Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অমনিবাস ২ – মানবেন্দ্র পাল

    মানবেন্দ্র পাল এক পাতা গল্প507 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অদৃশ্য ব্যাপার-স্যাপার

    একদিন—আধদিন নয়, প্রতিদিন। প্রতিদিন ঠিক একই সময়—এ যেন মৌ—এর একটা ভয়ংকর নেশা হয়ে উঠেছে। ওই ঘরটা ওকে টানবেই।

    অথচ ঘরটার কোনো বিশেষ আকর্ষণ নেই। না সাজানো—গোছানো, না যায় দেখা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বরঞ্চ গোটা বাড়ির মধ্যে এই ঘরটাই সবচেয়ে পুরোনো। সে আমলের ভারী ভারী কাঠের কড়িবরগা। একটা কড়ি তো ভেঙে ঝুলছে। একটু ভূমিকম্প হলেই হুড়মুড়িয়ে পড়বে। দেওয়ালের এখানে—ওখানে পলেস্তারা খসে পড়ে নানা রকমের জন্তু—জানোয়ারের, কোথাও বা মানুষের মুখের আকৃতি ধারণ করেছে। একটা বই—এর থাক ছিল। সেখানে উই—এর লম্বা লাইন রেললাইনের মতো এঁকেবেঁকে দেওয়াল বেয়ে উঠে কড়িতে গিয়ে ঠেকেছে। বলা যায় আসল বাড়ি থেকে প্রায় সম্পর্কশূন্য একটা পরিত্যক্ত ঘর। সম্পর্কশূন্য অথচ একই পাঁচিলের মধ্যে। বসতবাড়ি আর এই পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে পড়ে আছে শুধু একটা উঠোন। উঠোনে মস্ত একটা কাঁঠাল গাছ আর কিছু বুনো ফুলের ঝোপ।

    বাড়িতে লোক সর্বসাকুল্যে জনা পাঁচ—ছয়। কিন্তু দেশ থেকে আত্মীয়—কুটুমের আসা—যাওয়ার বিরাম নেই। মৌ হই—হট্টগোল পছন্দ করে না। কলেজে পড়ছে। তাই পড়াশোনা করার জন্যে ওই পরিত্যক্ত ঘরটাই বেছে নিয়েছে। একটাই সুবিধে হুটহাট করে কেউ এসে পড়ে না।

    দিনের বেলা ওই ঘরে পুরোনো একটা চৌকিতে বসে পড়াশোনা করে—ঠিক আছে। কিন্তু রাত্তিরবেলাতে—ওই ঘরে একা—ওর দিদিরা বলে—রাত্তিরে ও ঘরে পড়ার দরকার কী? বাড়িতে ঘরের অভাব আছে?

    বৌদি বলে—সত্যি ভাই মৌ, তোমার এটা খুব বাড়াবাড়ি। সন্ধের পর ওই কাঁঠাল গাছের তলা দিয়ে যেতেই আমার গা ছমছম করে তো তেপান্তরের প্রান্তে ওই পোড়ো ঘর। আর শুধু ওই ঘরটাই বা বলি কেন, এ বাড়িতে বউ হয়ে এসে পর্যন্ত তো টের পেয়েছি—একদিন— আধদিন নয়—

    —ও সব কথা এই সন্ধেবেলা থাক না বৌদি। বলে উঠল মৌ—এর মেজদি।

    মৌ—এর কাছে এসব কোনো কিছুই নতুন কথা নয়। সবই জানে সে। তবু সন্ধের পর থেকেই ওই দিকের ঘরটা ওকে টানে। ও না গিয়ে পারে না। ভয়—ডর বলে কিছু নেই। আছে শুধু কৌতূহল। কী যেন ঘটে ঘরটার মধ্যে…অদৃশ্য ব্যাপার—স্যাপার।….

    সন্ধের পর মৌ তালা খুলে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতে যায়। কিন্তু আশ্চর্য দরজাটা সহজে খোলে না। কীসে যেন আটকে যায়। অনেক সময়ে বর্ষাকালে কাঠ বেড়ে গিয়ে আটকে যায় ঠিক। কিন্তু এ তো শুধু বর্ষাকালের ব্যাপার নয়—শীত—গ্রীষ্ম সব সময়ে। মনে হয় ঘরের ভেতর কেউ আছে যে চায় না ঘরের মধ্যে বাইরের কেউ ঢুকুক। তাই যেন দরজায় পিঠ সেঁটে আগলে আছে।

    মৌ এসবই জানে। জানে দু—হাত দিয়ে দরজা ঠেলতে হবে। তবেই খুলবে। আর—

    আর দরজা খুলতেই গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে কেমন যেন একটা ভ্যাপসা গন্ধ…ও চৌকাঠে দাঁড়িয়েই আগে বাঁ হাত বাড়িয়ে সুইচটা কোনোরকমে অন করে দেবে। ব্যস! আলো জ্বলতেই সব ক্লিয়ার।

    একটা জিনিস মৌ ঠিক বুঝতে পারে না। সন্ধের পর দরজা খুলতে এত ঠেলাঠেলি কিন্তু দিনের বেলা তো এমন হয় না। তখন তালা খুলে একটু ঠেলতেই দরজা খুলে যায়। জানলাগুলো তখনও বন্ধই থাকে কিন্তু ওইরকম উৎকট ভ্যাপসা গন্ধ পাওয়া যায় না। তার বদলে পাওয়া যায় তামাকের গন্ধ। গন্ধটা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। কেন এমন হয়? তামাকের গন্ধই বা কেন? তাও একদিন নয়। প্রতিদিন শুধু সকালে।

    এসব কথা বৌদি বা দিদিদের বলে না। বললে হয় তারা হেসে উড়িয়ে দেবে; না হয় আরও বেশি করে ভয় পাবে। কী দরকার? তা ছাড়া মৌ বুঝে নিয়েছে এসব তার একান্ত নিজস্ব গোপন ব্যাপার। এই যেমন—

    এই যেমন রোজকার মতো আজও এই মুহূর্তে ঘটতে চলেছে—

    সন্ধেবেলা ঘরে ঢুকে ঘণ্টা দু—এক বেশ মন দিয়ে পড়া যায়। কোনো ব্যাঘাত হয় না। একদিন আলো জ্বেলে ঘরে ঢুকেই অন্যমনস্ক হয়ে পুব দিকের রং—চটা ছোটো ছোটো জানলাগুলো খুলে দিয়েছিল। সেদিন সে পড়তে পড়তে রীতিমতো ভয় পেয়েছিল। ঠিক কীসের যে ভয় তাও নিজেও জানে না। পুব দিকে এই ঘরের গায়ে গায়ে এমন কোনো বাড়ি নেই যে আলো জ্বলতে দেখা যাবে। আছে একটুকরো পোড়ো জমি আর একটা মজা পুকুর। জমিটাতে ঘেঁটুবন আর কয়েকটা ছাতিম গাছ। ওদিকে তাকালে গা—টা কেমন ছমছম করে। পুকুরের ওপাশে বাঁশবনের অন্ধকারে কালকাসুন্দে গাছের ফাঁকে ফাঁকে জোনাকির চোখ—পিটপিটানি। সেও যেন কেমন অস্বস্তিকর। মনে হয় ওরা যেন ভয় দেখাতে চাইছে। সবচেয়ে ভয় করে ওই পোড়ো জমিটাকে। যার নাম ‘পোড়া মাঠ’। জন্ম থেকে মৌ দেখে আসছে জমিটা অমনি পড়ে আছে। এখন জমির চাহিদা খুব। গ্রামের বড়ো বড়ো চাষিরা যাদের হাতে পয়সা আছে তারা শহরে চলে আসতে মরিয়া। খালি জমির সন্ধান পেলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু এই শহরের মধ্যে জমিটার নাম কেউ করে না। ভারী আশ্চর্য তো!

    মৌ ওর ঠাকমার মুখে শুনেছে আজ এই যে শহর—ঠাকমা যখন নতুন বৌ হয়ে বাড়িতে আসেন তখন এমনটি ছিল না। চারিদিকে বন—জঙ্গল। দিনের বেলাতেই শেয়াল ঘুরে বেড়াত ইতিউতি। কখনো ছিল ডাকাতের ভয়। গভীর রাতে মশাল জ্বালিয়ে রে—রে করে ডাকাতরা আক্রমণ করত গেরস্তবাড়ি। মেরেধরে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে মানুষ খুন করে লুঠপাট করে পালাত।

    এ পাড়াতেই কোথায় একসময়ে নাকি ছিল প্রবল প্রতাপ এক জমিদারবাড়ি অনেকখানি জায়গা জুড়ে। একদিন ডাকাত পড়ল সেই বাড়িতে। তারা যখন লুঠ করতে পারল না তখন জ্বালিয়ে দিল অনেকের ঘরবাড়ি। তারপর বছরের পর বছর কাটল। আগুনে পোড়া বাড়িগুলো একদিন ধূলিসাৎ হয়ে গেল।

    সেই জায়গাটাই কি আজ ‘পোড়া মাঠ’?

    মৌ—এর তা জানবার কথা নয়। সে শুধু নানা কথা শুনেছে ঠাকমার মুখে। তাদের আজকের এই বাড়ি—যে বাড়িতে বাস করছে তা এমন দোতলা কোঠা বাড়ি ছিল না। তখন সে বাড়িতে মৌদেরই কোন পূর্বপুরুষ থাকত, মৌ—এর ঠাকমাও তা বলতে পারেন না।

    মৌ অন্যমনস্কভাবে ওই একদিনই রাত্তিরে ওই ঘরের জানলাগুলো খুলে ফেলেছিল। তার মতো মেয়েও সেদিন ভয় পেয়েছিল। কীসের ভয় তাও সে জানে না। শুধু এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস, ‘পোড়া মাঠে’ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা ছাতিম গাছটা আর পুকুরের পাড়ে কালকাসুন্দে গাছের ফাঁকে ফাঁকে জোনাকির মেলা। ব্যস! মৌ তখনই জানলাগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল।

    অথচ দিনের বেলা যখন জানলাগুলো খুলে পড়তে বসে তখন ‘পোড়া মাঠ’—এর দিকে তাকিয়ে থেকেও ভয় করে না।

    আজ রাত্রে পড়তে পড়তে সেদিনের কথা মনে করে কেমন অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ নজর পড়ল দেওয়াল—ঘড়ির দিকে। পৌনে নটা।

    তাহলে তো আর দেরি নেই। মৌ সতর্ক হল।

    আচ্ছা, এই দেওয়াল—ঘড়িটা কত দিনের পুরোনো? আজকাল গির্জের আকারের এই রকম বড়ো ঘড়ি দেখা যায় না। এই ঘরে টেবিল নেই, চেয়ার নেই, একটা পুরোনো চৌকি ছাড়া আর কোনো আসবাব নেই। তা হলে অত বড়ো ঘড়িটা কেন?

    টক—টক—টক…ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে। নটার দিকে। আর মাত্র সাত—আট মিনিট। একেবারে পাক্কা সময় নটা। টং টং করে ঘড়িতে নটা বাজবে আর শুরু হবে—

    মৌ খুব ভালো করেই জানে নটা বাজলেই কী হবে। তাই সে নটা বাজবার আগেই ঘর ছেড়ে পালাবে। পালাতে বাধ্য হবে।

    নটা বাজতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট। মৌ তাড়াতাড়ি বইখাতা গুছিয়ে নিল। তড়বড় করে উঠে পড়ল চৌকি থেকে। অসাবধানে পেনটা পড়ে গেল হাত থেকে। চৌকির তলা থেকে কুড়োতে সময় লগল দু—মিনিট। তার পরই পড়িমরি করে চলে গেল দরজার দিকে। সুইচ অফ করতে হবে। দরজার—

    ইস! তালাটা রয়ে গেছে চৌকির ওপর। তাড়াতাড়ি আনতে গিয়ে হোঁচট খেল। কোনোরকমে তালাটা নিয়ে এসে সুইচ অফ করে দরজা বন্ধ করার মুহূর্তে ঘড়িতে টং টং করে বাজল নটা। সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভেতরে শুনল অনেকগুলো হালকা পায়ের অস্পষ্ট শব্দ। কারা যেন এল। বইখাতা বুকে আঁকড়ে ধরে মৌ এক দৌড়ে উঠোন পেরিয়ে নিজের ঘরে এসে ঢুকল।

    রান্নাঘর থেকে মা জিগ্যেস করল—পড়ার ঘরে তালা দিয়েছিস তো?

    —হ্যাঁ। বলেই মৌ বইগুলো টেবিলে গুছিয়ে রাখতে লাগল।

    ওপর থেকে মেজদি হাঁক দিল—পড়া হল?

    নীচ থেকে মৌ উত্তর দিল—হ্যাঁ।

    —তবে একটু চা কর না বোন।

    মেজদির এই এক বদ অভ্যাস। যখন—তখন চা—এর দরকার হয়।

    বৌদি রুটি বেলতে বেলতে রান্নাঘর থেকেই চেঁচিয়ে বলল—আমি করে দিচ্ছি ঠাকুরঝি।

    এই মুহূর্তে মৌ—এর কেমন আচ্ছন্ন ভাব। চা করতে হল না। ভালোই হল। সে তখন ভাবছে কী আশ্চর্য ব্যাপার! এ বাড়িতে কেমন সুন্দর জীবিত মানুষের জগৎ। আর উঠোন পারে ওই ঘরটায় যেন মৃতের জগৎ।

    মৃতের জগৎ—এটা তার কল্পনা নয়। বা হঠাৎ চোখে—পড়া কোনো বিশেষ ঘটনা নয়। এ ঘটনা রোজকার। বাঁধা সময় ধরে। আজ কত দিন ধরে ও এটা দেখে আসছে। দেখতে দেখতে রোজ ওই সময়ে ওই ঘরে থাকাটা নেশা হয়ে গেছে। প্রথম যেদিন এ ঘটনাটা দেখেছিল সেদিন রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছিল। দিদিদের কাছে বলেছিল। তারা শুনে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। বৌদি বলেছিল—সন্ধের পর একা একা ও ঘরে নাইবা গেলে ছোটো ঠাকুরঝি। পুরোনো বাড়ি, পাশেই পোড়া মাঠ। তারপর ওই ঘরে নাকি তিন পুরুষ আগে কালীপুজো হত। নিশিপুজো। একবার নাকি বলি বেধে যায়। সবাই হায় হায় করে উঠেছিল। আর সেই বছরই ছোটো খুড়শ্বশুর মায়ের ওপর অভিমান করে গলায় দড়ি দেয়। আহা তরতাজা ছেলেটা। তার অপরাধ কী ছিল? না, বউ—এর কথা শুনে চলত। মা কিছু বললেও বউকে না জানিয়ে করত না। এই নিয়েই মায়ে—পোয়ে অশান্তি। সত্যি মিথ্যে জানি না ভাই, এখানে এসে অব্দি শুনে এসেছি। তারপর দিদিশাশুড়ির মুখে শুনেছি—

    মৌ হেসে বলেছিল—চাটুজ্জেমশাই—এর কথা তো?

    —হ্যাঁ। তুমি হাসছ বটে কিন্তু আমার সারা গা—এই দ্যাখো কীরকম কাঁটা দিচ্ছে।

    বৌদি বলতে লাগল—কে এক কুটুম বাড়ির বৌ এসেছিল। এ বাড়ির তখন যিনি গিন্নি ছিলেন তিনি তাকে একা শুতে দিলেন না। দোতলার ঘরে নিজের বিছানায় নিজের পাশে শোয়ালেন।

    তারপর—

    মাঝরাতে নীচে কোন ঘরে যেন খটাস করে শব্দ। এত জোর শব্দ যে বৌটির ঘুম ভেঙে গেল। বুড়ি গিন্নিমা বললেন—ও কিচ্ছু না। চাটুজ্জ্যে মশাই মাছ ধরতে বেরোলেন। তুমি ঘুমোও।

    কে এই চাটুজ্জ্যে মশাই আজ পর্যন্ত পরিবারের কেউ জানে না। তবু এখনও পর্যন্ত মাঝে মাঝে দোতলায় শুয়ে দুপুর রাতে দরজার খিল খোলার শব্দ অনেকেই শুনেছে। আমিও শুনেছি।

    মৌ বলল—রাত দুপুরে চাটুজ্জ্যে মশাই বেরোতে চান বেরোন। তাই বলে খিল খুলবেন এমন শব্দ করে যে লোকের ঘুম ভেঙে যাবে! এ বড়ো অন্যায় বৌদি।

    বৌদি বলল—এটা বুঝছ না কেন তিনি হচ্ছেন বাড়ির কর্তা। নিঃশব্দে কাজ করা কর্তাদের ধাতে নেই। সব সময়ে জানান দেন—তিনি ‘কর্তা’। যখন খুশি যা খুশি করবেন দাপটের সঙ্গে।

    মৌ হাসি টিপে বলেছে—তা হলে কি ধরে নিতে হবে কবেকার কোন এক চাটুজ্জেমশাই আজও মনে করেন তিনিই এ বাড়ির কর্তা?

    বৌদি গম্ভীর মুখে বললে—তা আমি জানি নে ভাই। তবে বলি, সন্ধের পর ও ঘরে নাই বা ঢুকলে?

    মৌ হেসেই বলল—চাটুজ্জে মশাই না হয় এ বাড়ির কর্তা। এ বাড়িতেই অধিষ্ঠান করেন। তাঁর সঙ্গে আমার পড়ার ঘরের কী সম্পর্ক?

    বৌদি একটু বিরক্ত হয়ে বলল—অতশত জানি নে। তবে উনি যদি বসতবাড়ির কর্তা হয়ে আজও থাকেন তাহলে তোমার পড়ার ঘরও ওঁর এক্তিয়ারের মধ্যে।

    মৌ বিদ্রুপের সুরে বলল—পড়ার ঘর তো যারা পড়ে তাদের জন্যে। চাটুজ্জেমশাই কি তখন ওই ঘরে বসে চণ্ডীমঙ্গলের পুথি পড়তেন?

    বৌদি চটজলদি উত্তর দিল—আজ না হয় তুমি ওটাকে পড়ার ঘর করেছ। তার আগে কী ছিল কে জানে। হয় তো চাটুজ্জেমশাই—এর বৈঠকখানা ছিল।

    বৈঠকখানা!

    কথাটা মৌ—এর মনের মধ্যে গিয়ে গাঁথল। ওই ঘরে প্রথম দিনের কথাটা মনে পড়ল।

    …ঘরটা অনেক দিন ধরে বন্ধই ছিল। কোনো কাজে লাগত না। কলেজে পড়ার সময়ে মৌ আবিষ্কার করল সে বড়ো হয়েছে। পড়াশোনার চাপ বেড়েছে। এখন মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। তার জন্যে চাই নিরিবিলি পরিবেশ। তখনই ঠিক করে ফেলল ওই ঘরটাকেই সে পড়ার ঘর করে নেবে। সকলের হাঁকডাকের বাইরে থেকে একমনে পড়তে পারবে।

    আগের দিন লোক দিয়ে ঘরটা পরিষ্কার করে চৌকির ওপর মাদুর পেতে রেখেছিল মৌ। সকাল বেলায় মুখ ধুয়ে, চা খেয়ে বই—খাতা নিয়ে তালা খুলে ঢুকল ঘরে। ঢুকতেই মিষ্টি মিষ্টি অথচ কড়া একটা গন্ধ…কীসের গন্ধ মৌ ঠিক বুঝতে পারল না…অথচ যেন চেনা গন্ধ।

    মৌ পুব দিকের জানলা দুটো খুলে দিল। সে আমলের ছোটো ছোটো জানলা। জানলার গায়েই পোড়া মাঠ। একেবারে নেমে গেছে পুকুরের ধারে। চোরকাঁটা, বনতুলসী আর ঝোপঝাপে ভর্তি মাঠটা। মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ছাতিম গাছটা। ওদিকে দেখা যাচ্ছে তেলাকুচো লতার টুকটুকে পাকা ফল। পুকুরের ওদিকে আকন্দর ঝোপ। বাতাসে আকন্দ ফুলের গন্ধ ভেসে আসছে। সবচেয়ে ভালো লাগল এই সক্কালবেলাতেই সজনে গাছের ওপর দিয়ে সোনা রোদ গড়িয়ে পড়েছে মাঠের বুকে। এত সুন্দর যে মাঠ তাকে বলে কিনা পোড়া মাঠ!

    সে দিনই সন্ধেবেলা এই ঘরটাই যেন কেমন কেমন। তালা খুলে দু—হাতে দরজার কপাট ঠেলে চৌকাঠে পা রাখতেই কেমন একটা ভ্যাপসা গন্ধ। ঘরের মধ্যে জমাট বাঁধা অন্ধকারটাও যেন কেমন অচেনা।

    ও তাড়াতাড়ি বাঁ হাত বাড়িয়ে হাতড়ে হাতড়ে সুইচবোর্ডটা খুঁজে পেল। সুইচ অন করতেই ঘরটা আলোয় ভরে গেল। উঃ, কত কাল পর এ ঘরে ইলেকট্রিক আলো জ্বলল!

    মৌ জানলা খুলতে গিয়েও খুলল না। পাশেই পোড়া মাঠ—ঝোপজঙ্গল। সাপ ঢুকতে পারে। ঠিক করল আগে জানলায় তারের জাল লাগিয়ে নেবে। তারপর—

    মৌ খুব উৎসাহ করে পড়তে শুরু করল। তখন সন্ধে সাতটা। নিরিবিলিতে সকালের মতোই বেশ মন দিয়ে পড়ছিল। কিন্তু এই সন্ধেতে নিরিবিলিটা যেন বড্ড বেশি মনে হল। এত চুপচাপ ভালো লাগল না। কেবলই মনে হতে লাগল ওই যেন কীসের শব্দ হল…খুব আস্তে। না, ঘরের মধ্যে শব্দ নয়। ঘরের বাইরে। ও তৎক্ষণাৎ দরজাটার দিকে তাকাল। খোলা দরজাটা যেন হাঁ করে গিলতে আসছে!

    আচ্ছা, দরজাটা কি খুলে রেখেই পড়তে বসেছিল?

    হতে পারে।

    মরুক গে। ভয় পাবার কি আছে? নিজেদের বাড়ি তো।

    একটাই ভয়—বাইরে থেকে পাঁচিল টপকে যদি কেউ—

    হ্যাঁ, যদি কেউ চুপি চুপি এসে তার মুখটা চেপে ধরে! চিৎকারও করতে পারবে না। চিৎকার করলেও বাড়ির কেউ শুনতে পাবে না।

    না—না, এরকম কাল্পনিক ভয় পেলে পড়া হবে কী করে? তার চেয়ে দরজাটা বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।

    মৌ উঠে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিল।

    এইবার নিশ্চিন্ত। এইবার পড়ায় মন বসবে।

    মন দিয়েই পড়েছিল মৌ—তা ঘণ্টাখানেক। কিন্তু তারপরই ক্রমশ এই নির্জনতা কেমন ভারী হয়ে উঠতে লাগল। মনে হল যেন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

    মন থেকে এইরকম অস্বস্তি দূর করে মৌ জোর করে পড়া মুখস্থ করার চেষ্টা করল। কিন্তু বারে বারেই মনে হতে লাগল এই ঘরে সে যেন আর একা নেই।

    তখনই উঠে দাঁড়াল কী ঘটছে দেখার জন্যে।

    কিন্তু চোখে কিছুই পড়ল না। শুধু হঠাৎ মাথার ওপর থেকে ঝুরঝুর করে বালি ঝরে পড়ল।

    মৌ—এর মনে হল কেউ যেন তাকে ঘর থেকে চলে যেতে ইঙ্গিত করছে।

    মৌ নিজেকে বোঝাল এ তার মনের ভুল। পুরোনো বাড়ি, বালি খসে পড়তে পারেই।

    তবু গায়ের ভেতর কেমন করতে লাগল। ইচ্ছে করছিল চলে যেতে। কিন্তু যুক্তিহীন ভয়ের কাছে সে হার মানতে চায় না।

    দেওয়াল—ঘড়িটার দিকে চোখ পড়ল। নটা বাজতে দশ মিনিট। হঠাৎ পুব দিকের একটা জানলা খুলে গেল। ঝড় নেই, জোর বাতাস নেই, তাহলে কী করে খুলল?

    তারপরেই ঘরের ভেতর অনেকগুলো খালি পায়ের হালকা শব্দ। কারা যেন ঢুকেছে ঘরে। যারা ঢুকেছে তারা চৌকিটার সামনে এসে দাঁড়াল। যেন মৌকে দেখে অবাক। এ আবার এই সময়ে এখানে মরতে এল কেন?

    মৌ যেন স্পষ্ট বুঝতে পারল সে এখানে থাকে এরা তা চায় না। মৌ—এর গায়ে নিঃশ্বাসের গরম হাওয়া।…”যাও—যাও—”

    ফিসফিস গলার সতর্কবাণী।

    টং টং করে ঘড়িতে নটা বাজল। সঙ্গে সঙ্গে ঘরের দরজাটা আপনি খুলে গেল।

    ইঙ্গিতটা বুঝতে পারল মৌ। ওদের জন্যে এখন ঘর ছেড়ে দিতে হবে।

    বই—খাতা তুলে নিয়ে মৌ আলো নিবিয়ে তালা বন্ধ করার সময়ে ওদের মতো ফিস ফিস করে বলল—আপনারা কে তা জানি না। তবে আমি আসবই—রোজ আসব। এ আমার পড়ার ঘর। এ আমি মনের মতো করে গুছিয়ে নিয়েছি।

    মৌ তার প্রতিজ্ঞা রেখেছে। এখনও রোজ দু—বেলা এ ঘরে বসে পড়ে। তবে রাত্রিবেলা নটা বাজবার আগেই ওদের জন্যে ঘর ছেড়ে দিতে হয়।

    ওরা কারা মৌ জানে না। জানতে চায়ও না। কী দরকার?

    ২০০৫, জুন, শুকতারা

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনতুন নতুন নাটক – সম্পাদনা: মনোজ মিত্র
    Next Article ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    Related Articles

    মানবেন্দ্র পাল

    অশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    মানবেন্দ্র পাল

    ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }