মাহতাব উদ্দিনের মুর্শিদি গান
গান-৫৪
বান ঘাটুরী চল মুছাফির এই দেশে কেউ নাই আপনা
সময় থাকতে আপন দেশে চল না।
আপন আপন বল কারে আপন বলতে কেহ নাই সংসারে,
স্ত্রী পুত্র আপন নয়রে আপন মাত্র একজনা।
আইছ একা যাইবা একা এই দুনিয়া সব চোখের ধোকা,
পরে থাকবে দালান কোঠা সাথী হবে শুধু ছিড়া তেনা।
মাহতাব মিয়ার কথা ধর মনের হিংসার নিন্দা ছাড়
মরনেরই আগে মর দেখবে আলেক রাব্বানা।
গান-৫৫
বাউল হওয়া কঠিন বিষয় বাউল হইল পাগল যারা,
ভিক্ষার ঝোলা লইয়া কাঁদে সাজিয়াছে ভাবের মরা।
বাউল চায় না সুন্দর নারী দোতলা আর চসমা ঘড়ি,
জংগলায় তার বসত বাড়ি সঙ্গের সাথী একতারা।
বাউল বলে, হিংসা ছাড় মরার আগে একবার মর,
যাবে গুরুর প্রেম বাজার হইতে পারলে কামার পোড়া।
বাউল ছারছে নামাজ রোজ করেনা সন্ধা পূজা,
মাহতাব বলে, খাইয়া গাজা সেজদা করে মুর্শিদ পাড়া।
গান-৫৬
কাম নদীতে আসলে জোয়ার মাঝি মাল্লা থাকিত হুসিয়ার
কত জাহাজ হয়ে তল মাঝি ভাই সকল
ঘাটে আছে পুরুষ মারার কল।
গাংগের গভির কত খানি ভবে কত জ্ঞানি ঘুনি
নোংগর লইয়া মাপে গাংগের জল,
না পাইয়া গাংগের তলা মিটায় কে বল ববের জ্বালা
উলা মেলায় দিয়া যায় সকল।
এই গাংগের তিনটি নালা পানি আসে লাল সাদা গুলা
পাহাড় ভেঙ্গে যখন আসে ডল,
আলিফম দাল, মীম, এই তিনজনে খেলছে খেলা অতি গোপনে
তিনজনে বান্দিয়া একটি দল।
ভবে সিদ্ধা পুরুষ যাড়া মনি মুক্তা উঠাইছে তারা
নদীর তলায় দিয়া ডিরেট নল,
কামিক পাইলে খায় কুমিড়ে প্রেমিক পাইলে সেজদা করে
নদীর পারে গভীরও জংগল।
এই নদীতে কাবা আছে আরফার ময়দান
তাহার পাশে সময় মতে নামাজ পড়তে চল,
মাহতাব মিয়া করাতে পারল না সেজদা দিতে কাম নদীতে গেছে বুদ্ধি বল।
গান-৫৭
ও প্রাণ সখীরে আগে জানলে করতাম না এমন পিরীতি।
ফাঁকি দিয়া কাছে নিয়া করে গেলে ডাকাতি
নিশি কালে বলেছিলে, আমায় বানাবে চিরসাথী,
আমিও তার প্রেমের আশায় দিলাম কুলমান জাতি।
আশায় কুঞ্জ সাজাইয়া কাঁন্দিয়া পোহাই রাতি,
আশা দিয়া নৈরাশ করা বুজলাম না প্রেমের রিতি।
তাহার কান্দা কানলাম আমি ছাড়িয়া, গোষ্ঠী গেতি,
আমার কান্দা সে কান্দে না, বেঈমান অ, পুরুষ জাতি।
যৌবন কালে কোথায় রইল, আমার চোখের ঝোতি
মাহতাব উদ্দিন মরনের দিন, দেখতে চাহে এক রতি।
গান-৫৮
পিরিতে পিন্দাইবে ছিড়া তেনা, আগে জানি না
আগে জানি নারে নিষ্ঠুর বেইমান তোর হৃদয় এত পাষান
তবে কী করতাম প্রেমের লেনাদে না,
ফুল বালা ছিলাম ঘরে, বাহির করলা মোর হাতে ধরে,
বলছিলে প্রেম জীবনে ভাঙ্গবে না,
হায়রে দুষ্ট লোকের মিষ্টি বুলি
অন্তরে তার বিষের গুলি, কুকিল কণ্ঠে হইয়া ছিলাম দিওয়ানা।
যখন আইলাম তোমার কাছে
আমার ভাই বিরাদর পাছে গো পাছে,
কলংকিনী জাতি কুল রাখছে না,
শুনিয়া তোমার মিষ্টি কথা
ত্যাগ করিলাম পিতা গো মাতা,
ভাই বিরাদর তোমরা কিছুইতে লাগা না।
আমি যার কারণে সর্বহারা বারন হয় না নয়নধারা,
শরম ছারা এখন ফিরিয়া দেখে না,
গাংপাড় হইলে মাঝি শালা
মাথায় মোর কলংকের ডালা
সগারে ভাসলাম কচুরী ফেনা।
মাহতাব কয় বিনয় করি, আছ যত পুরুষ নারী
এমন জাতের পিরীতি কইর না
লোক না চিনে যে পিরীত করে, কান্দে হয়তা নদীর পাড়ে
মাঝি ছাড়া যেমন নৌকার নাই ঠিকানা।
গান-৫৯
সোনার নূপুর বান্ধা পায়, ঝুমুর ঝুমুর হাঁটিয়া যায়
কাবে হিরার কলসী লইয়ারে সুবল ভাই।
আওলা মাথায় বেনী, সেযে উদাগিণী
কার ঘরের রমণী যায় জলের লাগিয়া
হায়রে সন্ধা কালে, কেনে আইছে জলে,
জলের ছলে আইছে কার লাগিয়া।
শ্যামল বরন রুপেরি কিরণ, অরুন নয়ন রূপ,
আমি পাগল দেখিয়া
আমি অপমানে, বুজতে পাই বোধ হয় তাহার সাথী নাই,
মনে দু চায় দেশে যাই তারে লইয়া।
বকে কমল কলি, হাতে ফলের ডালি
ফলের মালা কার লাগিয়া আনছ গাঁথিয়া
যদি তোমার মনে চায় উঠ মাহতাব মিয়ার নায়
চির সাথী যাব বানাইয়া ও সুবল ভাই।
গান-৬০
একাএকা নদীর ঘাটে কী করতেছ ভাবনা
কাছে এসো দূরে থেকো না।
কন্যালো বৃক্ষে যখন ফল ধরে
সর্ব লোকেই খাইতে পারে,
ভ্রমর করলে মধু পান,
তাতে ফুলের বাড়ে সম্মান,
তুমি কী কন্যা বুজিয়াও বুজ না।
কন্যালো আমি তোমার অঙ্গের ভূষন,
চিনিয়া লও মানিক রতন,
করে যতন ফুড়াও বাসনা,
আমি তো ভ্রমর জাতি,
মধুর লোভে ফুলে থাকি,
মাখা মাখি করিয়া দেখনা।
কন্যালো আস যদি আমার সঙ্গে
আমি মিশিয়া থাকিব তোমার অঙ্গে,
প্রেম তরঙ্গে থাকব দুজনে,
মাহতাব বলে, পড়াইয়া মালা
অঙ্গে মাখ চরণ ধোলা,
যৌবন জালা আর ফুড়িও না।
গান-৬১
যারা ভালোবাসতে জানে, তারে মিশে প্রাণে প্রাণে,
দুইয়ের মন এক না হলে প্রেম চলে না অমধুরূপী।
তোরা নারী জাতি, পাষান অতি জান না পিরিতী
রায় কাঞ্চা সোনা,
তোমার মায়ার রাক্ষসিনি, কলি ভূজংগিনী
যার গায়ে দংশন কর তার উঝা মিলেনা।
প্রেমেরী বন্দনে, নয়নেরী বানে, ৪৮টি গুণে
আমায় করল দেওয়ানা,
হইতাম যদি নারী দিতাম মায়া বেড়ী
অভিমানে করতাম কত ছলনা।
যদি হইতাম রমণী, সাজিতাম গোপনী
খাওয়াইতাম ননী আর কত মাখন ছানা,
শুনরে ভাই সুবলে, আমি রাই চিন্তায় দূর্বল,
খাইব গরল আর প্রাণে সহে না।
যত পুরুষ জাতি, কেও করিলে পিরিতী
১৬ আনা ধন দিয়া এ জাতিরে বিশ্বাস কর না,
মাহতাব মিয়ার এই দশা করিয়া ভালোবাসা
কুকিল কণ্ঠ মধুর ভাষা ভুলা যায় না।
গান-৬২
আমার মত চির দুঃখিনী আর জগতে দেখি না
প্রাণ সই, সই গো, গেল বন্ধু আর ফিরে আইলে না।
বাঁশীওয়ালা নদীর পারে, বলেছিল হাতে ধরে
সেত আমার আমি তাহার মাত্র এ দুজনা
আমি তাতে বিশ্বাস করে জীবন যৌবন দিলাম তারে,
আর কিছু ধন বাকিও রাখলাম না।
সখীগো আমি ভূলে যাব মনে করি ভূলিতে নাহি পারি
পড়ল একি মায়া বেড়া, আগে বুজলাম না,
সর্পে যদি দংশন করে উঝায় এসে ভালো করে
আমার বিষের উঝা পাইলাম না।
সখীগো আমি হয়ে যাব বাড়ি ছাড়া, আমারে কেউ সইছ না তোরা
আমি বন্ধের প্রেমের পুড়া, দেখুক লোকজনা,
যত কথা ছিল মনে, সবই গেল অকারণে,
মাহতাব মিয়ার মনের বদেনা বুঝাইয়া পাইলাম না।
গান-৬৩
শুন শুন ভাই সুবল, যার লাগিয়া জাতি পাগল
ঐ রমণী আজ ঘাটে জল বুড়ায়। হায়..
কী বলি তার রূপ মাধুরী, অঙ্গে পড়েছে জর্জেট শাড়ী,
স্বর্গের হুরি যেমন নদীর কিনারায়
বুকে তাহার কমল কলি পাগল করত ভ্রমর অলি
ঐ ফুলের মধু খাইবার আশায়,
শ্যামল বরন রূপের কিরণ,মাঝা চিকন বাকানয়ন,
হাটিয়া যায় সোনার নূপুর পায়।
দুই ঠোঁটে তার আলতা মাখা, কপালে তার তিলক ফোটা,
আউলা চুল তার বাতাসে উড়ায়,
জানি না কার কুল বধু বুক ভরা তার কত মধু
অসময়ে চলে বেপর্দায়,
মুচকী হাসিয়া আর নয়নে ফিরিয়া চায় যাহার পানে,
পিঞ্জিরা থুইয়া ময়না উড়িয়া যায়।
অনুমানে বুঝি আমি, তাহার ঘরে নাই স্বামী
নয়তো কী আর বার মাসী গায়,
বুকে তাহার যৌবন জ্বালা, অন্তরে আগুনের চুলা,
সব সময় জ্বলে অন্তরায়,
তোমার যৌবনের কী হবে গতি
নাই যখন সঙ্গ সাথি
উঠ আসিয়া মাহতাব মিয়ার নায়।
গান-৬৪
হায়রে মধুর পিরিতী করিয়া করলাম ডাকাতি,
কুল জাতি গেল একেবারে, প্রাণ সখীরে
এ, ভুলিতে পারি না বন্দুরে।
সবাই করে পিরিতী কেউ ভবে নয় সতী
আমি একা একা দূষি হইলাম এ সংসারে,
সভাই করে আনন্দ, আমি কই না মন্দ
আমার মন্দ টাউন বন্দরে।
ভ্রমর বসে ফুলে, দুটি পাখা মেলে,
ফলের কলি লইয়া কুলে, কত আনন্দ করে…
আমার ভ্রমর দেশে নাই, কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাই
নিশি পোহাই থাকিয়া একা ঘরে।
করিয়া ভালোবাসা, কপালে দূর্দশা
গাছতলাতে বাসা ঐ নদীর পারে…
মাহতাব মিয়ার কেহই নাই.
দুখের গান আর কতই গাই,
পুড়িয়া ছাই মোহন বাঁশীর সুরে।
গান-৬৫
রাই কিশোরী গো, তুমি পর জনমে হইও বংশীদারী
আমি যাইব জলে, তুমি বসিয়ো কদম ডালে
মৃদু সুরে বাজাও বাশরী। এ…
আমি তোমায় দিয়ে বাঁশী, হব চরণের দাশী,
মনে বসে থাকিব সুন্দরী
নিশিরাত্র পরে কাঁদবে এসে দুয়ারে
আমি ঘরে থাকিব কিশোরী।
তুমি হবে নন্দ ঘোষের পুলা,
সবোই বলবে কালা,
কেউ বাসবে না ভালা এদের নারী
মধুর প্রেমের কারণে, কাঁদবে বসবে চাণে,
আমি নয়ন বানে লাগাইব বেড়ী।
এদের যত গোষ্ঠীগণ, সইবে না আর জালাতন,
বলবে নন্দের নন্দন,
ভাংগ ধইয়ের হাড়ি,
মাহতাব কথা বলছে খোলা..
বুজবে কৃষ্ণ জালা
উদগলায় নিয়ে লাবে বেড়ি।
গান-৬৬
জলের ছলে দেখে আসি
আসেনি মোর প্রাণ কানাই চলরে সখী জল আনতে যাই।
যখন আমি রানতে গো বসি, তখন কালায় বাজায় বাঁশী গো,
ধুয়ারী ছলনায় বসি, কাঁন্দিয়া মোর বুক বাসায়।
যৌবনের কী জ্বালা গো সখী, ভিজা গামছা বুকে রাখি গো
জ্বলে উঠে থাকি থাকি, প্রেমাগুণে হইলাম ছাই। এ
আসলা না মোর যৌবনেগো কালে,
আসবে কী আর যৌবন গেলে গো.
মাহতাব বলে, শুকনা ফলে
ভ্রমর বসবার আশা নাই। এ…
গান-৬৭
ফুলের কলংকিনী হইলাম তোমারী কারণ,
সোনা বন্দুয়ারে তবু আমি পাই নাই বন্দের মন।
প্রাণ সখীগো যদি বাবার কাছে যাইতে চাই,
ভাইয়া বলে, জায়গা নাই.
মায় বলে, কলংকিনী তোর হইল না মরণ ভগ্নী বলে,
সর্বনাশী, মরগা গলে লইয়া ফাসী,
তোমার বাঁশীর এমন জ্বালাতন এ..।
মন্দ বলে, প্রতিবেশী, আমি পাড়ার সর্বনাশী,
এ দাশীর নাই আপনজন,
আদর করত নানা, নানী এখন বলে, নাহি চিনি..
বন্ধুগো কানাকানি করে লোকজন।
এখন চতুর দিকেই ঘোর অন্ধকার..
একমাত্র ভরসা তোমার
গোছায় আঁধার হইয়া সুজন
মাহতাব মিয়া প্রেমে পুড়া
এইকামে কেউ যাইস না তোরা
প্রেমে পুড়ায় সারাটি জীবন।
গান-৬৮
শ্রী হরীকে পেতে হলে আগে হৃদ মন্দীরে কর পূজা
ভুল ডাকে কাজ হবে না ভগবান কী এতই সুজা।
স্ত্রী পুত্র তেক করিয়া গেলে সাধুর পিছনে
তবে সেত যাইতে পারবি প্রেম বাজারের দোকানে,
পাহাড় পর্বত বন শ্বসানে লাভটি এত দূরে খোঁজা।
প্রেম বাজারে লেনা দেনা প্রেমিক যে জন জানতে পায়,
ভগবানকে লক্ষ করিয়া ভক্তি করো মানুষের পায়..
হরী কেউরে হাসায় কেউরে কাঁদায় কেউরে আবার ভূগায় সাজায়।
দশে মিলে লম্পে ডম্পে কর না আর হরী হরী…
হরী বলে, মানুষ ভজ মানুষই নায়ের কান্ডারী
মাহতাব বলে, নামের হরী
মানুষ থাকলে হরী তাজা।
গান-৬৯
এই ভবের মায়া ত্যাগ করিয়া, দেশে হইলাম রওয়া না
শুন যত নগরবাসী,
আমার ভুল হলে করে দিও মার্জনা।
ছেড়ে দিয়ে গোষ্ঠী গেতী পর যত করিলাম সাথী গো..
নিবিজিবি আমার দেহের বাতি, সাথী কেউরে দেখি না।
যখন ছিল নতুন যৌবন, লোকের কাছে ছিলাম মানিক, রতন গো
কোকিলকণ্ঠি পাখির মতন, মানুষের মন করিতাম সান্ত্বনা।
পড়িয়া ভবের মায়া জালে, কাল কাটালাম রংমহলে গো,
কত নদী নালা খালে বিলে, হারাইলাম কাঞ্চা সোনা।
সবার হবে এমনি দশা, ভেঙ্গে যাবে সুখের বাসা গো,
মাহতাব মিয়ার দুঃখের দশা মালীক চিনা হল না।
গান-৭০
কার জমিনে জমাইছ বাজার পাগল মন আমার॥
কী বলিয়া আসলে ভবে মনে নাই তোমার..
আমার আমার সদাই কর তুমি বল কার।
১৩০ খাজনা বাকি আগের কর পরিস্কার..
নইতো মদনা কেদার ধাক্কা খাইয়া হইবে ছাড়কার।
সোনা বাড়ি টাকা কুড়ি, যত কিছু তোমার..
সোনার দেহ নিলাম হবে, যেদিন আসবে তসিলদার।
লা ইলাহা ইল্লালাহু কলমা কর সার..
মাহতাবে বলে, দিনের নবী, ফুলছিড়ার কান্ডার পারেরি।
গান-৭১
গুরুর প্রেমে বৈঠকে গান গাইতেছে বাজাইয়া একতারা..
লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ,
বাজেনা গান ঐ সুর ছাড়া।
ভবে যত ফকির সাধু, লুটিয়া খায় গানের মধু
ছেড়ে দিয়া ঘরের বধু, ভাবের পাগল সাজল তারা।
যে মইজাছে বাউল গানে, কালির লিখা আর কী মানে,
কী করিবে ঝড় তুফানে, বলক মন্দ মুন্সী যারা।
মাহতাব মিয়া কেঁদে বলে, মিশাও নিয়া ঐ গানের দলে,
সোনার যৌবন গেল বিফলে, খাটনি খাটলাম পয়সা ছাড়া।
গান-৭২
ওরে বাবা শাহ সুলতান ডাকিতেছি তোমারে..
তুমার কাছে দয়ার ভান্ডার দাও মোরে।
দুই রাকাত নামাজ পড়তে জায়নামাজ বিচাইলাম,
কেউ তো বুঝতে পারল না বাবা তোর আজব লীলা
তোমার রহমত ছড়াইলা সারাটি মদনপুড়ে।
মদনপুড়ে আগণ করে জুড়াইলা কী কারবার..
ভালোমন্দ পরীক্ষা করে জমাইছো মায়ার বাজার,
কেহ বেছে কেহ কিনে, কাম কামিনীর বাজারে।
ইতর ভদ্র মেথর মুচি, তোমার কাছে যাহা চায়
কেউ ফিরে না খালি হাতে, সুলতান তোমার পাক রওজায়
মাহতাব মিয়ার মনে দু চায় দেখিতে নয়ন ভরে।
গান-৭৩
কলির কালে পুলাপানে মানে না ভাই পিতা মাতা
কই না দুঃখের কথা।
প্রথম বয়সে হইল ছেলে হাউস করিয়া লইলাম কুলে,
কুকিলের বুল মুখে বুলে, লাগাইয়া মমতা
নিজে না খাইয়া তারে খাওয়াই সুখী মাতা পিতা..
আস্তে ধীরে যুবক হইয়া শিখিয়া ফালছে অভদ্রতা।
ছেড়ে দিয়া লেখাপড়া শিখছে কেবল আড্ডা মারা
বাবায় চলছে হাল চাষ করা, তার পড়নে জুতা..
কিছু কইলে রাগে বলে, আগে জন্ম নাহি দিতা
বাবার হোটেলে খাইয়া, সাজিয়া গেছে বাড়ির নেতা।
বাবায় বলে, দুঃখে মরি নিজের দুষে মাথায় বাড়ি
হাতের চেয়ে আম বড় ভাই চিপতে নাই ক্ষমতা
চোখ রাঙ্গাইয়া বাবারে কয় বুজ কচুর মাথা
মাহতাব বলে, ধরা তলে বৃথায় হইলাম জন্মদাতা।
গান-৭৪
যত শালা সবই বালা, দুষিনা কোন শালারে
আমি শালা বালা না সংসারে
যে শালারে করিলাম বিশ্বাস, সেই শালাই আমার করে সর্বনাশ
কেনতারে করলাম বিশ্বাস, আগে ভাবিনাই তাই অন্তরে।
ড্রেইনের পোলা ড্রেনেই ছিল, টানে তুলিয়া দেখাইছি আলো
এখন আমি খারাপ তারাই ভালো, আমার বিপক্ষে দল করে…
পোশলা তার রন্দন শালা মানুষ করছি কত শালি শালা,
গাং পাড় হইলে মাঝি শালা, দেশ ভরে গেছে মির্জাফরে
যারে দেখাই মানবতা সে বলে, বেটার নাই ক্ষমতা…
মাহতাব মিয়ার উচিৎ কথা, এখন পাগারের নয় সাগরে।
গান-৭৫
অলি নবী গাউছ কুতুব, কেউ তো রইল না,
আসিলে যাইতে হবে, লোকে বুঝিয়াও বুঝে না
বেঁধেছে সোনার ঘর বাড়ি, আজীবন থাকবে বলে, আশা করি
পেয়েছে সুন্দর নারী।
তোমার অট্টালিকা পরে থাকবে, তুমি রওয়া না।
তুমি না হয় এদেশের রাজা কয়েক কোটি মানুষ তোমার সকলেই প্ৰজা,
বুজলা না তোমি কার প্রজা,
রাজার রাজ মহারাজা, তরে চিনল না..
আকাশে বেলা বেশী নাই রং তামাসা ছেড়ে দাও
ওগো মিয়া ভাই,
মালিকের পুঞ্জির খবর নাই,
মালিক যেদিন হিসাব নিবে, রেহাই দিবে না।
যেদিন আসবে আজরাইল
বুকে পিঠে চতুর্দিকে খিল মারিবে
বঝবে না সেইত মুশকিল
বন্দ হবে কপাটের খিল, বিদায় ঘোষণা, এ.
গেয়ে নবীর ঘুন গান করে যেতে পারলে হইয়া মুসলমান,
তবেই মিলবেই আসান, মাহতাব বলে, খেয়ার মাঝি রৌজা মদিনা।
গান-৭৬
মিছা মর কেন জালবেয়ে ওরে মন জেলে,
ভক্তি জালের মাছ ধরতে কঠিন,
হঠাৎ না বাজে জালে, এ…
জালের ৩৬০ টা গাই, একটিও বালা নাই,
সাধন ভজন পূর্ন কাটি, লছ কাটে পাই,
লারা ক্ষরা গণতে সারা, এ মাত্র তোর কপালে, এ..
ভক্তি জালের মাছ ধরতে বাসলাম
আগে জাল ফিকতে শিখ না,
ফিকতে গেলে ঝইড়া পড়ে ছইড়া পড়ে না,
ওরে জাল বা কোথায়, তুই বা কোথায়
দিন গেল গোলমালে।
তোমার একে ছিড়া জাল, ঘড়ের মায়া কাল,
খাড়াইতে না পারলি তুই এ ভবের জঞ্জাল,
মাহতাব বলে, লুলু মারজান,
পাইবি নদী ডুব দিলে, এ।।
গান-৭৭
হায়রে দারুণ কারবাল্লাতে, হোসেই শহীদ সিমারের হাতে,
পাষান শিমারের দয়াতো হইল না দুঃখ সহে না,
কী লিখা লিখল সাই রাব্বানা।
জয়নব রূপে পাগল এজিত জহর খাইয়া হাসান শহীদ
নবীর বংশকে পানি খাইতে দিল না।
বন্দ করল ফুরাত নদীর পানি, কারবালায় হাহাকার
উঠল ধ্বনী, পানির অভাবে কলিজা হইল ফানা, এ..
কাসেম সখীনার হইল বিয়া গোছল হইল চোখের পানি দিয়া, বিয়ার শেষে কাসেমের ঘোষণা, বিদায় কর মা জননী
উঠাব পিতার দাদনী,
জননী কয় বিদায় মালীক আমিত কিছু না।
সখীনার কাছে বিদায় নিয়া, রনক্ষেত্রে যাও চলিয়া,
কাসেমে কয় বিদায় কর গো সখীনা, সখীনা বিদায় দিলাম,
একটা কথা বলতে আইলাম,
দেনমোহরার দাবীত করব না।
কাসেম যুদ্ধে গেল মরি, এক রতে তিনজনের বাড়ি,
খালী হয়ে গেল সোনার মদীনা,
বলছে বাউল মাহতাব উদ্দিন
বিচার হবে হাসরের দিন, সেদিন বাহাদুরী খাটবে না।
গান-৭৮
পাঁচ ওয়াক্তে মসজিদ ঘরে আদায় করে যে পাঞ্জাগানা, খুশি হয় রাব্বানা।
পড়িলে নামাজ রোজা বেহেস্তের রাস্তা সোজা,
সোজা মুমিন মানুষে পাইছে মজা, কমিনে পাইছে না,
কুরআনের আদা জায়গায় নামাজের ঘোষণা,
কুরআন আল্লাহর মুখের বানী বিশ্বাস রাখ ষোলআনা।
যত আছ ভাই মুসলমান ঠিক রাখিয়া নিজের ইমান
মান ইসলামের বিধান যাহা হাদিসের ঘোষণা,
পর্দা করিয়া থাক বেপর্দা হইও না।
বড়কে মান্য কর ছোটকে স্নেহ কর
হাসর মিজান বিশ্বাস কর, তুমি চিরদিন থাকিবে না।
নবীর দিন না মানিলে সাফায়াত পাবে না,
মাহতাব উদ্দিন হাসরের দিন নবীর সাফায়াত করেন কামনা।
গান-৭৯
তুমি আছ এই বিশ্বাসে, গাই প্রভু তোমার গুণগান,
এই বিশ্বের মালিক তুমি তোমায় দেখতে কাঁদছে প্রাণ।
পাহাড় ভেঙ্গে সাগর কর, সাগর কর বালুর চর,
তুমি সকলি কারীও পার কেউ না যে তোমার সমান।
কেউরে তুমি বানাও ধনি কেউরে বানাও দ্বিন ভিখারীনি,
আল্লাহ তোমার মুখের বানী লিখা পবিত্র কুরআন।
তোমার হাতে এই বিশ্ব গড়া, আদম বানাইছ তুমি সকল সেরা,
বানাইয়া চন্দ্ৰ-সূর্য, গ্রহ-তারা সাজাইলা ফলের বাগান।
নরের জোড়া বানাইয়া নারী এর ভিতরে করছ ভিষম কারীগড়ী,
নারী-পুরুষ লাগাইয়া বেড়ী তৈয়ার করতাছ মানব সন্তান।
কেউ মরিতে নাইচ্ছা করে তথাপি অবশ্যই মরে,
মাহতাব বলছে প্রকাশ করে মালিক তোমার ইচ্ছাই সমাধান।
গান-৮০
বর্তমানে এই সমাজে নাই মানুষের মানবতা,
কাকের মাংস কাকে খায় না মানুষে খায় মানুষের মাতা॥
দূর্বল যখন বিপদে পরে মরারে গিয়ে মানুষে আরও মারে,
সুজোগ পাইলে শোষন করে বুঝে না গরীবের মনের ব্যাথা।
গরীবের মেয়ে ধনীর ঘরে পেটের দায়ে চাকরি করে,
ধনী মান-ইজ্জত তার লুন্টন করে বানায় পথের মেয়ে বিপর্জিতা।
গরীবেই করে দিন মজুরী ধনীরাই কন্টেকটারী,
এই গরীবের পয়সা, করিয়া চুরি সমাজে হয় বড় নেতা।
ধনীরাই নির্যাতন করে গরীব নিরবে শয্য করে,
আমরা জন্ম নিলাম গরীবের ঘরে প্রতিবাদ করার নাই ক্ষমতা।
ধনীর কথা সবাই মানে গরীবের কেউ না শোনে,
এই নোংরা সমাজের কারণে গরীবের মেয়ের জীবন বৃথা।
নির্বাচন আইলেই গরীবের বন্ধু, হৃদয় ভরা তার দয়ার সিন্ধু,
মাহতাব বলে, একবিন্দু নির্বাচনে গেলে কয় না কথা।
গান-৮১
ময়মনসিংহে বাড়ি মোদের জানাই ঠিকানা,
এক ড্রিসট্রিকে ছয়টি ড্রিসট্রিক এত বড় ড্রিসট্ৰিক দেখি না,
বাহাদ্রাবাজ টাঙ্গাইল যমুনা পার মোহনগঞ্জ আর ভৈরব বাজার,
উত্তরেতে গারো পাহাড় ময়মনসিংহের সীমানা।
ময়মনসিংহে আছে কত পুরানো স্মৃতি,
ময়মনসিংহের বুক ছিড়িয়া ব্রহ্মপুত্র বইছে নিরবধী,
হিন্দু সমাজ স্নান করিয়া মুক্তির করে কামনা।
ময়মনসিংহে বেশী ঝড়নাই জলোচ্ছ্বাস,
আল্লাহর রহমত আমরা করতেছি মায়ের কোলে বাস,
ব্রহ্মপুত্র নদের কিনারে বোরা বাবার আস্তানা।
ময়মনসিংহের মানুষে গায় আউল বাউল জারি
বাউল সম্রাট জালাল উদ্দীন সিংহের গায়ে বাড়ি,
কাজী নজরুল হয় আমাদেরই অংকুরই হয় ত্রিশাল থানা।
মাওলানা ভাসানী তারে নিয়া কত গর্ব করি।
সারাদেশ জয় করিল টাঙ্গালিয়া শাড়ী,
ওরে ময়মনসিংহের কইমাছ ছাড়া ঢাকার শাহর চলে না।
মধুপুরের বন জঙ্গলে ফলে আনারস,
সারা দেশের লোকে খায় হায়রে মধুর রস,
মুক্তাগাছার মুন্ডা মিটাই তার সাথে নাই তুলনা।
ময়মনসিংহে আছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের যাহা দরকার সবই দিছে দয়াময়,
জামালপুর কিশোরগঞ্জে চিনিকলের কারখানা।
ময়মনসিংহ শিক্ষার শহর সারা দেশেই জানে
ইতিহাস করিয়া গেছেন যত গুণিজনে,
মাহতাব মিয়া বলছে গানে আরও আছে রচনা।
গান-৮২
গুরু তোমরা রইলেন ঘরে বইসা আমায় পাঠালেন বৈদেশে,
তোমার সাথে যাইবো গো গুরু সদায় আমার প্রাণরে কান্দে,
গুরু আমায় নেও না সঙ্গে।
সাগর ভরা অথই জলে ঢেউয়ের হানাহানি,
কেমনে সাগর পাড়ি দেব সাঁতার নাহি জানিরে
ঢেউ দেখিয়া পারে পরান কাঁপে ডরে,
তুমি গুরু আপন হইয়া নিত্ত সেই পারে।।
একে আমার ভাঙ্গা তরী বাইনে ওঠে পানি,
কত ভরা গেছে মারা যত জ্ঞানী গুণী রে।।
ছয়জন আছে মাঝি মাল্লা তারা হলেন বাদী,
মাহতাব বলে, পারি দেব দয়াল থাকে যদি।।
গান-৮৩
একদিন হবে মহাপ্রলয় কিছুই রবে না,
মানুষ পশু কীটপতঙ্গ হইবে ফানা
কিয়ামতের আগে ঊনচল্লিশটি আলামত হবে,
নারী সমাজ বাঞ্জা হবে সন্তান হবে না,
বাড়বে কামের উত্তেজনা সহিতে পারবে না,
পুরুষ লোকে দৌড়াবে ফুরাতে বাসনা
পুরুষ লোক বাঁচিবার আশায় উঠবে গাছের আগায়,
প্রাণের প্রস্রাব করবে যা হাদিসে ঘোষণা,
নারী সমাজ করবে কী যা হাদিসে পেয়েছি
পুরুষের প্রস্রাব বক্ষন করে পাইবে সান্ত্বন॥
মানুষ হয়ে যাবে বেঈমান থাকবে না কারও ইমান,
পরে থাকবে সাদা কুরআন, হরফ থাকবে না
আসবে খারে দরজাল বলবে আমাকে আল্লা মান
বেহেস্ত দোযখের লইয়া নিশানা।।
গান-৮৪
কিয়ামতের আগে দারা দারাজতুল কুবরা নামে রাত্র হবে
মানুষ ওঠে বরসা করিবে রাত্র পোহাবে না,
এমন সময় দিবে একজনের আযানের আযানের ধ্বনি
পোহাবে রজনী পশ্চিম দিকে পশ্চিম দিকে সূর্য উদয় কিয়ামতের নিশানা,
সেদিন ভূমিকম্প হবে এ পৃথিবীর মাটি কাঁপতে থাকবে
পাহাড়ে পাহাড়ে ডেস খাবে কুরআন হাদিসে বর্ণনা,
সেদিন হবে জলে জলময় হাদিস কুরআনে যাহা কয়
মাহতাব বলে, দয়াময় দয়া করবে না।।
গান-৮৫
মন পাগলারে আমার দিল পাগলারে, হইলা তুমি কার লাগিয়ারে,
জয়নব রূপে এজিত পাগল বন্ধ করে পানি
ইমাম শোকে হইলেন পাগল ফাতেমা জননী,
কাশেমেরই রূপে পাগল বিবি সখীনা
যেদিন বিয়া সেদিন রারী সেই দুঃখু আর সহে নারে।
আল্লাহর প্রেমে আইয়ুব নবী ছিল যে কাতর
সর্ব শরীর কীটে খাইল ১৮ বছর,
তবুতো রহিমা বিবি ঘৃণা নাই কখন
ভিক্ষা করে বাঁচাইল স্বামীর ও জীবন রে।।
লাইলীর প্রেমে মজনু পাগল জগতে আসিয়া
জঙ্গলের বাঘেরে মজনু লাইলী গেছের কইয়া,
দ্বীনের নবী ছিল পাগল ওম্মতের দায়
মাহতাব মিয়া হইছে পাগল সুন্দর রমণীর দায়রে।।
গান-৮৬
পর কোনদিন হয় না আপন ও বুঝ মনরে,
অঙ্গের মাংস কাটিয়া দিলে তবু না পর আপন বলে
কল কৌশলে করে অপমান ওবুঝ মনরে।
যারে আমি ভালোবাসি সে বলে, আমার বিদেশি
এত দুষি হইলাম বা কেন,
ভাসিয়া আমি শোক সাগরে কাঁন্দি বসে নদীর পারে
আঁখির জলে ভাসে মোর বদন
গোপনে কয় মিষ্টি কথা প্রেমের আশায় মানবতা
অভিনয়ে ভাসায় দুই নয়ন,
যৌবন গেলে নালিতা গোড়া বিষের চেয়ে অধিক মিঠা
চোখের কাঠা করিলে দর্শন।
গান গাইতে গায়ক ভালা, অবশানে ডাকে শালা,
পয়সার বেলা নাই গোতকজান
মাহতাব কয় তেমনী দশা কলির যুগে ভালোবাসা
ছোটে নিশা ফুরাইল যৌবন।।
গান-৮৭
খাজার নামে এত মজা জফিলে ভুলা যায় না
কত মানুষ খাজার নামে হইয়া গেল দেওয়ানা।।
আল্লাহর ধন রাসূল কে দিয়া আল্লা লইল ফকিরি
রাসূলের ধন খাজায় পাইয়া হইয়া গেল আজমিরি,
শোকাইলা আনার সাগর ঘায় বাবার নিশানা।
খাজায় যারে করে দয়া ভয় নাই তার অকূল সাগরে
ভাঙ্গা তরি ডুবলে পরে ভাসাইয়া দেয় উপরে,
খাজায় যারে করে দয়া অভাব তাহার থাকে না।
মাহতাব তোমার নামের পাগল, বাড়ি ছাড়া সংসারে
দেশ বিদেশে বেহালা কাঁদে, খাজার নামে গান করে,
কিনছিত দয়া কর খাজা, তোমার দয়া কামনা ॥
গান-৮৮
রূপের কন্যাগো আমায় করলে দেওয়ানা,
তোমার রূপে পাগল গণতে পারি না
যেদিন দেখলাম রূপের ছবি, সেদিন হতে সৰ্ব ত্যাগী,
দেশে দেশে ভিক্ষা মাগী একটু দয়া কর না।
মাঝা চিকন বাঁকা নয়ন সোনায় মাকা সারা বদন,
আকাশেরী চন্দ্র যেমন ধরায় ঠিকানা।
আমি করি তোমার আশা, তুমি কার কূলে বেঁধেছ বাসা,,
তোমার প্রেমে এতই নিশা ঘুম ধরে না॥
নারী জাতি যাদু জানে পুরুষ মারে নয়নের বানে,
মাহতাব মিয়ার এই জীবনে শান্তী হল না।।
গান-৮৯
আমার জীবন যৌবন সঁপে দিলাম যারে রে সখী
সে বিনে দরদী নাই সংসারে।
বাঁশিওলা নদীর পারে, বলেছিল হাতে ধরে
সেতো আমার আমি তাহার মাত্র এই দুজনারে … সখী।
আমি অতি বিশ্বাস করে জীবন যৌবন দিলাম তারে
আর ধন বাকি তো রাখছিনারে
আমার মত কপাল পুরা এই জগতে কেও হইছ না তুরা
বাড়ি ছাড়া হইতে হবে সংসারে।
আমার বুকের কমল কলি, দিলাম বন্দের হাতে তুলি গণ,
মাহতাব মিয়ার মরণ মাত্র বাকিরে॥
গান-৯০
বাউল সমাজের ইজ্জত মারল, এক জাতিয় মাইয়ার দলে
গেল রসাতলে সমাজ গেল রসাতলে
পর্দার মাঝে ছিল নারী কইতে কথা লজ্জা মরি
হাতে লইয়া লাও কঞ্জুরী বাউল ভেসে চলে..
অল্প বয়সের ওস্তাদ ধরিয়া মিসলো পুরুষের দলে,
গানের আগে প্রেমের শিখা, চলছে এসি কারেন্টের বলে।
পারমিশান একটি পাইছে ভারী গুরু শিষ্য হয় স্বামী, স্ত্রী
কোনো কিছু কইলে কয় সাধন করি, গুরুর চরণ তলে..
সাধন থইয়া ভজন করে সময় রাত্র হলে
অতি সাধনে দরগা উঠে বিয়ার মালা ওস্তাদের গলে॥
হুক্কর বাজায় বেহালা গান, গায় শুধু কামের জালা যুবকরা কয়,
শবরি কলা যদি খাইতাম ছিলে,
সত্য মিথ্যা যাহা বলুক মুসকি হাসি গালে
তাই শুনিয়া জনগণ কয়, এই বেটি সব কুরআন বলে।।
কেউ যে বুঝল না বাউলের তথ্য, তুমি শিকে হইল মস্ত
বাউল বলতে আছে সত্য চিন্তা কর মূলে,
বাউল সমাজের যত মেয়ে নরত কী বালাই চলে
মাহতাব মিয়ার উচিৎ কথা হবে না জীবন গেলে।।
গান-৯১
পাগলিনী করলে বন্ধু তোমার গোপন পিরীতে,
কত চেষ্টা করে দেখছি পারি না ভুলিতে।
তুমি আমায় ভুলে গেছ, আমি তোমায় পারিব না ভুলিতে
তুমি ছারা আমার জোরা বানবো না জগতে।
তুমি আমার গলার মালা, থাকিতাম এক বিছানাতে,
তুমি আমার ফুলের ভ্রমরা মধু খাইতা বুকেতে।।
না পাইলে আর কী করিব, ফসি লইব গলেতে
মাহতাব বলে, তা না হলে ঝাঁপ দিব ঐ জলেতে।।
গান-৯২
মালা গাঁথলে লাভ হবে না
যার লাগিয়া গাঁথ মালারে তারে আর পাইবা না।
মানিক রতন কাছে থাকতে বুঝ নাই বেদনা,
তোমার মত হাজার নারী গো কত করতেছে সাধনা ॥
পুরুষ ভ্রমর জাতি তুমি কী জান না,
নানান ফুলের মধু চোষে গো তারা কইরা আনা গোনা।।
তোমার দুসে হারাইয়াছ, খেলে সোনা,
যার লাগিয়া কান্দ তুমি গো, সেতো আর কান্দে না।।
যুগে যুগে কান্দ তুমি, কান্তে নাই আর মানা
মাহতাব কয় পর জন্মের কর আরাধনা।
গান-৯৩
অহংকার অহমিকা ছাড় চির তরে মানুষরে ..
যদি তুমি মুক্তি চাও শক্তি মুলে ভক্তি দাও তোমাকে বিলিন করে॥
গুরু তোমার কৃষ্ণ হয় বিধিত বিদানে
অরজুনে হয়ে ডাক তারে, রাখ যুগ আসনে
তুমি তোমায় ভুলে যাও বন্ধ দোয়ার খুলে দাও
গুরুকে এনে বসাও ঘরে॥
কেবা গুরু কেবা শিষ্য চিনে লওগা আগে
জানা শোনা হয়ে গেলে আর ভাবনা লাগে
গুরু শিষ্য ভিন্ন নয়, দুজনে মিলে একজন হয়
দুই ভাবিলে পরবে ভিষোম ফেরে।
মান আরাফা নাফছাহু বিদান জানিয়া
নিজকে তুমি নিজে আগে লওরে চিনিয়া
কুরআনের কথার ঘোরানে আসল কথা ভেবনা
গুরু বিনে অন্যে নাহি পারে
সমাজ সহ দেশ আচার আস্ত সুখের কনা
রেণু মাত্র রেখে ভক্তি দিলে তো নিবে না,
মাতাবে কয় সারা সার কর গিয়া
চেন্ডোর গুরু বিনে কে তর তরে।
গান-৯৪
যার শরীর কালা তার ভিতর কালা সখী আগে জানি না,
জানলে কী আর নব যৌবন তার হাতে তুলে দিতাম।
কী সর্বনাশ করলাম আমি এখন কান্দ বসে দিন রজনী
বারন হয় না চোখের পানি কাঁন্দিয়াও দিন ফুরায় না ॥
প্রেম না করিয়া ছিলাম ভালা, প্রেম করিয়া কী হইল জ্বালা গো,
বন্ধের প্রেমে এত জ্বালা জল দিলেও বারন হয় না।
আমার বুকে হাত রাখিয়া বলেছিলা, শ্যাম কালিয়া গো
বলেছিল কসম খাইয়া জীবনে প্রেম ছাড়বে না এখন এত ছলনা।।
নানান ফলে সাঁজাই বাসর আসতে পারে আমার রসিক নাগর,
সারা রাত্রি নাই তার খবর মাহতাব আর বাঁচবে না।।
গান-৯৫
জ্ঞানী মানুষের সঙ্গ কর, তোমার মাটির দেহ হইবে সোনা,
সাধন বজন কলা কৌশল জ্ঞানী লোকের সবাই জানা।
গুরুর পদে রাখলে ভক্তি জেগে ওঠবে তোমার সাধন শক্তি,
ফুটে ওঠবে জ্ঞানের বাতি দেখতে পাবে ষোলআনা।।
গুরুর কথা মান যদি দূর হবে তোমার গরল ব্যাধি,
পারি দেবে কত সাগর, নদী ঝড় তুফানে পাইবে না।।
বজন পথে পাঁচটি কাঁটা সঙ্গে আছে রিপু ছয়টা,
সাধন করতে পারলে সাবাস বেটা, কুইচ্ছার শরীলে কাঁদা ময়লা॥
মাহতাব বলে, গুরু ধর কুম্বক সাধনা কর
এম.এ ক্লাসের গল্প কর গুরু শিষ্য এ দুজনা।।
গান-৯৬
এদেশ আমার জন্মভূমি নগদ রক্ত দিয়া কেনা
যুদ্ধ করে স্বাধীন করলাম আমরা যত বীর বাঙ্গালী মুক্তিসেনা ॥
কত মায়ের মানিক হারা সদায় বইছে নয়ন ধারা,
যুদ্ধের জন্য বাড়ি ছাড়া আজ তো ফিরে এল না।।
মা-বোনদের ইজ্জত গেল,পাঞ্জাবীরে লুটে নিল,
রাজাকাররাও সঙ্গে ছিল ওদের কী মা-বোন ছিল না।।
নারী পাইলে ধর্ষণ করে অবশেষে গুলি করে,
কেঁদে মাহ্দাব উদ্দিন বলে, স্মরণ হইলে দুঃখ সয়না।।
গান-৯৭
প্রেম করা তো সহজ বিষয় নয়ম প্রেম করা কঠিনও বিষয়,
প্রেম করিলে দেশ বিদেশে কত কথা শুনতে হয়।
প্রেম করিয়া ছাড়িয়া ঘরবাড়ি সাজতে হয় প্রেমের ভিখারী
যার সাথে প্রেম করিবা তার কর মজুরী,
তার চরণে ভক্তি করি মায়া বেরি দিতে হয়।
প্রেম করিল আইয়ুব নবী আল্লাহর কাছে প্রেমের দাবী,
১৮ বৎসর পরীক্ষা দিল হইয়া কুষ্টু ব্যাধী
তার প্রেমে রহিমা বিবি দিল প্রেমের পরিচয়।
শিরি ফরহাদ প্রেম করিয়া মিথ্যা খবরও পাইয়া
প্রেমের মরায় উভয়েই গেছে মরিয়া,
ওরে লাইলী মজনু প্রেম করিয়া জঙ্গলের বাঘের সাথে কথা কয়,
বর্তমানের পিড়িতী মাত্র দুদিনের সাথী
লোক সমাজে শুনলেই কয় হইছে ডাকাতি,
মাতাবে কয় খাঁটি পিরিত জাতি কুলের রাখে না ভয়।।
গান-৯৮
দ্বীন দুনিয়ার নবীজি আমার,
ওরে নবীজি আমার পারেরই কান্ডার
নত শিরে সেবি আমি চরণ মোস্তফার।
নবী জন্ম নিয়া আমেনার কোলে,
এই ভূমন্ডলে দুগ্ধ খাইলেন বিবি হালিমার,
নবী মাসেরই তফাৎ পিতা আবদুল্লাহ
ওফাত হল না সাক্ষাৎ পিতা আবদুল্লাহর॥
নবী খাদিজার বাড়ি যাচ্ছেন চাকরি করি
মাটে গেলেন নবী বকরী চড়াইবার,
খাদিজা দেখে চাইয়া নবীকে মাটিতে ফালাইয়া
বুক চিরিয়া কী বাহির করছে তাহার
খাদিজা গেলেন জিজ্ঞাসা করিলেন, কী হইয়াছে বলেন আপনার,
নবী মুচকি হাসি আমি ভালো আছি,
কেন জিজ্ঞাস করলে বলেন সমাচার।
খাদিজা এই কান্ড দেখিয়া অবাক গেল হইয়া
বোধ হয় উনি আল্লার নবী দুনিয়ার মাজার,
খাদিজায় বলে, আমার আমায় আপনি নিকা করিলে
সফল জীবন হবে এ ভব সংসারে
নবী বলে, নিকা করতে পারি, আমার মত সাজতে হবে ভিখারী
ধন দৌলত বিতরন করে দিতে হবে আপনার,
ধন দৌলত বিতরন করিল ভিখারী সাজিল
মাতাবে কয় কিছুই নাই বিবি খাদিজার।।
