Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৭. রাতে খেতে বলব ভাবছি

    ৩৭

    কিছু লোককে আগামী শুক্রবার রাতে খেতে বলব ভাবছি। বুঝেছ?

    রুষা বলল।

    গেস্ট-লিস্টটাও ফাইন্যাল করছি। সব সুদ্ধু তিরিশজন মতো হবে। চোদ্দটি কাপলস। একজন ব্যাচেলর, একজন স্পিনটার।

    পৃথুর মনটা ভাল ছিল না। অন্যমনস্ক ভাবে বলল, শুক্রবার? শুক্রবার কি? আমাদের বিয়ের তারিখ নাকি?

    পৃথু প্রশ্ন করল।

    পৃথুর ঘরে লেখার টেবিলে, সামনে প্যাড রেখে বসেছিল রুষা। ভুরু তুলে, পেনসিলটা ঠোঁটে ঠেকিয়ে, তির্যক চোখে পৃথুর দিকে চেয়ে বলল, না। আমাদের ইমপসিবল বিয়েটা, পসিবলি হয়েছিল মার্চ মাসের চার তারিখে।

    মার্চ মাসে? তো গতবছর করলে না অ্যানিভার্সারী?

    অ্যাকসিডেন্টের অ্যানিভার্সারী করে না কেউই।

    তা ঠিক। পৃথু বলল।

    আমাদের তো বিয়ে হয়নি।

    বলো কী?

    বিয়ে যাকে বলে তা হয়নি। বিয়ে ব্যাপারটা একটা টোটাল ইন্‌ভল্‌ভমেন্ট্‌-এর ব্যাপার। গভীর ব্যাপার। তোমার বোঝাবুঝির বাইরে।

    পৃথু বলল, বুঝব না কেন? বিয়ে মানে একটা টাই-আপ। ইডিয়টিক বন্ধন, ঝুড়ি বোঝাই মিথ্যে কথা। তোমার জীবন আমার হোক আমার জীবন তোমার হোক, আমাদের মিলিত জীবন ঈশ্বরের হোক। অর্থাৎ, বুলশীট। বিয়ে মানে, কতগুলো মস্তিষ্কহীন, মেকানিকাল, মানডেন, বেজ, নেইভ, অন্ধ মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, আমেরিকা-রাশিয়ার ডিস-আর্মামেন্ট সামিট-এরই মতো ভণ্ডামির পরাকাষ্ঠা।

    পরাকাষ্ঠা মানে কী? এত কঠিন কঠিন বাংলা আমি বুঝি না।

    যে-বাঙালি নিজের মাতৃভাষা জানে না ভাল করে, তাকে ধিক।

    কী করব? খেতে বলব তো? বলো?

    হঠাৎ? আমাকে এ প্রশ্ন? আমি কে? কখনও তো আগে…

    তোমার কোন বন্ধুবান্ধবকে বলবে না?

    আমার যারা বন্ধু তারা কী তোমার বন্ধুদের সঙ্গে একাসনে বসার যোগ্য?

    তা ঠিক, তবে সবাইকে বোলো না। জুতোর দোকানি-ফোকানিকে তো আর বলা যায় না, মোটর মেকানিককেও বলা যায় না, ক্রীম অফ দ্যা টাউনকে বলছি আমি; তার চেয়ে শুধু গিরিশদাকেই বলে দাও। মার্জিনালী প্রেজেন্টবল। যদিও ভীষণ বোকা বোকা।

    না। বললে সকলকেই বলব, নইলে কাউকেই না। কবে আর বলেছি কাকে? ওদের বাদই দাও।

    কাকে কাকে বলতে চাও তুমি?

    রুষা বলল। বললে, লাড্ডু, ভুচু, ঠুঠা বাইগা, সাবীর মিঞা, শামীম মিঞা, দিগা পাঁড়ে। দিগার সঙ্গে আবার এক তান্ত্রিক জুটেছে এসে। বাঙালি। জয়নগর মজিলপুরের। সকলকেই বলতে হয়।

    তান্ত্রিক? মাগো। ওরা তো আবার সম্মোহন-টম্মোহন জানে।

    জানেই তো। তা ছাড়া সেদিন যোনিতন্ত্রম-এর দ্বিতীয় পটল থেকে একখানি যা শ্লোক ঝেড়েছিল তা শুনে তো আমারই পটল তোলার জোগাড়।

    যোনিতন্ত্রম? সেটা কী? না না ওসব নোংরা, ভালগার লোককে কোনও রেসপেকটেবল লোকের বাড়িতে ডাকা যায়? তান্ত্রিকদের দেখলেই আমার গা গোলায়।

    খুব ইন্টারেস্টিং মানুষ কিন্তু। মনের দরজাটা সব সময় বন্ধ করে রাখলে তাতে আলো-হাওয়া ঢুকবে কী করে? মিশতে হয় সকলের সঙ্গেই।

    তোমার মত নিয়ে তুমি থাকো। নাও আমার লিস্ট হয়ে গেছে।

    আমি কী করব নিয়ে? কাউকেই বলব না আমি।

    সেদিন বাড়িতে থাকবে তো অন্তত?

    এত আগে তাও বলতে পারি না। যা ভাল না-লাগে, তা আমি করি না। সেদিন ভাল লাগবে বা না লাগবে এত আগে থেকে কী করে বলব? সম্ভব নয় বলা। কিন্তু তোমার পার্টির অকেশনটা কী?

    ইদুরের বার্থডে।

    ইঁদুরদেরও বার্থডে হয় বুঝি? ভাবল, পৃথু।

    সকলকেই বলতে পারো তুমি, এক কুর্চি ছাড়া। আই হেইট দ্যাট কমোনার অ্যাম্বিশাস স্টুপিড গার্ল।

    রুষা বলল।

    অ্যাম্বিশান সব মানুষেরই থাকতে পারে। সেটা দোষের নয়। থাকেও।

    কেন? তোমার তো নেই? তোমার জীবনে কী আছে? বড় হবার ইচ্ছা? ফুঃ। না একটা বাড়ি করলে, না করলে পার্সোনাল গাড়ি, কী করলে কী তুমি জীবনে? না বানিয়ে দিলে আমাকে ভাল কোনও গয়না। মেয়েটার বিয়ের সময় যে কী করব। তুমি তো টোটালী অ্যাম্বিশানলেস। বড় হবার কোনও ইচ্ছেই নেই তোমার।

    নাঃ। তা না। আমারও আছে অ্যাম্বিশন। তবে সেটা টাকা, বাড়ি, গাড়ি নয়; গয়না নয়, বউ-মেয়ের। তাছাড়া তোমরা যাকে বড় হওয়া বল, সেই বড় হওয়ার আর আমার বড় হওয়াতে তফাৎ আছে।

    বাজে কথা রাখো। সংসারে অচল, অপদার্থ তুমি। তুমি একটি ভূতনাথ। বাউন্ডুলে।

    বলেই রুষ উঠল।

    বলল, আসছি এখুনি ঘুরে। অনেক ন্যাকামি হয়েছে। কুর্চিরা ছাড়া আর কাদের বলতে চাও তার লিস্ট করে ফেলো। ইঁদুরের বার্থডের কথা তো আর বলছি না কাউকে। ডাকছি, এই-ই…। মণি চাকলাদারকেও বলছি। স্পার্কলিং কনভার্সেসানালিস্ট।

    রুষা চলে গেল ঘর থেকে।

    কী বলে গেল রুষা? ভূতনাথ? বাঃ। ও না জেনে ঠিকই বলেছে। একেবারে পারফেক্ট অ্যানালিসিস।

    “তুমি কী করছ ভূতনাথ? লিখছ টিখছ?

    “হ্যাঁ, হ্যাঁ, সত্যিই শুভাশিস, আমি গাড়ি কিনতে পারিনি, না করেছি বাড়ি

    জননেতা কোন দুর, জনতার দৈত্যের হাত থেকে পালিয়ে গিয়েছি।

    কলকাতা থেকে কিছু দূরে আধা পাড়াগাঁয়ে, রাত ভোর হলে কলাগাছের পাতায় শিশির ঝরা

    দেখি, ওতেই শিহরণ খেলে যায়।

    সেই কবে এক রুগণ কবিতার নারীর সঙ্গে বিয়ে হয়ে অবধি খরচের আর শেষ নেই, রাত্রে গিয়ে ঠায় বসে থাকি তারার বাগানে।

    গুড়গুড় করে মেঘ ডেকে উঠলে বুকের মধ্যে হই হই করে শুনি ভাস্কোদাগামার পালতোলা জাহাজের কামানগর্জন। বিদ্যুৎ চমকালে দেখি শেক্সপীয়রের নাটকের বীভৎস বুড়ি ডাইনিদের চুল ছেঁড়াছেঁড়ি। লম্বা লম্বা নখের বাহার। ঘরে বসে জানি না আকাশকে কেন দেখি ভূমধ্যসাগর। এক একদিন মাঘী পূর্ণিমায় দেখি সাদা ফেনায়িত প্রকাণ্ড আকাশব্যাপী রাজহাঁস। ফেলে যায় নিটোল টলটলে সোনার ডিম।

    শুভাশিস, গাড়ি কিনতে পারনি, করতে পারিনি বাড়ি, জননেতা হওয়া অসম্ভব। শুধু ছোট ছোট কল্পনার লাল ইঁট গাঁথি।

    আর চুরমার করি, কিছুই হওয়া হয়নি। ট্রেনে করে আসি আর যাই।

    রুগণ কবিতার-নারীর চিকিৎসায় আমি ফতুর হয়ে গেলাম। হয়তো জীবনই চলে যাবে…

    তোমরা বেশ আছ! শুভাশিস, সুনন্দ, আশুতোষ… আমি এই।”

    আমি এই। সুনীল বসুর কবিতা। এই কবিকে কখনও দেখেনি পৃথু। এদিকেও আসেননি কখনও। ছবিও দেখেনি কোথাওই। পৃথুর মনে হয়, ইনি একজন বড় মাপের কবি। জাত-কবি।

    ডিসেম্বরের শেষ এসে গেল। কুর্চির সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া হল না। কখন বসন্ত গেল, এবার হল না গান। পরশু বড়দিন। ভুচু নেমন্তন্ন করেছে কাল সকলকে তার বাড়িতে বড়দিনের খানায়। রাতে।

    কুর্চির বাড়িতে ওকে ওই রহস্যজনক একাকিত্বর মধ্যে ফেলে রেখে আসার পর নিজে যেতে পারেনি নানা ঝামেলায়। কিন্তু ঠুঠাকে পাঠিয়েছিল। ঠুঠা এসে যা বলেছে তাতে মন ভেঙে গেছে পৃথুর। রায়নার বাজারের সকলেই নাকি জানে যে গাঁজা ও আফিং-এর চোরাচালানের ব্যবসাতে জড়িয়ে পড়েছিল ভাঁটু কয়েক মাস হল। নিজের একটি দলও গড়ে তুলেছিল।

    যেদিন পৃথু গিয়ে হাজির হয় কুর্চির বাড়িতে না জেনে শুনে, তার দুদিন আগে ভাঁটুকে অ্যারেস্ট করে পুলিশ রায়পুরে নিয়ে গেছিল জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে। কেউ বলছে, রায়পুরে, কেউ বলছে জবলপুরে, কেউ বা বলছে ভোপালে। দাঈ চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে গেছিল তার পরদিন কোনও ব্যক্তিগত কারণে।

    কুর্চি সেদিন মিথ্যা কথা বলেছিল পৃথুকে।

    কুর্চি নিজেও বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে ঠুঠা যেদিন গেছিল তার আগের দিনই। লোকে বলছে, শুধু ছোট্ট একটি স্যুটকেস এবং কম্বল দিয়ে জড়ানো একটি বালিশ সঙ্গে নিয়ে তাকে বাসে উঠতে দেখেছে অনেকেই। মালাঞ্জখণ্ড-এর বাসে। পৃথু যেদিন রায়নাতে গেছিল সেদিনের আগের দিন কুর্চি নাকি নিজে হেঁটে বাজারে এসে খাবারের দোকান থেকে খাবার কিনে দোকানে বসেই খেয়েছে। হাতরুটি আর আলুর তরকারি। ছোট্ট জায়গা। বাঙালিবাবুর বউরা এরকম বে-আব্রু হয়ে বাজারের দোকানে রুটি তরকারি খেতে আসে না কখনও। এ নিয়ে কথা চালাচালি এবং হাসাহাসিও হয়েছে। মুনাব্বর বলে একটি পানের দোকানদার নাকি কুর্চিকে কী সব খারাপ কথাও বলেছে। ঠুঠা বাইগা নিজেও নিজের কানে মুনাব্বরের দোকানে-বসা ইয়ারদের কাছ থেকে শুনে এসেছে তা। মুনাব্বর নাকি কুর্চিকে বলেছিল : রোজ রুটি তরকারি খাওয়াবে, বদলে কুর্চি যদি কুর্চিকে খেতে দেয়। মুনাব্বরকে।

    ঠুঠা বলেছিল, তক্ষুনি আমি ওর দাঁত উপড়ে নিয়ে আসতাম জানো, কিন্তু মেয়েছেলের ঈজ্জৎ হচ্ছে খুব ভাল জাতের আমেরই মতো নাজুক। বড় সাবধানে নাড়তে চাড়তে হয়। জোর করে তা বাঁচাতে গেলে তাতে দাগই ধরে যায়। কলঙ্ক তাতে বাড়েই। আঙুলের সামান্য বেকায়দার ছোঁওয়াতেই কালশিরা পড়ে যায় ইজ্জতে। এই সব সাত-পাঁচ ভেবে ঠুঠা ওখানেই হামলা না করে ফিরে এসেছে। পৃথুকে বলেছে কী শেখাতে হবে বলো? শিখিয়ে আসছি।

    মালাঞ্জখণ্ড-এ গেলে, কোথায় যেতে পারে কুর্চি? ভাবছিল পৃথু। তার অবস্থাপন্ন, সুখী বিবাহিত বন্ধুর বাড়ি নিশ্চয়ই গিয়ে উঠবে না। তাকে বলবেও না যে, তার স্বামী স্মাগলার অথবা সে এখন পুলিসের হেপাজতে। কুর্চিকে যতটুকু জানে পৃথু, তাতে মনে হয় যে, ও কিছুতেই সেখানে যাবে না।

    কিন্তু যাবেই বা কোথায় তাহলে? কী করে খুঁজে পাবে পৃথু তার কুর্চিকে? কুর্চি কি হারিয়েই গেল জীবনেরই মতো? তাহলে, কী নিয়ে আর বাঁচবে পৃথু? জীবনে আনন্দ, সত্যিকারের গভীর আনন্দ বলতে তো কুর্চি ছাড়া আর কেউই নেই; কিছুই নেই।

    অনেক ভেবেটেবে শেষে বুদ্ধি খাটিয়ে কুর্চির বন্ধু রিমার স্বামী মহেন্দ্রর কাছে একজন লোকও পাঠিয়েছিল মালাঞ্জখণ্ড-এ পৃথু। কারখানার তার এক শিফট ইনচার্জকে একদিনের ছুটি দিয়ে এই ব্যক্তিগত কাজের জন্যে পাঠিয়েছিল। জানত কাজটা অন্যায়। কিন্তু নিরুপায় হয়েই পাঠিয়েছিল। ন্যায় করতে ইচ্ছে করে খুব, কিন্তু কমই করা হয়ে ওঠে। মহেন্দ্রর নামে একটি চিঠি দিয়েছিল শুধু এই কথা জানতে চেয়ে যে, ভাঁটু আর কুর্চি জবলপুর, ভোপাল, ভীমবৈঠকা ইত্যাদি জায়গায় ইতিমধ্যেই চলে গেছে কি না! মিথ্যে কথা লিখেছিল, লিখেছিল যে, পৃথু ভোপালে এসেছে কাজে তাই-ই খবরটা জানতে পারলে, ভোপালেই দু-একদিন বেশি থেকে যাবে। কুর্চিরা কোথায় উঠবে তা ওরা পৃথুকে আগেই জানিয়েছিল।

    উত্তরে মহেন্দ্র সংক্ষিপ্ত চিঠি দিয়েছিল। শিফট ইনচার্জ-এর হাতে। ডিয়ার পিরথুদা,

    উই হ্যাভ নো ইনফরমেশান অ্যাবাউট দেম। হ্যাভনট সীন দেম সিন্স এইজেস। তারপর লিখেছিল,

    ইটস স্ট্রিক্টলী ফর ইওর কনফিডেন্স : আ স্ট্রং রিউমার ইজ আফুট হিয়ার দ্যাট ভাঁটু অ্যান্ড হিজ অ্যাকমপ্লিসেস হ্যাভ বীন অ্যারেস্টেড ফর স্মাগলিং। সাম ওয়্যার অ্যারেস্টেড ফ্রম হিয়ার অ্যাজ ওয়েল। ইটস আ শেম। অ্যান্ড সো ফার রিমা অ্যান্ড মাইসেলফ আর কনসার্নড, উই নো-লঙ্গার কনসিডার দ্যা-কাপল অ্যাজ ফ্রেন্ডস। আফটার ওল, উই আর রেসপেকটেবল পীপল। রিমা ইজ ভেরী স্যাড ফর কুর্চি, নো ডাউট, বাট সার্টেন ডিসিসানস হ্যাভ টু বী টেকন ইন লাইফ, হুইচ আর আন-অ্যাভয়েডেবল হাওয়েভার সরী ওয়ান মে ফীল টু টেক দ্যাট। উই কুডনট কেয়ার লেস।

    রিগার্ডস।

    সী য়ু সামটাইম। ডোন্ট ফরগেট টু লুক আস আপ ইফ য়ু আর ইন দিস পার্ট অফ দ্যা ওয়ার্লর্ড। ট্রুলী ইয়োরস, মহেন্দ্র সিং।

    “আফটার ওল উই আর রেসেপেক্টেবেল পীপল”। কথাটা বার বারই কানে বাজছে পৃথুর সেই থেকে।

    আর উই রিয়্যালী? বার বার এই প্রশ্নটা করেছে পৃথু নিজেকে।

    রেসপেকটেবলিটি একটা মীথ। ফাঁকা আওয়াজ। ভাঁটুও তো রেসপেকটেবলই ছিল, যতদিন ধরা পড়েনি। ধরা না পড়লে, তার অবস্থা দিনে দিনে রমরমে হয়ে উঠলে এই সমাজই তাকে সম্ভ্রান্ততার কনফার্মড শিরোপা দিত। ইদুরকারের মতো ইমম্যাটেরিয়াল ম্যানেজার শর্মার মতো; পৃথুরও মতো। পৃথু যে বাজারের বাইজীর কাছে গেছিল, রাত কাটিয়েছিল; এ কথা জানলে এই সমাজ তাকে একঘরে করে বলবে ছিঃ ছিঃ ক্যার‍্যাকটারলেস। বলবে হী ইজ নট রেসপেকটেবল। “ক্যারেকটার” কথাটার মানে জানে কজন মানুষ?

    পৃথু ভাবে, বরং রেসপেকটেবল হচ্ছে ভুচু, দিগা পাড়ে, ঠুঠা বাইগা, রেসপেকটেবল তার কারখানার শ্রমিক গুগগা আর তার বউ ইতোয়ারিন। রেসপেকটেবল তাদের কারখানার সামনে গত কুড়ি বছর ধরে দিনে রাতে বারো ঘণ্টা পিঠ নুইয়ে বসে কাজ করে কোনওরকমে বেঁচে থাকা অতি-সজ্জন মুচি মহেন্দ্রর। দারিদ্র্য তার অসীম, কিন্তু সে আত্মসম্মানজ্ঞানী লোক। প্রকৃতই সমানের যোগ্য। সম্মানের রঙচঙে জামা চাদর চড়া হারে ভাড়া করে নিয়ে নিজেকে সাজিয়ে সম্মানিত হয়নি এসব মানুষ। রেসপেকটিবিলিটি মিথ্যে অহং। এ জাতের, এ দেশের আত্মসম্মানজ্ঞানই যদি থাকত তবে তার এমন অবস্থা হয়?

    কুর্চিকে খুঁজে বার করতেই হবে। এবার থেকে ঠুঠা বাইগার সঙ্গে আর কোনও তফাৎ বোধহয় থাকবে না পৃথুর। যা হারিয়ে গেছে নিশ্চিহ্ন হয়ে, সেই মূলকে, সেই গভীরকে সত্তার সেই গাঢ় অস্তিত্বকে বুনো শুয়োরের মতোই পৃথিবীর সব মাটি উপড়ে ছিটকে ছুঁড়ে-ছুঁড়ে খুঁজে বেড়াতে হবে বাকি জীবন। ঠুঠা খুঁজছে তার অতীতকে, পৃথু খুঁজবে তার ভবিষ্যৎকে। এইটুকুই তফাৎ।

    কী যে করবে পৃথু। হতভাগা কী যে করবে।

    যখন ওর মনের অবস্থা এমন ঠিক সেই সময়েই অন্য আরেক বিপত্তি। কাল লালসাহেব ফোনে খবর দিয়েছেন যে, মগনলাল তার দল নিয়ে হাটচান্দ্রার কাছাকাছিই ফিরে এসেছে। রেড এলার্ট, মীর্জা গালীব। এলার্ট। চেষ্টা করতে হবে, মগনলালের দলকে এইবারে একেবারে ওয়াইপ আউট করে দিতে। প্রেসিডেন্টস মেডালস অপেক্ষা করবে আপনাদের জন্যে। প্রথম সিভিলিয়ানস হবেন আপনারা যারা মধ্যপ্রদেশের ডাকাতির ইতিহাসে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবেন।

    ভুচু সকালে এসেছিল। সব খবর দিয়ে গেল। ও বলছিল যে, মৌলভী গিয়াসুদ্দিন ক্রীসমাস ইভ-এর জন্যে চারটে বড় মোরগা কাল মেরে দেবেন ভুচুকে। অগ্রিম বলে গেছেন, এখানে তো টার্কি পাওয়া যায় না। সাহেবরা থাকতে ক্রীসমাসের আগে জবলপুর থেকে একজন মুসলমান পাখি-ওয়ালা নিয়ে আসত। আজকাল বড়দিনে টার্কি খাওয়ার লোকও কমে গেছে। মৌলভী বিকেল চারটে নাগাদ বেরিয়ে মোরগা মেরে মোরগা মুসল্লম বানিয়ে নিয়ে আসবেন রাত নটার মধ্যে। বুনো মোরগ মারার পর হয় বানিয়ে রাখতে হয় নয় সেদ্ধ করে নিতে হয় রান্নার আগে। ঝকমারি। আছে।

    ভুচুর মেকানিক এবং প্রয়োজনে তবলা-বাদক হুদা সাতসকালে গিয়ে নর্মদা থেকে ছাই-রঙা রাজহাঁস মেরে নিয়ে এসেছিল একটা। আজই। কাল তার বার-বী-কিউ হবে। লোক কম বলেনি ভুচু। পৃথু ছাড়াও, সাবীর সাহেব, গিরিশদা, মৌলভী গিয়াসুদ্দিন, লাড্ডু আর ঠুঠা বাইগা। পামেলা এবং পামেলার মাও আসবেন। তবে ওঁরা তাড়াতাড়ি চলে যাবেন। গীর্জেতে মাস আছে। পৃথু বলেছে, পৌঁছে দিয়ে আসবে ওঁদের জীপে করে। ভুচু আজ আসলে রুষাকে নেমন্তন্ন করতেই এসেছিল। রুষা বলেছিল তোমার দাদাই যাবে। আমার বাড়িতে ছেলে মেয়েদের বন্ধুদের বলেছি। ওরা সব আসবে মজা করবে। আমাকে বাদ দিয়ে দিন। ক্রীসমাস ট্রী সাজাতে হবে। ফাদার ক্রিসমাস। প্রেজেন্টস সব প্যাক করতে হবে। বাড়িতে মেরী আছে। ওরও তো ক্রীসমাস।

    ভুচু আর কিছু বলেনি।

    রুষা ফিরে এল। বসল, পৃথুর লেখার চেয়ার টেনে। পৃথু খাটে বসেছিল, বালিশে হেলান দিয়ে।

    পামেলা আর তার মাকে যখন নিয়ে যাব ওদের চার্চে তখন মেরীকেও নিয়ে যাব।

    পৃথু বলল। মেরী খুব খুশি হবে। রুষা বলল, নিয়ে যাবে তো যেও কিন্তু ফেরার সময় তো অতখানি পথ একা আসবে মেরীকে নিয়ে। দেখো, ওর সঙ্গে ইল-বিহেভ কোরো না আবার যেন! লজ্জায় মাথা কাটা যাবে। তোমাকে নিয়ে কী যে চিন্তা আমার!

    পৃথু কিছু না বলে তাকিয়ে ছিল রুষার দিকে। ভাবছিল, কী ভাবে রুষা ওকে? রুষার রুচি এত খারাপ হয়ে গেছে। অবশ্য, দোষও দেয় না রুষাকে, পৃথুর পক্ষে নিজেকে পাহারা দেওয়াটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।

    তোমার উপর যে ভরসা নেই একটুও।

    তা ঠিক। পৃথু বলল, আমার নিজেরই নেই নিজের উপর ভরসা। আমার মধ্যে কতগুলো যে মানুষ বাস করে রুষা তা আমি নিজেই জানি না। কোন মানুষটা যে কোন সময় দখল নেবে আমার উপরে, সে সম্বন্ধেও কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই আমার। আমার কোনও টোটাল সত্তা নেই। এই-ই আমার জীবনের অনেক অভিশাপের এক অভিশাপ। আমাকে গুড, ফেয়ার বা ব্যাড কিছুই বলা যায় না কারণ আমি ব্যাডও বটে, ফেয়ারও বটে, গুডও বটে। শুধু কোন সময়ে যে কী সেটাই জানা নেই। অনেকগুলো আলাদা আলাদা ঘরে আমার বাস। নতুন ঘরের আলো জ্বলে উঠলেই সঙ্গে সঙ্গে আগের পুরনো ঘরের আলো নিবে যায়। ওয়াটার-টাইট এয়ার-টাইট সব কম্পার্টমেন্টস। এক ঘরের আমি অন্য ঘরের আমিকে চিনি না পর্যন্ত। আমি এক নই গো রুষা, আমি যে অনেক। আমার উপর ভরসা ভুলেও কোরো না। আমি নিজেই করি না, আর তুমি! সব সময় চোখে চোখে রেখো আমায়, কখন যে কী করে বসি।

    কোনওদিনই করিনি। তোমার উপর ভরসা করে মরি আর কী। এ আর নতুন কথা কী! তোমার মত স্বামী নিয়ে এই আমি রুষাই ঘর করে গেলাম। নেহাৎ সেন্স অফ রেসপেক্ট আছে বলে, ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতকে রেসপেকটেবিলিটি দেবার জেদ আছে বলে, কত যে দাম দিলাম, নিজের জীবনটাকে কীভাবে যে নষ্ট করলাম তা…

    এটা কিন্তু ভুল। পৃথু বলল। আমার জন্যে নিজেকে নষ্ট কোরো না। করা উচিত নয়। ছেলেমেয়ের জন্যেও নষ্ট কোরো না। “রেসপেকটিবিলিটি” কোনও বাবা-মাই তাদের ছেলেমেয়েকে দিয়ে যেতে পারে না। রেসপেকটেবিলিটি পারিবারিক দোকানের সাইনবোর্ড নয়, সম্পত্তি নয়; ব্যাঙ্ক-বালান্স নয়। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার নয় এ। ভিক্ষার ধনও নয়। প্রত্যেককেই নিজেকে নিজের যোগ্যতায়, ব্যবহারে একে অর্জন করতে হয়। যাতে তা পারে তোমার ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে এই ধন অর্জন করতে, এমন শিক্ষাই দিয়ে ওদের। বাবা মা ছেলেমেয়েদের এর চেয়ে দামি সম্পত্তি আর কীই-ই বা দিতে পারেন?

    আমি? আমি কেন? সবকিছুই আমি করব? ওরা কী খাবে, কী পরবে, ছুটির দিনে কী হবে ওদের রিক্রিয়েশন, ওদের ভবিষ্যৎ কী হবে সবই যদি আমি একাই করব তাহলে তুমি ওদের জন্ম দিলে কেন? হোয়াট ইজ ইওর কনট্রিব্যুশান?

    আমি একটা অপদার্থ। আমি একটা বাজে লোক। আমার কথা ছাড়ো। আমাকে ছেড়ে দাও।

    এখন বলছ ছেড়ে দাও। এত বছর পরে। তাহলে ছেলেমেয়েদের জন্ম দিলে কেন?

    আমি? আমি দিলাম কোথায়? তাও তো তুমিই দিলে। আমি তো উপলক্ষমাত্র। স্বপ্ন নিয়ে খেলতে চেয়েছিলাম শুধু। স্বপ্নর সুন্দর বীজ থেকে যে ওঁয়া-ওঁয়া-করা ইদুরের বাচ্চার মতো দেখতে আনরোম্যানটিক, মিনিটে মিনিটে শুশু-করা কোনও বিচ্ছিরি গন্ধ প্রাণী এসে হাজির হবে আমি কি তা ভেবেছিলাম।

    ইঁদুরের বাচ্চা মানে? হোয়াট ডু উ্য মীন?

    তুমি কানে কম শুনছ আজকাল। ইঁদুরের বাচ্চা বলেছি, ইদুরের নয়।

    নাস্টি। গ্রস। তুমি একটি…

    রক্ত, মাংস, প্রাণ, মৈথুন এসব ব্যাপারগুলোই আটারলী গ্রস। আমার এসব ভাল লাগে না। মেয়েরা হল বিধাতার সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি! মেয়েদের ভালবাসতে ভাল লাগে, আদর করতে, অনাবৃত করে দেখতে, পায়ের নখ থেকে কপালের সিঁথি অবধি চুমু খেতে, তাদের চোখের অতল গভীরে চেয়ে সাঁতার না জানা ডুবুরির মতো ডুবে যেতে। তার সঙ্গে এসবের কী? বাচ্চা, কান্না, কাঁথা। হাইলী আনরোম্যানটিক বিচ্ছিরি সব ব্যাপার। আমার এসব আসে না।

    কত যে পাপ করেছিলাম গত জন্মে? তাই-ই ভাবি।

    রুষা বলল, দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

    এ জন্মেও কম করছ না।

    মানে?

    এমন বাজে স্বামীর সঙ্গে ঘর করছ। পাপ না এটা?

    এমন স্বামী যেন শত্রুরও না হয়।

    কুর্চি কি তোমার শত্রুদের মধ্যে পড়ে? আমি যদি কুর্চির স্বামী হতাম, সুখী হতে তুমি?

    কুর্চি? মাই! মাই! শত্রু হতে গেলেও অন্য পক্ষের কাছাকাছি আসতে হয়। কুর্চি, ওই ইমবেসাইল, আন-এডুকেটেড, লোয়ার মিডল-ক্লাস, সিম্পলটন রাস্টিক কুর্চির সঙ্গে আমার তুলনা কোরো না, প্লীজ।

    ঠিক আছে।

    পৃথু বলল।

    তারপর একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, তোমার জীবনটা এভাবে নষ্ট করছই বা কেন রুষা? কিসের তোমার পিছুটান, বন্ধন? আমি তো তোমাকে বেঁধে রাখিনি। আমার সমস্ত খারাপত্ব আমি স্বীকার করি কিন্তু এ কথা বলতে পারো না যে, আমি স্বার্থপর। সব সময় জেনো, তুমি সম্পূর্ণই মুক্ত। একটাই জীবন রুষা। কে কী বলল, কে কী মনে করল, ক্লাবের লাল-নীল হাওয়াইন-শার্ট পরা, কূপমণ্ডুক, বউ আর চাকরিসর্বস্ব বুড়ো বালখিল্যরা কী বলবে অথবা তাদের পিয়ানো-বাজানো, নেকু-পুষু-মুনু ইনসিপিড স্ত্রীরাই কী বলবে সেই ভয়ে তুমি তোমার জীবন নষ্ট করবে? ওরা কারা এই ফাঁকা মানুষগুলো? তোমার জীবনটা কি তোমার কাছে দামি নয়? নিজেকে এমন করে ঠকিও না।

    কী বলতে চাইছ তুমি?

    বলতে চাইছি যে, ভিনোদকে বিয়ে করো তুমি। ও তো খুশি হবেই; তুমিও সত্যিই খুশি হবে। জীবনের যা কিছু গেছে তা গেছেই; বাকিটুকুকে এখনও সাল্‌ভেজ করো। নাথিং ইজ টু-উ-উ লেট। ইট্‌স্‌ বেটার লেট দ্যান নেভার। ইদুর তোমারই টাইপ। তোমরা সত্যিই মেড ফর ইচ আদার।

    রুষা দৌড়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করল।

    বলল, আস্তে। উ্য হ্যাভ গান আউট অফ ইওর মাইন্ড।

    পৃথু বলল, বাট হাউ বাউট উ্য? উ্য আর গোয়িং আউট অফ ইওর লাইফ। জীবনটা বাঁচবার জন্যে, প্রতি মুহূর্ত পস্তাবার জন্যে নয়। তোমার জন্যে জীবনে করার মতো কিছুই তো করলাম না। একটা ভাল কাজ করতে দাও আমাকে। আমার বিয়ের এই তেতো বাঁধন থেকে তোমাকে মুক্তি দিয়ে চিরদিনের মিষ্টি প্রীতির বাঁধনে বাঁধা পড়তে দাও তোমার সঙ্গে। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তোমার সঙ্গে ভিনোদের বিয়ে দেব। দেখো তুমি।

    পৃথু আমার মন ভাল নেই, ভাল থাকে না, এমন করে আমার সঙ্গে কথা বোলো না। একদিন কারখানা থেকে বাড়ি ফিরে দেখবে যে, আমি নেই। টুসু মিলিও নেই। শূন্য বাড়ি পড়ে আছে। তোমার চাকর বাকর, আয়া ড্রাইভার, গাড়ি।

    জানো রুষা তোমাকে যা বললাম, তা কিছু আমি বানিয়ে বলিনি। এ সবই আমার মনের কথা। আমার তোমাকে দেওয়া যে কষ্ট, সে কষ্ট আমি চোখে দেখতে পারি না। অথচ এই অদ্ভুত বাজে লোকটার এমন স্বভাব যে নিজেকে বদলাতেও পারলাম না। অথচ, সত্যি…, করো না গো ভিনোদকে বিয়ে। ছেলেটা তোমাকে খুবই ভালবাসে।

    রুষা চোখ তুলে, চোখ দুটি স্থির করে রাখল পৃথুর দু চোখে। অনেকক্ষণ চোখের ল্যাসার বীম দিয়ে, পৃথু কতটুকু জানে, না জানে, তা বুঝতে চেষ্টা করতে লাগল। বলল, তুমি কী মীন করছ? তুমি কী বলতে চাইছ পৃথু…?

    আমি কিছুই বলতে চাইছি না। তোমাদের মধ্যে ফীজিক্যাল কিছু ঘটেছে কি না জানি না আমি। যদি ঘটে থাকে, বলেই, হাতটা রুষার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, কনগ্রাচুলেশানস।

    রুষা রেগে চেয়ার ছেড়ে উঠে চেঁচিয়ে বলল, হাউ ডেয়ার উ্য! উ্য ডার্টি, ডার্টি…। তুমি এমন বলতে পারলে আমাকে? ছিঃ ছিঃ। সকলেই তোমার মতো নয়, তোমার মতো গ্রস শরীর-সর্বস্ব নই আমি। ওরকম শরীর আমার নয় যে…

    শরীর নিয়ে ঠাট্টা কোরো না রুষা। বাইরে অন্ধকার হয়ে গেছে। শরীরও সাপেরই মতো। অন্ধকার হয়ে গেলে যেমন জঙ্গল পাহাড়ের গ্রামের লোকে সাপের নাম মুখে উচ্চারণ করে না তেমন শরীরের নামও অন্ধকার নেমে এলে উচ্চারণ কোরো না। সাপের লেখা যেমন : শরীরেরও তাই। কখন যে কামড়ায় কাকে তা বলা পর্যন্ত যায় না। দংশনকারী আর দংশিত দুজনেই সমান অসহায়। “একই অস্ত্রে হত হল মৃগী ও নিষাদ।” যুবনাশ্ব। মণীশ ঘটক।

    তোমার কথাই বুঝি না। তুমি বড় কমপ্লিকেটেড।

    রুষা বলল।

    একদিন তুমি ভিনোদের চুল আচড়ে দিচ্ছিলে শেষ বিকেলে, বসার ঘরে বসে। মনে আছে? শরতের মেঘে মেঘে রঙের খেলা চলছিল, বাইরে শিউলির গন্ধ, আমলকি গাছের পাতারা হাওয়ার সওয়ার হয়ে ছুটে চলেছে দিগ্বিজয়ে, তার মধ্যে একজন চিরন্তন প্রেমিক আর চিরন্তন প্রেমিকা। সত্যি! ছবিটা আমার চোখে লেগে আছে গো। লাভ অফ দ্য পিওরেস্ট, আন্‌-অ্যাডালটারেটেড ফর্ম। প্রায় কৈশোরের নির্মল প্রেমেরই মতো! শরীরটা ইনসিডেন্টাল, প্রেমের অনেক দাবির মধ্যে একটা ছোট্ট দাবি মাত্র। আসল ভালবাসা তো একেই বলে। তোমার আর ভিনোদের ভালবাসা যেরকম। আহা! আমাকে যদি কেউ অমন করে কাছে বসিয়ে আদরে চুল আঁচড়ে দিত তো সারাজীবন তার বাঁদী হয়েই থাকতাম।

    বুঝেছি, যা বোঝার। কাঁপা গলায় বলল, হতবাক হয়ে পৃথুর চোখে চেয়ে বলল।

    কি?

    আসলে, তুমি আমাকে ডিভোর্স করে কুর্চিকে বিয়ে করতে চাও। তোমাকে আমি চিনিনি? তুমি ঘোরো ডালে ডালে, আমি ঘুরি পাতায় পাতায়! যা ভাবছ, তা হচ্ছে না। আমি মরে গেলেও ফিরে এসে কুর্চির ঘাড় ভেঙে রক্ত খেয়ে যাব। ভ্যামপায়ারের মতো।

    ঈসস-স-স…| বোলো না, বোলো না। পৃথু দু হাতের পাতায় চোখ ঢেকে বলল।

    ওর চোখে কুর্চির নরম মরালী গ্রীবাটি ভেসে উঠল। শিরদাঁড়ার হাড়টি উঠে আছে একটু। একটুও বাড়তি মেদ নেই কোথাওই। ছিঃ ছিঃ। ওই সুন্দর ঘাড় ভেঙে কেউ রক্ত খাওয়ার কথা ভাবতে পারে?

    তুমি আমাকে চেনোনি রুষা। কেই-ই বা কাকে চেনে বলো? এই ছোট্ট জীবনে! চিনি চিনি বলে মনে হয়; সত্যিই চেনা কী যায়? আমরা নিজেরাই কি চিনি নিজেদের?

    তুমি তো একটি মেগালোম্যানিয়াক। সবসময় নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত আছ। আমি-ময় জগৎ তোমার। সব সময়, আমি। আমি। আর আমি।

    রুষা বলল ঘৃণা এবং হতাশার গলায়।

    পৃথু হাসল। বলল, সকলেই তাই। আমিত্বর প্রকাশটা একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম। কিছুই তো হল না জীবনে। করবার কিছুই করতে পারলাম না। যদি কবি বা লেখক হতে পারতাম তাহলে আমার এই দামি আমিময়তা আমার কলমে তৈরি সব চরিত্রের মধ্যে দুর্মূল্য জাফরান-এর মতো একটু একটু করে মিশিয়ে দিতাম। তারা সব অমর হয়ে থাকত আমার লেখার মধ্যে। লেখক তো থাকেন না। থাকেন না কবিও; তবে তাঁরা যদি লেখার মতো কিছু লিখে যেতে পারেন, তাহলে তাঁরা অমর হয়ে থাকেন তাঁদের ধুলিমলিন প্রাত্যহিক গ্লানির জীবনের নোংরা হাতের কলম দিয়ে গড়া বিভিন্ন সব চরিত্রে। লেখক চলে যান। তাঁর চরিত্ররা থেকে যায়। আমি তো কিছুই হতে পারলাম না। আমিময়তার কথা বলছ, তুমি কি জানো না মাইকেলের ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যর রাবণের চরিত্রের মধ্যে মাইকেল নিজে রয়ে গেছেন।

    কে মাইকেল? আমাদের ক্লাবের চাইনীজ রুম-এর স্টুয়ার্ড?

    ছিঃ! কী বলছ তুমি। মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দ্যা গ্রেট বেঙ্গলী…

    আই অ্যাম নট দ্যা লীস্ট ইন্টারেস্টেড ইন প্রি-হিস্টরিক, ইনসিপিড বেঙ্গলী লিটারেচার।

    তাহলে বলি, মাদাম বোভারীর মধ্যে ফ্লবেয়ারের, লেডি চ্যাটার্লীজ লাভারের মধ্যে লরেন্সের, রাসকলনিকভ-এর মধ্যে ডস্টভয়স্কির, ডন-জুয়ানের মধ্যে বায়রনের নিজের ছায়া কি নেই? শেক্সপীয়ারও কি উপস্থিত নন হ্যামলেট-এ? আবার উল্টোটাও হতে পারে। কবি, সাহিত্যিক শিল্পী হলে আমিও তেমন করতে পারতাম, যেমন ভ্যান গখ করেছিলেন। তাঁর ব্যক্তি জীবনের সব অন্ধকার বিষাদকে তাঁর তুলির মাধ্যমে উজ্জ্বলতম রঙের ঋজু, দীপ্ত রেখায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন। যাঁরা শিল্পী, তাঁরা লেখার মধ্যে দিয়ে, ছবির মধ্যে দিয়ে নিরুচ্চারে প্রচণ্ড চিৎকৃতবিপ্লব বিদ্রোহের কথা সহজেই বলতে পারেন। নিজের নিজের ব্যক্তি জীবনকে সমাজের অসংখ্য মানুষের ব্যক্তি জীবনের উপর সুপারইমপোজ করে নিপুণতম ফোটোগ্রাফার এবং এডিটরেরই মতো দারুণ দারুণ সব কম্পোজিশান তৈরি করতে পারেন। তাই নয়? বলো তুমি? জীবন, আমার জীবন, তোমার জীবন, আমাদের সকলের জীবনই তো একটি ফ্রেমের মধ্যের একটি মাত্র কম্পোজিশান। কারও ফোটো সুন্দর, কারও অসুন্দর, কারওটা বা আউট-অফ-ফোকাস হয়ে গেছে, কারও ফোটোর ফ্রেমিংটা ভাল নয়…

    আমরা সকলেই তো……কিন্তু তুমি? পারলে তুমি? তোমার ফ্রেমের মধ্যে থাকতে? একটাই যদি ফ্রেমড-জীবন হত; তাহলে তোমাকে নিয়ে আমার এত অশান্তি হত না।

    রুষা বলল, উষ্মার সঙ্গে।

    পৃথু হেসে ফেলল। বলল, আমি, এই পৃথু ঘোষ যে মেনী-ডাইমেনশনাল! স্টীল-ফোটো হয়ে যারা বাঁচে বাঁচুক। আমি তো একটামাত্র মানুষ নই; আমি যে অনেকগুলো মানুষ। পুরো আমাকে কেউ ধরতে পারলে তো? পারবেই না।

    কুর্চি? কুর্চিও পারবে না?

    রুষা বলল, তীক্ষ্ম চোখে পৃথুর দিকে চেয়ে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }