Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোকায়ত জীবন ও লোকসাহিত্য – সুমনকুমার দাশ

    সুমনকুমার দাশ এক পাতা গল্প328 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পাগলা কানাইয়ের গান

    ঊনবিংশ শতাব্দীর তাত্ত্বিক-সাধক পাগলা কানাই (১৮০৯-১৮৮৯)। ঝিনাইদহ জেলায় জন্মগ্রহণকারী এ সাধকের পরিচিতির গন্ডি তাঁর জীবদ্দশাতেই নিজের এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁর সমকালে নবীন-প্রবীণ সাধকদেরও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তাঁর তত্ত্ব প্রধান গানের পঙ্ক্তি। যথার্থ সাধকের গানের বিশেষত্বই হচ্ছে রূপকের আশ্রয়ে নিগূঢ়তত্ত্বের উপস্থাপন। সেক্ষেত্রে পাগলা কানাই অর্জন করেছিলেন বিশিষ্টতা। তাঁর মৃত্যুর (১৮৮৯) এত-এত বছর পরও পাগলা কানাইয়ের রচিত তত্ত্ববহুল গানের সমকক্ষতা খুব কম সংখ্যক সাধকই অর্জন করতে পেরেছেন।

    পাগলা কানাই তাৎক্ষণিক গান রচনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন বলে গবেষকদের অভিমত। যে-ব্যক্তি তাৎক্ষণিক রচনায় পটু ছিলেন, তাঁর গান অতিমাত্রায় তত্ত্বাশ্রয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়াই যুক্তিসংগত। কারণ তাৎক্ষণিক রচনায় অধিকমাত্রায় তত্ত্বের শৈল্পিক উপস্থাপনা একটু কঠিনই বটে! তবে পাগলা কানাইয়ের গান-পাঠে মোটেই তেমনটি মনে হয় না। বরং এ ধারণাই পাকাপোক্ত হয় যে, তিনি অনেক ভেবে-চিন্তে তত্ত্বপ্রধান গান রচনা করেছেন।

    পাগলা কানাইয়ের গানের বিশ্লেষকদের ধারণা, মূলত বাউল-সাধনার তাত্ত্বিক ও গুহ্য খুঁটিনাটি বিষয়াদি সম্পর্কে তাঁর বলিষ্ঠ ধারণা থাকার সুবাদে তাৎক্ষণিকভাবেও তিনি তত্ত্বাশ্রয়ী গান রচনায় দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন। কানাই একসময় সুফি-মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। সে সময়টাতে ভাব-সাধনায় ব্যাপক গভীরতা অর্জন করেছিলেন। সেসব জ্ঞানার্জন পরবর্তীকালে তিনি বাউল-সাধনার সঙ্গেও সন্নিবেশিত করেন। এ কারণেই তাঁর গানে ভাবাশ্রয়ী দার্শনিক তত্ত্ব প্রচন্ডভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

    বাউলগান রচনার পাশাপাশি একজন কবিয়াল-গায়ক হিসেবে তাঁর ছিল ব্যাপক পরিচিতি। হাজারো মানুষ সামনে রেখে গানের আসরে দাঁড়িয়ে রাতের পর রাত কাটিয়ে দিয়েছেন পাগলা কানাই। দর্শক-শ্রোতারা বুঁদ হয়ে শুনেছেন তাঁর গান। ‘আত্মগোপন’ করা বাউলদের সাধনার প্রাসঙ্গিক-অনুষঙ্গ হলেও পাগলা কানাই প্রকাশ্য জীবনযাপনে সে রীতিনীতি ধারণ করেননি। বরং মানুষের সান্নিধ্যে থাকাই ছিল তাঁর পছন্দ। শিষ্যদের নিয়ে দলবেঁধে এ গ্রাম-ও গ্রামে বায়না রেখে গান গাইতে বেরোতেন। গান গেয়ে টাকা উপার্জন করে সংসার চালাতেন। পুরোদস্তর একজন সংসারী মানুষ ছিলেন।

    অপরাপর বাউলদের মতো পাগলা কানাই সংসার-বিবাগী না-হয়েও বাউলসাধনা চালিয়েছেন। এমনকী সংসারে বসবাস করেও ‘আত্মগোপন’ করে ‘আত্মানুসন্ধান’ করেছেন। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ‘কবিয়াল’ পেশা ধারণ করেছিলেন, কিন্তু সেটা ছিল তাঁর বাহ্যিক দিক। এর বাইরে তাঁর ভেতরের সত্তা পুরোটাই নিবেদিত ছিল বাউলসাধনায় এবং ‘মনের মানুষ’-এর সন্ধান-লাভের প্রচেষ্টায়।

    বাঙালির চিরায়ত মানস-ঐতিহ্য অনেকটা ভাবমুখী। লালন সেই ভাবমুখী-সত্তাকে অনেকটা মানুষ-বন্দনা ও বস্তুবাদী চেতনার আড়ালে নতুনরূপে বাউল-সাধনায় উপস্থাপন করেছিলেন। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে পরবর্তী কালের গ্রামীণ বাউলসাধকদের ওপরও। লালন সেসব সাধকদের প্রতিভূ হলেও পাগলা কানাইয়ের অবদানের মূল্যকেও কোনওভাবেই অস্বীকার করা যাবে না।

    পাগলা কানাইয়ের রচিত গানে দেহতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক চিন্তার সংমিশ্রণসহ মানুষ-বন্দনার বিবিধ প্রসঙ্গও স্পষ্টভাবে পরিস্পুষ্ট হয়েছে। এ চেতনার কারণেই বোধহয় তিনি রামপ্রসাদের বিখ্যাত একটি গানের মতোই উচ্চারণ করতে পেরেছিলেন-‘মানুষ জমিন ভাই। যতন করা চাই। যতন না করলে ফসল মেলে না’। এ পঙ্ক্তিগুলোতে তাঁর চিন্তার দূরদর্শিতা, প্রাজ্ঞতা এবং জ্ঞানমুখী চেতনার বিষয়টিই উপলব্ধি করা যায়। রামপ্রসাদ তাঁরও আগে একইভাবে বলেছিলেন-‘এমন মানব জমিন রইল পতিত। আবাদ করলে ফলতো সোনা’। এটি যেন ঐতিহ্য-পরম্পরারই জাজ্বল্যমান উদাহরণ।

    বাউলগানে সাধকেরা গাঁথুনির পরিপক্কতা এবং পরিকল্পিত শব্দচয়ন করে থাকেন। সাধনার গোপনীয় নানা তথ্য এসব গানের পঙ্ক্তিতে চোরাবালির মতো নিরন্তর ফাঁদ পেতে থাকে। সাধারণ অদীক্ষিত ব্যক্তিরা এসব ফাঁদে না-পড়লেও তাঁরা গানের পারিপাট্যে বিমুগ্ধ হন। তবে চোরাবালির এ ফাঁদের গূঢ়-রহস্য ভক্ত-শিষ্যদের অবশ্যই উদ্ঘাটন করা সাধনায় শাস্ত্রসম্মত বিধি হিসেবেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষের কাছে এসব গানের নান্দনিক আদল বিমুগ্ধতা ছড়ালেও একমাত্র রসজ্ঞ সাধকেরা তার ভেদ অনুসন্ধান করতে পারেন। আর এসব রসজ্ঞদের জন্যই পাগলা কানাই রচনা করেছেন তাঁর তত্ত্বাশ্রয়ী অসংখ্য গান।

    পাগলা কানাইয়ের গান রচনার অন্যতম বিষয়বস্তু ছিল হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের নানা পুরাণ ও আখ্যাননির্ভর। এর বাইরে আসর বন্দনা, সৃষ্টিতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, পরমতত্ত্ব, কামতত্ত্ব, গুরু-শিষ্যবিষয়ক গান, বিচ্ছেদসহ সমকালীন নানা ঘটনা নিয়ে লেখা গানও রয়েছে। সৃষ্টি ও জীবন সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের গভীরতা এসব গানে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

    পাগলা কানাই কেবল গান রচনাই করেননি বরং তিনি তাঁর প্রতিটি গানেই সুরারোপ করে গিয়েছিলেন। তাঁর বিচিত্রধর্মী গানের পঙ্ক্তির মতোই সুরগুলোও প্রাণবন্ত ও অভিনব। তাঁর দেওয়া সুর সে-সময়ে ‘পাগলা কানাই সুর’ হিসেবে প্রচলিত ছিল। এ বিষয়টি সংগ্রাহক দুর্গাদাস লাহিড়ী তাঁর সম্পাদিত বাঙালির গান গ্রন্থেও উল্লেখ করেছিলেন।

    দুই

    বাউল সাধনায় ‘নিগূঢ়তত্ত্ব’ সম্পর্কে প্রচ্ছন্ন ধারণা না-থাকলে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। গুরু নির্দেশিত তত্ত্ব-নির্ভর পথ ভুলে বেপথে চললে সাধনার প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয় না। তাই পাগলা কানাইয়ের সাবধাণী উচ্চারণ : ‘পাখি নিগূঢ়তত্ত্ব গেছে ভুলে। বন্দি রইল মায়াজালে। আমার খাঁচার ভিতর’।

    ‘মায়াজালে’ বন্দি হওয়ার কোনও সুযোগ বাউলসাধনায় নেই। এর ফলে জাগতিক ‘ভববন্ধন’ থেকে সাধকদের বিরত থাকতে হয়। ‘ভববন্ধন’ থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে ‘জন্মবীজ’ কোনওভাবেই নারীর মধ্যে দেওয়া যাবে না। এজন্য সাধককে ‘অটল’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পূর্বসূরিরা। ‘অটল’ থাকতে হলে কোনওভাবেই মনে ‘কামভাব’-কে স্থান দেওয়া যাবে না। ‘কামভাব’-কে দূরে রাখতে হলে কঠোর এবং নির্মোহ সাধনার চেষ্টা জীবনভর করে যেতে হয়।

    একজন সাধকের কঠোর সাধনায় পথ-প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে থাকেন তাঁর সাধনগুরু। তিনিই সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তাই তাঁর নির্দেশিত-বাণী ‘বেদবাক্য’ হিসেবে সাধনসংক্রান্ত রীতিনীতিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পাগলা কানাইও এ-বিষয়টি ধারণ করে একাধিক গান রচনা করেছেন। এসব গান ‘রসজ্ঞ সাধক’ হতে ইচ্ছুক উত্তরসূরি ভক্ত-অনুসারীদের ‘ভববন্ধনমুক্ত’ জীবনযাপনের পথ দেখিয়ে এসেছে যুগের পর যুগ ধরে।

    ‘আমি সাধন ভজন করি কেমন করে?’-শিষ্যের এ-রকম প্রশ্নের জবাবে পাগলা কানাইয়ের উত্তর : ‘কাম ক্রোধ লোভ মোহ মায়া। ও যার অন্তরেতে নাই। তারই হচ্ছে সাধন ভজন। এই অধীনের শক্তি নাই’। গানের পঙ্ক্তিতে ‘এই অধীন’ শব্দবন্দটি পাগলা কানাই নিজেকে উদ্দেশ্য করে বললেও এটি মূলত একটি রূপকধর্মী-উপমা। আসলে ‘এই অধীন’ শব্দটি সাধনভজনহীন ব্যক্তিকেই বোঝায়। তাই সাধনভজনহীন ব্যক্তির উচিত শীঘ্রই গুরু।মুর্শিদের সাহায্য নিয়ে সাধনায় উতরানো। এ বিষয়টি পাগলা কানাই নিম্নোক্ত গানে এভাবেই উপস্থাপন করেছেন :

    ওরে মনের দুখ বলবো কারে শোনো ভাই সকল,
    আমি হয়েছি উলাই পাগল।
    ছয় জনা আমার দেহের মদ্দি করে গন্ডগোল,
    আমার আমি ভাই চিনলাম না রে,
    আমি ভুলেছি সেই গুরুর বোল,
    লোকে বলে হয়েছিস পাগল,
    আমি কেমন করে যাব ভবপারে
    আমার পারের নাই সম্বল।

    সেই পারের ঘাটে দিচ্ছে খেয়া গুরু কর্ণধার
    সে যে ধরে না পয়সারই ধার,
    রসিকজনে পাইলে পরে অমনি করে পার,
    যদি প্রেম-রসিক হইতে পারো,
    আগে বান্দো রে সেই প্রেমের ধার,
    গুরুর চরণ করো রে নেহার,
    ও সেদিন গুরু হবে ভবতরি ভাই,
    শিষ্য হবে কর্ণধার।

    পাগলা কানাই বলে শোনো রে কোরবান কই তোরে,
    তুই যাবি যদি ভবপারে
    গুরুর চরণ সম্বল রেখে চড়ো ইস্টিমারে,
    সে যে অনায়াসে পার করে নিবে,
    গুরুর ওই চরণের জোরে-
    পয়সা কড়ি লাগবে না পারে
    সেদিন চরণ টিকিট দেখাইলে ভাই
    ওমনি দিবে ছাড়ে।

    এমনিভাবে পাগলা কানাই অসংখ্য গানে গুরু ভজনার নির্দেশনাসূচক গান রচনা করেছেন। গুরুর মাধ্যমেই ‘পরমতত্ত্ব’-এর অর্থ উদ্ঘাটনের পাশাপাশি সঙ্গমকালে শ্বাস-প্রশ্বাস আয়ত্তে এনে ‘বস্তু নিয়ন্ত্রণ’-এর প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকার কথাও বলেছেন। তবে সবার আগে ‘কামকুম্ভীর’ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এটিকেই গুরুত্ব দিয়ে তিনি ‘সাঁতার না-জেনে’ ‘কামসাগর’-এ না-যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    পাগলা কানাইয়ের অভিমত, কামসাগরের ‘ঘাটে’ নামার আগে গুরু ভজনা করতে হবে। সেই গুরু অটল সাধনায় শিষ্যকে প্রস্তুত করলেই কেবল ‘ঘাটে’ নামা যাবে। তাহলেই ‘কামকুম্ভীর’ শত চেষ্টা করেও সাধনপথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। কানাই তাই বলেছেন-‘ঘাটে নামলে মরা মানুষ, কুম্ভীর হয় বেহুঁশ। […]। তাজা দেখলে ধরে খায় মরা দেখলে দৌঁড়ে পালায়’। এই ‘মরা মানুষ’ বলতে ‘সাধক ব্যক্তি’-কে বোঝানো হয়েছে।

    ‘সাধক ব্যক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বশর্তই হচ্ছে ছয় রিপুকে বশে নিয়ে আসা। মানববিধ্বংসী এসব রিপুকে সংহার করতে না-পারলে মানুষ মুক্তির সন্ধান পাবে না। ছয় রিপু যে কেবল নিজের ইচ্ছায়ই মনের মধ্যে জাগ্রত হয় তাও কিন্তু নয়। মনের অজ্ঞাতসারেও এসব রিপু সাধকের চারিত্রিক ও নৈতিক দৃঢ়তাকে ভেঙেচুরে দিতে পারে। তাই সর্বদা ষড়রিপু থেকে মুক্ত থাকার জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়।

    পাগলা কানাই ‘ষড়রিপু’ থেকে দূরে থাকার জন্য মুর্শিদ ভজনার প্রতি গুরাত্বারোপ করেছেন। কেবল মুর্শিদই পারেন জাগতিক দুঃখ-কষ্ট-জ্বরা-ব্যাধি থেকে সরিয়ে রাখতে। মুর্শিদ-প্রদত্ত বাণী হৃদয়ে ধারণ করে পথ চললে ‘ভবপার’-এ যাওয়া সম্ভব। এ বিষয়টিই পাগলা কানাই উপস্থাপন করেছেন এভাবে-‘ভবপারে যাবি রে অবুধ মন। ও আমার মন রে রসনা। দিন থাকতে মুর্শিদ ধরে সদা ভজন করলে না’।

    পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে ‘মায়ার বশে’ মজে থাকলে চলবে না। কারণ কখন যে ‘পিঞ্জিরা আঁধার করে প্রাণপাখি যাবে ছেড়ে’ তার ঠিকঠিকানা নেই। আর ‘প্রাণপাখি’ চলে গেলে ‘ভবের কামাই ভবে থুয়ে খালি হাতে যেতে হবে’। এ উপলব্ধি থেকেই পাগলা কানাই মনে করেন-পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে অবহেলায় দিন কাটানোর সুযোগ নেই। কোনও ধরনের মায়ার বন্ধনে না-জড়িয়ে আমৃত্যু সাধনার পথে মনোনিবেশ করা উচিত। কেবল সাধনভজনকারী ব্যক্তিরই জন্মগ্রহণ সার্থক।

    তিন

    পাগলা কানাইয়ের গানে সাধনতত্ত্বের পাশাাপাশি মানুষ-বন্দনাও স্থান পেয়েছে। মানুষের জাতি-ধর্ম-বর্ণ তাঁর কাছে মুখ্য ছিল না, কেবল মানুষ হিসেবেই তিনি অপরকে মূল্যায়ন করতেন। তাই কানাই এক গানে লিখেছিলেন, ‘শত রঙের দেখি রে গাভি। একই রঙের দুধ গো দেখি। তবে কেন ত্রিজগতে মানবিচ করত্যাচি। এক মায়ের দুধ গো আমরা। বাপে-বেটায় খ্যাতাছি’।

    পাগলা কানাইয়ের উদার ধর্মীয় চেতনা ও অসাম্প্রয়াকিতাবোধ তাঁর প্রায় গানেই পরিলক্ষিত হয়। মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী একজন মুসলিম ব্যক্তি মৃত্যুর পরে ‘পুলসিরাত’ এবং হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুয়ায়ী একজন ব্যক্তি ‘বৈতরণী’ পার হতে হয়। কানাইয়ের মতে, ‘পুলসিরাত’ ও ‘বৈতরণী’ শব্দ-দুইটি একই বিষয়ের এপিঠ-ওপিঠ। তাই তাঁর সুষ্পষ্ট উচ্চারণ :

    আছে হিন্দু আছে মুসলমান,
    এক মায়ের দুটি সন্তান,
    মউতকালে তৌবা পড়ে যত মুসলমান,
    হিন্দু পার হয় বৈতরণী,
    সকলের এক প্রাণ তো জানি,
    কাজের বেলায় সকল এক সমান।
    আছে এই ভবে সবার মরণ,
    মুসলমানের গোর কাফন,
    হিন্দু মলি শ্মশানে দাহন,
    হবে, এ দেহ চার চিজে মিলন।

    পাগলা কানাইয়ের মতে, মানুষের জন্ম-মৃত্যুতে বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতির আচার-আচরণগত কিছু সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য রয়েছে-এটা সংস্কৃতিজাত ভাবনা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। তবে ‘তুমিও মানুষ আমিও মানুষ’ এটিতে ঘোরতর সত্যবাণী। আর এ বাণী সমাজে যত প্রচার করা সম্ভব হবে ততই মানুষে-মানুষে কৃত্রিম ভেদ-বিভেদ দূরীভূত হবে।

    চার

    বাউলসাধনায় দেহতত্ত্ববিষয়ক গানের কদর শিষ্য-ভক্তসমাজে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু দেহবাদী সাধনাই বাউলদের কাছে মুখ্য, তাই এ-সংক্রান্ত পঙ্ক্তির গুরুত্ব অপরিমেয়। পাগলা কানাইও ব্যাপকসংখ্যক দেহতত্ত্ব পর্যায়ের গান রচনা করেছিলেন। সাধুসমাজে সেসব গানের আলাদা স্বীকৃতিও মেলেছে।

    পাগলা কানাই দেহের মধ্যে এক ‘মহাজন’ লুকিয়ে রয়েছেন জানিয়ে একটি গানে লিখেছিলেন :

    পাগলা কানাই কয় এ দেহের মধ্যে আছে আরেক মহাজন,
    আমি নিরবধি নদী-স্থিতি পাই না তাহার নিরূপণ।
    আমি ক্ষণে হেরি, ক্ষণে ফিরি, ক্ষণে যোগায় সাধুজনার মন,
    ওরে মহাজন সামান্য কথা মর্ম কথা মনে ভাই দূরে তাই,
    সাধুজনার দয়া হলে ত্রিবেণীতে হয় জোয়ার,
    আছে লাহুত চন্দ্র ইন্দ্রগুলি সকল তারা একই তারের তার,
    কালোচন্দ্র আছিল ভাই মণিকোঠার কাছে
    তার আজ্ঞাচন্দ্র নষ্ট হলে বিভ্রান্তি হয় শেষে।
    তুমি শাস্ত্র মানো দিন গা গোনো
    গুরুর বচন মিথ্যা নয়,
    আছে চাঁদের কিরণ সূর্যের কিরণ
    গণকেতে গুণে কয়
    পাগলা কানাই বলে ভাই সকল রে
    আমার জীর্ণ দেহ কি হবে উপায়।

    পাগলা কানাই যে ‘মহাজন’-এর কথা গানে উল্লেখ করেছেন, সেটি সাধকদের কাছে ‘পরমাত্মা’ রূপে পরিচিত। সেই ‘পরমাত্মা’-কে চেনার সাধনাই বাউলদের চিরায়ত রীতি। আর এ রীতি অনুসরণ করেই সাধক সাধনার সর্ব্বোচ্চ ‘লাহুত’ স্তরে পৌঁছে যান।

    পাগলা কানাইয়ের দেহতত্ত্ব পর্যায়ের গানগুলোতে সাধনার নিগূঢ় ও গুহ্য বিষষের তথ্যও উল্লেখিত হয়েছে। নারীর রজঃস্বলা অবস্থায় সাধকের কর্তব্য কিংবা কামের প্রবৃত্তিকে উৎপাটন করে সাধনায় রূপান্তর করা-এসবকিছুই এসব গানের মূল উপকরণ। দেহবিহীন সাধকের সাধনা যে একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার সেটিও তাঁর গানে আলোচিত হয়েছে।

    ‘যা আছে ভান্ডারে তাই রয়েছে ব্রহ্মান্ডে’ সেটির পরিপূর্ণ নির্যাসই হচ্ছে পাগলা কানাইয়ের গানের বিষয়বস্তু। দেহকে উপজীব্য করে কানাই তাঁর গানের শিল্পকুশলতা বাউলসমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই সাধকদের কাছে তাঁর গানের আবেদন চিরকালীন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
    Next Article ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য – বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Our Picks

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }