Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অমনিবাস ২ – মানবেন্দ্র পাল

    মানবেন্দ্র পাল এক পাতা গল্প507 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভৈরব আচার্যের কথা

    সময়টা ১৯৪৪—৪৫ সাল। অর্থাৎ তখনও দেশ ভাগ হয়নি। শেয়ালদা—যশোর লাইনে বনগ্রাম ছিল একটা নগণ্য স্টেশন। বনগ্রাম নয়—’বনগ্রাম জংশন’! শেয়াল ডাকা যে স্টেশন সন্ধের পর কেরোসিনের টিমটিমে আলোয় স্টেশনমাস্টার নিজেই ঘটাং ঘটাং করে পাঞ্চ করে মাত্র খান দশেক টিকিট বিক্রি করেন সেই স্টেশনও নাকি জংশন!

    হ্যাঁ, জংশনই। বনগাঁ থেকে একটা ফ্যাকড়া লাইন মাত্র তিনটি স্টেশন—গোপালনগর, মাঝেরগ্রাম, গাঙনাপুর হয়ে পৌঁছেছে রানাঘাট। এইসব স্টেশনে প্যাসেঞ্জার খুব কম। লাইনের দু—পাশে খাঁ খাঁ মাঠ কিংবা জঙ্গল।

    খাস বনগাঁর চেহারাটা সেদিন কীরকম ছিল আজকের বনগাঁয় যাঁরা যাতায়াত করেন তাঁরা কল্পনাই করতে পারেন না। সংকীর্ণ ইছামতী নদী বনগাঁকে দু’ভাগ করে দিয়েছে। একটি ভাগে পড়েছে বনগ্রাম স্টেশন থেকে ইছামতীর চর পর্যন্ত। যেটা বনগাঁ শহর বাজার। আর বোটের ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে পাঁচ মিনিটের দূরত্বে ওপারে পৌঁছলে আর এক বনগাঁ। এ বনগাঁর চেহারা আলাদা। দীর্ঘ যশোর রোডের দু—পাশে আকাশছোঁয়া সারবদ্ধ শিশুগাছ। মোতিগঞ্জ পার হয়েই পেট্রাপোলের দিকে জয়পুর, ছঘরিয়া, হরিদাসপুর, নাভাঙার সাঁকো পার হয়ে যতই এগোনো যায় রাস্তার দু—পাশে শুধু মাঠ আর বন। এত বন যে মনে হয় এর জন্যেই বনগ্রাম নামটা সার্থক।

    এই সারবদ্ধ বনের সঙ্গে সুন্দরবনের যোগ আছে, সে সময়ে স্থানীয় লোক তা মনে করে আতঙ্কিত হত।

    তারা মনে করত এই বনের পথ ধরেই মাঠ, নদী—নালা পার হয়ে সুন্দরবনের কোনো ভয়ংকর জন্তু হয় তো একদিন ঢুকে পড়বে শহর বনগাঁ—এ না হলেও, ছ’ঘরে, জয়পুর, হরিদাসপুরের সীমানায়।

    কিন্তু এ তো অসম্ভব কল্পনা। কোথায় উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ! আর কোথায় মোছলন্দপুর হয়ে বসিরহাট পেরিয়ে তারপর ইছামতীর ধার ঘেঁষে হাসনাবাদ হয়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুন্দরবনের সীমানা…

    কিন্তু তবু মোতিগঞ্জ, জয়পুর, হরিদাসপুরের লোকেরা গভীর রাতে হঠাৎ হঠাৎ অজানা পাখি কিংবা অচেনা জন্তুর বুক—কাঁপানো ডাক শুনে ভয়ে কেঁপে ওঠে।

    পরের দিন শিশুগাছের নীচে ছোট্ট চায়ের দোকানের সামনে বাঁশের মাচানে বসে খদ্দেররা চায়ের গেলাসে চুমুক দিতে দিতে ভয়ে ভয়ে কথাটা তোলে—কাল রাতে কিছু শুনেছিলেন কর্মকারমশাই?

    কানাই কর্মকার যেন এইরকম একটা কথা শোনার জন্যে অপেক্ষা করে ছিলেন। বললেন—শুনিনি আবার! ও ডাক যে মরা মানুষকেও জাগিয়ে দেয়। বাপরে!

    ——ডাকটা কোনদিক থেকে এল বলুন তো! জিজ্ঞেস করল সাহেব আলি মণ্ডল।

    —দক্ষিণ দিক থেকে। চায়ের দোকানের মালিক রেণুপদ চায়ের গেলাসে চামচ নাড়তে নাড়তে বলল।

    —হ্যাঁ, ঠিক। ব্রহ্মডাঙার দক্ষিণে যে বনটা তারই মাথার ওপর থেকে। রেণুপদর কথার সমর্থন করল গদাই কৃতেন।

    —কিন্তু ডাকটা কীসের? আমি ঘুমের মধ্যে যতদূর শুনেছি পরপর তিনবার ডেকেই থেমে যায়।

    —তার পরেও দূরে আর একবার ডাকতে শোনা গিয়েছিল।

    এইভাবেই যশোর রোডের ধারে ছোট্ট চায়ের দোকানটা সক্কালবেলাতেই সম্ভব—অসম্ভব নানা বিতর্কে জমে ওঠে।

    এই ডাক যে প্রথম শোনা গেল তা নয়। এর আগেও শোনা গিয়েছিল—কেউ বলে পাঁচ বছর আগে, কেউ বলে তা বছর তিনেক আগে তো বটেই। কিন্তু বড়ো সমস্যা ডাকটা কীসের তা কেউ বলতে পারে না। হরিদাসপুরের লোকেরা বলে কোনো অজানা পাখির ডাক, আর জয়পুরের লোকেদের বিশ্বাস ও ডাক কোনো ভয়ংকর জন্তুর। আবার কেউ কেউ বলে কোনো অশরীরী আত্মার আর্তনাদ। নইলে ছোটো ছেলের কান্নার মতো কোনো জন্তুর ডাক হয়?

    একজন বললে—একবার ভৈরব গুণিনকে জিজ্ঞেস করলে হয় না? ঝিকরগাছায় তো খড়ি কেটে, মন্ত্রের জোর দেখিয়ে খুব নাম করেছিল। যশোর—খুলনাতেও তার নামডাক আছে বড়ো ওঝা হিসেবে। কত সাপে—কাটা রুগি, কত ভূতে—পাওয়া রুগি—বেঁচে উঠেছে ওনার ঝাড়ফুঁকের জোরে। লোকটি নিতান্ত ফ্যালনা নয় হে।

    এ কথায় সবাই বললে—তা মন্দ বলনি। একবার গেলে হত।

    এইরকম সময়েই অর্থাৎ ১৯৪৪—৪৫ সালে আমাকে একবার আসতে হয়েছিল এই বনগাঁয়ে। উঠতে হয়েছিল মোতিগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাড়ি। বনগাঁ স্টেশন থেকে রিকশা করে যখন ইছামতীর এপারে নামলাম তখন বিকেল। তারপর পায়ে হেঁটে বোটের পোল পার হয়ে মোতিগঞ্জ। দু—পাশে শিশুগাছে ছাওয়া রাস্তা চলে গেছে সোজা যশোর। আমার আত্মীয়ের বাড়ি বোটের পোল থেকে খুব বেশি দূরে নয়। কাজেই হাঁটাই শুরু করলাম। অবশ্য হাঁটা ছাড়া অন্য উপায় ছিল না তখন। রিকশা চলত শুধু শহরের মধ্যে।

    অল্প কয়েকটি দোকান। দোতলা বাড়ি চোখে পড়ল অনেকগুলো। কিন্তু সবই পুরোনো, জীর্ণ। তখনও বিকেল শেষ হয়নি। এরই মধ্যে লোক চলাচল কমে গেছে। এই সন্ধের মুখে কোথায় বা যাবে এক বনগাঁ টাউন ছাড়া? যেতে গেলে ইছামতী পার হতে হবে বোটের ওপর দিয়ে। কিন্তু প্রায়ই এই সন্ধের মুখে একটা জোর বাতাস ওঠে। সেই বাতাসে উত্তাল ইছামতীর সবুজ জল কলবল খলবল করে ওঠে। অন্ধকারে অসাবধানে বোটের কিনারে পা পড়লে আর রক্ষে নেই।

    আমার আত্মীয়ের বাড়িটাও খুব পুরোনো। অনেকখানি উঠোন পাঁচিলঘেরা। অনেক জায়গাতেই ইট ভেঙে পড়েছে। যে কেউ ইচ্ছে করলে পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে। বাড়ির পিছনে খানিকটা মাঠ। তারপর আমবাগান আর বাঁশঝাড়। সন্ধে লাগবার আগেই ওদিকের জানলাগুলো বন্ধ করে দিতে হয়। সন্ধের পর ওদিকটা যেন এক নিষিদ্ধ জগৎ।

    উঠোনের একপাশে একটা নিমগাছ আর একটা পেঁপে গাছ। ওদিকে একটা ইঁদারা। ইঁদারার তিনদিক ঘিরে ঝাঁপ ফেলে বাথরুমের ব্যবস্থা। আর খাটা পায়খানাটা একেবারে মাঠের দিকের পাঁচিল ঘেঁষে। বাড়ির লোকে সাবধান করে দেয়—’রাত্তিরে ওদিকে না যাওয়াই ভালো।’

    কেন না যাওয়াটা ভালো তা আর জিজ্ঞেস করতে হয় না। জীর্ণ টিনের ছাউনি দেওয়া পায়খানার ঠিক মাথার উপর নিষ্ফলা আমগাছের একটা শুকনো ডাল গভীর রাত্রে বাতাসের ধাক্কায় মাঝে মাঝে দুলে ওঠে। মনে হয় কোনো অশরীরী জীব যেন তার রক্তমাংসশূন্য হাতটা নাড়ছে।

    এ তো কাল্পনিক ভয়। এ ছাড়া বাস্তবের কিছু ভয় আছে। সে কথা মনের মধ্যেই চাপা থাকে।

    রাস্তার ধারে শিশুগাছের নীচে সেই ছোট্ট চায়ের দোকানে আমিও প্রায় যাই। কলকাতার ‘বাবু’ বুঝে দোকানি আমায় বেশ খাতির করে। খাতির করার আরও কারণ, আমার মতো নগদ খদ্দের তার খুব কমই আছে। শুধু দোকানিই নয়, অন্য খদ্দেররাও আমায় সমীহ করে। এদের মুখেই আমি প্রথম শুনি সেই রহস্যময় ডাকের কথা। আর শুনি ভৈরব আচার্যের কথা। গুণিন হিসেবে তাঁর জুড়ি নাকি এ অঞ্চলে নেই। তাঁর ‘গৃহবন্ধন’ ‘ক্ষেত্রবন্ধন’ মন্ত্র অব্যর্থ। কোনো জন্তু—জানোয়ার দূরের কথা, সাপ পর্যন্ত ঢুকতে পারে না ঘরে। আমার আত্মীয়টির বাড়ির সকলের মুখেই তাঁর কথা। ভৈরব আচার্য নাকি সাপে—কাটা মড়াও বাঁচিয়ে তুলতে পারে! কাছেই বাড়ি। তাই একদিন চলে গেলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। জীবনে কখনও ওঝা, গুণিন দেখিনি। তাই কৌতূহলটা ছিল বেশি।

    আমাদের বাড়ির পিছনে বাঁশঝাড় আর মাঠ ছাড়িয়েই তাঁর বাড়ি। একতলা। টালির ছাউনি। উঁচু দাওয়া। সামনে উঠোন। পাশে সবজির বাগান।

    উঠোনে একটি বছর সাতেকের ছেলে মার্বেল খেলছিল। তার চোখে চশমা। দাওয়ায় পা ছড়িয়ে বসে পাঁচ—ছ’ বছরের একটি মেয়ে একটি একটি করে মুড়ি খাচ্ছিল।

    ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলাম—তুমি কি ভৈরববাবুর ছেলে?

    সে মাথা দুলিয়ে সায় দিল।

    —একবার ডেকে দাও।

    —বাবা বাড়ি নেই।

    —বাড়ি নেই! কোথায় গেছেন?

    —জানি না।

    —কখন আসবেন?

    —জানি না।

    এমনি সময়ে ঘরের মধ্যে থেকে খুব ভারী গলার স্বর শোনা গেল—ক্যা রে গোপী?

    কোনো মহিলার গলার স্বর যে এত মোটা হতে পারে এমন ধারণা আগে ছিল না।

    গোপী উত্তর দিল—একটা লোক মা।

    সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে যে মহিলাটির আবির্ভাব ঘটল তাঁকে দেখে কেমন থমকে গেলাম। যেমনি লম্বা তেমনি চওড়া চেহারা। কুচকুচে কালো রং। মস্ত গোলমুখ। সদ্য স্নান করেছেন। পিঠ জুড়ে ভিজে চুলের রাশ। কপালে টাকার মতো বড়ো সিঁদুরের টিপ। সিঁথির সিঁদুর, হাতের নোয়া, শাঁখা একসঙ্গে যেন তাঁর স্বামীর গৌরব ঘোষণা করছে।

    —কী চাই?

    নম্র গলায় বললাম—আচার্যমশাই আছেন?

    মহিলাটি বললেন—না। ‘কলে’ গেছেন।

    ‘কলে’ গেছেন! অবাক হলাম। ‘কলে’ তো ডাক্তাররাই যায়। ইনিও কি—

    —কখন ফিরবেন?

    মহিলাটি চোখ—মুখ ঘুরিয়ে বললেন—বলা যায় না। গোপালনগর গেছেন। শক্ত কেস—ঘন ঘন ভিরমি খাচ্ছে ঘরের বৌ। আপনার কী কেস আমায় বলে যেতে পারেন।

    ইতস্তত করে বললাম—আমার কোনো কেস নেই। এমনি আলাপ করতে এসেছিলাম।

    ভদ্রমহিলা অবাক হয়ে বললেন—কেস নেই! এমনি এমনি আলাপ করতে এসেছেন! না দাদা, উনি শুধু শুধু দেখা করেন না। অত সময় ওঁর নেই। চার জায়গায় তাঁকে ছুটতে হবে পরপর ক’দিন। পার্টি টাকা অ্যাডভান্স করে গেছে। তার মধ্যে তিনটে গৃহবন্ধনের কাজ আছে। একটা আবার মুখবন্ধন!

    ফিরে এলাম। বুঝলাম আচার্য—গৃহিণী স্বামীগর্বে বেজায় গরবিনী! তা ছাড়া পয়সা রোজগারও ভালোই হয়। কিন্তু এই সব তুকতাক, ঝাড়ফুঁকে কাজ কতটা হয় তার কি কোনো নজির আছে? সবই তো দূরে দূরে। বাঁচল কি মরল, ভালো হল কি হল না এখান থেকে কে তা দেখতে গেছে?

    সেদিন এই জয়পুর, হরিদাসপুর, অঞ্চলে হঠাৎ চাঞ্চল্য—আগের দিন গভীর রাতে সেই ডাক নাকি আবার শোনা গিয়েছিল। তবে খুব অল্প সময়ের জন্যে। এবার নাকি গত দু—বছরের মধ্যে চারবার শোনা গেল। তবে অন্যবারের মতো সবাই শুনতে পায়নি। অল্প কিছু লোক শুনেছে। আর তারা যে ভুল শোনেনি তার ভয়ংকর প্রমাণ পাওয়া গেল হরিদাসপুরের জঙ্গলে একটা ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখে। হিংস্র জীবটি গভীর রাতে জীবন্ত মানুষ না পেয়ে কাঁচা কবর থেকে একটা তাজা মৃতদেহ তুলে ছিঁড়ে খেয়েছে। এমন ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি।

    ইস! এখানে থাকা সত্ত্বেও ডাকটা শুনতে পেলাম না! তবু ছুটলাম হরিদাসপুর। তখন সবে পুলিশ মৃতদেহটা তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু ভিড় কমেনি। এগিয়ে যেতে দেখলাম একজন মধ্যবয়স্ক লোককে ঘিরে লোকে কথাবার্তা বলছে। লোকটি মোটাসোটা। গায়ে হাফহাতা পাঞ্জাবি। গলায় রুদ্রাক্ষ আর কাচের মালা। হাতে অজস্র তাগা—তাবিজ। কপালে রক্তচন্দনের ফোঁটা। জানলাম ইনিই স্বনামধন্য ভৈরব আচার্য। তাঁর হাতে একটা ঝকঝকে ত্রিশূলও আছে।

    তিনি গত রাতে কোনো ডাক শুনতে পেয়েছিলেন কিনা কবুল করলেন না। এখন ভিড় দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। মৃতদেহটিও তিনি দেখে এসেছেন।

    সবাই তাঁকে ছেঁকে ধরেছে। জিজ্ঞেস করছে—বলুন আচার্যমশাই, আপনি থাকতে এসব কী অলৌকিক ব্যাপার ঘটছে!

    ভৈরব আচার্যের ঠোঁটে হালকা হাসি লেগেই আছে। বললেন—ও কিছু নয়।

    কিছু নয়! কিছু নয় তো কবর থেকে মড়া তুলে খায় কীসে?

    কিন্তু ভৈরব আচার্যের মুখের ওপর কিছু বলতে সাহস হয় না। তবু কেউ সাহস করে জিজ্ঞেস করে—ওই ডাক কি কোনো অজানা হিংস্র পাখির কিংবা জন্তুর? এলই বা কোথা থেকে?

    এক বৃদ্ধ বললেন—আমাদের মনে হয় সুন্দরবনে কত রহস্যময় জন্তু—জানোয়ার তো আছে—তাদেরই কোনোটা হয় তো দলছুট হয়ে জঙ্গলের পথ ধরে এদিকে এসে পড়েছে…

    কিন্তু সদাব্যস্ত আচার্যমশাই—এর এতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অলস জল্পনা—কল্পনা শোনার ধৈর্য নেই। অসহিষ্ণু হয়ে বলে উঠলেন—অহেতুক ভয় পাচ্ছেন কেন? আমার ওপর কি আপনাদের বিশ্বাস নেই? আমি তো এখানে এসেই পঁচিশ কাঠা জায়গা জুড়ে নিজের ট্যাঁকের পয়সা খরচ করে ‘ক্ষেত্রবন্ধন’ দিয়ে দিয়েছি। রয়াল বেঙ্গলের বাপেরও সাধ্য নেই এ তল্লাটে ঢোকে।

    বলেই তিনি হাতের ত্রিশূল মুঠোয় শক্ত করে ধরে বাড়ির দিকে ফিরে গেলেন।

    আমার মনে হল আচার্য—গৃহিণীর চেয়ে স্বয়ং আচার্যমশাই—এরও অহংকার কম নয়। একমাত্র তিনিই যেন এ অঞ্চলের রক্ষাকর্তা।

    এর মাসখানেক পর।

    অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি। শীত বেশ জাঁকিয়ে পড়েছে। পাঁচটা বাজতে না বাজতেই অন্ধকার নেমে আসে। বাইরে বেরোনো যায় না। অন্ধকার ঘুটঘুন্টে পথে কে বেরোবে? তার ওপর রাস্তার দু—পাশে সার সার শিশুগাছ যেন অন্ধকারকে আরও ভয়ংকর করে তোলে।

    বিকেল হতে না হতেই আমাদের বাড়ির জানলাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। একতলা বাড়ি বলেই বোধ হয় একটু বেশি সাবধান হতে হয়।

    টিনের চাল দেওয়া রকে একটা চৌকির ওপর গরম চাদর জড়িয়ে বসেছিলাম। দরজার কোণে লণ্ঠনটা জ্বলছিল টিমটিম করে। চারিদিকে নিস্তব্ধ। রাস্তার ওপারে ঝোপেজঙ্গলে ঝিঁঝিঁ ডেকেই যাচ্ছিল অবিশ্রান্ত।

    হঠাৎ বাড়ির খুব কাছে একটা অদ্ভুত ডাক শোনা গেল ওঁয়া—ওঁ—য়া—

    ঠিক যেন কোনো বাচ্চা ছেলে মর্মান্তিক যন্ত্রণায় চিৎকার করে কাঁদছে। তার পরেই মনে হল কোনো কিছু যেন বাড়ির ঠিক পিছনের জঙ্গল দিয়ে ঝোপঝাড় মাড়িয়ে চলে যাচ্ছে। আমি ছুটে গিয়ে পিছনের জানলাটা খুলে দেখতে গেলাম। কিন্তু ততক্ষণে জন্তুটা চলে গেছে।

    এই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কত দূর আর যাবে মনে করে হাতে একটা লাঠি আর লণ্ঠনটা তুলে নিয়ে পিছনের দিকে খিড়কির দরজাটা খুলতে গেলাম, বাড়ির পুরোনো কাজের লোকটি ছুটে এসে আমার হাত ধরে নিরস্ত করল—না, না, বাবু, বাইরে যাবেন না।

    আমি থমকে গেলাম।

    পরের দিন সকালে যদিও আমার মন টানছিল রেণুপদর চায়ের দোকানের দিকে, তবু আমি সে প্রলোভন কষ্ট করে সম্বরণ করলাম। কারণ, জানি ওখানে গেলে আমি গত সন্ধ্যার ঘটনা না বলে পারব না। আর তারপরই শুরু হবে অজস্র প্রশ্ন, সে সব প্রশ্নর সত্য উত্তর দিলেও সবাই তা বিশ্বাস করবে এমন মনে হয় না। আমাকে দোষ দিয়ে কেউ কেউ এমনও বলতে পারেন—একলা যেতে যদি সাহসে নাই কুলিয়েছিল তবে হাঁক দিয়ে লোক ডাকলেন না কেন?

    শীতের নিস্তব্ধ রাতে হাঁক দিলেও যে লোক জড়ো হয় না এ কথা ওঁদের বোঝাব কী করে?

    সন্ধের মুখে যখন গেলাম তখন কানাই কর্মকারমশাই দোকান থেকে বৈকালী চা খাওয়া সেরে একটি বিড়ি ধরিয়ে তাড়াতাড়ি উঠছিলেন।

    আমায় দেখে ব্যস্ত হয়ে বললেন—এ কী স্যার এত দেরিতে এলেন? রেণুপদ যে ঝাঁপ ফেলে দিচ্ছে।

    কেন এত তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করছে জানতে না চাওয়ায় কানাই নিজেই বললেন—তাড়াতাড়ি বন্ধ না করেই বা উপায় কী! কাল সন্ধের পর পরই তো—এবার পাড়াতেই—এই পর্যন্ত উচ্চারণ করে ব্যস্ত হয়ে বললেন—আপনার হাতে তো টর্চ আছে। চলুন আপনার সঙ্গেই যতটুকু যাওয়া যায়। বলে কানাই কর্মকার তেল সাশ্রয় করার জন্য হাতের লণ্ঠনটার দম কমিয়ে দিলেন।

    কর্মকারমশাই—এর বাড়ি আমার বাড়ি থেকে কিছুদূর পশ্চিমে।

    বেশি রাত হয়নি তখনও। তাই কানাই কর্মকারকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ফিরব মনে করে ওঁর সঙ্গে সারা পথ টর্চ জ্বেলেই হাঁটতে লাগলাম।

    আমাদের বাড়ির পিছনের মাঠ পেরিয়ে ভৈরব আচার্যের বাড়ি পেরিয়ে বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে ধুলোভরা সরু রাস্তা। দু—পাশে ঝোপঝাড়। টর্চ জ্বালিয়েই চলেছি। হঠাৎ বাঁ দিকের ঝোপ থেকে ঝাঁপিয়ে কী যেন বেরিয়ে এসে সাঁ করে চক্ষের নিমেষে ডান দিকের ঝোপের ভেতর দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। ওই সময়টুকুর মধ্যেই দেখে নিয়েছিলাম একটা বড়ো কুকুরের দ্বিগুণ আকৃতির কুচকুচে কালো—কী জন্তু জানি না। তবে কিছুতেই বাঘ নয়। মুখে কিছু একটা বড়োসড়ো শিকার কামড়ে ধরা। কানাই কর্মকার আমাকে জড়িয়ে ধরে থরথর করে কাঁপতে লাগলেন।

    সব কিছুই ঘটে গেল এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে। ভালো করে সব বুঝে উঠতে পারিনি। নিজেকে সামলাতে সময় লাগল আরও কিছুক্ষণ। তারপর কোনোরকমে কর্মকারমশাইকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ওই পথ দিয়েই বাড়ি ফিরে এলাম।

    পরের দিন সক্কালবেলায় অনেকেই ভৈরব আচার্যের বাড়ি এসেছিল ব্যাপারটা জানতে। সম্ভবত কানাই কর্মকারই ঘুম থেকে উঠেই রেণুপদর দোকানে গিয়ে সবিস্তারে বিষয়টি সকলকে জানিয়েছিলেন। আমিও গিয়েছিলাম। কিন্তু আশ্চর্য অত সকালেও আচার্যমশাই—এর দরজায় তালা ঝুলছিল। এত সকালে বাড়ির সবাই মিলে কোথায় গেল প্রতিবেশীরা কেউ বলতে পারল না। তারা বললে ঘুম থেকে উঠেই দেখছে বাড়িতে তালা। এমন কখনও হয় না।

    একে একে সবাই যখন ফেরার মুখে তখন হঠাৎ আমার চোখে পড়ল দাওয়ার একপাশে পড়ে আছে কতকগুলো পড়ার বই, খাতা, একটা চশমা আর—আর পিছনের পাঁচিলের দিকের মাটিতে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত। আঁতকে উঠলাম। মুহূর্তের দেখা সেই কালো জন্তুটার মুখে কী ছিল তা বুঝতে আর বাকি রইল না।

    ভৈরব আচার্য আর এখানে ফেরেননি। অনেক পরে শুনেছিলাম উনি বর্ডার পার হয়ে ওপার বাংলার কোনো নিভৃত গ্রামে বাস করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীর মুখে শোনা—স্বামী—স্ত্রী আর একটি মেয়ে নিয়ে সংসার। একটি ছেলে ছিল। সে নাকি মারা গেছে এক রাত্রে ওলাওঠায়।

    কিন্তু কেন তিনি রাতারাতি দেশত্যাগ করলেন কেউ তা বুঝতে পারেনি। বুঝতে পেরেছিলাম আমি। মন্ত্র—তন্ত্রের জাদুকর তিনি। তাঁর তৈরি ক্ষেত্রবন্ধন যে এমন নিষ্ঠুর ভাবে ব্যর্থ হয়ে যাবে তা স্বামী—স্ত্রী কেউই কল্পনাও করেননি। সেই লজ্জায় রাতারাতি দেশত্যাগ।

    ২০০৪, ময়ূরপঙ্খী (নিউ বেঙ্গল প্রেস)

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনতুন নতুন নাটক – সম্পাদনা: মনোজ মিত্র
    Next Article ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    Related Articles

    মানবেন্দ্র পাল

    অশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    মানবেন্দ্র পাল

    ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }