Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪০. ভিনোদের বাংলো থেকে বেরিয়ে

    ৪০

    ভিনোদের বাংলো থেকে বেরিয়েই অজাইব সিং বলল, কাঁহা সাহাব?

    কাঁহা?

    এই প্রশ্নটা পৃথুকে চিরদিনই বিব্রত করে। যাওয়ার জায়গা তো তার কোথাওই নেই।

    ক্লাবে যাবে?

    ছুটির দিন। তার উপরে সামনেই ক্লাবের ইলেকশান। একদল ওয়েল-অফফ মানুষ রঙচঙে জামা পরে কী দারুণ মনোযোগের সঙ্গে কী দারুনতম অপ্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি ছোট ছোট চড়াই-সুখের আলোচনায় এখন প্রচণ্ড ব্যস্ত সেখানে।

    ফিস-ফিস, ফুস-ফুস।

    মিঃ সেনের বাড়ি যাবে কি? তাসের আড্ডা বসেছে সেখানে এখন জোর।

    নাঃ।

    মিঃ গাঙ্গুলী?

    মোসাহেবরা ভিড় করে আছে আর উনি কিং ক্যানিউটের মতো লনের গোলাপবাগানের সামনে চেয়ারে বসে সামনের টেবলে দুটি গোদা-গোদা পা তুলে দিয়ে রাজা-উজির মারছেন। ব্যাংককে তাঁর মোষসদৃশ দাদ-ঘষঘষ নিম্নাঙ্গ এবং থলথলে থাই; থাই-মেয়েদের দিয়ে কেমন মালিশ করিয়ে এলেন তারই রসালো গল্প অথবা হংকংয়ে কেমন গ্রান্ড সেরিমনির সঙ্গে চিঁচিঁ-বাঁদরের ঘিলু খেলেন নীট ভি, এস, ও, পি ব্রান্ডি সহযোগে, সবচেয়ে দামি রেস্তোরাঁতে, তার গল্প। এই মানুষগুলোর প্রতি অনুকম্পা ছাড়া অন্য কিছু নেই পৃথুর। ক্রোধ হয় চামচেগুলোর উপর। এই মোসাহেবরাই কালচার্ড এবং আনকালচার্ড বাঙালিদেরও ঘুণপোকার মতোই কুরে খেয়ে যাচ্ছে অনুক্ষণ।

    অজাইব সিং আবার শুধোল পথের মোড়ে এসে; কাঁহা সাহাব?

    ঠিক সেই সময়েই পৃথুর বুকের মধ্যে কে যেন আমূল ছুরি বসিয়ে দিল একটা। আত্মবিস্মৃত; অকৃতজ্ঞ পৃথুর।

    কুর্চি।

    তার কুর্চি যে হারিয়ে গেছে!

    কুর্চি-ই-ই-ই…ই…ই…

    ডাক ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করল পৃথুর। কুর্চির চিঠিটি পাবার পর থেকে তাকে খুঁজে বের করার কোনওই চেষ্টা করেনি সে। কান্নাটাকে গিলে ফেলল। প্রায় অসম্ভব হলেও গিলল। ভদ্রলোক, শিক্ষিত লোক কাঁদে না, ড্রাইভারের সামনে তো নয়ই। মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজ তাকে তার মূল স্বাভাবিকতা এবং মূল বাসভূমি প্রকৃতি থেকে বহু দূরেই নিয়ে এসেছে। ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে একেবারে। ‘শো অফ ইমোশান’ প্রাকৃতজনেরই লক্ষণ।

    ছিঃ।

    রায়না চলো।

    পৃথু বলল।

    ভাঁটু বাবুকো ঘর?

    একটু অবাকই হল পৃথু।

    অজাইব সিং লোকটা একটু বেশি বুদ্ধিমান। মালিকের চেয়ে তার কর্মচারি বেশি বুদ্ধি ধরলে, মালিককে খুবই সাবধানে থাকতে হয় এমবারাসমেন্টের হাত থেকে বাঁচতে এবং এই সাবধানতার কারণে একটা বাড়তি টেনসনেরও সৃষ্টি হয়।

    বলল, হাঁ।

    মগর উনোনে তো হ্যাঁয় নেহী রায়নামে।

    গ্যয়া কঁহা?

    যেন, জানে না; এমন ভাব করল পৃথু।

    জেল হো গ্যয়া না উনকো। মান্দলামে হ্যায়। মরদনা ফটকমে। উনকা বিবি…

    বলেই, চুপ করে গেল চালাক অজাইব সিং। ওর বুকের মধ্যে ওর প্রিয় গানটা নীরবে বেজে উঠল : “হায়! ঝুমকা গীড়ারে। ব্যারিলিকা বাজার মে ঝুমকা গীড়ারে। হাম দোনোকা ঘাবড়ার মে, ঝুমকা গীড়ারে। ঝুমকা, ঝুমকা, ঝুমকা গীড়ারে…

    পৃথু বলল, কুর্চি মেমসাব? উনোনে কাঁহা হ্যায়? পাত্তা হ্যায়?

    মুঝে মালুম নেহি হ্যায়। মগর শুনে যে, যো রায়না ছোড়কর চলী গ্যয়ী।

    মালুম কৈসে হুয়া? ঔর গ্যয়ী কাঁহা?

    অজাইব সিং গাড়ি ঘুরিয়ে মান্দলার দিকের পথে চলল। স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে সোজা পথের দিকে চেয়ে বলল, আমার এক পিসতুতো শালাও ওই চোরাচালানের দলে ছিল। তার হয়েছে দশ বছর।

    একটু চুপ করে থেকে অজাইব সিং বলল, ভাঁটুবাবু কিন্তু মানুষ সুবিধের নয়। আগে যে চাকরি করতেন সেখান থেকেও চুরির দায়ে চাকরি গেছিল। সকলেই জানে। কুর্চি মেমসাব য্যায়সী আওরাতকি জিন্দগীই বরবাদ হো চুকি।

    হুঁ!

    লজ্জিত গলায় বলল পৃথু। আর কীই বা বলতে পারে? ভাঁটু যে মানুষ গোলমেলে, গুলবাজ, এবং ধূর্তচূড়ামণি তা বুঝত ও। কিন্তু প্রেমিকার স্বামী অথবা কুকুরের আবার ভালমন্দ কী? তাদের অ্যাকসেপ্ট করে নিতেই হয়।

    কুর্চি মেমসাহেব আছেন কোথায়? কোন জায়গায়? কার বাড়িতে?

    ম্যায় ক্যায়সে কঁহু সাহাব? মগর আপ হুকম করনেসে পাত্তা লগানে শকতা।

    কৈসে? অজাইব সিং?

    যাঁহা যাঁহা ঢুঁড়না পড়েগা সবহি জাগেমে যাউঙ্গা। ছোড়েগা থোড়ি!

    শেকোগে অজাইব সিং?

    পৃথুর গলাটা যেন ভয়ার্ত শোনাল নিজেরই কানে।

    অজাইব সিং অবাক চোখে তাকাল তার সাহাবের চোখে। এমন কাকুতিভরা, দ্বিধাগ্রস্ত গলায় তার সাহেব কখনও কথা বলেনি। আর এমন অসহায়ের চোখে কখনও তাকায়ওনি তার জবরদস্ত কিন্তু ভোলেভালা সাহাব তার চোখে কোনওদিন।

    ঘুরে বসে, গোঁফে হাত ছুঁইয়ে অজাইব সিং বলল, জরুর শেকেগা। হুজৌর কা মেহেরবানিসে। মগর এক আর্জি হ্যায় হুজৌর।

    ক্যা?

    চারগো টি এ বিল পড়া হুয়া হ্যায় বহত দিনোঁসে। উও খিটমিটিয়া অ্যাকাউন্ট্যান্ট সাবনে পাস করতাহি নেহী। হামসে ভী কমিশন মাঙ্গ রহে হেঁ। ম্যায় বোলিন, ডাণ্ডা দেগা, কমিশন-উমিশন হামসে নেহী মিলনা। হাম ঘোষ সাহিবকা ডেরাইবার বা!

    কৌন বাবু?

    পাণ্ডে বাবু হুজৌর। ঔর কোন? ইতনা পইসা পিট লিয়া কা কঁহু! কোই ভী পেমেন্ট দেহাতি নেহী বেগর পইসা। মোঁগাও মে তো মোকান ভী বানা লিহিস। ই কোম্পানি হুজৌর সব চোর ঔর ডাক্কুসে ভর চুকে হ্যায়। নতিজা ভারী খরাব নিকলেগা।

    পৃথু মনে মনে বলল, সমস্ত দেশেরই এখন এই অবস্থা। হাটচান্দ্রা শেল্যাক কোম্পানি ব্যতিক্রম হবে কি রে?

    ওসব কথার উত্তর না দিয়ে ওকে একটি কুড়ি টাকার নোট এগিয়ে দিয়ে বলল, তুমারা খানেপীনেকা লিয়ে রাখখো। আর আমাকে ভুচুর গ্যারাজেই নামিয়ে দিয়ে যাও। তারপর রায়না থেকে খোঁজ আরম্ভ কর। মান্দলা, টিকেরিয়া, বালাঘাট—যেখানে যেতে চাও যাও কিন্তু আমার খোঁজটা এনে দেবে। যদি দেখা পাও, তাহলে কুর্চিদিদির কাছ থেকে দু’লাইনের চিঠিও আনবে একটা। বলবে, খুবই চিন্তায় আছি আমরা সকলেই! আর কী উপকার করা যেতে পারে, যে-কোনও উপকার; সে সম্বন্ধেও ভাল করে খোঁজ নিয়ে এসো। তুমহারা দিমাগমে অকল হ্যায় অজাইব সিং। ইয়ে কাম হামারা ঠিকঠাক করকেই আনা। সমঝা?

    জী হুজৌর। সমঝা। ম্যায় আপকি কাম করকে তবহি লওটুঙ্গা। ম্যায় নেহী লউটুঙ্গা তো মেরী ডেড বডি লওটেগা পাত্তা লে কর।

    এই হিন্দি সিনেমাগুলোই খেলো সবাইকে। কথায় কথায় ডায়ালগ ঝাড়ে প্রত্যেকেই। ভাবল, পৃথু।

    বিরক্ত গলায় বলল, ফজুল বাতেঁ বন্ধ করো। আভভি জলদি চলো গারাজ।

    পৃথু ভাবছিল, কাল সকালে অফিসে গিয়েই পাণ্ডেকে বলে অজাইব সিংয়ের টি এ বিলগুলো পাশ করে দিতে বলবে। আজকাল সংসারে একটি ছোট্ট উপকার চাইলেও কারও কাছে, সে যতটুকু পারে বদলে নিয়ে নেয়। চেয়েই হোক, কি কেড়েই হোক। অজাইব সিংও ব্যতিক্রম নয়।

    দূর থেকে ভুচুর গ্যারাজের সামনে একটু জটলামত জমেছে মনে হল। অনেক সময়ই হয়। কোনও কাস্টমার বিল পেমেন্ট করা নিয়ে ঝামেলা করে, কখনও মেকানিক আর মিস্ত্রিরা গোল হয়ে আড্ডা মারে। কখনও মারামারিও হয় নিজেদের মধ্যে। আপসে মেটে, কখনও-বা মাথাও ফাটে। যাইই হোক, অজাইব সিংকে আটকে না রেখে, ছেড়ে দিল পৃথু।

    পৃথুকে গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে আসতে দেখেই হুদা এগিয়ে এল। বলল, মালুম হোতা খতরা বন গ্যয়ে দাদা।

    খতরা? কওন চিজকা? ভুচু কোথায়?

    বেরিয়েছে। আসবে এক্ষুণি।

    একটা বারো তেরো বছরের গাব্দাগোব্দা ছেলে ঘন সবুজ রঙা চেক-চেক লুঙ্গি আর লালরঙা গরম কাপড়ের একটা পাঞ্জাবি পরে দুহাতে দুচোখ ঢেকে কাঁদছিল।

    কে এ?

    মৌলভী গিয়াসুদ্দিনের ছেলে।

    ছেলেটির নধরকান্তি চেহারার দিকে তাকিয়ে পৃথুর মনে হল, স্বাভাবিক! রোজই তেলওয়ালা মোরগা খেলে চেহারা এরকমই হওয়ার কথা।

    হয়েছে কী?

    কাল শেষ বিকেলে মৌলভী মোরগা মারতে গেছিল নই নদীয়ার জঙ্গলে। কিন্তু এখনও ফিরে আসেনি।

    রাতেই খবর দিল না কেন?

    ওরা ভেবেছিল, নইনদীয়ার দিকে নাজিমুদ্দিনের ভাণ্ডার। সেখানে ছোট একটি মাদ্রাসাও আছে। হয়তো, রাতটা সেখানেই কাটিয়ে আসছে। নাজিমুদ্দিন হজ করতে গেছিল। ভেবেছিল হজ-এর গল্প শুনছে হয়তো রাতভর হাজির কাছে। বেলা হয়ে যাবার পরই ওদের ভয় ঢুকেছে। কী যে হল, কে জানে?

    পুলিশে কি খবর দিয়েছে?

    না। দেয়নি এখনও।

    হুদাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে গেল পৃথু। বলল, ভুচু, গেছেটা কোথায়?

    জেনারেটরের ব্যাটারীটা চার্জে গেছে। তারই জন্যে বাজারে গেছে। এসে গেল বলে। আমরা রোজই যাচ্ছি, কিন্তু সুরতহারাম গিদাই আমাদের পাত্তাই দিচ্ছে না। এদিকে জেনারেটরের জন্যে বড়া তকলিফ। তাই দাদা নিজেই গেছে সাইকেলে।

    এখন পুলিশে খবর দিও না। ভুচু এলে, ভুচুকে বোলো যেন ও-ও চলে আসে। জীপটা বার করে দাও তো আমাকে। তেল আছে তো? আমি এগোচ্ছি।

    ভুচুকে বোলো নইনদীয়ার দিকে যেতে, বলেই, চলে গেল ধুলো উড়িয়ে।

    কাছারির পাশ দিয়ে যে বাইপাসটা আছে, তা দিয়ে টিকিয়া উড়ান চালিয়ে যাচ্ছিল ভুচু। এমন সময় দেখে ক্লাবের রাস্তার মোড়ে হান্নানের দোকানের সামনেই গাছের গায়ে সাইকেলে ঠেস দিয়ে রেখে কাবাব আর রোটি খাচ্ছে ভুচু।

    জীপটাকে দেখেই ও তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে উঠল। কিন্তু দোকানের দিকে আর গেল না পৃথু। এখন ওখানে সকালের খাওয়ার জন্যে খুব ভিড় থাকে। নানারকম লোক।

    স্টার্ট বন্ধ করে দিয়ে গাছতলায় রাখল জীপটাকে। ভুচু সাইকেল সম্বন্ধে হান্নানকে কী যেন বলে দৌড়ে এল, রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে। কাছে এসে বলল, ব্যাপার কী? সাত সকালে?

    বলছি। সাইকেলটা এখানে রেখো না। লোকে আমাকে দেখেছে। আমি এগোচ্ছি। শামীমের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পান খাব। তুমি সাইকেলেই এসো তাড়াতাড়ি। পথেই বলব যা বলার।

    সাইকেলটা শামীমের দোকানেই রেখে দিলে হবে।

    হয়েছেটা কী তা তো বলবে?

    মৌলভী কাল মোরগা মারতে গেছিল নইনদীয়ার জঙ্গলে। এখনও পর্যন্ত ফেরেনি। তাড়াতাড়ি এসো। আমি চললাম।

    পৃথু জীপ চালিয়ে এগিয়ে গেল।

    ভুচু ফিরে গেল হান্নানের দোকানে। কী মনে করে, বারোটা রুটি আর কিছুটা মগজের কারিও নিয়ে নিল চটপট সাইকেলের হ্যাণ্ডেলে ঝুলিয়ে। তারপর এগোল শামীমের দোকানের দিকে।

    শামীম বলল, সালাম আলেকুম। চায়ে মাঙ্গাউ?

    পান মাঙ্গাউ? আবার বলল, শামীম।

    আমিই আনাচ্ছি। সঙ্গে লাগবে।

    তুমি কি খুবই ব্যস্ত শামীম?

    ভুচু হঠাৎ জিজ্ঞেস করল।

    শামীম একচোখের ম্যাগনিফাইং গ্লাসটা না খুলেই বোকার মতো তাকাল পৃথুর দিকে। পৃথুর মুখটা বোধহয় আবছা অথবা অতিকায় দেখাল ওর চোখে ওই কাঁচেরই জন্যে। চট করে কাঁচটা খুলে পৃথুর দিকে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বলল, ক্যা হুয়া? পিরথুদাদা? শামীমকেও যে আবার কখনও তার দলের মানুষদের প্রয়োজন হতে পারে এ-কথা শামীম বোধহয় ভুলেই গেছিল।

    ধারে কাছে কেউ নেই দেখে, পৃথু বলল, মৌলভী কাল বিকেলে মোরগা মারতে গেছিল, আর ফেরেনি। নইনদীয়ার জঙ্গলে।

    মৌলভী…? ইয়া আল্লা!

    হতভম্ব হয়ে বলল, শামীম। তারপর নিজের মনে বিড় বিড় করে কী সব বলল অস্ফুটে। আমরা যাচ্ছি। পৃথু বলল, চাপা গলায়।

    আমরা মানে?

    ভুচু আসছে।

    আমিও যাব।

    কী হতে পারে? বাঘ? সাপ? ডাকু?

    কী করে বলব? আমরা যাচ্ছি। তুমি ভেবে দেখো। যেতেই হবে এমন মানে নেই। ঠুঠাকে নিতাম, সময় নেই এখন।

    পিরথুদাদা! ভাববার কিছুই নেই। যদি কোনও খতরাই বনে গিয়ে থাকে? যারা আমার মেয়ের জান বাঁচাল তাঁদের বিপদে পাশে না দাঁড়ালে খুদাহ আমাকে দোজখ-এও জায়গা দেবেন না। আসছি আমি। এক সেকেন্ড।

    বলেই, ও ভিতরে চলে গেল। ওর মেজ ছেলে সামসুদ্দিনকে দোকানে বসতে বলল। দোকান থেকেই গলা তুলে চেঁচিয়ে। সামসুদ্দিন বাপকো-বেটা হয়েছে। হিরো; আরেকজন। সে একটা জিনের ফ্লেয়ার পরে, হাতে ফিলমফেয়ার ম্যাগাজিন নিয়ে অনিচ্ছাসহকারে দোকানে এসে বসল। ব্যাজার মুখে। ভাবখানা; বম্বেতে গেলে অমিতাভ বচ্চনই হতে পারত, এখানে এই গর্তে বসে ঘড়ি সারাই করবার জন্যে এই দুনিয়াতে সে পয়দা হয়নি।

    ভুচু এসে গেল। পানও। শামীমের সেজছেলেকে পাঠিয়েছিল।

    ভুচু আর শামীম দুজনেই সামনে বসল।

    ভুচু বলল, চলো।

    শামীম বলল, এক সেকেন্ড। বন্দুকটা নেওয়া হল না।

    ঠিক আছে। ভুচু বলল। নিয়ে নাও।

    গিরিশদার বাড়ির রাস্তায় মাইলখানেক গিয়েই একটা ঝাঁকড়া অশত্থ গাছের নীচে পথটা আসতেই বাঁয়ে একটা সরু কাঁচা রাস্তা বেরিয়ে গেছে। বয়েল গাড়ি, জীপ অথবা মোটর সাইকেল এবং সাইকেলের পক্ষেই তা উপযুক্ত। কার যাবে না। এই পথটা অন্ধ। একটা শূন্য টাঁড়ে গিয়ে হারিয়ে গেছে অনেক দূরে। সেখানে আগে নইনদীয়া বলে মস্ত একটা গ্রামও ছিল। পানকাদের। বসন্তর প্রকোপে আজ থেকে প্রায় পনেরো বছর আগে সে গ্রাম ছেড়ে লোকে এদিকে ওদিকে চলে গেছিল। তাই এই পথে ক্বচিৎ কোনও পিকনিক করা পার্টি ছাড়া সদুদ্দেশ্যে কারও যাবার কথা নয়।

    পৃথু জীপটা দাঁড় করাল। বলল, দ্যাখো তো ভুচু অন্য জীপের চাকার দাগ পাও কি না পথের ধুলোয়?

    ভুচু ও শামীম দুজনেই নেমে ভাল করে দেখল। জীপের চাকার দাগ নেই তবে মোটর সাইকেলের যাওয়া-আসার দাগ আছে নিয়মিত। সাইকেলেরও।

    পৃথু বলল, চিন্তার কথা।

    তিনজনেই সাবধান হয়ে গেল। কিন্তু বেশি দূর যেতে হল না। মাইলখানেক মতো আঁকাবাঁকা, দুধারে জঙ্গলঘেরা পথে এগোতেই শামীম আঁতকে উঠে বলল, ইয়া আল্লা!

    ব্রেক করে দাঁড় করাল জীপটাকে পৃথু। ডানদিকে চেয়ে দেখল একটি শিমুল গাছের ডাল থেকে মৌলভী গিয়াসুদ্দিন ঝুলে আছে। সম্পূর্ণ উলঙ্গ। তার লাল কালো চেক চেক লুঙ্গিটা পাকিয়ে তার গলাতে গিঁট দিয়ে ডালের সঙ্গে বেঁধে দিয়েছে কারা যেন। মৃতদেহটা ফুলে উঠেছে। মনে হচ্ছে যেন একটা অতিকায় লাল কালো বনমোরগ। একদল শকুন ছেয়ে আছে গাছটাকে। মাঝে মাঝেই মৃতদেহের কাছে পা রাখার জায়গা না পেয়ে উড়ে উড়ে এসে এক এক কামড় মাংস খুবলে নিচ্ছে। যেখানে একসময় চোখ দুটি ছিল সেখানে বীভৎস দুটি ক্ষত। তরল রক্ত গড়িয়ে গেছে মুখ বেয়ে সারা শরীরে। কালো রেখায় শুকিয়ে গেছে।

    পৃথু তাড়াতাড়ি জীপ ঘুরিয়ে নিয়ে আবার অশত্থ গাছটার নীচে ফিরে এল। শামীম আর ভুচুকে বলল ফিরে গিয়ে মৌলভীর বাড়িতে খবর দিতে। ভোপালের সঙ্গেও ফোনে কথা বলতে বলল।

    ভুচু সব শুনল।

    জীপের স্টিয়ারিং-এ বসতে বসতে ভুচু বলল, তুমি?

    আমি একা গিয়ে দেখে আসব একটু।

    ঠিক আছে। বলল ভুচু। কিন্তু পৃথুদা খুব সাবধান। তোমাকে একা ছেড়ে যাওয়া কি ঠিক হবে?

    পৃথু বলল, বিলকুল ঠিক হবে। সময় নষ্ট কোরো না।

    শামীমের বয়স যেন আরও দশ বছর বেড়ে গেল। বিড় বিড় করে আবার বলল, ইয়া আল্লা! খুদাহতাল্লা।

    জীপটা চলে গেল। পৃথুও জঙ্গলের গভীরে ঢুকে গেল পথ ছেড়ে। ডানদিকে নয়; বাঁদিকে। তারপর পিস্তলটি হাতে ধরে খুব সাবধানে এক পা এক পা করে এগোতে লাগল, আহত বাঘকে যেভাবে শিকারের সময় অনুসরণ করত, প্রায় সেইভাবেই।

    জঙ্গল এদিকে বেশ গভীর। শালই বেশি। তবে বেল, আমলকি, চিলবিল, ঢওঠা, ঢোঁঠর ইত্যাদিও অনেকই আছে। পিটিস, কেলউন্দা, করৌঞ্জ, পিলাবিবি ইত্যাদির ঝোপ-ঝাড়ও কম নেই। ময়ূর, বনমুরগি, তিতির, বটের খরগোশ আর চিতার আইডিয়াল কান্ট্রি। মিনিট পনেরো জঙ্গলের ভিতরে রাস্তা ছেড়ে ও হেঁটে গেল, তারপর নইনদীয়ার পাড় ধরে পথের সমান্তরালে যাবে ঠিক করল। কোনও বিশেষ কারণে নয়। মন বলল, তাই। এমন সময় যেখানে বুদ্ধি বা যুক্তি অচল, সেখানে মন যা বলে তাই-ই শুনতে হয়।

    রোদটা এখন চড়ছে। সকাল দশটা এগারোটাতে শীতের জঙ্গলের শিশির সব বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার পর গাছপালা থেকে যে এক ধরনের বিশেষ গন্ধ ছাড়ে, কোনও যুবতী মেয়ের চান করে ওঠার পর মুহূর্তের বাথরুমের গন্ধের মতো, সেইরকম গন্ধে ভরে আছে সমস্ত বন। একদল ছাতারে ডাকছে ছ্যাঃ ছ্যাঃ ছ্যাঃ করে। টিয়ার ঝাঁক চলেছে মাথার উপর দিয়ে। সবুজ টুঁই পাখি টি-টুঁই টি-টুঁই করে চমকে বেড়াচ্ছে।

    নইনদীয়া নদীর নামেই গ্রামটার এবং জায়গাটারও নাম। এই নদী একটা জায়গায় এসে একেবারে হেজেমজে গিয়ে কয়েক ফার্লং মতো গিয়ে যেন ভূস্তরের গভীরে ডুবসাঁতারে এসে আবার জেগে উঠেছে। তাই-ই এর নাম নইনদীয়া। নতুন নদী!

    কান খাড়া করে চলেছে পৃথু। মৌলভীর কথা ভাবার সময় নেই এখন। মানুষ মরে গেলেও বারো ঘণ্টার বেশি সময় কেউই ভাবে না তার জন্যে। মৌলভী বারো ঘণ্টার অনেক আগে মরেছে। ফুলে ঢোল। মোটেলাল। ডাকল শের সিং এর দলের মোটেলালকে ডাকু মগনলাল যে শুধু খতমই করেছে তাই-ই নয়, বড় নৃশংসভাবেই খতম করেছে। পৃথুর দৃঢ় বিশ্বাস, শিমুল গাছটার কাছে অথবা গাছের ডালে কোনও চিঠিও রেখে গেছে তারা বাকিদের সাবধান করে দিয়ে। ভয় দেখিয়ে। মোটেলাল মরে গিয়ে প্রতিহিংসার আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে পৃথুর মধ্যে। এই-ই মৌলভীর মৃত্যুর নীট ফল।

    নুরজেহানের ঘটনার পর এই ব্যাপারে সব কিছুই থিতিয়ে গেছিল। সপ্তাহে দুদিন ভোপাল কথা বলেছে একবার করে ভুচুর সঙ্গে। কখনও কখনও পৃথুর সঙ্গেও। রাতেই। পরশুদিনের খবর ছিল এইটাই যে, ওঁরা ঠিক জানেন যে মগনলাল এই এলাকাতেই আছে। মোঁগাওতে পর পর তিনটি ডাকাতি হয়েছে গত সাতদিনে। বালাঘাট থেকে আসা একটি ট্রাককে গভীর রাতে লুঠ করেছে পথে। ড্রাইভার এবং ক্লীনারকে গুলি করে মেরেছে। ভগয়ান শেঠ-এর দোকান এবং ভিনোদ ইদুরকারের বাড়িও লুঠ করার সম্ভাবনার কথা পরশুই এক ইনফরমার মারফৎ জেনেছেন ওঁরা। হাটচান্দ্রার বিলিতি মদের দোকান থেকে মদ কিনে নিয়ে মগনলালের দলের দুজন একটি সাইকেল রিকশাতে করে গিয়ে নির্জন জায়গায় নেমে পড়েছিল। সাইকেল রিকশাওয়ালা পুলিশকে ইনফর্ম করেছে। একটা হেস্তনেস্ত হয়ে যাক এবার। শিকারি মাত্রই জানেন যে, বড় বাঘকে জখমি করে ছেড়ে রাখার মানে হয় না। পাপ তো বটেই, নিজেরও শান্তি হয় না। হোক এবার যা হবার।

    ভোপালের খবরের ব্যাপারটাকে অত ইম্পরট্যান্সও হয়তো দেয়নি ভুচু। ভেবেছিল, ক্রীসমাস পেরিয়ে গেলে কিছু একটা ঠিক করবে। মোটেলালকে সরিয়ে দেওয়া মানে, এর পর সাঁওয়া, শের সিং নিজে এবং তার দলবলের অন্যদেরও যাওয়ার ওয়াক্ত আসবে।

    হঠাৎই একটা শব্দে থমকে দাঁড়াল পৃথু। শব্দটা ঠিক কিসের ঠাহর করতে পারল না। ওইখানেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। দু পা মাটিতে গেঁথে গেল। আবারও হল শব্দটা একটু পরই। মনে হল, জলের মধ্যে থেকে এল। জঙ্গলের আড়াল ছেড়ে নদীর দিকে যাওয়ার সাহস হল না, ধরা পড়ে যাবে বলে। আবারও হল শব্দটা। এবার বোঝা গেল। নদীর মধ্যে পাথরের উপর কেউ কাপড় কাচছে।

    খুব সাবধানে, প্রায় লেপার্ড-ক্রলিং করে করে পৃথু এগোতে লাগল ওইদিকে। নদীর পারের দু মিটার মতো দূরে থাকতে একটা পিটিসের ঝোপের আড়ালে সটান শুয়ে পড়ল ও। শুয়ে পড়তেই একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল। এবং সঙ্গে সঙ্গে একদল বনমোরগ ভরর ভরর করে সামনের ঝোপ থেকে উড়ল একসঙ্গে। মৌলভীর খাদ্য। অনেকদিন মানা করেছিল পৃথু। পুলিশ যে গুলিগুলো তাকে ডাকাতের মোকাবিলা করতে দিয়েছিল সেই গুলির বেশি দিয়েই মোরগা-নিধক করেছে মৌলভী। এই মোরগ-মারতে এসেই তার প্রাণটা গেল।

    পৃথু পিটিসের ঝোপের ফাঁক দিয়ে দেখল, একটা কালো, অল্পবয়সী মেয়ে নদীতে কাপড় কাচছে। লালরঙা একটি তাঁতের শাড়ি। কিন্তু তার পরনে কিছুমাত্র নেই। চান হয়ে গেছে। চুল ভিজে। ভারী সুন্দর তার গড়নটি। মেয়েটিকে এদেশী বলে মনে হল না। সরু কোমর। লম্বা। হাঁটু সমান কুচকুচে কালো চুল। লতানো দুটি বাহু। নিখুঁত সৌন্দর্য!

    এমন সময় নদীর ওই পারে দুজন লোককে দেখা গেল। তাদের কোমরে গুলির বেল্ট বাঁধা। হাতে রাইফেল। বড় বড় গোঁফ। অলিভগ্রীন ট্রাউজার, ফুলহাতা শার্ট এবং সোয়েটার গায়ে। লোকগুলোর চেহারা দেখেই বুঝল পৃথু যে ডাকাত। মেয়েটির দিকে চেয়ে তারা একসঙ্গে কী যেন বলে উঠল। হো হো করে হাসল। জানোয়ারের মতো। ওরা সৌন্দর্যর কদর জানে না, মাংস খেতে জানে।

    মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গেই কাচা কাপড়টি জড়িয়ে নিল গায়ে এবং পরিষ্কার বাংলায় বলল, মরণ! রাতে দিনে একমুহূর্ত নিস্তার দেবেনি গো হারামজাদারা!

    পৃথুর গায়ের রোম সব সোজা হয়ে উঠল। এই-ই তাহলে সেই ভৈরবী।

    লোকগুলো অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করল মেয়েটির দিকে চেয়ে। তারপর মেয়েটি জল ছেড়ে পাড়ে উঠে গেলে তার সঙ্গে জঙ্গলের গভীরে ঢুকে গেল। পৃথুর মনে হল, খুব সম্ভব মেয়েটির এসকর্ট হিসেবেই এসেছিল লোকগুলো। যাতে পালিয়ে না যেতে পারে সেই জন্যও হয়ত।

    ওরা অদৃশ্য হবার পরই পৃথুও নদী পেরুল। খুব সাবধানে, তারপর যেদিকে ওরা গেছিল, সেই দিকেই এগিয়ে চলল যতখানি নিঃশব্দে পারে।

    ওদের পথটা ধরে ফেলতে কষ্ট হল না বেশি। লোকগুলো যোধপুরী বুট পরে ছিল। পায়ের দাগ জঙ্গলের মাটিতে পাওয়া যাচ্ছিল সহজেই, সিকি মাইলটাক গিয়েই আস্তানাটার সন্ধান পেল পৃথু। আস্তানা মানে, পাশাপাশি দুটি বড় বয়ের গাছের ডালের সঙ্গে টেনে বাঁধা একটা বড় ত্রিপল। তার নীচে ভোঁর ঘাস এবং কিছু বিচালি পাতা। ঘাস ও বিচালির চেহারা দেখে মনে হল কাল রাতেই পাতা হয়েছে। তারই উপর কম্বল-পাতা বিছানা। সবশুদ্ধ জনা ছয়েক লোক। পাশের একটি মহুয়া গাছের উঁচু ডালে একটি মাচা বাঁধা। তাতে একজন লোক টেলিস্কোপিক লেন্স লাগানো রাইফেল নিয়ে পাহারা দিচ্ছে। মগনলালের দলের স্নাইপার। একবার দেখতে পেলেই হল। লোকটার গলা থেকে বাইনাকুলারও ঝুলছে।

    পৃথু একেবারে গুলি-খাওয়া চিতার মতো মাটির সঙ্গে লেপ্টে দিল নিজেকে। শরীরের সমস্ত পেশী আর স্নায়ুকে সচেতনতার চরমে পৌঁছে দিয়ে স্থির করে দিল। একটাই জিনিস করার আছে এখন ওর। এখানে সবশুদ্ধ কতজন লোক আছে? আর ওরা আজ রাতটাও এখানে কাটাবে কি না? সেটা জানা দরকার। দলের মধ্যে মগনলাল নিজে আছে কি নেই তাও। মগনলালের চেহারাটা ফোটো দেখে চিনে রেখেছে ও। দূর থেকে দেখতে পেলেও ঠিক চিনে নেবে। অনেক সময় স্বপ্নেও দেখেছে। মাচায় বসা স্নাইপার, বাইনাকুলারটা তুলে ধরল দু’হাত দিয়ে, রাইফেলটা পাশে নামিয়ে রেখে। এই সময় ওকে এক নিমেশে শেষ করে দিতে পারত পৃথু। কিন্তু এখনও নয়। সব কিছুই সময় মতো। গর্ভাধানের সময় থেকে জন্ম সময়ের মধ্যে যেমন এক নির্দিষ্ট ব্যবধান থাকে, তেমনই মৃত্যুর শমন জারি হওয়া আর মৃত্যুর সময়ের মধ্যেও থাকে।

    এমন সময় সাইকেল করে একটি লোক এল ওই ক্যাম্পের উল্টোদিকের সুঁড়ি পথ বেয়ে। কে জানে? সাইকেলটা বোধহয় মৌলভী গিয়াসুদ্দিনেরই হবে। হ্যান্ডেলের যেখানে ধরবার সেখান থেকে লাল-নীল প্লাসটিকের ফালি ঝুলিয়ে রাখত মৌলভী। এতেও আছে। লোকটা সাইকেল থেকে নামতেই চিনে ফেলল পৃথু।

    এই-ই ডাকু মগনলাল।

    ডাকু মগনলাল ত্রিপলের তলায় এক আছাড়ে শুয়ে পড়ে ভৈরবীকে ডাকল। ভৈরবী এসে তার মাথার চুল বিলি কাটতে লাগল। মগনলাল নিচু স্বরে একজন লোককে কী যেন বলল। রান্না করছিল আরেকজন লোক পাথরের উনুনে, কাঠ গুঁজে দিয়ে। তার পাশে আরেকজন বসে রুটি গড়ছিল দু’হাতে চাঁটি মেরে মেরে আর অন্য একজন একটা উনুনের উপর তাওয়াতে তা সেঁকছিল। নাস্তা তৈরি হচ্ছিল। আরও একটি লোক একটি পাঁঠার গলায় দড়ি বেঁধে হাঁটাতেহ হাঁটাতে নিয়ে এল। কোথা থেকে, কে জানে? স্নাইপারটা বাইনাকুলারটা স্থির করে চেয়েছিল পৃথুর পেছন দিকে। এতক্ষণে বুঝল পৃথু। লোকটা মৌলভীর ঝুলন্ত মৃতদেহের উপরই নজর রাখছে। কখন তাকে নামানো হয়, কে বা কারা নামায়, পুলিশ এল কি এল না এই সবই দেখছে বোধহয়। মৌলভীকে মেরে তারই মৃতদেহের আধ মাইলের মধ্যে থাকা যথেষ্ট বিপজ্জনক ছিল ওদের পক্ষে। কিন্তু এই জন্যেই ডাকু মগনলাল ধরা পড়ে না। যা কেউ করে না, যা কারও ভাবনারও বাইরে, মগনলাল চিরদিন তাই-ই করে এসেছে। ও নিশ্চয়ই ভেবেছিল পুলিশ ডেডবডি পেয়ে অন্যান্য সম্ভাব্য জায়গাতেই খোঁজ করবে ওর। ও যে এখানেই একেবারে নাকের ডগায় বসে আছে প্রদীপের নীচের অন্ধকারের মতো, তা কারও মাথাতেই আসার কথা নয়।

    সময় বেশি নেই। আজকেই এই পুরো ফোঁড়ার মতো ঘিনঘিনে ব্যথাটিকে অপারেট করতে হবে। হয় ইসপার নয় উসপার। আস্তে আস্তে, খুব আস্তে আস্তে; পৃথু পিছু হটতে লাগল। পনেরো মিনিট ধরে এভাবে পিছনে গিয়ে যাতে স্নাইপারের বাইনাকুলারের নজরে না পড়ে তার জন্য সবরকম সাবধানতা নিয়েই সে যত তাড়াতাড়ি হেঁটে পারে, মোড়ের অশ্বত্থতলার দিকে তত তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেতে লাগল। তার পায়ের আওয়াজ পেয়ে অথবা তাকে দেখতে পেয়ে কতগুলো হনুমান হুপ হুপ হুপ করে ডেকে উঠল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }