Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৪. চিঠিটা পড়া শেষ করে

    ৩৪

    রাইনা/১৯–১২

    পৃথুদা,

    ডিসেম্বরের শেষে আমরা ভোপাল, ভীমবৈঠকা, আর ইন্দোর যাচ্ছি।

    ওর কী সব কাজ পড়েছে ওদিকে। বলছিল। ভোপালের হেভী ইলেকট্রিকালস্-এ আর ইউনিয়ন কার্বাইড-এর কারখানার পারচেজ ম্যানেজারদের সঙ্গে দেখা করবে।

    আমি বলেছি, সঙ্গে যাব। আপনি কি যেতে পারবেন? তাহলে মাণ্ডুতেও যেতাম। ছোটবেলার পর আর যাইনি। আপনার সঙ্গে যেতে পারলে খুবই ভাল লাগত।

    আমার বেরসিক স্বামীর সঙ্গে বেড়িয়ে সুখ নেই। হোটেলের ঘরে বসে শুধুই মদ খাবে আর গুচ্ছের খাবার। ঘরের বাইরে প্রতিমুহূর্ত যে কত কিছু ঘটে যাচ্ছে, ভাঙছে গড়ছে অনুক্ষণ, সে সব ওর জানার জগতের একেবারেই বাইরে। ও খুব বেশি করলে, হোটেলেই গুটিকয় যাচ্ছেতাই ধরনের লোক জুটিয়ে নিয়ে তাস খেলতে বসবে।

    করুক গে ও ওর যা-খুশি, আপনি যদি যান, তাহলে আমরা দুজনে বেড়িয়ে বেড়াতাম পুরনো দিনের মতো। সত্যি! পুরনো দিনের মতো।

    আমার তো মনে হয় পুরনো দিনের কিছুমাত্রই হারায়নি। অবশ্য একথাও সত্যি যে, মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছুই হারিয়ে গেছে নিঃশেষে। তবু, মনে মনে এই ভেবেই খুশি থাকি যে, ‘রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে’।

    যাবেন?

    আমার খুউব, খুউব, খুউব ভাল লাগবে তাহলে। আজকাল কেন জানি না, কিছুতেই আর ভাল লাগে না। আগে কত সহজে সুখী হতে পারতাম। শরতের শিউলিতলায়, বসন্তের ভোরের হাওয়ায়, শ্রাবণের ঘন সবুজ গহন কদম গাছের নীচের, চাপ চাপ গাঢ়-গন্ধ বৃষ্টিভেজা ঘাসের মাঠে দাঁড়িয়ে ফড়িং ওড়া দেখলে তখন মনে হত জীবনের সবটুকুই বুঝি সুখ। শুধুই সুখ। মনে মনে দুশ্চিন্তা হত যে, এত সুখ রাখব কোথায়?

    বাবা একদিন বলেছিলেন, “তোকে একটা গডরেজের আলমারী কিনে দেব কুর্চি! তোর মা বলছিলেন সুখ রাখার নাকি জায়গার অকুলান তোর?”

    কী করব! আজকাল সত্যিই কিছুতেই আর ভাল লাগে না। শুধু আপনি যখন আসেন, আপনাকে যখন একটু কাছে পাই তখন ছাড়া। তখন মনে হয় আমার সব শরতের শিউলি আর বৈশাখের ভোরের হাওয়া একই সঙ্গে এসে আমার ঘর ভরিয়ে দিল। আপনি চলে যাবার পরও আপনার গায়ের আতরের গন্ধ, পান-জর্দার গন্ধ আর ব্যক্তিত্বের গন্ধে আমার বসার ঘর, মনের ঘর, সব ভরে থাকে। ব্যক্তিত্বর সত্যিই গন্ধ থাকে আলাদা আলাদা। কোনও বদবু মানুষ এসে চলে গেলে ঘরে হায়নার গায়ের গন্ধর মতো গন্ধ লেগে থাকে আর আপনার মতো খুশবুদার কেউ এলে…। আমার নাক গন্ধ চেনে। মানুষও।

    খুব মজা লাগে ভাবলে যে, সেই ব্যক্তি স্বয়ং নিজেই তার ব্যক্তিত্বর গন্ধ চেনে না। যে তাকে ভালবাসে, শুধু সেই-ই তা চেনে। কী যে চুরি হয়ে যায় আপনার, যতবারই আসেন আমার কাছে; তা আপনি নিজেই জানেন না। আপনি চলে গিয়েও রেখে যান আপনাকে আমার কাছে। অনেকক্ষণ!

    একজন না-পসন্দ মানুষের সঙ্গে আমার সব ভাললাগা না-লাগা যে এমন করে জড়িয়ে যাবে কখনও ভাবিনি তা। আপনি ভীষণই খারাপ। নিজের জীবনটা নিয়ে ছিনিমিনি তো খেললেনই, আমার জীবনটাও নষ্ট করে দিলেন।

    ভালই খাই; মোটামুটি ভালই পরি। আমার মতো সাধারণ মেয়ের এর চেয়ে বেশি আশা করা অনুচিত। আমার মোটা, সাদাসিধে বর আমাকে তার মতন করে ভালও বাসে। প্রত্যেক মানুষের ভালবাসার রকমই তো আলাদা আলাদা। ছেলেমেয়ে নেই বলে আমার কোনও কষ্টও নেই। ভালই তো আছি একদিক দিয়ে। ঝাড়া হাত-পা। ইটার্নাল হানিমুনও করা যেত, কিন্তু…

    চাঁদ তো থাকেই। প্রতি মাসেই ঘুরে আসে পূর্ণিমা। কিন্তু আমার জীবনের চাঁদ থেকে চাঁদ কবে যেন চুরি হয়ে গেছে। আমাদের ছেলেবেলার চাঁদ তো নেইও আর। স্পেসস্যুট পরে, স্পেস শ্যু পরে চাঁদে হেঁটে বেড়ায় মানুষ। ভাবলেও খারাপ লাগে। মানুষের এই বাড়াবাড়ি কি সত্যিই খুব দরকার ছিল?

    এখন শুধুই টক চাঁদ, নোনা চাঁদ, ঝাল চাঁদ, অ্যামেরিকার চাঁদ, রাশিয়ার চাঁদ! চরকা বুড়ির সেই রহস্যময়ী চাঁদই ভাল ছিল আমাদের।

    দেখুন! আমাদের সঙ্গে যেতে পারবেন কি না এই কথা জানতে কলম ধরে কত কী আবোল-তাবোল লিখে ফেললাম। আসলে, আমার কথা একবার শুরু করলে আর ফুরোয় না।

    মনে আছে? আপনি একবার বলেছিলেন যে, কোনও একটি চিঠিতেও যদি ‘পুনশ্চ’ না লিখি তাহলে আমাকে একটি বালুচরী শাড়ি আনিয়ে দেবেন ওয়েস্ট বেঙ্গলের বিষ্ণুপুর থেকে। আমি প্রায় পেয়েই গেছিলাম শাড়িটা যদি না সেই নিখুঁত চিঠিটির শেষে পুনশ্চ দিয়ে লিখতাম যে, “দেখলেন তো একটা পুনশ্চ নেই এইবারে”!’

    আসলে বালুচরী শাড়ির কপাল আমার নয়। আমার কপালের সঙ্গে বালুচরের মিল থাকায়ই এই বিপত্তি!

    আবারও বলছি, আমাদের সঙ্গে যেতে পারবেন কি না তা অবশ্যই জানাবেন। তখন ওকে বলে ওর কাছ থেকে নিমন্ত্রণপত্র পাঠাব আপনার কাছে। ফর্ম্যালী।

    কী বিপদ! কীরকম স্বাধীন দেখুন তো আমরা! যেহেতু বিয়ে হয়ে গেছে, যেহেতু স্বামীর পয়সায় খাই-পরি, সেইহেতু সতীত্বের পরীক্ষাতে সবসময় ফারস্ট ক্লাস হতে তো হবেই, উপরন্তু সতী থেকেও নিজের যাকে সবচেয়ে ভাল লাগে, তাকেও সঙ্গে করে কোথাও যেতে, স্বামী স্বয়ং সঙ্গে থাকলেও তার পারমিশান নিতে হবে।

    আমাকে একটা চাকরি দেবেন? পৃথুদা। না। চাকরি থাক। স্বাধীন ব্যবসা করব। সেলাইটা ভাল করে শিখি তারপর রাইনার বাজারে একটা দর্জির দোকান দেব। শুধু মেয়েরাই কাজ করবে। শুধু একজন পুরুষ। বুড়ো, নিরাপদ, মুসলমান দর্জি রাখব। মাস্টার। বুড়ো অশক্ত, খুকখুকে কাশির মানুষ খুঁজে না পেলে রাখা যাবে না। ভাঁটু ভাববে, সে বিপজ্জনক। আপনাদের বলিহারী। খোজা প্রহরী থেকে কত কীই যে আপনাদের মাথা থেকে বেরুল আজ অবধি আমাদের দখলে রাখতে!

    সত্যি! বিংশ শতাব্দীর শেষে এসেও, এই দেশের পুরুষরা আমাদের খাইয়ে-পরিয়ে রেখে যে প্রচণ্ড প্রগতি দিয়েছেন তা বাড়ির কুকুর অথবা কাকাতুয়াদেরও হাসির ব্যাপার। ধন্য আপনাদের উদারতার! জয় আপনাদের মহত্বর! দীর্ঘজীবী হোক আপনাদের এই অশেষ ঔদার্য।

    যেতে পারবেন কিনা তাড়াতাড়ি জানাবেন। নইলে আড়ি। —আপনার কুর্চি।

    চিঠিটা পড়া শেষ করে অনেকক্ষণ বসে থাকল পৃথু। জানালা দিয়ে বাইরে চেয়ে।

    খাণ্ডেলওয়াল সাহেবের সাদা ধবধবে যুবক অ্যালসেশিয়ান কুকুরটাকে নিয়ে তাঁর কালো কুচকুচে যুবতী আয়া জঙ্গলের দিকে চলে গেল।

    প্রকৃতির মধ্যেই মানব এবং মানবীর প্রকৃত মুক্তি নিহিত আছে।

    একমাত্র প্রকৃতিরই মধ্যে।

    পৃথু এক টিপ নস্যি নিল। একসময়ের সাহেব পৃথু শেষ। তারপর কাগজ কলম নিয়ে বসল।

    কুর্চি যা লিখেছে তা ঠিকই। তবে এমন অনেক স্ত্রীকেও পৃথু জানে যে, তাঁরা এই পরাধীনতাকে, খেতে পরতে পেয়েই, সন্তান পালনেই যে সুখ, সেই সুখটাকেই বড় মনে করেন। কেউ কেউ তা মনে না করলেও এই পরাধীনতার গ্লানিটা স্বীকার করতে পুরোপুরিই লজ্জিত হন। এবং হন বলেই প্রচণ্ড শব্দর সঙ্গে এর প্রতিবাদ করেন। বলেন, এই-ই হচ্ছে ভারতীয় স্ত্রীদের সনাতন ধর্ম। মহান ভারতীয় নারীর ফর্টে। আবার কুর্চির মতো অনেকে আছে। ইচ্ছে আছে, সাহস নেই। প্রচণ্ড দুরন্ততায় বাঁচতে ইচ্ছা যায় যাদের অথচ রূপোর চেনে বাঁধা ঘুমপাড়ানো কুকুরীরই মতো তাঁরাই বিত্তবান স্বামীর স্থূল দম্ভর মোজাইকটাইলস বা মার্বেলের বারান্দায় নেতিয়ে পড়ে থাকেন। যুগের পর যুগ। ঘটনা এটাই।

    পৃথুর চিঠি লেখার বহর দেখে ভুচু প্রায়ই বলে, তুমি দাদা একটা এক নম্বরের পাগল হচ্ছ। চিঠি লিখে এই ভাবে সময় নষ্ট কেউ করে! চিঠির যুগ তামাদি হয়ে গেছে। আজকাল কার্ড, টেলিফোন, এবং টেলেক্স-এরই দিন। এত লম্বা লম্বা চিঠি পড়ার সময়ই বা কার আছে? তুমি লেখো বটে, কিন্তু আমার মনে হয়, যারা তোমার চিঠি পায় তারা সোজা ওয়েস্ট-পেপার বাজেটে তা ছিঁড়ে ফেলে দেয়।

    কী জানি! পৃথু ভাবে। হয়তো ভুচু ঠিকই বলে। যে-প্রজন্মর মানুষ ও হয়তো সেই প্রজন্মটাই তামাদি হয়ে গেছে। সে কারণেই পৃথুদের মানসিকতাও তামাদি হয়ে গেছে। পুরোপুরি।

    চিঠির মধ্যে দিয়ে আমরা যতখানি স্পষ্ট করে নিজেদের প্রতিবিম্বিত করতে পারি, নামাতে পারি আমাদের ভারকে তা আর অন্য কিছু দিয়ে পারা যায়? ঘরে আগল তুলে দিয়ে মনের আগল খুলে ফেলে চিঠির মধ্যে নিঃশেষে নিজেকে ঢেলে দিতে খুব ভাল লাগে পৃথুর। পৃথুদের প্রজন্মে, ভাল চিঠি লিখতে পারার ক্ষমতার সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষারও একটা সাযুজ্য ছিল বলে মনে করা হত।

    আর এখন…?

    কে জানে? চিঠিই যদি না-লেখে মানুষ-মানুষী তবে কি গিরিশদার বাঁদর সুখময় আর তার বউ লিখবে?

    কুর্চি,

    তোমার চিঠি হঠাৎ এই শীত-সকালে একরাশ উষ্ণতা বয়ে আনল।

    পাতা ঝরে যাচ্ছে সামনের শালবনে। বিবাগী হচ্ছে ভোগী। রিক্ততার দিন আসছে সামনে। এরই মধ্যে তোমার চিঠি যৌবনের দূতীর মতো এল এক ঝাঁক টিয়ার উল্লাসী সমবেত সবুজ চিৎকারের মতো। দুর্বোধ্য আপাত কর্কশ শব্দমঞ্জরীও কী দারুণ মুগ্ধতা বয়ে আনে কখনও কখনও, কী দারুণ ভাবে সঞ্জীবিত করতে পারে অন্যকে।

    তাই নয়?

    তার মানে এই নয় যে, তোমার চিঠি দুর্বোধ্য। উপমার খুঁত ক্ষমা করে দিয়ো।

    কেমন আছ তুমি? জানতে চাইলেও জানতে পাই কই?

    সকাল থেকেই তোমাকে আজ খুব সুন্দর একটি চিঠি লিখতে ইচ্ছা করছিল। ঘুম ভাঙার পর থেকেই তোমার কথা মনে পড়ছিল খুবই। আজকে ঘুমও ভাঙল বড় সুন্দর এক চমকে। একজোড়া পাখির ডাকে ঘুম ভাঙল। যে পাখিদের ডাক বড় একটা শুনিনি এদিকে। কম্বল ছেড়ে দৌড়ে বাইরে গিয়ে দেখি একজোড়া স্কার্লেট মিনিভেট এসে বসেছে আমগাছের মাথায়। তাদের গলানো-মোরগঝুঁটি লাল-এর পিচকিরি ছুঁড়ে দিল তারা উৎসাহে নীল আকাশে, দিয়েই, হারিয়ে গেল নীলের মধ্যে। আমার ঘুম ভাঙানিয়া পাখিরা। আহা! রোজই যদি আসত।

    কেন এল কে জানে। সালিম আলির বইয়ে পড়েছিলাম ওদের দেখা দেওয়ার কথা এদিকে বর্ষাতে। তবু, এসে তো ছিল। কী সুন্দরভাবে রাত পোয়াল আজ বলো তো?

    আর তারপরই তোমার এই চিঠি। দিন আজকে ভাল যাবে আমার।

    বলছিলাম যে, সকাল থেকেই তোমাকে সুন্দর একটি চিঠি লিখব ভাবছিলাম। কিন্তু সুন্দর সুখের যা-কিছু ইচ্ছা, তা দমন করার মধ্যেও বোধহয় এক ধরনের গভীরতর সুখ নিহিত থাকে। থাকে না?

    আজ চিঠি লিখব না তোমাকে। তার বদলে একটি স্বপ্নহার পাঠাচ্ছি, লেখক, কবি না। তবুও, তাঁর নাম গোপনই থাক।

    কল্পনা করেই খুব ভাল লাগছে যে, তুমি আমার চিঠি কোলে নিয়ে বসে আছ, জানালার পাশে। যে-মানুষটি তোমার মিষ্টি-গন্ধ কোলের পরশ পায়নি কখনও, পাবেও না কোনওদিন, তার চিঠি সেই পরশে গর্বিত হয়ে উঠেছে যে, এই ভেবেই কত সুখ!

    আমার চিঠি পড়তে পড়তে তোমার সুন্দর মুখে এক আশ্চর্য প্রসন্নতমাখা প্রেম-ছবি ফুটে উঠছে, অস্ফুট চাপা, গোপন কাম-ভাব? মনের চোখে দেখতে পাচ্ছি আমি।

    কী যে দেখেছিলাম তোমার ওই মুখটিতে কুর্চি! এত যুগ ধরে কত মুখই তো দেখল এই পোড়া চোখ দুটি। কিন্তু এমন করে আর কোনও মুখই তো আমার সর্বস্বকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করেনি। ভাল না-বাসলেই ছিল ভাল।. বড় কষ্ট গো ভালবাসায়। ভাল তো কাউকে পরিকল্পনা করে বাসা যায় না, ভালবাসা হয়ে যায়; ঘটে যায়। এই ঘটনা ঘটার অনেক আগে থেকেই মনের মধ্যে প্রেমপোকা কুরতে থাকে তারপর হঠাৎই এক সকালে এই দুঃখে-সুখের ব্যাধি দুরারোগ্য ক্যানসারেরই মতো ধরা পড়ে। তখন আর কিছুই করার থাকে না। অমোঘ পরিণতির জন্যে অশেষ যন্ত্রণার সঙ্গে শুধু নীরব অপেক্ষা তখন।

    কেউই যেন কাউকে ভাল না বাসে। জীবনের সব প্রাপ্তিকে এ যে অপ্রাপ্তিতেই গড়িয়ে দেয়। যা-কিছুই সে মানুষটি দীর্ঘদিনের চেষ্টা, পরিশ্রম, মননশীলতা দিয়ে গড়ে তুলেছিল, যা-কিছু ছিল তার গর্বর, পরিচয়ের, শ্লাঘার, তার সবকিছুই হঠাৎ মূল্যহীন হয়ে পড়ে। যাকে ভালবাসে তাকে নইলে তার আমিত্বই অনস্তিত্বে পৌঁছোয়। হুঁশ থাকলে এমন মুর্খামি কেউ কি করে? বল?

    সেই জন্যেই বোধহয় হুঁশিয়ার মানুষদের কপালে ভালবাসা জোটে না। যারা হারাবার ভয় করে না কিছুতেই, একমাত্র তারাই ভালবেসে সব হারাতে পারে। অথবা, অন্য দিক দিয়ে দেখলে মনে হয়, যা-কিছুই সে পেয়েছিল বা তার ছিল; সেই সমস্ত কিছুকেই অর্থবাহী করে তোলে ভালবাসা। যে ভালবাসেনি, তার জীবনও বৃথা!

    তবুও…বড় কষ্ট ভালবাসায়।

    এমন মহাবোধ আর কী আছে? আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ তোমাকে ভালবেসে আমার নিজের সন্তা-আমার কাছে কত যে দামি, কত মহার্ঘই যে হয়ে উঠি তা আমিই জানি। এইটেই কি কম পাওয়া? বলো?

    জানো কুর্চি, এই মুহূর্তে নিধুবাবুর একটি গানের কথা মনে পড়ে গেল। গৌড়-মল্লারে বাঁধা গানখানি। তোমাকে শোনাব একদিন। কত গানই তো শোনাতে ইচ্ছে করে। সময় কোথায় তোমার? যখনই তোমার কাছে যাই, হয় রান্না করছ, নয় সেলাই করছ, নয় ঘর গুছোচ্ছ, সময় কোথায় তোমার আমাকে দিয়ে সময় নষ্ট করবার?

    “কী হল আমার সই বল কি করি?

    নয়ন লাগিল যাহে কেমনে পাশরি?

    হেরিলে হরিষচিত না-হেরিলে মরি

    তৃষিত চাতকী যেন থাকে আশা করি

    ঘন মুখ হেরি সুখী, দুখী, বিনে বারি।”

    কি সুন্দর কথা। তাই না?

    তুমি জানো না গো। এক মুহূর্তও তোমাকে ভুলতে পারি না আজকাল। সত্যিই কী যে হল আমার, প্রায়-চল্লিশে এসে। এখন তো থিতু হবার সময়। কী যে করি। কেন যে তুমি ফিরে এলে রায়নায়!

    স্বপ্নহার, তোমায় পাঠাই…নীল নদীটির নিবিড় পারে, ঘুম-পাওয়া রোদ চমকে চেয়ে অলস পায়ে, যখন হাঁটে মাঘী মাঠের ন্যাবা-ধরা শূন্যতাতে ঠিক তখনই আমার বুকের গভীর থেকে স্বপ্নগুলো ঝাপটে-ডানা অস্ফুটে কী কইতে কইতে নড়ে চড়ে!

    স্বপ্ন ওড়ে।

    স্বপ্নে দেখি, নীড়ের পাখি আসছে নীড়ে। অনেক পাহাড় মাঠ পেরিয়ে ভালবাসা ঠোঁটে করে আসছে ফিরে। পাখি আমার নীড়ের পাখি।

    স্বপ্নগুলো খুব ভীতু হয়, আমার স্বপ্ন; স্বপ্ন সবার।

    তবুও আমি স্বপ্ন দেখি। রূপের রাজা, গুণের গুণিন, মুঠির মাঝে মুক্তো-মলিন, সব পাখিদের মুগ্ধ-করা মন্ত্র নিয়ে আসব ফিরে বারে বারে। আসব ফিরেই, অবহেলার হেলাফেলার শোধ নেবো ঠিক হিসেব করে।

    কোনও পাখিই বশ মানেনি আমার দাঁড়ে। এই জনমে। একটিও নয়। বুনো পাখির সঙ্গে তারা কেউ ওড়েনি।

    গায়নিকো গান মিষ্টি গলায় শিউলি-ভোরে। গায়নিকো গান সাঁঝবেলাতে হাসনুহানার। সকাল ও সাঁঝ হারিয়ে গেছে নিরুপায়, পাখির গায়ের ওম্-এর গন্ধ এবং চোখের চিকনতার বস্‌রা গোলাপ হারিয়ে গেছে, পাখি আমার, নীড়ের পাখি। চিরচেনা অচিন পাখি এলেবেলে খেলায় মাতে আলস ভরে। চোখ দিয়ে সে মারত চাবুক আমায় একা। কল্‌জে নিয়ে বাটত সে যে গাবুক-গুবুক। পানা-পড়া দিনগুলোকে চমকে দিয়ে লাফিয়ে যেত ত্রস্ত পায়ে; মেঘ-দুপুরের ডাহুক যেন!

    আমার কিছু স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন দিয়ে মালা গাঁথি। স্বপ্নমালা।

    তোমায় নিয়ে ঘুরে বেড়াই বনে বনে। মনে মনে। কাল রাতেতে স্বপ্নবেয়ে গিয়েছিলাম কানহার মাঠে। শিশির-ভেজা লাল ঘাসেতে দেখে এলাম আমরা দুজন; চুপিসাড়ে পা-পা করে হাঁটছে হরিণ; যেমন করে শিশু হাঁটে। রোদের সঙ্গে ছায়ার বিয়ে, আলোর সঙ্গে দেয়ালা করে কালো। হাতে হাতে হাত মিলিয়ে, শব্দ আর গন্ধরা সব যুগলবন্দী খেলে। থাবার চড়ে রোদের ঝালর ঝাপটে ছিঁড়ে লাফিয়ে ওঠে চিতা। শিহর তুলে হরিণ ওড়ে শিশির-ভেজা হীরে-মানিক ভোরে। চমকে বেড়ায় চিকণ চিতা, চিকুর-তোলা চিল। আলো-ছায়া সাপের খেলা, অনন্য; কিলবিল।

    ছিপছিপে সেই মেয়ে। ছিপছিপে সে, শ্যামলাবরণ, পেঁয়াজখসী শাড়ি; তার স্বপনপুরে বাড়ি। আমার সঙ্গে আড়ি।

    পায়েতে তার চুমু দিতেই কামেতে জরজর, চুমোয় হল পায়া-ভারী, গুমোর-ভরা জোর। দেমাক ভরে দাঁড়িয়ে থাকে। স্বপ্নে-দেখা নারী, পেঁয়াজখসী শাড়ির আঁচল, ঠোঁটের কোণের তিল, স্বপ্নমালায় গেঁথে গেল হরিণ, চিতা; চিল।

    স্বপ্নে আমি ভেবেছিলাম, অনেক কিছুই। ভেবেছিলাম, এটা করব, সেটা করব, বাড়ি করব পাহাড়চুড়োয় স্বপ্ন এবং সুখের কুটো দিয়ে। পায়ের কাছে বইবে নদী, নারীর মতে, সাধের নারী, বাধ্যতা আর নাব্যতাতে নীল। ভেবেছিলাম, লিখব আমি গানের মতো; গান গাইব যেমন করে লিখি। আঁকব ছবি খুন করে রঙ, রঙের রক্ত ছেনে। মধ্যবুকের সব ব্যথাকে আনব টেনে টেনে।

    বিকেল হল, বিকেল হল, স্বপ্ন মরে আছে পড়ে পায়ের কাছে শীত বিকেলের ঝড়ের ফুলের মতো। নরম, কিন্তু স্থির। মৃতর চেয়ে মৃত। বিকেল হল, বিকেল হল। হয়নি কিছুই, পায়নি কিছুই স্বপ্ন ঘোরে দল ছেড়ে সেই দল ছেড়ে সেই মূঢ় মানুষ একলা তবু হাঁটে। পায়ে পায়ে, ধুলোয় ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে, উচ্চগ্রামের স্বর ফুলিয়ে, হাত উঁচিয়ে, ভয়-দেখিয়ে, যুথবদ্ধ পথিকেরা উল্লাসেতে মাতে। দূরে দূরে একলা হাঁটে স্বপ্ন-পাগল, শাপলা বিলের আলে আলে একলা-ওড়া টিটি পাখির সাথে। গান গেয়ে যায় খালি গলায়, পাহাড়তলির আলেয়াকে সুরের ঘরে ডাকে।

    সন্ধে হলে জোনাক জ্বলে বাঁট পাহাড়ে। হুক্কা-হুয়ার শেয়াল দোলে নকশী-কাঁথার মাঠ পেরিয়ে নগ্ন-নির্জন-নীল-কুয়াশায় উথালচুলের উড়াল-গন্ধ কনকচাঁপার রাতে, আগল-খোলা বোকা-পাগল কাঁপা-গলায় গান গেয়ে যায় স্বপ্নমালা হাতে।

    নীল নদীটির নিবিড় পারে ঘুম-পাওয়া রোদ চমকে চেয়ে অলস পায়ে যখন হাঁটে মাঘী মাঠের ন্যাবাধরা-শূন্যতাতে, ঠিক তখন আমার বুকের গভীর থেকে স্বপ্নগুলো ঝাপটে-জানা অস্ফুটে কী কইতে কইতে নড়ে চড়ে।

    স্বপ্ন ওড়ে।

    স্বপ্ন ওড়ে। বারে বারে।

    কুর্চি দেখি কী করতে পারি, তোমাদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার। ইচ্ছে তো কত কিছুই করে। এ জীবনে ক’টি ইচ্ছে আর পূর্ণ হল বলো?

    কারই বা হয়? এমনিতেই আমার অনেকই কষ্ট। এমন করে ডাক পাঠিয়ে কষ্ট আর বাড়িও না। রুষা এবং ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনেকদিনই যাইনি বাইরে। ওদের ফেলে একা একা মজা করতেও বিবেকে লাগে। যার বিবেক বেঁচে থাকে; তার সুখ মরে যায়। সুখী হবার সহজ উপায় বিবেকহীন হওয়া। বিবেক, বিবশ হলেই বাঁচি!

    ভাল থেকো। তোমার পৃথুদা—

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }