Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প1301 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৮. যাবে বলে ঠিক করে

    ৮

    যাবে বলে ঠিক করে বাড়ি থেকে বেরোয়নি পৃথু, কিন্তু ঘুরতে ঘুরতে শেষে গিরিশদার বাড়ির পথই ধরল।

    গিরিশদার বাড়িটা ভুলভুলাইয়ার উল্টো দিকে। হাটচান্দ্রার মূল সীমানা পেরুনোর পরই এদিকটা বেশ নির্জন। কাঁচা রাস্তাটা গিয়ে পুন্নার গভীর জঙ্গলের ফরেস্ট রোডে মিশে গেছে। রাস্তাটা ঢালু হয়ে গড়িয়ে গিয়ে একটা ছোট্ট নালা পেরিয়েছে। তার নাম পিরপিরি। উপরে একটা কজ্‌ওয়ে। নালাটার পরই সেগুনের প্ল্যানটেশান। চল্লিশ বছরের পুরনো। যখনই এই প্ল্যানটেশানটা পেরোয়, পৃথু ভাবে; যদিও এই সেগুনেরা এখন পৃথুরই সমবয়সী, ওর জীবনাবসানের অনেক দিন পর অবধিও ওরা সতেজ প্রাণবন্ত থেকে যাবে। সৃষ্টিতে মানুষ অনেকেরই চেয়ে কম দীর্ঘজীবী। ক্ষিদে জ্বালায় শরীরকে; আর চিন্তা জ্বালায় মনকে। থাকার মতো মন তো শুধু মানুষেরই থাকে। এই মন জ্বলে গেলে, নির্মন মানুষের আর বাকিটা কী থাকে? খোলসটার দাম তো সাপের খোলসের চেয়েও কম। মানুষ কি একটি সেগুনের চেয়েও কম মূল্যবান যে, এই জমকালো রঙ্গমঞ্চে তার অবস্থান এতই স্বল্প সময়ের জন্যে?

    বেলা পড়ে এসেছে। কার্তিকের বিকেলের এক বিশেষ কারুণ্য আছে, এবং তা যেন দিনশেষেই সবচেয়ে বেশি করে প্রতীয়মান হয়। বড়কি ধনেশের একটি ছোট্ট ঝাঁক গ্লাইডিং করে স্থির ডানায় পশ্চিমের আকাশকে এক গভীর স্তব্ধতা ও গাম্ভীর্যে মুড়ে দিয়ে ভেসে যাচ্ছে ডুবন্ত সূর্যের গলে-যাওয়া টেরাকোটা বিধুর বৃত্তর মধ্যে। দিনান্তর মধ্যেও অন্য দিনান্ত থাকে। সূর্যের গলিতাৰ্থর মধ্যেও অন্য গলিতাৰ্থ; যার রহস্য বিজ্ঞানীদের আজ অবধিও অজানা, কিন্তু সেই রহস্যর খোঁজ যেন ইতিহাসের সমবয়সী ধনেশ পাখিরাই একমাত্র রাখে।

    কত রহস্য চারদিকে। রহস্যময়তায় দিগন্তবেলার পেঁয়াজখসী কাতান বেনারসী-জড়ানো প্রকৃতি যেন বিশ্বচরাচরের দূর দূরান্তরের শীতার্ত প্রান্তর থেকে মাধুকরী শেষে তার পর্ণকুটিরে ফেরে। আসন্ন সন্ধ্যার নিবাত নির্লিপ্তিতে হেমন্তের হিমের গন্ধ ভাসে। পৃথুর চারপাশে, কারা যেন যায় আসে, কাঁদে হাসে; অশরীরী, আশ্চর্য সব বোধ। এমনই ক্বচিৎ স্তব্ধ, শান্ত, নির্লোম অনুভূতির সীমিত বৃত্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে ও অন্য পৃথিবীর জীবাশ্ম এবং প্রাণের অস্তিত্ব সম্বন্ধে সচেতন হয়ে ওঠে। খুব ভাল লাগতে থাকে ওর। তারপরই; হঠাৎ, ভয় করে।

    একদিন যেতে বলেছিলেন গিরিশদা ওকে। রাম আর সুজির খিচুড়ি খাওয়াবেন বলেছিলেন। সেদিনটা কবে, পৃথু ভুলে গেছিল। আজকাল কোনও কিছুই তেমন স্পষ্ট করে মনে থাকে না। একদা-পরিচিত মানুষের মুখ, নেমন্তন্নর দিন, কে বা কারা তাকে একদিন অনেক ভালবেসেছিল অথবা অপমান করেছিল এ সবই ভুলে যায়।

    ভুলে যাওয়াই ভাল। ভুলে না যেতে পারলে কি কোনও মানুষ বাঁচে? এই অকৃতজ্ঞতার, কৃতঘ্নতার পৃথিবীতে; সব কিছুই মনে রাখতে গেলে মনের মধ্যে এক বিরাট ক্যানসারাস গ্রোফ হয়ে উঠবে যে কুৎসিত; তারপর সেই দলা-পাকানো ভীতিজনক স্মৃতি নিঃশব্দে ফেটে যাবে এক সময় মস্তিষ্ক খান খান করে দিয়ে। তাই-ই ও সহজে সব কিছু ভোলে। সুন্দর অতীত এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ-এর স্বপ্ন ছাড়া তার ক্লিষ্ট মস্তিষ্কে আর কিছুই ধরে রাখতে চায় না পৃথু।

    মুনেশ্বর বাগানে ঝারি হাতে জল দিচ্ছিল। ওকে দেখে, মুখ নিচু করেই বলল, পরনাম পিরথুবাবু।

    পর্‌নাম। তোর বাবু কোথায়?

    বাবু, হাওয়া ধরছেন।

    হাওয়া ধরছেন?

    পৃথু ভাবল, মুনেশ্বরও কি তাকে ইয়ার ঠাওরাল না কি? যাকে দেখলে মনে হয়, পয়সা নেই; পদমর্যাদা নেই, যার কাউকেই ভয় দেখাবার, ভয় পাওয়াবার ক্ষমতা নেই, তাকে সকলেই ইয়ার ভাবে। ইয়ার্কি করে তার সঙ্গে।

    হাওয়া ধরছেন? কোথায়?

    ওই তো! পেছনের টাঁড়ে।

    গিরিশদার “স্কটিশ কটেজ”-এর পেছনে অনেকখানি টাঁড় মতো জায়গা। সেখানে লাল মাটি, খোয়াই, ঝাঁটি জঙ্গল, তিতির আর খরগোশের বাস। মাঝে-মধ্যে কোটরা হরিণ চলে আসে উদ্‌ভ্রান্তের মতো জঙ্গলের গন্ধ মেখে। শেয়ালরা ধূর্ত চোখে ইতি-উতি চাইতে চাইতে শর্ট-কাট করে যায় পুন্নার জঙ্গলের দিকে আসতে-যেতে। সেই টাঁড়েরই মধ্যে একটা প্লাটফর্ম মতো দাঁড় করানো। শালবল্লী আর লতা দিয়ে বানানো হয়েছে পোক্ত করে। গিরিশদা কোনওরকম অপোক্ত ব্যাপারে বিশ্বাস করেন না। সেই প্লাটফর্ম-এর উপরে বাঘ শিকারের মাচার মতো করে বানানো হয়েছে পেল্লায় এক মাচা, শালের চেরা-তক্তা ফেলে। যজ্ঞিবাড়ির একটা প্রকাণ্ড কেলে-পেছন, কাৎ-করানো হাঁড়িকে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা হয়েছে সেই মাচার উপর। সেই হাঁ-হাড়িটার কেলে-পেছনে একটি ফুটো। দেখা যাচ্ছে না; কিন্তু আছে। সেই ফুটোর মুখে কপি, শালগম আর লেটুসের ক্ষেতে জল দেওয়ার স্বচ্ছ পলিথিনের পাইপ। পাইপের অপর প্রান্ত “স্কটিশ কটেজ”-এর ভিতর অবধি চলে গেছে। সাপের মতো ঢুকে গেছে এঁকে বেঁকে সেই ঘরে, যেখানে বসে গিরিশদা কাব্য এবং নানাবিধ গা-শিউরানো সৃষ্টশীলতার চর্চা করে থাকেন। সেই ঘরে। মাচার নীচে, লাল মাটিতে একটি রঙ-চটা টেবল ফ্যান, কেৎরে পড়ে উপরের হাঁড়ির দিকে সন্দেহজনক চোখে চেয়ে আছে। লাল-নীলে জড়ামড়ি করা তার এসেছে দূরের “স্কটিশ কটেজ”-এরই ভিতর থেকে। গিরিশদা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে এবং প্রাণপণ চেষ্টাতে তাঁর একজোড়া ক্রিয়েটিভ দুব্‌লা পাতলা হাতে টেব্‌ল-ফ্যানটাকে একটা ছোট্ট কাঠের পুলির সাহায্যে মাচার উপরে ওঠাবার নিষ্ফল চেষ্টা করছিলেন। পৃথু যে গিয়ে তাঁর একেবারে পেছনেই দাঁড়িয়েছে, তা লক্ষ্য পর্যন্ত করেননি। হঠাৎই মুখ ফিরোতেই পৃথুকে দেখতে পেলেন।

    কি গিরিশদা? এটা আবার কী হচ্ছে? নতুন কোনও এক্সপেরিমেন্ট?

    অ্যাই তো!

    খুশি হয়ে গিরিশদা বললেন, এস্‌সে গেছ। বাঃ এক্কেবারে গড্‌-সেন্ট। হেলি-মিশানে, এরকমই হওয়ার কথা।

    কী হচ্ছে কি এটা? কিসের হেলি-মিশান?

    এখনও কিছু হয়নি। তবে, হতে পারে। সাকসেসফুল হলে, একটা হওয়ার মতো হওয়া হবে। পুরো কলকাতা শহরের চেহারাটাই পাল্টে যাবে তখন। ঠাট্টা কোরো না। কলকাতার জমি-বাড়ির দাম বম্বে-ব্যাঙ্গালোরের মতো হয়ে যাবে। আর ইন দ্যা প্রসেস আমিও কোটিপতি হয়ে যাব। অক্সিজেন-হীন ডিজেলের ধোঁয়ায় খাবি-খাওয়া শহরে ছেলে-মেয়েরা সব ফুটফুটে ফুলের মতো হয়ে যাবে। তুমি এজেন্সী নিতে চাও আমার নতুন কোম্পানির, তো দিতে পারি। ভেবে দ্যাখো। কিন্তু এদেশে মানুষ কিছু করছে কি? করতে গেলেই তো বাধা। নিজের কাজে কেউ বাধা দেয় না। দেশের কাজ করতে গেলেই টিটকিরি! এসো তো ভায়া, একটু হাত লাগাও দেখি। এই ফ্যানটাকে তুলে ঠিক ওই হাঁড়ির মুখ থেকে তিন হাত পেছনে করে মাচাটার উপর দাঁড় করাতে হবে। পুরনো আমলের ফ্যান। বাবা নাগপুরে থাকতে কিনেছিলেন। তাঁর মাথার পেছনে রেখে রাত দুটো অবধি শুয়ে শুয়ে ওয়েস্টার্ন ব্যাং-ব্যাং নভেল পড়তেন। এক অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান দোকান থেকে কিনেছিলেন এই ফ্যানটা। খাঁটি বিলিতি জিনিস। এ-সবের কোনও প্রোটোটাইপ হয় না। আর দ্যাখো না, ওজনও তখনকার দিনের দশাসই খাঁটি মেমসাহেবদেরই মতো। একা উঠোনোই যায় না। ওইরকম সব গামা-গোবর-মার্কা মেমসাহেবদের, সাহেবরা কোলে তুলে কী করে আদর করত বল দিকি?

    পৃথু কিছুই বলল না উত্তরে।

    ব্যাচেলর মানুষকে কিছু বলে, ও লজ্জা দিতে চায় না। আদর করতে হলেই যে পিসতুতো ভাইয়ের অন্নপ্রাশন-খাওয়া-কন্যার মতো নিজের বউকেও কোলে-কাঁখে করতেই হবে এর কী মানে আছে?

    কথা না বলেই, অকর্মার-ধাড়ি পৃথু হাত লাগাল। দেশের কাজে। ফর আ চেঞ্জ! যতক্ষণ সম্ভব ফ্যানটার তলায় হাত রেখে নিচ থেকে সেই অচেতন পদার্থর উন্নতিকে সাপোর্ট করা যায়; তাই-ই করতে লাগল। করতে-করতে আড়চোখে একবার দেখে নিল; পুলির সঙ্গে লাগানো দড়িটার স্বাস্থ্যটা কী প্রকার।

    নাঃ। ভাল মোটেই নয়। ন্যাবা ধরেছে। অথচ, হাটচান্দ্রার জল তো খারাপ নয়!

    ফ্যান উপরে উঠতে লাগল। গিরিশদা এবং পৃথুর যুগ্ম চেষ্টাতে। গিরিশদা দড়ি ধরে ক্ষেপে ক্ষেপে টানছেন; কুঁয়োতলা থেকে জল ভোলার মতো করে। আর পৃথু নিচ থেকে ঠেলছে। যার যেমন কপাল! চিরদিনই অধঃপতিত বস্তু বা ব্যক্তিকে উত্থিত করার কর্তব্যই ওকে দিয়ে সবাই-ই করিয়ে নিতে চায়। অথচ, ওর স্বাভাবিক প্রবণতা সবরকম অধঃপতনেরই দিকে। ঠেলছে, মানে, হাঁড়িটাকে ধরে আছে মাথার উপরে। অনেকটা, হনুমানের গন্ধমাদন ধরে উড়ে যাবার পোজ-এ। যখন টেবল-ফ্যানটা পৃথুর উত্থিত দু’ হাতেরই নাগালের উপরে চলে গেল তখন হাত খালি হওয়ায় ও গিরিশদার সঙ্গে দড়িতেই হাত লাগাল। কিন্তু পৃথুর প্রত্যয় এ বিষয়ে বিশেষই দৃঢ় হল যে, মাধ্যাকর্ষণ, শক্তি হিসেবে, এখনও যথেষ্ট জোরালো শক্তি। ফ্যানটা ইনকনসিডারেটের মতো অল-অন-আ-সাডন গিরিশদার মাথা এবং পৃথুর ডান পা গুঁড়িয়ে দিতে দিতেও, না-দিয়ে; মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ল গোঁত্তা মেরে। গোব্দা মেমসাহেব মার্কা ফ্যানের মূল শরীর এবং এলিজাবেথীয়ান গাউনের মতো পাখা-ঝাকা গ্রীলটা আলাদা হয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গেই। মুক্তির আনন্দে পাখার বিযুক্ত গ্রীলটা চার পাক ঘুরে নিয়েই থিতু হল।

    গিরিশদা দু কোমরে দুই হঠাৎ-খালি হাত রেখে দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাটাকে ঘটতে দেখলেন।

    বললেন, দেখলে! পৃথু! অধঃপতন!

    পতন তো চিরকাল অধঃলোকেই হয় গিরিশদা, কে আর কবে ঊর্ধ্বলোকে পড়েছে বলো?

    পৃথু বলল। তারাশঙ্করের ‘দুই পুরুষের’ নুটু মোক্তারের লোজায়াব ডায়ালগ্‌ কোট্‌ করো্‌।

    ঠাট্টা নয় হে! ক্যালামিটি। রিয়্যাল, গ্রেট ক্যালামিটি!

    বড় কিছু করতে গেলে এরকম ছোট-খাটো ক্যালামিটি হয়ই!

    পৃথু বলল।

    ক্যালামিটি ইজ আ ক্যালামিটি, ইরেস্‌পেকটিভ অফ ইটস্‌ স্কেল্‌।

    ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে ফ্যানটা পড়লে বড়ই লাগত, কারণ সেখানে সবে একটা লোম-ফোঁড়া গজিয়েছিল পৃথুর। বেঁচে যে গেছে, এই ঢের! পৃথু সে কথাই ভাবছিল। লেসার ক্যালামিটি সামলাতেই হিমসিম ও সমস্তক্ষণ, গ্রেটার ক্যালামিটি থেকে দূরেই থাকতে চায়।

    পৃথু বলল, কী করবেন এখন?

    মুনেশ্বরকে দেখেছ? কোথায় যে থাকে রাসকেলটা!

    জল দিচ্ছে। বাগানে। দেখে এলাম।

    ডেকে আনো তো! ও ইচ্ছে করেই নন-কোপারেট করছে। কোনওরকম সায়েন্টিফিক ব্যাপারেই ব্যাটার এক ফোঁটা ইন্টারেস্ট নেই। টিপিক্যাল, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভারতীয়।

    পৃথু, মুনেশ্বরকে ডাকতে যেতে যেতে আবারও শুধোল, তা সায়েন্টিফিক ব্যাপারটা হচ্ছে কী? খুড়োর কলটা, কিসের? বলে ফেললেই তো হয়। খামোখা টেন্‌সানের মধ্যে আমাকে রেখে কি লাভ হচ্ছে কিছু আপনার?

    মুনেশ্বরকে ডেকে আনো। পরে বলব। আর শোন পৃথু, তোমার কি ফ্ল্যাক্ট-ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান অয়েল-এর কারও সঙ্গে জানাশোনা আছে? কোনও বড় অফিসার? বোর্ডের কেউ?

    নাঃ।

    আদার ব্যাপারী, থাকে ধ্যাতধেড়ে গোবিন্দপুরে; ও চিনবে কী করে?

    নো ওয়ান্ডার! তোমরা যে লেখাপড়া কেন শিখেছিলে তা-ই ভাবি মাঝে মাঝে।

    পৃথু উত্তর না-দিয়ে মুনেশ্বরকে ডাকতে চলে গেল। মূর্খর কথার উত্তর মূর্খরাই দেয়।

    মুনেশ্বরকে নিয়ে ফিরে আসতেই গিরিশদা ওকে হাঁড়ি, ফ্যান ও পুলি সব স্টোর রুমে তুলে সেদিনের মতো রেখে দিতে বললেন। তারপর বাড়ির ভেতরে এলেন। বসবার ঘরে এনে বসালেন পৃথুকে।

    সন্ধে হয়ে এসেছিল। টাঁড়ে আর ঝাঁটিজঙ্গলে গিরিশদার সায়েন্টিফিক ক্রিয়াকাণ্ডে তিতির-বটেররা এতক্ষণ সব সন্দেহে এবং ভয়ে সিঁটিয়ে ছিল। এখন প্রাণ খুলে দিনের প্রাত্যহিক ফেয়ারওয়েল-সঙ গাইতে লাগল।

    গিরিশদা বললেন, কী খাবে? বল।

    যা হয়।

    ন্যাকামি কোরো না। জোয়ান-মদ্দ লোকের ন্যাকামি আমার একেবারেই পছন্দ হয় না। তোমার সব ভাল, কিন্তু তুমি বড় মেয়ে-মেয়ে। কী খাবে তাই-ই বল। মন খুলে।

    আপনি যা খাবেন।

    আশ্চর্য! আমার সঙ্গে তোমার কী?

    বিরক্ত হয়ে গিরিশদা বললেন।

    তাহলে, হুইস্কিই খাব।

    তাই-ই বল। বেশ! মনে পড়ে গেল, তোমার জবলপুরের লেফটেনান্ট শালাকে বলে এক বোতল স্কচ জোগাড় করে দিতে পারো? স্বাদই ভুলে গেছি। কত করে দাম এখন। অফিসারস ক্যান্টিনে?

    স্কচ আমি খাই না। জানি না। চেষ্টা করব।

    পৃথু বলল।

    ভাবল, শালাকে বলে কিছুই হবে না। পৃথু যতদিন শালার কাছে দামি ছিল, শালাবাহন ছিল, ততদিনই সে-শালার মুখ-মিষ্টি। এখন প্রয়োজন সবই ফুরিয়ে গেছে। পৃথুকে কেউই পোছে না। দু’ একটি অনুরোধ করে দেখেছে; গ্রাহ্যই করে না। বড় অপমান লাগে। এরা যখন ছোট, তখন থেকেই পৃথু এদের দেখেছে। এই পৃথিবী বড় নির্লজ্জ। চক্ষুলজ্জা পর্যন্ত নেই। কৃতজ্ঞতাবোধ-টোধ ত’ অনেক বড় ব্যাপার সব। তার চেয়ে বরং রুষাকেই বলবে। রুষার মতো রিসোর্সফুল মানুষ হাটচান্দ্রাতে আর একজনও নেই। রুষা, ইদুরকারকে বললেই সে জোগাড় করে দেবে। নো-প্রবলেম। গিরিশদাকে একটা না-হয় প্রেজেন্টই করবে।

    মুখে শুধু বলল, আচ্ছা গিরিশদা, বলব। মানে, লিখে দেব জবলপুরে। আপনি নেবেন না? হুইস্কি? আমাকে একা কেন?

    না ভায়া। এ ব্যাপারে আমি এক্কেবারে সাহেব। ‘স্কটিশ কটেজ’-এর মালিক বলে ব্যাপার। নট বিফোর সানডাউন। তা সুজির খিচুড়ি খাবে তো তুমি!

    ঘাড় নাড়িয়ে লোভীর মতো পৃথু বলল, হ্যাঁ।

    রুষা কিছুই অন্যায় বলে না। সত্যিই, ও একটা এপিকিউরিয়ান। প্রি-হিস্টরিক পিগ। গ্লাটন। খাওয়ার ব্যাপারে। আ বিলিভার ইন কোয়ানটিটি-কাম-কোয়ালিটি। তা হবে। পৃথুর জ্যাঠামশায় সম্বন্ধে একটা জনশ্রুতি চালুও ছিল এক সময়ে। পেট-রোগা, অথবা খেতে-না-পাওয়া মানুষেরা প্রায়ই বলে বেড়াত, “মিঃ জগদানন্দ ঘোষ বিলিভস দ্যাট দ্যা ওনলি ওয়ে টু দ্যা হার্ট ইজ থ্রু দ্যা স্টম্যাক।”

    আসুক মুনেশ্বর। জোগাড় যন্ত্র করে দিক। আমিই রাঁধব।

    গিরিশদা বললেন।

    তুমি? তুমি কিছু রাধতে-টাঁধতে পারো? পৃথু?

    না। তবে, চা আর ওমলেট পারি।

    হাঃ। হাঃ।

    গিরিশদা জোরে হেসে উঠলেন।

    হাসিতে মানুষের চরিত্র ফুটে ওঠে। মানুষটা খুবই সরল। মনের মধ্যে কোনও ঘোর-প্যাঁচ নেই।

    তবে তো পারোই! তুমি যদিও শিখতে চাও, তাহলে তোমাকে রান্নাও শেখাতে পারি। কুলিনারি আর্ট হচ্ছে হাইট অফ অল আর্টস। কেভ-পেইন্টিংস-এর আগে এর জন্ম। বুঝে দ্যাখো, আমাদের এই মধ্যপ্রদেশের ভীম বৈঠকা বা স্পেনের আল্‌টামিরারও অনেক আগে মানুষ রন্ধন শিল্পে পারদর্শী হয়েছিল। বাগান করারই মতো আনন্দ পাই আমি রান্না করার মধ্যে। ফুল-ফোটানোর মতে, এও এক ক্রিয়েশান। কিন্তু রেঁধে খাওয়াবটা কাকে? হোয়াট আ পিটি? বল?

    কেন? গিরিশদা? আমাকে আর সুখময়কে। এবং তার স্ত্রীকেও। যখন আপনি ডাকেন তখনই ত আসি। আপনিও খাবেন। গিরিশদা হাসলেন।

    বললেন, ঠাট্টা করছ; করো। যে মানুষের পুরো জীবনটাই একটা মস্ত ঠাট্টা, তার গায়ে এসব ছোটখাটো ঠাট্টা বাজে না হে!

    উঠে গিয়ে ছোট্ট সেলার খুলে হুইস্কি ঢেলে নিয়ে এসে পৃথুকে দিলেন। তারপর বললেন, শম্বরের আচার খাবে?

    শম্বরের আচার?

    হ্যাঁ! বানিয়েছিলাম নাইনটিন সেভেন্টিতে। আস্ত একটা শম্বর। সাবির মিঞা আর শামীম্‌ মেরেছিল পুন্নার জঙ্গলে! একদম বড়কা নরপাঠঠা শম্বর। পুরোটাকেই আচার বানিয়ে রেখে দিয়েছিলাম ডীপ-ফ্রীজ-এ। খেয়ে দেখো। উমদা জিনিস!

    আচার নিয়ে এলেন গিরিশদা।

    তারপর বললেন, শোননা পৃথু, আজ সুজির খিচুড়ি নাই-ই বা খেলে। মনটা আজ সাহেবী খানা খেতে চাইছে না। চলো তোমার জন্যে ফ্রেঞ্চ অ্যানিয়ন স্যুপ রাঁধব। আর ডীপ-ফ্রীজ-এ আমার ভাইপো প্রণব-এর মারা নাকটা হাঁস রাখা আছে; তার রোস্ট করব। নাকটা মেরে প্রেজেন্ট করেছিল নাইনটিন এইট্টিতে। খেয়ে দ্যাখো; মনে থাকবে চিরদিন।

    সন্ধে তো হয়ে এল। আপনি এবার একটা নিন গিরিশদা। কিছুক্ষণ পর পৃথু বলল।

    বাইরে তাকিয়ে গিরিশদা বললেন, হাঁ। ওয়াক্ত হো গ্যয়া। গিরিশদা উঠে গিয়ে রাম ঢেলে নিয়ে এলেন।

    ব্যাপারটা কী করছেন, বললেন না তো!

    কোন ব্যাপারটা?

    ওই যে! মুনেশ্বর বলল, আপনি নাকি হাওয়া ধরছেন?

    হ্যাঁ। ঠিকই বলেছ। হাওয়াই ধরছি। এনভায়রনমেন্টের যে রকম পলুশ্যান হচ্ছে বড় বড় শহরে তাতে মানুষের বেঁচে থাকাটাই মুশকিল। আরে, আমাদের ভোপাল, ইন্দোর, জবলপুর, রায়পরের কথাই ভাব না। আরও বড় শহরের কথা না-হয় ছেড়েই দিলাম। হাটচান্দ্রার মতো আনপল্যুটেড জায়গার হাওয়া এবং এনভায়রনমেন্টের সবরকম নারিশমেন্ট সুদ্ধ যদি কোনও বড় শহরে সটান চালান করে দেওয়া যায়, তাহলে কী হয়। ওই যে হাঁড়িটা দেখলে; ওটা কিছুই নয়। ওটা জাস্ট একটা এপিটম। ডেকরেটরের কাছ থেকে ভাড়া করে এনেছি। পেছনে ছ্যাঁদা অবশ্য করেছি আমিই। ফেরৎ নেওয়ার সময় ঝামেলা করবে বিলক্ষণ। কিন্তু ওটার দরকার ছিল। ওই হাঁড়ির মতো ব্যাপারটি আসলে হবে কয়েক হাজার গুণ বড়। উল্টো দিক থেকে বড় বড় ব্লোয়ার, ব্লো করে সেই হাঁড়ির মুখে ঢুকিয়ে দেবে বিশুদ্ধ হাওয়া। তার পর এয়ার-টাইট, ওয়াটার-টাইট পাইপ-লাইনে করে তা চলে যাবে বড় বড় শহরে। পাইপ লাইনের মাঝে মাঝেও চার্জার স্টেশন থাকবে। ব্লোয়ার থাকবে, বিশুদ্ধ হাওয়া চারিয়ে, ভাগিয়ে, ডেস্টিনেশানে নিয়ে যাবার জন্যে অক্সিজেনের ওজনের ডোজ দিয়ে দিয়ে। বড় বড় পল্যুটেড শহরে স্টোরেজ ট্যাঙ্ক থাকবে। ট্যাঙ্ক থেকে পলিথিনের সীলিন্ডারে করে, যেমনভাবে রান্নার গ্যাস সাপ্লাই হয়, গৃহস্থদের বাড়ি বাড়ি, অফিস-কাচারিতে এই বিশুদ্ধ হাওয়াও সাপ্লাই দেওয়া হবে। বেড-রুমে, স্কুলে, কলেজে, কারখানায়, অফিসে ওই সিলিন্ডার রেখে দিলেই হল সামান্য খুলে। ভোপালে কি কলকাতায় বসে হাটচান্দ্রার অফিসে ওই সীলিন্ডার রেখে দিলেই হল সামান্য খুলে। ভোপালে কি কলকাতায় বসে হাটচান্দ্রার পরিবেশে! চিন্তা করো, একবার। আমার এক এনভায়রনমেন্ট এঞ্জিনীয়ার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলব এ নিয়ে। বম্বেতে তাকে চিঠিও লিখেছি। এখানে আসতে বলেছি। এই ভেঞ্চার সাকসেসফুল হলে বিশুদ্ধ জল নিয়েও এমন কথা যাবে। একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী ফর্ম করব ভাবছি। নাম দেব, আনপল্যুটেড এনভায়রনমেন্ট প্রাঃ লিমিটেড। তুমি কি ডিরেক্টর হতে চাও? ক্যাপিটাল লাগবে না। তুমি শুধু আমার কোম্পানির দারুণ সব চমকে-দেওয়া বিজ্ঞাপনের কপি লিখবে। যাকে বলে, সত্যিকারের ক্রিয়েটিভ কপিরাইটিং। কি হে? পৃথুবাবু ঝুলে পড়বে নাকি? হাঃ হাঃ। বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী। পি. সি. রায়ের কথা, বি. সি. রায়ের কথা শুনল না তো বাঙালি!

    গিরিশদার চরিত্র সত্যিই বহুমুখী! ওঁর বহুমুখী বাতিকগুলোর একটিও প্রতিভার পাকা রাস্তায় গিয়ে পৌঁছতে পারল না, এইটে ভেবেই দুঃখ লাগে। প্রতিভার পথ বোধহয় বড়ই দুর্গম। খুব কম লোকই বোধহয় সে পথ বেয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন। আর যাঁরা পেরেছেন বলে ভাবেন, তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগেরই প্রতিভা কাকে যে বলে সে সম্বন্ধে কোনও স্পষ্ট ধারণাই হয়তো নেই। আজকালকার মেডিয়া-বাহিত যশ, প্রচার আর নাম-ডাকের সঙ্গে হয়তো প্রতিভার কোনও সাযুজ্যই নেই। গিরিশদা প্রতিভাবান না হতে পারেন; কিন্তু চমৎকার মানুষ। চমৎকার মানুষই বা ক’জন হতে পারেন? বাতিকগ্রস্ত হতেও এক ধরনের কুঁড়ি-প্রতিভা লাগে হয়তো। খুবই জীবন্ত মনের একজনের ঝকঝকে রসিক মানুষ তিনি। পৃথুর একঘেয়ে, ক্লান্তিকর মন-খারাপ বিষণ্ণ দিনগুলি আনন্দর ফুলফোটা সোনাঝুরি গাছ হয়ে ওঠে যেন গিরিশদার কাছে এলেই। এখানে এসে, নিজেকে নবীকৃত করে ও। বারে বারে।

    যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়। রাম-এ এক চুমুক দিয়েই গিরিশদা বললেন, তাহলে শুরু করি ভায়া, কি বল?

    কথাটা তবুও না বোঝার ভান করে পৃথু বলল, কী?

    কবিতাটা শুরু করি?

    সুখময় কোথায়? আজ এল না তো! তার স্ত্রী? দেখা হল না।

    কথা ঘোরাবার জন্যে বলল পৃথু।

    সুখময়রা সুখেই আছে। যেদিন আসতে বললাম, সেদিন তো তুমি এলে না! তাদের দেখো পরে, অন্যদিন। আজই জানতে পেলাম সুখময়ের স্ত্রী, পরম কল্যাণীয়া, মানে আমার পুত্রবধু; ইজ ইন দ্যা ফ্যামিলি ওয়ে!

    কনগ্রাটস।

    পৃথুর মুখ ফসকেই বেরিয়ে গেল কথাটা। ইংরিজি ভাষাটা বোধহয়, কোনও কোনও আগ্নেয়াস্ত্ররই মতো; হেয়ার-ট্রিগার আছে। হাওয়া লাগলেও কিছু বোঝার আগেই; গুলির মতোই চকিতে শব্দ ছুটে যায়। ভারী খারাপ!

    তারপর বলল, কোন কবিতাটি? যার নাম দিয়েছিলেন হাত?

    সে কবিতাটি ছিঁড়ে ফেলেছি।

    কেন?

    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে কী বলতেন জানো?

    কী?

    বলতেন যে, যিনি যত নির্মম ভাবে লেখা কাটতে পারেন, ছিঁড়টে পারেন; তিনি তত বড় লেখক। নিজেকে বাতিল না করতে পারলে প্রতি মুহূর্ত, পেরিয়ে না যেতে পারলে; সে মানুষ কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না। যে ক্রিয়েটিভ আর্টিস্ট তাঁর নিজের সম্বন্ধে বা নিজের সৃষ্টি সম্বন্ধে বিন্দুমাত্রও শ্লাঘা জন্মিয়েছেন, নিজের মস্তিষ্কের অনবধানে হলেও; সেইটুকু তাঁর কবর খোঁড়ার জন্যে যথেষ্ট।

    বাঃ, আপনি সুন্দর বললেন কিন্তু। সত্যি। আপনি চমৎকারই বলেন। ইংরিজিও।

    বাঃ! বাংলা কবিতা লিখলে কী হয়, ছাত্র তো ইংরিজিরই ছিলাম! ইংরিজিতেই তো এম. এ. করি। বেশির ভাগ বড় বাঙালী কবিই তো ইংরিজির ছাত্র, ইংরিজির অধ্যাপক। ভাষা জলেরই মতো। জমিতে বেড়া লাগালেও তলে তলে চুইয়ে চলে যায় অন্য মাঠে।

    তা ঠিক! ভাষা মাত্রই একে অন্যের পরিপূরকও। একটি ভাষা ভাল যে জানে; সে অন্য একাধিক ভাষাও বেশ ভাল জানে বলেই দেখা যায় সাধারণত।

    পৃথু হুইস্কিতে চুমুক দিয়ে, জ্ঞানী-গুণীদের মতো বলল। কিন্তু, ব্যতিক্রমও থাকে। যেমন আমাদের চাঙ্গু, মানে অতিক্রম সেন। “অশনি” পত্রিকায় তার কলাম বেরুচ্ছে প্রতি সপ্তাহে। অথচ সে বাংলাতে একটি প্যারাও লিখতে পারে না। লিখছে ইংরিজিতেই। অশনির নুচুবাবু অনুবাদ করে দিচ্ছেন হর-সপ্তাহে। বাঙালি পাঠকরা ভাবছেন, কী অসাধারণ প্রতিভাবান লোক এই অতিক্রম সেন। ইংরিজি এবং বাংলা দুটোতেই অসাধারণ দখল!

    যেতে দিন।

    তা দিলাম। কিন্তু চালাকির দ্বারা কোনও মহৎ কর্ম হয় না।

    সকলকেই যে মহৎ কর্ম করতেই হবে এমন মাথার দিব্যিই বা দিয়েছে কে আমাদের?

    হুইস্কিতে একটি বড় চুমুক দিয়ে পৃথু বলল।

    তা অবশ্য ঠিক। এবার তাহলে শুরু করি?

    নতুনটা কী নিয়ে লিখলেন? নাম দিয়েছেন?

    নাম দিয়েছি। “একটি করে আয়না”।

    ‘একটি করে আয়-না?’ মানে? কুন্তি-ফুস্তির ব্যাপার নাকি? জুডো? ক্যারাটে? এক একজন করে এসে একা-একা লড়তে বলছেন।

    এমন এমন সময়ে নিজেকে খুবই অপরাধী লাগে। গিরিশদা মানুষটা সত্যিই ভাল, পৃথুকে যথার্থই ভালবাসেন, কাছে ডাকেন, আদর করেন। খাদ্য-পানীয়র আদরও ওঁর কাছে। পৃথু যা পেয়েছে তা এ জীবনে শোধ করতে পারবে না কোনওদিনও। অথচ, বাড়িতে ডেকে তাঁকে যে একদিন খাওয়াবে, সে উপায়ও তার নেই। কিন্তু এত কৃতজ্ঞতা সত্ত্বেও অ-কবিতাকে কবিতা বলে মানতে সে অপারগ। এটা তার সততা। অভদ্রতা বা অকৃতজ্ঞতা নয়। ও পারে না; মিথ্যাচার করতে। চৈনিক দার্শনিক কনফ্যুসিয়াস বলেছিলেন; “ইফ উ্য পে ইভিল উইথ গুড, হোয়াট ডু উ্য পে গুড উইথ? ভালকে ভাল বলো, খারাপকে খারাপ। এই অবিবেচনা, এই ট্যাক্টলেস্‌নেস্ অথবা ভণ্ডামিতে অপারগতার কারণে, পৃথুকে কম কিছু হারাতে হয়নি আজ পর্যন্ত এই জীবনে। তবুও, বদলাতে পারল না নিজেকে। স্বভাব কি বদলায়? স্বভাব বদলায় চিতাতে।

    জুডো কুস্তির ব্যাপার নয়। আয়না মানে; আয়না। লুকিং-গ্লাস।

    একটু ক্ষুব্ধ গলায় বললেন গিরিশদা।

    তারপর বললেন, শুরু করছি কিন্তু…

    পৃথু, পরাজিত সেনাপতির মতো চেয়ারে গা এলিয়ে দিল। আরও একটা বড় চুমুক দিল গ্লাসে। তারপর নিজের শ্রবণেন্দ্রিয় ও বোধকে ফাঁস-খুলে-ফেলা টাইয়ের মতো আলগা করে দিয়ে চোখ দুটি বুঁজে ফেলল।

    পড়ছি : “আয়না দেব একটি করে”—

    দিনরাত ঢাকের শব্দে কেঁপে উঠছে পাড়া

    ভাই সব জানেন কি এই নতুন বাবুরা কারা?

    টাকীরা বাজাত ঢাক খালে আর বিলে

    নেশা করে পেশাদার চাঁটি দিত ঢাকে

    পুজো ও পার্বণে, ব্ৰতবন্ধ ও ব্রতখোলার দিনে

    বাজাত পাড়ায়, বেপাড়ায় গঞ্জে ও হাটে;

    প্রতিমায় আলো-করা হ্যাজাক জ্বলা মাঠে

    দ্রিদিম দ্রিদিম দ্রি দ্রি দ্রিম…

    কাল রাতে ধরা পড়ে গেল হাতে নাতে, বাবুগণ

    যশের বাগানে চুপি চুপি ফুলচোর এতদিন

    জীবনের চোরাগলি ঘুরে ঘুরে

    অহর্নিশ নিশপিশ হাতে নিজেদের ঢাক নিজেরাই

    বাজিয়েছে প্রচণ্ড বিক্রমে সাজানো যশের

    ঘুষ-খাওয়া কেঁদো বাঘ ওদেরই পায়ের কাছে

    শুয়ে শুয়ে লেজ নেড়ে গেছে যেন দীর্ঘদিন

    ঘৃণিত কুকুর!

    আসুন দাদারা! চাঁদা তুলে অবহেলা অপমানে একীভূত

    নাম গোত্রহীন সব শত্ৰুমিত্র প্রতিবেশী মিলে

    তুলে দিই এদের প্রত্যেকেরই হাতে হাতে

    একটি, একটি করে আয়না…আত্মসম্মানের…

    কাল, বৈতালিকে আমরাই যাব আগে আগে

    শিশির আর শিউলির গন্ধভরা ভোরে

    গান গেয়ে যাব সকলের আগে;

    পিছু-পিছু হেঁট-মাথা, নিচু-মুখ;

    শ্লথপায়ে ওরা হেঁটে যাবে…

    গিরিশদা! পৃথু বলে উঠল।

    আবারও হেয়ার-ট্রিগারের গুলির মতো গুলি বেরিয়ে গেল মুখ থেকে।

    গিরিশদা থেমে গিয়ে বললেন, থামিয়ে দিলে পৃথু! ভাল লাগল না? শেষ হয়নি এখনও। আরও অনেকটা আছে।

    দীর্ঘ নীরবতা।

    আরেকটা চুমুক দিল পৃথু গ্লাসে।

    কি? কিছু বলছ না যে! কবিতার কথা?

    দীর্ঘতর নীরবতা!

    কি পৃথু?

    পৃথু ভাবছিল, কবিতাটিতে কি তার প্রতিই খোঁচা? পৃথু ঘোষ আর মণি চাকলাদার ছাড়া তো কবিতার বন্ধ্যা চাষ হাটচান্দ্রায় বেশি লোক করে না। মণি, গিরিশদার কবিতা, ছাপা পত্রিকা দূরস্থান, হাতে-লেখা দেওয়াল পত্রিকাতেও ছাপতে রাজি হয়নি। তাই-ই কি?

    কি পৃথু?

    পৃথু বলল, ও কে। তবে, বড়ই দীর্ঘ গিরিশদা, অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ। বলছিলেন, আরও আছে? শেষ হয়নি?

    হ্যাঁ। আরও তিনটি স্ট্যাঞ্জা আছে। তুমি বললে, এখানেই শেষ করে দেব?

    একটু চুপ করে থেকে বলল, না, না। আমি তা বলছি না। আমি কেন তা বলব? আপনার কবিতা, আপনি ভাল বুঝবেন!

    কি হুইস্কি এটা গিরিশদা? খুব ভাল তো! আমাকে আরেকটা দেবেন।

    গিরিশদা গ্লাসটি নিয়ে সেলারের কাছে গেলেন।

    পৃথু ঘর ছেড়ে বারান্দায় এল। এক পাশে পুন্নার গভীর জঙ্গল। অন্য পাশে সেগুন বন। পেছনে, তিতির-বটেরের টাঁড়। চাপ চাপ অন্ধকার। রাতে জঙ্গলের গায়ের মিশ্র গন্ধ।

    কী হুইস্কি এটা?

    গিরিশদা বারান্দায় এলেন। দুটি গ্লাস হাতে করে। ওঁর জন্যে রাম, পৃথুর জন্যে হুইস্কি।

    কী হুইস্কি এটা? খুব ভাল তো!

    পৃথুর কথার উত্তর না দিয়ে বললেন, এবার বলো। ইমপ্যাকটটা কেমন হল? থামিয়ে দিলে কেন, মাত্র অর্ধেকটা পড়লাম…।

    কবিতায় এত রাগ কেন? এত অভিযোগ। ছায়ার লড়াই। কেন?

    জীবনে রাগ আছে, তাই…

    কথা ঘুরিয়ে গিরিশদাই বললেন, তা হুইস্কিটা ভালই বলছ? নতুন ব্র্যান্ড একটা। চারটে গ্লাস দিল। তাই-ই কিনেছিলাম।

    খুবই ভাল গিরিশদা। খুবই ভাল।

    পৃথু বলল, গিরিশদার চোখে চেয়ে।

    কবিতা খারাপ লেগেছে বলার দুঃখটা হুইস্কি ভাল লেগেছে বলার সুখ দিয়ে পুষিয়ে দিতে চাইল ও।

    হুইস্কির ভালত্বর সঙ্গে কবিতার ভালত্বর সমীকরণ করতে চাইছেন না নিশ্চয়ই গিরিশদা! ভাবল ও। হুইস্কিটা কি ঘুষ? না, না, উনি অমন নীচ নন। তবে, কিছু মানুষ সংসারে নিশ্চয়ই থাকেন, হাইলি ডায়াবেটিকদের মতন; সবসময়ই সাধুবাদের ইনসুলিনের উপর যাঁদের বেঁচে-বর্তে থাকাটা নির্ভরশীল। গিরিশদা সেই ধাঁচের মানুষই নন।

    কোনও ভদ্রলোকই গৃহস্বামীর ভাল হুইস্কি খেয়ে তাঁর স্বরচিত কবিতাকে খারাপ বলার কথা ভাবতে পর্যন্ত পারেন না। কিন্তু পৃথু পারল। এ জন্যেই “ভদ্রলোক” হওয়া হল না ওর। রুষা ঠিকই বলে। ভদ্রসমাজে অচল। একেবারেই!

    কী হল? বলছ না যে ভায়া। আরও কিছু বল। একটু বিশদে…

    কবিতার আমি কী-ই বা বুঝি গিরিশদা! আমার মতামতের দামই বা কী! যা মনে হল, তা তো বললামই।

    তা না, রাগের কথা বলছিলে কী যেন, একটু আগেই…

    হ্যাঁ। তা বলছিলাম। বলছিলাম যে, রাগ ভাল নয়…

    কেন? ভাল না হওয়ার কী?

    মানে…

    মুখে কিছু বলতে পারল না পৃথু।

    নিরুচ্চারেই বলল : রাগ না থাকলে হয়তো বিপ্লব হয় না, যুদ্ধও হয়তো জেতা যায় না; জানি না। কিন্তু রাগের সঙ্গে কবিতা…মানে অন্যভাবে বললে…কবিতা রাগের সঙ্গে সচরাচর সহবাস করে না।

    কবিতা-প্রসঙ্গ তারপর গিরিশদা আর তুললেন না। অত্যুৎসাহীদেরও উৎসাহে ভাটা পড়ে; কখনও কখনও। নির্লজ্জরও লজ্জা হয়; কখনও কখনও।

    সেদিন খাওয়া-দাওয়ার পর গভীর রাতে টর্চ হাতে যখন পৃথু হুইস্কির খুশি বুকে নিয়ে গিরিশদার বাড়ি থেকে বেরিয়ে ফিরে আসছিল, তখন ফেউ ডাকতে লাগল পিরপিরি নালার কাছে সেগুন জঙ্গলের মধ্যে থেকে।

    জংলি জানোয়ারের ভয় পৃথুর নেই। মনে হল, হঠাৎ একটা বোঁটকা গন্ধও যেন এল নাকে। দুর্বল-ব্যাটারির টর্চের আলোটা বৃত্তাকারে পড়ছিল অন্ধকার জঙ্গলে। সেই আলোর ফিকে বৃত্ত, অন্ধকারকেই গাঢ় করে তুলছিল শুধু।

    ফেউটা আবারও ডাকল। হঠাৎই পৃথুর বুকের হুইস্কির খুশিটা মরে গিয়ে এক গভীর অপরাধবোধে ছেয়ে দিল তাকে। কার্তিকের হিমের রাতের তারা ভরা অন্ধকার আকাশ তাকে নিরুচ্চারে বলল : পৃথু! তুমি নিজেও একটি ফেউ। এ সংসারে; ভগবান কেউই নও। বাঘ নও কেউ।

    গিরিশদার জন্যে যেমন মনটা হঠাৎ খুবই খারাপ হয়ে গেল, তেমনই হল রুষার জন্যেও। কুর্চির জন্যে। এমনকী নিজের জন্যেও। নিজে একশ ভাগ সৎ হতে পারলেই খুশি হত ও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article ঋজুদা সমগ্ৰ ৫ – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }