Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. সন্ধের আগে আগেই

    ১০

    সন্ধের আগে আগেই পৃথু, ঠুঠা আর শামীম এসে পৌঁছেছিল দিগা পাঁড়ের কুঁড়েতে। শামীমের বি এস এ মোটর সাইকেলে তিনজন আগে পিছনে বসে লাফাতে লাফাতে আপাদমস্তক ধুলোর আবির মেখে।

    এই দিকটা গিরিশদার বাড়ি, পিরপিরি নালা, এবং পুন্নার জঙ্গলের একেবারেই উল্টোদিকে। ঘন গভীর জঙ্গল এদিকে। হাটচান্দ্রা থেকে দূরত্বও প্রায় তিরিশ মাইলের মতো। হাঁলো নদী বয়ে গেছে দিগার কুঁড়ের পাশ দিয়ে। এই জঙ্গলই গড়িয়ে গিয়ে মিশে গেছে সুফকর, বাঘমার, ঘাঙ্গার এবং গোন্দলার দিকে। অন্যদিকে চলে গেছে কানহা-কিসলি-ইন্দ্রা। মোতিনালা চিলপির দিকে বেরিয়ে গেছে অন্য আরও একটি হাত। অন্যতর দিকে অন্যতর হাত ছড়িয়ে গেছে বাইহার, বালাঘাট, সীওনী ইত্যাদি জায়গা হয়ে। সেই সীওনীর কাছে নতুন ন্যাশনাল পার্ক গড়ে উঠছে একটি। নাম পেঞ্চ। মধ্যপ্রদেশের এই অঞ্চলে শুধু জঙ্গলই জঙ্গল; পাহাড়ই পাহাড়। দশ পনেরো মাইল বাদে বাদে ছোট কোনও বস্তি, অথবা সামান্য জনপদ। এখনও শান্তি আছে; নির্জনতা আছে এখানে।

    এই সীওনিতেই রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর ‘মোওগুলি’র বাস ছিল বলে অনেকেরই ধারণা। কুমায়ুঁকে যেমন করবেট-কানট্রি বলে সকলেই জানেন, সীওনী এবং তার চারপাশের অঞ্চলকেও তেমনই, সকলে বলে “কিপলিং কানট্রি।”

    শামীম মিঞা রহস্যময় লোক। হাটচান্দ্রার ছোট্ট মসজিদটার পাশে যে ধুলিধূসরিত এবড়ো-খেবড়ো পথটি আছে, যে-পথের দু-পাশে লাল কাপড় মোড়া, বড় বড় হান্ডার উপরে সাজানো কাবাব, চাপাটি, বাখ্‌খরখানি আর রোমালি রোটি, বিরিয়ানী আর বড়া গোস্ত-এর দিল-খুশ গন্ধে যে-গলির বাতাস দিনে রাতে ম’ ম’ করে সেই রাস্তারই মোড়ে শামীমের ঘড়ি, চশমা, আর লাইটার সারাই-এর দোকান। সেটাকে দোকান না বলে, গর্ত বললেই ভাল হয়। দোকানের সাইজ চার ফিট বাই তিন ফিট। তারই মধ্যে শামীম হাঁটু মুড়ে কোনওরকমে অষ্টাবক্র মুনির মতো বসে থাকে। দোকানে নতুন ঘড়ি, চশমা, লাইটার বলতে একটিও থাকে না। সামান্য কয়েকটি চশমার ফ্রেম এবং ঘড়ির ব্যান্ড। লাল-নীল-সোনালি-রুপোলি। উত্তর ভারতীয় মুসলমানী রুচির। সারাই-এর জন্যে কয়েকটি হাতঘড়ি, টেবল-ঘড়ি। ব্যাস। দেওয়ালে বম্বে সিনেমার রেখার আধ-বন্ধ আধ-খোলা চোখের গা-গরম করা অ্যাফ্রোডিসিয়াক্‌ ক্যালেন্ডার।

    শামীম-এর পকেট সবসময়ই প্রায় শূন্য। ব্যতিক্রমহীন ভাবেই শুন্য। কিন্তু হৃদয়, প্রেম এবং রসজ্ঞানে টইটম্বুর। তার বয়স তিরিশ। বিবির সংখ্যা দুই। এবং দু’পক্ষ নিয়ে ছেলেমেয়েদের সংখ্যা দশ। মিঞার সংসার ঠিক কী উপায়ে চলে, এ রহস্যের কিনারা পৃথু তার স্থূল বুদ্ধিতে কখনও করে উঠতে পারেনি।

    শামীম সব সময়ই হাসিখুশি, অফুরন্ত উৎসাহ তার। কথায় কথায় শের-শায়ের আওড়ায়, এবং শশীকাপুরের ঢঙ নকল করে হাঁটে। কথাও সেরকমই বলে। নিন্দুকেরা অনেকে আড়ালে মন্তব্য করে শামীমের দু বউয়েও শানায়নি, তাই একজন উপরি প্রেমিকাও আছে। তাই-ই ও সবসময় এমন চলকে চলকে চলে।

    পৃথুর অবশ্য সন্দেহ আছে এ কথার সত্যতা সম্বন্ধে। শামীম এমনই জন্মপ্রেমিক যে, গা-ঝলসানো, চোখ-জ্বালানো লু, অথবা আঙুল-বাঁকানো শীতরাত্রির বরফ-ঝরা আকাশ কিংবা পাগলের কথা অথবা ছাগলের খাদ্যদ্রব্য থেকেও ও ওর রোম্যান্টিসিজম নিংড়ে নিতে জানে। পৃথুর নিজের ধারণা যে, কোনও মানবীর খেয়ালখুশির উপর শামীমের প্রেমিক সত্তা আদৌ নির্ভরশীল নয়। পৃথিবীর তাবৎ শুষ্কতা এবং রুক্ষতা থেকেও ক্যাক্টাস-এর মতোই রস শুষে নেয় মানুষটা।

    আজ রাতে শামীমের ঠুঠা বাইগার সঙ্গে দিগা পাঁড়ের নদীপারের সান্নাটা কুটিরে আসার উদ্দেশ্য একটাই। চুরি করে চিতল হরিণ মারবে ঠুঠা ও শামীম। বহুদিন কাবাব খায়নি বলে তো বটেই, তাছাড়া মহম্মদ সাবীর-এর তেরো নম্বর ছেলের ছুন্নৎ কাল। শিকারির বাড়ির দাওয়াত-এ শিকার-করা বুনো জন্তুর একটিও পদ না থাকলে শিকারি এবং তার ইয়ার-দোস্ত সকলেরই দারুণ অসম্মানের কারণ ঘটে। পৃথু এখন শিকার-টিকারের মধ্যে একেবারেই নেই। তবে একসময় ও অনেকই শিকার করেছে। পারমিট নিয়ে, পারমিট না নিয়েও; এই সব অরণ্য পর্বতে বাবার সঙ্গে, বাবার বন্ধুবান্ধব এবং নিজের বন্ধুদের সঙ্গে। কিন্তু আজ প্রায় পনেরো বছর শিকারের সঙ্গে নফরৎ। ঠিক কেন যে, তা বুঝিয়ে বলতে পারবে না। বাইরের বিধিনিষেধ তো আছেই, তাছাড়া মন থেকেই সাড়া পায় না আজকাল। অল্প বয়সে বোধ হয় একটা বাহাদুরী-প্রবণতা ছিল। তাছাড়া ওর বাবার নিজের প্রচণ্ড উদ্বেল উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়ে যখন ওর দশ বছর বয়স তখন থেকেই জঙ্গলে জঙ্গলে বন্দুক হাতে ঘুরেছিল ও। এ অঞ্চলের এমন জঙ্গল নেই যেখানে পৃথু যায়নি বা এমন জাতের জানোয়ারও নেই যে, পৃথু শিকার করেনি এক সময়। কিন্তু সে সব পিছনে ফেলে-আসা দিনেরই কথা।

    শিকার বন্ধ হয়ে গেছে, তবে শিকারি বন্ধুবান্ধবদের এবং জঙ্গলের সঙ্গে প্রগাঢ় সখ্যতার শিকড় এখনও গভীরে প্রোথিত রয়ে গেছে। হয়তো থাকবেও বাকি জীবন। জঙ্গল-পাহাড়, নদী, বাসী-মাঠ, শিকারি বন্ধুরা শুধু একতরফা দিয়েই গেছে তাকে; বিনিময়ে চায়নি কিছুই।

    হৃদয়ের মামলাতে দেনা-পাওনা থাকার কথা নয়, তবুও থাকে। কিন্তু শিকারের ইয়ার-দোস্তদের প্রেমের সঙ্গে কোনও নারীর প্রেম কখনই তুলনীয় নয়। শিকারি মাত্র জানেন একথা।

    আজকে পৃথুকে প্রায় জোর করেই ধরে নিয়ে এসেছে ওরা। ওর ভুমিকাটা, অনেকটা পুরনো দিনের যাত্রাদলের বিবেকেরই মতো!

    এ এক অদ্ভূত জগৎ। এই শিকার ও শিকারিদের জগৎ। তুফান-তোলা। সবচেয়ে বড় জুয়ার নেশার চেয়েও অনেক বেশি তীব্র এ নেশা। পুরুষালি নেশা। খোলা আকাশের নীচে, পরের জীবন এবং নিজের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নেশা। এ নেশার ঝাঁঝের মধ্যে, গ্যাঁজাল ফ্যানার মধ্যে, একদিন অঙ্গাঙ্গীভাবে মিশে ছিল বলেই পৃথু জানে যে, যারা শিকারকে ছোট চোখে দেখেন তাঁরা অন্যায় করেন। তাঁরাও নিশ্চয়ই অন্যায় করেন, যাঁরা শিকারকে মহান কোনও ব্যাপার বলে প্রচার করেন। সবকিছুরই মতো এই প্রাণবন্ত প্রাণনিধনের বনময় খেলারও বোধহয় ভাল এবং মন্দ দিক দুই-ই আছে।

    ছেলেবেলাতে পৃথুর কিপলিং-এর ‘জাংগল-বুক’-এর অনেক গল্পই মুখস্থ ছিল। তার মধ্যে “কা-আজ হানটিং”, “রিক্কি-টিকি-টাভি” ইত্যাদি এখনও পরিষ্কার মনে আছে। ‘লেটিং ইন দ্যা জাংগল’ চ্যাপটারটাও চমৎকার লাগত ওর।

    বাবার সঙ্গেই প্রথমবার সীওনীতে এসেছিল পৃথু। তখন ও ছোট্ট ছেলে। বাবা যখন বলেছিলেন, এই সীওনীই রুডইয়ার্ড-কিপলিং-এর “জাংগল-বুক”-এর মোওগলির সীওনী তখন পৃথুর উত্তেজনার শেষ ছিল না।

    টাইগার! টাইগার!

    এখনও ও মুখস্থ বলে। টুসুকেও শিখিয়েছিল পৃথু,

    “হোয়াট অফ দ্যা হান্টিং, হান্টার বোন্ড?/ব্রাদার, দ্যা

    ওয়াচ্‌ ওজ লঙ এন্ড কোল্ড।/হোয়াট অফ্‌ দ্যা কোয়ারী

    ঈ ওয়েন্ট টু কিল?/ ব্রাদার, হি ক্রপস ইন দ্যা জাঙ্গল

    স্টিল।/ হোয়্যার ইজ দ্যা পাওয়ার দ্যাট মেড ইওর প্রাইড?/

    ব্রাদার, ইট এব্‌ব্‌স ফ্রম মাই ফ্ল্যাঙ্ক এন্ড সাইড।/

    হোয়্যার ইজ্‌ দ্যা হেস্ট দ্যাট ঈ হারী বাই?/ ব্রাদার,

    আই গো টু মাই লেয়ের টু ডাই।”

    আহা!

    “লেটিং ইন দ্যা জাংগল”-এর সেই গানটিও ভোলবার নয় কোনওদিনও। পরিণত বয়সে পৌঁছেও যখনই জঙ্গলে রাত কাটিয়েছে ও, যখনই পূবের আকাশে অন্ধকার ফিকে হয়ে এসেছে, ঊষার ঠিক আগের রাত যাই-যাই মুহূর্তে, লালিমার জরায়ুর মধ্যে থেকে যখনই লাল রঙের তারল্য অতি আস্তে আস্তে আভাসিত হতে থেকেছে; তখনই পৃথুর মনে পড়েছে :

    “হো! গেট টু লেয়ের! দ্যা সানস্ অ্যাফ্লেয়ার বিহাইন্ড দ্যা ব্রিদিং গ্রাস/এন্ড ক্রিকিং থ্রু দ্যা ইয়াং ব্যাম্বু দ্যা ওয়ার্নিং হুইসপার্স পাস।/ বাই ডে মেড স্ট্রেঞ্জ দ্যা উডস্ উই রেঞ্জ উইথ ব্লিঙ্কিং আইজ উই স্ক্যান/হোয়াইল ডাউন দ্যা স্কাইজ, দ্যা ওয়াইল্ড ডাক ক্রাইজঃ দ্যা ডে—দ্যা ডে, টু ম্যান।”

    মধ্য প্রদেশের এই সব অঞ্চলে ‘পান্‌কা’ বলে একরকম আদিবাসীরা আছে। এদের সামাজিক রীতিনীতি দেখলে শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। এরা সবাই-ই কিন্তু কবীর-পন্থী। কবীর দাস-এর মতোও পথের অনুসরণকারী। কিপলিং-এর ‘জাংগল-বুক’-এ “আ সং অফ কবীর”, বলেও একটি গান আছে। কিপলিং যে এ অঞ্চল নিয়েই লিখেছেন তাঁর ‘জাংগল-বুক’, সে বিষয়ে বোধহয় কারওই সন্দেহ থাকার কথা নয়। ‘জাংগল-বুক’-এ আরও একটি গান আছে। তার নাম হচ্ছে “হান্টিং সং অফ্‌ দ্যা সীওনী প্যাক।” সীওনী নামটা গেঁথে রয়েছে কিপলিং-এর লেখাতে।

    কিপলিং-এর কথা হলেই আনন্দ হয় এই ভেবে যে, তাঁর যখন বয়স মাত্র বেয়াল্লিশ তখনই সাহিত্যের নোবেল প্রাইজ তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। আরেকজন ভারতীয় অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ছিলে জিম করবেট। সেই প্রচার-বিমুখ, নম্র-স্বভাব, নীরব, প্রায় কবি শঙ্খ ঘোষের মতোই লাজুক, অন্তর্মুখী মানুষটিও বড় সাধারণ লেখক ছিলেন না। তাঁর শিকার-কাহিনীগুলির কথা না হয় ছেড়েই দেওয়া গেল, শুধু “জাঙ্গল-লোর” বা “মাই ইন্ডিয়া”র মতো বইয়ের জন্যেও তাঁর নোবেল প্রাইজ পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু উচিত কর্ম এ পৃথিবীতে ক’টাই বা হয়? সম্মান যোগ্যজনে বর্ষিত হলেই আজকাল অবাক লাগে পৃথুর।

    শামীম চায়ের বন্দোবস্ত করতে গেল ভেতরে। চায়ের প্যাকেট আর ঝাল লেড়ে বিস্কুট নিয়ে এসেছে সঙ্গে করে। বেলা পড়ে আসছে তাই বাইরে আগুন জ্বালানোর বন্দোবস্ত করেছিল ঠুঠা। শীতও পড়ে গেছে। আগুনের পাকা-পোক্ত একটা জায়গা ছিলই দিগার কুঁড়ের সামনেটাতে। মস্ত বড় একটা হলুদ গাছের ঝরে-পড়া গুঁড়ি সেখানে টেনে নিয়ে এসে ফেলে রেখেছিল। পাতা, খড়কুটো, ভাঙা শুকনো ডালপালা জড়ো করে এনে আগুন করল ঠুঠা। শামীম ততক্ষণে কুঁড়ে থেকে দিগার লোটাটা নিয়ে এসে আগুনের পাশে দু’টুকরো গোলগাল পাথর বসিয়ে চড়িয়ে দিল। পাগলের মতো পুরুষ চিতল হরিণ ডাকতে লাগল হঠাৎ হাঁলোর ওপারের শেষ সূর্যের সিঁদুর-লাগা গভীর জঙ্গলে। দেখতে দেখতে আগুনের ফুটফাট শব্দের সঙ্গে জল ফোটার শোঁ-শোঁ আওয়াজ গলা মেলাল। চা হয়ে গেলে, একটি ফাটা এবং দুটি ভাল, লালচে রঙা মোটা কাচের গেলাসে চা খেল ওরা।

    চা-টা খায় না দিগা। ওদের খাওয়াও শেষ হল আর পশ্চিমের আকাশ লাল করে অসংখ্য পাখির ব্যস্ত-সমস্ত ডাকাডাকির মধ্যে সূর্য অস্ত গেল।

    সুর্যাস্তর অব্যবহিত আগেই বন-পাহাড়ে এক প্রচণ্ড নড়াচড়া, ব্যস্ততা এবং শোরগোল লক্ষিত হয়। বিশেষ করে, পাখিদের মধ্যে। যতক্ষণ পর্যন্ত আলোর রেশ থাকে। তারপরই, যেমন ঝুপ করে গাঁ-গঞ্জের যাত্রা-মঞ্চের কালো পর্দা নামে, তেমনই ঝুপ করে নামে এক গর্ভবতী স্তব্ধতা। অনেক কিছু হতে পারার, ঘটনাতে পারার সম্ভাবনাময় গাভীন সেই রাত নিঃশব্দে উসখুস করে, পাশ ফিরে শোয়; কথা না বলেই কথা হয় নিজের সঙ্গে।

    শামীম ঘরে গিরে ওর ম্যানটন কোম্পানির আটাশ ইঞ্চি ব্যারেলের দোনলা বন্দুকটাতে একবার ক্লিনিং রড চালিয়ে, নিজের হিনা-ঈত্বর লাগানো খুশবু-ভরা রুমাল দিয়ে বন্দুকের মুখ ও গা থেকে ধুলোটুলোও ঝেড়ে এল। বড় পেয়ারের বন্দুক শামীমের। শামীমের এই বাড়াবাড়ি বন্দুক-ভালবাসা নিয়ে মাঝে-মাঝেই মজা করে সাবীর মিঞা। ওকে শুনিয়েই বলে : বিবি দো। বাল-বাচ্চা দশ/এক আসিক/মাশুক, মগর…

    শামীম তবু হিরোর মতোই হাসে। সমস্ত সময়ই শামীম এমন হিরো-হিরো ভাব করে যে, মাঝে মাঝেই পৃথুর সন্দেহ হয়, এই অ্যামেচার বে-মঞ্চর অভিনয়ই বুঝি শামীমের জীবন।

    তারিয়ে তারিয়ে চা-টা খেয়ে নিয়ে, একটা সিগারেট ধরিয়ে শামীম ঠুঠাকে বলল, ক্যা গুরু? অব ক্যা কিয়া যায়? আভভি চলো গে? না, জারা বাদমে? পালসা খেলেঙ্গে আজ। বহত রোজ বাদ।

    ঠুঠা একটা শুকনো ডাল হলুদ গাছের রিকি-ঝিকি আগুনে গুঁজে দিয়ে ধরিয়ে নিল। তারপর ঠোঁটের ফাঁকে চুঠঠাটা গুঁজে দিয়ে মনোযোগ সহকারে চুঠঠায় আগুন ধরাল। সেই কমলরঙা আগনে ওর বাঁ গালের বাঘ-নখের আঁচড়ের গভীর দাগটিকে আরও কুৎসিত করে তুলল। সুফফর-এর কাছের হাঁকোয়া শিকারের স্মৃতি, এই দাগ। চুঠঠাটা ধরিয়ে ডালটাকে আগুনে ফিরিয়ে দিয়ে মাথা তুলে বলল; তুম যেইসা বোলোগে হিরো-মিঞা।

    তারপর বলল, দ্যাখ সঙ্গে মৌলভীটাকে নিয়ে এলেই হত। মৌলভী গিয়াসুদ্দিন। এতক্ষণে শেয়ালের মতো চুপটি করে গিয়ে কমসে কম চার-চারটে বড়কা-মোরগা মেরে আনত। রাতে কী দারুন জমত তাহলে খাওয়াটা!

    শামীম ঘেন্নায় থুথু ফেলল। জিভটা টাগরাতে ঠেকিয়ে একটা শব্দ করল। ছুঁচোজাতীয়। বলল, মৌলভী গিয়াসুদ্দিন বড় দাম্ভিক। তার দম্ভ কেতাবি রংবাজির, পয়সার আর তার মোরগা-মারার কেরামতির। ও একটা বেজন্মা। মুসলমানদের কুলাঙ্গার।

    পৃথু ভাবছিল, মোরগা-মারার ক্ষমতাটা ওর কিন্তু সত্যিই তাজ্জব করার মতো। সে বিষয়ে সন্দেহ নেই কারও। চেক-চেক লুঙ্গি পরে, ঝুমকো-জবার মতো লেজওয়ালা মেরুন-রঙা ফেজ মাথায় দিয়ে, ঘাড়ে-গর্দানে নাটা-গাঁট্টা মৌলভী যখন পা-পুড়ে থেবড়ে বসে, হেলেদুলে মুরগির দলের দিকে ঝোপঝাড়ের আড়ালে-আড়ালে এগিয়ে যায়, তখন তাকে দেখলে মনে হয়, সত্যিই সে খুদাহর এক আশ্চর্য সৃষ্টি। শামীম অত্যন্ত ঘেন্নার সঙ্গে বলে পবিত্র কোরআন শরীফ-এর ‘সুরা নাহ্‌ল’-এর এক নম্বর ‘রুকু’র পাঁচ নম্বর ‘আয়াত’-এ অন্য জানোয়ারদেরই সঙ্গে এই মৌলভী সাহেবের কথাও উল্লিখিত হওয়া নাকি উচিত ছিল। শালে, এক আজীব জানোয়ার!

    মুরগির দলের কাছে গিয়ে ডান হাতে বন্দুক বাগিয়ে ধরে, বাঁ হাতে পাতা, মাটি, কুটো নেড়েচেড়ে, পা দিয়ে ঠিক মুরগাদেরই মতন শব্দ করে মৌলভী। আর মুখ দিয়েও মুরগিদের আওয়াজ ছেড়ে ইঁ-ইঁ-এঁ-এঁ-এঁ-এঁ-এঁ, এঁ-এঁ-এঁ-এ-ইঁ…আর তার সঙ্গে সঙ্গে খচ খচ খচর খচর খচর করে আঙুল দিয়ে পাতা নাড়াচাড়ার, পোকা-খোঁজার পোক্‌-পোকারি আওয়াজ। দেখতে দেখতে নতুন হারেমের খোঁজ পেয়ে, চিরকালীন বোকাদের প্রতিভূ মদ্দা, দামড়া, ধেড়ে-মোরগা লাল-নীল বেগনে-সোনালি মাঞ্জা চড়িয়ে, তার মোরগ-পৌরুষের চেকনাই উড়িয়ে কঁক-কঁক-কঁক-কঁক করে এগিয়ে আসে। অনেক সময়ই তার পেছনে পেছনে সন্ধিগ্ধ, ঈর্ষাকাতর চিরকালীন মুরগিগুলো মানুষীদেরই মতো আসে নতুন সঙ্গ-ধরা অসতী সতীনদের চেহারা-ছবি দেখতে। ঠিক তখনই, গদ্দাম করে দেগে দেয় মৌলভী। মোরগা এবং সঙ্গে দুটো-একটা সহ-মরণে বিশ্বাসী সতী-সাধ্বী মুরগিও পা-হড়কে সড়াৎ করে পিছলে পড়ে মুখ থুবড়ে। স্বর্গের দিকে উড়ে যায়, না-উড়েই, পাখায় রোদের রঙ উড়িয়ে।

    সাহসী শিকারি শামীম, মৌলভীর এই সব হরকৎ একেবারে দেখতে পারে না। ও বলল, বাঘ-বাঘিনীকে ডেকে মারত, তাও তো বুঝতাম। শালে, মোরগা-শিকারি। ডরপোক। ওর মাথার ফেজটাও একেবারে মোরগার ঝুঁটির মতো। ওকে আমিই একদিন মুরগি মারতে নিয়ে এসে ধড়কে দেব ঠিক করেছি। কাছ থেকে একটি পৌনে তিন ইঞ্চি অ্যালফাম্যাক্স এল-ইজ হুম্মচকে ঠুকে দিলেই, ইয়া আল্লাহ! বলে চুত্বর উল্টে পড়বে সুরতহরাম! মজা বুঝবে সেদিন।

    ঠুঠা ওকে থামিয়ে দিয়ে বলে, হচ্ছিল কখন শিকারে বেরুবে তার কথা, মধ্যে এতগুলো কথা এসে গেল মৌলভী গিয়াসুদ্দিনের। বেকার। বড় ঘোরাঘুরি করে যায় তোর কথার পথ শামীম।

    পৃথু, ঠুঠার দেওয়া চুঠঠাটা পাথরের উপর বসে, পা মুড়ে আরাম করে খেতে খেতে ওদের মিছিমিছি-ঝগড়া শোনে। ফাক্‌সা—আলাপের মতোই ফাক্‌সা-ঝগড়া। সুইট-নার্থিংস-এরই মতো সুইট-বিকারিং!

    ওরা সব শিকারের, জঙ্গলের বন্ধু। এমন বন্ধুত্ব বোধহয় একমাত্র লড়াইয়ের কমরেডদের মধ্যেই হতে পারে। সোস্যালিজম্‌-এরও পরাকাষ্ঠা এই বন্ধুত্বে। বিপদে, আনন্দে, ভয়ে, স্বস্তিতে এই যে কমরেডশিপ, তার দাম ধন-দৌলত দিয়ে কখনওই শোধা যায় না।

    ঠুঠা বাইগা হাটচান্দ্রা শেলাক কোম্পানির নাইট-ওয়াচম্যান। কাজটা, পৃথু যখন এই চাকরিতে ঢোকে, ম্যানচেষ্টার থেকে এঞ্জিনীয়ারিং পাস করে ফিরে এসে, তখনই ঠুঠার জন্যে করে দেয়। শামীমের জন্যে একবার মাত্র একটি উপকারই করতে পেরেছিল। কোম্পানির সিলভার-জুবিলিতে, যেসব কর্মচারী প্রথমদিন থেকে কাজ করছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই একটি করে হাতঘড়ি দেওয়ার ডিসিশান নিয়েছিলেন ম্যানেজমেন্ট। তখন শামীমকেই ওই ঘড়ি-সাপ্লাই-এর অর্ডারটা পাইয়ে দিয়েছিল পৃথু। এইচ-এম-টি ঘড়ি। কমিশন বাঁধা। মোটে সাত-আটশর মতো কামিয়েছিল শামীম সেবারে।

    মহম্মদ সাবীরও, পৃথুর বাবার আমলের শিকার-জগতের আরেকজন লোক। ওঁকে সাহায্য করতে পেরেও খুশি হয়েছিল পৃথু। কোম্পানির দারোয়ান-বেয়ারাদের য়্যুনিফর্ম ও জুতো সাপ্লাই করার পার্মানেন্ট অর্ডারটা ওঁকেই পাইয়ে দিয়েছিল ম্যানেজারকে বলে।

    বাজারের মধ্যে, ছোট মসজিদেরই কাছে শামীমের দোকানের কিছু দূরেই মহম্মদ সাবীর-এর জুতোর দোকান। ক্যাঁটে ক্যাঁটে লাল-রঙা জমির উপর পাকিস্তানী ন্যাশনাল ফ্ল্যাগের রঙের গাঢ়-সবুজে লেখা সাইনবোর্ড—মধ্যপ্রদেশ ফ্যান্সী স্টোরস। শ্যু অ্যান্ড গান-ডিলার।

    দোকানের নামটা কে ঠিক করেছিল পৃথু জানে না। দোকানে আছে জুতো-চপ্পল। দিশি-বন্দুক। টোপিওয়ালা এবং টোপিছাড়া। ব্ল্যাক গান-পাউডার। কিছু ইন্ডিয়ান অর্ডন্যান্স কোম্পানির ছররা গুলি, যে-গুলি, গুলিখোর হাঁসেরা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডানা-ঝেড়ে ফেলে দেয় অবলীলায়। এবং শিকারিকে দোয়া দিয়ে উড়ে যায় হাসাহাসি করতে করতে। এই সামগ্রী-সম্ভার সাজিয়েই দোকানকে “ফ্যান্সী” বলতে বোধ হয় একমাত্র সাবীর মিঞাই পারেন।

    পৃথুর জীবনে, বক্‌রি ঈদ্‌, মুহর্‌রম, শাবে-বা-রাত, ইত্যাদি উৎসবে এবং কোনও উৎসব-অনুষ্ঠান ছাড়াই যত নেমন্তন্ন খেয়েছে, সাবীর মিঞার বাড়িতে; যত ঈত্বর ইস্তেমাল করেছে সাবীর মিঞা তার জন্যে এই দীর্ঘ সময়ে, যত ভালবেসেছে, পুরুষের ভালবাসা, শিকার-দাদার ভালবাসা, যত বকেছে, রাগ করেছে, অনুযোগ করেছে; সে সবের কৃতজ্ঞতার ঋণ মাত্র এক জীবনের সমস্ত পার্থিব সামর্থ্যের বিনিময়েও শোধ করতে পারবে না পৃথু। শুধতে অনেকই জীবন লাগবে।

    আর ঠুঠা বাইগার কথা? ঠুঠার মধ্যে দিয়ে ইংরিজি শিক্ষায় শিক্ষিত পৃথু আদিম চিরন্তন ভারতবর্ষকে যেন নিত্যনতুন করে আবিষ্কার করে। ঠুঠার মতো আদিবাসীদের সহজাত জঙ্গল-পাহাড়ের গভীর-শিকড়ের সহবৎ, মূল্যবোধ, ভদ্রতা, আতিথেয়তা ওকে ছোট্টবেলা থেকেই মুগ্ধ করে এসেছে। দিগার কাছ থেকেও কম শেখেনি কিছু।

    পাঁড়ে ফিরে এল লাল্লু সিংকে নিয়ে পন্নেয়া বস্তি থেকে।

    এই অঞ্চলে শামীমরা আজকাল কালে-ভদ্রে আসে, তাই-ই এইদিকে জানোয়ারদের রাহান-সাহান খাল-খবিয়াৎ-এর খবর রাখেই না বলতে গেলে।

    লাল্লু বলল, হাঁলো নদী পেরিয়েই একটা মস্ত বড় ভোঁর ঘাসের মাঠ আছে। সেটার পরে যে নীলগিরিয়া টিলা, সেই টিলাটার পাশ কেটে আধ মাইলটাক গেলেই টিলাটার পশ্চিমে একটা ছোট্ট ‘নুনি’। সেখানে সন্ধের পর বারাশিঙা, চিতল আর নীল গাই নুন চাটতে আসে। শুয়োরও আসে।

    মুসলমান দোস্ত-এর ছেলের ছুন্নৎ অনুষ্ঠানে “হারাম” খাইয়ে “হারাম” করতে চায় না ঠুঠা। তাই-ই আজ মৃত্যু থেকে শুয়োরদের ছুটি দেওয়া মনস্থ করল ও। শামীমকে বলল, নবাবজাদা শামীম, হারামজাদাদের খেয়াল রাখিস। মারার দরকার নেই।

    শামীমকে বলল ঠুঠা, তুই মান্নান মশালচিকে বরং বলে দিস ফিরে গিয়েই। যেন, চিতলের কাবাবটা একদম বঁড়িয়া হয়। লাল্লুকেও নেমন্তন্ন করে দে কাল রাতের খানা-পিনাতে। একেবারে চর্বি-নদনদে চেকনাই-ওয়ালা চিতল মারব একটা।

    শামীম, হিন্দী সিনেমার কমেডিয়ানের মতো মুখ করে বলল, তুম আজীব আদমি গুরু! শিকার হবে কি হবে না তারই ঠিক নেই, নেমন্তন্ন করতে শুরু করে দিলে। হামদর্দ-দাবাখানাকি দো-বটি পাচনলভি দিয়ে দাও না অগ্রিম। খানহা ঠিক সে পচ্‌নেকা লিয়ে।

    ওরা সকলেই হেসে উঠল। লাল্লুও।

    শামীম আবার বলল, কি গো। দিগাজী? খাওয়া দাওয়ার কী হবে রাতে? শ্রীরামচন্দ্রর কাছে কিছু চাও না। মেহেমানদের জন্যে? তুমি হচ্ছ গিয়ে রামভগোয়ানকা হট-ফেভারিট। জিগরী-চেলা ভগবানও আজকাল একচোখ। নইলে, নাম্মী ডাকাইত, ঘর-জ্বালানো, সিন্দুক-ভাঙা, খুনী, ছোকরী-উঠোনেওয়ালা দাগী ভি আজ সাধু বনকে বৈঠা হ্যায়।

    শামীম বড় বেশি কথা বলে। এই-ই ওর দোষ। অনেকদিন পর পৃথু এল দিগার কুটিরে। বড় শান্তির জায়গা এটা। এখানে ফিসফিস করে কথা বললেও তা হাঁলোর জলে আলোরই মতো প্রতিসরিত হয়ে গিয়ে নদীপারের গাছ-পাতায়, জঙ্গলের গভীরের ঘাসে-ফুলে প্রজাপতির পাখার মতোই তির তির করে কাঁপতে থাকে। শব্দর গতিবেগ পৃথু জানে। আলোর গতিবেগও জানে। যদিও এসব কিছুই জানতে ওর ভাল লাগেনি কোনওদিনও।

    ভাবে তো মানুষ একা একাই। সব মানুষই। পৃথু ভাবছিল। শামীম, কি সাবীর মিঞা বা ঠুঠাকে এসব কথা বললে তারা বুঝবে না। হয়তো দিগা পাঁড়ে বুঝবে। তাও পুরোটা নয়। অথচ, তারা কোনও দিক দিয়েই পৃথুর চেয়ে নিকৃষ্ট, বা অগভীর নয়। আসলে, পৃথুর বুকের মধ্যে, মস্তিষ্কের মধ্যে অনেকগুলো কুঠুরি আছে। ওয়াটার-টাইট, এয়ার-টাইট, সাউন্ড-প্রুফ, টাইট-প্রুফ। যখন যে রকম মানসিক সমতার মানুষের সঙ্গে ও মেশে, ওঠে বসে, তখন সেই সমতার ঘরটিই শুধু খুলে দেয়। আলো-পাখা চালিয়ে দিয়ে, দরজা জানালা খুলে বসেই সেই মানুষের নিজস্ব জগতের গল্প করে। তারপর এক সময় সেই ঘর বন্ধ করে, আলো-নিবিয়ে অন্য ঘরে চলে যায়। প্রায় সব ঘরেই আগন্তুক আসে যায়। আসে—যায় না শুধু একটি মাত্র ঘরে। তার হৃদয়ের প্রেমের ঘরে। যদিও সেখানে রুষার সালঙ্কারা মূর্তি প্রতিষ্ঠিত আছে। সাড়ম্বরে। বিয়ের পরপরই ওরা জ্যাম্‌খিন্দিকার স্টুডিওতে গিয়ে তোলা, বেনারসী-পরা ফোটোটি বাঁধানো আছে দামি ফ্রেমে। ফ্রেমটা দামি। কিন্তু তাতে বাঁধানো প্রেম এখন ফোটোই হয়ে গেছে। শুধুই ফোটো। ধুলো-মলিন; বিবর্ণ। বে-কামকা। সোনা-বাঁধানো ডেঞ্চার-এর মতো রোজ আলো জ্বালিয়ে ধূপ-ধুনোও দেওয়া হয় তার সামনে। কিন্তু সে ঘরে রুষা অথবা পৃথু কেউই বাস করে না। মৃত ঘর। মৃত সম্পর্ক। অসকার-ওয়াইল্ড-এর ‘পিকচার অফ ডরিয়ান গ্রে’-র মতো পৃথুও একটি নিষ্প্রাণ ছবি হয়েই থাকে সে ঘরে। তফাৎ এইটুকুই যে, সেই ছবির চেহারায় ডরিয়ান গ্রের ছবির মতো কোনও পরিবর্তন ধরা পড়ে না। পৃথু নয়, শুধু পৃথুর অপরিবর্তনশীল মূর্তিখানিই সেখানে বাস করে।

    আর একজনও বাস করতে পারত, আসতে পারত, বাস না করুক, এসে বসতে পারত অন্তত ন’মাসে-ছ’মাসে সে ঘরে দু’দণ্ড। সে, কুর্চি। কিন্তু সে আসেনি; আসে না। তাই পৃথুর হৃদয়ের এই সুন্দর সাজে সাজানো বড় দামী ঘরটি দূর্গম বনের ভিতরের নির্জন পোড়া মন্দিরেরই মতো খাঁ-খাঁ করে। ভাঙা আল্‌সেতে কামনার কবুতর কানীন স্বরে ডাকে, শেষ-সূর্যের সান্ত্বনার আলো আশ্লেষে এসে কিছুক্ষণের জন্যে ঘরটিকে, স্বামী-হারা বিধবা নারীর মুখের সৌন্দর্যর মতো এক ধরনের বিধুর সৌন্দর্য হঠাৎ ধার দিয়েই চলে যায়। কখনও, ক্বচিৎ রাতে; নরম চাঁদের আলো, চাল-ধোওয়া জলের মতো সাদা, বন-ডাইনির গাছে-পাতায় ভেসে ভেসে এসে কানে কানে অস্ফুট ভাষায় ফিসফিস করে বলে; প্রেমকে ডাকো না কেন? শরীরকে আদর দাও না কেন! আদর করো না কেন অন্য শরীরকে? বলেই, মিলিয়ে যায়, আলো-ছায়ার বুটিকাটা মৃদু ঈত্বর-গন্ধী বালাপোশ গায়ে, আধো-অন্ধকারে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }