Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৩. বিজলীর কাছে যাওয়া হয়নি

    ৩৩

    বিজ্‌লীর কাছে যাওয়া হয়নি আর। যাওয়া উচিত ছিল। পৃথু বড় কামিনা হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। এমন ছিল না ও আগে।

    বেচারি বিজ্‌লী। কত কষ্ট ওর। সত্যিই বেচারি ভারী কষ্ট করে। সকালে নাকি এক বয়স্কা বাঈ-এর কাছে নাচের তালিম নেয়। দুপুরে রান্না বান্না সেরে জিরিয়ে নেয় একটু। সন্ধে লাগতে না লাগতেই সাজ গোজ করতে হয়। গোলাপের আর ঈত্বরের গন্ধে আর ঝাড় লণ্ঠনের আলোতে কিছুক্ষণের জন্যে হলেও তার মনটা খুশিতে ভরে ওঠে।

    রাত নামলেই মুজ্‌রো। তবে আসরে তো আর আজকাল নাচ-গানের পরীক্ষা বেশি হয় না। মুজ্‌রো ওই নাম-কা-ওয়াস্তেই। যতক্ষণ না ফরাসে বা কামরার কাঁচের-দেওয়াল-ঘেরা পালঙ্কে অথবা জাজিমেই স্পর্শদোষ না ঘটে ততক্ষণ কি আর ছুটি হয়? তারপরও হয়তো রেহাই পায় না। কত রকমের পুরুষই না আসে!

    পৃথুর হঠাৎ হাসি পেল খুউব। সব পুরুষই বোধহয় এমনই ভাবে। নিজে ভাল এবং অন্য সকলেই খারাপ! পৃথু তো নিজেই গেছিল। মত্ত অবস্থায়। খুনি বা ডাকাতেরই মতো। তার সঙ্গে যেমন ভাল ব্যবহার করেছিল বিজ্‌লী, সকলের সঙ্গেই হয়তো তেমন ব্যবহারই করে।

    বিজ্‌লীর কথা মনে হলেই তাকে খুব দুঃখ দিতে ইচ্ছে করে পৃথুর। মেয়েটার ইমানদারি বাজিয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। ওকে কাঁদাতে ইচ্ছে করে খুব। কুর্চিকে বা রুষাকে সামনে কাঁদতে দেখলে যে পৃথুর বুকের মধ্যে কষ্ট হয় সেই পৃথুই বিজ্‌লীকে কাঁদাতে চায়। এ তার বুকের গভীরের নিষ্ঠুরতা। যা সাধারণত ছাই-চাপা থাকে। পৃথুর মধ্যে অনেকগুলো মানুষ বাস করে যে!

    বিজ্‌লীর কপালে খুবই দুঃখ আছে। পৃথু ঘোষের মধ্যের সাডিস্ট-সত্তা বিজ্‌লীকে খুব কষ্ট দিতে চায়। ও তো বাজারের মেয়েছেলেই। ওর তো গুমোর নেই, স্বামীর গরম বা গর্ব নেই। ওর শরীর এবং মনও হয়তো ব্যবহৃত, ব্যবহৃত, ব্যবহৃত হয়ে শুয়োরীর মাংস হয়ে গেছে। ওকে নিয়ে তো খুশি মতন ছিনিমিনি খেলাই যায়! কাউকেই কৈফিয়ৎ দেবার নেই। তালাক। তালাক। তালাক। তিনটি শব্দ সময় মতো না বলতে পারার জন্য জীবনভর গঞ্জনা সওয়া নেই, সাত-পাকে বাঁধা স্ত্রীর ভর্ৎসনা নেই। বিজ্‌লী তো বিজ্‌লীই। রাণ্ডী বিজ্‌লী।

    ম্যানেজারবাবুর বাড়িতে প্রথম আলাপ হয়েছিল কুর্চির সঙ্গে। সেদিন কুর্চি সাদার উপর হলুদ পোলকা ডট-এর ছিটের একটি ফ্রক পরেছিল। মাথায় সাদা রিবন। সাদা জুতো। ম্যানেজারবাবুর স্ত্রী করুণা-কাকিমা আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন পৃথু এই যে, এর নাম কুর্চি। এও ভাল গান গায়। নিমুবাবুর মেয়ে ও।

    কুর্চি তো ফুলের নাম!

    কিশোর পৃথু বলেছিল।

    কিশোর পৃথু অবাক বিস্ময়ে বালিকা কুর্চির দিকে মুগ্ধ বিস্ময়ে চেয়ে বলেছিল।

    তাইই তো! মানুষ বুঝি ফুল হতে পারে না?

    সপ্রতিভ কুর্চি উত্তরে বলেছিল।

    এখনও স্পষ্ট মনে আছে পৃথুর। কী করে কেটে গেল বছরগুলো। অথচ আয়নার সামনে যখনই দাঁড়ায়, বাথরুমে বা বেসিনে তখন নিজের সেই ছোটবেলার মুখটাকেই দেখতে পায়। চার বছর বয়স থেকে রোজই দেখছে তো। সেই মুখটার বয়স বাড়েনি। তবে ছেলেবেলার কোনও বন্ধুর সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে গেলে আঁতকে ওঠে ও। বন্ধুকে যদি এমন দেখতে হয়ে গিয়ে থাকে, তার যুবক-মুখকে খুঁজে না পায় যদি, তবে সেও নিজেও নিশ্চয়ই অনেকই বদলে গেছে। ভেবেই মন খারাপ হয়ে যায়।

    অফিসার চেয়ারে বসে এই সবই ভাবছিল পৃথু। ভাবনাগুলোর কোনও খেই থাকে না আজকাল। ওর মনোসংযোগ নষ্ট হয়ে গেছে। আবোল-তাবোল উল্টোপাল্টা ভাবে। পাগলামির আগের স্টেজ। বুঝতে পারে।

    ছুটি হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। ইতোয়ারিন আসবে ওকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে। ওর বরের জ্বর ছাড়েনি এখনও। বুকের ব্যথাটাও যায়নি। পৃথুকে ডেকে পাঠিয়েছে। আজ যাবে। বিজ্‌লীর কাছে যাওয়া হল না। অথচ যাওয়া উচিত। বিজ্‌লীর প্রায়রিটি সবচেয়ে পরে। গুগ্‌গা-ইতোয়ারিনের স্বামীর স্থানও বিজ্‌লীর অনেক উপরে।

    সেদিন সকালে বিজ্‌লীকে বলেছিল পৃথু, এত কষ্ট করার দরকার কী? বাজাবেই যদি তো গান গাওয়া কেন? নাচটা রাখো, ফিগার ঠিক রাখার জন্যে। আর মাঝে সাঝে বাজাও। না-বাজালে যখন চলেই না।

    বিজ্‌লী বড় আহত হয়েছিল। বলেছিল আপনিও এ কথা বলবেন তা ভাবিনি! গান ছেড়ে দিলে যে চলে সে তো আমিও জানি। কিন্তু আমি যে গান গাই তা তো কোনওদিনও ময়লা-কুচলা হবে না পিরথুবাবু! আমি নিজে তো একদিন তবাহ হয়ে যাব। ফান্দাবাজি করেই তো নিজের পেট চালাতে হবে। এই আমাদের নসীবী। “কিম্‌তি চীজ”, “কিম্‌তি চীজ” শুনতে শুনতেই একদিন জওয়ানী শেষ হয়ে যাবে। সব কিছুরই তো শেষ থাকে পিরথুবাবু। যেদিন জওয়ানী শেষ হয়ে যাবে; পুরুষরা আর মচ্ছির মতো আমার উপর পড়বে না এসে, সেদিন? সেদিন কী নিয়ে বাঁচব আমি বলুন? গানই তখন রইবে আমার সাথী হয়ে। একমাত্র সাথী।

    ওয়াহ। ওয়াহ! মনে মনে বলেছিল পৃথু। “আমার শেষ পারানীর কড়ি কণ্ঠে নিলেম গান, কণ্ঠে নিলেম”। আবার সেই সাদা-দাড়ির বৃদ্ধ। নিস্তার নেই। তাকে বাদ দিয়ে বাঁচার উপায় নেই; মরার উপায় নেই।

    পৃথু বলেছিল, পৃথু ঘোষ আর কজন আছে? শুধু তোমার গানের জন্যেই তোমার কাছে আসবে সেদিন এমন মানুষ কি খুব বেশি পাবে? গান শোনার মতো জিন্দা-দিল আজ সজাগ-কান কজন মানুষকেই পাঠান খুদাহ?

    বিজ্‌লী হেসেছিল।

    বলেছিল, পাব পাব। আপনাকে খুঁজে পেলাম কী করে? আপ যৈসী ইনসান যে-দুনিয়ায় থাকে সে-দুনিয়াতে গান থাকবেই। গানই যেদিন শুনবে না মানুষ, গানকে ভাল বাসবে না; সেদিন এই দুনিয়াই বরবাদ হয়ে যাবে।

    সত্যিই। বিজ্‌লী কোনও রকম ঈজৎতারিফ-এর মোহে পড়ে গান শেখেনি। তার শিল্প-সাধনাতে ফাঁক ছিল না এককণাও। তার জওয়ানী গুজর যাওয়ার পরও তার এই সুন্দর পবিত্র শিল্পকে আশ্রয় করেই সে বাঁচবে। শুধু শরীরেই নয়; মনেও। একজন শিল্পীর বাঁচা তো কখনই শরীর-সর্বস্ব হতে পারে না। বাঃ। বাঃ। ভাবলেও ভাল লাগে পৃথুর। একেকজন মানুষের প্রতি একেকরকম শ্রদ্ধায় মন নুয়ে আসে। ভাগ্যিস, শ্রদ্ধা এখনও করতে পারে অনেককে। সেইটুকুই আশার কথা। আয়ী সাহাব।

    চমকে উঠল পৃথু।

    ভাবনার রাজ্যে কোথায় যে চলে গেছিল!

    এত দেরি করে এলি তুই ইতোয়ারিন? ফিরতে আমার রাত হয়ে যাবে যে অনেক।

    তুমি তো জঙ্গলেরই মানুষ সাহাব। আমাদেরই মতো। জঙ্গলে তোমার ভয় কী? এখনও তো পুরো শীত। সাপের ভয়ও নেই তো এখন। চলো সাহাব। তোমার কথা বারবার বলছে ও।

    ডাক্তার গেল না শেষ পর্যন্ত?

    না।

    তোকে যে বললাম ঝিংকু ডাক্তারকে নিয়ে যা ভিজিট দিয়ে।

    সে তো অনেকই খরচের ব্যাপার। আমাদের বস্তিতে বাপ-দাদার জন্মে কেউ কখনও হ্যালোপ্যাথী ডাক্তারকে ভিজিট দিয়ে নিয়ে যায়নি।

    হ্যালোপ্যাথী নয়, অ্যালোপ্যাথী।

    ওই হল। আমাদের চিকিৎসাই করাব আর দু-একদিন দেখে নিয়ে। গাওয়ানকে বলে রেখেছি। ওঝাকেও ডাকব।

    তাহলে আর আমাকে কষ্ট দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিস কেন এতদূর? আমি তো ডাক্তার নই, পাহান বা ওঝাও নই।

    তোমার সঙ্গে ওর অন্য ব্যাপার। তোমাকে খুবই ভালবাসে। কেন, জানি না। কিন্তু বাসে; ভাল।

    চল।

    চল্।

    বলে, ইতোয়ারিনের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ল পৃথু।

    কারখানার হ্যালোজেন ভেপার ল্যাম্পের গাঢ়কমলা রঙা আলোটা পেছনে ফেলে জঙ্গলের পথে ঢুকতেই জঙ্গলকে অন্ধকারতর বলে মনে হল। জঙ্গলের মধ্যে মধ্যে চড়াই-উৎরাই এ রাস্তা। শীতের রাতের বনের গায়ের গন্ধ মনে হয় থম মেরে আছে। কিন্তু আসলে ধীরে ধীরে উড়ে যাচ্ছে অন্ধকার আকাশের তারাদের দিকে।

    চলতে চলতে নিচু গলায় স্বগতোক্তির মতো বিড় বিড় করে কথা বলছে ইতোয়ারিন। গেঁহু বাজরার হিসেব। হাট থেকে মোরগ-মুরগি কিনেছিল চারটে ডিমের ব্যবসা করবে বলে, খাটাশে খেয়ে গেছে তাদের। একবার ছাগলের ব্যবসাও করতে চেয়েছিল। শোনচিতোয়াতে নিয়ে গেছে ছাগল। কানহা-কিস্‌লির জানোয়ারেররাও আসে। পুরো পার্কের সীমানাতে তো আর পরিখা কাটা নেই। তাছাড়া জানোয়ারেরা তো আর রাস্তা ধরে চলে না! তবে সুখের কথা এইই যে, ওরা ওদের একমাত্র মেয়েটার বিয়ে দিয়েছে। গাব্দাগোব্দা নাতি হয়েছে একটা। মালাঞ্জখণ্ডে কাজ পেয়ে চলে গেছে দামাদ। ভালই আছে। ভাল খাচ্ছে। মেয়ের মাথায় তেল, গায়ে সাবান জোটে; সিনেমা পর্যন্ত দেখতে পায় মাঝে মধ্যে। অনেক দুঃখের মধ্যে এইটেই ইতোয়ারিনের সবচেয়ে সুখের খবর। নাতিটাকে দেখতে ভারী ইচ্ছে হয় কিন্তু মাসে একবারের বেশি দেখতে পায় না। যাওয়া-আসার খরচ অনেক। মেয়েই আসে। কখনও একা। কখনও বা জামাইর সঙ্গে।

    পঁচিশ মিনিট কি আধ ঘণ্টাটাক হেঁটে যখন ওদের গ্রামে পৌঁছল তখন মাদলে চাঁটি পড়েছে, কার্মা নাচের জায়গায়। টোরা-টুরীরা এসে জমায়েত হচ্ছে একে একে। আগুনের পাশে বসে বয়স্করা মহুয়া খাচ্ছে। অন্য পাশটা ফাঁকা রাখা হয়েছে নাচের জন্যে।

    হঠাৎ অসময়ে নাচ?

    পৃথু শুধোল।

    টিনডার মাইনে বেড়েছে পাঁচ টাকা।

    পাঁচ টাকা?

    হ্যাঁ।

    কোথায় কাজ করে?

    বাজারের গুড়ের দোকানে।

    কাজটা কী?

    বস্তা সেলাই করে।

    বাঃ। বলল পৃথু।

    বলেই ভাবল, কাকে যে বলল! টিনডার, না টিনডার গুড়ের দোকানী মালিককে; না এই স্বাধীন ভারতের সমাজ ব্যবস্থাকে তা নিজেই বুঝতে পারল না। লজ্জাটা নিজের থুথুর সঙ্গে গিলে ফেলল। এই লজ্জার পেছনে তারও পরোক্ষ অবদান আছে কিছুটা।

    এই অল্প-সুখে-সুখী—টিনডাদের এই নাচের জন্যে বাহবা দিতেই হয়। মাতাল যেমন প্রতি সন্ধ্যাতে নতুন নতুন অজুহাত খুঁজে নিয়ে বোতল খুলে বসে তেমনই নাচ যাদের রক্তে আছে তারাও ছুতো বানিয়ে নেয় নতুন নতুন। পাঁচ টাকা মাইনে বাড়াটা তো একটা যথার্থ কারণই। ছুতো নয় আদৌ।

    ইতোয়ারিন বলল, এবার ডানদিকে সাহাব।

    ডানদিকে ঘুরতেই কার্মা নাচের জায়গার আলোটা মুছে গেল। গভীর অন্ধকার এখন। হঠাৎ আলোর মধ্যে এসে পড়ায় চোখ বেঁধে গেছিল। টর্চটা জ্বালল পৃথু। ইতোয়ারিন লাউগাছে ছাওয়া কাঠের বেড়ার ফাঁকের দরজা দিয়ে আগে ভিতরে ঢুকে আপ্যায়ন করে বলল, আইয়ে।

    দুটি ছোট ছোট ঘর— একই চালার নীচে। জংলিবস্তির ঘর যেমন হয় আর কী! মাটির, সামান্য চওড়া বারান্দা। একটি ঘরে ছাগল-মুরগি জিনিসপত্র থাকে। অন্য ঘরে খাওয়া-শোওয়া। সবকিছু। ঘরের মধ্যে কেরোসিনের টেমি জ্বলছিল একটা। পৃথু ঢুকতেই, গুগ্‌গা মাটির মেঝের ওপরে পাতা কাঁথার ওপর উঠে বসার চেষ্টা করল। তারপর না পেরে, শুয়ে পড়ল আবার। হাসল একটু। পৃথুও হাসল, সহকর্মী সহকর্মীকে দেখে যেমন হাসি হাসে; সহমর্মিতার হাসি, কমরেডশিপ-এর হাসি, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কাজ করার সুখ-দুঃখের হাসি।

    কী হল? যাবে না কাজে? হলটা কী তোমার? বুড়ো হয়ে গেলে নাকি সত্যি সত্যিই?

    উত্তরে ও বুকের ওপর হাত রেখে দেখালো, বুকে ব্যথা।

    কাল আমি ঝিংকু ডাক্তারকে পাঠিয়ে দেব। যা বলবে, করতে হবে কিন্তু ট্যাঁ-ফোঁ করবে না কোনওরকম।

    ও হ্যাঁ-ও করল না, না-ও করল না পৃথুর কথায়। ওর মুখ দেখে পৃথুর মনে হল না যে, শরীরের কারণে ও খুব বেশি চিন্তিত।

    অবাকই হল একটু পৃথু।

    তারপর ও ইশারাতে ইতোয়ারিনকে ঘরের বাইরে যেতে বলল। তাতে ইতোয়ারিনও অবাক হল না কম। পৃথু তো হলই।

    ইতোয়ারিন চলে গেলে, গুগ্‌গা চাপা গলায় বলল, আমার অসুখের জন্যে তোমাকে ডাকিনি পাগলা সাহাব। বুড়ো হলে অসুখ করেই। একদিনও না কামাই করেই তো গত পঁচিশ বছর কাজ করলাম কারখানায়। তুমি আসার পাঁচবছর আগে থেকেই। তার আগে বিড়িপাতার ঠিকাদারের কাছেও তিরিশ বছর কাজ করেছি। মাইসে সুদ্ধ যদি মাস দুয়েক ছুটি দাও তাহলে এই শুয়ে-বসেই আমার শরীর সুস্থ হয়ে উঠবে।

    তুমি তো জানো যে…।

    পৃথু বলল।

    গুগ্‌গা বলল, জানি আমি। আমি কিন্তু সে জন্যেও তোমাকে ডাকিনি।

    এবার আরও অবাক হল পৃথু।

    শুধোল, তবে?

    আমি আর কাজ করব না।

    নিজে থেকেই ছেড়ে দেবে? তা এর জন্যে আমাকে ডাকার কী ছিল? এমনিতেই তো ছাড়তে পারতে। কিন্তু কাজ ছাড়লে খাবে কী?

    খাব, যা হোক কিছু করে। বুড়ো মানুষের খেতে বেশি কী লাগে?

    তোমার কথা বুঝছি না আমি। খুলে বলো যা বলবে। যা বলছ, ভাল করে ভেবে বলছ কী?

    ভাবাভাবি শেষ। আমার আর ইতোয়ারিনের বদলে আমার মেয়ে-জামাইকে চাকরি দাও সাহাব।

    সে কী?

    তোমার জামাই না এত ভাল চাকরি করে? ভাল থাকে, ভাল খায়, সরকারী কারখানাতে তবু?

    ভাল চাকরিই তো বিপদ ডেকে আনল সাহাব। দামাদটা আমার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটাও।

    যার যতটুকু টাকার যোগ্যতা, যার যেরকম জীবনে অভ্যেস, প্রয়োজন, তার চেয়ে হঠাৎ বেশি টাকা হাতে এলে মানুষ নষ্ট হয়ে যায় সাহাব। বরবাদ হয়ে যায় বিলকুলই।

    কেন তুমি এরকম ভাবছ? এত লোক মালঞ্জখণ্ড-এ কাজ করছে, সকলেই কি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? পাগলের মতো কথা বলছ তুমি।

    সকলের সেই বুদ্ধিই নেই। যখন তারা নষ্ট হয়ে যায়, তখন মনে ভাবে তাদের ভীষণই ভাল হচ্ছে বুঝি। না, না, আমি বেঁচে থাকতে তা হতে দিতে পারি না। তুমি আমাকে চেনো, জানো; ভালবাসো। তোমার ক্ষমতা আছে আমাদের বদলে আমার মেয়ে আর দামাদকে নিয়ে নেবার। নতুন লোক তো আর নিচ্ছ না!

    শেষের দিকে গুগ্গার গলাটা জোর হল। এবং ওর কথা শেষ হতে না হতেই বাইরে থেকে ইতোয়ারিন ঢুকল ঘরে। উত্তেজিত হয়ে বলল, এই জন্যেই পাগলা সাহেবকে ডাকা? পাগল হয়েছিস তুই। গাধা কোথাকার! দামাদ, মেয়েকে যে ভাল রেখেছে, ভাল পরাচ্ছে, দুজনে মিলে ফুর্তি করছে তা বুঝি তোর সহ্য হচ্ছে না? তুই আমাকে কী করে রেখেছিস সারাজীবন? তাও তো নিজে বসে খাইনি। দুজনে কামিয়েও দুটি সুখা-রোটি ছাড়া জোটেনি বলতে গেলে কিছুই, সামনেই বলছি, এইই তো ছাতার কোম্পানি তোদের!

    আঃ! ইতোয়ারিন্‌। তোরা কী সবই বুঝিস? তোরা সব বুঝিস না। তোরা দূর অবধি দেখতে পাস না তাইই এমন বলিস। এমন ভুল করিস না। ভাল থাকা আর ভাল খাওয়ার চেয়েও আরও অনেক বড় ভাল আছে। আমাদের এই বস্তিতে শান্তি আছে, সুখ আছে, বিশ্বস্ততা আছে। ছেলেমেয়েরা নষ্ট হয়নি আজও। অন্য লোকের বউকে ধরে কেউ টানাটানি করে না, টাকা দিয়ে কেউ কাউকে লোভ দেখায় না, আর যদি তা করেও বা লোভও দেখায় তা হলেও গাওয়ান-এর সামনে তার ফয়সালা হয়। তাকে বিয়ে করে ঘর করতে হয়।

    কোন আমলের লোক রে তুই? অজীব আদমী সচ্‌মুচ্‌। যে শুনবে, সেই হাসবে, দিমাগ খরাপ হো গ্যয়া তেরা। বে-অকল্‌ আদমী।

    গুগ্‌গা এক ঝটকায় উঠে বসল, গায়ের ছেঁড়া কম্বল মাটিতে ফেলে দিয়ে। ওর চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠল।

    নাকের পাটা ফুলিয়ে বলল, আমি ওখানে গিয়ে ওদের সঙ্গে থেকে এসেছি। ওখানে লোভ আছে। নানারকম লোভ। চক্‌চকে ময়ালসাপের মতো সেই লোভ সবসময় টানছে সবাইকে। ওরা নষ্ট হয়ে যাবে ইতোয়ারিন। টাকাটাই সব নয়, ওরা নষ্ট হয়ে যাবে, ফিরে না এলে।

    বলেই, গুগ্‌গা আবার শুয়ে পড়ল। তার কপালময় বলিরেখা, বড় ক্লান্ত তার মনের ভাবটি; অনেকদিন না-কামানো গলাময় সাদা-কালো দাড়ি, কিন্তু মুখটির মধ্যে এক গভীর প্রশস্তি, যেমন প্রশান্তি দিগা পাঁড়ের মুখে পৃথু দেখে।

    গুগ্‌গা ডান হাতটা উপরের দিকে তুলে, হাতের পাতাটা ছড়িয়ে দিয়ে বলল, সব নষ্ট হয়ে যাবে দেখিস তুই, দেখিস ইতোয়ারিন, এই টাকা, এই ট্রানজিস্টার, মো-গাঁওয়ের ওই চোখ-ঝলসানো হাট, এই সিনেমা মিলেমিশে সবকিছুই নষ্ট করে দেবে, যা কিছু ভাল ছিল আমাদের, যা কিছুই আমাদের বাপ-দাদারা যুগযুগ ধরে এই জঙ্গল-পাহাড়ের বুকের মধ্যে সাবধানে গড়ে তুলেছিল! গুগ্‌গার মেলে-দেওয়া হাতের পাতার ছায়াটা পড়েছিল কেরোসিন-টেমির আলোর বিপরীতে, মাটির দেওয়ালে। হাতটা দোলাচ্ছিল গুগ্‌গা। মস্ত একটা কাল-কেউটের কালো ফনার মতো ভয়ের ছায়া দুলিয়ে দিল সেই ছায়াটা মুহূর্তের মধ্যে।

    হঠাৎই গা-ছমছম করে উঠল পৃথুর।

    ইতোয়ারিন গাল দিল আবার। বাইগা ভাষায়। গুগ্‌গাকে।

    পৃথু, গুগ্‌গার হাতটা মুঠোয় নিল। কালো সাপের ফনাটার দোলা বন্ধ হল। আশ্বস্ত হল পৃথু। বলল, আমি এখন চললাম। তোমরা ঝগড়া করো। তুমি যা বললে গুগ্‌গা, আমার পক্ষে সেটা করা মুশকিল হবে না। কিন্তু কী করবে না করবে, তা তোমরা দুজনেই ঠিক করে তারপর আমাকে জানাবে।

    পৃথু উঠে, নিচু দরজা দিয়ে মাথা হেঁট করে বেরোতে বেরোতে বলল, কাল ঝিংকু ডাক্তারকে পাঠিয়ে দেব আমি।

    গুগ্‌গা গোঙানির মতো বলল, না। না। আমাদের সময় শেষ হয়েছে। মরলেই আমি খুশি হব।

    সে কথার উত্তর না দিয়ে দুজনকেই চলি বলে বেরিয়ে পড়ল পৃথু।

    কার্মা নাচের জায়গায় তখন নাচ-গান জমে উঠেছে। ভিড় জমেছে এখন। ভিড়ের মধ্যে তাকে চিনলও কয়েকজন। অনেকেই উঠে দাঁড়িয়ে, আদর করে বসতে বলল ওকে যদিও হাটচান্দ্রার কারখানায় এই বস্তির খুব কম লোকই কাজ করে। মহুয়া খেতেও অনুরোধ করল হাতজোড় করে। নাচতে-নাচতে সরু-কোমর, ভারী-বুকের করৌঞ্জ আর নিমের তেলে চকচকে যুবতীরা কুর্নিশ জানাল।

    নাঃ। না, নাঃ। বড় বিষণ্ণ হয়ে গেল পৃথু। ঠিক এইরকমই খোলা-মেলা, সহজ-সুখের উদোম রোদ-চাঁদের বুনো-গন্ধের জীবন চেয়েছিল পৃথু। হল না। এ জন্মে কিছুই হল না…

    ওরা আবার ডাকল। মেয়েগুলো কলকলিয়ে উঠল স্বগতোক্তিতে এক ঝাঁক পরিযায়ী হাঁসের মতো, তাদের মরালী-গ্রীবা বেঁকিয়ে।

    পৃথুর বুকের মধ্যে কষ্ট হচ্ছিল। না। ন্‌ না। পরে আসব। অন্য কোনও দিন। বলল পৃথু। আসলে বলতে চেয়েছিল অন্য কোনও জন্মে…আসব… ঠিক…।

    অনেক কষ্টে ওদের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে এগোল। বস্তির কাঠের গুঁড়ির আগুনের আলোকে পিছনে ফেলে, দূরের বিজলি-আলো আর বিজ্‌লীর দুরের হাটচান্দ্রার দিকে পা বাড়াল। জঙ্গলের মধ্যে এসে পড়তেই ভাল লাগতে লাগল খুব। মাথাটা পরিষ্কার হয়ে গেল। পথের বাঁদিকে একটি ঝোরা মতো আছে। অন্ধকারে তার সাদা বালিরেখা দেখা যাচ্ছে। ঝোরার এক পাশের খাত দিয়ে পাথরে পাথরে জেদি শিশুর একঘেয়ে নিচু-স্বরের কান্নার মতো জল বয়ে চলেছে ভেজা, একটানা আওয়াজে। একটা কোট্‌রা হরিণ হয়তো পৃথুর পায়ের আওয়াজ পেয়েই বা ওকে দেখেই, হঠাৎ ব্বাক্ ব্বাক্ ব্বাক্‌ করে ডেকে উঠল। অন্ধকার আকাশের তারারাও যেন চমকে উঠল সেই ডাকে পথের সামনের ঘনসন্নিবিষ্ট বয়ের গাছের সারির সঙ্গে।

    একমুহূর্ত থমকে দাঁড়াল পৃথু। আগে, একেবারেই নিঃশব্দে চলাফেরা করতে পারত। আজকাল সেই সুঅভ্যেস ছেড়ে যাচ্ছে, আরও অনেক সু-স্বভাবেরই মতো। টর্চটা একবার ওদিকে ফেলে, ঘোরাল এদিক ওদিক, পাহাড়ের পায়ের কাছেও, ঝোরার সাদা গায়ে। বাঘ তো আছে এদিকের বনে পাহাড়ে অনেকেই, পৃথু ঘোষ ছাড়া অনেকই বাঘ আছে। অতি-সাহস ভাল নয়। জঙ্গল-পাহাড় বাহাদুরি-প্রবণতা সহ্য করে না। গত মাসেই বম্বে থেকে আসা এক বার্ড-ওয়াচার নাক তুলে উঁচু ডালে পাখির খোঁজ করতে করতে হেঁটে গিয়ে এক ঘুমন্ত বাঘের ঘাড়ে পড়ে তার ঘাড়টি খুইয়ে গেল। জঙ্গলে কেউ প্রজাপতিই ধরুক, পাখিই দেখুক, ফোটোই তুলুক অথবা প্রেমই করুক তাকে সব সময় জঙ্গলে অলিখিত আইন-কানুন মেনে চলতেই হবে। না-মানলেই বিপদ। সেই সব নিয়ম পৃথু ঘোষ ভুলে যাচ্ছে আস্তে আস্তে, চর্চার অভাবে।

    দুপেয়ে পৃথুকেই দেখল কোটরাটা না কোনও চারপেয়ে বাঘকে তা জানা নেই। টর্চটা ঘুরিয়ে নিল একশ আশি ডিগ্রী। বিভিন্ন উচ্চতাতে। বার তিনেক। নিজের পেছনেও দেখল। টর্চ নিভিয়ে দিয়ে একটুখন চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল চোখে অন্ধকার সইয়ে নিতে। তারপর আবার এগোল।

    চড়াইটা নেমেই উৎরাই। পায়ে চলা পাকদণ্ডী পথ। সম্বর, বারাশিঙা, কোটরা, শুয়োর, চিতল চিতা, কখনও-সখনও বড় বাঘও ব্যবহার করে এই পথ রাত গভীর হলে। আরও দুটো চড়াই আর উৎরাই উঠে নেমে, বাঁদিকে একটা ছড়ানো সেগুন প্ল্যানটেশান পড়বে। সেইখানে মাঝে মাঝে বাইসনেরা চলে আসে। ইতোয়ারিন বলছিল। ওই জায়গাটার আগে পৌঁছে একবার টর্চ ফেলে দেখে নেবে। খালি-হাতে অন্ধকারে বাইসনের ভুঁড়ির সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার ইচ্ছে নেই কোনও। হাঁটতে হাঁটতে, অন্ধকার রাতের শিশিরভেজা বনের মিশ্রগন্ধে বুঁদ হয়ে ইতোয়ারিন আর তার স্বামীর কথা ভাবছিল পৃথু। ভাবছিল তাদের অদেখা মেয়ে-দামাদের কথা। এই প্রজন্ম, এই প্রজাতি শেষ হয়ে আসছে, সুদূর উত্তর আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান প্রজাতি মোহিকানসরা? গুগ্‌গাও আরেকজন শেষ লোক; লাস্ট অফ দ্যা মোহিকানস্-এরই মতো। এক ক্রম-বিলীয়মান কৃষ্টি, সংস্কার, বিশ্বাস এবং বোধকে আঁকড়ে ধরে আছে ও এখনও। কে জানে? গুগ্‌গাই ভুল না ইতোয়ারিন? ভবিষ্যতই বলতে পারে একমাত্র। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থকরী-বিদ্যা, বাড়ি-গাড়ি, বিদ্যুৎ, অ্যাটম যা-কিছুই আপাতসুখ, আপাত-বৈভব, আপাত-দম্ভ আমাদের দিয়েছে তার কতটুকু আমাদের পক্ষে ভাল তা আমাদের নিজেদেরই চোখের জলে আবিষ্কার করতে হবে পরে। পৃথু একটা ব্যাপারে গুগ্‌গার সঙ্গে একমত। এই বিজ্ঞান, যে বিজ্ঞানের দম্ভে মানুষ ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে তা আসলে বোধহয় কিছুই উদ্ভাবন করেনি, কিছুই করেছে সবই নিছক আবিষ্কার। সবই ছিল। যা ছিল তাইই আবিষ্কার করে আত্মশ্লাঘায় মানুষ বেঁচে রয়েছে। আধুনিকতম বিজ্ঞানের যা অবদান তা লিভিংস্টোনের অবদানেরই মতো। তারচেয়ে বেশি কিছু নয়। পৃথু জানে, যে সকলে তাকে মহামূর্খ, ইমবেসাইল, স্টুপিড, ইললিটারেট বলে এই মনোভাবের জন্যে। রুষা ও ছেলেমেয়েরাও বলে। পৃথু কিছুই বলে না উত্তরে তাদের। বলে, ভাবো। নিজের মতো করে ভাবো একটু। একটু চুপ করে থাকো। একা থাকো। ভাবার ক্ষমতা মানুষ ছাড়া আর কারওরই নেই। ভাবো। সবসময় পরিবৃত থেকো না, “টাইম-কিল” করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ো না গো তোমরা, সময়কে হাতে নিয়ে সুন্দর কোনও হলুদ-বসন্ত পাখির মতো। তাকে ভালবাসো, তার ডানার রঙে নিজেদের রাঙিয়ে নাও। মানুষ যে তোমরা! মানুষের মতোই হাবভাব হোক তোমাদের একটু! এবারে সেগুন প্ল্যানটেশানের কাছাকাছি এল। পৃথু ভাবছিল, কে জানে, হয়তো গুগ্‌গার ভয়টা একেবারে অমূলক নয়। ওদের বস্তি নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে ও যেমন ভীত, তেমনই পৃথুও জানে যে হাটচান্দ্রাও নষ্ট হয়ে গেছে। যেখানে প্রযুক্তি, কল-কারখানা, মুনাফার লোভ সেখানেই স্বাভাবিকতা, সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। যেখানে অনেক উজ্জ্বল মার্কারি-ভেপার হ্যালোজেন-ভেপারের আলো, চকচকে গাড়ি, চোখ-চমকানো বাড়ি, যেখানে টাকা, অঢেল টাকা, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রয়োজনের অনেকই বেশি অপ্রয়োজনীয় টাকা, সেই হাটচান্দ্রার পরিবেশও নষ্ট হয়ে গেছে। পৃথিবীর কোনও তালেবর ইকোলজিস্টও আর পরিশোধন করতে পারবেন না এর দূষণ। এখানে, ইদুরকার, রুষা, পৃথু, বিজ্‌লী, ইমম্যাটেরিয়াল ম্যানেজার শর্মা, ভগয়ান শেঠ, ডাকু মগনলাল এরা সকলেই থাকে।

    আর কুর্চি? কুর্চিও তো থাকে কাছাকাছি।

    না, না, কুর্চি নষ্ট হয়নি। কুর্চি নষ্ট হলে কী নিয়ে বাঁচবে পৃথু। তার শেষ অবলম্বন যে কুর্চি। তার বাতিঘর। কুর্চি তো ফুল। ফুল যে কখনই নষ্ট হয় না, অন্যকে নষ্ট করে না। জন্ম, বিবাহ, জরা মৃত্যু সবকিছুকেই ফুল সম্রান্ত করে দেয়। মৃত্যুকেও। সাধারণকে অসাধারণ করে।

    না, না, কুর্চি, কুর্চিই। কুর্চি আর কারও মতো না। একবারে আলাদা মানুষ সে।

    হাটচান্দ্রার পৃথুর, গুগ্‌গার কথা শুনে, ভেবে, নিজের জন্যে, হাটচান্দ্রার সকলের জন্যে বড় কষ্ট হচ্ছিল। ভাগ্যিস এই অন্ধকার রাত ছিল। বড় বড় গাছ ছিল জঙ্গলে, পাহাড়ের আড়াল ছিল, তার কোলে গাঢ় অন্ধকার ছিল, ভাগ্যিস এই সচেতন অথচ লজ্জিত, অনুতপ্ত, মুখটাকে লুকোবার জায়গা ছিল অনেকই চারদিকে। আঃ। জঙ্গল সকলকে, সব বোধকেই আব্রু দেয়। রাতের জঙ্গল তো বটেই! এখানেই কেউই বে-আব্রু হয় না। এই পরম নিশ্চিন্তি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }