Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. গিরিশদার বাড়ি ঢুকতেই

    ১২

    গিরিশদার বাড়ি ঢুকতেই সেদিন ভিরমি খাবার মতো অবস্থা হল পৃথুর। দুটো গডরেজ-এর আলমারির সাইজের তাকওয়ালা খাঁচা, কাকে ভর্তি।

    ইয়েস! কাক। এই কাকেদেরই একটা, বোধহয় রুষার চামচ নিয়ে এসেছিল। এলেও, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে; হাটচান্দ্রাতে যত কাক ছিল সমস্ত কাককেই প্রায় রাউন্ডেড-আপ করে ফেলেছেন গিরিশদা। কিন্তু কেন? ব্যাপারটা কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।

    গিরিশদাও ধারে কাছে নেই। অথচ দরজা খোলা হাঁ করে। বাড়িতে মহিলা না থাকলে, দরজা বন্ধ না করলেও চলে। চুরি-চামারি এদিকে বড় একটা হয় না। ছিঁচকে চুরি তো নয়ই। হলে, ডাকাতি হয়। জবরদস্ত, মর্দ লোকজন মধ্যপ্রদেশের এই হাটচান্দ্রার। একটা হাত ঘড়ি, একটা ফাউন্টেন পেন কি সোনার বোতাম চুরি করে নিজেদের পরের চোখে এবং নিজেদের চোখে তো বটেই; আদৌ ছোট করে না এরা।

    তবে, ইয়েস, মাঝে মধ্যে কপি খেতে আসে শুয়োর-টুয়োর। মাঝে মধ্যে। এই ঘটনা এমন কিছু দৃষণীয় নয়। নিশ্চয়ই পৃথিবীর সব জায়গাতেই আসে। শুয়োরেরা নিরামিষাশী হলেও, প্রায় ছাগলদেরই মতো সর্বভুক হয়। ছাগলরা মানুষী-নোংরা খায় না; শুয়োররা তাও খায়। ছিঃ ছিঃ! একই মুখ দিয়ে তো খায়! ফুল-কপি বাঁধা-কপি এবং ওই সব। চিন্তা করা যায় না।

    গা গুলিয়ে ওঠে ভাবলেই।

    ভুচু একদিন একটা গল্প বলেছিল। ওর এক বন্ধুর বাবার কাছে শোনা। পার্টিশানের পর এক সকালে নর্থ ক্যালকাটার গলির মধ্যে একটা ঘোড়ার গাড়ি এসে দাঁড়াল। যাকে বলে, প্রেগন্যান্ট উইথ পসিবিলিটিজ! উঠতি-কবির কবিতার টেবলেরই মতো। তারপরই দরজা খুলে, সার সার মানুষেরই বাচ্চা, একদম ছোট, একটু ছোট, ছোট; একটু বড়; বড় ফুল-গ্রোন অ্যাডাল্টস। এক জোড়া।

    অকৃত্রিম কলকাতাবাসী গৃহস্বামী ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললেন, আপনাদের তো চিনতে পারলাম না। মানে ঠিক…

    ততক্ষণে, মিত্র কি না তখনও, অচেনা মিশ্র বাহিনী ফাঁন্স-এর তটে ল্যান্ড করে গেছে। সিচুয়েশান ইন ফুল কন্ট্রোল। ঘরের ভিতরে দ্রুতগতিতে সেঁধিয়ে গেছে একদম ছোট, একটু ছোট, ছোট; বড়, বেশ বড়; একটু বড়। সবশুদ্ধ আট জন। সাবীর মিঞারও কমপিটিটর হয়। এবং হ্যান্ডিকাপ নিয়েও। আগন্তুকের এক বউ। সাবীর মিঞার দুই।

    সত্যিই বলছি, আপনাকে কাউকেই একেবারেই প্লেস করতে পারলুম না। অনেক চেষ্টা করেও। ভদ্রলোক আবারও বললেন।

    এবার অবাক নয়, রীতিমত উদ্বিগ্ন গলায়।

    ততক্ষণে মেল অ্যাডাল্ট, ঘোড়ার গাড়ির ভাড়া চুকিয়ে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি অ্যাপোলজেটিকালি বললেন : দেখুন, এই দুর্দিনে ছিন্নমুল লোক, আত্মীয়র কাছে আসবে না তো কি কবিরাজের দোকানে শোভা পাবে?

    আত্মীয়? আমি?

    গৃহস্বামী তুতলে বললেন।

    হ্যাঁ। আত্মীয়। ভেরী মাচ সো। আপনি আমার ফারস্ট কাজিন।

    ফারস্ট-কাজিন? আমাদের দেশ তো জয়নগর-মজিলপুরে। বাখরগঞ্জ সাবডিভিশানে আমার বাবাও কখনও থাকেননি।

    আপনার দেশ যেখানেই থাক। আপনার ঠাকুর্দা চাকরীব্যপদেশে জীবনের আধখানা কোথায় কাটিয়েছেন সে খেয়াল কি আছে?

    ও। হ্যাঁ। তিনি ছিলেন বাখরগঞ্জো সাবডিভিশানের…ফরেস্ট রেঞ্জার। কিন্তু তার জন্যে আমি আপনার ফারস্ট-কাজিন…

    ব্যাসস, ব্যাসস। ওই টুকুতেই হবে। বাখরগঞ্জো সাবডিভিশান কিসের জন্যে ফেমাস ছিল তা কি জানেন? আই মিন, নোটোরিয়াস?

    আজ্ঞে না।

    বাঘের জন্যে। রিয়্যাল সোঁদরবন মশায়, সুঁদরীগাছে ভর্তি। আপনাদের চব্বিশ পরগণার দোখনো বন নয়। নোটোরিয়াস ছিল বাঘের জন্যে।

    আজ্ঞে?

    হ্যাঁ। বাঘের জন্যে। ফর, দ্যা গ্রেট রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারস। ফর, দ্যা ম্যান-ইটিং টাইগারস। বুঝেছেন?

    হ্যাঁ।

    তাহলে এবার খোলসা করেই বলি, মাই গ্রান্ড-ফাদার অ্যান্ড ইওর গ্রান্ড-ফাদার ওয়্যার ইটন-আপ বাই দ্যা সেম ম্যানইটিং টাইগার। একই পেট থেকে জন্মালে যদি সহোদর হয় দাদাভাই, একই পেটে ভবলীলা সাঙ্গ করলে কেন হবে না তা? আর আমাদের গ্রান্ড ফাদাররা যদি সহোদর হন, তাহলে ব্রাদার আমরা দুজনে কী হলাম?

    গৃহস্বামী স্তম্ভিত।

    বলো, বলো পাঁচু, তাহলে কী?

    পাঁচু! পাঁচু কে?

    ফারস্ট-কাজিন। তুমি। পাঁচু।

    আমি?

    অ্যাইই তো! মাথা খুলেছে।

    তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এইই যে, সো-ফার আ শুয়োর ইজ কনসার্নড়, ফুল-কপি, বাঁধা-কপি এবং মানুষী নোংরা সবাই-ই ফারস্ট-কাজিন। কারণ, এরা সমানভাবে একই প্রাণীর খাদ্য। শুয়োরের পেটেই তাদের সদগতি।

    এতক্ষণে গিরিশদার প্রাইভেট-সেক্রেটারী, কাম-এ-ডি-সি মুনেশ্বরকে দেখা গেল। বাজারের দিক থেকে একটা ঝুড়ি কাঁধে করে সে আসছে। তার মধ্যে মাংসর ছাঁট। যেমন ছাঁট কুকুরে খায়। তবে ছোট্ট ছোট্ট করে কাটা, মিশ্র মাছের মুড়ো, কাটাকুটি করা পাঁঠার ও মুরগির নাড়িভুঁড়ি, লালচে, গোলাপি, ফ্যাকাসে, নানা-রঙা কানকো। ছোটবড় মাছের।

    ঝুড়ি নামিয়ে মুনেশ্বর বলল, ম্যায় তো ভাগেগা সাব। আপকো ফ্যাকটোরিমে কুছ ভি একঠো কাম দিলাইয়ে সাব মেহেরবাণীকরকে। পাগলকা সাথ রহতে রহতে ম্যায় ভি পাগলহি বন যাউঙ্গা। ইতনাদিন ঘরমে বান্দর থা, লাড়ুয়া হাট সে কেলা লাতে লাতে সাচমুচ থক গ্যয়া, আভভি দুনিয়া কা তামাম কাউয়া লেকর আঁয়ে উনোনে। লান ঈ, লান ফালানা…ম্যায় চাল দুংগা। সাচ। হামসে ঔর নহী হোগা।

    পৃথু জানত যে, আসলে সবহি হোগা। মুনেশ্বরের সঙ্গে গিরিশদার সম্পর্কটা অনেকটা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্করই মতো। এই মেঘ; এই রোদুর। পথের কুকুরের ঝগড়া মেটানো তবু ভাল; স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া? নৈব নৈব চ। পরে দুজনের ভাব হয়ে যাবে দুজনের চোখেই খারাপ হয়ে যাবে তখন আরবিট্রেটর। ওই ভুলে, পৃথু নেই!

    এমন সময় গিরিশদার চটির আওয়াজ পাওয়া গেল।

    কী ব্যাপার হে পৃথু? বহুদিন বাঁচবে। এক্ষুনি তোমার ওখানেই যাচ্ছিলাম। ফোনটা তো এখনও লাগলই না। শুনছি তো আগামী সপ্তাহে লাগবে। আসলে কবে লাগবে, কে জানে। হাটচান্দ্রা তো দেখি কলকাতা হয়ে গেল। ছিঃ। পড়ে থাকি, এই এক প্রান্তে, ফোন ছাড়া কি চলে?

    কেন। বহুদিন বাঁচব কেন?

    পৃথু বলল।

    তোমাকে মনে করছিলাম। শনিবার রাতে একটু গান-বাজনার ইন্তেজাম করেছি। আমার মেহমান এসেছে কলকাতা থেকে। আলাপ করিয়ে দেব। সাবীর, শামীম, ভুচু সকলকেই খবর দেওয়া আছে। সাবীররাই তওয়ায়েফ-এর গানের বন্দোবস্ত করেছে। আর লাড্ডুপ্রসাদও বহুদিন থেকে গান পেশ করতে চাইছে, সে নাকি জব্বর গাইয়ে, তাই ওকেও বলে দিয়েছি। তোমাকে নিজে গিয়েই বলব ভেবেছিলাম।

    সাবীরকে ভার দিয়েছি খানার বন্দোবস্তর। রাঁধবে সাবীরের দুই বউ আর ছ-মেয়ে মিলে। গরম গরম উমদা বিরিয়ানী আর চাঁব নিয়ে আসবে ভুচু তার জীপ-এ করে। সঙ্গে হান্ডি-নিকালনার লোকও আসবে। চলে এসো, তাড়াতাড়ি। মুনেশ্বর একা। আর আমি। একটু হেল্প-এরও দরকার। তা, বউমাকেও আনবে না কি?

    ও তো জানেন, এই সব ভিড়-ভাড়াক্কা, মদ-খাওয়া, এতরকম মিক্সড-কোম্পানিতে ঠিক মানাতে পারে না নিজেকে।

    জানি ভায়া। সবই জানি। তবে, ব্যাপারটা কি জানো তো? সব জায়গায়ই একজন বিবাহিত মানুষ যদি একা একা যায়, তাহলে মন্দ লোকে দশটা মন্দ কথা বলে। মন্দ লোকেই তো পৃথিবী ভরা। রটায়, লোকটার মতলব খারাপ। ইচ্ছে করেই বোধহয় স্ত্রীকে সঙ্গে আনে না। পরস্ত্রীদের সঙ্গে ফস্টি-নস্টি করবে বলে।

    মানে।…

    পৃথু কী যেন বলতে গেল।

    জানি। আমি জানি যে, হাটচান্দ্রা ছোট্ট জায়গা। এখানে সকলকেই চেনে সকলকে। এখানে; ইটস অলরাইট। বউমা যে অন্যদের মতো নন, সকলের সঙ্গে তিনি যে মিশতে ভালবাসেন না, বা বলব, যে সকলেরই কোম্পানি তিনি এনজয় করেন না তা আমরা সকলেই জানি। এখানে; ইটস অলরাইট। কিন্তু মনে করো, তুমি ভোপাল কিংবা ইন্দোর কিংবা জবলপুরে থাকতে যদি? কোনওদিন থাকতেও তো পারো! বিনা কারণে, তখন লোকে তোমার নামে পাঁচকথা বলবে।

    পৃথু চুপ করে রইল। রিয়্যালিটির ঠেলাতেই চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছে আর ইভেনচুয়ালিটি!

    কথা ঘুরিয়ে পৃথু বলল, গিরিশদা, আমাদের অ্যান্টি-পল্যুশান প্রোগ্রাম, সেই আনলিমিটেড হাওয়া-ধরা লিমিটেড কোম্পানি কি রেজেস্ট্রি হবার আগেই লিকুইডেশানে গেল?

    না। তা নয়। তবে প্রজেক্টটা শেলভড হয়েছে। হাওয়া-ধরা কোম্পানির ব্যাপারটা। কিন্তু কাক কি হবে গিরিশদা এত? লোকে যে বলে, কাক, কাকের মাংস খায় না।

    গিরিশদা হেসে উঠলেন। বললেন, এটা ভালই বলেছ। কিন্তু ভায়া, এসব কাক খাওয়ার জন্যে নয়।

    তবে? স্ক্যাভেঞ্জার-কোম্পানি ফর্ম করবেন না কি একটা এবারে? সিটি ক্লীনারস এন্ড স্ক্যাভেঞ্জারস প্রাঃ লিঃ। মন্দ হয় না কিন্তু। লক্ষ লক্ষ কাককে ট্রেইন করে নিয়ে বম্বে, কলকাতা, ভোপাল, ব্যাঙ্গালোরে চালালে এ কোম্পানি কিন্তু দারুণই চলবে। কাকের ব্রিগেড় করে, কয়েকশ কাককে এক-একটা কোম্পানিতে ভাগ করে নিলেই হবে। একটা করে সাদা, মানে অ্যালবিনো কাক, এক-একটা কোম্পানির কম্যান্ডার হবে। খুব সাহেব সাহেব, প্রেস্টিজাস ব্যাপারে হবে। সাহেব বা চামড়া সাদা না হলে তো আমরা কাউকেই নেতা বলে মানি না। কথা শুনি না। তো কালো কাকদের সাহেব নেতা হলে ব্যাপারটা দারুণ হবে। দেখাবেও দারুণ। ধবধবে সাদা নেভির অফিসারের মতো, এক সাদা কাক, কাকের কোম্পানি কম্যান্ড করছে। কাকেদের খাওয়াতে তো কোনও খরচ লাগবে না, তারা তো নোংরা আর ময়লা খেয়েই বেঁচে থাকবে। প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি বোনাস, ই-এস-আই কিছুই লাগবে না। লিকুইডেশানে দিতে হলে এক সকালে খাঁচা খুলে সব কাক উড়িয়ে দিলেই চুকে গেল। শুধু ওদের রাখার খরচা আর ট্রেনিং-এর খরচা। গ্রস প্রফিটই হয়ে যাবে নেট প্রফিট।

    গুড আইডিয়া। ভেরী গুড আইডিয়া। আমি আর তুমি বসব একদিন প্রজেক্ট-রিপোর্ট এবং ফিজিবিলিটি রিপোর্ট নিয়ে। এটা আমার মাথায়ই আসেনি। তবে, কাক আপাতত পুষেছি, অন্য কারণে। কাকশাস্ত্র নিয়ে পড়াশুনা করছি এখন।

    কাক শাস্ত্র?

    পৃথু অবাক হল।

    সেটা কী গিরিশদা? ‘কোকশাস্ত্র’র নাম তো শুনেছি। ছবিওয়ালা বইও দেখেছি বিক্রি হতে চওকের ফুটপাথে। পাছে অন্য কেউ দেখে ফেলে, তাই অবশ্য কখনও লজ্জায় কিনতে পারিনি। কিন্তু ‘কাকশাস্ত্র’র নাম তো শুনিনি কখনও।

    তা শুনবে কেন ভায়া? ভারতবর্ষের প্রাচীন ঐতিহ্য সম্বন্ধে আর কতটুকু খোঁজ তোমরা রাখো। রাখলে কি দেশের এই অবস্থা হয়? চলো, দেখবে।

    কাকেদের খাঁচার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন গিরিশদা, পৃথুকে নিয়ে। মুনেশ্বর খাবার দিচ্ছিল। একেবারে প্যান্ডেমনিয়ম কাণ্ড। চেঁচামেচি, কামড়াকামড়ি, ঠোকরা-ঠোকরি। সভ্য মানুষদের ক্লাবে-টাবে কোনও স্পেশ্যাল ডিনার-টিনার থাকলে যেমন হয়; তেমনই আর কী!

    কাকেদের দিকে চেয়ে ধ্যানমগ্ন হয়ে গেলেন গিরিশদা।

    একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, কী শুনলে? শুনলে কিছু?

    কী শুনব?

    সেকি? কিছুই শুনলে না? কানের মাথা কি খেয়েছ? ও।

    হ্যাঁ। অনেক কাক ডাকছে একসঙ্গে।

    পৃথু বলল। শুনলামই তো।

    ঈসস। পৃথু! তুমি না একটা! সে তো হাফ-উইট লোকেও বলবে। তোমার মতো ইন্টেলিজেন্ট মানুষের কাছ থেকে এরকম একটা উত্তর আমি আশা করিনি। কতরকম ডাক আছে লক্ষ করেছ কি? কত ভ্যারিয়েশন? কত বিভিন্ন জুয়ারিতে বলছে? কেউ উদারায়, কেউ তারায়। কেউ কোমল-গান্ধারে কেউ রেখাবে?

    পৃথু বলল, হতেই পারে না। কাকেদের গলায় কোনওই কোমল পর্দা দেননি ভগবান।

    হ্যাঁ। ভগবান তো একমাত্র তোমাকেই কনসাল্ট করেছিলেন, সৃষ্টির সময়ে।

    রেগে বললেন, গিরিশদা।

    তারপরই ঠাণ্ডা হয়ে বললেন, কাকেদের প্রত্যেকরকম ডাকের এফেক্টও আমাদের গলার স্বরের এফেক্টেরই মতো আলাদা আলাদা। কোনদিক থেকে ডাকছে, কখন ডাকছে, কেমন করে ডাকছে এ সব জানলে, দেখবে এ এক গভীর রহস্যময় জগৎ। ফ্যানটাস্টিক, গা-শিউরে উঠবে। কাকশাস্ত্র জানলে, কোকশাস্ত্র জানারই মতো, তুমি শত্রু জয়, মিত্র লাভ, প্রিয়া-সঙ্গ, দুষ্ট-রমণী-বর্জন সবকিছুই অবহেলায় করতে পারবে।

    পৃথু থ’ মেরে গেল।

    দুষ্টু-রমণী বর্জন! মানে? উনি কি রুষাকেই মীন করছেন? ভারী মীন লোক তো? এমবারাসড মুখে পৃথু দাঁড়িয়ে রইল। ওর নিজের স্ত্রীকে ও যা খুশি বলতে পারে, অন্যে খারাপ বলবে এ ভাবনাও অসহ্য।

    শোনো, শোনো, ওই দ্যাখো, শুনছ? শুনতে পাচ্ছ? সাধে কি কাকশাস্ত্র এই শ্লোক দিয়ে আরম্ভ হয়েছে। “কাকস্য চরিত্র কৰ্ম্মে যথোক্তং মুনিভাষিতম। যস্য বিজ্ঞান মাত্রেণ সৰ্বতত্বং লভেন্নরঃ॥” মানে হচ্ছে, মুণিগণ কাকচরিত্র-কথা যেভাবে বলেছেন, সেই তথ্যই পরিবেশন করছি। এই তথ্য জানলে মানবকুলের বিশেষ উপকার হবে। বুঝলে!

    ওই শোনো! কাককে যদি কল-কল শব্দ করে ডাকতে শোনো তো বুঝবে জিনিসপত্রর দাম ঝপঝপ করে কমে যাবে। তখন শেয়ার মার্কেটে শেয়ার কেনার সময়। ফিনান্স মিনিস্টার, প্রণব মুকুজ্জেও বাজেটের আগে নির্ঘাৎ কাকের ডাক শুনেছিলেন, নইলে, পার্লামেন্টে এমন জোর গলায় জিনিসপত্রর দাম কমার কথা বলতেন না কখনওই! আমি শুনেছি, ওঁর বাড়ি ওয়েস্ট বেঙ্গলের বাঁকড়োতে। সেখানে নাকি মেলাই কাক। হুঁ হুঁ, একেই বলে, কাকস্য পরিবেদনা।

    একটু দম নিয়ে আবার গিরিশদা বললেন, শোনো, হেলা-ফেলা নয়; মনোযোগ দিয়ে শোনো, যদি ক্রোঁ-ক্রোঁ শব্দ করে কাক ডাকে, তাহলে লাভ হবে। কাক যদি কেঞা করে ডাকে, তবে কোনও মওত হবে। কারও মৃত্যু। আমজাদ খান অথবা ইন্দিরা গান্ধীরও কিছু হতে পারে। যদি কিঁ কিঁ শব্দ করে ডাকে, তবে এক্কেরে আটার ক্যালামিটি। কিন্তু যদি ক্রোলন ক্রোলন করে দুলে দুলে ডাকে, তবে মহাসুখ! আবার ধরো, যদি কোঁন কোঁন শব্দে ডাকে, তবে পরিবারের কোনও লোকের মৃত্যু আসন্ন। আমার পরিবার তো কাকেদেরই নিয়ে। ডাকুক, যত খুশি কোঁন কোঁন করে, শালারা নিজেরাই মরবে। আর যদি ক্লীন ক্লীন শব্দ করে ডাকে? তাহলে?

    ভ্যাবাচাকা পৃথু বলে, তাহলে কী?

    তাহলে বুঝবে নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু।

    কাকরা কি ইংরিজি জানে? গিরিশদা? সেই নিকটাত্মীয় নিশ্চয়ই পয়সাওয়ালা এবং নিঃসন্তান। নইলে “ক্লীন ক্লীন” করে গ্রীণ সিগন্যাল দেবে কেন?

    তাহলে হিন্দিও জানে, কঁওন কঁওন করে ডাকলে, কে মরবে তা জিজ্ঞেস করবেই বা কেন তবে হিন্দিতে? কিন্তু শোনো, বাজে কথা না বলে শোনো আরও আছে। কাক যদি ক্রোড়ন ক্রোড়ন শব্দ করে ডাকে, তাহলে দেশে যুদ্ধ-বিগ্রহ লাগবেই নির্ঘাৎ! পাকিস্তান এবার পায়ে পা গলিয়ে দিয়ে লাগাবে। আর কাক যদি কুঁই কুঁই শব্দ করে? তাহলে তোমার ধননাশ হবে!

    ধন থাকলে তো নাশ হবে! কিন্তু আমি লক্ষ্য করছি গিরিশদা, দিন কয় হল আমাদের বাড়ির আশে পাশেই একটা ক্রেন, ক্রেন করে ডেকে চলেছে।

    সত্যি? গিরিশদা উত্তেজিত হয়ে পৃথুর পিঠে জব্বর থাপ্পড় মারলেন একটা।

    সত্যি! আরে ভায়া বলো কী তুমি?

    যদি সত্যিই শুনে থাকো, তাহলে কোনও সুন্দরী নারীর সঙ্গে তোমার অচিরেই মিলন হবে। এ কী কথা ভায়া। বউমাকে বলব নাকি?

    পৃথু বলল, বাড়িতে রুষা ছাড়া সুন্দরী নারী বলতে তো এক মেরী। তাকে তো আপনি দেখেছেন, তাছাড়া…

    ছিঃ ছিঃ ছিঃ। তুমি আমাকে এত ছোট আর খারাপ রুচির ভাবলে? বৎস! পৃথিবীতে সুন্দরী নারীর অভাব কি? কাক যখন ক্রেন ক্রেন করে ডাকছে, তখন তোমার জন্যে সুন্দরী নারী জোগাড় হয়ে যাবে। যিনি কাক-ডাকান, তিনিই কাকের ডাক সফল করান।

    হঠাৎই পৃথুর কুর্চির কথা মনে পড়ে গেল। ওদের পাঁচ বছর বিয়ে হয়েছে এখনও ছেলে মেয়ে হয়নি। কুর্চি আর ভাঁটু দুজনকে দেখেই মনে হয়, ছেলেমেয়ে না-হওয়ার কারণে ওদের বোধহয় খুবই কষ্ট। একদিন জিজ্ঞেস করবে গিরিশদাকে, কাকশাস্ত্রে বন্ধ্যা নারীর বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর উপায় আছে কি নেই! কুর্চি কি বন্ধ্যা? কে জানে।

    পৃথুর মুখের দিকে তাকিয়ে কী যে বুঝলেন গিরিশদা, তা উনিই জানেন। আরও কিছুক্ষণ তীব্র চোখে পৃথুর দিকে তাকিয়ে বললেন, ভায়া, তোমাকে একটা কথা বলব, কিছু মনে কোরো না।

    পৃথুর বুক ঢিপঢিপ করতে লাগল। কী কথা বললেন, কে জানে?

    বলল, বলুন।

    পত্নীকে বশীকৃত করতে, দাম্পত্য সম্পর্ককে সুখী করতে হলে…

    বলেই, পৃথুকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বলে চললেন, এটা ভায়া তোমাকে করতেই হবে। না করলে চলবে না। এ ব্যাপারটা খুবই সিম্পল। তোমার সুপারস্টিশাস দাদার এই একটা কথা শোনো। আমার কাছেই, একেবারে রেডি, মেয়ে-কাক আছে। তোমাকে একটা দান করেই দিচ্ছি এক্ষুনি, শুভ কাজে। ফরচুনেটলি, এ দেশে কাক-দানের উপর এখনও গিফট-ট্যাক্স বসেনি।

    মেয়ে কাক? নিয়ে কী করব? পুষব?

    পৃথু বোকার মতো বলল।

    শোনো, ফরমুলাটা হচ্ছে, একটা মেয়ে কাক ধরে ওই কাকের পিঠ থেকে কয়েকটা পালক তুলে নিতে হবে। ওই পালকগুলো কর্পূর আর গোগগুল মিশিয়ে ভাল করে গুঁড়ো করতে হবে। সামনেই যেদিন রবিবার পড়বে, সেদিন সকালে ভালো করে শুদ্ধভাবে চান করে কপালে ওই গঁড়োর তিলক পরতে হবে। কপালের ওই তিলকে চোখ যেই পড়বে স্ত্রীর, অমনি সে স্বামীর প্রেমে গদগদ হবে। ‘প্রেম-খাব’ ‘প্রেম-খাব’ করবে। দাম্পত্য জীবন তারপর থেকে পরম সুখময় হবে। দে উইল লিভ হ্যাপিলি দেয়ার-আফটার!

    পৃথু কী বলবে ভেবে না পেয়ে বলল, ভাল কথা। আমার দাম্পত্যজীবনে সুখের বন্যা। আপনি ব্যাচেলর মানুষ, দাম্পত্য সুখের ব্যাপারটা বোঝার নয়।

    গিরিশদা একটু অপ্রস্তুতভাবে বললেন, অ।

    কথা ঘুরিয়ে বলল, সুখময়ের কী খবর?

    তার আবার খবর? নতুন বউ পেয়ে বাবা-মায়ের খবর রাখে আর কে বলো? ওই কয়েকদিন সব ঢং-ঢাং দেখিয়ে আরও ভাল ভাল প্রেজেন্ট-ট্রেজেন্ট নিয়ে সেই যে কেটে গেল মিঞা-বিবি; আর চেহারাই দেখাল না। মানুষেরই মতো বিবেকহীন হয়ে গেছে বাঁদরেরা! শেষ দিনে সুখময়ের স্ত্রীকে একটি ইন্টিমেট সেন্টও প্রেজেন্ট করেছিলাম।

    সেন্ট? ইন্টিমেট?

    হ্যাঁ। পারফ্যুম।

    কী করবে? বাঁদরে, সরি, বাঁদরী।

    ওর, বাহুমূলে বড়ই দুর্গন্ধ। আহা! ও-ও তো মানুষ! দুর্গন্ধ, প্রেমকে ত্বরান্বিত তো করেই না; অনেক সময়ে চিরতরে বিতাড়িতও করে।

    তবু, সস্তা, ইত্বর-টিত্বর দিলেই তো হত! বাঁদরীকে অত দামি সেন্ট! ব্যবহারও জানে না।

    সুখময়ের বউ-ও তো আমার কাছে দামী!

    গিরিশদা বললেন।

    গিরিশদার মেহমানরা ফিরে এল। তারা হাঁটতে বেরিয়েছিল। গলায় মাফলার, জুতো-মোজা পায়ে। গিরিশদার দুই বন্ধুর দুই ছেলে। স্বাস্থ্যোদ্ধারের জন্যে এসেছে। সঙ্গে তাদের দুজন বন্ধু। সকলেই বিজ্ঞানের ছাত্র। কিন্তু ওরা সকলেই চাটার্ড, কস্ট এবং ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যাসী পড়বে। কী সব পরীক্ষা-টরীক্ষা পাশ-টাশও করে এসেছে। পরীক্ষার ধকল সামলানোর পর শরীর মেরামতি করতে আসা আর কী!

    আজকাল এসবের দিকেই বেশি ঝোঁক। তাই প্রচুর ভাল ছেলেরা আসছে এসব লাইনে। কোন লাইন কখন বেশী অর্থকরী তা বোঝার উপায় হচ্ছে আনন্দবাজারের পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপনের পাতা। কোন ধরনের পাত্রর বাজার দর কমছে এবং কোন ধরনের পাত্রের বাজার দর বাড়ছে, তা একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়। গিরিশদার বন্ধু পুত্র এবং তাদের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে পৃথুর ভালই লাগল। তবে, বেশির ভাগ কলকাতার ছেলেদের যা দোষ; তা আছেই। একটু এঁচড়ে পাকা!

    লাড্ডুর গান কেমন হবে শনিবারে কে জানে? আসলে, লাড্ডুর নাম কুমার সরজুনারায়ণ মিশ্র। গিদধারিয়াতে ওদের জমিদারী মতো ছিল নাকি অনেকদিন আগে, উমেরিয়ার কাছে। ওর এবং ওর বাবা, রাজা বীরজুনারায়ণেরও নাকি দারুণ শিকারের শখ ছিল। লাড্ডুর বাবা, অর্থাৎ রাজাসাহেবের সঙ্গে আগে কখনও দেখা হয়নি পৃথুর। লাড্ডু যে-কোনও কথা বললেই, ভুচু সঙ্গে সঙ্গে বলে, পার্সেন্ট কিতনা?

    অর্থাৎ কত বাদ দেবে খাদ?

    গিরিশদা বললেন, রাজাসাহেব নাকি জমিদারি থেকে এসে পৌঁছেছেন মাত্র পরশু দিন। শনিবারের ম্যায়ফিলে ছেলের গান শুনতেও আসবেন। গিরিশদা গলায় তোয়ালে দিয়ে তাঁকে নেমন্তন্ন করে এসেছেন গিয়ে। সরজুপ্রসাদের নাম লাড্ডুপ্রসাদ হয়ে যাওয়ার কারণ, বাজারে তার একটি প্রসিদ্ধ লাড্ডুর দোকান আছে। রাংতা-মোড়া, মুখরোচক, উমদা, লাড্ডু বেচে সে কার্ডবোর্ডের বাহারী রূপোলি-সোনালি বাক্সে। নিন্দুকেরা বলে, আফিং অথবা সিদ্ধি মেশায়। নইলে, খদ্দেররা ওর লাড্ডু এতবার খেয়েও পস্তায় না কেন?

    বহু দূর দূর থেকে লোকে লাড্ডুপ্রসাদের দোকানের লাড্ডু কিনে নিয়ে যায়।

    ওর নিজের গরু-মোষও আছে অনেকগুলো। তার মধ্যে প্রেস্টিজ অস্ট্রেলিয়ান ষাঁড়ও আছে একটা। সে অস্ট্রেলিয়ার, তার নিজের এবং লাড্ডুরও প্রেস্টিজ নিরন্তর এনহানস করে যাচ্ছে প্রতিদিনই! কানহার চার চারটে বাঘিনী একই সঙ্গে হামলে পড়েও সেই প্রেস্টিজাস ষাঁড়কে কিছু করতে পারবে বলে মনে হয় না। সেই ষাঁড় থেকেও প্রচুর রোজগার লাড্ডুর। দূর দূর থেকে লোক আসে। ষাঁড়ের দুধ হয় না। এমনকি অস্ট্রেলিয়ান ষাঁড়েরও নয়! ষাঁড়টা নাকি পেডিগ্রীড। বিভিন্ন জায়গার সুন্দরী, ফর্সা, কালো, লাল-মিষ্টি গন্ধ গরুরা তাদের নির্লজ্জ মালিকদের সঙ্গে অনেক পথ ধুলোপায়ে হেঁটে এসে লাজুক-লাজুক চোখে অস্ট্রেলিয়ান সাহেবের আদর খাওয়ার জন্যে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সারাদিন, একটা মস্ত বড় পিপুল গাছের তলায়। এবং সেই অস্ট্রেলিয়ান ষণ্ড সিংহবিক্রমে তাদের আদর করে যায়। এত্ব আদর, কী করে যে অকাতরে হেলাফেলায় করে; তা সেই-ই জানে। ভেবেও আতঙ্কিত হয় পৃথু। “অশ্বশক্তি” কথাটা বদলে “ষণ্ডশক্তি” কথাটা করে দেওয়া উচিত অবিলম্বে।

    ভুচু বলে, দাদা, এ ব্যাটা অস্ট্রেলিয়ান নেহাৎই লাথি মেরে বুক ফাটিয়ে দিতে পারে, নইলে, একদিন ষাঁড়টাকে নিরিবিলিতে নিয়ে গিয়ে ভক্তিভরে একটা প্রণামই করে আসতাম।

    ভুচু প্রায়ই বলে লাড্ডুকে, কুমারসাহাব, চালিয়ে, দোনো মিলকে এক দফে অস্ট্রেলিয়া।

    কাহে লা?

    ঘাড়ে-গর্দানে, লম্বা-চওড়া, নর-পাঠঠা, হাঠঠা-কাট্টা, কোনও জমিদার তনয় লাড্ডু, কতকুতে চোখ তুলে বলে। ওর শিশুসুলভ মুখটা, ওর শরীরের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। ব্রহ্মা নির্ঘাৎ কোনও মারাত্মক গোলমাল করে ফেলে ছিলেন ওকে গড়বার সময়। ক্ষিতি, মরুৎ, অপ, ব্যোম অথবা অন্য কোনও সৃষ্টির উপাদানে নির্ঘাৎ টান পড়েছিল সেদিন। বুদ্ধিও মনে হয়, শরীরের আয়তনের অনুপাতে বেশ কম। ঘিলু দেওয়ার সময়ও কিপটেমি করেছিলেন বেজায়।

    ভুচুকে বলে, কাহে লা? ভুচু? আবারও। হাসতে হাসতেই।

    ভুচু মিচকে শয়তানের মতো হাসে।

    বলে, লাড্ডু বেচকে হিঁয়া জিন্দগী ভর যো কামায়গা, হুঁইয়ে যাকে ছে মাহিনে মে উসসে জাদাহি কামা লেগা। জাদা হোগা তো কম নহী।

    কৈ সে লা? ভুচু?

    আবার শুধোয় লাড্ডুপ্রসাদ। সত্যি বোকারই মতো।

    কৈ সে? আব্‌বে! কুমারসাহাব! লাড্ডুই বেচকে।

    ইন্ডিয়ান গরুদের এই হেনস্থা একজন ইন্ডিয়ান হয়ে আর সহ্য হয় না ভুচুর। তাই-ই ওখানে গিয়ে সার্ভিস এক্সচেঞ্জ করে আসতে চায় ও। বলে, আমার তো পেডিগ্রি নেই, তুমি রাজার ছেলে কুমারসাহাব, তোমার হবে। গলায় একটা নীল-সাদা মালা পরে নেবে। শোনপুরের গরু-মোষের মেলা থেকে আমিই না-হয় কিনে এনে দেব। ভারতের ঈজ্জত বলে কথা। জমে যাবে। আমাকে ম্যানেজার করেই নিয়ে চলো।

    লাড্ডু কুতকুত করে হাসে।

    ভুচু বলে, দুসস শালা। লাইন চুজ করনেমে বড়হি গডবড়ি কর চুকা ম্যায়। অব ক্যা হোগা?

    দুপুরের এখনও দেরি। গিরিশদা, হোস্ট হিসাবে দারুণ। বন্ধু-পুত্রদের হাতে হাতেও বিয়ার-মাগ ধরিয়ে দিয়েছেন। পৃথুকে বললেন, দুটি চেরা-কাচালংকা মিশিয়ে বিয়ার খাবে নাকি এক পাত্তর আমার সঙ্গে?

    পৃথু বলল, না। যাব আমি এখন।

    গরমের দিন হলেই গিরিশদার এক স্পেশ্যাল ব্যাপার থাকে। গুচ্ছের তেঁতুল গোলা জলে, লেবুপাতা ফেলে, তাতে একটি করে বীচিছাড়ানো কাঁচা-লংকা চিরে বিয়ার মাগ-এ ফেলে দিয়ে তার মধ্যে দু আঙুল ভডকা এবং এক আঙুল জিন, যেমন করে গাদা-বন্দুকের নলে বারুদ মেপে ফেলা হয়, তেমনি করে ফেলে দেন। তারপর ভাল করে শেক করে নিয়ে বরফের ড্রেসিং দিয়ে হাতে হাতে ধরিয়ে দেন। কতলোক যে খুন হয়েছে এই নিঃশব্দ গাদা-বন্দুকে আজ অবধি এখানে, তার হিসাব রাখলে অনেকই জীবন গিরিশদাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড খাটতে অথবা বহুবার ফাঁসিতে লটকাতে হত। যাযাবরের ‘দৃষ্টিপাত’ গিরিশদার হট ফেভারিট বই। তবু উনি বলেন, “যাযাবর আমাকে জানতেন না, তাইই। জানলে লিখতেন, ইফ ইঁটস আ ড্রিঙ্ক, কনসাল্ট গিরিশ ঘোষ। নট, আধারকার।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }