Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৮. চিঠিটি হাতে পেয়ে

    ৩৮

    চিঠিটি হাতে পেয়ে অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইল পৃথু।

    লিখেছে কুর্চি কারখানারই ঠিকানাতে। ভালই করেছে। বোয়ালমাছের যেমন কচিপোনা দেখলেই খেতে ইচ্ছে করে, রুষারও কুর্চির চিঠি দেখলেই কপাৎ করে গিলে খেতে ইচ্ছে করে! এই চিঠিটিও খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে যদি হত, তাহলে হারিয়ে-যাওয়া কুর্চির খবরও তার পেটে চলে যেত মাছেরই মতো। ছটফট করে মরত পৃথু।

    উধাম সিং ডাকলেন ইনটারকম্‌-এ।

    চিঠিটি হিপ্‌-পকেটে গুঁজে ওঁর ঘরে গেল পৃথু। বেশ অনেকটা হাঁটতে হয় কারখানার চত্বর থেকে অফিসে এম ডি-র ঘরে পৌঁছতে।

    সিং সাহেব গম্ভীর মুখে বসেছিলেন।

    গুড মর্নিং পৃথু। কাম। বী সীটেড।

    হোয়াট উ্যড য়্যু লাইক টু হ্যাভ? টি আর কাফি? দুধ মাঙ্গাউ।

    পাঞ্জাবী উচ্চারণে বললেন, সজ্জান উধাম সিং।

    ওরা কারখানাতে চারটে আকাট অস্ট্রেলিয়ান গরু ইমপোর্ট করেছে মাস ছয়েক হল। লাড্ডুর প্রেস্টিজ ষাঁড় তাদের চারজনকেই ইতিমধ্যেই প্রেস্টিজ দান করেছে। তাঁরা সকলেই মা হবেন, সামান্য সময়ের ব্যবধানে। তখন, দুধের বন্যা বইবে ভুবনে। এখন ক্যান্টিনের দিশি দুধ।

    নো। থ্যাংকস। বলল, পৃথু।

    কী করা যায় বলো তো? পরামর্শ করার মতো কেউই নেই আমার। এই দেখো, কেয়ারিনক্রস থেকে জুনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট কী লিখেছেন?

    বলেই, একটি টেলেক্স, মেসেজ এগিয়ে দিলেন পৃথুর দিকে।

    পাঠিয়েছে কে?

    হ্যারী রবসন! আবার কে?

    টেলেক্সটা হাতে তুলে নিল পৃথু।

    ফ্রম এইচ/এইচ টু ইউ/এস্।

    প্লীজ রেফার টু মাই টেলেক্স ডেটেড নাইনন্থ/ নো রিপ্লাই রিসিভড ফ্রম পি. জি./সীনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইজ হাইলী অ্যানয়েড/ইমীডিয়েটলী কল ফর অ্যান এক্সপ্লানেশান ফ্রম হিম/উই হ্যাভ টু এন্টার ইনটু আ ডায়ালগ উইথ হিম/নো-ওয়ান ইজ ইনডিসপেনসিবল ইন ব্রাডলী গ্রুপ/আনলেস হী ইমপ্রুভস হিমসেল্ক, হী উইল গেট দ্যা স্যাক/সরী/উই ক্যুডনট কেয়ারলেস/হাউ ইজ প্রীতম/প্লীজ কনভে মাই রিগার্ডস টু হার।

    —রিগার্ডস/হ্যারী/

    কিসের এক্সপ্লানেশান সিং সাহাব?

    সে কী?

    আমি তো কিছু জানি না।

    বলো কী তুমি! সর্দারজী চেয়ারে উঠে বসলেন সোজা হয়ে। দাড়ির যেটুকু দুদিকে বেরিয়ে ছিল তা বাঁধনীর মধ্যে গুঁজতে গুঁজতে উদ্বেগের গলায় বললেন, শর্মা দেয়নি তোমাকে? তুমি সেদিন আসোনি অফিসে তাই…

    শর্মা! কোন শর্মা? ইমম্যাটেরিয়াল সরী মেটেরিয়াল ম্যানেজার?

    উধাম সিং হেসে উঠলেন। তোমরা ওকে ইম্‌মেটেরিয়াল বল না কি?

    পৃথুও হাসল, বলল, হ্যাঁ। সকলেই।

    সেকি! সে তো মেটেরিয়ালিজম্‌এর কনসেপ্ট হচ্ছে!

    আমি তো এই টেলেক্সের কোনও মাথা-মুণ্ডুই বুঝতে পারলাম না।

    অলরাইট। শর্মাকে ডেকে আমি ফিগার-আউট করছি কেন সে তোমাকে এমন ইম্পর্ট্যান্ট টেলেক্সটি দেয়নি।

    কিছু ছিল কি তাতে?

    সীরিয়াস অব আলেগেসানস্। তুমি মনমৌজী ভাবে অফিস করো। ইচ্ছে হলে আসো, ইচ্ছে হলে আসো না, আজে বাজে লোকের সঙ্গে মেলামেশা কর, কোম্পানির লাঞ্চরুমে লাঞ্চ খাও না, জুতোর দোকানি, মোটর মেকানিক এদের সঙ্গেই তোমার হব্‌নবিং, ক্লাবে যাও না একদিনও, হোল্ডিং কোম্পানীর লোকেরা এলে তাঁদের ইম্পর্ট্যান্স দাও না, খাতির করো না, সঙ্গ দাও না, তোমার সঙ্গে তোমার স্ত্রীর রিলেশান ভাল নয়, আরও নানা ব্যাপার। ইন ফ্যাক্ট্‌ এগুলো সবই চিঠিতে লিখেছিলেন। চিঠিটা আমার কাছেই আছে। বলেই, ড্রয়ার খুলে ছুঁড়ে দিলেন, এই নাও। স্ট্রিক্টলি কনফিডেনশিয়াল।

    তারপর বললেন, আগের টেলেক্সটা শর্ট এবং ক্ৰীপ্টিক ছিল। তুমি ছিলে না বলেই এবং তাড়াতাড়ি উত্তর দেওয়া দরকার বলেই শর্মাকে দিয়েছিলাম একটি কপি, তোমাকে দিয়ে দিতে। আশ্চর্য!

    পৃথু, টেবল থেকে পেপার-কাটারটা তুলে নিয়ে কল্পনায় ওর বাঁ হাতের আঙুলগুলো ডান হাত দিয়ে কাটছিল। এটা অভদ্রতা। কারও ঘরে ঢুকে তার টেবলের কোনও জিনিসেই না বলে হাত দেওয়া অভদ্রতা। কিন্তু উধাম সিং-এর সঙ্গে পৃথুর সম্পর্কটা ভদ্রতার নয়। সৌহার্দ্যর।

    দুজনেই চুপচাপ। সুইস গ্রান্ডফাদার ক্লকটার শব্দ শোনা যাচ্ছে শুধু। জানালা দিয়ে রোদ এসে পড়েছে। সাইরেন বাজল, লাঞ্চ ব্রেকের। হাউ বাউট হ্যাভিং লাঞ্চ হিয়ার?

    নোপ। অন্যমনস্ক হয়ে বলল, পৃথু।

    কেয়ার ফর আ ড্রিঙ্ক পৃথু? লেটস গো ট্যু দা ক্লাব। ওর উই ক্যান হ্যাভ ইট ইন দা লাঞ্চ রুম।

    নো। থ্যাঙ্কউ্য। ডোন্ট ফীল লাইক।

    পৃথু বলল।

    তারপর বলল, হোয়াট আর দে আপ টু?

    সর্দার উধাম সিং রিভলভিং চেয়ারে এক পাক ঘুরেই উঠে দাঁড়ালেন। তারপর আবার বসে পড়ে বললেন, ই এ মামলা আচ্ছি তারা নাআল সমঝ লে পীরথু। তেরে তো কোই ইত্‌বার নাহিন রাহ্ গিয়া।

    একটু থেমে গম্ভীর হয়ে বললেন, উ্য সী পীরথু, হ্যারী আলসো স্পোক টু মী অন দা ফোন লাস্ট নাইট। হোয়াট টু ডু? ম্যায় উহ্‌দে নাআল্‌ দো ঘন্টে গাঁলা করদে রিহা। বাট হোয়াট ফর? দ্যাট ম্যান ইজ আ রোগ্‌!

    আবার চেয়ার ছেড়ে উঠে বললেন, শালারা ভাবে কী বলত? ফিফটিওয়ান পার্সেন্ট শেয়ার আমাদের কজন কর্মচারীকে গিফ্‌ট্ করে দিয়ে শেয়ার স্ক্রিপ্টগুলো তাদেরই নমিনী ছাড়া আর কাউকেই বিক্রি করব না এই স্টেটমেন্টেও সই করিয়ে নিয়ে আমাদের মালিক বানিয়ে দিয়ে বাঁদর নাচাচ্ছে।

    শেয়ার স্ক্রিপ্ট তো নেই আমার কাছে। পৃথু বলল।

    আমার কাছেও নেই।

    দেয়ইনি আমাদের। অডিটরও বিলিতি ছাপমারা অডিটার। লালমুখোরা এখনও গায়ের গন্ধ রেখে গেছে সেখানে। যা বলছে, সাহেবরা তাইই সই। শেয়ার স্ক্রিপ্ট দেখার দরকার পর্যন্ত নেই। এখনও আমাদের, আমাদের লেবারারদের ‘নেটিভ’ ভাবে তারা। তেমন হয়েছে গভর্নমেন্ট! বগলের তলা দিয়ে হাতি চলে যায় তবু দেখে না।

    পৃথু বলল, দোষ তো আমাদেরই। আমরা ফালতু কজন ইন্ডিয়ানসরাই তো আমাদের নিজেদের সুখের জন্যে, ফালতু স্ট্যাটাস-এর জন্যে এই চক্র ছিঁড়ছি না। আমরা কি কাজ জানি না? একটা ফ্যাক্টরী ভাল করে চালাতে আমরা পারি না কি?

    পারি। কিন্তু মার্কেটিং। মার্কেটিং-এ যে ওরা গত একশ বছর ধরে লন্ডনে বসেই কনট্রোল করে আসছে। আসল বাজার তো এক্সপোর্ট।

    করব না আমরা এক্সপোর্ট। ইনল্যান্ড মার্কেটেই সাপ্লাই দেব শুধু। ইণ্ডিয়া এখন মস্ত মার্কেট। রাজি আছেন আপনি? তো বলুন ছেড়ে দেব এই অসম্মানের চাকরি। ভোপাল এয়ারপোর্টে গিয়ে শালাদের জন্যে মালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে ভাল লাগে না আর। সাপের পাঁচ পা দেখেছে।

    পৃথু বলল।

    এই ফোরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশান অ্যাক্ট হবার আগে তবু ব্যাটাদের নিজে হাতে কিছু কাজ করতে হত, এখন তো তাও হয় না। আমাদের ওপরই ছড়ি ঘোরাচ্ছে। আন্ডার ইনভয়েসিং করে বিস্তার টাকা চালান দিচ্ছে ইংল্যান্ডে। এন্ড উই আর আ পার্টি টু ইট। আ সীক্‌, ডাম্ব, পার্টি। জেলে যাবার সময় জেলে যেতে হবে আমাকে পিরথু, মাখম খাবার সময় ওরা। চলো, ছেড়ে দিই। করিই একটা কোম্পানি। ব্যাঙ্ক টাকা দেবে।

    ওদের যা টাকার জোর। দেখবেন, ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে বিলেতে ঘুরিয়ে এনে, কালার টিভি ভিসি আর প্রেজেন্ট করে আমাদের লোনটা আটকে দেবে। দেশটা তো হাভাতে ভর্তি। ফোরেনে বেড়াতে পেলে আর ফোন গুডস পেলে নিজের মেয়েকেও তুলে দেবে হাতে। এই কথা ভাবলেই মন ভেঙে যায় যে, এত বছর হয়ে গেল দেশ স্বাধীন হল, এতদিনেও আমাদের একটা ন্যাশানাল প্রাইড, ন্যাশানাল এনটিটি হল না। দেশের সঙ্গে এখনও আমরা নিজেদের আইডেনটিফাই করতে পারি না। ভাল বুদ্ধি নেই তো খারাপ বুদ্ধি তো অনেকই আছে।

    তা বটে।

    তাছাড়া, আপনারা করলে, আমি সঙ্গে থাকব। ব্যসস এটুকুই। আমার আর কাজ করতে ভালই লাগে না। সত্যিই আমি মনমৌজী লোক।

    এটা ভাল নয়। তুমি তো কিছু করলেও না জীবনে! তোমার ক্রিয়েটিভ ফীল্ডেও তো তুমি একজন ওয়েস্টার। যদি এসে বলতে আমাকে কোনওদিন : ‘আঁসী ইয়ে কিতাঁব লিখি হাই’ কত না খুশি হতাম আমি। কিছুই করলে না। ব্রিলিয়ান্ট এঞ্জিনিয়ার, কাজে মন দিলে এই ইন্ডাস্ট্রীতে তুমি রেভলুশান আনতে পারতে। বিয়ে করেছ, এমন সুন্দরী অ্যাকম্লিশড্‌ বউ তোমার, ফুটফুটে দুটি ছেলেমেয়ে। তোমার দায়িত্ব—কর্তব্যও কি কিছু নেই? তুমি এমন কেন হয়ে গেলে বলো তো পৃথু! তোমাকে দেখলে আমার সত্যিই কষ্ট হয়।

    আমারও হয়।

    বলে, পৃথু উঠে পড়ল চেয়ার ছেড়ে।

    ভাবল, উধাম সিংকে বলে লাভ নেই যে, টাকা রোজগার বা শেল্যাকের কারখানা ছাড়াও আরও করার অনেকই কিছু থাকতে পারে একজন মানুষের জীবনে। নিজের কোনও কাজই হল না। কিছুই হল না, জীবনের বেলা পড়ে এল অথচ।

    মুখে বলল, আপনি ক্লাবে যান সিংসাব। আর হ্যারীকে বলে দিন যে, আই ক্যুড্‌ নট কেয়ারলেস। চাকরি, ওরা চাইলে, আমি ছেড়ে দেব। ফরেস্ট-ফার্মিং করব না হয়। খাটনি নেই। উ্যকালিপটাস লাগাব, পেপার মিলে সাপ্লাই দেব। কিন্তু এই কোম্পানি ছাড়বার আগে আই ওয়ান্ট টু টক টু হিম। এখনও অনেক ইনইকুয়ালিটিজ রয়েছে বিভিন্ন স্তরে। সেগুলো ঠিক করে দিয়ে তবে আমি যাব। নইলে তাদের সিংহাসন নিয়েই নামব নীচে। আই উইল গিভ হিম আ বিট অফ মাই মাইণ্ড। হি উইল নো! ফেরা কোম্পানির কায়দা আমি সব চটকে দিয়ে যাব। এমনই চটকাব যে, দেশের অন্য সব ফেরা কোম্পানি নিয়েই গভর্নমেন্টকে নতুন করে ভাবতে হবে।

    তুমি বড় উত্তেজিত হয়ে পড় সহজে। এতে প্রেসার বাড়ে, হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

    সহজে হই না। এই উত্তেজনা, হ্যারী, ভাইস-প্রেসিডেন্ট ম্যাকাইভর এবং আপনার ইমমেটেরিয়াল ম্যানেজার গত পাঁচ বছর ধরেই গড়ে তুলেছে আমার মধ্যে। একটা হেস্ত-নেস্ত হওয়া দরকার এবার। দে কান্ট ব্রাও-বীট মী। কল দেম হিয়ার। আপনি ওদের বলুন যে, আমি সাইকোলজিকাল কেস হয়ে গেছি। আপনি আমাকে ট্যাকল করতে পারছেন না। ওদের কারও অবিলম্বে আসা দরকার।

    সত্যিই তুমি তাইই হয়ে গেছ পৃথু। এমন ভাল ছেলে ছিলে তুমি। সত্যিই কেমন ক্ষ্যাপাটে হয়ে গেছ আজকাল। তোমাকে সাইকিয়াট্রিস্ট-এর কাছে নিয়ে যাব আমি।

    চলি। আমি এবারে। টেলেক্সটা পাঠিয়ে দেবেন।

    বলে, উধাম সিং-এর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এল পৃথু। বাইরে তখন দারুণ রোদ। রোদে হেঁটে ও কারখানার গেট অবধি এসে একটা সাইকেল রিকশা নিয়ে ভুচুর গারাজের দিকে চলল।

    মনে মনে বলল, সাইকিয়াট্রিস্ট-এর কাছে যেতে হলে তার চেনা-জানা সকলকেই সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হয়। এক অদ্ভুত অসুস্থ সময়ে বাস করছি আমরা। ভুগছি দূষিত, বক্র, এমনকী বিকৃত মানসিকতাতে। শুনতে খারাপ লাগলেও কথাটা সত্যি।

    ভুচুর গ্যারাজে এখন খুবই কাজের ভিড়। ভুচু ক্রীসমাস প্রেজেন্ট দেয় কারখানার সব ছেলেদের। বিল আদায় করতেও দৌড়োদৌড়ি করছে সকলে। ভুচু ছিল না পকেট থেকে টাকা বের করে হুদাকে বলল, একটা ব্ল্যাকলেবেল বীয়ার আর দুটো মাটন রোল নিয়ে আসতে।

    হুদা টাকা নিল না কিছুতেই। বলল, ভুচুদা জানতে পেলে মারবে আমাকে।

    যাবার সময় বলল, পানও আনব তো? আপনার পান? পৃথুদা?

    মাথা নুইয়ে হাসল পৃথু। নিজের শাশুড়ি নেই পৃথুর। থাকলেও ঠিক এতখানি আদর করতেন কি না সন্দেহ। আদর যত্ন, ভালোবাসার ব্যাপারটাই বড় গোলমেলে। কোথায় যে কার জন্যে আদরের ভাত বাড়া থাকে, স্নেহ, প্রীতি, ভালবাসা, তা অলক্ষ্যে থেকে সব যিনি দেখেন, তিনিই একমাত্র জানেন। যেখান থেকে পাওয়ার ছিল, সেখান থেকে শূন্যতা নিয়ে ফিরতে হয় আর যেখানে প্রত্যাশার কিছুমাত্রও ছিল না সেখান থেকেই পূর্ণ হয়ে ফেরে।

    চিঠিটা না পড়তে পারলে অস্বস্তি কাটছে না। এখনও নয়। হুদা বীয়ারটা নিয়ে আসুক।

    এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল একটা নীলরঙা অ্যামবাসাড়ার গাড়ির কাজ শেষ। বোধহয় ডেলিভারির জন্যে পড়ে আছে। তারই পিছনের সীটে আরাম করে বসল পৃথু। একটা দরজা খুলে দিল। রোদ আসছে গায়ে। ডিসেম্বরের দুপুরের গায়ে ফ্লানেলের ব্লেজার-ব্লেজার গন্ধ আছে একটা। ধুলোর গন্ধর সঙ্গে মিশে সেই গন্ধটা গাড়ির স্প্রে-মেশিনের থেকে উৎসারিত বাষ্পীয় রঙের গন্ধের সঙ্গে চারদিকে চারিয়ে যাচ্ছে। পেছনের বড় সেগুনগাছটা থেকে দাঁড়কাক ডাকছে একটা কা-কা। কে জানে, এই ডাকের মানে, ভাল না খারাপ। গিরিশদা থাকলে জানা যেত। খারাপই হবে। সবই যখন খারাপ হচ্ছে পর পর কিছুদিন থেকে।

    হুদা এলে, বীয়ারটা খুলিয়ে নিয়ে রোলটাকে পাশে রেখে ও হিপ পকেট থেকে চিঠিটা বের করল। খামটা ছিঁড়ে ফেলতেই ভাঁজকরা দুটি একশো টাকার নোট বেরিয়ে পড়ল তা থেকে।

    পৃথুদা,

    আমি জানি আপনি খুব রাগ করবেন আমার উপরে এ চিঠি পেয়ে। কিন্তু আমি নিরুপায়।

    প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এমন এমন দুর্দৈবের মুহূর্ত আসে কখনও যখন তার অনেক থেকেও, কিছুমাত্রই থাকে না, অনেকে থেকেও; কেউই নয়। সেই সব মুহূর্তে তাকে তার আসল-আমি, একা-আমির সর্বস্ব সম্বল করেই দাঁড়াতে হয়। জীবনের কিছু মূল প্রশ্নর উত্তর তাকে একা একাই দিতে হয়, নিজেকে। সেই সব মুহূর্ত বড় কঠিন পরীক্ষার মুহূর্ত। কারওই জীবনে এমন পরীক্ষা না এলেই ভাল!

    জানি না, আপনি আমার বক্তব্য বুঝবেন কি না। আমি নিজেও পুরো বুঝে উঠতে পারিনি এখনও। একটা ঘোরের মধ্যেই আছি।

    আমি কোথায় আছি, কেমন আছি কার সঙ্গে আছি এসব প্রশ্নর জবাব এক্ষুণি আমি দিতে পারছি না। সময় যখন হবে তখন নিজেই সব জানাব। আর জানাবার সময় যদি নাইই পাই এ জীবনে, তবে আর জানানো হয়েই উঠবে না।

    পোস্ট-অফিসের ছাপ দেখে আমার খোঁজ করতে বেরুবেন না। যেখানে আমি আছি, সেখান থেকে অনেকই দূরে যাতে এ চিঠি পোস্ট হয় তার বন্দোবস্ত করেছি। তবুও ভেবে মনে মনে খুশি হচ্ছি যে, আপনি আমার খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন ঘর-সংসার চাকরি-বাকরি সব ভাসিয়ে দিয়ে। গল্পে উপন্যাসে, অথবা ইচ্ছেময়-ভাবনায় যা সহজেই ঘটে; জীবনে তা ঘটে না। ঘটা সম্ভব নয়। আপনার সে কারণে লজ্জিত বা অনুতপ্ত হওয়ারও কোনও কারণ নেই। আমি জানি যে, আমি কাছে থাকলে আপনার পক্ষে যত সহজে কাছে আসা, আমাকে ভালোবাসা সম্ভব ছিল; দূরে এবং নিরুদ্দেশে ভেসে যাওয়ায় তা আর সম্ভব রইল না।

    ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্যে। কনভিনিয়েন্সের ভালবাসা সব পারে না। তার দায়-দায়িত্ব অতি সীমিত। সে কারণে হয়ত প্রাপ্তিও।

    এবার আপনার যা যা প্রশ্ন থাকতে পারে, অনুমান করে নিয়ে, এক এক করে তার জবাব দিই। প্রথম প্রশ্ন : ভাঁটু কোথায়?

    উত্তরে জানাই যে, আমার বিবাহিত স্বামী ভাঁটুবাবু এখন মান্দলার জেলে। এতদিন পুলিশ হাজতে ছিল। হাতে-নাতে ধরা পড়ায় জেল হতে বেশি ঝামেলা হয়নি। সত্যকে দামি মিথ্যার বেসাতি দিয়ে ঢাকবার জন্যে কোনও নামী উকিলও সে দিতে পারেনি। মাত্র পনেরো বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে।

    মেদ ঝরে যাবে। শরীর ও মনের।

    যখন বেরুবে, তখন তাকে স্বামী বলে স্বীকার করব কি না, তা এখনই বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সময়, সব কিছুকেই বদলে দেয়। পনেরো বছর পরের আমি কেমন থাকব অথবা আদৌ থাকব কি না তা এত আগে থেকে বলা সত্যিই সম্ভব নয়।

    দ্বিতীয় প্রশ্ন : আমি কী ভাবে চালাচ্ছি?

    চিন্তা করবেন না। নষ্ট হয়ে যাইনি। হব না। যে যাই বলুক, নষ্ট হয়ে যেতে কিছুটা নিজস্ব প্রবণতাও লাগে। যে-প্রবণতা আপনার মধ্যে আছে; আমার মধ্যে নেই। শুধু নষ্টই নয়, আপনার মধ্যে নিজেকে ধ্বংস করার প্রবণতাও লক্ষ করেছি, অনেকই সময়; ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে। জানি না, যিনি আপনার অনেক কাছের লোক; আপনার অর্ধাঙ্গিনী রুষাবৌদি, তিনি এই সাংঘাতিক প্রবণতার কথা কখনও লক্ষ করেছেন কি না। আপনাকে নিয়ে আমার বড়ই দুশ্চিন্তা হয়।

    আমার জন্যে কিন্তু আপনি একটুও ভাববেন না। না-খেয়ে নেই। যদিও আহামরিও কিছু নেই। দুঃখেরও কিছু দেখি না এতে। কারণ এদেশে আমার চেয়ে অনেক রূপসী ও বিদূষী মেয়েও, যাদের স্বাধীনতা ও আত্মসম্মান বোধ আছে; এর চেয়ে অনেকই খারাপ থাকে।

    তৃতীয় প্রশ্ন : আমি কি ভাঁটুকে এখনও ভালবাসি?

    সত্যি কথা বলতে কী, আমি নিজেই ঠিক জানি না। এক সঙ্গে পাশাপাশি বাড়িতে থাকলেও এক ধরনের মায়া তো জন্মাই, ট্রেনের কামরায় সহযাত্রীর সঙ্গে একটি দিন কাটালেও তাকে আপন লোক বলে মনে হয় অনেক সময়। বাড়িতে কুকুর বেড়াল থাকলেও তাদের প্রতিও এক ধরনের গভীর মমত্ববোধ জন্মায় আর ভাঁটু তো আমার বিবাহিত স্বামী! রক্ত-মাংসের; সুখ-দুঃখের ভাগীদার। আমার শরীরের শরিকও ছিল সে। আড়াল, কিছুমাত্রই ছিল না দুজনের মধ্যে। শিম্পাঞ্জিরা যে ধরনের মূক অথচ গভীর ভালবাসা একে অন্যকে বাসে ভাঁটুর ভালবাসাও আমার প্রতি তেমনই ছিল। সূক্ষ্ম ছিল না; রুচিসম্পন্ন ছিল না; কারণ সে সবের বালাই ওর মধ্যে ছিল না, কিন্তু আমার প্রতি ওর গভীর একতরফা অন্ধ ভালবাসায় কোনও খাদ ছিল না। যদিও ভালবাসা কাকে যে বলে, সে সম্বন্ধে ওর কোনও ধারণাই ছিল না। হয়তো, কম পুরুষেরই আছে। আমাকে নিয়েই ও ভরে ছিল। আমি ওকে ভালবাসতাম কিনা কখনও, তো যাচাই করে দেখার অবকাশও হয়নি। মানে, আমার দিক থেকে। যখন হল, এই দুঃসময়ে তখন মহা দুশ্চিন্তাতেই পড়লাম! এখনও বুঝে উঠতে পারছি না অভ্যেসটাকেই ভালবাসা বলে ভুল করেছি কি এতদিন?

    পৃথুদা, আজ আমার স্বামী জেলে। স্বদেশের জন্যে আন্দোলন করে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে আইনের চোখে কোনও আইন-ভাঙার অপরাধেও নয়, কাউকে বলা যায় না, নিজেও শুনতে ইচ্ছে করে না এমনই এক কারণে। জেলে গেছে সে গাঁজার চোরাচালান করে।

    আজকে আমার মনে গভীর এক সন্দেহ জাগছে, ভাঁটু আমাকে ভালবাসে সে কথা জেনেও; ভালবাসা কি শুধুই একটি অভ্যেস মাত্র? সমস্ত বিবাহিত ভালবাসাই? অভ্যেসই বোধহয় ভালবাসা বলে চলে যায় এ সংসারে, আসলে ভালবাসা যে কী, তা বোঝার অবকাশ বোধহয় খুব কম মেয়ের জীবনেই আসে। আর ভাগ্যিস আসে না। এলেই, বড় কষ্ট। তবু বুঝলে সে সব মেয়েরাই শুধু বোঝে; আপনারা কিছুই বোঝেন না। ভাবেন, যে বোঝেন! মিথ্যা শ্লাঘাতে বেঁকে থাকেন আপনারা। আসলে সত্যিই কিছু বোঝেন না।

    দীর্ঘ চিঠি লেখার অবকাশ এখন নেই। অনেক অসুবিধার মধ্যে এই চিঠি লিখছি। দেরিও হয়ে গেল অনেক। কারণ আমি জানি যে, আপনি চিন্তা করছেন। করছেন? সতিই চিন্তা করছেন আমার জন্যে? ভাবতে, কী ভালই যে লাগে! আসলে, ভালবাসা বোধহয় একধরনের চরম স্বার্থপরতাও।

    ভাঁটু আমার স্বামী। যে-মেয়ের নিজের আর্থিক স্বাধীনতা নেই কোনও, স্বামীর পরিচয়ই তো তার একমাত্র পরিচয়! এও একধরনের বন্দীজীবন। জেলখানারই মতো। গাঁজার চোরা চালান না করেও আমারও পনেরো বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হল, বিনা বিচারে, বিনা আদেশে, কারণ আমি আমার স্বামীর স্ত্রী বলে। স্বাবলম্বী নই বলে। এদেশে এখনও এইরকম হয়।

    এই জেলখানা থেকে আমি বাইরে আসতে চাই। একবার বেরিয়ে এলে, আসতে পারলে তারপর অন্য কথা ভাবব। ভাঁটুদের যে জমিদারী ছিল উমেরীয়ায়, তা আমাদের বিয়ের পরই ভাঁটুর দাদা এবং ভাইয়েরা বেহাত করে নিয়েছে। লোকটাকে, বৈষয়িক বুদ্ধিসম্পন্ন বলে মনে হলেও আসলে ওর এসব বুদ্ধি বিশেষ ছিল না। ওকে আমি কখনও তেমন করে ভালও বাসিনি; যেমন ভালবাসা ও চায়। আপনার পটভূমিতে ওকে বড়ই নিগুণ, নিষ্প্রভ, আন-ইন্টারেস্টিং, গ্রস বলে মনে হত, বিশেষ করে আমরা রায়নাতে ফিরে আসার পর। আপনি কবে আসবেন, কবে আপনার চিঠি পাব তার আশায় মুখ চেয়ে থাকতাম। আপনার সঙ্গে একটু দেখা হওয়া, আপনার একটি ছোট্ট চিঠি পাওয়াও আমার কাছে ওর সঙ্গে শারীরিক মিলনের চেয়েও অনেক বেশি আনন্দের কারণ হত। বুঝতে পারতাম যে, ওর সঙ্গে চিরজীবন থাকলে আমার নিজের প্রতি তো বটেই ওর প্রতিও অন্যায় করব আমি। অথচ দেখুন। আইন বলছে, জীবন বলছে, আমার অকারণের কারাদণ্ডও প্রমাণ করছে যে, ওইই আমার সব। আপনি কেউই নন। এটাই এখন ঘটনা। গাঁজা-চোরাই চালানকারীর স্ত্রী আমি। কী সম্মান বলুন তো! এর চেয়ে ব্যাঙ্ক ডাকাতরাও অনেক সম্মানিত। যেখানে আছি সেখানে একজন ছাড়া অন্যরা অবশ্য জানে না এই গর্বের খবর। এই অপরাধের মধ্যেও যেন একটা উগ্র কটুগন্ধ পাই, যদিও গাঁজার গন্ধ কেমন তা আমি জানি না। তবে, কতদিন আর লুকিয়ে রাখব? তাছাড়া, লুকিয়ে রাখাটা বোধহয় ঠিকও নয়। তার চেয়ে এই মিথ্যা সম্পর্ক ভাবছি ভেঙেই দেব।

    সামনের রবিবার ওর সঙ্গে দেখা করতে যাব মান্দলাতে। শুনছি শিগগিরই ওকে অন্য জেলে চালান করে দেবে। গুণ্ডা, বদমাইস, খুনী, রেপিস্ট, স্মাগলারদের সঙ্গে ওঠাবসা করবে ও। যতটুকু ভালত্ব বা ছিল, তাও থাকবে না। আমি কেন ওর জন্যে পনেরো বছর অপেক্ষা করব? কেন করব? আপনি কোনও যুক্তি দেখাতে পারেন? ভেবে ভেবে কোনওই কুল পাচ্ছি না। আপনি তো এ জীবনে আমার অনেক ভালই করলেন, এটুকু করবেন না আমার জন্যে? কি আমার করা উচিত তা আমাকে বলে দেবেন না?

    কোনওরকম সাহায্যই চাই না এ ছাড়া, আপনার কাছ থেকে। যাকে মানুষ ভালবাসে, তার কাছ থেকে কোনও সাহায্য নিলে সে ভালবাসা নোংরা হয়ে যায়। বিচ্ছিরি দেনা-পাওনার বিষয় হয়, সুন্দর আর থাকে না। সেদিন রাতে ইচ্ছে করে প্লেটের তলায় রেখে যাওয়া দুটি একশো টাকার নোট আমি যত্ন করে তুলে রেখেছিলাম। এই চিঠির সঙ্গেই পাঠালাম। অর্থ খুবই দামি, বিশেষ করে অর্থহীনের কাছে; কিন্তু ভালবাসার চেয়েও নয়। দারিদ্র্য যখন আসে, তখন তাকে জড়িয়ে ধরার মধ্যেও একধরনের শিক্ষা লাগে, সুশিক্ষা। যে-মানুষ দারিদ্র্যে ভেঙে যায় টুকরো হয়ে, তার শিক্ষাটা মনে হয় এখনও পুরো হয়নি। আমি আমার মাকে চোখের সামনে দেখে এ কথা শিখেছি। দারিদ্র্যের চেয়েও অনেক অনেক বড় কষ্ট একজন মানুষের জীবনে থাকতে পারে। থাকে। বড়লোকের ছেলে আপনি, যদিও বড়লোকী মনোবৃত্তির নন; তবু বড়লোকের ছেলে তো! আপনার পক্ষে এই কথার তাৎপর্য বোঝা সম্ভব নয়। এই পরীক্ষায় ইচ্ছে করে কেউই বসে না। আপনার যেন কখনও বসতে না হয়; এইই প্রার্থনা করি।

    যদি চিঠি দেন, তাহলে খুব খুশি হব। কিন্তু আসবেন না। দিদি-ঠাকুমার মতো সেকেলে দিব্যি কেটেই বলছি যে, এলে; মরা মুখ দেখবেন আমার। আপনি এলে আমার মরা ছাড়া উপায় থাকবে না কোনও। সবদিক দিয়েই। আসেনই যদি, তাহলে আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে। পারবেন? আমার ভালবাসার ধন! যিনি, আমাকে একটু দেখতে না পেলে পাগল হয়ে উঠতেন?

    পারবেন না। আমি জানি যে, পারবেন না।

    আপনি বিবাহিত। আপনার সুন্দরী, বিদূষী, সমাজে প্রশংসিত স্ত্রী আছেন; আছে সুন্দর ভাল ছেলে আর মেয়ে। পাল্লাতে তাদের দিকে ভার বেশিই হবে। আপনাদের মতো সাহসী, বাঘের মতো সচ্ছল পুরুষ মানুষের পক্ষে ভালবাসা ভালবাসা খেলা, প্রেমের বেদনা-বিলাসই বোধহয় বেশি মানায়। কবিতা-টবিতা ভাল লেখা যায় তাতে। কবিতার সঙ্গে কল্পনা এখনও সহবাস করে। প্রকৃত ভালবাসা যে বড়ই নগ্ন, বড় ঝড়-ঝাপটার; তা অনেকই বেশি প্রত্যাশা করে অন্যজনের কাছ থেকে। সে দাবি, আপনার ওপর করব না। ভালবাসি বলেই আপনাকে সর্বনাশের ডাক দেব না। নিশ্চিন্ত থাকুন। কবিতা লিখুন। প্রকৃতি নিয়ে, নারী নিয়ে কাব্যি করুন, নিজের একতরফা আনন্দে বুঁদ হয়ে থাকুন সারা জীবন। এই সবই কবিদের প্রেরোগেটিভ, স্পেশ্যাল প্রিভিলেজ। ভাঁটু যখন জেলে মধ্যপ্রদেশের দুঃসহ গরমের দুপুরে বসে ঘানি-ফেরাবে অথবা বাজরার জন্যে জেলের প্রান্তরে কোদাল চালাবে, আমি যখন টিনের চালার জেলখানায় বসে পা-মেশিন চালিয়ে ছিটের ব্লাউজ তৈরি করব শুক্রবারের হাটিয়াতে ছত্তিশগড়িয়া, গোন্দ আর বাইগা মেয়েদের কাছে বিক্রি করার জন্যে, তখন আপনি কবিতা লিখবেন। আমাকে নিয়ে। এবং কে বলতে পারে, সেই কবিতাই হয়তো আপনাকে অমরত্ব এনে দেবে কোনওদিন।

    আমাদের মতো মন্দভাগ্য মেয়েরাই চিরদিন আপনাদের কল্পনার খাদ্য হয়েছি, ষাঁড়দের যেমন টাটকা নেপিয়ার ঘাস; আমাদের খেয়ে ছিঁড়ে ছেনে ধুনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেড়ালে-খাওয়া সাদা কবুতরের মতো ছিন্ন ভিন্ন করে রেখে আপনারা পুরুষ কবিরা মহান হয়েছেন। আপনারা শতায়ু হোন।

    এবার শেষ করব চিঠি। কম্বল আর বালিশ উঠোনের বেড়ায় রোদে দিয়েছি। একটা অসভ্য ষাঁড় কাল আমার বালিশের একটা পাশ খেয়ে গেছে। মেয়েলি তেলের গন্ধ পেয়েছিল বোধহয়। গরু হলে নিশ্চয়ই খেত না। শুনেছিলাম ছাগলে কী না খায়, পাগলে কী না বলে! ষাঁড়ও যে সব খায় জানতাম না! রাতে বড় শীত লাগে টিনের চালের মাটির ঘরের বেড়ার ঘরে। তাইই কম্বল বালিশ গরম করতে দিয়েছি। কবিরা বেশ প্রেমিকাদের কল্পনা করেই উষ্ণ হয়ে ওঠেন বলে শুনেছি, আমরা পারি না কেন বলুন তো! আমরা কি কিছুই পারতে পারি না?

    আমার চিঠির রকম দেখেই বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই যে একজন সতী সাধ্বী অবলা স্ত্রী হিসেবে যতখানি ভেঙে পড়ার কথা ছিল এই আর্থিক দুর্দৈবে তা পারিনি। ভরসা রাখবেন যে, পড়বও না।

    বেঁচে থাকার মতো আমার অনেকই কিছু আছে। সজনে পাতায় হাওয়া লাগলে এখনও আমার ভাল লাগে, ভাল লাগে ভোরের পাখির ডাকাডাকি, শেষ বিকেলের মন-খারাপ করা আলো। এই সব ছোটখাটো ভাললাগা নিয়েই আরও পনেরোটা বছর কেটে যাবে। বুড়ো, কুঁজো ভাঁটুবাবু আমার চেয়ে বয়সেও সাত বছরের বড় এক সন্ধেয় গরুর ডাক আর বড়হা দেবের পুজোর ঘণ্টার শব্দর মধ্যে আমার ভাঙা বেড়ার কাছে এসে দাঁড়াবে। বলবে, চিনতে পারো? কুর্চি?

    ওকে চিনতে নিশ্চয়ই পারব। তবে কষ্ট হবে। ও-ও আমাকে চিনতে পারবে না প্রথমে। বস্তির কোনও ছেলেমেয়ে চিনিয়ে দেবে। চোখে চালসে চশমা, সাদা চুল, আমার দিকে চেয়ে ও বলবে, চিনলে না? আমি সেই ভাঁটু। উমেরীয়ার ভাঁটু।

    ওই রক্তমাংসর মানুষটাকে চিনতে পারব। ও-ও পারবে আমাকে। আমি বসতে বলব, তোলা উনুনে চা করে দেব, বাজরা মাখব রুটি করার জন্যে রাতের। ও মেঝের আসনে বসে, মাটির ঘরে, বসে আমাকে চিনতে চেষ্টা করবে। পুরনো গন্ধ খুঁজবে নাক উঁচু করে, পুরনো স্পর্শকে কল্পনা করে খুশি হবে। আর আমি দু হাঁটুর মধ্যে থুতনি রেখে আগুনের দিকে চেয়ে থাকব। চোখ আমার জলে ভরে যাবে। আমি জানব যে, যে এসেছে আমার ঘরে, সে আমার কেউ না; কেউই ছিল না কোনওদিন, এদেশের লক্ষ লক্ষ মেয়ের স্বামীদেরই মতো।

    নিরুচ্চারে আমি আবৃত্তি করব আমার প্রিয় কবি রাজলক্ষ্মী দেবীর একটি কবিতা :

    জানি আমি একদিন বুড়ো হব। চশমার ফাঁকে।

    উলের কাঁটার ঘর গুণে গুণে কাটবে সময়।

    যদিও অনেক লোক আসে, যায়—দুটো কথা কয়—

    মনে মনে জানা রবে, কেউ তারা খোঁজে না আমাকে।

    এমনি মেহগ্নি আলো বিকেলের জানালাকে ছোঁবে!

    নরম চাঁদের বল ফের উঠে আসবে আকাশে।

    বাতাস সাঁতার দেবে সবুজ ঢেউয়েরই মত ঘাসে।

    আকাশের বুক ভরে তারারা বিছানা পেতে শোবে।

    শাদা চুল নেড়া দাঁত, আয়নায় ভ্যাংচানো ছায়াকে

    তখনো বলবো আমি রাজ্যচ্যুত রাজ্ঞীদের ভাষা।

    ‘জানিস, আমার ছিলো সে এক আশ্চর্য ভালবাসা।

    তোর কি ক্ষমতা আছে মিথ্যে করে দিবি সে পাওয়াকে?

    ভাঁটু কিছুমাত্র বুঝবে না আমার মনের ভাব। হয়তো বলবে, চায়ে বেশি করে চিনি দিয়ো। কতদিন ভাল করে চিনি খাই না। জেলে বড় চুরি হয়।

    আমার দু চোখ দিয়ে জল বইবে। আমি না-বলে বলব, চুরি কোথায় হয় না?

    আপনি তখন কোথায় থাকবেন পৃথুদা? ইজিচেয়ারে শুয়ে থাকবেন হয়তো তো নাতি কোলে করে। ছিঃ ছিঃ একজন বাঘের কী লজ্জাকর পরিণতি!

    ভাল থাকবেন। সবসময় ভালবাসবেন আমাকে।

    —ইতি কুর্চি

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }