Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অমনিবাস ২ – মানবেন্দ্র পাল

    মানবেন্দ্র পাল এক পাতা গল্প507 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দেওয়ালে কীসের ছায়া?

    কলকাতা থেকে আশি কিলোমিটারের মতো দূরে মফসসল শহরটা। ইস্কুল আছে, কলেজ আছে, কোর্ট আছে, সিনেমা হল আছে, থানা আছে। আর আছে একটা হাসপাতাল। হাসপাতালটা শহরের একটু বাইরে। এখানে একসময়ে সাহেব মিশনারিরা থাকত। বেশ বড়ো বড়ো সাহেবি কায়দায় বাড়ি। এখন সেগুলো পুরোনো হয়ে গেছে। তারই একটাতে হাসপাতালটা।

    হাসপাতালের পর থেকেই শুরু হয়েছে ধুলোভরা কাঁচা রাস্তা। তার দু—পাশে বাঁশঝাড়। সন্ধের পর ওদিকে লোক হাঁটে না বড়ো একটা। হাসপাতালটার দক্ষিণ দিকে গাছ—গাছালির ফাঁক দিয়ে দেখা যায় মিশনারিদের আমলের বিরাট চার্চটা। উত্তর দিকে ভাগীরথী। আর হাসপাতাল থেকে ভাগীরথীর ধার পর্যন্ত সার সার কবরখানা। অধিকাংশই সে সময়ের সাহেবদের। কতকগুলো বাঙালি খ্রিস্টানদের।

    এখন আর সাহেবরা নেই। কিন্তু কয়েক ঘর বাঙালি খ্রিস্টান আছে।

    এই পাড়াতে একদিন এক বিধবা মহিলা এলেন তাঁর মেয়েকে নিয়ে। মেয়েটির বয়েস বছর তেইশ—চব্বিশ। নার্স। বদলি হয়ে এখানকার হাসপাতালে আসতে হয়েছে। এখানে নার্সদের কোয়ার্টারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাই বাড়ি খুঁজতে হচ্ছিল এঁদের। একখানি হলেও চলে। তাও মেলে না। শেষে এই পাড়াতেই সাধ্যের অতীত ভাড়ায় রাজি হয়ে তাঁরা কোনোরকমে একটি ঘর পেয়েছেন। একটাই সুবিধে—হাসপাতালটা কাছে। নইলে ঘরটা মোটেই ভালো নয়। অন্ধকার চাপা ঘর। টিনের চালা। ছোটো ছোটো দুটি জানলা। বাড়িতে ঢোকার পথটাও অদ্ভুত। সামনে দিক দিয়ে নয়। পিছন দিক দিয়ে—ঝোপ—জঙ্গলের মধ্যে। এ ঘর যে লোকের বাসের জন্যে তা কিছুতেই মনে হয় না। হয়তো বাড়িওয়ালা অন্য কোনো কাজে ঘরটা ব্যবহার করত। কী কাজ কে জানে?

    সন্ধের সময়ে ডিউটি দিয়ে মীনা ফিরে এসেছে। নতুন বাসা। বেচারি মা একাই সারাদিন গুছিয়ে—গাছিয়ে রাতের রান্না সেরে রেখেছেন।

    সন্ধের পর দরজায় খিল এঁটে মা—মেয়ে গল্প করছে। এ পাড়ায় সর্বত্রই ইলেকট্রিক লাইট, শুধু এ বাড়িটাতেই আলোর ব্যবস্থা নেই। তাই লণ্ঠন জ্বালাতে হয়েছে। মা—মেয়ে গল্প করছিল নানা বিষয়ে। তবে বেশি আলোচনা করছিল বাড়িওয়ালার ব্যবহার নিয়ে। বাড়িওয়ালার নাম ভূদেব সাঁতরা। যেমন দেখতে তেমনি বিশ্রী ব্যবহার। সবসময়েই রুক্ষ কথাবার্তা—মারমুখো। ভদ্রতার বালাই নেই। বয়েস পঞ্চাশের একটু উপরে। একমাথা পাকা চুল। পুরু ঠোঁট—মোটা নাকটা। বেঁকে যেন মুখের ওপর ঝুলে পড়েছে। বাড়িভাড়ার অ্যাডভান্স যখন হাত পেতে নিল তখন তার সেই চওড়া থাবা আর মোটা মোটা ছড়ানো আঙুলগুলো দেখে মীনা আঁতকে উঠেছিল। মনে হয়েছিল এই হাতের বোধ হয় অসাধ্য কিছু নেই।

    মীনা বলল, মামা আসবে বলেছিল। এলে ভালো হত। বাড়িওলা বুঝত আমাদের পুরুষ গার্জেন আছে।

    মা বললেন, ছুটি পায়নি বোধহয়। ছুটি পেলে নিশ্চয়ই আসত।

    মীনা হাসপাতালের গল্পও করছিল। বলছিল—কী বিশ্রী জায়গা! নোংরা। পেশেন্টদের দিকে কেউ ভালো করে তাকায় না। না ডাক্তার না নার্স। ক’জনই বা ডাক্তার—নার্স বা ক’জন। কিন্তু সবাই যেন কীরকম। এরা রুগিদের সারাবার চেয়ে যেন কে কখন মরল তার হিসেব রাখতেই ব্যস্ত। এই তো আজই দুটো ভর্তি হল—সাধারণ কেস। দুটো পেশেন্টই মরে গেল। না বাপু, এখানে আমি থাকতে পারব না।

    মা বললেন, উপায় তো নেই। কিছুদিন থাকো। তারপর ট্রান্সফারের জন্যে না হয় লিখো।

    হঠাৎ এই সময়ে মীনার চোখ পড়ল দেওয়ালে। একটা ছায়া। না, মানুষের কোনো লম্বা ছায়া নয়। ছোটো একটা ছায়া। যেন একজন কেউ চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে রয়েছে। ছায়াটা অল্প অল্প কাঁপছে। মীনা অবাক হয়ে দেখছিল। ঠিক একটা লোক। কিন্তু—না, একটা লোক তো নয়। দুটো—হ্যাঁ, স্পষ্ট দুটো। একটার ওপরে আর একটা শুয়ে আছে। না, শুয়েও নেই। একজনের বুকের ওপর বসে আছে।

    মীনা সকৌতূহলে দেখছিল। হঠাৎ চমকে উঠল। আরে! ও যে শোয়া লোকটার গলা টিপছে!

    —ওমা! মীনা বেশ ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু সত্যিই যে ভয়ের কিছু নেই তা ও ভালো করেই জানে। কেননা ওটা শুধুই দেওয়ালে আলোর ছায়া।

    মা বললেন, কী হল?

    —দেয়ালের দিকে তাকাও।

    মা হাসলেন একটু। ঠিক যেন কেউ কারো গলা টিপে মারছে। আলো—ছায়ায় কত মজার মজার ছবিই তৈরি হয়।

    মীনা বলল, দাঁড়াও দেখি, ছায়াটা কীভাবে হল।

    বেশি দেখতে হল না। লণ্ঠনটা ছিল টেবিলের ওপর। আলনায় শাড়ি আর ব্লাউজটা ঝুলছিল এমনভাবে যে ঠিক ওইরকম ছায়া তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

    এবার মীনা আলো কমিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়ল। একটাই চৌকি। একটাই বিছানা। মা আর মেয়ে শুল পাশাপাশি। যেমন তারা বরাবর শোয়।

    অকাতরে ঘুমোচ্ছিল মীনা আর তার মা। হঠাৎ মায়ের ঘুম ভেঙে গেল। কীসের যেন শব্দ! ঠুক—ঠুক—ঠুক। কেউ কি দরজায় শব্দ করছে?

    হ্যাঁ, তাই তো। ওই যে আবার শব্দ—ঠুক—ঠুক—ঠুক।

    মা উঠে বসলেন। না, ভুল শোনেননি। ওই আবার সেই শব্দ!

    —মা! মীনার চাপা স্বর। ওরও ঘুম ভেঙে গেছে।

    —কেউ কি দরজা ঠেলছে?

    —বোধ হয়।

    বলেই তিনি চাপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন—কে?

    শব্দ থেমে গেল।

    দু’মিনিট—তিন মিনিট—চার মিনিট—

    আবার সেই শব্দ। ঠুক—ঠুক—ঠুক।

    মা উঠছিলেন। মীনা কাপড় চেপে ধরল।

    —কোথায় যাচ্ছ?

    —দেখি কে?

    —পাগল নাকি! চুপচাপ শুয়ে থাকো।

    অগত্যা দুজনেই ফিরে এল বিছানায়। চুপচাপ শুয়ে রইল চোখ বুজিয়ে। কিন্তু ঘুম সহজে এল না। চার্চের ঘড়িতে ঠং—ঠং করে দুটো বাজল।

    তিন দিন পর।

    দরজায় ভালো করে খিল এঁটে মা আর মেয়ে চুপচাপ বসে। দুজনেরই মুখে ভয়ের ছাপ। রোজ রাত দুটোর সময়ে কে তাদের দরজায় ধাক্কা দিয়ে যায়।

    নীচু গলায় মীনা বলল, এ নিশ্চয়ই ওই বাড়িওয়ালার কাজ। ও লোকটাকে আমার মোটে ভালো মনে হয় না।

    —কিন্তু আমাদের কাছে আসবে কেন?

    —হয়তো মনে করেছে গয়নাগাঁটি কিছু আছে।

    মা চুপ করে রইলো।

    হঠাৎ মীনা অস্ফুট আর্তনাদ করে উঠল—মা—মা—ওই দ্যাখ। বলে দেওয়ালের দিকে আঙুল দিয়ে দেখাল।

    আশ্চর্য! সেই এক ছায়াছবি। একজন কেউ চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। আর তার বুকের ওপর চেপে আর একজন দু—হাত দিয়ে গলা টিপছে।

    কিন্তু—লণ্ঠনটা আজ অন্যদিকে রয়েছে। আর আলনার ওপর সব কাপড়ই পরিপাটি করে রাখা। ছায়া পড়ার উপায় নেই।

    তবু ছায়া পড়েছে। এবার গামছা আর মশারির দড়ির। তা বলে ছবিও সেই একই?

    রাত কি দুটো বেজেছে? ঘুম আসছে না। না মায়ের, না মেয়ের। এই ক’দিনেই কেমন যেন বদ অভ্যাস হয়ে গেছে—কখন সেই শব্দটা হবে ঠুক—ঠুক—ঠুক। ঘুমোব বলে শত চেষ্টা করলেও ঘুম আসে না কিছুতেই।

    দুজনে শুয়ে আছে নিঃসাড়ে। কেউ কোনো কথা বলছে না। কথা বলার কিছু নেইও। শুধু অপেক্ষা করা।

    ঢং—ঢং—

    দুটো বাজল দুরে চার্চের ঘড়িতে। বহুকালের পুরোনো চার্চ। ঘড়িটা কিন্তু ঠিক ঠিক সময় দেয়। শব্দটাও বুড়ো লোকের গলার স্বরের মতো ভাঙাভাঙা ভারী—কর্কশ।

    দুটো তো বেজে গেল কিন্তু দরজায় শব্দ কই? কান খাড়া করে রইল মা আর মেয়ে। না, কোনো শব্দ নেই।

    —উঃ আর তো পারি না। মীনা যেন অধৈর্য হয়ে উঠেছে।—যা হবার তা হয়ে যাক। রোজ এই রাত জাগা—

    মা হঠাৎ ওর গায়ে ঠেলা দিয়ে ফিসফিস করে বললেন—চুপ! শুনতে পাচ্ছ কিছু?

    মীনা ভালো করে কান পাতল।

    হ্যাঁ, একটা কীসের যেন শব্দ। দরজায় নয়। জানলার দিক থেকে আসছে—দূরে!

    মীনার মা মশারির ভিতর থেকেই হাত বার করে জানলাটা খুলেন। ওপাশে লম্বা লম্বা পামগাছগুলোর পাশ দিয়ে হাসপাতালের আলো দেখা যাচ্ছে—ইলেকট্রিক লাইট। আর এদিকে নিস্তব্ধ গঙ্গার ধারে পুরোনো সমাধিভূমি। শব্দটা যেন সমাধিগুলোর কাছ থেকেই আসছে।

    মীনা আর তার মা সেইদিকে তাকিয়ে রইলেন অনেকক্ষণ। কিছু দেখতে পেলেন না।

    হঠাৎ মনে হল একটা কবরের মধ্যে থেকে ধোঁওয়া বেরোচ্ছে—কুয়াশার মতো সাদা ধোঁওয়া। ধোঁওয়াটা পাক খেতে লাগল। তারপর আস্তে আস্তে ধোঁওয়াটা একটা মূর্তির আকার হল। লম্বা একটা মূর্তি। দুটো হাত ঝুলছে হাঁটুর নীচ পর্যন্ত। ঘাড়টা হেলে পড়েছে একদিকে। তারপর সেই ভয়াবহ মূর্তিটা হাওয়া ঠেলে এগিয়ে আসতে লাগল জানলার দিকে। সেই সঙ্গে একটা অদ্ভুত গোঙানির শব্দ।

    মীনা আর তার মা দেখছে। এ কি স্বপ্ন? এ কি চোখের ভুল? তা যদি হয় তাহলে হাসপাতালের আলোগুলোও কি ভুল দেখা?

    না, চোখের ভুল নয়। ওই যে মূর্তিটা এসে পড়েছে। হ্যাঁ, এই জানলার দিকেই আসছে।

    —বাবা গো! বলে মীনার মা সশব্দে জানলা বন্ধ করে দিয়ে মেয়েকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে চোখ বুজলেন।

    এই ক’দিনই প্রতিদিন রাত দুটোয় দরজায় শব্দর কথা যেমন বাড়িওলাকে বলা যায়নি তেমনি গত রাতের ঘটনাটাও বলা গেল না। মীনা আর তার মা দুজনেই পরামর্শ করলেন।

    না। বলে দরকার নেই। কেননা তাতে লাভ নেই। বাড়িওলা বিশ্বাস তো করবেই না উপরন্তু রাগ করবে। ভাববে তার বাড়ির বদনাম রটাচ্ছে। ফলে ও বাড়ি ছাড়তে হবে। ছাড়তে তো হবেই কিন্তু হঠাৎ অন্য বাড়ি পাবে কোথায়?

    সারা দিন কাটে একরকম। কিন্তু বিকেল থেকেই গা ছমছম করে। একটু পরেই সন্ধে নামবে। তারপর হবে রাত। সে যে কী ভয়ংকর!

    সন্ধের পর অন্যদিনের মতো আজও ওরা গল্প করছিল। মা আজ দুপুরে বেরিয়েছিলেন বাড়ির খোঁজে। সেই বাড়ির কথাই বলছিলেন মেয়েকে। হঠাৎ শব্দ ঠক—ঠক—ঠক। কে যেন দরজায় কড়া নাড়ছে আস্তে আস্তে। হৃৎপিণ্ডটা একেবারে লাফিয়ে উঠল মীনার। এই সন্ধে রাতেই!

    আবার শব্দ—ঠুক—ঠুক—ঠুক—

    —কে?

    —আমি। দরজা খোল।

    —মামা! বলেই আনন্দে লাফ দিয়ে গিয়ে মীনা দরজা খুলে দিল।

    —কী রে! সন্ধে থেকেই খিলটিল এঁটে ঘুমিয়ে পড়েছিলি নাকি?

    মীনার মা ভাইকে আনন্দে জড়িয়ে ধরলেন।

    —তুই কোথা থেকে? কী করে চিনে এলি?

    —আমি তো বলেইছিলাম আসব। আজ একটা সুবিধে পেয়ে গেলাম। পাণ্ডুয়ায় এসেছিলাম ইনস্পেকশনে। সেখান থেকে চলে এলাম। রাতটা কাটিয়েই ভোরে আবার ছুটতে হবে। উঃ! বাড়ি নিয়েছ আচ্ছা জায়গায় বটে!

    মীনার মা একটু হাসলেন। বললেন, কোথাও তো আর পেলাম না।

    মীনা বললে, শুধু জায়গা? এমন রহস্যপুরী আর কোথাও খুঁজে পাবে না।

    —রহস্যপুরী! কীসের রহস্য?

    মীনা বলল, হাত—মুখ ধুয়ে আগে চা খেয়ে নাও। তারপর সব বলছি। তুমি পুলিশ ইনস্পেক্টর—দ্যাখো যদি রহস্যভেদ করতে পার।

    মীনার মামা শার্ট—ট্রাউজার ছেড়ে পাজামা পরলেন। রিভলবারটা মীনার হাতে দিয়ে বললেন, সাবধানে রাখিস। লোডেড।

    অনেক রাত পর্যন্ত মীনার মামা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব ঘটনা জেনে নিলেন। লণ্ঠনটা তিনি নানা ভাবে রাখলেন। কিন্তু দেওয়ালে আজ কোনো ছায়া পড়ল না।

    মামা হাসলেন—দূর! তোদের সব ম্যানিয়া।

    মীনা লজ্জা পেল। বলল, না, কখখনো না। ছায়া তো রোজ পড়ে না।

    —তা হলে বোধ হয়, দরজায় কড়া নাড়া কী তোদের ওই কবরের ভূত কিছুই আমার ভাগ্যে জুটবে না।

    —আর জুটে দরকার নেই। উঃ ঠাকুর! বলে মীনার মা চোখ বুজিয়ে নমস্কার করলেন।

    রাত গভীর। মাটিতে বিছানায় শুয়ে মীনার মামা নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছেন। সারা দিনের পরিশ্রমের পর বিশ্রাম। কিন্তু মীনা আর মীনার মা—যদিও তারা আজ অনেক নিশ্চিন্ত—তবু তাদের চোখে ঘুম নেই। কখন দুটো বাজবে।

    মীনার মা কী ভাবছিলেন জানি না। কিন্তু মীনা বোধ হয় ভাবছিল—আজ যেন কিছু হয়। তাহলে মামার মতো অবিশ্বাসী মানুষ বুঝে যেতে পারবে যে তারা ম্যানিয়াগ্রস্ত নয়। কিন্তু আজ কি আর কিছু ঘটবে? নাকি পুলিশ অফিসারের গন্ধ পেয়ে প্রেতাত্মা ফিরে যাবে?

    মীনা এইব ভাবছে। এমনি সময়ে সেই পুরোনো চার্চের ঘড়িতে ঢং—ঢং করে দুটো বাজল। মীনা নিশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করতে লাগল।

    দূরে কীসের একটা শব্দ—সোঁ—সোঁ—সোঁ—

    মীনার মা বললেন, ঝড় উঠল নাকি?

    —তাইতো মনে হচ্ছে।

    —এই অসময়ে ঝড়! মীনার মা আবার মশারির ভেতর থেকে হাত বাড়িয়ে জানলাটা খুললেন। দেখলেন তাঁদের বাড়ির পিছনে যে বটগাছটা—শুধু সেইটেই ঝড়ে দাপাদাপি করছে। অন্য গাছগুলো স্থির।

    —এ আবার কী!

    মীনাও তখন মুখ বাড়িয়েছে। হঠাৎ দেখা গেল সেই ঝড়ের মধ্যে থেকে হাওয়ায় গা ভাসিয়ে কালকের দেখা সেই মূর্তিটা একটা গোঙানির শব্দ করতে করতে জানলার দিকে এগিয়ে আসছে।

    —বাবা গো! বলে মীনা বিছানায় পড়ে গেল।

    মীনার মামা ধড়মড় করে উঠে পড়লেন।

    —কী হয়েছে—কী হয়েছে বলে জানলার দিকে ঝুঁকে পড়লেন। তারপরই লাফিয়ে প্রায় রিভলবারটা নিয়ে দরজা খুলে ছুটে বেরিয়ে গেলেন।

    মীনার মা চেঁচিয়ে বারণ করতে গেলেন কিন্তু গলা দিয়ে স্বর বেরোল না। তিনি জানলা বন্ধ করতে ভুলে গেলেন—দরজাটাও রইল হাট করে খোলা।

    আকাশে কৃষ্ণপক্ষের ঘোলাটে চাঁদ। চোখের সামনেই ওরা দুজনে দেখছে সেই অদ্ভুত দৃশ্যটা। জানলা থেকে মাত্র ক’ গজ দূরে—

    ছায়ামূর্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন মীনার মামা। ডান হাতে বোধ হয় রিভলবার। মূর্তিটা একটা ঘূর্ণিঝড়ের মতো ঘুরপাক খাচ্ছে। বোধহয় সেইজন্যেই গুলি ছোড়া যাচ্ছে না। তারপর মূর্তিটা হঠাৎ বড়ো বড়ো পা ফেলে এগিয়ে আসতে লাগল। এবার আর জানলার দিকে নয়, ওপাশ দিয়ে—এই ঘরটা ছাড়িয়ে। আর আশ্চর্য—মীনার মামা যেন চুম্বকের আকর্ষণে লোহার টুকরোর মতো চলেছেন তারই পিছনে। মাথার চুলগুলো খাড়া হয়ে আছে।

    কততক্ষণ কাটল এইভাবে। হুঁশ নেই এদের কারো। হঠাৎ দূরে শব্দ হল দ্রা—ম। গুলি ছোড়া হল। ওই একবারই শব্দ।

    ব্যস! তারপর সব চুপ।

    জানলা খোলা, দরজা খোলা—মা আর মেয়ে বসেই আছে। বিহ্বল—স্তব্ধ। বোধশক্তিও বুঝি কারো নেই।

    সকাল হতে না হতেই চেঁচামেচি—হইচই। খুন—খুন—

    সবাই ছুটে গেল। দেখল বাড়িওয়ালা ভূদেব সাঁতরা তার নিজের বাড়ির দরজায় পড়ে আছে। বুকের কাছটা রক্তে ভেজা।

    —তোর মামা কোথায় গেল? মীনার মা ডুকরে কেঁদে উঠলেন।

    মীনা মায়ের মুখ চেপে ধরল। চাপা গলায় ধমকে উঠল—চুপ!

    একটু পরেই পুলিশ এল। জিপ থেকে নামলেন স্থানীয় ইনস্পেক্টর। সঙ্গে মীনার মামা।

    মীনার মামা পুলিশ অফিসারকে বললেন, আপনাকে তো সব ঘটনাই বলেছি। আবার বলছি—গুলি আমি করিনি। এ ভদ্রলোককে আমি চিনি না, কখনো দেখিনি। এখানে আমার দিদির বাড়ি এসেছিলাম মাত্র কাল রাত্তিরে।

    পুলিশ অফিসার কোনো কথা না বলে মৃতদেহ পরীক্ষা করতে লাগলেন।

    —আমি নিজে একজন পুলিশ ইনস্পেক্টর। আমি বলছি আমি খুন করিনি। খুনের কোনো motive—ই থাকতে পারে না।

    —আপনি নিশ্চই খুন করেননি। তাহলে খুন করল কে? ভূতে তো নয়। ইনস্পেক্টর একটু অবিশ্বাসের হাসি হাসলেন।

    মীনার মামা বললেন, ভূত কিনা জানি না। তবে সেই ছায়ামূর্তি আমায় টেনে নিয়ে এসেছিল এঁর বাড়ির দরজা পর্যন্ত। দরজায় দু’বার শব্দ করল। কে? বলে টর্চ হাতে ভদ্রলোক বেরিয়ে এলেন। ‘বাবা গো!’ বলে একবার চেঁচিয়ে উঠলেন—সঙ্গে সঙ্গে মনে হল আমার হাত থেকে রিভলবারটা কে ছিনিয়ে নিল। তারপরেই গুলির শব্দ!

    পুলিশ অফিসার আবার একটু হাসলেন। আপনার কথা আমরা বিশ্বাস করলেও কোর্ট বিশ্বাস করবে না।

    মীনার মামার মুখ শুকিয়ে গেল। কোনোরকমে বললেন, কিন্তু দেখুন রিভলবারটাও আমার কাছে নেই।

    এই সময়ে একজন পুলিশ ঝোপের ভেতর থেকে একটা রিভলবার কুড়িয়ে নিয়ে এল।

    —দেখুন মিস্টার মিত্র, এটা আপনার কিনা।

    —হ্যাঁ, আমার। কিন্তু আমি এটা ফেলে দিইনি।

    পুলিশ অফিসার আবার সেই অবিশ্বাসের হাসি হাসলেন।

    বাঁচার আর কোনো উপায় নেই। পরিষ্কার মার্ডার কেস। যে কোনো কারণেই হোক বাইরের এই পুলিশ ইনস্পেক্টরটি ভূদেব সাঁতরাকে বাইরে ডেকে এনে খুন করেছে। তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। মীনার মামা আত্মরক্ষার জন্যে একমাত্র যে ঘটনা বলছে তা অবিশ্বাস্য—গাঁজাখুরি।

    তবু—হাজার হোক পুলিশ ইনস্পেক্টর। স্থানীয় পুলিশ তাই ভাবতে লাগল একে বাঁচাবার কোনো উপায় বের করা যায় কিনা।

    সারা দিন মৃতদেহ নিয়ে পোস্টমর্টেম ইত্যাদি করার পর পুলিশ অফিসার সন্ধের সময়ে সদলবলে আবার এলেন ঘটনাস্থলে। ভূদেব সাঁতরার বাড়ি তল্লাশি চালালেন। বাড়ির লোকদের নানা জেরা করা হল। কিন্তু নতুন কোনো সূত্র পাওয়া গেল না।

    —আচ্ছা, চলুন আপনার দিদির বাসায়। পুলিশ অফিসার সদলবলে এলেন। সবাই বসল চৌকিতে। মীনা আর মীনার মা বসল মাটিতে। ভয়ে শুকিয়ে গেছে তাদের মুখ। এ আবার কী বিপদ! বেচারি মামা!

    পুলিশ অফিসার জিজ্ঞেস করলেন—কোন জানলা দিয়ে আপনারা দেখেছিলেন?

    মীনা জানলাটা দেখাল।

    —এটা কি সবসময়ে বন্ধ থাকে?

    —প্রায়ই।

    পুলিশ অফিসার টর্চ ফেলে জানলাটা—জানলার বাইরেটা ভালো করে দেখলেন। নাঃ, কিচ্ছু নেই।

    —আপনাদের লাইট নেই?

    মীনা মাথা নাড়ল।

    —শুধু ওই লণ্ঠন?

    —হ্যাঁ—সঙ্গে সঙ্গে মীনা চিৎকার করে উঠল—ওই যে—ওই যে সেই ছায়া!

    সবাই অবাক হয়ে দেখল দেওয়ালে একটা ছায়া পড়ছে—কেউ একজন শুয়ে আছে। আর তার বুকের ওপর চেপে আর একজন—

    —এ ছায়া কোথা থেকে পড়ল? ইনস্পেক্টর ব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। চারিদিকে তাকালেন। না, এমন কিছু আলোর সামনে নেই যে তার ছায়া দেওয়ালে পড়তে পারে।

    তা হলে?

    লণ্ঠনটার পলতেটা হঠাৎ দপদপ করে উঠল। তারপরই নিভে গেল।

    My God! ইনস্পেক্টর আপন মনেই উচ্চারণ করলেন কথাকটা।

    পরের দিন স্থানীয় পুলিশ অফিসারের নির্দেশে সেই ঘরের মেঝে খোঁড়া হল। তাঁর দৃঢ় ধারণা এই ঘরে কোনো একসময়ে কাউকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা টিপে খুন করা হয়েছে। দেওয়ালে সেই ছায়াছবি স্পষ্ট করে তা বুঝিয়ে দিয়েছে।

    মেঝে খোঁড়া নিষ্ফল হয়নি। পাওয়া গেল একটা মড়ার খুলি—শুধুই খুলি।

    ধড়টা? সেটা বোধহয় ঘটা করে কবর দেওয়া হয়েছিল ওই ভাঙা কবরগুলোর পাশে। ট্রেনে কাটা—টাটা পড়েছিল—এমন একটা মিথ্যে রটনা করতে কতক্ষণ? বিশেষ—লোকটা যদি খুনির নিজেরই কোনো দূর সম্পর্কের আত্মীয় হয় তা হলে সাধারণকে যা বোঝানো হয়েছে তারা তাই বুঝেছে।

    কে খুন হয়েছিল, কেন খুন হয়েছিল, কবে হয়েছিল, কেন গলা টিপে মেরে পরে গলা কাটা হয়েছিল এসবের সঠিক উত্তর আজ আর পাওয়া সম্ভব নয়। তবে খুনি যে কে তা বোঝাই যাচ্ছে। তার শাস্তিও সে পেয়ে গেল এতদিন পর মাত্র গত রাত্রে।

    প্রকাশকাল : অজ্ঞাত

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনতুন নতুন নাটক – সম্পাদনা: মনোজ মিত্র
    Next Article ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    Related Articles

    মানবেন্দ্র পাল

    অশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    মানবেন্দ্র পাল

    ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }