Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অমনিবাস ২ – মানবেন্দ্র পাল

    মানবেন্দ্র পাল এক পাতা গল্প507 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শরৎ ভাদুড়ীর দেশে ফেরা

    এই পর্যন্ত শুনে আমি নড়েচড়ে বসলাম।

    অধ্যাপক সোজাসুজি ঘটনায় চলে গেলেন। বললেন—পাহাড়তলিতে সন্ধের মুখে একটা জিপ অ্যাকসিডেন্ট হল। জিপটা দুবার ডিগবাজি খেয়ে উলটে গেল—একেবারে turn upside down। তিনটি শ্রমিক মেয়ে ছিল। তিনজনেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে একেবারে spot dead। ডাক্তার কুমার নিজে পরীক্ষা করে দেখলেন তিনজনেরই জীবনের ক্ষীণ স্পন্দনটুকুও নেই। সে রাতটুকুর মতো লাশ তিনটে হাসপাতালের ল্যাবরেটরি ঘরে রাখার ব্যবস্থা হল। এই ফর্মালিটিটুকু করতে ঘণ্টাখানেক সময় লেগেছিল। ততক্ষণ লাশ তিনটিকে কাপড় ঢাকা দিয়ে পাহাড়তলিতেই শুইয়ে রাখা হয়েছিল। আশ্চর্য এই যে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যাবার সময় দেখা গেল তিনটির জায়গায় দুটি লাশ রয়েছে আর একটি উধাও। অতজনের সামনে দিয়ে কীকরে একটা গোটা লাশ উধাও হয়ে যেতে পারে তার মীমাংসা আজও করে উঠতে পারা যায়নি। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও নেই। মৃতদেহটা একেবারে ভ্যানিশ হয়ে গেল। সবচেয়ে লজ্জার কথা এ যুগে বসেও আজ পর্যন্ত আমি এর রহস্যভেদ করতে পারলাম না।

    এই পর্যন্ত বলে অধ্যাপক বসু আবার থামলেন। তারপর গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন।

    একটু পরে জিগ্যেস করলাম—কী ভাবছেন ড. বসু?

    উনি অন্যমনস্কভাবেই বললেন—এ ঘটনা না হয় বেশ কিছুকাল আগের। আর এটা ঘটেছিল সাদার্ন ভুটানে, কিন্তু এইরকম ঘটনা যে ইদানীং আবার ঘটতে শুরু করেছে। আর সেটা ঘটছে প্রপার কাঠমান্ডুতে না হলেও কাঠমান্ডুর আশেপাশেই।

    —বলেন কী! চমকে উঠলাম।

    —হ্যাঁ। এরই মধ্যে কয়েকটা ঘটনার খবর পেলাম। শেষ নিঃশ্বাস পড়া আর দেহ সৎকার করা—এই সময়টুকুর মধ্যেই দেহ জেগে ওঠে। ঘর খালি থাকলে অল্পক্ষণ পরে এসে দেখা যায় মৃতদেহটি নেই। অনেক হৈচৈ, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও লাশের হদিশ পাওয়া যায় না।

    জিগ্যেস করলাম—পুলিশ কিছু করতে পারছে না?

    অধ্যাপক চিন্তিতভাবে মাথা নাড়লেন।

    বললেন—পুলিশের কথা বাদ দিন। ওরা চোর—ছ্যাঁচড়, খুনে ডাকাত ধরতে পারে। মৃতদেহ ভ্যানিশ হয়ে যাওয়ার রহস্যভেদ করা এদের কার্য নয়।

    জিগ্যেস করলাম—তাহলে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না?

    উদাস স্বরে অধ্যাপক বললেন—কে নেবে। জ্যান্ত মানুষ নিয়েই লোকের সমস্যার অন্ত নেই, মরা মানুষের খোঁজ করতে যাবে এমন সময় কার কত আছে? তবে—

    একটু থামলেন অধ্যাপক। তার পর বললেন—তবে আমি হাত গুটিয়ে বসে নেই। আমরা একটা ক্লাব করেছি, মুষ্টিমেয় কিন্তু সত্যিকারের কাজের লোক নিয়ে। তারা—বিশেষ করে অশিক্ষিত দীনদরিদ্র নির্বান্ধব খেটে খাওয়া পরিবারদের প্রতি নজর রাখে। সেই পরিবারে কেউ মারা গেলেই আমাদের খবর দেওয়া হয়। আমরা তখনই গিয়ে নিজেরাই খরচ করে তাড়াতাড়ি মৃতদেহ সৎকার করে দিই। অসুবিধে হয় যাদের কবর দেওয়া হয় তাদের নিয়ে। সেক্ষেত্রে আমরা পালা করে কবর পাহারা দিই যতদিন না বুঝতে পারি মৃতদেহটা পচতে শুরু করেছে।

    আমি অবাক হয়ে বললাম—তার মানে কী? আপনি কি বলতে চাইছেন পচাগলা মৃতদেহ অদৃশ্য হবার সম্ভাবনা কম?

    অধ্যাপক বললেন—আপনি যা ভেবেছেন তাই। সবটাই অবশ্য আমার অনুমান। মৃতদেহ অদৃশ্য হবার যতগুলো কেস দেখলাম সবই তাই। অক্ষত অবিকৃত দেহ নিয়েই আত্মারা কোথাও চলে গিয়েছে। ডাক্তার কুমার যে শ্রমিক মেয়েটির কথা লিখেছিলেন সেও দুর্ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যেই যে অবস্থায় মারা গিয়েছিল সেই অবস্থাতেই অন্তর্ধান করেছিল।

    —তাজ্জব ব্যাপার! তা আপনি ঠিক কী অনুমান করেছেন?

    অধ্যাপক হেসে বললেন—অনুমান কখনও ‘ঠিক অনুমান’ হয় না। হ্যাঁ, সত্যিই আমি কিছু একটা ভেবে নিতে পেরেছি। আর আমি যা ভেবেছি তা অনেকাংশেই ঠিক। তবে তা আমি এখনই প্রকাশ করব না।

    আমি বললাম—রহস্যটা তো এই যে, মাঝে মাঝে মৃতদেহ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এমনকি আপনি বলতে চান কবর থেকেও।

    অধ্যাপক বললেন—কবর থেকে লাশ অদৃশ্য হয়ে যাওয়াটা খুব ইমপর্টেন্ট নয়। কারণ ডাক্তারি পড়বার জন্যে হাসপাতালে গোটা কঙ্কালের খুব দরকার হয়। অথচ কঙ্কাল সাপ্লাই দেওয়া খুব সহজ ব্যাপার নয়। বাধ্য হয়ে রাতের অন্ধকারে কবর থেকে মৃতদেহ তুলতে হয়। সেই দেহ অ্যাসিডে পচিয়ে গলিয়ে গোটা কঙ্কাল বের করে আনা হয়। অনেক টাকায় বিক্রি হয় সেগুলো। কাজেই আমাদের যে প্রবলেম তা অন্য। আমাদের প্রশ্ন গোটা গোটা বডিগুলো যাচ্ছে কোথায়? কে বা কারা নিয়ে যাচ্ছে?

    ড. বসু থামলেন একটু। তারপর বললেন—একদিনের একটা ঘটনা বললেই আপনার কাছে রহস্যটা আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে।

    উনি বলতে লাগলেন।

    —আমার পরিচিত পান্ডার মৃতদেহ গভীর রাতে তারই ঘর থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল। বাইরে দুর্যোগ বলে রাত্তিরের মধ্যেই সৎকার করা হয়নি।

    পরের দিনই পান্ডার বাড়ি গেলাম। দেখলাম বাড়ির লোকেরা প্রিয়জনের মৃত্যুর জন্যে যতটা না শোকার্ত তার চেয়ে বেশি ভয়ে সিঁটিয়ে আছে যেহেতু মৃতদেহ সৎকার হল না। সৎকার তো হলই না উপরন্তু উধাও হয়ে গেল—অথচ বাইরের এমন লোক কেউ আসেনি যারা বাড়ির লোকেদের নাকের ডগা দিয়ে মৃতদেহ নিয়ে পালাবে। আর এতবড়ো লাশ তো একা একজন পিঠে তুলে নিয়ে পালাতে পারবে না। তাহলে?

    আমি কিছুক্ষণ পান্ডার বাড়িতে থেকে আমার লাইনে কয়েকটা প্রশ্ন করে চলে এলাম।

    বাড়ি এসে সেই একটাই চিন্তা—আস্ত একটা মৃতদেহ গেল কোথায়? কে বা কারা নিয়ে গেল? কেনই বা গেল? মৃতদেহ খুব একটা মূল্যবান নয় জানি, তবু তার কঙ্কালটা ভালো দামে বিক্রি হয়। তা না হয় হল, কিন্তু মৃতদেহটা হাওয়ায় ভেসে অদৃশ্য হয়ে কঙ্কাল—ব্যবসায়ীর ঘরে যেতে পারে না। তাহলে?

    কোনো মীমাংসাসূত্র পেলাম না। বার বার সেই সাদার্ন ভুটানের সারডং—এর হাসপাতালে শ্রমিক মেয়েটির মিসিং ডেডবডি থেকে আরম্ভ করে ইদানীংকাল পর্যন্ত যতগুলো মিসিং বডির ঘটনা ঘটেছে সবগুলিরই তদন্তসূত্র এই একটি জায়গাতে এসেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। মৃতদেহটি কোথায় কী করে গেল? আর আগেই বলেছি মৃতদেহ অন্তর্ধানের ব্যাপারটি পুলিশি তদন্তের নাগালের বাইরে।

    বলে প্রফেসর গোঁফের ফাঁকে একটু হাসলেন।

    বললাম—তা কেন? বাড়ি থেকে একটা মৃতদেহ চুরি হয়ে গেলে সেটা ক্রিমিনাল অফেন্স হবে না?

    —হ্যাঁ, অবশ্যই হবে যদি সেটা চুরি বলে প্রমাণিত হয়। আর চুরি প্রমাণিত হলেও পুলিশ বেশিদূর এগোতে পারে না। কোনো সূত্র বা কোনো প্রমাণই তারা খুঁজে পায় না। পাবে কী করে? এটা তো মোটেই চুরি নয়। কাজেই এই অন্তর্ধান রহস্য ভেদ করা পুলিশের কর্ম নয়। তা ছাড়া পৃথিবীতে এখনও এমন অনেক রহস্য থেকে গেছে যার সমাধান হয়নি। কোনোদিন হয় তো হবে না।

    চিন্তিতভাবে বললাম—তাহলে উপায়?

    অধ্যাপক উত্তর দিলেন না। মাথাটা ধীরে ধীরে নাড়লেন। সেই মাথা নাড়ার মধ্যে দিয়ে তাঁর হতাশাটাই ফুটে উঠল।

    —তবে—

    একটু ভেবে অধ্যাপক বলতে লাগলেন।—হ্যাঁ, যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। আমি কিন্তু পান্ডাজির মৃত্যুর পর তাঁর বডি অন্তর্ধান ব্যাপারে কিছুদূর এগিয়ে গেছি। না, আমার কোনো কৃতিত্ব নেই। নিতান্তই দৈবাৎ। পান্ডাজির মৃত্যুর দিন দশেক পরে একদিন দুজন বিদেশি বন্ধুকে নিয়ে কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠে বেড়াতে গিয়েছিলাম। বন্ধু দুজন কাঠমান্ডুর পারিপার্শ্বিকতার ওপর কিছু রিসার্চ করছে। ঘুরতে ঘুরতে আমরা চলে গিয়েছিলাম বাঘমতি নদীর ধারে। পাহাড়ের নীচ দিয়ে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে সরু নদীটি। বন্ধুরা পটাপট কয়েকটা ছবি তুলল। আমি বসে আছি একটা পাথরের উপর। হঠাৎ দেখলাম অল্পদূরে একজন জোরে জোরে পা ফেলে হেঁটে যাচ্ছে। তার গায়ে একটা মোটা ফুল হাতা গেঞ্জি। পরনের কাপড়ের ওপর গামছা বাঁধা। তার চ্যাপটা গড়ন আর লম্বা মাথায় ছোটো ছোটো চুল দেখেই মনে হল লোকটি চেনা চেনা। তারপর নিশ্চিত হলাম যখন দেখলাম ছোটো চুলের মধ্যে থেকে পরিপুষ্ট টিকিটি সগর্বে মাথা উঁচু করে আছে। আর একটু বিশেষভাবে লক্ষ্য করতেই যখন দেখলাম লোকটি খুঁড়িয়ে হাঁটছে তখনই নিশ্চিত হলাম যে এ সেই মৃত পাণ্ডাই। আমি এতটাই চমকে গিয়েছিলাম যে স্থান—কাল ভুলে চেঁচিয়ে ডাকলাম—পান্ডাজি—পান্ডাজি—

    আমার বিদেশি বন্ধুরা অবাক হয়ে বললে—উনি কি আপনার পরিচিত ড. বাসু?

    ইতস্তত করে বললাম—তাই তো মনে হল।

    —কিন্তু উনি তো সাড়া দিলেন না?

    মনে মনে ভাবলাম—উনি যে সেই মৃত পান্ডা সে বিষয় সন্দেহ নেই। আর তাঁকে জীবন্ত মনে হলেও তিনি সাড়া দেবেন না এটাই স্বাভাবিক।

    বন্ধুরা তখনও এই ‘অভদ্র’ লোকটিকে লক্ষ করছিল। অভদ্র তো বটেই। এত জোরে ডাকলেও সাড়া না দেওয়াটা অভদ্রতাই। হঠাৎ একজন বলে উঠল—দ্যাখো দ্যাখো ড. বাসু তোমার ফ্রেন্ড সামনে হাঁটছেন বটে কিন্তু ওইভাবে সোজা ঘাড় উঁচু করে তাকিয়ে কেউ হাঁটে?

    এই পর্যন্ত বলে অধ্যাপক একটু থামলেন। আগের মতো গোঁফের ফাঁকে হেসে বললেন—কী বুঝলেন?

    বললাম—ভাবিয়ে তুলেছে।

    —আরও ভাবুন। লস্ট ডেডবডি জীবন্ত মানুষের মতো হাঁটছে! এ কী করে সম্ভব? কোন মন্ত্রে প্রাণ ফিরে পেল? অবশ্য আমি আর একটা বিষয় খোঁজ নিচ্ছি। দেখি।

    বলতে বলতেই ডোরবেল বেজে উঠল। অরুণাংশুবাবু গিয়ে দরজা খুলে দিলেন।

    —কী খবর হরগোপাল?

    —আজ্ঞে খবর নিয়েছি। বুড়ো পান্ডা মারা যাবার দু—দিন আগে ওই অঞ্চলেরই রামেশ্বর পান্ডা ছাদ থেকে ঘুমের ঘোরে পড়ে গিয়ে মরেছে।

    —ঠিক বলছ? অধ্যাপককে কেমন যেন উত্তেজিত দেখাল।

    মাথা চুলকে হরগোপাল বলল—আজ্ঞে পুরোপুরি ঠিক বলিনি।

    —সে আবার কী?

    —রামেশ্বর রাত্তিরে ন্যাড়া ছাদ থেকে পড়ে মরেছে ঠিকই, তবে ঘুমের ঘোরে নয়—

    অধ্যাপক থামিয়ে দিয়ে বললেন—বুঝেছি বুঝেছি। আর বলতে হবে না। মরেছে এই খবরটুকুতেই আমার কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেল। বলে হাসিভরা চোখে আমার দিকে তাকালেন!

    —কিছু বুঝতে পারলেন? রহস্য উদঘাটন হচ্ছে?

    —হচ্ছে বলেই তো মনে হচ্ছে।

    —আর একটা খবর আছে স্যার।

    —কী খবর বলো।

    —শহরের মধ্যিখানে একটা মাঝারি হোটেলে দুজন মরমর। এতক্ষণে বোধ হয় হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে।

    অধ্যাপক বললেন—আমার কাজ তো এখন নয় পরে। যদি তখন বেঁচে না থাকে।

    কথাটা শুনে আমার গা শিউরে উঠল। দেখছি অধ্যাপকের কাজ মৃত মানুষদেরই নিয়ে।

    —দুজনেই কিন্তু বাঙালি। দরজার কাছে পর্যন্ত গিয়ে হরগোপাল বলল। যেন হঠাৎ কথাটা মনে পড়ল।

    একটু চমকে উঠলেন অধ্যাপক।—বল কী?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ।

    —কলকাতা থেকে এসেছিল?

    —আজ্ঞে না। কলকাতা থেকে কিছু দূরে একটা মফসসল টাউন থেকে।

    —টাউনের নাম জান?

    —তা তো জিগ্যেস করিনি। তবে দুজনেই দুজনের চেনা। হোটেলে উঠে পর্যন্ত ঝগড়া করে গেছে।

    —ঝগড়া করেছে? কী নিয়ে ঝগড়া?

    —বাথরুম নিয়ে। কমন বাথরুম কিনা।

    —বুঝুন। দুজনেই এক জায়গার লোক। এক জায়গায় বেড়াতে এসেছে। একই হোটেলে উঠেছে। তারপর বাথরুম নিয়ে ঝগড়া। ছিঃ! তা অসুস্থ হলেন কী করে? আজেবাজে খেয়েছিলেন বুঝি?

    হরমোহন বলল—আজ্ঞে না। যতদূর শুনেছি নেপালি লিকার শুধু টেস্ট করার লোভে দুজনেই ঢুকেছিলেন বারে। তারপর জেদাজেদি করে দুজনেই আকণ্ঠ পান করে গেছেন। তারপর সারারাত্রি বমি—

    —তবে তো ফল ভুগতেই হবে। আচ্ছা হরমোহন ওনারা কোথায় থাকেন জানিয়ে যেও। আর যদি টেসে যান—যা আমি মোটেই কামনা করি না—তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খবর দিও।

    হরমোহন চলে গেলে অধ্যাপক দরজা বন্ধ করে এসে বসলেন।

    —আমি তো কালই দেশে ফিরে যাচ্ছি ড. বাসু। আপনার সঙ্গে আলাপ হয়ে খুব খুশি হলাম। মৃতদেহ অন্তর্ধান নিয়ে আপনার নীরব গবেষণা কতদূর এগোল জানাবার কৌতূহল রইল। যদি জানবার মতো হয় একটু জানাবেন। এই আমার কার্ড।

    অধ্যাপকও তাঁর কার্ড দিয়ে সম্মতি জানালেন।

    দেশে ফিরতে না ফিরতেই প্রফেসর অরুণাংশু বসুর টেলিগ্রাম এল।—”আপনাকে দুঃখের সঙ্গে জানাই বাঙালি ভদ্রলোক দুজনই সেদিন বিকেলে মারা গেছেন। আর—দুজনের একজনের বডি উধাও! খুব চিন্তায় আছি। মৃতদেহ উধাও হওয়ার ঘটনা তাহলে এখন শহরের মধ্যেও ঘটতে আরম্ভ করল। এই প্রথম একজন বাঙালি ভদ্রলোক অলৌকিক ব্যাপারের শিকার হলেন।”

    খবরটা জেনে মন খুব খারাপ হয়ে গেল। কী হচ্ছে এসব?

    কিন্তু তখনও চমকে ওঠার মতো ঘটনা শোনা বাকি ছিল।

    আমাদের এখানে দুজন পুরোহিতের বেশ নামডাক। একজন মৃগাঙ্কমৌলী ভট্টাচার্য আর একজন শরৎশশী ভাদুড়ী। দুজনের মধ্যে খুব রেষারেষি ছিল। সরস্বতী পুজোর সময় কে কটা পুজো করতে পারে। আর দুর্গাপুজোর সময়ে কে সেনবাবুদের বাড়ি থেকে ডাক পায় এই নিয়ে রেষারেষি। দুর্গা পূজায় শরৎ ভাদুড়ীই বেশির ভাগ সময়ে সেনবাবুদের বাড়ি থেকে ডাক পেতেন। কারণ তাঁর চণ্ডীপাঠ ছিল শোনার মতো। মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্যও ভালো চণ্ডীপাঠ করতেন। তবে শরৎ ভাদুড়ীর মতো জলদগম্ভীর স্বর ছিল না। তা ছাড়া মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্যের শরীরে দুটো খুঁত ছিল। সামনের চারটে দাঁত ভাঙা বলে ঠিক মতো উচ্চারণ করতে পারতেন না। আর একটা চোখ ছিল ড্যাবডেবে লাল। দেখলে ভয় করত। আর সেই জন্যেই সর্বদা কালো চশমা পরে থাকতেন।

    তবে সেনবাবুদের বাড়ি ধরতে না পারলেও এখানকার সবচেয়ে ধুমধামের বারোয়ারি পুজো নবজাগরণ সমিতির উনি পুরোহিত ছিলেন। তাঁর কদরও শরৎ ভাদুড়ীর চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। বারোয়ারি পুজোটা মৃগাঙ্কর একচেটিয়া হয়ে যাচ্ছে দেখে শরৎ ভাদুড়ীও হিংসেয় জ্বলতেন। তার কারণ সেনবাবুদের বনেদি পুজো। বহুকাল ধরে একই ধারায় একই নিয়মে পুজো হয়ে আসছে। দক্ষিণা সময় সময় কিছু বেশি দিলেও অন্যান্য পাওনাগন্ডার হেরফের হয় না। যা প্রত্যেকবার দেওয়া হত তাই নিয়মমাফিক বরাদ্দ ছিল। অন্যদিকে বারোয়ারি পুজো বলেই মৃঙ্গাঙ্কর পাওনাগন্ডা হত অনেক বেশি। ধুতি—শাড়িই যে কত পেতেন নিজেও তা জানতেন না। কিন্তু উপায় তো কিছু নেই। গায়ের জোরে মৃগাঙ্কর কাছ থেকে বারোয়ারি পুজোটা কেড়ে নিলেও দুটো পুজো একই সঙ্গে করা তো সম্ভব নয়। কাজেই মনের দুঃখ মনেই চেপে রাখতে হত।

    তবে শরৎ ভাদুড়ীর দাম ছিল অন্যদিক দিয়ে। সন্ধিপুজোটা তিনি প্রচলিত মন্ত্র পড়ে করতেন না। করতেন একটা প্রাচীন পুথি থেকে পড়ে। পুথিটি তাঁর কোনো পূর্বপুরুষ যত্ন করে কাঠের সিন্দুকে রেখে দিয়েছিলেন। তাঁদের মৃত্যুর অনেক দিন পর শরৎ ভাদুড়ীই সেটা উদ্ধার করে সন্ধিপুজা করতেন। মন্ত্রগুলো তাঁর মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। তবু তিনি অতি যত্নে অতি সাবধানে পুথিটি সঙ্গে নিয়ে যেতেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সকলকে দেখানো কী দুর্লভ রত্নের অধিকারী তিনি।

    মৃগাঙ্কও জানতেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পুথিটা কোনো ছলে হাতিয়ে নেওয়া। কিন্তু হাতানো তো দূরের কথা, বহুবার বলেও শরৎ ভাদুড়ী পুথিটা তাঁর সামনে বের করেননি। এর জন্যেও শরৎ পুরুতের ওপর মৃগাঙ্কের রাগ ছিল।

    যেমন রাগ ছিল তেমনি আবার ভাবও হত। হাজার হোক একই জায়গার লোক আবার দুজনেরই এক জীবিকা। এমনও হয়েছে ধাত্রীগ্রাম কিংবা নসরৎপুর কিংবা সমুদ্রগড় থেকে দুজনেই ডাক পেয়েছেন দুটো বড়ো বারোয়ারি পুজোর। একই সঙ্গে একই ট্রেনে দুজনে চলেছেন পাশাপাশি গল্প করতে করতে। তারই ফাঁকে একসময়ে মৃগাঙ্ক হয় তো নীচু গলায় জিগ্যেস করলেন—কত?

    শরৎ ভাদুড়ী দু—হাতের দশটা আঙুল ছড়িয়ে দেখালেন।

    —ভালোই। বললেন মৃগাঙ্ক।

    —আপনার?

    মৃগাঙ্ক বললেন—আরও দশ টাকা বেশি।

    শরৎ ভাদুড়ী মনে মনে বললেন—শালা! ঢপ মারবার জায়গা পাও না? কোন গুণে আমার চেয়ে বেশি দেবে?

    কিন্তু মুখে বললেন—তা ভালো।

    তারপর নীচু গলাতেই বললেন—সোনাদানা?

    মৃগাঙ্ক বুড়ো আঙুল তুলে দেখালেন।

    এই ভাবেই একটি মফসসল শহরে দুই পুরোহিতের দিন কাটছিল। হঠাৎ কী শখ হল দেশভ্রমণে যাবেন। দুজনেই টাকাপয়সার হিসেবনিকেশ করে প্রস্তুত হলেন। একঘেয়ে পুরোহিতগিরি করে, নির্বোধ কতকগুলো মানুষকে ভুল উচ্চারণে মন্ত্রপাঠ শুনিয়ে পাপের বোঝা আর কত বাড়ানো যায়? তার চেয়ে দু—দিন তীর্থ দর্শন করে এলে মন্দ হয় না। মনটাও প্রফুল্ল থাকবে। আর তখনই স্থির করলেন তীর্থদর্শনেই যখন যাবেন তখন নেপালে বাবা পশুপতিনাথের কাছেই যাওয়া ভালো। পশুপতিনাথ দর্শন ছাড়াও একমাত্র হিন্দুরাষ্ট্রও দেখা হবে।

    তারপরই একদিন দুজনে ব্যোম ব্যোম করে নেপালে চলে গেলেন।

    তখন কে জানত এই তীর্থদর্শন করতে যাওয়টা কাল হবে!

    ক’দিন পর কাঠমান্ডুর কোনো হোটেল থেকে দুটি বাড়ির ঠিকানায় দুজনের মৃত্যুসংবাদ এসে পৌঁছাল। সেই সঙ্গে ম্যানেজার দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন—এই দুর্ভাগ্যজনক খবর শুনে দুজনেরই বাড়ির লোকের পক্ষে যেহেতু এত দূরের পথ তাড়াতাড়ি আসা সম্ভব নয় তাই বাধ্য হয়ে পুলিশের অনুমতি নিয়ে মৃতদেহ হিন্দুশাস্ত্র মতে সৎকার করে দেওয়া হয়েছে।

    এই আকস্মিক দুঃসংবাদে আমাদের এখানে শোকের ছায়া নামল। দুজন বিদগ্ধ পুরোহিতকে হারিয়ে লোকে দিশেহারা হয়ে গেল। কিন্তু কীভাবে এদের মৃত্যু হল তা কেউ জানেন না। সঠিক খবর জানার জন্যে এতদূর থেকে এত ব্যয় করে অতদূরে যাওয়াটা সুবিবেচনার কাজ নয় বলে বাড়ির লোকেরা সে চেষ্টা করল না। বিশেষ করে যথন তাঁরা মারাই গেছেন।

    কিন্তু কী কারণে মারা গেছেন তা একমাত্র আমি জানি। প্রফেসর বসু ভাগ্যিস টেলিগ্রামটা করেছিলেন। কিন্তু খটকা থেকেই গেল। একজনের বডি তো উধাও! সেটি কার বডি হোটেলের মালিক সে কথাটুকু চেপে গিয়ে কেবল এইটুকু লিখেছেন ‘মৃতদেহ’ হিন্দুশাস্ত্রমতে সৎকার করা হয়েছে। দু—বাড়িতেই একই চিঠি। কার মৃতদেহ সৎকার হওয়া তো দূরের কথা—পাওয়াই গেল না, সেকথা জানানো হল না।

    তারপর একদিন সংসারের নিয়মে যেমন সকলেই শোক ভুলে যায়, মৃগাঙ্ক—শরৎ—এর পরিবারও ভুলে গেল। ভুলে গেল বড়ো অল্প সময়ের মধ্যে। সবচেয়ে অস্বস্তিকর অবস্থা আমার। মৃগাঙ্ক ও শরৎ ভাদুড়ীকেই শুধু ভালো করে চিনতাম তা নয় তাঁদের পরিবারের সঙ্গেও আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল। অথচ সব জেনেও মৃত্যু—রহস্য নিয়ে মুখ খুলতে পারলাম না। কার বডি পাওয়া যায়নি তা অবশ্য এখনও আমি জানি না।

    সপ্তাহ দুই পরে হঠাৎ একদিন আমাদের এই ছোটো মফসসলটি উত্তেজনায় কেঁপে উঠল। কারণ—শরৎ ভাদুড়ী নাকি ফিরে এসেছেন। প্রথমে কেউ বিশ্বাস করেনি। তাই আবার হয় নাকি? মৃত ব্যক্তি কখনও ফিরে আসে? তাও মৃত্যুখবর দিয়েছে কাঠমান্ডুর কোনো বড়ো হোটেলের ম্যানেজার স্বয়ং। কিন্তু তারপর একজন, তারপর বাজারে মুদিখানার দোকানে দোকানে অনেকেই বলতে লাগল তারা নাকি স্বচক্ষে শরৎবাবুকে দেখেছে।

    —কোথায় দেখেছে?

    কেউ বলে স্টেশনের দিকে, কেউ বলে গঙ্গার ধারে হাওয়া খাচ্ছিলেন, কেউ বলে ইটভাটার ইটের হাজার কত করে জিগ্যেস করছিলেন। অবাক কাণ্ড! যে মানুষ পুরুতগিরি ছাড়া অন্য দিকে মন দিতেন না, এমনকি বাজার পর্যন্ত করতেন না, তিনি করবেন ইটের দর! সেটা বরঞ্চ করতে পারতেন মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য।

    আরও আশ্চর্যের কথা এই যে শরৎ ভাদুড়ী যদি ফিরেই আসবেন তা হলে সোজা নিজের বাড়ি না গিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবেন কেন?

    আমি নিজেই একদিন শরৎবাবুর বাড়ি গেলাম তাঁরা কী করছেন দেখতে। বড়ো ছেলে নিশিনাথ বললে—কাকা, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। বাবার মৃত্যুসংবাদ হয়তো ভুল। তিনি হয়তো ফিরেও এসেছেন। তা বলে নিজের বাড়ি না এসে এখানে—ওখানে ঘুরে বেড়াবেন! রাত্তিরে ঘুমোন কোথায়? সেও কি রাস্তার ধারের রকে?

    এ সবের উত্তর আমার জানা ছিল না। তবে ড. বাসুর টেলিগ্রাম পেয়ে আমি নিশ্চিত যে শরৎ ভাদুড়ী বেঁচে নেই। তাহলে এই শরৎ ভাদুড়ী কে?

    সেদিন সন্ধেবেলা হরিহর চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে তাস খেলে ফিরেছি—বাইরের ঘরে ঢুকে মনে হল কেউ একজন অন্ধকারে চৌকির ওপর চুপচাপ বসে পা দোলাচ্ছে। চমকে উঠলাম।

    —কে?

    উত্তর নেই। ভয় হল চোর—ডাকাত নাকি? চোর—ডাকাত হলে অমন নিশ্চিন্তে বসে বসে পা দোলাবে কেন? হাতের লাঠি ঠকঠক করে কাছে রুদ্ধনিঃশ্বাসে এগিয়ে গেলাম। দেখি কালো চশমা পরা একটা লোক। আর অন্ধকারের মধ্যেও কালো চশমার ভেতর দুটো টর্চের বালবের মতো চিকচিক করে জ্বলছে চোখের মণিদুটো।

    আমি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম—কে আপনি? এখানে কী করছেন?

    উত্তর পেলাম না। তবু বুঝতে বাকি রইল না ইনি শরৎ ভাদুড়ীই।

    আশ্চর্য, যিনি কোনো দিন আমাদের বাড়ি আসেননি, তিনিই আজ দরজা খোলা পেয়ে এ বাড়িতে ঢুকে অন্ধকারে ঘাপটি মেরে বসে আছেন কেন?

    —ভাদড়ীমশাই! এই যে শুনছেন—

    ভাদুড়ীমশাই উত্তর দিলেন না। হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়েই দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে একটা বিশ্রী পচা গন্ধে ঘর ভরে গেল। আমার মাথা ঝিমঝিম করে উঠল। তা হলে এতক্ষণ এই ঘরে যে বসে ছিল সে কি কোনো জীবিত মানুষ?

    এ সব অবশ্য আমি কাউকে বলিনি।

    একদিন তিন—চার জনে মিলে শরৎ ভাদুড়ীকে ধরে বাড়ি নিয়ে এল। বাড়ির ভেতরে— বাইরে কৌতূহলী লোকের ভিড়। কিন্তু—কিন্তু এই কি সেই শরৎ ভাদুড়ী? কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। শুধু অচেনা মানুষের মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। তাহলে কি শরৎ ভাদুড়ীমশাই পাগল হয়ে গেছেন?

    নিশিনাথ লক্ষ করে বাবা বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। কিন্তু সসংকোচে, যেন চেনেন না। না চিনলেও নীচের ঘরে ঘরে উঁকি মেরে দেখেন। কিছু যেন খোঁজেন। একদিন নির্জন দুপুরবেলায় নিশিনাথ দেখল তার বাবা চোরের মতো একটা পরিত্যক্ত ঘরে ঢুকছেন। এভাবে ঢুকছেন কেন? নিশিনাথ লক্ষ করতে লাগল। দেখল ঘরের কোণে যে একটা পুরোনো কাঠের বাক্স আছে, বাবা সেখানে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর তালাটা ধরে টানাটানি করতে লাগলেন।

    আশ্চর্য! কাঠের বাক্সটা তো তাঁরই। কতদিন তিনি এটা খুলেছেন। আবার বন্ধ করে তালা লাগিয়েছেন। তালার চাবিটা যে দেওয়াল আলমারির মধ্যে একটি কৌটোর ভিতরে রাখেন তা তো এই ক’দিনের মধ্যে ভুলে যাবার নয়। তা হলে অমন করছেন কেন?

    এরপরই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে একটা শাবল খুঁজে নিয়ে এসে তালাটা ভেঙে ফেললেন। তারপর ডালাটা খুলে সেই দুর্লভ পুথিটা বের করলেন। পুথিটা হাতে পেতেই তাঁর চোখ দুটো ঝকঝক করে উঠল। এই পুথি নিয়েই তিনি পুজো করেন। তাহলে আজ এই রকম অস্বাভাবিক আচরণ কেন?

    পুথিটা হাতে পেতেই বাবা উন্মাদের মতো ছুটলেন বাইরের দিকে। নিশিনাথ চেপে ধরল বাবাকে। কোথায় যাচ্ছেন?

    শরৎ ভাদুড়ী উত্তর দিলেন না। পুথিটা দুমড়ে মুচড়ে ফতুয়ার পকেটে পুরতে গেলেন—নিশিনাথ ঝাঁপিয়ে পড়ে পুথিটা বাঁচাবার চেষ্টা করল। তখনই শুরু হল ধাক্কাধাক্কি। নিশিনাথ অবাক হল—এই বয়েসেও বাবার এত শক্তি এল কোথা থেকে!

    পুথিটা জোর করে কেড়ে নিতেই ভয়ংকর ব্যাপারটা ঘটে গেল সেই মুহূর্তে। হঠাৎ শরৎ ভাদুড়ীর মুখটা বদলে মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্যের মুখ হয়ে গেল। শরৎ ভাদুড়ীর অমন শান্ত চোখ দুটির বদলে ফুটে বেরোল দুটো ড্যাবডেবে লাল চোখ। আর সামনের ভাঙা চারটে দাঁতের ফাঁক দিয়ে জিভটা বেরোতে লাগল লিকলিক করে।

    —বাবাগো! বলে নিশিনাথ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। আর মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য শরৎ ভাদুড়ীর দেহখানা আশ্রয় করে ছুটে বেরিয়ে গেলেন।

    দু—দিন পরে শহরের বাইরে বাঁশবাগানের মধ্যে পাওয়া গেল শরৎ ভাদুড়ীর পচাগলা মৃতদেহ।

    সব ঘটনা ড. অরুণাংশু বসুকে জানালে, তিনি সংক্ষেপে লিখলেন এটা এদেশে নতুন ব্যাপার নয়। প্রেততত্ত্ববিদদের মতে এক শ্রেণির দুষ্ট আত্মা দুরভিসন্ধি সিদ্ধি করার জন্যে কাছেই যে পছন্দমতো মৃতদেহ পায় তার মধ্যেই ঢুকে পড়ে। সবাই মনে করে মৃত ব্যক্তি বুঝি ফিরে এসেছে। তা নয়। তারপর একদিন প্রয়োজন ফুরোলে কোথায় অদৃশ্য হয়ে যায়।

    ২০০৫, ভোরাই (নিউ বেঙ্গল প্রেস)

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনতুন নতুন নাটক – সম্পাদনা: মনোজ মিত্র
    Next Article ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    Related Articles

    মানবেন্দ্র পাল

    অশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    মানবেন্দ্র পাল

    ভৌতিক অমনিবাস – মানবেন্দ্র পাল

    November 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }