Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প146 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রিমঝিম – ২

    ১৮ই শ্রাবণ।

    কাল রাত্তিরে সে কী কাণ্ড!

    অফিস-ঘরে গিয়ে টেলিফোন তুলে নিলুম, নিজের টেলিফোন নম্বর দিয়ে বললুম, কাকে চাই?

    হেঁড়ে গলায় উত্তর এল, প্রিয়দম্বা  ভৌমিককে চাই।

    রাগে গা জ্বলে গেল। কি রকম অসভ্য। আমার নামটা পর্যন্ত উচ্চারণ করতে জানে না। বললুম, প্রিয়দম্বা নয়, প্রিয়ংবদা। আমিই মিস্ ভৌমিক। কী চাই বলুন?

    হেঁড়ে গলা বলল, আমার বাচ্চা মেয়ের ভয়ানক অসুখ, তাকে রাত জেগে দেখাশোনা করবার কেউ নেই। আপনাকে আসতে হবে।

    রাত দুপুরে ডাক আসা আমাদের পক্ষে কিছু নতুন নয়। কিন্তু আজ মনটা কেমন বেঁকে বসল। তবু এক কথায় যাব না বলা চলে না। বললুম, আপনি কে? কোথা থেকে বলছেন?

    আমি শঙ্খনাথ ঘোষ। ১১৭ বেলেঘাটা নিউ অ্যাভিনিউ থেকে বলছি।

    রাত্তিরে কাজ করলে আমার ফী পঞ্চাশ টাকা।

    দেব পঞ্চাশ টাকা।

    কিন্তু এই বৃষ্টিতে যাব কী করে? এত রাত্রে ট্যাক্সিও পাওয়া যাবে না।

    আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। পাঁচ মিনিটের মধ্যে চলে আসুন।

    গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। আশ্চর্য লোক। আমি যেতে পারব কি না, বাড়িতে আছি কি না,–জেনেই গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন আর এড়াবার উপায় নেই। টেলিফোন রেখে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিতে গেলাম।

    শোবার ঘরে নার্সের ইউনিফর্ম পরতে পরতে ভীষণ রাগ হতে লাগল। বড়মানুষ নিয়েই আমাদের কাজ; যারা গরিব তারা তো আর রোগীর সেবার জন্য নার্স ডাকতে পারে না, নিজেরাই যতটুকু পারে সেবা-শুশ্রুষা করে। কিন্তু এই বড়মানুষগুলো যেন কী রকম, ওদের চালচলন ভাবভঙ্গি সব আলদা; দুচক্ষে দেখতে পারি না। যাঁরা বনেদী বড়মানুষ তাঁরা ভদ্র ব্যবহার করেন বটে, কিন্তু মুরুব্বীয়ানায় অনুগ্রহের ভাব; টাকাকড়ি সম্বন্ধে ভারি চালাক, এঁদের কাছ থেকে প্রাপ্য টাকা আদায় করা কঠিন কাজ। আর যাঁরা ভুঁইফোঁড় বড়মানুষ তাঁরা দুহাতে টাকা ছড়াতে ভালবাসেন, কিন্তু ব্যবহার একেবারে চাষার মত। মেয়েদের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় জানেন না; ভাবেন টাকা দিলেই যথেষ্ট, ভদ্রতার দরকার নেই। এই শঙ্খনাথ ঘোষটি বোধ হয় ভুঁইফোঁড় বড়মানুষ। প্রিয়দম্বা। কী কথার ছিরি! লেখাপড়া শিখেছেন বোধ হয় পাঠশালা পর্যন্ত। অথচ টাকা আছে।

    ভোঁ ভোঁ। রাস্তায় দোরের সামনে মোটরহনের আওয়াজ শুনে বুঝলুম মোটর এসেছে। তাড়াতাড়ি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়লুম। সদর-দরজায় তালা লাগিয়ে বেরুতে হল, বাসায় কেউ থাকবে না। শুক্লার কাছে আলাদা চাবি আছে, সে যদি আমার আগে ফেরে কোনও অসুবিধে হবে না।

    নীচে নেমে দেখলুম প্রকাণ্ড জাহাজের মত একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ড্রাইভার গাড়ির দরজা খুলে দিল, আমি টুক করে গাড়িতে উঠে পড়লুম; তবু মাথা মুখ বৃষ্টিতে ভিজে গেল। বাবা, কী বৃষ্টি! আমার জন্মদিন বেশ জানা দিচ্ছে।

    গাড়ি স্টার্ট দেবার আগে ড্রাইভার জিগ্যেস করল, আপনি মিস্ ভৌমিক?

    হ্যাঁ।

    গাড়ি চলতে আরম্ভ করল। ঝাপসা নির্জন রাস্তা দিয়ে কোথায় চলেছি বোঝা যায় না। যেন স্বপ্নের মধ্যে কোন্ এক রহস্যময় অভিযানে চলেছি, জেগে উঠে দেখব ডায়েরি লিখতে লিখতে ঘুমিয়ে পড়েছিলুম।

    পাঁচ মিনিট পরে গাড়ি লোহার ফটক পার হয়ে ছাদ-ঢাকা গাড়িবারান্দায় এসে দাঁড়াল। একজন ফিটফাট উর্দিপরা চাকর বেরিয়ে এল, গাড়ির দোর খুলে বলল, আসুন মিস্।

    আমি নামলুম। চাকরটা ড্রাইভারকে ফিসফিস করে কী বলল, তারপর তাড়াতাড়ি ফিরে এসে বলল, আমার সঙ্গে আসুন, দোতলায় যেতে হবে। ড্রাইভার মোটর ঘুরিয়ে আবার বেরিয়ে গেল।

    আমি চাকরের সঙ্গে যেতে যেতে নীচের তলার কয়েকটা ঘর দেখতে পেলুম; সব ঘরেই উজ্জ্বল আলো জ্বলছে। একটা ঘর ড্রয়িংরুমের মত সাজানো। কিন্তু কোথাও লোজন নেই। বাড়িটা চমৎকার, ঝকঝকে নতুন। মার্বেলের সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে উঠতে ভাবলুম, ভুইফোঁড় বড়মানুষই বটে; বোধ হয় যুদ্ধের বাজারে ধান-চালের ব্যবসা করে লাখপতি।

    ওপরতলাটা আলোয় আলো, যেন বিয়ে বাড়ি। কিন্তু মানুষ নেই। চাকর আমাকে নিয়ে একটা ঘরের দরজার সামনে দাঁড়াল। প্রকাণ্ড ঘর, নার্সারির মত সাজানো; শিশুর ছোট্ট খাট, দোলনা; নানা রকম ছোট-বড় খেলনা ঘরের চারিধারে ছড়ানো রয়েছে। দুটো বড় বা জ্বলছে। একটা ঘাগরা-পরা ঝি-জাতীয় স্ত্রীলোক দোরের পাশে উবু হয়ে বসে আছে। আর, একজন পুরুষ একটি শিশুকে বুকে নিয়ে পায়চারি করছেন।

    চাকর দরজার কাছ থেকে নিচু গলায় বলল, বাবু, নার্স এসেছেন।

    ভদ্রলোক ঘুরে দাঁড়ালেন। ঘন ভুরুর নীচে থেকে একজোড়া জ্বলজ্বলে চোখ কিছুক্ষণ আমার পানে চেয়ে রইল। তারপর চোখ দুটো আমার মুখ থেকে নেমে দোরের পাশে ঝিয়ের ওপর পড়ল। কলাবতী। ঝি তখনই উঠে গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়াল—খুকিকে শুইয়ে দাও। দেখো, ওর ঘুম না ভেঙে যায়।

    ঝি অতি সন্তর্পণে শিশুকে কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল; শিশু একটু উসখুস করল, কিন্তু জাগল না। তখন ভদ্রলোক আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন।

    বয়স আন্দাজ পঁয়ত্রিশ। তামাটে ফরসা রঙ, দোহারা গড়ন, কিন্তু ভুড়ি নেই; মুখখানা যেন পেটাই-করা লোহা দিয়ে তৈরি। একটু রুক্ষ রুক্ষ ভাব। মেয়েকে নিশ্চয় খুব ভালবাসেন, নিজেই তাকে বুকে করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ওঁর স্ত্রী কোথায়? তবে কি বিপত্নীক?

    লোকটির প্রতি মনে একটু সহানুভূতি জাগতে শুরু করেছিল, কথা শুনে সাহনুভূতি উবে গেল। যেন বেশ আশ্চর্য হয়েছেন এমনিভাবে বললেন, তুমি নার্স? প্রিয়দম্বা ভৌমিক?

    আপরিচিত মহিলাকে আপনি বলতে হয় তাও তিনি জানেন না। তার ওপর প্রিয়দম্বা! দাঁতে দাঁত চেপে বললুম, প্রিয়দম্বা নয়—প্রিয়ংবদা।

    তিনি বললেন, ও একই কথা। তুমি নার্স। রোগীর সেবা করতে জান?

    ডিপ্লোমা দেখবেন?

    দরকার নেই। ডাক্তার যখন রেকমেণ্ড করেছে তখন জান নিশ্চয়। আমার ধারণা ছিল নার্সদের বয়স চল্লিশ-পঞ্চাশ হয়।—সে যাক, আমার মেয়ের বড় অসুখ, রাত্তিরে তার দেখাশোনা করবার লোক নেই। যতদিন দরকার তোমাকেই রাত্তিরে থাকতে হবে।

    প্রশ্ন করলুম, রোগটা কী?

    মেনিঞ্জাইটিস্।

    কোন ডাক্তার দেখছেন?

    দেখেছে অনেক ডাক্তারই। চার্জে আছে আমার ফ্যামিলি ডাক্তার। সে আজ রাত্রি দশটা পর্যন্ত এখানে ছিল। এস, তাকে ফোন করতে হবে। সে তোমাকে ইনস্ট্রাকশন দেবে।

    ঘর থেকে বেরিয়ে তিনি পাশের ঘরে গেলেন, আমি সঙ্গে গেলুম। এ ঘরে টেলিফোন আছে, তিনি টেলিফোন তুলে ডায়েল করলেন, বললেন, হ্যালো ডাক্তার, নার্স এসেছে, তাকে কী বলতে চান বলুন। এই বলে টেলিফোন আমার হাতে দিলেন।

    ডাক্তারের কথা শুনলুম। রোগ এখন পড়তির দিকে; ভয়ের অবস্থা কেটে গেছে। তবে নজর রাখতে হবে। কী কী করতে হবে আমাকে জানালেন, তারপর স্নিগ্ধস্বরে বললেন, কাল সকালে দেখা হবে। গুড নাইট নার্স।

    গুড নাইট ডক্টর।

    ডাক্তারের নাম জানতে পারলুম না, টেলিফোনে গলা শুনেও চেনা গেল না। বোধ হয় জামাইবাবুর কোনও বন্ধু; নইলে আমাকে রেকমেণ্ড করবেন কেন!

    পাশের ঘরে ফিরে গিয়ে রোগীর চার্জ নিলুম। রাত্রি তখন ঠিক বারোটা। শঙ্খনাথবাবুকে বললুম, আপনার আর এখানে থাকবার দরকার নেই। তবে বাচ্চার মা যদি মাঝে মাঝে এসে দেখে যেতে চান তো দেখে যেতে পারেন। বাচ্চার মা সম্বন্ধে মনে একটু কৌতূহল হয়েছিল।

    শঙ্খনাথবাবুর মুখের চেহারা বদলে গেল, গলার আওয়াজ কর্কশ হয়ে উঠল। তাঁর গলা স্বভাবতই মোটা, তার সঙ্গে রাগ মিশে গলার আওয়াজ বাঘের চাপা গর্জনের মত শোনাল। তিনি বললেন, ওর মা! সে তো নাচতে গিয়েছে।

    আমি ভুরু তুলে চেয়ে রইলুম। তিনি বললেন, নাচ জান না? একজন পুরুষকে জাপটে ধরে ধেই-ধেই নাচ। আজ বিলিতী হোটেলে পার্টি আছে, আমার বউ না-গিয়ে থাকতে পারে? মেয়ের অসুখ, তাতে কী? নাচবার এত বড় সুযোগ কি ছাড়া যায়?

    আমি লজ্জিত হয়ে পড়লুম। ঘরের কেচ্ছা যে শঙ্খনাথবাবু একজন অপরিচিতার কাছে এত সহজে প্রকাশ করবেন তা আশা করিনি। খুব রাগ হয়েছে বলেই বোধ হয় মনের কথা চেপে রাখতে পারেননি। কুণ্ঠিত হয়ে বললুম, তিনি নিশ্চয় এখনি ফিরবেন।

    বলে গিয়েছিল দশটার মধ্যে ফিরবে, বারোটা বেজে গেছে। দুত্তোর! বলে তিনি একটা চেয়ারে বসে পড়লেন।

    আমার মনে আবার সহানুভূতি এল। স্বামী আর স্ত্রীর মধ্যে মনের মিল নেই; এ যেনডক্টর দাসের দাম্পত্য জীবনের উল্টো পিঠ। জিগ্যেস করলুম, আপনি বুঝি পার্টিতে যান না?

    শঙ্খনাথবাবু চেয়ার থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠলেন; আমি পার্টিতে যাব! কী বলছ তুমি প্রিয়দম্বা? আমি মুখখু অসভ্য, নাচতে জানি না, ব্রিজ খেলতে জানি না, ছুরিকাঁটা ধরে ডিনার খেতে জানি না—আমি পার্টিতে যাব! তোক হাসবে না। আমার স্ত্রী সমাজে মুখ দেখাবে কী করে? তাছাড়া মেয়েটাকে দেখবার একটা লোক চাই তো। আজ তিন রাত্তির ঘুমুইনি। তিনি ক্লান্তভাবে আবার চেয়ারে বসে পড়লেন।

    কেন জানি না আমার রাগ হল। বললুম, আগে নার্সের ব্যবস্থা করেননি কেন? তাহলে তো তিন রাত্তির জেগে থাকতে হত না!

    তিনি দুই হাতের আঙুলগুলো চুলের মধ্যে চালিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলেন, তারপর আস্তে আস্তে বললেন, প্রিয়দম্বা, আমি গরিবের ছেলে, গরিবি চালে মানুষ হয়েছি। বাড়িতে কারুর অসুখ হলে মা-খুড়ি বাপ-খুড়োরাই সেবা করে। এখন আমার টাকা হয়েছে, কিন্তু নার্স রেখে তার ঘাড়ে সেবার ভার তুলে দেওয়া যায় একথা মনেই আসেনি। আজ ডাক্তার বলল তাই খেয়াল হল।

    লোকটি মুখখু এবং অসভ্য সন্দেহ নেই, কিন্তু স্পষ্টবক্তা। নিজের সম্বন্ধেও স্পষ্ট কথা বলতে  সংকোচ নেই। আমি বললুম, আপনি বিশ্রাম করুন গিয়ে। কোনও চিন্তা নেই, আমি এখানে রইলুম।

    তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন, অনিশ্চিতভাবে এদিক ওদিক তাকিয়ে বললেন, আমি আর কোথায় যাব, এই ঘরেই শুয়ে থাকি।–কলাবতী!

    পশ্চিমা ঝি-টা আবার গিয়ে দোরের কাছে বসে ছিল, উঠে এসে কাছে দাঁড়াল। থ্যাবড়া-থ্যাবড়া মুখ, নাকে নোলকের আংটি; বয়স আন্দাজ তিরিশ। শঙ্খনাথবাবু তাকে বললেন, তুমিও তিন রাত্তির জেগে আছ, যাও ঘুমোও গিয়ে। আর শিউসেবককে বলে দিও মাকিনী না ফেরা পর্যন্ত যেন জেগে থাকে।

    জি–কলাবতী চলে গেল।

    এই সময় বিছানায় বাচ্চা একটু উসখুস করল। আমি গিয়ে চেয়ার টেনে বিছানার পাশে বসলুম; তার গায়ে হাত দিয়ে দেখলুম, জ্বর আছে; কিন্তু বেশী নয়। আমি গায়ে হাত রাখতেই সে আবার শান্ত হয়ে ঘুমুতে লাগল।

    তার মুখের পানে চেয়ে রইলুম। বয়স বছর দেড়েকের বেশী নয়; মুখখানি যেন গোলাপফুল ফুটে আছে। এত অসুখেও চোখ ফেরানো যায় না। শঙ্খনাথবাবু আমার সঙ্গে খাটের কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, আমি তাঁর পানে চোখ তুলে চাইতে দেখলুম তিনি সপ্রশ্ন চোখে আমার দিকে চেয়ে আছেন। আমি ঘাড় নেড়ে জানালুম-ঠিক আছে।

    তিনি গিয়ে দূরের একটা জানলা খুললেন, আবার তখনই বন্ধ করে দিলেন। বাইরে বৃষ্টি চলেছে, বিরাম নেই বিশ্রাম নেই।

    জানলার কাছে একটা গদিমোড়া ডিভান ছিল, শঙ্খনাথবাবু তাতে বসলেন, আমাকে লক্ষ্য করে চাপা গলায় বললেন, পাশের ঘরে চায়ের সরঞ্জাম আছে, যদি রাত্তিরে খেতে চাও

    আমি নিঃশব্দে হাত তুলে তাঁকে আশ্বাস দিলুম দরকার হলে খাব। তিনি তখন ডিভানের উপর লম্বা হয়ে শুলেন।

    আধ ঘণ্টা শিশুর মুখের দিকে চেয়ে বসে আছি…মেনিঞ্জাইটিস। কঠিন রোগ, কিন্তু এখন রোগ বশে এসেছে; শিশু সেরে উঠবে। শুধু নজর রাখা দরকার, এতটুকু ত্রুটি না হয়। …এই শিশুর মা কী রকম মা? আধুনিকা অনেক দেখেছি, আমিও তো আধুনিকা। কিন্তু নিজের রুগ্ন সন্তানকে বাড়িতে ফেলে নেচে বেড়াতে কাউকে দেখিনি। হয়তো এটা আধুনিকতার দোষ নয়, ব্যক্তিগত চরিত্রের দোষ। কিন্তু মেয়ের মায়ের দোষ যতই থাক, নিশ্চয় অপূর্ব সুন্দরী। মেয়ে এত রূপ বাপের কাছ থেকে পায়নি। বাপের চেহারা তো গুণ্ডার মত।

    ঘাড় ফিরিয়ে শঙ্খনাথবাবুর দিকে চাইলুম। তিনি কনুইয়ে ভর দিয়ে করতলে মাথা রেখে কাত হয়ে শুয়ে আছেন, দৃষ্টি আমার ওপর। কিন্তু দৃষ্টিতে আপত্তিকর কিছু নেই, কেবল নির্বাক কৌতূহল। আমার মত জীব তিনি জীবনে দেখেননি, তাই নিষ্পলক চেয়ে আছেন। আমার সঙ্গে চোখাচোখি হবার পরও তিনি চোখ ফিরিয়ে নিলেন না, একদৃষ্টে চেয়ে রইলেন।

    মুখের পানে একদৃষ্টে কেউ চেয়ে থাকলে অস্বস্তি হয় না? আমি উঠে গিয়ে ডিভানের কাছে দাঁড়ালাম; তিনি উঠে বসলেন। বললুম, আমি যখন চার্জ নিয়েছি তখন আপনার জেগে থাকার মানে হয় না। আপনি ঘুমুবার চেষ্টা করুন না।

    তিনি বললেন, ঘুমুবার চেষ্টা! আমাকে চেষ্টা করতে হয় না, চোখ বুজে শুলেই ঘুমুতে পারি। আজ ইচ্ছে করে জেগে আছি। পিউ এখন কেমন আছে?

    পিউ! খুকির নাম বুঝি পিউ?

    হ্যাঁ। কেমন আছে?

    ভালই আছে বলে আমি আবার গিয়ে বসলুম।

    পিউ! পাপিয়ার ডাক। ছোট্ট একটি পাখির মিষ্টি একটু কাকলি। এই মেয়েটি পাখি নয়, পাখির কুজন। যে নাম রেখেছে তার রসবোধ আছে। শঙ্খনাথবাবু নিশ্চয়।

    পিউ একটু উসখুস করল। তাকে পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিলুম। সে আবার শান্ত হয়ে ঘুমুতে লাগল।

    একটা বেজে গেছে। বৃষ্টির ঝরঝর ঝঝম্ শব্দ যেন একটু মন্দা হয়ে আসছে। মনে হল নীচে গাড়ি বারান্দায় একটা মোটর এসে থামল। ঘাড় ফিরিয়ে দেখি, শঙ্খনাথবাবু উঠে বসেছেন। তাঁর চোখে গনগনে আগুন, চোয়ালের হাড় শক্ত হয়ে উঠেছে।

    কিছুক্ষণ পরে ওপরের বারান্দায় মেয়েলি জুতোর খুটখুট শব্দ শুনতে পেলুম, আমাদের ঘরের দিকে এগিয়ে আসছে। আমার ঘাড় আপনিই সেই দিকে ঘুরে গেল, দোরের পানে চেয়ে রইলুম।

    দোরের সামনে এসে দাঁড়াল একটি মূর্তি। আরব্য উপন্যাসের হুরী-পরীদের দেখিনি, কিন্তু তারা এত সুন্দর কখনই ছিল না। মনে হল মেঘে-ঢাকা আকাশ থেকে এক ঝলক বিদ্যুৎ দরজার ফ্রেমের মাঝখানে এসে স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছিপছিপে লম্বা ধরনের গড়ন, দুধে-আলতা রঙ; মুখখানি কুঁদে কাটা। পরনে খুব ফিকে নীল রঙের সিল্কের শাড়ি, তার চেয়ে একটু গাঢ় নীল রঙের ব্লাউজ; সবার ওপরে একরাশ হীরে আর পান্নার গয়না শিশিরবিন্দুর মত ঝলমল করছে। কিন্তু ওর রূপের বর্ণনা আর লিখতে পারি না; নিজেরই হিংসে হয়।

    দরজার সামনে এসে প্রথমেই তার চোখ পড়েছিল আমার ওপর। সে আমাকে একনজর ভাল করে দেখে নিল। তার নরম রাঙা ঠোঁটে একটু মিষ্টি হাসি খেলে গেল।

    হাসিটি কিন্তু স্থায়ী হল না। শঙ্খনাথবাবু পাগলা হাতির মত তার সামনে ছুটে এলেন, চাপা গর্জনে বললেন, দশটা বেজেছে?

    একটি আঙুল ঠোঁটের ওপর রেখে পরী বলল, চুপ। পিউ জেগে উঠবে।

    শঙ্খনাথবাবু ভেংচি কাটার স্বরে বললেন, পিউ জেগে উঠবে! এতক্ষণ পিউয়ের কথা মনে ছিল না?

    পরীর মুখখানি ব্যথায় ভরে উঠল, সে করুণ সুরে বলল, মনে ছিল না। সারাক্ষণ কেবল পিউয়ের কথাই ভেবেছি। কিন্তু আসব কী করে? যা বিষ্টি, সাপের মুখ ছিঁড়ে যায়।

    শঙ্খনাথবাবু বললেন, যখন বেরিয়েছিলে তখন বিষ্টি কিছু কম ছিল না। বেরুলে কেন? একটা দিন না-নাচলে কি চলত না?

    পরী চকিত আড়চোখে আমার পানে তাকাল। বাইরের লোকের সামনে দাম্পত্য কলহ বাঞ্ছনীয় নয়। সে স্বামীর কথার উত্তর না দিয়ে ঘরের মধ্যে এগিয়ে এল। পিউয়ের খাটের পাশে এসে দাঁড়াল। মেয়ের পানে একবার তাকাল কি তাকাল না, আমার পানে চেয়ে নরম হেসে বলল, আপনি বুঝি নার্স? বাঁচলুম। পিউয়ের জন্যে আর ভাবনা নেই।

    শঙ্খনাথবাবু স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গে এসেছিলেন, তিনি গলার মধ্যে ঘোঁত ঘোঁত শব্দ করলেন। বোধ হয় বলতে যাচ্ছিলেন—পিউয়ের জন্যে ভেবে ভেবে তোমার তো ঘুম হচ্ছে না। কিন্তু তিনি কোনও কথা বলবার আগেই পরী আবার ঠোঁটে আঙুল রেখে তাঁকে থামিয়ে দিল। ফিসফিস করে বলল, চুপ! তোমার গলার আওয়াজে পিউ চমকে উঠবে।

    আমি কব্জির ঘড়ি দেখে বললুম, আপনারা বিশ্রাম করুন গিয়ে। আমাকে এবার ইঞ্জেকশন দিতে হবে।

    ইঞ্জেকশন! পরী ত্রস্ত হয়ে উঠল,—চল আমরা যাই। এই বলে সে আর দাঁড়াল না, দোরের দিকে পা বাড়াল।

    শঙ্খনাথবাবু একটু ইতস্তত করলেন, বললেন, আমি থাকব?

    না, দরকার নেই, বলে আমি ব্যাগ তুলে নিলুম। ঘাড় বেঁকিয়ে দেখলুম, আগে আগে পরী এবং পিছন পিছন দৈত্য ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    ইঞ্জেকশন তৈরি করতে করতে পরীর কথাই মনের মধ্যে ঘুর ঘুর করতে লাগল। হয়তো আমুদে আহ্লাদে মেয়ে; নিজের সংসারে আমোদ-আহ্লাদের সুযোগ কম, তাই বাইরের দিকে মন পড়ে থাকে। মেয়েকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার নামে প্রায় ছুটে পালিয়ে গেল। হয়তো শরীরের কষ্ট দেখতে পারে না। অনেক লোক আছে যারা রক্ত দেখলে ভির্মি যায়। আমি নিজেই বা কী ছিলুম? প্রথম যেদিন হাসপাতালে মড়া দেখি সেদিন হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলুম। এখন অবশ্য সবই গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে। পরী তো আর নার্স নয়, সে এসব দেখতে পারে না। কিন্তু কথাবাতা চালচলন খুব মিষ্টি। আর কী রূপ! শঙ্খনাথবাবুকে ভাগ্যবান বলতে হবে। এমন বউ সকলের ভাগ্যে জোটে না।

    ইঞ্জেকশন দিলুম। পিউ একটু নড়েচড়ে কাঁদবার উপক্রম করল, সুন্দর মুখখানি কুঁচকে উঠল; কিন্তু সে কাঁদল না। চোখ মেলে কিছুক্ষণ আমার মুখের পানে চেয়ে রইল, তারপর ছোট্ট একটি নিশ্বাস ফেলে আবার ঘুমিয়ে পড়ল।

    আজ রাত্রে আমার কোনও কাজ নেই। শুধু পিউয়ের পানে চেয়ে বসে থাকা।

    বৃষ্টি বোধ হয় থেমে গেছে; বাইরে আর সাড়াশব্দ নেই। কিন্তু প্রকাণ্ড বাড়ির মধ্যে থেকে দুটি গলার আওয়াজ মাঝে মাঝে শোনা যাচ্ছে। একটি স্বর মোটা এবং অস্পষ্ট, অন্য স্বর মিহি এবং স্পষ্ট। বোধ হয় শোবার ঘরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা হচ্ছে—

    …তুমি বুঝতে পারছ না কেন, ইচ্ছে করলেই কি পার্টি ছেড়ে চলে আসা যায়? আমি তো চলেই আসছিলুম, কিন্তু সবাই পথ আগলে দাঁড়াল, বলল, এত বিষ্টিতে যেতে দেব না। গাড়িও ছিল না তারপর কিছুক্ষণ মোটা গলার আফসানি…তারপর আবার মিহি গলা—সমাজে থাকতে গেলে সকলের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়, সকলের সঙ্গে মিশতে হয়…বোরকা মুড়ি দিয়ে ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকার দিন কি আর আছে? লোকে হাসবে যে। তুমি মেলামেশা করতে ভালবাস না, তাই। আমাকেই করতে হয়। লৌকিকতা না রাখলে চলবে কেন?…

    এইভাবে প্রায় আধ ঘণ্টা কথাকাটাকাটি চলল, তারপর আস্তে আস্তে সব ঝিমিয়ে পড়ল। বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে গেছে, আমি বসে বসে ভাবছি…দাম্পত্য কলহ…বাবা বলতেন বারম্ভে লঘুক্রিয়া…ওরা ঝগড়াঝাঁটি করে এক বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে…ওদের মধ্যে ভাল কে? মন্দ কে? হয়তো মানুষ হিসেবে দুজনেই ভাল, কিন্তু বিপরীত ধাতের মানুষ। স্বামী উগ্র রুক্ষ অশিক্ষিত, স্ত্রী আধুনিকা প্রগতিশীলা। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এরা মানুষ হয়েছে; কেউ কারুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে না। এমনি ভাবে ঝগড়া করে আর এক বিছানায় শুয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দেবে…

    আমি নার্স, জেগে জেগে ঘুমিয়ে নিতে পারি। রোগীর বিছানার পাশে চোখ চেয়ে বসে আছি। রোগী ঘুমুচ্ছে, আমার কোনও কাজ নেই। সোজা বসে আছি চোখ মেলে, কিন্তু মনের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে; জেগেও নেই, আবার ঘুমুচ্ছিও না। এ এক অদ্ভুত অবস্থা। যারা রাত জেগে সেবা করে তাদের মন এইভাবে বিশ্রাম করে নেয়।

    খসখস শব্দে দোরের দিকে চোখ ফিরিয়ে দেখলুম শঙ্খনাথবাবু দুহাতে দুপেয়ালা চা নিয়ে ঘরে ঢুকছেন। ঘড়ি দেখলুম, তিনটে বেজে গেছে।

    আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন, এক পেয়ালা চা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন।

    চায়ের পেয়ালা নিলুম। তিনি মেয়ের দিকে একবার চোখ বেঁকিয়ে ভ্রূ তুলে আমার পানে চাইলেন। আমি ঘাড় নেড়ে জানালুম—ভাল আছে।

    তিনি তখন একটু সরে গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই নিজের পেয়ালায় চুমুক দিলেন। আমিও উঠে গিয়ে তাঁর সামনে দাঁড়ালুম। পেয়ালা ঠোঁটে ঠেকাতেই মনটা খুশি হয়ে উঠল। শেষ রাত্রে অপ্রত্যাশিত গরম চা বড় মিষ্টি লাগে।

    নিচু গলায় বললুম, আপনি চা তৈরি করলেন?

    তিনি বললেন, হ্যাঁ। আর কে করবে? আমার গিন্নী? তিনি ঘুমুচ্ছেন, বেলা দশটার আগে বিছানা ছাড়বেন না।

    গিন্নীর প্রসঙ্গ বাড়তে দেওয়া উচিত নয়, তাই প্রশ্ন করলুম, আপনি ঘুমুলেন না কেন?

    তাঁর মুখখানা বিরাগে ভরে উঠল,—ঘুমুতে ইচ্ছে হল না। আর কতটুকুই বা রাত্রি আছে, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ভোর হয়ে যাবে।

    চা খাওয়া শেষ হলে শঙ্খনাথবাবু পেয়ালা দুটো পাশের ঘরে রাখতে গেলেন, আমি আবার পিউয়ের বিছানার পাশে গিয়ে বসলুম। শঙ্খনাথবাবু ফিরে এসে ঘরময় ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। আমি বসে বসে অনুভব করলুম, তাঁর চোখ থেকে থেকে আমার দিকে ফিরছে। আমার সম্বন্ধে তাঁর বিস্ময় আর কৌতূহল এখনও কাটেনি।

    তারপর ক্রমে ফরসা হল, জানলার কাচের ভিতর দিয়ে দিনের আলো দেখা গেল। বৃষ্টি থেমেছে। কিন্তু মেঘ কাটেনি।

    বাড়ি জেগে উঠল। প্রথমে ঘরে এল কলাবতী, তারপর শিউসেবক। কলাবতী পিউয়ের খাটের পাশে মেঝের ওপর আসনপিঁড়ি হয়ে বসল, তারপর পিউয়ের পানে হাত বাড়াল। আমি অবাক হয়ে বললুম, এ কী?

    কলাবতী হেসে বলল, বাচ্চা দুধ খাবে।

    বললুম, দুধ! কোথায় দুধ?

    কলাবতী নিজের বুকের ওপর হাত রেখে বলল, এইখানে।

    আমি হাঁ করে চেয়ে রইলুম। কলাবতী আমার মুখের ভাব দেখে হেসে প্রায় গড়িয়ে পড়ল।

    শঙ্খনাথবাবু কলাবতীর পিছনে এসে দাঁড়ালেন। বললেন, কী হয়েছে?

    আমি উঠে দাঁড়িয়ে বললুম, ঝি বলছে পিউ নাকি–

    উনি বললেন, কলাবতীর দুধ খায়? হ্যাঁ, জন্মে পর্যন্ত পিউ কলাবতীর দুধ খায়। ওর মা তো ওকে দুধ দেয়নি। ফিগার খারাপ হয়ে যাবে যে!

    আমার মুখ-চোখ গরম হয়ে উঠল, কোন্ দিকে তাকাব ভেবে পেলুম না। শেষে বললুম, ডাক্তারের আপত্তি নেই?

    না। আপত্তি হবে কিসের জন্যে?

    না না, তা বলছি না, কিন্তু–

    ইতিমধ্যে কলাবতী পিউকে কোলে নিয়ে দুধ খাওয়াতে আরম্ভ করে দিয়েছে। আমি মুখ ফিরিয়ে নিলুম। কী যে এদের মতিগতি কিছুই বুঝি না। এরকম ব্যাপারে আমার অভ্যাস নেই। কিন্তু ডাক্তার যখন অনুমতি দিয়েছেন তখন আর বলবার কী আছে?

    শিউসেবক খাটো গলায় বলল, নার্স সাহেব, পাশের ঘরে চা দেওয়া হয়েছে, আপনি মুখ ধোবেন কি?

    সাদা টাইল বাঁধানো ঝকঝকে বাথরুমে গেলুম, তারপর ডাইনিং রুমে গিয়ে চা খেতে বসলুম। প্রকাণ্ড ঘর, মাঝখানে লম্বা টেবিল, তার এক পাশে খাবার দেওয়া হয়েছে। শুধু চা নয়, টোস্ট, ডিম, এক গেলাস গরম দুধ। শঙ্খনাথবাবু টেবিলের পাশে বসেছেন, তাঁর সামনে কেবল এক গেলাস দুধ।

    আমি খেতে আরম্ভ করলুম, বললুম, নার্সকে ব্রেকফাস্ট খাওয়ানোর কিন্তু নিয়ম নেই। শঙ্খনাথবাবু বললেন, নিয়মকানুন আমি জানি না। বলেছি তো আমি চাষা মনিষ্যি, যা মনে আসে তাই করি।

    আমি খেতে লাগলুম, তিনি মাঝে মাঝে দুধের গেলাসে চুমুক দিতে দিতে আমার খাওয়া দেখতে লাগলেন।

    সঙ্গে সঙ্গে তিনি কথা বলে চললেন। ছাড়া ছাড়া কথা। তা থেকে তাঁর পারিবারিক পরিস্থিতির কিছু খবর পেলুম। কলাবতী হচ্ছে শিউসেবকের বউ। ওরা চার-পাঁচ বছর ওঁর বাড়িতে চাকরি করছে। ওরা পশ্চিমা পাহাড়ী জাতের লোক, বোধ হয় গাঢ়োয়ালী; শঙ্খনাথবাবুর অত্যন্ত অনুগত, ওঁর জন্যে প্রাণ দিতে পারে। …শঙ্খনাথবাবুর স্ত্রীর নাম সলিলা; রিটায়ার করা সিভিলিয়ানের মেয়ে। বছর তিনেক আগে বিয়ে হয়েছে। কী দেখে সলিলা শঙ্খনাথবাবুকে বিয়ে করেছিল জানি না; বোধ হয় টাকা দেখে।…পিউ তাঁদের একমাত্র সন্তান। জন্মাবধি ঝিয়ের কোলেই মানুষ। কলাবতীরও একটি বছর দেড়েকের ছেলে আছে।

    .

    বেলা আটটার সময় ডাক্তার এলেন।

    ডাক্তারকে দেখে চমকে উঠলুম : মন্মথ কর। তেমনই ধারালো মুখ, তেমনই ফিটফাট চেহারা। পরনে শার্ক-স্কিনের সুট। দেখে মনে হয় প্রাটিস বেশ ভালই চলছে। মুচকি হেসে বললেন, আমাকে চিনতে পেরেছেন দেখছি।

    তাঁকে প্রথম দেখে চমকে উঠেছিলাম বটে, কিন্তু নেকড়ে বাঘ আর অজগর সাপের ভয় আমার কেটে গেছে। বললুম, হ্যাঁ, কাল টেলিফোনে গলা শুনে চিনতে পারিনি। আপনি ভাল আছেন?

    হেসে বললেন, চলছে একরকম! আপনি তো আলাদা বাসা নিয়ে প্র্যাকটিস করছেন, টেলিফোন ডিরেক্টরিতে দেখলাম। সঙ্গে আর কে থাকেন?

    বললুম, শুক্লা। আমার বন্ধু শুক্লা। আমরা দুজনে একসঙ্গে থাকি।

    তিনি ভাবতে ভাবতে বললেন, শুক্লা—তিনিও কি নার্স?

    হ্যাঁ। তাকে আপনার মনে নেই। দেখলে হয়তো চিনতে পারবেন। আসুন, আপনার পেশেন্টের কাছে নিয়ে যাই। পেশেন্ট ভাল আছে।

    ডাক্তারকে পিউয়ের ঘরে নিয়ে গেলুম; শঙ্খনাথবাবুও সঙ্গে এলেন। কলাবতী পিউকে আবার শুইয়ে দিয়ে খাটের পাশে মেঝেয় বসে আছে। পিউ জেগে উঠেছে, চুপটি করে শুয়ে পিটপিট করে চাইছে।

    ডাক্তার পিউকে পরীক্ষা করলেন, তার রিফ্লেক্স দেখলেন। আমি ডাক্তার দেখে দেখে পেকে গেছি, কোন্ ডাক্তার কী ভাবে রোগী পরীক্ষা করেন তা থেকে বোঝা যায় তিনি কী রকম ডাক্তার। দেখলুম বয়সে তরুণ হলেও ইনি বিচক্ষণ ডাক্তার। এঁর পরীক্ষা করার ভঙ্গিতে বেশ একটা সতর্ক আত্মপ্রত্যয় আছে, অথচ আড়ম্বর নেই।

    পরীক্ষা শেষ করে ডাক্তার বললেন, বাঃ! খুকি তো সেরে গেছে। আর দু-চার দিন ভালভাবে নার্স করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

    শঙ্খনাথবাবু বললেন, আর ইঞ্জেকশন দিতে হবে না?

    ডাক্তার বললেন, না, ওরাল ওষুধেই চলবে।

    তিনি ওষুধ পথ্য এবং পরিচর্যা সম্বন্ধে উপদেশ দিয়ে চলে গেলেন; যাবার সময় আমার পানে একটু মুচকি হেসে গেলেন।

    আমি শঙ্খনাথবাবুকে বললুম, আমিও এবার যাই।

    উনি বললেন, আচ্ছা। দিনের বেলাটা আমি সামলে নেব। তুমি কিন্তু একটু তাড়াতাড়ি এসো প্রিয়দম্বা। আমি ঠিক নটার সময় গাড়ি পাঠাব।

    আমাকে কি আর দরকার হবে?

    হবে। তিনি পকেট থেকে পাঁচখানা দশ টাকার নোেট বার করে আমার হাতে দিলেন।

    আচ্ছা, আসব।

    নীচে গাড়িবারান্দায় মোটর দাঁড়িয়ে ছিল; আমি নেমে গিয়ে গাড়িতে উঠলুম। শিউসেবক গাড়ির দরজা বন্ধ করে দিয়ে সেলাম করল। গাড়ি চলতে আরম্ভ করল।

    যেতে যেতে দেখলুম আকাশ এখনও পরিষ্কার হয়নি; পাতলা ধোঁয়া-ধোঁয়া মেঘের মধ্যে দিয়ে পাসে রোদ দেখা দিয়ে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। মনে পড়ে গেল আজ সকালে পিউয়ের মাকে একবারও দেখিনি। তিনি বোধ হয় এখনও ঘুমুচ্ছেন। মাঝরাত্তির পর্যন্ত নাচলে সকালবেলা ঘুম ভাঙবে কী করে? মানুষের শরীর তো! অথচ শঙ্খনাথবাবু না-ঘুমিয়ে দিব্যি রাত কাটিয়ে দিলেন। লোহার শরীর বোধ হয়।

    বাসায় এসে দেখলুম শুক্লা আগেই ফিরেছে, নিজের ঘরে দোর বন্ধ করে ঘুমুচ্ছে। ঝি বোধ হয় ডাকাডাকি করে চলে গেছে। আমি নিজের ঘরে গিয়ে নার্সের কাপড়চোপড় ছাড়লুম, তারপর স্নান করে শুয়ে পড়লুম।

    ঘুম ভাঙল বেলা তখন দুটো। শুক্লা বিছানার পাশে বসে কাঁধ ধরে নাড়া দিচ্ছে, আমি চোখ মেলতেই জিগ্যেস করল, কোথায় গিয়েছিলি কাল রাত্রে?

    বিছানায় উঠে বসে শুক্লাকে সব বললুম। শুনে শুক্লা শঙ্খনাথবাবুর পারিবারিক পরিস্থিতির সম্বন্ধে কিছু বলল না, ডাক্তার সম্বন্ধে বলল, নেকড়ে বাঘ এখনও তোর আশা ছাড়েনি। সাবধানে থাকিস।

    বললুম, দূর! সে বয়স আর নেই।

    শুক্লা বলল, কিছু বলা যায় না। পুড়বে মেয়ে উড়বে ছাই, তবে মেয়ের গুণ গাই।–নে ওঠ। রান্না করেছি খাবি চল।

    শুক্লার জীবন যে-পথেই চলুক, মনটা তার গোঁড়া।

    দুজনে খেতে বসলুম। আজ রাত্রে শুক্লার কাজ নেই, সে বাড়িতেই থাকবে। বোধ হয় ডক্টর দাস আসবেন, শুক্লার মুখ দেখে যেন মনে হচ্ছে।

    খাওয়া সেরে ডায়েরি লিখতে বসেছি। রাত্রি নটায় গাড়ি আসবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }