Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬০. সীওনীতে এসে অবধি স্কুলটাই দেখা হয়নি

    ৬০

    সীওনীতে এসে অবধি স্কুলটাই দেখা হয়নি।

    দিসাওয়াল সাহেব বলে গেছিলেন যেন একবার অবশ্যই যায় পৃথু। উনি ফিরে আসার আগেই। কাল খবর পাঠিয়েছিল স্কুলে যে, আজ যাবে।

    বিগু নাস্তা বানাচ্ছিল। আজ তাড়াতাড়ি নাস্তা এবং দুপুরের খাওয়া সেরে ওরা সকলে মিলে হাটে যাবে। ঠিক আছে এই রকম।

    যে কোনও জঙ্গুলে-পাহাড়ি জায়গার চরিত্র বুঝতে হলে তার হাটে গেলেই চলে। হাটই স্টক-এক্সচেঞ্জ, যাত্রা-থিয়েটার, ক্লাব; সবকিছুই। হাটের গায়ের গন্ধেই সেই জায়গায় পুরো পরিবেশটি ধরা পড়ে। সবচেয়ে ভাল জামাকাপড়ে সেজেগুজে নারী পুরুষ সবাইই হাটে যায়। যাদের সঙ্গে রোজই ছেঁড়া ময়লা ধুতিতে আর শাড়িতে দেখাশোনা হয়, তাদের কাছেই একেবারে অন্য মানুষ হয়ে পৌঁছতে চায় সেদিন সকলেই। নিম অথবা করৌঞ্জের তেল মেখে মেয়েরা চকচকে হয়ে ওঠে। তাদের কাটা-কাটা নাক-চোখকে তখন গর্জন তেল মাখা, কৃষ্ণা, কোনও দেবীর মুখ বলেই মনে হয়।

    পৃথুর ভুলও হতে পারে।

    নাস্তা এনেছিল বিগু বারান্দাতেই। এখানে তো আর রুষা নেই! মেরীও নেই। ভারত একেবারেই স্বাধীন। বারান্দায় বসেই নাস্তা করছিল ও। কাল রাতে ভাল ঘুম হয়নি। কুর্চি আর টুসুকে স্বপ্ন দেখছিল। অনেকক্ষণ ধরে। আশ্চর্য! কুর্চি নাকি সীওনীতেই আছে! অথচ, এসে অবধি তার সঙ্গে দেখাই হল না। এত ছোট্ট জায়গাতেও! অবশ্য তার খোঁজ করার কোনও চেষ্টাও পৃথু করেনি। কেন যে করেনি, তা ও নিজেও ঠিক জানে না। আসলে, হাসপাতাল থেকে হাটচান্দ্রাতে ফিরে আসার পর নানা ঘটনা পরম্পরায় পৃথু মানুষটাই বদলে গেছে অনেক। যা একদিন তার কাছে পরম প্রার্থিত ছিল, আজ তাইই চরম ভীতির হয়ে উঠেছে। ভয়, ঠিক না করলেও; মেয়েদের সম্বন্ধে সাধারণভাবে ও উদাসীন হয়ে উঠছে।

    ওই স্বপ্ন দেখার পরই ঘুম ভেঙে গেছিল মাঝরাতে। পাশের ঘরে ঠুঠা বাইগা আর ঢাকা বারান্দায় বিগু অঘোরে ঘুমোচ্ছিল। পৃথু এসে বাইরের বারান্দাতে বসেছিল বেতের চেয়ারে। ঘুম যদি না-আসতে চায়, তবে মিছিমিছি বিছানায় শুয়ে তার সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি করায় বিশ্বাস করে না ও। নিশুতি রাত। সীওনীর পরিবেশটাই এমন যে মনে হয় কোনও বনের গভীরেই আছে বুঝি। বাংলোটা থেকে চারধারে চাইলে এটি যে বন-বাংলো নয় তা বোঝার মোটেই উপায় নেই। কিপলিং-এর মোওগলির দিন থেকে খুব একটা বদলায়নি বোধ হয় সীওনী।

    বাইরে চৈত্রর বনের রাত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। দুটো পেঁচা উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে তাদের কিঁচি-কিঁচি-কিঁচর-কিঁচি-কিঁরে, ডাকে ঘূর্ণী হাওয়ায় পাকিয়ে ওঠা শুকনো পাতার মতো উপরে উঠে যাচ্ছে। ঘুমন্ত সাতপুরা পর্বতমালার গায়ে ওদের কর্কশ চিৎকার ধাক্কা খেয়ে ফেটে গিয়ে আবার ফিরে আসছে।

    এমন এমন অনুভবের রাতে মনের ভিতরে যেমন, তেমন প্রকৃতিতেও নানা দীর্ঘ ও হ্রস্ব ছায়া নড়ে চড়ে। এই গা-ছম-ছম নানা দৃশ্যরই মতো, অবচেতনের এবং রাতের অন্ধকারের অন্ধকারতর ঝোপ-ঝাড়ের অভ্যন্তর থেকে অনেক কিছু শব্দ ও দৃশ্যই উঠে আসে; না উঠেই।

    অন্ধকারে একটা মস্ত শঙ্খচূড় সাপ রাস্তার ওপাশের বুড়ো পিপ্পল গাছের ছায়ার গভীরের অন্ধকার গহ্বরে মধ্যরাতের টহল সেরে ফিরে আসছিল। নিঃশব্দে সে অবশ্য আসতে পারেনি। তার ভারী মসৃণ বুকের চাপে লাল হলুদ খয়েরী আর ন্যাবা-রঙা পাতারা নরম মুচমুচানি তুলে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে। তার দীঘল পিছল ঠাণ্ডা শরীরটাকে সে আস্তে, খুবই আস্তে গহ্বরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছে, মাথা আগে করে। লেজটা অদৃশ্য হতে, মনে হচ্ছে যেন তার খোলসেরই মতো হঠাৎই ছেড়ে রেখে সে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেল। গহ্বরের ভিতরে ঢুকে তার নিজের নগ্নশরীরের সুগন্ধে বুঁদ হয়ে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল, আদর-খেয়ে ওঠা কোনও যুবতী নারীর মতো। গভীর অবসাদের আশ্লেষে।

    অনেক দূরের ওয়াইনগঙ্গা নদীর শব্দ এখান থেকে শোনা যায় না। তবে দশ মাইলের মধ্যেও কোনও নদী থাকলে নদীর শিরা-উপশিরা মাটির আর পাথরের গভীরে গভীরে ছড়িয়ে যায়। জলের গন্ধ পাওয়া যায় দূর থেকে নারী আর ইলিশ মাছের গন্ধর মতো। বাংলোর সামনেই একটা কালভার্ট। এ পথে গাড়ি বা ট্রাকের চলাচল নেইই। পথটা আগে ছিল কানা। এখন অন্ধ হয়ে গেছে একেবারে। পুরোপুরিই মুছে গেছে, পাহাড়ের আঁচলে এসে, বাংলোর বাঁ দিকে। বাঁদিকটা পুরোই জঙ্গল আর একটা মাঝবয়েসী পাহাড়।

    পাহাড় থেকে নেমে, রাতের কালো লালমাটির পথ বেয়ে লটরপটর করতে করতে চলে গেল ডানদিকে, যেদিকে দিসাওয়াল সাহেবের স্কুল বাড়ি। অন্ধকারে অন্ধকার অনুষঙ্গর মতো বসে-থাকা পৃথুকে দেখতে পেল না ও।

    পৃথুর নিঃশব্দ আশীর্বাদ চিতাটার গায়ের চৈত্রর বনগন্ধমাখা মাথায় গিয়ে যে আলতো হাতে পৌঁছল তা সে জানতেও পারল না। পৃথু বলল, বাঁচো, বাঁচো। সকলে মিলে, মিশে—মিশে বাঁচো। পেঁচা, জঙ্গলী, ইঁদুর পোকা মাকড়, বাঁচো সাবীর মিঞা, ভুচু গিরিশদা, নুরজেহান, বিজলী সবাই বাঁচো। আকাশের তারারা যেন তাদের নীলাভ সবুজাভ দ্যুতিতে এই বাঁচার আশ্বাসই ছড়িয়ে দিচ্ছে রঙীন জলকণার মতো সকলের শিরে শিরে। বাঁচো। বাঁচো। সকলেই দারুণ ভাবে বাঁচো। ইতর বাঁচো, খল বাঁচো, ধূর্তও বাঁচো, ভালদেরই সঙ্গে।

    ঠুঠা বাইগা ঘুমের মধ্যে পাশ ফিরে যেন কী বলে উঠল। কে জানে? আবারও নাঙ্গা বাইগীনকে স্বপ্নে দেখল কি ঠুঠা?

    হা হা হা রে বুক কাঁপিয়ে একটা হায়না হঠাৎ ডেকে উঠল পাহাড়তলি থেকে।

    গা ছমছম করে উঠল পৃথুর। অতি বড় সাহসী লোকেরও কোনও কোনও নগ্ন নির্জন মুহূর্তে এমন গা ছমছম করে। এমন পরিবেশে যারা থেকেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই তা জানেন। নাস্তা শেষ করে চাটা খেয়েই, উঠে পড়ল পৃথু।

    হাট লাগবে দশটা থেকেই। কিন্তু জমতে জমতে সেই বেলা একটা দেড়টা।

    পৃথু বলল, আমি আর বাংলোয় ফিরব না। হাটেই যা হয় খেয়ে নেব। তোমরা দুজনে খেয়ে দেয়ে এসো ঠুঠা। স্কুল থেকেই পৌঁছে যাব আমি সোজা। একটা-দেড়টা নাগাদ।

    স্কুলটা ওর বাংলো থেকে আধ-কিমির চেয়েও কম পথ। হেঁটে চলল পৃথু সকালের রোদে, গাছ-গাছালির ছায়ায় ছায়ায়। সেভেন-সিসটারস পাখিরা লাফিয়ে লাফিয়ে এক্কা-দোক্কা খেলছে পথের দুপাশের ঝোপ-ঝাড়ের আড়ালে। প্রজাপতি উড়ছে। বেশ লাগছে।

    জবলপুরের হাসপাতাল থেকে সেদিন হাটচান্দ্রায় ফিরে রুষার আলো-না-জ্বলা, জানালা-বন্ধ বাংলোটাকে, ভুচুর জীপে বসে দেখামাত্রই পৃথুর বুকের মধ্যে কে যেন তীক্ষ্ণ ছুরি বসিয়ে দিয়েছিল আমূল। ও ভেবেছিল, বাঁচা আর হল না এ জীবনে! রুষাকে ছাড়া, মিলি টুসুকে ছাড়া, ও বাঁচবে কী করে?

    কিন্তু বেশ তো বেঁচে আছে। আজ, এই মুহূর্তে।

    আসলে যে-কোনও মানুষেরই, বেঁচে থাকার জন্যে সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, তা তার নিজেকে। নিজেকে নিজে একটু সময় না দিলে, ভাল না বাসলে, দিনান্তে আয়নার সামনে একবারও

    দাঁড়িয়ে ভালবেসে নিজের মুখের দিকে না চাইলে তার অন্যর বা অন্যদের জন্যে প্রাণাতিপাত পরিশ্রম করার মানে হয় না কোনও। আসলে, প্রত্যেক মানুষের জীবনেই বোধ হয় সে নিজেই কেন্দ্রবিন্দু। সে আছে, তাইই তার চারধার ঘিরে অন্যান্য সব সম্পর্ক আছে। সেই সব সম্পর্ক না থাকলেও বা চুকে গেলেও একজন মানুষ দিব্যি সুখে বেঁচে যে থাকতে পারে, এই সত্যটা আবিষ্কার করে এখন পৃথু খুবই সুখী মনে করে নিজেকে। যা ঘটেছে, তা না ঘটলে জীবনটা একটা একঘেয়ে অভ্যেস, দৈনন্দিনতার ছাপে সাধারণ, সকালের গরম চা অথবা টাটকা ছাপা নিউজপ্রিন্টের গন্ধভরা খবরের কাগজের মতোই সামান্য হয়ে যেত।

    আনন্দম। আনন্দম। আনন্দম।

    নিজেই নিজেকে বলল, পৃথু।

    স্কুল বাড়িটার গেটে ঢুকতে যাবে ও, এমন সময় দেখল ভিতর থেকে দ্রুত পায়ে হেঁটে এসে গেটের সামনে তিনজন মহিলা দাঁড়িয়ে পড়লেন তাকে অভ্যর্থনা জানাবার জন্যে।

    সকলেই হাতজোড় করে নমস্কার করলেন। বললেন, গুড মর্নিং ম্যানেজার সাব।

    দাঁড়িয়ে পড়ে পৃথু ক্রাচ থেকে হাত তুলে নিয়ে বলল, পররনাম। গুড মর্নিং।

    তারপর ওঁরা স্কুল বাড়ি ঘুরিয়ে দেখালেন পৃথুকে দেখিয়ে, অফিস ঘরে নিয়ে গিয়ে বসালেন। স্কুল আজ ছুটি। প্রতি হাটবারেই ছুটি থাকে। ছেলেমেয়েদের অনেক কাজ থাকে বাড়িতে।

    পৃথু লজ্জিত হয়ে বলল, ঈসস। আজ স্কুল ছুটি তো আপনারাই বা এলেন কেন? আমি না হয়। কালই আসতাম।

    ওঁরা বললেন, তাতে কি স্যার? ঠিক আছে।

    একটি মেয়ে গোন্দ। ভারি মিষ্টি। অন্য দুজনের একজন রেওয়ার মেয়ে। অন্যজন ইন্দোরের। সকলেই গ্র্যাজুয়েট। আরও একজন আছেন। বাঙালি, উনি আজ ছুটি নিয়েছেন। স্কুলে হেড মিসট্রেস কেউই নেই। সকলেই সমান। সমান মায়না সকলের।

    দিসাওয়াল সাহেব ছেলেমেয়েদের পণ্ডিত বানাতে চান না। শিক্ষিকারা জানালেন পৃথুকে। মোটামুটি ইংরিজি, অঙ্ক, আর হিন্দি শেখানোই উদ্দেশ্য। যাতে, মহাজনরা ওদের ঠকিয়ে কাঠ বা বিড়িপাতা বা লাক্ষা না কিনতে পারেন। যা এখানে শেখানো হবে, তাতে লেখাপড়ার জগত সম্বন্ধে একটা ঔৎসুক্যই জাগিয়ে তোলা হবে শুধু। এই মাত্রই। তারপর যদি কোনও ছাত্রছাত্রীর ভাল লাগে আরও বেশি পড়তে এবং সে যদি মেধাবী হয়, তবে দিসাওয়াল সাহেবই তাদের জবলপুর বা নাগপুর বা রাইপুর এবং ভোপালের স্কুলে পড়ার বন্দোবস্ত করে দেন। হস্টেলে থাকার সব খরচও দেন। বইপত্রও কিনে দেন।

    ঔৎসুক্য জাগিয়ে তোলাটাই তো আসল। “দ্যা পারপাজ অফ আ উ্যনিভার্সিটি ইজ টু ব্রিং দ্যা হর্স নিয়ার দ্যা ওয়াটার অ্যাণ্ড টু মেক ইট থারস্টি!”

    কোথায় যেন পড়েছিল কথাটা পৃথু!

    দিসাওয়াল সাহেবের মতো অনেকই ব্যবসায়ীর দরকার ছিল এই দেশে। ভাবছিল পৃথু। সকলেই সব দোষ ও দায় সরকারের ঘাড়ে চাপিয়েই খালাস। নিজেদেরও যে কিছু করার ছিল সে সম্বন্ধে ভাবেন কজন মানুষ?

    ওঁরা বললেন, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দুটি বাঙালী ছেলে এবং একটি বাঙালী মেয়েও আছে। বিড়িপাতার কোম্পানীর কেরানী আর স্টোরসবাবুর ছেলেমেয়ে তারা। তাদের বাংলা পড়ান মিসেস কে রায়। বাঙালী!

    মিস কে রায়ের পুরো নামটি জানার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জানা গেল না। জিজ্ঞেস করতেও লজ্জা করল খুবই। এক সময় স্কুল-ইনস্পেকটরের মতো ইনসপেকশান সেরে পৃথু হাটের দিকে এগোল।

    পথেই অ্যাকাউনট্যান্ট টিবরেওয়ালের সঙ্গে দেখা। সঙ্গে আরেকজন মোটা-সোটা ভদ্রলোক। আলাপ করিয়ে দিল টিবরেওয়াল। বলল, আমার সাড়ুভাই। জবলপুরে চালের ব্যবসা আছে। বেড়াতে আর ব্যবসার ধান্দা করতে এসেছে এখানে।

    কী ব্যবসা? বিড়ি পাতার না লাক্ষার? কাঠের ব্যবসা তো এখন ফরেস্ট করপোরেশান একচেটে করে ফেলেছেন।

    না। না। সে সব নয়। লেগে গেলে, আমিও পার্টনার হব সাড়ুভাই-এর।

    পৃথু বলল, সারি দুনিয়া একতরফ ঔর জরুকি ভাই এক তরফ’ এই রকম কি একটা কথা আছে না? তা ভায়রাভাইও যে এমন ইম্পর্ট্যান্ট লোক তা আপনাকে দেখেই জানছি।

    করি কী? জরুর ভাইই যে নেই। ওরা মোটে বারো বোন।

    বলেন কী? বারো বোন?

    মনে মনে বলল, সাবির সাহেব শামীম সাহেবদের টেককা দিলে আপনারাই দিতে পারবেন।

    ঔর ভি হলে তো ভাল হত। ফেমিলিতে যত মেম্বার বাড়বে তত বেশি ইনকাম ট্যাক্স ঔর ওয়েলথট্যাক্সের ফাইল ভি বাড়বে। ফেমিলির সেভিংস ভি বাড়বে। সোক্কোলে ভালো খাবে, ভালো পরবে। পরে, বেওসা কী ইনডাসট্রীভি বানাতে পারবে।

    তা এখানে কোন ব্যবসা করবেন ঠিক করেছেন?

    মহুয়া, নিম, আর করেঞ্জের সীড থেকে তেল বানাবো একস্ট্রাকশন প্লানট বসিয়ে লিয়ে।

    এই তেল কারা কিনবে?

    আররে ম্যানেজার সাব!

    বলে তাচ্ছিল্যর দৃষ্টিতে তাকাল পৃথুর দিকে অ্যাকাউন্ট্যান্ট টিবরেওয়াল। বলল, সব শালা কিনবে।

    সব শালা মানে?

    টিবরেওয়াল বলল, যদি শেষমেস ফেক্টরী হয় ত হাটচান্দরা শেল্যাক ফ্যাক্টরী থেকে দু একজন লোক ভাগিয়ে আনতে হবে ম্যানেজার বাবু।

    পৃথু জবাব না দিয়ে একবার তাকাল টিবরেওয়ালের মুখের দিকে। টিবরেওয়াল কি দেখল পৃথুর মুখে বুঝল না, কিন্তু ওর মুখটা হঠাই অপ্রতিভ দেখাল।

    বলল, চলি ম্যানেজারবাবু!

    যে শালাদের তেল-ফেলের সাবুনের কারবার আছে। কিনবে না কোন শালা?

    এতদূর থেকে পাঠাবেন, ট্রান্সপোর্ট কস্ট বেশি পড়ে যাবে না? টিবরেওয়াল পৃথুকে অ্যাপ্রিসিয়েট করে তার পিঠে এক চাপড় মেরে বলল, সেইই তো হচ্ছে কোথারে ভাই! ট্রান্সপোর্ট কোস্টেই তো সত্যনাশ হোবে। সেইই তো হচ্ছে পোরেবলেম। ভাবতেছিলম কি, দুই সাড়ুভাইতে যুক্তি করে ইখানে একটা সাবুনের ফেকটরী বসিয়ে দিলে কেমোন হয়?

    কেমোন হয় তা পৃথুর জানা ছিল না।

    দূর থেকে হাটের কোলাহল ভেসে আসছিল। লাল ধুলোর মেঘ ঝুলে আছে চাঁদোয়ার মতো হাটের উপরে। গরু-মোষের গায়ের গন্ধ। কেরোসিন তেল, শর্ষের তেল খোল আর শুখা মহুয়ার গন্ধর সঙ্গে মিশে গেছে গুড় আর পাকৌড়া আর নারী পুরুষের গায়ের গন্ধ। এক একটি হাটের গায়ের গন্ধ একেক রকম। নারীর গায়ের গন্ধেরই মতো।

    যাতে সহজে নতুন হাটে একে অন্যকে খুঁজে পায়, তাই দিগা পরেছিল পৃথুর পুরনো-হয়ে-যাওয়া ঘোর লাল রঙা একটি প্রলিনের গেঞ্জি তার ধুতির উপরে। যদি সেই ঘোর লালিমার প্রতি মোষ এবং ষাঁড়ের ক্রোধ থেকে প্রাণে বেঁচে ঠুঠা আদৌ হাটে পৌঁছতে পেরে থাকে তবে তাকে খুঁজে বের করা খুব একটা কঠিন কাজ হবে না। বিগু বলেছে, সে ঠুঠাকে হারিয়ে যেতে দেবে না। পৃথুকে খোঁজা তো আজকাল কোনও কঠিন কাজই নয়। ও ছাড়া হয়তো আর একজন দুজন খোঁড়া ভিখিরি-টিখিরি থাকবে হাটে।

    হাটের ভেতরে মানুষের নানারকম বিপরীত স্রোত থাকে। ক্রাচ-এ চলাফেরা করতে এখনও অনভ্যস্ত পৃথু তার ভিতরে গিয়ে পড়লে হয়তো টাল সামলাতে পারবে না এ কথা ভেবে হাটের কাছেই একটি কালভার্টের উপরে বসল শিরিষ গাছের ছায়ায়। ক্রাচ দুটোকে শুইয়ে রাখল পাশে। তার চারপাশে প্রচণ্ড শব্দে নানা মানুষের জীবন দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। দেনা পাওনা, খিদে তৃষ্ণা, ছিটের ব্লাউজের মধ্যে করে সাবধানে দূর থেকে নিয়ে আসা মুরগি তিতিরের ডিম। সুন্দরী সব নানারঙা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মুরগি। এই সব মুরগি দেখলে পুষতে ইচ্ছে করে। খেতে মন চায় না। অনেক নারীকে দেখে যেমন মনে হয় যে, তারা শুধু দেখার জন্যে, স্তুতি করার জন্যে; আদর করার মতো নোংরা ব্যাপারের কথা যাদের সম্বন্ধে ভাবাই যায় না।

    ওর চারধারের এই আবর্তিত জলরাশির মতো নারীপুরুষের আবর্তন, মাতালের চিৎকার, নাপিতের কাঁচির কচকচ, দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি খারাপ মেয়ের গ্রাহকদের সঙ্গে নিচুগলায় দরদস্তুর করা, এই সবের কিছুমাত্রও পৃথুকে ছুঁতে পর্যন্ত পাচ্ছে না। যে রাতে এসে বৃষ্টির মধ্যে সীওনীতে বাস থেকে নেমেছিল সেই রাতে যে ছোট্ট ছেলেটি হঠাৎ ‘বাপু’ বলে ডেকে তাকে টুসুর কথা মনে পড়িয়ে দিয়েছিল, সেই ছেলেটিকে যদি আরেকবার দেখতে পায় পৃথু সেই আশায় চেয়ে ছিল সে ভিড়ের মধ্যে।

    নিজের ভাবনার মধ্যে বেহুঁশ হয়েছিল পৃথু। আবারও চাঁদে চলে গেছিল। “ল্য গাঁর্স এ দাঁ লা লুন্যে”। ওর চাঁদে এখনও কোনও শব্দ নেই, কোনও নভচারী হাঁটে না এখানে, চরকা-কাটা বুড়ি এখনও নিশ্চিন্তে বসে চরকা কাটে সেখানে, পুব আফরিকান রুয়োঞ্জোরী রেঞ্জের মাউনটেইন অফ দ্য মুন—চাঁদের পাহাড়ের মতোই শান্ত স্নিগ্ধ সেই চাঁদ, তার ভাবনার জগৎ।

    কে যেন তার পাশে এসে বসল কালভার্টে। ছাগলটাগল হবে। ছাগলের পাশে ছাগল ছাড়া কেই বা বসবে? পাঁঠাও বসতে পারে। চোখের কোণে লক্ষ্য করল।

    ছেলেটা কোথাওই নেই ভিড়ের ভিতরে। টুসু এখন কী করছে কে জানে? মিলি? তুই আমাকে না ভাল বাসতে পারিস, আমি তোকে খুবই ভাল বাসি রে মিলি। তুই যখন ছোট্ট ছিলি, তখনই টুসু হয়নি; তোর গা দিয়ে বেবি পাউডারের গন্ধ বেরুত মিষ্টি মিষ্টি। সেই মিষ্টি আধো-আধো কথা বলা মিলিটা কত কঠিন কঠিন কথা লিখলি তোর বাবাকে। কষ্ট হল না? এতটুকুও? যাকগে যাক।

    আমি তো বাবা! আমি কি তোকে ভাল না বেসে পারি?

    আর রুষা? তুমি কী করছ গো? আমার সুন্দরী বিদূষী বৌ?

    এখন তো তুমি নাকে চশমা এঁটে গম্ভীরমুখে ভবিষ্যৎ ভারতের ইংলিশ মীডিয়াম স্কুলে-পড়া তালেবর সব নাগরিক তৈরি করতেই ব্যস্ত।

    ঠুঠা আর বিগুর কোনও টিকিই দেখা যাচ্ছে না। গেল কোথায় তারা?

    পৃথু ভাবল, উঠে একটু খোঁজ করে।

    উঠতে গিয়ে হাত বাড়িয়েই দেখল পাশে ক্রাচ দুটি নেই। ডানদিকে তাকাতেই থমকে গেল চোখ। কুর্চি! একটি কালো তাঁতের শাড়ি পরে কালভার্টের উপর বসে তার দিকে চেয়ে আছে। রোদে তার কানের লতি আর গাল লাল হয়ে উঠেছে।

    অনেকক্ষণ কথা বলতে পারল না পৃথু।

    কথা বলবেন না?

    প্রথম কথা বলল কুর্চি। হাসি-হাসি মুখে। রোগা হয়েছে। রোগা হয়ে যেন আরও বেশি সুন্দরী হয়েছে কুর্চি। উজ্জ্বল দুটি বুদ্ধিদীপ্ত চোখের মণিতে ক্যামেরার লেন্সের মতো নানারঙে-রাঙা হাটের ছায়া পড়েছে।

    পৃথু কথা না বলে মোহাবিষ্টের মতো চেয়ে রইল তখনও কুর্চির মুখের দিকে।

    কুর্চিই আবার বলল, কাকে খুঁজছেন? কাউকে কি খুঁজছিলেন?

    পৃথু বলতে গেছিল, তোমাকেই। কিন্তু বলল না। মুখে বলল, ঠুঠা বাইগা।

    ওঃ। তা সে তো শিশু নয়, হারিয়ে যাবে না।

    যেতেও পারে। বলা যায় না। আসলে ও কিন্তু শিশুই। শরীরেই বড় হয়েছে ও।

    কুর্চি হাসল। বলল, আপনারই মতো অনেকটা।

    তারপরই বলল, ছেলেধরা দেখেছেন কখনও?

    না। কেন? তবে, ছেলে ধরতে এসে যারা ধরা পড়ে তাদের মেরে প্রাণ বের করে দেয় শুনেছি।

    হুঁ। আমিও তাইই শুনেছি। তাইই ভয় হয়। নইলে শিশু চুরি করতে খুব ইচ্ছে করে আমারও। মাঝে মাঝে।

    পৃথু বোকার মতো বলল, কেন? হঠাৎ?

    না। মানে প্রাপ্তবয়স্ক শিশু

    হেসে ফেলল পৃথু।

    তোমার হাট হয়ে গেছে?

    না। কুন্তীকে পাঠিয়েছি। ওই যা হয় নিয়ে আসবে। মহারানীর হাট তো নয় আর।

    নিজে হাটে যাওই না? ভাল লাগে না তোমার?

    লাগে। তবু। একা একা ভাল লাগে না। মানুষকে বোধহয় ঈশ্বর একা থাকার জন্যে তৈরি করে পাঠাননি।

    তাইই?

    পৃথু বলল।

    চলুন উঠি আমরা।

    ওরা?

    ওরা ঠিক খুঁজে নেবে আমাদের যার যার ডেরায়। হারাতে চাইলেই কি আর চিরদিনের মতো হারানো যাবে? কী অবিচার বলুন তো! হারাবার সুখটাও তো অবিচ্ছিন্ন হতে পারত! তাও কত কম স্থায়ী।

    কোনও মানে হয়?

    তোমার বাড়ি কতদূর?

    কাছেই।

    এখন কাছই আমার কাছে অনেক দূর। অনেক সময় লাগে একটু যেতে।

    জানি। যত সময়ই লাগুক। অপেক্ষা করব আমি।

    আগে আগে না গিয়ে আমার সঙ্গে সঙ্গে চল। পৃথু বলল।

    মুখ তুলে তাকাল কুর্চি পৃথুর মুখে। বলল, তাইই তো চেয়েছিলাম একদিন। আপনিও তো আগে চলে গেলেন আমাকে পিছনে ফেলে।

    অন্য কথা বল। কেমন আছ? সুখে আছ তো?

    হ্যাঁ। না থাকার কী? সুখ মনে করলেই সুখ। সুখকে তো আর হাত দিয়ে ছোঁওয়া যায় না। মনেরই একটা অবস্থামাত্র তা। মনকে সুখী সুখী ভাব করতে বললেই মন সুখী হয়।

    তাইই?

    হাসি হাসি মুখে বলল, পৃথু।

    সুখী সুখী ভাব হলে কেমন দেখায় মনকে?

    কুর্চিও হাসি হাসি মুখে পৃথুর মুখের দিকে তাকাল পাশে হাঁটতে হাঁটতে। মুখ তুলে বলল, গেরোবাজ মেয়ে-পায়রার মুখে মনোযোগ সহকারে তাকিয়েছেন কখনও? ওদের মুখে যেমন সুখী সুখী ভাব থাকে, চোখের লাল মণি যেমন চমকে চমকে ঘোরে; তেমন।

    পৃথু ভাবছিল, এও এক রকম ওয়ার্ড-মেকিং খেলা। শব্দ দিয়ে বাক্য গঠন নয়, ছবি দিয়ে ওয়ার্ড মেকিং। বেশ খেলা। নির্দোষ আনন্দের।

    কুর্চি বলল, আজ রাতে আমার কাছে খাবেন তো?

    কী খাওয়াবে?

    এখন তো আমি গরীব হয়ে গেছি। অতি সাধারণ খাওয়া। কিন্তু এর একটা আনন্দ আছে। আমরা এ দেশের মেয়েরা যেদিন সত্যিকারের স্বাধীন হব, আজ আমি যেমন হয়েছি, দায়ে পড়ে, সেদিনই আমাদের জীবনে প্রেমের সার্থকতা অনুভব করতে পারব আমরা। স্বামীর রোজগারে যে মেয়েরা খেয়ে-পরে থাকে, সে রাজরানীর মতো থাকলেও, তাদের অনেক কষ্ট। পোষা বার্ড অফ প্যারাডাইস তারা। তার চেয়ে আমার মতো ছোট্ট ময়না বা কোকিলেরও স্বাধীনতার দাম অনেক। আজ আপনাকে আমি খাওয়াব কলাই ডাল, আলু পোস্ত, আর মোটা চালের ভাত। আপনি চাইলে, কাঁচা লঙ্কা আর কাঁচা পেঁয়াজও দেব। আজ যে আমার কত আনন্দ হবে কী বলব! যাকে ভালবাসি, তাকে স্বামীর পয়সায় খাওয়াতে বিবেকে বড় লাগে। সব মেয়েরাই এ কথা জানে। এখনও আমরা বাঁদী হয়েই আছি। অন্তত নিজের হাত খরচটা নিজে রোজগার করে নিলেও অনেক। নইলে, স্বামীর সঙ্গে থাকতে থাকতে নিজের চরিত্রটাও স্বামীরই মতো হয়ে যায়।

    তা হয়তো হয়। প্লান্ট লাইফে অ্যাকুয়ার্ড ক্যারাক্টারিস্টিকস বলে একটা কথা আছে। আনারসের বনে যদি কলাগাছ পুঁতে দাও, কিছুদিন পরে নাকি কলাগাছের পাতাও আনারসের পাতার মতো হয়ে যায়। তবে আমাদের দেশে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তো কোনও তফাৎ নেই। যা স্বামীর, তাইই স্ত্রীর।

    এ সব কথা পুরুষেরা তাদের সুবিধার জন্যেই এতদিন বলে এসেছে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা যে মেয়ের নেই তাকে বাঁদী হয়েই থাকতে হয়। আপনারা যাইই বলুন না কেন।

    মিনিট পনেরোর মধ্যেই পৌঁছে গেল ওরা কুর্চির বাড়িতে। শাল কাঠের খুঁটি দেওয়া উঠোন। তাতে নানারকম লতানো ফুলের গাছ। লাইন করে সোনাঝুরি গাছ লাগানো অনেক। থোকা থোকা ফুল ধরেছে তাতে। দুটি ঘর। পিয়াশাল কাঠের দরজা জানালা। মাথার উপরে খড়ের চাল। মাটির দাওয়া। মাটির দেওয়াল। আদিবাসীদের বাড়ির মতো রঙ করা দেওয়ালে। ছবি আঁকা তাতে।

    বারান্দায় একটা বেতের চেয়ার বের করে দিল কুর্চি। ক্রাচ দুটো নিয়ে দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাখল। বলল, বেলা বড় তাড়াতাড়ি পড়ে যাবে। লম্ফ জ্বেলে রান্না করা তো অভ্যেস নেই। আমি তাড়াতাড়ি রান্না সেরে নেই। কুন্তী ডিম নিয়ে আসবে। ওমলেট আর চা করে দেব তখন আপনাকে।

    পৃথু বারান্দায় বসে ভাবছিল, যদি ভালবাসা থাকে ঘরবাড়ি কেমন তাতে কিছুমাত্র এসে যায় না। মনের, রুচির, মানসিকতার মিলই হচ্ছে আসল। সেই বাঁধনে বাঁধা হলেও ঘর হয়, নইলে নয়।

    কাঁচা কলাই-এর ডালে শুকনো লঙ্কা আর কালোজিরের ফোড়ন দিল কুর্চি একটু পর। নিজেও হেঁচে উঠল হ্যাঁচ্চো বলে। বারান্দায় বসে পৃথুও হাঁচল। কুর্চির চিঠিতে-লেখা সেই পাগলা কোকিলটা ডেকে উঠল। বারবার ডাকতে লাগল। বসন্ত অপগত হলেও ও যেন কী করে জেনে গেছে যে বসন্ত এসেছে এই কুঁড়ে ঘরে। খুব ভাল লাগছিল পৃথুর।

    ঠুঠা বাইগা আর বিগু এতক্ষণে হয়তো গরু খোঁজা খুঁজছে তাকে। ইচ্ছে করে হারিয়ে যাওয়ার মধ্যেও এক ধরনের আনন্দ আছে। খুঁজুক একটু। অনেক অনেকদিন ধরে ইচ্ছে করে হারিয়ে যাওয়া কুর্চিকে খুঁজছে পৃথু। আজকে ইচ্ছে করে হারিয়ে যাওয়া পৃথুকে খুঁজলই না হয় একটু ওরা।

    একটু পরে কুন্তি এল ঝুড়ি মাথায় করে। পৃথুকে দেখে অবাক হল। লাল একটি ব্লাউজ, নীল শাড়ি, লম্বা ছিপছিপে পরমা সুন্দরী গোঁন্দ মেয়ে সে। পৃথুর দিকে একটু সন্দিগ্ধ চোখে চেয়ে সে ভিতরে গেল। ও আসতেই কুর্চি বেরিয়ে এল বাইরে। বলল, চায়ের জলটা চাপিয়ে দে কুন্তী।

    আর দুটো ডিম ভেঙে পেঁয়াজ লঙ্কা কুচিয়ে ফেটিয়ে রাখ আমি আসছি। নুন টুন দিস না।

    দাওয়ায় বসে কুর্চি বলল, বলুন এবারে।

    আজ স্কুলে যাওনি কেন? কোন স্কুলে? দিসাওয়াল সাহেবের স্কুল।

    হেসে ফেলল কুর্চি। বলল, ও, কে রায়? সে আমি নই। কাকলী রায় বলে একটি মেয়ে আছে। দিসাওয়াল সাহেবের বিড়িপাতা বাবু শ্যামাকান্ত রায়ের শালী সে।

    তুমি নও তাহলে?

    না স্যার। সব কে রায়ই কি এক? আমি কুর্চি। কুর্চি একজনই হয়।

    হাসল পৃথু।

    খাওয়াচ্ছ তো খুব। তারপর ভাঁটু এসে যখন আমার পেট ফাঁসাবে তখন কী হবে?

    হাসতে গিয়েও থেমে গেল কুর্চি। বলল, ওর কথা থাক।

    ভাঁটুর কাছে হেরে গেলাম আমি কুর্চি।

    আমিও। কুর্চি বলল। কখন কে যে কার কাছে হারে কে তা বলতে পারে? আমার কাছে, আমার মতো একটা সামান্য মেয়ের কাছে হেরে গেলেন রুষা বৌদি। ইদুরকার কোনও ব্যাপারই নয়। আপনারা মেয়েদের একটুও বোঝেন না। আসলে রুষা বৌদির অভিমানে এতই লেগেছিল যে ওই ভাবে আপনাকে শিক্ষা দিলেন আপনি। দারুণ মেয়ে কিন্তু উনি। ওঁর মতো হতে হয়তো সব মেয়েরই ইচ্ছা যায়, কিন্তু সাহসে কুলোয় না।

    পৃথু বলল, তোমাকে একটা কথা বলব? যতদিন আমি সীওনীতে থাকি, আমরা দুজনেই রুষা এবং ভাঁটুকে নিয়ে কোনও আলোচনা করব না। আমার আর তোমার এই দুজনের মধ্যে কি আলাদা কোনও সম্পর্ক হতে পারে না?

    পারবে না কেন। প্রত্যেকটি সম্পর্কই আলাদা আলাদা। কিন্তু চলে যাবেন কেন? যাওয়ার জন্যেই কি এসেছিলেন এত জায়গা থাকতে সীওনীতে?

    যাবই যে, তা তো বলিনি কুর্চি। আসলে আমি কখন যে কী করি তার আগের মুহূর্তেও নিজেই জানি না।

    যা ভাল মনে করেন! আপনার ওপর জোর তো আমার কিছু নেই।

    কুর্চি বলল, মুখ জঙ্গলের দিকে ঘুরিয়ে।

    পৃথুর খুব ইচ্ছে করল কুর্চির বিমর্ষতাকে একটু আদর দিয়ে খুশিতে ভরে দেয়।

    যখন অনেকই বাধা ছিল তাকে একটুক্ষণের জন্যে কাছে পাওয়ার তখন ছিঁচকে চোরের মতো মানসিকতা ছিল ওর। এখন, যখন জানেই যে কুর্চি দিনের চব্বিশ ঘণ্টাই তারই হতে পারে তখন আর তাড়া বোধ করল না কোনও। ও যে কাছে আছে, খুবই কাছে; হাত বাড়ালেই যে তাকে পেতে পারে এই জানাটাই তাকে সংযমী, উদাসীন করে তুলল। যা সহজেই পাওয়া যেতে পারে, তা না পাওয়ার মধ্যে যে সংযম তার গভীর আনন্দে কুঁদ হয়ে, বসে-থাকা কুর্চির মুখখানিকে পাশ থেকে মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগল পৃথু।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }