Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬৪. এ রবিবার সকাল থেকেই

    ৬৪

    এ রবিবার সকাল থেকেই আছে পৃথুর বাংলোয়। কুন্তীকে ছুটি দিয়েছে একদিনের জন্যে। ব্রেকফাস্ট হাওয়ার পর বারান্দায় বসে ছিল পৃথু আর কুর্চি। অনেকদিন পর পরোটা, মেটে-চচ্চড়ি আর পায়েস দিয়ে ব্রেকফাস্ট করল পৃথু। কুর্চি নিজে রান্নাঘরে গিয়ে নিজে হাতে বানিয়েছিল। শুধু পায়েসটা গত রাতে রেঁধে রেখেছিল বিগু। রান্না যে মেয়েদের কতবড় গুণ তা একালের অনেক মেয়েরাই জানেন না। শুধুমাত্র ভালবেসে রেঁধে ও খাইয়েই যে একজন পুরুষের হৃদয় জয় করা যায় সহজে, অন্য কোনও গুণ ব্যতিরেকেই, সে কথাও বোধহয় রুষার মতো অনেক আধুনিকা জানেন না। কুর্চি ঘুরে ঘুরে প্লান্টস, ফার্ন, ব্ৰমেলিয়াডসগুলো দেখছিল। রুষার মতো ইকেবানা বা প্লান্টস বা ক্যাকটাই সম্বন্ধে গভীর জ্ঞান নেই কুর্চির কিন্তু স্বাভাবিক ভালবাসা আছে। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েদের এই সব শখে নিজেদের নিয়োজিত করার সুযোগ খুব একটা থাকে না। তাই বলে ভালবাসাও যে থাকে না এমন নয়। যেখানে নারী, সেখানেই গাছ, ফুল, প্রজাপতি, কাঁচপোকা। ভ্রূণ এবং বীজও।

    পৃথু, কুর্চির অনবরত প্রশ্নর উত্তরে হেসে বলল, এডওয়ার্ড লীয়রের ননসেন্স বটানী পড়েছ?

    কুর্চি চোখ তুলে বলল, না তো! ইংরিজি। আমি কতটুকুই বা পড়েছি!

    রুষার খুবই প্রিয়, লীয়র।

    পৃথু বলল।

    ননসেন্স কেন?

    কুর্চি বলল।

    সেইই তো মজা!

    কী রকম?

    ধরো, বটলফোরিকা স্থনিফোলিয়া। অথবা স্মলটুথকম্বিয়া ডমেস্টিকা।

    কুর্চি হেসে ফেলল। বলল, আরও আছে?

    অনেক। পলীবার্ডিয়া সিঙ্গুলারিস, কক্কাটুকা সুপার্বা অথবা পিগিয়াউইগিয়া পীরামিডালিস।

    কুর্চি হেসে গড়িয়ে পড়ল। তারপর বারান্দার মোজাইক-করা চওড়া ঘেরার উপর থেমে হেলান দিয়ে বসে বলল, অন্যদের লেখা তো অনেকই পড়লেন। সারা জীবন ধরে। নিজে এবারে একটা বড় লেখায় হাত দিন পৃথুদা। আপনি কিছুই না করে নিজেকে নষ্ট করলেন।

    নষ্ট হয়ে যাবার মধ্যেও একধরনের বোধ কাজ করে গভীরে। জেনেশুনে নষ্ট, সকলে হতে পারে না। “প্রভু, নষ্ট হয়ে যাই” এমন কথা কি সকলে জানে? না বলতে পারে?

    আপনার মতো করেই লিখুন। কেমন হয় দেখাই যাক না।

    আমি লিখলে, বড় জোর মণি চাকলাদারের মতোই লেখা হবে হয়তো। পাতা তো কত লোকেই ভরিয়ে চলেন। সেই সব ভরা-পাতার কতটুকু সাহিত্য বলে বিবেচিত হবে ভবিষ্যতের পাঠকের কাছে আর কতটুকু পাঠকের পরম অবহেলায় মুদির দোকানের ঠোঙাতে পরিণত হবে, তা জানে একমাত্র মহাকাল। বেশি পড়লে, বেশি ভাবলে, বোধহয় কিছু লেখা যায় না। সবাই যদি কবি বা লেখক হয়ে পড়েন তবে পড়ুয়া হবেন কারা?

    আপনি ভীষণ কুঁড়ে। তাইই এসব বলে নিজেকে বুঝ দেন।

    কুঁড়েমির মতো গুণও কি বেশি আছে? বারট্রান্ড রাসেলের “ইন প্রেইজ অফ আয়ডলনেস” বইটা তোমাকে পড়তে দেব। পড়ে দেখো।

    ইংরিজি তো আমি জানি না তেমন ভাল।

    যে একটি ভাষাকে ভালবাসে তার কাছে সব ভাষাই সহজে আপন হয়। সব বোঝার দরকারই বা কি। মূলভাবটুকু বুঝলেই যথেষ্ট।

    কী জানি! রুষা বৌদির যে চিঠিটা আপনি আমাকে আজ সকালে পড়ালেন তা অবশ্য বুঝেছি। উনিও কিন্তু সহজেই লেখিকা হতে পারতেন। কী চমৎকার ইংরিজি লেখেন। অথচ লিখলেন না।

    আমার মনে হয় যাঁরা লেখেন, তাঁদের চেয়ে অনেক বড় লেখক-লেখিকা রয়ে গেলেন চিরদিনই সকলের চোখের আড়ালে পড়ুয়া হয়েই। সেই মুষ্টিমেয় পড়ুয়ারাই যুগে-যুগে সাহিত্যের মান নির্দ্ধারণ করেন। সাহিত্যর প্রকৃতির প্রকৃত বিচার করেন। তাঁরা যে কারা, জনসাধারণের ভিড়ের মধ্যে কোথায় যে নিজেদের গোপন করে তাঁরা জীবন কাটিয়ে দেন, তা লেখকরা জানেনই না। অথচ তাঁদের দেয় পুরস্কারই আসল পুরস্কার। তাঁদের বিচারে যাঁরা বড় তাঁরাই থেকে যান শেষ পর্যন্ত।

    কথাটা কিন্তু উঠিয়েছিলাম আমি আপনার লেখা নিয়েই।

    আমার কথা ছাড়ো। সাহিত্য ভালবাসলেই সাহিত্যক হওয়া যায় না। বললাম না, সরস্বতীর কৃপা থাকা চাই। আমি একটা ফালতু লোক। নির্গুণ। কিছু হওয়ার জন্যে এখানে আসিনি এ জন্মে, যাঁরা হয়েছেন তাঁদের গুণগ্রাহী হওয়ার জন্যেই এসেছি। তাছাড়া, সবাইকেই যে বিরাট কিছু হতে হবেই তারই বা মানে কি? বেশ তো আছি। একখানা পা, সীওনীর এই নির্জন শান্ত নিরুপদ্রব নির্লোভ জীবন, একজন কুর্চি, একজন ঠুঠা বাইগা আর আদিগন্ত প্রকৃতি এই সব নিয়ে। এই তো কত! এর চেয়ে বেশির যোগ্যতা আমার নেই, প্রত্যাশাও নয়।

    কুর্চি উঠে এসে পৃথুর পেছনে দাঁড়িয়েই ওর হাত দুটি নামিয়ে পৃথুর বুকের কাছে মালা গড়ল একটি। বলল, আপনি তাহলে আপনারই মতো থাকুন। বলছি বটে এত কথা, আপনি বিখ্যাত হয়ে গেলে, বড় হয়ে গেলে আপনার অনুরাগী আর অনুরাগিণীদের ভিড়ে আমিই হয়তো কাছে পাবো না আপনাকে। আমরা দুজনেই যে অনেকই দাম দিয়ে দুজনকে পেয়েছি পৃথুদা। হারাবার কথা ভাবলেও বুক কাঁপে ভয়ে। পেয়ে হারানোর দুঃখ হয়তো সইবে না। যতদিন পাইনি, ততদিন অন্য কথা ছিল।

    পেলে আর কোথায়? আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হওয়া আমাদের সম্ভব নয়। রুষার আধুনিকতায় ও তো এসব ব্যাপারকে আমলই দেয় না। যে কারণে ডিভোর্স-এর কথা উচ্চারণপর্যন্ত করেনি একবারও।

    ভাঁটু তো দেয়। দুজনের আইনের সম্পর্ক না চুকালে নতুন সম্পর্ক আমরা ভাবি কী করে?

    কুর্চি এসে পৃথুর সামনে চেয়ারে বসল। বলল, কারণ যে কী, তা বুঝিয়ে বলতে পারব না। স্পষ্ট করে আমি নিজেও তা জানি না। তবে, মনই বলে এরকম কথা। কিছু কিছু পুরুষ বোধহয় থাকে যাদের কোনও মেয়েই পুরোপুরি পায় না। তাদের যোলো-আনা কোনও একজন বিশেষ নারীর জন্যে নয়। টুকরো টাকরা নিয়ে যারা খুশি হতে পারল, তারা হল; যারা পারল না, তারা পেলই না তাকে। অবশ্য, প্রকৃতই যারা পুরুষ তাদের পক্ষে এরকম বিধিবদ্ধ খাঁচার-পাখির জীবন হয়তো অভিপ্রেতও নয়। রবীন্দ্রনাথের ‘শেষ কথা’র অচিরার কথা বলছিলাম সেদিন! তার সবই ছিল। রূপ, গুণ, মেধা, তবু তার সর্বস্ব দিয়েও সে নবীনকে পুরোপুরি পেল না। অথচ কেন যে পেল না সে সম্বন্ধেও তার এক স্পষ্ট ধারণা ছিল। কে জানে, পেতে চাইলও না হয়তো শেষ পর্যন্ত।

    ‘শেষ-কথা’ আমার ভাল মনে নেই। ল্যাবরেটরী আর রবিবার মনে আছে।

    সেই যে, নবীন বলল না; অচিরা কচ ও দেবযানীর কথা তোলাতে? “দেখুন, আমি হয়তো ভুল করেছিলুম। মেয়েদের নিয়ে পুরুষের কাজ যদি না চলে তা হলে মেয়েদের সৃষ্টি কেন?”

    তখন অচিরা বলল: “বারো-আনার চলে, মেয়েরা তাদের জন্যেই। কিন্তু বাকি মাইনরিটি যার। সব-কিছু পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধানে বেরিয়েছে তাদের চলে না। সব-পেরোবার মানুষকে মেয়েরা যেন চোখের জল ফেলে রাস্তা ছেড়ে দেয়। যে দুর্গম পথে মেয়ে-পুরুষের চিরকালের দ্বন্দ্ব সেখানে পুরুষরা হোক জয়ী।”

    পৃথু বলল, রবীন্দ্রনাথের সময়ে হয়তো এইসব কথার দাম ছিল। আজকে মেয়েরা তো লিবারেটেড হয়েছে। মেল-শভিনিজম-এর দিন তো আর নেই। এখন মেয়েরা কোন অংশে পুরুষদের থেকে কম। এমন কথা অন্য আধুনিকারা শুনতে পেলেও তোমাকে দুয়ো দেবেন।

    তা দিন। মেয়েরা যতই স্বাধীন হোক, যতই লিবারেটেড হোক, তারা তো মেয়েই থাকবে। বড় ছোটর কথা বলছি না, মেয়েরা পুরুষের মধ্যেই সার্থক, হয়তো পুরুষরাও মেয়েদের মধ্যে। দুজনের মধ্যে তো কোনও বিরোধ নেই। তেমন তেমন মেয়েরা চিরদিনই লিবারেটড। পুরুষের দুয়ারে পতাকা আর পোস্টার নিয়ে স্বাধীনতা ভিক্ষে করতে বিদেশের মেয়েরা যায় যাক, আমি যাব না। স্বাধীনতা তো সামান্য কথা, তার চেয়েও অনেক বড় আসনে এদেশের শিক্ষিত, যথার্থপুরুষরা চিরদিনই আমাদের বসিয়ে এসেছেন। আর তাইই যখন ঘটনা; তখন নিজেদের এমন করে ছোট করতে যাবই বা কেন?

    বলো কী তুমি? শরিয়তী আইনের ওপর সুপ্রীম কোর্টের রায় নিয়ে দেশের অধিকাংশ মুসলমান পুরুষরা কেমন লম্ফ-ঝম্ফ করছে দেখছ না!

    তা তাঁরা যা খুশি তাইই করুন। যে জাত, যে দেশ, যে ধর্ম, মেয়েদের মর্যাদা না দেয়, তারা কখনওই শিক্ষিত বলে পরিচিত হবে না। বর্বরতা আর আধুনিকতা তো একই বোরখার নীচে সহাবস্থান করতে পারে না।

    দোষ কি মুসলমানদেরই শুধু? রোজই কাগজে তুমি হিন্দুদের মধ্যে পণের ব্যাপার নিয়ে অত্যাচার, হত্যা, আত্মহত্যার খবর কি পড় না?

    পড়ব না কেন? যে সব সমাজে এবং বিশেষ শ্রেণীর মধ্যে এসব এখনও ঘটে, তারা বড়লোক হতে পারে, ব্যবসার নিয়ন্ত্রক হতে পারে, মানুষ হয়ে উঠতে তাদের এখনও অনেকই দেরি আছে। রবীন্দ্রনাথের অচিরা আর নবীনরাও সেদিন তো ছিলই। আজ তাদের সংখ্যা অনেকই বেড়েছে। আপনি তো আমাকে পুরোটা বলতেই দিলেন না। সবই গোলমাল করে দিলেন তার আগেই।

    সরি! বলো বলো, তোমার অচিরার কথাই শুনি।

    অচিরা আরও বলেছিল: “যে মেয়েরা মেয়েলি, প্রকৃতির বিধানে তাদের সংখ্যা অনেক বেশি, তারা ছেলে মানুষ করে, সেবা করে ঘরের লোকের। যে পুরুষ যথার্থ পুরুষ, তাদের সংখ্যা খুব কম। তারা অভিব্যক্তির শেষ কোঠায়। মাথা তুলছে একটি দুটি করে।” মানে, আপনারই মতো আর কী!

    তারপর?

    “মেয়েরা তাদের ভয় পায়, বুঝতে পারে না, টেনে আনতে চায় নিজের অধিকারের গণ্ডীতে।”

    যাইই বলো, সেই আলখাল্লা পরা বুড়োর অনেক গুণ ছিল, কিন্তু তর্কশাস্ত্রে যে বিশেষ দখল ছিল তাঁর তা কিন্তু আমার মনে হয় না। আমার দোষেই দোষী তিনি। যখনই কিছু বলতে চান, তখন তাঁর বক্তব্য ছাপিয়ে তাঁর ভাষার কাব্যময়তা তাঁর পাত্র-পাত্রীকে একেবারেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বলা শেষ হলে দেখা যায় নায়ক এবং নায়িকা যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই।

    পৃথুদা। আপনি ভীষণ অধৈর্য এবং উদ্ধতও।

    ঠিক আছে! বল শুনি।

    “পুরুষ যেখানে অসাধারণ সেখানে সে নিরতিশয় একলা। নিদারুণ তার নিঃসঙ্গতা, কেননা, তাকে যেতে হয় যেখানে কেউ পৌঁছয়নি।”

    পৃথু, হাসল।

    বলল, কথাগুলো ভারি সুন্দর। কিন্তু আমি তো অসাধারণ নই। ঠিক এই মাপের অসাধারণ পুরুষ তো চারপাশে দেখতেও পাই না কোথাও। বাঙালিদের মধ্যে বোধহয় অসাধারণত্বর মড়ক লেগেছে, গরু-মোষের রাইন্ডারপেস্ট মহামারীরই মতো। অসাধারণ বাঙালিদের প্রজন্ম শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধুই ইঁদুরদের দৌরাত্ম্য।

    ইঁদুর মানে?

    কুর্চি বলল। চোখ তুলে। বিরক্ত হয়ে।

    ইঁদুররা সবসময় কাটা-কুটি করে কেন, জানো?

    না তো। কেন?

    ওদের একটা দাঁত আছে। সবসময় কিছু না কিছু কেটে তাদের সেই দাঁত ক্ষইয়ে না ফেললে সেই বাড়ন্ত দাঁত তাদের মগজ ফুটো করে দিত। অক্কা পেত নিজেরাই। এখনকার বাঙালিরাও ওই ইঁদুরদেরই মতো। তাও ধেড়ে ইঁদুর নয়। ইঁদুরদের মধ্যেও ধেড়েরা বোধহয় শেষ হয়ে গেছে। চারপাশে এখন নেংটি ইঁদুর। কুটুর-কুটুর সর্বক্ষণ।

    কাটে কী তারা?

    যা কিছুই পায় তাইই কাটে। শ্রম কাটে, আশা কাটে, সম্পর্ক কাটে, সারল্য, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা নিয়মানুবর্তিতা, ভালত্ব সবকিছু কেটে কেটে ঝাঁঝরা কুটিকুটি করে দেয়। এদের মধ্যে অবিচার নবীনবাবুর মতো কাউকেই তো দেখি না!

    আপনি। আপনি তো ব্যতিক্রম!

    হাঃ। হাসল পৃথু। বলল: হলে, খুশি হতাম। কিন্তু নই কুর্চি।

    শেষ হল কি তোমার অচিরার অশেষ শেষ-কথা? না হয়ে থাকলে, বলো।

    অচিরা পরে বলেছিল তার অধ্যাপক দাদুকে। “ও তোমার বাজে কথা। আসল হচ্ছে এটা স্ত্রী জাতিদের দেশ। এখানে পুরুষেরা স্ত্রৈণ, মেয়েরাও স্ত্রৈণ। এখানে পুরুষরা কেবলই ‘মা’ ‘মা’ করছে, আর মেয়েরা চিরশিশুদের আশ্বাস দিচ্ছে যে তারা মায়ের জাত। আমার তো লজ্জা করে। পশু-পক্ষীদের মধ্যেও মায়ের জাত নেই কোথায়?

    এবারে থামো কুর্চি। ‘শেষ কথা’র নায়ক-নায়িকারা কেবলই বড় বড় পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা বলছে। আসলে কে যে কী বলতে চায় তা বুঝে উঠতে পারছি না।

    সব মানুষই পরস্পরবিরোধী। যারা নয়, তারা তো যন্ত্র, মেশিন, এমনকী জানোয়ারই, তারা মানুষ পদবাচ্যই নয়। আপনি কি জানেন না, রবীন্দ্রনাথকে একজন বিদেশি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনার মতে, আপনার সবচেয়ে বড় দোষ কী?’ রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন: ‘ইনকনসিস্টেনসী’। উনি আবারও জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘আপনার মতে আপনার সবচেয়ে বড় গুণ কী?’ রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন: ‘ইনকনসিন্টেন্সী’।

    তাইই? বাঃ বেশ তো!

    পৃথু বলল।

    ইয়েস স্যার। তাইই।

    এবারে একটু কনসিসটেন্ট হয়ে বলো, আসলে কী তুমি বলতে চাইছিলে?

    পৃথু বলল।

    বলেছি তো! আপনাকে চিরদিনের মধ্যে আইনানুগভাবে পাব না আমি। এরপরে বলার কি আর থাকতে পারে?

    মাত্র কদিন মাঝে মাঝে দেখা হওয়াতেই যেমন ঝগড়া এবং মতবিরোধ হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে চিরদিনের মতো কোনও ভালবাসার জনকেই কাছে না পাওয়াই বোধহয় ভাল। তোমার কাছে যখন যেতাম রাইনাতে, অপলকে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। তোমার হাতে হাত রাখলেই আমার শরীরে কাঁটা দিত। চোখে চুমু খেলে মনে হত ভাললাগায় গলে যাব। চোর ছিলাম তো। পরের দ্রব্য না বলিয়া গ্রহণ করার নামই তো চুরি।

    আর এখন?

    কুর্চি বলল।

    সবই পেলাম। এতবার করে, এরকম করে, কিন্তু সেই চুরি করে চোখে চুমু খাওয়ার সিরসিরানি যে কোথায় হারিয়ে গেল কে জানে। চুরি করে ভাল না-বাসলে বোধহয় ভালবাসাটা আর ভালবাসা থাকে না। পরকীয়া প্রেম বা অনাঘ্রাত প্রেম হচ্ছে চাঁদের আলো, আর বিবাহিত প্রেম বা খোলামেলা বাধাহীন শরীরী-সম্পর্ক বোধহয় সূর্যালোক। প্রখর সূর্যতাপে, ধুলোয়, আওয়াজে ভালবাসার ফুল বোধহয় শুকিয়েই যায়।

    কুর্চির গাল লাল হয়ে উঠল। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রইল ও।

    কী হল?

    কিছু না।

    আরে। নিজের মনে নিজের সঙ্গে কথাও কি বলতে পারব না? নিজেকে নিজে প্রশ্ন যে না করে সেও কি মানুষ? এত জানো, আর এটুকু জানো না। স্বগতোক্তিও কি দোষের?

    আপনি যদি এইই জানেন তাহলে অমন কাঙালপনা করতেন কেন? আমার বারো বছর বয়স থেকে আমাকে এমন করে ভালবাসলেন কেন? যা আমি আপনাকে দিয়েছি তাইই কি চাননি আপনি আমার কাছে? অদ্ভুত মানুষ আপনি। সত্যিই! যা পেয়ে ধন্য হওয়ার কথা ছিল তাইই পেয়ে মনে হচ্ছে বিরক্ত হয়েছেন আপনি। আমি…আমাকে এমন অপমান করার কোনও…

    আঃ! কুর্চি! তুমি তো ছোট নও। বোকা নয়। তুমি হয়তো তোমার নিজের সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ। আমি নই। এখনও নই।

    কুর্চির চোখের কোণে জল ছলছল করে উঠল।

    পৃথু, ক্রাচদুটি তুলে নিয়ে, কুর্চির কাছে গিয়ে ওর মাথায় হাত রাখল।

    বলল, কুর্চি! আমাকে ভুল বুঝো না। নিজের মধ্যে যে মানুষটা বাস করে তাকে এতদিনেও জানা হয়নি। যেদিন চিতায় ছাই হয়ে যাব সেদিনও হয়তো পুরোপুরি জানা হবে না। নিজের ভিতরের নিজেকে পরোপুরি জানার এই খোঁজ যেদিন থামিয়ে দেব, সেদিন বেঁচে থেকেও যে মরে যাব কুর্চি! আমাকে বাঁচতে দাও লক্ষ্মীটি। তোমাকে আমি আমার অনেক স্বপ্ন আর কল্পনার কুর্চি করেই রাখতে চাই। তোমার সঙ্গে দিনরাত এক ঘরে থেকে, তোমার শরীরকে হাত বাড়ালেই বারবার পেয়ে তোমাকেও যদি আরেকজন রুষা করে তুলি, রুষা বলে ভাবতে থাকি আমি? সেইই ভয় আমার। তুমি কি বোঝো না?

    হঠাৎই কুর্চি উঠে দাঁড়াল।

    দু-ভুরু কুঁচকে বলল, অসম্ভব!

    বিনুনি করে এসেছিল। চান করে। ছিপছিপে, ঋজু সরু কোমর বেয়ে বেণী নেমেছিল কালো প্রপাতের মতো। নীচের দিকে গোঁজা ছিল অমলতাস ফুলের স্তবক। তার পরনে হলুদ একটি টাঙ্গাইল শাড়ি, অফ-হোয়াইট ব্লাউজ, দীঘল চোখে কাজল। সকালের বারান্দাতে হঠাৎ একটি উদ্ধত অথচ নরম হলুদ ফুলের মতো ফুটে উঠেই, সারা বারান্দা হলুদ আলোয় আভাসিত করে বেণী দুলিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেল কুর্চি। তারপর প্রায় দৌড়েই বেরিয়ে গেল বাংলোটা থেকে।

    পৃথু ডাকল, কুর্চি। ও কুর্চি।

    আমি যে দৌড়তে পারি না। তুমি দৌড়ে চলে গেলে আমি তোমাকে ধরতে পারব না আর কোনওদিনও। একটু দাঁড়াও আস্তে এগোও। আমি আসছি। রাগ কোরও না। প্লীজ…। কুর্চি। মনে মনে বলল পৃথু। চলে যাওয়া কুর্চির দিকে তাকিয়ে।

    কুর্চি ততক্ষণে বড় বড় পা ফেলে বাঁকের মুখে অদৃশ্য হয়ে গেছে।

    হতাশ, হতভম্ব পৃথু ধ্বপ করে চেয়ারে বসে পড়ল। তাড়াতাড়ি বসাতে একটি ক্রাচ হাত ছিটকে পড়ে গেল বারান্দার মেঝেতে। শব্দ শুনে ভেতর থেকে ঠুঠা বাইগা পর্দা সরিয়ে এসে দাঁড়াল। একবার পৃথুর দিকে চাইল, আরেকবার কুর্চির শূন্য চেয়ারটার দিকে। বেণী থেকে খসে পড়া হলুদ অমলতাসের গুচ্ছ মেঝেতে পড়ে ছিল। ঠুঠা, বাংলোর গেট পেরিয়ে বাঁক অবধি গেল। তারপর ফিরে এসে পৃথুর সামনে দাঁড়িয়ে ঠাণ্ডা চাউনিতে দেখল পৃথুকে। পৃথুর মনে হল ঠুঠা বলছে: তুমি একটা অভিশপ্ত জীব। আমারই মতো। একটা শুধু পাইই নয়, একদিন আমারই মতো সবকিছুই হারাবে তুমি। যে ধরে রাখতে না জানে, তার কিছুমাত্রই পাওয়ার অধিকার নেই এ সংসারে। পৃথু মুখ নামিয়ে নিল। অজগরের চোখের মতো সেই চাউনি সহ্য করা কঠিন ছিল।

    রান্নাঘর থেকে বিগু এল। এদিক ওদিক চেয়ে অবাক গলায় বলল, এ কী! মেমসাহেব গেলেন কোথায়?

    ঠুঠা নিজের চোখ-জোড়া দিয়ে বিগুর চোখ-জোড়াকে টেনে এনে মেঝেয় পড়ে থাকা অমলতাসের স্তবকের উপর নামাল।

    বিগু বলল, খাসির রেজালা বানাচ্ছি, বাসমতী চালের পুলাউ, ছোলার ডাল, কারিপাতা দিয়ে, বায়গণ ভাজা, আর মেমসাব…

    পৃথু বলল, রান্না হলে টিফিন ক্যারিয়ার করে মেমসাহেবের বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়ে আসবি। বলবি, আমি যাব। ওখানেই খাব।

    বিগু ও ঠুঠা দুজনে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে ভিতরে চলে গেল। সবুজ আর সাদা ডোরাকাটা পর্দাটা দুলতে লাগল ডিফিওনবিচিয়ার অতিকায় একটি পাতার মতো।

    পৃথু বৈশাখের সকালের রৌদ্রোজ্জ্বল পাহাড়ের দিকে চেয়ে ভাবছিল, কুর্চিরও তাহলে রাগ আছে রুষার মতো অতটা না হলেও বেশ বেশিই আছে। নইলে, রাগ করে এমনভাবে সীন-ক্রিয়েট করে চলে যাবার মতো কোনও ব্যাপার ঘটেনি। ওর কিছু বলার থাকলে ও ঠাণ্ডাভাবে বলতে পারত। অথচ, আশ্চর্য! এত বছরে কুর্চির সঙ্গে যখনই দেখা হয়েছে পৃথুর, মনে হয়েছে ও শুধু নম্রতা আর সহানুভূতি আর আদর আর ভালবাসারই প্রতীক। মানুষমাত্ররই যে রাগ থাকে, দোষেগুণে মেশা যে সব মানুষই, এ ভাবনা, যে-কুর্চিকে ও জানত সেই কুর্চি সম্বন্ধে মাথায় একবারও আসেনি। এখন বুঝছে যে আসা উচিত ছিল। কুর্চির মধ্যেও রুষা আছে।

    কে জানে, হয়তো রুষার মধ্যেও কুর্চি ছিল।

    তেমন করে খোঁজার চেষ্টা করেনি কখনও হয়তো পৃথু। নিজেকে নিয়ে, নিজের পুরুষবন্ধুদের জগৎ নিয়ে, রুষার প্রতি অনুযোগময় বছরগুলি কুর্চির প্রতি নরম ভালবাসা বুকে করেই কাটিয়ে দিয়ে এল। অনেকগুলো বছর। রুষার মনের সব পাপড়ি খুলে মেলে দেখার অবকাশই হয়নি। হয়তো শরীরেরও নয়। এক অন্ধ জীবন যাপন করছিল ও। যদি বা সেই বন্ধ চোখ খুলেছিল সীওনীতে এসে তাও আবার বন্ধ হবার মুখে।

    অথবা, কে জানে? প্রকৃত ভালবাসার সম্পর্কে এই মান-অভিমানই হয়তো আসল। মান এবং মান-ভঞ্জন। এই নাগরদোলাই হয়তো নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে; সঞ্জীবিত করে।

    বেচারি কুর্চি। বেচারি রুষা। বিজলী বেচারি!

    পৃথু ভাবছিল ও বড় নরম মনের পুরুষ মানুষ, রবীন্দ্রনাথের ‘শেষকথার’ অচিরার ভাষায় হয়তো স্ত্রৈণও। হাটচান্দ্রার অনেকেই তাকে এই অপবাদ দিত। যদিও স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বলতে এক বাড়িতে থাকা, একসঙ্গে খাওয়া ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তবু, সে প্রচণ্ডরকম বিবাহিত ছিল। স্ত্রী ছেলেমেয়ের প্রতি কর্তব্য, তাদের প্রতি মমত্ব, তাদের জন্যে সব দরদ পুরোমাত্রায়ই ছিল তার। কিন্তু সেই সব বোধ প্রকাশ করার সুযোগ তাকে খুব বেশি দেওয়া হয়নি। ছেলেমেয়েরাও রুষা-চালিত ছিল, শিশুকাল থেকেই। একবেলাও তাদের নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাবার অধিকার ছিল না, ছিল না ওদের একটি চকোলেট বা কেক কিনে দেওয়ার স্বাধীনতা, রুষার অনুমতি ছাড়া। এই সবেরই জন্যে, ধীরে ধীরে নিজের সম্মানেরও কারণে ও নিজেকে সরিয়ে আনতে আনতে হয়তো বড় বেশি দূরেই সরিয়ে এনেছিল। দাম্পত্য সম্পর্কে “স্পেসেস বীটউইন টুগেদারনেস” ভাল। কিন্তু সেই স্পেসেস যদি দুরতিক্রম্য হয়ে ওঠে, তখন তা আর সাঁতরে পেরুনো যায় না, তা পেরোতে কুর্চি বা বিজলীর মতো নৌকোর প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

    বাইরে রোদ জোর হচ্ছিল। ইদানীং একটু গরম গরম লাগে। পথের উল্টোদিকের একটি বড় অশোক গাছে মস্ত একটি মৌচাক হয়েছে। বিগু একদিন বারান্দায় আগরবাতি জ্বালিয়েছিল। অমনি সঙ্গে সঙ্গে তারা হামলে এসে পড়েছিল চাক থেকে বিগুর উপর। মৌমাছির কামড় জঙ্গলে পৃথু অনেকবারই খেয়েছে। সেটা মোটেই সুখাদ্যর মধ্যে গণ্য নয়। তাইই, কুর্চিকেও বলে দিয়েছিল কোনও সুগন্ধি মেখে যেন বারান্দায় না বসে। নিজেও ঈত্বর সম্বন্ধে সাবধান হয়ে থাকে। কী আর করা যাবে? যেখানে সুগন্ধ, সেখানেই কামড়। সুগন্ধমাত্ররই মধ্যে হুলের হোমিং-ডিভাইস থাকে বোধহয়। বীল্ট-ইন।

    সামনে পাহাড়ের নরম রোমশ সবুজ গায়ে তার ত্রিকোণ চলন্ত ছায়া চক্রাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একটি ক্রেস্টেড হক ঈগল আকাশ পরিক্রমা করছে। পশ্চিম দিকে, পাহাড়ের পায়ের কাছে একটি দহ মতো আছে। সেদিক থেকে দ্রুত উড়ে আসছে একটি ছোট্ট নীল-মাথা বাদামী-গায়ের কিং ফিশার মাছরাঙা। আর তার পেছন পেছন, যেন তাকে ধাওয়া করেই উড়ে আসছে সাদা-বুক মস্ত ঠোঁটের বড় একটি হোয়াইট-ব্রেস্টেড কিং-ফিশার। ক্রেস্টেড হক-ঈগলটা ক্রমশই উপরে উঠছে। দেখতে পাহাড়ের চূড়ো ছাড়িয়ে নীল মহাশূন্যের মধ্যে একটি বিন্দুর মতো ছোট হয়ে যাবে সে। তার দূরবীক্ষণ চোখে পাহাড়ের প্রতিটি খোঁজ-খাঁজ, মালভূমি, বুকের উপত্যকা, নদীর পেলব শুকনো খোল ফুটে উঠবে। কোথায় খাবার নড়ছে-চরছে তা দেখতে পেলেই ফাইটার মিগ জেটের মতো দ্রুত সে নেমে আসবে। জিম করবেটের বনশীর মতো অলুক্ষুণে ডাক ডাকবে কখনও। বুকের মধ্যে, হারতে-থাকা-ফুটবল টীমের কাছে রেফারীর পেনাল্টি কিক-এর হঠাৎ-বাঁশিরই মতো তীক্ষ্ণ ভয়ার্ত স্বরে বেজে উঠবে তার শুদ্ধ স্বর, তারাতে। ক্রেস্টেড হক ঈগলরা উদারা মুদারার ধার ধারে না। তারাতেই তারা স্বর-দীপ্ত।

    পাহাড় চূড়োর দিকে চাইলেই বুকের গভীর থেকে দীর্ঘশ্বাস উঠে আসে আজকাল। নিজের পঙ্গুতা এবং ওয়াল্ট হুইটম্যান-এর উদার মুক্তির কবিতাগুলি একে অন্যের সঙ্গে নিঃশব্দ যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

    অ্যালোন, ফার ইন দ্যা ওয়াইল্ডস এন্ড মাউন্টেইনস আই হান্ট,

    ওয়ান্ডারিং অ্যামেজড অ্যাট মাই ওওন লাইটনেস এন্ড গ্লী,

    ইন দ্যা লেট আফটারনুন চুজিং আ সেফ স্পট টু পাস দ্যা নাইট,

    কিন্ডলিং আ ফায়ার এন্ড ব্রয়লিং দ্যা ফ্রেশকিলড গেম,

    সাউন্ডলী ফলিং অ্যাস্লীপ অন দ্যা গ্যাদারড লীভস, মাই ডগ

    এন্ড গান বাই মাই সাইড।

    যখন নিজের ভাবনায় বুঁদ হয়ে যায় পৃথু তখন ওই ঈগলের মতোই উড়তে উড়তে চলে যায় নিঃসীম শূন্যে। সময়ের হুঁশ থাকে না, পরিবেশের হুঁশ থাকে না।

    বিগুর গলা-খাঁকারির আওয়াজে ওর ঘোর ভাঙল।

    বিগু টিফিন-ক্যারিয়ার হাতে তৈরি। জামা-কাপড়ও বদলে ফেলেছে। কাঁধে মুসলমান-বাওয়ার্চিদের মতো একটি তোয়ালে ফেলেছে। সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি। ছেঁড়া হলেও, ধবধবে করে কাচা।

    হেসে বলল, আমি এগোলাম। আপনি কখন যাবেন বলব?

    আধঘণ্টা পরে রওয়ানা হব। আমার যেতে তো সময় লাগবে। মনে হয় বারোটা নাগাদ পৌঁছব। তুই পৌঁছে দিয়েই চলে আসিস। বেলা হয়ে যাবে। ফিরেই, ঠুঠাকে দিয়ে তুইও খেয়ে নিস।

    বিগু চলে গেলে একবার বাথরুমে গিয়েই, পৃথু বেরিয়ে পড়ল কুর্চির বাড়ির দিকে। আস্তে আস্তে বড় রাস্তায় এসে উঠল। কুর্চির বাড়ির দিকের রাস্তায়, বাঁদিকে মোড় নিতে যাবে যখন ঠিক তখনই মার্জিত মেয়েলি গলার আওয়াজে চমকে উঠল ও। পিপ্পুলগাছের নীচের চা আর পানের দোকানের সামনে থেকে এল সেই কণ্ঠস্বর। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, স্কুলের দুজন মেয়ে টিচার। কী যেন নাম! তক্ষুনি মনে করতে পারল না।

    পৃথুকে হয়তো ওরা তখনও লক্ষ্য করেনি। কিন্তু ওরা লক্ষ্য করার আগেই পৃথু হেসে বলল, কী হচ্ছে, এখানে?

    ওঁরা দুজন সমস্বরে হেসে বললেন, গুটকা খাচ্ছি। ছুটি তো! এই দিকে এসেছিলাম কে. রায়ের বাড়ি। আমাদের কলিগ।

    পৃথু হেসে এগিয়ে গেল। কুর্চির বাড়ির দিকের পথে মোড় নেবার সময় আরেকবার পেছন ফিরে তাকাতেই দেখতে পেল মেয়েদুটি তাকে নিয়েই হাসাহাসি করছে। কুর্চির বাড়ি যাচ্ছে বলেই হয়তো।

    যাকগে। যে যা বলে, ভাবে ভাবুক। এরা সকলেই আসলে ঈগল। একটু সুখ দেখলেই ছোঁ মারতে চায়। দিসাওয়াল সাহেব যেমন বলেছিলেন। মেয়ে দুটিই অবিবাহিত। অথচ বয়স যে হয়নি বিয়ের তাও না। নিজে অভুক্ত থাকলে অন্য কাউকে পরিতৃপ্তির সঙ্গে খেতে দেখলে রাগ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। সকলেই সুস্থ থাকলে, সকলেরই সবরকম ক্ষিদের পরিতৃপ্তি হলে বড় সুখের হত এই কাল, এই দেশ।

    একটু যেতেই বিগুর সঙ্গে দেখা হল। সে বলল, মেমসাহেব বড়ী গোসসেমে হ্যায়। খনা ওয়াপস লে যানেকে লিয়ে কহথী থী। ম্যায় জবরদস্তি ছোড়কে আয়া।

    আমি যাব যে, সে কথা বলেছিস তো?

    হাঁ।

    বলার পরই তো রাগ আরও বেড়ে গেল মেমসাহেবের।

    পৃথু একটু বিরক্ত বোধ করল। বিগুর উপরে, কুর্চির উপরে এবং নিজের উপরেও। রাগটাগ নিয়েই তো এত বছর ঘর করে এল, যদি তাকে ঘর করা আদৌ বলে। আর এসব ভাল লাগে না। একটু বাড়াবাড়িই করে ফেলেছে কুর্চি। কী সামান্য কথা থেকে কী!

    বেড়ার দরজা খুলে ঢুকতেই কুন্তীর কুকুরটা কামড়াতে আসবে ভেবেছিল। কিন্তু কোনও সাড়া পেল না তার। মনে পড়ল। কুন্তী বোধহয় তার কুকুরকে সঙ্গেই নিয়ে গেছে।

    অতখানি একসঙ্গে হেঁটে হাঁফ ধরে গেছিল পৃথুর। দাওয়ায় কিছুক্ষণ ক্রাচ-এ ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে জিরিয়ে নিল ও। কুর্চির ঘর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে ডাকল, কুর্চি, একটু জল খাওয়াবে?

    কোনও উত্তর না দিয়ে কুর্চি সামান্য পর একগ্লাস জল হাতে করে এসে দাঁড়াল।

    ঢকঢক করে জল খেয়ে, পৃথু চারদিকে তাকিয়ে বসার মতো কিছুই দেখতে পেল না। কুর্চিও খালি গেলাস নিয়ে ভিতরে চলে গেল। কোনও কথা বলল না।

    পৃথু ওর পেছন পেছন ঘরে গেল। গিয়ে- বিনা-আমন্ত্রণেই, কাঠের যে হাতলওয়ালা চেয়ারটাতে বসে কুর্চি সেলাই করে, তার উপরে বসে ক্রাচ দুটোকে রাখল পাশে।

    কুর্চি খাটের উপর বসে পা-ঝুলিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে চেয়ে রইল। দেওয়ালে এমব্রয়ডারী করা একটি লেখা, পেরেক থেকে ঝুলছে। কাঠের ফ্রেমে কাঁচ দিয়ে বাঁধানো। লেখা আছে: “সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে।”

    কী, হল কী তোমার?

    পৃথু নরম গলায় বলল।

    কী আবার হবে?

    রুক্ষ গলায় বলল কুর্চি।

    আহত হল পৃথু। এই কুর্চিকে ও কোনওদিনও চিনত না। চিনতে হবে বলে, ভাবেওনি কখনও।

    তুমি কিন্তু ঠিক করছ না কুর্চি, তুমি তো ছেলেমানুষ নও।! কী আমি করেছি, যার জন্যে তুমি এমন ব্যবহার করছ আমার সঙ্গে?

    তা তো ঠিকই। উ্য আর ওলওয়েজ রাইট! কী আর করেছেন!

    চমকে উঠল পৃথু। কুর্চির শরীরের উপরে যেন রুষার রাগি মুখটি বসিয়ে দিয়েছে কেউ। তেমনই নিষ্ঠুর, বিবেচনাহীন, জেদী।

    তুমি যদি এমন ব্যবহার করো, তাহলে আমি কিন্তু তোমার সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখব না। অবুঝপনা সইবার মতো সহ্যশক্তি আমার আর অবশিষ্ট নেই। অনেকই সয়েছি আমি।

    আহা! যেন, আমি কিছুই সইনি। তাচ্ছিল্যের গলায় বলল কুর্চি। তারপর বলল, বাজে মানুষ আপনি। আমার সবকিছু নিয়ে, এখন….।

    কথাটা বলতে বলতে কুর্চির গলা ধরে এল।

    পৃথু হতভম্ব হয়ে গেল।

    বলল, সবকিছু নিয়ে মানে? আমি তো চাইনি। তুমিই তো জোর করে আমাকে কিবুরু বাংলোয় নিয়ে গেলে, তুমিই তো…

    আমি? আর এতদিন ভিখিরির মতো কাঙালপনা কে করেছিল?

    পৃথু গলা তুলে চিৎকার করে কুর্চির গলাকে ডুবিয়ে দেবে ভেবেছিল। কিন্তু অত্যন্ত শান্তভাবে বলল, সে এই আমি নই; সে আমি অন্য আমি ছিলাম।

    হুঁ। এখন কত কিছুই বলবেন। পুরুষ মানুষ মাত্রই ঠগ। বাজে। জোচ্চোর।

    কী বলছ কী তুমি? ছিঃ ছিঃ! তুমি এমন ভাষায় কথা বলছ?

    বলছি। আপনি আমাকে এখানে জ্বালাতে এলেন কেন? আমি তো চলেই এসেছিলাম। আমার নিজের ঘরেও কী শান্তি পাব না আমি? কেন এলেন?

    তুমি না-খেয়ে চলে এলে তাই…

    থাক। অনেকেই ভালবাসা দেখিয়েছেন। আর নাইই বা দেখালেন।

    হঠাৎই পৃথুর ভালবাসার নরম মনটা প্রচণ্ড ফুঁসে উঠে মনের মধ্যের পাশের দরজাটাকে ধাক্কা দিয়ে ভেঙে রাগের ঘরে ঢুকে এল। ক্রাচ ছাড়াই, ছিলা-ছেঁড়া ধনুকের মতোও একপায়ে উঠে দাঁড়িয়ে একলাফে কুর্চির উপর গিয়ে পড়ল। তারপর চিৎকৃত প্রতিবাদের কুর্চিকে চুমুতে চুমুতে কামড়ে কামড়ে ছিঁড়ে ফেলতে লাগল। তার অজানিতেই তার একটি হাত ওকে চেপে শুইয়ে রাখল শক্ত খাটের উপর আর অন্য হাত ওকে বিবস্ত্র করতে লাগল যন্ত্রদানবের মতো। কবিতা, রবীন্দ্রনাথ, সংস্কৃতি সব গোল্লায় গেল। কুর্চির নাকের পাটা ফুলে উঠল। ফুঁসতে ফুঁসতে ও বলতে লাগল: অসভ্য! ইতর! জানোয়ার! বাজে লোক একটা! জোর করে…

    দেখতে দেখতেই রাগের ফোঁসফোঁসানি স্তিমিত হয়ে এসে তা ভাললাগার গোঙানিতে পর্যবসিত হয়ে গেল! কুর্চির মুখ কিন্তু ওই কথাগুলিই বলে যেতে লাগল; অসভ্য! ইতর! জানোয়ার! বাজে লোক! কিন্তু এখন সেই ঘৃণাবাহী শব্দটিই পৃথুর প্রতি এক গভীর ভালবাসার, তার উপর নির্ভরতার প্রতিভূ হয়েই যেন ধ্বনিত হতে লাগল। কুর্চির দুটি হাত পৃথুর পিঠের নীচে মালার মতো নেমে এসে সাঁড়াশির মতো দৃঢ় হয়ে চেপে বসল। ওর চুল এলোমেলো হয়ে গেল। হলুদ শাড়ি আর অফ-হোয়াইট ব্লাউজের খোলসের ভেতর থেকে হিসহিস করা এক বাদামি সর্পিণী বেরিয়ে এল। পৃথুর চোখমুখ গলা কুর্চির সিক্ত ছোবলে দংশিত হতে লাগল।

    কতক্ষণ সময় কেটে গেল খেয়াল নেই। এখন দুজনেই দুজনের আলিঙ্গনের মধ্যে যুগল মৃতদেহর মতো শান্ত হয়ে শুয়ে রয়েছে। নগ্ন দুটি হিমেল শরীর। দু চোখ বেয়ে আনন্দধারা বইছে কুর্চির। পৃথুর দু চোখ জ্বলজ্বল করছে নিজের আবিষ্কারের লজ্জা এবং আনন্দেও। বাইরে বৈশাখের ঘোর-লাগা ছায়াচ্ছন্ন দুপুরে ঘুঘু ডাকছে ঘুঘুর-র-র-র ঘু, ঘুর-র-র-র-র, ঘু-উ-উ-উ করে। কাঁচপোকা উড়ছে খোলা জানালার সামনে বুঁ-বুঁ-বুঁ-ই-ই-ই-ই আওয়াজ করে। একটা ক্রো-ফেজেন্ট গম্ভীর স্বরে ছায়াচ্ছন্ন নদীর খোল থেকে ডেকে চলেছে ঢাব-ঢাব-ঢাব-ঢাব-ঢাব। অনন্তকাল ধরে চলতে থাকা হাঁপিয়ে-ওঠা সময় যেন এই ঘরে এসে হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে গেছে চার দেওয়ালের মধ্যে।

    কারও মুখেই কোনও কথা নেই। ঘরের মধ্যে এখন মৃত্যুর নিস্তব্ধতা। গভীর ভাললাগা এবং এক ধরনের লাগাও ঘিরে আছে দুজনকে।

    হঠাৎ ওরা দুজনেই চমকে উঠে যে যার ফেলে-দেওয়া জামা-কাপড়ের দিকে হাত বাড়াল। দেখল, খোলা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে ঠুঠা বাইগা। হাতে একটি চিনেমাটির বাসন নিয়ে। তার চোখে লজ্জা নেই, রাগ নেই, অপরাধবোধও নেই। এক আশ্চর্য বিপন্ন বিস্ময়ে সে এই রুক্ষ পৃথিবীর একটি স্নিগ্ধতম দৃশ্যে বিমুগ্ধ হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে আছে।

    যতক্ষণে ওদের দুজনের সম্বিত ফিরেছে, হয়তো ততক্ষণে ঠুঠারও।

    যেমন চিতার মতো নিঃশব্দ পদসঞ্চারে সে এসেছিল তেমনই নিঃশব্দে, ছায়ার মতো সরে চলে গেছে। তার বোবা পশুর মাথার মতো শ্লথ মস্তিষ্কে গ্রীষ্মের মধ্যদিনের পিয়াসী, মুখ হাঁ-করা তিতিরের বুকের ছটফটানিই ভরে নিয়ে ফিরে গেছে সে বেচারি। জল দাও। জল দাও। না বলেই, বলতে বলতে।

    কুর্চি জামাকাপড় পরে বারান্দায় গেছিল আগে। ওখান থেকেই বলল, পৃথুদা! পায়েস দিয়ে গেছে। বিগু বোধহয় ভুলে গেছিল।

    পৃথু ক্রাচদুটোর জন্যে কুর্চির কাছে হাত বাড়িয়ে হেসে বলল, পরমান্ন। যে যেমন ভাগ্য করে আসে। বেচারি ঠুঠা!

    ছিঃ ছিঃ। কী লজ্জা! আর কী কখনও ঠুঠাদাদার চোখে চেয়ে কথা বলতে পারব? কী যে হল আমার? দরজাটা পর্যন্ত বন্ধ করতে ভুলে গেলাম। অবশ্য আমার দোষ কি! সময় পেলাম? অদ্ভুত বাজে লোক আপনি একটা!

    ঠিক এই বাক্যটিই বলত রুষা।

    একটি বাক্যই অর্থর কত বিভিন্নতা পায় বলার ধরনে! যে তা বলে, তার মুখের ভাবে!

    অবাক হয়ে গেল পৃথু।

    কুর্চি খাবারগুলো গরম করছিল রান্নাঘরের স্টোভে। পৃথু খাটের উপর আস্ত পা-টি তুলে দিয়ে সেই হাতলওয়ালা চেয়ারে বসে জানালা দিয়ে বাইরে চেয়েছিল।

    ও শুনেছিল যে, দম্পতির যত ঝগড়া, মত মতপার্থক্য, যত বাদানুবাদ সবই নাকি নিঃশেষে গলে যায় শোবার ঘরের খাটে। আজকে জানল যে, কথাটা কত বড় সত্যি। কথাটার যথার্থ জেনে যেমন আনন্দিত হল তেমনই দুঃখিত হল এই কথা ভেবে যে, রুষার প্রতি ও খুবই অবিচার করেছে। এত বড় ঝগড়া যদি এত সহজেই মেটে তাহলে এমনি করেই তা ও মেটায়নি যে কেন! অবশ্য এ কথাও ঠিক যে, রুষার ঔদ্ধত্য, দম্ভ, শীতলতা তাকে কখনওই কুর্চির প্রতি বোধের মতো কোনও বোধে উদ্বুদ্ধ করেনি। যে সাবলীল ঋতিতে এত সহজে উদ্বেলিত হয়ে সব মত-পার্থক্যকে উদ্বায়ু তরল পদার্থের মতোই মূহুর্তে অদৃশ্য করা যায়, সেই ঋতিই ছিল না রুষার। ঈশ্বর জানেন, পৃথুর দোষ নেই। দোষ নেই।

    রান্নাঘর থেকে কুর্চি বলল, কি? খিদেয় পেট চুঁই চুঁই করছে তো!

    নাঃ। কত কী তো খেলাম একটু আগে।

    আপনি সত্যিই ভীষণ অসভ্য!

    পৃথু জবাব দিল না।

    মনে মনে বলল, হইই না একটু। সভ্যতাতে সতত বড়ই নিষ্পেষিত, ক্লিষ্ট আছি গো আমি। সভ্যতার হাল্কা আবরণকে, এসো, আমরা জীবন-গন্ধী হওয়ায়, দুজনে তার দু কোণ ধরে উড়িয়ে দিই। কোনও নবীন কিশোরের অনভিজ্ঞ হাতের চাঁদিয়াল ঘুড়ির মতো ভো-কাট্টা হয়ে ভেসে যাক এই আবরণ সাতপুরা পর্বতমালার সবুজ সুগন্ধি বুকের দিকে। এত হাজার বছরেও তথাকথিত সভ্যতার আস্তরণটি যদি যথেষ্ট পুরু না হয়ে থাকে, তার দোষ তো আমার বা তোমার নয়!

    মুখে কিছুই বলল না ও কুর্চিকে।

    আজ সকাল থেকেই ওয়াল্ট হুইটম্যানে পেয়েছে পৃথুকে। কাউকে কাউকে যেমন ভূতে পায়, পৃথুকে এক একদিন এক একজন কবিতে পেয়ে বসে। কবির ভূত-ছাড়ানো ওঝা কোথায় যে থাকে, কে জানে?

    “কাম ক্লোজার টু মী,

    পুশ ক্লোজ মাই লাভারস এন্ড টেক দ্যা বেস্ট আই পজেস

    ঈল্ড ক্লোজার এন্ড ক্লোজার এন্ড গিভ মী দ্যা বেস্ট উ্য পজেস।”

    কুর্চি সব খাবার, দুটি প্লেট, চামচ এবং জল নিয়ে এল এ ঘরে। বলল, আপনি এই টেবলের সামনে বসে খান, আমি টুলটা নিয়ে ওপাশে বসি।

    বাঃ। দারুণ রেঁধেছে কিন্তু বিগু পোলাউটা। অনেকদিন এমন মিষ্টি বাঙালি পোলাউ খাইনি। আমার মা বড়ই ভাল রাঁধতেন এই পোলাউ। খাসির রেজালাটাও খুব ভাল করেছে, তাই না? ছেলেটার রান্নার হাত ভাল। যা করে; ভালবেসে করে।

    পোলাউটা আমিই ওকে দেখিয়ে দিয়েছিলাম। ওর মুসলমান মালিকের কাছে থেকে এই পোলাউ রাঁধতে ও জানবে কী করে? আমার ব্যবসাটা ধরে যাক। দেখবেন, আপনাকে এত ভাল ভাল পদ রেঁধে খাওয়াবে যে মোটা করে দেবে।

    মোটা কাউকেই করতে হবে না। আমার বাবা মা দুজনেই মোটা ছিলেন। চল্লিশে পা দিলেই দেখবে জল খেলেই মোটা হয়ে যাচ্ছি।

    কেউ কেউ যেমন হাতি খেয়েও রোগা থাকে। কনস্টিট্যুশান বলে কথা।

    পৃথু যখন খেতে খুবই ব্যস্ত, কুর্চি বলল, এখন আমি ফিবে যাব কী করে আপনার সঙ্গে। ভারী লজ্জা করবে আমার। ঠুঠাদার কাছে তো বটেই, বিগুর কাছেও। রাগ দেখিয়ে চলে এলাম।

    যাওয়ার দরকার কী? তুমি গেলে তো ঠুঠারও এখানে এসে বাড়ি পাহারা দিতে হবে। তার চেয়ে আমিই এখানে থাকব আজ তোমার সঙ্গে।

    এত ঘন ঘন একসঙ্গে বোধ হয় না থাকাই ভাল।

    কুর্চি বলল। মুখ নামিয়ে।

    কেন?

    কেন, তা আপনি জানেন না?

    কথা ঘুরিয়ে পৃথু বলল, তুমি কিচ্ছু খাচ্ছ না, শুধু কথাই বলছ। ভাল করে খাও।

    আমি কমই খাই।

    তাইই তো নিজেকে এমন সুন্দর রেখেছ।

    লাভ কী হল? আপনার চোখে তো আমি চিরদিনই সুন্দর। এসব ঢঙের কথা তখন কোথায় ছিল? ভাঁটুকে তো শখ করে বিয়ে করিনি।

    ওসব কথা থাক।

    পৃথু ভাবছিল, কুর্চি ঘন ঘন থাকার কথা ঠিকই বলেছে। ও তার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ভাবছে। যাকে ভালবাসা যায়, তাকে দূরে রাখাই ভাল। তার সঙ্গে অনেকদিন পর পর দেখা হওয়া ভাল। মনোমালিন্যটা আপাতত মিটে গেল বটে কিন্তু পৃথুর মন বলছে আর কিছুদিন কুর্চির সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠতা চললে সত্যি সত্যিই তার কুর্চি আর কুর্চি থাকবে না। অন্য একজন রুষা হয়ে যাবে। বড় বেশি কাছাকাছি এলে, থাকলে, কোনও মেয়েকেই ভালবাসা যায় না আর।

    রুষাকে যে দেখত সেইই তার প্রেমে পড়ত, প্রেম ছিল না শুধু পৃথুরই, যে মানুষটি তার সঙ্গে ঘর করত। প্রেমও বোধহয় এক ধরনের খেলা। এই খেলা লং-পাস-এ খেলতে হয়। কাছাকাছি এলেই ফাউল হবার সম্ভাবনা।

    ইদুরকার আর রুষার সম্পর্ক এখন কেমন হয়েছে কে জানে? লং-পাস-এ না খেললে ফ্রি-কিক-এ গোল খাবে ইদুর। আশ্চর্য! পৃথুর যে একটা অতীত জীবন ছিল সে কথা আজকাল প্রায় মনেই পড়ে না। কোনদিন যে সেই জীবনেরই মতো তার ডান পাটাও নিটোল, আস্ত ছিল, সে কথাও যেন মনে পড়ে না। আসলে, সব বিচ্ছেদই বোধহয় সময়ে সয়ে যায়। মানুষের মতো অ্যাডাপ্টেবিলিটির ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনও প্রাণীই বোধহয় পৃথিবীতে নেই। একমাত্র তেলাপোকা ছাড়া।

    কী ভাবছেন? খেতে খেতেও এত কী ভাবেন? বেশি যারা ভাবে, তারা জীবনকে উপভোগ করতে পারে না। আপনার এই অদ্ভুত স্বভাবই আপনার সব দুঃখের মূলে।

    হয়তো!

    হয়তো নয়, তাইই। মুহূর্তে মুহূর্তে নিজেকে এমন কনট্রাডিক্ট করতে আমি কোনও মানুষকেই দেখিনি।

    পৃথু হেসে বলল, তুমিই তো বলছিলে না সকালে ইনকনসিসটেন্সী ভাইসও বটে; ভার্চুও বটে।

    ইনকনসিসটেন্সী অনেকই নরম কথা। আপনি সেল্ফ-কনট্রাডিক্টরী।

    হয়তো! আমারও তাইই মনে হয়।

    আপনার মতো পাগলের সঙ্গে ওয়েভ-লেংথ-এর মিল খুব কম লোকেরই হওয়া সম্ভব।

    অন্যদের আমার দরকার কি? তোমার সঙ্গে মিললেই হল। তোমার ওয়েভ-লেংথ-এর হদিসটা যদি দাও তাহলে মনের নব ঘুরিয়ে মিলিয়ে নেব এখন তোমার স্টেশনের সঙ্গে।

    হাসল কুর্চি।

    বলল, কথায় পারব না আপনার সঙ্গে। এখন খান।

    পৃথু মনে মনে আবৃত্তি করল। খাওয়া থামিয়ে হুইটম্যানই:

    “ডু আই কনট্রাডিক্ট মাইসেল্ক?

    ভেরী ওয়েল দেন… আই কনট্রাডিক্ট মাইসেল্ফ,

    আই অ্যাম লার্জ…আই কনটেইন মালটিচ্যুডস।”

    একটা হাড়ের মধ্যের সুরুয়া সুড়ৎ করে চুষে হাড়টি সাইড প্লেটে রেখে পৃথু নিঃশব্দে বলল: আই রিয়্যালী ডু।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }