Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অমনিবাস ২ – মানবেন্দ্র পাল

    মানবেন্দ্র পাল এক পাতা গল্প507 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দিনটা ছিল দুর্যোগের

    নতুন চাকরিতে ঢুকেছি। কলকাতায় মেসে থাকি। দেশের বাড়িতে মা, বাবা, ভাই—বোন। ছুটিছাটায় বাড়ি আসি। একদিন বাড়ি থেকে খবর এল মা ভীষণ অসুস্থ। আমি যেন এখুনি বাড়ি চলে যাই।

    দু’দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে এলাম। মায়ের অচৈতন্য অবস্থা। দিনে দু—তিন বার ডাক্তার আসছেন। এ—বেলা ও—বেলা ওষুধ বদলে দিচ্ছেন। আমার বোন অক্লান্ত সেবা করছে। বাবা কীরকম থমথমে মুখে বসে আছেন।

    দুদিনের ছুটি ফুরিয়ে গেল। মায়ের অবস্থা কখনো একটু ভালো, কখনো মন্দ।

    বোন আড়ালে আমায় ডেকে বললে, আমার বড্ড ভয় করছে। তুই আরও দু’দিন থাক দাদা।

    বললাম, বুঝতেই পারছিস নতুন চাকরি। গিয়ে বলি, যদি আরও ক’দিন ছুটি দেয়।

    তাহলে কাল ভোরেই চলে যা। ছুটি নিয়ে কিন্তু কালই আসবি। নইলে একা আমি থাকতে পারব না। বাবা তো কীরকম হয়ে আছে।

    ভোর পাঁচটায় উঠে রওনা হলাম।

    ভাদ্র মাস। সারা রাত্রি বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় কোথাও কোথাও জল জমে আছে। আকাশ এখনও কালো। যে কোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামতে পারে।

    বোধহয় এইরকম দিন বলেই রাস্তায় একটা ঘোড়ার গাড়ি বা রিকশা নেই। অগত্যা হাঁটা শুরু করলাম। স্টেশন ক্রোশখানেক দূরে। পথে কোনো একজনকেও দেখতে পেলাম না। আশ্চর্য! যারা রোজ যাতায়াত করে তারাও কেউ নেই। তাদের ঘুম ভাঙেনি নাকি?

    মনটা খুবই চঞ্চল। যদিও আজই ফিরব তবু কেমন যেন ভয় করছে—ফিরে এসে দেখতে পাব তো?

    মনে পড়ল মাত্র তেরো দিন আগের কথা। তখনও মা দিব্যি ভালো ছিল। মেসে জলখাবারের ব্যবস্থা নেই বলে মা এক টিন মুড়ি আর নারকেল নাড়ু করে দিয়েছিল। বলেছিল, এবার যখন আসবি খালি টিনটা মনে করে আনবি। আবার মুড়ি দেব।

    সেই এলাম কিন্তু মায়ের সঙ্গে কথা হল না। মা ঘুমচ্ছে তো ঘুমচ্ছেই।

    হঠাৎ একটা শব্দ পেয়ে পিছনে তাকাতেই লাফিয়ে সরে এলাম। আর সেই মুহূর্তেই একটা ঘোড়ার গাড়ি কিছু প্যাসেঞ্জার নিয়ে টগবগিয়ে গায়ের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল। আর একটু হলেই চাপা পড়ে মরতাম।

    গাড়িটা যে আসছে, দূর থেকে তার শব্দ পাওয়া উচিত ছিল। বোধহয় অন্যমনস্কতার জন্যেই শুনতে পাইনি।

    যাক, গাড়িতে লোক দেখে বুঝলাম, ডেলি—প্যাসেঞ্জাররা বেরোতে শুরু করেছে। কিন্তু কটা বাজল? যাঃ! ঘড়িটাও ফেলে এসেছি।

    মরুকগে, জোরে জোরে হাঁটা শুরু করলাম। তখন এখনকার মতো শার্ট—ট্রাউজারের চল হয়নি। পরনে ধুতি আর পাঞ্জাবি। কাঁধে একটা ব্যাগ। সাবধানে জলকাদা বাঁচিয়ে হাঁটছি। আকাশে মেঘ ডেকেই চলেছে।

    কিন্তু আবার বাধা। খাকি রঙের হাফ—প্যান্ট আর গেঞ্জি গায়ে আমার বাল্যবন্ধু দুর্গাদাস সদা—ঘুম—ভাঙা চোখে ওদের রকে বসে দাঁতন করছে।

    আমার দিকে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখে বলল, এত ভোরে কোথায়?

    অগত্যা আমাকে দাঁড়াতে হল আর মায়ের অসুখের কথা বলতে হল। বলতে গিয়ে আমার গলার স্বরটা মিইয়ে গিয়েছিল। ও আমার মাকে ভালো করেই চেনে। কতদিন আমাদের বাড়ি এসেছে। আমার কথা শুনে ও দুঃখ পেল। যেন একটু চিন্তিতও মনে হল। বলল, আজ না গেলেই ভালো করতে।

    বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। তাহলে আজ বেরিয়ে কি ভুল করলাম? সামলে নিয়ে বললাম, কি করব? নতুন চাকরি।

    আজই ফিরবে কিন্তু। ও আমাকে কেমন একরকম অপরিচিত গলার স্বরে হুঁশিয়ার করে দিল। আজ অবশ্যই ফিরবে।

    ফিরব। চলি, বলে দ্বিগুণ জোরে হাঁটতে লাগলাম।

    ওই যাঃ! দুর্গাদাসের কাছ থেকেও তো সময়টা জেনে নিতে পারতাম। খেয়াল হয়নি। আসলে সবই আজ কিরকম গোলমাল হয়ে যাচ্ছে।

    না, হুঁশিয়ার হয়ে চলাফেরা করতে হবে। কেমন যেন মনটা করছে। আজ আমার নিজেরই কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

    ঠিক সময়েই স্টেশনে এসে পৌঁছলাম। ট্রেন তখন ঢুকছে। তাড়াতাড়ি টিকিট কাটলাম।

    পাশ থেকে পরিচিত একজন বললে, কি ব্যাপার! চুঁচড়োর টিকিট চাইলে যে?

    চুঁচড়ো!

    চমকে উঠে টিকিটটা দেখলাম। তাই তো! অন্যমনস্কভাবে চুঁচড়োর টিকিট কেটে বসেছি। তাড়াতাড়ি টিকিটটা বদলে হাওড়ার কেটে নিলাম।

    আবার মনে খচখচানি, হঠাৎ চুঁচড়োর টিকিট কাটতে গেলাম কেন?

    ততক্ষণে ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকে গেছে। গার্ড সবুজ নিশান নাড়ছে। আমি দৌড়ে যে বগিটা সামনে পেলাম তাতেই উঠে বসলাম। জানলার ধারে একটা সিটও পেয়ে গেলাম।

    আমি যেই আরাম করে বসলাম অমনি মাথার মধ্যে যেন ইলেকট্রিক শক খেলাম। তাই তো কী ব্যাপার হল? স্টেশনে আসার পথে কার সঙ্গে কথা বললাম? ওই যে ছেলেটি খাকি হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি পরে দাঁতন করছিল, কে ও? আমার বন্ধু দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়? সত্যিই কি দুর্গাদাস?

    কিন্তু—

    ও তো অনেক দিন মারা গেছে! ও আর আমি এক ক্লাসে পড়তাম। কি করে যেন মরল…হ্যাঁ, গাছ থেকে পড়ে।

    সবই তো স্পষ্ট মনে পড়ছে। তাহলে?

    তা হলে যে ওর সঙ্গে মাত্র পনেরো মিনিট আগেও সামনাসামনি কথা বললাম? প্রত্যেকটি কথা এখনও মনে পড়ছে। ওর শেষ কথা—আজই ফিরবে কিন্তু…

    তবে কি ও মারা যায়নি? নিশ্চয়ই মারা যায়নি। কী লজ্জার কথা—একটা জলজ্যান্ত মানুষকে এতদিন মৃত বলে জেনে রেখেছিলাম?

    অবশ্য দোষ আমারও খুব নয়। এক ক্লাসের ছাত্র হলেও ও পড়ত অন্য স্কুলে। ওর বাড়িটাও ঠিক আমাদের পাড়ার নয়। ওর সঙ্গে যেটুকু দেখাশোনা হত তা ফুটবল খেলার মাঠে। খেলার পর কখনো কখনো একসঙ্গে গল্প করতে করতে ফিরতাম। এই পর্যন্ত।

    ট্রেন তখন ছুটছে বলাগড়, জিরাট পার হয়ে ব্যান্ডেলের দিকে। এই ট্রেনে কত দিন গিয়েছি। কত চিন্তা মাথায় নিয়ে হাওড়া পৌঁছেছি। কিন্তু আজ হঠাৎ ওই দুর্গাদাস আমায় ভাবিয়ে তুলল। কবেকার কত কথা মনে পড়তে লাগল।

    ওর বাবার ছিল ঘোড়ার গাড়ির কারবার। চারখানা গাড়ি ছিল। দারুণ তেজি ঘোড়া ছিল আটটা। মেমারি—বর্ধমান রাস্তাটা তখন দামোদরের বন্যায় ক্ষত—বিক্ষত। তাই ও—লাইনে যে বাস চলত তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্গাদাসের বাবা সময় বুঝে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। সাতগেছেতে একটা আস্তানা করে দুখানা গাড়ি লাগিয়ে দিলেন। বাকি গাড়ি খাটতে লাগল এই শহরে। তখনও সাইকেল—রিকশার চল হয়নি। দুর্গাদাসের বাবা গাড়ির ব্যবসা করে বেশ দু—পয়সা করে নিলেন।

    দুর্গাদাস প্রায়ই বলত, জানিস, আমার খুব শখ বড়ো হয়ে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসা করব। বলতাম, ভালোই তো। ও হেসে বলত, তা বলে কোচোয়ান রেখে নয়।

    তাহলে?

    আমি নিজেই গাড়ি চালাব। বলে হাতটা তুলে এমনভাবে টাগরায় একটা শব্দ করে হ্যাট—হ্যাট করত যেন এখনই সে গাড়ি ছোটাচ্ছে।

    ওর রকম দেখে আমার খুব হাসি পেত। তারপর একদিন আমাদেরই রাস্তায় ওকে দেখলাম ঘোড়ার গাড়ির ওপরে।

    কোচোয়ানের পাশে খুব খুশমেজাজে বসে রয়েছে। আবার কোচোয়ানের হাত থেকে মাঝে মাঝে লাগামটা নিজের হাতে টেনে চাবুক ঘুরিয়ে নিজেই চালাচ্ছে।

    আমায় দেখে গাড়ি থামিয়ে একমুখ হেসে চেঁচিয়ে উঠল, এই নন্তু, গাড়ি চালাবি? বললাম, না, ভাই। ভয় করে। ও হাসতে হাসতে বলল, ভয়! পাগল, একেবারে পাগল! বলে গাড়ি ছুটিয়ে দিল।

    এসব কবেকার কথা! আজ হঠাৎই মনে পড়ল।

    ট্রেন ব্যান্ডেলে এসে পৌঁছেছে। এক ভাঁড় চা খেলাম। হঠাৎ মার কথা মনে পড়ল। মা এখন কেমন আছে কে জানে! মনে মনে প্রার্থনা করলাম, ভগবান, এরই মধ্যে আমায় মাতৃহারা কোরো না।

    ট্রেন ব্যান্ডেল ছাড়ল।

    আবার মুখের ওপর এলোমেলো চুল এসে পড়ার মতো দুর্গাদাসের কথা মনে পড়তে লাগল।

    … তখন ওদের ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসা আর নেই। একদিন শুনলাম দুর্গাদাসের মায়ের খুব অসুখ। বাঁচবেন কিনা সন্দেহ।

    সেদিন খুব বৃষ্টি। আকাশ ঘনঘোর। আমি ছাতা মাথায় দিয়ে গুটিগুটি মাসিমাকে দেখতে গেলাম। আমি ছেলেমানুষ। জানি আমায় কেউ গণ্য করবে না। তবু এই বিপদে দুর্গাদাসের কাছে থাকতে ইচ্ছে করল। সেইজন্যেই আমার যাওয়া। তখনও আমি জানতাম না ছোটো ছেলে হলেও আমি ওদের কতখানি কাজে লাগতে পারি।

    ব্যাপারটা এই—ডাক্তার সেদিন সকালে যে প্রেসক্রিপশান করেছেন সেই ওষুধ এখানে পাওয়া যাচ্ছে না। কাছের মধ্যে একমাত্র বর্ধমানে পাওয়া যেতে পারে। কাছে মানে তা চল্লিশ মাইল দূরে। বাস ছাড়া যাবার অন্য উপায় নেই। তাও কখন কোন বাস ছাড়বে তা কেউ স্ট্যান্ডে না গেলে বলতে পারবে না।

    ওষুধটা আনা খুবই জরুরি। তখনই আনা দরকার। কিন্তু এমন কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না যাকে বর্ধমানে পাঠানো যায়। মায়ের মাথার কাছে বসে আছে দুর্গাদাস। তার যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

    তখন আমিই বললাম, প্রেসক্রিপশনটা দিন। আমি নিয়ে আসছি।

    সবাই অবাক হলেন, এই জলবৃষ্টিতে—

    বললাম, দেরি করবেন না। দিন। ঠিক নিয়ে আসব।

    আজ ভাবতে অবাক লাগে, তখন কতই বা আমার বয়স! কিন্তু কারো বিপদে সাহায্য করার জন্যে মনটা এমনই তৈরি হয়েছিল যে কোনো বাধাই গ্রাহ্য করিনি।

    সেদিনই বিকেলের মধ্যে বর্ধমান থেকে ওষুধ এনে দিয়েছিলাম। দুর্গাদাসের মা ভালো হয়ে গিয়েছিলেন।

    সেই দুর্গাদাস! ও কি সত্যিই বেঁচে আছে? তবে কি ওর মৃত্যুর খবরটা ভুল শুনেছিলাম?

    কিন্তু…তারপর আর তো কখনো ওকে দেখিনি? যদি ও বেঁচেই থাকবে তাহলে তো একদিন—না—একদিন দেখতে পেতাম। ওর বাড়ির কাউকেই দেখিনি।

    কী জানি? মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে উঠল। ঠিক করলাম মেসে গিয়ে আমার দেশের কাউকে জিজ্ঞেস করব। অবশ্য যদি তার দুর্গাদাসের কথা মনে থাকে।

    বেলা নটা।

    তাড়াতাড়ি মেসে ঢুকছিলাম। এখুনি নেয়ে—খেয়ে অফিস যেতে হবে। সিঁড়ির মুখে বিজয়ের সঙ্গে দেখা। ও আমার দেশের ছেলে। একসঙ্গে পড়তাম।

    আমায় দেখে ও চমকে উঠল। কী হয়েছে তোমার? চোখ বসে গেছে। মুখে—

    বললাম, মায়ের খুব অসুখ।

    তা হলে চলে এলে কেন?

    বললাম, ছুটি নেব। আজই চলে যাব।

    বিজয় চলে যাচ্ছিল। ওকে ডাকলাম। ইতস্তত করে বললাম, আচ্ছা, তোমার দুর্গাদাসকে মনে আছে? দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।

    বিজয় থমকে গেল। বলল, খুব মনে আছে। কিন্তু এতকাল পর হঠাৎ তার কথা? সে তো কবে মরে গেছে। মনে নেই আম গাছ থেকে পড়ে?

    আমি শক্ত করে দরজার পাল্লাটা চেপে ধরলাম।

    কিন্তু ওদের বাড়ির কাউকে দেখি না কেন?

    দুর্গাদাস মারা যাবার পরই তো ওরা এখানকার পাট চুকিয়ে দিয়ে চলে গেল ওদের চুঁচড়োর সাবেকি বাড়িতে। ওর মা তার কিছুদিন আগেই মারা গিয়েছিল এই রক্ষে।

    কোনোরকমে টলতে টলতে ওপরে উঠে এসে শুয়ে পড়লাম। আর কিছু ভাবতে পারছিলাম না।

    বৃষ্টির আর বিরাম নেই। বৃষ্টির সঙ্গে আবার ঝোড়ো হাওয়া। অফিস থেকে বেরিয়ে, এমনি আমার ভাগ্য আগের ট্রেনটা একটুর জন্যে ধরতে পারলাম না। পরের ট্রেন ধরে যখন দেশের বাড়ির স্টেশনে পৌঁছলাম রাত তখন পৌনে এগারোটা। সমস্ত স্টেশন নিঝুম। দু—চারজন প্যাসেঞ্জার যারা নামল তারা ছাতা মাথায় দিয়ে বেরিয়ে গেল। আমি ছাতা নিতেও ভুলেছিলাম।

    স্টেশন থেকে নেমে স্ট্যান্ডে এসে দেখি একটি গাড়ি বা রিকশাও নেই। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।

    সব্বোনাশ! এই বৃষ্টিতে বাড়ি পৌঁছব কি করে?

    এদিকে মায়ের জন্যে মন ছটফট করছে। মা কেমন আছে কে জানে! গিয়ে দেখতে পাব তো?

    একটা শেডের নীচে কোনোরকমে মাথা বাঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, বিদ্যুৎ চমকাল। ক্ষণিকের সেই আলোয় দেখলাম দূরে তেঁতুলগাছটার তলায় একটা ঘোড়ার গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।

    ছুটলাম। কাছে গিয়ে দেখি গাড়ি আছে, ঘোড়া দুটোও ভিজছে বটে কিন্তু গাড়োয়ান নেই।

    নিশ্চয়ই কাছেপিঠে কোথাও আছে মনে করে ‘কোচোয়ান কোচোয়ান…’ বলে কয়েকবার চিৎকার করলাম। কিন্তু কেউ এল না।

    আবার বিদ্যুৎ চমকালো। দেখলাম পুকুরের জল রাস্তায় উঠে সব একাকার করে দিয়েছে। কোথাও কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব নেই।

    কী করব? কীভাবে বাড়ি পৌঁছব ভাবতে ভাবতে কান্না পেল। এত কাছে এসেও মাকে দেখতে পাব না?

    এমনি সময়ে ঠিক পিছনে ছপাৎ ছপাৎ শব্দ। কেউ যেন রবারের জুতো পরে জলের ওপর দিয়ে হেঁটে আসছে। ফিরে দেখি মাথায় হুড—নামানো রবারের টুপি, গায়ে ওয়াটারপ্রুফ একটা লোক এসে দাঁড়াল।

    উঠে পড়ুন, বলে যেন আদেশ করেই লোকটা কোচোয়ানের আসনে উঠে বসল। কত ভাড়া দিতে হবে, কোথায় নিয়ে যেতে হবে এসব কিছুই বলার সময় পেলাম না। গাড়ি চলতে শুরু করে দিয়েছে।…গাড়ি তো ছুটছে না, যেন উড়ে যাচ্ছে। শুধু চারটে চাকার ধাক্কায় রাস্তার জল দু’ভাগ হয়ে চারদিকে ছিটকে পড়ছে। এদিকে ঝোড়ো হাওয়া…

    দশ মিনিটেরও কম সময়ে একেবারে বাড়ির সামনে গাড়ি এসে দাঁড়াল। কোচোয়ান তার আসন থেকে নেমে এসে দরজা খুলে দিল।

    আমি ভিজতে ভিজতেই পার্স খুলে টাকা দিতে যাচ্ছিলাম, কোচোয়ান বলল, আগে বাড়ি ঢুকুন। তারপর টাকা দেবেন।

    দরজা ঠেলতেই বোন এসে দরজা খুলে দিল। মুখে উদ্বেগের ছাপ। এসে পড়েছিস! খুব ভাবছিলাম।

    মা?

    সন্ধেবেলায় অবস্থা খুব খারাপ হয়েছিল, এখন একটু ভালো। আয় ওপরে আয়।

    দাঁড়া, ভাড়াটা দিই। বলে টাকা দিতে গিয়ে দেখি কোচোয়ান নেই! শুধু খালি গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে দোরগোড়ায়।

    আরে! কোচোয়ান গেল কোথায়?

    হাঁকডাক করেও তার সাড়া পেলাম না।

    বোন বলল, নিশ্চয়ই চেনা কোচোয়ান। কাল সকালে ভাড়া নিয়ে যাবে। জামা—কাপড় ছাড়বি চল।

    ওপরে উঠে এলাম। একটু পরেই নীচে গোলমাল। কে যেন কী বলছে!

    কী ব্যাপার জানবার জন্যে নীচে নেমে এলাম। দেখি লুঙ্গিপরা, গেঞ্জি গায়ে, মাথায় গামছা জড়ানো একটা লোক। তাকে খুবই বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল।

    সে যা বলল তা শুনে আমরা তো হাঁ। ওই লোকটাই আসল কোচোয়ান। বৃষ্টিতে প্যাসেঞ্জার নেই বলে স্টেশনে ঘুমোচ্ছিল। তারপর গাড়ি নিয়ে বাড়ি যাবে বলে এসে দেখে গাড়ি নেই!

    নিশ্চয়ই কোনো গাড়ি—চোর গাড়ি নিয়ে পালিয়েছে ভেবে সে পাগলের মতো ছুটতে ছুটতে এসে দেখে গাড়িটা এখানে পড়ে আছে। চোর উধাও।

    যাই হোক, গাড়ি যে ফিরে পেয়েছে এতেই সে খুশি। গাড়ি নিয়ে কোচোয়ান চলে গেল। কিন্তু চোরের মীমাংসা হল না।

    একটা কথা অস্পষ্টই থেকে গেল। যদি সে চোরই হয়, তাহলে আমাকে গাড়িতে ডেকে তুললই বা কেন? আর কেনই বা ভাড়া না নিয়ে চলে গেল?

    বুঝলাম ছোকরাটা কোচোয়ানও নয়, চোরও নয়, কোনো মহৎ যুবক। তাকে আর কোনোদিন দেখতে পাব কিনা জানি না, তাই মনে মনে তাকে সকৃতজ্ঞ নমস্কার করলাম।

    ঘুমোবার আগে কিছু একটা বই পড়া আমার অভ্যাস। আলমারি থেকে একটা পুরোনো গল্পের বই টেনে নিয়ে পড়তে গেলাম, ঠক করে কী যেন বুকের ওপর পড়ল। দেখি, মাথার হুড—নামানো রবারের টুপি আর ওয়াটারপ্রুফ গায়ে আঠারো—উনিশ বছর বয়েসের একটি যুবকের ছবি। ভালো করে দেখলাম ছবিটা আমার বন্ধু দুর্গাদাসের। কোনো এক সময়ে ছবিটা ও আমায় দিয়েছিল ওকে মনে রাখার জন্যে।

    আশ্চর্য, ছবিটা এতদিন কোথায় ছিল? ভাবতে ভাবতে আর একটা কথা মনে হতেই শিউরে উঠলাম। ওয়াটারপ্রুফ গায়ে কোচোয়ানটি তা হলে কে?

    ১৯৯৬, জুন, শুকতারা

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনতুন নতুন নাটক – সম্পাদনা: মনোজ মিত্র
    Next Article ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    Related Articles

    মানবেন্দ্র পাল

    অশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    মানবেন্দ্র পাল

    ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }