Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৭. ঠুঠা বাইগা বানজার নদীর পাশে বসে ছিল

    ৪৭

    ঠুঠা বাইগা বানজার নদীর পাশে বসে ছিল।

    একা।

    ঝরঝর শব্দে বয়ে চলেছিল বানজার। তার একটানা ঝরঝরানি শব্দে আনমনা হয়ে গেছিল ঠুঠা। নিজের অস্তিত্ব, নদীর অস্তিত্ব, এই সূর্যোজ্জ্বল বনের অস্তিত্ব সবই তার চোখের সামনে থেকে, চেতনার মধ্যে থেকে ভোরের শীত-সকালের ভোঁর ঘাসের মাঠের শিশিরের মতোই যেন বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছিল। সে তার অবচেতনে, অতীতের তার ছেলেবেলায় ফিরে যাচ্ছিল বহু বহু বছর মাড়িয়ে গিয়ে।

    ঠুঠা বাইগার ভবিষ্যৎ বলে আর কিছুই নেই। চাকরি, সে ছেড়েই দিয়ে এসেছে। যে, তার চাকরি করে দিয়েছিল, তার নিজের ভবিষ্যই এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত। যাকে, সে কোলে-কাঁখে করে মানুষ করেছে, সেই পৃথুকেই যখন একটা পা ছাড়া ক্রাচে ভর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বেঁচে থাকতে দেখতে হবে বাকি জীবন, তখন সেই জীবনের প্রতি ঠুঠা বাইগার আর কোনওই দুর্বলতা নেই।

    দোষ তো তারই!

    সে নাকি কালা-বাঘ! ফুঃ। সেই বদমাস ডাকু মগনলাল যদি আহির ছেদীলাল না সেজে “প্রীত ভইল মধুবনোঁয়া রামা, তোরা মোরা” গাইতে গাইতে তাকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে চলে না যেতে পারত তবে তো তার সঙ্গে মোকাবিলা হত ঠুঠারই! পৃথু হয়তো বেঁচে যেত তাহলে। ছিঃ! ছিঃ! এই খেদ রাখার জায়গা নেই ঠুঠার।

    আহা! কতই বা বয়স পৃথুর! কী করবে সে তার অনেকখানি বাকি জীবন নিয়ে? কী করে বাঁচবে জঙ্গল, পাহাড়, নদী-নালা, আকাশ বাতাসকে এমন করে—ভালবাসা পৃথু?

    বউটাও যদি অন্য মেয়েদের মতো হত! ছিঃ ছিঃ! অমন অদ্ভুত মেয়েছেলে দেখে তার পুরো মেয়ে জাতটার উপরই ঘেন্না ধরে গেছে। তবু গোন্দ বাইগা বা মারিয়া আদিবাসী মেয়েরা অনেক ভাল, অনেক সৎ ওই সব ইংরেজি-ফুটোনো শহুরে মেয়েদের চেয়ে।

    তাদের সমাজেও নারীদের অবাধ স্বাধীনতা আছে, তা বলে সেই স্বাধীনতা নিয়ে এমন করে অন্যকে নষ্ট করে না কেউ। স্বাধীনতার মানে বিবেকহীনতা নয়। মেয়েরা হল ঘরের লক্ষ্মী। ঘরে থাকবে, উঠোন নিকোবে, গাই দোয়াবে, ছেলেমেয়ে বিয়োবে, গ্রীষ্মদিনে স্বামীকে গাছের মতো ছায়া দেবে; শীতের রাতে নাগিনীর মতো জড়িয়ে থাকবে, তবেই না? পৃথিবীটাই বদলে যাচ্ছে। বড় তাড়াতাড়ি বদলে যাচ্ছে। এত তাড়াতাড়ি যে, ঠুঠা তাল রাখতে পারেনি এই বেগের সঙ্গে। গাছ কেটে ফেলছে মানুষ। জঙ্গল সরে যাচ্ছে অভিমানে। মেয়েরাও তাদের কালো ঢলঢলে মুখ দেখায় না আর রাগ করে। ধর্‌তিমাতার গরম বেড়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি, প্রতি বছরই কমে যাচ্ছে। চারদিকে বড় তাপ, বড় ভাপ জ্বালা। ছেলেমেয়েরা বড়দের সম্মান করতে চাইছে না। সবাই সবই গোলমাল হয়ে যাচ্ছে এই পৃথিবীতে। এই পৃথিবী, আর মানুষের থাকার মতো জায়গা নেই!

    একজোড়া বড় বাদামি কাঠবিড়ালি ঝাঁপাঝাঁপি করছিল একটা মস্ত ঝাঁকড়া চাঁরগাছের মাথার ডালে ডালে। সেই কাঠবিড়ালিদের ঘন বাদামি আর কালো চিকন শরীরে রোদ পড়েই তা চলকে যাচ্ছে কাঁপতে থাকা ঘন সবুজ পাতায় পাতায়। দৌড়াদৌড়িতে, ডাল ঝাঁকাঝাঁকিতে, পাতা কাঁপছে, কেঁপেই চলেছে—শ্রাবণের অবিশ্রান্ত ধারায় যেমন কাঁপে।

    কে জানে! মাঝে মাঝে আবার মনে হয় পৃথিবীটা আছে ঠিক সেই রকমই! বদলে গেছে শুধু ঠুঠা বাইগা নিজেই। আর ঠুঠা বাইগার চারপাশের মানুষজন।

    যে-বছর তাদের বান্‌জারি গ্রামটা ছেড়ে সকলে পালিয়ে গেল সেই বছরের নানা ঘটনা এই অলস গন্তব্যহীন অবসরে মনে আসছে একে একে। ছবির মতো। কেন যে এত পুরনো কথা একসঙ্গে মনে আসছে কে জানে?

    ঠুঠা বাইগার কাকা “বাঘ দেও” হয়ে গেছিল। মানুষখেকো বাঘে খেয়েছিল তাকে তাইই। আর তার ছোটমামা? “নাগ দেও”। নাগে কেটেছিল, তাইই। তারা মাঝে মাঝেই এসে ভয় দেখাত ঠুঠাকে। পেঁচা আর বাঘ-ডাকা রাতে দেবদেবী ভূতপ্রেত যে কতরকমই ছিল তাদের ছোটবেলায়! নাঙ্গা-বাইগা আর নাঙ্গা বাইগীন। বড়হা দেব। চিচক্, মানে বসন্ত রোগ বাহিনী দেবী, বুর্‌হি মাতা। সিঙ্গার মাতা।

    হাটচান্দ্রার আলো-ঝল্‌মল্‌ কারখানাতে এই কটা বছর থেকে ঠুঠা বাইগা আর ঠুঠা বাইগা নেই। ঠুঠা ছিল সাচ্চা মানুষ। মাটি, গাছ আর চাঁদ-সূর্যের আশীর্বাদে সম্পৃক্ত একজন সম্পূর্ণ মানুষ। বিজলি আলো, পাকা সড়ক, নানা আরামের লোভ মানুষের মনুষ্যত্বকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। ঠুঠাকেও দিয়েছে। একথা ঠুঠার মতো ভাল করে আর কেউই জানে না। ও এখন শহরে থেকে থেকে ঠুঠা বাইগা নেই; ঝুটা বাইগা হয়ে গেছে। শহরের খারাপ প্রভাবের মতো সর্বনাশা রোগ চিচকও নয়। এই রোগ মানুষের মুখে নয়, মনেরই মধ্যে কুৎসিত সব ক্ষতের সৃষ্টি করে। মানুষের মনের চোখদুটিকে নষ্ট করে দেয়।

    “হাইজার” বা কলেরার প্রলয়ঙ্করী মড়কের বছরটার কথাও তার মাথার মধ্যে ফিরে আসছে। ভেসে ভেসে আসছে, যেমন করে ছোট্‌কি-ধনেশ পাখিরা নিষ্কম্প ডানা মেলে সূর্যাস্তবেলায় নীড়ে ফেরে।

    গরমের শেষাশেষি লেগেছিল মড়ক। সে বছর, কে জানে কেন, কোনও শিমুলগাছেই ফুল ফোটেনি। এমন তোড়েই এল সেবারে “হাইজার” যে, সব শেষ হয়ে গেল বর্ষার প্রথম মাসেই। নর্মদার জলের ঢল নামল সব শাখা নদীতে ঢলঢলিয়ে। ঢলানি মেয়ের মতো। ওই বড় নদীর পারের গ্রামে গ্রামে আগেই মড়ক লেগেছিল। সেখানের সব আধ-পোড়ানো মড়া, নদীতে ফেলে দিচ্ছিল সেই সব গ্রামের লোকেরা। যথেষ্ট সুস্থ লোক ছিল না যে, ঠিকমত দাহ করবে। নদীর মাছ, সেই মড়ক-লাগা মড়াদের ঠুকরে খেল। আর বান্‌জার গ্রামের লোকে খেল সেই নদী থেকে ধেয়ে-আসা জল আর জলের মাছও। ব্যস্‌স্ শুরু হয়ে গেল বান্‌জারেও মড়ক। হায়! হায়! “হাইজার”! পাঁচ ছ’ ঘণ্টা ভেদবমি আর পায়খানার পর পটাপট মরে যেতে লাগল বুড়ো-বুড়ি, জোয়ান সব ছেলেমেয়ে, আণ্ডা-বাচ্চারা।

    কোনও দেও-এর কোপেই এমন হয়েছিল নিশ্চয়ই! ঠুঠার মা বলতেন, দেও নয়; মাতা। মারাই-মাতা। যে-দেবী শুধু মারেনই। বান্‌জার গ্রামের মানুষদের অপরাধ না হলে মারাই-মাতা খামোকা চটবেনই বা কেন?

    কত চেষ্টাই হয়েছিল। গ্রামের বুড়ো গাওয়ান-এর নির্দেশে “দেওয়ার”, মানে গ্রামের পুরুত একটা লালরঙা ছাগলের গায়ে লাল হলুদ সবুজ সব রঙ চড়িয়ে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে, গলা থেকে মুক্তোর হার ঝুলিয়ে, নতুন দোহর ঝুলিয়ে শোভাযাত্রা করে গ্রামের এলাকার বাইরে নিয়ে এসে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল। তারপর, সকলে মিলে তাড়িয়ে তাড়িয়ে পাঠিয়ে দিল যত দূরে পারে। ছাগল যখন অনেক দূরে চলে গেল তখন গ্রামের সীমানাতে দাঁড়িয়ে সকলে মিলে হাত জোড় করে বলতে লাগল, “হে মারাই-মাতা! এই ছাগলটাকে নিয়ে, আমাদের ছেড়ে দাও মা। বাঁচতে দাও এই ধর্‌তি মায়ের বুকে।”

    ছাগলটা যেন আবার চরেবরে গ্রামে না ফিরে আসে তার জন্য চৌকি পর্যন্ত বসানো হল গ্রামের সব দিকে। কিন্তু লাভ হল না কিছু। তবু উজাড় হয়ে গেল গ্রাম। ঠুঠা বাইগার বান্‌জার।

    সবাইই মরে গেল বলতে গেলে। হল না কিছুই শুধু ‘দেওয়ার’-এর। সে যে সব সময়ই মদে চুর হয়ে থাকত। মাতালদের ‘হাইজার’ অথবা কোনও জলবাহী রোগই বোধ হয় কখনও কাবু করতে পারে না।

    যখন গ্রামের মানুষ সব প্রায় শেষ হয়ে এল, তখন টনক নড়ল সকলের। যারা বেঁচেছিল, তারা পালাল গ্রাম ছেড়ে। জঙ্গলে গিয়ে পাহাড়ের গুহাতে ঠাঁই নিল। ঠুঠা পালাল তার বাবার সঙ্গে। সেইই তার কাল হল। গ্রামকে তারা সকলে ছাড়ল বলে গ্রামও তাদের উপর অভিমান করে নিজেই গিয়ে বনের মধ্যে হারিয়ে গেল। খোঁজো এখন তাকে।

    মাটি যখন অভিমান করে, তখন সে নারীর চেয়েও অনেক বেশি অভিমানী।

    ঠুঠার বাবা বাতের ব্যথায় বড়ই কাবু হয়ে পড়ল। ‘হাইজার’-এর হাত থেকে বেঁচে মারা যাবে শেষে বাতে? পৃথুর বাবার বুড়ো মালী! সে বলল, বাঘের চর্বির সঙ্গে ‘আসারিয়া’ সাপের মাংস মিশিয়ে সর্ষে দিয়ে ভাল করে ভেজে নিয়ে খেলেই বাত-টাত সব গায়েব হয়ে যাবে। কিন্তু বড় বাঘ চাইলেই পায় কোথায়? সে তো আর আত্মহত্যা করবে বলে বসে থাকে না। তাছাড়া, পৃথুর বাবার সাগরেদি করে তার দোসরও হয়ে ওঠেনি ওরা তখনও। ঠুঠাও ছোট্ট তখন। শিকারি অবশ্য ছিলই, তবে তীর-ধনুকের শিকারি; বন্দুক রাইফেলের ব্যবহার জানত না। পৃথুদেরই খামারের একজন মজুর বলল, বড় বাঘের চর্বি না পেলে শেয়ালের চর্বি হলেও চলতে পারে। একথা শুনে সেই সন্ধেতেই ঠুঠার বাবা নিজেই কেত্‌রে কেত্‌রে গিয়ে নালার ধারে তীর-ধনুক দিয়ে মারল একটা কেঁদো-শিয়ালকে। ঠুঠাও ছিল বাবার সঙ্গে। সেও তীর ছুঁড়েছিল একটা। ঠুঠার বাবার তীরটা গিয়ে শেয়ালটার বুক এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় করে দিয়েছিল। তারপর সেখানেই শেয়ালটার চামড়া ছাড়িয়ে কয়েক খাবলা চর্বি বের করে শালপাতার দোনা বানিয়ে তাতে করে মুড়ে নিয়ে এল।

    “আসারিয়া” সাপও তখন অনেকই ছিল চারপাশে। পৃথুর বাবার যে বুড়ো মালী, সেইই মেরে দিল একটা খুঁজে-পেতে। সেই যে বাত পালাল ঠুঠার বাবার, আর এমুখো হয়নি কখনও যতদিন বাবা বেঁচে ছিল।

    ঠুঠার বড়মামা মারা গেছিল বান্‌জার গ্রামেই “ফুল্‌মি” রোগে। স্পষ্ট মনে আছে ঠুঠার। পেট ফুলে গেল, তো ফুলেই গেল। ফুলতেই লাগল। কিন্তু মরত না, যদি ঠুঠার বাবার কথা শুনত একবারটি। বড়মামা মানুষটা বড়ই একরোখা ছিল। ঠুঠার বাবা অনেকদিন আগেই একটা গোখ্‌রো সাপ মেরে, চামড়া ছাড়িয়ে ধিকিধিকি কাঠের আগুনে সেটাকে ভাল করে ঝলসে নিয়ে শুকনো করে রেখে দিয়েছিল। সেই শুকনো গোখ্‌রোর দু’ টুকরো দিয়ে একটা ক্কাথ মতো বানিয়ে বাবা কত সাধাসাধি করল বড়মামাকে মামাবাড়ি গিয়ে। কিন্তু মাথাটা দু’দিকে নেড়ে বড়মামা কয়েকবার কেশে, তার ফুলো টসটস পেটে দুটি হাত রেখে বলল, সময় যখন হয়েছে, পিছুটানে দরকার নেই। এসেছিলাম যখন, তখন যেতে তো হবে জানতামই। বড়মামার দাঁত সবই পড়ে গেছিল। বলেছিল, ফোকলাই এসেছিলাম, ফোকলাই যাচ্ছি।

    তার বড়মামার কাছ থেকেই এই জেদ পেয়েছে ঠুঠা তার রক্তে। মামাবাড়ির প্রভাব বোধহয় মানুষের উপর সাংঘাতিক হয়। ঠুঠা কিন্তু চেয়েছিল তার বাবার মতোই হতে।

    কিছুটা ছোলার ছাতু শালের দোনায় নিয়ে আঁজলা করে জল তুলে নিয়ে ভাল করে মেখে কাঁচালঙ্কা কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে খেল। তারপর আঁজলা ভরে আবারও জল। এইসব ছাতুটাতু সে খেতে শিখেছে বিহার থেকে আসা হাটচান্দ্রার কারখানার দারোয়ানদের কাছ থেকেই। ছেলেবেলায় এই দিকে ছাতুফাতুর তেমন চল ছিল না। মানুষ যখনই ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়েছে রুজির খোঁজে, তখন তার খাওয়াদাওয়ার রকম বোধ হয় পালটে গেছে। হয়তো সব মানুষেরই যায়। পুরনো প্রথা ও রেওয়াজ ভেঙে নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সুবিধেমতো করে নিতে হয়েছে তাকে। বাড়িতে না থাকলে আর বাড়ির আরাম পাওয়া যাবে কী করে?

    ছাতু খেয়ে, জল খেয়ে পুঁটলিটা আর বন্দুকটাকে কাঁধে ফেলে রওয়ানা হল ঠুঠা।

    নদীর পার থেকে যে জানোয়ার-চলা পথটা বনের গভীরে গিয়ে হারিয়ে গেছে মাইকাল, বিন্ধ্য আর সাতপুরা পর্বতশ্রেণীর পায়ের কাছে আসন-কেটে-বসা বুড়ো বুড়ো সব গাছেদের মস্ত “মিটিং”-এর মধ্যে, সেই পথ ধরেই এগুতে লাগল সে।

    জবলপুরে পনেরো দিন ছিল ও। ডাক্তার বলেছে, তিন-চার মাস পৃথুকে হাসপাতালেই নাকি থাকতে হবে। পৃথু যতক্ষণ হাসপাতালে আছে ততক্ষণ দেখাশোনার লোকের অভাব হবে না। কিন্তু যখন ছেড়ে দেবে ওকে, তখনই গোলমাল। এই অদ্ভুত স্বার্থপর পৃথিবীতে কেইই বা কাকে দেখে? ঠুঠার গ্রাম হারিয়ে না গেলে, পৃথুকে ধরে সেখানেই নিয়ে আসত ঠুঠা। পাহাড়ে বনে মকাই, বাজরা আর তামাকপাতার কচি কলাপাতা-সবুজ, গাঢ়-সবুজ, হলুদ এবং লালের দিগন্তের সীমানায় এখনও যেসব গ্রাম বেঁচে আছে তাদেরও যে-কোনওটায় নিয়ে আসতে পারত ঠুঠা ওকে পৃথু যদি চাইত। একজন মানুষের বেঁচে থাকতে খুব বেশি কি লাগে? কিন্তু পৃথু কি শুনবে ঠুঠা বাইগার কথা? সে যে কারও কথাই শোনে না। হাটচান্দ্রার মানুষদের ভিতরে যদি একটা পা-হারানো পৃথু গিয়ে পড়ে তবে তাকে তারা জংলি-কুকুরের মতোই ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়ে তার কঙ্কালটুকুকেই শুধু ফেলে যাবে। এতদিন পৃথুরই দৌলতে শহরের মানুষদের ভিতরে, ভদ্রলোকদের সঙ্গে বাস করে করেই ঠুঠার এই ধারণা হয়েছে।

    মানুষ, ‘মানুষ’ হতে গিয়ে আসলে বড়ই অমানুষ হয়ে গেছে। জঙ্গলের বুনো কুকুরের দল অথবা মৃত্যুর অপেক্ষায় চুপ করে বসে-থাকা তীক্ষ্ণ ভয়াবহ ঠোঁট আর ন্যাংটো, লম্বা, গোলাপি গলার জংলি শকুনরাও বোধ হয় শহরের মানুষদের মতো নিষ্ঠুর বা ভয়াবহ নয়। শহরের জানোয়ারদের দেখে দেখে বড়ই ক্লান্ত হয়ে গেছে ঠুঠা। তাইই, ও জঙ্গলে ফিরেছে আবারও সব পিছুটান ফেলে।

    অবশ্য সবই ফেলতে পারল আর কই? পৃথু যে রয়ে গেছে পিছনে। সেইই একমাত্র পিছুটান। যেহেতু ঠুঠা এখনও শহুরে মানুষ হতে পারেনি, পৃথু ফিরে এলে তাকে তাই আবারও ফিরতে হবে শহরে, পৃথুর কাছে, পাশে পাশে তাকে থাকতে হবেই। যদি না, পৃথু জোর করে তাকে তাড়িয়ে দেয়। যে ক-মাস পৃথু হাসপাতালে, সে ক-মাসই এখন ছুটি ঠুঠার।

    তারপর?

    তারপর বড়হা দেব-এর যা ইচ্ছে।

    তবে এই তিন চার মাস ঠুঠা জঙ্গলে জঙ্গলেই থাকবে। “বান্‌জারি”-কে খুঁজে বেড়াবে। যে গাছের শিকড় শুকিয়ে বা মরে গেছে, সে দাঁড়িয়ে থাকে বটে মাটির উপর, দূর থেকে তাকে দেখে বোঝাও যায় না, কিন্তু সে তো মৃতই। মড়াকে দড়ি-দড়া দিয়ে বেঁধে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলে যেমন হয়, তেমনই। তেমন বাঁচা, ঠুঠা বাইগা বাঁচতে চায়নি।

    শিকড় যার নেই, তার কিছুই নেই। সংরক্ষণ করে রাখার মতো যার কিছু নেই, তার বাঁচা-মরায় তফাতও নেই। গাছে-গাছে, মানুষে-মানুষে, পাখিতে-পাখিতে, প্রজাপতিতে-প্রজাপতিতে শুধু এটুকুই তো তফাত। নইলে, বাইরের চেহারাতে এক-এক জাতের প্রাণী বা প্রাণ সবাইই তো একই রকম!

    এতসব ভাবনা, ঠুঠা অবশ্য ভাবে তার নিজস্ব ভাষাতেই। সেই ভাষা শিক্ষিত মানুষদের বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়। বিপদে-পড়া বুনো শুয়োর যেমন ভাষায় কথা বলে, ঘোঁক্-ঘাঁক-ফোঁৎ-ফাঁর্‌র্। অথবা, দীর্ঘ সঙ্গমের পরিতৃপ্তির পরই পুরুষ শোনচিতোয়া যেমন অস্ফুট আওয়াজ করে একরকম, কালা-বাঘ ঠুঠা বাইগার ভাষাও অনেকটা তেমনই। যতটা নিজে বোঝার জন্যে, ততটা বোঝাবার জন্যে নয়।

    কত্ব দিন পরে জঙ্গলে এল ঠুঠা!

    তার মৃতা মায়ের স্মৃতি মনে পড়ল। জঙ্গলই তো তার মা-বাপ। নাক ভরে নিঃশ্বাস নিল। এক এক করে পা ফেলে জানোয়ার-চলা শুঁড়িপথে চলেছে সে এখন আনন্দে ঝুঁদ হয়ে।

    একটু এগিয়েই একদল বারাশিঙার খুরের দাগ পেল পথের ঝুরো-মাটিতে। খুব বড় একটা এক্‌রা শুয়োর পথ পার হয়েছে এখানে, তার খুরে খুরে ঝুরো মাটি ছিটকে গেছে। আর একটু এগোতেই ময়ূর আর বনমোরগের পায়ের দাগ। বাঁদিকে একটি খোলা মাঠ। মধ্যে একটা দোলা মতো আছে। ফরেস্ট ডিপার্ট খেতি করেছে এখানে। তার মানে, এখানে ফরেস্ট-গার্ডদের যাওয়া-আসাও আছে হয়তো। একথা ভেবেই, তাড়াতাড়ি পা চালাল ঠুঠা। তাদের সঙ্গে মোলাকাত হয়ে গেলেই ঝামেলা। অথচ কেন যে এমন হয়, ভেবে পায় না ও। জঙ্গলও তো সুন্দরী মেয়েরই মতো। তাকে ফরেস্ট ডিপার্টও যেমন ভালবাসে, ঠুঠাও তার চেয়ে কম ভালবাসে না। যে-দু’জন পুরুষ একই মেয়েকে ভালবাসে, তাদের দু’জনের মধ্যে তো খুব ভাবই থাকার কথা। অথচ ঠিক উল্টোটাই হয়! এতে ঝগড়া যে কিসের, তা বোঝে না ঠুঠা। ঝগড়াটা বোধ হয় এই কারণেই যে, মাটি আর নারীকে প্রত্যেক পুরুষ চিরদিনই নিজের একার মালিকানাতেই পেতে চেয়েছে। গায়ের জোরে। লাঠির জোরে। টাকার জোরে। অথচ, কখনওই ভালবাসার জোরে নয়। হয়তো সেই কারণেই কোনও পুরুষই কোনওদিনও কোনও নারীর পুরোপুরি মালিক হতে পারেনি। আহিররা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, গরুদের প্রত্যেকের গায়ে যেমন ছ্যাঁকা দিয়ে দিয়ে নম্বর লিখে রাখে মালিকানা জাহির করার জন্যে, পুরুষরাও তেমনই করতে চায়। নারীর গায়ে নিজের তকমা এঁটে দিয়েই ভাবে যে, সে নারী তারই একারই বুঝি হয়ে গেল!

    কিন্তু গাভী আর নারী তো এক নয়! একথা পুরুষ বুঝল আর কই? রুষাকে দেখে, কুর্চিকে। দেখে, বিজলী বাঈকে দেখে এবং তার নিজের জাতের অসংখ্য নারীকে দেখেও এই বিশ্বাসই দৃঢ় হয়েছে ঠুঠার। একজন নারীর মোকাবিলা করা আর পাঁচটি জখমি-বাঘের মোকাবিলা করা সমান বিপদের! বহত্ই খতরনাগ এই জাত। তবু। ভাবে ঠুঠা; এই নারীর মতো জঙ্গলকে তো ফরেস্ট ডিপার্ট তার সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে ভালবাসতেও পারত।

    তা হল কই?

    হঠাৎই একটা শব্দ শুনে থমকে দাঁড়াল ঠুঠা।

    বাইসনের আওয়াজ।

    বাইসনেরাও গরু-মোষের মতোই এক ধরনের ডাক ডাকে। কিন্তু খুব কমই শোনা যায় এই রকম ডাক। একবার এক সাহেবের ডাবল্-ব্যারেলের রাইফেল দিয়ে দূর থেকে একটি মস্ত একরা বাইসনকে গুলি করেছিল ঠুঠা সীওনীর জঙ্গলে। গুলিটা জায়গামতো লাগলে কোনও কথাই ছিল না। প্রায় দুশো গজ দূরে ছিল বাইসনটা। গুলি করার ঠিক আগের মুহূর্তেই এক কদম হেঁটে গেল বাইসনটা বাঁয়ে আর গুলিটা গিয়ে লাগল, যেখানে বুকের পাঁজর পেটে নেমেছে তারই ছ-আঙুল মত নিচে। সেই বাইসনটাও, এক্ষুনি ঠুঠা যেমন আওয়াজ শুনল; ঠিক সেই রকম আওয়াজ করেই লাফিয়ে উঠেছিল। সঙ্গে সঙ্গেই বাঁদিকের ব্যারেল ফায়ার করে মোক্ষম জায়গায় মেরে তাকে অবশ্য ফেলে দিয়েছিল ঠুঠা।

    এতদিন জঙ্গলে ঘুরছে অথচ বাইসনের এই রকমের আওয়াজ মাত্র এই দ্বিতীয়বার শুনল। খুবই যন্ত্রণা বা দুঃখে বোধ হয় এমন আওয়াজ করে বাইসনেরা। কে জানে!

    সাবধান হয়ে গেল ঠুঠা বাইগা। স্ট্যাচু হয়ে গেল। তারপর উৎকণ্ঠিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কান খাড়া করে শুনল। আওয়াজটা পশ্চিম দিকের গভীর শালবনের মধ্যে থেকেই আসছে। আর একবারও শুনল। সাহেব শিকারিরা ওই আওয়াজকে বলত “বেলোইং”। শুনেছে ও।

    খুব সাবধানে কিছুটা পথ ঘুরে একটা টিলার আড়াল নিয়ে, পুবে গিয়ে সেই টিলাতে উঠেই দেখবে ঠিক করল ঠুঠা যে, ব্যাপারটা কী!

    মিনিট দশেক পর টিলাটাতে উঠে শীতের সোঁদা-গন্ধ জঙ্গলের গভীর আন্ডারগ্রোথের আড়াল থেকে ঠুঠা ঠাহর করে দেখল, নীচের শালবনে একটি বাইসনের বাচ্চা পড়ে আছে। তার প্রায় সবটাই খেয়ে গেছে বাঘে। পেছন থেকে খেয়েছে। শুধু করোটি, ভাঙা কঙ্কাল এবং একটি নিটোল পা; ডান পাটি বাকি আছে শুধু। ডান পা? সেই মড়ির ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে বাইসনের পুরো দলটি। মাথা নিচু করে, অথচ উঁচুও করে। অর্দ্ধ-বৃত্তে।

    অবাক হয়ে বাইসনের দলের দিকে চেয়ে ঠুঠা ভাবছিল যে, সম্ভ্রমবোধ ব্যাপারটা কিছু কিছু মানুষ আর কিছু কিছু জানোয়ারের মধ্যেই শুধু দিয়ে দিয়েছেন বড়হা দেব। সকলের মধ্যে কখনওই নয়। মৃত্যু, শোক, দুঃখ, ভীষণ রকম শারীরিক কষ্ট অথবা প্রচণ্ড দারিদ্র্যেও যে-মানুষ বা যে-জানোয়ার বেঁকে না যায়, কুঁজো না হয়ে যায়, তারাই তো সম্ভ্রান্ত! বাইসনেরা সেইরকমই জানোয়ার। বাঘও। আর মানুষের মধ্যে যেমন পৃথু। এবং রুষাও।

    বাঘেই ধরেছিল বাইসনের বাচ্চাটাকে। বড় বাঘে। বোধ হয়, শেষ রাতে। বাচ্চা মানে, বছরখানেকের হবে। বড় বাঘ ছাড়া বাইসনের বাচ্চা ধরার সাহস আর কোনও জানোয়ারের দেখা যায় না সচরাচর। মায়ের বুক ফেটে একবারই শুধু এই শাঁখের মতো আওয়াজ বেরিয়েছিল। সে আওয়াজ যে শোনে, তারই বুক ফেটে যায়। আর যে করে; তার তো ফাটেই!

    পুরো দলটিই দাঁড়িয়ে আছে, পেছনে, মাথা নিচু অথচ মাথা উঁচুও করে। এই নিচু অথচ উঁচু ব্যাপারটাই সম্ভ্রামবোধ। ভাবটা, ঠিক আছে, বনের রাজা বাঘ, তোমাকেও যদি কখনও পাই আমরা; তোমাকে ঘিরে ফেলে শিং আর খুরের গুঁতোতে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব জেনো। সেকথা মনে রেখো। আমরাও বাইসন!

    ঠুঠার মনে হল যেন ঠিক এই মা-বাইসনটার ভঙ্গিতেই রুষা দাঁড়িয়ে ছিল পৃথুর হাসপাতালের খাটের পাশে। হাঁটু থেকে অনেকই উপরে এবং কোমর থেকে আট ইঞ্চি মতো নিচ থেকে পৃথুর ডান পাটা কেটে ফেলার পর যখন সাদা চাদরের বুক অবধি ঢেকে পৃথুকে শুইয়ে রাখা হয়েছিল, তখন।

    রুষার চোখে জল ছিল না। আগুন ছিল। সেই আগুন, পৃথুকে যতখানি পোড়াত, পৃথুর জ্ঞান থাকলে; তার চেয়ে বেশি পোড়াচ্ছিল যে-মানুষটা পৃথুর এই অবস্থা করেছে সেই অদেখা ডাকু মগনলালকে। রুষার চোখের মধ্যে এই মা-বাইসনেরই মতো তীব্র রাগ তো ছিলই, সঙ্গে তীব্র দুঃখ ও অভিমানও মাখামাখি হয়ে ছিল। অথচ একটুও ভেঙে পড়ার ব্যাপার ছিল না। টুসু ও মিলিও তাদের মায়ের দু’ পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাবার চোখ-বন্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে। আশ্চর্য! তাদের চোখেও জল ছিল না একফোঁটা। বাঘ ও বাঘিনীর বাচ্চারা তো বাবা মায়েরই মতন হবে! হওয়াই তো উচিত!

    খুবই অবাক হয়ে গেছিল। শুধু ঠুঠা বাইগাই নয়। গিরিশদা, ভুচু, সাবির মিঞা, শামীম এবং হুদাও। সকলেরই খুব শ্রদ্ধা জেগেছিল এক ধরনের। রুষা এমন এক চরিত্রর নারী যে, তাকে তাচ্ছিল্য করা যায় না। তাকে ঠুঠা পছন্দ করুক কি নাইই করুক তার প্রতি এক ধরনের বিস্ময়-মেশানো শ্রদ্ধা জাগেই। একেই হয়তো বলে ব্যক্তিত্ব!

    কে জানে!

    রুষার চেহারাও বটে একখানা! আগুনের মতো রঙ। তারপর যেমন গড়ন, তেমনই চোখ, মুখ, চিবুক, ভুরু। যত লোক হাসপাতালে ছিল সেই সময়ে, সুন্দরী সব নার্সদের আর ডাক্তারদের সকলকে জড়ো করেও, ঠুঠা এবং অন্যান্যদের মতে রুষাকে সকলের চেয়েই সব দিক দিয়েই সুন্দরী এবং বড় বলে মনে হয়েছিল। বয়সে বড় নয়! এই বড়ত্বর মাপ বয়স দিয়ে হয় না।

    ডাক্তার বলেছিলেন, ইংরিজিতে; সরি! রুষাকে। আরও কী সব বলেছিলেন। ঠুঠা বোঝেনি। ইংরিজি দু’-একটা শব্দই বোঝে ও। কিন্তু উত্তরে রুষা হেসে ডাক্তারকে বলেছিল, থ্যাঙ্ক উ্যু! আরও কী সব বলল, তাও বোঝেনি। কাটা-ছেঁড়ার এতবড় নামকরা ডাক্তারকেও রুষার সামনে কেঁচো বলে মনে হচ্ছিল। যখন ভীষণই কাঁদার কথা, ভেঙে পড়ার কথা, তখনও যারা ভদ্রতা বজায় রাখতে পারে, হেসে কথা বলতে পারে; তারা কি মানুষ? না, বোধ হয়। রুষাও বোধ হয় কোনও “মারাই” দেবী। কে জানে! দেবী বলেই ভয় হয়।

    রুষা কি পৃথুর কেটে-ফেলা পা-টা দেখতে চায়?

    ডাক্তার জিগ্যেস করেছিল।

    ঠুঠার মনে হয়েছিল, এক থাপ্পড় কষায় ডাক্তারকে। বেয়াকুফ, শালার আক্কেল বলেও কি কোনও জিনিস নেই?

    ভুচু আর শামীমও আগুনের চোখে তাকিয়েছিল ডাক্তারের দিকে।

    রুষা মাথা নেড়েছিল দু’দিকে। আবার বলেছিল, নো। থ্যাঙ্ক য়্যু। তারপর বলেছিল, যা পৃথুর নেই; তা দেখার কোনও কৌতূহলই নেই আমার।

    কিন্তু সেই বেয়াকুফ ডাক্তারের নির্দেশে, রুষা যখন দেখল না, তখন একটা মস্ত ট্রলিতে করে পৃথুর পা-টা ঠুঠাদেরই দেখাতে নিয়ে এল ওয়ার্ড বয়।

    ঈস—স্—স্—স্…স্

    ছেলেবেলায়, যখন পৃথুকে কাঁধে চড়িয়ে ঘুরিয়ে বেড়াত ঠুঠা তখন পৃথুর ছোট্ট ছোট্ট নরম পা-দুটো ঠুঠার গলার কাছে বাইসন-হর্ন-মারিয়া মেয়েদের মস্ত হারের লকেটেরই মতো ঝুলত। দুলত। পা-দুটিকে দু’ হাত দিয়ে আলতো করে ধরে থাকত ঠুঠা। পৃথু তার ছোট্ট ছোট্ট দুটি হাতে ঠুঠা বাইগার মাথাটা জড়িয়ে ধরে বসে থাকত ওর কাঁধে। বড় সুন্দর, দুধ-দুধ, ফুল-ফুল এক রকম গন্ধ বেরোত তখন শিশু-পৃথুর গা থেকে। সব শিশুর গায়েই কি ওইরকম গন্ধ থাকে?

    কে জানে! তার পৃথুর গায়ে ছিল!

    ঠুঠা বাইগার পৃথু।

    হঠাৎই ঠুঠা তার গলার কাছে শিশু-পৃথুর সেই সুন্দর সুগন্ধি পা-দুটির স্পর্শ পেল। হঠাৎ। এবং পেতেই, ওর অজানিতেই; অনেকদিন আগের গুলি-খাওয়া সেই এক্‌রা বাইসনটারই মততা, গভীর ছায়াচ্ছন্ন শালবনের মধ্যের শিশু-হারানো বাইসন-মায়েরই মতো ঠুঠারও বুকের মধ্যে থেকে এক গভীর, অর্ধস্ফুট শব্দ বেরিয়ে এল, সমস্ত বুকটাকে কোনও হেভি-বোর রাইফেলের গুলির মতোই ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে। ঠুঠা বাইগার অনিচ্ছাকৃত ওই হঠাৎ-শব্দে বাইসনের দলও হঠাৎ মাথা তুলল তার দিকে। প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড মাথার উপরের শিংগুলো এক ঝটকাতে নিচু করল। কিন্তু পরক্ষণেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে গেল ওরা জঙ্গলের গভীরে। ভারী পায়ের খুরে খুরে জমিতে, পাথরে খটাখট আওয়াজ তুলে।

    ওইখানেই দাঁড়িয়ে রইল ঠুঠা অনেকক্ষণ।

    কী হল! কেন এমন হল? পৃথুর পা-টা তো গতকাল কাটা হয়নি। অনেকদিনই তো হয়ে গেছে। এই যন্ত্রণাটাকে, বুক-গুঁড়ানো এই চিৎকারটাকে এতদিন কী করে, কোন সান্ত্বনার পাথরে চাপা দিয়ে রেখেছিল ঠুঠা বাইগা?

    এখন বাইসনগুলোকে আর দেখা যাচ্ছে না। আলোড়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে। ওরা শিং নামিয়ে আক্রমণ করবার কথা একবার ভেবে, তবুও পালিয়ে গেল। আক্রমণ সত্যি সত্যিই করলে, ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যেত ঠুঠা। তার রক্ত-মাংস বাইসনদের খুরে খুরে ওপড়ানো ঘাস আর ছিটকানো মাটির সঙ্গে মিশে যেত। কিন্তু…

    বাইসনের মতো শক্তিশালী জানোয়ার, বাঘের মতো বনের রাজা এবং আশ্চর্য! অনেক মানুষও, অন্য মানুষকে বড়ই ভয় পায়। বাইসন, বাঘ কী সেই মানুষগুলোও আসলে জানে না যে, মানুষের চেহারা ধরলেই মানুষ, মানুষ হয় না। মানুষের মতো মানুষ, বড় কমই আছে এই ধর্‌তি-মায়ের বুকে। লড়াই না করলে, বোঝাই বা যাবে কী করে; কে বেশি শক্তি ধরে?

    টিলাটা থেকে নামতে নামতে আবারও আরেকবার পৃথুর কেটে-ফেলা ডান পা-টার ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠল ঠুঠার।

    ওয়াক্ ওয়াক্ থুঃ উ…।

    মাটিতে উবু হয়ে বসে পড়ল ঠুঠা। দমকে দমকে বমি করল। উগরে দিল বনের ঘাসের মধ্যে ছোলার ছাতু, পৃথুর কাটা পায়ের দুঃস্বপ্ন-ভরা স্মৃতি এবং নিজের যন্ত্রণা। অথচ এই ঠুঠাই কতরকম এবং কত শ’ বিভিন্ন জানোয়ারের পা-ইই না, কুড়ুল দিয়ে, টাঙ্গি দিয়ে, ছোরা দিয়ে কেটেছে নিজে হাতে। চামড়া ছাড়িয়েছে। পিলে আর পিত্তি ছিঁড়ে এনেছে। ওদের বিরাট বিরাট ফুসফুস আর মাংসল হৃদয় দুটি কামার্ত হাতে চেপে ধরেছে নারীর স্তনেরই মতো। একটুও ঘেন্না তো হয়নি কোনওদিন? রক্তে স্নান করে উঠেছে শুয়োর, কোট্‌রা, চিতল, শম্বর, বারাশিঙ্গা, চৌশিঙ্গা, চিংকারা, কৃষ্ণসার আর বাঘ এবং লেপার্ডের রক্তে।

    তবে? তবে কেন? রক্তাক্ত, গুলিবিদ্ধ, বেগুনি কালশিরে-পড়া কর্তিত পা কি দেখেনি কখনও আগে? তবে?

    দেখেছে! দেখেছে! কিন্তু পরের পা আর নিজের পা, পরের রক্ত আর নিজের রক্তে যে তফাত অনেকই। পৃথু, ঠুঠা বাইগার ঔরসে জন্মায়নি বটে কিন্তু পৃথু ঠুঠার কাছে ছেলের চেয়েও বেশি। ঔরস এবং গর্ভ ছাড়াও অনেক কিছু জন্মায় এই ধর্‌তি-মায়ের বুকে।

    কিন্তু কাকে এসব বলবে ঠুঠা? কী করে জানাবে? একমাত্র যে-মানুষ তার চোখের চাউনিকেও বুঝত; সে তো শুধু পৃথুই! সে কি আর এই পাহাড়ে জঙ্গলে কোনওদিন…। নাঃ..না…

    ঠুঠার সব আনন্দ, দুঃখ, অনুভূতি, স্মৃতি—সবই ছাই হয়ে যাবে একদিন বান্‌জারের পাড়ের; চিতার আগুনে। যারা লেখাপড়া না জানে, তারা সত্যিই বড় অভাগা; নিঃসন্তান দম্পতিরই মতো, শিকড় বা বীজ বা দুইয়ের—জুড়ন ছেড়ে যে যাবে, তেমন কোনওই উপায় নেই তাদের…। বাজ-পড়া শিমুলেরই মতো; হঠাৎই শেষ-হয়ে-যাওয়া তাদের।

    ঠুঠা আবারও নদীর দিকে ফিরে যেতে লাগল। যেদিক থেকে এসেছিল। ভাল করে মুখ-চোখ ধোবে। বমির গন্ধে গা গুলোচ্ছে। মুখ টক।

    সারাটা জীবনই যতটুকু এগোল ঠুঠা বাইগা, জীবনের সমস্ত টুকরো-টাকরায়, ফালিতে; তার চেয়ে পেছোল অনেকই বেশি!

    কোনও কোনও মানুষের ভাগ্যর লিখন এমনি করেই লেখে বড়হা-দেব; যতদিন না কোনও “মারাই-মাতা” এসে তা একেবারে মুছে দিচ্ছে চিতার আগুনে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }