Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. পারিহার সাহেব সুফকরের বাংলো

    ১৪

    পারিহার সাহেব সুফকরের বাংলোর বারান্দায় বসেছিলেন একা। এখন রাত। ভাবছিলেন, অনেক কথাই।

    কানহা টাইগার প্রজেক্ট-এর কোর-এরিয়ার মধ্যে অনেকগুলোই ফরেস্ট রেঞ্জ আছে। কান্‌হা, কিসলি, মুক্কি, ভাইসেনঘাট এবং সুফকর। কোর-এরিয়ার পাশে পাশে আছে বাফার-জোন। সাতপুরা আর মাইকাল হিলস এবং তাদের গায়ের এবং উপত্যকার গভীর জঙ্গলে মোড়া এই কোর-এরিয়া।

    প্রশাসনিক ভাগে ভাগ করলে, এই পুরো অঞ্চল বালাঘাট আর মান্দলা ডিস্ট্রিক্ট-এ পড়ে। সীওনী পড়ে, বালাঘাটেই। সীওনীর কাছে পেঞ্চ ন্যাশনাল পার্ক আছে। পারিহার সাহেবের ওখানেই বদলি হয়ে চলে যাবার কথা হচ্ছে।

    এই কোর-এরিয়া স্বভাবতই একদিনের বা একজনের চেষ্টাতে গড়ে ওঠেনি। অনেক মানুষের সম্মিলিত শ্রম, শুভ প্রচেষ্টা আছে এর পেছনে। সাতপুরা আর বিন্ধ্য পর্বতের মধ্যে মাইকাল পাহাড়শ্রেণী মিলন ঘটিয়েছে। আর এই বৃত্তরই মধ্যে বয়ে চলেছে বানজার একপাশে, অন্য পাশে হাঁলো। এই দুই নদীর মধ্যের উপত্যকাতে কান্‌হা ন্যাশনাল পার্ক। পর্বতময় এই জংগলের উচ্চতা ‘সতেরোশ’ ফিট থেকে ‘ঊনত্রিশশ’ ফিট। বিভিন্ন জায়গায়, উচ্চতা বিভিন্ন। জংগলের গভীরে অনেকই গ্রাম ছিল একসময়, ভারতের সমস্ত জংগলেই যেমন থাকে। কিছু গ্রাম যুগ-যুগান্ত ধরে নিশ্চিহ্ন হয়ে এসেছে, ঠুঠার গ্রামেরই মতো; নানারকম মহামারীতে। প্লেগ, কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া এবং টাইফয়েড ইত্যাদিতে। মহামারী রাইন্ডারপেস্ট-এ উজোড় হয়ে গেছে বহু গ্রামের গবাদি পশু। আবার জলের অভাবেও অনেক গ্রাম পরিত্যক্ত হয়েছে। সে কারণেই এই বনের গভীরে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে মাঝে মাঝেই গা-ছমছম করে তাঁর। কোনও শ্মশান বা কারখানায় গেলে বা পরিত্যক্ত রক-শেলটার বা গুহায় গেলে যেমন মনে হয়, তেমনই অনুভূতি হয় অনেকটা। টাইগার প্রজেক্টের কোর-এরিয়ার পত্তন করা হয়েছিল মাত্র ঊনিশশো চুয়াত্তর সালে কিন্তু এই কানহা পার্ক-এর পত্তন হয়েছিল ঊনিশশো তেত্রিশে; ইংরেজ আমলে। এখন বাফার-জোন শুদ্ধ কানহা-টাইগার প্রজেক্ট-এর আয়তন দাঁড়িয়েছে বারোশো মতো বর্গ কি মি। তার মধ্যে কোর-এরিয়াই হচ্ছে ন’শো মতো কি.মি.।

    পুব দিক দিয়ে বয়ে গেছে ভারী সুন্দরী কালো মেয়ের মতো নদী, হাঁলো। আর পশ্চিমদিক দিয়ে মেমসাহেবের মতো ফর্সা বান্‌জার। হাঁলো আর বানজার-এর মধ্যবর্তী ঘন জঙ্গলাবৃত পাহাড়ি এলাকাতেই এই টাইগার প্রজেক্ট।

    পারিহার সাহেব-এর হেড কোয়ার্টাস মান্দলাতে। মান্দলা, নর্মদার উপরে। বান্‌জার-এর সঙ্গে নর্মদার মিলনও হয়েছে এখানেই। নদী বা নদ যখন কোনও শহরে ঢোকে, তখন তাদের নিরাবরণ নিরাভরণ রূপটি পারিহার সাহেবকে ব্যথা দেয় বড়। কোনও সুন্দরীকেই কখনও সম্পূর্ণ অনাবৃত নিরাভরণ অবস্থায় সুন্দর দেখায় না। আর্টের গোড়ার কথাও বোধহয় তাই-ই। রহস্য, কিছু না থাকলে, সৌন্দর্য জমি পায় না পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াবার। মান্দলাতে পারিহার সাহেবের অফিসের পরই, একটু গিয়েই নদী। কজওয়ের উপর দিয়ে বয়ে গেছে। ধোপারা কাপড় কাচছে, নারী পুরুষ চান করছে। মান্দলার নর্মদা বান্‌জারকে দেখে টিকেরিয়া আর মান্দলার মধ্যবর্তী নর্মদা অথবা মুক্কির কাছের বা কানহার জংগলের গভীরের বানজার-এর সৌন্দর্যের কোনও ধারণাই করা যায় না।

    পারিহার সাহেব কাল রাতে মান্দলা থেকে এসেছেন সুফকর। সুফকর কথাটার মানে হচ্ছে সুন-সান জায়গা। সান্নাটা। অবশ্য তিনদিন আগে বেরিয়েছিলেন। চিরাইডোংরি, ইন্দ্রা হয়ে; কিসলি। তারপর মুক্কি। তারপর সুফকর-এ এসেছেন আওরাই; সোন্ধর হয়ে।

    এদিকের কিছু গ্রামকে এবং কোর-এরিয়ার অনেক গ্রামকেই অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোর-এরিয়ার নিভৃতি, নিশ্চিন্ত করতে। কিছু গ্রামকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে লামটা রোড-এর দিকে। আদিবাসীরা খুশি হয়নি। কেই-ই বা আর খুশি হয়! কিন্তু ভারত একটি স্বরাট, বিরাট একীভূত রাষ্ট্র। এখানে দশের স্বার্থের জন্যে একের স্বার্থ মাঝে মাঝে বিসর্জন দিতে হবেই, নইলে দেশের ভাল হওয়া সম্ভব নয়। অন্য অনেক সমস্যাও আছেই। এবং আছে চোরা-শিকার, চোরা-কাঠ চালানের সমস্যা। আদিবাসী এলাকাতে এবং জঙ্গল-পাহাড় ঘেরা জায়গাতে শিকার চিরদিনই ছিল। ছিল কিছু গরিব লোকের পুরুষালি, সাহসিক আনন্দ হয়ে। এদের প্রোটিনের একমাত্র উৎসও ছিল শিকার-করা মাংস। কিছু অবস্থাপন্ন শহুরে মানুষের কাছেও এ ছিল দারুণ এক স্পোর্ট। অনেকদিন পর্যন্ত একইরকম সবই চলে আসছিল। শিকার তো মানুষের আদিমতম সময় থেকেই চলে আসছে। আমাদের দেশের ভীমবৈঠকার, মোদীর, গোয়ালিয়রের, রাইসনের, খাড়োওয়াইর, নরসিংগড়ের, কুটলীবাতারারের, স্পেনের আলটামিরাতে এবং পৃথিবীর আরও বহু জায়গায় মানুষ তার প্রস্তরাশ্রয় এবং গুহাতেই প্রথমে শিকারের ছবি এঁকেই আর্টের গোড়াপত্তন করেছিল। শিকার, আদিবাসী এবং ভারতীয় পাহাড়-জংগলের মানুষদের জীবন থেকে রাতারাতি ছিনিয়ে নেওয়া, খুব কঠিন কাজ।

    সুখের কথা, শিক্ষিতদের মধ্যে; পশুপাখি কমে যাওয়ায় স্বভাবতই সংরক্ষণের দিকে মন গেছে। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আদিবাসীরা ছাড়াও, যাদের ধর্ম অথবা সামাজিক জীবনের সঙ্গে শিকার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে; যাদের মধ্যে বংশপরম্পরায় আইন ভাঙার ও দুঃসাহসী কাজ করার একটা জন্মগত প্রবণতা প্রায়শই দেখা যায়; তারাও রয়ে গেছে।

    আরও রয়ে গেছে এক ধরনের মানুষ, যারা মারতেই ভালবাসে, জানোয়ারের রক্ত মাংসের উপর যাদের নারী-মাংসের থেকেও বেশি লোভ; এই তীব্র আদিম প্রবণতার মূল্য হিসাবে নিজেদের প্রাণ পর্যন্ত যারা দিতে রাজি।

    এটা দুঃখজনক, মনে হয়; পারিহার সাহেবের। যতই এ নিয়ে ভাবেন উনি, ততই বুঝতে পারেন যে শুধুমাত্র বনবিভাগের সমস্যাই নয় এ। এই সমস্যা, সমাজের, পরিবেশের এবং অর্থনীতিরও গভীর সমস্যা। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সমস্যা সত্যিই আজকের ভারতের মস্ত বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। আর্থিকলাভের জন্যেও কিছু লোক শিকার করে। আফ্রিকাতে তো বড় বড় চক্রই গড়ে উঠেছে। সারা পৃথিবীব্যাপী তাদের জাল ছড়ানো। গণ্ডারের খড়্গ, হাতির দাঁত, জেব্রার চামড়া, কুড়ুর চামড়া ইত্যাদির চোরাচালানের জন্যে বড় বড় বিজনেস টাইকুনরা আড়াল থেকে মদত দিচ্ছে এদের। কোটি কোটি টাকা খাটছে এইসব ব্যবসাতে। শিক্ষাহীনতা, দেশাত্মবোধের অভাব, ধর্মসম্বন্ধীয় এবং সংস্কারগত বিশ্বাস যেসব দেশে যত বেশি; সেই সব দেশে এই সমস্ত সমস্যার গভীরতাও তত বেশি।

    পারিহার সাহেব খবর পেয়েছিলেন যে, কে বা কারা একটি বিরাট বারাশিঙা মেরেছে বন্দুক দিয়ে হাঁলোর পাশে। মাংস কেটে নিয়ে গেছে। ঘটনাটা ঘটেছে একজন সাধুর কুঁড়ের সামনে। সেই সাধুর ব্যাকগ্রাউন্ড সম্বন্ধেও নানারকম কথা কানে এসেছে তাঁর। পাওয়ার সাহেব অনেক কষ্ট করে ওঁর অঞ্চলে বারাশিঙা বাড়িয়ে গেছিলেন। বারাশিঙা কানহার এক বিশেষ আকর্ষণ। শম্বরের চেয়েও বোকা মনে হয়, পারিহার সাহেবের; এই জন্তুজানোয়ারদের। এই পোচিং-এর ব্যাপারটা তাঁকে খুব আপসেট করেছে। তিনি নিজে ক’দিন এই অঞ্চলে থেকে এ ব্যাপারের তদন্ত শেষ করে যেতে চান। ভোপাল থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। ফরেস্ট সেক্রেটারি নিজে খুঁটিনাটি সব জানতে চেয়েছেন। এসেমব্লীতে কোশ্চেনও উঠেছিল। ঘনঘন ফোন আসছে মান্দলাতে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে। ব্যাপারটা খুবই একটা সীরিয়াস টার্ন নিয়েছে। ভোপালে বসে, এত বড় এলাকার পার্ককে সামলানোর অসুবিধার কথা উপরমহলের খুব কম মানুষই বোঝেন।

    মনে হয়, হাটচান্দ্রার কিছু লোক এর পেছনে আছে। বালাঘাট এবং মান্দলার এস. পি-দের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। ওঁরা সব ডি. এস. পি এবং এস. ডি. পিওদের, সার্কল ইনসপেকটরদের খবর দিয়েছেন। হাটচান্দ্রার পোলিস স্টেশান থেকেও একটা রিপোর্ট চাইবেন তিনি, এস. পিকে বলে।

    পারিহার সাহেব, সমস্ত সরকারী কর্মচারীদেরই মতো, নিশ্চয়ই রিটায়ার করবেন। একদিন না একদিন সব চাকুরেকেই রিটায়ার করতে হয়। বাগচী সাহেব, পাওয়ার সাহেব, ইত্যাদি সকলেই করবেন। কিন্তু জে. জে. দত্ত সাহেবের মতো পূর্বসূরীরা, যে দৃষ্টান্ত মধ্যপ্রদেশের ফরেস্ট সার্ভিসে রেখে গেছেন, তারই অনুসরণ করতে চান তিনি। যাতে, রিটায়ার করার অনেক বছর পরে, কানহার কোর-এরিয়াতে আবারও এসে কোনওদিন মনে করতে পারেন যে, তাঁর সরকারী কাজের মধ্যে দিয়ে একটা বড় কোনও, সুন্দর কোনও আদর্শকে রূপায়িত করতে বিবেকবান হয়ে সমস্ত আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

    মানুষ তো রেখে যায় না অন্য কিছুই! টাকা পয়সা, সম্পত্তি বাড়ি গাড়ি এ সবের কোনও কিছুই থাকে না। এসব রেখে যাওয়ার পেছনে কোনও গভীর বা মহৎ বোধও কাজ করে না। বড়লোকে টাকা রাখলে তার ছেলেমেয়েরা উড়িয়ে দেয় অচিরে, ঘেয়ো-কুকুরের মতো অর্থ-সম্পত্তি নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে মরে; যদি তারা মানুষই না হয়। আর তারা যদি মানুষ হয়ই, তাহলে টাকা-পয়সার প্রকৃত তাৎপর্য তারা নিশ্চয়ই বোঝে। সুনামের চেয়ে, যোগ্যতাতে অর্জিত যশ-এর চেয়ে, জীবনের উদ্দেশ্যের চেয়েও টাকা যে বড় নয়, প্রায়-অবিশ্বাস্য এই কথাটাতেও কিছু মানুষ আজও বিশ্বাসও করেন।

    এই কানহা-কিসলি, এই মুক্কি, সুফকর, ভাইসেনঘাটকে বড়ই ভালবেসে ফেলেছেন পারিহারসাহেব। ট্রানসফার হয়ে বা প্রোমোশনে অন্যত্র গেলেও এখানে বারে বারেই ফিরে আসবেন।

    কানহা রেঞ্জ-এই নানা জানোয়ারের কনসেনট্রেশান হয়েছে। এখন চিতলই হয়ে গেছে প্রায় বারো-তেরো হাজার, শম্বর প্রায় সাতশো-সাড়ে সাতশো। গাউর বা ইন্ডিয়ান বাইসন দেড়শোর মতো। বারাশিঙা চারশো পঁচিশ-টচিশ হবে। জংলি শুয়োর হবে এখন পৌনে দু হাজার! কথায়ই বলে, শুয়োরের মত বংশবৃদ্ধি! এই সব জানোয়ার ছাড়া, কানহা কোর-এরিয়া ও বাফার-জোন-এ আছে আরও অনেকই জানোয়ার। কুটরা, কৃষ্ণসার, চৌশিঙা, নীলগাই, ভাল্লুক, বনবেড়াল, বাঁদর, শেয়াল, শজারু, এবং বেজি। বাঘ ও চিতা তো আছেই।

    মাউস-ডিয়ার প্রায় দেখাই যায় না এখানে। কথা হচ্ছে, ওড়িষ্যা থেকে এনে এখানে কীরকম বাড়ে, তা দেখা হবে। ওড়িষ্যাতেও মাউস-ডিয়ার মেরে শেষ করে দিয়েছে প্রায়। ওড়িষ্যাতে মাউস ডিয়ারকে বলে, গুরান্টি। সব জায়গাতেই এই একই সমস্যা।

    হায়েনা এই অঞ্চলে, কেন জানা নেই, প্রায় দেখাই যায় না। শজারুদের সঙ্গে দেখা হয় শুধু রাতেরই বেলা। পাইথন দেখা যায় না বটে, কিন্তু পথের ধুলোয় তাদের চলার দাগ প্রায়ই দেখা যায়। পাখির মধ্যে ময়ূর, বনমোরগ, ধনেশ ও আরও অসংখ্য পাখি আছে। খরগোশও প্রচুর আছে।

    কানহার গর্ব হচ্ছে তার বাঘ আর চিতা। বান্ধবগড়েরই মতো। কোর-এরিয়া এবং বাফার জোন মিলিয়ে এখন বড় বাঘ প্রায় নব্বুই মতো হবে। বেশিও হতে পারে। চিতাও হবে ষাট-টাট।

    ট্যুওরিজম-এর বাগচী সাহেবের অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে মাঝে মাঝেই মান-অভিমান হয় টাইগার প্রজেক্টের পারিহার সাহেবের এবং ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের অন্যান্য অফিসারদের। ট্যুওরিজম-এর বড় সাহেব, স্বাভাবিক কারণেই চান, ট্যুওরিস্টরা অনেক বেশি সংখ্যায় এসে, কানহার বাঘ এবং অন্যান্য জানোয়ার দেখুন। তাদের থাকার মতো, খাওয়া-দাওয়ার মতো, তাদের দেখানোর মতো, অনেক বেশি জায়গার ও সুযোগসুবিধার বন্দোবস্ত হোক। এখন যা আছে, তাও কম নয়। তবে, আরও বেশি থাকলে, অনেকই বেশি লোক আসতে পারতেন।

    তাতে টাইগার প্রজেক্ট-এর কোনওই আপত্তি নেই। কিন্তু প্রজেক্টের কাজ তো এখনও শেষ হয়নি। বেশি ট্যুওরিস্ট এক্ষুনি এলে, এবং কোর-এরিয়ার মধ্যে অনেকগুলি বড়-বড় ট্যুওরিস্ট লজ হলে বাঘের বংশবৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটবে। ফরেস্ট ও প্রজেক্ট টাইগারের লোকেদের তাই-ই ধারণা। কানহার মধ্যে যে মূল লজটি ছিল সেটি এই কারণেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জানোয়ারদের অসুবিধে হত খুবই। এখন শুধু কিসলি এবং মুক্কিতেই আছে লজ।

    বাগচী সাহেবের ট্যুওরিজম ডিপার্টমেন্ট-এর ইন্টারেস্ট বজায় রাখার স্বপক্ষেও কিছু জোরালো যুক্তি, কলকাতার এক ফোটোগ্রাফার ভদ্রলোক, সেদিন এসেছিলেন মুক্কিতে। ভদ্রলোকের নাম মনে নেই। পদবি মনে আছে, খুব সম্ভব সেন। উনি মুক্কি লজ-এই উঠেছিলেন। এককালে শিকার করতেন। ভারতবর্ষের অনেক জংগল তো বটেই, আফ্রিকার জংগলেও গেছেন। অনেকক্ষণ, নানাবিষয়েই সেদিন কথা হল ওঁর সঙ্গে। মুক্কিতে সেদিন বাগচী সাহেব এবং পারিহার সাহেবও ছিলেন। সেই বাঙালি ভদ্রলোক মিঃ সেন, অবশ্য কানহার খুবই সুখ্যাতি করলেন। বললেন যে উত্তরপ্রদেশের করবেট পার্ক, এবং রাজস্থানের র‍্যান্‌থাম্‌বোর ছাড়া মধ্যপ্রদেশেরই কানহা আর বান্ধবগড়েই একমাত্র নিশ্চিত বাঘ দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যে বাঘ দেখার সুযোগের কথা বিবেচনা করলে বলতে হয়, বিহারের পালামৌ, পশ্চিমবঙ্গর সুন্দরবন ও ওড়িশার সিমলিপাল আদৌ ভাল নয়। পালামৌ, রোম্যান্টিক; সুন্দরবন ভয়াবহ; সিমলিপাল-এর মতো ভাল পার্ক পৃথিবীতে কমই আছে; কিন্তু আজকালকার ট্যুওরিস্টরা কম সময়ে এসে যদি বনের বাঘকে বনের পরিবেশে নাই-ই দেখতে পেল, তবে লাভ কী? উনি বলছিলেন যে, তানজানিয়া এবং কেনিয়াতে গেম-পার্ক-এর মধ্যে মধ্যেই দারুণ দারুণ সব থ্র-স্টার হোটেল হয়েছে। দু-একটি ফাইভ স্টারও আছে। রেফ্রিজারেটেড ভ্যানে করে পৃথিবীর সেরা সব খাদ্য-পানীয় সরবরাহ হচ্ছে, জেনারেটরে আলো, পাম্প, এয়ার কন্ডিশনার, হিটার, গীজার সব কিছু চলছে। কোটি কোটি টাকা রোজগার। ফরেন এক্সচেঞ্জ।

    এখানেও হবে। পারিহার সাহেব বলেছিলেন হেসে, বাগচী সাহেবকে। এখানেও হবে। আমাদের শুধু আরও দশটা বছর সময় দিন বাগচী সাহেব। জন্তু-জানোয়ারদের পপুলেশান বাড়ুক। ট্যুওরিজম ডিপার্টমেন্টের দুঃখ আমরা ঘুচিয়ে দেব।

    কলকাতার এক ভদ্রলোক কিন্তু একটা দামি কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন যে, ন্যাশনাল পার্ক-এ এবং কোর-এরিয়াতে সব ট্যুওরিস্টকে ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়। কিছু ট্যুওরিস্ট সব দেশেই থাকে, যারা পাগলা-গারদে গিয়ে পাগল হওয়া মানুষ-মানুষী বা কোর-এরিয়াতে ঢুকে ইনসট্যান্টবাঘ দেখতে চান, এই দ্রুতগতি, তরলমতি মানুষদেরও বনে ঢোকার কোনওই অধিকার নেই। তাদের বনে ঢুকতে দেওয়া উচিতও নয়। সময় না দিলে বন, মন খোলে না; কারও কাছেই।

    যারা বীয়র খেতে, আর তাস খেলতে আর ট্রানজিস্টার শুনতে অথবা ভাড়া করা মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করতে বেরিয়ে পড়েন, তাদের জায়গা আর যেখানেই হোক, জংগলে নয়। ডিসক্রিমিনেট করতে হবে। যাঁদের নিজেদের নানাবিধ কথা উচ্চস্বরে বলার প্রবণতার চেয়ে, জংগলের কী বলার আছে তা শোনার প্রবণতা বেশি, জংগল যাদের সত্যিই টানে, কী করে একটি দিনের জন্ম হয় এবং তার মৃত্যু, তা নীরবে দেখার এবং অনুভব করার মতো সময় ও মন যাঁদের আছে, তাঁদেরই শুধু জংগলের গভীরে আসতে দেওয়া উচিত। শুধু তাঁরাই বাঘ দেখতে পাবেন।

    ভদ্রলোকের কথার মধ্যে পাগলামি ছিল কিছুটা; কিন্তু কথাগুলি একেবারে ফেলেও দেবার নয়।

    চৌকিদার এসে বলল, খনা লগা দিয়া সাব।

    পারিহার সাহেব হুইস্কি খাচ্ছিলেন। এই সুফকরের বাংলোটা চমৎকার। খড়ের চালের বাংলো। চওড়া, মস্ত বারান্দা। একেবারে সুন-সান্নাটা। আউট-অফ-দ্যা ওয়ার্লড প্লেস একেবারে! বাইরে কুটরা ডাকছে একটা ঝাকি দিয়ে দিয়ে। ভয় পেয়ে। বোধহয়, বাঘ কি চিতা দেখে থাকবে।

    চৌকিদারকে বললেন। পাঁচ মিনিট বাদ।

    বলে, আর একটা হুইস্কি ঢাললেন। একা বসে, চুপ করে নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলতে বলতে হুইস্কি খাওয়ার আনন্দ একমাত্র জংগলে যাঁরা এসেছেন, থেকেছেন, তাঁরাই জানেন। আনন্দ মাত্রই, নারীরই মতো! তাকে সময় দিতে হয়, ইম্পর্ট্যান্স দিতে হয়; তবেই তাকে পুরোপুরি পাওয়া যায়।

    বাইরে অঘ্রাণের অন্ধকার রাত। অম্বর ঈত্বরের মতো একটা ভারী গন্ধ ঝুলে আছে স্নিগ্ধ সুফকরের সবুজ সুগন্ধি অন্ধকারে। ভারী ভাল লাগছিল।

    জিম করবেটকে ইংরেজ সরকার, “ফ্রীডম অফ দ্যা ফরেস্ট” উপাধি দিয়েছিলেন। শিকারি বলে নয়, জংগল-প্রেমিক বলে। এই উপাধির অর্থ হল, জংগলের যে-কোনও জায়গায় যেতে তাঁর কারওই অনুমতির দরকার ছিল না। জংগলের যে-কোনও বাংলোতেই তিনি থাকতে চাইলে অন্য সকলের আগে তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হত। উইদাউট রিজার্ভেশন। এবং তাঁর কাছ থেকে খুব সম্ভবত থাকার জন্যে কোনও পয়সাও নেওয়া হত না। স্থানীয় বনবিভাগের সমস্ত কর্মচারীরা তাঁকে সবরকম সহযোগিতাও নিশ্চয়ই দিতেন।

    পারিহার সাহেবের হাতে ক্ষমতা থাকলে, অন্তত মধ্যপ্রদেশের সমস্ত জংগলের জন্যে “ফ্রীডম অফ দ্যা ফরেস্ট” উপাধি দিতেন কলকাতার সেই পাগলাটে মানুষটির মতো দু একজন মানুষকে।

    আরেকটা হুইস্কি ঢাললেন পারিহার সাহেব। এবার আর কিছু ভাববেনও না। হুইস্কির নেশাটা, এই রাতের গায়ের গন্ধর সঙ্গে মিশে গিয়ে আস্তে, আস্তে, আস্তে, তাঁকে এক গভীরতর নেশার কেন্দ্রবিন্দুর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বনের নেশা যাকে একবার পেয়েছে, হুইস্কির নেশা তার কাছে নেশাই নয়!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }