Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অমনিবাস ২ – মানবেন্দ্র পাল

    মানবেন্দ্র পাল এক পাতা গল্প507 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নেই তবু আছে

    গ্রামে বা মফসসলে শহরের গলি—ঘুঁজিতে রাত দুপুরে কুকুরের ডাক শোনার অভ্যাস আমার আছে। তা বলে এতগুলো কুকুরের একসঙ্গে এমন পরিত্রাহি ডাক এর আগে কখনও শুনিনি।

    নতুন জায়গা। গভীর রাত। চারিদিকে কেমন থমথমে ভাব। এ অবস্থায় এমনিতেই ঘুম আসছিল না। অনেক চেষ্টা করে দু’চোখের পাতা বুজিয়ে পুরোনো সব কথা ভাবতে ভাবতে সবে মাত্র ঘুম এসেছে অমনি শুরু হল কুকুরের ডাক। অনেক সময়ে রাত্তিরে ভিন পাড়ার কোনো কুকর অন্য পাড়ায় এসে পড়লে সেই পাড়ার কুকুরগুলো একসঙ্গে চিৎকার করে একসঙ্গে তাড়া করে। আবার গভীর রাত্রে অচেনা লোক পাড়ায় ঢুকলে কুকুরগুলো এমনিভাবেই সমস্বরে চিৎকার করে পাড়ার লোকেদের সজাগ করে দেয়। কিন্তু এ অঞ্চলে কুকুরগুলোর চিৎকারের সুরটা যেন অন্য ধরনের। কেমন যেন ভয়—পাওয়া গলা।

    বুঝলাম কুকুর শুধু শুধু চেঁচায় না। নিশ্চয়ই তেমন কিছু দেখেছে। ছেঁড়া ময়লা কাপড় জামা পরা কিংবা আলখাল্লা পরা নিরীহ মানুষকেও রাত্তিরে পথ চলতে দেখলে কুকুর তাকেও তাড়া করে।

    আমি বিছানায় উঠে বসলাম। কুকুরের ডাক যেন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। তারপরেই মনে হল কুকুরের ডাক আর এক জায়গায় থেমে নেই, এগিয়ে আসছে।

    অবাক হলাম। একসঙ্গে চিৎকার করতে করতে এগিয়ে আসছে কেন? আর আসছে আমারই বাড়ির সামনের ধুলো ভরা রাস্তা দিয়ে।

    একবার ভাবলাম উঠে গিয়ে জানালার কাছে দাঁড়াই। কিন্তু কেন জানি না সাহস হল না। নতুন জায়গা। কী দেখব কে জানে! আর এ তো জানা কথাই—কোনো দোষ না করে শুধু দেখে কেনার অপরাধে অনেক সময়ে মানুষকে বিপদে পড়তে হয়।

    আমি তাই বিছানায় বসে বসে তাকিয়ে রইলাম জানলার বাইরে কী যায় তা দেখবার জন্যে।

    কিন্তু কুকুরগুলোর ডাক এগোতে এগোতে অত এগোল না। অর্থাৎ আমার বাড়ির সামনে আর এল না। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে লাগল। এমনি সময়ে একতলার একটা ঘর থেকে হুংকার শোনা গেল—অ্যাই! কী হচ্ছে?

    সঙ্গে সঙ্গে ওদের ডাক থেমে গেল।

    হুংকার ছাড়ল শংকর। ক্ষমতা আছে ছোকরার। এক হাঁকড়ানিতেই কুকুরগুলোকে থামিয়ে দিল।

    এবার আমি নিশ্চিন্ত হয়ে শুয়ে পড়লাম। কিন্তু দুটো জিনিস ভেবে পেলাম না। প্রথমত—এত কুকুর জুটল কোথা থেকে? দ্বিতীয়ত—যাকে ধাওয়া করে কুকুরগুলো এগোচ্ছিল, এক জায়গায় এসে থেমে গেল কেন? সেই বা গেল কোথায়? আমার মন বলল—যে আসছিল সে যেই হোক খুব শিগগির সে আবার আসবে।

    যখনকার কথা বলছি তখন বনগাঁ এমন শহর হয়ে ওঠেনি। পার্টিশন হয়নি, তার আগে থেকেই পূর্ব বাংলার লোক পালিয়ে আসতে শুরু করেছে। নির্দিষ্ট জায়গা নেই। যেখানেই ফাঁকা জায়গা পাচ্ছে সেখানেই কলোনি গড়ে তুলেছে। বর্ডারের কাছাকাছি জায়গাগুলোর দিকেই তাদের লক্ষ্য বেশি। তাই রানাঘাট, গেদে, বনগাঁ, বসিরহাট এসব জায়গায় উদ্বাস্তুরা ভিড় করছে।

    আমার এক আত্মীয় যশোরে থাকত। তারাও এদিকে চলে আসতে চায়। বনগাঁর কাছাকাছি একটা তৈরি বাড়ি হলে ভালো হয়। বাড়ি ঠিক করতে গিয়ে এই বাড়িটার সন্ধান পেলাম।

    বাড়িটা বনগাঁ টাউন ছাড়িয়ে ইছামতী নদী পার হয়ে যশোর রোড ধরে গিয়ে হরিদাসপুরের কাছে। চারিদিকে শুধু বন আর মাঠ। যশোর রোডের দু’পাশে সারিবদ্ধ শিশু গাছ—কেউ কেউ বলে রেনট্রি। অর্থাৎ বর্ষার গাছ।

    চারিদিক নির্জন। বাড়িটা পুরোনো। দোতলা। বাড়ির চারিদিকে অনেকখানি জায়গা জুড়ে কম্পাউন্ড। কম্পাউন্ডের মধ্যে আম—কাঁঠালের গাছ অনেকগুলো। নানারকম বুনো ফুল ফুটে আছে। ফড়িং আর প্রজাপতির খেলা। গাছের ডালে ডালে পাখির কাকলি।

    এমন একটা দোতলা বাড়ি খালি পড়ে থাকা কিছু আশ্চর্যের ব্যাপার নয়। কোনো এক সময়ে কেউ ভবিষ্যৎ না ভেবে শখ করে তৈরি করেছিল, তারপর এইরকম নির্জন জায়গায় টিকতে না পেরে শহরে চলে গিয়েছিল। সে সময়ে এরকম অনেক বাড়িই খালি পড়ে থাকত। কারণ না ছিল কলের জল, না ইলেকট্রিক লাইট। থানা বলতে এক ক্রোশ দূরে বনগাঁয়ে। ছিল শুধু চোর—ডাকাত আর সাপের উপদ্রব। তাই কেউ আর সাধ করে এসব জায়গায় পড়ে থাকতে চাইত না।

    বনগাঁ—এ আমার কয়েকজন জানাশোনা লোক ছিল। আমি বাড়ি খুঁজছি শুনে তাঁরা ওই বাড়িখানিই কেনার পরামর্শ দিলেন। তার কারণ উদ্বাস্তুদের চাহিদার মুখে এতখানি জায়গাসহ এমন মজবুত দোতলা বাড়ি এই দামে পরে আর পাওয়া যাবে না।

    কিন্তু জিজ্ঞেস করেছিলাম জায়গাটা কি ভালো? অত নির্জন জায়গা—চারিদিকে শুধু বন আর বন। লোক—বসতি নেই বললেই হয়। চোর—ডাকাতের উপদ্রব—

    তাঁরা বললেন—তা সত্যি ওই একটা ভয়ই আছে—চোর—ডাকাতের। আর ভয় সাপের। তা সাপ কলকাতার বাইরে কোথায় নেই মশাই?

    তবে আপনাকে একটা কথা বলি, যতক্ষণ ও বাড়িতে শংকরনাথ আছে ততক্ষণ চোর—ডাকাতের ভয় নেই। ও বন্দুক রাখে।

    —শংকর কে?

    শংকর সম্বন্ধে ওঁরা যা বললেন সংক্ষেপে তা এই—

    ওই বাড়িটার মালিক জগদীশ সামন্ত কলকাতায় থাকেন। তাঁর শালার ছেলে ওই শংকর। লেখাপড়া করল না, ভদ্রলোকের বাড়ির ছেলে হয়েও ভদ্রসমাজে মিশতে পারল না। পাড়ায় কেবল মারপিট আর বাজে আড্ডা। শেষে জগদীশবাবু তাকে ঘাড় থেকে নামাবার জন্যে বনগাঁর ওই বাড়িটার কেয়ারটেকার করে পাঠালেন।

    পিসেমশাই অতি সদাশয় লোক। শংকরকে খাইখরচা ছাড়াও দিয়েছিলেন একটা বড়ো টর্চ আর তাঁর পুরনো একটা একনলা বন্দুক—সে বন্দুক এখন কেউ ছোঁয় না।

    লাইসেন্সের একটা ব্যাপার আছে। লাইসেন্স জগদীশবাবুর নামে। আইনত শংকর তা ব্যবহার করতে পারে না। তবে বনগাঁর ওই জঙ্গলের মধ্যে দরকারের সময় যদি বন্দুকটা দু’একবার ব্যবহার করতেই হয় তার জন্যে সম্ভবত কোনো হাঙ্গামা হবে না। লাইসেন্স আছে কি না কেউ দেখতে আসবে না। জগদীশবাবু নাকি প্রথমে বন্দুকটি দিতে চাননি। কিন্তু শংকর যখন বলল ওখানে গভীর জঙ্গলে এক একদিন অদ্ভুত কোনো জন্তুর ডাক শুনতে পাওয়া যায়, তাদের পায়ের অস্বাভাবিক ছাপও নিজে চোখে দেখেছে, এমনকি জঙ্গলের মধ্যে চোখে পড়েছে গোরুর রক্তমাখা খণ্ড খণ্ড দেহও। তখন বন্দুকটা না দিয়ে পিসেমশাই—এর উপায় ছিল না।

    বাড়িটা কেনা একরকম পাকা হয়ে গেল। প্রায় অর্ধেক টাকা অ্যাডভান্স দেওয়া হল। তবে আত্মীয়টি সনির্বন্ধ অনুরোধ করলেন তাঁদের ওখানকার বিষয়—সম্পত্তি সব বেঁচে দিয়ে এখানে আসতে। যে দু’তিন মাস দেরি হবে সেই ক’দিন যেন আমি ও বাড়িতে দখল নিয়ে থাকি। অর্থাৎ প্রায় পরিত্যক্ত বাড়িটা ঝাঁটপাট দিয়ে, ঝুল ঝেড়ে, কুঠো জ্বালিয়ে সাপক্ষোপ তাড়িয়ে আমি যেন বাড়িটা বাসপোযোগী করে রাখি। অর্থাৎ অনেক দিনের অব্যবহৃত বাড়িতে থাকতে গিয়ে যদি বিপদ—আপদ কিছু হয় তাহলে তা যেন আমার ওপর দিয়েই যায় এই আর কি।

    সত্যি কথা কি ওই শংকরের ভরসাতেই আমি এ বাড়িতে একা থাকতে এলাম।

    আমাকে দেখে শংকর খুশি না হলেও আমার কিন্তু ছেলেটাকে ভালোই লেগেছিল। বেপরোয়া সরল সহজ ছেলেটা। দু’চোখে বুদ্ধি আর সাহস যেন ফুটে বেরোচ্ছে। সে যখন জানল বাড়িটার মালিক হয়ে আমি এসেছি তখন থেকে এড়িয়ে থাকতে শুরু করল।

    আমিই ওকে কাছে ডেকে এনে বললাম—আমার সঙ্গে কথা বলছ না কেন?

    শংকর একটু চুপ করে থেকে বলল—আপনিই তা হলে বাড়িটা কিনলেন? কবে আমাকে উঠে যেতে হবে বলুন।

    মনে মনে ভাবলাম—ও, এইজন্যেই রাগ?

    বললাম—বাড়ি আমি কিনিনি। কিনেছে আমার এক আত্মীয়। আমি শুধু যোগাযোগ করে দিয়েছি। আপাতত ওরা না আসা পর্যন্ত আমি থাকব।

    —সে কত দিন?

    বললাম—তা মাস দুই তো বটেই।

    শংকর যেন কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে বলল—তা হলে আরও দু’মাস আমি এখানে থাকতে পারব?

    বললাম—স্বচ্ছন্দে। তুমি না থাকলে এই জঙ্গলের মধ্যে আমি কখনও একা থাকতে পারি?

    শংকর যেন খুশি হল। নিজের মনেই বলল—যাক দু’মাসের মধ্যে নতুন জায়গা খুঁজে নিতে পারব। বলে দোতলার চাবিটা আমার দিকে ছুঁড়ে দিল।

    আমি সেটা লুফে নিয়ে বললাম—নতুন জায়গা খুঁজে নেবে মানে? পিসেমশাই—এর কাছে ফিরে যাবে না?

    শংসর তার একমাথা ঝাঁকড়া চুল প্রবলভাবে নেড়ে বলল—কখনোই না।

    বললাম—কেন?

    —সে আপনি বুঝবেন না। মা—বাপ হারা ছেলেকে যখন বাধ্য হয়ে কোনো আত্মীয়ের দয়ার ওপর থাকতে হয় তখন তার যে কী কষ্ট—

    এই জঙ্গলে সাপখোপে ভরা ভয়ংকর জন্তু—জানোয়ারের মধ্যে আমাকে পাঠাবার উদ্দেশ্য তো আমাকে মেরে ফেলা। কিন্তু পারেনি।

    বলে শংকর একটু থামল। দেখলাম ওর চোখে যেন আগুন জ্বলছে।

    তারপর ফেরে বলতে লাগল—এখানে থাকতে থাকতে চাষিদের সঙ্গে ভাব করে নিয়েছি। তাদের ছেলেরাই আমার বন্ধু। রাস্তার কুকুরগুলো সব আমার পোষা। এই কম্পাউন্ডের মধ্যে যত বেজি আছে সব নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায়। সাপের ভয় থেকে বাঁচায়। কাজেই পিসেমশাই—এর কাছে আর ফিরে যাব না। শুধু দুঃখ দু’মাস পর এদের ছেড়ে যেতে হবে।

    আমি এগিয়ে গিয়ে ওর কাঁধে হাত রেখে বললাম—তুমি তো কম্পাউন্ডের মধ্যে আলাদা একটা ঘরে থাকো। আমার আত্মীয়রা যখন আসবে তখন তাদের বলে দেব যাতে তোমায় কেউ তুলে না দেয়। তা ছাড়া তুমি থাকলে তাদের উপকারই হবে।

    শংকর কোনো কথা বলল না। শুধু একবার তাকিয়েই চলে গেল। যেন কিছুটা নিশ্চিন্ত হল। এইভাবেই শংকরের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়।

    আমি বই লিখি। আত্মীয়ের অনুরোধে এখানে আমি মাস দুই থাকব। ইচ্ছে নিরিবিলিতে একটা উপন্যাস শেষ করে ফেলব।

    সারা সকাল নিজের কাজ করি। নিজেই রাঁধি, চা করি। আর সন্ধের সময় মাঝে মাঝে শংকরের সঙ্গে গল্প করি। একটা জিনিস লক্ষ করছি ও যেন খুব বেশি আমার সঙ্গে মিশতে চায় না। দোতলায় ওঠে না বললেই হয়। ও যেন আমাকে ‘মালিক’দেরই একজন বলে মনে করে। ঠিক নিজের লোক মনে করে মিশতে পারে না।

    একদিন আমি সন্ধের পর নীচে নেমে নিজে থেকেই শংকরের সঙ্গে গল্প করলাম। সেই যে শুনেছিলাম ও নাকি এখানে মাঝে মাঝেই কোনো অচেনা জন্তুর অদ্ভুত ডাক শুনতে পায়; সেই জন্তুর পায়ের ছাপও দেখেছে, ক্ষতবিক্ষত গোরুর মৃতদেহও চোখে পড়েছে—এসব কি সত্যি? শংকরকে জিজ্ঞেস করব করব করেও সে কথা জিজ্ঞেস করতে পারিনি। কেননা কথাগুলো যার কাছ থেকে শুনেছিলাম, এখন জানলাম সেই পিসেমশাই—এর ওপর শংকরের কোনো শ্রদ্ধাই নেই।

    তবু একটু ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলাম—শংকর, এখানে তো দেখি চারিদিকেই বন। এখানে কি তেমন কোনো ভয় আছে?

    ও কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে যেন আমাকে বোঝবার চেষ্টা করল। তারপর শান্তগলায় বলল—বেশ কিছুদিন তো হল আপনি এখানে রয়েছেন। ভয়ের কিছু দেখেছেন?

    বললাম—না।

    —তা হলে শুধু শুধু ভয়ের কথা ভাবছেন কেন?

    বললাম—সত্যি ভয় পেলে তোমার ভরসাতেও আমি কখনও এখানে আসতাম না। তবে কলকাতায় শুনেছি বনগাঁর এই জায়গায় আগে ইছামতী পার হয়ে ডাকাত আসত দলে দলে। কতজনের বডি পাওয়া গিয়েছিল এখানকার জমির তলায়। তাই এখানে নাকি অপদেবতার ভয় আছে।

    শংকর হাসল একটু। বলল—ভালো ভাষায় ‘অপদেবতা’ বলছেন কেন? বলুন ভূত। ভূতেদের এই একটা মস্ত গুণ তাদের ভূত বললে তারা রাগ করে না। না দাদা, আমি তো এতদিন এই বাড়িতে একা আছি। ও জিনিসটি একদিনের তরেও দেখতে পাইনি।

    তবে—

    শংকর হঠাৎ থেমে গেল।

    ব্যস্ত আগ্রহে জিজ্ঞেস করলাম—তবে?

    শংকর গম্ভীর গলায় বলল—তবে মানুষের জানার বাইরেও অনেক কিছু থাকে। জোর করে কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না।

    বললাম—প্রথম দিকে একদিন গভীর রাতে কুকুরের ডাকে আমার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল কোনো অচেনা জীবকে—মানুষও হতে পারে—কুকুরগুলো তাড়িয়ে নিয়ে আসছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এল না। থেমে গেল। তবু ডেকে যাচ্ছিল। শেষে তোমার ধমক খেয়ে চুপ করল। শংকর, সত্যিই কি কুকুরগুলো কিছু দেখেছিল? যদি দেখেই থাকে তা হলে হঠাৎ থেমে গেল কেন?

    শংকর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে কিছু ভাবল। তারপর বলল—ওটা অবশ্য ভাববার কারণ। নতুন এসেছেন—লোকে জানে আপনিই বাড়ি কিনেছেন—বাড়ির মালিক। কাজেই হয়তো— যাক ও ভেবে লাভ নেই। আমি তো আছি।

    শংকর বলল বটে—ভেবে লাভ নেই। কিন্তু নতুন করে চোর—ডাকাতের ভয়টা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল।…..

    তারপর একদিন—

    আমি দোতলায় শুই।

    অনেক রাতে ঘুম ভেঙে গেল। বাগানের দিকের জানলাটা বাইরে থেকে যে যেন খোলবার চেষ্টা করছে। সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল, মশারির মধ্যে বিছানায় উঠে বসলাম। দেখলাম জানলাটা আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছে—আমি যেই টর্চ জ্বাললাম, সঙ্গে সঙ্গে আঁতকে উঠলাম। একটা কালো লোমশ হাত চওড়া থাবা তুলে মশারিটা ধরবার চেষ্টা করছে।

    আমি প্রাণপণে চেঁচিয়ে উঠলাম—শংকর—

    সঙ্গে সঙ্গে নীচে শংকরের ঘরের দরজা খুলে গেল। সেও অন্ধকারের মধ্যে চেঁচিয়ে উঠল—কী হয়েছে দাদা?

    তারপরেই ধুপ করে শব্দ। যেন খুব ভারী কোনো জিনিস ওপর থেকে নীচে পড়ে গেল।

    শংকরের গলা পেয়ে আমারও সাহস হল। দরজা খুলে তরতর করে নীচে নেমে গেলাম। ততক্ষণে শংকর হাতে বন্দুকটা নিয়ে অন্ধকারেই বাগানের মধ্যে দিয়ে ছুটছে। কিন্তু কার পিছনে ছুটছে তা বোঝা গেল না। আমি অন্ধকারেই একা দাঁড়িয়ে রইলাম।

    কিছুক্ষণ পর দু’বার গুলির শব্দ হল। বোঝা গেল শংকর এমন কিছু দেখেছে যে গুলি ছুঁড়তে হয়েছে।

    সেই অন্ধকারে বড়ো বড়ো গাছের নীচে মশার কামড় খেয়ে দাঁড়িয়ে আছি তো আছিই। শংকরের ফেরার নাম নেই। আশ্চর্য—জানলা দিয়ে ওইরকম একটা হাত স্ব—চক্ষে দেখা সত্ত্বেও এভাবে এখানে একা দাঁড়িয়ে থাকাটা যে ঠিক নয়, এ বুদ্ধিটুকুও যেন লোপ পেয়েছে।

    দেখতে দেখতে দেড় ঘণ্টা হয়ে গেল। শংকর ফিরল না। কোথায় কত দূরে গেল? একটা চোর ধরবার জন্যে এই রাত্তিরে একা এত ছোটাছুটি করার দরকারই বা কী? তা ছাড়া চোর তো কিছু নিতেও পারেনি।

    দারুণ উৎকণ্ঠা নিয়ে বাকি রাতটুকু বাগানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই কাটল। শেষে ভোরবেলা উষ্কোখুষ্কো চুল, লাল টকটকে চোখ আর ধুলোভরা পা নিয়ে কখন যেন উদভ্রান্তের মতো শংকর ফিরল।

    বন্দুকটা পাশে রেখে ধপ করে মাটিতে বসে পড়ে হতাশার সুরে বলল—নাঃ কিছুতেই ধরতে পারলাম না। যতই কাছে যাই ততই অন্ধকারে হারিয়ে যায়। একা তো। সঙ্গে কেউ থাকলে বাছাধনকে ঠিক ধরে ফেলতাম।

    —কতদূর গিয়েছিলে?

    —ও—সাঁকো পেরিয়ে।

    চমকে উঠলাম—বল কী! অত দূর?

    —হ্যাঁ। খুব ঘুরিয়েছে, শালা। অন্য কেউ হলে জান ফেটে মরে যেত।

    বললাম—তুমি তো দু’বার গুলিও ছুড়েছিলে?

    শংকর হতাশ সুরে বলল—ছুড়েছিলাম তো। কিন্তু লাগল কই? ভয়ও পেল না এতটুকু। শুধু দৌড়তে লাগল। সে কী দৌড়!

    বলতে বলতে হঠাৎ শংকর কীরকম হয়ে গেল। গলার স্বর বসে এল। দু’চোখ বড়ো হয়ে উঠল। আমি ওকে দু’হাত দিয়ে ধরে ঝাঁকানি দিয়ে ডাকলাম—শংকর! শংকর হঠাৎ জিজ্ঞেস করল লোকটা—লোকটা দোতলার জানলায় উঠল কী করে ভেবেছেন কী?

    ২০০৩, সাহানা শারদীয়া

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনতুন নতুন নাটক – সম্পাদনা: মনোজ মিত্র
    Next Article ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    Related Articles

    মানবেন্দ্র পাল

    অশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    মানবেন্দ্র পাল

    ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }