়ায় হাড় যেন কাঁপিয়ে দেয়। ক্লাবঘরে আজ তেমন লোকজন নেই, বৃদ্ধরা অনেকেই বোধ হয় শীতে কাবু হয়ে পড়েছেন। যে ক-জন ছিলেন, তাঁরাও উঠি উঠি করছেন। এমন সময় কর্নেল চ্যাটার্জি বললেন, ‘আচ্ছা সুপারন্যাচারাল কথাটার কি কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? বুদ্ধি দিয়ে যা আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি না, কিন্তু অবচেতন মনে যাকে আমরা মেনে নিয়েছি একটু ভয়ের সঙ্গেই, তাকেই তো অতিপ্রাকৃত বলা হয়। আমার তো মনে হয়, সুপারন্যাচারাল কথাটাই হচ্ছে অস্পষ্ট, ভেগ।’

    মি বোস একজন রিটায়ার্ড পুলিশ অফিসার। তিনি প্রায় নিভে যাওয়া চুরুটে দু-বার টান মেরে বললেন, ‘সুপারন্যাচারাল বলে কিছু আছে কী না সে-তর্কের মধ্যে না গিয়ে আমি আমার নিজের জীবনের একটা অভিজ্ঞতা বলতে পারি। যার ব্যাখ্যা আজও আমার কাছে অজ্ঞাত।’

    একটা রহস্যঘন কাহিনির আশায় সবাই মি বোসকে ঘিরে বসেন। মি বোস চুরুটে কয়েকবার ঘন ঘন টান মেরে বলতে শুরু করেন, ‘তখন আমি বাংলা-বিহারের সীমান্ত অঞ্চলে পোস্টেড। শহরটি ছোটো হলেও সুন্দর, চমৎকার জলবায়ু, হৃত স্বাস্থ্য উদ্ধারের পক্ষে আদর্শ জায়গা। সবচেয়ে আমার যা ভালো লেগেছিল, তা হল শালবন। মাইলের পর মাইল জুড়ে আছে সরকারের সংরক্ষিত এই শালবন। শহরের সীমানা পেরিয়ে মাইল দুয়েক গেলে সাঁওতাল পল্লি। এই অঞ্চলটায় সাঁওতালদের বাদ দিলে সাধারণ বসতি নেই বললেই চলে। আমি যখনকার কথা বলছি, তখন সাঁওতাল পল্লির ধারেকাছে মাত্র দুই ঘর ভদ্র পরিবার বাস করতেন। সাঁওতাল পল্লি থেকে মাইল দুয়েক দূরে ছিল লোধা পল্লি। এরাও আদিবাসী, তবে সাঁওতালদের মতো এরা চাষবাসের শান্ত জীবনে অভ্যস্ত নয়। সাঁওতালদের সঙ্গে এদের ছিল দারুণ রেষারেষি, ফলে মাঝে মাঝে খুন-জখম ঘটত, আর তা নিয়ে আমাকে কম ছুটোছুটি করতে হত না।

    এই সাঁওতাল পল্লির অনতিদূরে হঠাৎ এক আগন্তুকের আবির্ভাব আমাকে ভাবিয়ে তুলল। ভদ্রলোক লম্বায় প্রায় ছ-ফুট, বলিষ্ঠ পেশিবহুল চেহারা আর তার গায়ের রং তামাটে, ফর্সা লোক রোদে পুড়লে যেমন হয় অনেকটা তাই। ভদ্রলোক একটা পুরোনো বাড়ি কিনে সেটাকে সম্পূর্ণ সংস্কার করে নিয়েছিলেন। একটা সাঁওতাল ছেলে তিনি সবসময়ের জন্য রেখে দিয়েছিলেন। সে তার সব কাজকর্ম মায় রান্নাবান্নাও করত। ভদ্রলোক বড়ো একটা বাড়ি থেকে বেরোতেন না, কিন্তু প্রতিদিন ভোরবেলা একটা বন্দুক নিয়ে মাঠের মধ্যে নেমে পড়তেন আর হাতের নিশানা ঠিক করতেন।

    ভোরের আকাশে উড়ে যাওয়া পাখি শিকারে তাঁর লক্ষ্য ছিল অব্যর্থ। সাঁওতালরা তাঁর অনাহূত উপস্থিতি পছন্দ করল না, বিশেষ করে তার বন্দুক থেকে গুলি ছোড়াটা তারা মোটেই সুনজরে দেখল না। ফলে আমার কাছে এসে তারা আগন্তুকের নামে নানান কথা বলতে লাগল। তাদের ধারণা লোকটা ডাকু। সভ্যজগতের বাইরে, মনুষ্যবিরল এ এলাকায় এই অপরিচিত আগন্তুকের আবির্ভাব ও স্থায়ীভাবে বসবাস আমার কাছেও কেমন যেন সন্দেহজনক মনে হল। তাই আমি ঠিক করলাম, ভদ্রলোকের সঙ্গে আলাপ করে তাঁর পরিচয় এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অবহিত হতে হবে। ইতিমধ্যে একটা চুরির ব্যাপারে আমাকে সাঁওতাল পল্লিতে তদন্ত করতে যেতে হল। ফেরার পথে আমি ভদ্রলোকের বাড়ি গেলাম। তিনি তখন তার বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে টুয়েলভ বোরের বন্দুকের নলটা পরিষ্কার করছিলেন। আমার পরিচয় দিতেই তিনি আমাকে সাদরে অর্ভ্যথনা জানালেন। কথায় কথায় জানলাম ভদ্রলোকের নাম নাসিরুদ্দিন বেগ, আদিনিবাস উত্তরপ্রদেশে। বহুদিন দেশছাড়া। সমুদ্রে ভেলা ভাসতে ভাসতে যেমন একসময় তীরে এসে ঠেকে যায়, তেমনি তাঁর জীবনতরিও সংসার-দরিয়ায় ভাসতে ভাসতে এখানে এসে ঠেকেছে। এই বন্য পরিবেশ তাঁর খুব ভালো লেগেছে, তাই বাকি জীবনটা এখানেই কাটিয়ে দেবেন স্থির করেছেন। ভদ্রলোক খুব ভালো শিকারি। বন্দুক ছাড়াও একটা রিভলভার আছে। আমি কর্তব্যের খাতিরে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেখতে চাইলাম। তিনি একটুও দ্বিধা না করে উঠে গিয়ে ঘর থেকে লাইসেন্স এনে দেখালেন। আমারও শিকারের নেশা ছিল, তাই ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলতে বেশ ভালো লাগল। কথায় কথায় ভদ্রলোক বললেন যে, তিনি জীবনে বহুবার হিংস্র জন্তুর মুখোমুখি হয়েছেন। সামনাসামনি দাঁড়িয়ে বন্যপশুর শিকার করার মধ্যেই তিনি আনন্দ পান, গাছে মাচা বেঁধে একটা শিশুও তো শিকার করতে পারে। তাঁর কথায় আমি চমৎকৃত হলাম। বাঘ, চিতা, নেকড়ে ছাড়াও একবার আসামের গভীর জঙ্গলে একটা প্রকাণ্ড বুনো হাতি তিনি মাটির ওপর দাঁড়িয়েই শিকার করেছিলেন। যেসব জন্তু তিনি শিকার করেছেন, তাদের ছাল ছাড়িয়ে শুকিয়ে একটা দেওয়ালে টাঙিয়ে রেখেছেন। আমাকে তিনি সেই ঘরে নিয়ে গেলেন।

    আমি ঘরে ঢুকে থ বনে গেলাম। দেওয়াল ভরতি সব বাঘ ভালুকের চামড়া ঝুলছে, যেকোনো শিকারির পক্ষে শ্লাঘার বস্তু। ঘুরেফিরে দেখতে দেখতে এক জায়গায় এসে আমি থমকে দাঁড়ালাম। দেওয়ালে একটা আংটার সঙ্গে একটা লোহার শেকল ঝুলছে, শেকলটার প্রান্ত একটা শক্ত হাতকড়ার সঙ্গে আটকানো, আর সেই হাতকড়া এঁটে বসেছে একটা হাতের মণিবন্ধের ওপর। মানুষের হাত, মনে হয় যেন একটা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীর থেকে কনুইটা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। হাতটা বেশ পুষ্ট, শক্তিশালী মানুষের হাত; নখগুলি হলদে হয়ে গেছে। আমি আঙুল দিয়ে হাতটা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, এটা কী?

    মি বেগ হাতটার দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে বললেন, এটা আমার পরম শত্রু।

    তারপর তিনি আমাকে এক চমকপ্রদ কাহিনি শোনালেন। মি বেগ তখন মধ্যপ্রদেশের গভীর অরণ্যের কিছু অংশ ইজারা নিয়ে কাঠের ব্যাবসা করতেন, ভারতবর্ষের নানান জায়গায় তাঁর কাঠ চালান যেত। ওই বনের ধারে এক আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাস ছিল। তারা একসময় ছিল যোদ্ধার জাত। এমনিতে তারা ছিল শান্ত, অতিথিবৎসল, কিন্তু কোনো কারণে উত্তেজিত হলে তারা হিংস্র হয়ে উঠত। আর তাদের প্রধান দোষ ছিল আদিম জিঘাংসা বৃত্তি। এই প্রতিহিংসা লিপ্সা এক পুরুষের মধ্যেই আবদ্ধ থাকত না, পুরুষানুক্রমে চলে আসত। কোনো পরিবারের কেউ যদি অন্য কারো দ্বারা অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হত, তবে সেই পুরুষে তার প্রতিশোধ সম্ভব না হলে, তাদের দ্বিতীয়… এমনকী তৃতীয় পুরুষ পর্যন্ত তার জের চলত। ব্যাপারটা বুঝে দেখুন, হয়তো এক পরিবারের দ্বিতীয় পুরুষের এক ব্যক্তি নিরীহ, শান্ত, কারো ক্ষতি সে কোনোদিন করেনি, কিন্তু তার পূর্বপুরুষের কৃত অপরাধের জন্যে তাকে জিঘাংসার বলি হতে হত। মি বেগ বনের গাছ কাটার কাজে সেই আদিবাসীদের অনেককে নিযুক্ত করেছিলেন। এই কাজের ব্যাপারে এবং টাকাপয়সার হিসেব নিয়ে ওদের একজন সর্দার গোছের লোকের সঙ্গে তার প্রচণ্ড মতবিরোধ ঘটে। ওই সর্দারের প্ররোচনায় অনেকেই তাঁর সঙ্গে অসহযোগিতা করতে শুরু করে ফলে তাঁকে বাইরে থেকে কিছু লোক আনতে হয়। এর ফলে ওরা আরও খেপে যায় এবং সেই সর্দার প্রকাশ্যেই তাঁকে একদিন আক্রমণ করে। লোকটা ছিল দুর্দান্ত প্রকৃতির আর শক্তিও ছিল তার প্রচণ্ড, কিন্তু মি বেগও ছিলেন বলিষ্ঠ পুরুষ। তা ছাড়া তিনি ছিলেন ভালো কুস্তিগীর। দু-জনের মধ্যে দারুণ লড়াই হয় এবং শেষ পর্যন্ত মি বেগ সেই সর্দারকে পরাস্ত করেন।

    এই ঘটনার পর সে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। প্রতিহিংসার মানসে সে একদিন গভীর রাত্রে মি বেগের তাঁবুতে একটা ছোরা হাতে ঢোকে, মি বেগকে হত্যা করাই ছিল উদ্দেশ্য। অনেক সময় মানুষের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে আশু-বিপদের সংকেত দেয়। মি বেগেরও সেই রাত্রে কেমন যেন একটা অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল, একটা অজানা বিপদের আশঙ্কা তিনি যেন মনপ্রাণ দিয়ে অনুভব করছিলেন।

    চোখে ঘুম আসছিল না, বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতে করতে হঠাৎ একটা মৃদু শব্দে সচকিত হয়ে উঠলেন। প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো কোনো বন্যপশু তাঁবুর মধ্যে ঢুকছে। পরক্ষণেই তাঁবুর পর্দাটা আস্তে আস্তে সরে গেল আর একফালি চাঁদের আলোয় তিনি দেখলেন মূর্তিমান বিভীষিকার মতো সেই সর্দারকে, চোখে-মুখে তার হিংস্রভাব, হাতে শানিত ছোরা। তিনি উঠে বসতেই সে বাঘের মতো তার ওপর লাফিয়ে পড়ল। বিদ্যুৎগতিতে তিনি পাশ কাটাবার চেষ্টা করলেন, ছুরিটার তীক্ষ্ন ফলা তাঁর কাঁধ ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। একটা অসহ্য যন্ত্রণা তিনি অনুভব করলেন, পিঠ বেয়ে রক্তের ধারা নামতে লাগল। সর্দার শিকার হাতছাড়া হয় দেখে একটা চাপা হুংকার দিয়ে আবার তেড়ে এল। মি বেগ তাঁর পিস্তলটা বালিশের তলা থেকে বের করবার সময় পেলেন না। মাটিতে গাছ কাটার একটা ভারী কুঠার পড়ে ছিল। মুহূর্তে সেটা তুলে নিয়ে দু-হাতে সজোরে তিনি ছোরা সমেত হাতটা লক্ষ করে কুঠার চালালেন। পরক্ষণেই কনুই থেকে অবশিষ্ট হাতের অংশটুকু শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাঁবুর গায়ে ঠিকরে মাটিতে আছড়ে পড়ল আর বিকট এক আর্তনাদ করে সেই সর্দার তাঁবু থেকে ছিটকে বেরিয়ে গেল। সেই সর্দারকে আর কোনোদিন ওই অঞ্চলে দেখা যায়নি, সুতরাং সে জীবিত না মৃত তাও মি বেগ জানতে পারেননি। পরদিন অবশ্য তিনি শহরে গিয়ে পুলিশের কাছে সমস্ত ঘটনা জানিয়েছিলেন, কিন্তু সেই সর্দারের আর সন্ধান না পাওয়া যাওয়ায় ব্যাপারটা ধামাচাপা পড়ে। মি বেগ সেই কাটা হাতটা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এবং পরে রোদে শুকিয়ে অক্ষত অবস্থায় রেখে দিয়েছেন।

    হাতটাকে হাতকড়া লাগিয়ে শেকলের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন কেন, জিজ্ঞেস করায় মি বেগ বললেন যে, হাতটা নাকি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে, তাই ওই ব্যবস্থা করতে হয়েছে। আমি ওই উত্তর শুনে ভদ্রলোকের মাথা খারাপ আছে ভাবলাম। তিনি বোধ হয় আমার মনের ভাব অনুমান করলেন, তাই মৃদু হেসে বললেন, ‘আপনি হয়তো আমাকে পাগল ভাবছেন, কিন্তু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, আপনি যেন কখনো আমার অবস্থায় না পড়েন। এই হাতটা আমাকে যে কী যন্ত্রণা দিচ্ছে, তা যদি জানতেন!’

    এর পর প্রায় একমাস আর ওমুখো হইনি। হঠাৎ একদিন সকালে কয়েকজন সাঁওতালের উত্তেজিত কণ্ঠস্বরে আমার ঘুম ভেঙে গেল। বাইরে আসতেই তারা বলল যে, গতরাত্রে ডাকু সাহেব খুন হয়েছে। আমি কালবিলম্ব না করে ঘটনাস্থল অভিমুখে রওনা হলাম। মি বেগের বাড়ি পৌঁছে দেখলাম, সেখানে সাঁওতালদের ভিড় জমে গেছে। শোবার ঘরে মেঝের ওপর মি বেগের মৃতদেহটা চিত হয়ে পড়ে ছিল। তাঁর পোশাক ছিন্নভিন্ন। চারদিকের বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখে মনে হল, মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত ভদ্রলোক আত্মরক্ষার জন্য প্রাণপণে লড়ে গেছেন।

    গলা টিপে শ্বাস রোধ করে মি বেগকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর মুখটা কালচে হয়ে ফুলে গেছে। দাঁত দিয়ে প্রচণ্ড শক্তিতে তিনি যেন কিছু একটা কামড়ে ধরে আছেন। তাঁর রক্তাক্ত গলায় ও ঘাড়ে পাঁচটা গর্ত, যেন কেউ পাঁচটা লোহার তীক্ষ্ন শলাকা দিয়ে সজোরে তাঁর গলা টিপে ধরেছিল। ইতিমধ্যে সরকারি ডাক্তার এসে পড়লেন। মৃতদেহ পরীক্ষা করে তিনি যেন অনেকটা আপনমনেই বললেন, ‘ভূতুড়ে কাণ্ড দেখছি, মনে হয় যেন কঙ্কালের মাংসহীন পাঁচটা আঙুলের হাড় গলা টিপে ধরেছিল।’ কথাটা স্বগতোক্তি হলেও আমার কানে গেল আর আমার মেরুদণ্ড দিয়ে যেন একটা শিহরন বয়ে গেল। আমি চট করে প্রদর্শনী ঘরটায় ঢুকে যেখানে কাটা হাতটা ঝুলছিল সেদিকে তাকালাম। আশ্চর্য! হাতটা নেই, শেকলটা ছেঁড়া আর হাতকড়াটা দু-টুকরো হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। আমি শোবার ঘরে ফিরে এসে মৃতদেহের ওপর ঝুঁকে পড়ে দাঁতের মধ্যে আটকানো জিনিসটা কী বুঝতে চেষ্টা করলাম। ভালো করে লক্ষ করে দেখলাম, সেটা ওই হাতেরই একটা আঙুলের অংশ। মি বেগের শক্ত দাঁতের প্রচণ্ড দংশনে ওই অংশটুকু আঙুল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অনুসন্ধান করে আমি চুরি-ডাকাতির কোনো প্রমাণ পেলাম না। ঘরের কোনো দরজা-জানলাই জোর করে খোলা কিংবা ভাঙার চিহ্ন নেই। টাকাপয়সাও কিছু খোয়া যায়নি। যে ছেলেটি মি বেগের কাছে থাকত তার জবানবন্দিতে জানা গেল যে, কিছুদিন ধরে তার মনিব কেমন যেন হয়ে গিয়েছিলেন, সবসময় একটা ভয় ভয় ভাব, আর কোনো শব্দ শুনলেই চমকে উঠতেন। রিভলভারটা সবসময় হাতের কাছে থাকত। মাঝে মাঝে খেপে যেতেন আর শঙ্কর মাছের চাবুকটা দিয়ে দেয়ালে ঝোলানো হাতটার ওপর পাগলের মতো মেরেই চলতেন।

    ছেলেটির মুখে আরও শোনা গেল যে, সাহেব অনেক রাত্রে শুতে যেতেন, আর শোবার ঘরের দরজা-জানলা সব ভালো করে বন্ধ করে দিতেন। শোবার সময় বন্দুক, পিস্তল কাছে নিয়ে শুতেন। অনেকদিন রাত্রে সে সাহেবকে জোরে জোরে কথা বলতে শুনেছে, যেন কারো সঙ্গে ঝগড়া করছেন। গতরাত্রে কিন্তু সে সাহেবের কোনো সাড়া-শব্দ পায়নি। আজ ভোরবেলা সাহেব দরজা খুলছে না দেখে তার কী রকম সন্দেহ হয়। অন্ধকার থাকতেই সাহেবের ওঠা অভ্যেস, তাই হয়তো সাহেবের অসুখবিসুখ করেছে ভেবে সে দরজা ধাক্কা দিতে থাকে, কিন্তু তাতেও কোনো ফল না হওয়ায় বিপদের আশঙ্কা করে দরজা ভেঙে ফেলে।

    অনেক অনুসন্ধান করেও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেল না। ব্যাপারটা আমাকে ভাবিয়ে তুলল। খুনের মাস কয়েক পর একটা দুঃস্বপ্ন দেখে আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমার মনে হল যেন সেই বীভৎস হাতটা আমার ঘরের চার দেয়াল বেয়ে বিছের মতো তরতর করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই রাত্রে তিন তিনবার আমি একই স্বপ্ন দেখলাম, আর তিনবারই আমার ঘুম ভেঙে গেল। পরের দিন সত্যিই সেই হাতটা আমি দেখতে পেলাম। মি বেগকে যেখানে কবর দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেই মাটির ওপরেই একজন রাখাল হাতটা কুড়িয়ে পায়। হাতটার একটা আঙুলের ডগায় কিছু অংশ নেই, যেন কেউ কেটে নিয়েছে। এই হচ্ছে আমার কাহিনি, এটাকে আপনারা সুপারন্যাচারাল বলবেন কি না আমি জানি না।’— মি বোস থামলেন। তারপর তাঁর নিভে যাওয়া চুরুটটায় আবার অগ্নিসংযোগ করতে লাগলেন।

    কর্নেল চ্যাটার্জি বললেন, ‘আপনার নিজস্ব অভিমত মিস্টার বোস? বিশেষ করে একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে নিশ্চয় আপনার একটা বাস্তব মত আছে।’

    মি বোস চুরুটে কয়েকবার জোরে জোরে টান দিয়ে উৎসুক শ্রোতাদের মুখের ওপর তাঁর দৃষ্টিটা বুলিয়ে নিলেন। তারপর বললেন, আমার ধারণা ওই সর্দার মরেনি, যেমন করেই হোক সে পালিয়েছিল আর বেঁচেও ছিল। আপনাদের আগেই বলেছি, ওদের সম্প্রদায় ছিল ভীষণ প্রতিহিংসাপরায়ণ, এমনকী বংশপরম্পরায় শত্রুতার জের চলত। খোঁজ করে করে হয়তো সেই সর্দার মি বেগের সন্ধান পেয়েছিল এবং একটা হাত দিয়েই তাকে কাবু করে গলা টিপে হত্যা করেছিল। অবশ্য কী করে সেটা সম্ভব, তা আমি বলতে পারব না।’

    ‘আর মিস্টার বেগের দাঁতের ফাঁকে সেই কাটা হাতের আঙুলের অংশের কী ব্যাখ্যা করেছিলেন?’ অবসরপ্রাপ্ত মি ভাদুড়ি প্রশ্ন করলেন।

    মি বোস গম্ভীর মুখে জবাব দিলেন, ‘তার ব্যাখ্যা আজও আমি করতে পারিনি।’

    বিদেশি কাহিনির ছায়ায়

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন
    Next Article উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }