Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প360 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হাত

    একটা থ্রিলারে ডুবে ছিল সঙ্কর্ষণ সমাদ্দার। বইটার নাম ‘দ্য স্করপিও লেটার্স’, লেখক ভিক্টর ক্যানিং। সঙ্কর্ষণের অত্যন্ত প্রিয় লেখক। এডগার ওয়ালেসের পর থ্রিলারের এত ভালো লেখক খুব কম, সঙ্কর্ষণের তাই ধারণা। বাস্তবসম্মত কাহিনি, আতিশয্য নেই, অথচ দারুণ উত্তেজনায় ভরা।

    গোয়েন্দা হিসাবে সঙ্কর্ষণের এখন খুব নামডাক, ও অবিশ্যি নিজেকে গোয়েন্দা বলে না, বলে ‘ইনভেস্টিগেটর’। বেশ কয়েকটা কেসে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করায় লালবাজারে ওর হিতৈষীর অভাব নেই, সেটা ওর পেশার পক্ষে একটা প্লাস পয়েন্ট।

    বিকেল প্রায় চারটে। সঙ্কর্ষণের সহকারিণী রেবা চ্যাটার্জি কয়েকদিনের জন্য কলকাতার বাইরে গেছে। যে ছেলেটি বেয়ারা-কাম-পিয়োন, তাকে সঙ্কর্ষণ একটা কাজে পাঠিয়েছে। হাতে কোনো কেস নেই, অখণ্ড অবসর। বইয়ের পাতায় এতই তন্ময় হয়ে পড়েছিল যে, সুইং ডোর ঠেলে ভদ্রলোকের ঘরে ঢোকার ব্যাপারটা ও লক্ষই করেনি। চমক ভাঙল ভদ্রলোকের গলা খাঁকারিতে। তাড়াতাড়ি বইটা বন্ধ করে ও চোখ তুলে তাকাল।

    দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় ছ-ফুট লম্বা এক ভদ্রলোক। বয়স হয়েছে, মাথার পাকা চুল ব্যাকব্রাশ করা, থুতনির কাছে মাপে কাটা খানিকটা দাড়ি। সযত্নে ছাঁটা। বলিষ্ঠ চেহারা, মুখে আভিজাত্যের ছাপ।

    দু-জনেই দু-জনের দিকে মুহূর্তকাল নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল, বোধ হয় পরস্পরকে যাচাই করতে চাইল। তারপর ভদ্রলোক মৃদু হেসে দু-হাত কপালে ঠেকিয়ে বললেন, নমস্কার, আপনিই নিশ্চয়ই সঙ্কর্ষণ সমাদ্দার?

    ‘হ্যাঁ,’ সঙ্কর্ষণও হাসিমুখে জবাব দিল, ‘অধমের ওটাই পিতৃদত্ত নাম, আপনি বসুন।’

    ভদ্রলোক একটা চেয়ার টেনে বসলেন, তারপর সপ্রশংস কণ্ঠে বললেন, ‘সুন্দর স্বাস্থ্য আপনার, ম্যানলি।’

    ‘আমার বয়সে আপনারও দারুণ স্বাস্থ্য ছিল,’ সঙ্কর্ষণ মৃদু হেসে জবাব দিল, ‘তার জন্য ডিডাকশনের প্রয়োজন হয় না।’

    ‘তা ছিল,’ ভদ্রলোক যেন একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন, ‘আই হ্যাড দ্য স্ট্রেংথ অফ অ্যান অক্স, জোয়ান বয়সে ষাঁড়ের শিং চেপে ধরে ঠেলে নিয়ে যেতাম।’ তারপরই আচমকা প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি ভূতে বিশ্বাস করেন?’

    ‘ভূত!’ সঙ্কর্ষণ অবাক না হয়ে পারল না।

    ‘হ্যাঁ,’ ভদ্রলোক এবার গম্ভীর মুখে বললেন, ‘গোয়েন্দা হিসাবে আপনার খ্যাতি আমার কানে এসেছে, কিন্তু আমি সে-ব্যাপারে আপনার সঙ্গে পরামর্শ করতে আসিনি। আমি এসেছি ভূতের ব্যাপারে কনসাল্ট করতে।’

    ‘যারা ভূত তাড়ায় তাদের কাছেই আপনার যাওয়া উচিত ছিল,’ সঙ্কর্ষণ একটু কৌতূক করেই বলল, ‘আমি তো ওঝা নই।’

    ‘ওসব ওঝা-টোঝায় আমার বিশ্বাস নেই,’ ভদ্রলোক মুখ বাঁকালেন, ‘তা ছাড়া সত্যিকার ভালো ওঝা কোথায় খুঁজে বেড়াব! তার চাইতে আপনি বরং গোড়া থেকে আমার কাহিনি শুনুন, তারপর মতামত দেবেন। আমার মনে হয় ওঝার চাইতে এখানে মগজের কাজটাই বেশি দরকার এবং আপনার যে তা আছে সে-বিষয়ে নিঃসন্দেহ হয়েই আমি এসেছি।’

    ‘বেশ তবে শুরু করুন,’ সঙ্কর্ষণ একটা সিগারেট ধরিয়ে প্যাকেটটা এগিয়ে দিল।

    ভদ্রলোক একটা পাইপ বার করে বললেন, ‘সিগারেট আমার চলে না, আই হোপ ইউ হ্যাভ নো অবজেকশন…’

    ‘নান,’ সঙ্কর্ষণ জবাব দিল, ‘আমিও পাইপ ধরাব ভাবছি, ওটা একটা পারসোনালিটি আনে।’

    ভদ্রলোক পাইপ ধরিয়ে কয়েকবার টান দিলেন, একটা কড়া তামাকের গন্ধে ভরে গেল ঘর। ভদ্রলোক শুরু করলেন

    ‘আমার নাম বীরেন্দ্রচন্দ্র সিনহা, পেশায় আমি সার্জন, বিলেত থেকে এম এস পাশ করেছিলাম। কুলটিতে এক নামি ফার্ম বিলেতেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, ভালো অফার দিয়েছিল, চিফ মেডিক্যাল অফিসারের পোস্ট। আমি আর দ্বিতীয় চিন্তা করিনি। তিন বছর হল আমি রিটায়ার করে বেহালায় একটা বাড়ি বানিয়ে আছি। বিয়ে-থা করিনি, একা মানুষ। ভালোই আছি… মানে ছিলাম,’ ভদ্রলোক মৃদু হাসলেন। পাইপটা নিভে গিয়েছিল আবার ধরিয়ে বার কয়েক টান দিলেন।

    ‘হ্যাঁ, যা বলছিলাম, ভালোই ছিলাম, নির্ঝঞ্ঝাট জীবন, কোনো বার্ডন নেই, ভগবানের কৃপায় টাকাপয়সাও উপার্জন করেছি যথেষ্ট। কিন্তু গত দু-সপ্তাহ রাত্তিরে আমার ঘুম নেই, ঘোরতর এক সমস্যায় পড়েছি, বলতে পারেন ভূতুড়ে সমস্যা।

    ‘তার আগে আরেকটি কাহিনি বলে নিই। প্রায় দশ বছর আগে আমাদের ফ্যাক্টরিতে একজন শ্রমিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিল। লোকটি জাতে ছিল একজন আদিবাসী। বাঁ-হাতটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। আমার ভয় হল গ্যাংরিন হয়ে যাবে, কনুই থেকে নীচের বাকি অংশটা কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।

    ‘লোকটি কিন্তু কিছুতেই হাত কেটে বাদ দেবার ব্যাপারে রাজি ছিল না, বলেছিল মৃত্যুর পর ওর তবে নরকে ঠাঁই হবে, শরীরের কোনো অংশ বাদ থাকলে ভগবান তাকে গ্রহণ করেন না, ওদের ধর্মে নাকি তাই বলে।’ তাকে অনেক বোঝালাম হাতটা বাদ না দিলে সমস্ত শরীরে পচন ধরবে, বাঁচানো যাবে না। শেষ পর্যন্ত সে রাজি হল, তবে আমাকে বলল মৃত্যুর পর হাতটা সে আমার কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে যাবে, আমি যেন ওটা যত্ন করে রেখে দিই। কেমন বুঝছেন?’ পাইপে নতুন করে তামাক ভরতে ভরতে ডা সিনহা সঙ্কর্ষণের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

    ‘ভেরি ইন্টারেস্টিং।’ সংঙ্কর্ষণ মাথা দোলাল।

    ‘অপারেশনের পর কী খেয়াল হল হাতটাকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় একটা বড়ো কাচের জারের মধ্যে রেখে দিলাম। বোধ হয় ওটাকে স্মারকচিহ্ন হিসাবে রাখতে চেয়েছিলাম, কিংবা অবচেতন মনে লোকটির আর্জি অর্থাৎ আমি যেন ওটাকে যত্ন করে রেখে দিই, মৃত্যুর পর সে ওটাকে নিয়ে যাবে, এটা দাগ কেটেছিল। যে কারণেই হোক, যত্ন করে ওটা আমি রেখে দিয়েছিলাম।

    ‘এ ঘটনার বছর পাঁচেক পরে হঠাৎ একটা অগ্নিকাণ্ডে আমার নিজস্ব ল্যাবরেটরির ভীষণ ক্ষতি হয়, সেইসঙ্গে হাতটাও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমি অবিশ্যি ও নিয়ে আর মাথা ঘামাইনি। ওই আদিবাসীর কথা আমি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সে তার মুলুকে চলে গিয়েছিল, আর আসেনি। এদিকে রিটায়ার করার পর আমি বেহালায় ছোটোখাটো একটা বাড়ি বানিয়ে জমিয়ে বসেছি, মনের মতো একটা ল্যাবরেটরিও বানিয়েছি। একা মানুষ, প্রচুর অবসর, তাই এটা ওটা গবেষণা নিয়ে সময় কেটে যায়।

    ‘আজ থেকে পনেরো দিন আগে ঠিক রাত বারোটায় একটা শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমার শোবার ঘরের পাশেই ল্যাবরেটরি, দু-ঘরের মধ্যে যাতায়াতের দরজা আছে, রাত্তিরে ওটা খোলাই থাকে। শব্দটা আসছিল পাশের ঘর থেকেই। আমি নিঃশব্দে বিছানা থেকে নামলাম, আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলাম। ঘরে চাঁদের আলো ঢুকেছিল, সেই আলোয় আমি স্পষ্ট দেখলাম একটা ছায়ামূর্তি একটার পর একটা কাচের বয়ামের সামনে দাঁড়াচ্ছে, যেন কিছু খুঁজছে। প্রথমে আমার মনে হয়েছিল চোর। আমি চট করে শোবার ঘরের আলোটা জ্বালালাম। মূর্তি সঙ্গেসঙ্গে আমার দিকে ফিরে তাকাল। আমি চমকে উঠলাম। চোর নয়, সেই আদিবাসী— দশ বছর আগে যার বাঁ-হাতটা আমি কেটে বাদ দিয়েছিলাম। এতদিন পরেও আমার চিনতে ভুল হল না। সঙ্গেসঙ্গে মনে পড়ল লোকটি বলেছিল হাতটা যেন আমি যত্ন করে রেখে দিই, মৃত্যুর পর ও নিতে আসবে। আমার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। তবে কি ও মারা গেছে, আর হাতটা ফেরত নিতে এসেছে! কিন্তু ওটা তো অগ্নিকুণ্ডে পুড়ে গেছে! মূর্তিটা আমার দিকে ফিরে তাকিয়েছিল, ওর দু-চোখে যেন ফুটে উঠেছিল এক আকুল প্রার্থনা, ওর হাত ও ফেরত চায়। তারপরই সে মিলিয়ে গেল।

    ‘পরদিনও মাঝরাতে একটা শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। সেদিনও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল, শুধু একটা ব্যতিক্রম। আমি সেদিন বিছানা থেকেই সব কিছু লক্ষ করছিলাম। ল্যাবরেটরি প্রদক্ষিণ শেষ করে মূর্তিটা আমার শোবার ঘরে এল, আমার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে ডান হাতটা তুলে বাঁ-বাহু স্পর্শ করে যেন কিছু বলতে চাইল। ও কী বলতে চায় তা বুঝতে আমার কষ্ট হল না। ভূতের ভয় আমার নেই, ছোটোবেলা থেকেই ডানপিটে বলে আমার দুর্নাম ছিল, কিন্তু স্বীকার করতে লজ্জা নেই, সেই মুহূর্তে আমার সমস্ত শরীর হিম হয়ে গিয়েছিল।

    ‘কয়েকবার অমন ভঙ্গি করার পর হঠাৎ ভোজবাজির মতোই মিলিয়ে গেল সেই ভূতুড়ে মূর্তি। তারপর থেকে প্রতি রাতেই ওটার দেখা পাচ্ছি, নাছোড়বান্দার মতো আমার পেছনে লেগে আছে, হাতটা ওর ফেরত চাই-ই। প্রতি রাতে প্রথমেই ও এসে আমার ল্যাবরেটরিতে খোঁজ করে, বোধ হয় দেখতে চায় ওর হাতটা আমি এনে রেখেছি কি না, তারপর আমার শোবার ঘরে এসে বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে হাতটা কামনা করে। আমার রাতের ঘুম তো গেছেই, এখন একটা আতঙ্ক আমাকে পেয়ে বসেছে, হাতটা শেষ পর্যন্ত ফিরে না পেলে ও কী করবে!’

    ডা সিনহা চুপ করলেন। কয়েক মুহূর্ত একটা অখণ্ড নিস্তব্ধতা। সঙ্কর্ষণই একটা সিগারেট ধরিয়ে নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করল, তারপর বলল, ‘আপনার কাহিনি শুনে আমার দারুণ কৌতূহল হচ্ছে, আই অ্যাকসেপ্ট ইয়োর কেস। তবে প্রথমে আমি নিজের চোখে সমস্ত ব্যাপারটা দেখে নিঃসন্দেহ হতে চাই।’

    ‘বেশ তো,’ ডা সিনহা বললেন, ‘আপনি এক রাত আমার শোবার ঘরে থাকুন, নিজের চোখে সব দেখুন, তারপর যা করবার করবেন।’

    ‘সেই ভালো,’ সঙ্কর্ষণ সায় দিল, ‘আপনার ঠিকানাটা রেখে যান, আজ রাত দশটা নাগাদ আপনার ওখানে পৌঁছে যাব।’

    ‘ভেরি গুড।’ ডা সিনহা সোৎসাহে বলে উঠলেন, ‘অ্যান্ড ইউ ইউল ডাইন উইথ মি।’

    ‘না, না। তার দরকার নেই,’ সঙ্কর্ষণ বাধা দিয়ে বলল, আমি রাতের খাওয়া সেরেই যাব।’

    ‘প্লিজ মি সমাদ্দার, আমি আপনার চাইতে বয়সে অনেক বড়ো, আমার একটা অনুরোধ না হয় রাখলেনই।’

    ‘বেশ,’ সঙ্কর্ষণ হাসল, ‘তবে ভূরিভোজের ব্যবস্থা করবেন না, তাহলে এমন ঘুমিয়ে পড়ব যে, ভূত মশাই এসে ফিরে যাবেন, আমার সঙ্গে আর মোলাকাত হবে না।’

    ‘ঠিক আছে, আপনার ইচ্ছেই পূর্ণ হবে।’ ডা সিনহা বিদায় নিলেন। যাবার সময় বলে গেলেন রাত ন-টায় তিনি ডিনার সারেন, বরাবরের অভ্যেস, সঙ্কর্ষণ যেন তার আগেই যায়।

    ডা সিনহা কথা রেখেছিলেন, খুব একটা আয়োজন করেননি। সরু চালের ভাত, মুগ ডাল, ফুলকপি ভাজা আর চিকেন রোস্ট, তার সঙ্গে স্যালাড। ব্যস, আর কিছু না।

    খেতে বসার আগে সঙ্কর্ষণ বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখেছিল, বিশেষ করে ল্যাবরেটরিটা। বড়ো বড়ো কাচের জারে রাসায়নিক নির্যাসের মধ্যে নানান জিনিস থরে থরে সাজানো, ছোটো বড়ো টেস্ট টিউব, রাসায়নিক গবেষণার জিনিসপত্তর, একটা প্রাইমাস স্টোভ এবং আরও অনেক কিছু সঙ্কর্ষণের চোখে পড়ল।

    খাওয়া-দাওয়ার পর দু-জনে এসে বসবার ঘরে বসল। অঘ্রানের মাঝামাঝি, বেশ আরামদায়ক ঠান্ডা। ডা সিনহার কাজের লোকটি দু-পেয়ালা ধূমায়িত ড্রিঙ্কিং চকোলেট দিয়ে গেল। সঙ্কর্ষণ একটা সিগারেট ধরাল আর ডা সিনহা পাইপ।

    ‘আপনার ভয় করছে না তো?’ ডা সিনহা রহস্য করে জিজ্ঞেস করলেন।

    ‘আগে থেকে না জানা থাকলে আপনি যা বলছেন তেমন ঘটনার মুখোমুখি হলে মনের অবস্থা কী হত বলতে পারি না, কিন্তু এখন অনেকটা মানসিক প্রস্তুতি হয়ে আছে, তাই কৌতূহলই হচ্ছে বেশি।’

    ‘আমি পাশের ঘরেই থাকব, ভয় পেলে ডাকতে লজ্জা করবেন না,’ ডা সিনহা একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে বললেন, ‘আসলে এমন অপার্থিব ঘটনায় ভয় না পাওয়াটাই অস্বাভাবিক।’

    ‘নিশ্চয়ই,’ সঙ্কর্ষণ হাসল, ‘নিজের প্রাণের ওপর আমার মায়া কারো চাইতে কম নয়।’

    শোবার ঘর থেকে বাইরে যাবার দরজায় ভেতর থেকে খিল এঁটে দিল সঙ্কর্ষণ।

    ল্যাবরেটরিটা সঙ্কর্ষণ আরও একবার ঘুরে ফিরে দেখল। ওটা থেকে বাইরে যাবার আরও একটা দরজা আছে, সেটা বন্ধই ছিল।

    এগারোটা পর্যন্ত সঙ্কর্ষণ একটা বই নিয়ে কাটাল, তারপর আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়ল। আলো জ্বালা থাকলে ভূত নাও দেখা দিতে পারে, তবে দুটো ঘরেই স্তিমিত নীলাভ আলো জ্বালিয়ে রাখল। দুটো ঘরের মাঝখানের দরজাটা অবিশ্যি খোলাই রইল।

    একটা তন্দার এসেছিল, হঠাৎ একটা শব্দে ওর আচ্ছন্ন ভাবটা কেটে গেল। হাতঘড়ির রেডিয়াম ডায়ালের দিকে তাকিয়ে দেখল ঠিক রাত বারোটা। বিছানায় উঠে বসে দরজা দিয়ে ও দৃষ্টিটা মেলে দিল পাশের ঘরে। স্তিমিত নীলাভ আলোয় স্পষ্ট ওর চোখে পড়ল একটা ছায়ামূর্তি ঘরের মধ্যে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে। ভালো করে লক্ষ করতেই ও বুঝতে পারল আসলে মূর্তিটা প্রত্যেকটি কাচের জারের সামনে দাঁড়িয়ে ঝুঁকে পড়ে কী যেন খুঁজছে। তারপরই ওটা এগিয়ে আসতে লাগল শোবার ঘরের দিকে। সঙ্কর্ষণ চট করে শুয়ে পড়ল। চোখ দুটো সামান্য খোলা রাখল।

    মূর্তিটা বিছানার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। গায়ের রং মিশকালো, খালি গা, হাঁটু পর্যন্ত কাপড়— এক নজরেই বোঝা যায় আদিবাসী। বাম বাহুর কনুই থেকে নীচের বাকি অংশটা নেই। মূর্তিটা ডান হাত তুলে বাম বাহু স্পর্শ করল, ঠোঁট দুটো থর থর করে কেঁপে উঠল, যেন কিছু বলতে চাইছে, তারপরই ভুরু কুঁচকে গেল, মুখে ফুটে উঠল একটা সন্দেহ আর অবিশ্বাসের ছাপ। ব্যস, পরমুহূর্তে ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে গেল সেই মূর্তি। সঙ্কর্ষণ এক লাফে বিছানা ছেড়ে মাটিতে নেমে পড়ল। ল্যাবরেটরি রুম থেকে বাইরে যাবার দরজাটা ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানোই আছে, অর্থাৎ কেউ বাইরে যায়নি, যেতে পারে না, তেমন বাইরে থেকে কেউ ভেতরে আসতেও পারে না। সঙ্কর্ষণ দুটো ঘরই আঁতিপাঁতি খুঁজল, কিন্তু মূর্তির আর দেখা পাওয়া গেল না।

    সঙ্কর্ষণ আবার শুয়ে পড়ল। আশ্চর্য। সত্যিই তবে ও ভূত দেখেছে! এর মধ্যে ডা সিনহার কোনো কারসাজি নেই তো! মনে তো হয় না, আর যদি হত তবে উদ্দেশ্যটা কী। কিন্তু ঠিক রাত বারোটার সময় ওটা দেখা দেয় কেন! তবে কি ঠিক ওই সময়ে সেই আদিবাসী মারা গিয়েছিল? নানান প্রশ্নের ভিড়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল তা নিজেই ও জানে না।

    ঘুম ভাঙল একটু বেলা করে। ঘর থেকে বেরিয়ে আসতেই ডা সিনহা উদবিগ্ন গলায় প্রশ্ন করলেন, ‘ঘুম ভালো হয়নি বুঝি? ভূতের দেখা পেয়েছিলেন?’

    সঙ্কর্ষণ হেসে জবাব দিল, ‘প্রথম প্রশ্নের উত্তর না, দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ।’

    ‘যাক,’ ডা সিনহার মুখে যেন একটা নিশ্চিন্ততার ছাপ ফুটে উঠল, ‘আমি যে আষাঢ়ে গল্প ফেঁদে আপনার সঙ্গে রসিকতা করিনি, তা নিশ্চয়ই এখন বিশ্বাস হয়েছে?’

    ‘অবিশ্বাস আমি করিনি, তবে মনে সংশয় ছিল,’ সঙ্কর্ষণ জবাব দিল, ‘আর মজার কথা কী জানেন, আপনার ওই ভূত বোধ হয় বুঝতে পেরেছিল আমি আসল লোক নই, তার চোখে-মুখে কেমন একটা সন্দেহের ভাব ফুটে উঠেছিল।’

    ‘স্ট্রেঞ্জ!’ ডা সিনহা বললেন, ‘ওই সম্ভাবনা আমার মাথায় আসেনি।’

    ‘আচ্ছা, আমি এবার বিদায় নেব,’ সঙ্কর্ষণ সহজ গলায় বলল।

    ‘সে কী!’ ডা সিনহা বিমূঢ় কণ্ঠে বললেন, ‘আপনি চলে যাবেন! আমি ভেবেছিলাম…’

    ‘যাচ্ছি, কিন্তু রাত্তিরে আবার আসব,’ ডা সিনহাকে আশ্বস্ত করে সঙ্কর্ষণ বলল, ‘ভয় নেই, আমি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করছি না।’

    ‘ওঃ! তাই বলুন,’ ডা সিনহার মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠল।

    ওখান থেকে বেরিয়ে সঙ্কর্ষণ যোগাযোগ করল ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের ইনস্পেকটর রজত বোসের সঙ্গে। দু-জনেই সমবয়সি, দু-জনের মধ্যে একটা নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। রজতকে ও সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। সব শুনে রজত বলল, ‘মাই গড। দেয়ার আর মেনি থিংস ইন দিস হেভেন অ্যান্ড আর্থ, মাই ডিয়ার সঙ্ক, দ্যান আর ড্রেমট অফ ইন আওয়ার ইমাজিনেশন।’

    ওর কথা বলার ভঙ্গিতে সঙ্কর্ষণ না হেসে পারল না, বলল, ‘এক্ষেত্রে ”ফিলজফি”-র বদলে ”ইমাজিনেশন” কথাটা সুন্দর ব্যবহার করেছ।’

    ‘তা আমি কি ভাবে সাহায্য করতে পারি?’ রজত প্রশ্ন করল।

    ‘গতকাল বিকেলে এসপ্লানেড ইস্টে আদিবাসীদের একটা মিছিল এসেছিল। টিভিতে সন্ধের নিউজে বলেছিল, ফেরার পথে একটা বাস দুর্ঘটনায় তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়েছে, দু-জনকে পরে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। আমি ওদের একজনের একটা হাত চাই।’

    ‘গুড হেভেনস।’ রজত বোস গাল চুলকাল, ‘ইমপসিবল।’

    ‘আহা, আমি তো জীবিত মানুষের হাত চাইছি না। অবিশ্যি তা চাইলেও যে তোমরা জোগাড় করে দিতে পার সে বিশ্বাস আমার আছে।’ সঙ্কর্ষণ একটু রসিকতা করল।

    ‘তুমি বুঝতে পারছ না,’ রজত বাধা দিয়ে বলল, ‘মর্গ থেকে ডেডবডির একটা হাত বার করে আনা অত সহজ নয়। পলিটিকাল ইসু হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

    ‘প্লিজ,’ সঙ্কর্ষণ বলল, ‘মাসিকে আর মেসোর কথা বোলো না, তোমরা কী পার আর না পার তার একটা মোটামুটি জ্ঞান আমার আছে।’

    রজত এবার হেসে ফেলল, বলল, ‘আচ্ছা দেখছি কী করা যায়, তুমি তো আর হাত না নিয়ে ছাড়বে না, ওই ভূতটার মতো।’

    দু-জনেই এবার একসঙ্গে হেসে উঠল।

    মৃত দু-জনেরই যে হাত কাটা গেছে সেটা আর রজত খোলসা করে বলল না।

    ঠিক সন্ধেবেলা একটা প্যাকেটে সঙ্কর্ষণের কাছে হাতটা পৌঁছে গেল। রাত সাড়ে দশটায় নিজের ফিয়েট গাড়িটা ড্রাইভ করে সঙ্কর্ষণ ডা সিনহার বাড়ি পৌঁছাল, আজ ও খেয়েই এসেছে।

    প্যাকেটের দিকে ডা সিনহার সপ্রশ্ন দৃষ্টি লক্ষ করে সঙ্কর্ষণ তাঁকে নিজের পরিকল্পনা বুঝিয়ে বলল। সব শোনার পর ভদ্রলোকের দু-চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল, বললেন, ‘কী আশ্চর্য, এই আইডিয়াটা একবারও আমার মাথায় আসেনি। আপনাকে প্রথম দিনই আমি বলেছিলাম, গোয়েন্দা হিসাবে আপনার সাহায্য আমার কাম্য নয়, আপনার মগজটাই আমার দরকার।’

    একটা বড়ো কাচের জারের মধ্যে হাতটা রাখা হল। ডা সিনহা সঙ্কর্ষণকে নিয়ে বসবার ঘরে এসে বসলেন। সঙ্কর্ষণের কোনো আপত্তিই তিনি শুনলেন না, কয়েকটা মাংসের স্যান্ডুইচ ওকে খেতেই হল, সেইসঙ্গে অবিশ্যি ছিল বিলিতি পানীয়।

    রাত এগারোটায় সঙ্কর্ষণ শোবার ঘরে আশ্রয় নিল। আজও মৃদু নীলাভ আলো একটা মায়াময় পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। দারুণ এক উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল সঙ্কর্ষণ।

    ঠিক বারোটা বাজার সঙ্গেসঙ্গেই আবির্ভাব ঘটল সেই মূর্তির। গতকালের মতো আজও ওটা কাচের আধারগুলো খুঁজে খুঁজে দেখছে। হাতটা কাচের যে জারে ছিল, তার সামনে এসে দাঁড়াল মূর্তিটা। নিশ্বাস বন্ধ করে পরের ঘটনার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল সঙ্কর্ষণ। এক মুহূর্ত কিংবা তারও কিছু কম সময় কেটে গেল, তারপরই একটা উল্লাসধ্বনি ভেসে এল সঙ্কর্ষণের কানে। পরমুহূর্তে মূর্তিটা সাগ্রহে জার থেকে হাতটা তুলে ধরল চোখের সামনে, কিন্তু তারপরই ঘটল এক আশ্চর্য ঘটনা। একটা ক্রুদ্ধ গর্জন করে মূর্তিটা ছুড়ে ফেলে দিল হাতটাকে, তারপরই যে কাচের জারে ওটা ছিল সেটাকে সশব্দে মাটিতে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলল। আরও কয়েকটা কাজের জিনিসপত্তর আছড়ে ভেঙে ওটা দ্রুত চলে এল শোবার ঘরে। ওই স্তিমিত আলোতেও সঙ্কর্ষণ লক্ষ করল ওর দু-চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে, মুখে ফুটে উঠেছে একটা ক্ষোভ আর নৈরাশ্যের ছাপ। মুহূর্তকাল সঙ্কর্ষণের দিকে তাকিয়ে ওটা ডান হাত ঘন ঘন নাড়িয়ে কী যেন বলতে চাইল। সঙ্কর্ষণ তো ভয়ে কাঁটা। তারপরই অদৃশ্য হল সেই মূর্তি।

    এদিকে ভাঙচুরের শব্দে ডা সিনহা বাইরে থেকে দরজা ধাক্কাচ্ছেন, ব্যাকুল কণ্ঠে বলছেন, ‘কী হল মি সমাদ্দার? আর ইউ অলরাইট?’

    সঙ্কর্ষণ তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিল। ল্যাবরেটরির অবস্থা দেখে ডা সিনহার ভিরমি খাবার জোগাড়। সঙ্কর্ষণ সমস্ত ঘটনা খুলে বলল।

    ‘মাই গড!’ ডা সিনহা বললেন, ‘ইউ হ্যাড এ ন্যারো এসকেপ। কিন্তু ওটা অমন করল কেন?’

    ‘আমাকে একটু ভাবতে দিন,’ সঙ্কর্ষণ বলল।

    ও গিয়ে একটা চেয়ারে বসল। একটা সম্ভাবনা ওর মনে উঁকি মারছে। ডা সিনহা আর কোনো প্রশ্ন না করে ল্যাবরেটরি পরিষ্কারের কাজে লেগে গেলেন।

    সকাল বেলা সঙ্কর্ষণ বিদায় নিল, বলে গেল রাত্তিরে আবার আসবে। হাতটা ও সঙ্গে নিয়ে গেল।

    বাড়ি ফিরে ও দাড়ি কামিয়ে স্নান সারল, তারপর ঘণ্টাখানেক ঘুমাল। গতরাতে ভালো ঘুম হয়নি। ঠিক দশটায় ও বেরোল, হাতটা নিতে ভুল হল না।

    রজত বোসের সঙ্গে ও আবার দেখা করল, ওর প্রথম প্রশ্নই হল, ‘কোন হাতটা তুমি পাঠিয়েছিলে?’

    ‘কেন, ডান হাত।’ রজত একটু বিস্মিত কণ্ঠে জবাব দিল।

    ‘আমিও তাই ভেবেছিলাম।’ সঙ্কর্ষণ বলল, ‘ওর ডান হাত কাটা হয়নি, বাঁ-হাত।’

    ‘সে-কথা তুমি আমাকে একবারও বলনি,’ রজত অনুযোগের কণ্ঠে বলল, বলেছিলে একটা হাত। আমাকে ওটা জোগাড় করতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে।’

    ‘আমারই দোষ,’ সঙ্কর্ষণ স্বীকার করল, ‘আমি হাতটা নিয়ে এসেছি।’ তারপর গতরাতের ঘটনা ও খুলে বলল।

    সঙ্কর্ষণের বক্তব্য শেষ হতেই রজত বলে উঠল, ‘তোমার যে ঘাড় মটকায়নি এটাই যথেষ্ট।’

    ‘তা ঠিক,’ সঙ্কর্ষণ জবাব দিল, ‘আমার দিকে যেভাবে তাকিয়েছিল, আমি ভেবেছিলাম আমার অন্তিম সময় এসে গেছে।’

    অনেক ঝোলাঝুলির পর রজত বাঁ-হাতটা পাঠাতে রাজি হল। তবে এক শর্তে, ও নিজেও সঙ্কর্ষণের সঙ্গে ডা সিনহার বাড়িতে রাত কাটাবে, নিজের চোখে ব্যাপারটা দেখবে।

    সঙ্কর্ষণ বলল, ‘তাতে ওর আপত্তি নেই, কিন্তু রজতকে পাশের ঘরে থাকতে হবে। একাধিক মানুষের উপস্থিতিতে ওই মূর্তির আবির্ভাব নাও ঘটতে পারে, সেটা বাঞ্ছনীয় নয়।’ রজত ওর প্রস্তাব মেনে নিল। সঙ্কর্ষণ ফোনে ডা সিনহাকে ব্যাপারটা জানিয়ে দিল। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওদের দু-জনকে রাতে খাবার কথা বললেন। সন্ধের মুখেই যেতে বললেন খাঁটি ফরাসি শ্যাম্পেন খাওয়াবেন।

    সাতটার মধ্যেই ওরা ডা সিনহার বাড়ি পৌঁছে গেল। ভদ্রলোক হাসিমুখে ওদের অভ্যর্থনা জানালেন, বসবার ঘরে নিয়ে বসালেন। শ্যাম্পেনের সঙ্গে শিককাবাব, আসর জমে উঠল।

    রাত ন-টার সময় খাবার ডাক পড়ল। আজ হয়েছে তন্দুরি চিকেন, বয়েলড ফিশ উইথ ভেজিটেবলস আর ফ্রুট স্যালাড। ভাত আর রুটি দুটোর ব্যবস্থাই ছিল। খাওয়া-দাওয়া সেরে সবাই বসবার ঘরে ফিরে এল। হাতটাকে আগেই একটা কাচের জারে রাখা হয়েছিল। রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত গল্পগুজব করে সঙ্কর্ষণ শোবার ঘরে গেল, ডা সিনহা আর রজত রইল পাশের ঘরে।

    সময় যতই এগিয়ে আসে, সঙ্কর্ষণের উৎকণ্ঠাও ততই বাড়তে থাকে। গতকাল ভুল হাত আনা হয়েছিল, কিন্তু আজ যদি এটাও গ্রহণযোগ্য না হয়! বাঁ-হাত হলেও এটা তো মূর্তির আসল হাত নয়।

    রাত বারোটা বাজল। নীলাভ আলোয় সেই মূর্তিটা আবার দেখতে পেল সঙ্কর্ষণ। ওটা ওর হাত খুঁজে বেড়াচ্ছে। নির্দিষ্ট জারের সামনে এসে গতকালের মতোই মূর্তিটা থমকে দাঁড়াল, তারপর একটা চাপা উল্লাস ধনি করে হাতটা প্রায় ছোঁ মেরে তুলে নিল। হাতটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে মূর্তিটা, সঙ্কর্ষণের দিকে পেছন ফিরে থাকায় সঙ্কর্ষণ ওর মুখের অভিব্যক্তি দেখতে পাচ্ছে না। সঙ্কর্ষণের বুকের ভেতর যেন হাপর পড়ছে, পরবর্তী ঘটনার জন্য রুদ্ধনিশ্বাসে অপেক্ষা করছে ও।

    হঠাৎ মূর্তিটা পেছন ফিরল, দ্রুত এগিয়ে এল বিছানার দিকে। সঙ্কর্ষণ চোখ বুজে ফেলল, তারপর পিট পিট করে দেখল মূর্তি বিছানার পাশ ঘেঁষে এসে দাঁড়িয়েছে। সঙ্কর্ষণ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে ওর মুখ, সেই মুখে একটা আনন্দের দীপ্তি। বুকের ওপর থেকে যেন পাষাণভার নেমে গেল সঙ্কর্ষণের। যাক, হাতটা গ্রহণ করেছে ভূতুড়ে মূর্তি। তারপরই মূর্তিটা নিজের ডান হাত দিয়ে ওই কর্তিত বাঁ-হাতটা শূন্যে তুলে কয়েকবার নাড়াল, পরে হাতটা বাঁ-কনুইয়ের সঙ্গে জুড়ে ধরল, ওর মুখে ফুটে উঠেছে একটা তৃপ্তির হাসি। অনেকটা ঝুঁকে ওটা যেন সঙ্কর্ষণকে অভিবাদন জানাল কয়েকবার, তারপরই মিলিয়ে গেল সেই রহস্যময় মূর্তি।

    কয়েক মুহূর্ত নিঃসাড়ে পড়ে রইল সঙ্কর্ষণ। সমস্ত ব্যাপারটাই ঘটে গেল যেন একটা স্বপ্নের মতো, মানুষের বিচারবুদ্ধি দিয়ে যার ব্যাখ্যা চলে না।

    তারপরই এক লাফে খাট থেকে নেমে দরজার দিকে ও এগিয়ে গেল, রজত আর ডা সিনহা অধীর আগ্রহে পাশের ঘরে অপেক্ষা করছেন।

    বিদেশি কাহিনির ছায়ায়

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন
    Next Article উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }