Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভয় সমগ্র ২ – মঞ্জিল সেন

    মঞ্জিল সেন এক পাতা গল্প360 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাতের হাতছানি

    ভারী ব্যাগটা হাতে নিয়ে হাঁটতে আমার কষ্টই হচ্ছিল, তাই দামি গাড়িটা থামিয়ে ভদ্রলোক আমার গন্তব্যস্থল জিজ্ঞেস করতেই আমার মন আশায় নেচে উঠল। আমার জবাব শুনে ভদ্রলোক দরজা খুলে বললেন, ‘আসুন, আমিও ওদিকেই যাচ্ছি।’

    আমি ধন্যবাদ জানিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লাম। ভদ্রলোক ভারী ব্যাগটার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন। আমি বললাম, ‘কলকাতা থেকে এসেছি, মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। এ অঞ্চলটা আমার আওতায়। তাই গত ক-দিন ধরে খুব ঘুরতে হচ্ছে। একটা সাইকেল রিকশা করে আসছিলাম, মাঝরাস্তায় ওটার চেন ছিঁড়ে গিয়ে এই বিপত্তি। আধ ঘণ্টার ওপর হাঁটছি। একটা রিকশা কিংবা গাড়ি চোখে পড়ল না।’

    ‘এদিকটায় গাড়ি চলাচল কম,’ ভদ্রলোক সামনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমার সঙ্গে দেখা হয়ে না গেলে আপনাকে অনেকটা পথ হাঁটতে হত।’

    ‘আপনার সঙ্গে দেখা হবে তা হয়তো আমার কপালে লেখাই ছিল,’ আমি একটু পরিহাস করার চেষ্টা করলাম।

    ‘হয়তো তাই,’ ভদ্রলোক মৃদু হেসে জবাব দিলেন।

    ভদ্রলোক না বলে যুবক বলাই বোধ হয় ব্যাকরণসম্মত হবে। পঁচিশ থেকে সাতাশের মধ্যে বয়স। লম্বা, পাতলা চেহারা, একটু ফ্যাকাশে, কিন্তু ঠিক হীনস্বাস্থ্য তাও বলা চলে না। চোখে-মুখে একটা আভিজাত্যের ছাপ চোখে পড়ে।

    কথায় কথায় আলাপ হল।

    নাম জয়ন্ত ভাদুড়ি, বাবা সঞ্জয় ভাদুড়ির লোহার ব্যাবসা ছিল, প্রচুর টাকা করেছিলেন। বছর দুই হল মারা গেছেন। জয়ন্তর ব্যাবসাপত্র ধাতে সয় না। তাই সব বিক্রি করে দিয়েছে। এমনিতেই তার বাবা যা রেখে গেছেন তা দু-তিন পুরুষের পক্ষে যথেষ্ট, সে একা মানুষ, টাকার অঙ্ক আরও বাড়িয়ে কী করবে? তবে একেবারে পায়ের ওপর পা দিয়ে অলস জীবনযাপনও তার উদ্দেশ্য নয়। তাই সময় কাটাবার জন্য একটা কিছু করবে ভাবছে।

    সঞ্জয় ভাদুড়ি নামটা আমার কেমন যেন চেনা চেনা মনে হল, কোথায় যেন শুনেছি এবং তা যেন প্রীতিকর নয়, কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারলাম না।

    আমি রাতটা হোটেলে কাটাব শুনে জয়ন্ত বলল, ‘একটা রাতের ব্যাপার, আপনার আপত্তি না থাকলে আমার ওখানেই থাকতে পারেন।’

    আমি একটু অস্বস্তি বোধ করলাম, এতটা সুবিধে নেওয়া আমার উচিত হবে কি না বুঝতে পারলাম না। মুখে বললাম, ‘আপনাকে বিব্রত করতে চাই না…’

    ‘ভুল বললেন,’ জয়ন্ত গম্ভীর মুখে বলল, ‘আপনি বরং আমাকে বাধিত করবেন। অনেকদিন প্রাণ খুলে কথা বলি না, আপনার মতো একজন সঙ্গী পেলে রাতটা ভালো কাটবে।’

    আমি তার কথার ভঙ্গিতে অবাক হলাম। যাহোক, একথার পর আর আপত্তি করা চলে না। তাই আমিও তাকে দ্বিতীয়বার ধন্যবাদ জানালাম।

    ‘ভাদুড়ি ভিলা’ ওই অঞ্চলের শেষ সীমানায়। জায়গাটা বেশ নির্জন। প্রকাণ্ড বাড়ি, বিরাট জমি, বড়ো বড়ো গাছ। বাড়ির ভেতর ঢুকলাম, প্রথমেই বসবার ঘর, সাজানো গোছানো। একটা গোল পাথরের টেবিলের ওপর দামি ফ্রেমে আঁটা একটি সুন্দরী সপ্তদশীর ছবি আমার চোখে পড়ল। সপ্তদশী কথাটা হয়তো আমি একটু কাব্য করে বলছি কিন্তু ছবি দেখে বয়স তাই মনে হয়। বাড়িতে গৃহস্বামী ছাড়া আর কেউ না থাকলেও ঘরের কাজ করার লোক আছে জনা চারেক— হয়তো অতবড়ো বাড়ি ঝকঝকে তকতকে রাখতে গেলে ওর কম লোকে চলে না।

    ওদের মধ্যে একজন বড়ো একটা ট্রে করে চা আর খাবার নিয়ে এল। আমার খিদেও পেয়েছিল প্রচণ্ড। চায়ের পাট শেষ হতে জয়ন্ত বলল, ‘চলুন, আপনাকে বাড়িটা দেখাই। বাড়ির প্রত্যেকটা ঘর সত্যিই ঝকঝকে, চমক লাগবার মতো। নারীবর্জিত গৃহে এমন পরিচ্ছন্নতা আর সুরুচি আমাকে বিস্মিত করল।

    আরও একটি জিনিস আমি লক্ষ করলাম, প্রায় প্রত্যেক ঘরেই ওই মেয়েটির ছবি। তবে কি মেয়েটির কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে জয়ন্ত নির্জন, নিঃসঙ্গ জীবন বেছে নিয়েছে?

    জয়ন্তর মধ্যে অস্বাভাবিকতার প্রথম লক্ষণ আমি টের পেলাম, যখন ও আমাকে বাইরের বাগান ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিল।

    বড়ো বড়ো ফল গাছ ঋতুর ফলে ভরে আছে, কেউ খায় বলে মনে হয় না। একটা বড়ো কুল গাছ আমার চোখে পড়ল। অজস্র কুলে গাছটা ছেয়ে গেছে, আকারেও এত বড়ো যে সহজে চোখে পড়ে না, তার ওপর আবার রং ধরেছে। রসালো, লোভনীয়।

    ঠিক আমার সামনে একটা টোপা কুল গাছ থেকে টুপ করে ঝরে পড়ল। আমি ওটা কুড়িয়ে মুখে দিতে যাচ্ছিলাম কিন্তু জয়ন্ত এক ঝটকায় আমার হাত থেকে কুলটা ফেলে দিয়ে প্রায় চেঁচিয়ে উঠল, ‘না না, ভগবানের দোহাই, এ গাছের পাতা পর্যন্ত ছোঁবেন না।’

    আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম।

    জয়ন্ত নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘কিছু মনে করবেন না, আমি আপনার ভালোর জন্যই ওই কুলটা খেতে দিইনি। বাগানে আরও অনেক ফলের গাছ আছে, যত ইচ্ছে ফল খেতে পারেন, শুধু ওটি বাদে।’

    আমি ব্যাপারটা কিছুই বুঝতে পারলাম না। জয়ন্ত যেন আপন মনেই বলল, ‘গাছটা কতবার কেটে ফেলব ভেবেছি, কিন্তু সাহসে কুলোয়নি।’

    রাত্রে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল প্রায় রাজকীয়। জয়ন্ত যে শুধু প্রচুর সম্পত্তির মালিক তাই নয়, একজন ভোজনবিলাসীও বটে। তার পরিচয় পেলাম খেতে বসে। মাংসের চাররকম পদ। আর কী সুস্বাদু, মুখে দেওয়ামাত্র যেন গলে যেতে লাগল। খেতে খেতে মামুলি কথাবার্তা হল।

    আমরা আবার বসবার ঘরে এসে বসলাম। জয়ন্ত দামি সিগারেটের টিনটা আমার দিকে বাড়িয়ে নিজেও একটা ধরাল, তারপর মুচকি হেসে বলল, ‘আপনি হয়তো ভাবছেন আমার মাথায় নিশ্চয়ই গোলমাল আছে। ইচ্ছে করলেই আমি শহরের বিলাস বৈভবের মধ্যে গা ভাসিয়ে দিতে পারি, নিদেনপক্ষে জীবনটা উপভোগ করতে পারি, কিন্তু তা না করে আমি লোকালয়ের বাইরে এই নির্জন বৈচিত্র্যহীন জীবন বেছে নিলাম কেন?’

    আমি অপ্রস্তুত কণ্ঠে বললাম, ‘না না…।’

    জয়ন্ত একটা হাত তুলে আমার কথায় বাধা দিয়ে বলল, ‘আপনার চোখ-মুখ কিন্তু তাই বলছে, তা ছাড়া কুলের ব্যাপারটাও আছে। সিগারেটে বড়ো একটা টান দিয়ে জয়ন্ত আবার বলল, ‘গাড়িতে আপনি বলেছিলেন না, আমার সঙ্গে দেখা হওয়া আপনার কপালে লেখা ছিল? ওটা আমার বেলাও প্রযোজ্য। হঠাৎ কী মনে করে গাড়ি থামিয়েছিলাম। অমন তো কত লোককেই পথ দিয়ে হাঁটতে দেখি। একজনের কাছে আমার সব কথা খুলে না বলে স্বস্তি পাচ্ছিলাম না, আপনাকেই কেন জানি সেই লোক মনে হয়েছিল। আপনি কি বিরক্ত হচ্ছেন?’

    ‘না, না,’ আমি সজোরে প্রতিবাদ করে উঠলাম।

    ‘আমার বাবার কথা আগেই বলেছি,’ জয়ন্ত আবার শুরু করল, ‘তিনি এখানকার একজন মানী লোক ছিলেন, সবাই তাঁকে উদার, পরোপকারী বলে জানত। বাড়িতে কিন্তু তিনি ছিলেন একেবারে অন্য মানুষ— নির্দয়, নিষ্ঠুর। চাকর-বাকররা তাঁর ভয়ে সব তটস্থ থাকত। বাবার নিষ্ঠুরতায় আমার মা-র বুক ভেঙে গিয়েছিল, অকালে আমি তাঁকে হারিয়েছিলাম। বাইরের লোকের কাছে বাবার রূপটা যে একটা ছদ্মবেশ, তা আমার মা বুঝতে পেরেছিলেন।

    ‘আমার স্বভাবও মা-র মতো হয়েছিল। তাই বাবার রাগের শেষ ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন ছেলেও হবে তাঁরই মতো বেপরোয়া, নিষ্ঠুর। আমাদের পরস্পরের সম্পর্কটা হয়ে উঠেছিল ঘৃণা আর বিদ্বেষের, বিশেষ করে মা মারা যাবার পর।

    ‘আমাদের এক পুরোনো চাকর ছিল, বাবার ছোটোবেলার আমলের। অমন ভালোমানুষ হয় না। আমাকে সে খুব ভালোবাসত। সে খুব বুড়ো হয়ে পড়েছিল, আমার ঠাকুরদার সময়কার লোক, বুঝতেই পারছেন। বাবা একদিন সামান্য কারণে তাকে বরখাস্ত করলেন। বেচারার কেউ ছিল না, আমাদের সংসারে জীবনপাত করেছিল। মনের দুঃখে সে আত্মহত্যা করে। ব্যাপারটা ধামাচাপা পড়ে। বাবার রূঢ় আচরণ আদালতে ওঠেনি।

    ‘ওই ঘটনার পর বাবার সঙ্গে আমার তুমুল ঝগড়া হয়ে গেল। বাবা চাইতেন একচ্ছত্র আধিপত্য, তাঁর রাজত্বে কারো টুঁ শব্দটি করার অধিকার থাকবে না। আমি টাকাপয়সার ব্যাপারে তাঁর ওপর নির্ভরশীল ছিলাম, নিজের কোনো রোজগার ছিল না, তাই ইচ্ছে করলে তিনি আমাকে বিষয়সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না, আমাকে আরও বেশি হেনস্থা, লোকের চোখে হেয় করার সংকল্প তিনি এঁটেছিলেন।

    ‘ওই ঘটনার কয়েক মাস পর বাবা মারা গেলেন, স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, আত্মহত্যা। এবার কিন্তু ব্যাপারটা ধামাচাপা পড়ল না। বাবার শেষ লেখা একটা চিঠি পুলিশের হাতে পড়ল। তিনি লিখেছিলেন আমার অকৃতজ্ঞতা, আমার স্বভাব আর চারিত্রিক দুর্বলতাই তাঁর জীবনে চরম হতাশা এনে দিয়েছে, তাই ওই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তিনি বাধ্য হয়েছেন।

    ‘আমাকে আদালতের কাঠগড়ায় উঠতে হয়েছিল। ছাড়া পেলেও সকলের ধিক্কারে আমি মরমে মরে গিয়েছিলাম। বাবা বাইরের লোকের কাছে প্রিয় ছিলেন, তাই তাঁর মৃত্যুর জন্যে আমিই যে নীতিগতভাবে দায়ী সে-বিষয়ে কারু মনে সন্দেহ ছিল না। সকলের চোখে আমি হেয় হয়ে গিয়েছিলাম।

    ‘শুধু একজন আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল, সে হল অরুণা। আপনি হয়তো ওর ছবি দেখেছেন…।’

    আমি ঘাড় হেলিয়ে সম্মতি জানালাম।

    ‘আমরা দু-জনে দু-জনকে ভালোবাসতাম। আমি ওকে বিয়ে করব ঠিকই করেছিলাম…।’

    ‘করেছিলাম বলছেন কেন?’ আমি জিজ্ঞেস না করে পারলাম না।

    ‘আমিই পেছিয়ে এসেছি, সে অন্য এক ব্যাপার।’

    ‘আপনি দেশভ্রমণে যেতে পারতেন, এখানকার বসবাস উঠিয়ে দিতে পারতেন,’ আমি উপদেশ দেবার ভঙ্গিতে মন্তব্য করলাম।

    ‘তা পারি না। বাবার উইলের নির্দেশে আমি এখানকার বাস ওঠাতে পারব না আর বছরের এগারো মাস এখানেই থাকতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সম্পত্তি, টাকাকড়ি সব কিছু আমার এক খুড়তুতো ভাই পাবে। বাবা সেসব চিন্তা করেই উইল করেছিলেন, আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে এখানে বেঁধে রাখার কোনো ফাঁকই তিনি রাখেননি। নিজের কোনো রুজিরোজগার থাকলে হয়তো আমি এসব পায়ে ঠেলে চলে যেতাম।’

    ‘কিন্তু অরুণা দেবীর সঙ্গে বিয়েতে আপনি পেছিয়ে এলেন কেন?’ আমি নিজেকে আর সংযত রাখতে পারলাম না। ‘উনি আপনাকে ভালোবাসতেন, ওঁকে বিয়ে করলে আপনি একজন মনের মতো সঙ্গিনী পেতেন।’

    জয়ন্ত সঙ্গেসঙ্গে জবাব দিল না। একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘আমার মাথা খারাপের লক্ষণ দেখা দিয়েছে, জেনেশুনে একজনের জীবন আমি নষ্ট করতে পারি না।’

    ‘আপনি কি কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েছেন?’

    ‘না, দরকার মনে করিনি।’

    ‘আপনার কথা শুনে আমার অবাক লাগছে, কারণ সত্যিই যাদের মাথা খারাপের লক্ষণ দেখা দেয় সাধারণত তারা তা বুঝতে পারে না কিংবা বুঝলেও অন্যের কাছে গোপন রাখার চেষ্টা করে।’

    ‘হয়তো আমি অসাধারণ,’ জয়ন্ত নীরস কণ্ঠে জবাব দিল।

    ‘আমার ধারণা আপনি মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়ায় ভুগছেন, মানসিক রোগে নয়।’

    ‘আপনার ধারণা সত্যি হলে আমি খুশিই হতাম, আমি আরও একটা রোগে ভুগছি, ইংরেজিতে যাকে আমরা ডিলুজ্যন বলি।’

    ‘কুলগাছের ব্যাপারটা?’ আমি মৃদুকণ্ঠে প্রশ্ন করলাম।

    জয়ন্ত আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাল, তারপর বলল, ‘হয়তো তাই।’

    দোতলায় একটা বড়ো ঘরে আমার শোবার ব্যবস্থা হয়েছিল। বড়ো একটা খাটে নরম গদির বিছানা। শোবার সঙ্গেসঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

    গভীর রাতে আমার ঘুম ভেঙে গেল। প্রথমে অপরিচিত পরিবেশে আমি কোথায় শুয়ে আছি, ঠিক ঠাওর করতে পারলাম না। ঘোরটা কেটে যেতেই আমি চমকে উঠলাম। পরিণত বয়স্কের একটা মুখ আমার ওপর ঝুঁকে পড়েছে। চাঁদের আলোয় আমি স্পষ্ট দেখলাম হলদে, গোলপানা, কুটিল, নিষ্ঠুর একটা মুখ। ওটার ঠোঁট দুটো নড়ছিল, যেন কিছু বলতে চাইছে, কিন্তু আমি কিছু শুনতে পেলাম না, শুধু ফিসফিস একটা শব্দ আমার কানে এল।

    আমি ভয়ে কাঠ হয়ে গেলাম। চিৎকার করবার চেষ্টা করলাম কিন্তু গলা দিয়ে টুঁ শব্দটি বেরুল না। মাত্র দু-এক মিনিট, তারপরই মুখটা মিলিয়ে গেল।

    মুখটা বেলুনের মতো যেন শূন্যে মিলিয়ে গেল, শরীরের অন্য কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আমার চোখে পড়ল না। তারপরই আবার ওটা ভেসে এল। ঠোঁট দুটো আবার নড়ে উঠল, কদাকার দুটো ঠোঁট; এবারও কোনো শব্দ শুনতে পেলাম না, কিন্তু ওটা কিছু বলতে চায় তা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল। ওটার কথাগুলো যেন কোনো অদৃশ্য মিডিয়ামের সাহায্যে আমার কানে পৌঁছে দেওয়া হল।

    ‘কুলগাছটার দিকে তাকাও, কুলগাছটার দিকে তাকাও।’

    নরম বিছানায় শুয়ে আমার শরীর কাঠের মতো শক্ত হয়ে গেল, ঘামে চাদর ভিজে গেল। মুখটা বোধ হয় বুঝতে পারল আমি ওর কথা বুঝতে পেরেছি, কারণ তারপরই ওটা অদৃশ্য হল।

    কয়েক মিনিট আমি স্থির হয়ে শুয়ে রইলাম, যেন নড়বার ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছি। তারপরই এক লাফে বিছানা ছেড়ে আমি উঠে পড়লাম। শোবার আগে লক্ষ করেছিলাম, কুলগাছটা আমার মাথার সামনের জানলার ঠিক নীচেই।

    জানলাটা খোলাই ছিল। আকাশে অসংখ্য তারা আর পাণ্ডুর চাঁদের আলোয় বাইরে আলো-ছায়ার লুকোচুরি চলছে। চারদিক নিস্তব্ধ, একটা সূচ মাটিতে পড়লেও বোধ হয় শব্দ হবে। শুধু কুলগাছের একটা মোটা ডাল নড়ার শব্দ হচ্ছিল। ডালটা নড়ার অবশ্য কারণ ছিল— ওটা থেকে কিছু একটা ঝুলছিল। একগাছা লম্বা দড়ি আর একটা মানুষের অস্পষ্ট চেহারা— দড়িটা ওটার গলায় এঁটে আছে। আমি শিউরে উঠলাম এটাই কি ওই বীভৎস মুখটা আমাকে দেখতে বলছিল। আমি তাড়াতাড়ি জানলা থেকে সরে এলাম। বাকি রাত আর আমি ঘুমুতে পারলাম না। ঘরের মধ্যে পায়চারি করে কাটিয়ে দিলাম। ভোরের প্রথম আলোয় আমি বাগানে নেমে নীচে এলাম। কুলগাছটার তলায় দাঁড়িয়ে আমি হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম, কিচ্ছু নেই। তবে কি আমি ভুল দেখলাম? অসম্ভব! আমি তারপর আর ঘুমুইনি। তাই সবটাই দুঃস্বপ্ন বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    খানিক বাদেই জয়ন্ত বাগানে এল। আমার মুখের ভাব লক্ষ করে ও বিস্মিত কণ্ঠে বলে উঠল, ‘কী ব্যাপার? আপনাকে এত শুকনো দেখাচ্ছে কেন?’

    ‘রাতটা আমার দুঃস্বপ্নের মধ্যে কেটেছে,’ আমি জবাব দিলাম, ‘হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল আর মনে হল যেন একটা হলদে কদাকার মুখ আমার ওপর ঝুঁকে পড়েছে।’

    ‘সত্যি!’ জয়ন্ত প্রায় চেঁচিয়ে উঠল। ওর মুখে প্রচণ্ড বিস্ময় আর উত্তেজনার চিহ্ন ফুটে উঠেছে।

    ‘শুধু মুখ, আর কিছু না?’

    ‘না। একটা গোল, নিষ্ঠুর মুখ,’ আমি জবাব দিলাম।

    জয়ন্তর সর্বাঙ্গ উত্তেজনায় কাঁপতে লাগল।

    ‘তারপরের ঘটনা আমি জানি,’ ও বলল। ‘মুখটা আপনাকে কুলগাছটার দিকে তাকাতে বলেছিল। আপনি কী দেখেছিলেন বলতে হবে না। তবে ব্যাপারটা আমার কল্পনা নয়! ভগবানকে ধন্যবাদ, সব সত্যি। আগে আমি বিশ্বাস করিনি। আপনি যে মুখটা দেখেছিলেন তা আমার বাবার মুখ আর যাকে আপনি দেখেছিলেন সে হল রামুদাদা, আমাদের সেই পুরোনো চাকর। তারা দু-জনেই ওই কুলগাছে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। আপনি আমার কী উপকার করলেন, তা হয়তো বুঝতে পারছেন না।’ উত্তেজনায় জয়ন্ত আমার দু-হাত চেপে ধরল।

    ‘আমার নিদারুণ অভিজ্ঞতায় আপনি বেশ খুশি হয়েছেন মনে হচ্ছে,’ আমি একটু রাগত কণ্ঠেই বললাম।

    ‘আমার কথা ভাবুন, রোজ রাতে আমাকে ওই দুঃস্বপ্নের মধ্যে কাটাতে হয়।’ জয়ন্ত আমাকে প্রবোধ দিতে চাইল।

    ‘বুঝলাম। আমারও যাতে ওই অভিজ্ঞতা হয় তাই আপনি যেচে আমাকে আতিথ্য দিয়েছিলেন!’

    আমি একটু ঠেস দিয়েই বললাম।

    ‘আপনি বুঝতে পারছেন না,’ জয়ন্ত প্রতিবাদের সুরে বলে উঠল, ‘আমি ছাড়া অন্য কেউ ওটা দেখেছে কিংবা দেখতে পারে কি না এটাই আমি জানতে চেয়েছিলাম।’

    ‘আপনার কথা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না,’ আমি একটু বিমূঢ়ের মতো বললাম।

    ‘আপনার কাছে আমি আর লুকোব না।’ জয়ন্ত বলতে লাগল, ‘আমি ইচ্ছে করেই আপনাকে ও ঘরে শুতে দিয়েছিলাম। ওটা আমারই শোবার ঘর। আমি ছাড়া অন্য কেউ ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হয় কি না তা আমি পরখ করতে চেয়েছিলাম।’

    আমি তখনও অবুঝের মতো তাকিয়ে আছি দেখে জয়ন্ত বলল, ‘বুঝতে পারলেন না? আমি ভেবেছিলাম আমার মাথায় গোলমাল দেখা দিয়েছে, আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আপনিও ওটা দেখায় প্রমাণ হল আর পাঁচজনের মতোই আমি সুস্থ, স্বাভাবিক। এখন আমি নিশ্চিন্তমনে অরুণার কাছে আবার ফিরে যেতে পারব। আপনি আমাকে নতুন জীবন দান করলেন, তার জন্য আপনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন
    Next Article উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    Related Articles

    মঞ্জিল সেন

    ভয় সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    উপন্যাস সমগ্র ১ – মঞ্জিল সেন

    November 10, 2025
    মঞ্জিল সেন

    অদ্বিতীয় সত্যজিৎ : সত্যজিতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী – মঞ্জিল সেন

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }