Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬৯. ভুচু একটা অ্যাম্বাসাডর গাড়ির নীচে

    ৬৯

    ভুচু একটা অ্যাম্বাসাডর গাড়ির নীচে ত্রিপল পেতে শুয়ে, ডিফারেন্সিয়ালের ক্র্যাক দেখছিল। দু ফোঁটা ডিফারেন্সিয়াল অয়েল পড়ল কপালে। বিরক্তিসূচক শব্দ করল ও একটা।

    আজকাল নিজে এসব কাজ বিশেষ করে না। তবে গাড়িটা উধম সিং সাহেবের। হাটচান্দ্রা শেল্যাক কোম্পানিই তার প্রথম খদ্দের ছিল। ধীরে ধীরে হাটচান্দ্রা জায়গাটা যত বড় হয়ে উঠেছে এই কোম্পানির যত বাড়বাড়ন্ত হয়েছে ভুচুর কারখানাও তত বড় হয়েছে।

    ত্রিপলটার উপরে আরও একটু নেমে শুলো ও। বাঁ হাতের তেলো দিয়ে ডিফারেন্সিয়ালের তেলটা মুছল কপাল থেকে। ওর বাঁ দিকে একটা কমলা-রঙা ছায়া পড়ল হঠাৎ। অথবা, কে জানে কেন, রোদের রঙ হঠাৎই হালকা কমলা হয়ে গেল।

    ভুচু ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, একজোড়া কোলাপুরি চটির উপর সুন্দর গড়নের ফর্সা একজোড়া মেয়েলি পা। পায়ের পাতাদুটি ঘিরে হাল্কা সবুজ জরির পাড়ে মোড়া কমলা রঙা ইড়িকালি শাড়ি। মধ্যে অতি-হাল্কা সবুজরঙা চেক। প্রিয়া তেণ্ডুলকার ঠিক এই রকম একটি শাড়ি পরে এসেছিলেন এখানে। গিরিশদার বম্বেবাসী এক বন্ধুপত্নী ছিলেন এখানে তখন। উনিই নামটি বলেছিলেন শাড়ির। মারাঠি শাড়ি।

    পা দেখেই পায়ের মালিককে চিনল ভুচু। এমন পা রোজ পড়ে না এই কারখানায়। হুদা কী যেন বলল একটা। ওর কথা শেষ হবার আগেই হড়বড়িয়ে উঠতে গেল ভুচু। মাথাটা ঢুকে গেল ডিফারেন্সিয়ালের সঙ্গে। ততক্ষণে হুদাও উবু হয়ে বসে গাড়ির নীচে মুখ বাড়িয়েছে। ভুচুকে খবরটা দেওয়ার জন্যে। ভুচুর মাথাও ঠুকে গেল বলে একটু অবাক হল হুদা। উস্তাদকে অনেকদিন ধরেই দেখছে গাড়ির নীচে কাজ করতে। মাথা ঠুকে যেতে পারে কখনও যে ওস্তাদের তা ওর জানা ছিল না।

    বাইরে বেরিয়েই কপালে হাত দিল ভুচু।

    কী হল?

    রুষা বলল।

    নাঃ। ও কিছু না।

    কিছু না কি ওস্তাদ? কেটে গেছে যে! ডেটল লাগাও। এই, রামু, দৌড়ে যা।

    ভুচু বলল, কপালেরই দোষ।

    রুষা হাসল। সে কথা শুনে।

    রুষাকে নিয়ে ওর ঘরে এল। চেয়ারটা ঝেড়ে দিল ঝাড়ন দিয়ে। লজ্জিত গলায় বলল, যা ধুলো! ভদ্রলোকদের এখানে বসানো যায় না। পাখাটাকে ‘অন’ করে খুলে দিল। ততক্ষণে রামু ডেটলে তুলো-ভিজিয়ে নিয়ে এসেছে। ডেটল লাগানোর পর ব্যান্ড-এইডও লাগাল। ঘরের ড্রয়ারেই ছিল।

    ভুচু বোকাবোকা ভাবে কিছু বলতে হয় তাইই বলল, পৃথুদা অন্যরকম ছিল তো। মানে, আমি তাঁকে ‘ভদ্রলোক’দের মধ্যে ধরতাম না। উনিও আমাকে ‘ছোটলোক’ ভাবতেন না।

    হ্যাঁ। উনি মহৎ লোক ছিলেন।

    রুষা বলল, মুখ নামিয়ে।

    ভুচু বুঝল না, ‘মহৎ’ কথাটা ঠাট্টার, না সত্যিই প্রশস্তির।

    রুষার মুখের দিকে তাকাল, চোখ দুটি খুঁজল, কিন্তু চোখ নামিয়ে বসেছিল রুষা। চোখ-ছাড়া মুখের মানে বোঝা যায় না, মানে হয়ও না হয়তো কোনও।

    চুপ করে রইল ভুচু।

    কালও সারা রাত ঘুমোতে পারেনি ভুচু। ছটফট করেছে বিছানায়। একবার বারান্দার চৌপাইতে এসে শুয়েছে আবার ঘরে গেছে। সারা শরীরে জ্বালা। দু বার চান করেছে রাতে। সন্ধেবেলা চান করা সত্ত্বেও। তবুও ঘুম হয়নি। শেষ রাতেই যা ঘুমিয়েছিল একটু। ভোর ছটার পর কারখানায় ঘুমোনো যায় না। দু শিফটে কাজ হয়। ছটা থেকে বারোটা, বারোটা থেকে ছটা। সকাল নটা আর বিকেল তিনটেয় চায়ের জন্যে পনেরো মিনিট কাজ বন্ধ থাকে শুধু।

    সারা রাত গা-জ্বালা করেছে। ছটফট করেছে শুধু রুষারই মুখ ভেবে। চোখে ভেসেছে তারই হাসি। গলার স্বর কানে বেজেছে। রুষাময় যে রাত, তা পোয়ানোর পর রুষা নিজে এসে সামনে বসাতে কিন্তু তার জ্বালা নেই কোনওরকম। প্রলেপ লেগেছে ভাললাগার সব জ্বালারই উপরে।

    রুষা বলল, কাল রাতে ভাল ঘুম হয়নি। হয়ইনি বলতে গেলে।

    চমকে উঠল ভুচু। বলল, কার?

    আমার।

    রুষা বলল।

    ওঃ। বলেই, কথা ঘুরিয়ে বলল, কী খাবেন বৌদি? নাস্তা করে এসেছেন?

    হ্যাঁ হ্যাঁ। কিছু খাব না। ব্রেকফাস্ট করেই তো এলাম।

    তা কি হয়? কিচ্ছু খান। চা অথবা কফি অন্তত। আমি করে দিচ্ছি এক মিনিটে। অতিথি কিছুই না খেলে গৃহস্থর অকল্যাণ হয়।

    রুষা হেসে বলল, গৃহস্থই বটে! তারপর একদৃষ্টে ভুচুর চোখের দিকে চেয়ে বলল, তোমার কী ধারণা, আমি তোমার এখানে খেতেই আসি?

    অপ্রস্তুত হয়ে গেল ভুচু। বলল, কী যে বলেন! না, না, সে কি, আমি…আপনি তো কাজেই আসেন। বলুন, আর কী করতে পারি আপনার জন্যে।

    তাইই ভাবছি। কী আর করতে পার! পুরনো বাড়িতে এনে আবার নতুন করে তোমরাই বসালে। ভাগ্যিস ফার্নিচারটার কিছুই নিয়ে যাইনি। মনে মনে আমার একটা প্রিমনিশান ছিলই, জানো …

    তাহলে, গেছিলেন কেন?

    তাইই তো ভাবি। তোমরা তো শিকার করতে। এখনও হয়তো কর লুকিয়ে-চুরিয়ে। ভাল জানবে তোমরা আমার চেয়ে। কোনও কোনও হরিণী কি দ্যাখোনি? যারা জঙ্গলের গভীরের নিশ্চিন্ত-নিরাপদ অন্ধকার ছেড়ে শীতের সকালের রোদ-পড়া খোলা মাঠে ঘাস খেতে আসেই, শিকারির গুলি খেতে পারে যে তা জেনেও?

    দেখেছি।

    মুখ নামিয়ে ভুচু বলল।

    আমিও সেরকমই। গুলি লাগাতে পারে তা জানতাম। তবে, লাগবেই যে, তা জানতাম না। অনেক হরিণীই তো বেরিয়ে আসে খোলা-মাঠে। সকলেই কি মরে? বলো ভুচু? অনেকে তো নিরাপদে ফিরেও যায়।

    ভুচু একটা সিগারেট ধরাল লাইটার জ্বেলে। বলল, কফি খান বৌদি।

    বলেই, উঠল।

    রুষা বলল, আমাকে তুমি বৌদি বোলো না।

    বলব না? কেন? তবে কী বলব? বৌদিই তো বলতাম!

    আমার একটা নাম তো আছে। তোমার এক-সময়ের দাদার সঙ্গে যখন আমার আর সম্পর্ক নেই কোনও, তখন এই মিথ্যে সম্পর্কের বোঝা তুমি অথবা আমি বইবই বা কেন? তুমি আমাকে রুষা বলেই ডেকো। যা আমার নাম।

    বেশ! ভুচু বলল।

    কিচেনে গিয়ে গ্যাসটা জ্বালতে গিয়েই ভুচুর আঙুল পুড়ে গেল। এও জীবনে প্রথম। জীবনে “প্রথম” অনেক কিছুই ঘটছে আজ। সকাল থেকে। গ্যাসের নীলচে-কমলা আগুনের শিখার দিকে চেয়ে কেটলিতে জল ভরে বসাতে বসাতে ও ভাবছিল বৌদি, থুড়ি রুষা জানে না যে, রোদপড়া বিপজ্জনক কিন্তু বড় লোভনীয় খোলা মাঠে শুধু হরিণীরাই নয়, কিছু শিঙা হরিণও আসে জীবনের স্বাদু ঘাস খুঁটে খেতে। এবং কাছাকাছি শিকারি থাকলে তার বুকেই গুলি লাগে সবচেয়ে আগে। ভাল শিকারি “হরিণীকে” গুলি করেন না। মারা বারণ। আইনের বারণ; বিবেকেরও।

    দু-কাপ কফি ও কুচো-নিমকি নিয়ে ও ঘরে এল। দেখল, রুষা ঘুরে ঘুরে তার ঘর দেখছে। দেওয়ালের ছবি, বেড-কভার, চেয়ার-কুশান ফায়ার-প্লেসের ম্যান্টেলের উপর রাখা টুকিটাকি। ওর শিশুকালের একটি দাঁত-ফোকলা ফোটো। মা বাবার বিয়ের ছবি। কালো হয়ে গেছে। স্মৃতির প্রায় সবই কালো হয়ে হারিয়েই গেছে ভুচুর, বিশেষ করে শৈশবের সুখস্মৃতি। এ ফোটো কটি যে কী করে এত ঝড়ের মধ্যে বেঁচে গেল, তা ভাবলেও অবাক লাগে।

    বাঃ। এই ভদ্রলোক কে? কী সৌম্যশান্ত চেহারা। মনে হয় কোনও মিশনারী!

    উনি আমার বাবা।

    বাঃ! মুগ্ধ চোখে চেয়ে বলল, রুষা। তারপর চেয়ারে বসে, পাশের টেবল-ক্লথ মোড়া তেপায়া থেকে উজ্জ্বল হলুদ রঙা-পোর্সিলিনের কফির মাগ তুলে নিয়ে বলল, তোমার রুচি কিন্তু ভারী সুন্দর। সত্যি বলতে কি তোমার মতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, টাইডী হ্যাবিট্‌স-এর এমন গোছানো স্বভাবের পুরুষ-মানুষ আমি দেখিনি আগে। অথচ তুমি ধুলো ময়লার মধ্যেই থাকো।

    লজ্জা পেল ভুচু। বলল, গোছানো ওই বাইরেটাই। ভিতরে নয়।

    ভিতরে মানে?

    চোখ তুলে বলল, রুষা।

    মানে, মনের কথা বলছি। সব এলোমেলো হয়ে আছে।

    ও!

    বলেই, চোখ নামিয়ে নিল রুষা।

    কেমন হয়েছে? কুচো নিমকিগুলো?

    ভুচু জিজ্ঞেস করল।

    ও। বলতে যাচ্ছিলাম। দারুণ হয়েছে। রেসিপি কী?

    হাসল ভুচু। হাঃ! কুচো নিমকির আবার রেসিপি! তবে, একটু বেশি ময়ান দিয়ে মাখতে হয় ময়দাটা। মধ্যে কালো জিরে, সামান্য শুকনো লংকার গুঁড়ো, কারিপাতা আর ধনেপাতা কুচিয়ে দিই। যখন মাখি। খাই তো একাই। অল্পই বানাই, শনিবার রাতে। সারা সপ্তাহ চলে যায়।

    তাইই? বলে হাসল রুষা। বলল, তোমার মতো স্বনির্ভর পুরুষ বড় একটা দেখা যায় না। কোনও মেয়েই কখনও কষ্ট দিতে পারবে না তোমাকে। অন্য ভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, তোমার যে স্ত্রী হবে, সে খুব সুখী হবে।

    ভুচু বলল, মোটর মেকানিকের আবার বিয়ে!

    কেন? নয় কেন?

    বোকার মত ভুচু বলল, নয়। এইই…

    আচ্ছা। খাওয়া-দাওয়া তো হল। এখন বলি যে জন্যে আসা। দুটি কথাই বলতে এসেছি। আমি। ইন্‌ ফ্যাক্ট্‌, একটি জিজ্ঞেস করতে; অন্যটি বলতে।

    বলুন।

    ভুচু বলল দু হাতে কফির মাগটি বুকের কাছে তুলে ধরে।

    ভিনোদ ইদুরকার কোথায়? কি করেছ তোমরা ওকে নিয়ে?

    ভুচুর ভিতরটা ছটফট করে উঠল। মিথ্যা কথা বলতে গেলেই ভীষণ কষ্ট হয় ওর। ঘাড়ের কাছে ব্যথা করতে থাকে। মনে হয়, দম বন্ধ হয়ে যাবে। তবু, মাথা যতখানি নাড়া প্রয়োজন তার চেয়ে অনেকই বেশি এবং অনেক জোরে নেড়ে বলল, জানি না।

    জাননা না?

    রুষা স্থির চোখে চেয়েছিল ভুচুর দিকে।

    ভুচু আবারও মাথা নাড়ল। এবার আরও জোরে।

    কফি-মাগটা তেপায়াতে নামিয়ে রেখে রুষা বলল, ঠিক আছে। এ নিয়ে এখন আর কোনও প্রশ্ন করব না। শুধু এইটুকু বলো যে, ইদুরকারের কাছ থেকে আমার বা মিলির কোনও বিপদের আশংকা কি কখনও আছে?

    প্রয়োজনের চেয়ে আবারও অনেক বেশি জোরে মাথা নেড়ে ভুচু বলল, না, না।

    আর তোমার? কোনও বিপদের আশংকা কি আছে তোমার ওর কাছ থেকে? ওর লোকজনের কথা আমি বলছি না ভুচু, ওর নিজের কাছ থেকে বিপদ আছে কি না তাইই জানতে চাইছি।

    না, না। কিছুই নেই। এবারে আরও জোরে মাথা নাড়ল ভুচু।

    রুষা একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। খুব দুঃখিত দেখাল ওকে এক মুহূর্ত। পরক্ষণেই মুখে স্বাভাবিক প্রশান্তি ফিরে এল। ভুচুর চোখে চোখ রেখে রুষা বলল, আমার প্রশ্নর উত্তর আমি পেয়ে গেছি। এতটার দরকার ছিল কি? পৃথুরই মতো সব কিছুই বাড়াবাড়ি করো তোমরা। এখন তোমার জন্যেও সব সময় দুশ্চিন্তা থাকবে ভুচু। খারাপ মানুষদের অনেকগুলো জীবন। তারা মরলেও পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় না। সুযোগ খোঁজে তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা।

    আমার জন্যে ভাববেন না। ঠিক আছি আমি। আপনি কি দুঃখিত বৌদি?

    নই। আবার হ্যাঁও। অনেকদিনেরই পরিচয়। এতটা না করলেও পারতে তোমরা। আমি বুঝিনি যে তোমরা…

    উপায় ছিল না। আপনাদের বিপদ আরও বাড়ত।

    আমার বিপদ বেড়েইছে। কমেনি।

    কী বিপদ?

    মিলিকে নিয়ে।

    কী করেছে মিলি?

    হয় যা এই বয়সে, সিনেমা স্টার, সাহিত্যিক, খেলোয়াড়দের সঙ্গে মনে মনে প্রেমে পড়ে মেয়েরা। মেন্টালী ডিসঅ্যারেড্‌ হয়ে যায়। হিস্টিরীক্‌। সেই রকমই। হাইট অফ ইনফ্যাচুয়েশন্। জানি না, শারীরিক কোনও ইনভলমেন্ট ছিল কি না। এখনও জানি না। মেয়ে তো মুখ বুজে আছে। তুমি তো জানো ভুচু যে, পৃথুর ফ্যামিলিতে পাগলামি ছিল। আমি খুবই ভয় পেয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করো। তোমার পৃথুদাকে লেখো। শুনলে আমাকে মেরে ফেলবে সে।

    অন্য কাউকেই মারবার লোক পৃথুদা নয়। ডাকু মগনলালের বেলায় একসেপশান হয়েছিল। তাও তো নিজের জন্যে মারেনি। মারলে, একদিন নিজেকেই মারবে। তাকে আমি চিনি। আপনার কোনওই ভয় নেই। তবে, মিলির জন্যে সত্যিই চিন্তার কারণ আছে। দেখি, গিরিশদার সঙ্গে পরামর্শ করে যা করার করছি। তাছাড়া, পৃথুদা তো আগামী সপ্তাহে আসছেই। বলেছে, জানাবে কবে আসবে। নেক্সট রবিবারের মধ্যে আসছে। টুসুকে নিয়ে। টুসুর স্কুল কামাই হবে তা উনি চান না। এখন তো অসুবিধেও নেই।

    কার অসুবিধে?

    অন্যমনস্কর মতো বলল রুষা।

    না, মানে পুরনো বাড়িতে তো এসেই গেছেন আপনারা!

    হ্যাঁ।

    অন্য কী বলবেন? কথাটা বললেন না?

    ও হ্যাঁ। আমি তোমার এই কারখানায় আসি, সেটা ভাল দেখায় না। অবশ্য লোকভয়ের আমার আর কীইই বা আছে। কিন্তু আমি চাই তুমিই দিনে কম করে একবার আমার কাছে আসো। বেশিবার আসলেও আমার আপত্তি নেই। জানো ভুচু, ইদুরকারের বাড়ি ছেড়ে পরশু সকালে যখন চলে এলাম, ভেবেছিলাম একা একা পুরুষহীন হয়ে দিব্যি বেঁচে থাকা যাবে। উইওমন্‌স্ লিব্‌-এর চূড়ান্ত করব। কি জানি, হয়তো বম্বে ব্যাঙ্গালোর দিল্লি কলকাতায় হলেও হতে পারে, তবুও এই দেশে এই রকম জায়গায় এখনও মেয়েদের জীবনে অনেকই সমস্যা, কোনও পুরুষের সাহচর্য ছাড়া বাঁচা ভারী মুশকিল। হয়তো মিলিদের জেনারেশান পারবে। তখন অবস্থা অন্য রকম হবে।

    একটু চুপ করে থেকেই রুষা বলল, তা বলে ভেবে বোসো না আবার যে তোমাকে অন্য কিছু বলছি। জাস্ট সাহচর্য।

    বলেই উঠল। বলল, চলি।

    এসেছেন কিসে?

    রিকশায়।

    যাবেন?

    রিকশায়।

    এখানে তো রিকশা পাবেন না। ছেড়ে দিয়েছেন?

    হ্যাঁ মোড়ে গেলেই পাব।

    কেন? আপনাকে হুদা ছেড়ে দিয়ে আসবে।

    হুদা ফুদা জানি না, তুমি নিজে দেবে তো চল, নইলে রিকশাতেই যাব।

    বোঝে না, এই মেয়েদের কিছুমাত্রও বোঝে না ভুচু। পামেলাকেও বোঝেনি।

    জীপটা বাড়ির সামনে আসতেই রুষা বলল, বিকেলে এসো। গিরিশদাকে বলার আগে তোমার দাদাকে বলো। শ্রীরামচন্দ্রর লক্ষ্মণ ভাই তুমি। ব্যাপারটা তাকে জানানো দরকার।

    ঠিক আছে। ভুচু বলল।

    রুষা পোর্টিকোতে দাঁড়িয়ে সুন্দর সোনালি হাত তুলে হাত নাড়ল। ডান হাতে রিস্টওয়াচ বাঁ হাতে একটি মুক্তোর বালা। সৌন্দর্যর প্রতিমূর্তি যেন! হিন্দুদের সরস্বতী প্রতিমার মতো, নিরাভরণ কিন্তু মর্যাদায় মোড়া। এই মেয়ের সঙ্গেও ঘর করতে পারল না পৃথুদা! মানুষটা সত্যিই একটা অজীব আদমী। অনেকে বলে না! ঠিকই বলে।

    জোরে গরম হাওয়া লাগছিল গায়ে। চোখে মুখে। জীপ চালাতে চালাতে ভুচু ভাবছিল, সৌন্দর্যর কোনও বিকল্প নেই। সৌন্দর্য শুধু তার নিজের জোরেই পৃথিবীর সব পাওয়া পাবার দাবি রাখে।

    পানের দোকানে জীপটা রাখল। ছোঁড়াটা এনে দেবে পান, জর্দা, সব। জানে দোকানি। স্টিয়ারিং-এর উপর হাত, হাতের উপর থুতনি রেখে ভুচু ভাবছিল, কেন লেখাপড়া শেখার সুযোগ পেল না ও জীবনে? জুতো পালিশ করেই কেন শৈশব কাটাতে হল? ও-ও যদি অন্য দশজন ভদ্রলোকের মতো রেসপেক্টেবেল হত তবে তো আজ তার বুকে এত কষ্ট হতো না। রুষার মতো কোনও মেয়ে, বাস্তবে ভুচুর মত মোটর মেকানিকের স্বপ্নেই থাকে শুধু। সে যদি বহুভোগ্যা এবং পরিত্যক্তাও হয়। একটা ক্লাস-এর ব্যাপার তবুও থাকেই। এই “ক্লাসলেস সোসাইটির” দেশেও। রোজগারভিত্তিক ক্লাস এ নয়, মানসিক স্তরের বেড়ে ওঠার, শিক্ষার ক্লাস। ভেতরে ভেতরে কেউ অন্য ক্লাসের হয়ে উঠলেও বাইরের ছাপ আর তকমা না থাকলে তার দাম দেয় না কেউই। ভুচু শত চেষ্টাতেও পৃথু বা ভিনোদ হয়ে উঠতে পারবে না। সমস্ত শিক্ষিত ভদ্রলোক এবং মহিলারাই এই কমপ্লেক্সে ভোগেন। পৃথু ঘোষই ছিল একমাত্র ব্যতিক্রম। মানুষটার কাছে সব মানুষের সমান দাম ছিল। উধাম সিং আর ভুচু আর দিগা বা হুদার মধ্যে কখনও কোনও ভেদ করেনি সে। রুষা ইচ্ছে করলেও কি পৃথুর মতো হতে পারবে কখনও? মনে হয় না।

    পানটা মুখে পুরে প্রথম পিকটা ফেলে দিয়েই রুষার প্রতি ঘেন্নায় গা গুলিয়ে উঠল ওর। ভুচু কি রুষার চাকর, না পৃথুদার চাকর? কেন সে সেবা করতে যাবে তাদের এমন করে? পৃথুদার চামচেগিরিতে জীবনের অনেকখানিই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ইনি এলেন হুরী-পরী। এটা করো সেটা করো। মারো গোলি! যাবে না ও আজ বিকেলে। ভারী বয়েই গেছে ভুচুর! অনেকই দেরী হয়ে গেছে। নিজের কথা ভাবার সময় হয়েছে এবারে।

    দিসাওয়াল সাহেবের সঙ্গে পেঞ্চ পার্কে গেছে টুসু। দিসাওয়াল সাহেবের কাজ আছে। পরিহার সাহেবের সঙ্গে গতকাল সকাল থেকেই জ্বর হয়েছে পৃথুর। মনটাও একেবারেই ভাল নেই। মাঝে মাঝেই এমন হয়। দু তিন মাস পর পর। এক একটা স্পেল দিনসাতেক থাকে যখন বড়ই মন-মরা লাগে। কেবলই মনে হয় আত্মহত্যা করে। সেই সময় হাতের কাছে পিস্তলটাকে রাখতে চায় না। ভাবে, কারও কাছে জিম্মা দিয়ে আসে। কালই ভেবেছিল, দিসাওয়াল সাহেবকে দেবে। হয়নি দেওয়া। পিস্তলের খাঁজকাটা বাঁটটা আর নীলচে-কালো মসৃণ ছোট্ট নলটা এই রকম সময় ওর মুখে যেন চেয়ে থাকে। বড় ভালবাসতে ইচ্ছে করে সেটাকে। টুসুদের ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যাবে। দিসাওয়াল সাহেব তাঁর একার সংসারের বাক্স-পাঁটরা ঘেঁটে একটি ফিল্ড গ্লাস বের করে দিয়েছেন। ডিসপোজাল থেকে কিনেছিলেন জব্বলপুর থেকে। লেন্সে বোধহয় ফাঙ্গাস পড়ে গেছে। মুছেটুছে আহ্লাদে ডগমগ হয়েছে টুসু। পাখি দেখবে জঙ্গলে।

    পৃথু শুয়েছিল। সুঠা বাইগা পাশে, মাটিতে বসে মাথার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছিল। একটু আগে ওডিকোলন ভিজিয়ে মাথায় পটিও দিয়েছিল। অসুখ-বিসুখ হয় না পৃথুর। কিন্তু হলে আটানব্বই জ্বরেও বড় কাবু করে। রুষা হাসত ওকে নিয়ে। বলত, আতুকী! বড়লোকের লালু ছেলে!

    বাইরে দাঁড়কাক ডাকছিল। ক্যাকটাইগুলো অর্কিডস আর প্লান্টসগুলোকে বাঁচানোই এখন মুশকিল। মে এবং জুন মাসের তিন সপ্তাহ ওদের যত্ন লাগবে খুবই। কখনও কখনও জুনের শেষ অবধিও লাগে। বৃষ্টি না আসা অবধি। যদিও সীওনী অনেকই উঁচুতে, তবু এই দুটো মাস ওদের না দেখলে চলে না। রোদ পড়ে ঝকঝক করছে বারান্দাটা ফুলে আর পাতায় আর অর্কিডে আর ক্যাকটাইতে। দাঁড়কাক ডাকছে। কয়েকবার ডেকে উড়ে গেল। মৌটুসকি পাখি এসেছে। কিসকিস করে ডাকছে।

    গেটটা খোলার শব্দ হল। আবার বন্ধ করার।

    কে এল? পৃথু বলল।

    কৌন জানতা? উদাসীন গলায় বলল ঠুঠা। পৃথিবীর সব কিছু সম্বন্ধেই ঔৎসুক্য চলে গেছে। মানুষটার। এই রকমভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে ও জঙ্গলে মরে গেলেই ছিল ভাল। সকলকেই যে বেশিদিন বেঁচে থাকতেই হবে তার মানেই বা কী আছে? দেওয়ার কিছু না থাকলে চলে যাওয়াই ভাল। পৃথুও সেই কথাটাই ভাবছে সকাল থেকে। এই রকম মন খারাপ যখন হয় তখন একা একা ভাবতে ভাবতে ওর দু চোখ জলে ভরে আসে। কত কীই যে মনে পড়ে তখন। বাবার কথা, মায়ের কথা, ছেলেবেলার কথা, রুষার সঙ্গে বিয়ের দিনের কথা, বিয়ের পর হাটচান্দ্রা চলে আসার আগে কুর্চির সঙ্গে শেষ দেখা হওয়ার দিনের কথা। কে জানে, কেন এমন হয়? ভাবে আর চোখ ভেসে যায় জলে। অথচ কাউকে কিছু বলতে বা বোঝাতেও পারে না।

    কুন্তী এসেছে। ঠুঠা বলল।

    কুন্তীকে দেখেই সে কেমন ছটফট করে উঠল। পৃথুর মাথায় রাখা তার হাতেও সেই চঞ্চলতার ছোঁয়া লাগল। কুন্তী কিন্তু ধীর স্থির, ঠুঠার দিকে তাকাল বটে একবার, কিন্তু সে যে ঘরে আছে তা যেন সে দেখেও দেখল না। পৃথুকে বলল, দিদিনে খাত্‌ ভেজিন।

    তারপর চিঠিটা দিয়ে ঠুঠাকেই বলল, জ্বর কত?

    আছে।

    তুমি ভাল আছ?

    ঠুঠা কুন্তীর এই প্রশ্নে একেবারে হকচকিয়ে গেল।

    থতমত হয়ে বলল, আছি। ভালই।

    তুমি?

    আমি ভালই থাকি। সব সময়।

    পৃথু চিঠিটা পড়ল। “পৃথুদা আমি সাবুর খিচুড়ি রেঁধে নিয়ে যাচ্ছি। সারা দুপুর থাকব। অত্যাচার করবেন না শরীরের উপরে। আমি খেয়েই যাব। বিগুকে ঝামেলা করতে মানা করবেন।”

    —কুর্চি।

    কুন্তীকে বলল, ঠিক আছে।

    পৃথু ঠুঠাকে বলল, ঠুঠা খাওয়াও কুন্তীকে। বিগুর কাছে নিয়ে যাও। কী হলে তুমি!

    না সাহাব। অনেক কাজ আছে আমার।

    কাজ তো চিরদিনই থাকবে। কাজের মধ্যে মধ্যেই একটু আনন্দ করে নিতে হয়, নইলে কি আর করা যায়?

    কুন্তী হাসল। বাঁ হাত দিয়ে সুন্দর অথচ ত্রস্ত ভঙ্গিতে বুকের ও মাথার আঁচল টানল। তারপর চলে গেল ঠুঠার সঙ্গে।

    ঘোরের মধ্যে ঘুমিয়েই পড়েছিল পৃথু। হঠাৎ গেট খোলার শব্দে ঘুম ভাঙল। কুর্চি এল কি? না, কুন্তী গেল। এতক্ষণ কুন্তী কী গল্প করছিল ঠুঠার সঙ্গে কে জানে?

    রোদ বেশ চড়া হয়েছে। বাথরুমে গিয়ে মাথা ধুলো এবং গা স্পঞ্জ করল। দাড়ি কামায়নি কাল। ইচ্ছে করল না আজও। গা-স্পঞ্জ করতেই খুব দুর্বল লাগল। ফিরে এসেই শুলো পৃথু। আবার ও ঘুমিয়ে পড়ল।

    অনেকক্ষণ ঘুমোবার পর চোখ খুলেই দেখল কুর্চি পায়ের কাছে মোড়া পেতে বসে তার মুখের দিকে চেয়ে আছে। জানালার দিকে পৃথুর মাথা ছিল তাই জানালা দিয়ে এক আকাশ আলো এসে কুর্চির পবিত্র ঢলঢলে মুখটিতে পড়েছে।

    কী? খুব ঘুমিয়ে ওঠা হল! কখন থেকে বসে আছি পায়ের কাছে। কখন বাবুর ঘুম ভাঙবে।

    জাগাওনি কেন?

    মাথা খারাপ! রেগে যেতেন যদি। মুখের ভাব দেখে মনে হচ্ছিল “আমি স্বপনে রয়েছি ভোর, সখী আমারে জাগায়ো না”।

    পায়ে হাত রাখল চাদরের উপর দিয়ে কুর্চি। হাত বুলোল একটু।

    ওর নরম হাতের পাতার ছোঁয়াতে গা সিরসির করে উঠল। কুর্চি ওর শরীরের যে কোনও অংশে হাত ছোঁওয়ালেই বিদ্যুৎতরঙ্গ খেলে যায় সঙ্গে সঙ্গে। সে কি শরীরেরই গুণ? না মনের? কে জানে?

    খাবেন তো এবারে? দেখেছ! সাড়ে বারোটা বেজে গেল।

    জ্বরটা দেখবে না একবার?

    সকালে দেখেছিলেন?

    নাঃ। বেশি তো নয়। তবু মনে হচ্ছে সকালের দিকে বাড়ে, বিকেলের দিকে কমে আসে। আবারও রাতে বাড়ে।

    নিজের ডাক্তারী নিজে না করে ডাক্তার ডাকলেই তো হয়।

    একগাদা কড়া কড়া ওষুধ দেবে। অসুখে যত না কাবু হয়েছে শরীর, ওষুধে তার চেয়েও বেশি হবে। তাইই যতক্ষণ পারি, না ডাকার চেষ্টা করি।

    ভাল। থার্মোমিটার কোথায় আছে?

    ওহো! থার্মোমিটারই তো নেই। একা মানুষের সংসার। দেখেছ! ভুলেই গেছিলাম। তোমার বাড়ি থেকে আনতে পাঠাও না ঠুঠাকে।

    হাসল কুর্চি। আমারও আছে না কি? রায়নাতে ছিল। এখন আমারও তো একার সংসার।

    চোখ নামিয়ে স্বগতোক্তির মতো বলল ও, কোনওদিন দোকার সংসার হলে, তখনই দেখা যাবে।

    পৃথু উঠে বসতে বসতে বলল, ততদিন জ্বরটা না হওয়াই ভাল বলছ?

    হ্যাঁ।

    বলেই, হাসল কুর্চি।

    লাগবে না থার্মোমিটার। ডাক্তারও লাগবে না। তুমি এসেছ, সাবুর খিচুড়ি করে এনেছ নিজে হাতে, জ্বরের সাধ্য কি যে, সে আর থাকে! ভালবাসার চেয়ে বড় ওষুধ কি আর আছে? বলো?

    বলে, কুর্চির হাতটা নিজের হাতে তুলে নিল।

    আদরিণী বেড়ালনীর মত লজ্জায়, ভাললাগায় কুর্চি মুখ রাখল পৃথুর আস্ত পাটির উরুর উপর। পৃথু আদরে ওর পিঠে ডান হাতটি রাখল। কালো ব্লাউজ, হলুদ তাঁতের শাড়ি, চোখে কাজল, কপালে কালো টিপ। হালকা কোনও প্রসাধনের গন্ধ উড়ছে। চান করে এসেছে। পিঠময় চুল ছড়ানো ভিজে চুলের তেলের গন্ধও মিশে গেছে প্রসাধনের গন্ধর সঙ্গে। ওর গলায় একটি সরু সোনার হার। লকেটটা এক পাশে ঝুলে নেমে এসেছে পৃথুর হাঁটুর পাশে। বারান্দা থেকে চড়াই ডাকছে। টালির ছাদের ছায়া থেকে কামাতুর কবুতর।

    পৃথু মুখ নামিয়ে কুর্চির সিঁথিতে একটি আলতো চুমু খেল। গা সিরসির করে উঠল ওর। কুর্চিও ছটফট করে উঠল ভাললাগায়।

    মনটা ভীষণই খরাপ হয়ে গেল পৃথুর। কুর্চির সঙ্গে যদি একসঙ্গে ঘর করে, রোজ রাতে একই খাটে শোয় পাশাপাশি; তবে কি একদিন রুষার সঙ্গে সম্পর্কটা যেমন করে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে গিয়ে মরে গিছিল তেমনি করেই এ সম্পর্কও মরে যাবে? মরেই যদি যাবে; তবে নতুন করে তার জন্ম দেওয়া কেন? কে জানে? কী হবে? কোনও সম্পর্ক দারুণ ভাবে বেঁচে থাকে, কোনও সম্পর্ক মরে যায়। কোন্‌টা বাঁচবে আর কোনটা মরবে, সাদা জার্মান স্পিৎজ কুকুরের বাচ্চাদের মতো আগে থেকে তা বলা যায় না। যেটির যত্ন করা হল, সেটিই হয়তো মরে যায়, যাকে দেখাই হল না মোটেই, গাব্দা-গোব্দা হয়ে ওঠে।

    আপনাকে না, আর আপনি বলতে পারছি না। পৃথুদা!

    কুর্চি বলল, মুখটিকে পৃথুর উরুর উপরেই রেখে। তুমি বলব? এবার থেকে?

    আপনিই ভাল।

    উরু থেকে মুখ তুলে কুর্চি বলল, কেন? তুমি নয় কেন?

    মনে হয় এই ‘তুমি’ সম্পর্কর উষ্ণতার মধ্যেই দুজন মানুষের সব শীত লুকোনো থাকে। দুজনেই ভাবে আমি তো ওরই ও-ও আমার। এবং এটা ভাবলেই যতখানি না উচিত তার চেয়েও বেশি ইনফর্ম্যাল হয়ে যায় দুজনে। মানে, মেনি থিংগস আর টেকন ফর গ্রান্টেড। আর তখন থেকেই বোধহয় সম্পর্কটার নিজেরই নষ্ট হয়ে যাবার একটা প্রবণতা দেখা যায়। আপনিই রাখো আমাকে, তাতেই বেশি আপনার হয়ে থাকব তোমার, বেশিদিন। একটু দূরে থাকাই ভাল।

    যা আপনার ইচ্ছা!

    কুর্চির মুখে অভিমানের ছায়া ঘনিয়ে এল।

    একটা কথা বলব?

    কুর্চি বিছানা থেকে উঠে মোড়াতে বসে বলল।

    কী? বল!

    ঠুঠাদার কাছে শুনলাম যে, আপনি আগামী সপ্তাহে টুসুকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন হাটচান্দ্রাতে। রুষা বৌদি নাকি ফিরে এসেছেন?

    ঠিকই শুনেছ।

    ও। ঠিকই তাহলে?

    হ্যাঁ।

    এখানের চাকরি কি ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছেন?

    না ত! তেমন তো ভাবিনি।

    টুসুকে কি ওখানেই রেখে আসবেন, যদি ফিরে আসেন?

    ভাবছি। ওয়াইল্ড-লাইফ ফোটোগ্রাফারই হোক আর যাইই হোক, স্কুলের পড়াশুনো অন্তত শেষ না করতে পারলে জীবনে তো কোনও ওপেনিংই পাবে না। ও যে সময়ে বড় হয়ে উঠবে, সেই সময় অনেকই ভাল ভাল ছেলে এই দেশে ওয়াইল্ড লাইফ আর ওয়াইল্ড-লাইফ রিসার্চ নিয়ে মেতে উঠবে। একটা নতুন জেনারেশান এসে গেছে কুর্চি! ওদের উপর আমার অনেকই ভরসা। ওরা…

    তাহলে রেখেই আসবেন? ওকে?

    বললাম তো! ভাবছি।

    আপনি? নিজে কি ফিরে আসবেন?

    পৃথু তার দু চোখের দৃষ্টি দিয়ে কুর্চির দুটি চোখের একটুও বাকি না রেখে ভরে দিয়ে বলল, তাও ভাবছি।

    কুর্চি বলল, ও।

    আর কিছুই না বলে মুখ নামিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, খাবেন তো এখন? যাই। বিগুকে ওগুলো গরম-টরম করতে বলি। খাওয়ার ঘরে যাবেন? না এখানেই নিয়ে আসব, ট্রলি করে?

    এখানে আনলেই ভাল হয়। গায়ে হাতে পায়ে অসম্ভব ব্যথা। তুমি কেন কষ্ট করবে এত! বিগুকে বলো না!

    কুর্চি উত্তর না দিয়েই চলে যেতে গিয়েও দরজার কাছে থেমে দাঁড়িয়ে মুখ ঘুরিয়ে একটু হাসল। বলল, সম্পর্ক “তুমি”তে নামিয়ে আনতে এত আপত্তি কেন এখন বুঝছি তা।

    দারুণ দেখাচ্ছিল কুর্চিকে। ওর মরালি গ্রীবায় ঋজু হয়ে দাঁড়াবার ভঙ্গিতে ঠোঁটের কোণের দুর্জ্ঞেয় হাসিতে। একটা ক্যামেরা থাকলে কুর্চির এই প্রোফাইল ধরে রাখত ও। যে নারীর হাসির মানে বোঝা যায়, সে হাসি তো সস্তা, তার মধ্যে কোনও রহস্য নেই। সস্তা কোনও কিছুর প্রতিই কোনও আকর্ষণ ছিল না পৃথুর।

    পৃথু অনুমান করেছিল আগেই যে, কুর্চি এইসব প্রশ্ন করবে তাকে। কিন্তু কুর্চিকে যথাযথ উত্তর এক্ষুনি দেবে কী করে? প্রথমত শেষ প্রশ্নটির যথার্থ তাৎপর্যই এখনও প্রাঞ্জল নয় ওর নিজেরই কাছে, হাটচান্দ্রা গিয়ে পৌঁছলে তারপরই তা প্রাঞ্জল হবে। এবং অর্থ প্রাঞ্জল হওয়ার পরও সেই প্রশ্নর উত্তর যে কী হবে, তাও এই মুহূর্তে পৃথুর একেবারেই অজানা। তাইই, কী করে জবাব দেবে পৃথু কুর্চিকে?

    দেখা যাক। তারপর আধখানা জীবন আর একখানা পা পেছনে ফেলে রেখে এসেছিল একদিন হাটচান্দ্রা থেকে এখানে। এখানে যখন ফিরে আসবে আবার, যদি আসে; তবে আরও কি হারিয়ে আসবে কে জানে?

    কুর্চি, বিগুকে সঙ্গে করে খাবারদাবার সুন্দর করে ট্রলিতে সাজিয়ে নিয়ে এল। একটি ছোট তোয়ালেকে ন্যাপকিন করে দিল। নিজে মোড়ায় বসে, প্লেটে খিচুড়ি বেড়ে দিতে দিতে বলল, খান। সাবুর খিচুড়ির মধ্যে পটল ফালি করে দিয়েছে। আলু, আঙুলের মতো কেটে। দারুণ স্বাদ হয়েছে। জ্বরের মুখেও উপাদেয় লাগছে।

    পৃথু দেখল, কুর্চি মুখে-চোখে জল দিয়ে এসেছে। চোখের কাজল একটু লেগে গেছে গালে। কুর্চির গালে যে জায়গাটা কাজল লেগেছিল ঠিক সেইখানেই একটা চুমু খেতে ভীষণই ইচ্ছা করল পৃথুর। কিন্তু চুমু না খেয়ে, চামচ করে সাবুর খিচুড়ি খেল; ইচ্ছা পূরণের আনন্দর তীব্রতার চেয়েও অনেকই সময়ে অপূর্ণ-ইচ্ছার নিবিড় আনন্দ তীব্রতর হয় যে, এ কথাটা ও জানে বলেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }