Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অমনিবাস ২ – মানবেন্দ্র পাল

    মানবেন্দ্র পাল এক পাতা গল্প507 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রহস্যকুঠির রানি

    বড়োদিনের ছুটিতে ভাইপোটাকে নিয়ে মধুপুরে বেড়াতে যাব ঠিক করেছি। মধুপুরে কিছুদিন থেকে দেওঘর গিরিডিও নিয়ে যাব। দেওঘরের ত্রিকূট পাহাড়, গিরিডির উশ্রী প্রপাত ডাকু আজ পর্যন্ত দেখেনি। এবার না দেখালেই নয়।

    ডাকুর তো আর রাতে ঘুম হয় না। কেবলই জিজ্ঞেস করে—কাকু, কবে মধুপুর যাব?

    দিন যদি বা স্থির হল, তারপর থেকে ডাকু ব্যস্ত হয়ে পড়ল কী কী জিনিস সঙ্গে নেওয়া হবে তাই ঠিক করতে। হোক দশ দিনের জন্য তবু তো বাইরে যাওয়া।

    যাই হোক, শেষ পর্যন্ত এক শীতের বিকেলে আমরা দুজনে মধুপুরে এসে নামলাম। ভেবেই রেখেছিলাম কোনো হোটেলে একটা রুম নেব। সেই মতো টাঙ্গাওয়ালা বেশ নামকরা একটা হোটেলে নিয়ে এসে আমাদের ছেড়ে দিল। কিন্তু হা মন্দভাগ্য! হোটেলে জায়গা নেই।

    ম্যানেজার আরো সাংঘাতিক কথা শোনালেন—শুধু হোটেল কেন, একটা খালি বাড়িও পাব না। চেঞ্জারদের ভিড় এখন নাকি খুব।

    আমি যখন নাছোড়বান্দা তখন উনি চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বললেন, একটা বাড়ির সন্ধান দিতে পারি। কিন্তু টিকতে পারবেন কি?

    —কেন? ভূতের বাড়ি নাকি?

    ম্যানেজার মাথা দোলালেন, লোকে তো তাই বলে। এক রাত্তিরের বেশি কেউ থাকতে পারে না।

    ডাকু এই সময়ে আমার হাতে চাপ দিয়ে ফিসফিস করে বললে, ওই বাড়িতেই চলো কাকু। ভূত দেখা যাবে।

    আমি তখন ভালো মানুষের মতো ম্যানেজারকে বললাম, কী আর করা যাবে। ঠিকানাটা দিন। ভূতের বাড়িতেই ক’দিন কাটাই।

    ম্যানেজার তখন কোথা দিয়ে কোথায় যেতে হবে বুঝিয়ে দিলেন। শহরের বাইরে নদীর ধারে এক কবরখানা। তারই পাশে বিরাট একটা গম্বুজওলা পুরোনো দোতলা বাড়ি। সেই বাড়িতে একজন মহিলা থাকেন। তিনিই বাড়ির মালিক। তিনি যদি রাজি হন তাহলে হয়তো একটা ঘর পেতে পারেন।

    আমি হতাশার সুরে বললাম, যা শুনছি তাতে মনে হয় ভাড়া দেবেন না।

    ম্যানেজার বললেন, দেখুন, সে আপনার কপাল। তবে উনি অনেককেই দিয়েছেন আর কেউ এক রাত্তিরের বেশি টিকতে পারেনি। হ্যাঁ, পুরো ভাড়াটা কিন্তু তিনি আগাম নিয়ে থাকেন।

    —তাতে অসুবিধে নেই। বলে তখনই ডাকুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির সন্ধানে বেরিয়ে পড়লাম।

    শীতের বেলা তখন শেষ হয়ে এসেছে। টাঙ্গাটা আমাদের এক জায়গায় নামিয়ে দিল। বলল, ওদিকে আর গাড়ি চলবে না। রাস্তা খারাপ।

    অগত্যা দুজনে হাঁটতে হাঁটতে নদীর ধারে গিয়ে পৌঁছলাম। আর নদীর পশ্চিম দিকে একরাশ বুনো ফুলের আড়ালে একটা পুরোনো সমাধিক্ষেত্রও আবিষ্কার করলাম। এবার বাড়িটা খুঁজতে হবে। ভাগ্য ভালো—বাড়িটাও খুঁজে পেতে অসুবিধে হল না। অনেকগুলো সার সার ইউকালিপ্টাস গাছের আড়ালে বাড়িটা যেন লুকিয়ে ছিল।

    আমরা যখন ফটক ঠেলে বাড়ির মধ্যে ঢুকলাম তখন রীতিমতো অন্ধকার। শহরে ইলেকট্রিক থাকলেও এ পল্লিতে আলো অসেনি। এখানে যে অল্প কয়েক ঘর বসতি আছে তাদের প্রায় সবাই খ্রিস্টান। কিন্তু দেখেই বোঝা যায়, ওদের জীবনে জাঁকজমক বলে কিছু নেই। সারাদিন খাটেখোটে। তারপর সন্ধে হলেই যে যার বাড়ি ঢুকে খিল বন্ধ করে। কারো সঙ্গে কারো যেন যোগাযোগ নেই। ইলেকট্রিক আলোর জন্যে মাথা কোটাকুটিও করে না। যাই হোক, আমরা সেই বাড়ির বাইরের ঘরে ঢুকলাম। অন্ধকার ঘর।

    আমি ডাকলাম—কেউ আছেন? সাড়া নেই। আবার ডাকলাম। এবারও সাড়া নেই। ব্যাগ থেকে টর্চ বার করে জ্বাললাম। সামনে আর একটা দরজা। সেই দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। এবার লম্বা দালান। ওপাশে মনে হল ওপরে ওঠার সিঁড়ি। আমরা সেই দালানে ঢুকতেই একটা মস্ত জালে ঢাকা খাঁচার মধ্যে থেকে একসঙ্গে অনেকগুলো মুরগি যেন ভয়ে কোঁকর কোঁ—কোঁকর কোঁ করে ডেকে উঠল।

    ডাকু ফিসফিস করে বললে, এত মুরগি? বাড়িউলি কি মুরগির ব্যবসা করে, না খায়?

    আমার তখন অন্য চিন্তা। সারাদিন ট্রেন জার্নি করে আসা—এখনো যদি একটু থাকার ব্যবস্থা না হয় তাহলে যাব কোথায়? তাই এবার একটু জোরে হাঁকলাম—কেউ আছেন?

    হঠাৎ খুব কাছ থেকে একটা অদ্ভুত কণ্ঠস্বর শোনা গেল—বাইরের ঘরে বসুন।

    গলার স্বরটা না পুরুষের না মহিলার। কেমন একটা বিশ্রী খ্যানখেনে। কিন্তু এপাশ ওপাশ তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলাম না।

    যাই হোক, আমরা আবার বাইরের ঘরে এসে দাঁড়ালাম। দাঁড়িয়েই রইলাম। কেননা, বসবার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। টর্চ জ্বেলে দেখলাম—চারিদিকে শুধু ভাঙা দেরাজ, ভাঙা আলমারি, কতকগুলো ভাঙা চেয়ারও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। আর সমস্ত মেঝেয় পুরু ধুলোর আস্তরণ। এ—ঘরে যে কেউ কোনো দিন আসে না সেটা বেশ বোঝা গেল।

    এমনি সময়ে ভেতরের দরজা দিয়ে এক চিলতে ঘোলাটে আলো এসে পড়ল। একজন মহিলা হাতে সেকালের পেটমোটা একটা সেজবাতি নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। তাঁর আপাদমস্তক কালো গাউনে ঢাকা। গলা থেকে একটা লম্বা ক্রস গাউনের ওপরে ঝুলছে। মুখটা অস্বাভাবিক সাদা। গালের দুই হনু খুব উঁচু আর সেইজন্যেই গালের নীচের অংশ একটু বসা। তিনি বেশ দীর্ঘাঙ্গী। কিন্তু কত বয়েস তা ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না।

    আমি তাড়াতাড়ি নমস্কার করে বললাম, আপনাকে বোধ হয় বিরক্ত করলাম—

    ভদ্রমহিলা ওঁর সেই অস্বাভাবিক স্বরে গম্ভীরভাবে বললেন, কী বলতে চান বলুন।

    দিন দশেকের জন্যে একটা ঘরের কথা বললাম, শুধু দুজন—আমি আর আমার এই ভাইপো—

    এতক্ষণে ডাকুর দিকে ওঁর লক্ষ্য পড়ল। তিনি সেই পেটমোটা সেজটা একটু বাড়িয়ে দিয়ে ডাকুকে দেখলেন। সেই মুহূর্তেই আমিও ওঁকে ভালো করে দেখলাম—বিশেষত ওঁর চোখ দুটো। সে চোখ যে কী তীক্ষ্ন—কী জ্বলন্ত তা না দেখলে বোঝা যায় না। তিনি সেই চোখের দৃষ্টি দিয়ে ডাকুকে যেন গিলে খেতে চাইছেন। আমি তাড়াতাড়ি ডাকুকে আড়াল করে দাঁড়ালাম।

    —তা শেষ পর্যন্ত আমার বাড়ি কেন? ভদ্রমহিলা বিদ্রুপের সুরে জিজ্ঞেস করলেন, ভূত দেখতে নাকি?

    —না—না, ভূত দেখতে কেন? আমি হাসবার চেষ্টা করলাম। কোথাও বাড়ি পাচ্ছি না। তাই—

    কিন্তু মহিলাটি হাসলেন না। তীক্ষ্নস্বরে বললেন, অনেকেই তো এ বাড়িতে ভূত দেখতে আসে। আপনারাও যদি ভূত দেখার আশা করে আসেন তাহলে ঠকবেন। কেননা, ভূত এখানে টিকতে পারে না। বলে ভাড়ার টাকা গুনে নিয়ে ফিরে যাবার সময়ে আর একবার তাঁর সেই তীক্ষ্ন চোখের দৃষ্টি ডাকুর ওপর বুলিয়ে নিলেন।

    যাই হোক, দোতলার একপাশে একটি ঘর তো পাওয়া গেল। অনেকগুলো জানলা। কোনো জানলাতেই গরাদ নেই। এই জানলায় দাঁড়ালে সমাধিক্ষেত্রটা বেশ পরিষ্কার দেখা যায়। তবে একটাই অসুবিধে। এখানে খাবার ব্যবস্থা নেই। নিজে রাঁধো, নয় হোটেলে খাও।

    নিজে আর কে রাঁধে! সন্ধের পর হোটেল থেকে খেয়ে বাড়ি ফিরেই খিল লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম। একে প্রচণ্ড শীত, তার ওপর শরীরে ক্লান্তি। তাই ঘুমিয়ে পড়তে দেরি হল না।

    একসময়ে ঘুম ভেঙে গেল। দরজায় কে যেন খুটখুট করে কড়া নাড়ছে।

    ধড়মড় করে উঠে বসলাম। ঘর অন্ধকার। কান খাড়া করে রইলাম। ভুল শুনেছি কি?

    না, ভুল নয়। ওই কে আবার আস্তে আস্তে কড়া নাড়ছে।

    এবার দেখি ডাকুও চোখ রগড়াতে রগড়াতে উঠে বসেছে। টর্চ জ্বেলেছে।

    আমি উঠে সাবধানে দরজা খুলে দিতেই কনকনে বাতাসে পর্দা দুলে উঠল। অমনি সেই বিশ্রী খ্যানখেনে স্বর—গুড মর্নিং।

    দেখি কখন ভোর হয়ে গেছে। আর মিস দফাদার নিজেই ছোট্ট ট্রেতে দু—কাপ চা আর কিছু নোনতা বিস্কুট নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

    আমরা অবাক। মিস দফাদার যে এভাবে চা—টা দিয়ে ভোরবেলায় আপ্যায়ন করবেন তা ভাবতে পারিনি। মিস দফাদার আবার একটু হাসবার চেষ্টা করলেন—চা—টা আপনাদের জন্যে। অনুগ্রহ করে ধরুন। আমি অবশ্য সব ভাড়াটেদের এমন আপ্যায়ন করি না।

    আমি ধন্যবাদ দিয়ে বললাম, আপনার এ সৌজন্য আমরা ভুলব না।

    —ধন্যবাদ, এই বলে মিস দফাদার চলে যাচ্ছিলেন। আবার ফিরে দাঁড়ালেন। তাকালেন ডাকুর দিকে। সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টির পরিবর্তন ঘটল। ওঃ! কী হিংস্র সে দৃষ্টি!

    —গত রাত্রে নিশ্চয়ই কোনো কারণে আপনাদের ঘুমের ব্যাঘাত হয়নি?

    —না—না—এতটুকু না।

    —ভূতের ভয়?

    আমি হেসে উঠলাম। ভূত আমি বিশ্বাস করি না।

    মিস দফাদার আর দাঁড়ালেন না। হঠাৎ হনহন করে টানা বারান্দা ধরে নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন।

    তিন—চারটে দিন কেটে গেল। মধুপুরটা মোটামুটি দেখা হয়ে গেছে। এবার দেওঘর যাবার কথা ভাবছি। কিন্তু একটা জিনিস লক্ষ করছি, ডাকু যেন কিরকম অন্যমনস্ক আর খিটখিটে হয়ে উঠছে। দুপুরবেলাটা কিছুতেই আমার সঙ্গে বেরোতে চায় না। বলে, ভালো লাগছে না। তুমি যাও। আমি একটু শুয়ে থাকি।

    একা একা বেড়াতে ভালো লাগে না। তবু বেড়াতে হয়। মনে মনে ভাবি, ডাকুটার হঠাৎ হল কী?

    সেদিন খাবার টেবিলে বসে ও হঠাৎ বলল, মিস দফাদার দিনের বেলায় বাড়ি থাকেন না।

    —তুই কী করে জানলি?

    ডাকু হঠাৎ রেগে গিয়ে বললে, সে আমি বলব না।

    ওর এই আচরণে আমি একটু অবাক হলাম। সামলে নিয়ে বললাম, কোথায় যান?

    —তা জানি না।

    জিজ্ঞেস করলাম, তুই কি দুপুরবেলা ওদিকে যাস? ওদিকে মানে—মিস দফাদারের ঘরের দিকে?

    ডাকু গম্ভীরভাবে বলল, যাই। এই পর্যন্ত বলে ও একটু থামল। তারপর কেমন ভাঙা ভাঙা গলায় বললে, রোজ দুপুরে আমায় কে যেন ওইদিকে যাবার জন্য ডাকে। আমি যেন না গিয়ে পারি না। সেদিন দেখি ওদিকের জানলার নীচে একগাদা মুরগির পালক পড়ে আছে। কেউ যেন গোটা মুরগিগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছে।

    এই কথাগুলো বলতে বলতে ওর চোখ—মুখ যেন কেমন হয়ে গেল। ও বিছানায় শুয়ে পড়ল।

    আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম। কে ওকে ওইদিকে যাবার জন্যে ডাকছে? কেন ডাকছে? আর সেই ডাকার সঙ্গে মুরগির কী সম্পর্ক? ডাকু কি সজ্ঞানে ভুল বকছে?

    না, ভূতুড়ে বাড়িতে ক’দিন থেকেও ভূত দেখার সৌভাগ্য হল না। শুধু মিস দফাদারের আচরণগুলোই আমাকে একটু অবাক করছিল। অথচ তাঁকে সেদিন সেই সকালবেলায় চা দিতে আসার সময়ে যা দেখেছি তারপর আর চোখেও দেখিনি। না দেখলেও এইটে মনে হয়েছে যে তিনি ঠিক সাধারণ মহিলার মতো জীবনযাপন করেন না। এমন কি ডাকু একদিন গম্ভীরভাবে নতুন একটা খবর শোনাল—জান কাকু, মিস দফাদার বোধ হয় কিছু খান না। তাঁর কোনো রান্নাঘর নেই, উনুন নেই, স্টোভ নেই, কড়াই—খুন্তি কিচ্ছু নেই।

    আমি ফের অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম—তুই জানলি কী করে?

    ও হঠাৎ ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল, আরো কত কী জানতে পারব!

    ওর এই ধরনের কথায় আমার কেমন গা ছমছম করে। এইসব কথা বলার সময় ও কীরকম অস্বাভাবিক হয়ে যায়। এমন গম্ভীর চালে কথা বলে যেন মনে হয় কত বয়স্ক লোক কথা বলছে।

    এবার এখান থেকে পাততাড়ি গোটাব ভাবছি আর ঠিক সেই রাত্তিরেই একটা ঘটনা ঘটল।

    রাত তখন কত জানি না। শীতের রাত। পাহাড়ে শীত। সমস্ত জানলা বন্ধ। মাথা পর্যন্ত লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছিলাম। মাথার কাছে সব সময়েই থাকে দুটো টর্চ আর দুটো বড়ো ছুরি। কী জানি কখন কী দরকার হয়!

    হঠাৎ কেন যেন ঘুম ভেঙে গেল। উঠে দেখি ডাকু নেই, দরজা খোলা।

    আমি চমকে উঠলাম। ডাকু কোথায় গেল! ও তো রাত্তিরে বড়ো একটা ওঠে না। যদি বা ওঠে তাহলে আমায় ডাকে।

    তা হলে?

    এক লাফে বিছানা থেকে নেমে বাইরে বেরিয়ে এলাম। সেই টানা বারান্দার ওপাশে মিস দফাদারের ঘরের দিকে চোখ পড়তেই দেখলাম ওঁর ঘর থেকে আগুনের মতো কী যেন দাউ দাউ করে একবার জ্বলছে, একবার নিভছে। সঙ্গে সঙ্গে আগুনের রংও বদলাচ্ছে—কখনো লাল, কখনো নীল, কখনো সবুজ। আমার মনে হল, এই গভীর রাত্রে এই বাড়িতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ম্যাজিক দেখছি। আর ঠিক সেই মুহূর্তে সেই জাদুকরি আলোয় দেখলাম ডাকু বারান্দার দেওয়াল ধরে ধরে ওইদিকে এগোচ্ছে।

    ডাকুকে চেঁচিয়ে ডাকতে সাহস হল না। ছুট্টে গিয়ে ওর হাতটা চেপে ধরলাম। আমাকে দেখে ডাকুর সে কী রাগ! জোর করে হাত ছাড়িয়ে সে ওই আগুনের দিকে যাবেই। তখন আমিও আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ওকে পাঁজাকোলা করে তুলে ঘরে নিয়ে এসে দরজা বন্ধ করে দিলাম।

    ওকে বিছানায় শুইয়ে দেওয়া মাত্র ও যেন কেমন নেতিয়ে পড়ল। আমি ওর মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে লক্ষ করতে লাগলাম। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত তখন আড়াইটে।

    হঠাৎ ডাকু ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কথা বলতে লাগল—আমায় ছেড়ে দাও। ওগো আমায় ছেড়ে দাও। ও যে আমায় ডাকছে…ও আমায় আজ কবরখানায় নিয়ে যাবে বলেছিল। ওই যে ও দাঁড়িয়ে আছে…আমায় যেতে দিচ্ছ না বলে ও রেগে যাচ্ছে। ও বলছে—আমাকে ওর দরকার। ও আমাকে এখানে রেখে দেবে বছরের পর বছর। একটু থেমেই ডাকু হঠাৎ লাফিয়ে উঠল—ও বড্ড রেগে যাচ্ছে, আমায় ছেড়ে দাও—ওই যে ও একটা কবরখানায় চলল …

    বলতে বলতে ডাকু বিছানা ছেড়ে উঠে এক টানে জানলা খুলে ঝুঁকে পড়ল, যেন এখনই ঝাঁপ দেবে। আমিও শীতের কনকনে বাতাস উপেক্ষা করে জানলার কাছে গিয়ে ওকে আগলে দাঁড়ালাম। আর সঙ্গে সঙ্গে আমার সর্বাঙ্গ ভয়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। স্পষ্ট দেখলাম—কালো গাউন ঢাকা একটা চলমান মূর্তি কবরখানার মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    পরের দিন সকালেই ঠিক করলাম, আজ না হলেও কাল মধুপুর ছাড়বই। আর এই যতটুকু সময় এ বাড়িতে আছি, কিছুতেই ডাকুকে কাছছাড়া করব না। কেননা, যে কোনো কারণেই হোক, আমার মনে হয়েছে ডাকুর জীবন বিপন্ন। ওই মিস দফাদার মানুষটি কিছুতেই স্বাভাবিক মানুষ নয়। ওর কিছু একটা মতলব আছেই।

    সারাদিন ডাকুকে চোখে চোখে রাখলাম। আজ ওকে বড্ড বেশি শ্রান্ত ক্লান্ত লাগছে। বিছানা ছেড়ে উঠছে না। দুপুরের খাওয়া সেরে জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছিলাম। দেখলাম হোল্ডলটার স্ট্র্যাপটা ছিঁড়ে গিয়েছে। এটা এখনি মুচিকে দিয়ে সারিয়ে নিতে হবে।

    কিন্তু ডাকুকে ফেলে যাই কী করে? ভেবে লাভ নেই। অন্তত কিছুক্ষণের জন্য যেতে হবেই। আর দেরি করলাম না। দেখলাম ডাকু বেশ ঘুমোচ্ছে। হোল্ডলটা নিয়ে তখনই বেরিয়ে পড়লাম।

    তারপর থেকে প্রতি মুহূর্তে বুকের মধ্যে ধুকপুকুনি। কেবলই ভয করছে, এতক্ষণে বুঝি ডাকুর কিছু একটা হয়ে গেল। কোনোরকমে স্ট্র্যাপটা সারিয়ে বাড়ি ফিরলাম। মুরগিগুলো আজ হঠাৎ একসঙ্গে ডেকে উঠল—কোঁকর কোঁ—কোঁকর কোঁ।

    ঘরে ঢুকতেই চমকে গেলাম—ডাকু নেই।

    —ডাকু! সাড়া নেই। কী হল? গেল কোথায়?

    কিন্তু তখন আর ভাববার সময় নেই। এই ভয়টাই করেছিলাম। জানি না এর মধ্যে তার কী অবস্থা হয়েছে!

    আমি তখনই ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বারান্দায় দাঁড়ালাম। তারপর ছুটতে লাগলাম মিস দফাদারের ঘরের দিকে। এদিকে আমি কখনো আসিনি। সার সার তালাবন্ধ অনেকগুলো ঘর। জনমানবের সাড়া নেই। আমি কেবলই মোড় বাঁকতে বাঁকতে বারান্দা দিয়ে চলেছি। বারান্দাটা যেন সাপের গতির মতো এঁকেবেঁকে গিয়ে—

    হঠাৎ থামতে হল। এ যে সিঁড়ি দেখছি!

    বাইরে যেন সন্ধে নেমে আসছে। বাড়ির মধ্যে অন্ধকার। আর এই সিঁড়ির মুখটা যেন—ভাববার সময় তখন আর নেই। আমি সেই অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগলাম। নামছি তো নামছি। যেন পাতাল—পুরীর পথে পা বাড়িয়েছি।

    সিঁড়িগুলো এত সরু আর অন্ধকার যে প্রতি মুহূর্তে ভয় হচ্ছে এই বুঝি পা পিছলে পড়ে গেলাম। আর পড়ে গেলে যে কোথায় তলিয়ে যাব তা জানি না। তা ছাড়া যতই নামছি ততই যেন ঠান্ডা বাড়ছে। মনে হচ্ছে যেন বরফের দেশে চলেছি।

    একসময়ে সিঁড়ি ফুরিয়ে গেল। কিন্তু এ কী! এ যে নরম মাটি! কাদা—কাদা, পিছল। অবাক হয়ে ভাববার সময়টুকু পর্যন্ত নেই। ডাকুকে খুঁজে বের করতেই হবে।

    আমি শ্যাওলাধরা দেওয়াল ধরে ধরে এগিয়ে চললাম। কিছুদূর যাবার পর হঠাৎ থমকে দাঁড়ালাম। কীসের যেন শব্দ—দুম—দুম। কে যেন বন্ধ দরজা ঠেলছে। আর একটু এগোতেই চমকে উঠলাম।

    কে একজন একটা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বন্ধ দরজায় ঘুসি মারছে। আর চিৎকার করে বলছে—এই যে আমি এসেছি।

    —ডাকু! আমি ছুটে গিয়ে ডাকুকে জাপটে ধরলাম। সঙ্গে সঙ্গে ওর অচৈতন্য দেহ আমার বুকের ওপর লুটিয়ে পড়ল।

    আর সেই মুহূর্তে জানলা দিয়ে ঘরের মধ্যে যে দৃশ্যটি আমার চোখে পড়ল তা আমি কখনো ভুলতে পারব না। সেই পাতালপুরীর অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে ঘরে একটা খাটিয়ার ওপর সাদা চাদর ঢাকা একটা—হ্যাঁ, দূর থেকে মৃতদেহ বলেই মনে হল—পড়ে রয়েছে।

    হঠাৎ সেই মৃতদেহ নড়ে উঠল। চাদর খসে পড়ল। তারপর দুই হাত মাথার দিকে প্রসারিত করে, আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে সেই দেহ, কবরের মধ্যে থেকে যেমন প্রেতাত্মার উত্থান হয় তেমনি ভাবে সোজা উঠে বসল।

    —মিস দফাদার! আমার অজান্তে গলা থেকে একটা ভয়ার্ত চিৎকার বেরিয়ে এল। তারপর কী করে যে ডাকুকে কাঁধের ওপর ফেলে সেই অন্ধকার সিঁড়ি ভেঙে উঠে এসেছি তা বলতে পারব না।

    নিজের ঘরে ফিরে এসে দরজা বন্ধ করে মুহূর্তের পর মুহূর্ত অপেক্ষা করেছি কখন ডাকুর জ্ঞান ফেরে! তারপর ডাকু একটু সুস্থ হলে সেই রাত্তিরেই চুপিচুপি বাড়ি থেকে পালিয়ে আমরা স্টেশনের দিকে রওনা হলাম। বাড়ি থেকে বেরোবার সময়ে মিস দফাদারের ঘরের দিকে চেয়ে দেখি, জানলার সামনে কালো গাউন পরা একটি মূর্তি কী যেন লক্ষ্য করছে!

    আমি ডাকুর হাত ধরে প্রাণপণে ছুটতে লাগলাম।

    ১৯৮৪, আরাধনা

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনতুন নতুন নাটক – সম্পাদনা: মনোজ মিত্র
    Next Article ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    Related Articles

    মানবেন্দ্র পাল

    অশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    মানবেন্দ্র পাল

    ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Our Picks

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }