Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৫. কদম গাছের নীচে

    ২৫

    ঠুঠা বাইগা আর দেবী সিং মস্ত একটি ঝাঁকড়া কদম গাছের নীচে বসেছিল।

    গাছটি পাহাড়ের একেবারে পায়ের কাছে। পাহাড়ে কিছুটা উঠলেই একটি গুহা। ভেবেছিল, রাতটা সেই গুহাতেই কাটাবে। কিন্তু সূর্য ডোবার কিছু আগে সেখানে পৌঁছে আবিষ্কার করেছিল যে, এক ভালুক পরিবারের আস্তানা সেটা। খামোখা ঝামেলা বাড়াবে না ঠিক করেই নেমে এসে ওই গাছের নীচেই আগুন করেছিল দুজনে মিলে। বন্দুকদুটো সঙ্গে আছে বটে কিন্তু শিকারে তো আসেনি। তাই নেহাত দরকার অথবা দায়ে না ঠেকলে ব্যবহার করবে না। বিকেলে ঠুঠার গাদা বন্দুক দেগে একটি বড় ময়ূর মেরেছিল। পালক-টালক ছাড়িয়ে নিয়েছে। আগুনে ঝলসে নিয়ে খাবে পাথুরে নুন আর সঙ্গে নিয়ে আসা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে। এইই ওদের রাতের খাবার আজ।

    জায়গাটা যে ঠিক কোথায় তা ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি ওরা। এমন বড় একটা হয় না। জঙ্গলের পোকা যারা, তাদের পথভুল হয় না সচরাচর জঙ্গলে। কিন্তু আজ দুপুর থেকেই মেঘ করে এসেছিল। তারপর ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকের সঙ্গে বৃষ্টি। থেমেছে সামান্য আগেই। গাছের পাতা থেকে এখনও জল চুঁইয়ে পড়ছে। বিকেল থেকে জলে ভিজে, দুজনেরই ঝোড়ো কাকের মতো অবস্থা।

    দেবী সিং বলল, আজ একটু মহুয়া থাকলে খুব ভাল হত। জ্বর-জারি না হয়ে যায়! শরীরের জওয়ানী তো আর নেই। আগের মতো সয় না আর অত!

    জওয়ানীর কমই বা কী আছে? বুড়ো ভাবলেই বুড়ো। আমার তো মনে হয় সেই আগের মতোই আছি।

    মনে করছ তাই। আসলে কি আর আছ! বিয়ে-শাদী তো করোনি। জওয়ানীর পরীক্ষাও দিতে হয় না তোমাকে।

    কথাটা, হাঃ করে এক পক্কড় হেসে, উড়িয়ে দিল ঠুঠা। কথা ঘুরিয়ে বলল, একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম কাল রাতে। বুঝলে, দেবী সিং।

    কী স্বপ্ন?

    অদ্ভুত স্বপ্ন একটা।

    কী?

    নাঙ্গা বাইগীন একেবারে আমার সামনে দাঁড়িয়ে। বললেন, পাবিরে ঠুঠা বাইগা, পাবি ফিরে তোর গ্রামকে। যে এমন করে চায় তাকে আমি সবই দিই। সব।

    কবে?

    বোকার মতো জিজ্ঞেস করলাম আমি নাঙ্গা বাইগীনকে।

    সময় হলেই পাবি। তোকে পেতেই হবে। যখন পাবি; তখন তোকে কিন্তু একটা কাজ করতে হবে আমার জন্যে।

    কী কাজ?

    বলব। সময় হলেই বলব। আবারও আসব আমি। কবে?

    সময় যখন হবে। যখন আসব, তখন ফেরাবি না তো আমাকে। যদি ফেরাস, তাহলে…।

    তাহলে?

    দেবী সিং চুট্টায় টান দেওয়া থামিয়ে চোখ চোখ বড় বড় করে শুধোল।

    “তাহলে”, বলেই, চোখেমুখে ভয়াবহ এক ভঙ্গি করেই মিলিয়ে গেলেন বাইগীন।

    সে কী?

    হ্যাঁ। আমার নিস্তার নেই দেবী সিং।

    মুখ নিচু করে বসে আগুনের দিকে চেয়ে ঠুঠা ভাবছিল মনে মনে, যখন প্রথম হারিয়ে-যাওয়া গ্রামের খোঁজ করতে শুরু করি তখন তাগিদটা ছিল আমার। আমারই একার। ইদানীং লক্ষ করি, কে যেন ভিতর থেকে তাড়া লাগায় সবসময়। কে যেন বলে, কী করছিস তুই ঠুঠা, এই কারখানায় বসে? জঙ্গলে যা। ফিরে যা। যেখানে তোর জন্ম, যে ধুলোয় তোর ছেলেবেলা, যে নদীতে তোর ঝাঁপাঝাঁপি, যে ফুলের মালা গেঁথে তোর জীবনের প্রথম নারী তোকে নরম ঘাসের বিছানাতে বরণ করেছিল, ফিরে যা সেই ফুলের বনে। সেই শিশির ভেজা ভোরে, তিতির-ডাকা বিকেলে, সেই আলো-ছায়ার মেঘ-মেদুরের বনে। যা। যারে ঠুঠা, যা।

    দেবী সিং আগুনটাকে নাড়া-চাড়া দিয়ে জোর করল একটু। উবু হয়ে ফুঁ দিল দুবার। নিভে-যাওয়া চুট্টাটাকে ধরিয়ে নিল একটি ঘাস আগুনে ধরিয়ে নিয়ে। তারপর গাছে হেলান দিয়ে পা দুটি লম্বা করে মেলে দিল আগুনের দিকে। জমি ভিজে ছিল তখনও। ত্রিপলের টুকরোটুকু বিছিয়ে পাশাপাশিই বসেছে দুজনে। রাতেও পাশাপাশিই শোবে।

    কাল রাতেও ওরা ছিল একটি গুহাতে। সেই গুহার গায়ে ফিকে লাল আর হলুদ রঙে আঁকা ছবি ছিল অনেক। খুব বড় বড় মৌচাক ছিল গুহাটার চারপাশে। দাঁতাল মস্ত বড় বুনো শুয়োরটাকে শিকার করেছে একদল মানুষ তীর-ধনুক আর বল্লম দিয়ে, এইই আঁকা ছিল সে ছবিতে। কে জানে? কত হাজার বছর আগে তাদেরই পূর্ব পুরুষরা এইসব গুহাতে বাস করত! কেমন দেখতে ছিল তাদের তাই-ই বা কে জানে? কী তারা খেত? কী পরত? কেমন ছিল তাদের জীবনযাত্রা? তাও জানে না ওরা। কী রঙ দিয়ে এঁকেছিল এই সব ছবি পাহাড়ের গায়ে তাও জানা নেই। কত গ্রীষ্মের ঝিম-ধরা মরীচিকা-ওড়ানো তাপ, কত বর্ষার উথাল-পাথাল ঝোড়ো তাণ্ডব, কত শীতের শান্ত মন-খারাপ-করা আর্তি বুকে মুখে চোখে, শরীরের অণুতে অণুতে ধরে রেখেছে সেইসব গুহা-ছবি, তাইই বা কে জানে? গুহা তবু একটুও ম্লান হয়নি, মোছেনি ছবিগুলি। রাতে সেই গুহাতে শুয়ে মনে হচ্ছিল দেবী সিং-এর, যেন ও কয়েক হাজার বছর পেছনে হেঁটে গেছে।

    কাল বেশ ভাল কেটেছিল রাতটা। কী বলো?

    হঠাৎই দেবী সিং-এর ভাবনার রেশ কেটে দিয়ে ঠুঠা বলল।

    হুঁ। নিশ্চয়ই!

    অনেকদিন পর নাচগানও হল একটু। গুহা থেকে নেমে, নদীপারে বানজার-বামনি বস্তিতে না গেলে মজাই হত না কিন্তু। তবে, গাওয়ান বুড়োকে দেখে কষ্ট হচ্ছিল বড়। এখনও কী সুন্দর চেহারা তার। দু কানে পেতলের মাকড়ি। আগুনের আভায়, সোনার মতো চকচক করছিল। সত্যি সোনা বোধহয় ওই রকমই দেখতে হয়। গায়ে, গুহার গায়ের ছবিরই মতো নানারঙা সুতোয় নকশা-তোলা লেপের জামা। টানটান হয়ে জোড়াসনে বসে থাকার ভঙ্গিটি। গাওয়ানও তো রাজাই হল। রাজাদের কিন্তু দেখলেই বোঝা যায়। রাজত্ব থাক আর নাইই থাক। রাজার ভাবভঙ্গি কিছু থাকেই।

    তা বটে। তবে হলে কী হয়! গাওয়ান-এর ছেলেটা একটা অমানুষ হয়েছে। বুড়ো হয়েও, বেঁচে থাকার এই এক মস্ত কষ্ট। ছেলেমেয়ে যদি মানুষ না হয়, তাহলে একজন মানুষ জীবনভর যাইই গড়ে তুলুক না কেন তার দু হাতের মেহনতে, তা বালির প্রাসাদের মতোই ভেঙে পড়ে।

    যা বলেছ! ঠুঠা বাইগা বলল। এই জন্যেই তো বিয়ে করিনি। নিজের কৃতকর্মের জন্যে নিজে দায়ী থাকতে রাজি আছি। রাজি, নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেও। কিন্তু যে পাপ-পুণ্যের উপরে আমার নিজের বিন্দুমাত্র হাত নেই সেই পাপের বোঝা আর পুণ্যের আনন্দে আমার মোট্টে দরকার নেই। অবশ্য মানুষ হওয়া বলতে তুমি বা গাওয়ান কী বোঝো জানি না। গাওয়ানের ছেলেটা টাকা রোজগার করে না বটে কিন্তু ভারী সুন্দর বাঁশি বাজায়। শুনলে না কাল? যাইই হোক, বিয়ে-টিয়ে না করাই ভাল।

    তুমি বলছ বটে। কিন্তু বিয়ে করে না কটা লোক?

    না দেবী সিং। তুমি যাইই বলো, আমি বলব, মানুষও কেন ভেড়ার দলেরই মতো হবে?

    সবাইই যা করে, আমার তা করতে কখনওই ইচ্ছে করেনি। অন্যের হাতের শালের দোনা থেকে জীবনের মহুয়া আমি খেতে চাইনি দেবী সিং। বাঘের মড়ি দেখে যেমন কোথায় মাচা বাঁধব, বাঘের শরীরের কোথায় গুলি করব, ঠিক সাদা আর কালো ডোরার কাটাকুটির জায়গায়, তাও যেমন ঠাণ্ডা মাথায় ঠিক করেছি, তেমনই জীবনের বেলাতেও না ভেবেচিন্তে কোনও কিছুই করিনি আমি।

    দেবী সিং-এর দু চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেই নিবে গেল। ওর চোখে একটু বিব্রত ভাবও খেলে গেল। তারপরই ওর দরাজ হাসি হেসে প্রসঙ্গান্তরে গেল দেবী সিং। বলল, যা হবার তা তো হয়েই গেছে ঠুঠা এ জন্মের মতো। তোমার জীবন তোমার, আমার জীবন আমার। একটু হালকা কথা বল। মজার কথা বল। মহুয়া খাও, গান গাও। দুদিনের জীবন। কালকের গানগুলোই বরং আরেকবার গেয়ে শোনাও। যে গানগুলো বানজার-বামনির ছেলেমেয়েরা নেচে নেচে গাইছিল। ঠুঠা, তোমার গলা কিন্তু এখনও খুব ভাল আছে। বানজার-বামনির জওয়ান মেয়েগুলো তোমার দিকে এমন চোখে চাইছিল যে, আমার হিংসেই হচ্ছিল। সত্যি!

    হাঃ।

    হাসল ঠুঠা। চুট্টা ধরাল একটা।

    বলল, তাকাচ্ছিল না আরও কিছু। আসলে তুমি কাল বেশি মহুয়া খেয়েছিলে।

    তাইই? হবে হয়তো। মহুয়াই যেদিন খাব, সেদিন কম খাব কেন? কিন্তু যা আমি বললাম, তাইই ঠিক। কুকুরীদের মতো যুবতীরাও যৌবনের গন্ধ পায়। এ সবই ভগবানের বন্দোবস্ত। আমরা আর বুঝি কতটুকু!

    হাসতে হাসতে বলল দেবী সিং।

    তারপর বলল, গানগুলো শোনাও না! মনে নেই নাকি?

    বা-রে! ও সব তো কার্মা নাচের গান। মনে না থাকার কী? এখন তুমি গান শুনবে? ময়ূরটাকে ঝলসাবে না?

    আরে হবেখন। রাত তো পড়েই আছে। বৃষ্টির জন্যে অনেক আগেই অন্ধকার হয়ে গেছে না আজ!

    তা ঠিক।

    গলাটা, দুবার খাঁকরে পরিষ্কার করে নিল ঠুঠা। তারপর শুরু করল :

    ছেলে বলছে মেয়েকে : চলো, সাজা-তেরিকা ডাবারি ছিছেলা যাব।
    পরশা ভাদারি মারে হুদারি লাগোদারি
    চলো টুরী কর্মা নাচালে খারানা যাবওও।

    চল মেয়ে, সাজা গাছের নিচের ঝর্ণায় মাছ ধরতে যাব। তোকে নিয়ে। তাড়াতাড়ি চলরে মেয়ে পা চালিয়ে। জঙ্গলে পেরিয়েই নাচের জায়গা খারানাতে গিয়ে পৌঁছব।

    মেয়ে বলছে : রাত ভরা কর্মা নাচাইলে
    দিনাকে উগতমোলা ছট্টি দেই দেরি
    হাম’যাব, ঘরা ভাগি যাবওওওও…
    ছেলে : রাতভরা করামা নাচায়োঁ
    দিনাকে উগত টুরী ঘর লায়ি যাওওও…।
    মেয়ে : দাদা মোরা গালি দেহি, দাই মোলা মারহি
    নেহী যাউ টুরা তেরা সঙ্গা, ঘর নেহী যাউ টুরা
    বড়া ভারী কোমিটি ঘর বৈধ যাহিইই।
    ছেলে : আরে দাদালা দারু পিয়ারে, দাইলা দারু পিয়ারে
    যাবা সঙ্গত করকে খুশিয়ালিসে শাদী বানাবওওও…

    বাঃ! বাঃ!

    বলে উঠল দেবী সিং। সত্যি! তারপর বলল, এসব গান শুনলে নিজেদের ছেলেবেলাতেই চলে যাই। তবে, আমাদের সময়কার নাচগানে ‘কেমিটি’র মতো ইংরিজি কথা-টথা থাকত না, এইই যা।

    ঠুঠা বিজ্ঞর মতো বলল, ইণ্ডিপিণ্ডিরির পর দেশের লোক সবাই ইংরিশ বলাবলি শুরু করল। বলো দেবী সিং! শিকারের মওকায় সত্যিকারের কত্ব সাহেব-মেম আমরা গুলে খেলাম। এই দিশি ইংরিশ সাহেব-মেমদের হ্যাঁদাহেঁদি দেখে ওদের মুখে হিসি করে দিতে ইচ্ছে করে।

    দেবী সিং বলল, এই তো কেমন মজার মজার কথা বলছ এখন ঠুঠা। তোমার মতো কথা। মাঝে মাঝে তোমার যে কী হয়। এতক্ষণ যে কী সব মাথা-ধরানো কথাবার্তা বলছিলে। ভাল লাগছিল না একেবারেই আমার। কী যে সব চিন্তা করো তুমি!

    ঠুঠা হাসল একটু, আগুনের আলো দেবী সিং-এর চকচক করা চোখে চেয়ে। তারপর দিগা পাঁড়ের মুখে শোনা তুলসীদাসের শ্লোক আউড়ে দিল কড়াক করে। বলল, মানুষমাত্ররই চিন্তা থাকে দেবী সিং। “চিন্তা সাপিন কো নহি খায়া?”

    মানে কী হল?

    চমকে উঠে, দেবী সিং বলল, আবারও জ্ঞান দিচ্ছে ঠুঠা। জীবনের শেষে এসে এত জ্ঞানট্যান ভাল লাগে না আর।

    চিন্তার সঙ্গে সাপের উপমা দিয়েছেন তুলসীদাস। চিন্তারূপী সাপ, কামড়ায়নি কোন মানুষকে? মানুষ হয়ে জন্মালেই এই সাপের কামড় খেতে হয়।

    তা হয়তো হয়। কিন্তু, থাক থাক। রাত-বিরেতে আর সাপ সাপ করে কাজ নেই। একমাত্র ওই জিনিসকেই ভয় আমার জঙ্গলে। শঙ্খচূড়ের জবরদস্ত আড্ডা এ সব জায়গায়। তার উপর আবার বৃষ্টিও হল। শুতেও তো হবে মাটিতেই। এই গাছের নীচে।

    আনো এবার ময়ূরটা। হঠাৎ বলল ঠুঠা। শালাকে বানাই। কত শঙ্খচূড় খেয়েছে এ ব্যাটা তা কে জানে!

    দেবী সিং একটা বাঁশ কেটে টাঙ্গি দিয়ে চেঁচে সরু শিকের মতো করেই রেখেছিল। সেটা পালকছাড়ানো ময়ূরের সামনে থেকে পেছন অবধি সেঁধিয়ে দিল শক্ত হাতে। তারপর সেই ছুঁচোলো বাঁশের দুদিক দুজনে ধরে আগুনের উপর আস্তে আস্তে ঘুরিয়ে ময়ূরটাকে সেঁকতে লাগল।

    একটু ঘি থাকলে জমে যেত।

    ঠুঠা বলল।

    থাক। অনেক হয়েছে। খিদের সময় মাংস জুটছে জঙ্গলে এইই ঢের, তার আবার ঘি! যেন কতই রোজ ঘি খাওয়ার অভ্যেস দুজনের!

    দুজনেই হেসে উঠল। দেবী সিং-এর কথায়।

    ময়ূরের সাদাটে মাংস, অনেকটা মুরগির মাংসর মতো আগুনে পুড়ে প্রথমে লাল তারপর কালো হয়ে উঠতে লাগল। মাংস-পোড়া গন্ধও বেরুতে লাগল। সেদিকে চেয়ে থাকতে থাকতে ঠুঠার মনে হল ওকেও একদিন এমনি করে পুড়ে যেতে হবে। তার নিজের গায়ের পোড়া মাংসর গন্ধ বেরুবে একদিন কোনও গভীর বনের ধারের নির্জন নদীপারের শ্মশানে! গা ছমছম করে উঠল ঠুঠার। ইদানীং এরকম হচ্ছে ওর প্রায়ই। কারা যেন ওর সঙ্গে কথা বলে জঙ্গলে এলেই, দিনে বা রাতে। একা নদীতে যেতে, বা জঙ্গলে হাঁটতেও অন্ধকারে ভয় করে আজকাল। ঠুঠা বাইগারও! যে একদিন দিনের এবং রাতের যে-কোনও প্রহরেই মাটিতে দাঁড়িয়ে বড় বাঘের মোকাবিলা করেছে আকছার। কেন যেন ঠুঠার মনে হচ্ছে, আজও রাতে নাঙ্গা-বাইগীন স্বপ্ন দেবে তাকে। নাঙ্গা-বাইগীন! আবারও গা ছমছম করে উঠল ওর।

    ভাবছটা কী অত?

    হঠাৎই বলল, দেবী সিং?

    ঠুঠা চমকে চোখ তুলে চাইল। ওর হাতে-ধরা ছুঁচোলো বাঁশ-বেঁধা ময়ূরটা দুলে উঠল হঠাৎ হাত কেঁপে যাওয়ায়।

    বলল, নাঃ। কী ভাবব, তাইই ভাবছি!

    এমন সময় ওদের পেছনের পাহাড়ের উপর থেকে বাঘ ডাকল দুবার। বড় বাঘ। তার ডাক বৃষ্টি ভেজা জঙ্গলের দূর-দূরান্তরে ছড়িয়ে গেল। প্রস্তরময় পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে প্রতিধ্বনিত হল কিছুক্ষণ।

    দেবী সিং বলল, যাঃ শালা। ইণ্ডিপিণ্ডিরির পর যত ফেমিলি-প্লেনিং সব আমাদেরই বেলায়। আর তোদের বংশবৃদ্ধি করতে সরকার বাহাদুরের কালঘাম ছুটে যাচ্ছে। যাঃ! বেঁচে গেলি। আমি আর ঠুঠা বাইগা এখন রিটিয়ার করেছি। সব রকম মারামারির সঙ্গেই ছাড়াছাড়ি এখন আমাদের।

    ল্যাক ফ্যাক্টরির ক্যান্টিনে একজন মাঝবয়সী ওড়িয়া আছে। কালাহাণ্ডির ভবানী-পাটনা থেকে এক ওড়িয়া শিকারির ক্যাম্পের রাঁধুনি হয়ে এসেছিল বছর কুড়ি আগে। ছত্তিশগড়িয়া একটি মেয়েকে বিয়ে করে থেকে গেছে সে হাটচান্দ্রাতেই। এই মস্ত কদম গাছটির তলাতে বৃষ্টি ভেজা রাতে বসে তার কথা এবং তার গাওয়া একটি গানের কথা হঠাৎই মনে পড়ে গেল ঠুঠার। লোকটির নাম হল দুগগা মহান্তি। দুগগা মাঝে মাঝেই রাতের বেলা সুর করে ওড়িয়া রামায়ণ পড়ে আর গান গায়। ভারী ভক্ত মানুষ সে। এই গানটি তার বড়ই প্রিয়। গত কয়েক বছরে এতবারই শুনেছে যে, শুনে শুনে মুখস্থই হয়ে গেছে ঠুঠার।

    “কদম্বমুলে কী এ পশিছি গো

    নন্দনন্দনপরি কী এ দিশুথিব

    সে যেরে রামহন্তা সঙ্গে সীতয়াথান্থা

    লক্ষ্মণপরি মুখ দিশস্তা গো ও-ও-ও-ও-ও…

    সে যে বেহরবন্তা সঙ্গে পার্বতী থান্তা

    ডিবিডিবি ডম্বরু বাজন্তা

    সে যে রে মেঘহন্তা গরজি বরষন্তা

    চিকিচিকি বিজলী মারস্তা গো ও-ও-ও-ও…

    দেবী সিং বলল, আবার কী ভাবতে বসলে ঠুঠা?

    নাঃ। কিছু না। কী ভাবব, তাইই ভাবছি।

    ঠুঠা ভাবছিল, নিজের সব ভাবনার কথা অন্যকে বলতেই নেই। লাভ হয় না কোনও। প্রত্যেক মানুষে মানুষেই নাঙ্গা বাইগা বড়ই তফাৎ করে রেখেছেন। এক একজন মানুষের ভাবনা একেক স্তরে চলে, একই আকাশে নানান জাতের পাখি যেমন নানা উচ্চতাতে ওড়ে। তেমনই।

    খাওয়া দাওয়ার পর ওরা দু’জনে চুট্টা টেনে শুয়ে পড়েছিল। চারধার থেকে ঝরনার শব্দর মতো ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে। একটানা।

    দেবী সিং অঘোরে ঘুমোচ্ছে। কাৎ হয়ে। সুখী লোকদের ঘুমোতে দেরি হয় না। দু’ হাতের পাতা জোড়া করে ঘুমের মধ্যে যেন ক্ষমা ভিক্ষা করছে সে বড়হা দেবের কাছে। খেতি-জমিন, বউ, গাই-বয়েল, বোদে, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিতে ঘর ভরা দেবী সিং-এর। একটা মস্ত প্রাচীন, ঝাঁকড়া ঝুরি-নামানো অশ্বত্থাগাছের মতো মনে হয় ঠুঠার, দেবী সিংকে। সে না থাকলেও তার শিকড় সব থেকে যাবেই। সে যখন মারা যাবে, কাঁদবে তার আত্মীয় পরিজনরা। মুখে আগুন দেবে তার ছেলেরা।

    আর ঠুঠার? না আছে তার শিকড়। না, থাকবে। যে-শিকড় ছিল একদিন তারই খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। পাবে কি? কে জানে? ঠুঠা ওর হারিয়ে-যাওয়া গ্রামের একলা শিমুলেরই মতোই একা। চলেও যাবে একা একাই।

    রাত আস্তে আস্তে গভীর হচ্ছে। শেষ কার্তিকের বিকেলের অসময়ের বৃষ্টির পর আকাশ থম মেরে আছে। পেছনের কাছিম-পেঠা পাহাড়টা কিচুল রাজার মতো অন্ধকারের বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে এখন অঘোরে। ঝিঁঝিঁ ডাকছে একটানা। সেই ডাক মাঝে মাঝে ছিদ্রিত হচ্ছে। বারবার একটি কুটরা হরিণের ভয়-পাওয়া, ঝাঁকি-দেওয়া, সংক্ষিপ্ত ডাকে। সেই গমগমে ডাকে বৃষ্টি শেষের নিথর মৌনী জঙ্গল চমকে চমকে উঠছে।

    এখন জঙ্গলের অন্য রূপ। আরও কিছুদিন পর শীতের বেলা এলে হঠাৎ সদ্য বিধবার রুখু, বিষন্ন, উদাস রূপ নেবে এই জঙ্গল। গুড়িসুড়ি-মারা বুড়ি পাতারা এক দমকে দলবেঁধে দৌড়ে যাবে আগাছাশুন্য শুকনো মরা-খুসকির মতো মাটিতে। দৌড়ে যাবে কালো-সাদা পাথরে, শুকিয়ে যাওয়া পাহাড়ি নালাতে, বিছিয়ে থাকা সাদা প্রান্তরে। এক একবার থমকে থামবে, যেন কোনও অদৃশ্য দেবতার আঙুলেরই নির্দেশে। পরমুহূর্তেই আবার দৌড়ে যাবে। বনের বুকের মধ্যে থেকে ফিসফিস করে চাপা গলায় অদৃশ্য কারা যেন কথা বলবে। মৌটুসকি পাখি ডাকবে কিসকিস করে। কুঁচফুলের থোকা ফেটে লাল-কালো কুঁচফল ঝরে পড়বে মাটিতে। কোনও অদৃশ্য, হলুদ-বরণ সোনার বেণে সেই কুঁচফলগুলো তুলে নিয়ে শীতের শেষ বিকেলের পেতল-রঙা দাঁড়িপাল্লায় পশ্চিমাকাশের সোনা, ওর কৃপণ হাতে ওজন করবে।

    ভর দুপুরের আলো-ছায়ার সাদা-কালো ডোরা-কাটা সতরঞ্জিতে এক্কা-দোক্কা খেলবে লাফিয়ে লাফিয়ে চিংকারা, কৃষ্ণসার আর চিতল হরিণীরা আমলকি বনের নীচে ঝরে-পড়া আমলকি খেতে খেতে। উদোম নীল আকাশে, উদলা বাতাসে ভেসে দিগন্তে উধাও হবে টিয়ার ঝাঁক চকিত-চাবুকের মতো ডাক ডাকতে ডাকতে। দিনান্তবেলায় একটি অতিকায় নরম লাল গোল বলের মতো সূর্যর রহস্য উন্মোচনের দুরন্ত দুর্মর আশায় তার লম্বা নড়বড়ে দুটি উড়ন্ত পা দোলাতে দোলাতে, কোনও অভিযাত্রী উৎসুক যুবক টি-টি পাখি সেই দিকে উড়ে যাবে হুট্টিটি-টি-টি হুট-টি-টি-টি-টি-হুট করে ডাকতে ডাকতে। তারপর একসময় সেই গলন্ত বিলীয়মান সূর্য কপ করে গিলে নেবে তাকে।

    চাকরিতে ইস্তফাই দেবে ঠিক করেছে ও। কোম্পানির ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজার, পিরথবাবুর বউ রুষা মেমসাব, ঠিকাদার ইদুরকার সাহেব এদের জীবনযাত্রা, রাহান-সাহান ভাল লাগে না ঠুঠার। পিরথুবাবু অবশ্য একটা অন্য জাতের মানুষ। সে যেন ওদেরই একজন। জঙ্গলে যখন থাকে তখন তাই-ই মনে হয়। ইংরিজি লেখা-পড়া, বিলেতের ডিগ্রি, বড় চাকরি, বাড়ি-গাড়ি টাকা-পয়সা এসবের কিছুই মানুষটাকে ছুঁতে পারেনি।

    ঘুম আসে না ঠুঠার। এ পাশ ও পাশ করে। পাশ ফেরে। তারপর উঠে বসে রাতের বনের শব্দ শোনে। গন্ধ নেয় নাকে। নাভি থেকে টেনে। এই গন্ধ, তাকে চিরদিন যুবতীর গায়ের গন্ধর চেয়েও বেশি আকৃষ্ট করেছে।

    উপরের গুহা থেকে ভালুক পরিবার নামল। এই শালাদেরই বিশ্বাস নেই। বনে জঙ্গলে মাত্র এই শালারা আর শুয়োরেরা বিনা কারণে হামলা করে দেয় মানুষের উপর। বন্দুকটা টেনে নেয় ঠুঠা হাতের কাছে।

    চারদিকে নানারকম গাছ। নীরব প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে ওদের ঘিরে। সার সার। এদিকে শাল নেইই বলতে গেলে। বাঁশের ঝাড়, ধাওয়া (গঁদ), হাররা, বহেড়া, কাসসী, কুহমি, চাঁর বা চিরাহীদানার মস্ত মস্ত সব গাছ। শিমুল, কদম, আর জামুনও আছে। শীতের বৃষ্টির পর মাঝ রাতে সুগন্ধ ছড়িয়েছে বন-বনানী। রাতচরা পেঁচা আর নাইটদারের ডাকের সঙ্গে হায়নার হাসি মিশে যাচ্ছে। চিতল হরিণের ঝাঁক থেকে শিঙালগুলো ডাকছে টাঁউ! টাঁউ টাঁউ! করে। রাত জেগে উঠেছে। মধ্যরাতের ছাই-রঙা অন্ধকারে, সপ্তমীর চাঁদের আলোর সঙ্গে বনের মধ্যের শিশির আর কুয়াশা মিশে এক স্বপ্ন-রাজ্য তৈরি হয়েছে যেন। দেব-দেবীরা বোধহয় এই সময়েই জেগে ওঠেন। হারাই, ধারওয়া, সাইআম, ইয়াম, উইক্কে, কুসরে। ঠাকুর দেও। ঘামসেন, মাসওয়াসি, সাইয়াম দেও, ঠাকুর দেওর সব ছেলেরা। আরও কত দেব-দেবী! বড়াহদেব তো আছেই।

    একটা চুট্টা ধরাল ঠুঠা। ভাবনায় পেয়েছে এখন ওকে। জঙ্গলে একা থাকলেই ওকে ভাবনাতে পায়। এই পৃথিবী কতদিনের পুরনো কে জানে? ওর ঠাকুর্দার কাছে গল্প শুনেছিল এই পৃথিবীর জন্মর কথা। নাঙ্গা বাইগা আর নাঙ্গা বাইগীনের জন্মবৃত্তান্তও।

    হুঁকো খেতে খেতে ঠাকুর্দা, বানজার-বামনির সেই বুড়ো গাওয়ানেরই মতো : কানে পেতলের মাকড়ি পরে, লেপের জামা গায়ে দিয়ে শীতের রাতে আগুনের পাশে বসে লাউয়ের খোল থেকে মহুয়া ঢেলে খেতে খেতে নাতি-নাতনিদের গল্প শোনাত। অনেক সময় ছিল তখন মানুষের হাতে, শান্তি ছিল অনেক। এত ব্যস্ত এস্ত ছিল না প্রত্যেকে। আজকের সব ব্যস্ততাই টাকার জন্যে অথচ টাকা দিয়ে কেনা যায় না যা ওরা ফেলে এসেছে পিছনে। সেই সব দিন অনেক সুখের ছিল। শহরের মানুষরা, কল-কারখানার মানুষরা আরামের সঙ্গে সুখকে গুলিয়ে ফেলেছে।

    ঠাকুর্দা বলেছিলেন, ভগয়ান নাঙ্গা বাইগাকে সৃষ্টি করার আগে বারো বছর ধরে উপোস করেছিলেন। শুধু উপোসই নয়। সেই বারো বছর তরল কিছুও খাননি। জলও না চানও করেননি। বারো বছর চান না করায় ভগয়ান ভারী নোংরা হয়ে গেছিলেন। গা-ময় ময়লা। বারো বছর পেরুনোর পর তেরো বছরের মাথায় ভগয়ান তাঁর বুক এবং বগলতলা থেকে ঘষে ঘষে অনেকই ময়লা বের করলেন। দু হাতের পাতাতে ওই ময়লার কিছুটা নিয়ে বুড়ো আঙুল আর তর্জনী দিয়ে রগড়ে রগড়ে দুটি মানুষের মতো দেখতে মূর্তি বানালেন তিনি। সেই মূর্তি দুটিকে বাড়িতে নিয়ে রেখে দিয়ে বললেন : কোনও একদিন কাজে আসবে এ দুটি।

    তারপর একদিন ভগয়ান তার হাতের কড়ে আঙুল কেটে সেই মূর্তিদুটির উপর রক্ত ঢেলে দিয়ে তাদের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করলেন।

    নাঙ্গা বাইগা আর নাঙ্গা বাইগীন দুজনেই উলঙ্গ ছিলেন। তাই প্রাণ পেয়েই তাঁদের বড় লজ্জা হল। তাঁরা সিঙ্গার দ্বীপে গিয়ে সমুদ্রে গা-ডুবিয়ে বসে থাকলেন লজ্জা থেকে বাঁচতে। সিঙ্গার দ্বীপ আমাদের পৃথিবীর আদি, তখন শুধুই পাথর-ভরা ছিল। আর সমুদ্র ঘেরা।

    বুড়হা নাঙ্গাকে দেখতে ছিল মানুষেরই মতো। কিন্তু তাঁর সাপের মতো একটি লেজ ছিল। মুখটাও ছিল সাপেরই মতো। সাপের মতো লম্বা মুখ এবং নাক। দাঁতগুলো কিন্তু মানুষেরই মতো ছিল। উচাইতে তিনি সাধারণ মানুষেরই সমান ছিলেন কিন্তু লেজটা ছিল মস্ত লম্বা। হাত পা সবই মানুষেরই মতো ছিল। অথচ সাপের মতোই ল্যাংটা থাকতেন তিনি। জামা-কাপড় পরতেন না কিছু। উত্তরাখণ্ডে ফিকে বাদামি-রঙা বুড়হা নাঙ্গ তাঁর ফর্সা বউরাণী দুধ-নাঙ্গ-এর সঙ্গে থাকতেন। আর থাকত বুড়হা নাঙ্গ-এর ঝি এবং উপপত্নী মালহিন। মালহিন অন্য সব কাজ তো করতই তাছাড়া বুড়হা নাঙ্গ-এর গা মালিশ করত এবং বুড়হা নাঙ্গ-এর সঙ্গে দুধ নাঙ্গ-এর ঝগড়া বাধলে সেই ঝগড়া মিটিয়ে দিত। বুড়হা নাঙ্গ-এর খাদ্য ছিল শজারু। রোজ একটি করে শজারু খেতেন তিনি। শজারুই ছিল বুড়হা নাঙ্গ-এর শুয়োর।

    সিঙ্গার দ্বীপ থেকে উত্তরাখণ্ডে যাওয়ার কোনও পথই ছিল না। কিচলু রাজা ছিলেন এক পেল্লায় কচ্ছপ। তিনি থাকতেন সিঙ্গার দ্বীপের এক পাহাড়ের মস্ত গুহায়। গায়ে ভীষণ জোর ছিল কিচলু রাজার। পাণ্ডবরা তাঁকে গিয়েই ধরলেন। বললেন যে, উত্তরাখণ্ডে গিয়ে তাঁদের জন্যে ধরিত্রী মাকে নিয়ে আসতে হবে। ধরতি-মাকে। কিচলু রাজা পাণ্ডবদের অনুরোধে সেই পাহাড়ের মধ্যের গুহাতে এক ফাটল ধরিয়ে সেই ফাটল বেয়ে উত্তরাখণ্ডে নেমে গিয়ে কী করে উত্তরাখণ্ডের মাটি গিলে ফেলে পেটের মধ্যে করে তা শেষমেষ সিঙ্গার দ্বীপে নিয়ে এলেন এবং ধরতি-মাতা থেকেই কী করে পৃথিবীতে মাটি এল এবং কী করে পৃথিবী ধান, জওয়ার, বাজরা, কাড়ুয়া সরগুজা, তামাকু এবং বন-বনানী আর ফুলে, ফলে ভরে উঠল সে অনেক লম্বা গল্প।

    ধরতি মাতা পৃথিবীতে আসার পর সিঙ্গার দ্বীপের সমুদ্রে গা-ডুবিয়ে বসে-থাকা নাঙ্গা বাইগার তলব পড়ল। নাঙ্গা বাইগার স্ত্রী নাঙ্গা বাইগীন থাকা সত্ত্বেও নাঙ্গা বাইগার প্রকাণ্ড পুরুষালী চেহারাতে মুগ্ধ হয়ে ধরতি-মাতাও তাঁর স্ত্রী হবার বাসনা দেখালেন। তারপর থেকে সিঙ্গার দ্বীপে থেকেই গেলেন ধরতি-মাতা নাঙ্গা বাইগারই সঙ্গে, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে। নাঙ্গা বাইগীনও থাকলেন আগেরই মতো। দুধবরণ নাঙ্গ-রাণী।

    এসব গল্প ঠুঠা বাইগা প্রায় ভুলতেই বসেছে। হাটচান্দ্রার পরিবেশে ও ভুলেই যায় যে ওরও একটা আলাদা জগৎ কখনও ছিল।

    রাত এখন কত কে জানে?

    নদীর কাছের কোনও বড় গাছের ডালপালা ঝাঁকিয়ে হনুমানেরা রাতের ঝিঁঝিঁর ডাকের একঘেয়েমি ছিঁড়ে দিয়ে হঠাৎ হুটোপুটি করে ডেকে উঠল। বাঘটা এখন নিশ্চয়ই ওদিক দিয়ে চলেছে। হয়তো নদী পেরোবে। কখন যে ঠুঠা আর দেবী সিংকে অলক্ষ্যে দেখে সে চলে গেছে তার পথে, বুঝতেই পারেনি ঠুঠা। যদিও জেগে বসে, গাছে হেলান দিয়ে চুট্টা খাচ্ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }