Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    লোকায়ত জীবন ও লোকসাহিত্য – সুমনকুমার দাশ

    সুমনকুমার দাশ এক পাতা গল্প328 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রামকানাই দাশ : লোকগানের সর্বশেষ কিংবদন্তি

    যখন শৈশবের ফেলে আসা গ্রামের কথা মনে পড়ে, যখন চোখের পর্দায় ভেসে ওঠে রং-বেরংয়ের পালতোলা নৌকা কেবল বাতাসের সাহায্য নিয়ে ধীরলয়ে গন্তব্যে যাওয়ার দৃশ্য-ঠিক তখনই মন আনচান করে ওঠে। তখন বারবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে পুরোনো দিনগুলিতে। সেই দিনগুলি, যেখানে গ্রামের পথে-প্রান্তরে গাছগাছালিতে বসে আপন খেয়ালে নানা সুরে রবে গান গায় দোয়েল, কোকিল, বউ কথা কও। আর সে সুরে মুগ্ধ গ্রামীণ মানুষ গাছের নিচে ছায়ায় বসে শান্তির ঘুম সেরে নেন! এ-রকমই পরিবেশে কেউ-কেউ হয়তো গান বাঁধেন কিংবা গলা ছেড়ে গেয়ে থাকেন তাঁদের বংশ-পরম্পরায় রক্তে ঢুকে পড়া প্রাচীন গানের নানান ধারা। মাঝে মধ্যে যখন এসব ভাবি কিংবা ভাবতে বাধ্য হই, তখন প্রাসঙ্গিকভাবেই মন খুঁজে ফেরে সেসব গান। আর তখনই হেমাঙ্গ বিশ্বাস, নির্মলেন্দু চৌধুরী, খালেদ চৌধুরী, রণেন রায়চৌধুরী, অমর পালদের কাছে আশ্রয় খুঁজি। সর্বশেষ সে ধারায় যুক্ত হলেন রামকানাই দাশ (১৯৩৫-২০১৪)।

    রামকানাই দাশ কেমন গাইতেন? কেমন ছিল তাঁর গান গাওয়ার ঢং? কিংবা তিনি কোন মাপের শিল্পী? তবে এরও আগে প্রশ্ন তোলা উচিত-কেন তাঁর গান শোনা জরুরি? এসব অসংখ্য প্রশ্নের জবাব কেবল একটি বাক্যেই দেওয়া সম্ভব। তা হলো-গ্রামের মাঝিমাল্লা, জেলে, শ্রমিক কিংবা কৃষক যেভাবে গাইতেন, সে কণ্ঠই হুবহু রামকানাই দাশ তাঁর কণ্ঠে নিয়ে এসেছিলেন। এ-কারণেই বোধহয় রামকানাইয়ের গাওয়া গানগুলোতে এত দরদি উচ্চারণ! লোকগানের আদি ও অকৃত্রিম সুরকেই তিনি তাঁর কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন। প্রাচীন গানের আসল রূপ-রসটুকু আস্বাদনের জন্য তাই রামকানাইয়ের কোনও তুলনা নেই।

    রামকানাই জন্মেছেন বাংলাদেশের ভাটি এলাকায়। আরেকটু নির্দিষ্ট করে বললে-হাওরাঞ্চলে। সেই হাওর যেখানে পানি কখনও উত্তাল আবার কখনও শান্ত-সুমন্ত। গান আর সুরের গতিপ্রকৃতিও সেখানে অনেকটা এ-রকমই। প্রকৃতির কারণেই ধীরতাল ও দ্রুততাল-এ দুই রকমের গানের ধারাই এই জনপদে বহমান। শান্ত পানিতে পাল উড়িয়ে যেমন ধীরগতিতে নৌকা এগিয়ে চলে আবার যৌবন উপচে পড়া বর্ষামৌসুমে বইঠা দিয়ে পানি কেটে-কেটে যেভাবে এগিয়ে চলেন মাঝিমাল্লারা-ঠিক সেভাবেই রামকানাইয়ের কণ্ঠেও সুরের উত্থান-পতন ধরা পড়ত। এ-কারণেই রামকানাই দাশ অনন্য, অনবদ্য।

    রামকানাই দাশ ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতের গুরু। সংগীতজ্ঞ ওয়াহিদুল হক লিখেছিলেন, ‘আমাকে কেউ যদি বলেন, দেশের সবচেয়ে ভালো খেয়াল গাইয়ে কে? প্রশ্নটা ঠিক হবে না। তবু উত্তর করার আগে বেঠিক জেনেও আমার মন সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দেয়, রামকানাই। সিলেটের রামকানাই।’ রামকানাই যখন এপার-ওপার দুই বাংলাতেই খেয়ালসংগীতের .পন্ডিত হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর গানচর্চার ধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। একসময় যে লোকগানকে অনেকটা ‘অবজ্ঞাভরে’ তিনি প্রত্যাখান করেছিলেন, শেষবয়সে সেই লোকগানকেই পরম আপন করে নেন। তাই লেখায় ওয়াহিদুল হক এ বাক্যটিও লিখেছিলেন, ‘আমাদের দেশীয় গ্রাম্য গানের বিষয়েও তার রুচি, অভিজ্ঞতা এবং অধিকার অতুলনীয়।’

    ওয়াহিদুল হক যে-অধিকারের কথা রামকানাই দাশ সম্পর্কে লিখলেন, সে অধিকার কিন্তু সবার পক্ষে আদায় করে নেওয়া সম্ভব নয়। লোকগানে অধিকার অর্জন করাটা এমনই এক বিষয়-যেটি কেবল শুদ্ধ, পরিশীলিত ও সঠিক চর্চার মাধ্যমেই আদায় করে নিতে হয়। আমাদের এই দেশে অনেকে লোকগানের চর্চা করলেও সেই অধিকার খুব একটা যে তাঁরা অর্জন করতে পেরেছিলেন, তা কিন্তু বলা যায় না। কেউ কেউ যে করেননি তাও অবশ্য নয়। তবে রামকানাইয়ের ব্যাপারটিই আলাদা। তিনি ‘আবহমান কালের বয়ে-আসা’ ‘প্রাণ-উৎসারিত’ এসব প্রাচীন লোকগানকে উপস্থাপন করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে ওয়াহিদুল বলেছিলেন, ‘গানগুলি তাদের স্রষ্টারা যেমন করে বেঁধেছিলেন, গেয়েছিলেন, তার খুব কাছের রূপে আমরা পাব রামকানাইয়ের কণ্ঠে। […] রামকানাইয়ের পথ ধরে দেশের সকল প্রাচীন সংগীত-কীর্তি যদি প্রকাশিত হতে আরম্ভ করে, তবে জাতির জন্য খুব বড়ো কাজ হবে।’ এই হলো বোদ্ধাদের বিশ্লেষণ। রামকানাই দাশ প্রাচীন গানের সুর ও কথার অক্ষুণ্নতা এবং আদিভাব বজায় রেখেছিলেন বলেই তাঁর গায়নশৈলী নিয়ে চারিদিকে এত প্রশংসা, বিস্তর আলোচনা ও মাতামাতি।

    রামকানাই দাশ বিশেষত শিতালং শাহ, রাধারমণ, হাসন রাজা, রসিকলাল, দিব্যময়ী, যোগেন্দ্রসহ প্রমুখ গীতিকারের গান গেয়েছেন। এর বাইরে নানা ধারার প্রাচীন লোকগান যেমন-উরিগান, ঘাটুগান, কীর্তন, পদ্মপুরাণের গান, লুটের গান, ধামাইল, বিচ্ছেদী, সারি, পল্লিগীতি, কবিগান, মালজোড়া, মালসি, ফকিরালি গানও গেয়েছেন। সিলেটের আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গানগুলো তাঁর কণ্ঠে অপূর্ব মধুরতায় উচ্চারিত হতো। নিজে তবলা, ঢোল, খোল, দোতারাসহ নানা ধরনের দেশীয় বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন। তাই কোন গানের সঙ্গে কোন বাদ্যযন্ত্র ভালো মানায় তা তিনি নিজেই ঠিক করে নিতেন।

    প্রসঙ্গক্রমেই মনে পড়ছে তাঁর গাওয়া একটি গানের কথা। আজিম ফকির নামে এক ভিক্ষুক ছিলেন, যিনি ছিলেন রামকানাইয়ের পৈতৃক গ্রাম পেরুয়ার বাসিন্দা। অন্ধ এই ভিক্ষুকটি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আশপাশের গ্রামগুলোতে ভিক্ষা করতে বেরোতেন, তখন একটি গান গাইতেন। সে গানটি ছিল আজিম ফকিরেরই লেখা। ওই গানের যথাযথ সুরটি ব্যবহার করে রামকানাই দাশ তাঁর অসময়ে ধরলাম পাড়ি (২০০৫) শীর্ষক সিডি-অ্যালবামটিতে প্রকাশ করেছিলেন। অসাধারণ ছিল ওই কণ্ঠ। একজন ভিক্ষুকের জীবনবাসের করুণ আর্তিগুলো রামকানাইয়ের কণ্ঠে তীব্রভাবে উঠে এসেছিল। গানের পাঠ নিম্নরূপ :

    আল্লা সবুর করলাম সার
    বুঝিতে না-পারি আল্লা কুদরতও তোমার
    দিনের ভিক্ষায় দিন চলে না
    ক্ষুধায় অঙ্গ জ্বলে।

    বস্ত্র নাই শীতের কাপড় ধরমু কারও গলে
    ঘর ভাঙা দুয়ার ভাঙা আরও ভাঙা বেড়া
    আঁখি মেইল্যা চাইয়া দেখি
    আসমানেরও তারা।

    ইষ্টিকুটুম ভাই-বিরাদ্দর সকল হইল বৈরী
    এই দুঃখে আর প্রাণ বাঁচে না যাইমু কার বাড়ি
    কী কলম মারিলা আল্লা কপালে আমার
    বৃদ্ধকালে ফিরাইলায় সকলের দুয়ার।

    ওবা আল্লা সবুর করলাম সার
    বুঝিতে না-পারি আল্লা কুদরতও তোমার।

    আমার মতো দিনদুঃখী আর ত্রিজগতে নাই
    মনের দুঃখ রইল মনে বলব কারও ঠাঁই
    ফকিরও আজিম শাহ কয় হইয়া লাছাড়
    না-জানি কি হইবে আমার কয়বরের মাঝার।

    প্রায়সই পথ চলতে কিংবা দূরের যাত্রাপথে চলন্ত গাড়িতে দাঁড়িয়ে কিছু ভিক্ষুককে পথচলতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যেমন সুরে আমরা আল্লার বন্দনাসূচক গান পরিবেশন করে ভিক্ষা মাগতে দেখি, এ গান অনেকটা সে ধাচেরই। তবে আজিম ফকিরের গানের ভাষার সঙ্গে হালের ভিক্ষুকদের পরিবেশিত এসব গানের অনেক তফাত রয়েছে। আজিম ফকির সৃষ্টিকর্তার প্রতি খেদ প্রকাশ করেছিলেন আর অন্যরা আনুগত্য প্রকাশ করে ভিক্ষা প্রার্থনা করছেন। আজিম ফকির ও অন্যদের পরিবেশিত গানগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য ছিল সুরের তারতম্য। আজিম ফকিরের গানটিতে ব্যবহৃত হয়েছিল হালকা চালের ভাটিয়ালি সুর। যে সুর হাওরের প্রকৃতির সঙ্গেই অনেকটা মিলেমিশে একাকার হয়ে রয়েছে। আর এ-কারণেই গানটি রামকানাইয়ের কণ্ঠে অনন্য মাত্রা পেয়েছে।

    ঈর্ষণীয় রামকানাই দাশের গাওয়া অপর গানগুলোও। সুরধুনীর কিনারায় (২০০৫) শীর্ষক অডিও-অ্যালবামটিতে রামকানাই গেয়েছিলেন ‘বন্ধুহারা পোড়া দেশে’ গানটি। গানটির মুখ-পদটি এ-রকম : ‘বন্ধুহারা পোড়া দেশে। যায় না বসত করা। যা গো সখী চলে যা মথুরা।’ এ গানটিতে রামকানাই সুরের যে বৈচিত্র্য দেখিয়েছেন, তা অভিনব ও আকর্ষণীয়। ‘বন্ধুহারা পোড়া দেশে’ পঙ্ক্তিটি যখন তিনি গাইলেন তখন ‘দেশে’ শব্দটি বলার সময় ‘দেশে-এ-এ-এ-এ’ বলে কণ্ঠের যে টান দিয়েছিলেন তা শ্রোতাদের সুরের সঙ্গে অনেকটাই বেঁধে ফেলেন। একইভাবে ‘যায় না বসত করা’-এর ‘ক-অ-রা-আ-আ’ শব্দটিও একই অনুপ্রাস সৃষ্টি করে। আবার একই গানে রামকানাই যখন গেয়ে চলেন-‘ও আমার বাহিরেতে চামড়ার ছানি। ভিতরে আগুনের খনি গো। আমার বুক ছিঁড়িয়া দেখো না গো তরা [তোরা]।’ প্রথম পঙ্ক্তি দুটি শোনার পর শ্রোতাদের আর ‘বুক ছিঁড়িয়া’ দেখার কোনও প্রয়োজন পড়বে না। কারণ ‘ভিতরে আগুনের খনি গো’ পঙ্ক্তিটি এতই দরদ দিয়ে রামকানাই গেয়েছেন, সেখানে শ্রোতাদের আপনা-আপনিই বাক্যটি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে নেয়।

    শ্রোতাদের অনুভূতি আর উপলব্ধি প্রাধান্য রেখে গান নির্বাচন করেই রামকানাই গেয়েছেন। কিন্তু কখনওই সেটি বিকৃত করে নয়। তাই অপরাপর লোকশিল্পীদের সুর ও কথার সঙ্গে রামকানাইয়ের গাওয়া গানগুলো অনেকটাই স্বতন্ত্র। হাওরে যেমন বর্ষায় একেকটি গ্রাম বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো একাকী পানির ওপর ভাসতে থাকে, রামকানাইও ঠিক তেমনই একজন মানুষ। যাঁর বলতে গেলে তেমন কোনও সঙ্গী ছিল না, অনেকটা একা ও বন্ধুহীন। গ্রাম থেকে আদিসুরে গানগুলো সংগ্রহ করতেন এবং গাইতেন। তাই একই গান তাঁরও আগে যাঁরা গেয়েছেন, এমনকী তাঁদের সঙ্গেও রামকানাইয়ের গায়কি মিলছে না। এ-কারণেই হয়তো খোদ তাঁরই বিরুদ্ধে সুর বিকৃতির অভিযোগ করেছিলেন কেউ কেউ! কিন্তু শ্রোতারা যখন আসল সুরের সন্ধান পেয়ে যান রামকানাইয়ের বদৌলতে, তখন সেটাই বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ে। আর উভয় সুর শুনে-শুনেই আসল-নকল সুরের বিভ্রান্তি শ্রোতারাই শেষপর্যন্ত বিচার করতে শিখে ফেলেন।

    সংগীতশিল্পীর মুখোমুখি বসে তাঁর কণ্ঠে গান শোনার উপলব্ধিই আলাদা। বছরখানেক আগে ২০১৩ সালে রামকানাই দাশের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় তিনি বেশ কয়েকটি গান আমাকে শুনিয়েছিলেন। তাঁর কণ্ঠনিঃসৃত এসব গান আমার কাছে জীবন্ত দৃশ্য হয়ে যেন ধরা পড়ে। গানের সুর, চিত্র, মেজাজ, আবেগ, অনুভূতি আমার মুঠোতে যেন চলে আসে। সেদিনের শোনা নামপদবিহীন একটি গান নিম্নরূপ:

    দুঃখে গেল কাল গো আমার
    দুঃখে গেল কাল
    এগো আরিপরির খোঁচা কথা
    গোল মরিচের ঝাল।

    দুঃখে গেল কাল গো আমার
    দুঃখে গেল কাল।
    আমার বাড়িত বন্ধু আইলে
    কার বা কিতা করে
    এগো আটকুন্নিরার চউখে যেমন
    মরিচ ভাইঙা পড়ে।

    রাইত অইলে নাইল্যা বনে লাউ ঘটঘট করে
    এগো আরিপরি ডাইকা বলে
    ঘরও কিয়ে লড়ে।

    এই গানটির ভাষাবিন্যাস সুনামগঞ্জের কথ্য ভাষায় রচিত হলেও সেটা অপর অঞ্চলের বাসিন্দাদের বুঝতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরং এ গানটির সুরের মায়াবী টান যে-কাউকেই টানবে। এছাড়া রামকানাই দাশ গানটিতে ‘আটকুন্নিরা’, ‘চউখ’, ‘ভাইঙা’, ‘ঘটঘট’, ‘লড়ে’ শব্দগুলো তাঁর কণ্ঠে এতই সুন্দরভাবে ব্যবহার করেছেন, যে কারণে শ্রোতাদের কাছে এসব শব্দ আঞ্চলিক ভাষার রূপ হিসেবে উপস্থাপিত না-হয়ে এক দ্যোতনাময় শব্দজগতের সৃষ্টি করে। প্রায় অভিন্ন কথা বলা যায় তাঁর গাওয়া এ গানটির ক্ষেত্রেও : ‘জলের ঘাটে দেইখ্যা আইলাম। কী সুন্দরও শ্যামরায়। শ্যামরায়, ভ্রমরায় ঘুইরা ঘুইরা মধু খায়। নিত্যি নিত্যি ফুল-বাগানে ভ্রমর এসে মধু খায়। আয় গো ললিতা সখী।’

    রামকানাই দাশ যখন গান পরিবেশন করতেন, তখন গায়নশৈলীতেই তাঁর উঁচু গায়কির পরিচয় ফুটে উঠত। গানের পঙ্ক্তিতে বর্ণিত সুখ-দুঃখ-আনন্দ-বেদনাগুলোর পরিবর্তন তাঁর কণ্ঠে অনায়াসেই ধরা পড়ত। তিনি যখন বিচ্ছেদী গাইতেন, তখন চারপাশ বিচ্ছেদময় বার্তা জানান দিত। অপরদিকে যখন কীর্তন গাইতেন তখন আপনাআপনিই চারপাশে ভাবগাম্ভীর্যময় পরিবেশ তৈরি হয়ে যেত। এই যে গানের মাধ্যমে শ্রোতা এবং চারপাশের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া-সেটা কজন গায়কের পক্ষে সম্ভব? আর এখানেই রামকানাইয়ের বিশেষত্ব।

    রামকানাই দাশ গাইতেন-‘গুরু কি ধন চিনলায় না মন। দেখলায় না ভাবিয়া পাগল মন রে। সাধের জনম যায় রে ফুরাইয়া। ওরে ভবনদীর কালতরঙ্গ রে। ও মন মরিবায় ডুবিয়া। পাগল মনরে, সাধের জনম যায় রে ফুরাইয়া।’ এ গানের সুর যখন তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হতো তখন শ্রোতাদের মন ও মননে কেবল এক ধরনের নিমগ্নতা বিরাজ করত। ‘সাধের জনম’ বিফলে চলে যাচ্ছে-এ চিন্তায় মনের গতিপ্রকৃতি তীব্রভাবে সমর্পিত হওয়ার আকুলতায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। আবার যখন তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়-‘আমার অন্তরে তুষেরই অনল। জ্বলে গইয়া গইয়া’, তখন অন্তরের গহিন ভেতরে কেবলই একটা বেদনাবোধ চাপা আর্তনাদ করে গুমরে কেঁদে ওঠে। সেই বেদনাবোধ লাঘব হয় রামকানাইয়েরই আরেক গানে এসে-‘তোরা শোন গো নীরব হইয়া। দেখ গো বাহির হইয়া। কী সুন্দর বাঁশিটি যায় বাজাইয়া। ও এগো ও এগো কী সুন্দর বাঁশিটি যায় বাজাইয়া।’

    রামকানাই দাশ আদি ও মূল সুরে গান গেয়ে সবার কাছে আদরণীয় হয়েছেন, এটি একেবারেই যথার্থ ও সঠিক। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তাঁর গাওয়া ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ গানটির প্রসঙ্গ। রাধারমণের লেখা এ গানটির সুর অক্ষুণ্ন থাকলেও তাঁর গাওয়া গানের পাঠে পঙ্ক্তির অসংগতি ব্যাপকভাবে লক্ষণীয়। গানের কাগজ দইয়ল-এ (২০১৪) শুভেন্দু ইমাম ‘লোকগানের রণেন রায়চৌধুরী’ শীর্ষক লেখায় রণেনের গাওয়া এ গানটির একটি গ্রহণযোগ্য ও শুদ্ধ পাঠ উল্লেখ করেন। যেটি নিম্নরূপ :

    ভ্রমর কইও গিয়া
    শ্রীকৃষ্ণবিচ্ছেদে রাধার
    অঙ্গ যায় জ্বলিয়া রে
    ভ্রমর কইও গিয়া।

    ভ্রমর রে
    না খাই অন্ন না খাই পানি
    না বান্ধি মাথার কেশ
    একেলা মন্দিরে থাকি
    পাগলিনীর বেশ রে
    ভ্রমর কইও গিয়া।

    ভ্রমর রে
    শুকাইল ফুলের মধু
    না খাইল আসিয়া
    আর কতদিন রইবে রাধা
    কৃষ্ণহারা হইয়া রে
    ভ্রমর কইও গিয়া।

    ভ্রমর রে
    কইও কইও কইও ভ্রমর
    কৃষ্ণরে বুঝাইয়া
    তোমার রাধা প্রাণে মইলো
    না দেখলায় আসিয়া রে
    ভ্রমর কইও গিয়া।

    ভ্রমর রে
    চুয়া-চন্দন ফুলের মালা
    বাসর-সাজাইয়া
    সেই বাসর হইল বাসি
    জলে দেই ভাসাইয়া রে
    ভ্রমর কইও গিয়া।

    ভ্রমর রে
    বাউল রাধারমণ বলে
    মনেতে ভাবিয়া
    আইল না মোর প্রাণবন্ধু
    নিশি যায় ফুরাইয়া রে
    ভ্রমর কইও গিয়া।

    মোটামুটিভাবে উপর্যুক্ত পাঠটিকেই প্রামাণ্য ও সঠিক বলে ধরা যায়। কিন্তু এ গানটি রামকানাই দাশ গেয়েছেন ভিন্নভাবে। তাঁর গাওয়া গানটির পাঠ নিম্নরূপ :

    ভ্রমর কইও গিয়া
    শ্রীকৃষ্ণবিচ্ছেদে রাধার
    অঙ্গ যায় জ্বলিয়া রে।

    ও ভ্রমর রে, কইও কইও কইও রে ভ্রমর
    কৃষ্ণেরে বুঝাইয়া
    আমি রাধা মইরা যাইমু
    কৃষ্ণহারা হইয়া রে
    ভ্রমর কইও গিয়া।

    ভ্রমর রে, রাধায় না খায় অন্ন না খায় পানি
    নাহি বান্ধে কেশ
    ঘর থনি বাহির হইলাম
    পাগলিনীর বেশ রে
    ভ্রমর কইও গিয়া।

    ভ্রমর রে, আগে যদি জানতাম রে ভ্রমর
    যাইব রে ছাড়িয়া
    দুই চরণ বান্ধিয়া রাখতাম
    মাথায় কেশও দিয়া রে
    ভ্রমর কইও গিয়া।

    ভ্রমর রে, ভাইবে রাধারমণ বলে মনেতে ভাবিয়া
    নিইভা ছিল মনের আগুন
    কে দিল জ্বালাইয়া রে

    ভ্রমর কইও গিয়া।

    রণেন ও রামকানাই উভয়েই শুদ্ধ লোকসংগীতের চর্চা করে গেছেন আমৃত্যু। কিন্তু তাঁরা যখন উভয়েই ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ শীর্ষক গানটি গেয়েছেন, তখন পঙ্ক্তির সাদৃশ্য-বৈশাদৃশ্যটি শ্রোতাদের কাছে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে দেয়। শ্রোতারা তাহলে কোন পাঠটিকে গ্রহণ করবেন? এক্ষেত্রে নির্মোহ দৃষ্টিতে বিবেচনা করলে রণেনের পাঠটিকেই যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। কারণ রামকানাইয়ের গাওয়া গানটিতে বিস্তর অসংগতি রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এটিও বলে রাখা উচিত-রামকানাইয়ের গাওয়া গানটির প্রচলনও কিন্তু হাওরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে রয়েছে।

    রামকানাইয়ের গাওয়া ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ গানটির শেষ অন্তরায় একটি বাক্য রয়েছে ঠিক এ-রকম : ‘ভাইবে রাধারমণ বলে মনেতে ভাবিয়া’। এ বাক্যের শুরুতেই রয়েছে ‘ভাইবে রাধারমণ’ অর্থাৎ রাধারমণ ভাবনা-চিন্তা করে বলছেন, তার ফলে পুনরায় আর ‘মনেতে ভাবিয়া’ শব্দটি বলার প্রয়োজন রাখে না। অনেকে রাধারমণের গান পরিবেশনের সময় এ-ভ্রমটি প্রায়ই করে থাকেন, যেটি রামকানাই দাশও করলেন। খুব সম্ভবত তিনি যাঁর কাছ থেকে গানটি সংগ্রহ করেছিলেন, সেটির মৌখিক রূপটিই ছিল তাঁর গাওয়া গানের পঙ্ক্তিগুলোর মতো। তাই হয়তো তিনি তাঁর শোনা ও সংগৃহীত রূপটির হুবহু রাখতে গিয়েই এমনটি করেছেন। তবে এই একটি গানের মাধ্যমে লোকসংগীতে তাঁর অবদান কিংবা ভূমিকা কোনওভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বরং লোকসংগীতে রামকানাই দাশ এক সম্মানিত কণ্ঠস্বর হিসেবে যুগযুগ ধরে বাঙালির কাছে বিবেচিত হবেন।

    গ্রামীণ সহজাত সুরের ধারা রামকানাই দাশের কণ্ঠশৈলীতে অপূর্ব মহিমায় উদ্ভাসিত হয়েছে। আদি ও মূল সুরে গান গাওয়ার কারণেই সকল মহলে সমাদৃত হয়েছেন। তাঁর বহুমাত্রিক সংগীতপ্রতিভার মূল্যায়নে লোকতত্ত্ববিদ শামসুজ্জামান খান বলেছেন : ‘ধ্রুপদী গানের খেয়ালে তাঁর সাধনা ও অর্জন অনন্য। বাংলাদেশে খেয়াল গানের অসাধারণ এক শিল্পী রামকানাই দাশ। তবে শুধু খেয়াল বা নানা ঘরানার ধ্রুপদী গান নয়, সিলেট অঞ্চলের লোকসংগীতগুলোর এক সাধক ও শিক্ষাগুরু ছিলেন এই গুণী। তাঁর তিরোধানে বাংলাদেশের সংগীতজগৎ অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেল।’ প্রকৃতই প্রাচীন গানের বৈচিত্র্যময় রূপটি তিনি শেষ বয়সে দেশবিদেশে অকৃত্রিমভাবে তুলে ধরেছিলেন। বাংলা লোকগানের ‘শেষ নবাব’ ছিলেন রামকানাই দাশ। তাঁর মৃত্যুতে তাই এখন সাথিহারা বাংলার লোকগান, বন্ধুহারা লোকগীতিকারেরা। তবে তাঁর সুর-বিছানো পথে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হেঁটে গেলে, সেটাই হবে তাঁর জীবনভর সাধনার প্রকৃত সার্থকতা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
    Next Article ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য – বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }