Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোকায়ত জীবন ও লোকসাহিত্য – সুমনকুমার দাশ

    সুমনকুমার দাশ এক পাতা গল্প328 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রতাপবান্ধা

    চোখে ভাসছে সেই মুহূর্তটুকু। ভাঙা নড়বড়ে একটি চৌকির উপর ছেঁড়া সাদা রঙের পাঞ্জাবি আর কুঁচকে-যাওয়া লুঙ্গি পরে বসে আছেন বয়স্ক এক লোক। আন্দাজ করা যায়, বয়স ৬০-৬২-এর কাছাকাছি। তাঁর চোখমুখ জানান দেয়-জীবনের প্রতি তিনি যেন মাত্রাতিরিক্ত ত্যক্ত-বিরক্ত। প্রাথমিক বিবেচনায়, অন্তত কপালের ভাঁজগুলো দেখে সেই ধারণা যে কেউ করেই নিতে পারেন। তবে ওই লোকটির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে সকল ভ্রান্তি দূর হয় নিমেষেই।

    তাঁর চেহারাটা এখনও জ্বলজ্বল করে চোখে ভাসে, কথাগুলো কানে গেঁথে আছে। সহজসরল-সাধারণ মানুষটির বাচনভঙ্গি বেশ উদ্দীপনার সঞ্চার করে। তবে আলাপের একপর্যায়ে যখন তাঁর পরিচয় জানতে পারি, তখন চমকে উঠি। বহুদিনের প্রত্যাশিত মানুষটির সঙ্গে এমনভাবে পরিচয় হবে-স্বপ্নেও কল্পনা করিনি। ঘটনার আকস্মিকতা যখন ভাঙল তখন নিঃশব্দে দুই হাত জোড় করে তাঁকে নমস্কার জানালাম।

    বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের কাছে মানুষটি দেবতাতুল্য; এসব নারীরা পরম যত্নে ‘যক্ষের ধন’-এর মতো যাঁর গানের বাণী মনের মধ্যে গেঁথে দিনের পর দিন গেয়ে যাচ্ছেন-সেই প্রতাপরঞ্জন তালুকদার আমার সামনাসামনি। ধামাইলগানের কিংবদন্তিতুল্য এই মানুষটির কথা ছোটোবেলা থেকেই মা-জেঠি-কাকিদের মুখে শুনে আসছি। তাঁর লেখা গান ‘প্রতাপবান্ধা’ হিসেবে বহুল প্রচলিত। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় প্রত্যেকটি বিয়ের সময় ধামাইলগানের আসরে প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের গান গীত হওয়াটা যেন ইদানীং রীতিতে পরিণত হয়েছে।

    হয়তো বছর আঠারো হবে, কিংবা এরও বেশ আগে, আমার নিজ গ্রামে কোনও এক বিয়ের আসরে শুনেছিলাম : ‘আমি বন্ধুর আশায় কাটাইলাম দিনরজনী গো।’ তখন বালক বয়সে অতশত বুঝিনি। ওই বয়সে প্রেম-বিরহ খুব একটা বুঝিটুঝিনি। তবু কেন জানি এই গানটি মনে গেঁথে গিয়েছিল, মা-বাবা সামান্য বকুনি দিলে আপন মনেই এই গানটি বেসুরো গলায় গাইতাম, মনে বেশ শান্তিও পেতাম। পরে বড়ো হয়ে যখন গান নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করলাম তখন বহুকাল আগের শোনা সেই গানটি আবারও মনে পড়ল।

    বাংলাদেশের ধামাইল গান গ্রন্থনা ও সম্পাদনার সূত্রে ২০০৬ সালের দিকে আমার দূরসম্পর্কীয় এক বউদিকে গানের কলিটি শোনাই, তিনি বলেছিলেন এটি তো ‘প্রতাপবান্ধা’, তবে সম্পূর্ণ গানটি বলতে পারেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সে গানটির আর খোঁজ পাইনি। প্রথম দিনের পরিচয়ে প্রতাপরঞ্জন তালুকদারকে ওই গল্পটি শুনিয়েছিলাম। তিনি মুচকি হেসে বলেছিলেন, ‘কত গান লিখেছি, কত গান হারিয়েছি, তার সংখ্যা নিছক কম নয়।’ পরে তিনি যা বলেছিলেন তা শুনে তো আমি রীতিমতো হতবাক! তিনি সেদিন বলেছিলেন, ‘আমার অনেক গান রাধারমণের নামে, আবার রাধারমণের অনেক গান আমার নাম-পদ ব্যবহার করে গ্রামাঞ্চলে এখনও নারীরা গেয়ে থাকে।’

    এটি তো আরও বিপজ্জনক। এমনটি কেন হচ্ছে? প্রতাপরঞ্জন বললেন, ‘অনেক সময় বিভিন্ন গ্রামে গেলে পরিচিত নারীরা গান লিখে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে অনেকের খাতায় গান লিখেও দিয়েছি। সেক্ষেত্রে আসরে ওই গান গাওয়ার সুবাদে মুখে মুখে এসব গান ছড়িয়ে পড়ছে। ছড়িয়ে যাওয়া এসব গান অনেক সময় এক মহাজনের নাম ভুল করে অন্য মহাজনের নামে শিল্পীরা গেয়ে ফেলে। যেহেতু রাধারমণ এবং আমার গান ধামাইল আসরে বেশি গাওয়া হয়, তাই আমাদের দুজনের গান নিয়ে ওই ভুলটুকু বেশি হয়।’

    প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের কথার সূত্র ধরে জনৈক গবেষকের সম্পাদনায় প্রকাশিত রাধারমণের গানের একটি সংকলনের কথা আমার তাৎক্ষণিকভাবে মনে পড়ে যায়। তিনি রাধারমণের গানের সংকলনটিতে প্রতাপরঞ্জনের লেখা গোটা তিনেক গান রাধারমণের গান হিসেবে গ্রন্থিত করেছেন। অবশ্য ওই গবেষকেরই-বা কী দোষ! যেখানে গীতিকার প্রতাপরঞ্জন নিজেই স্বীকার করছেন, গ্রামের শিল্পীরা গান গাওয়ার সময় ভণিতা অদল-বদল করছেন। হয়তো সে কারণেই প্রকৃতপক্ষে কোনটা কার গান সেটা নির্ণয় করা একেবারেই কঠিন হয়ে পড়ছে সংকলকদের জন্য।

    এটা যে শুধু ধামাইলগানের ক্ষেত্রে হচ্ছে, তা তো নয়। কোনও ধরনের লিখিত রূপ না-থাকার কারণে প্রাচীন লোকগানের ক্ষেত্রেও হরহামেশাই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তবে আগের চেয়ে এখন অবস্থা ঢের ভালো। এখন অন্তত অধিকাংশ গীতিকারদের গানের একটা লিখিত রূপ পাওয়া যাচ্ছে। সেটা হোক গীতিকারের নিজের লেখা অথবা তাঁর শিষ্য-ভাবশিষ্যদের বদৌলতে প্রাপ্ত। মোটকথা, একটা লিখিত রূপ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় একজনের গান অন্যজনের নামে চালিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কম। এক্ষেত্রে প্রতাপরঞ্জনের গান বেহাত হয়ে যাওয়াটা একটু ভাবায় বৈ কি। যেহেতু প্রতাপরঞ্জনের গানের একটা লিখিত রূপের পাশাপাশি তাঁর বেশ কয়েকটি মুদ্রিত বইও রয়েছে, সেক্ষেত্রে রাধারমণের গানের সংকলনটি প্রস্তুত করার আগে সংগৃহীত গানগুলোর একটু যাচাই-বাছাই করলে অন্তত এ ভ্রমটুকু হতো না। আর প্রতাপরঞ্জনের গানও রাধারমণের নামে সংকলনভুক্ত হওয়া থেকে অনেকটা রেহাই পেত।

    প্রতাপরঞ্জনের রচিত ধামাইলগানের জনপ্রিয়তা টের পাওয়া যায় তাঁর বইয়ের মুদ্রণসংখ্যা জানা থাকলে। নাগরিক মানুষের কাছে অখ্যাত এক গ্রাম্য লোককবির লেখা সপ্ত রং কারিকা অথবা ধামাইল সংগীত নামের একটি পুস্তিকা প্রায় দেড় লাখ কপি বিক্রি হয়েছে, সেটা ভাবা যায়! একজন গ্রাম্য লোককবির সর্বসাকুল্যে মাত্র ৮৫টি গানের এ সংকলনের জনপ্রিয়তা আমাদের অন্য এক বার্তা দেয়, আর সেটা হচ্ছে-আমাদের নাগরিক জীবনে যতই বিচ্ছিন্নতা থাকুক না কেন, গ্রামবাংলার মানুষের কাছে উৎসবের রং এখনও ফিকে হয়ে যায়নি।

    বেশ কয়েক বছর আগে ভারতের শিলচরের সংস্কৃতিকর্মী সুব্রত পাল আমাকে জানিয়েছিলেন, শিলচরে বিয়ের আসরে যখন ধামাইলগানের আয়োজন হয়, তখন রাধারমণ এবং প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের গানই সবচেয়ে বেশি গীত হয়। তাঁর মতে, রাধারমণের হাত ধরে ধামাইলগানের উদ্ভব হয়েছে আর প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের হাত ধরে এই গান বিকশিত হয়েছে। আমার মনে হয় এ কথা মেনে নিতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। শুধু ধামাইলগান কেন, সূর্যব্রতসংগীতসহ বিভিন্ন নারীসংগীত রচনায়ও প্রতাপরঞ্জন ছিলেন সমান দক্ষ। তাঁর এসব গানও নারীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

    প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের মুদ্রিত গানে তাল ও সুরের উল্লেখ আছে। যেটা লালন, দুদ্দু শাহ, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিম কিংবা অন্য কোনও গীতিকারের গানে উল্লেখ নেই। প্রতাপরঞ্জন তালুকদার তাঁর প্রায় প্রত্যেকটি গানের, বিশেষ করে ধামাইলগানের একটা নিজস্ব সুর তৈরি করেছেন। সুরগুলোর নাম ঠিক এ-রকম : হেমারত্ন, সেতান, বিভুরা, পূরবী, কপিলা, পর্ণবা, জয়ন্তী, গাওয়ালি, অগ্নিকণা, মাধুরী, ভারতী, করুণ, কাকলি, ভাওয়ালি, লাবণিকা, লহরি, মিতালি, মধ্যমা, ঝাকড়া, তারকা, কপিলা, সৌরভী, প্রভাতি, দিপালি, চৌতারা, তরঙ্গময়, পৌরভী, মেঘমালা ও কৃতারলী। এসব সুরের প্রণয়নের কারণ প্রসঙ্গে প্রতাপরঞ্জনকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম; তাঁর জবাব ছিল অনেকটা এ-রকম : ‘নিজের গানের সুর অক্ষুন্ন রাখতে নিজেই এ ধরনের নাম দিয়ে গানের সুরারোপ করেছি। হাওরাঞ্চলের মানুষেরা এসব সুর গ্রহণও করেছেন। এখন আপনি যদি কোনও শিল্পীকে বলেন, একটা পূরবী সুরের ধামাইলগান গাও, সে কিন্তু ঠিকই এই সুরে গানটি গাইতে পারবে। মুখে মুখে আমার প্রদত্ত এসব সুর এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।’

    সেদিন প্রতাপরঞ্জনের কাছ থেকে বিদায় নিই। তাঁর কাছে নিজের নোটখাতাটা এগিয়ে দিয়ে নাম-ঠিকানা লিখে দেওয়ার অনুরোধ জানাই। তিনি এবড়ো-খেবড়ো অক্ষরে লিখলেন: নাম-প্রতাপরঞ্জন তালুকদার, গ্রাম-টাইলা, জেলা-সুনামগঞ্জ।’ ঠিকানা লিখে একটি মুঠোফোন নম্বর লিখে সেটার পাশে প্রথম বন্ধনীর ভেতরে লিখলেন : ‘ফোন কইরা আমার নাম কইলে সে ডাইকা দিবে।’ এরই ফাঁকে আমার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা দিয়ে প্রতাপরঞ্জনের গোটা দশেক ছবি তুলে নিই। আমি নিজে থেকে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করে বিদায় নিই।

    আমি বসেছিলাম একটা জলচৌকিতে, দীর্ঘক্ষণ ওই স্থানে বসার কারণে পা ঝিনঝিন করায় বারকয়েক ডান-পাটা এদিক-ওদিক নাড়াই। একসময় দরজার দিকে পা বাড়াই। প্রতাপরঞ্জন আমাকে ঘরের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘দাদা, আমার মতন গরিবের বাড়িতে যদি আসেন, তাইলে খুব খুশি অইমু।’

    প্রতাপরঞ্জনের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ২০০৭ সালের দিকে। সেটা ছিল আমার নিজ উপজেলা শাল্লার ডুমরা গ্রামে। এ সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন স্থানীয় স্কুলশিক্ষক কৃষ্ণকান্ত তালুকদার। পরে তাঁকে নিয়ে একাধিকবার প্রতাপরঞ্জনের বাড়িতে গিয়েছি। প্রথমবারের মতো যখন প্রতাপরঞ্জনের বাড়িতে যাই, সেদিন সম্ভবত আশুরার বন্ধ ছিল। ছুটি পেয়ে কৃষ্ণকান্ত তালুকদারকে ফোন দিলাম। তাঁকে বাড়ি থেকে আসতে বলে আমি সিলেট থেকে দিরাইগামী গাড়িতে চেপে বসি। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে যাই। আগে থেকেই আমার জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন কৃষ্ণকান্ত। এরপর দুইজনে মিলে একটি রিকশায় চেপে বসলাম। মিনিট বিশেক রিকশা কখনও পাকা আবার কখনও কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিয়ে একটা নদীর কাছে আমাদের নামিয়ে দেয়। অতঃপর একটা খেয়া নৌকা করে সরাসরি পৌঁছে যাই টাইলাবাজার। এরপর মানুষকে জিজ্ঞেস করে করে উপস্থিত হই প্রতাপরঞ্জনের বাড়িতে। সেদিনকার দৃশ্যটা এখনও বেশ মনে পড়ে।

    এ ঘটনার দীর্ঘদিন পর হঠাৎ একদিন প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের স্ত্রী সুচিত্রারানি রায় আমাকে ফোন করেন। তিনি ফোনে জানান, প্রতাপরঞ্জনের গলায় ক্যানসার ধরা পড়েছে। ইতোমধ্যে কিছু চিকিৎসাও হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন-তিনি আর বেশিদিন বাঁচবেন না। তাঁর স্ত্রীর কথা শুনে আঁতকে উঠি। সে কী কথা! এ কথা শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে পরদিনই প্রতাপরঞ্জনের বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিই। গিয়ে দেখলাম, প্রতাপরঞ্জনের গলার স্বর অনেকটাই চিকন ও অস্পষ্ট হয়ে এসেছে। কথা বলতে তাঁর খুব কষ্ট হয়। শুনলাম-গলার প্রচন্ড যন্ত্রণার কারণে এক মাস ধরে কিছু খেতে পারছেন না। তিনি আমাকে দেখে কথা বলার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কথাগুলো কেমন যেন খসখসে শোনায়। আমি পাশে গিয়ে বসি। আমার হাত ধরে আঞ্চলিক ভাষায় বললেন, ‘আফনে আইছেন ভালা অইছে। মনটায় আফনেরে দেখবার লাগি খুউব টানতাছিল। আমার সব পান্ডুলিপি আর গান আফনারে দিতাম চাই। আমি চাই আমার সব গান দিয়া একটা বই আফনে বার কইরা দেন। আমি বইটা দেইখা যাইতাম পারমু বইলা মনে অয় না, তবে দেইখা যাইতে পারলে খুব খুশি হইমু।’

    বিকেল শেষ হয়ে যখন সন্ধ্যা নামতে শুরু করে, তখন প্রতাপরঞ্জনের বাড়ি থেকে ফিরতি পথে পা বাড়াই। আমার হাতে প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের সকল গ্রন্থিত ও অগ্রন্থিত গানের পান্ডুলিপি। সেই পান্ডুলিপির মধ্যে একটা অপূর্ণ মনসামঙ্গল-এর পান্ডুলিপিও রয়েছে। প্রতাপরঞ্জনের খুব ইচ্ছে ছিল সহজ-সাধারণ ভাষায় গ্রাম্য নারীদের পাঠের জন্য পদ্মপুরাণ অর্থাৎ মনসামঙ্গল রচনা করবেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে সামান্য একটু লিখেই তাঁকে থেমে যেতে হয়েছে। এ-লেখা শেষ করা আর সম্ভব নয় জেনেই সেই অসম্পূর্ণ মনসামঙ্গল-এর পান্ডুলিপির লিখিত পাতাগুলো আমাকে তুলে দেন।

    আমি সিলেট ফেরার উদ্দেশ্যে দিরাই উপজেলা সদর থেকে রাত দশটার ঢাকাগামী গাড়িতে চেপে বসি। গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে ভাবছিলাম প্রতাপরঞ্জনের কথা। আর বারবার তাকাচ্ছিলাম আমার কোলে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো প্রতাপরঞ্জনের পান্ডুলিপির দিকে। তাঁর ছোটোমেয়ে কমনরানি তালুকদার অতি তৎসহকারে কয়েকটি পাতলা আর ছেঁড়া পলিথিন দিয়ে পান্ডুলিপিগুলো বেঁধে আমার হাতে তুলে দিয়েছিল।

    সেদিনের পর বাসায় ফিরে অসংখ্যবার প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের পান্ডুলিপিগুলো নাড়াচাড়া করেছি। ধামাইলগান ছাড়াও তিনি কীর্তন, বৈঠকি, গোষ্ঠগান আর বিভিন্ন ধরনের নারীসংগীত রচনা করেছেন। লিখেছেন একাধিক জনসচেতনতামূলক গানও। তাঁর কীর্তন গানে বৈষ্ণব ভাবধারার ব্যপক প্রভাব রয়েছে। তবে তাঁর ধামাইলগানের মতো অন্য গানগুলোর ক্ষেত্রে খুব বেশি জনপ্রিয়তা ঘটেনি। প্রতাপরঞ্জনের ধামাইলগান হাওরাঞ্চলের গ্রামীণ নারীদের নাচের তালে অনন্য বিশিষ্টতায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সেই ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছি, এখনও সমানতালে জনপ্রিয় ‘প্রতাপবান্ধা’।

    লিপিরানি দাশ নামে আমার এক কাকাতো বোন রয়েছে। ধামাইলগানের জন্য নিজ গ্রাম ছাড়িয়ে আশপাশের উপজেলায়ও তাঁর কণ্ঠের সুনাম ছিল। একদিন কথাপ্রসঙ্গে সে আমাকে জানিয়েছিল-সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলার হাওর অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে বিয়ে হলেই নারীরা ধামাইলগান পরিবেশন করে থাকে। এটা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে-বিয়েবাড়িতে ধামাইল পরিবেশন যেন কোনও লৌকিক অনুষ্ঠান। এ সময় ধামাইল পরিবেশনার সময় প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের গান পরিবেশিত হয়-না এমন কোনও উদাহরণ পাওয়া যাবে না।

    যে প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের গান ছাড়া ধামাইল পরিবেশনা অপূর্ণ থাকে কিংবা যাঁর গানের বই প্রায় দেড় লাখ কপি বিক্রি হয়ে যায়-এসব তথ্য জানার পর তাঁর সম্পর্কে একটু ঔৎসুক্য জাগাটাই স্বাভাবিক। এমনকী গীতিকারের রচিত গানের কয়েকটা পঙ্ক্তি শোনার ইচ্ছেও জাগতে পারে। তবে তাঁর গান মোটেই গভীর তত্তে¡ ঠাসা কোনও বাণী নয়। তাঁর সাদামাটা পঙ্ক্তিগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে এ গান গ্রামের নিরক্ষর নারীদের কাছে কেন এত জনপ্রিয়।

    পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় হাজারো দুঃখকষ্ট আর বঞ্চনায় জর্জরিত নারীদের কাছে বিয়ে-উৎসব ভরখরায় হঠাৎ বৃষ্টির মতন আবির্ভূত হয়। কারণ দিনের পর দিন সংসারের নানা রকম কাজে যখন বিনোদন বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না, তখন কোনও বাড়িতে বিয়ে মানেই নৃত্যের তালে ধামাইলগান পরিবেশনা আর বিয়েকে ঘিরে কয়েকদিনের বিরতিহীন আড্ডা-উচ্ছ্বাস। এছাড়া ধামাইল পরিবেশনার সময় যেসব গান পরিবেশিত হয়, সেগুলো যদি নিজের জীবনের সঙ্গে কিছুটা হলেও মিলে যায়, তাহলে তো কথাই নেই! অনেকটা আশ্রয়।অবলম্বনহীন পোড়খাওয়া নারীর জলে ভাসমান কচুরিপানাকে আকড়ে ধরার চেষ্টার মতন। সেই কচুরিপানা হয়তো সামান্য বাতাসেই দুলে ওঠে, তবু তো একরকম অবলম্বন। সে রকমই বিয়ের সময় সারারাত একনাগাড়ে ধামাইলগান পরিবেশন করে সাময়িকভাবে পরমানন্দে মেতে ওঠে গ্রামীণ নারীরা।

    প্রতাপরঞ্জন তালুকদার গ্রামীণ নারীদের ঠিক সেই বিষয়গুলোতেই কড়া নেড়েছেন। একজন নারীর অসহায়ত্ব আর বঞ্চনার কথাগুলোকে তাঁর গানে অত্যন্ত সহজসরল ভাষায় তুলে ধরেছেন। গ্রামীণ নারীরা বিয়ে উপলক্ষকে কেন্দ্র করে যেসব গান পরিবেশন করেন, সেসব গানের পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে রয়েছে তাঁদেরই মতো রাধারূপী এক অবলা নারীর সুখদুঃখ-হাসি-আনন্দ-বিরহ-বেদনা। যেটা তাঁদেরও নিজেদের জীবনের সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়। হয়তো সে কারণেই প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের গান গ্রামের নারীদের কাছে এত জনপ্রিয়।

    প্রতাপরঞ্জনের একটা গানের কথা এই মুহূর্তে খুব মনে পড়ছে। এটি ১৯৯৯ সালের দিকে আমার বড়ো বোনের বিয়েতে শুনেছিলাম। কয়েকদিন আগে ওই বিয়ের ভিডিও ফুটেজগুলো দেখতে গিয়ে প্রযুক্তির কল্যাণে এত বছর আগের সেই দৃশ্য আবারও যেন পুরোপুরি আমার স্মৃতিতে ফিরে আসে। আমি একটি লুঙ্গি পরে বেঞ্চিতে বসে আরও জনা পঞ্চাশেক মানুষের সঙ্গে ধামাইল পরিবেশনা দেখছি। বাড়ির খোলা উঠোনে ত্রিপল টানিয়ে একটা খুঁটিমতন বাঁশের মধ্যভাগে হ্যাজাক লাইট টাঙানো হয়েছে। সেই আলোয় প্রায় পঁচিশেক নারী বরকে মাঝখানে রেখে তাঁকে ঘিরে গোল হয়ে একজন ঢোলবাদকের বাদ্যের তালে তালে হাতে তালি দিয়ে বিশেষ ভঙিমায় নৃত্যসমেত গান পরিবেশন করছে।

    সেদিন ওই ধামাইল পরিবেশনকারীরা রাত দশটায় পরিবেশনা শুরু করেছিল, আর তা শেষ হয়েছিল ভোররাতে। আসর, বন্দনা, সভাস্তুতি, জলধামালি, শিক্ষামূলক ধামাইল, গৌররূপ, শ্যামরূপ, বিচ্ছেদ, কোকিলসংবাদ, ভ্রমরসংবাদ, স্বপন, চন্দ্রার কুঞ্জ হইতে বিদায়, সাক্ষাৎ খেদ, মিলনসহ ধামাইলগানের পর্যায়ভুক্ত সবকটি শ্রেণির পরিবেশনা ওইদিন ছিল। ভিডিও ফুটেজ হাতে পাওয়ার পর একটা আগ্রহ জন্মালো-প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের কতগুলো ধামাইলগান পরিবেশিত হয়েছে তা জানার জন্য! সেদিনের পরিবেশিত প্রায় একশটি গানের যাচাই-বাছাই শেষে গুনে গুনে দেখলাম ওইদিন প্রতাপরঞ্জনের ৫১টি গান গাওয়া হয়েছিল। আর বাকিগুলো ছিল রাধারমণ, মধুসূদন দাস, শাহ আবদুল করিম, রোহী ঠাকুরসহ অন্য গীতিকারদের।

    ভিডিও ফুটেজের মাস্টার প্রিন্ট কপি চালানো অবস্থাতেই রইল। কানে বাজছে প্রতাপরঞ্জন তালুকদারেরই সভাস্তুতি পর্যায়ভুক্ত সেই জনপ্রিয় গানটি, একটু আগেই যে গানটির কথা বলছিলাম। গানের পঙ্ক্তিগুলো ঠিক এ-রকম :

    ধন্য এ জীবন সভায় দেইখে শ্রোতাগণ,
    শুনেন ভদ্র শ্রোতাগণ করি নিবেদন
    করি নিবেদন গো, আমি করি নিবেদন।
    শুনেন ভদ্র শ্রোতাগণ করি নিবেদন,
    করি নমস্কার আমি চরণে সবার
    ধামালির অনুষ্ঠান করি উদ্বোধন।
    করি উদ্বোধন গো আমি করি উদ্বোধন,
    ধামালির অনুষ্ঠান করি উদ্বোধন।
    মূঢ়-তাহে মন আমার ওহে শ্রোতাগণ,
    লত্রুটি হইতে পারে করবেন মার্জন।
    করিবেন মার্জন গো আমায় করিবেন মার্জন,
    লত্রুটি হইতে পারে করিবেন মার্জন।
    শুনেন দিয়া মন, শুনেন ওহে শ্রোতাগণ,
    দয়া করে ছেড়ে দিয়েন অন্য আলাপন।
    অন্য আলাপন গো, অন্য আলাপন,
    সভাকারে বলে দাও, দাও পদধূলি গো সভায়
    আশিসও পেয়ে প্রীত হবে মন।
    প্রীত হবে মন গো, প্রীত হবে মন,
    সভায় আশিসও পেয়ে প্রীত হবে মন।
    প্রতাপরঞ্জন কয় সভায় করিয়া বিনয়,
    লত্রুটি অধমের করিবেন মার্জন।
    করিবেন মার্জন গো করিবেন মার্জন,
    লত্রুটি অধমের করিবেন মার্জন।

    প্রতাপরঞ্জন তালুকদার (১৯৪৫-২০০৯) মারা গেছেন, চলে গেছেন সব খ্যাতি-প্রতিপত্তি আর লত্রুটির ঊর্ধ্বে। তিনি আর কখনও গান বাঁধবেন না। কিন্তু সেই পাতলা ও ছেঁড়া পলিথিনগুলো, যেগুলো দিয়ে তাঁর পান্ডুলিপিগুলো বাঁধা হয়েছিল, সেগুলো এখনও আমার ঘরে রয়ে গেছে। প্রতাপরঞ্জনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আজও পূরণ করা হয়নি। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর সব গান দিয়ে এখনও কোনও সংকলন প্রকাশ করতে পারিনি। তবে অদূর ভবিষ্যতে তাঁর রচনাসমূহ প্রকাশিত হবার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। আজ এ কথা বলব, প্রতাপরঞ্জন আমার স্মৃতির অনেকটাই জুড়ে রয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পাঁচ বছর পর যখন প্রতাপরঞ্জনকে নিয়ে লিখছি তখন মনে পড়ছে তাঁর সহাস্য মুখ; শত অভাব-অনটনে থেকে যে-মুখ একটুও ভ্রুকুঞ্চিত হয়নি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
    Next Article ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য – বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }