Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    শ্রীপারাবত এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – ৭

    ৭

    মহতাব বাগের মাথার ওপরে নির্মল আকাশ। সেই আকাশের গায়ে সন্ধ্যা না হতেই একখণ্ড চাঁদ উঁকি দিতে শুরু করেছে। যেদিকে তাকাই শুভ্র ফুলের শোভা! বহুদিন পরে মহতাব-বার্গে এসেছি। তাই এত শ্বেত শোভার অকৃপণতায় বিমুগ্ধ হই। এই বাগের একটি ফুলও অন্য রঙের নেই।

    আমার হাতে গজমতির পাতা। সেই পাতায় রয়েছে রাজার হস্তাক্ষর। আজই পেয়েছি আমি চিঠিখানি। রাজার এক অতিবিশ্বস্ত অনুচর পৌঁছে দিয়ে গিয়েছে। খুবই ছোট চিঠিখানি। তবু যেন তার মধ্যে অনেক কিছু লুকানো রয়েছে। যত পড়ি, ততই নতুন নতুন অর্থ বের হয়—ততই বুক উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। সেদিনের সেই চিরস্মরণীয় সন্ধ্যার মতো একটা আবেশ অনুভব করি। বুকের ভেতরে চেপে ধরি পত্রখানি।

    মুহূর্তের জন্য ভুলে যাই, আমি বর্তমান যুগের কোনও নারী। ভুলে যাই শাহানশাহ্ শাহজাহানের কন্যা আমি। মনে হয় আমি যেন অতীতদিনের সমরখন্দের তৈমুরের কোনও দুহিতা। আমার ইচ্ছা পূরণে সংস্র অশ্ব পর্বত-শিলা প্রকম্পিত করে দিগ্বিদিক ধাবিত হয় রাজ্যের সীমার বাইরে কোনও শস্যশ্যমলা দেশের দিকে। আমায় সন্তুষ্ট করার জন্যে শত শত বীর তরুণ ছুরিকাঘাতে নিজেদের বক্ষ ক্ষতবিক্ষত করে। আর আমি স্বর্গীয় কানিবুল উদ্যানের গুলবাহার দেখতে দেখতে সে সব কথা ভেবে মনে মনে হাসি। আমি জানি আমার প্রিয়তম কে, আমার হৃদয়ের তক্ত-তাউসে কার স্থায়ী আসন। সে আর কেউ নয়—বুন্দেলা ছত্রশাল।

    চমক ভাঙে। চিন্তার অসংলগ্নতায় লজ্জিত হই। প্রতি নারীই এমন অবস্থায় বোধহয় এইরকম চিন্তা করে। বাস্তবজগৎকে সে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। নইলে শাহানশাহ্ শাহজাহান নন্দিনী হয়েও কেন আমি কানিবুল উদ্যানের স্বপ্ন দেখলাম। বাদশাহ্ তো তৈমুর-বংশের মধ্যে সব চাইতে ঐশ্বর্যশালী। তাজমহল নির্মাণের কথা অতীতে কেউ চিন্তা করতে পেরেছে কি? তবু—এ সবই রূঢ় বাস্তব। সুদূর সমরখন্দের অতীত দিনের স্বপ্ন মেশানো নেই তাতে।

    রাজা লিখেছে শেষে : বিন্ধ্যাচলের পরপারে যে দিগন্তরেখা সেখান থেকে উঠে আসছে এক সর্বনাশা ঝড়। জানি না, শাহানশাহ্ সামলাতে পারবেন কিনা

    আমিও বুঝতে পারি। দিল্লি অরক্ষিত। ঝড়ের গতিবেগ রোধ করতে হলে যে সাবধানতা, যে যোগ্যতা প্রয়োজন দিল্লিতে তার নিদারুণ অভাব। তার পরিবর্তে এখানে একদল লোক ঘরের ভিত দুর্বল করে তুলতে তৎপর হয়েছে—সামান্য ঝড়েই যাতে ধসে পড়ে। বাদশাহকে বলে ফল হয়নি। তিনি দারার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে শুরু করেছেন। অথচ তিনিই এক সময়ে আমাকে বলেছিলেন, জন্মের কয়েকদিন পরে দারার ললাটে তিনি জয়তিলকের পরিবর্তে দেখেছিলেন পরাজয়ের মসিরেখা। জ্যেষ্ঠপুত্রের এই দুর্ভাগ্যের চিহ্ন মমতাজের চোখে জল এনে দিয়েছিল। ভারী গলায় তিনি বাদশাহকে বলেছিলেন—মুঘল-বংশের গৌরব-সূর্য সম্ভবত অস্তমিত হল। তোমাকে আমি সুখী করতে পারলাম না।

    আরও অনেক কথাই নিশ্চয় হয়েছে, পিতা হয়ে যা তিনি আমাকে বলতে পারেননি। কিন্তু আজ সম্ভবত সব তিনি ভুলে গিয়েছেন। কিংবা ভুলে যাবার ভান করেছেন। কারণ দারার প্রতি স্নেহ তাঁর অন্ধ। তাঁর শেষ রক্তবিন্দু থাকতে সাধের ময়ূরাসন অন্য কোনও পুত্রকে ছেড়ে দেবেন না। অথচ অতি দ্রুত অশক্ত হয়ে পড়ছেন তিনি। দুর্ভাবনার সঙ্গে শেষ বয়সের অমিতাচার তাঁকে এই অবস্থায় এনে ফেলেছে। তাঁর রক্তের মধ্যে ঘুমন্ত যৌবনের নেশা হঠাৎ শেষবারের মতো জেগে উঠে তাঁর আয়ুকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। বুঝতে পেরেও বড় একটা বাধা দিতে পারি না। মেয়ে হয়ে সেটা সম্ভব নয়। বুঝতে তিনিও পারেন। তাঁর কোনও কোনও অঙ্গ এক এক সময় অবশ হয়ে যায়। ভীত হয়ে আমাকে ডেকে পাঠান তিনি। অসহায়ের মতো তাঁর হাতখানা বাড়িয়ে দিয়ে বলেন—দেখতো জাহানারা, আপেলের সুঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে কি? শুনে চোখে জল আসে আমার। এ অবস্থায় কোন্ পিতাই বড় ছেলের ওপর সবকিছু ছেড়ে দিতে না চায়।

    .

    মহতাব-বাগে সন্ধ্যা হয়। চাঁদ আরও ওপর দিকে ওঠে। চাঁদের আলোয় সাদা ফুলগুলি একাকার—তাদের পৃথক অস্তিত্ব লোপ পেয়েছে।

    হঠাৎ একটু দূরে মৃদু পদশব্দ। স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। শব্দ এগিয়ে আসে। গাছের আড়ালে যাই।

    একজন স্ত্রীলোক। মুখের বোরখা তার মাথার ওপরে তোলা। তবু চিনতে পারি না দূর থেকে। বুকের ভেতরে চাপা উত্তেজনা অনুভব করি। হারেমের কেউ নয়। কোনও নাজীরও নয়। নাজীরদের পরিচ্ছদ এত মূল্যবান হয় না।

    আমি ভীত হই। আবার হয়তো কোনও নারকীয় দৃশ্যের সৃষ্টি করা হবে আমার সাধের মহতাব-বাগে। কিছু ঘটবার আগেই পালাতে হবে। নহরী-বেহেস্ত-এ খলিলুল্লা খাঁয়ের বেগমের ঘটনার পর থেকে সব সময়ই আমি ভয়ে ভয়ে থাকি।

    স্ত্রীলোকটি আমার খুব কাছেই তৃণের ওপর বসে পড়ে। এবারে তাকে চিনতে পারি। শায়েস্তা খাঁয়ের বেগম। মহতাব-বাগে তার উপস্থিতির কী কারণ ঘটল বুঝতে পারি না। কানে যা আসে তাও কি তবে সত্যি? বাগের মধ্যে এরা সব আসেই বা কী ভাবে? কঠোর শাস্তি দিতে হবে প্রহরীদের। নইলে ওদের অর্থের লোভ কমবে না। আজ আমি একে যেভাবে দেখছি, দুদিন পরে আমাকেও এর চাইতে খারাপ অবস্থায় কেউ দেখবে কিনা ঠিক কি? তখন রাজা থাকবে। কী লজ্জা। আড়াল থেকে কেউ সব কিছু দেখছে কল্পনা করলেও আত্মহত্যার ইচ্ছে জাগে।

    শায়েস্তা খাঁয়ের বেগমকে প্রহরীরা হয়তো বাধা দিতে সাহস পায়নি। কোনও বড় আমির-ওমরাহের বেগম এসব বাগিচায় আসতে পারে না। তারা সাধারণত যায় শালিমার-বাগে। আজকের ব্যাপারে বাদশাহের কোনও সম্মতি নেই তো? বেগমের চঞ্চলতা এবং চারদিকে অস্থির চাহনি দেখে সেই রকমই যেন মনে হয়।

    আবার পদশব্দ।

    এবারে শায়েস্তা খাঁ। মুখের কুটিল হাসিতে তার ঘৃণা ঝরে। বেগম আঁতকে ওঠে,–তুমি!

    —হ্যাঁ, আমি। কত সাধ করে তোমায় শাদি করেছিলাম মনে আছে তো।

    বেগম কথা বলে না।

    —ঘরের খেয়ে তুমি বাইরে মজা লুটবে, তাই কি সহ্য করতে পারি?

    —বাজে কথা বলো না।

    চাপা গলায় চেঁচিয়ে ওঠে অতবড় পুরুষটি,—চোপ রহ। তোমার মতলব বুঝতে আমার দেরি হয় না। আমি খলিলুল্লা খাঁয়ের মতো নিরেট নই।

    —বলছ কী তুমি?

    —ঠিকই বলছি। বাদশাহের ঠাণ্ডা দেহে যেটুকু উত্তাপ অবশিষ্ট রয়েছে, তুমি তাই উপভোগ করতে এসেছ। তাঁর ছেলের বয়সি আমি—অথচ আমার ফুটন্ত যৌবনে তোমার অরুচি ধরেছে। আমার যে তক্ত-তাউস নেই। তাই না বেগম?

    —খাঁ সাহেব, বাদশাহ্ বৃদ্ধ।

    —হ্যাঁ, বৃদ্ধ তো বটেই। তাই আমার বিশেষ ভয় নেই।

    —তোমার সঙ্গে কথা বলতে আমার ঘৃণা হয়।

    —তোমার দিকে চাইতেও আমার মাথায় আগুন জ্বলে।

    আড়ালে দাঁড়িয়ে আমার পা কাঁপে। খাঁ-সাহেবের কথাকে আমি অবিশ্বাস করতে পারি না। নহরী-বেহেস্ত-এর ঘটনার পর সবকিছু ঘটাই সম্ভব।

    বেগম মাটি ছেড়ে সোজা উঠে দাঁড়ায়। খাঁ-সাহেবের দিকে জ্বলন্ত দৃষ্টি হেনে বলে,–কেন, এসেছ তুমি?

    —তোমার হাত ধরে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে নয়। খলিলুল্লা খাঁয়ের মতো আমার বুকের মধ্যে আশ্রয় দেবার জন্যেও নয়।

    বেগম হেসে ওঠে। নিজের হাতের ওপর মাথার বেণীকে আছড়াতে আছড়াতে বলে, ওসব বড় বড় কথা ঘরে গিয়ে বলো। এটা মহতাব-বাগ। এখানে তেমন কিছু করলে খাঁ-সাহেবের অমন সুন্দর মাথাটি ঘাসের ওপর গড়িয়ে পড়ে সাদা মহতাব-বাগকে একটু লাল করে দেবে মাত্র।

    শায়েস্তা খাঁ মোলায়েম স্বরে বলে,—আকাশে কী সুন্দর চাঁদ উঠেছে দেখেছো? পাঁচ দিন আগে ঈদ শেষ হয়েছে। আবার ঈদ আসবে। ঈদের পরে মহতাব-বাগের এ-দৃশ্য আরও কত বছর দেখতে পাওয়া যাবে কে জানে!

    আমি বিস্মিত হই শায়েস্তা খাঁয়ের কথা বলার ভঙ্গিতে। বেগমও কম বিস্মিত নয়। সে নিশ্চয় ভেবেছে খাঁ-সাহেব ভীত। কিন্তু আমি ভালভাবে চিনি তাকে। সহজে ভীত হবার পাত্র সে নয়।

    সহসা কোষ থেকে তলোয়ার টেনে বার করে শায়েস্তা খাঁ। চাঁদের কিরণে খাঁটি ইস্পাত ঝলসে ওঠে। শূন্যে বার-দুই ঘুরিয়ে সে বলে ওঠে,—কিন্তু বেগম সাহেবা, আল্লার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে তোমাকে জানাই, এর পরের আর কোনও ঈদই দেখার সৌভাগ্য হবে না তোমার। কালকের চাঁদটি কেমন উঠবে তাও দেখবে না।

    বেগম আর্তনাদ করে ওঠে।

    চোখের সামনে একজন নারীকে হত্যা করা হবে। কয়েক মুহূর্ত বাকি। কী করব ভেবে পাই না। নারীহত্যাকারীদের আমি ঘেন্না করি। অথচ শায়েস্তা খাঁকে আমি শ্রদ্ধা করি তাঁর বিদ্যা বুদ্ধি আর সাহসের জন্যে।

    সামনে এগিয়ে যাই। ধীরে ধীরে বলি,—খাঁ-সাহেব কি তাঁর বেগমকে নির্জনে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা দিচ্ছেন?

    কেঁপে ওঠে পুরুষের দেহ। আমাকে সসম্মানে কুর্নিশ করে হেসে খাঁ সাহেব বলে,–ঠিকই ধরেছেন বাদশাহ-বেগম

    —কিন্তু এ উদ্যান শুধু হারেমের জন্যে। আপনার বেগম এলেন কী করে? আর আপনিই বা এলেন কেমনভাবে?

    —অপরাধ হয়েছে বাদশাহ্-বেগম। শাস্তি দিন। আমার ধারণা ছিল সন্ধ্যার পর সাধারণত উদ্যানে কেউ থাকেন না।

    —আপনাদের অবগতির জন্য জানানো হচ্ছে সারারাতও এখানে কেউ থাকতে পারে। সবকিছু নির্ভর করে শাহজাদী আর বেগমের মর্জির ওপর।

    —ঠিক বলেছেন। এখনি চলে যাচ্ছি।

    —প্রহরীরা আপনাদের দেখে ছেড়ে দিলেও আসার চেষ্টা করবেন না ভবিষ্যতে। শায়েস্তা খাঁ চলে যায়। তাকে অনুসরণ করে তার বেগম। শুধু আমার জন্যে সে বেঁচে গেল। বেঁচে গেল সারা জীবনের জন্যে হয়তো। কারণ খাঁ-সাহেব যত ঘৃণাই করুক না কেন তাকে, চতুর হলে তলোয়ারের খেল আর দেখাবে না তার ওপর।

    .

    যা আশঙ্কা করেছিলাম, শেষে তাই হল। বাদশাহ্ শয্যা নিলেন। স্পষ্ট শুনতে পেলাম, ভারতের চারদিক থেকে উঠেছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। রোশনারা অতিমাত্রায় ব্যস্ত। খবর পেলাম মীরজুমলা আর আমিন খাঁয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে সে। আওরঙজেব প্রায় প্রতিদিনের খবরই পাচ্ছে বোধ হয়। ওদিকে গুজরাটে মুরাদের মতো ভালমানুষও রণহুঙ্কার ছেড়েছে। সুজা তো তৈরি। বাংলাদেশ অনেক দূরে। তাই সে চঞ্চল।

    এই অবস্থায় রাজার অভাব অতিমাত্রায় অনুভব করি। আজ যদি সে আমার পাশে থাকত, কোনও কিছুতেই বিচলিত হতাম না। দারাশুকো দায়িত্বের সমস্ত বোঝা একা বইতে পারবে কিনা জানি না। সে এখন বাদশাহের সব ক্ষমতাই পেয়েছে—শুধু ময়ূরাসন ছাড়া। হস্তীযুদ্ধের আদেশও সে দিচ্ছে—যে আদেশ বাদশাহ্ ছাড়া আর কেউ দিতে পারে না। আত্মতৃপ্তিতে দারা ভরপুর। রানাদিলের সামনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরে সে গর্বিত। কিন্তু এ গর্ব যে কতটা ক্ষণভঙ্গুর, তার মতো বিদ্যান লোক জেনেও, হৃদয় দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করছে না। বরাবরের কল্পনা-বিলাসী সে। কল্পনার ঘাড়ে চেপে আরও কতদূর অগ্রসর হবে কে জানে।

    দারার হুকুম মেনে চলতে আমির-ওমরাহদের মধ্যে স্পষ্ট বিরক্তির চিহ্ন ফুটে ওঠে। খুবই অশুভ লক্ষণ। এ সমস্ত মীরজুমলার কৌশল। ধীরে ধীরে সে কুটনীতির বিষ প্রয়োগ করেছে সবার মনে। দারা বিধর্মী—সে কাফের। এর চাইতে ভাল অস্ত্র আর হতে পারে না।

    সব বুঝি। অথচ বিশেষ কিছু করতে পারি না। বাদশাহের মনে বজ্র আর কুসুমের মেলামেশা। দারার মনে শুধুই কুসুম। বজ্রের সাক্ষাৎ পাওয়া কঠিন।

    মীরজুমলা। পারস্য থেকে এসেছিল একদিন। গোলকুণ্ডার পথে জুতো বিক্রি করত। পাকে-চক্রে শেষে একদিন দরবারে স্থান পেল! প্রথম দিনেই লোকটিকে আমার ভাল লাগেনি। বাদশাহকে সাবধান করে দিলাম। তিনি শুধু কান দিয়ে শুনলেন। কারণ মমতাজ বেগমের পর অনেক দিন অতিবাহিত হয়েছিল তখন! তাই আমার পরামর্শ আর আমার কথার মধ্যে তখন হয়তো মমতাজের ছায়া পাননি। একদিন দেখলাম তিনি মীরজুমলাকে দুর্লভ সম্মানে ভূষিত করলেন। উপাধি দিলেন ‘মুয়াজুম খাঁ’। সেদিন আমি সত্যিই বিষাদে অভিভূত হয়েছিলাম।

    আজ সেই মুয়াজুম খাঁ বিষদাঁত দেখাতে শুরু করেছে। তাঁর পুত্র আমিন খাঁও গোখরোর বাচ্চার মতো কিবিল করছে। অদৃষ্টের পরিহাস ছাড়া আর কী বলব একে?

    নানান্ চিন্তায় ভারাক্রান্ত মনে পিতার শয্যার পাশে গিয়ে দাঁড়াই। তিনি তাঁর ডান হাতখানা বাড়িয়ে দেন। আমি বুঝতে পারি কেন তিনি বাড়িয়ে দিলেন হাতখানা। আজকাল অনেক সময় মুখে কিছুই বলেন না।

    আমি ঘ্রাণ নিয়ে বলি—আছে বাবা। প্রথম দিনের মতোই আপেলের গন্ধ। একটুও কমেনি।

    মুখ তার উজ্জ্বল হয়ে ওঠে,—তবে মরব না, কী বলিস?

    আমি সায় দিই।

    বহুক্ষণ অসাড় হয়ে পড়ে থাকেন তিনি। কোনও কথা বলেন না। আমি তাঁর শয্যার পাশে বসে তাঁর মুখের দিকে চেয়ে থাকি। সে মুখে প্রতিমুহূর্তে অভিব্যক্তির পরিবর্তন। তাঁর মন কাজ করে চলেছে অবিরত—তারই প্রতিচ্ছবি।

    শেষে এক সময়ে নিজেই বলে ওঠেন,—ইয়া তক্ত, ইয়া তাবুত

    চমকে উঠি আমি। বলি,—হঠাৎ একথা বললেন, কেন?

    মৃদু হাসেন তিনি। বলেন,—আমি যেন স্বপ্ন দেখছিলাম জাহানারা, আমার চার ছেলে ময়ূরাসনের সম্মুখে সাংঘাতিক এক যুদ্ধে লিপ্ত। যুদ্ধ করতে করতে মাঝে মাঝে উন্মাদের মতো চেঁচিয়ে উঠছে—ইয়া তক্ত, ইয়া তাবুত। সে যে কী ভীষণ যুদ্ধ না দেখলে কল্পনা করা যায় না। আমার বুক ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছিল। এক এক জনের গায়ে আঘাত লাগছিল, আর আমার বুক থেকে রক্ত ঝরছিল। চেঁচিয়ে বলতে গেলাম,—তোরা থাম্। তোদের আমি ভাগ করে দিচ্ছি। ভারতবর্ষ খণ্ডিত হোক, কিন্তু তোরা বেঁচে থাক। তোরা যে মমতাজের ছেলে। শুনল না। কেউ শুনল না। একই ভাবে চেঁচিয়ে উঠল,–হয় সিংহাসন, নয় মৃত্যু। জাহানারা আমি কী করব বলতে পারিস? তোর মা হলে কী করত, বলত?

    বাদশাহ্ হাঁপাতে থাকেন। তাঁর সারা গা ঘামে ভিজে ওঠে। আমি মুখ নিচু করে ভাবতে থাকি।

    —চুপ করে রইলি কেন জাহানারা?

    —বাবা, দেশকে খণ্ডিত করার পক্ষপাতী আমি নই। তার চেয়ে বরং মমতাজ বেগমের তিন পুত্রের দেহ ক্ষতবিক্ষত হোক।

    চোখ দুটো বড় হয়ে ওঠে বাদশাহের। যেন বিশ্বাস করতে পারেন না কথাগুলো আমিই বললাম।

    —তুই—শেষে এই কথা বললি?

    —হ্যাঁ বাবা। ওদের চেয়ে দেশ বড়। এ কথা কি অস্বীকার করা যায়? ভারতবর্ষে বহু বংশ রাজত্ব করে গিয়েছে। সবারই এক ছেলে ছিল না। কিন্তু ভাইদের মধ্যে মনোমালিন্য না ঘটেও একজনই সিংহাসনে বসেছে, এ বিরল নয়। তোমার ছেলেদের সে শিক্ষা হয়নি—তুমি দাওনি। তার জন্যে সারা দেশ ভুগতে পারে না। আত্মকেন্দ্রিক না হয়ে শুধু স্বপ্ন না দেখে, ওদের মধ্যে যদি ছেলেবেলা থেকে ভ্রাতৃপ্রীতি জাগিয়ে তুলতে পারতে তবে স্বপ্ন সত্যি হবার কিছুমাত্র সম্ভাবনাও থাকত না। কিন্তু তুমি তা পারোনি। আজ এই শুধু আফশোস করতে পার—আর কিছু নয়।

    বাদশাহ্ স্তব্ধ। দেখে মনে হয় আমার কথাগুলো চার দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে বারবার তাঁর কানের মধ্যে প্রবেশ করছে। তিনি অস্থির হয়ে ওঠেন। চোখের পাতা ভিজে ওঠে তাঁর। শেষে ধীরে ধীরে বলেন,—তুই বড় নিষ্ঠুর জাহানারা। এমনভাবে সত্যি কথা কখনো বলতে হয়? আমি যে অসুস্থ।

    —তোমাকে ছুঁয়ে শপথ করছি বাবা, তোমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একদিনের তরেও নিজের ইচ্ছেতে তোমাকে ছেড়ে থাকব না। কিন্তু আমার যা সত্যি বলে মনে হবে, তাই বলতে দিও আমাকে। মিথ্যে বাক্য আমাকে দিয়ে বলিও না।

    —তাই বলিস! কিন্তু দেখিস, আমার যেন খুব আঘাত না লাগে। যদি বুঝিস আঘাত পাবো, খুব আঘাত পাবো, তবে না হয় চুপ করে থাকিস।

    ঠিক সেই সময়ে কোনওরকম খবর না দিয়ে নজরৎ খাঁ কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে। রাগে আর সঙ্কোচে আমি লাল হয়ে উঠি বুঝতে পারি। কারণ পিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলার সময় দারার উপস্থিতিও আমি সহ্য করতে পারি না। বাদশাহের সুবিধার জন্যে অসুস্থ হবার পর তাঁকে বাইরের দিকের এই কক্ষটিতে রাখা হয়েছে, যাতে আমির-ওমরাহেরা খবরাখবর পৌঁছে দিতে পারে কিংবা নিজেরা এসে বাদশাহের পরামর্শ নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু তাদের ওপর নির্দেশ রয়েছে দেখা করার আগে অন্তত আগমনবার্তা জানাতে। নজরৎ খাঁ সে নির্দেশ মানেনি।

    দু পা এগিয়ে এসে বিগলিত স্বরে সে বলে,—মাফ্ করবেন বাদশাহ্ বেগম। আমি ভেবেছিলাম বাদশাহ্ একা রয়েছেন।

    বাদশাহের ভ্রু কুঞ্চিত হয়। তিনি বলেন—কোনও জরুরি খবর আছে নজরৎ?

    —হ্যাঁ জাহাঁপনা। শাহজাদা সুজা দু-একদিনের মধ্যেই বাঙলা ছেড়ে এগিয়ে আসবেন।

    উত্তেজিত স্বরে বাদশাহ্ বলেন—এ খবর নতুন নয়। আমি জানি সে আসছে। তার ব্যবস্থাও করেছি।

    নজরৎ খাঁ যেন হতবাক্। শৃগালের মতো খল হলেও আমার চোখকে সে ফাঁকি দিতে পারবে না।

    —আপনি জানেন? আমি ভেবেছিলাম —

    কক্ষ ছেড়ে বাইরে গিয়ে দাঁড়াই আমি। ওর উপস্থিতি সহ্য করতে পারি না। কিন্তু সেই মুহূর্তেই বাইরে আসে সে। এত তাড়াতাড়ি আসবে বুঝতে পারিনি। আমাকে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে।

    —বাদশাহ্-বেগম।

    —বাদশাহের সঙ্গে আপনার কথা শেষ হয়েছে?

    —হ্যাঁ। কিন্তু আপনি এমনভাবে কথা বলছেন কেন?

    যতটা সম্ভব ভদ্র হবার চেষ্টা করে বলি,—এর চেয়ে ভালভাবে কথা বলবার মতো মনের অবস্থা আমার নেই খাঁ-সাহেব। পিতা অসুস্থ। চারিদিকের সংবাদও আপনার অজানা নয়।

    —আমি আছি বাদশাহ্-বেগম। প্রাণ দিয়ে আপনার আর পিতার সম্মান রক্ষা করব। তাঁর মনে যে ইচ্ছাই থাকুক, সে ইচ্ছা পূরণের জন্যে আমি জীবন দেব।

    —আপনারাই বাদশাহের ভরসাস্থল!

    —কিন্তু একটি প্রার্থনা।

    কী প্রার্থনা তা আমি জানি। তাই তাড়াতাড়ি বলি,—অন্য সময় কথা হবে। এখন আমি বড় ব্যস্ত।

    নজরৎ সহসা নতজানু হয়ে আমার পায়ের ওপর দুটো হাত রেখে বলে,—ফিরিয়ে দিও না জাহানারা। কতদিন আমি অপেক্ষা করে আছি। আমি যে মানুষ।

    প্রহরারত খোজা এই পরিস্থিতি থেকে আমাকে উদ্ধার করে। সে নিয়মমাফিক ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। নজরৎ উঠে দাঁড়ায়।

    —জাহানারা।

    —আপনি তো জানেন খাঁ-সাহেব, এভাবে কথা বললে আমি বিরক্ত হই।

    —বিরক্ত? ও। কিন্তু ছত্রাশাল যদি একথা বলত?

    —তাহলে আমি কী করতাম, সে কথা দেখছি আপনার জানা আছে। শুধু শুধু প্রশ্ন করছেন কেন তবে?

    —বেশ। মনে থাকে যেন বাদশাহ্-বেগম

    —বাদশাহ্-বেগমের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় তা কি জোর করে শিখিয়ে দিতে হবে খাঁ সাহেব?

    কুর্নিশ করে দ্রুত চলে যায় নজরৎ। সেদিক পানে চেয়ে বুঝতে পারি দারাশুকোর একজন পরাক্রমশালী শত্রু বাড়ল। কিন্তু উপায় নেই।

    পরদিন প্রাতেই আমার সবচাইতে প্রিয় এবং শিক্ষিত কপোতটিকে তার ঘর থেকে বের করি। গায়ে হাত বুলিয়ে দিই। গালের সঙ্গে গাল ঠেকাই। তারপর তার পায়ে একটি ছোট্ট চিঠি বেঁধে প্রথম সূর্যের আলোয় একটি মিনারের পাশ থেকে যমুনার দিকে উড়িয়ে দিই। চিঠিতে লেখা ছিল : তোমার জিনিসটিকে যে সবাই ছিনিয়ে নিতে চায় রাজা। তুমি নিশ্চিন্তে বসে আছো? খুব তাড়াতাড়ি এসো। বড় বিপদ।

    এই দুর্দিনে দারা আর এক কাণ্ড করে বসল।

    দিল্লির বাজারে প্রতি বছরই পশ্চিম দেশের স্ত্রী-পুরুষের চালান হয়। সে সময়ে বাজারে আমির-ওমরাহদের ভিড় বাড়ে। মুসলমান নারীরা পর্দানশীন। নইলে, আমি হলফ করে বলতে পারি, নারীদের ভিড়ও কম হত না। অমন দুধে-আলতা রঙের রক্তমাংসের মানুষকে শুধু মোহরের বদলে সারাজীবন নিজের করে নেবার আদিম প্রবৃত্তি সবার মনেই সুড়সুড়ি দেয়। দুর্ভাগ্য নারীদের। তেমনি সৌভাগ্য আমির-ওমরাহ্ আর শাহজাদাদের। প্রায় প্রত্যেকের অন্তঃপুরে সে দেশের যুবতীরা ঘর আলো করা রঙ নিয়ে বর্তমান। সুজার তো নেশাই ছিল ক্রীতদাসী ক্রয় করা। কিন্তু দারার ওসব বাতিক ছিল না।

    সেই দারা একদিন বাজার থেকে নিয়ে এল একজনকে। হারেমের প্রবেশ পথে নাদিরা পথ রোধ করে দাঁড়ায়। সে সময়ে আমিও ছিলাম নাদিরার পাশে।

    দারা থতমত খেয়ে প্রশ্ন করে,এ কী করছ নাদিরা?

    —রানাদিল্ হারেমে স্থান পাওয়ায় তোমার স্পর্ধা বেড়েছে। নাদিরার নাসারন্ধ্র স্ফীত হয়ে ওঠে। দারার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আগে কখনো দেখিনি তাকে। কল্পনাও করিনি এ রকম দৃশ্য। একটু অবাক হই। আবার ভাবি বয়স যত বাড়ে, নারীর লজ্জা সংকোচ আর সৌন্দর্য ধীরে ধীরে ঝরে পড়তে থাকে। এতে অবাক্ হবার কিছু নেই। নাদিরা মানবী। দুই পুত্র আর এক কন্যার মা সে। সহ্যের একটা সীমা আছে তার। হয়তো সে আগের মতোই লজ্জাশীলা থাকতে পারত—কিন্তু দারার অবিবেচনা তাকে থাকতে দিচ্ছে না।

    নাদিরার দিকে চেয়ে অসহিষ্ণু স্বরে দারা বলে ওঠে, আঃ, তোমার ছেলেমানুষি গেল না। এ তো বেগম হতে যাচ্ছে না। এ যে ক্রীতদাসী।

    দুঃখের হাসি হেসে নাদিরা বলে,—অমন অনেক আগুন-রঙের ক্রীতদাসী হারেমে আগুন জ্বালিয়েছে শাহজাদা। তাছাড়া, তোমাকে যে আগের মতো বিশ্বাসও করতে পারি না।

    —তাই বলে নাজীর হিসেবেও ঠাঁই পাবে না হারেমে?

    —না।

    দারা মিনতি-ভরা দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে বলে,—বাদশাহ্-বেগম, হারেমের কর্ত্রী নাদিরা হল কবে থেকে?

    —এ ক্ষেত্রে নাদিরার ইচ্ছাই, আমার ইচ্ছা দারা।

    দারার মুখে হতাশা ফুটে ওঠে।

    —তোমার লজ্জা হয় না দারা? দেশের দিকে একবার তাকিয়ে দেখো কখনো? সুজার মতো শৌখীন মানুষও ধেয়ে আসছে দিল্লির দিকে। তোমার নিজের পুত্র গিয়েছে তাকে বাধা দিতে। আর তুমি? উপযুক্ত পুত্রের পিতা হয়ে কী করছ? ছি ছি! তুমি পণ্ডিত, তুমি চিন্তাশীল, তুমি দাতা—তোমার গুণের অন্ত নেই। অথচ কিছুদিন থেকে বড় বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছ। যদি দৃষ্টিকে সামান্য একটু বাইরের দিকে মেলে দিতে তাহলে ক্রীতদাসের বাজারে গিয়ে ভিনদেশি সুন্দরীদের হাত ধরে টানাটানি করতে না।

    —কিন্তু —

    —কোনও ‘কিন্তু’ নয়। আমার কথা তুমি অস্বীকার করতে পার? নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে দারা। নাদিরার দিকে ঘুরে দাঁড়াই আমি। ইচ্ছা করে যতটা পারি নাসিকা কুঞ্চিত করি। তারপর বলি,—নাদিরা, এই বিদেশিনীকেও হারেমে ঠাঁই দাও। দেখিয়ে দাও পুরুষেরা হীন আত্মকেন্দ্রিক হলেও নারী তা নয়। নারীর ভালবাসা দেহসর্বস্ব নয়। একদিন আসবেই যখন দারা নিজের ভুল বুঝতে পারবে। সেদিন পৃথিবীর সব নারীকে ছেড়ে তোমার এই পা-দুখানির সামনে লুটিয়ে পড়বে।

    পাষাণ-প্রতিমার মতো নাদিরা দাঁড়িয়ে থাকে।

    প্রশ্ন করি,–রাজি আছো নাদিরা?

    দীর্ঘশ্বাস ফেলে খুব আস্তে আস্তে সে বলে,—হ্যাঁ। আমারই ভুল হয়েছিল বাদশাহ্ বেগম। ভুলে গিয়েছিলাম দুর্ভাগ্যবশত আমি মুঘল-শাহজাদার বেগম হয়েছি।

    দারার মুখের সব রক্তটুকু অন্তর্হিত হয়। সে বোবার মতো চেয়ে থাকে তার সব চাইতে পুরাতন বেগমের দিকে।

    —দাঁড়িয়ে আছো কেন দারা? নিয়ে যাও তোমার নতুন বেগমকে

    —থাক্ জাহানারা। একে না হয় বাইরেই কোথাও রেখে আসি।

    —না। বাইরে রেখে এসে এই দুর্দিনে সব সময় সেখানে বসে ওর রূপসুধা পান করা চলবে না। যা কিছু করতে চাও হারেমে করো। কারণ তুমি হতভাগ্য বাদশাহের জ্যেষ্ঠপুত্র। স্নেহান্ধ বাদশাহ্ সময়ে-অসময়ে তোমার উপস্থিতি কামনা করেন।

    দারা তার ঠোঁট কামড়ে ধরে প্রশ্ন করে, –আমি কি সত্যিই এতটা নীচে নেমে গিয়েছি জাহানারা?

    —আমি সামান্য নারী দারা। যা বলি, হয়তো ভাবাবেগে বলি। আমার কথার মূল্য কতটুকু? সময়ে সব কিছুরই বিচার হবে। তবে তখন আমরা কেউ-ই থাকব না। কিন্তু এটুকু বলতে পারি, নাদিরার মতো বেগম পেয়ে যে পুরুষ অন্য নারীকে বেগমের মর্যাদা দেবার জন্যে ছট্‌ফট্ করে সে পণ্ডিত হলেও মূর্খ। সে উদার হলেও হীন। আমি বলছি না, যে পুরুষ হয়ে শাহজাদা হয়ে, তুমি আজীবন শুধু নাদিরার আশেপাশে ঘুরে ঘুরে মর। তবে একটু কৌশলী হলে নাদিরার সম্মান অটুট রেখেও তোমার উৎকট প্রবৃত্তির তুষ্টিসাধন করতে পারতে। রানাদিলের সময় একথা আমার মনে হয়নি। কারণ তার চোখে দেখেছি তোমার প্রতি এক গভীর প্রেমের জ্যোতি। কিন্তু একে দেখে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না। নাদিরাও হয়তো সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তাই এবারে কান্নায় ভেঙে না পড়ে রুখে দাঁড়িয়েছে। এই বিদেশিনী ঘর সাজাবার সামগ্রী। ভুলেও ভেবো না, এ কোনওদিন একান্তভাবে তোমার হবে। যেখানে শক্তি, যেখানে মধু, সেখানেই ছুটে যাবে এ। এর কাছে হৃদয়ের মূল্য কানাকড়িও নয়।

    —এইটুকু দেখেই এত কথা বলে দিতে পারলে?

    —আমিও নারী দারা। নারীকে চিনতে একটি মুহূর্তই যথেষ্ট। নিয়ে যাও হারেমে। যথেষ্ট সময় নষ্ট হয়েছে।

    —কী নাম দেব?

    —উদীপুরী বেগম।

    —এ তো কথা বলতে পারে না।

    —সে ব্যবস্থা আমি করছি। প্রেম-নিবেদনের ভাষাটা অন্তত যাতে তাড়াতাড়ি রপ্ত করতে পারে সেদিকে নজর রাখব।

    নাদিরা বিদ্রুপের হাসি হেসে ওঠে। দারার মুখখানা লাল হয়ে যায়। সে তাড়াতাড়ি উদীপুরী বেগমকে নিয়ে ভেতরে চলে যায়। নাদিরা সেদিকে ফাঁকা দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে।

    পুরুষেরা সত্যই অদ্ভুত! কিন্তু আমার রাজা? ছত্রশাল? সে অদ্ভুত নয়—অপূর্ব!

    আমার বয়স হয়েছে। নিশ্চয়ই হয়েছে। পিতার বার্ধক্য দেখে বুঝতে পারি আমার বয়স হয়েছে। দাদার মুখের আবছা রেখা দেখে বুঝতে পারি আমার বয়স হয়েছে। আর বুঝতে পারি, সাম্প্রতিক ঘটনার জন্যে। দারার পুত্র সুলেমানশুকো এক বিরাট সৈন্যদলের নায়ক। সেদিনের ছেলে সুলেমান। যাকে দুধ খাওয়াতে না পারলে নাদিরার স্তনজোড়া টনটন করত। ভাবতে আনন্দ হয়। আবার সংকোচে স্বীকার করছি, ভয় হয়। রাজার সঙ্গে কতটুকু মিশেছি আমি? এর মধ্যেই সে যদি আমাকে পেয়ে মহতাব-বাগের সন্ধ্যার মতো উন্মত্ত হয়ে ওঠে, তবে কীসের আনন্দ? সে আমাকে ভালবাসে, চিরকাল বাসবে। কিন্তু সে যদি আমাকে পেয়ে পাগল না হয়, তবে যে লজ্জায় মরে যাব। সুলেমান আজ সেনাপতি, সে আজ প্রায় যুবক। আমি আর নিজেকে কীভাবে যুবতী বলে ভাবি।

    আরশির সামনে দাঁড়ালে বুঝতে পারি, যৌবন যেন স্থায়ীভাবে বাসা বেঁধেছে আমার দেহে। কিন্তু তবু কি একটু স্থূলাঙ্গী মনে হয় না নিজেকে? কোমর কি আগের মতোই সরু। জানি না। জানার জন্যে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে ভয় হয়। রোশনারা বলতে পারত। কিন্তু তাকে এ-ব্যাপারে প্রশ্ন করা যায় না। আমি যে বাদশাহ্-বেগম। আমার সম্মান আকাশ-ছোঁয়া। তাই মনে মনে জ্বলে পুড়ে মরি।

    শুধু নাজীরকে ডেকে নির্দেশ দিই রুটি আমি একখানার বেশি খাব না। গোস্ত খাব নামমাত্র আমার খাবার প্রধানত মেওয়াখানা থেকে আসবে। শরীরের ওজন কমাতেই হবে। রোশনারা ঈষৎ স্থূল হয়েছে। সে শরীরের দিকে বিশেষ নজর দিতে পারছে না। তার নজর এখন দক্ষিণ ভারতের দিকে। আওরঙজেব যদি আমার ভাই না হত তবে রোশনারাকে দূর করে দিতাম।

    রোশনারার পরামর্শে আমিন খাঁ রটিয়েছে শাহানশাহ্ শাহজাহান মৃত। রাজধানীর অনেকেই কথাটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। তাদের ধারণা দারাশুকো বাদশাহের মৃত্যু সংবাদ গোপন রেখেছে। কারণ, প্রকাশ পেলে তক্ত-তাউস নিয়ে রক্তারক্তি হবে। সবার বুক কাঁপে। একটা সাংঘাতিক কিছু আসন্ন।

    ঠিক সেই সময়ে এক সন্ধ্যাবেলায় বাদশাহ্ ডেকে বলেন,–আয় তো জাহানারা তুলে ধরত আমাকে।

    তাড়াতাড়ি কাছে গিয়ে বলি,—তুমি পারবে না বাবা।

    —পারব না? আমি পারব না? ভুলে যাসনে আমি শাহানশাহ্ শাহজাহান। আমি ইচ্ছে করলে সব পারি। আয়।

    পিতার ধমকে ভীত হই। তাঁর কণ্ঠস্বরে এ দৃঢ়তা বহু বছর শুনিনি। ভুলেই গিয়েছিলাম। স্মৃতিতে ভেসে ওঠে আমার ছেলেবেলার কথা। তখন বাদশাহের প্রতিটি কথাতেই ছিল ঠিক এইরকম জোর। মুখে ছিল তাঁর সংকল্পের দৃঢ়তা। আজও দেখলাম সেই দৃঢ়তার ছাপ

    হাকিম বলেছে, চুপচাপ শুয়ে থাকতে। নড়লে ক্ষতি হতে পারে। অথচ আমি তাঁর গায়ে হাত দিতেই তিনি আমার কাঁধের ওপর বাঁ-হাতখানা ফেলে দিয়ে বলেন,—পারবি তো?

    —চেষ্টা করি।

    —হ্যাঁ। তাই কর। ছেলেদের হাতের পুতুল হতে পারব না। শাহানশাহ্ শাহজাহান ছেলেদের হাতের পুতুল! হাঃ হাঃ হাঃ।

    চমকে উঠি।

    —ওকি, কেঁপে উঠলি কেন? আমি পাগল হইনি। ঠিক উঠব আজ। দেশের সবার সামনে গিয়ে দাঁড়াব। তারা দেখবে, আমি মরিনি। বেঁচে আছি। তাদের মতোই বেঁচে আছি।

    এরপরে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। আমার ওপর সামান্য ভর দিয়ে সত্যিই তিনি উঠে দাঁড়ালেন। আমি কথা বলতে পারি না। আনন্দে বিস্ময়ে আমি মূক! বাদশাহ্ও নবজীবন পেয়ে খুশিতে বিহ্বল।

    ঠিক সেই সময় দ্বারা প্রবেশ করে ঝড়ের বেগে। কিন্তু বাদশাহের দিকে নজর পড়তেই সে থেমে যায়। পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকে।

    বাদশাহের মুখে মৃদু হাসি। তিনি একবার আমার দিকে, একবার দারার দিকে চেয়ে—শেষে আমাকে ছেড়ে দিয়ে ধীরে ধীরে দারার দিকে এগিয়ে যান।

    দারা ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ওঠে। সেই মুহূর্তে যদি ভারতের সবাই উপস্থিত থেকে দৃশ্যটি দেখত, তাহলে বিশ্বাস করত যে দারাই একমাত্র পুত্র যে ময়ূরাসনের চেয়ে বাদশাহ্ শাহজাহানকে বেশি ভালবাসে। শত দুর্বলতা আর অক্ষমতা সত্ত্বেও কেন যে বাদশাহের স্নেহের প্রধান ধারা তার উপর বর্ষিত হয় এই মুহূর্তে আমি পরিপূর্ণভাবে হৃদয়ঙ্গম করলাম। আমার চোখে জল আসে। কতক্ষণ পার হয় জানি না। দারা একসময়ে বাদশাহকে ধরে এনে শয্যার ওপর বসিয়ে দেয়। তাঁর পায়ের কাছে সে নতজানু হয়ে বলে,—আওরঙজেব এগিয়ে আসছে।

    আসুক। আমি যখন সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছি তখন হাজার আওরঙজেব এলেও ধুলোর মতো উড়ে যাবে।

    —আপনি কি পারবেন? দারা প্রশ্ন করে।

    —এখনো অবিশ্বাস?

    —না। কিন্তু কঠিন পরিশ্রমে যদি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন? তার চেয়ে আপনি চলে-ফিরে বেড়ান, এই যথেষ্ট। লোকে তো জানল আপনি সুস্থ আছেন

    —না। আমার কথার নড়চড় হবে না। পরশু রওনা হব আগ্রার পথে।

    দারা আর আমি পরস্পরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকি। কিন্তু কোনও প্রতিবাদ করতে পারি না। সে সাহস আমাদের হয় না।

    .

    আকুল প্রতীক্ষায় থেকে শেষে হতাশ হলাম। আমার চিঠির উত্তর পেলাম না রাজার কাছ থেকে। আমার প্রিয় কপোতটিও আর ফিরে এল না। দুর্ভাবনা হল। হয়তো পথের মধ্যে কপোতটির মৃত্যু হয়েছে। হয়তো ঝড়ের মধ্যে পড়ে নিজেকে বাঁচাতে পারেনি। কিংবা কঠিন দায়িত্বের বোঝা নিয়ে যাবার সময় তৃষ্ণা পেলেও জল খায়নি। বুকের ছাতি ফেটে মরেছে। চিঠিখানা বেহাত হলে কোনও ভয় নেই। নীচে নাম লিখিনি। ওপরে সম্বোধন করিনি কাউকে। রাজা আমার হাতের লেখা চেনে। সে আমার কপোতটিকেও চেনে।

    আশঙ্কা হয়, রাজার কোনও অমঙ্গল হয়নি তো? নজরৎ খাঁ যেভাবে সেদিন বিদায় নিল, তারপরে সবকিছু হওয়াই সম্ভব। রাজা দুর্বল না। নিজেকে রক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত শক্তি তার রয়েছে। তবু হীন ষড়যন্ত্রের কাছে তার মতো বিরাট হৃদয়ের পুরুষ প্রায়ই পরাস্ত হয়। ইতিহাসের পাতায় এমন নজিরের অভাব নেই।

    অস্থির হয়ে ওঠে মন। ভেতরটা কেমন আনচান করে।

    সেই অবস্থাতেই দিল্লি ত্যাগ করি। যাবার আগে হায়াত্বক্স-বাগ আর মহতাব-বাগের দিকে সজল নয়নে চাই। আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এখানে। অথচ যখন প্রথম এসেছিলাম, তখন কোনও স্মৃতিই ছিল না এদের বুকে।

    জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে কী লেখা আছে জানি না। জানতে চাই না। শুধু একটি প্রার্থনা আমার আল্লার কাছে—রাজা যেন সুস্থ থাকে। সে যেন দীর্ঘজীবী হয়। আর একটিবার যেন অন্তত সে আমার জীবনে উদিত হয়ে আমার দেহমনের সব শৃঙ্খলা ভেঙে দিয়ে যায়। আর কিছুই চাই না।

    পথিমধ্যে খলিলুল্লা খাঁ আর শায়েস্তা খাঁ বার বার বাদশাহের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে। তারা চিন্তাক্লিষ্ট—তারা উদ্বেগাকুল।

    তাদের এই উদ্বেগের কারণ আমি আন্দাজ করতে পারি কিন্তু বাদশাহকে বলতে পারি না। তিনি হয়তো আমার কথা বিশ্বাস করবেন না। তাই উভয় খাঁ-সাহেবকে বাদশাহের কাছ থেকে দূরে রাখার যে সহজ উপায় তাই আমি বেছে নিলাম। বাদশাহের পাশে তাঁর শকটের মধ্যে গিয়ে বসলাম। ছট্‌ফট্ করে মরুক ওরা।

    কিন্তু আমার সব সাবধানতা বিফলে গেল। ওরা অন্য পথ নিল। বাদশাহের কাছে ভিড়তে না পেরে দারাকে গিয়ে ধরল। তাকে বোঝাল বীরত্ব প্রকাশের এবং প্রজাদের শ্রদ্ধা আকর্ষণের এমন সুযোগ সে আর পাবে না। বাদশাহকে আওরঙজেবের বিরুদ্ধে অভিযানে না পাঠিয়ে তার নিজেরই যাওয়া উচিত। দারা তাই বুঝল। খলিলুল্লা খাঁ আর শায়েস্তা খাঁয়ের মতো চির পরিচিত গুণী লোকদেরও যে অনেক সময়ে অবিশ্বাস করতে হয় একথা তাকে বোঝাতে পারলাম না। অনেক চেষ্টা করেও পারলাম না আমি।

    তাই এক সন্ধ্যায় বাদশাহের শিবিরে এল সে। আমি জানতাম সে আসবে—তাই আগে থেকেই উপস্থিত ছিলাম।

    আমাকে দেখে দারা একটু অসন্তুষ্ট হল। হোক। নিজের যতটুকু সামর্থ্য আছে আমি কাজে লাগাব। কিন্তু দারাও দেখলাম বেশ চতুর হয়ে উঠেছে। হাসিমুখে সে এমন কথার উত্থাপন করল যে আমি থ হয়ে গেলাম।

    সে বলল,—জাহানারার একটা ব্যবস্থা করতে হয় এবারে।

    বাদশাহ্ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকান।

    দারা বলে,—সারা জীবন একে মুঘল-হারেমে বাদশাহ-বেগম করে রেখে লাভ নেই। এতে সম্মান আছে প্রচুর, কিন্তু শান্তি নেই।

    —কী করে বুঝলে? বাদশাহ্ প্রশ্ন করেন।

    —খুবই স্বাভাবিক। কেউ এভাবে ছন্নছাড়া জীবন কাটাতে পারে না। এ যেন বালির ওপর প্রাসাদ গড়া। জাহানারার একটা স্থিতি হওয়া প্রয়োজন।

    —কী রকম?

    —সারা পৃথিবীতে একটি মানুষকে পেলে ও সব কিছু ফেলে হিন্দুদের মতো হিমালয়ে গিয়েও থাকতে পারে।

    —তাই নাকি? কে সে ভাগ্যবানটি? বাদশাহের কণ্ঠস্বরে রসিকতা। যদিও আমার বুক কাঁপে।

    —বুন্দীরাজ ছত্রশাল।

    বাদশাহের শয্যার একপাশে আমি বসে পড়ি। দারা আমাকে নিশ্চেষ্ট করার শ্রেষ্ঠ অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

    বাদশাহ্ কিছুক্ষণ গম্ভীর হয়ে থাকেন। আমি তাঁর দিকে চাইতে পারি না। দারার কথাকে তিনি কীভাবে নিলেন আমি জানি না। শেষে তিনি বলেন,—জাহানারার নির্বাচনের তারিফ করতে হয়। একথা আমি কখনো ভাবিনি।

    —আপনার মত আছে?

    —আছে। হিন্দু বলে প্রশ্ন করছ তো? হোক হিন্দু। হিন্দুদের সঙ্গে মুঘলবংশের সম্বন্ধ এই প্রথম নয়। অনেক দিয়েছে জাহানারা। যদি সত্যই সে ছত্রশালকে পেতে চায়, আমি সব ব্যবস্থা করে দেব।

    আমি কেঁদে ফেলি।

    আমার কান্নার দিকে চেয়ে বাদশাহ্ বলেন—এতদিন বলিসনি কেন জাহানারা? এতে সঙ্কোচের কী আছে!

    কোনও কথা বলতে পারি না। চোখের সামনে ভেসে ওঠে রাজার সুন্দর মুখ আর সুঠাম দেহ। আমি যেন আর সহ্য করতে পারি না। এতখানি নির্লিপ্ত হবার পর একটু একা থাকতে চাই—একা ভাবতে চাই। দারা বাদশাহের কাছে কোন্ কথা উত্থাপন করবে জেনেও আমি তাঁর শিবির ছেড়ে নিজের শিবিরে চলে আসি। আমি নারী।

    একান্তে বসে বসে দারার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার মন ভরে ওঠে। যদিও তাকে অশ্রদ্ধা করার মতো কোনো কারণই নেই। সে বিরাট পণ্ডিত—সারা হিন্দুস্থানে তার মতো সব ধর্মের প্রতি দখল বোধ হয় কারও নেই। সে হিন্দুধর্মের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ উপনিষদের অনুবাদ করে ‘রাফিজী’—বিধর্মী আখ্যা মাথা পেতে নিয়েছে। যার ফলে এত ভাল হয়েও সে অধিকাংশ আমির-ওমরাহের চক্ষুশূল। তার সঙ্কলিত ‘সর-ই আসবার’ এক অপূর্ব গ্রন্থ। এমনকী সে খ্রিস্টধর্ম নিয়েও গভীর পড়াশুনা করেছে। আজকাল তাকে যেন সেই দিকেই বেশি ঝুঁকতে দেখি। শুধু পণ্ডিত নয়—সে শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। কোথায় লাগে মুরাদ। কোথায় লাগে আওরঙজেব আর সুজা। যদি বীরত্বের পরীক্ষা হয়—যদি সম্মুখ যুদ্ধ হয়, তবে দারার বীরত্ব সবাইকে ছাপিয়ে যাবে।

    কিন্তু দারা সরল। তার মনে ময়লা নেই, নীচতা নেই, দীনতা নেই। স্বভাবতই সে সবাইকে বিশ্বাস করে। শুধু এই একটি কারণে আমি তাকে সবার চেয়ে দুর্বল বলে ভাবি। এই কারণেই আমার এত ভয় হয়। তাই আমি ওকে সুযোগ পেলেই তিরস্কার করি। নইলে সে তিরস্কারের ঊর্ধ্বে। নাদিরা অবধি একথা জানে। রানাদিকে তাই সে বুকে টেনে নিয়েছে। উদীপুরী বেগমের মতো মেকি-হৃদয়ের সুন্দরীকেও সে দারার সম্মুখে কখনো অবহেলা করে না।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকুয়াশার ফুল – সায়ক আমান
    Next Article রাজকাহিনী – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Related Articles

    শ্রীপারাবত

    বিজয়নগর – শ্রীপারাবত

    August 11, 2026
    শ্রীপারাবত

    আমি সিরাজের বেগম – শ্রীপারাবত

    August 4, 2026
    শ্রীপারাবত

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026
    শ্রীপারাবত

    রাজপুত নন্দিনী – শ্রীপারাবত

    July 27, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Our Picks

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }