Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অমনিবাস ২ – মানবেন্দ্র পাল

    মানবেন্দ্র পাল এক পাতা গল্প507 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.১৮ শেষ ছোবল

    ।।আঠারো।। শেষ ছোবল

    শনিবার।

    সেই শনিবার। বিশ্বাস করুক না করুক, তবু একটা অজানা ভয়ে সকাল থেকেই সঞ্জয় যেন বিশেষ চিন্তিত। তার ওপর রীণার শরীর মোটেই ভালো নয়। বিছানা থেকে ওঠার শক্তিটুকুও নেই। কেন যে এমন হল সঞ্জয় কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না। তার ওপর কাল রাত্তির থেকে হঠাৎই পুপুর জ্বর হয়েছে। এবার শুধু চোখ নয়, বুড়োদের মতো গাল দুটোও বসে গেছে।

    সঞ্জয় ক’দিন বেরোচ্ছে না। সকালেই একবার ডাঃ রুদ্রকে ফোন করেছিল। পায়নি। একটু আগে ফের ফোন করল। এবার পেল। ডাঃ রুদ্র বললেন, সন্ধের সময়ে যাচ্ছি। আর দ্যাখো, আজ যে শনিবার এটা রীণাকে জানিও না।

    শেষ বিকেল।

    পশ্চিমের জানলা দিয়ে একফালি রোদ দেওয়ালে এসে পড়েছে। কেমন যেন ফ্যাকাশে রোদ। এ যেন এক মন—খারাপ—করা বিকেল। এরকম সময়ে অন্যদিন সে বাড়ি থাকে না। তাই নির্জন ঘরে শীতের বিকেল যে এমন ভারাক্রান্ত হয় সঞ্জয় তা জানত না। এইসব বিকেলে বেচারি রীণা কী করে যে একা থাকে তাই ভেবে সঞ্জয় আজ বিচলিত হল।

    রীণার বিছানার কাছে একটা চেয়ারে বসে সিগারেট খাচ্ছিল। ভাবনাটা এবার অন্যদিকে মোড় নিল। আজ রাত্তিরে যদি সত্যিই তেমন—কিছু ঘটে তা হলে সাবধানতার জন্য যা যা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে করেছে তা যথেষ্ট কি না তা আর একবার যাচাই করে দেখতে চাইল।

    নিজের ছোটো টর্চ ছাড়াও নতুন একটা বড়ো টর্চ কিনে রেখেছে। ছোটো—বড়ো দুটো টর্চেই নতুন ব্যাটারি। রুগির হার্ট ঠিক রাখার মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রেখেছে। ঘরে কুঁজো—ভর্তি খাবার জল, চা, কফি, দুধ, এক টিন বিস্কুট—তা ছাড়া এক বোতল ব্রান্ডি—রাত জাগার জন্যে এসবেরই দরকার। সব কিছুরই ব্যবস্থা হয়ে আছে।

    সারা রাত তাকে একাই জেগে থাকতে হবে। একবার ভেবেছিল বন্দনার মা—বাবাকে ডাকবে। কিন্তু ভেবে দেখল, কী জন্যে ডাকবে? তাঁদের তো বলা যাবে না যে, আজ রাত্রে অশরীরীটি হানা দেবে তার ঘরে।

    একমাত্র রীণার কিছুটা বাড়াবাড়ি হওয়া ছাড়া আর যে কিছুই ঘটবে না সঞ্জয় সে সম্বন্ধে নিশ্চিত। কেননা সে জানে ঘরে লোক জেগে থাকলে তেমন কিছু হয় না।

    সঞ্জয় ঘড়ি দেখল। ছটা বাজে। পুপুকে ওষুধ খাওয়াল। কেন কে জানে, ও আজ বড্ড ঘুমোচ্ছে। এবার রীণাকে দুধ খাওয়াতে হবে। ও তো কিছুই খেতে চাইছে না। শুধু চোখ বুজিয়ে পড়ে আছে। তবু গরম দুধ একটু না খাওয়ালেই নয়।

    সঞ্জয় উঠে দুধ গরম করতে গেল।

    একটু পরেই রীণার ক্ষীণ ব্যাকুল স্বর শোনা গেল।

    —তুমি কোথায়?

    —এই যে দুধ গরম করছি।

    —শুনে যাও।

    —যাচ্ছি।

    হিটার থেকে দুধের সসপ্যানটা নামিয়ে রেখে সঞ্জয় রীণার কাছে গেল। দেখল রীণা চারিদিকে তাকিয়ে কী যেন দেখছে।

    —কী হল?

    —কিছু না। তুমি আমার কাছে বোসো।

    —দুধটা আনি?

    —পরে এনো। তুমি এখন বোসো।

    —দুধ জুড়িয়ে যাবে। ফের গরম করতে হবে। বলে সঞ্জয় বসল।

    —দ্যাখো, আমি যেন কিছুই ভালো করে মনে করতে পারছি না। সব যেন কেমন ঘুলিয়ে যাচ্ছে।

    —কীরকম? রীণার হাতটা সঞ্জয় তুলে নিল নিজের হাতে। একটু চমকাল। হাত দুটো ঠান্ডা।

    —মনে হচ্ছে আমি যেন কত যুগ ধরে ঘুমোচ্ছি। কখনো মনে হচ্ছে আমি যেন আর এই পৃথিবীতে নেই। ক—ত দূরে চলে গেছি। তারপরেই বুঝতে পারছি—না, কোথাও তো যাইনি। এই তো আমার ঘর—এই তো আমার বিছানা—এই তো পুপু সোনা—পুপু কোথায়?

    —বন্দনা নিয়ে গেছে।

    রীণা একটু থামল। তারপর চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, আচ্ছা, সেই লোকটা কি আর এসেছিল?

    —কোন লোকটা?

    —সেই যে ম্যাজিশিয়ানের মতো দেখতে। কালো প্যান্ট—কোট—কালো টুপি—

    —না তো, কোনো লোকই আসেনি। একটু হেসে আবার বলল, তাঁকে দেখার সৌভাগ্য তো আমাদের হয় না। উনি কেবল তোমাকেই দেখা দেন।

    —হ্যাঁ। আমাকেই যে তার দরকার। কী দরকার গো বলো না।

    রীণা একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল সঞ্জয়ের চোখের দিকে।

    —উঃ! কী সাংঘাতিক গেছে সেদিনের সেই বিকেলটা। আমি পুপুকে কোলে নিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। হঠাৎ দেখি ঘরের মধ্যে কী যেন ঘুরছে তো ঘুরছেই। ধোঁওয়া—শুধু ধোঁওয়া….

    বলতে বলতে রীণা হঠাৎ ছিটকে উঠে বসল। দ্রুত নিশ্বাসে তার বুক ওঠা—পড়া করতে লাগল। দু—চোখে ভয়ের কালো ছায়া।

    —কী হল? অমন করে উঠে বসলে কেন?

    —আজ—আজ সেই শনিবার না?

    —শনিবার! না, না, শনিবার তো কাল গেছে। আজ রবিবার।

    রীণা প্রবলভাবে মাথা নাড়ল।—কক্ষনো না। আজই শনিবার।

    সঞ্জয় হাসল—পাগল! শনিবার হলে আমি বাড়ি থাকি?

    রীণার তবু যেন বিশ্বাস হল না। এদিক—ওদিক তাকাল।

    —এখানে যে ক্যালেন্ডারটা ছিল?

    —পেরেকটা খসে গেছে। ওঘরে টাঙিয়ে রেখেছি।

    রীণা আর বসে থাকতে পারল না। শুয়ে পড়ল।

    —কী জানি, আমার মনে হচ্ছে তুমি আমায় লুকোচ্ছ।

    —শুধু শুধু লুকোব কেন?

    —আর ভাবতে পারছি না। বলে পাশ ফিরে শুলো। একটু পরে পাশ ফিরেই বলল, সন্ধে হয়েছে?

    —না।

    —তবু আলোটা জ্বেলে দাও। একটু অন্ধকার হলেই ভয় করে।

    সঞ্জয় আলো জ্বেলে দিল। রীণার চোখ দুটো হঠাৎ ঝকঝক করে উঠল।

    —এবার তোমার দুধ গরম করে আনি?

    —পুপু খেয়েছে?

    —হ্যাঁ। বন্দনাই দুধ খাইয়ে নিয়ে গেছে।

    —মনে হচ্ছে ছেলেটাকে যেন কত দিন দেখিনি। ওকে একবার নিয়ে এসো না।

    —আগে তুমি দুধ খেয়ে নাও। তারপরে আনব।

    সঞ্জয় উঠে দুধ আনতে যাচ্ছিল রীণা আবার ডাকল, তুমি বলছ আজ রবিবার?

    —হ্যাঁ। কতবার বলব?

    —শনিবারের সেই ফাঁড়া তাহলে কেটে গেছে?

    সঞ্জয় ধমক দিয়ে বলল—ফাঁড়া আবার কি? কিছুই হয়নি। সবই মনের ভুল।

    রীণা হঠাৎ আবার উঠে বসার চেষ্টা করল।

    —শোনো শোনো, বলে দু—হাত বাড়িয়ে সঞ্জয়ের হাত দুটো চেপে ধরল—আচ্ছা, মিস থাম্পি যেমন সেই প্রফেসারকে হিপনোটাইজ করেছিল তেমনি আমাকেও কেউ করছে না তো?

    —হিপনোটাইজ! শুধু শুধু তোমায় কেউ হিপনোটাইজ করবে কেন? তা ছাড়া ওসব গালগল্প। বলে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে দুধ আনতে গেল।

    .

    সন্ধের একটু পরে ডাঃ রুদ্র এলেন। মসমস করে ঢুকলেন রীণার ঘরে।

    —কেমন আছ?

    —ভালো—নয়। মোটেই ভালো নয়। তবু আপনাকে দেখলে যেন ভরসা পাই।

    ডাক্তার রুদ্র একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসলেন। তারপর রীণার হাতটা টেনে নিলেন।

    —লেপের বাইরে হাত রেখে শুয়েছিলে বুঝি?

    রীণা বলল, কী জানি। খেয়াল নেই।

    ডাক্তার রুদ্র প্রেশার মাপতে লাগলেন। একবার—দুবার তিনবার—সঞ্জয় ঝুঁঁকে পড়ল।

    —কত? রীণা জিজ্ঞেস করল।

    —ঠিক আছে।

    রীণা সঞ্জয়কে বলল, ওঁকে কফি দাও।

    ডাঃ রুদ্র বললেন, আজ অনেকবার চা—কফি হয়েছে। আর নয়। বরঞ্চ রাতের খাওয়ার ব্যবস্থা করো। বলে রীণার দিকে তাকিয়ে হাসলেন।

    রীণা উৎফুল্ল হয়ে বলল, আপনি রাত্তিরে এখানে খাবেন? কী সৌভাগ্য! কিন্তু আমি তো রান্না করে খাওয়াতে পারব না।

    কথার শেষে হতাশ ভাব ফুটে উঠল রীণার মুখে।

    —ঠিক আছে। তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে আবার একদিন না হয় খাব।

    রীণা ম্লান হাসল।—মনে রাখবেন কিন্তু।

    —হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। বলে ডাঃ রুদ্র চুরুট ধরালেন।

    .

    নটা বাজল।

    ডাঃ রুদ্র নীচু গলায় বললেন, খুব ভাগ্য এক চান্সেই আমার বাড়ির লাইন পেয়ে গেলে। নইলে বাড়ি ফিরব না এই খবরটুকু দেবার জন্যে আবার বাড়ি ছুটতে হত।

    সঞ্জয় কিছু বলল না। অন্যমনস্ক হয়ে কী যেন ভাবছিল।

    —কী হল? অমন করে রয়েছ যে?

    —ওর অবস্থা কি খুবই খারাপ?

    —খারাপ বলব না। তুমি নিজে ডাক্তার। প্রেশার তো দেখলে। ফল করছে। তাই ভাবলাম রাত্তিরে যদি আরো কিছু হয় তুমি একা নার্ভাস হয়ে পড়বে। সেজন্যই থেকে গেলাম। তা ছাড়া বলা যায় না যদি আজ রাত্রে ও কিছু দেখেটেখে? দুর্বল শরীর—

    পাশের ঘর থেকে রীণা ডাকল—একবার আসবে?

    সঞ্জয় তাড়াতাড়ি উঠে গেল।

    মৃদু আলো জ্বলছে। ধবধবে বিছানায় গলা পর্যন্ত সাদা ওয়াড় পরানো লেপ ঢাকা দিয়ে রীণা শুয়ে আছে। সঞ্জয় কাছে আসতেই রীণা তাকাল—

    —কী বলছ?

    —উনি খেয়েছেন তো?

    —হ্যাঁ।

    —কীই বা খেলেন! ভারি লজ্জা করছে আমার।

    —লজ্জার কী! তুমি সেরে উঠলে ভালো করে খাওযাব।

    রীণা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারছি না—উনি রাত্তিরে এখানে থাকবেন কেন? সত্যি বলো আমার অবস্থা কি খারাপের দিকে যাচ্ছে?

    সঞ্জয় হেসে উঠল। আরে না—না। আগের চেয়ে অনেক ভালো আছ।

    —তা হলে উনি থাকছেন কেন?

    —এমনিই। বললেন, বাড়িতে কেউ নেই। বাড়ি যেতে আর ইচ্ছে করছে না।

    রীণা অবিশ্বাসের সুরে বলল, বাড়িতে কেউ না থাকলে লোকে কি বাইরে রাত কাটায়? ডাক্তারের বাড়ি বলে তো চোর—ডাকাতে খাতির করবে না।

    সঞ্জয় হাই তুলে বলল, তা হয়তো ঠিক। তবে এও ওঁর একটা খেয়াল। হয়তো স্টকে নতুন কোনো গল্প জমেছে। রাত জেগে শোনাবেন।

    কথাটা রীণার মনে ধরল না। বলল, আমার ধারণা—নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে উনি এখানে থাকতে চাইছেন।

    রীণা একটু চুপ করল। সঞ্জয় কিছু বলার আগেই বলল, আমার মনে হয় আজই শনিবার। সত্যি করে বলো না গো!

    —দূর! তোমার কেবল সেই এক কথা—শনিবার—শনিবার—সাড়ে নটা বাজল। একটু ঘুমোও তো।

    —এত তাড়াতাড়ি ঘুমোব? যদি মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়?

    —ভাঙবে না। তুমি ঘুমোও।

    রীণা ঘুমোবার জন্যে পাশ ফিরল। তারপরেই জিজ্ঞেস করল, পুপু কী করছে?

    —ঘুমোচ্ছে।

    —মশারি টাঙিয়ে দিয়েছ তো?

    —হ্যাঁ, হ্যাঁ। তোমার কোনো চিন্তা নেই। এবার তুমি একটু ঘুমোও।

    বলে সঞ্জয় তাড়াতাড়ি বাইরের ঘরে চলে এল।

    .

    রাত সাড়ে দশটা।

    বাইরের ঘরে সঞ্জয় আর ডাক্তার রুদ্র। ডিভানের ওপরে ডাক্তার রুদ্র র‌্যাগ মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়েছেন। মাটিতে শুয়েছে সঞ্জয়।

    ডাক্তার রুদ্র জিজ্ঞেস করলেন, কী ভাবছ? তুমি অবশ্য আমার সামনে স্বচ্ছন্দে স্মোক করতে পার।

    সঞ্জয় সে কথায় সাড়া না দিয়ে বলল, ও তো বেশ সামলে উঠেছিল। হঠাৎ এমন হল কেন?

    ডাঃ রুদ্র বললেন, আমি তো তোমায় বলেছি এ বাড়ি না ছাড়লে ও কখনো একেবারে সুস্থ হবে না। পুপুও ভালো নেই। কেমন Pale হয়ে যাচ্ছে। কেন?

    সঞ্জয়ের বুকটা কেঁপে উঠল। উত্তর দিতে পারল না।

    —সত্যি হোক মিথ্যে হোক এ বাড়ির সঙ্গে ওর মানসিকতার সম্পর্ক এমন একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে ওর subconscious মনে সবসময় একটা আতঙ্ক দানা বেঁধে রয়েছে। তার থেকে ওর নিষ্কৃতি নেই। ওষুধ দিয়ে ওকে আর সুস্থ করা যাবে না।

    —আমি ভাবছি, এত দুর্বল হয়ে পড়ল কেন? সন্ধের সময়ে বলছিল—কিছুই মনে করতে পারছে না। সব যেন খেই হারিয়ে ফেলছে।

    ডাঃ রুদ্র বললেন, শুধু শরীর নয়, মনও অসুস্থ মনে দুর্বল হয়ে পড়বেই।

    একটু থেমে বললেন, আচ্ছা, আজ যে শনিবার ও জানে না তো?

    সঞ্জয় বলল, না। তবে আজই শনিবার কিনা বার বার জিজ্ঞেস করছিল। ক্যালেন্ডার দেখতে চাইছিল। আমি আগেই সরিয়ে রেখেছিলাম।

    ডাঃ রুদ্র বললেন, ভালো করেছ। ও যদি জানতে পারে আজ সেই শনিবার তাহলে একেবারে ভেঙে পড়বে।

    —কিন্তু ক্যালেন্ডার সরিয়ে রেখেও নিস্তার নেই। আমায় অনেক জেরা করল।

    —কীরকম?

    —জানতে চাইল আপনি রাত্তিরে হঠাৎ এখানে থাকছেন কেন? বললাম—কাকিমা এখানে নেই—বাড়ি খালি। তাই যেতে চাইলেন না। ও বিশ্বাস করল না। ওর ধারণা—হয় ওর অবস্থা ভালো নয়, না হয় নিশ্চয়ই আজ সেই শনিবার বলে আপনি রাতে এখানে থাকছেন।

    ডাক্তার রুদ্র গম্ভীর হয়ে গেলেন। একটু চুপ করে থেকে বললেন, এসব চিন্তা ওর মাথায় ঢুকলে তো মুশকিলের কথা।

    সঞ্জয়ের মুখটা শুকিয়ে গেল।—মুশকিল কেন বলছেন?

    —জানো তো ওর হার্ট কীরকম দুর্বল। প্রেশারও অনেক কম। তার ওপর যদি হঠাৎ ও ভয় পায়—

    সঞ্জয় ব্যাকুল হয়ে বলল, তাহলে—

    —আমরা তো ওর পাশেই রয়েছি। সবরকম ব্যবস্থাই করে রেখেছ। দেখা যাক।

    .

    ঘড়িতে এগারোটা বাজল।

    ডাক্তার রুদ্র টেবিল—লাইট জ্বেলে একটা বই পড়ছিলেন। বইটা মুড়ে রেখে বললেন, যদি আজ রাত্রে সত্যিই কেউ আসে তাহলে হাতে অন্তত ঘণ্টা তিনেক সময়।

    সঞ্জয় মাটিতে মশারি টাঙিয়ে পুপুকে নিয়ে শুয়েছিল। বলল, ততক্ষণ একটু ঘুমিয়ে নেবেন ভাবছেন?

    —না, এখনই ঘুমোনো নয়। আগে রীণার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। বলে ব্যাগটা নিয়ে ডাক্তার রুদ্র ভেতরে গেলেন।

    মিনিট দশেক পরে বাইরে এসে বসলেন। সঞ্জয়কে বললেন, একটা ইনজেকশান দিলাম। গভীর ঘুমের মধ্যে থাকুক। তেমন কিছু ঘটলেও জানতে পারবে না।

    .

    বারোটা বাজল।

    ডাক্তার রুদ্র বইটা মুড়ে চেয়ারের ওপর রাখলেন। টেবিলে থেকে প্রেশার মাপার যন্ত্রটা নিয়ে রীণার ঘরে ঢুকলেন।

    পুপু উসখুস করছিল। পিঠ চাপড়ে ওকে আবার ঘুম পাড়িয়ে সঞ্জয় যখন বিছানা থেকে বেরিয়ে এল ডাঃ রুদ্র তখন রীণাকে পরীক্ষা করে ফিরে এসেছেন।

    —কেমন দেখলেন?

    —একই রকম। তবে ঘুমোচ্ছে। আচ্ছা, এবার তুমি ওর ঘরের আলোটা নিভিয়ে দাও।

    —একেবারেই নিভিয়ে দেব, না নীল বালবটা—

    —না, একেবারে অন্ধকার করে দাও।

    সঞ্জয় একটু অবাক হল। কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করল না। আলো নিভিয়ে দিয়ে বেরিয়ে এল।

    —এবার চলো আমরা বাইরে গিয়ে বসি।

    —বাইরে? কেন?

    —শোনো সঞ্জয়, আজ যখন রাত্তিরটা এখানে থেকেই গেলাম তখন একটু বিশেষ করে লক্ষ করতে চাই, সত্যিই কিছু ঘটে কি না!

    এত মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যেও সঞ্জয় একটু হাসল। বলল, কিছু ঘটলেও তো আপনি— আমি দেখতে পাব না।

    —কী করে জানছ? এর আগে যখনই ঘটনা ঘটেছে তখন তোমরা ঘুমোও। জেগে থাকলে হয়তো কিছু দেখতে না পাও, বুঝতে পারতে।

    সঞ্জয় আবার হাসল।—তার জন্যে আমরা রীণাকে, পুপুকে একলা ফেলে বাইরে যাব? সেটা কি উচিত হবে?

    —হ্যাঁ, এ ঘরটাও খালি রাখতে হবে।

    —এই শীতে আমরা বাইরে কোথায় বসব?

    —ব্যালকনিতে, ওইখানেই আমরা বসব। বলে নিজেই একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বাইরে চলে এলেন। অগত্যা সঞ্জয়কেও আর একটা চেয়ার নিয়ে বসতে হল।

    —যাক, সিঁড়ি থেকে রীণার ঘর পর্যন্ত সব ফাঁকা। ডাঃ রুদ্র যেন বেশ খুশি হলেন।

    —আপনি কি ভেবে রেখেছেন তিনি এলে আমরা সিঁড়ির মুখেই জাপটে ধরব?

    সঞ্জয়ের বলার ভঙ্গিটা বিদ্রুপের মতো শোনাল।

    —না, তা নয়। spirit যাতে বিনা বাধায় রীণার কাছে যেতে পারে তার জন্যেই এই ব্যবস্থা।

    সঞ্জয় গরম চাদরে আপাদমস্তক মুড়ি দিয়ে বলল, spirit যদি সত্যি আসতে চায় সে কি কোনো বাধা মানবে? রীণা যখন তাকে দেখেছিল, ঘরের দরজা কি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল না?

    রুদ্র বললেন, সে বাধা অন্য। আমি বলছি ঘরের মধ্যে একাধিক লোক জেগে বসে থাকলে স্পিরিট কিছুতেই আসে না। আমার মনে হয়, মানুষ যেমন প্রেতের ভয় পায়—প্রেতরাও তেমনি মানুষকে ভয় পায়। দুর্বল একাকী মানুষই তাই প্রেতের শিকার হয়। যাক, টর্চটা নিয়েছ তো?

    —হ্যাঁ। বলে বড়ো টর্চটা রুদ্রের হাতে দিল।

    কয়েক মিনিট দুজনেই চুপচাপ। ডাঃ রুদ্র একটা চুরুট ধরালেন। বললেন, এখনকার মতো একটা চুরুট খেয়ে নিই। এরপর আর খাওয়া যাবে না। চুরুটের আগুন এমনকি গন্ধও হয়তো স্পিরিটের আসার পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

    —আচ্ছা, spirit—এর আসার জন্যে আমরা ব্যাকুলই বা হচ্ছি কেন? সে তো আমাদের আনন্দদান করতে আসবে না।

    ডাঃ রুদ্র বললেন, spirit যদি সত্যিই তার কথা রাখে তা হলে যা ঘটবার তা আজই ঘটে যাক। নইলে তো আবার অনিশ্চিন্তে আর একটা দিনের অপেক্ষা করতে হবে।

    আবার কিছুক্ষণ চুপচাপ। হঠাৎ ঘরের ভেতরে মনে হল রীণা জেগে উঠেছে।

    ও কী ডাকছে? সঞ্জয় গায়ের র‌্যাগ ফেলে রেখে ছুটল। পিছনে ডাক্তার রুদ্র।

    সঞ্জয় আলো জ্বালল। দেখল রীণা উসখুস করছে আর মুখে অস্বস্তির একরকম শব্দ। লেপটা মাটিতে পড়ে গেছে।

    সঞ্জয় লেপটা তুলে ভালো করে গায়ে ঢাকা দিয়ে কিছুক্ষণ রীণার কাছে বসে রইল।

    —এবার এসো।

    সঞ্জয় উঠে এল।

    —আলোটা নিভাও।

    অগত্যা সঞ্জয়কে আলো নিভিয়ে দিতে হল। বাইরের ঘরে এসে মশারির মধ্যে টর্চ ফেলে একবার পুপুকে দেখে নিল সঞ্জয়। না, পুপু নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে।

    দুজনে আবার বসল।

    নিশুতি শীতের রাত থমথম করছে। পরিষ্কার নীল আকাশের গায়ে তারাগুলোর রহস্যময় নিঃশব্দ হাসি।

    সঞ্জয় বলল, আমি এখনো এসব বিশ্বাস করি না। সত্যি কথা বলতে কি থ্রিল অনুভব করলেও জানি না এমন কেন মনে হচ্ছে যে আমরা বড়োই অসহায়। তার ওপর নিরস্ত্র।

    ডাক্তার রুদ্র হেসে বললেন, অশরীরীদের মোকাবিলা করতে রিভলবার কোনো কাজে লাগে না—এই টর্চই একমাত্র অস্ত্র।

    .

    আরও কতক্ষণ কেটে গেল। নীচে কারো ঘরে দেওয়াল—ঘড়িতে ঠং করে শব্দ হল। সঞ্জয় চমকে উঠল।—কটা বাজল? একটা না দেড়টা?

    —দেড়টা। বলে ডাক্তার রুদ্র হাতের আড়াল দিয়ে আলগা করে টর্চের বোতাম টিপে রিস্টওয়াচটা দেখে নিলেন।

    —দেড়টা! তা হলে একটা বাজল কখন?

    ডাক্তার রুদ্র বললেন, তুমি তখন ঘুমিয়ে পড়েছিলে।

    সঞ্জয় লম্বা আলিস্যি ভাঙল।

    —সত্যি আমি আর পারছি না। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছে। শুধু শুধু—

    সঞ্জয় কথা আর শেষ করল না।

    ডাক্তার রুদ্র গম্ভীর স্বরে বললেন, হোক শুধু শুধু। এ ছাড়া উপায়ও ছিল না। আজ এই শনিবারের রাত্রিটা ছিল রীণার পক্ষে মারাত্মক। সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রীণার এতক্ষণ কী হত বলতে পারি না।

    —তা হলে আপনি বলছেন, আমরা পাহারা দিচ্ছি বলে আজ আর কিছু হবে না?

    —না হওয়াই স্বাভাবিক। যদি হয়ও মারাত্মক কিছু হবার আগেই আমরা গিয়ে পড়ব।

    এমনি সময়ে দূরে বড়ো রাস্তায় একটা খ্যানখেনে বিকৃত গলার চিৎকার শোনা গেল।

    ডাক্তার রুদ্র চমকে উঠলেন।

    সঞ্জয় হেসে বলল, ও কিছু নয়। একটা মাতাল যাচ্ছে। রোজই এই সময়ে যায়।

    বলে ব্যালকনির ধারে গিয়ে দাঁড়াল।

    ডাক্তার রুদ্র হেসে বললেন, কী দেখছ? রাতের কলকাতার শোভা?

    সঞ্জয় বলল, না। মাতালটার গলা শুনেছি, দেখিনি কখনো। তাই—

    —দেখতে পেলে?

    —হ্যাঁ, ওই যে যাচ্ছে—ঠিক যেন একটা ছায়ামূর্তি।

    মাতালটা চলে গেল। সঞ্জয় তবু দাঁড়িয়ে রইল।

    নিস্তব্ধ রাত। বাড়ির পিছনে কম্পাউন্ডের গায়ে বনঝোপের মধ্যে রাতকানা একটা পাখির পাখা ঝাপটানো। ও দিকে যশোর রোডের মসৃণ দেহের ওপর দিয়ে গর্জন করতে করতে মাঝেমধ্যে ছুটছে লরি। স্ট্রিট—লাইটের আলোয় ঝলমল করছে রাস্তাটা।

    গোটা বাড়িটা গভীর রাতে একটা রহস্যপুরীর মতো দাঁড়িয়ে। কত নিশ্চিন্তে নীচের তলায় মহিমাবাবু, অমৃতবাবুরা ঘুমোচ্ছেন। দোতলার ঘরে উদ্ভিন্নযৌবনা কিশোরীটি কি কোনো সুখস্বপ্ন দেখছে?

    —আচ্ছা সঞ্জয়, বাড়িটার ওপর ওরকম মধ্যযুগীয় গম্বুজটা কেন ভেবেছ কখনো?

    —না। ও আর ভাবব কি? বাড়িওয়ালার শখ।

    সঞ্জয় চেয়ারে বসল।

    —কিন্তু কোন যুগের মানুষের এইরকম শখ ছিল?

    —তা বলতে পারব না।

    —সঠিক বলতে না পারলেও অনুমান করা যায় এ তল্লাটে এত পুরোনো বাড়ি আর নেই। যদিও পরে অনেক অলটারেশান হয়েছে।

    —হ্যাঁ, তা হয়েছে। তবে তিনতলাটা এখনো ইনকমপ্লিট। আর সিঁড়িটা—

    সঞ্জয় প্রচণ্ড জোরে নিজের গালে একটা চড় মেরে বলে উঠল—উঃ! মশায় অস্থির করে দিল। এ অঞ্চলের মশা! এদের কামড়ই আলাদা।

    —আচ্ছা, মিস থাম্পি বাড়িটা সম্বন্ধে কিছু বলেননি?

    সঞ্জয় ইতস্তত করে বলল, হ্যাঁ বলেছেন। তাঁর মতে এখানে কিছু আছে।

    —উনি এ কথা বলেছেন?

    সঞ্জয় হাই তুলে হালকা মেজাজে বলল, হ্যাঁ, উনি যেখানেই যান সেখানেই কিছুর সন্ধান পান বোধ হয়। মান্তুর এক বান্ধবীর বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখানেও অশরীরী আত্মা দেখেছিলেন।

    —তাই নাকি?

    —হ্যাঁ। তবে এখানে কিছু দেখার ভাগ্য তাঁর হয়নি। বুঝতে পেরেছিলেন।

    ডাক্তার রুদ্র চোখ বুজিয়ে কিছু ভাবতে লাগলেন। হঠাৎ একসময়ে তিনি চমকে উঠলেন।

    —কিছু শুনতে পাচ্ছ? ডাঃ রুদ্রর স্বরটা কেমন চাপা।

    —মশার ঐকতান ছাড়া আর তো কিছু শুনছি না।

    ডাক্তার রুদ্র চুপ করে রইলেন। সঞ্জয়ও আর কিছু বলল না। জোর করে একটা হাই তুলল।

    আরো কিছুক্ষণ কাটল। ডাক্তার রুদ্র হঠাৎ র‌্যাগটা খুলে ফেললেন।

    —কী হল? এই ঠান্ডায় র‌্যাগ খুললেন কেন?

    —কেমন একটা গরম হাওয়া বইছে না?

    সঞ্জয় চোখ বুজিয়ে নির্লিপ্ত স্বরে বলল, গরম বা ঠান্ডা কোনো হাওয়াই তো পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীটা হাওয়াশূন্য হয়ে গেছে।

    —কিন্তু, আমার মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।

    —যা ঘটছে তা শুধু রাত্রিজাগরণ।

    ডাক্তার রুদ্র এবার হাই তুললেন। বললেন, তা বটে। আমারও এখন ঘুম পাচ্ছে।

    সঞ্জয় ব্যালকনির পাঁচিলে দু—পা তুলে চেয়ারে শরীরের আধখানা বিছিয়ে দিয়ে বলল, ঘুমোন তবে। ঘুমেই আরাম ঘুমেই শান্তি। ঘুমের তুল্য জিনিস নেই।

    —আশ্চর্য, এত মনের জোর করেও ঘুম আটকাতে পারছি না। এমন কখনো হয় না। কিন্তু ঘুমোলে চলবে না। কটা বাজল? নিজেকে যেন নিজেই প্রশ্ন করলেন রুদ্র। সাবধানে টর্চের আলোয় ঘড়িটা দেখলেন।

    —Just two, কিন্তু নীচের ঘড়িতে দুটো বাজল না তো?

    সঞ্জয় চোখ বুজিয়েই বলল—বোধহয় শুনতে পাইনি।

    —কিন্তু—এইটেই সময়। ঠিক দুটোতেই তো—

    রুদ্র উঠে দাঁড়ালেন।

    —রীণাকে একবার দেখে আসি।

    সঞ্জয়ও উঠে পড়ল।

    ঠিক সেই সময়ে ঘরের মধ্যে পুপু ককিয়ে কেঁদে উঠল। সেই কান্না শুনে সঞ্জয়ের রক্ত হিম হয়ে গেল। চিৎকার করে উঠল—কাকাবাবু, শিগগির—

    বলে দৌড়ে ঘরের দিকে গেল।

    দুটো ঘরই অন্ধকার। সঞ্জয় যখন বসার ঘরের সুইচ হাতড়াচ্ছে, ডাক্তার রুদ্র ততক্ষণে ভেতরের ঘরে ঢুকে পড়েছেন।

    ঢুকেই তিনি সুইচে হাত দিলেন। আলো জ্বলল না। দেওয়ালে ধাক্কা লেগে টর্চটা হাত থেকে কোথায় ছিটকে পড়ল।

    —লোডশেডিং! সঞ্জয়, টর্চটা—শিগগির—

    সঙ্গে সঙ্গে সঞ্জয়ের হাতের টর্চের আলো ঝলকে উঠল। সেই আলো গিয়ে পড়ল রীণার বিছানায়। দেখল রীণার মাথা থেকে পিঠ পর্যন্ত ঝুলছে খাট থেকে। লেপটা পড়ে আছে মাটিতে।

    কয়েক মুহূর্ত…

    সঞ্জয়ের পা দুখানা যেন মেঝের সঙ্গে আটকে গিয়েছে।

    সঞ্জয়ের হাত থেকে টর্চটা ছিনিয়ে নিয়ে রুদ্র ছুটে গেলেন রীণার কাছে। এক হাতে টর্চ। অন্য হাতে কোনোরকমে তুলে ধরলেন মাথাটা।

    —তাড়াতাড়ি এসো।

    সঞ্জয় এগিয়ে এল। ওর হাত দুটো তখন কাঁপছে।

    —পা দুটো ধরো। ওদিক থেকে ধরো—don’t get nervous.

    সঞ্জয় বিছানার ওপর উঠে রীণার পা দুটো ধরল।

    —এবার লম্বালম্বিভাবে শোওয়াতে হবে। দাঁড়াও—বালিশটা দিই—উঃ! আলোটাও এই সময়ে গেল! না, আলো তো দেখছি শুধু এ বাড়িতেই গেছে—ও কী! তুমি ওরকম করছ কেন? সরো। বলে ধমকে উঠলেন।

    রীণাকে বিছানায় ঠিকমতো শুইয়ে দিয়ে রুদ্র নিজেই লেপটা তুলে রীণার গায়ে দিয়ে দিলেন।

    —লণ্ঠনটা জ্বালো। কী হল? দাঁড়িয়ে রইলে কেন?

    —ও বোধহয় আর নেই।

    —কী যা—তা বকছ! ধমকে উঠলেন রুদ্র। আমার স্টেথস্কোপটা—লণ্ঠনটা জ্বালো না।

    লণ্ঠনটা কোনোরকমে জ্বেলে দিয়ে সঞ্জয় বাইরের ঘরে গিয়ে পুপুর কাছে বসে রইল।

    পুপু তখনো ফুলে ফুলে কাঁদছে।

    ডাঃ রুদ্র স্টেথস্কোপ নিয়ে ঝুঁকে পড়লেন।

    মিনিটের পর মিনিট কাটতে লাগল। রুদ্ধনিঃশ্বাসে সঞ্জয় বসে রইল অন্ধকারে।

    রীণা কি বেঁচে আছে?

    এটুকু বুঝতে কত সময় লাগে? এত দেরি হচ্ছে কেন?

    তবু সঞ্জয় উঠে গিয়ে জানতে পারল না রীণা বেঁচে আছে কিনা।

    —সঞ্জয়—please help me! ডাক্তার রুদ্র চেঁচিয়ে উঠলেন।

    —আমার ব্যাগটা—

    সঞ্জয় একঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে টেবিলের ওপর থেকে ব্যাগটা নিয়ে ডাক্তার রুদ্রের কাছে গেল।

    —কী দেখলেন ডাক্তারবাবু?

    —Thank God! হার্ট বিট পাওয়া যাচ্ছে। তোমার ছেলে কী করছে?

    —ঘুমিয়েছে।

    —যাক, অল্পর ওপর দিয়ে গেছে।

    সঞ্জয় বিছানায় বসে পড়ে রীণার হাত দুটো কোলের ওপর টেনে নিল।

    —হাত যে একেবারে ঠান্ডা।

    —ও ঠিক হয়ে যাবে। তুমি একটু সেঁক দাও।

    —হসপিটালে নিয়ে যাব?

    —না, এখনই দরকার নেই। তেমন বুঝলে আমি বলব। গাড়ি তো রয়েছেই। উঃ! আর একটু দেরি হলেই শেষ হয়ে যেত।

    .

    সকালবেলা।

    দু—জনে দু—কাপ গরম কফি নিয়ে বসেছে। দরজায় শব্দ।

    সঞ্জয় চমকে উঠল। এত সকালে কে? তাড়াতাড়ি উঠে দরজা খুলে দিল। দেখল মান্তু আর ললিতবাবু শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে।

    —কী ব্যাপার?

    —সকালেই চলে এলাম। মিস থাম্পি টেলিগ্রাম করেছিলেন। টেলিগ্রামটা পেতে একদিন দেরি হয়েছে। বলে টেলিগ্রামটা সঞ্জয়ের হাতে দিল।

    টেলিগ্রামের বক্তব্য—যে কোনো প্রকারে আজকেই মিসেস গুপ্তকে আপনাদের কাছে এনে রাখুন। জীবন বিপন্ন।

    সঞ্জয় টেলিগ্রামটা ললিতবাবুর হাতে ফেরত দিয়ে বলল, ভেতরে আসুন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনতুন নতুন নাটক – সম্পাদনা: মনোজ মিত্র
    Next Article ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    Related Articles

    মানবেন্দ্র পাল

    অশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    মানবেন্দ্র পাল

    ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }