Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫৯. সীওনীতে বেশ থিতু হয়েই বসেছে পৃথু

    ৫৯

    সীওনীতে বেশ থিতু হয়েই বসেছে পৃথু সাতদিন হল।

    যাঁর কাছ থেকে পৃথুর প্রত্যাশা ছিল, এবং হয়তো অন্যায্য কারণেও নয়, সেই মুঙ্গেশ শুক্ল, তাঁর ছেলেকে পাঠানো দূরে থাকুক, পৃথুর সঙ্গে একবার দেখাও পর্যন্ত করেননি। হাটচান্দ্রার অফিসঘরে যে চেয়ারটিতে পৃথু বসত, সেই চেয়ারটির দাম যে পৃথু ঘোষের নিজের দামের চেয়েও অনেকই বেশি তা এতদিন বুঝতে পারেনি। মানুষের চরিত্রের এক নতুন দিক উন্মোচিত হল ওর কাছে। অথচ, কান্তি দিসাওয়াল যে এতটা ভাল ব্যবহার করবেন তা স্বপ্নেও ভাবেনি।

    পৃথুকে দেখামাত্রই “স্যার” “স্যার” করছিলেন ভদ্রলোক।

    পৃথু বলেছিল, পৃথুবাবুই বলবেন। পৃথু যখন আর সাহেব নেই। থাকতে চায়ও না। উনি বললেন, একবার স্যার হলে অলোওয়েজ স্যার।

    শুধু চমৎকার বাসস্থানই নয়, যথেষ্ট ভাল, আশাতীত একটা চাকরিও ভদ্রলোক পৃথুকে দিয়েছেন।

    বলেছিলেন, ভগবানই আপনাকে পাঠিয়েছেন স্যার। আমার ম্যানেজার সাহেবের বাড়ি মাইহার-এ। নাজিমুদ্দিন সাহেব। তাঁর একমাত্র ছেলে হঠাৎ মারা যাওয়াতে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি মাইহার চলে গেলেন গত শুক্রবারে। সত্যিই ভগবান পাঠিয়েছেন আপনাকে।

    মাইহার মানে? উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ-র মাইহার?

    হ্যাঁ। দেখুন, তাই-ই লোকে বলে স্বদেশে পূজ্যতে, রাজা, বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে। শুধু পুজোই নয়, যে গুণী ব্যক্তিকে মাইহারের রাজারা আশ্রয় দিয়েছিলেন তাঁদেরই আমরা ভুলে গেছি। টাকা থাকে না, ক্ষমতা থাকে না দুনিয়াতে, থেকে যায় শুধুমাত্র গুণ।

    তা সত্যি। কিন্তু আমি কোন কাজে লাগব আপনার? বিড়ি পাতার কাজ তো সীজনাল কাজ। গরমের সময় জঙ্গল থেকে বিড়িপাতা সংগ্রহর কাজ তো এখন শেষই হয়ে গেছে। বিড়ি তো আর বানান না আপনারা!

    বিড়ি বানাই না, তবে আমার তো অন্য ব্যবসাও আছে। একটু আধটু সিভিল কনসট্রাকশানও করছি। নানা ধরনের অর্ডার সাপ্লাই। মায়ের নামে একটা স্কুলও করেছি এখানে। আদিবাসী ছেলেমেয়েদের জন্যে এতদিন যা করার তা তো ক্রীশ্চান মিশনারীরাই করল, আমরা তাদের নামে যাই-ই বলি না কেন। আমিও তাই বিনি-পয়সার স্কুল খুলেছি একটা। চারজন টিচারও আছেন।

    গ্রাজুয়েট।

    আমাকে কোন কাজে লাগাবেন আপনি দিসাওয়াল সাহাব?

    অনেকই কাজে লাগবেন। আপনি সবকিছুর, সব স্টাফের উপরে থাকবেন। জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আর অ্যাকাউন্টসটাও একটু দেখবেন। শুধু আপনার নামেই আমার অনেক কাজ হবে এমনিতেই। এইখানে আস্ত নামে, অন্যত্র নাম ভাঙিয়ে।

    অ্যাকাউন্টস। ভাল লোককেই বলেছেন। ও সব আমি কিছুই বুঝি না।

    বোঝেন। বোঝেন। অ্যাকাউন্টস বোঝেন না এমন মানুষই নেই। যে-কোনও শহরের চৌমাথার মোড়ে বসে থাকা জুতো-পালিশ করা ছোকরা থেকে টাটা-বিড়লা-মালীয়ারা সকলেই বোঝে। অ্যাকাউন্ট্যাসির চেয়ে বড় সত্য জীবনে আর কিছু আছে?

    অবাক হয়ে পৃথু বলেছিল, তার মানে?

    তার মানে, এভরী ডেবিট হ্যাজ আ ক্রেডিট। জীবনেও কি এই একই নিয়ম খাটে না স্যার? কিছু পেলে, কিছু দিতে তো হয়ই। কিছু দিলে; কিছু পাওয়াও যায় বদলে।

    গম্ভীর হয়ে গেছিল পৃথু।

    বলেছিল, প্রায় স্বগতোক্তিরই মতো, সব ক্ষেত্রেই কি এই নিয়ম খাটে?

    কখনও কখনও খাটে না। না খাটলে, জীবনের ট্রায়াল-বালান্সেও ডিফারেন্স হয়। তখন সেই ডিফারেন্সকে ডেবিট বা ক্রেডিট করে দিতে হয় প্রফিট অ্যান্ড লস অ্যাকাউন্ডে। মুনিববাবুরা একে “খাইয়ে দেওয়া” বলেন। এত কিছুই নয়, কত বড় বড় পাওনা টাকা “পানিমে পানি হয়ে যায়”, যখন তা পাওয়া যায়ই না, তখন তাকে “নাজাই” খাতে লিখে দিয়ে ভুলে যাওয়া হয়। আপনার ও আমার অথবা অন্য সকলেরই জীবনে অত সহজে আমরা নাজাই খাতে লিখে দিয়ে ভুলে যেতে পারি কি অনাদায়ী পাওনাগুলো? পারি না। সারাজীবন আপসোস করি; অনুযোগ করি। অন্যর বঞ্চনার কারণে নিজেদের কুরে কুরে খাই। অ্যাকাউন্ট্যান্সি কারও মুখ চেয়েই বসে থাকে না স্যার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেমন ব্যবসার বালান্স-শীট বানাতেই হয়, জীবনের বেলাতেও হয়তো তাই-ই হওয়া উচিত ছিল। জীবন-ভর তা ফেলে রাখা উচিত নয়। গরমিল যা, তা “যানে দো কনডাক্‌টর” বলে প্রফিট-অ্যান্ড লস অ্যাকাউন্টে ডেবিট করেই এগিয়ে যেতে হয়। আকাউন্ট্যান্সির মতো এইরকম জীবনধর্মী, গতিমান, আধুনিকতম বিজ্ঞান আর নেই-ই বলতে গেলে। জীবনের সঙ্গে অ্যাকাউন্ট্যান্সির যতখানি মিল ততখানি মিল অন্য কোনও বিদ্যার সঙ্গেই নেই।

    আমি যে জানি না কিছুই অ্যাকাউন্ট্যান্সির। সত্যিই কিছুই জানি না।

    জানতে হবে না। আমার অ্যাকাউন্ট্যান্ট টিব্‌রেওয়াল, মাড়েয়ারী, ঝানু এক নম্বরের। সব সেই-ই করে। কিন্তু আজকাল “গুরু গুড, চেলা চিনি” হয়ে উঠছে। আমার কাছেই কাজ শিখে, এখন আমাকেই টেক্কা মারার চেষ্টা। টাকার চেয়ে বড় ওর জীবনে চাইবার আর কিছুই নেই। ওদের সমাজে নাকি যার যত টাকা সে তত সম্মানের লোক। টাকার সঙ্গে টিবরেওয়াল সম্মান ব্যাপারটাকে গুলিয়ে ফেলেছে। এটা কি দুঃখের নয়? খ্যয়ের, ঘোৎ-ঘাৎ সব আমি দেখিয়ে দেব একদিনে। আমার সব এক নম্বরের ব্যাপার। দু নম্বরী তিন নম্বরী ধান্দা আমার নেই কোনও। স্যার, আপনার বুঝতে একটুও সময় লাগবে না। অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে হলে, এমন কিছু মাথা লাগে না। বরং, মাথাওয়ালা লোক বলেই আপনার প্রথম প্রথম বুঝতে একটু অসুবিধে হতে পারে।

    পৃথু হাসল, বলল, কোনও অ্যাকাউন্ট্যান্ট এ কথা শুনলে রাগ করতে পারেন।

    করলে করবেন। আর্‌রে ইদানীংই না সব ভাল ভাল ছেলেরা চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সির লাইনে আসছেন। চাটার্ড, কস্ট, ম্যানেজমেন্ট, কত রকম অ্যাকাউন্ট্যান্ট হয় এখন। আগে মানে, তিরিশ চল্লিশ বছর আগে কি হত? যাদের প্রফেসর, ডাক্তার, এঞ্জিনীয়ার কিছুই হওয়া হল না তারাই ভিড় করত এ লাইনে। “কম্মী” ছিল বলেই না বলত আই-কম্, বি-কম্।

    সে সব অনেক দিন আগের কথা।

    পৃথু বলল। এত কঠিন পরীক্ষা। কত ভাল ভাল ছেলেরা পাস করতে না পেরে লাইন ছেড়ে দেয়। তবে এটা ঠিক, পরীক্ষাটা যে পুরোপুরি মেধার পরীক্ষা তা হয়তো বলা যায় না। মেধার চেয়ে জেদ হয়তো বেশি লাগে আমাকে অবশ্য একজন অ্যাকাউন্ট্যান্টই বলেছিলেন।

    আর রে, আমি কি আর তা জানি না? আমিও তো নাগপুরে আর্টিকেলড ক্লার্ক ছিলাম সিং কোম্পানীতে।

    হেসে বললেন দিসাওয়াল সাহেব।

    তারপর বললেন, বিয়েও ঠিক হয়ে গেছিল। নাগপুরের এক বড় ব্যবসায়ীর মেয়ের সঙ্গে। পরীক্ষাই পাস করতে পারলাম না। সেই শালা উড-বী-ফাদার ইন-ল শেঠ বিয়েটাই কেঁচিয়ে দিল। তারপরই তো আমার এক মামার কাছ থেকে দু হাজার টাকা কর্জ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ভাগ্যের খোঁজে। তখন থেকেই মনের জ্বালায় পুরো অ্যাকাউন্ট্যান্সি প্রফেশনের উপরই থুথু দিচ্ছি স্যার। এই জঙ্গলে এসে বিড়ি পাতার কাজে তো সেই সময়ই লাগলাম।

    ভালই করেছেন। যে-কোনও প্রফেশনেই সম্মান যত আছে, টাকা ততটা নেই। ব্যবসা যারা করে তাদেরই তো সেবা করতে হয়। তারা স্যারই বলুক আর সাহেবই বলুক, আসলে তারাই তো মালিক। আপনি যেমন আমার।

    তা যা বলেছেন। বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী। বলেই, বললেন, ছিঃ ছিঃ। বুঝতে পারিনি। এরকম বলে আমাকে লজ্জা দেবেন না।

    দিসাওয়াল মানুষটা একটু অদ্ভুত ধরনের। অবিবাহিত। কিন্তু এই সাতদিনে কোনও সূত্র থেকেই তার চরিত্রের কোনওরকম দোষের কথাই শোনেনি পৃথু। এমন কি চা-পান-সিগারেট পর্যন্ত খান না। নারীঘটিত কোনওরকম দোষের কথাই শোনেনি পৃথু। এখনও পৃথিবীতে এরকম দোষহীন নিপাট ভালমানুষ যে রয়ে গেছেন তা জেনেও ভাল লাগে। দিসাওয়াল সাহেবের মুখ দেখে মনে হয়েছিল, কিছু কিছু মানুষ নিজেকে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েই সবচেয়ে আনন্দ পান। উনিও হয়তো তাঁদেরই একজন।

    ভালবাসার জন কেউ না থাকলে কি চলে? ছেলেমেয়েও তো নেই। কাকে দিয়ে যাবেন, আপনার এত সম্পত্তি।

    পৃথু তবু বলেছিল। মেয়েরা যেমন করে পুরুষদের বলে।

    দিসাওয়াল সাহেব হেসে, রঙ-চটা ছাইরঙা অ্যামবাসাডরের পেছনের বাঁদিকের দরজা খুলে উঠে বসতে বসতে বলেছিলেন, দেনেওয়ালা যদি খাঁটি হয় স্যার, তবে ভালবাসা লেনেওয়ালার অভাব ঘটে না কোনওদিনও।

    বলেই, দূরের পাথরের উপর চুনকাম করা স্কুল-বাড়িটার দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে ছিলেন।

    উনি যে শুধু ছোট ছেলেমেয়েদের জন্যে বিনা পয়সায় লেখাপড়ার বন্দোবস্তই করেছেন তাই-ই নয়, তাদের জামাকাপড়, বই-পত্র এবং টিফিন এ সমস্তই বিনা পয়সায় দেওয়া হয়।

    গাড়িটা চলে গেলে, অবাক হয়ে অপস্রিয়মান গাড়ির চাকায়-ওড়া লাল ধুলোর মেঘের দিকে চেয়ে থেকে ও ভেবেছিল সত্যিই হয়তো তাই-ই। ভালবাসা ব্যাপারটা, নিজেই এক স্বয়ংসম্পূর্ণ বোধ। কাকে তা দেওয়া হবে তার বাছ-বিচার বেশি না করলে হৃদয় নিংড়ে দিলেই হয়তো হৃদয় ভরে ওঠে। তবে, দিসাওয়াল সাহেবরা অন্য ধরনের মানুষ। দিগা পাঁড়েরই মতো এক বিশেষ মানসিক উচ্চতাতে পৌঁছে গেছেন উনি জাগতিক, জীবনের সাধারণ সব সম্পর্ক-জাত দূঃখবোধ বলে কোনও কথাই নেই ওঁদের অভিধানে। এই পৃথিবীর কোনও নারী বা পুরুষই সেই সব মানুষকে কোনওরকম দুঃখ দেবার ক্ষমতা রাখেন না, অথচ আনন্দ তাঁরা আহরণ করতে পারেন ভোরের রোদ কি পাখির স্বর, কি অনাত্মীয়, স্বার্থসম্পৰ্কশূন্য আদিবাসী শিশুদের হাসি থেকে। এই সব মানুষের কাছে কোনও বিশেষ ব্যক্তির বিন্দুমাত্রও দাম নেই। সমস্ত মানুষই বোধহয় এক বিশেষ জাতি হিসেবে তাঁদের অশেষ স্নেহ প্রীতি এবং ভালবাসার পাত্র।

    খুবই কৃতজ্ঞবোধ করে পৃথু। এমন এমন মানুষের কাছে এলেও মনটা প্রসন্নতায় ভরে ওঠে। দিগা পাঁড়ের কাছে গেলে যেমন হত। মন, যে-মানুষের ছোট; তাদের কাছাকাছি হলেই এক গভীর অস্বস্তি বোধ করে ও, বুকের মধ্যে এক ধরনের কষ্ট হতে থাকে। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে। তা সে-মানুষ যতই মহত্ত্বর ভান করুন না কেন। ফুলের গন্ধর মতোই ভাল মানুষের মনের গন্ধও আপনিই ছড়িয়ে যায় অন্য মানুষের মনে।

    যে বাংলোটিতে আস্তানা গেড়েছে পৃথু সেটি নাজিমুদ্দিন সাহেবেরই বাংলো ছিল। কখনই পরিবার নিয়ে উনি থাকেননি নাকি এখানে। মাইহারেই থাকতেন তাঁরা। ছেলে কাটনিতে পড়ছিল। বেশি বয়সে বিয়ে এবং দেরি করে সন্তান হয় ওঁর। প্রত্যেক দু মাস অন্তর নাকি সাত দিন ছুটি নিয়ে চলে যেতেন মাইহারে।

    ভদ্রলোকের সাকুলেন্ট এবং ক্যাকটাই এবং প্লান্টস-এর শখ ছিল প্রচণ্ড। ফুলেরও। বাংলোটিকে প্রথম দর্শনে দেখে পৃথুর মনে হয়েছিল কোনও হর্টিকালচারাল গার্ডেনই বুঝি! অর্কিডও করেছিলেন উনি অনেক রকম।

    বাংলোটা সত্যিই ভারী পছন্দ হয়ে গেছিল পৃথুর। একটি ছেলে আছে তার নাম বিগু। সেই দেখাশোনা করত নাজিমুদ্দিন সাহেবের। অনেকদিন আগেই দিসাওয়াল সাহেবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করে এখানে এসে মৌরসী পাট্টা গেড়ে প্রথম দিন থেকেই সীওনীতেই থাকতে পারত ও। এ রকম স্বপ্নের মতো জায়গা!

    কাছেই দুর্গাবতী দুর্গ আছে। কাছে মানে, বত্রিশ-তেত্রিশ মাইলের মতো। আড়ি বলে একটি জায়গা হয়ে যেতে হয়। শর্টকাট অবশ্য একটা আছে, তাতে সময় কম পড়ে। তবে সে পথে গাড়ি যায় না। চার মাইল দূর দিয়ে ওয়াইনগঙ্গা নদী বয়ে গেছে। পাহাড়ী নদী। ওপর দিয়ে চলে গেছে। কজ্‌ওয়ে-পিপারদাহি, চৌরাহিস্‌, চাঁদ, অমরওয়াড়া এসব জায়গায়। আরও এগিয়ে গেলে পড়ে পেঞ্চ নদী। তার ওপরেও কজওয়ে। মানে, সাব্‌মার্সিবল ব্রিজ আর কী! পেঞ্চ নদী পেরুনোর পরই ঝিল্‌মিলি। সেখান থেকে আরও এগিয়ে গেলে মাইল পনেরো যোলো, চিন্দোয়াড়া।

    পেঞ্চ ন্যাশনাল পার্ক-এর মধ্যে সুন্দর সুন্দর সব ফরেস্ট বাংলোও আছে। একটা বাংলোয় দেখল সোলার এনার্জিতে আলো জ্বলে আর একটি বাংলোতে ফ্রিজও আছে। গত শনি-রবিবার পারিহার সাহেব নিজে ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন পৃথুকে। যাকে বলে ফ্যামিলিয়ারইজেশন ট্যুওর। তবে সব দেখতে এখনও অনেকই বাকি। পেঞ্চ ন্যাশনাল পার্ক-এর গড় উচ্চতা হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার ফুট-এর মতো। সাতপুরা পর্বতশ্রেণীর মধ্যে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে পেঞ্চ। দক্ষিণবাহিনী। পোআনির চেক-পোস্ট দিয়ে ঢুকে গেলে সিলারি, সুরেরা (কোলিথমারা), রানীদোহ তোত্‌লাদোহ আর ঘাটপেনটারি পড়ে। অন্য একটি পথ দিয়েও ঢোকা যায়। সেদিক দিয়ে ঢুকলে, নাগপুরের মাইল পনেরো উত্তরে সাত নম্বর ন্যাশনাল হাইওয়ে হয়ে খাপা আর সালাইঘাটে যাওয়া যায়। ওদিকটাতে যাওয়া হয়নি এখনও এবারে এসে। ছেলেবেলায় যখন বাবার সঙ্গে আসত শিকারে, তখন ঘাটপেন্টারিতে ছিল একবার। নামটা তাই-ই মনে আছে।

    আজকে রবিবার।

    পৃথু নাজিমুদ্দিন সাহেবের বাংলার বারান্দায় বসে ছিল। বেতের টেবলের ওপর খাতা কাগজ বই কলম নিয়ে।

    সমস্ত বাংলোটার এমন বাগানের মতো পরিবেশ যে, তার জীবনে যে এত বড় দুটি দুর্ঘটনা ঘটে গেল সে কথা নিয়ে ভাববার ইচ্ছেও যেন হয় না এমন স্বর্গীয় পরিবেশে বসে। বারান্দা এবং সিঁড়ির ধাপগুলো শুধু ফার্ন-এই ভর্তি। কত রকমের ফার্ন! এই বাংলোতে যদি রুষার সঙ্গে থাকতে পারত ও, তাহলে তাদের জীবনে হয়তো কোনও ছেদই ঘটত না। এমন একটি ফুল-ফলন্ত বাগানওয়ালা বাড়ি দাম্পত্য সম্পর্কের জীবনবীমা, অকৃতদারের স্ত্রী, মৃতদারের সান্ত্বনা। রুষা এই সব পৃথুর চেয়ে বেশি ভালবাসে। পৃথু তো জংলী লোক। জঙ্গলের উলঝি-সুলঝি অযত্ন-বর্ধিত খামখেয়ালি গাছগাছালির রূপই তার মন কেড়েছে চিরদিন। যা-কিছু সযত্ন-লালিত, মানুষের চেষ্টাকৃত, নিয়মবদ্ধ সেই সব কিছুর প্রতিই ওর গভীর অনীহাই শুধু নয়, অসূয়াও আছে। সেই কারণেই হয়তো পৃথুর চরিত্রটাও সুন্দর লাল-রঙ-করা কাঠের টবের মধ্যের নিয়মিত সেবা এবং পরিমিত আলো হাওয়া এবং অবশ্যই পরিমিত ছায়াতেও প্রস্ফুটিত, প্রীতি-বদ্ধ, সুন্দর, প্রাইজ-পাওয়ার মতো হল না কোনওদিনও। রুষার চরিত্রর মানসিকতার এবং সৌন্দর্যর মতোই যেন এই বাংলায় সবকিছু মেমসাহেবী ছিমছাম। খুঁতহীন। এসে অবধি, রুষার কথা অন্যান্য নানা কারণের সঙ্গে এই কারণেও খুবই মনে পড়ে।

    বারান্দাতে এবং সিঁড়ির ধাপে ধাপে কোন ফার্ন যে নেই, তাই-ই কষ্ট করে খুঁজে বের করতে হবে। টেবল ফার্ন, বোস্টন ফার্ন, বার্ডস্‌নেস্ট ফার্ন র‍্যাবিটস-ফুট ফার্ন, অ্যাস্‌পারাগাস ফার্ন, মেইডেনহেয়ার ফার্ন, এমনকি স্ট্যাগহর্ন ফার্নও। পৃথুর চেনা ভ্যারাইটির মধ্যে দেখছে না কেবল অ্যাসপ্লেনিয়াম বুল্‌বিফেরাম্‌। ওদের কমন নামটা যে কী, তা কিছুতেই মনে করতে পারছে না এই মুহূর্তে।

    গেট থেকে ঢুকে বাংলোর বারান্দার দিকে আসতে দু পাশের খোলা জায়গা, বাংলোর পেছনটা, ভিতরের উঠোন, বাউন্ডারি ওয়ালের আশ-পাশ দেখে মনে হয়, উটির বটানিকাল গার্ডেনেই যেন এসেছে বুঝি। কতরকম যে বাল্কস্‌, ব্রমেলিয়াডস্‌, আফ্রিকান ভায়োলেটস্‌, ক্যাক্‌টাই আর সাকুলেন্টস কত ভ্যারাইটির টেরারিয়ামস আর প্যাশিও প্লান্টস তা আর বলে শেষ করা যায় না। স্বর্গ যদি কোথাও থাকে, তবে তা বোধহয় এই রকমই হওয়ার কথা ছিল।

    ঠুঠা এই বাগান পেয়ে যেন ওর বান্‌জারী খুঁজে পাওয়ার চেয়েও বেশি খুশি হয়েছে। সারাদিনই খুপরি আর জলের ঝারি হাতে এই সব প্লান্টস আর ফার্ন-এর তদারকি করে। মালকোঁচা মেরে ধুতি উপরে তুলে, খালি গায়ে। বিকেল হলেই অবশ্য ধুতি নেমে যায়; জামা ওঠে গায়। রাতের দিকে, এখনও বেশ ঠাণ্ডা এদিকে।

    ঠুঠা বাইগা মানুষটা কিন্তু একেবারেই বদলে গেছে। জঙ্গলে ও নাকি নাঙ্গা বাইগার স্বপ্ন পেয়েছিল। প্রায় বোবারই মতো হয়ে গেছে। ওর অন্তবিহীন কথা যে জঙ্গলের কোন মারাই দেবী গিলে ফেললেন। সারা দিনে ও দু’ একটিই কথা বলে এখন। দশটা প্রশ্ন করলে, একটার উত্তর দেয়। মানুষের যে ছাতারে পাখির মতো কথা বলা উচিত নয় এতদিন পরে বুঝেছে ওরা। বেলা পড়ে এলেই বারান্দার সিঁড়িতে এসে বসে সামনের ঘন জঙ্গলাবৃত মাথা-উঁচু মেঘের মতো পর্বতশ্রেণীর দিকে চেয়ে থাকে ঠুঠা বাইগা। হাওয়ায় কর্কশ চাবুক মেরে টিয়ার ঝাঁক এক স্কোয়াড্রন মিগ্‌ ফাইটারের মতো বাড়ি ফেরে। কোনওদিন বিকেলে ছাড়া-ছাড়া জোড়াজোড়া ছোট্‌কি ধনেশ, মানে লেসার ইন্ডিয়ান হর্নবিলস্‌, নিষ্কম্প ডানায় গ্লাইডিং করে গোলাপী আকাশের পটভূমিতে হঠাৎ-খুঁজে-পাওয়া ধূসর পাণ্ডুলিপির মতো দেখা দিয়েই আবার ঘনায়মান অন্ধকারের ধুলো-রঙা পুবের পাহাড়ের দিকে শেষ সূর্যর পশ্চিমী আলোর অস্পষ্ট রেশের মধ্যে ভেসে যায়।

    পাখিরা মুছে যায়।

    তারারা ফুটে ওঠে।

    পৃথুও মাঝে মাঝেই মানুষের হাতে বানানো এই সুন্দর স্বর্গোদ্যানের মধ্যে বসেও ঠুঠা বাইগারই মতো উদাস হয়ে যায় পৃথু।

    বাংলোর পেছনেও পাহাড়। সারা রাত একটা কপারস্মিথ পাখি ডাকে আর তার দোসর সাড়া দেয় দূরের জঙ্গল থেকে। পাখিরা মানুষ নয়। অনেক সুখ ওদের। সহজ সুখ। দোসর জোটায়, নীড় বানায়, ডিম পাড়ে। সহজে! কোনও কষ্ট নেই ওদের। রাতের নিস্তব্ধ অন্ধকারে নানা সম্ভাবনার অশরীরী আভাস হাওয়ার ফিসফিসানির মধ্যে চমকে চলে, থম্‌কে থেমে, আবারও চমকে চলে যায়। পৃথু, বোঝে ঠুঠা বাইগাকে। যারা একবার জঙ্গলের প্রেমে পড়েছে তাদের ইহকাল পরকাল সবই ঝরঝরে। স্বর্গোদ্যানেও তাদের মন বসে না।

    ঠুঠা মুখ দিয়ে অমানুষিক একটা নিচু আওয়াজ করে, মুখটা উঁচু করে পৃথুর দিকে চেয়ে বলল, পা কেমন?

    ওর প্রশ্নটা গোঙানির মতো শোনাল।

    পৃথু বলল, ভাল।

    পৃথুর উত্তরটাও বোধহয় সে রকমই শোনাল।

    তুমি কেমন আছ এখন ঠুঠা?

    ঠুঠা আবারও একটা অমানুষিক শব্দ করল, সজারুরা সঙ্গমের সময় যেমন করে।

    কিছুই বোঝা গেল না। কিন্তু বোঝা গেল যে, ঠুঠা ভাল নেই। যদিও বলছে যে, ভাল আছে।

    ঠুঠা আবার বলল, আজ হাটে যাওয়া দরকার ছিল তোমার। তোমার নিজের।

    কেন এ কথা বলল ঠুঠা, কে জানে?

    আর কোনও দরকার নেই পৃথুর। হাটবাজার সওদা—আনাজ-মুরগি এ সবে ওর কিছুই দরকার নেই। ঠুঠা ভাল মনে করলে যাবে, নইলে খিচুড়ি খেয়েই থাকবে। একজন মানুষের নিজের জন্যে কিছুরই প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন সব ভালবাসার জনেদেরই জন্যে। আর…

    ঠুঠাকে দেখে আজকাল ন্যতর্‌দাম্‌-এর হাঞ্চব্যাকের কথা মনে হয় পৃথুর। কোয়াসিমোদোর কথা। প্রত্যেক পুরুষের জীবনেই এস্‌মারাল্ডা দরকার। ক্ষণিকের জন্যে হলেও। সে পুরুষ ঠুঠার মতো প্রাকৃতই হোক অথবা পৃথুর মতো অত্যাধুনিকই। নারীরা, সুন্দর লাল-রঙা কাঠের টবেরই মতো যাদের বুকের মধ্যে থাকলে স্ট্যাগহর্ন ফার্ন-এর শোভা খোলে।

    পৃথুর বাবা যখন ছেলেবেলায় পৃথুকে প্রথম ফোটো তুলতে শিখিয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন, যে, পটভূমিই হচ্ছে আসল। ব্যাকগ্রাউন্ড। বলেছিলেন, শুধু প্রকৃতিরই ছবি: যেমন সুন্দর, প্রান্তর, নদী, পাহাড় কখনও তুলবি না। সাবজেক্ট হিসেবে প্রকৃতি একা এক্কেবারেই “ডাল”। সব সময়ই মানুষ রাখবি ফ্রেমের মধ্যে। অথবা নিদেন পক্ষে অন্য প্রাণী। একটি বাচ্চা ছেলে মোষের পিঠে চড়ে চলে যাচ্ছে বাঁশি বাজাতে বাজাতে। তবেই না, জঙ্গলের চরিত্রটা ফুটে উঠবে। মনে কর জেলে তার জাল উড়িয়েছে আকাশে। একটি সামান্য মানুষ, তার ছোট্ট একটি জালে, ছোট্ট ছোট্ট কয়েকটি মাছ ধরার ছোট্ট আশাটুকু ছড়িয়ে দিচ্ছে বিরাট, গুরুগর্জনে অনন্তকাল ধরে বয়ে যাওয়া নদীর পটভূমিতে। নীল আদিগন্ত আকাশের কাছে যেন ভিক্ষা চাইছে সেই উদলা গায়ের কালো কোলো মানুষটি। পটভূমিতে তবে না নদী ফুটবে। নদী, কি বন, কি পাহাড় নিজেই নিজে ফোটে এমন সাধ্য কী তাদের?

    জীবনও এক ধরনের ফোটোগ্রাফি। ঠুঠা বাইগা আর পৃথু ঘোষ জীবনের ডিফাইন্ডারের ফ্রেমে কোনও মানুষকে আঁটাতে পারেনি। নারীকে তো নয়ই। তাই-ই তাদের জীবনের ফোটোগুলিতে পটভূমি তেমন করে ফুটল না বোধহয় এই জন্মে।

    বিগু বারান্দায় এসে দাঁড়াল বাংলোর ভিতর থেকে। চায়ের পট ট্রেতে বসিয়ে। দুধ ও চিনি আলাদা করে এনে ছোট ছোট পটে। প্লেটে চারখানি থিন-অ্যারারুট বিস্কিট। ওর খসখসে পায়ের পাতা বারান্দার মসৃণ মেঝেতে জানোয়ারের পায়ের আওয়াজেরই মতো খস্‌স খস্‌স আওয়াজ তুলল।

    চা-এর ট্রেটা নামিয়ে রেখে বিগু বলল, ক্যা বানায়াগা খানা, ম্যানিজার সাহাব।

    সন্ধে হয়ে এল। বাঁ পাশের টাঁড় থেকে তিতির আর হট্টিটিরা তারস্বরে চিৎকার করে জানিয়ে দিল যে, এইমাত্র দিনের মৃত্যু হল। দিনকে কালো কাফানে ঢেকে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেঁচা আর পেঁচানি তাদের কিচিঁ কিচিরঁ কিঁচিঁ—কিচর-র, কিঁচি-কিচর চ্যাঁচানি শুরু করল।

    পৃথু বারান্দার আলোর নীচে বসে বাইরের তুমুল অন্ধকারকে তার গায়ের মিশ্রগন্ধ দিয়ে চিনে নিতে চেষ্টা করতে করতে ভাবছিল, প্যাঁচাদের প্রেমও বোধ হয় এই রকমই হয়। অনবরত চেঁচিয়ে যাচ্ছে তারা। হয়তো ওদের ঝগড়া ও ভালবাসার রকমে কোনও তফাত নেই।

    কাহলিন গিব্রান্‌-এর ‘প্রফেট’ বইতে আছে যে, বিয়ের উপরে কিছু কথা।

    “লেট দেয়ার বী স্পেসেস ইন ইওর টুগেদারনেস্”।

    ভেবেছিল, রুষাকে যখন চিঠি লিখবে, রুষাকেও বলবে এই কথা; শুধু পেঁচাদেরই নয়। আরও আছে:

    “লাভ ওয়ান অ্যানাদার বাট মেক নট

    আ বন্ড অফ লাভ:

    লেট ইট রাদার বী আ মুভিং সী বীট্‌উইন দ্যা শোরস্

    অফ ইওর সোওলস্‌।”

    পৃথুর যথেষ্ট পয়সা থাকলে প্রত্যেক দম্পতিকে কাহলিন গিব্রানের “প্রফেট” বইটি কিনে উপহার দিত। ভাল বই একা একা পড়লে বড় ছোট লাগে নিজেকে। ভাল বই কিনে যদি জনে জনে উপহার না দেওয়া যায় মন খারাপ হয়ে যায় বড়।

    বিগু কী রাঁধবে তার উত্তর পৃথুর কাছে পেল না।

    দুখী ও মেরীর এবং লছমার সিং-এর হাত থেকে বেঁচে এসে এবার এই ক্ষুন্নিবৃত্তির দায় সে ঠুঠার ঘাড়েই চাপিয়ে দিয়েছে। পুরোপুরিই।

    ঠুঠা বড়ই বিব্রত বোধ করে এতে।

    কিন্তু পৃথু নির্বিকার।

    বিগু প্রায় রোজই বলে, সে বেহেতরীন “হাওয়াই পুটিন্‌” বানাতে পারে।

    বস্তুটি কী? জিজ্ঞেস করাতে জানতে পেরেছিল যে, এক ধরনের পুডিং।

    মনে মনে বলেছিল, নো থ্যাঙ্ক উ্য। নো পুডিং; নো স্যুপ্‌।

    বিগু ছেলেটা খুবই হাসি খুশি। উজ্জয়িনীর কাছে বাড়ি ওর। সময় পেলেই, মেঝেতে পা ছড়িয়ে বসে ঠুঠার কাছে শিকারের গল্প শুনতে চায়। ঠুঠা রসিয়ে গল্প বলতে পারে না। প্রকৃতই যারা ভাল শিকারি, তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই পারেন না। তাতে হতাশ হয়ে, বিগু নিজেরই গল্প বলে চলে, উৎসাহের সঙ্গে ঠুঠা বাইগাকে হাত পা নেড়ে। ঠুঠা বাইগা কোনও প্রাচীন গাছের মতো ঝিম ধরে বসে থাকে। মাঝে মাঝে পাতা একটু কাঁপে। বিগু বলে চলে ওর অমরকণ্টক বেড়ানোর গল্প।

    পৃথু চুপ করে বসে অন্যদিকে চেয়ে বিগু আর ঠুঠা বাইগার কথাবার্তা শোনে সম্পূর্ণ অন্য কারণে। বিগুর গলার স্বরের সঙ্গে টুসুর গলার স্বরের আশ্চর্য মিল আছে। অথচ টুসুর চেয়ে বিগু কম পক্ষে পাঁচ বছরের বড়।

    টুসুর কথা মনে পড়ে। হঠাৎই মন খারাপ হয়ে যায় পৃথুর। যন্ত্রণা বোধ করতে থাকে এক রকম। যে যন্ত্রণাটা, ওর পায়ের যন্ত্রণার চেয়েও অনেক অনেকই বেশি তীব্র।

    “ইওর পেইন ইজ দ্যা ব্রেকিং অফ দ্যা

    শ্যেল অফ ইয়োর আন্ডার স্ট্যান্ডিং…

    মাচ অফ ইওর পেইন ইজ সেল্ফ চোজেন্‌।”

    কাহলিল গিব্রান

    পৃথু মনে মনে বলল, মণি চাকলাদার, কবিতা নিজে না লিখে এ সব কবিতা পড়ুন। আত্মশুদ্ধি হবে। এই জন্মে কবিতা কাকে বলে তা জেনে নিন; পরের জন্মেই না হয় লেখালেখি করবেন।

    যদি পরজন্ম না থাকে? মণি চাকলাদার যেন তাঁর শেয়ালের মতো ধূর্ত চোখ দুটি তুলে বললেন।

    ওয়েল! ক্যুডনট কেয়ারলেস। উ্য জাসট মিসড দ্যা বাস। সরী পোয়েট। আই মীন, অ্যান অ্যাপলজী ফর আ পোয়েট!

    “সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি।”

    হঠাৎ লোড-শেডিং হয়ে গেল। একটা লেপার্ডের করাতের আওয়াজের মতো শব্দ সামনের ঘোরান্ধকার পাহাড়টার কাঁধের কাছ থেকে ভেসে আসে।

    একটা ব্যথা, করাতে কাটার মতোই ব্যথা অথচ আওয়াজহীন; পৃথুর বুকটাকে চিরে চিরে যায়।

    একটা একলা টি টি পাখি পাহাড়তলির সব রাতচরা জানোয়ারদের সাবধান করে দিয়ে অন্ধকারে হোগল-বাদায় শালটি বাওয়ার মতো করে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে উড়তে থাকে। ঝাঁকি দিয়ে দিয়ে উড়তে উড়তে ডাকে সে; হট্টি-টি-টি হুট টি-টি-টি হুট।

    মানুষদের জগতে কোনও বন্ধু টি-টি পাখি নেই। এই সব অব্যক্ত অস্ফুট তীব্র যন্ত্রণা আচমকা অবচেতনের অন্ধকার থেকে হিংস্র লেপার্ডেরই মতো লাফিয়ে পড়ে অসহায় অপ্রস্তুত চেতন মনকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে যায় তীক্ষ্ণ নখের আঘাতে।

    হঠাৎই।

    টি টি পাখি ডেকে চলে; স্তব্ধ জমাটবাঁধা, সুগন্ধি চৈতি পাহাড়তলির অন্ধকারে; হট্টি-টি-টি-টি হুট, টি-টি-টি-হুট।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }