Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    শ্রীপারাবত এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – ২

    ২

    সে রাত্রে এক অদ্ভুত শব্দ স্বপ্ন দেখলাম। এ স্বপ্নের কথা কাউকে বলা যায় না। অথচ না বললে চলবে না। রোশনারার কাছে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, কিতাব দুখানায় প্রতিটি অক্ষর সত্যি লিখব-মিথ্যের নামগন্ধ থাকবে না তাতে।

    কিন্তু বলতে গিয়ে কান গরম হয়ে উঠছে। নিজের অস্তিত্বে নিজেরই লজ্জা হচ্ছে। পৃথিবীতে আমি ছাড়া দ্বিতীয় প্রাণী যদি আর না থাকত তবু স্বপ্নের বিবরণ নিজের কানকে শুনিয়ে উচ্চারণ করতে পারতাম না। ছি ছি।

    রোশনারার কাছে আমি মনে মনে অপরাধী হলাম। প্রমাণ হয়ে গেল, তাতে আমাতে কোনও তফাত নেই, জেগে উঠেই সব স্বপ্নের মতো একেও উড়িয়ে দিতে পারলে বিবেকের এ-দংশন সহ্য করতে হত না। কিন্তু তা তো পারিনি।

    ভোর রাতে স্বপ্ন টুটে গেল। মৃদু সমীরণে রজনিগন্ধার লুপ্তপ্রায় সুবাস। চোখ মেলেই শেখ ইবন্-উল-আরাবীর মতো শক্তি লাভের জন্যে আল্লার কাছে সজল নয়নে আকুতি জানালাম। শেখ ইবন্ চিন্তাশক্তি দ্বারা স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার দুর্লভ রহস্য জানতেন।

    বলব সেই লজ্জার কথা? বলেই ফেলি। হাজার হলেও মুখ ফুটে তো বলতে হচ্ছে না। লেখা আর বলা এক কথা নয়।

    দেখলাম শিশমহলের ওপরে দাঁড়িয়ে আবু সাইদের প্রেমের গান এক সময় আমাকে আকুল করে তুলল। সামলাতে পারলাম না নিজেকে। সবার অলক্ষ্যে বের হয়ে পড়লাম প্রাসাদের ঘেরা প্রাচীরের বাইরে। সংগীতের সুর ভেসে আসছে তখনো প্রান্তরের দিক থেকে। সেদিক পানে চলতে শুরু করি। আমার গাছের ওড়না পথের ধুলোয় লুটোতে লুটোতে চলে। দেখলাম, তবু তুলে নেবার শক্তি হল না নিজের হাতে। সংগীত আমার দেহমনকে অবশ করেছে। আমার নিজের বলতে কিছুই নেই। এ পথে যমুনার তীর বেয়ে গেলেই তো হিন্দুদের তীর্থস্থান বৃন্দাবন আমি জানি বৃন্দাবনের সেই শ্রীকৃষ্ণের কাহিনী। জানি, রাধিকা, আর তাঁর অভিসারের কথা। সেই পথেই হয়তো কোনও এক সুদূর অতীতে অভিসারে চলেছিলেন তিনি। আজ আমিও চলেছি এক অচেনা দুর্গম পথে। আমার নায়ক কে?

    আবছা অন্ধকার নেমে এসেছে পৃথিবীতে। আমি এগিয়ে যাই। শেষে একসময় দূর থেকে দেখতে পাই তাকে। আমার বুক নেচে ওঠে। ধীরে ধীরে উপস্থিত হই গায়কের একেবারে পাশটিতে।

    কিন্তু একী! এ যে রোশনারা কর্তৃক বিতাড়িত খোজা। এত মিষ্টি তার গলা? উদাস স্বরে চলেছে সে। কোনওদিকে দৃষ্টি নেই তার। চোখ বেয়ে অবিরল ধারে অশ্রু ঝরে পড়ছে। তার অতি সুন্দর মুখখানা ব্যথায় থমথমে। প্রাণের দরদ দিয়ে সে গেয়ে চলেছে।

    সহসা সন্দেহ হল মনে। সত্যিই কি খোজা? খোজা কি এমন দরদ দিয়ে গাইতে পারে? ধীরে ধীরে তার গা ঘেঁষে দাঁড়াই। আমার গায়ের খুশবু পেয়ে সে যেন সংবিৎ ফিরে পায়। সে বুঝতে পারে শেষে। আমার দিকে চেয়ে তার সর্বশরীর থরথর করে কেঁপে ওঠে। সে বিহ্বল।

    ধীরে ধীরে ডাকি—শোভান।

    —শাহজাদী।

    —এ কি তোমার মনের কথা?

    শোভানের মুখ নিচু হয়। অনেকক্ষণ পরে সে মুখ তোলে। ধীর গম্ভীর স্বরে বলে, হ্যাঁ শাহজাদী।

    —কিন্তু কী করে সম্ভব?

    —আঁধারে শোভানের মুখ অস্পষ্ট। কিন্তু তার অশ্রুপূর্ণ চোখদুটি স্থির সরোবরের মতো টল্ করছিল। সেই চোখের দৃষ্টি কয়েক দণ্ড আমার চোখের সঙ্গে জট পাকিয়ে যায়।

    —আমি খোজা নই শাহজাদী।

    —তবে?

    —আমি পুরুষ।

    —পুলক-শিহরন প্রবাহিত হয় আমার শরীরের সমস্ত শিরা-উপশিরায়। তার সুঠাম দেহের ওপর হাত রেখে বলি—সত্যি বলছ তুমি?

    —হ্যাঁ। আপনি এসে দাঁড়িয়েছেন আমার পাশে—এ যেমন সত্যি। এই দিনকে এতদিন স্বপ্ন বলে ভাবতাম।

    —শোভান। তবে তুমি —

    —হ্যাঁ। কত কৌশলে খোজা বলে নিজের পরিচয় দিয়ে হারেমে থাকার অধিকার পেয়েছিলাম।

    —কিন্তু কেন? কেন এই প্রবঞ্চনা? তুমি কি জানো না এর শাস্তি কত ভয়ঙ্কর?

    —জানি।

    তবে?

    —তুর্কি-বেগমের প্রাসাদের উদ্যানে এক সন্ধ্যায় যাকে হঠাৎ দেখে ফেলেছিলাম, তাকে যে না দেখে থাকার কথা কল্পনাও করতে পারি না শাহজাদী। তাই প্রবঞ্চনার আশ্রয় নিতে হল। আমি জানি–ধরা পড়ব আমি। মৃত্যুদণ্ড হবে। তবু খেদ থাকবে না।

    —কাকে দেখেছিলে শোভান?

    সে চুপ করে থাকে। পাথরের মতো স্থির তার বলিষ্ঠ দেহখানি। চেয়ে থাকি আমি সেইদিকে কয়েক মুহূর্ত। অন্তরে আমার অদমনীয় কৌতূহল। অথচ তার স্তব্ধতার দিকে চেয়ে আবার প্রশ্ন করতে মন সায় দেয় না। সে যেন কোনও ইবাদতখানায় বসে আল্লার কাছে প্রার্থনারত।

    দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়।

    শেষে আমিই শুরু করি।

    শিশমহলে তোমার সঙ্গে রোশনারার ব্যবহারের আমি একমাত্র সাক্ষী।

    ভীত হয় শোভান। আমিও তাই চাই। আমার মনের গভীর অন্ধকারে হিংসার বীজে কে যেন জলসেচন করেছে। সে বীজ ফেটে অঙ্কুর বের হয়েছে। সে অঙ্কুর আলোর জন্যে ছট্‌ফট্ করে মাটি ভেদ করে ওপরে উঠতে চায়।

    —রোশনারার ব্যবহারে আমি লজ্জিত। কিন্তু যার জন্যে এতখানি দুঃসাহসী হলে তুমি, তাকে পেয়ে কি তোমার স্বপ্নসৌধ চুরমার হয়ে গেল শোভান?

    শোভান কী যেন বলার চেষ্টা করে। আমি থামিয়ে দিই। আমি নিষ্ঠুর। আঘাতের পর আঘাত হেনে ওর হৃদয়কে রক্তাক্ত করে তুলব।

    —কোনও বৈলক্ষণ্য দেখলাম না শোভান তোমার দেহে কিংবা মনে রোশনারার পরশে। ঠিক যেন সত্যিকারের খোজা। কেন শোভান? কেন এমন ব্যবহার করলে? সবই তো পেয়েছিলে। স্বপ্নকে সার্থক করে তুললে না কেন?

    —শাহজাদী। অতি কষ্টে মুখ খোলে শোভান।

    —তুমি কি শুধু মন চাও? আমাকে তাই বিশ্বাস করতে হবে?

    আর্তনাদ করে ওঠে শোভান। সে আর্তনাদ আকাশ চিরে, বাতাস চিরে কীসের পানে যেন ধাওয়া করে। খুশি হই আমি। খুব খুশি হই।

    —তেমনভাবে ভাবলে রোশনারার চপেটাঘাত কি খুব অন্যায় হয়েছে শোভান? ভাঙা গলায় শোভান বলে ওঠে,—সব ভুল। সব ভুল শাহজাদী। আপনি ভুল বুঝেছেন।

    —ভুল?

    শোভান ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। আমার পানে চায়। সে দৃষ্টিতে কীসের যেন ব্যাকুলতা। সেই ব্যাকুলতা-ভরা চাহনি দিয়ে আমার দৃষ্টিকে বন্দি করে রেখে সে বলে,—আপনার বোনকে আমি তুর্কি-বেগমের উদ্যানে দেখিনি।

    —কাকে দেখেছিলে তবে?

    —তোমাকে, তোমাকে জাহানারা। আমাকে ধরিয়ে দাও। মৃত্যুদণ্ড দাও। তবু বলব তোমাকে দেখেছিলাম। তারই জন্যে এত প্রবঞ্চনা—তারই জন্যে এত গোপনীয়তা। আর শুধু তারই জন্যে রোশনারার স্পর্শে আমার পৌরুষ গলে পড়েনি।

    চতুর্দিকে আমার যেন সব শূন্য হয়ে যায়। আমার পাশে কিছু নেই! আমার পায়ের নীচে কিছু নেই, কোনওদিকে কিছু নেই। আশ্রয়ের জন্যে আকুল হয়ে হাত বাড়াই। আশ্রয় মেলে। শোভানের বক্ষের নিবিড়তা।

    এবারে আমার কান্নার পালা।

    ঘুম ভেঙে যায়।

    ব্যাকুল হয়ে আল্লাকে ডাকি। শেখ-ইবন্-উল-আরাবীর শক্তি আমাকে দাও আল্লা। আমি স্বপ্নকে সার্থক করে তুলি।

    .

    দূরে যমুনার কুলে বাইশ হাজার কর্মরত শ্রমিকের কোলাহল বকুল গাছের ভ্রমর-গুঞ্জনের মতো প্রতিদিন কানে ভেসে আসে। এই গুঞ্জন আমার মনকে এক অবর্ণনীয় বিষাদে ভারাক্রান্ত করে তোলে। নিজের ভাইবোনেদের তখন বড়ই আপন বলে মনে হয়। দুর্বিনীত রোশনারার ওপর তখন আর রাগ করতে পারি না। মোল্লাশালের তত্ত্বাবধানে শিক্ষিত শুষ্ক-হৃদয় আওরঙজেবের প্রতি করুণা জাগে। দুই বছর আগে দক্ষিণ-ভারতের শাসনকর্তা হয়ে গিয়েছে সে। কতই বা বয়স ছিল তখন। আমি জানি, বাদশাহ্ ইচ্ছে করেই তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। মুখে সবাই তার দোষারোপ করে। সে অন্য ভাইদের মতো সহজ সরল নয়। কিন্তু এর জন্যে কি সে দায়ী? বাবার ভাগ্যের ওপর আল্লার কৃপাদৃষ্টি বর্ষণের জন্যেই যেন তার মনকে কোরবানি দেওয়া হয়েছে। সে-মনকে ফিরে পাবার বাসনা জাগতে পারে। পেলে আনন্দিত হবে সবাই। কিন্তু না পেলে আওরঙজেবকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তাই বিশেষ করে বাবা যখন তার সমালোচনা করেন হারেমের বেগমদের সামনে তখন মাঝে মাঝে মনে বড় ব্যথা পাই। ব্যথা পাই যমুনাকুলের বাইশ হাজার কর্মীর কর্মের কলরব কানে আসে বলে।

    এখনো স্পষ্ট মনে পড়ে, বাবা যখন বাদশাহ্ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, শেষে দাক্ষিণাত্যে পালিয়ে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে পাঠালেন তখন নিজের সততার নিদর্শনস্বরূপ দারাশুকো আর আওরঙজেবকে রাজধানীতে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর সেই ভুলেরই মাসুল গুণতে হচ্ছে আজ। দারার কিছুটা বয়স হয়েছিল তখন। সে শিক্ষা পেয়েছিল যথেষ্ট তার আগেই। কিন্তু আওরঙজেবের তখন কচি বয়স। শিক্ষার হাতেখড়ি হয় সেই বয়সে। যেবার মমতাজ বেগম জেসমিন প্রাসাদে নূরজাহানের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন, সেবার নূরজাহান নিজের মুখে স্বীকার করেছেন যে আওরঙজেবের শিক্ষায় বাধা সৃষ্টি করার কোনও চেষ্টা থেকেই তিনি বিরত হননি। এমনকী সে যাতে অমানুষ হয়ে ওঠে তার পাকাপোক্ত ব্যবস্থাও তিনি করে ফেলেছিলেন। আজ নূরজাহান সে সব দিনের কথা বলতে গিয়ে জেসমিন প্রাসাদের পাষাণের ওপর যত চোখের জলই ফেলুন না কেন, সে জলের ধারা তাঁর নিজের হাতে ছোপ দেওয়া আওরঙজেবের হৃদয়ের কালিমা কিছুতেই ধুয়ে সাফ্ করে দিতে পারবে না। তবু হয়তো পারা যেত। কিন্তু দারা বলে, মোল্লাশালের নীরস শিক্ষা সে পথেও অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দারা নাকি বাদশাকে অনেক বুঝিয়েছিল যে আওরঙজেবের জন্যে একজন প্রকৃত জ্ঞানী শিক্ষাগুরু নিয়োগের জন্যে, বাদশাহ্, শোনেননি। কেন যেন ওকে তিনি দেখতে পারেন না। আমির ওমরাহেরা বলাবলি করে, এসবের কারণ আওরঙজেবের ক্ষুরধার বুদ্ধি। হারেমের বেগমরা ফিসফিস করে বলে, আওরঙজেবের অপরূপ রূপই এর কারণ। পুত্রের প্রতি পিতার অবচেতন মনের ঈর্ষা। জানি না কোটি সত্যি, কোটি মিথ্যা। কিংবা কোনওটাই সত্যি কি না। শুধু কষ্ট হয়। কষ্ট হয় যুমনাকুলের কলরব, গুঞ্জনের মতো ভেসে আসে বলে। সে গুঞ্জন মনে করিয়ে দেয় আমরা কটি ভাইবোন যে মায়ের গর্ভে জন্মেছি, তিনি আমাদের ছেড়ে বেহেস্তের পথে বহুদূর এগিয়ে গিয়েছেন। আমরা মা-হারা। সেই মায়ের সমাধির ওপর বাদশাহ্ শাহজাহানের আদেশে দিনের পর দিন তিলে তিলে গড়ে উঠছে তিলোত্তমা।

    বোগদাদ, আরব, সিংহল আর মিশর থেকে মহামূল্য স্ফটিক স্বচ্ছ প্রস্তররাজি এনে স্তূপীকৃত করা হয়েছে। পৃথিবীর অদ্বিতীয় হর্ম্য নির্মাণের অদম্য বাসনায় বাদশাহ্ পাগল। নির্মাণে তো নয় যেন রচনা। শিল্পীরা দিনের পর দিন এক একটি ছত্র রচনা করে চলেছে কবিতায়। এ যেন আবু সাইদ আর নাসীর-ই-খসরুর অপূর্ব সমন্বয়—প্রেম আর আধ্যাত্মিকতার মিলনক্ষেত্র।

    তাজমহলের প্রধান শিল্পী ইসা-মামুদ-ইফেদি। তিনি এক প্রতিভাবান যুবকের কথা বাদশাহ্ কে বলেছিলেন। সেই যুবকের সাক্ষাৎ পেলাম একদিন পিতার সঙ্গে গিয়ে

    যুবক তন্ময় ছিল। আমাদের উপস্থিতি টের পায়নি। নক্শা ছেড়ে সে একটি পাথর খোদাই-এ মনোনিবেশ করে। তবু খেয়াল করে না।

    বাদশাহ্ সহসা প্রশ্ন করেন,—তাজমহলের নক্শার পরিবর্তন করছ?

    কিছুমাত্র সচকিত হয় না যুবক! আমাদের দিকে না চেয়েই স্বাভাবিক গলায় জবাব দেয়, – হ্যাঁ।

    —কার হুকুমে?

    এবারে যুবক বাদশাহ্রের দিকে চায়। কিন্তু তার পোশাক দেখেও চিনতে পারে না। বলে, —ইসা-মামুদ-ইফেদি আমাকে সে স্বাধীনতা দিয়েছেন।

    তাঁর নক্শা অনুযায়ী কাজ হলে কোনও অসুবিধে হত?

    তিনি খুবই উঁচুদরের শিল্পী। তবে আমার এই পরিবর্তনে তিনি অনুমতি দিয়েছেন। আপনি বাদশাহ্?

    —হ্যাঁ।

    যুবক আচমকা লাফিয়ে উঠে অভিবাদন করে। রীতিমতো অপ্রস্তুত হয় সে। অবগুণ্ঠনের অন্তরালে আমি হেসে ফেলি।

    এরপর প্রতিদিন তাজমহলে গিয়ে বাদশাহ্ শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিস্মিত দৃষ্টিতে তার বেহেস্ত-ছোঁয়া দৃষ্টির দিকে চেয়ে থেকেছেন। কোনও কথা বলেননি তাকে। কথা বললে তার স্বপ্ন ভেঙে যাবে—সে বাস্তব জগতে ফিরে আসবে। বাদশাহ্ তা চান না। কত সময় শিল্পী তাঁকে ‘সিজদা’ করেনি—উঠে দাঁড়ায়নি। এমনকী কথা পর্যন্ত বলেনি। অথচ বাদশাহ্রের মুখে তার কোনও প্রতিক্রিয়া দেখতে পাইনি আমি।

    তবু একটি জিনিস আমার নজর এড়ায় না। শিল্পীর প্রতি ভুলেও কখনো শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে দেখেনি তাঁকে। প্রধান শিল্পী ইসা-মামুদের প্রতিও নয়।

    বাদশাহ্ পুরুষ। তাঁর বাস্তববুদ্ধি প্রখর। তিনি জানেন, আজ থেকে অনেক বছর পরে প্রকৃতি যদি করুণা করে তাজমহলকে বাঁচিয়ে রাখে, তখন ইসা-মামুদ কিংবা অন্য শিল্পীকে সবাই ভুলবে। শাহনশাহ্ শাহজাহানের কথা কেউ ভুলতে পারবে না। প্রতিদিন পিতার তাজমহল পরিদর্শনের সময় তাঁর নিত্য-সঙ্গী হিসাবে আমার সব আনন্দের মধ্যে এইটুকুই শুধু দুঃখ।

    ইসা-মামুদের এই তরুণ সহকারীর মনের কথা জানবার অদম্য কৌতূহল হয় আমার। দিনের পর দিন চেষ্টা করেও সে কৌতূহলকে সংযত করতে ব্যর্থ হই।

    শেষে দুঃসাহসী হয়ে উঠি। আমার পরম বিশ্বস্ত নাজীর কোয়েলের কাছে একদিন তার অতি সাধারণ একপ্রস্থ পরিচ্ছদ চেয়ে বসি। কোয়েল কিছুক্ষণ হাঁ করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। কী দেখে সেই জানে। শেষে উঠে গিয়ে কিছুক্ষণ পরে নিয়ে আসে পোশাক।

    —এ যে হিন্দুর পোশাক কোয়েল।

    —আমি মুসলমান কবে হলাম শাহজাদী!

    —হিন্দুর পোশাকে তোমাকে তো দেখিনি কখনো।

    —হারেমের বাইরে নগরীর রাজপথে আমি নাজীর নই। সেখানে আমি হিন্দু রমণী। রাজপুত।

    —কিন্তু এ পোশাকে যে চলবে না।

    একদণ্ড স্থির হয়ে থেকে কোয়েল প্রশ্ন করে,—শাহজাদী, অপরাধ না নিলে জানতে পারি কি কেন আপনার এ খেয়াল হল?

    কোয়েলকে গোপন ইচ্ছার কথাটা জানাতে আপত্তি ছিল না কারণ তাকেই সঙ্গী হিসাবে নিতে হবে। বললাম তাকে সব কিছু খুলে। যদিও বাদশাহ্রে মনোভাবের কথা জানতে দিলাম না।

    কোয়েলের মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দেয়। বলে, বড় বেশি ঝুঁকি নিচ্ছেন শাহজাদী।

    —জানি।

    —না গেলেই ভাল করতেন।

    —আমি যাব।

    আমার দৃঢ়তা দেখে কোয়েল চুপ করে থেকে শেষে বলে,–এ পোশাকেই যান তবে।

    —কেন?

    —রাজপুত রমণী মুসলমানদের মতো অতটা পর্দানসীন নয়। অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলার সুবিধা হবে আপনার

    আমার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কোয়েলের বুদ্ধির তারিফ না করে পারি না। কিন্তু পরক্ষণেই নিরাশ হই। এ-বেশে হারেম থেকে বাইরে যাওয়ার অনেক বিপদ। কারণ হারেমে এ-বেশে কেউ ঘুরে বেড়ায় না।

    কোয়েল আমার মনোভাব বুঝতে পেরে বলে ওঠে,—আপনি হতাশ হবেন না শাহজাদী। ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে চলে গেলে কেউ বুঝতে পারবে না। তবে আজকের দিবানিদ্রার মোহটুকু ছাড়তে হবে আপনাকে। দুপুরেই আসল সময়। সবাই ঘুমিয়ে থাকবে। পেছনের দরওয়াজার প্রহরীকে শুধু বশ করা।

    —কী করে বশ করব?

    কোয়েল বুড়ো আঙুলের সঙ্গে তর্জনী ছুঁইয়ে হাসিমুখে ইশারায় জানায়—টাকা।

    সারা ভারতের সর্বকালের সব চাইতে ঐশ্বর্যশালী বাদশাহের নন্দিনী হয়ে নিজের হারেম থেকে চুপিসারে বের হবার জন্যে নিজেরই এক প্রহরীকে ঘুষ দিতে আমার গজদন্তের পেটরা খুলে কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা কোয়েলের হাতে তুলে দিই। জানি অন্যায় করছি—খুবই অন্যায় করছি। কিন্তু উপায় নেই।

    নিজের হাতে আমাকে রাজপুত রমণীর বেশে সাজিয়ে দেয় কোয়েল। আগ্রহ ভরে পরে ফেলি আমি। আমাদের পোশাকের সঙ্গে ওদের পোশাকের কত মিল, আবার কত অমিল। পোশাকের অমসৃণতা আমার ত্বক প্রথমটা সহজভাবে নিতে পারেনি। একটু জ্বালা ধরায়। কিন্তু আমার ইচ্ছার প্রবলতা সে জ্বালাটুকুর কথা ভুলিয়ে দেয়। সহজ হয়ে আরশির সামনে গিয়ে নিজের নতুন রূপ দেখে হেসে ফেলি। কোয়েলও কাছাকাছি কোথাও দাঁড়িয়ে হাসছে ভেবে মুখ ফেরাই।

    কোয়েল গম্ভীর। আমার দিকে তার চোখ ছিল না। গবাক্ষের বাইরে রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশের দিকে ব্যথাভরা দৃষ্টিতে চেয়েছিল সে।

    —কী হল কোয়েল? হাসছ না?

    চমকে ফিরে দাঁড়িয়ে মুখে জোর-করা হাসি টেনে সে বলে,–এই তো হাসছি শাহজাদী। বেশ মানিয়েছে।

    —আমাকে কি এতই বোকা ভাব তুমি?

    —সে কি শাহজাদী! কোয়েলের কথায় অপার বিস্ময়।

    —আমি ভুলছি না। বলো, কেন তুমি গম্ভীর। কী ভাবছ তুমি?

    —আমাদের কি ভাবনার অন্ত আছে শাহজাদী? সে-সব কথা না-ই বা শুনলেন।

    —না, বলো। আমার গলায় আদেশের সুর।

    বেশ কিছুক্ষণ কাটে। তবু কোয়েল চুপ করে থাকে। তার মাথা নিচু। বুঝতে পারি, যে কথাই হোক, বলার ইচ্ছে ছিল না তার। শুধু আমার আদেশ বলেই বলবে। প্রস্তুত হচ্ছে তার জন্যে মনে মনে।

    আমার দিকে সোজা দৃষ্টি ফেলে কোয়েল বলে,–এই পোশাক ছিল আমার বোনের শাহজাদী। এটি পরতে গিয়ে আপনার কত অস্বস্তি। অথচ আমার বোন প্রাণভরে পরতে চাইত না। তার সব চাইতে ভাল পোশাক ছিল ওটি। বাড়ির কেউ ওতে হাত দিলে সে কীভাবে যেন টের পেত। যেখানেই থাকুক ছুটে আসত হন্তদন্ত হয়ে। মা রাগ করতেন কত। ঠাকুমা হেসে বলতেন, পাগলি। বিয়ে হলেই ঠিক হয়ে যাবে। ওর বাপও ঠিক অমনটি ছিল। ঠাকুর্দার তরোয়াল ছিল তার প্রাণ। কেউ হাত দিতে পারত না। শেষে তরোয়ালই তার কাল হল।

    —বোনটি কোথায়? বিয়ে হয়েছে কতদিন?

    —বিয়ে তার হয়নি শাহজাদী

    —তবে কোথায় সে?

    কোয়েল রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশের দিকে আর একবার চেয়ে আঙুল দিয়ে দেখায়। আমার গায়ের মধ্যে শিউরে ওঠে। পোশাকটিকে ভারী বোঝা বলে মনে হয়। ছেড়ে ফেলতে পারলে বাঁচি। চেঁচিয়ে উঠি,—কী করে অমন হল?

    —যমুনায় নাইতে গিয়েছিল বন্ধুদের নিয়ে। সবাই ফিরে এল, ও এল না।

    —আমায় আগে বলনি কেন? পরতাম না তোমার বোনের জিনিস।

    —সে কি শাহজাদী!

    —তার স্মৃতি বিজড়িত জিনিসটি না আনলেই পারতে কোয়েল। তাছাড়া তার যখন এত মায়া ছিল এটির ওপর।

    —সে বেঁচে থাকলে, আপনি পরবেন জানলে ছুটে এসে দিয়ে যেত। আপনি তো একবার মাত্র ব্যবহার করবেন। আবার তুলে রেখে দেব। একটি স্মৃতির জায়গায় দুটি স্মৃতি জড়িয়ে থাকবে ওটির সঙ্গে।

    তবু মনের ভেতরে একটা দ্বিধা থাকে। সে দ্বিধা নিয়ে দুপুর হতেই কক্ষ থেকে বের হই। কোয়েল আগে আগে চলে। সব দিক ভাল করে দেখে শুনে নিয়ে সে ইশারা করে, আর আমি একটু একটু করে এগিয়ে যাই। কক্ষের পর কক্ষ পার হই। নিস্তব্ধ সব! ঘুমন্ত পুরী। শুধু খোজাদের ভারী পায়ের মশমশ শব্দ এদিক-ওদিক থেকে ভেসে আসে। হারেমের নাজীরদের আড্ডাখানা থেকে চাপা কথা আর কুৎসিত হাসির মিলিত আওয়াজ শুনতে পাই। এ সময়ে তাদেরও বিশ্রাম কোয়েলের মুখে শুনেছি, তারা এ সময়ে নিজের নিজের বেগমদের কেচ্ছার কথা আলোচনা করে নারকীয় আনন্দ উপভোগ করে।

    দরজার প্রহরী দূর থেকে আমাকে আর কোয়েলকে দেখে মুচকি হেসে দূরে সরে যায়। প্রাসাদের বাইরে পা দিয়ে তবে নিশ্চিন্ত হই।

    শিল্পী এখনও পাথরের ওপর নিপুণ হাতে সূক্ষ্ম খোদাই-এর কাজ করে চলেছিল একমনে। কোয়েলকে একটু দূরে অপেক্ষা করতে বলে আমি তার পেছনে গিয়ে দাঁড়াই। দেখতে পায় না আমাকে। অমনভাবে যদি আরও বহুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি আমি তবু দেখতে পাবে না সে। সে তন্ময়—মনের রসকে রূপ দিচ্ছে। সৃষ্টির উন্মাদনা তার শিরায়-উপশিরায়। আমি সেই অপূর্ব সৃষ্টি অবাক্ বিস্ময়ে নিরীক্ষণ করি। মায়ের সমাধি-সৌধ পরিশেষে কী রূপ নেবে, পৃথিবীর শুধু দুজন মানুষ তা জানে। সে দুজনের একজন আমার সামনে। ভাবতেও ভাল লাগে।

    আমি জানি প্রস্তরখণ্ডের ওপর ওই সূক্ষ্ম খোদাই-এর কাজ শেষ হলে শিল্পী সেটি অন্যান্য ভাস্করের সামনে রেখে নির্দেশ দেবে ওটি দেখে প্রয়োজনমতো দৈর্ঘ্য-প্রস্থের প্রস্তরে খোদাই করতে। সেই খোদাই করা প্রস্তরখণ্ডগুলি সযত্নে দড়ি দিয়ে তুলে হর্মের একটি স্থানে স্থাপন করা হবে। শিল্পী জানে কোথায় হবে তাদের স্থান। কারণ ইসা-মামুদের প্রিয় সহকারী সে।

    শিল্পী ঘামছিল। সূর্যরশ্মির প্রখরতা ততটা না থাকলেও সে ঘামছিল। অতিরিক্ত একাগ্রতা মস্তিষ্ক ও দেহে যে চাপের সৃষ্টি করে তাতেও মানুষ ঘামে। শিল্পীর কামিজ ভিজে উঠেছিল। তার কানের পাশ বেয়ে ঘাম পড়ছিল পাথরের ওপর। ওড়না দিয়ে ওর মুখ মুছিয়ে দিতে ইচ্ছে হল আমার। এত বড় একটা কাজ যার পরিচালনায় এগিয়ে চলেছে তাকে বড় অসহায় বলে মনে হল। ঠিক একটি ছোট্ট শিশুর মতো—যে শুধু খেলতেই জানে, নিজের ভালমন্দ বোঝে না।

    এক সময় সে হঠাৎ কাজ থামায়। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানান্ ভাবে দেখে পাথরের ওপর নিজের কাজ। পরিতৃপ্তির শ্বাস ফেলে। তারপর হঠাৎ মুখ ঘুরিয়ে একেবারে কাছটিতে আমাকে দেখে অবাক হয়।

    —কে তুমি?

    মাথার ওড়না ফেলে দিয়ে মৃদু হেসে বলি,—আমি

    শিল্পী আমার দিকে চেয়ে থাকে। চোখের পলক পড়ে না তার। তার চাহনির আদি অন্তের হদিস মেলে না। বহুদূর থেকে যেন সে চেয়ে রয়েছে। যেন বহু যোজন দূর থেকে পৃথিবীর ওপর দৃষ্টি ফেলেছে চাঁদ। আমি লজ্জিত হই না। আমার মনে হয় এটাই যেন সব চাইতে স্বাভাবিক। আমি তৃপ্ত হই।

    —কী সুন্দর! শিল্পীর কথা অস্ফুট।

    —পাথর রয়েছে আপনার। আমার একটা মূর্তি গড়বেন?

    চঞ্চল হয়ে ওঠে শিল্পী। মুখে তার আনন্দের উচ্ছ্বাস। চোখ দুটি তার উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিন্তু এক মুহূর্ত পরেই একটা হতাশা তাকে আচ্ছন্ন করে। সে ধীরে ধীরে অস্বীকার করে।

    —কেন?

    —অনেক সময়ের দরকার। অত সময় তো তুমি দিতে পারবে না আমায়।

    —কত সময়ের দরকার?

    —অনেক—অনেক। তুমি পারবে না।

    —যদি পারি।

    —গম্ভীর হয় শিল্পী। ধীরে ধীরে বলে,– পারবে না। আমার কাছে তুমি আজীবন থাকতে পারবে?

    —আজীবন?

    —হ্যাঁ। তোমাকে দেখে আমার তাই মনে হচ্ছে। তার আগে কি মূর্তিতে প্রাণ-প্রতিষ্ঠা করতে পারব? এ রূপের যে অন্ত নেই।

    চুপ করে থাকি। শিল্পী একটাও মিথ্যে কথা বলছে না জানি। মনেপ্রাণে সে যা বিশ্বাস করে তাই বলছে। তার হতাশা ভাব কেটে যায়। সাময়িক একটা প্রলোভন থেকে সে নিজেকে ছিনিয়ে নেয়। স্বাভাবিক উদাসীনতা ফিরে পায় সে।

    —বড় ঘেমেছেন আপনি।

    —ও, তাই নাকি? তাই তো।

    ওড়নাটা ওর হাতে দিয়ে বলি,—মুছে ফেলুন।

    বাধ্য ছেলের মতো সে ওড়নার একপ্রান্ত দিয়ে মুখ মুছে ফেলে সেটি ফিরিয়ে দেয় আমাকে। আড় চোখে একটু দূরে দণ্ডায়মান কোয়েলকে দেখি। ওড়নাটিও তার বোনেরই। মৃত বোনের জিনিসের ব্যবহার দেখে তার মধ্যে কোনও বৈলক্ষণ্য উপস্থিত হয়েছে বলে বোধ হল না। সে যেন একটু খুশি।

    আমি শাহানশাহ্ শাহজাহানের কন্যা জাহানারা। জীবনে নিজের কোনো কাজ বড় একটা করেছি বলে মনে হয় না। অথচ শিল্পীর রোদে-পোড়া মুখের নতুন জমে-ওঠা ঘামের দিকে চেয়ে বলে ফেলি,—হাওয়া করি?

    —না। সেকি? না। থতমত খায় সে।

    আমিও লজ্জা পাই। ছি ছি। ওড়না দিয়ে হাওয়া করা কোয়েলও ঠিক সাধারণভাবে নিত না। একটু হলেই শাহজাদীর সম্মান ধুলোয় লুটিয়ে দিতাম।

    কর্মব্যস্ত শ্রমিকের নজর পড়েছে আমার ওপর। কাজের ভানে বড় বেশি ঘোরাঘুরি করতে শুরু করেছে আমাদের আশেপাশে। অথচ ঠিক যেখানে শিল্পী বসে রয়েছে সেখানে শিল্পকার্যের নমুনা সংগ্রহ করা ছাড়া তাদের উপস্থিতির প্রয়োজনই নেই! যেটুকু আছে, তাতে এত শ্রমিকের আনাগোনা বড় বেশি দৃষ্টিকটু।

    সংকুচিত হই আমি। ঘাম-মোছা ওড়না মাথার উপর আবার টেনে দিই।

    —তুমি এলে কী করে এখানে? মেয়েদের তো এখানে আসতে মানা।

    তবু ভাল, শিল্পীরও নজরে পড়েছে তার অধীনস্থদের উগ্র কৌতূহল।

    ভাঙা, অকেজো টুকরো-পাথর স্তূপীকৃত করা রয়েছে একদিকে। কয়েকজন লোক তার থেকে বেছে সংগ্রহ করছে নিজেদের পছন্দমতো। সেইদিকে দেখিয়ে বলি,—কয়েক টুকরো নিতে এসেছিলাম।

    —সাংঘাতিক।

    —কেন?

    —আমার খেয়াল ছিল না। নইলে তোমাকে দেখামাত্র বের করে দিতাম এখান থেকে। –সত্যিই আসতে নেই মেয়েদের?

    —না।

    —কী হয় এলে?

    শিল্পী সংকুচিত হয়ে বলে,—তুমি বুঝবে না।

    —বলুন না।

    একটু ইতস্তত করে সে। শেষে বলে, কত পুরুষ এখানে। বাইশ হাজার। কত দূর দেশ থেকে এখানে এসে কাজ করছে, পরিবারের কাছ-ছাড়া হয়ে! তাই।

    —কী তাই?

    —জানি না, চলো তোমাকে বাইরে রেখে আসি।

    —আপনিও তো দূর দেশের লোক।

    —কী করে জানলে?

    —জানতে অসুবিধে আছে নাকি। চেহারা দেখলে বোঝা যায় না?

    —ঠিক বলেছ। কিন্তু আমি ঠিক—

    হেসে উঠি।

    —হাসলে যে?

    —এমনি। আচ্ছা এখানে কখনো কোনও স্ত্রীলোক আসেনি?

    —না।

    —একজনও নয়?

    —না।

    —একজনও?

    শিল্পীর ললাটের রেখা কুঞ্চিত হয়। যমুনার জলের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে ওঠে—একজন আসেন।

    —কে তিনি?

    —শাহজাদী জাহানারা

    —তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন?

    —পাগল নাকি? তিনি কি তোমার মতো রাজপুত? তাছাড়া আমার মতো সামান্য লোকের সঙ্গে কথা বলবেন কেন?

    —তাঁকে দেখেননি?

    —না।

    —খুব সুন্দরী নিশ্চয়—তাই না?

    —হয়তো তাই। কিন্তু তোমার মতো কখনই নয়।

    —আমি সুন্দরী?

    —জানো না? আরশিতে মুখ দেখো না বুঝি? শিল্পীর স্বরে অভিমানের আভাস।

    আমি কিছু বলতে পারি না। বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে। পুরুষের অভিমান-ভরা কথা কখনো শুনিনি। এই প্রথম শুনলাম। শিল্পীর এই ছোট উক্তিটি আমর হৃদয়ের এক অজ্ঞাত তন্ত্রীতে ঝংকার তোলে। সে ঝংকার আর থামতে চায় না। শিল্পীর মুখের দিকে চাইতে পারি না আমি। চাইলে দুর্বলতা ধরা পড়ে যাবে আমার। নারী হলেও আমি শাহজাহান-দুহিতা জাহানারা। অসামান্য প্রতিভাবান এই স্রষ্টার আর যাই থাক সিংহাসন নেই। সিংহাসন না থাকলে, জগতের চোখে, জাহানারার হৃদয়ের শতাংশের একাংশ পাওয়ার যোগ্যতাও তার নেই।

    শিল্পীর সঙ্গে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই! কোয়েলের অস্তিত্ব অনুভব করি। সে আমাদের অনুসরণ করছে। প্রবল ইচ্ছে হয় তার সঙ্গে শিল্পীর পরিচয় করিয়ে দিতে। রূপসী না হলেও অসুন্দর নয় সে। শিল্পী তাকে পেয়ে তৃপ্ত হবে না? যদি তৃপ্ত হত, আমার নিজস্ব কোষাগারের সঞ্চিত সব দিয়ে দিতাম ওদের।

    যমুনার ধার দিয়ে অনেকটা এগিয়ে আসি, বাইশ হাজার শ্রমিকের আওতার বাইরে। এতক্ষণে আসল প্রশ্ন করি তাকে,–এত যে পরিশ্রম করেন আপনি—কীসের জন্যে? টাকা?

    —টাকা? না। টাকা হবে কেন?

    —তবে?

    —আনন্দ।

    —পরিশ্রম করে আনন্দ?

    —না। সৃষ্টির।

    —আপনার এ সৃষ্টির মূল্য দেবে কে?

    —সমস্ত পৃথিবী। কবি কাব্য লেখেন—মূল্য কে দেয়?

    ভাবতে সময় নিই। শেষে বলি,—কাব্যে কবির পরিচয় থাকে। তাই তিনি অমর হন। কিন্তু আপনার কি অমর হবার সাধ নেই?

    থমকে দাঁড়ায় শিল্পী। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে বলে,– কে তুমি?

    —সাধারণ এক রাজপুতের মেয়ে।

    —তুমি সাধারণ নও। তুমি বুদ্ধিমতী, তুমি বিদূষী, তুমি অসামান্যা রূপবতী। কে তুমি?

    —সত্যি সাধারণ আমি। লেখাপড়া শিখেছিলাম কিছু।

    উদাস স্বরে শিল্পী বলে,—অমর হবার সাধ কার না থাকে। সবাই কি হতে পারে? অমর না হতে পারি, সৃষ্টি তো রইল।

    —হ্যাঁ, শুধু সৃষ্টিই থাকবে। শাহানশাহের নামকে ছাপিয়ে আপনার নাম কোনওদিন ও কলারসিকদের কানে পৌঁছবে না।

    —কে তুমি?

    —বলেছি তো।

    —বিশ্বাস হয় না।

    —না হোক। আমার কথাটা কিন্তু বিশ্বাস করবেন।

    —তা করি। কিন্তু অত ভাবার সময় নেই, আর তো বেশি বাকি নেই। তার পরে এসো। দুজনে বসে ভাবা যাবে।

    —আর আসব না।

    —জানতাম।

    —কী জানতেন?

    —তোমার মতো মেয়ে দুবার আসে না।

    শিল্পীর উদাসীনতায় বিস্মিত হই। শুধু তিনবার জানতে চাইল কে আমি। ব্যস্। জবাব পেল না। কৌতূহলও রইল না। অদ্ভুত।

    হেসে বলি,—এবার আমি যাই।

    শিল্পী কথা বলে না। নিদারুণ বিষণ্ণতা তার মুখখানাকে ছেয়ে ফেলেছে। সে চুপ করে থাকে।

    আমার হাসি থেমে যায়। মাথা নিচু করে বলি,—যাব?

    —এসো।

    এক-পা এক-পা করে কিছুদূর এগিয়ে যাই। শিল্পী তেমনি দাঁড়িয়ে থাকে। বার বার পেছন ফিরে দেখি আমি। কোয়েল তার কাছ দিয়ে চলে আসে, তবু সে লক্ষ করে না।

    হঠাৎ সে ডেকে ওঠে,—একটু শুনবে? অল্প একটু।

    কোয়েল থমকে দাঁড়িয়ে যায়। আমি কোয়েলের পাশ দিয়ে তার কাছে যাই। কোয়েল বড় বড় চোখে চেয়ে ছিল। সেদিকে চেয়ে আমি হাসতে চেষ্টা করি। পারি না। শিল্পীর ডাক আমার কাছে আল্লার নির্দেশ মনে হয়।

    শিল্পীর সামনে গিয়ে দাঁড়াই। চোখ সজল তার। রুদ্ধ আবেগে বক্ষ স্ফীত। কথা বলতে পারে না সে বহুক্ষণ। শেষে অতি কষ্টে বলে,—আমি তোমার নাম জানি না। জানতে চাই না। কোথায় থাকো তাও জানব না। কারণ জানি তুমি সাধারণ কোথাও থাকো না। হয়তো এভাবে তোমার সঙ্গে কথা বলা আমার পক্ষে খুবই অন্যায় তবু—

    সে থেমে যায়। অন্যদিকে মুখ ফেরায়। আমি অপেক্ষা করি।

    —তোমার মূর্তি গড়ে দিতে বলেছিলে। আমি গড়ব। এখানকার কাজ শেষ করে আমি গড়ব। এই আগ্রাতেই কোথাও সে মূর্তি স্থাপন করে দিয়ে চলে যাব আমি। তুমি দেখো। কিন্তু গড়তে হলে যে ভালভাবে দেখে নিতে হবে তোমায়। মনের মধ্যে তোমার মূর্তি আজীবন স্পষ্ট হয়েই থাকবে। তবু আর একবার ভালো করে দেখে নিতে চাই। আপত্তি কোরো না। করবে না তো?

    আমি দাঁড়িয়ে থাকি। শিল্পী: চেয়ে চেয়ে দেখে। যেন কত যুগ চলে যায় দেখতে দেখতে—কত জল বয়ে যায় যমুনার বক্ষ দিয়ে। তবু সে দেখার শেষ নেই। আমার মাথাটি ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অশ্রুপূর্ণ হয়ে ওঠে চোখ দুটি। বড় বড় দু ফোঁটা জল গাল বেয়ে মাটিতে ঝরে পড়ে। কিছুমাত্র লজ্জিত না হয়ে ওড়না দিয়ে মুছে ফেলে সামনে চেয়ে দেখি সে তখন টলতে টলতে এগিয়ে চলেছে সমাপ্তপ্রায় স্মৃতিসৌধের দিকে।

    পেছন থেকে আলগোছে আমার হাত চেপে ধরে কোয়েল। সে বুঝতে পেরেছিল আমি শিল্পীর দিকে পা বাড়িয়ে ছিলাম।

    —কোয়েল? তোমারও চোখে জল?

    —স্বর্গীয় কিছু দেখলে চোখের জল সামলাতে পারি না।

    —কোয়েল, হারেমে ফিরে গিয়ে তোমার ওড়নাটি আগে নিও। তোমার বোন, আর আমি ছাড়াও আর একটি স্মৃতি এর সঙ্গে জড়িয়ে গেল। তুমি তো দেখেছ।

    হ্যাঁ শাহজাদী। এ ওড়না এই অবস্থাতেই আমি তুলে রেখে দেব সযত্নে! বহুদিন পরেও এর ওই মলিন অংশটুকু অক্ষয় হয়ে থাকবে।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    Related Articles

    শ্রীপারাবত

    রাজপুত নন্দিনী – শ্রীপারাবত

    July 27, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    Our Picks

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }